আদম(আঃ) তার আয়ু থেকে দাউদ(আঃ) কে সময় উপহার দিয়েছিলেন

Author Topic: আদম(আঃ) তার আয়ু থেকে দাউদ(আঃ) কে সময় উপহার দিয়েছিলেন  (Read 294 times)

Offline ashraful.diss

  • Full Member
  • ***
  • Posts: 119
  • 'শীঘ্রই রব তোমাকে এত দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে'
    • View Profile
আদম(আঃ) তার আয়ু থেকে দাউদ(আঃ) কে সময় উপহার দিয়েছিলেন

আদম (আঃ) তার জীবনের দীর্ঘতম মেয়াদ থেকে ৬০ বছর দাউদ (আঃ) কে উপহার দিয়েছিলেন এবং নিজের মৃত্যুর সময় তিনি এই কথাটি ভুলেও গিয়েছিলেন। আদম (আঃ) এর সামনে যখন আল্লাহ সুবহানু ওয়াতালা মানবজাতির রূহ উপস্থাপন করেছিলেন তখন আদম (আঃ) তাদের মধ্যে অতিউজ্জ্বল দাউদ (আঃ) এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে, আল্লাহ তাকে জানিয়ে দেন যে তার জীবনধারণের জন্য চল্লিশ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদম (আঃ) তার নিজের আয়ু থেকে ৬০ বছর দাউদ (আঃ) কে দিয়ে দিতে বলেছিলেন। পরবর্তীতে আদম (আঃ) এর পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়ে যখন তার মৃত্যুর সময় এসে গিয়েছিলো আর মালাকুল মাউত তার যান কবজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তখন সে বলেছিলেন যে তার জন্য নির্ধারিত ১০০০ বছর শেষ হতে আরো ষাট বছর বাকি আছে, কারণ তিনি ঐ ঘটনাটি ভূলে গিয়েছিলেন।

আবু হুরায়রা হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত খুললে দেখা গেল যে, তাতে আদম (আঃ) এবং তাঁর সন্তানরা রয়েছে। আদম (আঃ) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! এরা কারা? আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এরা তোমার বংশধর। তাদের সকলের দুই চক্ষুর মধ্যখানে তাদের আয়ুষ্কাল লেখা ছিল। তাদের মাঝে একজন অত্যুজ্জ্বল চেহারার ছিল।” তিনি বললেন, হে আল্লাহ! কে এই লোক? তিনি বলেনঃ সে তোমার সন্তান দাঊদ (আঃ)। আমি তার চল্লিশ বছর বয়স নির্ধারণ করেছি। আদম (আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তার আয়ুষ্কাল আপনি আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আমি তার আয়ুষ্কাল এটাই নির্ধারণ করেছি। আদম (আঃ) বললেনঃ হে প্রভু! আমার আয়ুষ্কাল হতে ষাট বছর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ তা‘আলা বললেনঃ এটা তার প্রতি তোমার বদান্যতা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা যত দিন চাইলেন তিনি জান্নাতে থাকলেন, তারপর তাঁকে সেখান হতে (পৃথিবীতে) নামানো হল। আদম (‘আঃ) নিজের বয়সের গণনা করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আদম (‘আঃ)-এর নিকট মালাকুল মাউত (মুত্যুদূত) এসে হাযির হলে তিনি তাকে বললেনঃ আমার জন্য ধার্যকৃত বয়স তো হাজার বছর, যথাসময়ের আগেই তুমি এসেছ। মৃত্যুদূত বললেন, হ্যাঁ, তবে আপনি আপনার বয়স হতে ষাট বছর আপনার বংশধর দাঊদ (‘আঃ)-কে দান করেছেন। আদম (‘আঃ) তা (ভুলে গিয়ে) অস্বীকার করলেন। এজন্য তার সন্তানরাও অস্বীকার করে থাকে। আর তিনি ভুলে গিয়েছিলেন তার তার সন্তানরাও ভুলে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সেদিন হতেই লিখে রাখা ও সাক্ষী রাখার হুকুম দেয়া হয়। {জামে’ আত-তিরমিজি, বই ৪৪, হাদিস ৩৩৬৮}

আদম আঃ শুক্রবারে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিল

আবু হুরায়রা হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আর দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম(‘আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাঁকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে এবং এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়।” {সহীহ মুসলিম, বই ৭, হাদীস ২৭/১৮৬১}

পৃথিবীতে আদম (আঃ) এর জীবনযাপন

আদম (আঃ) জানতেন, তিনি জান্নাতের শান্তি ত্যাগ করেছেন। পৃথিবীতে টিকে থাকতে তাকে অনেক  সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পৃথিবীতে চাষাবাদ, নির্মাণ এবং জনবসতি গড়ে তুলতে হয়েছিল তাকে। কাপড় দিয়ে নিজের ইজ্জতের রক্ষা এবং অস্ত্র দিয়ে নিজের জীবন রক্ষার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানদের বন্য হিংস্র জীবজন্তু থেকেও রক্ষা করতে হয়েছিল তাকে।

সর্বোপরি, তাকে নিজের নাফ্সের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল। যেই শয়তান, যে কিনা তাঁর জান্নাত হতে বিতাড়িত করেছিল, সেই শয়তানই প্রতিনিয়ত তাকে এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানদেরকে চিরন্তন জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। ভালো এবং মন্দের লড়াই অব্যাহতই রইলো, তবে যারা আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে তাদের আসলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণই নেই। কিন্তু যারা আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং ইবলিসকে অনুসরণ করে তারাও তারই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাবে।

Mufti. Mohammad Ashraful Islam
Ethics Education Teacher, DISS
Khatib, Central Mosque, Daffodil Smart City
Ashuli , Savar, Dhaka