সবাই আল্লাহ তা'আলার কাছে চায় আর তিনি প্রতিনিয়ত সবার যত্ন নিচ্ছেন

Author Topic: সবাই আল্লাহ তা'আলার কাছে চায় আর তিনি প্রতিনিয়ত সবার যত্ন নিচ্ছেন  (Read 256 times)

Offline Badshah Mamun

  • Administrator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 1932
    • View Profile
    • Daffodil International University
সবাই আল্লাহ তা'আলার কাছে চায় আর তিনি প্রতিনিয়ত সবার যত্ন নিচ্ছেন
------------- * ----------------* --------

(সূরা আর-রাহমানের ২৯তম আয়াতের ব্যাখ্যা)


আজকের খুৎবায় ঠিক এ আয়াতটি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চেয়েছিলাম। কুরআনে এসেছে- يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ আকাশ এবং পৃথিবীর প্রত্যেকেই তাঁর কাছে চাইছে। আসুন প্রথমে এই অংশটা বুঝি। আরবি ভাষায় (سُؤَالْ) বা 'চাওয়া' ২ ধরণের। এটি আলোচনার আগে এই আয়াত নিয়ে যে কনফিউশন আছে তার উপর একটু আলোকপাত করতে চাই। আল্লাহ বলেছেন প্রত্যেকেই তাঁর কাছে চাইছে। ফেরেস্তারা তাঁর কাছে চায়। পশুপাখিরা তাঁর কাছে চায়। আমরা তাঁর কাছে চাই। কিন্তু কেউ এসে বললো, আমি একজন নাস্তিককে চিনি। সে আল্লাহর কাছে কিছু চায় না। আমার একজন বন্ধু আছে যে ধার্মিক নয়। সে কখনও আল্লাহর কাছে কিছু চায় না। আমার ফিলোসফি প্রফেসর কখনো আল্লাহর কাছে কিছু চায় না। তাহলে কিভাবে সবাই তাঁর কাছে চাইছে ?

এজন্যই আপনাকে বুঝতে হবে আরবিতে 'চাওয়া' শব্দটির ২টি অর্থ রয়েছে। একটি হলো সচেতনভাবে চাওয়া। অন্যটি হলো প্রয়োজন। আরবিতে সুয়াল এর আরেকটি অর্থ হলো প্রয়োজন। উদাহরণ স্বরূপ, কুরআনে এসেছে - وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ - "যে চায়, তাকে অবজ্ঞা করো না।" এর অর্থ এটাও, যার অনেক কিছু প্রয়োজন তাকে অবজ্ঞা করো না। এমন অনেক মানুষ আছে যারা অভাবী, কিন্তু তারা কারো কাছে চায় না। আপনাকে বুঝতে হবে যে তারা অভাবে আছে। তাদের চাওয়ার পূর্বেই আপনাকে তাদের প্রয়োজন মিটাতে হবে।

আয়াতের অর্থ হলো, আকাশের সবাই এবং পৃথিবীর সবাই অভাবে আছে। আর তারা সেই অভাব পূরণে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। একজন অবিশ্বাসী, একজন বিদ্রোহী মুসলিম, অথবা এরকম কেউ যে জেনে শুনে খারাপ কাজ করছে যা তার করা উচিত না। তবু সে আল্লাহকে অবজ্ঞা করে কাজটি করে যায়। আল্লাহ তাকেও দিয়ে যান, বিরামহীনভাবে দিয়ে যান। আপনাদের ভিতর যিনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, আর যিনি মোটেই নামাজ পড়েন না আর যিনি এই বছরে আজকেই প্রথম জুমার খুৎবায় এসেছেন, আপনাদের সবাইকেই আল্লাহ দেন। এমন কেউ নেই যাকে আল্লাহ দেন না।

আমাদের সবার ফুসফুসই আল্লাহ বাতাস দিয়ে পূর্ণ করে দেন। আমাদের সবার হৃৎপিণ্ডই আল্লাহ সচল রেখেছেন। আমার হৃৎপিণ্ড যেটি আমার ভেতরে স্পন্দিত হচ্ছে পরবর্তী কম্পনটি দেয়ার আগে এটি আল্লাহর কাছে দোআ করছে, ইয়া আল্লাহ, আমি কি আরেকটা কম্পন দিতে পারি ? তিনি এটাকে অনুমতি দিচ্ছেন। এই হৃৎপিণ্ডের অনুমতি প্রয়োজন, আমার শরীরের প্রতিটি ধমনীর অনুমতি প্রয়োজন। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া, مَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ গাছের একটি পাতাও পড়বে না যতক্ষন পর্যন্ত না তিনি অনুমতি দেন। গাছের একটি পাতাও পড়বে না। আমার শরীরের একটি কোষও নড়বে না তাঁর অনুমতি ছাড়া।

 আমি আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারি। আল্লাহ আমার আত্মাকে সুযোগ দিয়েছেন আল্লাহকে ভুলে যাবার, যা খুশি তা করার, যা খুশি তা বলার, যেভাবে খুশি টাকা উপার্জন করার, যেমন খুশি রিলেশন করার, শুক্রবার রাত যেমন খুশি কাটানোর। শুক্রবার দিনে, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যেভাবে চান আপনি সেভাবে কাটিয়েছেন। শুক্রবার রাতটি এবার শয়তানকে দিয়ে দেয় অনেক মানুষ, তাই না? ছুটির সময়টাকে পরিপূর্ণ করছেন। সমীকরণের দুই দিক সমান করছেন। কিন্তু আল্লাহ বজ্রপাত দিয়ে শাস্তি দিচ্ছেন না। আল্লাহ আপনাকে টেনে-হেঁচড়ে মসজিদে নিয়ে আসছেন না। তিনি পারতেন, যদি তিনি চাইতেন। তিনি আগেও অনেক জাতিকে সোজা করেছেন। তিনি আপনার এবং আমার সাথে তেমনটি করছেন না। কোনো হাত যখন চুরি করে, এটি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে না। কেউ যখন ব্যাভিচার করছে, তখনি তার হার্ট এটাক হচ্ছে না। যখন কেউ হারাম খাচ্ছে, সে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে না। আল্লাহ তেমনটি করছেন না। তারা খেয়েই যাচ্ছে । আর তারা হাসি-আনন্দ করছে।

তাদের প্রত্যেকেরই প্রয়োজন রয়েছে, يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ তারপর তিনি আপনাকে এবং আমাকে বলছেন, كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ প্রত্যেকটা মুহূর্ত, প্রত্যেকটা দিন; يَوْم শব্দটি এখানে مُصْطَلَحْ لِجَمِيْعِ الْأَوْقَاتْ এটা এরকম সব সময়, প্রতি সেকেন্ডে, প্রতিটা দিন, সব সময় তিনি এমন কিছুতে ব্যস্ত যা শুধুমাত্র তিনিই করতে পারেন। এই সূরায় এটি আসলে সতর্কবাণী না, এটি আসলে সুন্দর একটি জিনিস যা দিয়ে আমি আলোচনা শেষ করতে চাই। আল্লাহ বলেন- يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ আকাশ এবং পৃথিবীর প্রত্যেকেই তাঁর কাছে চাইছে। সব সময় তিনি এমন কিছুতে ব্যস্ত যা শুধুমাত্র তিনিই করতে পারেন।

একজন শিক্ষক হিসেবে যদি আমার সামর্থ্যের কথা চিন্তা করেন...। ধরুন আমি পড়াচ্ছি ৫০ জন ছাত্রকে। তাদের একজন আমাকে একটা প্রশ্ন করলো। আরেকজনের এক্সট্রা হেল্প প্রয়োজন। একজন বললো, তার একটা সমস্যা আছে। অন্য একজন বললো, তার একটা কনফিউশন আছে। আমি একজনকে দিলাম ৫ মিনিট, আরেকজনকে ৫ মিনিট, আরেকজনকে ৫ মিনিট। এভাবে আমি যদি তাদের সবাইকে ৫ মিনিট করে দেই, যোগ করলে হয় ২৫০ মিনিট। ততোক্ষণে আমি অর্ধমৃত। আমার পক্ষে তাদের সবার সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।

যদি আমি দেইও, যদি প্রত্যেকের জন্য ৫ মিনিট করে সময় ব্যয় করি, তারা সবাই অভিযোগ করবে, "আমি মাত্র ৫ মিনিট সময় পেয়েছি।" তাই না? আমার পক্ষে তাদের সবার অনুরোধের প্রতি খেয়াল রাখা সম্ভব না। আমি এমনকি তাদের সব প্রশ্নের জবাবও দিতে পারবো না। কিছু প্রশ্নের জবাব আমার সক্ষমতার বাহিরে। তাদের কোনো কোনো অনুরোধ অথবা প্রয়োজন আমি পূরণ করতে অপারগ। কেউ এসে বলতে পারে, "আমি আপনার কাছে ৩ ঘন্টা সময় চাই।" আমি বলবো, "দুঃখিত, আমার কাছে আপনাকে দেয়ার মতো ৩ ঘন্টা সময় নেই, যদি দিতে পারতাম ভালো হত, কিন্তু আমার আরো দায়িত্ব আছে।"

যখন মানুষ আপনার কাছ থেকে দাবি করে... আসলে ব্যাপারটা তখন বুঝতে পারবেন, যখন বহু মানুষ আপনার কাছে বহু কিছু দাবি করে। জানেন, মানুষের কি হয় এ অবস্থায় ? মাথা জ্যাম হয়ে যায়, আর সে বলে, আমার একটু বিরতির প্রয়োজন। আমি কিছু দিনের জন্য ছুটি নিব। কারণ, আমি আর পারছি না। যেমন, ঈদ সিজনে দোকানের ম্যানেজারের অবস্থা। মন অবস্থা হয় যে সে কারো সাথে কথা বলতে চায় না। মানুষ ভেঙে পড়ে, যখন আপনি তাকে অনুরোধ করতে থাকেন, অনবরত চাইতে থাকেন। ঘরের কর্তাও প্রায়ই ধৈর্য হারাতে পারেন, কারণ তার কাছে সবসময় বিভিন্নরকম দাবি আসতেই থাকে সবদিক থেকে। তিনি চাপের মধ্যে থাকেন সব সময়। আর এই ধরণের অবস্থায় কারো কথা শোনা হবে, কারোটা শোনা হবে না। যারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাদের কথা শোনা হবে, যারা কম কম গুরুত্বপূর্ণ, তাদের কথা শোনা হবে না।

 লক্ষ্য করুন, এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহ عَزَّ وَ جَلَّ কী করেন? সকলেই তাঁর কাছে চাইছে। বিশ্বাসীরা তাঁর কাছে চাইছে, অবিশ্বাসীরাও তাঁর কাছে চাইছে। সবচেয়ে বিদ্রোহী মুসলিমেরা... অমুসলিমদের কথা ভুলে যান কিছুক্ষণের জন্য, সবচেয়ে বিদ্রোহী মুসলিমেরা যারা প্রকাশ্যে, গর্বের সাথে হারাম কাজ করে, যাদের মুখ দিয়ে অশ্রাব্য ভাষা নির্গত হয়, পরস্পরের প্রতি অবিচার করে; আর এ অবিচার করতে গিয়ে কোনো কিছুর পরোয়া করে না এমনকি তাদের হৃৎপিণ্ডও পরবর্তী কম্পনের জন্য আল্লাহর অনুমতি ভিক্ষা করতে থাকে, আর আল্লাহ অনুমতি প্রদান করেন। এমনকি তাদের জন্যও আল্লাহ ফেরেস্তা পাঠান, তাদের গাড়িকে নিরাপত্তা দান করেন যখন তারা গাড়ি চালিয়ে নাইট ক্লাবে যায়। তাদের জন্যেও। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সবাইকে রক্ষা করেন, নিরাপত্তা দান করেন। আল্লাহ যেভাবে দান করেন, তা শুধু তাঁর পক্ষেই সম্ভব। এটাকেই বলা হয় شَأْن এটা হলো একটি يَخْتَصُّ بِأَحَدْ ,أَمْر এটা শুধু একজনের দ্বারাই করা সম্ভব।

আপনাদের কারো কারো নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানের কিছু কাজ শুধু আপনাকেই করতে হয়, এরজন্য যদি অন্য কাউকে ভাড়া করেন, তারা সব এলোমেলো করে ফেলে। আগে এভাবে করে দেখেছেন। কর্মচারীকে ক্যাশের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, এরপর কোনো একটা ঝামেলা তৈরী হয়েছে। তো এ কাজ শুধু আপনার পক্ষেই সম্ভব। এটাকে বলা হয় شَأْن এমন অনেক বিষয় আছে যা আল্লাহ করেন, আর তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই করা সম্ভব। অন্য কারো পক্ষে সম্ভব না।

 যখন বুঝতে পারেন, আল্লাহ সবসময়ই আপনার জন্য এমনটি করছেন তখন সেই তুচ্ছ প্রশ্নটির কথা ভুলে যাবেন, যা শয়তান আপনার এবং আমার মনে তুলে দেয় - কোথায় ছিলেন আল্লাহ যখন আমার তাঁকে খুব দরকার ছিলো ? আল্লাহ কোথায় ছিলেন যখন আমি অমুক সমস্যায় পড়েছিলাম ? ঐ অবস্থায় কেন তিনি আমাকে সাহায্য করলেন না ? মানুষ এ ধরণের প্রশ্ন করে; তাই না ? আপনার মনেও কখনো কখনো এ ধরণের প্রশ্ন চলে আসতে পারে। "কোথায় ছিলেন আল্লাহ?" আর আল্লাহ বলছেন, আমি সবসমই তোমার সাথে ছিলাম। তুমি এমনকি এ কথাটি উচ্চারণ করার সময়েও আমি তোমার জিহ্বার যত্ন নিচ্ছি। বলুনতো কিভাবে আপনার শব্দনালী দিয়ে শব্দ বের হয়ে আসছে। কিভাবে আপনার মুখ দিয়ে বাতাস বেরিয়ে আসছে যখন আপনি আল্লাহর সমালোচনা করছেন। তিনি আপনাকে তার জন্য শক্তি প্রদান করছেন। এটাই হলো كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ তারপর তিনি আবারো জিজ্ঞেস করছেন, فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ? কোন অনুগ্রহ, আল্লাহর কোন বিস্ময়কর দান যা তোমার প্রভু তোমাদেরকে দিয়েছেন, যা তোমরা উভয়ে (জিন এবং মানুষ) অস্বীকার করবে।


- উস্তাদ নোমান আলী খান

https://www.facebook.com/NAKBangla
Md. Abdullah-Al-Mamun (Badshah)
Assistant Director, Daffodil International University
01811-458850
cmoffice@daffodilvarsity.edu.bd
www.daffodilvarsity.edu.bd

www.fb.com/badshahmamun.ju
www.linkedin.com/in/badshahmamun
www.twitter.com/badshahmamun