প্রশিক্ষিত যুবশক্তিই পারে উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে (কালের কণ্ঠ, ১ নভেম্বর, ২০২২)

Author Topic: প্রশিক্ষিত যুবশক্তিই পারে উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে (কালের কণ্ঠ, ১ নভেম্বর, ২০২২)  (Read 164 times)

Offline kekbabu

  • Jr. Member
  • **
  • Posts: 78
  • Test
    • View Profile
    • https://daffodilvarsity.edu.bd/
প্রশিক্ষিত যুবশক্তিই পারে উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে
ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু   ১ নভেম্বর, ২০২২

আজ ১ নভেম্বর। জাতীয় যুব দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রশিক্ষিত যুব, উন্নত দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে যুবসমাজের মেধা, শক্তি, সাহস আর প্রতিভাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় একটি জাতির ইতিহাস। জাতীয়ভাবে সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। তাই যুবসমাজ যেকোনো দেশ ও জাতির জন্য এক অফুরন্ত প্রাণশক্তি। আর যুবসমাজকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করা সম্ভব হলে তারাই গড়তে পারে দেশ ও জাতির উন্নয়নের দৃঢ় ভিত্তি। সুতরাং দেশের যুবসমাজকে এ বিষয়গুলো ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে, যেন তারা এ দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। যুবসমাজসহ সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে, যুবসমাজের অদম্য কর্মস্পৃহা আর তাদের অদম্য মনোবলই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে। যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে আমূল পরিবর্তন আনয়নের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে যুবক। সুতরাং এই যুবসমাজকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এবং বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধিপূর্বক বর্তমান সরকার শুরু থেকেই যুবসমাজের উন্নয়নকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। যুবসমাজের উন্নয়নের অংশ হিসেবে সরকার কর্তৃক দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত হয়েছে প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচি, বিনা আমানতে বা সহজ শর্তে যুবসমাজ যেন সহজেই ঋণ সুবিধা পায় সে জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক স্থাপন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা ধরনের কর্মসূচি। এরই মধ্যে দেশের অসংখ্য যুবক এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করে হয়েছেন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল। ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। আবার অনেকেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। দেশে পাঠাচ্ছেন বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্স, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে চলেছে। বর্তমান সরকারের যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল হতে নানাভাবে উদ্বুদ্ধকরণ; উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ; সহজ শর্তে বা বিনা আমানতে তাদের ঋণ প্রদান; প্রয়োজনীয় উপাদান জোগানোর মাধ্যমে যুবকদের লাভজনক আত্মকর্মসংস্থান গ্রহণে উৎসাহ প্রদান করা; যুবকদের কর্মদক্ষতার চরম উৎকর্ষ সাধনের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা; কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও পেশাগত ক্ষেত্রে যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এটি হচ্ছে অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। দেশটির মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগই হচ্ছে যুবক। সুতরাং তাদের পক্ষে দেশের উন্নয়নের দৃঢ় ভিত্তি গড়া সহজ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের যুবসমাজের এক বিরাট অংশ আজ মাদকাসক্ত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত। বিষয়টি আমাদের সবার জন্যই অশনিসংকেত। সুতরাং যুবকদের নিজ নিজ স্বার্থে এবং তাদের আপামর উন্নয়ন, অগ্রগতিসহ দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির সারথি হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই আত্মবিধ্বংসী ও রাষ্ট্রবিরোধিতার পথ পরিহার করে সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আর যুবসমাজকে সঠিকভাবে এবং সঠিক পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবার থেকে শুরু করে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে একযোগে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশ আজ সব চ্যালেঞ্জ সাহসী বীরের মতো মোকাবেলা করে সামনের দিকে দুর্বার গতিতে অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও দেশটিতে দারিদ্র্য বিমোচন কমেছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধির হার। আর এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশের যুবসমাজের অবদান নিঃসন্দেহে অপরিসীম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন, যে দেশের মাটিতে বীজ ফেললেই চারা গজায় কিংবা পানিতে পোনা ছাড়লেই আপনাআপনি মাছ বড় হয়, সে দেশের মানুষ বেকার বা দরিদ্র থাকতে পারে না। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে জাতির পিতার গুরুত্বপূর্ণ এ বাণীটির মর্মার্থ মাথায় রেখে দেশের যুবসমাজ নৈতিকতা, সততা, দেশপ্রেম ও মানবতাবোধের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশ গড়ার মহান কাজে আত্মনিয়োগ করে দেশকে সামনের দিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে—জাতীয় যুব দিবসে এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; ভিজিটিং প্রফেসর, চণ্ডীগড় ইউনিভার্সিটি (ইন্ডিয়া) এবং লাইসিয়াম অব দ্য ফিলিপিন্স ইউনিভার্সিটি, ফিলিপাইন
kekbabu@yahoo.com

Link: https://www.kalerkantho.com/online/national/2022/11/01/1198963
Dr. Kudrat-E-Khuda (Babu).
Associate Professor (Dept. of Law), Daffodil International University;
International Member of Amnesty International;
Climate Activist of Greenpeace International; Column Writer;
Mobile Phone: +8801716472306
E-mail: kekbabu.law@diu.edu.bd