Religion & Belief (Alor Pothay) > Various Sura & Dua

দোয়ার অলৌকিকতা

(1/2) > >>

Md. Zakaria Khan:

ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম ও এর অলৌকিক শক্তি অসীম। দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, তাকদিরের পরিবর্তন ঘটে এবং কঠিন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি মেলে। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার আত্মিক সম্পর্ক, যা মানুষের জীবনে অলৌকিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
দোয়ার অলৌকিকতার প্রধান কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
ভাগ্যের পরিবর্তন: খাঁটি মনে ও বিশ্বাসের সাথে করা দোয়া মানুষের ভাগ্য ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
অসম্ভব অর্জন: মানুষের কাছে যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বা অলীক মনে হয়, তা-ই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে অলৌকিক রূপ নেয়।
মানসিক শান্তি ও সুরক্ষা: নিয়মিত দোয়া এবং ইস্তেগফারের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিতেও মনে প্রশান্তি আসে এবং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু সময় ও আমল:
@ তাহাজ্জুদের সময়: রাতের শেষ প্রহরে করা দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়।
@ দরূদ শরীফ: ইবাদতের মাঝে অতিরিক্ত আমল হিসেবে দরূদ শরীফ পাঠ করলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
@ দোয়া ইউনুস: বিপদ থেকে মুক্তির জন্য “লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কন্তু মিনাজ জোয়ালিমীন” অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

Md. Zakaria Khan:
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি কামনা করে, বিপদ ও সঙ্কটের সময় আল্লাহ তার দুআ কবুল করুন, সে যেন সুখের সময় অধিক পরিমাণে দুআ করে। —জামে তিরমিযি, হাদীস ৩৩৮২

Md. Zakaria Khan:
দোয়া হলো মুমিনের আত্মার নিঃশ্বাস, বিশ্বাসের প্রমাণ এবং নিরাশার অন্ধকারে আশার আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তার বান্দাকে যে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে দোয়া এমন এক অনন্য দান,যার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি তার রবের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ, কিন্তু দোয়ার শক্তি অসীম, কারণ দোয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। তাই দোয়া মুমিনের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, বিজয়ের প্রধান অস্ত্র ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির: ৬০)
এ আয়াত দ্বারা প্রমানিত,আল্লাহ শুধু দোয়া করতে আদেশই করেননি, বরং তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে বান্দা যখন আন্তরিক মনে তার দিকে হাত বাড়াবে, তখন তিনি নিজ অনুগ্রহে সেই দোয়াকে গ্রহণ কবুল করবেন। অর্থাৎ দোয়া মুমিনের জন্য এমন এক হাতিয়ার, যার ও পাশে আল্লাহর দয়া, করুণা প্রস্তুত।

Md. Zakaria Khan:

আবু হুরাইরার মায়ের হেদায়াত
আবু হুরাইরা (রা.)-এর মা মুশরিক ছিলেন। তিনি তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং নবীজির বিরুদ্ধে কটু কথা বলতেন। একদিন আবু হুরাইরা কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন।

বললেন, ‘আমি মাকে দাওয়াত দিই, তিনি আপনার বিরুদ্ধে খারাপ বলেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি হেদায়াত পান।’ নবীজি বললেন, ‘আল্লাহুম্মাহদি উম্মা আবি হুরাইরাহ’ (হে আল্লাহ, আবু হুরাইরার মাকে হেদায়াত দান করো)।

আবু হুরাইরা আনন্দে বাড়ি ফিরলেন। দরজায় পৌঁছে শুনলেন, দরজা বন্ধ। মা বললেন, ‘অপেক্ষা করো।’ তিনি পানির শব্দ শুনলেন। তারপর মা গোসল করে দরজা খুলে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

আবু হুরাইরা আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন। বললেন, ‘সুসংবাদ, আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯১)।

Md. Zakaria Khan:

[হাদীস শরীফে এসেছে,
 ‘আদদুআউ হুয়াল ইবাদাহ’। দুআই ইবাদত।

আরেক হাদীসে এসেছে-
‘আদদুআউ মুখখুল ইবাদাহ’।
অর্থাৎ দুআ ইবাদতের মগজ বা সারবস্ত্ত।

Navigation

[0] Message Index

[#] Next page

Go to full version