Health Tips > Heart

ধীরে ধীরে সরু হচ্ছে রক্তনালি, ঝুঁকিতে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক

(1/1)

Imrul Hasan Tusher:
ধীরে ধীরে সরু হচ্ছে রক্তনালি, ঝুঁকিতে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক

গত এক দশকে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অসংক্রামক রোগের (NCDs) প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সাধারণত মানুষ জানেন, এসব রোগ হার্ট, লিভার, চোখ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর আরেকটি গুরুতর পরিণতি ক্রমেই সামনে আসছে—রক্তনালির রোগ বা ভ্যাসকুলার ডিজ়িজের দ্রুত বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রক্তনালিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভ্যাসকুলার রোগের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

ভ্যাসকুলার রোগ আসলে কী?

ভ্যাসকুলার রোগ বলতে ধমনী ও শিরার এমন সব সমস্যাকে বোঝায়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর সবচেয়ে পরিচিত জটিলতা হলেও, এই রোগ কিডনি, চোখ, মস্তিষ্ক এবং পায়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তনালি সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। এর ফলে শরীরজুড়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ভ্যাসকুলার রোগীদের বড় একটি অংশের এক বা একাধিক অসংক্রামক রোগ থাকে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কিংবা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

ভ্যাসকুলার রোগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, অবশ ভাব, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের মতো উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান।

ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

কেন বাড়ছে এই সমস্যা?

চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা অভ্যাসও রক্তনালির ক্ষতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।


কীভাবে কমবে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ ভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ত্যাগ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো—এসব অভ্যাস ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

সময়মতো সতর্কতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রক্তনালির রোগের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Source:

Navigation

[0] Message Index

Go to full version