সূরা আর-রূম, আয়াত ৫৪
আরবি:اللَّهُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنۢ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۖ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْقَدِيرُ
বাংলা অর্থ:“আল্লাহই তোমাদেরকে দুর্বল অবস্থা থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর দুর্বলতার পরে শক্তি দান করেছেন। এরপর শক্তির পরে আবার দুর্বলতা ও বার্ধক্য দিয়েছেন। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আর তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।”
— (সূরা আর-রূম, ৩০:৫৪)
তাফসিরএই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনের তিনটি পর্যায়ের কথা অত্যন্ত সংক্ষেপে কিন্তু গভীরভাবে তুলে ধরেছেন।
১. প্রথম দুর্বলতা
এটি মাতৃগর্ভের অবস্থা এবং শৈশবকে বোঝায়। তখন মানুষ সম্পূর্ণ অসহায়; নিজের কোনো শক্তি, জ্ঞান বা সামর্থ্য থাকে না।
২. শক্তির সময়
কৈশোর ও যৌবনে মানুষ শারীরিক শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মক্ষমতা লাভ করে। এটি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। এই সময়ই ইবাদত, সৎকাজ এবং সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার সর্বোত্তম সুযোগ।
৩. পুনরায় দুর্বলতা ও বার্ধক্য
যৌবনের পর ধীরে ধীরে বার্ধক্য আসে। শক্তি কমে যায়, চুল পেকে যায়, স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এভাবে আল্লাহ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেন যে দুনিয়ার শক্তি ও যৌবন চিরস্থায়ী নয়।
“তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন”
মানুষের বয়স, শক্তি, দুর্বলতা ও জীবনচক্র—সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের অধীন। কেউ দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকে, কেউ অল্প বয়সেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সবই তাঁর প্রজ্ঞার অংশ।
তাফসিরকারদের বক্তব্য
ইবন কাসীর (রহ.) বলেন, এই আয়াত মানুষের জীবনের পরিবর্তনশীল অবস্থার মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ তুলে ধরে। যিনি দুর্বলকে শক্তিশালী করেন এবং শক্তিশালীকে আবার দুর্বল করে দেন, তিনিই পুনরুত্থান ঘটাতে সক্ষম।
তাফসির আত-তাবারী-তে বলা হয়েছে, মানুষের অবস্থার এই ধারাবাহিক পরিবর্তন আল্লাহর কুদরতের সুস্পষ্ট নিদর্শন।
ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, যৌবনের শক্তি নিয়ে অহংকার করা উচিত নয়; কারণ শেষ পর্যন্ত সবাই বার্ধক্য ও দুর্বলতার দিকে অগ্রসর হয়, যদি আল্লাহ সে বয়স পর্যন্ত জীবিত রাখেন।
শিক্ষা
যৌবন আল্লাহর দেওয়া একটি অমূল্য আমানত; এটি নেক আমলে ব্যয় করা উচিত।
বার্ধক্য মানুষের জন্য আখিরাতের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
মানুষের শক্তি বা সৌন্দর্য স্থায়ী নয়; স্থায়ী হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।
এই আয়াত আল্লাহর সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমত্তার একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। তাই যিনি মানুষকে বিভিন্ন অবস্থায় পরিচালিত করেন, তিনি মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতেও সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ তাআলা আমাদের যৌবনকে তাঁর আনুগত্যে ব্যয় করার এবং বার্ধক্যে ঈমান ও সুস্থতার সাথে জীবন অতিবাহিত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।