Perhaps you can save someone's life

Author Topic: Perhaps you can save someone's life  (Read 506 times)

Offline Sultan Mahmud Sujon

  • Administrator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 2620
  • Sultan Mahmud Sujon,Admin Officer
    • View Profile
    • Higher Education
Perhaps you can save someone's life
« on: March 22, 2012, 04:56:24 AM »
এই পোস্টটি মানুষের ভয়ংকর একটা সমস্যা নিয়ে। যখন একজন মানুষের মস্তিষ্কের জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়... হ্যাঁ, আপনি ঠিক ধরেছেন, আমি  স্ট্রোকের কথা বলছি। এ ব্যাপারে হয়তো সবাই  জানেন। তবুও সবাইকে আর একবার মনে করিয়ে দিতে এবং আরো একটু সচেতন করতে এই পোস্ট। আসল পোস্টে যাওয়ার আগে একটু প্রাথমিক কথা বলে নেই।

ব্রেইন মানুষের দেহের সবচেয়ে জটিল অঙ্গ। আসলে শুধু মানব দেহের না, আমার মনে হয় এর থেকে জটিল আর কিছু নেই। কম্পিউটারের প্রসেসরকে ব্রেনের সাথে তুলনা করবেন? সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রসেসর ব্রেনের একটা কোষের(নিওরন) তুলনায় কিছুই না!

মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান দুইটা ভাগ আছে। ডানপাশের ভাগটা দেহের বামপাশ নিয়ন্ত্রন করে, আর বামপাশেরটা নিয়ন্ত্রন করে দেহের ডানপাশ। মজার না?

ব্রেইন আসলে আমাদের দেহের সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে। একেবারে আক্ষরিক অর্থেই  সবকিছু। এর জন্য স্রষ্টা ব্রেনকে দেহের  অন্য সব অঙ্গ থেকে কিছু বেশি সুবিধা দিয়েছেন। হৃদপিন্ড থেকে মাত্র তিনটা প্রধান ধমনী সারা দেহে রক্ত সরবরাহ করে(অবশ্য এছাড়া ছোট ছোট দুটি ধমনী আছে যারা হৃদপিন্ডে রক্ত সরবরাহ করে)।  এই তিনটার  মধ্যে একটা ধমনী(ক্যারটিড) আছে যেটা শুধু মস্তিষ্কে(এবং হাতে) রক্ত সরবরাহ করে, আর বাকি দুইটা সারাদেহে। এখান থেকেই বোঝা যায় মস্তিষ্ক কতটা স্পর্শকাতর এবং এখানে রক্তের চলাচল কতটা জরুরি।



স্ট্রোক কি?

স্ট্রোক হল এমন একটা অবস্থা যখন সমগ্র মস্তিষ্কে বা কোন একটা অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মস্তিষ্কের নিউরন গুলো খুব স্পর্শকাতর এবং সামান্য সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে চিরতরে নস্ট হয়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কের এক একটা অংশ দেহের এক একটা অঙ্গ নিয়ন্ত্রন করে। তাই মস্তিষ্কের একটা খুব ক্ষুদ্র একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও  দেহের কোন না কোন অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

চাইলে এই ছোট্ট ভিডিওটা দেখতে পারেন।
কেন হয়?

    যদি আর্টারিতে কোন ব্লক বা বাঁধা সৃষ্টি হয়। এটা কোন রোগের কারণে হতে পারে বা ধমনীতে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলেও হতে পারে।
    যদি ব্লাড প্রেশার কোন কারনে খুব বেড়ে যায় তবে মস্তিষ্কের সূক্ষ রক্তনালীর দুর্বল অংশ ফেটে গিয়ে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারনে হতে পারে।
    অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে ধমনীর ভিতরে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে।

কিভাবে বাঁচবেন স্ট্রোক থেকে?

৮০% স্ট্রোক একটু সচেতন হলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
    নিয়মিত ব্লাড প্রেশার চেক করুন এবং অবশ্যয় নিয়ন্ত্রনে রাখুন।
    ধুমপান/মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
    নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন।
    চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
    Atrial fibrillation (Afib) বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আছে কিনা চেক-আপ করুন। এটি স্ট্রোকের সম্ভাবনা ৫০০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
    আপনার রক্তের কোলেস্টেরল এর মাত্রা সম্পর্কে জানুন।

তারপরও যদি হয়, কিভাবে বুঝবেন স্ট্রোক হয়েছে?(কপি/পেস্ট)

আমার বন্ধু আমাকে এই(নিচে) ছবিটি পাঠিয়েছে এবং আমাকে এই কথাগুলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছে। আমরা সবাই-ই যদি এই ছোট্ট সাধারণ সণাক্তকরণ উপায়টা শিখে ফেলি, তবে হয়তো আমরা স্ট্রোকের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারবো।



একটি সত্যি গল্প

একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে একজন ভদ্রমহিলা হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। উঠে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, সবকিছু ঠিক আছে, মেঝের টাইলসে তার নতুন জুতোর হীল বেঁধে যাওয়ায় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। কেউ একজন এম্বুলেন্স ডাকার কথা বললেও তিনি তাতে রাজি হলেন না।

সবকিছু ঠিকঠাক করে, পরিস্কার করে তিনি নতুন করে প্লেটে খাবার নিলেন। যদিও মনে হচ্ছিলো যেন তিনি একটু কেঁপে কেঁপে উঠছেন। অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ সময় জুড়েই তিনি উপস্থিত থাকলেন। পরদিন দুপুরে ভদ্রমহিলার স্বামী ফোন করে জানালেন, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার সময় তিনি মারা গেলেন।

মূল যে ঘটনা ঘটেছিল, তা হলো, তিনি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় স্ট্রোক করেছিলেন। সেখানে যদি কেউ জানতেন, কিভাবে স্ট্রোক সনাক্ত করা সম্ভব, তাহলে হয়তো ভদ্রমহিলা আজও বেঁচে থাকতেন।

সবাই যে মৃত্যুবরণ করে, তা নয়। অনেকের ঠাঁই হয় বিছানায়, সাহায্যহীন, ভরসাহীন মূমুর্ষূ অবস্থায়। মাত্র তিনটা মিনিট সময় নিয়ে এটা পড়ে ফেলুন।

একজন মস্তিষ্কবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি একজন স্ট্রোকের শিকার রোগীকে স্ট্রোক হবার তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নেয়া যায়, তবে তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়া সম্ভব। শুধু আমাদের জানতে হবে কিভাবে স্ট্রোক চেনা যায়, এবং কিভাবে রোগীকে উল্লেখ্য সময়ের মধ্যে মেডিকেল কেয়ারে নেয়া যায়।
স্ট্রোককে চিনুন...

সহজ তিনটি ধাপঃ- S T ও R...পড়ুন এবং জানুন!

মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ সনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অজ্ঞতার কারণেই নেমে আসে যাবতীয় দুর্যোগ। স্ট্রোকের শিকার রোগীর মস্তিষ্কে যখন ভয়ানক রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানো প্রিয়জনটিই হয়তো বুঝতে পারছে না, কি অপেক্ষা করছে তাদের কাছের মানুষের জীবনে।

সহজ উপায়ে স্ট্রোক সনাক্ত করার উপায়, সহজ তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুনঃ

S – Smile রোগীকে হাসতে বলুন।

T – Talk রোগীকে আপনার সাথে সাথে একটি বাক্য বলতে বলুন। উদাহরণঃ আজকের দিনটা অনেক সুন্দর।

R – Raise hands. রোগীকে একসাথে দুইহাত উপরে তুলতে বলুন।

এর কোনো একটিতে যদি রোগীর সমস্যা বা কষ্ট হয়, তৎক্ষণাৎ দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং চিকিৎসককে সমস্যাটি খুলে বলুন। (রোগী বলতে স্ট্রোকের শিকার সন্দেহ করা ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে)

সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হচ্ছে, রোগীকে বলুন তার জিহবা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে, বা অথবা যদি তা বেঁকে যেকোনো একদিকে চলে যায়, সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

একজন খ্যাতনামা হৃদবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি আমরা সবাই-ই এই সহজ ব্যাপারগুলো জেনে রাখি, তবে আমরা একজনের হলেও জীবন বাঁচাতে পারবো।

Copy Link