Question-answer

Author Topic: Question-answer  (Read 4380 times)

Offline shibli

  • Moderator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 2768
  • God is only one without a second. [Upanisad 6:2]
    • View Profile
Question-answer
« on: November 02, 2009, 04:24:14 PM »
নাসির উদ্দীন, সৌদি আরব
প্রশ্ন-১. আমরাতো তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়ি কিন্তু আমি একটি হাদিসে দেখেছি রসূল (সাঃ) ১১ রাকাত তারাবির নামাজ পড়তেন। তো আমরা ১১ রাকাত তারাবির নামাজ পড়তে পারি কি?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, আপনি ১১ রাকাত তারাবিহ পড়তে পারেন। রাসূল (সাঃ) শুধু যে রমজানেই ১১ রাকাত পড়তেন তা নয়। তিনি রমজানে ও রমজানের বাইরে কেয়ামুল লাইল করতেন। তিনি ২ রাকাত করে ৮ রাকাত পড়তেন তাহাজ্জুদের নামাজ, তারপর তিনি ৩ রাকাত বেতেরের নামাজ পড়তেন। আপনিও এভাবে পড়তে পারেন। আবার ২০ রাকাতও পড়তে পারেন।

মোঃ খোরশেদুর রহমান, গাইবান্ধা
প্রশ্ন-২. আমি যদি কোন বিধর্মীর তি করি বা তার কোন সম্পদ নষ্ট করি এবং পরে ভুল বুঝতে পারি তখন কি করবো?
উত্তর: বিষয়টি এমন নয় যে, মুসলমানের সম্পদ নষ্ট করলে মা চাইতে হবে আর অমুসলিমের সম্পদ নষ্ট করলে মা চাইতে হবে না, বিষয়টি একদমই এমন নয়। মুসলমানের সম্পদ নষ্ট করলে যেমন গুনাহ হবে অমুসলমানের সম্পদ নষ্ট করলে একই রকম গুনাহ হবে। মুসলমান এবং অমুসলমানের অধিকারের েেত্র কোন পার্থক্য করা যাবেনা। তার জীবনের অধিকার, তার সম্পদের অধিকার এবং তার সম্ভ্রমের অধিকার সেই রকমই যে রকম একজন মুসলমানের অধিকার রয়েছে। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, যদি কোন মুসলমান অমুসলমানের তি করে আমি নিজে হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে তার বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করবো এবং আরও বলেছেন তাদের ধন-সম্পদ আমাদের ধন সম্পদের মতই পবিত্র। তাদের রক্ত আমাদের রক্তের মতই পবিত্র। সুতরাং কোন অবস্থাতেই তি করা যাবেনা। যিনি তি করেছেন তিনি যদি অর্থনৈতিক তি করে থাকেন তা ফেরত দিয়ে দিবেন আর যদি মনে ব্যথা দিয়ে থাকেন তবে মা চাইতে হবে।

সাথী, কল্যাণপুর, ঢাকা
প্রশ্ন-৩. আমি চাকুরি করি রিসিপশনে। এখন আমি কি রিসিপশনে বসে কুরআন পড়তে পারবো?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই কুরআন পড়তে পারেন। তবে আপনি কুরআন অর্থসহ বুঝে পড়বেন। যেহেতু অফিসের সময় তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজের তি না করে পড়বেন।

প্রশ্ন-৪. আমি ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে জামাতের সাথে নামাজ পড়তে পারব কি?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, আপনি স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তে পারবেন এবং তা পড়াই উচিৎ। আপনি যদি সূরা ক্বেরাত সহিহ করে পড়তে পারেন তাহলে আপনি ইমামতি করবেন। তবে পুরুষদের জন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া উত্তম।বিনা ওজরে মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।

প্রশ্ন-৫. ওহাবি কি বুঝিয়ে বলবেন?
উত্তর: ওহাবী বলে কোরআন ও হাদীসে কোন পরিভাষা নেই। এটা কিছু লোক কিছু ভালো লোকদেরকে গালি দেয়ার জন্য বদনাম করার জন্যে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করে থাকেন। তারা নেতিবাচক অর্থে এ শব্দটি তৈরি করেছেন। আবদুল ওহাব নজদী (রহ.) তিনি ছিলেন একজন বড় সংস্কারক শিরক-বিদআত থেকে গোটা জাতিকে মুক্ত করার জন্য ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন। যারা শিরক বিদআতের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তাদেরকে বলে দেয়া হবে ওহাবী। এটি অর্মাজনীয় গোনাহের কাজ।

প্রশ্ন-৬. দাঁড়িয়ে কিয়াম করা এবং বসে কিয়াম করা এ দুয়ের মধ্যে কোনটা সঠিক?
উত্তর: এটা খুবই হাস্যকর কথা। কারণ কেয়াম মানেই হলো দাঁড়ানো, তো বসে আবার কিয়াম হয় কিভাবে? আসলে কিয়ামেরই অস্তিত্ব বস্তুতপে নেই। ধারণা করা হয় রাসূল (সাঃ) মজলিসে এসেছেন সুতরাং সকলে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান দেখানো এটাকে আমরা বলবো একটি ভ্রান্ত ধারণা এবং ইসলামের যে স্পিরিট সেই স্পিরিটের খেলাফ। এধরনের কিয়ামের কথা কোরআন হাদীসে কোথাও নেই।

প্রশ্ন-৭. নামাজের নিয়ত করতে হবে নাকি আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করা যাবে?
উত্তর: নিয়ত করা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আপনি নিয়ত করেছেন যে, আপনি হজ্বে যাবেন তার মানে এই নয় যে, নাওয়াইতুআন পড়েছেন। কিন্তু মনে মনে ইরাদা করেছেন যে, আপনি হজ্বে যাবেন এই ইরাদা করাই হচ্ছে নিয়ত। এটা উচ্চারণ করতে হয়না। তেমনি নামাজ আপনি শুরু করবেন আল্লাহু আকবার বলেই। কারণ রাসূল (সাঃ) নাওয়াইতুআন..... পড়ে নামাজ শুরু করেননি।

রাজিব
প্রশ্ন-৮. আমি একজন হিন্দু। আমি যদি কোন মুসলিমের সাথে ইফতারে বসি তবে তার কি সওয়াব কমে যাবে। কারণ আমার এক বন্ধুর সাথে ইফতারে বসার পরে তিনি এ মন্তব্য করেন যে, তার ইফতারের সওয়াব কমে যাবে।
উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাকে মুবারকবাদ জানাই যে, আপনি আমাদের এই অনুষ্ঠানে শরীক হয়েছেন। আপনি ইফতার করলে যে আপনার বন্ধুর রোজার তি হচ্ছে এটা সঠিক নয়। ইফতারের সওয়াব এতে মোটেই কমবেনা।

ডাঃ মুক্তি এহসান, ইসকাটন, ঢাকা
প্রশ্ন-৯. আমার বাচ্চার আকিকা কোরবানির সাথে আলাদা নিয়ত করে দিয়েছি। এতে কি আমার বাচ্চার আকিকা হবে?
উত্তর: আকিকা কোরবানির সাথে মিলিয়ে করার এই অভিনব পদ্ধতিটি মানুষের আবিষ্কৃত। কোরবানি কোরবানির জায়গায় রাখবেন এবং আকিকা আকিকার জায়গায়। দুটো মিলান ঠিক নয়। তবে আপনার না জানার কারণে হয়তো আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালা কবুল করবেন আশা করি। যদিও কোরআন হাদিসে এ ব্যাপারে আলাদা করে কিছু বলা নাই।

প্রশ্ন-১০. আমি শুনেছি বাবার বাড়ি বা শ্বশুর বাড়িতে গেলে কসরের নামাজ পড়া যায় না। তবে নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে কি কসরের নামাজ পড়া যাবে?
উত্তর: কসর নামাজ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। কেউ যদি ৪৮ মাইল অথবা তার বেশি ভ্রমণ করেন এবং যেখানে যাচ্ছেন সেখানে যদি ১৫ বা তার বেশি দিন থাকবে না এই নিয়তে যান তবে সেখানে গিয়ে তিনি কসর নামাজ পড়বেন। আসলে মানুষ যেখানে বসবাস করে সেখানে কসর পড়বে না। আর যেখানে ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য যাবেন সেখানে কসর পড়বেন। শ্বশুর বাড়ি বাপের বাড়ি বলে কোন কথা নেই। ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য গেলে সেখানেও কসর পড়তে পারেন।

প্রশ্ন-১১. সেহেরির সময় জাগতে না পারলে আজান হওয়ার সময় সেহেরি খেলে কি রোজা হবে?
উত্তর: এ অবস্থায় রোজা হবেনা। তবে না  জেনে যেহেতু খেয়েছেন পরবর্তীতে রমজানের পরে একটি রোজা রেখে দিতে হবে।

প্রশ্ন-১২. কারো নাম নোজাইমা রাখা যাবে কি?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, নোজাইমা নামের অর্থ হচ্ছে ছোট্ট তারকা। তাই কারো মেয়ের নাম নোজাইমা রাখতে পারেন।
ফাহমিদা, রাজশাহী

প্রশ্ন-১৩. আমার আম্মা ১৪/১৫ বছর আগে স্ট্রোক করেছেন। তিনি ব্রেইনস্ট্রোক করার কারণে পূর্ব-পশ্চিম বুঝেন না। একদিকে দাঁড় করিয়ে দিলে তিনি আবার ঘুরে অন্যদিকে দাঁড়ান। তাই উনার জন্য কি ফিদিয়া দিতে হবে?
উত্তর: জ্বি না, আপনার আম্মার নামাজের জন্য ফিদিয়া দিতে হবেনা। উনার জন্য নামাজ মাফ। কারণ তার যেহেতু হুঁশ নেই, তিনি একটু অস্বাভাবিক হয়ে গেছেন তাই তার জন্য নামাজ মাফ।
আবদুর রহমান, সৌদি আরব

প্রশ্ন-১৪. আমি কিছু টাকা রেখেছিলাম ২টি ব্যাংকে। ১টি রূপালী ব্যাংক এবং অন্যটি ইসলামী ব্যাংক। কিন্তু টাকা রাখার সময় কোন লাভ দেয়ার কথা ছিলনা। আমি ব্যাংকে টাকা জমা করছি এবং উঠাচ্ছি। এ অবস্থায় ব্যাংক যদি আমাকে অতিরিক্ত কোন টাকা দেয় তাহলে সে টাকা আমি কি করবো?
উত্তর: আপনার যে টাকা ইসলামী ব্যাংকে রেখেছেন তার অতিরিক্ত টাকাসহ জমা টাকা আপনার। কিন্তু রূপালি ব্যাংক যে টাকা আপনাকে অতিরিক্ত দিয়েছে তা পুরোটাই গরিবকে বিলিয়ে দিতে হবে।

মোঃ সুজন, সৌদি আরব
প্রশ্ন-১৫. বাংলাদেশে যখন তারাবীহ পড়ে তখন সুরা ক্বিরাত খুব দ্রুত পড়ে আবার বেতেরের নামাজের সময় আস্তে আস্তে পড়ে এ দুয়ের পার্থক্য কেন?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, আসলে তারাবিতে দ্রুত সূরা ক্বিরাত পড়ার নিয়ম নয়, আবার বেতেরে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে আস্তে আস্তে পড়াটাও নিয়ম নয়। বেতেরের প্রতি ইনসাফ করা আর তারাবির প্রতি ইনসাফ না করা এটা ইসলাম সম্মত কাজ নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, চট্টগ্রাম
প্রশ্ন-১৬. আমার শরীরে এলার্জী আছে। রোজা রেখে আমি শরীরে মলম মাখতে পারবো কিনা?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, আপনি যে মলম মাখান তা রোজা রেখেও মাখতে পারেন, এতে কোন দোষ নেই।

প্রশ্ন-১৭. আমরা জানি যে রমজান মাসে যদি কেউ মারা যায় তবে তার কবর আযাব মাফ হয়ে যায়, এটা সত্য কিনা?
উত্তর: রমজানে মারা গেলে যে কবর আযাব হবেনা এভাবে কোরআন হাদিসে নেই। আসলে ব্যক্তির ঈমান ও আমলের উপর নির্ভর করবে তার কবরের আযাব হবে কি হবে না। রমজান মাসে শুধু মরে যাওয়াটাই এতোবড় সার্টিফিকেট না।

প্রশ্ন-১৮. সৎ কাজের আদেশ দাও ও অসৎ কাজের নিষেধ কর- বুঝিয়ে বলবেন কি?
উত্তর: এটি মুসলিম উম্মার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষ তার জীবনের সকল পর্যায়ে ভাল কাজ করবে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং সামার্থানুযায়ী ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবেÑ এটাই একথার মর্মার্থ।

মোঃ তালিবুর রহমান, গাজিপুর
প্রশ্ন-১৯. শেষ জামানায় ইমাম মাহদীর আগমন ঘটবে, উনাকে চেনার উপায় কি?
উত্তর: ইমাম মাহদী এমন এক সময় আসবে যখন হযরত ঈসা (আঃ)-এর আগমন তার পরপরই হবে এবং আরো কিছু আলামত প্রকাশিত হবে যার দ্বারা তা বুঝা যেতে পারে।

আহমেদ, সৌদি আরব
প্রশ্ন-২০. মসজিদের কাজের জন্য কি যাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: জ্বি না, মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য যাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে না।

কালাম, মিরপুর, ঢাকা
প্রশ্ন-২১. কতদিনের মধ্যে আকিকা দিতে হবে? এর কোন সময় নির্ধারিত আছে কি?
উত্তর: ৭ দিন, ১৪ দিন অথবা ২১ দিনে আকিকা দিতে হবে। তবে হ্যাঁ যদি কারো আকিকা করা না হয়ে যাকে তবে তার বয়স যাই হোক, আকিকা দিয়ে দিতে হবে। কারণ আকিকা করা সুন্নত। আকিকা না করা পর্যন্ত ব্যক্তির জীবন দায়বদ্ধ অবস্থায় থাকে বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকে জানা যায়।

প্রশ্ন-২২. ৫/৬ মাস পরে বাচ্চা মারা গেলে কি তার আকিকা করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ যাবে।

নাসির উদ্দিন, সৌদি আরব
প্রশ্ন-২৩. সরকার যে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দিয়েছেন তাতে কি নামাজও ১ ঘণ্টা আগাতে হবে?
উত্তর: নামাজের ওয়াক্ত যখন হবে তখনই নামাজ আদায় করতে হবে। সূর্যের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে নামাজের সময়ের পরিবর্তন হবে।

রুহুল আমিন, কুমিল্লা
প্রশ্ন-২৪. আমি একজনকে এক ল বিশ হাজার টাকা ব্যবসার জন্য ধার দিয়েছি। তিনি আমাকে বিশ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বাকি টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারছেন না। তাহলে ঐ এক ল টাকার যাকাত আমাকে দিতে হবে কি?
উত্তর: ঐ ১ ল টাকার যাকাত আপনাকে দিতে হবে না। তবে যখন হাতে পাবেন তখনই ১ বছরের যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্ন-২৫. মাফ করবেন, আমার একটি বদঅভ্যাস আছে আমি গুল ব্যবহার করি, এটা জিহ্বার নিচে দিলে আমার পায়খানা কিয়ার হয়, নয়তো হয় না। এখন রোজা রেখে এই গুল ব্যবহার করতে পারবো কি না?
উত্তর: আসলে রোজা ভঙ্গের কিছু কারণ আছে যেমন- কেউ যদি কিছু পান করে বা খায় বা যৌন সম্ভোগ করে তবে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে মুখে কিছু দিলেন আবার বের করে ফেললেন এজন্য রোজার কোন তি হবে না। গুল ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত তিকর। তাই এর থেকে বিরত থাকতে হবে। গুল মুখে দেয়া অবস্থায় যদি তা পেটে চলে যায় তাহলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন-২৬. ব্যাংক থেকে আমাদের যে সুদ দেয় ঐ টাকাটা আমরা কিভাবে বণ্টন করবো?
উত্তর: সুদের টাকা মোটেও কারো জন্য জায়েজ নয়। সম্পূর্ণ টাকাই গরিবকে দিয়ে দিতে হবে অথবা কোন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। আপনি এ টাকার মালিক নন। সুতরাং এটা ভোগ করার কোন সুযোগই আপনার নেই। আর এটা দিয়ে কোন সওয়াবও কামাই করা যাবে না শুধু দায়মুক্ত হবার জন্য তাড়াতাড়ি উপরোক্ত খাতে দিয়ে দিতে হবে।

প্রশ্ন-২৭. পুরো সৌদি আরবে তারাবিহর নামাজ হয় ৮ রাকাত। শুধু মক্কা ও মদিনায়২০ রাকাত নামাজ হয়। একটু বলবেন কি আমরা কোন্টা করবো?
উত্তর: যেখানে আছেন সেখানে যদি ৮ রাকাত হয় আপনি ৮ রাকাতই পড়েন। অথবা আপনি চাইলে ২০ রাকাত পড়তে পারেন।

ডাঃ গালিব
প্রশ্ন-৩৮. রমজানের রোজা এখনকার মতো পূর্বেও কি ছিল?
উত্তর: জ্বি হ্যাঁ, মানুষের ইতিহাস যত পুরাতন রোজার ইতিহাসও ততোই পুরাতন। কোরআনে আসছে যে, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেয়া হলো সেইভাবে যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। হয়তো এরকম এক মাস ব্যাপি রোজা ছিলনা। তবে কোন না কোন অবস্থায় রোজা ছিল।

মহসিন
প্রশ্ন-২৯. আমি ব্যবসা করার কারণে লঞ্চে যাতায়াত করি। কিন্তু লঞ্চে অনেক সময় সেহেরীর খাবার সমস্যা হয়। ঐ সময় অমুসলিমদের নিকট থেকে কিছু খাবার খেলে আমার রোজা হবে কিনা?
উত্তর: জ্বি না, কোন সমস্যা হবে না। আপনি অমুসলিমদের কিছু সহযোগিতা নিচ্ছেন সেহেরীর েেত্র এতে কোন সমস্যা নেই। শর্ত হচ্ছে খাবার হালাল হতে হবে। এতে আপনার রোজার কোন তি হবেনা। কিন্তু আপনি সেহরী খাবেন হালাল জিনিস দিয়ে। তা মুসলমানদের সরবরাহ করা হোক আর অমুসলিমদের হোক।

প্রশ্ন-৩০. নেক কাজের সংজ্ঞা কি?
উত্তর: যে কোন বৈধ কাজ যা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্যেশ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এর অনুকরনে করা হয়, তাই নেক কাজ।

মোঃ ফারুক, নরসিংদী
প্রশ্ন-৩১. ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কি সুরা ফাতেহা পড়তে হবে? অনেকে বলেন পড়তে হবে আবার কেউ বলেন পড়তে হবে না। আমরা কোনটা করবো?
উত্তর: মুক্তাদির জন্য ও সুরা ফাতেহা পড়া প্রয়োজন বলে একটি মত আছে। আবার সুরা ফাতেহা পড়া যাবেনা বলেও একটি মত আছে এবং যে সকল নামাজে সুরা  জোরে পড়া হয় তাতে মুক্তাদিগণ ফাতেহা পড়বেন না এবং যে সকল নামাজে আস্তে সুরা পড়া হয় তাতে মুক্তাদি সুরা ফাতেহা পড়বেন বলে মত আছে। এভাবে শরীয়াতে তিনটি মত আছে একে মতবৈচিত্র বলা হয়। অতএব উল্লেখিত তিনটি মতের যেকোন একটি মানতে পারেন।

পরাগ, রাজশাহী
প্রশ্ন-৩২. আমি অসুস্থতার জন্য রোজা রাখতে পারছিনা তাই একজনকে দিয়ে রোজা রাখা”ি। তাতে কি রোজা হবে?
উত্তর: কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারেন এবং এমন অসুস্থতা যা নিরাময়ের সম্ভাবনা নেই, তাহলে তিনি কিন্তু এটা করবেন না যে কাউকে দিয়ে রোজা রাখাবেন। আসলে মাসয়ালা হলো এক রোজার জন্য তিনি একজন গরীবকে দুই বেলা পেটপুরে খাওয়াবেন অথবা সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দিবেন, এটাকে ফিদিয়া বলে। উল্লেখ্য ঐ গরীব লোকটা রোজা রাখতে অম হলেও তি নেই।
« Last Edit: November 02, 2009, 04:26:02 PM by shibli »
Those who worship the natural elements enter darkness (Air, Water, Fire, etc.). Those who worship sambhuti sink deeper in darkness. [Yajurveda 40:9]; Sambhuti means created things, for example table, chair, idol, etc.

Offline shibli

  • Moderator
  • Hero Member
  • *****
  • Posts: 2768
  • God is only one without a second. [Upanisad 6:2]
    • View Profile
Re: Question-answer
« Reply #1 on: November 02, 2009, 04:41:01 PM »
বিদায় হজ্জে শেষ নবীর বাণী  
করুণাময় আল্লাহ তা’আলার মহিমা কীর্তন এবং তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর হযরত সকলকে সম্বোধন করিয়া বলিতে লাগিলেন:
হে লোক সকল! আমার কথাগুলি মনোযোগপূর্বক শ্রবণ কর। আমার মতে হইতেছে, অত:পর হজ্জ তীর্তে যোগদান করা আর আমার পে সম্ভব হইয়া উঠিবেনা।

শ্রবণ কর। মূর্খতা-যুগের সমস্ত কুসংস্কার, সমস্ত অন্ধ বিশ্বাস এবং সকল প্রকারের অনাচার আর আমার পদতলে দলিত-মথিত অর্থাৎ রহিত ও বাতিল হইয়া গেল।

মূর্খতা-যুগের শোণিত-প্রতিশোধ আজ হইতে বারিত, মূর্খতা-যুগের সমস্ত কুসীদ আজ হইতে রহিত। আমি সর্বপ্রথম ঘোষণা করিতেছি, আমার স্বগোত্রের প্রাপ্য সমস্ত সুদ ও সকল প্রকার শোণিতের দাবী আজ হইতে রহিত হইয়া গেল।

একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দন্ড দেওয়া যায় না। অত:পর পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে এবং পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা চলিবে না। যদ্যাপি কোন কর্তিত-নাস কাফ্রী ক্রীতদাসকেও তোমাগিগের আমীর করিয়া দেওয়া হয় এবং আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদিগকে পরিচালনা করিতে থাকে, তাহা হইলে তোমরা সর্বোতভাবে তাহার অনুগত হইয়া থাকিবা- তাহার আদেশ মান্য করিয়া চলিবা।

সাবধান! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করিও না। এই অতিরিক্ততার ফলে তোমাদিগের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হইয়া গিয়াছে। স্মরণ রাখিও, তোমাদিগের সকলকেই আল্লাহ সন্নিধানে উপস্থিত হইতে হইবে, তাঁহার নিকট এই সকল কথার জওয়াবদিহি করিতে হইবে। সাবধান তোমরা যেন আমার পর ধর্মভ্রষ্ট হইয়া যাইওনা, কাফের হইয়া পরস্পরের রক্তপাতে লিপ্ত হইওনা।

দেখ, আজিকার এই হজ্জ দিবস যেমন মহিমাপূর্ণ, মক্কাধামের এই হরম যেমন পবিত্র;- প্রত্যেক মুসলমানের ধন-সম্পদ, প্রত্যেক মুসলমানের মানসম্ভ্রম এবং প্রত্যেক মুসলমানের শোণিতবিন্দুও তোমাদিগের প্রতি সেইরূপ মহান-সেইরূপ পবিত্র। পূর্বোক্ত বিষয়গুলির পবিত্রতার হানি করা যেমন তোমরা প্রত্যেকেই অবশ্য পরিত্যজ্য ও হারাম বলিয়া বিশ্বা করিয়া থাক, কোন মুসলমানের সম্পত্তি, সম্মানের এবং তাহার প্রাণের তি সাধন করাও তোমাদিগের প্রতি সেইরূপ হারা-সেইরূপ মহাপাতক।

এক দেশের লোকের জন্য অন্য দেশবাসীর উপর প্রধান্যের কোনই কারণ নাই। মানুষ সমস্তই আদম হইতে এবং আদম মাটি হইতে (উৎপন্ন হইয়াছেন)।

জানিয়া রাখ, নিশ্চয়ই এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভ্রাতা, আর সকল মুসলমানকে লইয়া এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃসমাজ। হে লোক সকল, শ্রবণ কর! আমার পর কোন নবী নাই, তোমাদের পর আর কোন জাতি (উম্মত) নাই। আমি যাহা বলিতেছি, মনোযোগ দিয়া শ্রবণ কর, এই বৎসরের পর তোমরা হয়ত আমার আর সাাত পাইবে না-‘এলেম’ উঠিয়া যাওয়ার পূর্বে আমার নিকট হইতে শিখিয়া লও।
চারিটি কথা, হ্যাঁ! এই চারিটি কথা বিশেষ করিয়া স্মরণ রাখিও: শেরেক করিওনা, অন্যায়ভাবে নরহত্যা করিওনা, পরস্ব অপহরণ করিওিনা, ব্যাভিচারে লিপ্ত হইও না।

হে লোক সকল শ্রবণ কর, গ্রহণ করি এবং গ্রহণ করিয়া জীবন লাভ কর। সাবধান! কোন অথ্যাচার করিওনা। সাবধান! কাহারও অসম্মতিতে তাহার সামান্য ধনও গ্রহণ করিও না।

আমি তোমাদিগের নিকট যাহা রাখিয়া যাইতেছি, দৃঢ়তার সহিত তাহা অবলম্বন করিয়া থাকিলে তোমরা কদাচিৎ পথভ্রষ্ঠ হইবেনা। তাহা হইতেছে- আল্লাহর কেতাব ও তাঁহার রাসূলের আদর্শ।

হে লোক সকল শয়তান নিরাশ হইয়াছে, সে আর কখনও তোমাদের দেশে পূজা পাইবে না। কিন্তু সাবধান, অনেক বিষয়কে তোমরা ুদ্র বলিয়া মনে করিয়া াক, অচ শয়তান তাহারাই মধ্যবর্তিতায় অনেক সময় তোমাদিগের সাবধান করিয়া থাকে। ঐগুলি সমন্ধে খুব সতর্ক থাকিবা।

অত:পর, হে লোক সকল! নারীদিগের সম্বন্ধে আমি তোমাদিগকে সতর্ক করিয়া দিতেছে- উদিগের প্রতি নির্মম ব্যবহার করার সময় আল্লাহর দন্ড হইতে নির্ভয় হইও না। নিশ্চয়ই তোমরা তাহাদিগের দাম্পত্যস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। নিশ্চয় জানিও, তোমাদিগের সহধর্মীনিগণের উপর তোমাদিগের যেমন দাবী-দাওয়া ও স্বত্ত্বধিকার আছে-তোমাদিগের উপরও তাহাদিগের সেরূপ দাবী-দাওয়া ও স্বত্ত্বাধিকার আছে। পরস্পরকে নারীদিগের প্রতি দদ্ব্যবহার করিতে উদ্বুদ্ধ করিবা। স্মরণ রাখিও, অবলাদিগের একমাত্র বল তোমরাই, এই নিঃসহায়াদিগের একমাত্র সহায় তোমরাই।

আর তোমাদিগের দাস-দাসী, নিঃসহায়-নিরাশ্রয় দাসদাসী! সাবধান! ইহাদিগকে নির্যাতিত করিওনা, ইহাদিগের মর্মে ব্যাথা দিওনা। শুনিয়া রাখ, ইসলামের আদেশ: তোমরা যাহা খাইবে, দাস-দাসীদিগকেও তাহাই খাওয়াইতে হইবে। তোমরা যাহা পরিবে, তাহাদিগকে তাহাই পরাইতে হইবে। কোন প্রকার তারতম্য করিতে পারিবেনা।

যে ব্যক্তি নিজের বংশের পরিবর্তে নিজেকে অন্য বংশের বলিয়া প্রচার করে, তাহার উপর আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাগণের ও সমগ্র মানব জাতির অনন্ত অভিসম্পাত। আমি তোমাদিগের নিকট আল্লহর কিতাব রাখিয়া যাইতেছি। যাবৎ ঐ কিতাবকে অবলম্বন করিয়া থাকিবা- তাবৎ তোমরা পথভ্রষ্ঠ হইবে না।

যাহারা উপস্থিত আছে, তাহারা অনুপস্থিতদিগকে আমার এই সকল ‘পয়গাম’ পৌছাইয়া দিবা। হয়ত উপস্থিতগণের কতক লোক অপো অনুপস্থিতগণের কতক লোক ইহার দ্বারা অধিকতর উপকার প্রাপ্ত হইবে।
 

« Last Edit: November 02, 2009, 05:43:46 PM by shibli »
Those who worship the natural elements enter darkness (Air, Water, Fire, etc.). Those who worship sambhuti sink deeper in darkness. [Yajurveda 40:9]; Sambhuti means created things, for example table, chair, idol, etc.