Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 29
1
Heart / ফুসফুসের যত্নে করণীয়
« on: May 22, 2022, 01:29:05 PM »
সাধারণত ফুসফুস কতটা সুস্থ, তা বোঝা যায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসেবে তার বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা দেখে। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এর ধারণক্ষমতা কমতে থাকে। তাই বয়স যখন ৪০, তখন থেকেই ফুসফুসের প্রতি বেশি খেয়াল রাখা দরকার। কম বয়স থেকেই সেই যত্নের পাঠ শুরু হলে ভবিষ্যতে তা আরও ভালো ফলদায়ক হবে।

ফুসফুস যত্নে করণীয়
শরীরের গঠন অনুযায়ী নারীর তুলনায় পুরুষের ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বেশি হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনিয়ম ও অযত্নে তা কমতে পারে। আবার একটু বেশি যত্ন নিলে নারীর ফুসফুসেরও ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে তাকে সুস্থ রাখা যায়। তাই ফুসফুসের যত্নের প্রশ্নে নারী-পুরুষ উভয়কেই হতে হবে সচেতন। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসকে সুস্থ রাখবে। বিশেষত হাঁপানি বা ক্রনিক ব্রংকাইটিসের রোগীদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উপকারী। এ ছাড়া এতে শিথিলায়ন হয় বা মানসিক চাপ কমে। পাশাপাশি ফুসফুসকে সুস্থ রাখার বিষয়ে খাবারের একটা বড় ভূমিকা আছে। বিশেষ করে বয়সের ভারে বা পরিবেশ দূষণে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রশ্নে যারা একটু দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের যত্নের কথা মাথায় রেখেই সাজাতে হবে ডায়েট চার্ট। ফুসফুসের যত্নে কী কী করণীয় জেনে নিন।

♦ ফুসফুসে নিকোটিন ও কার্বনের নানা যৌগ ফুসফুসে পৌঁছে তার চরম ক্ষতি করে। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে ধূমপানের বদভ্যাস ত্যাগ করুন।

♦ শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ফুসফুসের স্বাস্থ্য তথা পুরো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে দিনে ২-৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করতে হবে। এতে রক্তের ঘনত্ব ঠিকঠাক থাকে বলে সারা শরীরের সঙ্গে ফুসফুসেও রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ফুসফুসের শ্লেষ্মা পাতলা থাকে। ফলে বাতাসের বিষ, জীবাণু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বার করে দিতে সুবিধে হয়। এছাড়া ফুসফুসের মিউকোসাল লাইলিংগুলোকে সরু ও কার্যক্ষম করে তুলতে পানির ভূমিকা অপরিসীম।

♦ পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের জন্য ভালো। অতএব, সবুজ শাক, টমেটো, বিট, আলু, কলা খান নিয়মিত। প্রোটিন একটু বেশি করে খান। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ইত্যাদি।

♦ পুষ্টিবিদদের মতে, কার্বোহাইড্রেট সুষম খাবারের অঙ্গ। তাই একেবারে বাদ দেওয়া যাবে না। তবে কার্বোহাইড্রেটের ধরন পাল্টে নিন। সাধারণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বদলে নিন কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। কম স্টার্চ আছে এমন শাক-সবজি বেশি খান। আলু, পটল, কুমড়া, গাজর ইত্যাদি খান। খোসা না ছাড়িয়ে তরকারি করে খেতে পারলে আরও ভালো।

♦ মেরুদন্ড সোজা করে বসে চোখ বন্ধ করে পর পর কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে এর গতি কমে আসবে। প্রথমে প্রশ্বাস ছাড়ার সময় এক গুনবেন, তার পরের বার দুই, এভাবে পাঁচ পর্যন্ত। তার পর আবার নতুন করে এক দিয়ে শুরু করবেন। এ ব্যায়ামটি দিনে ১০ মিনিট করবেন। এটি এক ধরনের মেডিটেশন বা ধ্যান।

♦ বুক ভরে লম্বা নিঃশ্বাস নেওয়া আর ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ার ব্যায়াম আপনার ফুসফুসকে আরও মজবুত, কার্যকরী করবে। যখন আমরা বুক ভরে শ্বাস নিই তখন আমাদের পাঁজরের হাড় বা রিবস বাইরের দিকে সরে আসে পাশাপাশি ডায়াফ্রামের পেশি সংকুচিত হয়ে নিচে নেমে যায়, ফলে আমাদের ফুসফুস প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়, আবার যখন নিঃশ্বাস ছেড়ে দিই তখন রিবস এবং ডায়াফ্রামের পেশি আগের অবস্থানে ফিরে আসে। এভাবে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার ফলে আমাদের শরীর অতিরিক্ত অক্সিজেন পায় যা আমাদের শরীরকে বেশি বেশি শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি আর স্ট্রেস দূর করে। সময় পেলেই আমাদের উচিত এভাবে বুক ভরে একটু লম্বা সময় ধরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার এক্সারসাইজ করা।

লেখা : হেলথ ডেস্ক




2
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন, কারও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার প্রবণতা থাকলে হয়ত সেটিকে হাইপারটেনশন বলে। কেউ মনে করেন কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হয়ত উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সময় যে বুক ধড়ফড় করে সেটাই হাইপারটেনশন।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, উচ্চ রক্তচাপেরই আরেক নাম হাইপারটেনশন। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস হাইপারটেনশনকেই হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ বলে বর্ণনা করছে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

বাংলাদেশে এক চতুর্থাংশ মানুষ হাইপারটেনশন বা যাকে সাধারণভাবে আমরা উচ্চ রক্তচাপ বলে জানি, তাতে ভুগছেন বলে চিকিৎসকেরা জানান। আর তাতে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভুগছেন।

চলুন জেনে নিই হাইপারটেনশন নিয়ে মৌলিক কিছু বিষয়াবলী-

কেন হয় হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ?

এক সময় ধরে নেওয়া হত কেবল বয়স্ক মানুষ অর্থাৎ ৪০ বছরের বেশি হলেই কারও উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা তৈরি হয়।

কিন্তু এখন চিকিৎসকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অল্পবয়সীদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক এসএম মুস্তাফা জামান বলেছেন, সবচেয়ে বড় শঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষ যারা হাইপারটেনশনে ভুগছেন, অথচ তারা সে সম্পর্কে জানেনই না।

“এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের মত বড় ধরনের কোনও অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে পরিণতিতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে এ নীরব ঘাতকের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব,” তিনি বলেছেন।

সেজন্য সবার আগে প্রয়োজন শনাক্ত করা যে আপনার রক্তচাপ বিপৎসীমার নিচে আছে কি না, আর না থাকলে কী করতে হবে।

কিন্তু কিভাবে বোঝা যাবে একজন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কি-না?

লক্ষণ কী?

আফসানা সুলতানা একজন ব্যাংকার। ২০২০ সালে প্রায় মাসখানেক ধরে তার ঘাড় ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা এবং বমি বমি ভাব হচ্ছিল।

তিনি ভেবেছিলেন হয়ত দীর্ঘসময় কম্পিউটারে কাজ করছেন বলে ঘাড় ব্যথা হচ্ছে। সাথে খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়মের কারণে গ্যাস হয়ে হয়ত বমি ভাব হচ্ছে।

নিজে নিজে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছিলেন। লাভ হচ্ছিল না।

এরপর একদিন হঠাৎ তিনি বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান যে তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে এবং তার রক্তচাপ অনেক বেশি।

কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকার সময় দেখা গেল উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া তার আর কোনও বড় সমস্যা মানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনি রোগ নেই।

তখন চিকিৎসকেরা জানান, উচ্চ রক্তচাপের কারণেই তার স্ট্রোক হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আফসানা সুলতানার যে লক্ষণগুলো ছিল সেগুলোই কি উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ?

চিকিৎসকেরা বলছেন, না।

অধ্যাপক এসএম মুস্তাফা জামান বলেছেন, বাংলাদেশে হাইপারটেনশনের যে রোগীরা আসেন তাদের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী জানেনই না যে তারা হাইপারটেনশনে ভুগছেন।

একভাগ রোগী আসেন ঘাড় ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি ভাব বা বমি হওয়া, শরীর খারাপ এমন ধরনের উপসর্গ নিয়ে।

আর একভাগ রোগী আসেন উচ্চ রক্তচাপের ফলে হওয়া জটিলতা নিয়ে, যেমন হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হবার পর।

কিন্তু সাধারণভাবে তিনি কয়েকটি লক্ষণের কথা বলেছেন, যেমন ঘাড় ও মাথা ব্যথার পাশাপাশি মাথা ঘোরা, অল্পে রেগে যাওয়া, রাতে ভালো ঘুম না হওয়া, অস্থির লাগা-- এমন লক্ষণ দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে, এবং রক্তচাপ পরিমাপ করে দেখতে হবে।

কখন বোঝা যাবে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়েছে?

হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বলা হয়।

অধ্যাপক জামান বলেছেন, যখন কোনও মানুষের রক্তচাপ পরিমাপের দুটি একক, অর্থাৎ সিস্টলিক প্রেশার, যাকে প্রেশারের উপরের পরিমাপক বলা হয়, এবং ডায়াস্টলিক প্রেশার, যাকে সহজভাবে নিচের দিকের রক্তচাপ পরিমাপক বলা হয়, সেখানে নির্ধারিত মাত্রার উপরে রক্তচাপ চলে যায়।

একজন সুস্থ মানুষের রক্তচাপ থাকার কথা ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি।

কিন্তু সেটি যদি কারও পরপর দুইদিন ১৪০/৯০ এর বেশি থাকলে তখন সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বলে চিহ্নিত করা হয়।

তবে রোগীর বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি হলে রক্তচাপের পরিমাপক বেশি হবে।

কীভাবে বাড়ে রক্তচাপ?

অধ্যাপক জামান বলেছেন, উচ্চ রক্তচাপ কিভাবে বাড়ে সেটি নির্দিষ্ট করে জানা যায় না।

তবে, অনেক সময়ই উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক কারণের সাথে বংশগতির সম্পর্ক থাকে।

তবে যাদের অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়, তাদের রক্তচাপ বেশি থাকার কিছু কারণ দেখা যায়, যার কারণে কারও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে:

* কিডনি সমস্যা

* রক্তনালী সরু হয়ে গেছে

* হরমোন সমস্যা

* থাইরয়েড সমস্যা, পিটুইটারি গ্লান্ডের সমস্যা

* মস্তিষ্কে কোনও সমস্যা থাকলে

* স্টেরয়েড গ্রহণের ধারাবাহিকতা থাকলে

উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাঁচতে কী করতে হবে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৯৪ লাখ মানুষ মারা যান, এবং এটি পৃথিবীতে অসুখে ভুগে মারা যাওয়ার প্রধান কারণ।

অধ্যাপক জামান বলেছেন, উচ্চ রক্তচাপের কারণে শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে।

প্রথমেই এ থেকে স্ট্রোক হতে পারে, যা থেকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।

স্ট্রোক থেকে অন্ধত্ব, শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ থেকে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওর হতে পারে।

এছাড়া উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

ফলে চিকিৎসকেরা মনে করেন, সতর্ক হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

যেসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সুস্থ থাকা যাবে:

* খাবারে আলগা লবণ বাদ দিতে হবে

* ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

* শাক-সবজি, ফলমূল বেশি করে খেতে হবে

* নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে

* নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করতে হবে

* রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

* তামাক ও তামাক জাতীয় বস্তু ত্যাগ করতে হবে

* পরিমিত ঘুমাতে হবে

* স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমাতে হবে

* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না

উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ক গাইডলাইন

বাংলাদেশের সরকারের উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ক একটি গাইডলাইন আছে, যাতে কম ওষুধ সেবন করে এবং জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

এই গাইডলাইন তৈরির সাথে ছিলেন অধ্যাপক জামান, তিনি বলেছেন গাইডলাইনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তচাপ পরিমাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে একটি চার্ট বা টেবিল করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে উচ্চ রক্তচাপ কত থাকলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং কী ওষুধ খেতে হবে, সেগুলো চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
 

সূত্র: বিবিসি বাংলা


3
শরীরে অগ্ন্যাশয় যদি যথার্থ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীরে ইনসুলিনের সঠিক কাজ ব্যাহত হয় তাহলে সেটাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঘন ঘন প্রস্রাব হয়; অধিক তৃষ্ণার্ত অনুভব করে এবং বার বার মুখ শুকিয়ে যায়। আক্রান্তরা অতিশয় দুর্বলতা, সার্বক্ষণিক ক্ষুধা, স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস, চোখে ঝাপসা দেখাসহ নানান সমস্যায় ভোগে।

নিচে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক কয়েকটি খাবার নিয়ে আলোচনা করা হলো :
সবুজ চা : সবুজ চা মানুষের শরীরে ইনসুলিনের মতো কাজ করে; ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে এটি।
ওয়াইল্ড স্যামন : ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অন্যতম একটি ঔষধি খাদ্য ওয়াইল্ড স্যামন। এতে উচ্চ মাত্রায় ওমেগা-৩ রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি বড় উৎস এটি। ডায়াবেটিস রোগের পাশাপাশি কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকিও কমায় ওয়াইল্ড স্যামন।

মাছ : গবেষণায় দেখা যায়, মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ইনসুলিনের সংবেদনশীলতাকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি গ্লুকোজের ঘনত্ব কমিয়ে ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে। এতে চর্বিহীন প্রোটিন রয়েছে।

টক দই : টক দই একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এতে চিনির পরিমাণ খুব কম। এটি রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। দুপুরের খাবারের সঙ্গে বা বিকেলের নাস্তায় স্যান্ডউইচের সঙ্গে টক দই খাওয়া যায়। এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ডিমের সাদা অংশ : ডিম পেশি গঠনকারী খাদ্য। এতে উচ্চ মানের প্রোটিন রয়েছে। ডিমের সাদা অংশে উচ্চ মানের চর্বিহীন প্রোটিন এবং কম মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা ২ ধরণের ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

লেবু : লেবু ও লেবু জাতীয় ফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন সি এর অভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে লেবু জাতীয় ফল খেলে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ হয়। জাম্বুরা, কমলা, লেবু এবং লাইমস ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের মতো কাজ করে।

সবুজ শাকসবজি : সবুজশাক সবজি ২ ধরনের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। পালং শাক, পাতা কপি, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম। গবেষণায় বলা হয়, সবুজ শাক সবজি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে।

বাদাম : গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসের ঝুকি প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমায় চীনাবাদাম। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১ আউন্স আখরোট বা কাজুবাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিস্ময়করভাবে কাজ করে। নিয়মিত বাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

মটরশুটি : ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য মটরশুটি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ১ কাপ মটরশুটি খেলে ২ ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। এতে উচ্চমাত্রায় শর্করা, চর্বিহীন প্রোটিন এবং আঁশ রয়েছে। এটি শরীরের রক্তে চিনি কমাতে সাহায্য করে; হৃদরোগের সম্ভাবনাও কমায়।


বিডি প্রতিদিন/


4
নবিজীর শেখানো ৪ তাসবির আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী। শুনতে সাধারণ মনে হলেও নবিজীর শেখানো নিয়মে এ তাসবির আমল করলে যে কোনো দোয়াই কবুল হবে। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট। নবিজী কী নিয়মে এ তাসবিহ পড়তে বলেছেন?

হাদিসে পাকে এসেছে, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একদিন এক আরব বেদুইন এসে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে (যে কোনো) একটি ভালো আমল শিখিয়ে দিন- এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই বেদুইনের হাত ধরলেন। আর তাকে (সামনে বসিয়ে) এ শব্দগুলো শেখালেন এবং বললেন এ শব্দগুলো (৪ তাসবিহ) বেশি বেশি পড়বে-
১. سُبْحَانَ الله : সুবহানাল্লাহ; আল্লাহ পবিত্র
২. اَلْحَمْدُ للهِ : আলহামদুলিল্লাহ; সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য
৩. لَا اِلَهَ اِلَّا الله : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই
৪. اَللهُ اَكْبَر : আল্লাহু আকবার; আল্লাহ তাআলাই মহান (সবচেয়ে বড়)।

লোকটি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত এ তাসবিহগুলো শুনে কোনো কিছু না বলে ওঠে চলে গেলেন। (অর্থাৎ এ আমলের ব্যাপারে তার আগ্রহ বাড়েনি)

তারপরেই ঘটে চমৎকার ঘটনা!
লোকটি কিছুদূর যাওয়ার পর কি যেন চিন্তা করে আবারও নবিজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে আসে। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তাঁকে দেখে) মুচকি হাসলেন। লোকটি এসে নবিজীর সামনে বসে বললেন-
(হে আল্লাহর রাসুল!) ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’- আপনি এ তাসবিহগুলো যে আমাকে শেখালেন কিন্তু এ বাক্যগুলো তো শুধু আল্লাহর জন্য। এতে আমার জন্য কী রয়েছে? এগুলো পড়লে আমি কী পাবো?

এবার নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
১. তুমি যখন বলবে- ‘সুবহানাল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
২. তুমি যখন বলবে- ‘আলহামদুলিল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
৩. তুমি যখন বলবে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।
৪. তুমি যখন বলবে- ‘আল্লাহু আকবার। আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি সত্য বলেছ।

এরপর এই ৪ তাসবিহ পড়া ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিজের (কাঙিক্ষত) চাহিদাগুলো (ধারাবাহিকভাবে যা চাইবে) তুলে ধরবে (যেমন)-
১. বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ) আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।

২. বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ) ‘আল্লাহুম্মার জুক্বনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিজিক দান করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাকে ইতিমধ্যে রিজিক দান করেছি।’

৩. বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْحَمْنِىْ) আল্লাহুম্মার হামনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অনুগ্রহ করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, ইতিমধ্যে তোমার প্রতি রহম করেছি।

এভাবে কোনো বান্দা যদি ৪ তাসিবর আমল করে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করে যে কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করে তবে মহান আল্লাহ বান্দার সব চাওয়া-পাওয়া পূরণ করে দেবেন। (ইনশাআল্লাহ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত নিয়মিত ৪ তাসবির আমল করা। এ আমলের মাধ্যমে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত সব বিষয়গুলো পাওয়ার চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ৪ তাসবির আমল যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source:https://www.jagonews24.com/religion/islam/763498

5
আরবি তাকওয়ার অর্থ কষ্টদায়ক বা ক্ষতিকারক বিষয় থেকে নিজেকে হেফাজত করা। সমাজ জীবনে সব ধরনের অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আল্লাহভীতি অন্তরে ধারণ করে কোরআনের নির্দেশিত বাণী ও রসুল (সা.)-এর আদর্শ মেনে জীবন পরিচালনা করাই হলো তাকওয়া। কীভাবে এ রমজানে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি? আমরা জানি এ মাসে কোরআন নাজিল হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন একটি মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, আর এ কোরআন হচ্ছে মানব জাতির জন্য পথের দিশা। সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যে অসুস্থ বা ভ্রমণে থাকবে সে পরবর্তী কোনো সময়ে গুনে গুনে সে পরিমাণ দিন পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মগুলো সহজ করে দিতে চান। তিনি তোমাদের প্রতি কঠোর করে দিতে চান না। যাতে তোমরা তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর এবং তিনি কোরআনের মাধ্যমে যে হেদায়াত দিয়েছেন সেজন্য কৃতজ্ঞতা আদায় কর।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫।
এ রমজানে আমরা আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে দোয়া করব। তাঁর সাহায্য চাইব। রসুল (সা.) বলেন, ‘সিয়াম পালনকারীদের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না অর্থাৎ কবুল হয়ে থাকে।’ (ইবনে মাজাহ) মনে রাখতে হবে তাকওয়া অর্জনকারীরাই মুত্তাকি। তারাই সফলকাম। সঠিক সিয়াম পালনের মধ্য দিয়েই বান্দা অর্জন করে তাকওয়া। কেননা সিয়াম পালনের মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে যে শক্তি অর্জিত হয় সেটাই তাকওয়ার ভিত্তি।

তাকওয়া অর্জনের অন্যতম উপায় আল্লাহকে চেনা ও জানা। কোনো মুসলমান যদি কোরআনকে ভালোভাবে বুঝতে পারে তাহলে কোরআন তার অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি এ কোরআনে মানুষকে বোঝানোর জন্য সব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।’ (সুরা জুমার, আয়াত ২৭)

আল কোরআনে সিয়ামের বিধিনিষেধ বর্ণনার পর আল্লাহ বলেন ‘এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলো মানুষের জন্য বর্ণনা করেন, আশা করা যায় তারা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৭) ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করা তাকওয়া অর্জনের অন্যতম উপকরণ। ফরজ বা নফল সব ইবাদতের মাধ্যমেই তাকওয়া অর্জন সম্ভব। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের সবাইকে পয়দা করেছেন, আশা করা যায় তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২১)

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করার মধ্য দিয়েও অন্তরে তাকওয়া সৃস্টি হয়। সুরা ইউনুসের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই দিনরাতের পরিবর্তনে এবং আল্লাহতায়লা যা কিছু আসমান ও জমিনের মধ্যে পয়দা করেছেন তার প্রতিটি জিনিসের মধ্যে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন জাতির জন্য যারা তাকওয়া অবলম্ব^ন করে।’ সুবহানাল্লাহ।

পরকালের ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমেও অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য তাদের ওপরে ছায়া দানকারী আগুনের মেঘমালা থাকবে, তাদের নিচের দিকে থাকবে আগুনেরই বিছানা, এ হচ্ছে সেই বীভৎস আজাব, যা দিয়ে আল্লাহতায়লা তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। অতএব হে বান্দারা! তোমরা আমাকে ভয় কর।’ (সুরা জুমার, আয়াত ১৬)

তাকওয়া অর্জনের প্রধান উপায় হলো আত্মসংশোধন, পাপমুক্ত করা, চরিত্র কলুষমুক্ত করা। আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই অর্জিত হয় তাকওয়া। এর জন্য প্রয়োজন কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন গড়া। তাহলেই আমরা প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া অর্জন করতে পারব। আমাদের ইহজীবন ও পরকাল হবে শান্তির। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রমজানে তাকওয়া অর্জনের তৌফিক দান করুন।

6
সাধারণত পানাহার ও কিছু জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকাকে রোজা মনে করা হয়। কিন্তু এটাই রোজার শেষকথা নয়।
বরং রোজার কয়েকটি স্তর রয়েছে। প্রত্যেক স্তরের মর্যাদায় রয়েছে তারতম্য।
ইমাম গাজালি (রহ.) তার বিখ্যাদ গ্রন্থ এহইয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে রোজার তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন। ক. সাধারণের রোজা, খ. বিশেষ শ্রেণীর রোজা ও গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা।
ক. সাধারণের রোজা হলো- পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকা।
খ. বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো- পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পা অর্থাৎ তার সব অঙ্গ পাপমুক্ত রাখা।
গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো- নিজের অন্তরকে দুনিয়া ও তার মোহ মুক্ত করা। আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হওয়া।
ইমাম গাজালি (রহ.) রোজার তিন শ্রেণি উল্লেখ করে বলেন, প্রথম প্রকারের কোনো মুমিনের প্রত্যাশা হতে পারে না। আর তৃতীয় শ্রেণির রোজা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার। মুমিনের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিৎ দ্বিতীয় শ্রেণির রোজা পালন। 
এর পর তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি তথা খোদাভীরু ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের রোজার ৬টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেন। তাহলো-
১. দৃষ্টি অবনত রাখা: আল্লাহ যার প্রতি তাকাতে নিষেধ করেছেন বা তিনি তাকানো অপছন্দ করেন এমন সব কিছু থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা এবং সেসব বিষয় থেকেও দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করা যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে দেয়।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর। যে আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি সংরক্ষণ করবে সে ঈমান ও তার মিষ্টতা লাভ করবে। ’ -মুসনাদে হাকিম
২. জিহ্বা সংযত করা: মিথ্যা, পরনিন্দা, অপবাদ, অশ্লীলতা, গালি ও অনর্থক কথা থেকে নিজের জবান সংরক্ষণ করা। হজরত মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘দু’টি স্বভাব রোজার মাহাত্ম্য নষ্ট করে দেয়- মিথ্যা ও পরনিন্দা। ’
৩. কান সংরক্ষণ করা: আল্লাহতায়ালার অপছন্দনীয় সব বিষয় থেকে নিজের কানকে সংরক্ষণ করা। গান-বাদ্য, মিথ্যা-পরনিন্দা, অর্থহীন গালগল্প থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মিথ্যা শ্রবণকারীর নিন্দা করে বলেছেন, ‘তারা মিথ্যা শ্রবণকারী ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণকারী। ’ -সূরা মায়েদা: ৪৬
৪. অন্যান্য অঙ্গসমূহকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা: হাত-পাসহ বাকি অঙ্গসমূহকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা রোজাদারের জন্য আবশ্যক। যেমন, অন্যায়ভাবে কাউকে আঘাত করবে না, অন্যায় কাজে যাবে না এবং হারাম খাবার খাবে না। রোজার উদ্দেশ্য গোনাহ পরিহার করা। পাপ পরিহার না করলে রোজার কল্যাণ লাভ করা যায় না।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কতক রোজাদার এমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ব্যতীত তাদের আর কোনো প্রাপ্তি থাকে না। ’ -মুসনাদে আহমদ
৫. ইফতার ও সাহরিতে কম খাওয়া: রোজাদার ব্যক্তি ইফতার ও সাহরিতে কম খাবে। কেননা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কম খেতে উৎসাহিত করেছেন।
রোজাদার ব্যক্তি যথাসম্ভব দিনের বেলা কম ঘুমাবে। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা বেশি অনুভূত হয়। প্রতি রাতে সামান্য পরিমাণ হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করবে। যেনো তার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
৬. আশা ও ভয় নিয়ে ইফতার করা: ইফতারের সময় বান্দা রোজা কবুল হওয়ার এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় নিয়ে ইফতার করবে। কেননা আল্লাহতায়ালা রমজানে বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়ার ঘোষণা যেমন দিয়েছেন- ঠিক তেমনি পাপ মার্জনা করাতে না পারলে শাস্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। কেননা ঈমান আশা ও ভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানের নাম।
৬টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পর ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, এ ছয়টি হলো- সেই আমানত যা রক্ষা করতে হাদিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় রোজা আমানত। তোমরা তোমাদের আমানত রক্ষা কর। ’ –খারায়িতি
আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে রোজার আমানত রক্ষা করে রোজা পালনের তওফিক দান করুন। আমিন। 

7
জাকাত ইসলামি অর্থব্যবস্থার অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ঈমান আনা ও নামাজ আদায়ের পর জাকাত নিয়মিত আদায় করেই একজন বিত্তবান ব্যক্তি মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।

এখানে জাকাত সংক্রান্ত কিছু জরুরি মাসয়ালা উল্লেখ করা হলো-
মাসয়ালা: প্রাপ্তবয়স্ক এবং বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন মুসলমানের (নারী-পুরুষ) মালের ওপর কিছু শর্তসাপেক্ষে জাকাত ফরজ করা হয়েছে। যেসব শর্তসাপেক্ষে উপরোক্ত ব্যক্তির মালের ওপর জাকাত ধার্য হয় তা হলো-
১. মালের ওপর পূর্ণ একটি (চান্দ্র) বছর তার পূর্ণ মালিকানা বিদ্যমান থাকতে হবে।
২. মাল এমন প্রকৃতির হতে হবে যার ওপর জাকাত ধার্য হতে পারে।
৩. মাল নিসাব পরিমাণ বা নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ হতে হবে।
৪. ওই নিসাব পরিমাণ মাল তার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে।
মালিকানা বলতে, ‘কোনো বস্তু ও ব্যক্তির মধ্যকার শরিয়াসম্মত যোগসূত্রকে বুঝায়, যা ব্যক্তিকে ওই বস্তু নিঃশর্তভাবে ভোগ ব্যবহারের অধিকার দেয় এবং অপর লোকের হস্তক্ষেপে বাধা দেয়। ’
নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক পণ্য, পালিত পশু, কৃষিজ পণ্য ইত্যাদির ওপর জাকাত ধার্য হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি সম্পত্তি, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস, বাড়িঘর ইত্যাদির ওপর জাকাত ধার্য হয় না।
কৃষিজ ফসল, ফলমূল ইত্যাদির ক্ষেত্রে পূর্ণ এক বছর মালিকের দখলে থাকা শর্ত নয়। তা যখন আহরিত হয় তখন তার ওপর জাকাত (উশর) ধার্য হয়।
সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। এ হিসেবে অতিরিক্ত মালের ওপরও জাকাত ফরজ হবে। জাকাত নগদ অর্থ দ্বারাও পরিশোধ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট মাল দ্বারাও পরিশোধ করা যায়।
মাসয়ালা: স্বর্ণ, রূপা ও ক্যাশ টাকা নিসাব পরিমাণ হওয়ার পর তা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ হতে অতিরিক্ত হওয়া জাকাত ফরজ হওয়ার মৌলিক শর্ত। সুতরাং মালিকানাধীন জমি, বসবাসের বাড়ি ও চলাফেরার বাহন-গাড়ি ইত্যাদির ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে না। বিক্রয়ের উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত জমির ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩০৩
মাসয়ালা: মহিলাদের ব্যবহৃত স্বর্ণ-রূপার অলংকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী সর্বাবস্থায় অলংকারের জাকাত প্রদান করা জরুরি। -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৬৩, আল বাহরুর রায়েক: ২/২২৬
মাসয়ালা: আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজনাতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের হয়ে যায় তাহলেও তার উপর জাকাত ফরজ হবে। যেমন কারো নিকট কিছু স্বর্ণ ও কিছু টাকা আছে, যা সর্বমোট সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্যের সমান হয় তাহলে তার উপরও জাকাত ফরজ হবে। -রদ্দুল মুহতার: ৫/২১৯
মাসয়ালা: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নগদ টাকার জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য রূপার পাইকারি ক্রয়মূল্য ধর্তব্য নয়। বরং তার খুচরা বিক্রয়মূল্য অর্থাৎ বাজারদর হিসাবে ৫২.৫ তোলা রূপার যেই পরিমাণ টাকা আসে ওই পরিমাণ টাকা থাকলে জাকাত ওয়াজিব হবে। -ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮০
মাসয়ালা: স্বর্ণে ব্যবহৃত খাদ স্বর্ণের তুলনায় কম হলে খাদ স্বর্ণের হিসেবে চলে যায় এবং খাদ ও স্বর্ণ একত্রে হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৩০০
মাসয়ালা: ডায়মন্ড যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে না হয়, তাহলে তার ওপর জাকাত আসবে না। এমনিভাবে কোনো মহিলার শাড়ি চাই তা ব্যবহার হোক বা না হোক, জাকাত আসবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১০০৬৭, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৮০
মাসয়ালা: বছরের মাঝে সম্পদ নিসাব থেকে কমে এলেও শুরু ও শেষে নিসাব পরিপূর্ণ থাকলে জাকাত ওয়াজিব হবে এবং বছর শেষে যত টাকা হাতে থাকে তার ৪০ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিতে হবে। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৮৮
মাসয়ালা: যদি ব্যবসার নিয়তে জমি ক্রয় করে তাহলে প্রত্যেক বছর তার বাজারমূল্য হিসাবে জাকাত আদায় করতে হবে। অন্যথায় জাকাত আসবে না। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/২০
মাসয়ালা: ব্যবসার উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত জমি ক্রয়ের পর বিক্রয়ের নিয়ত করলেও তার ওপর জাকাত আসবে না, কেননা ওই জমি ব্যবসার উদ্দেশ্যে খরিদ করা হয়নি। হ্যাঁ, বিক্রয়ের পর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে বছরান্তে জাকাত আসবে। -মাবসুতে সারাখসি: ২/১৬৯, আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৭২
মাসয়ালা: জমির উৎপাদিত ফসলাদির ওপর সাধারণত উশর আসে, জাকাত আসে না। তাই উৎপাদিত ফসলাদি বছর শেষে অতিরিক্ত হলেও জাকাত দিতে হবে না। তবে সেগুলো বিক্রির টাকার সঙ্গে অন্যান্য জাকাতের সম্পদ থাকলে তার সঙ্গে মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দেওয়া জরুরি।

মাসয়ালা: খালি জায়গায় রোপণকৃত গাছের কোনো জাকাত দিতে হবে না। হ্যাঁ, বিক্রির পর তার মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে বা সে মূল্য অন্য অর্থের সঙ্গে মিলে নিসাব পূর্ণ হলে জাকাত আদায় করতে হবে। -তাবঈনুল হাকায়েক: ১/২৯১
মাসয়ালা: নিজের ও পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে দোকানের মাল ও ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে বছরান্তে জাকাত আদায় করা জরুরি হবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/২০
মাসয়ালা: সর্বমোট হিসাব থেকে ঋণের পরিমাণ টাকা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে। অন্যথায় জাকাত দিতে হবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭০৮৫
 
মাসয়ালা: নগদ টাকা ঋণ দিলে ওই টাকা নিসাব পরিমাণ হলে ঋণদাতাকে ওই টাকার জাকাত আদায় করতে হবে। ঋণের টাকা হাতে আসার পর বিগত বছরগুলোর জাকাত একসঙ্গে আদায় করবে। তবে টাকা হাতে আসার পূর্বে আদায় করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/১০
 
মাসয়ালা: কারখানা ও ফ্যাক্টরির মালিকের ওপর ফ্যাক্টরির মেশিন ও বিল্ডিংয়ের মূল্যের জাকাত আসবে না। এ ছাড়া উপাদান, কাঁচামাল ও যে সমস্ত মাল বাকিতে বিক্রি করা হয়েছে এবং তার মূল্য উসূল করাও সম্ভব এসব কিছুর সমষ্টি নিসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/২৬৭, ফাতাওয়ায়ে উসমানি: ২/৩৯
মাসয়ালা: নিজের ব্যবহৃত বা ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হয় এমন গাড়ির মূল্যের ওপর জাকাত আসবে না। তবে এর মাধ্যমে উপার্জিত ভাড়ার টাকা জাকাতের মূল হিসাবের সঙ্গে যোগ করতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৫
মাসয়ালা: ভাড়া দেওয়া বাড়ি ও মার্কেটের মূল্যের ওপর জাকাত আসবে না। তবে এগুলো থেকে অর্জিত ভাড়া যদি নিসাব পরিমাণ হয় তাহলে বছরান্তে জাকাত আসবে। -ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৮০

মাসয়ালা: যে সমস্ত মালের জাকাত দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার পরও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় জাকাত আদায় করেনি ওই মাল চুরি বা ধ্বংস হয়ে গেলে ওই সম্পদের জাকাত দিতে হবে না। তবে জাকাত আদায় করতে বিলম্ব করার গোনাহের জন্য তাওবা করা জরুরি। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৮৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৭০
 
মাসয়ালা: সমিতি ও ব্যাংকে জমাকৃত টাকা নিসাব পরিমাণ হলে বছরান্তে জাকাত ফরজ হতে থাকবে। সুদি ব্যাংকে জমাকৃত টাকার প্রাপ্ত সুদ সওয়াবের নিয়ত ব্যতিত সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব, সুদের টাকার ওপর জাকাত ফরজ হয় না। -রদ্দুল মুহতার: ২/২৬৭
 
মাসয়ালা: প্রয়োজনীয় থাকার ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমাকৃত নিসাব পরিমাণ টাকার ওপর চন্দ্র বছর অতিবাহিত হলে নির্ভরযোগ্য মতানুসারে জাকাত ওয়াজিব হবে। তবে বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে ওই টাকা দ্বারা নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করে নিলে এর ওপর জাকাত ফরয হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/২৬২

8
ফজরের সালাতের ১০টি বিশেষ ফজিলত

১. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ইশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। এ দুই নামাজের কী ফজিলত, তা যদি তারা জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো।’ রাসূলুল্লাহ বলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা নামাজে আসেনি, তাদের ওপর আগুন ধরিয়ে দেই।’ (সহিহ বুখারি-৬৫৭)

২. রাসূলে আকরাম সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে, সে ব্যক্তি ওই দিন আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। অর্থাৎ স্বয়ং আল্লøাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নেন।’ (সহিহ মুসলিম, তিরমিজি-২১৮৪)

৩. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করবে, আল্লøাহর ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দেবে।’ (বুখারি-মুসলিম)

৪. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ সালাত জামাতের সাথে আদায় করে, আল্লøাহ তায়ালা তার আমলে দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব দিয়ে দেন!’ (সহিহ মুসলিম-১০৯৬)

৫. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে হেঁটে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করবে, আল্লøাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন।’ (আবু দাউদ-৪৯৪)

৬. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করবে, আল্লøাহ তাকে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দান করবেন। অর্থাৎ সে আল্লøাহর দিদার লাভ করবে এবং জান্নাতি ওই ব্যক্তি আল্লাহকে পূর্ণিমার রাতের আকাশের চাঁদের মতো দেখবে।’ (বুখারি-৫৭৩)

৭. রাসূলে আকরাম সা: বলেছেন, ‘যে নিয়মিত ফজরের নামাজ আদায় করবে, সে কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম-৬৩৪)

৮. ফজরের নামাজ আদায়কারী রাসূলে আকরাম সা:-এর বরকতের দোয়া লাভ করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

৯. ফজরের দু’রাকাত সুন্নত নামাজ দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (জামে তিরমিজি-৪১৬)

১০. ‘ফজরের নামাজ আদায়ের ফলে ব্যক্তির মন ফুরফুরে, প্রফুল্ল হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

যাযাদি/

9
মাহে রমজানে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা হয় ইসলামী শরিয়তে একে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। এ নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। আরবিতে ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘তারবিহাতুন’, যার অর্থ আরাম বা ক্ষণিক বিশ্রাম। তারাবি নামাজ পড়াকালে প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই হলো ‘তারাবি’। দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘবের জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করে দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করতে হয় বলে এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবি’ বা তারাবি নামাজ বলা হয়। এ নামাজ উম্মতে মুহাম্মদির জন্য রমজানের একটি বড় উপহার। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় তারাবি নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি, নাসাঈ) রসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করে দিয়েছেন আর আমি তোমাদের জন্য রমজানের তারাবি সুন্নত ঘোষণা করলাম।’ (ইবনে মাজাহ) হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একদিন গভীর রাতে মহানবী মসজিদে গেলেন এবং নামাজ পড়লেন। কিছু লোকও তাঁর পেছনে নামাজ পড়লেন। ভোর হওয়ার পর লোকজন পরস্পরের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করায় দ্বিতীয় রাতে লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেল এবং তারা মহানবীর সঙ্গে নামাজ পড়লেন। এদিন ভোর হওয়ার পর লোকদের মধ্যে আরও বেশি আলোচনা হলো এবং তৃতীয় রাতে মসজিদের লোকসমাগম আরও বেশি হলো। মহানবী বাইরে বের হয়ে নামাজ পড়লেন আর তারাও তাঁর সঙ্গে নামাজ পড়লেন। যখন চতুর্থ রাত এলো তখন এত লোকসমাগম হলো যে মসজিদে স্থানসংকুলান হলো না। কিন্তু তিনি এ রাতে তারাবি নামাজের জন্য বের হলেন না, ভোর হলে ফজরের নামাজের জন্য বের হলেন এবং ফজরের নামাজ শেষে লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমাদের বিষয়টি আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছিলাম এ নামাজ না আবার তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয় আর তোমরা তা পালনে ব্যর্থ হও। মহানবী ওফাত করলেন এবং এ নামাজের বিষয়টি আমাদের ওপর তেমনই রইল।’ (বুখারি) হজরত আবদুর রহমান বিন আবদিল কারি (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রমজানের এক রাতে আমি হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের উদ্দেশে বের হলাম এবং দেখলাম লোকেরা পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে আছে। কেউ একা একা নামাজ পড়ছিল, আবার কেউ এভাবে নামাজ পড়ছিল যে তার পেছনে কিছু লোক নামাজ পড়ছিল। এ অবস্থা দেখে হজরত ওমর বললেন, আমার মনে হয় সবাইকে একজন কারির পেছনে একত্রিত করে দিলে ভালো হয়। এরপর তিনি দৃঢ় প্রত্যয় করলেন এবং হজরত উবাই বিন কাবের পেছনে তাদের সবাইকে মুক্তাদি হিসেবে একত্রিত করে দিলেন।’ (বুখারি)। মহানবী (সা.) নিজেই ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানে তারাবি নামাজ আদায় করে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, মুসলিম) এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তারাবি নামাজ মুসলিম জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবির ব্যবস্থা রয়েছে, আমরা যদি অন্যদিকে অযথা সময় নষ্ট না করে তারাবি নামাজে যোগদান করে পুরো রমজান অতিবাহিত করি তাহলে আল্লাহ আমাদের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং আমরা তাঁর নৈকট্য লাভ করে জান্নাতের মেহমান হব। এ ছাড়া খতমে তারাবিতে যোগদানের ফলে বিশেষ যে কল্যাণ আমরা লাভ করব তা হলো পুরো কোরআন একবার শোনা হয়ে যাবে।

তারাবি নামাজ কত রাকাত?
উত্তর : তারাবি নামাজ ২০ রাকাত। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই। সহিহ হাদিসে রসুলে কারিম (সা.) নিজ সুন্নতের পাশাপাশি খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নতকে অনুসরণ এবং তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজানে বিতর ছাড়া ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করতেন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)
‘হজরত ওমর (রা.) লোকজনকে হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর পেছনে একত্রিত করলে হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) তাদের নিয়ে ২০ রাকাত তারাবি পড়েছিলেন।’ (আবু দাউদ)

হজরত সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রহ.) বলেছেন, ‘তাঁরা (সাহাবা ও তাবেয়িন) হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে রমজানে ২০ রাকাত তারাবি পড়তেন।’ (আস্-সুনানুল কুবরা, বায়হাকি)। তাবেয়ি ইয়াজিদ ইবনে রুমান (রহ.)-এর ভাষ্য, ‘হজরত ওমর (রা.)-এর যুগে মানুষ (সাহাবা ও তাবেয়িন) রমজানে ২৩ রাকাত নামাজ পড়তেন।’ (মুয়াত্তা মালিক, বায়হাকি) তাবেয়ি ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আনসারি (রহ.)-এর বিবরণ, ‘হজরত ওমর (রা.) এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন তিনি যেন লোকদের নিয়ে ২০ রাকাত পড়েন।’

লেখক : খতিব, মণিপুর বায়তুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।

 

10
মারণ ভাইরাস করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে কী ভাবে মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় জনজীবন এক ভাইরাসের কবলে। কী ভাবে মৃত্যুমিছিল জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে গোটা বিশ্বজুড়ে। এরইমধ্যে গোটা বিশ্বে গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে একলাফে ৮ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে সংক্রমণ। নতুন করে করোনার এই রক্তচক্ষুর মধ্যেই ভয় দেখাচ্ছে আরেক নতুন ভাইরাস।

ভাইরাসটির নাম হার্টল্যান্ড ভাইরাস। ২০০৯ সালে প্রথমবার আমেরিকার মিসৌরিতে এর দেখা মিলেছিল। নতুন করে এবার জর্জিয়ায় দেখা মিলল এই ভাইরাসের। শুধু জর্জিয়া নয়, বেশ কয়েকটি স্টেট থেকেই আসছে এই নতুন ভাইরাস আতঙ্ক।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, ছারপোকা জাতীয় পোকাদের শরীরে আশ্রয় নেয় হার্টল্যান্ড ভাইরাস। তারপর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের দেহে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এক দশক আগে জর্জিয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় এই ভাইরাসের ধাক্কায়। এবার গবেষকরা জানাচ্ছেন, নতুন করে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তারা হদিশ পেয়েছেন। তাই তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাই এই মুহূর্তে তাঁরা খতিয়ে দেখছেন বিষয়টি।

‘লোনস্টার টিকস’ নামের ছারপোকা জাতীয় পোকা থেকেই ছড়ায় এই ভাইরাস। আপাতত কেবলমাত্র এই তথ্য মিলেছে। এটি মানুষকে কামড়ালে তার শরীর থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। যতদূর জানা যাচ্ছে, বয়স্কদের জন্য় এই ভাইরাস অত্যন্ত বেশি মারাত্বক হতে পারে।

হার্টল্যান্ড ভাইরাসের কী লক্ষণ: হার্টল্যান্ড ভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, ক্লান্তি, ক্ষুধা হ্রাস, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া এবং পেশি বা জয়েন্টে ব্যথা। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির প্লেটলেট কমে যাওয়া কিংবা যকৃতের ক্ষতি হতেও দেখা গিয়েছে।

সাধারণ ভাবে সংক্রমণের লক্ষণগুলি আক্রান্ত হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে দেখা দিতে পারে। এদিকে এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণকে প্রতিহত করার মতো কোনও ওষুধ নেই। তবে জ্বর ও ব্যথা কমানোর সাধারণ ওষুধগুলিকে কার্যকর হতে দেখা গিয়েছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষকে সংক্রমিত করার খুব বেশি ক্ষমতা এদের নেই। কিন্তু একবার আক্রান্ত হলে যদি তা গুরুতর পরিস্থিতিতে পৌঁছয় তাহলে বাড়বে উদ্বেগ। গবেষকরা তাই নতুন করে খতিয়ে দেখতে চাইছেন কতজন মানুষ এর মধ্যেই ওই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। কোন ধরনের পরিবেশে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় ইত্যাদি নিয়েও চলছে গবেষণা। সূত্র: নিউজ ১৮।


11
গ্লুকোমা হলো চোখের একটি ব্যাধি। যা আপনার চোখের অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই নার্ভের মাধ্যমেই আমরা চোখে দেখি। গ্লুকোমা সাধারণত ঘটে যখন চোখে তরল তৈরি হয় ও চোখের ভেতরে চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। যদি সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হয় তাহলে গ্লুকোমা দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো গ্লুকোমা। তবে দুঃখজনক হলো বেশিরভাগ রোগীই এই রোগ নির্ণয়ে বেশ দেরি করে ফেলেন। যেহেতু রোগটির তেমন গুরুতর কোনো লক্ষণ নেই, তাই রোগীও টের পান না সহজে। চোখের ভিজ্যুয়াল ফিল্ড (ভিএফ) বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্লুকোমা রোগ শনাক্ত করা যায় না।

আজ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস। প্রতি বছর ৬-১২ মার্চ পালন করা গ্লুকোমা সপ্তাহ। বিশ্ব গ্লুকোমা অ্যাসোসিয়েশনের বৈশ্বিক উদ্যোগে পালিত হয় দিবসটি। গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ও প্রত্যেককে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে উৎসাহ যোগানো হয় এ দিবসে।

গ্লুকোমা কেন হয়?

‘গ্লুকোমার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো বংশগত। অর্থাৎ পরিবারে কারও এই রোগ থাকলে অন্যান্যদেরও হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।’ এমনটিই জানান ভারতের গুরগাঁওয়ের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্লুকোমা সার্জন ডা. শিবাল।

এই রোগের অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে আছে ট্রমা বা যে কোনো অস্ত্রোপচার। যারা চশমা পরেন তাদেরও এই অবস্থা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ডায়াবেটিস রোগী ও যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদেরও গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। স্ট্রেরয়েড ব্যবহারের মাধ্যমে গ্লুকোমা প্রতিরোধযোগ্য বলে জানান এই চিকিৎসক।


jagonews24

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমেও কি গ্লুকোমা হতে পারে? এ বিষয়ে চিকিৎসক জানান, ‘এর থেকে গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি নেই। তবে বেশি সময় স্ক্রিন টাইম শুষ্কতা, মাথাব্যথা, চোখের স্ট্রেনের কারণ হতে পারে। শিশুদের চশমা বা অদূরদর্শীতা (মায়োপিয়া) হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।’

গ্লুকোমা কত প্রকার?

ডা. শিবাল জানান, গ্লুকোমার দুটি বিস্তৃত প্রকার আছে। একটি হলো ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, যার অগ্রগতি বেশ ধীর। অন্যটি হলো তীব্র অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা, যা দ্রুত অগ্রসর হয়। ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি, যা অন্ধত্বের কারণ।

তবে এর ভালো দিক হলো এ ধরনের গ্লুকোমার চিকিৎসা আছে। নিরাময়মূলক লেজার চিকিৎসা গ্লুকোমার অগ্রগতি প্রতিরোধ করতে পারে। অন্যদিকে ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমার রোগীদের আজীবন চিকিৎসায় থাকতে হয়।

গ্লুকোমা প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে স্টেরয়েড আই ড্রপ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। কারণ এ ধরনের আই ড্রপ চোখের স্বাস্থ্যে নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলে।

নিয়মিত চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই শনাক্ত করা যায় গ্লুকোমা। তবে অনেকেই তা করেন না। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি বলে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে সেক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে।

সূত্র: দ্য হেলথ সাইট

12
Eyes / চোখ লাফানো কি কোনো রোগ?
« on: March 10, 2022, 10:46:00 AM »
চোখের পাতা কেঁপে ওঠার অনুভূতির সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। হঠাৎ করেই চোখের পাতা কেঁপে ওঠাকে অনেকেই চোখ লাফানো বলে সম্বোধন করেন। আবার এ বিষয়কে অনেকেই অশুভ বা খারাপ কোনো লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক-

চোখের পাতা কেঁপে ওঠার ঘটনাটি হলো চোখের পেশি বা পাতার খিঁচুনি বা নড়াচড়া। যা চাইলেও আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। চিকিৎসকরা একে ব্লেফারোস্পাজম বলেন। এটি আপনার উপরের চোখের পাতায় ঘটে থাকে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখের পাতা কেঁপে ওঠে।


গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০০০ মানুষ এই সমস্যায় গুরুতরভাবে ভোগেন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের চোখে এটি বেশি ঘটে। এটি যদিও কোনো গুরুতর সমস্যা নয়। তবে দৈনন্দিন জীবনে এ সমস্যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। আবার কখনো কখনো ব্লেফারোস্পাজম চোখের নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।

সাধারণত তিনটি কারণে যেমন- ক্লান্তি, চাপ বা ক্যাফেইন গ্রহণের কারণে চোখের পাতা কেঁপে ওঠার ঘটনা বেশি ঘটে। গবেষকদের মতে, আপনার জিন ও চারপাশের পরিবেশের কারণেই এ সমস্যাটি হয়। চোখের পাতা কেঁপে ওঠা মুখ ও আপনার চোখের পাতার চারপাশের পেশির সঙ্গে জড়িত। কী কী কারণে চোখের পাতা কেঁপে ওঠে?

>> ক্লান্তি
>> মানসিক চাপ
>> ক্যাফেইন
>> অ্যালকোহল গ্রহণ
>> ধূমপান
>> চোখের সংবেদনশীলতা ও
>> কিছু ওষুধ, যেগুলো সাইকোসিস ও মৃগী রোগের চিকিৎসা করে।

মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধির কারণেও চোখের পাতা লাফাতে পারে। এর মধ্যে আছে-


>> পারকিনসন রোগ
>> মস্তিষ্কের ক্ষত
>> একাধিক স্ক্লেরোসিস
>> পক্ষাঘাত
>> ট্যুরেটের সিন্ড্রোম ও
>> ডাইস্টোনিয়া।

কারও কারও ক্ষেত্রে এ সমস্যা সারাদিন, সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে। এমন ক্ষেত্রে তারা চোখের সংবেদনশীলতায় ভোগেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিরক্তির কারণ ঘটায় এই সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে ব্লেফারোস্পাজমে ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন-

>> এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
>> আপনার চোখের পাতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হলে
>> মুখের পেশিতেও কাঁপুনি অনুভব করলে
>> চোখ লালচে, ফোলাভাব বা ময়লা বের হলে কিংবা
>> উপরের চোখের পাতা ঝরে গেলে।

ব্লেফারোস্পাজমের চিকিৎসা কী?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যা হঠাৎ করেই হয় আবার নিজ থেকেই সেরে যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অ্যালকোহল, তামাক বা ক্যাফেইন কমালে এ সমস্যাও কমতে শুরু করে। যদি শুষ্ক চোখের কারণে এ সমস্যাটি হয় তাহলে চিকিৎসক আই ড্রপ দেন।

ব্লেফারোস্পাজম নামক এ সমস্যার কোনো প্রতিকার নেই। তবে চিকিৎসক আপনার উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারেন। এর সবচেয়ে সাধারণ চিকিৎসা হলো বোটুলিনাম টক্সিন (বোটক্স , ডিসপোর্ট, জেওমিন)।

তবে চোখ লাফানোর সঙ্গে কোনো অশুভ ইঙ্গিত কিংবা খারাপ কিছু ঘটার বিষয়গুলো একেবারেই কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু না। তাই এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: ওয়েব এমডি

জেএমএস/জেআইএম

13
নারী-পুরুষ উভয়ই পিত্তথলি বা গলব্লাডারের পাথরের সমস্যায় ভোগেন। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের পিত্তাশয়ে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে পিত্তথলিতে পাথর হতে পারে।

বিশেষ করে খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম, মেনোপজের পর হরমোন ক্ষরণে ঘাটতি, গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস, কম পানি খাওয়া ইত্যাদি কারণে গলব্লাডারে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
পিত্তথলির পাথর কী?

পিত্তথলির পাথর ছোট ছোট বালির দানার মতো হয়ে থাকে। মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে। এটি নির্ভর করে কী পদার্থ দিয়ে পাথর তৈরি হয় তার ওপর। কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা ক্যালসিয়াম ইত্যাদি পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এই পাথরগুলো পিত্তরসের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় থাকে। হালকা বাদামি, ময়লাটে সাদা বা কুচকুচে কালো রঙের হতে পারে।

পেটের ডানদিকে যকৃতের পেছনে ও নিচের দিকে পিত্তথলি থাকে। পিত্তরস তৈরি করাই এর কাজ। খাবার হজমে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার হজম করতে পিত্তরস দরকার হয়। নানা কারণে পিত্তথলিতে বিভিন্ন পদার্থ জমে গিয়ে পাথরের সৃষ্টি করে। পাথর হওয়া ছাড়াও গলব্লাডারে ব্যথার অন্য কারণগুলি কী?

কোলেসিস্টিস: কোলেসিস্টিস দুই ধরনের হয়। যেমন- অ্যাকিউট কোলেসিস্টিস ও অ্যাক্যালকুলাস কোলেসিস্টিস। অ্যাকিউট কোলেসিস্টিসের ঘটে পিত্তথলিতে পাথর আটকে যাওয়ার ফলে। অন্যদিকে অ্যাক্যালকুলাস কোলেসিস্টিস হল পিত্তনালিতে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।

কোলেডোকোলিথিয়াস: পিত্তনালিতে পাথরের উপস্থিতি কোলেডোকোলিথিয়াস নামে পরিচিত। এটি পিত্তের প্রবাহকে রোধ করে ফলে চাপ ও ব্যথা বেড়ে যায়।

বিলিয়ারি স্লাজ: পিত্তথলিতে কোলেস্টেরল মনোহাইড্রেট, ক্যালশিয়াম, বিলিরুবিন ও অন্যান্য লবণের সংমিশ্রণই হল বিলিয়ারি স্লাজ। এই পদার্থগুলো জমা হয়ে পিত্তথলিতে ব্যথা হতে পারে।

এবার জেনে নিন কোন কোন লক্ষণ জানান দেবে যে পিত্তথলিতে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে-

পিত্তথলিতে যে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই পেটের ডানদিকে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে পেটের ডান দিকে থেকে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সেই ব্যথা কোমর ও ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এরকম ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এক্ষেত্রে পেটের ডানদিকে তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, গা গোলানো ও বমিও হতে পারে।

পিত্তথলিতে প্রদাহের কারণে শরীরের তাপমাত্রাও বাড়তে পেতে পারে। জ্বর জ্বর ভাব থাকতে পারে।

পিত্তথলিতে সমস্যা দেখা দিলে কিংবা পাথর জমার ফলে প্রস্রাবেও সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে গাঢ় রঙের প্রস্রাব হতে পারে।


বিডি-প্রতিদিন

14
‘বুরাক’ এমন একটি প্রাণী যার ওপর রাসূলুল্লাহ (সা.) মি’রাজ রজনীতে আরোহণ করেছিলেন। আরবি ‘বুরাক’ শব্দটি ‘বারক’ শব্দ হতে উদ্ভূত। যার অর্থ বিদ্যুৎ, বিজলি। সে বিদ্যুৎ মেঘের মাঝে পরিদৃষ্ট হয়। যেমন পুলসিরাত অতিক্রমকারীদের ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা বিদ্যুতের গতির ন্যায় পুলসিরাত অতিক্রম করবেন। আবার কেউ দ্রুতগামী বাহনের ন্যায় পার হবেন। আবার কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো পার হয়ে যাবেন। আল-কোরআনে ‘বারক’ শব্দটি পাঁচবার এসেছে।

(ক) সূরা বাকারাহ-এর ১৯ ও ২০ নং আয়াতে, (খ) সূরা রায়াদ-এর ১২ নং আয়াতে, (গ) সূরা রূম-এর ২৪ নং আয়াতে, (ঘ) সূরা নূর-এর ৪৩ নং আয়াতে। সুবহানাল্লাহ! বোরাকে আরোহনণকারী মোহাম্মাদ মোস্তাফা আহমাদ মুজতাবা (সা.)-এর সত্তাবাচক নাম ‘মোহাম্মদ’-এ পাঁচটি বর্ণই রয়েছে। এ নাম মোবারকের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখেই হয়ত আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ‘বারক; শব্দটি আল কোরআনে পাঁচ বার উল্লেখ করেছেন। এরই প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে সূরা ইনশিরাহে স্পষ্টতঃ ঘোষণা করা হয়েছে : ‘আমি আপনার যিকিরকে সমুন্নত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছি’।

বোরাকের আকার-আকৃতি ও গতি প্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞ পন্ডিতগণের মধ্যে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আসলে ইহা কী? বিশুদ্ধ ও সর্বজন গ্রাহ্য মতানুসারে বলা হয়েছে যে, ‘বুরাক’ হলো একটি প্রাণী যা আকারে খচ্চর হতে ছোট। গাধা হতে বড়। শ্বেত রঙের প্রাণী। ইহা এতই দ্রুতগামী যে, তার কদম সেখানেই পড়ে যেখানে তার দৃষ্টি পতিত হয়। একারণে প্রসদ্ধি লাভ করেছে যে, ‘বুরাক আকাশ হতে যমীন পর্যন্ত যে দূরত্ব তা’ মাত্র এক কদমেই অতিক্রম করতে পারে। সুতরাং মী’রাজের প্রাক্কালে বুরাক সাত কদমে সাত আসমান অতিক্রম করেছিল।
কোনো কোনো আলেম ব্যক্তিত্ব বলেন, বুরাক কোনো প্রাণী নয়। প্রথমে তা ছিল অস্তিত্বহীন। শুধুমাত্র মী’রাজ রজনীতেই তা’ অস্তিত্বে আনয়ন করা হয়েছিল। যাতে করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদাকে বুলন্দ হতে বুলন্দতর করা যায়। ইমাম সুহায়লী (রহ:) বলেন, পিয়ারা নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বুরাকে আরোহণ করছিলেন, তখন বুরাক লজ্জায় নড়াচড়া করছিল। তখন জিব্রাঈল (আ.) বুরাককে ডাক দিয়ে বলেছিলেন : ‘হে বুরাক! তুমি এমনভাবে লজ্জাবোধ করছ কেন? আল্লাহ জাল্লা শানুহুর নিকট মুহাম্মাদ মোস্তাফা আহমাদ মুজতাবা (সা.)-এর চাইতে অধিক কোনো মর্যাদাশীল ব্যক্তি আছেন কী? যিনি তোমার ওপর আরোহণ করবেন? এতে ‘বুরাক’ শান্ত ও আজ্ঞাবহ হয়ে গেল।

তবে, বুরাকের সাদৃশ্য বুঝাতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, বুরাক হলো এমন প্রাণী যা খচ্চর হতে ছোট, গাধা হতে বড়। এতে স্পষ্টতঃই বুঝা যায় যে, বুরাক খচ্চরও না, গাধাও না। বরং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী আকারের একটি প্রাণী যা মীরাজের ঘটনার সাথেই সংশ্লিষ্ট। অন্য কোনো নবী ও রাসূলের সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা কল্পনা করা বাতুলতা মাত্র। কারণ, অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের জীবনে মীরাজের মতো ঘটনার অবতারণা ঘটেছিল বলে জানা যায় না।

হাদীস শরীফে উক্ত হয়েছে যে, পিয়ারা নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) মী’রাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন : ‘উরিজাবী’ অর্থাৎ আমাকে ঊর্ধ্বমন্ডলে উপনীত করা হলো। লক্ষ করলে দেখা যায় যে, মীরাজ ঘটনাটির এই বিবরণেও পাঁচটি বর্ণই স্থান পেয়েছে। আর এ জন্যই মীরাজের ঘটনাটির আদ্যোপান্ত পাঁচটি স্তরেই আল কোরআন ও আহাদিসে সহীহায় বিবৃত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরবি মী’রাজ শব্দেও পাঁচটি বর্ণের সমাহার লক্ষ্য করা যায়। আর এই মীরাজ রজনীতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল। যা অন্য কোনো নবী ও রাসূলের আমলে ফরজ করা হয়নি। এতে অতি সহজেই অনুভব করা যায় যে, মীরাজ সংঘটনের জন্য যে বুরাকের প্রয়োজন ছিল, তাকে প্রকৃতই ‘বুরাক’ বলে মেনে নেয়া সকল বুদ্ধিমানেরই উচিত।


Source:https://www.dailyinqilab.com/article/461547/

15
কানের পর্দা ফাটা একটা জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যা।  দীর্ঘ শর্দি কাশি থেকেও অনেকের কানের পর্দা ফুটো হয়ে যেতে পারে।  আবার আঘাত থেকেও পর্দা ফেটে যেতে পারে।  এমন হলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়।  সঠিক চিকিৎসা না পেলে বড় বিপদ হতে পারে।

কানের পর্দা ছিদ্র হওয়ার প্রধান কারণ কানের ইনফেকশন।  পানি জমে এই ইনফেকশন হতে পারে।  আবার আঘাতজনিত কারণে পর্দা ফাটা অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যদি এ সমস্যার ঠিকমতো চিকিৎসা হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ছিদ্র এমনিতে সেরে যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হসপিটালের নাক কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

কেন পর্দা ফাটে

* বাতাসের ধাক্কা- কানের ওপর চড় মারলে যে বাতাসের চাপ হয় তাতে কানের পর্দা ফেটে যায়। কানের পাশে বোম ফাটলেও একই ক্ষতি হতে পারে।

* পানির ধাক্কা- পানির মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়লে।

* শব্দের ধাক্কা- দেখা যায় কানের পাশে প্রচণ্ড শব্দ হলে কানের পর্দায় প্রদাহ হয়, কানের ভেতরে ছোট ছোট হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমনকি কানে শোনার স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।

* কানে সরাসরি আঘাত-দুর্ঘটনার সময় বা শক্ত কিছুর সঙ্গে কানে আঘাত লাগলে কানের আশপাশের হাড়, অথবা কান ও মস্তিষ্কের মধ্যে টেম্পোরাল নামক যে হাড় থাকে তা ভেঙে যেতে পারে। এতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কানের অন্যান্য সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কানের ভেতর দিয়ে মস্তিষ্কের তরল পদার্থ সিসএফ লিক করতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে এ রোগীদের।

* কটন বাড বা ধারাল অন্যকিছু দিয়ে কান খোঁচানোর সময় হঠাৎ করে কেউ ধাক্কা দিলে পর্দা ছিদ্র হয়ে যায়। যদিও এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, তবুও সমস্যাটি আমরা প্রায়ই দেখে থাকি।

কী সমস্যা হতে পারে

আঘাত পাওয়ার পর কানটি বন্ধ হয়ে যায় বা রোগী কানে কম শুনে।  কানে শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে, অনেক সময় কান দিয়ে রক্তও বের হতে পারে।  এক্ষেত্রে কানের সঠিক চিকিৎসা না হলে দু-এক দিন পর দেখা যায় কান দিয়ে পুঁজ বা পানি বের হতে পারে।

কাদের এ সমস্যা হতে পারে

কানে সরাসরি আঘাতজনিত কারণে আঘাতের মাত্রা বেশি হলে যে কোনো কারণে পর্দা ফেটে যেতে পারে। বাতাস বা পানি বা শব্দের ধাক্কায় যখন কানের পর্দা ফাটে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কানের পর্দা আগে থেকেই দুর্বল ছিল যেমন- ছোটবেলায় বারবার কান পাকা রোগ থেকে কানের পর্দা দুর্বল হয়ে যায়, দীর্ঘদিনের টনসিল ও এডেনয়েড প্রদাহে ভোগা, নাকের হাড় বাঁকা, অনেক দিনের নাক ও সাইনাসে প্রদাহ ইত্যাদি। ইউস্টেসিয়ান টিউবের কাজ ঠিকমতো না হওয়ার কারণে কানের পর্দা দুর্বল হয়ে যায়। এ দুর্বল পর্দা অল্প আঘাতেই ফেটে যায়।

কী করবেন

* কান শুকনা রাখতে হবে।

* কানের ভেতরে তুলা, কটনবাড, পানি কোনো কিছুই ঢুকানো যাবে না।

* কান ভেজা অবস্থায় মাথায় পানি ঢালা যাবে না।

* তুলায় তেলে ভিজিয়ে চিপে তেল ফেলে দিয়ে তা কানে দিয়ে গোসল করতে হবে।

* ভালো হয় মাথা ও শরীর আলাদাভাবে ধুয়ে-মুছে নিলে।

কান পরিষ্কার করা যাবে না

ডাক্তারদের উচিত এ রোগীদের সাক্শন না দেওয়া কান পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে দেখা যেতে পারে, এটা ছাড়া কানের ভেতরে কোনো ইন্টারভেশন পরিহার করে চলা উচিত।  কান দিয়ে পুঁজ বের না হলে কানে ড্রপ দেওয়া নিষিদ্ধ।  অনেক সময় আমরা ব্যথার জন্য, ব্যথানাশক ওষুধ দেই বা ইনফেকশন রোধে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকি।

এই রোগীর প্রধান চিকিৎসা হল কানের ভেতর যাতে কিছু না ঢুকে এটা নিশ্চিত করা।  এভাবে কানের পর্দাকে কিছু সময় দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি কানের পর্দায় ফুটা ছোট হয় তা এমনিতেই সেরে যায়। এ অবস্থায় কানের পর্দা কেমন থাকছে, সেজন্য সপ্তাহে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের কাছে পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

কানে কখনও ইনফেকশন হয়ে গেলে আমার অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেই, অনেকে আবার কানের পর্দা ঠিক আছে কিনা দেখার জন্য নাক চাপ দিয়ে মুখ ফুলিয়ে কান দিয়ে বাতাস ছাড়ার চেষ্টা করে, এতে কোনো উপকার তো হয়ই না বরং দেখা গেছে, কানের পর্দা জোড়া লেগে গেলে নতুন পর্দা এ কারণে আবার ফেটে যায়। যদি আমরা নিয়মমাফিক চলি তাহলে ইনফেকশন ঠেকাতে পারি।

ছোটখাটো পর্দার ছিদ্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছোট হয়ে যায়। যাদের নাক, সাইনাস, টনসিল ও এডেনয়েডের প্রদাহের কারণে কানের পর্দা দুর্বল হয়ে গেছে, কানের পর্দা ফেটে গেছে, তাদের কানের পর্দার সমস্যার সঙ্গে এসব সমস্যার চিকিৎসা করা জরুরি। এক মাসের মধ্যে যদি এ সমস্যার সমাধান না হয় তবে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

একে টিমপেনোপ্লাস্টি অপারেশন বলা হয় এবং এটা একটা মাইক্রোসার্জারি যা মাইক্রোসকোপের সাহায্যে অতি সূক্ষ্মভাবে করা হয়ে থাকে। কানের ভেতরে যত ইনফেকশন হবে এবং ইনফেকশনের জন্য কানের পর্দায় যে পরিবর্তন হবে তাতে অপারেশন জটিল হতে পারে এবং কানের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
 

Source:https://www.jugantor.com/doctor-available


Pages: [1] 2 3 ... 29