Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Sahadat Hossain

Pages: [1] 2 3 ... 24
1
রোদে যাব, নাকি যাব না? ঘরে থেকে এমন চিন্তা কমবেশি সবার মনেই আসে। যার কারণও আছে। এই যেমন রোদের ক্ষতিকারক আলট্রা ভায়োলেট রে, ত্বক পোড়া, ঘাম হওয়া প্রভৃতি। তবে রোদ ত্বকের দারুণ উপকারে আসে। ভিটামিন ডি তৈরি করে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে তা দিয়ে তৈরি হয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। তাই তো ভিটামিন ডি-কে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। কিন্তু ত্বক কীভাবে পায় ভিটামিন ডি? রোদের সংস্পর্শে এলে ত্বকে থাকা কোলেস্টেরল দিয়ে তৈরি হয় এই ভিটামিন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় একটা, আর তা হলো কতটুকু রোদ দরকার ও রোদে থাকার সঠিক পদ্ধতি কী? 

ভিটামিন ডি কেন উপকারী

ত্বক ছাড়াও হাড় ও দাঁতের জন্য দরকারি এই ভিটামিন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, নার্ভ সিস্টেম ও মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী ভিটামিন ডি। এ ছাড়া টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যানসার সমস্যার সমাধানে কাজে দেয় ভিটামিন ডি।

ত্বকের জন্য কেন দরকার

ত্বকের জন্য কয়েক ধরনের উপকার করে ভিটামিন ডি। রুক্ষ ও প্রাণহীন ত্বক গ্লোয়িং, গ্রোথ ও রিপেয়ার, ত্বকের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, বয়সের ছাপ দূর করা, ব্রণ কমানো, ফাইন লাইন ও কালো দাগ কমানোর মতো কাজ করে এই ভিটামিন।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি-র পরিমাণ

প্রতিদিন ভিটামিন ডি নিতে হবে নির্দিষ্ট একটি পরিমাণে। বাড়তি ভিটামিন ডির জন্য বেশি রোদে থাকলে হিতে হবে বিপরীত। ভিটামিন ডি মাপার দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি মাইক্রোগ্রাম (এমসিজি) ও অন্যটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (আইইউ)। মেডিসিন ইনস্টিটিউটের খাদ্য ও পুষ্টি বোর্ডের মতে, শিশু ও তরুণদের প্রতিদিন ৬০০ আইইউ বা ১৫  এমসিজি ভিটামিন ডি দরকার।

কখন যাবেন রোদে

দুপুরের ঠিক আগমুহূর্তে রোদে যাওয়ার সঠিক সময়। কারণ এই সময়ে সূর্যের তাপ বেশি থাকে। তাই অল্প সময়েই আপনি পেয়ে যাবে ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি। বিভিন্ন গবেষণা বলে, এই সময়টাতে ভিটামিন ডি নেওয়ার জন্য শরীর সব থেকে বেশি উপযোগী থাকে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মিড ডে-র পরে রোদে যাওয়া আরও বেশি ক্ষতিকর। এতে স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যায়সঠিক উপায়

রোদে গেলেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে না। বরং মানতে হবে সঠিক নিয়ম। ১০ থেকে ৩০ মিনিট রোদে থাকলেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ সময়ে যতটা সম্ভব ছোট হাতার পাতলা কাপড় পরতে হবে, যেন রোদ সরাসরি গায়ে লাগে। মুখে রোদ লাগাতে না চাইলে সূর্যের দিকে পিঠ এলিয়ে দিয়ে বসতে পারেন। ত্বক খুব বেশি স্পর্শকাতর না হলে সানস্ক্রিন ছাড়া কিছু সময় রোদে বসলে ত্বক বেশি ভিটামিন ডি পাবে। এ ছাড়া চাইলে সানগ্লাস ও হ্যাট পরেও রোদে বসা যায়।

বেশি রোদে ক্ষতি

ত্বক রোদে পুড়লে কালচে ভাব আসা ছাড়াও অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। যেমন ত্বক কিছু জায়গায় লালচে হয়ে যাওয়া, ব্যথা হওয়া, চুলকানি, র‍্যাশ, ফুলে যাওয়া প্রভৃতি। লম্বা সময় রোদে থাকলে আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি (ইউভি রে)  চোখের রেটিনায় মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এতে চোখে ছানির সমস্যা বাড়ে। রোদে অনেক সময় থাকলে ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে যায়। চামড়ায় ভাঁজ পড়া, চামড়া আলগা হওয়া ও ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়। অনেক বেশি সূর্যের ইউভি রে ত্বকের ক্যানসারের জন্য দায়ী। তাই সারা দিনে কেবল ১০ থেকে ৩০ মিনিটের রোদই ভিটামিন ডি-র জন্য যথেষ্ট।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%96%E0%A6%A8-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8

2
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকেরই আছে। সাধারণত বুকজ্বলা, অতিরিক্ত ঢেকুর ওঠা, পেটব্যথা, পেটজ্বলা, পেটফাঁপা, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি উপসর্গকে গ্যাস্ট্রিক বলে। সময়মতো না খাওয়া, বাইরের খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তেল–মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, ধূমপান, মদপান, কম ঘুমানোর মতো অভ্যাসের কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।

এন্ডোস্কপি করলে পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্রভাগে ক্ষত পাওয়া গেলে তাকে পেপটিক আলসার বলা হয়। এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে। আবার কোনো ক্ষত বা আলসার না থেকে কেবল গ্যাস্ট্রাইটিস (প্রদাহ) থাকতে পারে। অনেক সময় হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের সংক্রমণ থেকে প্রদাহ বা ক্ষত হয়। এরও চিকিৎসা আছে। এর বাইরে একটি বড়সংখ্যক রোগীর কোনো ক্ষত বা প্রদাহ নেই। তাঁদের যা হয়, তা হলো নন–আলসার ডিসপেপসিয়া। মানে হজমের রস ওপরে উঠে এসে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।

গ্যাস্ট্রিকের সঠিক চিকিৎসা না করে অনেকে মাসের পর মাস এন্টাসিড সিরাপ, ওমিপ্রাজল গোত্রের ওষুধ, ডমপেরিডোন গোত্রের ওষুধ সেবন করেন। গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে এসব ওষুধের বেশির ভাগেরই কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু খাওয়াদাওয়া ও জীবনযাপনের নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকতে পারবেন। যাঁদের বয়স বেশি, তাঁদের উচিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থা নেওযা।

দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। এতে টাইফয়েডের মতো কিছু সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া রক্তশূন্যতা ও হাড়ক্ষয় রোগ হতে পারে। কিডনি রোগীদের অ্যান্টাসিড–জাতীয় ওষুধে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এসব ওষুধ খেলে পাকস্থলীর পিএইচ পরিবর্তিত হয়ে যায়, এমনকি পাকস্থলীর ক্যানসারও হতে পারে।

করণীয় কী
রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক এক মাস বা দুই মাসের জন্য লিখে দিলে তা সারা বছর খাওয়া যাবে না।

পেটের সমস্যা যদি দীর্ঘ হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে। খাবার ও জীবনযাপনের সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া, বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত তেল–মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা, বাসি খাবার না খাওয়া, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, ধূমপান ও মদপান না করা এবং অধিক রাত না জাগা।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%93%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%A7-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A7%9F

3
রাত একটা, দুটো, তিনটে। অন্ধকারে পাহারা দিচ্ছে একটা রাতজাগা এক অ্যানড্রয়েড ফোন আর এক জোড়া নির্ঘুম চোখ। এটা কোনো কাল্পনিক দৃশ্য নয়। আধুনিক জীবনের খুবই স্বাভাবিক চিত্র। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্নায়ুচাপ, গ্যাজেটনির্ভরতা, সর্বোপরি অনলাইন আর অফলাইন জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। রাতে ভালো ঘুম হয় না, আপনি কি এমন সমস্যায় ভুগছেন? অনেক সময় দেখা যায়, শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত, কিন্তু ঘুম আসে না। জেনে রাখুন, আপনি একা নন। এই সমস্যার সঙ্গী হিসেবে পাবেন আরও অনেককে।

দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঠিক সময়ে ঘুমানোর কোনো বিকল্প নেই
দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঠিক সময়ে ঘুমানোর কোনো বিকল্প নেই। ঘুমহীনতায় তৈরি হয় নানা জটিলতা। তাই আপনার যদি ‘রাতে ঘুম না আসে’, তাহলে ঘুমানোর আগে এই খাবারগুলো খেয়ে দেখতে পারেন। ঘুমের জন্য যে হরমোন দায়ী, এই খাবারগুলো খেলে সেগুলো নিঃসৃত হয়।

কলা, দুধ, ডিম, মিষ্টিআলু, মধু, ওটস, আখরোট, কাঠবাদাম, ডার্ক চকলেট, পালংশাক—এগুলো খেয়ে দিব্যি ঘুমাতে পারেন। আমের সময় রাতে দুটো পাকা আম খেলেও ভালো ঘুম হবে। পাকা আমে প্রচুর ট্রিপটোফ্যান থাকে; যা নিদ্রাকর্ষী রাসায়নিক হিসেবে কাজ করে। দুধেও থাকে অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান। তাই আমের মৌসুমে যদি রাতের খাবার হিসেবে গরম দুধে আম মিশিয়ে খান, তাহলে তো পোয়া বারো। আখরোটেও থাকে এই ট্রিপটোফ্যান। 

পাকা আম আর বাদামে ভালো ঘুম হয়
শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ঘুম কম হয়। মস্তিষ্কের নিউরনের যে অংশ ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করে, ডিটামিন ডি সেটাকে সক্রিয় করে। আর ডিমে থাকে ভিটামিন ডি। পটাশিয়ামযুক্ত খাবারেও ঘুম পায়। কলা আর পালংশাকে আছে প্রচুর পটাশিয়াম। মধু সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরি করে। এই দুই হরমোনই ঘুমপাড়ানি মাসি আর পিসি। তাই নিয়মিত মধু খেলে ভালো ঘুম হয়। কাঠবাদামের ম্যাগনেশিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান স্নায়ু এবং মাংসপেশিকে শান্ত করে। ফলে ভালো ঘুম হবে।

শস্যজাতীয় খাবারেও গভীর ঘুম হবে। এসবে সেরোটোনিন নামক শিথিলকরণ হরমোনের নিঃসরণ হয়, যা গভীর ঘুমের জন্য দায়ী। এ ছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেশিয়ামও দেহের মাংসপেশি শিথিলকরণে সহায়ক। ডার্ক চকলেটেও সেরোটেনিন তৈরি হয়। অন্যদিকে ওটস খুবই উপকারী আর পুষ্টিকর একটি খাবার। এর জটিল কার্বোহাইড্রেটস হজমে বেশ সময় লাগে। ফলে রাতভর পেট ভরা থাকায় ঘুম ভালো হয়। একই কারণে এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে মিষ্টিআলুর জুড়ি নেই।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8

4
বিবিএসের জরিপ, করোনার চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি মৃত্যু হয় হৃদ্‌রোগে। আমাদের সবার মধ্যে একটা উপলব্ধি কাজ করে এমন যে করোনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু পারসেপশন সব সময় সঠিক হয় না। করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে হৃদ্‌রোগে। আপনি কতটুকু সচেতন, আপনি কি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন? যদি ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে হয়, তাহলে কী করবেন? সাধারণ হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন।

হার্ট ভালো রাখতে এসব পয়েন্টে আকুপ্রেশার করতে হবে
হৃদ্‌রোগে বিকল্প চিকিৎসা আকুপ্রেশার এখন বেশ সাড়া ফেলেছে। আপনি আপনার হাত চেপে জেনে নিতে পারবেন, আপনি হৃদ্‌রোগের কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে যদি কোনো উপসর্গ না–ও থাকে।

করোনারি হৃদ্‌রোগ কী
করোনারি হৃদ্‌রোগ (সিএইচডি) করোনারি ধমনির মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে বা পাতলা হয়ে যায়, সাধারণত যা অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের দ্বারা সৃষ্ট। ধমনির অভ্যন্তরীণ দেয়ালে কোলেস্টেরল ও চর্বি জমে যায়, তাকে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস (ধমনির ‘শক্ত হয়ে যাওয়া’ বা ‘ক্লগিং’ নামেও পরিচিত) বলা হয়ে থাকে। এই চর্বি ধমনিতে রক্ত চলাচলের গতি কমিয়ে দিয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস হৃৎপিণ্ডে পৌঁছাতে পারে না। এ কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে। যদি হৃৎপিণ্ডের একটি পেশিতে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, অথবা শরীর থেকে যে পরিমাণ শক্তি হৃৎপিণ্ডে যাওয়ার কথা, সেগুলো না গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

সাধারণভাবে হার্ট–সংক্রান্ত যেকোনো অসুখকেই হৃদ্‌রোগ বলা হয়ে থাকে। যেটাকে এখন বর্তমান সভ্যতার রোগ বলা হয়। এ রোগের কয়েকটি ধাপ আছে, তেমনি আলাদা নামও রয়েছে, যেমন করোনারি হৃদ্‌রোগ, কার্ডিও মায়োপ্যাথি, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদ্‌রোগ, হার্ট ফেইলিউর, হৃৎপিণ্ডের ডান পাশ অচল হয়ে যাওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হওয়া, ভালভুলার ডিজিজ ইত্যাদি হার্টের অসুখের মধ্যে পড়ে।

মানুষের হৃৎপিণ্ডের মধ্যে করোনারি আর্টারি নামে দুটি ছোট ধমনি থাকে। এই ধমনিই হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখতে সাহায্য করে বা হৃৎপিণ্ডকে পুষ্টির জোগান দেয়। কোনো কারণে এই করোনারি আর্টারি যদি ব্লক হয়ে যায়, তাহলে যে এলাকায় ওই আর্টারি বা ধমনি রক্তের পুষ্টি পৌঁছে দিতে পারে না, সেই জায়গার হৃদ্‌পেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। এ সমস্যা যেকোনো সময় যে কারও হতে পারে। কাজ করতে করতে, ঘুমের ঘোরে সকাল-রাতে যেকোনো সময় হতে পারে। হঠাৎ ভারী কোনো কাজ করলে, বাইরে ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকলেও এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যাগুলো নিঃশব্দে দানা বাঁধে।

হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে, তখন যে লক্ষণ থাকে
সাধারণভাবে হার্টের অসুখ থাকলে বুকে অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। সেই সঙ্গে ঘাম হয় এবং শরীর খারাপ ও অস্বস্তি লাগে। ক্রমাগত শরীর খারাপ করতে থাকলে হার্টের অসুখ হতে পারে। হার্টের করোনারি আর্টারি বা ধমনি ব্লকেজ থাকলে মানুষের শরীরে নানা সমস্যা হয়। বুকে ব্যথা, ঘাম, নিশ্বাসে কষ্ট, মাথা ধরা—এসব লক্ষণ দেখলে বোঝা যায়, রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হাতে-পায়ে ঝিনঝিনও করতে পারে। মূলত রক্তে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচডিএলের (ভালো) মাত্রা কমে গেলে মানুষের হার্ট অ্যাটাক হয়।

হার্টের সঙ্গে ব্রেনের গভীর সম্পর্ক। তাই এ পয়েন্টে আকুপ্রেশার করতে হবে
এমন সমস্যা হলে আপনি নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন। সেই সঙ্গে খাদ্য ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ফেলুন। তাতে আপনার সমস্যাগুলো আস্তে আস্তে দূর হবে এবং সেই সঙ্গে উপসর্গগুলো থাকবে না।

কীভাবে আকুপ্রেশার শুরু করবেন
হার্টের যে সমস্যাই হোক, আপনি আকুপ্রেশার শুরু করার আগে আপনার জীবনধারায় একটু পরিবর্তন আনার চেষ্ট করুন। বিশেষ করে খাদ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে। আপনার খাবার হবে ফল ও সবুজ শাকসবজিনির্ভর। সেই সঙ্গে দানাদার শস্য ও বাদাম খেতে পারবেন। তারপর প্রতিদিন সকালে ২০ থেকে ২৫ মিনিট আকুপ্রেশার করবেন।

বাঁ হাতে এই স্থান হার্টের মূল পয়েন্ট। এখানে চাপ দিলে যদি ব্যথা অনুভব হয়, তাহলে বুঝতে হবে হার্টের সমস্যা আছে
আকুপ্রেশার শুরু করার প্রথম নিয়ম হচ্ছে আপনি আপনার দুই হাত ঘষুন। দুই মিনিট এমনভাবে হাতের তালু ঘষবেন, যেন হাত লাল ও গরম হয়ে ওঠে। তারপর ছবিতে দেওয়া পয়েন্টেগুলোর প্রতিটিতে ১০০ বার করে আকুপ্রেশার করুন। হার্টের পয়েন্টগুলো মূলত আমাদের হাতের বাঁ হাতে হয়ে থাকে। আকুপ্রেশার করার জন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। আপনার বাঁ হাত ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিন।

অনেকের বুকের পাঁজরে ব্যথা হয়ে থাকে। তাই এখানে আকুপ্রেশার করতে হবে
বাঁ হাতের সাতটি স্থানে ও ডান হাতের চারটি স্থানে আকুপ্রেশার করবেন। প্রেশার হবে খুব হালকাও না বেশি জোরেও না। আপনি যখন আঙুল দিয়ে বাঁ হাতের পয়েন্টগুলোতে চাপ দেবেন, তখন আপনি হালকা ব্যথা অনুভব করবেন। যেখানে আপনি ব্যথা অনুভব করবেন, সেখানেই আপনার পিনপয়েন্ট। প্রতিদিন সকালে ও রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই খালি পেটে আকুপ্রেশার করতে হবে। সপ্তাহে ছয় দিন আকুপ্রেশার করুন, আর এক দিন বিরত থাকুন।

বুক ধড়ফড় করে যাদের, তারা এ পয়েন্টে আকুপ্রেশার করলে উপকার পাবেন
সব কটি পয়েন্টে আপনি এক সপ্তাহ আকুপ্রেশার করলেই টের পাবেন, আপনার শরীরে কিছুটা পরির্বতন আসছে, বিশেষ করে বুকটা হালকা লাগবে, শ্বাস ফেলতে তেমন কষ্ট হবে না, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যে কষ্ট হতো, তা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকবে। এই নিয়ম তিন মাস করা উচিত। যাঁরা অসুস্থ আছেন, তাঁরাই যে আকুপ্রেশার করবেন, তেমনটি নয়; বরং আপনিও হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত আকুপ্রেশার করতে পারেন।

হার্টে রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখতে এখানে আকুপ্রেশার করতে হবে
হার্ট ভালো রাখার জন্য খাবারের মধ্যে আমাদের মৌসুমি ফল অনেক ভালো। সেই সঙ্গে আপেল আর নিয়মিত কলা, পেঁপে খেয়ে শরীরকে সচল রাখা জরুরি। বিশেষ করে সারা দিনে আপনার খাবারে তেল ও লবণের পরিমাণ কমানো আবশ্যক। এ জন্য ফল ও কাঁচা সবজির সালাদ হতে পারে আদর্শ খাবার।

হার্ট ভালো রাখতে পেট ভালো রাখা জরুরি
হার্টের সমস্যাগুলো শরীরে ধীরে ধীরে জন্মালেও অ্যাটাক হয় খুব দ্রুত। এ কারণে মানুষের বিপদ বেড়ে যায়। হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় আপনি আকুপ্রেশার করে আপনার পরিবারকে বিপদমুক্ত রাখতে পারবেন।

According to the BBS survey, 37 times more deaths are due to heart disease than corona. There is a perception among all of us that many more people are dying in Corona. But perception is not always right. More people have died of heart disease than Corona. How aware are you, are you at risk of heart disease? If you seem to be at risk, what do you do? Go to a general cardiologist.

Acupressure should be done at these points to keep the heart-healthy.
Alternative medicine for heart disease Acupressure has now received a good response. You can shake your hand to find out how much you are at risk for heart disease, especially if there are no symptoms.

What is coronary heart disease?
Coronary heart disease (CHD) is a blockage or narrowing of the coronary arteries, usually caused by atherosclerosis. Cholesterol and fat build-up in the inner walls of arteries, also known as atherosclerosis (also known as 'hardening' or 'clogging' of arteries). This fat slows the blood flow to the arteries and obstructs blood flow to the heart. Due to this the blood supply to the heart decreases. Oxygen and various micronutrients cannot reach the heart, which is very important for keeping the heart normal. This can cause chest pain. If the blood flow to a muscle in the heart is completely stopped, or the amount of energy that is supposed to go from the body to the heart does not go away, a heart attack can occur.

Generally, any heart-related disease is called heart disease. Which is now called the disease of the present civilization. There are several stages of the disease, but also different names, such as coronary heart disease, cardiomyopathy, hypertensive heart disease, heart failure, right side of the heart becomes immobile, respiratory obstruction, valvular disease, etc. fall into the heart disease.

The human heart has two small arteries called coronary arteries. These arteries help keep the heart moving or nourish the heart. If for some reason this coronary artery becomes blocked, then the heart muscle does not work in the area where that artery or artery cannot deliver blood nutrients. That's when the heart attack. This problem can happen to anyone at any time. While working, sleep deprivation can occur at any time of the day or night. If you do any heavy work suddenly, even in cold weather outside, this disease can occur. Many times these problems germinate silently.

There are going to be heart attacks, then there are those symptoms
In general, if there is heart disease, unbearable pain is felt in the chest. With that comes sweating and the body feels bad and uncomfortable. Constant body damage can lead to heart disease. Coronary artery blockage of the heart causes various problems in the human body. Chest pain, sweating, difficulty breathing, headache — these symptoms indicate that the patient has had a heart attack. It can also tingle hands and feet. A heart attack is caused by an increase in the level of LDL (bad) cholesterol in the blood and a decrease in the level of HDL (good).

The deep relationship of the brain with the heart. So
if you have problems with acupressure at this point, you can do acupressure regularly. Make some changes in your diet and lifestyle. It will gradually remove your problems and will not have the symptoms.

How to start acupressure
Whatever your heart problem, try to make some lifestyle changes before you start acupressure. Especially we have to bring discipline in food. Your diet will be based on fruits and green vegetables. You can also eat granular grains and nuts. Then do acupressure for 20 to 25 minutes every morning.

This place in the left hand is the main point of the heart. If you feel pain when you put pressure on it, then you have to understand that you have heart problems. The
first rule to start acupressure is to rub both your hands. Rub the palms of the hands for two minutes in such a way that the hands become red and hot. Then acupressure 100 times on each of the points given in the picture. The points of the heart are basically in the left hand of our hand. You don't need anything to do acupressure. Press your left hand with the thumb of your right hand.

Many people have pain in the ribs of the chest. So acupressure has to be done here
Do acupressure in seven places on the left hand and four places on the right hand. The pressure will be neither too light nor too loud. When you press on the points of the left hand with your finger, you will feel mild pain. Your pinpoint is where you feel the pain. Acupressure must be done on an empty stomach every morning and night before going to bed. Acupressure six days a week, and abstain one day.

Those who have palpitations in the chest will benefit if you do acupressure at this point. In
all the points you will feel if you do acupressure for a week, your body is changing a bit, especially the chest will feel lighter, it will not be difficult to breathe, it would be difficult to climb stairs. Will continue to decrease gradually. This rule should be done for three months. Acupressure is not for those who are sick; Instead, you can do regular acupressure to keep your heart healthy.

To keep the blood circulating in the heart, you need to do an acupressure here
. Our seasonal fruits are very good in the diet to keep the heart-healthy. Along with that, it is important to keep the body active by eating apples and bananas, and papaya regularly. It is especially important to reduce the amount of oil and salt in your diet throughout the day. For this, fruit and raw vegetable salad can be the ideal food.

It is important to keep a good stomach to keep the
heart-healthy. Heart problems are born slowly in the body but the attack is very fast. Due to this human danger increases. As heart disease treatment is expensive, you can keep your family safe by doing acupressure.
লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0

5
দিনের সব কাজ সারতে সারতে হয়ে যায় অনেক রাত। ঘুম আসতে আসতে রাত তিনটা! সকালে তড়িঘড়ি করে প্রস্তুত হয়েই এক দৌড়ে—কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস। মাঝখান থেকে সকালের নাশতা হাওয়া। এভাবেই চলছিল।

সকালের নাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
মহামারিকালের লকডাউনে দিন আর রাতের পার্থক্য আরও কমে এসেছে। এখন সকালের খাবার ‘নাই হয়ে গেছে’ রুটিন থেকে। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা, আর একবারে গুছিয়ে উঠে দুপুরে খাওয়া—‘নতুন স্বাভাবিকতা’য় এভাবেই হারিয়ে গেছে সকালের নাশতা।

সকালের নাস্তা জরুরি
কেউ কেউ ভাবেন, সকালের নাশতা এড়ালে ওজন কমানো যায়। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। কারণ, সকালের দিকে শরীরের বিপাকক্রিয়ার হার বেশি থাকে। ফলে যা খাওয়া হয়, তা হজম হয়ে যায়। এ ছাড়া সারা দিনের কাজে সব ক্যালরি খরচ হয়ে যায়। দিন যত গড়ায়, শরীরের পরিপাক হারও বাড়তে থাকে। সূর্য ডুবে যাওয়ার পর পরিপাকের হার কমতে থাকে।

ভাতও থাকতে পারে  সকালের নাস্তার টেবিলে
সকালে না খেলে দুপুরে, বিকেলে, সন্ধ্যায়, রাতে, গভীর রাতে খাওয়ার পরিমাণ বাড়ে। কিন্তু পরিপাকের হার আবার সূর্য ডোবার পর থেকে কমে যায়। ফলে ‘বেলা করে’ যেসব খাবার খাওয়া হয়, তা শরীরে জমার প্রবণতা বেশি। ফলে মোটা হওয়ারও প্রবণতা বেশি।
 অন্যদিকে সকালে একটা ভারী নাশতা করলেও সেটা গায়ে লাগে না; বরং ক্যালরিটা খরচ হয়ে যায়। আর সারা দিনে খাওয়ার চাহিদাও কমে যায়। ফলে সন্ধ্যায় বা রাতে খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। এভাবে সকালে সুষম নাশতা খেলে তা ওজন কমতে সাহায্য করে।

সকালে খেতে পারেন খিচুরি
আবার এটি শরীরের শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া নিয়মিত সকালের নাশতা করলে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে অবশ্যই সেটি হতে হবে পুষ্টিকর।

 সূত্র: হেলথলাইন ডটকম

6
দেশে এখন ফলের মৌসুম। বাজারে মৌসুমি ফলের সমাহার। দেশীয় মৌসুমি ফল খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ভিটামিন, মিনারেলের চাহিদা পূরণে মৌসুমি ফল খেতে বলা হয়। নিয়মিত তাজা ফলমূল খেলে ভিটামিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কমে।

অবশ্য অনেকেই প্রচণ্ড গরমে ফলের রস খেতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আম বা অন্য ফলে আঁশ থাকে বলে তা রস করে খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু ফল রস করে খাওয়ার চেয়ে আস্ত ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।

ফল খাওয়ার উপকারিতা
● ফলে বিদ্যামান আঁশ রক্তের কোলেস্টেরল, টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

● উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।

● ফলের আঁশ ধীরে ধীরে হজম হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেটে থাকে। ফলে ক্ষুধা কম লাগে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

● কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।

● রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ফল রস করে খেলে যা হয়
● ফলের রস বানানোর সময় ফল থেকে উপকারী আঁশ সরিয়ে ফেলা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ অদ্রবণীয় আঁশ ফেলে দেওয়া হয়, কেবল কিছু দ্রবণীয় আঁশ রসে থেকে যায়। যার কারণে ফল খেলে যে উপকার পাওয়া যায়, রসে তা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ফলের আঁশ আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হজম হয়ে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা খারাপ ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয় এবং খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। ফলের রস খেলে শরীরে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয় না।

● ফলের রস বানানোর সময় শুধু আঁশই নষ্ট হয় না, আঁশের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসহ সব পুষ্টি উপাদানও নষ্ট হয়। এ কারণে পুষ্টিমান কমে যায়। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট না থাকায় ফলের রস রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে না।

● রস করার সময় ফলের আঁশের সঙ্গে যুক্ত পলিফেনল নামের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নষ্ট হয়ে যায়। পলিফেনল মানবদেহে মস্তিষ্কের কোষের জন্য খুব জরুরি। এ ছাড়া পলিফেনলস রক্তনালিকে নমনীয় করে। এতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

● ফলের রস করার সময় এতে পানি যোগ করা হয় এবং স্বাদ বাড়াতে মাঝেমধ্যে চিনিও দেওয়া হয়। চিনি যোগ করার কারণে ক্যালরি অতিরিক্ত বেড়ে যায়। ফলে ওজন ও ব্লাড সুগার খুব দ্রুত বাড়ে। ফলের রস খেতে চাইলে পাল্পসহ স্মুদি করে খাওয়াই ভালো। তবে এতে চিনি দেওয়া যাবে না।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A6%B8-%E0%A6%A8%E0%A7%9F-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AB%E0%A6%B2

7
লুৎফর রহমান রিটনের ছড়ার সেই আবদুল হাইয়ের কথা কে না জানে! তিনি সারাদিন খাই খাই করেন। লাউ খান, শিম খান, মুরগির ডিম খান। খেতে খেতে খাবি খান, কত হাবিজাবি খান। আবার ‘হাই ভাই’য়ের উল্টো চিত্র খুঁজে পাওয়াও কঠিন নয়। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ কথাটি শোনা যাচ্ছে হরহামেশাই। করোনা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, ওষুধের প্রভাবে, বিষণ্নতা, জ্বর, অসুখ থেকে সেরে ওঠাসহ নানা কারণে আমাদের খেতে ইচ্ছে করে না। কোথায় যেন হারিয়ে যায় মুখের স্বাদ। খিদে পায় না। মাছ, মাংস, মন্ডামিঠাই— সবকিছুকেই মনে হয় ঘাসের মতো স্বাদহীন। এমন সময় কী করবেন? হেলথলাইন ডটকম দিয়েছে সেই উত্তর। সেখান থেকেই জেনে নিন পাঁচটি উপায়।

ট্রাই করুন নতুন কিছু

* খাবারকে ছোট ছোট বেশ কয়েকভাগে ভাগ করে নিন। অল্প অল্প করে খান। কিছুক্ষণ পর পর খান। যে খাবারের গন্ধ ভালো, দেখতেও ভালো— এমন কিছু নিন। রঙিন টাটকা ফল খান। ফল খেতে ইচ্ছে না করলে ফলের জুস বানিয়ে অল্প অল্প করে খান। যে খাবার আগে কখনো খাননি এমন কিছু চেখে দেখতে পারেন।

খেতে পারেন সালাদ
* ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল করুন। দেখবেন ক্লান্তি আর অবসাদ কিছুটা হলেও দুর গেছে। নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে বসে পড়ুন। দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতাকে চেপে বসতে দেবেন না। গা ঝাড়া দিয়ে ঝেড়ে ফেলতে হবে। স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

* তেলে ভাজা খাবার বাদ দিন। কম মশলাযুক্ত, সহজপাচ্য খাবার খান। সেদ্ধ ভাত, আলু ভর্তা, সালাদ, পাস্তা সালাদ, হালকা গরম স্যুপ খেতে পারেন। স্মুদি, মিল্কশেক বা সতেজ অনুভূতি দেয় এমন পানীয় খেতে পারেন। দুধ খেতে ইচ্ছা না করলে দুধের তৈরি জিনিস এই যেমন দই, পনীর বা আইসক্রিম খান। এগুলো প্রেটিনে ভরপুর হওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে না। অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

বাদ দিন ভাজাপোড়া, চিনি
* মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে পুদিনার জুড়ি মেলা ভার। ১০ থেকে ১৫ টি পুদিনা পাতা গরম পানিতে ভেজান। তারপর সেই পানি দিনে দু’‌বার খান। সুন্দর ঘ্রাণ আছে এমন মশলা যেমন আদা, রসুন, গোলমরিচ বা ভিনিগার, লেবুর রস, টমেটো, জোয়ান— এগুলো যোগ করতে পারেন আপনার খাবারে। আদায় রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল আর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ। আদার গন্ধে নাকের কোষগুলি খুলে যায়, ফলে ঘ্রাণশক্তি ফেরত আসে। এমনকি জিভে স্বাদও চলে আসে।

প্রচুর পানি পান করুন
* প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি ভালো না লাগলে লেমন টি, লেবু পানি, ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F

8
হৃদ্‌রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক। বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ এটি। অজান্তেই দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এই রোগের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল, শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী বাড়তি ওজন এবং ব্যায়াম বা কায়িক শ্রমের ঘাটতির কারণে হৃদ্‌রোগ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী ১০ বছরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিরূপণ করে এ সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের জন্য আমেরিকান কলেজে অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের পরবর্তী ১০ বছরের জন্য হৃদ্‌রোগ বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছে। tools.acc.org/ldl/ascvd_risk_estimator নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেই এই ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়।

হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত ক্যালকুলেটর হলো ফ্রামিংহাম রিস্ক স্কোরিং (Framingham Risk Score)। এ ক্ষেত্রে বয়স, রক্তের মোট কোলেস্টেরল ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা, ধূমপানের অভ্যাস ও রক্তচাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রতিটা বিষয়ের জন্য নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে পয়েন্ট রয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ঝুঁকি নিরূপণ কৌশল নিয়েই কথা বলছি। ৪০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ৩।

৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের রক্তে মোট কোলেস্টেরল যদি ১৬০–এর নিচে থাকে, তাহলে পয়েন্ট শূন্য। ১৬০ থেকে ১৯৯–এর মধ্যে থাকলে পয়েন্ট ৪। মোট কোলেস্টেরল ২৮০ বা তার বেশি হলে নারীর পয়েন্ট ১৩, পুরুষের ১১। রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল–এর মাত্রা ৪০–এর নিচে থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ২। আর ৬০ বা তার বেশি থাকলে পয়েন্ট মাইনাস ১। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ১। ধূমপানের অভ্যাস না থাকলে পয়েন্ট শূন্য।

যেকোনো বয়সীদের মধ্যে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিচ্ছেন না, তাদের সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০ মিলিমিটার–পারদ চাপের কম থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা তার ওপরে হলে নারীর পয়েন্ট ৪, পুরুষের ২। আর যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সিস্টোলিক রক্তচাপের মান ১২০ মিলিমিটার–পারদের কম হলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা তার বেশি হলে নারীর পয়েন্ট ৬, পুরুষের ৩।

নারীর ক্ষেত্রে এই পয়েন্টগুলোর যোগফল যদি ৯–এর কম হয়, তাহলে আগামী ১০ বছরে আপনার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১ শতাংশেরও কম। যোগফল ২৫ বা তার বেশি হলে ঝুঁকি ৩০ শতাংশের বেশি। পুরুষের ক্ষেত্রে যোগফল শূন্য হলে ঝুঁকি ১ শতাংশের কম। ১০ শতাংশ পর্যন্ত হিসাবকে কম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যোগফল ১৫ বা তার বেশি হলে আগামী ১০ বছরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন আপনি। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE

9
আজকাল অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। অনিয়মিত খাওয়ার রুটিন, ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ নানা কারণে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন ছেলে-বুড়ো সবাই। এর লক্ষণ হিসেবে বেশির ভাগ সময়ই আমরা দেখি পেট ফাঁপা, বুক ও গলা জ্বালাপোড়া করা এবং বদহজম। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই সমাধান খোঁজেন ওষুধে। কিন্তু প্রথম দিকে ওষুধ কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে ওষুধ আর তেমন কাজে দেয় না।

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সবচেয়ে বড় দাওয়াই হলো এর প্রতিরোধ। কিছু নির্দিষ্ট জিনিস আছে, যা আমাদের অ্যাসিডিটির সমস্যাকে বাড়ায় করে। যেমন, কারও টানা না খেয়ে থাকলে, কারও ভাজাপোড়া খেলে, কারও অনেকক্ষণ রোদে থাকলে, কারও কারও ক্ষেত্রে সেটা বিশেষ কোনো খাবারও হতে পারে। কিসে আপনার অ্যাসিডিটি দেখা দেয়, সেটা এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে যদি অ্যাসিডিটির সমস্যায় পড়েই যান, তাহলে কিন্তু হাতের নাগালে থাকা অতি সাধারণ কিছু উপাদান আপনাকে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

পানি
অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে বাঁচতে পানি পান করুন প্রচুর পরিমাণে। অ্যাসিডিটি হলে পানি পান করলে পেটের গ্যাস বের হয়ে আসতে পারে এবং অস্বস্তিভাব দূর হয়। আর যদি আপনি নিয়মিত প্রয়োজনীয় পানি পান করেন, তাহলে আপনার অ্যাসিডিটির সম্ভাবনাও কমে যাবে। কারণ, আমাদের হজম ও পরিপাকক্রিয়ায় পানি খুবই জরুরি একটি উপাদান। আর হজম ও পরিপাক যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে অ্যাসিডিটি এমনিতেও হবে না।

আদা
আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে দারুণ কার্যকরী। আদা কুচি করে সামান্য লবণসহযোগে চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি অনেকটাই উপশম হয়ে আসে। আবার চাইলে আদাকুচি পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানিও খেতে পারেন। তবে পরিমাণে খুব বেশি নয়, তা না হলে উল্টো আপনার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

পুদিনাপাতা
অ্যাসিডিটির সমস্যায় দু–তিনটি পুদিনাপাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। চিবিয়ে খেতে খারাপ লাগলে এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনাপাতা দিয়ে সেদ্ধ করে পানিটা খেতে পারেন। বমিভাব, জ্বালাপোড়া দূর করে সতেজ ভাব আনতে পুদিনাপাতার জুড়ি নেই।

মেথি
এক গ্লাস পানিতে এক চা–চামচ মেথিগুঁড়া মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া অনেকাংশে কমে। অথবা এক চা–চামচ মেথি দানা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেটা খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

দারুচিনি
এক গ্লাস পানিতে আধা চা–চামচ দারুচিনির পাউডার মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এটি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়। পাউডার খেতে অস্বস্তি লাগলে ৪–৫ টুকরা দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে নির্যাসসহ পানিটা খেতে পারেন।

পেঁপে
পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন অ্যানজাইম আমাদের হজমপ্রক্রিয়াকে সহজতর করে। ফলে অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে না। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে রাখতে পারেন দু–এক টুকরা পেঁপে।

অ্যাসিডিটির সমস্যা যদি প্রতিদিনই হয় এবং সেটা গুরুতর পর্যায়ের হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সব ঘরোয়া উপাদান সবার জন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি পেঁপে খেলে অ্যালার্জি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই পেঁপে খাবেন না। মনে রাখবেন, এসব ঘরোয়া উপাদান কিংবা ওষুধ আমাদের অ্যাসিডিটি থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে। এই অস্বস্তিদায়ক সমস্যা থেকে সত্যিকারের মুক্তি পেতে চাইলে লাইফস্টাইল এবং ডায়েটে পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

একবারে অনেক না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে খান, পেট খালি রাখবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করুন। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস যদি ছাড়তে না পারেন, যতই ঘরোয়া দাওয়াই কিংবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন না কেন, অ্যাসিডিটি ঘুরেফিরে আপনার পিছু ছাড়বে না। সচেতনতার চেয়ে বড় দাওয়াই আর নেই।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87

10
মুখগহ্বরের অনেক রোগকেই আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু কমবেশি ব্যথা বা উপসর্গহীন রোগগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে জটিল আকার ধারণ করে। এমনই একটি সমস্যা হলো দাঁত ভেঙে যাওয়া, দাঁতে ফাঁক বা গর্ত সৃষ্টি হওয়া।

ক্যারিজ বা জীবাণুর কারণে ক্ষয় অথবা দুর্ঘটনায় দাঁত ভেঙে গেলে এবং দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত না হলে দ্রুত ফিলিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। এই গর্ত প্রাকৃতিকভাবে ভালো হয় না। ফিলিং অতি সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প খরচের একটি চিকিৎসা।

মাসে একবার আয়নার সামনে দাঁতগুলো দেখার চেষ্টা করুন। কোথাও কালো দাগ, গর্ত বা অস্বাভাবিক খাবার জমে আছে কি না, দেখুন। জিহ্বায় দাঁতের কোনো অংশ অমসৃণ লাগে কি না, তা–ও খেয়াল করুন। লক্ষ করুন, ঠান্ডা পানি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে দাঁত শিরশির করে কি না। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত হলে
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে দাঁতের ভেতরকার মজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়। প্রচলিত ধারণা হলো, দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল এবং বারবার করতে হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিয়ে মজ্জাকে আক্রান্ত করার কারণেই কিন্তু রুট ক্যানেল দরকার হয়। তবে আগে থেকে সচেতন হলে রুট ক্যানেল এড়ানো যায়।

মজ্জা আক্রান্ত হলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ করে তুলতে হবে। তা না করে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক অবস্থার সৃষ্টি হয়, নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়। তেমনই অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ থেকে পেপটিক আলসার, কিডনি রোগসহ নানা জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসা না করালে মজ্জা আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংক্রমণ দাঁতের গোড়ার হাড়ের মধ্যে ছড়াতে থাকে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো হলে অথবা সংক্রমণের মাত্রা কম হলে দাঁতের গোড়ায় বড় ধরনের উপসর্গ ছাড়াই গ্র্যানুলোমা থেকে সিস্ট, টিউমার হয়ে হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হলে পুঁজ জমে সেলুলাইটিস বা মুখ ফোলাসহ লাডউইগ এনজাইনারের মতো মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তখন দাঁতের সংরক্ষণ জটিল এবং অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতই ফেলে দিতে হয়।

এদিকে দাঁতের ভাঙা অংশ অনেক সময় ধারালো হয়ে মুখের নরম অংশে ক্ষত সৃষ্টি করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেখান থেকে ক্যানসারও হতে পারে। কাজেই মুখের যত্নে অবহেলা করা চলবে না।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান, ঢাকা
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%9F

11
Protect your Health/ your Doctor / রাতের খাওয়া
« on: June 07, 2021, 01:08:48 PM »
ওজন কমছে না? ডায়েট করছেন, শরীরচর্চা করছেন, তাও ওজন কমার কোনো লক্ষণ নেই! কখন খাচ্ছেন, সেটা খেয়াল রাখছেন কি? ওজন কমানোর সময় কী খাচ্ছেন, সেটা খেয়াল রাখা যতটা জরুরি, ততটাই কখন খাচ্ছেন, সেটা নজর রাখাও।
এমনিতে দিনের কোন সময় খাচ্ছেন, তার সঙ্গে ওজন কমা-বাড়ার কোনো সরাসরি যোগযোগ নেই। তবে রাতের খাওয়াটা সাধারণত তাড়াতাড়ি সেরে ফেলার উপদেশ দেন পুষ্টিবিদেরা। কেন জেনে নিন।

রাতে শুতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ডিনার সেরে ফেলা আদর্শ। ভরপেট খেয়েই শুয়ে পড়লে হজমের সমস্যা হতে পারে। তার চেয়ে খাওয়া শেষ করে একটু হাঁটাচলা করুন, বাড়ির অন্য কাজ করুন। তা হলে হজমেও সুবিধা হবে, আবার ঘুমও তাড়াতাড়ি আসবে।

বদহজম
রাতে খুব বেশি খেলে অনেক খাবারই হজম করতে সমস্যা হয়। কোন খাবারে কার সমস্যা হবে, সেটা সবার জন্য একই ভাবে নির্ধারিত করা যায় না। তাই আপনাকেই বুঝতে হবে কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে। খাওয়ার পর একটু সময় দিন পেটকে তা হজম করতে। বদহজম হয়ে পেট ফুলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাতের ঘুমও ঠিকমতো হবে না। তাতে শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

দুপুর আর রাতের খাবারের মধ্যে বেশি ফারাক নয়

যদি দুপুর আর রাতের খাবারের মধ্যে অনেকক্ষণ পেট খালি থাকে, তাহলে খিদে অনেক বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে খিদের মুখে অনেকটা বেশি খাবার খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তা হলে আপনার ওজন কমানোর রাস্তা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

রাত বাড়লে ভুলভাল খাওয়া
যত রাত হয়, তত সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে মন যায় মানুষের। বেশি পরিমাণে তেল-নুন দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পিৎজা-বার্গার অর্ডার করার ইচ্ছাও দ্বিগুণ হয়ে যায়। এমনকি মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও বেড়ে যায় অনেকটা। তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে তারপর পছন্দের নেট-সিরিজ দেখুন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE

12
সুস্থ থাকার জন্য শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। করোনাকালে ইমিউনিটি বা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলছেন সবাই। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব দামি বা হিসাব করে খাবারদাবার খাওয়ার কোনো দরকার নেই।

বরং আমাদের রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায়, এমন অনেক কিছুই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি খালি পেটে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে ৩টি জিনিস গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বাড়বে। চলুন দেখে নেওয়া যাক।

রসুন
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন খাওয়ার চল বহুদিনের। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ শতকে চীন ও ভারতে রক্ত পাতলা রাখার জন্য এর প্রচলন ছিল। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিসও একে ব্যবহার করেছিলেন সারভাইক্যাল ক্যানসারের চিকিৎসায়। রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও রসুনে অনেক রকমের ঔষধি গুণ আছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রসুনের ব্যবহার চলে এসেছে। রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রন ও ভিটামিন বি ওয়ান।

শুধু তা–ই নয়, রসুনের মধ্যে আমাদের শরীরে যা প্রয়োজন, মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। কাঁচা রসুন খেলে জ্বর এবং সাধারণ ঠান্ডা তাড়াতাড়ি সেরে যায়। এর কারণ, রসুন খেলে ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায়। কোভিডের জটিলতা বাড়াতে হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কোনো জুড়ি নেই। কাজেই নিয়মিত রসুন খেলে হার্ট ও রক্তচাপ ঠিক থাকে। কম থাকবে কোভিডের জটিলতাও। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রাও বেশি থাকে কাঁচা রসুনে। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২-৩টি রসুনের কোয়া খেতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। তাই আপনি খালি পেটে রসুনের এক বা দুই কোয়া গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন।

আমলকী
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল আমলকী। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজিলেবুর চেয়ে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকীতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। এটি গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন বা খালি পেটেও খেতে পারেন। এর রসও পান করা যায়। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। খালি পেটে খাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, যা আমাদের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

মধু
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। মধুতে যেসব উপকরণ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ—এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিঙ্ক ও জৈব অ্যাসিড (যেমন: ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স ও মিনারেল (১৯-২১ শতাংশ) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন বিদ্যমান। মধুর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। যেমন এটি পচন নিবারক (অ্যান্টিসেপটিক), কোলেস্টেরলবিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খালি পেটে চা–চামচের এক বা দুই চামচ করে মধু খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যাবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A7%87

13
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক এক জিনিস নয়। প্রোবায়োটিক অন্ত্রের একটি উপকারী জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া। আর প্রিবায়োটিক হচ্ছে একধরনের অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ।

প্রিবায়োটিক কোলনের বা অন্ত্রের কোষগুলোতে বিশেষ ধরনের পুষ্টি সরবরাহ করে, যা একটি সুস্থ হজমব্যবস্থা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন বিউটাইরেট, অ্যাসিটেট ও প্রপায়োনেট। এ ছাড়া বিভিন্ন মিনারেলের (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, আয়রন) শোষণে, শিশুদের অ্যালার্জি রোধে, অন্ত্রের কোষে যেকোনো সংক্রমণ কমাতে এবং অটিজমের কিছু লক্ষণ কমাতেও প্রিবায়োটিক সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতেও প্রিবায়োটিকের জুড়ি নেই। যখন পেট ফেঁপে থাকবে, গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যাবে, সামান্য কারণে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হবে, কোনো খাবারই সহজে হজম হতে চাইবে না, তখন খাদ্যতালিকায় প্রিবায়োটিক–সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এমন কিছু খাবার হলো:

ইসবগুলের ভুসি: এটি খুব শক্তিশালী প্রিবায়োটিক। এর উচ্চমাত্রার আঁশ অন্ত্রে দ্রুত উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কলোনি তৈরি করে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং অন্ত্রের যেকোনো সংক্রমণের হার কমায়।

পেঁয়াজ ও রসুন: রসুনের প্রিবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী বিফিডোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত অনেক পেটের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাত-শাকের সঙ্গে কাঁচা রসুনের কোয়া খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজও প্রিবায়োটিক।

বার্লি: এটি একধরনের শস্য, যার প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ গ্রামের মতো বিটা-গ্লুকন থাকে। এ ছাড়া বিটা-গ্লুকন রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ায়।

ওটস: উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় এর প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা রয়েছে। এতে বিটা-গ্লুকনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে; যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখে এবং কোলন ক্যানসার রোধে ভূমিকা রাখে।

কাঁচা কলা: এতে বেশি পরিমাণে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

আপেল: আপেলে বিদ্যমান পেকটিনের রয়েছে প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা। এ ছাড়া এটি পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা কমিয়ে অন্ত্রের কার্যক্রমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। তবে যাঁরা নিয়মিত খান, তাঁরা ছয় মাস পরপর একবার বিরতি দিলে ভালো।

মধু: এতে থাকে ওলিগো-স্যাকারাইড, যা প্রিবায়োটিক হিসেবে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোবেসিলি ও বিফিডোব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কোকো পাউডার: এটি স্বাদযুক্ত একটি প্রিবায়োটিক খাদ্য, যা চকলেট, ওটস, স্মুদি, কেক তৈরিতে বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যায়।

তিসি: এর ফেনলিক কম্পাউন্ডের প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা রয়েছে, যা অন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে হজমকে সহজ করে।

লাল রঙের খাবার: লাল আটা, চাল, ময়দা প্রিবায়োটিক আঁশের খুব ভালো উৎস। এ ধরনের আঁশে বিশেষ একটি উপাদান অ্যারাবিনক্সিলান ওলিগোস্যাকারাইড থাকে, যা অন্ত্রের বিফিডো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

যাঁরা সব সময় হজমজনিত বা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা উপরিউক্ত খাবারগুলো দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0

14
গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ। এতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। অনিরাপদ পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার টাইফয়েডের জীবাণু ছড়ায়। একটু সচেতন হলেই এ সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

সালমোনেলা টাইফি নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়া টাইফয়েডের জন্য দায়ী। এটি আক্রান্তের মলের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর–অপরিষ্কার খাবার বা হাতের মাধ্যমে অন্যকেও আক্রান্ত করে। সাধারণত রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত খাবারের মাধ্যমেই মানুষ আক্রান্ত হয়। জীবাণু আক্রান্ত দেহে পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর নানা অঙ্গে আক্রমণ করে। রক্তে ছড়ানোর পর তীব্র জ্বর আসে।

টাইফয়েড হলে উচ্চমাত্রার জ্বর, মাথাব্যথা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হলে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন হৃদ্‌যন্ত্রে ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বা অন্ত্র ছিদ্র। তীব্রতা ও মাত্রার দিক দিয়ে যেকোনো সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে এ জ্বরের পার্থক্য আছে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সেরে যায়। আর ফ্লু হলে সর্দি–কাশি, নাক বন্ধ ইত্যাদি হয়। টাইফয়েড জ্বর কিছুতেই সারতে চায় না। বরং জ্বরের ঘোরে অনেকে ভুল বকেন। টাইফয়েডেও সামান্য কাশি থাকতে পারে, তবে এটি শুষ্ক ধরনের কাশি।

গ্রীষ্ম ও বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে টাইফয়েড ও ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বাড়ে। করোনা তো আছেই। এ সময় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আমাদের দেশে টাইফয়েড অ্যান্টিবায়োটিকরোধী হয়ে পড়ছে আর অনেক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই রোগ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া চলবে না। টাইফয়েড জ্বর সন্দেহ হলে প্রথম সপ্তাহে রক্ত কালচার করা সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এতে রক্তে সালমোনেলা টাইফির উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়াও যথার্থ অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নেওয়া সম্ভব হয়। মনে রাখবেন, অন্যান্য রোগের চেয়ে টাইফয়েডে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মাত্রা ও মেয়াদ ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।

অনেক সময় জ্বর সাত দিনের বেশি পার হয়ে গেলে রক্ত কালচার ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষার দরকার হয় রোগ শনাক্ত করতে। এ ছাড়া শুরুতেই রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট দেখেও কিছুটা আন্দাজ করা সম্ভব যে জ্বরটি টাইফয়েড না ডেঙ্গু। মহামারি অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বর হলে এ সময় কোভিড টেস্ট করাও উচিত।

এ সময় টাইফয়েড প্রতিরোধ করতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। শৌচাগার ব্যবহারের পর, খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশনের আগে এবং খাওয়ার আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। অপরিষ্কার জায়গার খাবার খাবেন না। বিশুদ্ধ ও ফোটানো পানি পান করতে হবে। কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। বাইরের খোলা শরবত, পানি, জুস ইত্যাদি কিছুতেই খাবেন না।
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A1

15
উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক। কারণ, এ সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না। রোগী দীর্ঘদিন অজান্তে বয়ে বেড়ান সমস্যাটি। তবে এটি নীরবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক, রক্তনালি ও চোখের ক্ষতি করতে থাকে। তাই সবারই উচিত নিয়মিত রক্তচাপ সঠিকভাবে পরিমাপ করা। এতে জটিলতা সৃষ্টির আগেই উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ কী

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে থাকে। কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে বিবেচনা করা যায়। যাঁদের রক্তচাপ এই দুই মাত্রার মাঝামাঝি থাকে, তাকে বলে প্রাক্-উচ্চ রক্তচাপ।

রক্তচাপ পরিমাপের সঠিক উপায়

রক্তচাপ পরিমাপ করা হয় স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে। এটি খুব পরিচিত একটি যন্ত্র। হাসপাতালে, ক্লিনিকে বা চিকিৎসকের চেম্বারে এই যন্ত্র দিয়েই রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। অবশ্য বর্তমানে অটোমেটেড রক্তচাপ মাপার যন্ত্রও পাওয়া যায়। বাড়িতে এটি ব্যবহার করাও সহজ।

■ রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত আধা ঘণ্টা চা, কফি পান বা ধূমপান করা যাবে না।

■ কমপক্ষে ৫ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার পর রক্তচাপ মাপতে হবে।

■ বাসায় রক্তচাপ মাপার সময় পা দুটো মেঝেতে রেখে দুই হাত সামনের টেবিলে অথবা চেয়ারের হাতলে রাখুন।

■ বাহুর কাপড় সরিয়ে রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটির কাফ কনুইয়ের ভাঁজের কমপক্ষে এক ইঞ্চি ওপরে বাঁধুন। ঢিলা করে বাঁধবেন না। স্টেথোস্কোপের ইয়ার পিস কানে লাগিয়ে ডায়াফ্রাম কনুইয়ের ভাঁজ থেকে একটু ওপরে স্থাপন করুন।

■ হাতের কবজির সামান্য ওপরে (সাধারণত যেখানে নাড়ির গতি পরীক্ষা করা হয়) ধমনির কম্পন আঙুলে অনুভব করে কাফটি পাম্প করতে হবে। মিটারের যে দাগে ধমনির কম্পন আর অনুভূত হবে না, সেখান থেকে আরও ৩০ মিলিমিটার ওপরের দাগ পর্যন্ত মিটারের কাঁটা তুলতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে এমনভাবে কাফের চাপ কমাতে হবে, যেন মিটারের কাঁটা প্রতি সেকেন্ডে ২ থেকে ৩ মিলিমিটারের বেশি না নামে।

■ স্টেথোস্কোপে মনোযোগ দিয়ে শব্দ শুনতে হবে। যে দাগে প্রথম শব্দ শোনা যাবে, সে দাগই হলো সিস্টোলিক রক্তচাপের মাত্রা। আর যেখানে শব্দ আর শোনা যাবে না, সেটি হলো ডায়াস্টলিক রক্তচাপের মাত্রা।

রক্তচাপ কি বাড়ে-কমে

দিনের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন কাজকর্ম, খাওয়া-ঘুম-বিশ্রাম বা পরিশ্রম-উত্তেজনার সঙ্গে রক্তচাপ পরিবর্তিত হতে পারে। দৈনন্দিন এই ওঠানামার পরিমাণ সিস্টোলিক ১০-১৫ মিলিমিটার এবং ডায়াস্টোলিক ৫-১০ মিলিমিটার পারদের বেশি হওয়ার কথা নয়।

কিছু পরামর্শ

রক্তচাপের মাত্রা কখনো একটু বেশি পেলে অস্থির বা উদ্বিগ্ন হবেন না। দুই মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার মেপে দেখুন। পরপর অন্তত দুই দিন মেপে উচ্চ রক্তচাপ পেলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। দুই মিনিটের ব্যবধানে সিস্টোলিক ১৮০ ও ডায়াস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার পারদের ওপর পেলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই নিজে নিজে রক্তচাপের ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা যাবে না।

প্রতিদিন বা বারবার রক্তচাপ মাপার দরকার নেই। তবে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, দম আটকে আসা ইত্যাদি সমস্যা হলে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

Pages: [1] 2 3 ... 24