Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - mustafiz

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 22
31
আপনার ডান চোখের পাতা লাফাচ্ছে! তাহলে আজ আর অফিসে যাবেন না। নির্ঘাত্‍ কোনও অঘটন ঘটবেই ঘটবে। আর যদি বাম চোখের পাতা লাফায়, তাহলে বিন্দাস বাইরে বেরোন। খোশমেজাজেই কাটবে সারাদিন।

অনেকেই এই প্রচলিত কুসংস্কারে বিশ্বাস করে থাকেন। কিন্তু কেন চোখের পাতা লাফাচ্ছে, সেই কারণটা একবারও ভাবেন না। প্রধাণত পেশীর সংকোচনের ফলেই চোখের পাতা লাফায়। ডাক্তারি ভাষায় এই রোগটির নাম Myokymia। দিনে দু-একবার হলে সেটি স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু সেটা যদি মাত্রারিক্ত হয় ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

চোখের পাতা যে কাঁপছে, তা হয়তো পাশের কোনও ব্যক্তি দেখে ফেলেছেন বলে অনেকের ভুল ধারণা থাকে। আদতে, চোখের পাতা এত দ্রুত কেঁপে ওঠে, তা আপনি ছাড়া দ্বিতীয় আর কেউ দেখতে বা বুঝতে পারেন না।

চোখের পাতা কাঁপা বা লাফানোর পিছনে ৭টি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ রয়েছে। তা হল,

১। মানসিক চাপ: কোনও কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে গেল শরীর বিভিন্ন উপায়ে তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। চোখের পাতা লাফানো মানসিক চাপের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

২। ক্লান্তি: পরিমিত ঘুমের অভাব বা অন্য কোনও কারণে ক্লান্তি থেকেও চোখের পাতা লাফানো শুরু হতে পারে। এর জন্য দরকার ঘুম। তাহলেই ঠিক সেরে যাবে।

৩। দৃষ্টি সমস্যা: দৃষ্টিগত কোনও সমস্যা থাকলে চোখের উপর চাপ পড়ে। অনেকক্ষণ ধরে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের দৃষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই সব সমস্যা থেকে চোখের পাতা লাফানো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৪। ক্যাফিন এবং এ্যালকোহল: অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ক্যাফিন এবং এ্যালকোহল অতিরিক্ত সেবনে চোখের পাতা লাফাতে পারে। তাই এইসব বর্জন করাই শ্রেয়।

৫। চোখের শুষ্কতা: কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, অতিরিক্ত এ্যালকোহলের প্রভাব, চোখে কন্ট্যাক্ট ল্যান্স ঠিকমতো না বসানো কিংবা বয়সজনিত কারণে চোখের মধ্যেকার নার্ভ দুর্বল হয়ে পড়ে। চোখের শুষ্কতার কারণে চোখের পাতা লাফায় বলে চক্ষু চিকিৎসকরা মনে করেন।

৬। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা: পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাকেও চোখের পাতা লাফানোর একটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়।।বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব জনিত কারণে এমনটি হতে পারে।

৭। এলার্জি: যাঁদের চোখে এলার্জি আছে, তাঁরা অনবরত চোখ চুলকান।ফলে চোখের জলের সঙ্গে হিস্টামিনও নির্গত হয়। এর কারণে চোখ কাঁপে বলে অনেকেই মনে করেন।
 

32
খাদ্যকে সুমিষ্ট করার জন্য মানব সভ্যতার গুহাযুগ থেকে শুরু করে মধুই ছিল প্রধান ও আদর্শ খাদ্য উপকরণ। এরপর মধুর জায়গাটি দখল করে নেয় চিনি। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবের কারণে খাদ্য হিসেবে চিনি গত ছয় দশক ধরে ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করে। এর বিপরীতে মধুকে চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবেই বিবেচনা করা হতে থাকে। কিন্তু এবার মধুও চিনির মতোই কুখ্যাতি অর্জন করতে যাচ্ছে!

সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে চিনির কুখ্যাতির কারণে সুপার মার্কেটগুলোতে মধু বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। কারণ সাধারণত মধুকে চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য মনে করা হয়। বাজার গবেষণা বিষয়ক কোম্পানি মিন্টেল হিসেবে কষে দেখেছে, গত বছর বিশ্ব বাজারে ১১২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের মধু বিক্রি হয়েছে।

অতিরিক্ত চিনিসমৃদ্ধ খাবারে শিশুদের দাঁত ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়, আমাদের কোমর স্থুল হয়ে ওঠে এবং চামড়ার স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি চিনি আমাদের মেজাজ-মর্জি এবং ঘুমের প্যাটার্নেও বিঘ্ন ঘটায়।

সাধারণত মনে করা হয় যে, চিনির চেয়ে মধুই মানব স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু আসলে তা কতটা সত্যি? এর উত্তরে বলা হয় যে, মধুর যে মিষ্টি উপাদান থাকে তার ৫৫ শতাংশই ফল-ফলাদি থেকে উৎপন্ন হয়। ফলে দানাদার চিনির চেয়ে মধু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা বেশি উপকারী। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে মধুও মানব স্বাস্থ্যের জন্য চিনির মতোই ক্ষতিকর হতে পারে। কারণগুলো হল-

চিনি ও মধুর মধ্যে উপাদানগত ও রাসায়নিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই দুটি খাদ্য গ্রহণের পর আমাদের শরীর একইরকম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মধুও পরিশোধিত দানাদার চিনির মতোই রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

চিনির মতো মধু খাওয়ার পর ও আমাদের অগ্নাশয় ইনসুলিন উৎপাদনে উৎসাহিত হয়। আর ইনসুলিন শরীরকে মেদবহুল করে তোলে এবং ওজন বাড়িয়ে দেয়। পরিশোধিত দানাদার চিনির মতো মধুও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে স্থুলতা, হৃদরোগ, লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মধুতে থাকা ফল-ফলাদি থেকে উৎপন্ন মিষ্টি উপাদান শরীর থেকে খনিজ পুষ্টি উপাদানগুলো বের করে দেয়।

আমাদের শরীর চিনির তুলনায় মধুকে হয়তো অনেক ধীর গতিতে শুষে নেয়। কিন্তু প্রতিক্রিয়া একই।

সত্য হল, মধুতে চিনির চেয়েও বেশি ক্যালোরি থাকে। যেখানে এক চা চামচ মধুতে ২২ ক্যালোরি থাকে সেখানে ১ চা চামচ চিনিতে আছে ১৬ ক্যালোরি। অথচ লোকে সাধারণত মনে করে মধুতে চর্বির পরিমাণ কম। এ কারণে তারা মধু খাওয়ার সময় পরিমাণে একটু বেশিই খায়। যা তাদের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে ওঠে।

মধুতে খনিজ পুষ্টি উপাদান কম থাকে। মধুতেও নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, থায়ামিন ও ভিটামিন বি-সিক্স এর মতো খনিজ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কিন্তু এসব উপাদান মধুর পুরো পুষ্টি উপাদানের মাত্র ২ শতাংশ গঠন করে।

অনেক বড় বড় কোম্পানিও মধু বাজারজাত করার আগে তা আগুনে তাপ দিয়ে ও ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধন করে। মূলত ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্যই এমনটা করা হয়। কিন্তু এভাবে প্রক্রিয়াজাত করার সময় মধুতে থাকা খনিজ পুষ্টি উপাদানগুলোও হারিয়ে যায়।

লন্ডন স্মাইল ক্লিনিকে কর্মরত ড. জো বানসাল বলেন, গত মাসে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে তিন বছর বয়সে প্রতি ৮ জন শিশুর ১ জনই দাঁতের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের পাশাপাশি মধুও দাঁতের ক্ষয়রোগে সমান ভুমিকা পালন করে।

লন্ডন ওয়াটার হাউজ ইয়াং ক্লিনিক এর চিকিৎসক ড. মিকা ইনজেল বলেন, মধুতে থাকে গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ এবং কার্বস। মধুর এই উপাদানগুলোও ঠিক চিনির মতোই কোলাজেন বা মানবদেহের চামড়ার নিচের কোষের প্রধান গাঠনিক প্রোটিন কাঠামোকে ধ্বংস করে। আর মধুতে থাকা কিছু অতিরিক্ত ভিটামিন উপাদানও তা পুনরায় মেরামত করতে সক্ষম নয়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো চিনি বা মধু এ দুটির কোনটিরই মানবদেহের জন্য অতিরিক্ত উপকারী কোনও পুষ্টিগুন নেই। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলেছে, একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন যতটুকু ক্যালোরি দরকার হয় তার মাত্র ১০ শতাংশ চিনি বা মধু জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা যেতে পারে। একজন নারীর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম বা সাড়ে ১২ চামচ আর একজন পুরুষের জন্য ৭০ গ্রাম বা সাড়ে ১৭ চামচ পরিমাণ চিনি বা মধু নিরাপদ।

তবে অ্যাকশন অন সুগার ক্যাম্পেইন এর সায়েন্স ডিরেক্টর কার্ডিওলোজিস্ট ড. অসীম মালহোত্রা জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিনকার খাবারের বাইরে চিনি বা মধু গ্রহণের পরিমান ৬ চা চামচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছেন।

অসীম মালহোত্রা আরও বলেন, প্রতিদিনকার স্বাভাবিক খাবার থেকে আমাদের শরীর যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করে সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের শরীরের এর চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটের কোনই প্রয়োজনীয়তা নেই।

Source: lastnewsbd.com

33
Food / ডার্ক চকলেটের উপকারিতা
« on: November 22, 2014, 03:15:32 PM »

মূল উপাদান হচ্ছে কোকো পাউডার, কোকো বাটার ও চিনি। আরও থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট’ বা জীবের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ।


ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়ার প্যাম আর.টাব (এমডি), দি ওহিও স্ট্যাট ইউনিভার্সিটির গ্যারি ওয়েঙ্ক (পিএইচডি), ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অফ নার্সিং রিসার্চ ম্যারি ইংলার (পিএইচডি)— এদের গবেষণার ফলাফল নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে ডার্ক চকোলেটের উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হয়।   

মস্তিষ্ক

কোকোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ পলিফেনলস নামে পরিচিত, যা রক্ত চলাচলের পরিমাণ বাড়িয়ে স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।

হৃদযন্ত্র

কোকোর তিতা স্বাদের অন্যতম কারণ হল এর এপিক্যাটেকিন যৌগ, যা রক্ত চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে দুই আউন্স ডার্ক চকোলেট খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কমে যায়।

কর্মশক্তি

এই এপিক্যাটেকিন কোষের মাইটোক্রন্ডিয়াল’ কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, আসল বিষয় হচ্ছে এটা এনার্জি বর্ধক। এতে আছে সামান্য পরিমাণ ক্যাফিইন। তাছাড়া চকলেটের রং যত গাঢ় হয় এতে উদ্দীপক রাসায়নিক পদার্থ থিওব্রোমিনের পরিমাণ ততই বেশি থাকে।

মানসিক অবস্থা

মন খারাপ হলেই চকলেট খান। কারণ এতে নেশার প্রাকৃতিক উপাদান এন্ডোরফিন্স ও সামান্য পরিমাণে অ্যানানডামাইড রয়েছে। তবে ঘাবড়াবেন না, এসব উপাদানে নেশা হবে না বরং মস্তিষ্কে সুখের অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করবে।

তীব্র ইচ্ছা

কখনও কি এমন হয়েছে, খুব চকলেট খেতে ইচ্ছা করছে? চকলেট খেলেই মস্তিষ্কের সামনের ‍উপরের দিক উত্তেজিত হয়। যা থেকে শরীরে সুখের অনুভূতি তৈরি হতে সাহায্য করে।

ওজন কমায়

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একেবারেই চকলেট খায় না তাদের থেকে নিত্য চকলেটখোররা হালকা-পাতলা হয়। এটা জেনে আবার হাত ভরে চকলেট খাওয়া শুরু করেন না। অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো না।

34
Life Style / লবণের বিশেষ ব্যবহার
« on: November 22, 2014, 02:02:09 PM »

খাবারের স্বাদ বাড়াতে আর রূপচর্চায় বহুদিন ধরেই লবণ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে আরও বেশ কিছু কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে স্বাদ-বর্ধক এই উপাদানটি। লবণের এমনই কিছু ব্যবহারের বিষয় উল্লেখ করা হলো এই প্রতিবেদনে।


- ত্বকে চুলকানী বা অন্য কোনো সমস্যায় হালকা গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। লবণ ত্বকের ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

- কাপড়ে কলমের কালি লেগে গেলে সেটা তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। এক্ষেত্রে কালির উপর খানিকটা লবণ ঘষে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে সাবান দিয়ে ধূয়ে ফেললেই দাগ চলে যাবে।

- অনেক সময় টিফিন নেওয়ার ব্যাগ বা সাধারণ ব্যাগের ভিতরে গন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাগের গন্ধ দূর করতে ব্যাগের সবকিছু বের করে লবণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর চেইন আটকে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালে ব্যাগ থেকে লবণ ঝেড়ে ফেলতে হবে। এতে ব্যাগের ভিতরের গন্ধ কমে আসবে।

- অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সঙ্গে যুক্ত ব্যাগ বা টিউবে ঘর পরিষ্কারের সময় আবর্জনার সঙ্গে পোকামাকড় বা মাছির ডিম জমা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যাগে খানিকটা লবণ ছরিয়ে রাখলে মাছির ডিম মরে যাবে।

35

বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে সাগরকন্যা খ্যাত অপরূপ এক জায়গা কুয়াকাটা। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালী ইউনিয়নে অবস্থিত এ জায়গায় আছে বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত।


একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার মতো জায়গা দ্বিতীয়টি আর এদেশে নেই। অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটায় আছে বেড়ানোর মতো আরও নানান আকর্ষণ।

সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত।

কুয়াকাটার সৈকত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। সৈকত লাগোয়া পুরো জায়গাতেই আছে দীর্ঘ নারিকেল গাছের সারি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এ বনেও। বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সুন্দর এই নারিকেল বাগান। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সারা বছরই দেখা মিলবে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।

শুঁটকি পল্লী

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে আছে জেলে পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে মূলত শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে।

গঙ্গামতির জঙ্গল

কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গামতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গামতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে আছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি।

ক্রাব আইল্যান্ড

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূবদিকে গঙ্গামতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেল আছে ক্রাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জনতা পেলে এ জায়গার সৈকত লাল করে বেড়ায় কাঁকড়ার দল। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাট সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে।

ফাতরার বন

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম পাশে নদী পার হলেই সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন। সুন্দরবনের সব বেশিষ্ট এ বনে থাকলেও নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। বন মোরগ, বানর আর নানান পাখি আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরের দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিন নৌকায়।

কুয়াকাটার কুয়া

কুয়াকাটা নামকরণের ইতিহাসের পেছনে যে কুয়া সেটি এখনও টিকে আছে। তবে কয়েক বছর আগে অদূরদর্শী ও কুরুচিকর সংস্কারের ফলে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরাণিপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন কুয়ার অবস্থান।

জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তার এখানে একটি কূপ খণন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি কুয়াকাটা নামে পরিচিতি পায়।

সীমা বৌদ্ধ মন্দির

কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়ার সামনেই সীমা বৌদ্ধ মন্দির। কাঠের তৈরি এই মন্দির কয়েক বছর আগে ভেঙে দালান তৈরি করা হয়েছে। তবে মন্দিরের মধ্যে এখনও আছে প্রায় ৩৭ মন ওজনের প্রাচীন অষ্টধাতুর তৈরি বুদ্ধ মূর্তি।

কেরানিপাড়া

সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী রাখানদের আবাসস্থল কেরানিপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুণন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়।

মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে আছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে এ মন্দিরের ভেতরে আছে উপমাহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে আছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নদী ও সড়ক পথে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। সবচেয়ে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা হল ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী, সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা।

ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী যায় এমভি পারাবত, এমভি সৈকত, এম ভি সুন্দরবন প্রভৃতি লঞ্চ। ভাড়া প্রথম শ্রেণীর একক কেবিন ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, দ্বৈত কেবিন ১ হাজার ৮শ’ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

কুয়াকাটা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে কুয়াকাটার বাস সার্ভিস আছে। এছাড়া ঢাকার গাবতলী বাস স্টেশন থেকে সাকুরা পরিবহন, দ্রুতি পরিবহন, সুরভী পরিবহনের বাস যায় কুয়াকাটা। ভাড়া সাড়ে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা।

এছাড়া কমলাপুর বিআরটিসি ডিপো থেকেও প্রতিদিন সকাল ও রাতে কুয়াকাটার বাস ছাড়ে।

36
সকালের ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে অথবা বিকেলের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ কফির তুলনাই হয় না। কিন্তু চট করে নিজেকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য কফির চাইতেও কার্যকরী একটি পানীয় আছে আপনার আমার হাতের কাছেই। জানতে চান সেটা কি?

কফি আমাদের ঘুম ঘুম ভাব কাটিয়ে দিতে পারে সত্যি। কিন্তু আমাদের মনোযোগ বাড়াতে আসলে তা তেমন কার্যকরী নয়। এর পাশাপাশি কফির খারাপ কিছু প্রতিক্রিয়াও আছে। অনেকে কফি পান করার পর অস্থির অনুভব করেন। কারও কারও আবার পেট ব্যাথা হতে দেখা যায়। এছাড়াও বিকেলের দিকে কফি পানের ফলে ঘুমের অনিয়ম হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর ঘুম না হলে বরং পরের দিন আপনার ক্লান্তি আরও বেশি হবে।

তাহলে ক্লান্তি কাটাতে কফির বদলে কোন পানীয় বেছে নেবেন? উত্তরটা হলো, পানি। একেবারেই সাধারণ, বিশুদ্ধ এক গ্লাস পানি। শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু একেবারেই সাধারণ এক গ্লাস পানি কফির প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিতে পারে। সারা দিনে শরীরে যে পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় তা মেটানোর প্রতি মনযোগী নই আমরা অনেকেই। এ কারণে শরীর পানিশূন্যতায় ভুগতে থাকে আর আমাদের মনোযোগ যায় নষ্ট হয়ে। এ কারণে সারা দিনই পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে দুপুরের খাবারের পর ক্লান্তিটুকু দূর করার জন্য শরীরের পানির অভাব দূর করাটা খুবই জরুরী। কেউ কেউ এই ক্লান্তি দূর করতে কফির সাহায্য নেন, কেউ ধূমপানের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু পানি পান করার দিকে কারও খেয়াল থাকে না।

হঠাৎ করেই নিয়মিত পানি পানে অভ্যস্ত হতে সময় লাগতে পারে কারও কারও। এ কারণে স্ন্যাক্স হিসেবে ফল ও সবজি খেলেও ক্লান্তি কাটিয়ে তোলা সম্ভব, কারণ এদের মাঝেও থাকে প্রচুর পরিমাণে পানি। গাজর, শশা, আপেল, এসবই স্ন্যাক্স হিসেবে ভালো। কিন্তু পানির চাইতে উপকারি আর কিছু হতে পারে না। তাই শরীরে পানির অভাব পূরণ করুণ, থাকুন ক্লান্তি থেকে দূরে।

37
পিঠের ব্যথায় ভুগছেন এমন রোগীর কথা আগের তুলনায় আজকাল অনেক বেশি শোনা যায়৷ চলুন জেনে নেয়া যাক এর মূল কারণ এবং কী ভাবে পিঠব্যথা এড়িয়ে চলা যায়৷

কারণ:
শতকরা ৮০ ভাগ রোগীর পিঠব্যথার কারণ পুরোপুরিভাবে জানা সম্ভব হয়না৷ তবে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ হলে যে পিঠব্যথা বাড়ে, সে কথাই বিশেষজ্ঞরা বলেন৷ তবে এই ব্যথা কারো হঠাৎ করে হয় আবার কারো বা নিয়মিত থাকে৷ সুখের কথা যে বেশিরভাগ পিঠব্যথারই কারণ তেমন গুরুতর নয়৷

সিরিয়াস কারণ
হাড়ের ব্যথা, অবশ অনুভূতি, নার্ভের কোনো ক্ষতি, পক্ষাঘাতের লক্ষণ, কোনো ধরনের ইনফেকশন, শিরদাঁড়া অথবা কোনো ধরনের টিউমার– এ সব কারণে পিঠব্যথা হয়ে থাকে৷ এ ধরনের ব্যথায় সরাসরি ডাক্তার অর্থোপেডিক্স-এর সাথে কথা বলা উচিত৷

মানসিক যন্ত্রণা থেকে পিঠব্যথা:
প্রফেসর উলরিশ টি এগলে বলেন, ‘মানসিক ক্লান্তি, কষ্ট, অবসাদ, যন্ত্রণা থেকে পিঠব্যথা হয়ে থাকে৷ পিঠব্যথা শুরু হয় মস্তিষ্ক থেকে এবং স্ট্রেসের কারণে ছড়িয়ে দেয় পিঠে’৷

সামাজিক কারণেও হতে পারে
পিঠব্যথাকে সামাজিক ব্যথাও বলা হয়ে থাকে৷ কারণ চাকরিস্থলে মবিং, পারিবারিক কলহ, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেও হয়৷ তাছাড়া ডাক্তার যদি কোনো রোগীর পিঠব্যথাকে তেমন গুরুত্ব না দেয়, তা থেকে পিঠব্যথা বেড়ে যেতে পারে বা নতুন করে ব্যথা শুরু হতে পারে৷

নিজে যা করা যেতে পারে
পিঠব্যথার জন্য সবচেয়ে জরুরি শারীরিকভাবে অ্যাকটিভ থাকা৷ হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, ব্যায়াম ইত্যাদি৷ তবে প্রতিদিন তা নিয়মিতভাবে করতে হবে৷ কিছুদিন করার পর যেটা ভালো লাগবে, সেটা বেছে নিয়ে নিয়মিত করলে ব্যথার সমস্যা কেটে যেতে পারে৷ বিশেষ করে যারা সারাদিন বসে থাকার কাজ করেন, তাদের অবশ্যই কোনো না কোনো ব্যায়াম করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য৷

মাসাজ
মাসাজ বা গরম তাপ পিঠব্যথায় বেশ উপকারে আসে৷ কারণ মাসাজ বা গরম তাপে শরীরের ভেতরে ভালোভাবে রক্ত চলাচল করে ফলে অনেক আরাম হয়৷ পিঠব্যথা যদি তিন মাসে ভালো না হয়, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷

ব্যায়াম
অর্থোপেডিক্স ডাক্তার মারকুস স্লিটেনভল্ফ বলেন, ‘পিঠব্যথায় যত কম সম্ভব ওষুধ সেবন করুন এবং সে তুলনায় শরীরটাকে বেশি করে সচল রাখুন’।

বিশেষ পোশাক
পিঠব্যাথা থেকে কিছুটা আরাম পাওয়া বা ভালোভাবে শরীরকে চালানোর জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের পোশাক৷

উদ্বেগহীন জীবনযাপন
বিশেষজ্ঞের মতে, উদ্বেগহীন জীবনযাপন করলে পিঠব্যথা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷ যোগব্যায়ামও মাঝে মাঝে বেশ সাহায্য করে পিঠব্যথার ক্ষেত্রে৷

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনো এর কোনো ইনজেকশন নেওয়া উচিত নয়৷

38
বাইরে খেতে গেলে মূল খাবার অর্ডার দেয়ার পরপরই আমরা যে জিনিসটি অর্ডার করি তা হলো কোমল পানীয়। ঝাঁঝালো, মিষ্টি এই পানীয়টি যেন আমাদের জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচন্ড গরমে কিংবা অকারণেই এই কোমল পানীয় পান করছেন সব বয়সের মানুষ। কোমল পানীয় ভালো নয়, সে কথা কমবেশি সপবাই জানেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, কোমল পানীয় কী ভীষণ ক্ষতিকর আপনার শরীরের জন্য? জেনে নিন কোমল পানীয়ের ব্যাপারে এমন কিছু সত্য, যেগুলো জানার পর এসব পানের ইচ্ছা আপনার একেবারে কমে যাবে।

দাঁত ধ্বংস করে দেয়
অস্ট্রেলিয়ার এডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় জানা যায়, কোমলপানীয়তে থাকে উচ্চমাত্রার এসিডিক উপাদান। এই উপাদানগুলো দাঁতের স্থায়ী করে দিতে পারে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই। দাঁতের এনামেল এর ক্ষতি এবং দাঁত ক্ষয়ের পাশাপাশি দাঁতে দাগও ফেলে দেয় কোমল পানীয়। বিশেষ করে শিশুদের দাঁতের জন্য কোমল পানীয় অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে মেদ জমা
নিয়মিত কোমল পানীয় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আপনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জমে যায় মেদ। কোমল পানীয়ে গ্রহণ করলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় লিভারের মেদ এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মেদ। ফলে নানান রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
ইউরোপ ও জাপানের দুটি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার ফলাফল ছিলো একই। আর তা ছিলো নিয়মিত কোমল পানীয় খাওয়ার অভ্যাসে পুরুষদের যৌন ক্ষমতা কমে যায়। কোমল পানীয়তে উপস্থিত BVO নামের একটি উপাদান পুরুষদের যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। যারা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলেন তাদের চাইতে নিয়মিত কোমল পানীয় পানকারীদের যৌন ক্ষমতা কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

আসক্তি
নিয়মিত কোমল পানীয় পান করতে করতে ধীরে ধীরে কোমল পানীয়ের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে যায়। তখন কোমল পানীয় না খেলে তৃষ্ণা মেটে না কিছুতেই। কোমল পানীয়ের এই আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই ছাড়া কঠিন।

বয়সের ছাপ ফেলে দ্রুত
নিয়মিত কোমল পানীয় খেলে চেহারায় দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে যায়। ত্বকে বলিরেখা, ত্বকের শুষ্কতা, চোখের নিচে ভাঁজ পড়া এবং আরো নানান রকমের সমস্যা হতে পারে। ফলে কম বয়সেই বুড়িয়ে যেতে হয়।

কিডনির ক্ষতি
যারা প্রতিনিয়ত কোমল পানীয় পান করেন তাদের কিডনির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নিয়মিত কোমল পানীয় পানে দ্রুত কিডনি নষ্ট হয়ে যায় এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

39
 অবসাদে ভোগেন না এমন লোক পৃথিবীতে মনে হয় নেই।কিংবা বিরক্তিকর মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন না- এরকম মানুষের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, ব্যস্ততম জীবনের নিত্যদিনের সঙ্গী এই দুই উপদ্রব। সমস্যা যেমন আছে, তেমনি তার সমাধানও রয়েছে।


আকুপ্রেসারের সাহায্যে অল্প সময়ে রেহাই পেতে পারেন আপনি। তবে কীভাবে? আপনার বাম হাতের বুড়ো আর তর্জনী, এই দুই আঙুলের মাঝখানে যে মাংসপেশী (চীনা চিকিৎসা শাস্ত্রে একে ‘হকু স্পট’ বলে) রয়েছে সেখানে ডান হাতের তর্জনী ও বুড়ো আঙুল দুটি দিয়ে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড চাপ দিন। ম্যাজিকের মতো অবসাদ ও মাথাব্যথা চলে যাবে।

40
Pharmacy / তেঁতুল (Tamarindus indica)
« on: November 20, 2014, 04:38:05 PM »
তেঁতুলের নাম শুনলেই জিবে জল আসে সবার৷ অনেকেরই ধারণা, তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়৷ অনেকের ধারণা, তেঁতুল বেশি খেলে ওজন কমে যাবে৷ আসলে তেঁতুল শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী৷ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ক্যালসিয়াম৷ এ ছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন খনিজ যেমন: পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম৷ তেঁতুল ত্বক, চুল, দাঁত ও হাড়কে করে মজবুত এবং রাতকানা, চোখ ওঠা, চোখের পাতায় সংক্রমণজনিত সমস্যাগুলোও দূর করে৷


তেঁতুলের ভেষজ ও পুষ্টিগুণ

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুরোধক গুণ আছে তেঁতুলের৷ তাই এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়৷

প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় কাটাছেঁড়া শুকাতে সাহায্য করে৷

রক্তের কোলেস্টেরল কমায়৷

শরীরের মেদ কমাতেও সাহায্য করে৷

খিদে ও রুচি বাড়ায়৷

গর্ভাবস্থায় বমিভাব দূর করে৷

মুখের লালা তৈরি হয়, ফলে মুখ দুর্গন্ধমুক্ত থাকে৷

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে৷

মুখে ঘা ও ত্বকের প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে৷

পাকা তেঁতুলে খনিজ পদার্থ অন্য যেকোনো ফলের চেয়ে অনেক বেশি৷

প্রতি ১০০ গ্রাম তেঁতুলে ২৪০ ক্যালরি শক্তি রয়েছে৷

41
নামটা শুনলেই মুখটা অনেকের ব্যাজার হয়ে যায়! বিশেষ করে বাচ্ছাদের। এটি শুধু সব্জি নয়, চিকিৎসকদের মতে, করলা হল একটি ঔষধি গাছ। প্রাচীনকাল থেকে করলার ব্যবহার হয়ে আসছে নানা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে। এছাড়া শরীরকে ফিট রাখতে ও সুস্থ রাখতে করলার নানান খাদ্যগুণ রয়েছে।


করলার গুণাবলী
১. ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস খেলে খুব উপকার মেলে। এছাড়া ম্যালেরিয়ার রোগীকে দিনে তিনটে করলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ একসঙ্গে থেঁতো করে নিয়ম করে ৭ দিন খেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
২. করলার পাতার রস খেলে জ্বর সেরে যায়। এছাড়া শিশুদের শরীর থেকে কৃমিও নাশ হয়ে যায়।
৩. করলার ফুল বা পাতা ঘিয়ে ভেজে বা কাঁচা নুন মিশিয়ে ৩-৪ দিন খেলে পিত্তের বিষ বমি বা মলের আকারে বেড়িয়ে যায়।
৪. এই পাতার রসে একটু হিং মিশিয়ে খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়ে যায়। কোনও কারনে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এটি ওষুধের মতো করে খাওয়া যেতে পারে।
৫. ডায়াবেটিস রোগীদের করলার রস খুব ভাল। কচি করলা টুকরো করে কেটে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে মিহি করে প্রথমে বেটে রাখুন। এরপর সকালে ও বিকেলে নিয়মিত দু-চামচ করে খেলে ডায়াবেটিস পুরোপুরি সেরে যাবে।
৬. করলার রস প্রতিদিন এক চামচ করে খেলে অর্শ সেরে যায়। উল্লেখ্য, করলার রসে চিনি দিতে পারেন।
৭. শিশুরা বারবার বমি করলে করলার রস ও অল্প গোলমরিচ গুঁড়ো একসঙ্গে জল দিয়ে মিশিয়ে ২-৩ দিন খাওয়ান। বাচ্ছাদের বমি করা বন্ধ হয়ে যাবে।
৮. করলার পাতার রস নাকি জোলাপের কাজ করে। এটি একটি প্রাচীন প্রথা।

42
গবেষণাগারে প্রথম ত্রিমাত্রিক কার্যকরী মানুষের 'খুদে পাকস্থলী' তৈরি করে করে ফেলল বিজ্ঞানীরা। প্লুরিপোটেন্ট দেহ কোষ থেকে মানুষের পাকস্থলীর কোষ তৈরি করে ফেললেন তাঁরা।


সিনসিনাটি শিশু হাসপাতাল ও মেডিক্যাল সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার জন্য মানুষের প্লুরিপোটেন্ট কোষ ব্যবহার করেছিলেন। ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থায় যে কোষগুলি বিভাজিত হয়ে দেহের যে কোনও ধরণের কোষে পরিণত হতে পারে সেই কোষগুলিকে প্লুরিপোটেন্ট কোষ বলা হয়।
 
সিনসিনাটির মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষকরা এই পরীক্ষাগারে খুদে পাকস্থলী তৈরি করেছেন। এই পাকস্থলী কোষগুলির মাধ্যমে পাকস্থলীর ক্যানসার ও পেপটিক আলসারের ক্ষেত্রে এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।
 
পরীক্ষাগারে মানুষের কোনও ত্রিমাত্রিক গ্যাসট্রিক অঙ্গের সৃষ্টি নতুন ওষুধ তৈরি, পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক দশা, ওবেসিটির ফলে সৃষ্টি হওয়া ডায়েবেটিসের রহস্য অনুসন্ধান করতে প্রভূত সাহায্য করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
 
এই গবেষণা এর পর পরীক্ষাগারেই প্লুরিপোটেন্ট দেহ কোষ থেকে ফুসফুস ও অগ্নাশয়ের মত অঙ্গ তৈরি করার পথ প্রসস্থ করবে বলেও অনুমান করছেন তাঁরা।


Source: http://www.rnews24.com/health/2014/10/30/30839#sthash.7Mhcuv2n.dpuf

43
ভেষজ হিসেবে উৎকৃষ্ট ওল। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ খাবার। এটি অর্শ্বরোগ সারায় বলে সংস্কৃত ভাষায় ওলকে অর্শ্বঘ্ন বলা হয়। এটি খিদে বাড়ায়, রুচিকারক, পিত্ত ও কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে ও রক্ত পরিষ্কারক। ওল কৃমি, পেটের পীড়া, পেটের বায়ু ও কফ নাশ করে, পিলের অসুখ ছাড়াও অনেক রোগের মহাষৌধ দিসেবে কাজ করে ওল।



ওলের কয়েকটি ভেষজ ব্যবহার নিচে দেয়া হলো:

বাতের ব্যথা:
ওল পুড়িয়ে থেঁতলে নিয়ে অল্প ঘি অথবা এরেনডার তেল মিশিয়ে সহ্যমতো গরম করে পোটলা বেঁধে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিলে যন্ত্রণাটা কমে যায়।

মুখের ক্ষত:
ওলকে কুচি কুচি করে কেটে শুকিয়ে নিয়ে মাটির কোনো পাত্রে মুখ বন্ধ করে লেপে সেটা শুকিয়ে নিয়ে পোড়াতে হবে। তারপর সে ওল-পোড়া ছাইকে একটুখানি ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে দাঁত মাজলে মুখের ও দাঁতের মাঢ়ির ক্ষত সেরে যাবে।

অর্শ্বজনিত কোষ্ঠকাঠিন্য:
এ ক্ষেত্রে ঝলসে পোড়ানো ওল ঘিয়ে মেখে খেতে হয়; এতে অল্প পরিমাণে লবণ দিতে হয় (না দিলে বেশি ভালো)। তাতে এ অসুবিধা চলে যাবে।

অর্শ্বের রক্তস্রাব:
এতে স্রাব হয় বটে, তবে কম হারে হলে এ ক্ষেত্রে টাটানি বেশি হয়, সেই সাথে যেন তলপেটে শূল ব্যথা, মনে হয় যেন আমাশয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও উপরি উল্লেখিতভাবে ঘি মেখে ওল খেতে হয়।

অর্শ্বজনিত অগ্নিমান্দ্য:
পেটে বাতাস থাকেই, এর ওপর হজমও হয় না, আবার দাস্তও পরিষ্কার নয়, তবে মলে কাঠিন্য থাকে না। এ ক্ষেত্রে খোলা দিয়ে ঝলসানো ওল ৫০ গ্রাম খেতে হয়, এতে দোষটা চলে যাবে; এতে লবণ খাওয়া চলে।

অর্শ্বে ওল এতই উপকারী যে, নিয়মিত ওলের ভর্তা, ডালনা এমনকি শুধু ওল সেদ্ধ খেলে এ রোগ অবশ্যই সারবে। এ ছাড়া অর্শ্বরোগের জন্য ওল-বটিকা তৈরি করে রাখা যায়।

বড়ি তৈরির নিয়ম হলো:
[ওল শুকিয়ে গুঁড়ো করে তাতে চিত্রকের (রাংচিতা) গুঁড়ো, গোল মরিচের গুঁড়ো ও গুড় মিশিয়ে গুলি (বড়ি) তৈরি করে খেলে সব রকমের অর্শ্ব সারে। এতে ওলের গুঁড়ো বেশি থাকবে, এর অর্ধেক পরিমাণে থাকবে রাংচিতার গুঁড়ো, সেই সাথে খুব অল্প পরিমাণে গোল মরিচের গুঁড়ো। গুলি পাকানোর জন্য এতে বেশি পরিমাণে গুড় মেশাতে হয়। এর পর টোপাকুলের সমান গুলি বানিয়ে কাচের বৈয়ামে ভরে রেখে খেতে হয়। তবে যাদের দাদ, কুষ্ঠ, রক্তপিত্ত আছে তাদের জন্য ওল নিষেধ]

শোথ:
এ রোগ সাধারণত প্রায় ক্ষেত্রে আমের দোষের জন্য হয়, তবে পায়ের দিকে এ শোথ দেখা যায়। এটা কিন্তু কিডনি বা হার্টের দোষে পায়ে যে শোথ হয় সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; এ ক্ষেত্রে ঝলসানো ওল ভালো কাজ দেয় (বুনো ওল বেশি উপকারী)।

গেঁটে বাত:
অনেক সময় এ রোগীর অর্শ্ব থাকে; কারো রক্ত পড়ে, কারো রক্ত পড়ে না। এ ক্ষেত্রে ঝলসানো ওল ঘি মেখে খেলে সেরে যাবে।

গ্রহণী রোগ:
এ রোগের প্রধান লক্ষণ হলো, দিনেই বার বার দাস্ত হয়। আর রাতে হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে ভাতের আমানির (পান্তা ভাতের পানি) সাথে ঝলসে পোড়া ওল খেতে হয়। এতে দোষটা চলে যায়; তবে পথ্য না মানলে রোগ সারে না।

দাদ: দাদের উপর ঘি মেখে পোড়া ওল ঘষলে ২-৩ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়।

ছুলি: এ রোগেও উপরের পন্থায় ব্যবস্থা নিলে ভালো ফল মিলে।

আঙ্গুল হাজা:
ওলের ডাঁটার রস আঙ্গুলের হাজায় লাগালে ২-৩ দিনেই আরাম হয়। তবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হয় না।

কফ প্রবণতা:
অনেক সময় সাবধানে থেকেও সর্দি-কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় না; এর হেতু আরো পরিষ্কার হয় যদি পিতা-মাতার কারো অর্শ্ব থাকে। এ ক্ষেত্রে একটু ওল পোড়া ঝলসানো, নারিকেল কোরা ও ৫-৭ ফোঁটা ঘি মিশিয়ে খেলে সর্দির দোষটা চলে যায়। ওল কফ দূর করে সত্যি, কিন্তু বেশি খেলে যে চুলকানি হওয়ার ভয় থাকে সে কথা মনে রাখতে হবে।

মদে (নেশায়) অরুচি আনা:
সকালে নেশা ছাড়ে ও বিকেলে ধরে রোজই ছাড়ে আর রোজই খায়; তবে ঝোঁক কাটানোর ইচ্ছা থাকলে তবে ঝলসানো ওলের রস মদে মিশিয়ে ২-৪ দিন খেলে আর খেতে ইচ্ছা হবে না। এটায় অসুবিধা হলে ঝলসানো ওলের চাট খেলেও চলে।

মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল ও বিছার কামড়:
কামড়ানোর সাথে সাথে ওলের ডাঁটার আঠা দংশিত স্থানে ঘষে দিলে ৫-৭ মিনিটের মাঝে যন্ত্রণা চলে যায়।

পেটের পীড়া: গলা চুলকায় না এমন ওল খেলে পেটের পুরনো পীড়া সেরে যায়।

আমাশয়: ওল শুকিয়ে গুঁড়ো করে ঘিয়ে ভেজে চিনি মিশিয়ে খেলে আমাশয় সারে।

মৃত বৎসার ক্ষেত্রে:
অনেক মায়ের ৩-৪ মাসে অথবা ৭-৮ মাসে সন্তান নষ্ট হয়ে যায়; আবার কারো কারো বেলায় জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কিছু দিনের মাঝে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে ৪০-৫০ গ্রাম ওলপোড়া, সিকি চা-চামচ চন্দন ঘষা মিশিয়ে খেতে হয়; এর সাথে একটু ছাগলের দুধ মিশিয়ে খেলে আরো ভালো হয়।

অথবা
১০/১২ গ্রাম শালপানি (Desmodium gangeticum) ৩/৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে আধা কাপ থাকতে নামিয়ে এর সাথে ঝলসানো ওল খেতে হয়। এ ছাড়া বেড়েলা (Sida cordifolia) এর ক্বাথ দিয়েও খাওয়া চলে।

44
সবাইকেই কোনো না কোনো সময় ওষুধ খেতে হয়৷ কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই ওষুধের অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে৷ এতে ভীত না হয়ে রোগীরা যেন সতর্ক হতে পারেন, সেরকম কিছু পরামর্শ:
 
আয়রন ট্যাবলেট যন্ত্রণাদায়ক
আয়রন ট্যাবলেট খালি পেটে খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়৷ কিন্তু এতে আবার পাকস্থলীতে সমস্যা দেখা দেয় বা পেটব্যথা হয় বা খারাপ লাগে অনেকেরই৷ তাই ‘‘খালি পেটে আয়রন ট্যাবলেট না খেয়ে সকালের নাস্তার সাথে সেবন করুন৷’এই পরামর্শ জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের কম্পাউন্ডার, মানে ফার্মেসি কর্মী৷
 
রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়
এমন অনেক নতুন রোগী আছেন, যাঁদের ‘ব্লাড সুগার’ বা ডায়াবেটিস কমানোর ওষুধ খাওয়ার পর রাতে ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হয়৷ আসলে অনেক ওষুধের মধ্যেই মূত্রবর্ধক প্রভাব থাকে৷ যাঁদের এ সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য পরামর্শ – রাতের ওষুধটি একটু আগেই খেয়ে নিন৷ তবে সব রোগী সমান নন৷ তাই রোগী আর অন্য আরো কোনো ওষুধ খান কিনা, সেটাও জানা দরকার৷
 
ট্যাবলেট সেবনের পর ডায়রিয়া
ওষুধ খাওয়ার পর ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হয় অনেকের৷ ওষুধের মধ্যএ থাকা ‘ল্যাকটোজ’-এর কারণেই সাধারণত এমনটা হয়৷ অর্থাৎ তাঁদের ল্যাকটোজের অ্যালার্জি রয়েছে৷ এক্ষেত্রে ডাক্তার বা ফার্মেসি কর্মীদের সাথে আলোচনা করে ট্যাবলেটের বদলে ক্যাপসুল বা তরল ওষুধ দেয়া যেতে পারে৷ অবশ্য অ্যান্টিবায়োটিক সেবনেও এরকম হতে পারে৷ এ অবস্থা তিন দিনের বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷
 
ওষুধ সেবনে চোখ জ্বালা
কিছু ওষুধ সেবনে চোখ জ্বালা করে, চোখটা শুকিয়ে যায় বা পানি গড়ায়৷ বিশেষ করে যাঁরা ‘কন্ট্যাক্ট লেন্স’ ব্যবহার করেন৷ যে কোনো ফার্মেসিই চোখের জন্য ড্রপ পাওয়া যায়, এক্ষেত্রে সেগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে৷
 
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভয় নেই
ওষুধ খাওয়ার ফলে যাঁদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, তাঁরা ভয় না পেয়ে বরং তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলুন৷ এছাড়া ফার্মেসি কর্মীদের সাথেও কথা বলতে পারেন৷ ডাক্তারের তুলনায় তাঁদের সময় কিছুটা বেশি থাকায় তাঁরা রোগীকে এ ব্যপারে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন৷ এর সঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস এবং জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করলেও অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হতে পারে৷
 
খোলাখুলি কথা বলুন
অনেকেই ওষুদের প্যাকেট থেকে ওষুধ সেবন বা ব্যবহারের নিয়মাবলীতে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পড়েই ভয়ে পেয়ে যান৷ তবে সবারই যে একই রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে, সেরকম কোনো কথা নেই৷ কারণ প্রতিটি মানুষই আলাদা! তাই ভয় না পেয়ে এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলুন৷ মনে রাখতে হবে সুস্থ হতেই মানুষ ওষুধ খায়, অসুখে আক্রান্ত হতে নয়৷
 
ওষুধ ককটেল
‘ওষুধ ককটেল’, অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ একসাথে খেলে এর প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে৷ তাই নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার আগে রোগীর ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন৷ শুধু তাই নয়, ডাক্তারকে এ কথাও জানানো জরুরি যে রোগী অন্য কোনো ওষুধ সেবন করেন কিনা৷

Source: http://www.rnews24.com/health/2014/09/29/28962#sthash.UPK08uql.dpuf

45
Health Tips / Hepatitis B,.....dangerous diseases
« on: November 20, 2014, 03:13:38 PM »
হেপাটাইটিস বি একটি যকৃতের ভাইরাস যা মানব দেহে ইনফেকশন করতে পারে। হেপাটাইটিস নিয়ে প্রায়শই টিভিতে অ্যাড দেয়া হয়। কিন্তু এটি কীভাবে রোগের সৃষ্টি করে, কতটা ক্ষতিকর, কীভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। শিশুদের মধ্যে এই রোগ আরও বেশি হতে দেখা যায়। খুবই জরুরী এই বিষয় নিয়ে জানার আগে একটা কথা বলে রাখি। তা হচ্ছে সি ভাইরাস বি ভাইরাস থেকেও বেশি বিপদজনক। বিপদজনক এই কারণে যে এর কোন ভ্যাক্সিন বের হয়নি ও এটি  বি এর তুলনায় বেশি chronic বা দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ করে। তাই প্রতিকারের উপায় গুলো প্রতিরোধ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দুটি ভাইরাসই একই উপায়ে সংক্রমিত হয়। তাই বি ভাইরাসের ব্যাপারে আলোচনার সময় কারণগুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন।



ক্যাটেগরিঃ
১। inactive carrier যাদের ভাইরাল ডি এন এ 2000 IU/ml এর কম বা নেগেটিভ
২। active carrier যাদের ভাইরাল ডি এন এ 2000 IU/ml এর বেশি।

 সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় তা হচ্ছে কীভাবে এই রোগ ছড়ায় ? আসুন জেনে নিই।

 ১। রক্ত ও শরীরের রসের মাধ্যমে। যেমন পুরুষের বীর্য ও নারীর যোনি নিঃসৃত রস।

 ২। জন্মকালীন সংক্রমণ ( মা হতে সন্তানে )

 তাই কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে জানা থাকতে হবে । যেমন-

 ১। ব্লাড ট্রানফিউশন বা সোজা বাংলায় একের শরীর থেকে অন্য শরীরে রক্ত সঞ্চালন ( আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে )

 ২। ডায়ালাইসিস , আকুপাংচার , ট্যাটু করা, সুঁই এর মাধ্যমে ড্রাগ নেয়া , রেজর বা টুথ ব্রাশ শেয়ার করা (সংক্রমিত ব্যাক্তির সাথে)

৩। এই রোগ বেশি হয় এমন শহর বা দেশে ভ্রমণ করা।

কিছু প্রচলিত ভুল ধারনা আছে । তাই জেনে নেয়া ভালো কী কী করলে এটি ছড়ায় না। হাত ধরা, একই গ্লাসে পানি খাওয়া, কাশি, জড়িয়ে ধরা, চুমু দেয়া, হাঁচি দেয়া, সন্তানকে দুধ খাওয়ালে।

হেপাটাইটিস বি এইডস থেকে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি সংক্রামক। তাই প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে ।

ভ্যাক্সিনঃ

৪টি টিকা আছে। প্রথম তিনটি এক মাস পর পর। শেষটি প্রথমটি নেয়ার এক বছর পরে নিতে হবে। নেয়ার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে আপনি ইতোমধ্যে পজিটিভ কিনা। মাত্র একশ টাকা দিয়ে আপনি এই পরীক্ষাটি করে নিতে পারেন। যদি পজিটিভ হন, তবে টিকা দিয়ে আপনার কোন লাভ নেই। আর যদি নেগেটিভ হন তাহলেই আপনি এটি নিতে পারবেন এবং আপনার শরীরে এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হবে । ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই এটি কার্যকরী এবং শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি। বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে, তৈরি প্রণালী ও খরচ সাপেক্ষে এক এক ভ্যাক্সিনের দাম এক এক রকম। এক এক ডোজে আনুমানিক ৫০০ / ৬০০ খরচ হতে পারে।

প্রতিরোধঃ

১। সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা

২। অন্যের ব্যবহারকৃত জিনিস ব্যবহার না করা ।

৩। ড্রাগ না নেয়া।

৪। ভ্যাক্সিন নেয়া ।

৫। দাঁতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা ।

৬। মা হতে সন্তানের সহজেই হতে পারে, তাই গর্ভকালীন চেক আপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মা এর ভ্যাক্সিন নেয়া থাকলে বা ইমিউন থাকলে বাবার থাকলেও সমস্যা নেই। মার যদি হেপাটাইটিস থাকে, তবে শিশু জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাক্সিন ও immunoglobulin দিতে হবে। মা যদি inactive carrier হয় তবে বাচ্চার হেপাটাইটিস হবার সম্ভাবনা কম।

৭। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে আনা সিরিঞ্জ, সুঁই এক জন ব্যক্তিকেই ব্যবহার করতে দেয়া। ব্যবহারের পর নষ্ট করে ফেলা।

৮। অবৈধ যৌন মিলন হতে বিরত থাকা।

৯। রক্ত নেয়া বা দেয়ার আগে পরীক্ষা করে নেয়া।

লক্ষণসমূহঃ

১। এক তৃতীয়াংশ মানুষের ইনফেকশন হওয়ার পরেও কোন লক্ষণ থাকে না ।

২। যাদের acute infection হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে acute viral hepatitis হয়ে থাকে। যার লক্ষণ হচ্ছে বমি, বমি বমি ভাব, জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্ষুধা  মন্দা, প্রস্রাব হলুদ হওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি। দেখা গিয়েছে শরীর চুলকানো সব হেপাটাইটিসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এক তৃতীয়াংশ মানুষের এই লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

৩। বাকি এক তৃতীয়াংশের ফ্লু ভাইরাসের মত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন – মাথা ব্যথা, গা শিরশির করা , জ্বর আসা । এই অবস্থা হওয়ার পর অধিকাংশ মানুষই ভালো হয়ে যায়। খুব কম ব্যক্তিরই লিভার অকেজো হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে , হেপাটাইটিস বি ভাইরাস রক্তে থাকলেই সবার ইনফেকশন হবে তা নয়। আবার ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ মানুষেই acute থেকেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ৫ বছরের নিচের শিশুদের প্রায় ৯০ ভাগেরই ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ইনফেকশন হয়ে থাকে। তাই শিশুদের জন্য হেপাটাইটিস বি ভাইরাস হুমকিস্বরূপ। পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে  chronic( দীর্ঘদিন ইনফেকশন থাকা ) অবস্থায় গড়ায় শুধু ১-৪ % জনের। বাকিদের হেপাটো সেলুলার কার্সিনোমা অথবা যকৃতের ক্যান্সার  এবং লিভার সিরোসিস বা যকৃতের কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

হেপাটাইটিস বি নির্ণয়ের উপায়ঃ

মানুষের রক্তে হেপাটাইটিস বি সার্ফেস এন্টিজেন, হেপাটাইটিস বি আই জি এম কোর এন্টিজেন, হেপাটাইটিস ই এন্টিজেন, পাশাপশি যকৃতের এনজাইমের আধিক্য থেকে বোঝা যায় একটি ব্যক্তি acute infection এ আক্রান্ত কি না ! আর chronic infection আছে নাকি জানতে হলে হেপাটাইটিস বি আই জি জি কোর এন্টিজেন, যকৃতের এনজাইম, সার্ফেস এন্টিজেন ও ই এন্টিজেন রক্তে আছে নাকি তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে ।

প্রতিকারঃ

এর আলাদা ভাবে কোন চিকিৎসা নেই । প্রতিরোধই প্রধান আর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা যেতে পারে।

প্রতি বছর হেপাটাইটিসের সংক্রমণে লাখ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। WHO এর একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট জনগণের প্রায় ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিসের বাহক এবং এই ৫ শতাংশ মানুষের ২০ শতাংশের যকৃতের ক্যান্সার ও যকৃত অকেজো হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি । তাই আজই ভ্যাক্সিন নিন। পরিবারের সবাইকে নিতে বলুন । সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে অনেক বড় বিপদ ঠেকানো সম্ভব । সচেতন হন , রোগ প্রতিরোধ করুন ।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 22