Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - abbas

Pages: [1] 2
1
বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প হয়। কোথাও তীব্রতা বেশি, কোথাও কম। ভূমিকম্প যেমনই হোক, এটা মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। মানুষ যেন তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে। নিজেদের আচার-আচরণ শুধরে নেয়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে। আল্লাহকে অনেক বেশি স্মরণ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

ভূমিকম্প হলে করণীয়:

প্রত্যেক মুসলমানের আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করা উচিত। আল্লাহ বলেন, وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُواْ وَاتَّقَواْ لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ وَلَـكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُواْ يَكْسِبُونَ

‘আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে।’ (সুরা আরাফ : ৯৬)

তাই যখন কোথাও ভূমিকম্প, সূর্যগ্রহণ, ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন সবার উচিত আল্লাহর কাছে অতি দ্রুত তাওবা করা। তার কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা। মহান আল্লাহকে বেশি পরিমাণে স্মরণ করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তির জন্য দরিদ্র ও মিসকিনদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা এবং তাদের দান করাও উচিত। রাসুল সা. বলেছেন, ‘দয়া প্রদর্শন করো, তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে। ’ (মুসনাদে আহমদ)

ভূমিকম্প হলে উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ. তার গভর্নরদের দান-সদকা করার প্রতি জোর দিয়ে চিঠি লিখতেন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা মানুষকে বিপর্যয় (আজাব) থেকে নিরাপদ রাখে। আর তা হলো, যথাসাধ্য সমাজে প্রচলিত জিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অবিচার রোধ করা। অন্য হাদিস শরিফে এসেছে, সমাজে ব্যভিচার বেড়ে গেলে ভূমিকম্প হয়।

সকল বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদের রক্ষা করুন। আল্লাহর কথা মতো চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

2
আমাদের দেশে পুরাতন ছেঁড়াফাটা টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে অন্যান্য পণ্যের ন্যায় কমবেশি করে মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রি করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কাগজের তৈরি নোটের ক্রয়-বিক্রয় বা’য়ুস সরফের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না? সেই হিসাবে উল্লিখিত লেনদেন জায়েজ হবে কিনা? নাজায়েজ হলে, ছেঁড়া-ফাটা টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা সংগ্রহে করণীয় কী?

জবাব: যেহেতু বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট দেশ প্রচলনে ছমন (পণ্যের বিনিময়) হিসেবে গণ্য হয়, তাই এ জাতীয় নোটের ক্রয়-বিক্রয় বাইয়ূস সরফের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর বাইয়ূস সরফের মধ্যে যেহেতু কমবেশি লেনদেন সুদের অন্তর্ভুক্ত, তাই আমাদের দেশে প্রচলিত পুরাতন ছেঁড়াফাটা টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে অন্যান্য পণ্যের ন্যায় কমবেশি করে মূল্য নির্ধারণপূর্বক বিক্রি করা সুদী লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটি নাজায়েজ ও হারাম।

এক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত সেবাটি প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতো বিনামূল্যেই উক্ত সেবাটি প্রদান করে। তাই এক্ষেত্রে সুদী লেনদেন করার কোন যৌক্তিকতা নেই। এরপরও একদম অপারগতার ক্ষেত্রে বদল কারীর পরিশ্রম ও ডাক খরচ বাবদ কিছু টাকা বেশি নেওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে স্পষ্টভাবে বাবত উল্লেখ করে দিতে হবে।

তথ্যসূত্র: বুখারী শরীফ: ২/৭৫০, মুসলিম শরীফ: ৫/৪২, হিদায়া: ৩/১০৪ ও ৬১৮, আহসানুল ফাতাওয়া: ৭/২২, ২৩ ও ৫৪

ফতোয়া প্রদানে – ইফতা বিভাগ-আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।

3
প্রশ্ন: কবরে তিনটি প্রশ্ন মূলত কারা দিতে পারবে? শুধু ঈমানের সাথে সম্পর্ক? কারণ, হয়তো আমাদের ঈমান আছে কিন্তু আমরা ইচ্ছা অনিচ্ছায় অনেক কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকি, তারা উত্তর দিতে পারবে নাকি না?

উত্তর: শুধুমাত্র কাফেররা কবরের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। মুসলমানরা দিতে পারবে। যদিও সে ফাসিক হয় না কেন। ফাসিক মুসিলম উত্তর দিতে পারলেও কৃত গোনাহের কারণে কবরে শাস্তি হতে পারে।

قال ابن حجر الهيتمي – رحمه الله ومقتضى أحاديث سؤال الملكين : أن المؤمن ولو فاسقاً يجيبهما ، كالعدل ، ولكن بشارته تحتمل أن تكون بحسب حاله ” الفتاوى الحديثية 7

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” إِنَّ العَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ، وَإِنَّهُ [ص:99] لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُولاَنِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَّا المُؤْمِنُ، فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الجَنَّةِ، فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا – قَالَ قَتَادَةُ: وَذُكِرَ لَنَا: أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ – قَالَ: وَأَمَّا المُنَافِقُ وَالكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: لاَ أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ، وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ “

আনাস ইবনু মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মৃত) বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথী এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে সে (মৃত ব্যাক্তি) তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু’জন ফিরিশতা তার কাছে এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যাক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন মু’মিন ব্যাক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলটির দিকে নজর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থানস্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে ফেলবে।

কাতাদা রহ. বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যাক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি (কাতাদ) পুনরায় আনাস (রাঃ) এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি আনাস রা. বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যাক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যাক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কি বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানিনা। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’জাতি (মানব ও জ্বীন) ব্যতিত তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৩৭৪, ইফাবা-১২৯১)

উত্তর লিখনে- লুৎফুর রহমান ফরায়েজী সূত্র: আহলে হক মিডিয়া

4
 আজকাল সমাজে নানান ধরণের ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে। আমাদের সমাজে একথা প্রসিদ্ধ- ইবলিস ‘মুআল্লিমুল মালাইকাহ’ তথা ফিরিশতাদের শিক্ষক ছিল। অর্থাৎ সে আল্লাহর ইবাদত করতে করতে এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে, আল্লাহ তাকে ফিরিশতাদের শিক্ষক বানিয়ে দিয়েছিলেন। এটি একটি ভিত্তিহীন কথা।

কুরআন-হাদীসে এমন কোনো কথা খুঁঁজে পাওয়া যায় না। বরং ইবলিস সম্বন্ধে এটি এমন একটি অমূলক কথা যে, ইসরাঈলী রেওয়ায়েতেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না। ইবলিস সম্বন্ধে সমাজে অনেক কথা প্রচলিত আছে, যার অধিকাংশই ইসরাঈলী বর্ণনা নির্ভর।

ইবনে কাসীর রাহ. নিজ তাফসীরগ্রন্থে সূরা কাহফের ৫০ নং আয়াতের তাফসীরে ইবলিস-শয়তান বিষয়ে ইসরাঈলী বর্ণনা-নির্ভর বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন-

وَقَدْ رُوِيَ فِي هَذَا آثَارٌ كَثِيرَةٌ عَنِ السّلَفِ، وَغَالِبُهَا مِنَ الْإِسْرَائِيلِيّاتِ الّتِي تُنْقَلُ لِيُنْظَرَ فِيهَا، وَاللهُ أَعْلَمُ بِحَالِ كَثِيرٍ مِنْهَا، وَمِنْهَا مَا قَدْ يُقْطَعُ بِكَذِبِهِ لِمُخَالَفَتِهِ لِلْحَقِّ الّذِي بِأَيْدِينَا، وَفِي الْقُرْآنِ غُنْيَةٌ عَنْ كُلِّ مَا عَدَاهُ مِنَ الْأَخْبَارِ الْمُتَقَدِّمَةِ لِأَنّهَا لَا تَكَادُ تَخْلُو مِنْ تَبْدِيلٍ وَزِيَادَةٍ وَنُقْصَانٍ، وَقَدْ وُضِعَ فِيهَا أَشْيَاءٌ كَثِيرَةٌ…

অর্থাৎ, ইবলিস বিষয়ে বেশ কিছু বক্তব্য উল্লেখিত হয়েছে। এর অধিকাংশই ইসরাঈলী বর্ণনা। এগুলোর সত্যাসত্য বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন। এগুলোর মধ্যে কিছু তো এমন রয়েছে, যেগুলো মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়; কারণ তা প্রমাণিত বিষয়ের বিপরীত। এসকল বিষয়ে কুরআনের বর্ণনা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

এসব ইসরাঈলী বর্ণনার দিকে যাওয়ার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এগুলোর কোনোটা বিকৃত, কোনোটাতে বাড়ানো-কমানো হয়েছে। আবার তাতে অনেক বানোয়াট কথাও রয়েছে…। (দ্র. তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা কাহফের ৫০ নং আয়াতের তাফসীর; আলামুল জিন্নি ওয়াশ শায়াতীন, ড. উমার সুলাইমান আলআশকার, পৃ. ১৭-১৮)

আমাদের আলোচ্য কথাটিও ইবলিস সম্বন্ধে অমূলক একটি কথা, যা ইসরাঈলী বর্ণনার ভা-ারেও পাওয়া যায় না। কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসে ইবলিস সম্বন্ধে যা পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিম্নরূপ-

সে আগুনের তৈরি। কুরআনে তাকে ইবলিস বা শয়তান নামে উল্লেখ করা হয়েছে (তবে শয়তান শব্দটি ব্যাপকার্থে)। আদম আ.-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে। আল্লাহ তাকে বিতাড়িত করেছেন এবং পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সে বনী আদমকে বিপথগামী করার প্রতিজ্ঞা করেছে এবং আল্লাহর কাছে সময় চেয়েছে, তাকে সময় দেওয়া হয়েছে। [সূরা আরাফ (৭) : ১১-১৫; সূরা ছদ (৩৮) : ৭২-৮১; সূরা বাকারা (২) ৩৬] সে আদম-হাওয়া আ.-কে ধোঁকা দেয়। (সূরা আরাফ (৭) : ২০-২২)

বনী আদমকে সে ওয়াসওয়াসা দেয়, এমনকি মানব-শয়তানদের বিভিন্ন নির্দেশনাও দেয়। যেমন, ওহুদ যুদ্ধের দিন সে চিৎকার করে নির্দেশনা দেয়। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৮২৪) মানুষের বেশে মানব শয়তান-বাহিনীকে সঙ্গও দেয়। যেমন, বদরের দিন। [তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আনফাল (৮), আয়াত : ৪৮] বনী আদমের শিরা-উপশিরায় চলার ক্ষমতা রয়েছে তার। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৩৮) সমুদ্রে সে তার সিংহাসন স্থাপন করে এবং তার বাহিনীকে প্রেরণ করে।

বনী আদমকে যে যত বড় ফেতনায় লিপ্ত করতে পারে ইবলিসের কাছে সে তত প্রিয় ও কাছের গণ্য হয়। এক শয়তান এসে বলে, আমি অমুক অমুক কাজ করে এসেছি; সে বলে, তুমি কিছুই করতে পার নাই। আরেকজন এসে বলে, আমি এক ব্যক্তির পিছে লেগেছি; অবশেষে তার মাঝে ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি।

একথা শুনে শয়তান তাকে কাছে ডেকে নেয় এবং বলে, তুমিই সেরা; তুমিই কাজের কাজ করেছ। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮১৩) তেমনি প্রতিদিন সকালে তার বাহিনী প্রেরণ করে এবং বনী আদমকে যে যত বড় ফিতনায় লিপ্ত করতে পারে তাকে তত বাহবা দেয় এবং মুকুট পরিয়ে দেয় (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬১৬৮) ইত্যাদি। সূত্র: আল কাউসার

5
শিশু সন্তানের পরিচর্যা ও প্রতিপালন, তাদের সঠিক তালীম-তরবিয়ত করা পিতামাতার দায়িত্ব। বিশেষত আয়-উপার্জন এবং সাংসারিক তাকিদে পিতার অধিকাংশ সময় বাহিরে অবস্থানের কারণে মায়ের ভূমিকা এক্ষেত্রে বেশি। এ দায়িত্ব শরীয়ত কর্তৃক তার প্রতি অর্পিত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

كُلّكُمْ رَاعٍ وَكُلّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ، وَالأَمِيرُ رَاعٍ، وَالرّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ.

তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল। প্রত্যেকে নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের উপর দায়িত্বশীল। স্ত্রী স্বামীর ঘর ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। তোমরা সকলে দায়িত্বশীল। সকলে নিজ অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২০০)

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন-

ورعاية الرجل أهله سياسته لأمرهم وإيصالهم حقوقهم ورعاية المرأة تدبير أمر البيت والأولاد والخدم والنصيحة للزوج في كل ذلك.

পুরুষের দায়িত্ব হল পরিবারকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা এবং তাদের হক আদায় করা। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল, ঘরের কাজকর্ম আঞ্জাম দেয়া, সন্তান পরিচর্যা করা, সেবক-সেবিকাদের পরিচালনা করা এবং সকল বিষয়ে স্বামীর মঙ্গল কামনা করা। (ফাতহুল বারী ১৩/১১৩)

শরীয়ত কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের দ্বারা সন্তানের মা অবশ্যই বড় সওয়াবের অধিকারী হবেন। এসব কাজে মা যতক্ষণ ব্যস্ত থাকেন পুরো সময়ই নেকী ও সওয়াবের মধ্যে কাটে। হাদীস শরীফে উত্তম নারীর বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُرَيْشٍ، أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ، وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ.

আরবের নারীদের মধ্যে উত্তম নারী হল কুরাইশের নারী। তারা সন্তানের প্রতি অধিক ¯েœহপরায়ণ এবং স্বামীর সম্পদ হেফাযতের প্রতি অধিক যতœশীল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৮২)

সহীহ মুসলিমে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন-

جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا، فَأَطْعَمْتُهَا ثَلَاثَ تَمَرَاتٍ، فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً، وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا، فَاسْتَطْعَمَتْهَا ابْنَتَاهَا، فَشَقّتِ التّمْرَةَ، الّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا، فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا، فَذَكَرْتُ الّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَقَالَ: إِنّ اللهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنّةَ، أَوْ أَعْتَقَهَا بِهَا مِنَ النّارِ.

এক দরিদ্র মহিলা তার দুটি সন্তান নিয়ে আমার নিকট আসল। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম সে তাদের দুজনের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিল আর একটি খেজুর সে নিজে খাওয়ার জন্য মুখের কাছে নিল তখন তার দুই মেয়ে তার কাছে আরো চাইল। সে তার খেজুরটি দুইজনের মাঝে ভাগ করে দিল। তার এ বিষয়টি আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ঘটনাটি বললে তিনি বললেন আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অথবা তিনি বলেছেন এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৩০)

আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা তার দুটি সন্তানসহ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসে। সে একটি সন্তানকে কোলে এবং অপরটিকে হাতে ধরে নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

حَامِلَاتٌ، وَالِدَاتٌ، رَحِيمَاتٌ، لَوْلَا مَا يَأْتِينَ إِلَى أَزْوَاجِهِنّ، دَخَلَ مُصَلِّيَاتُهُنّ الْجَنّةَ.

গর্ভধারিনী, সন্তান জন্মদানকারিণী এবং সন্তানের প্রতি মমতাময়ী তারা যদি স্বামীদের কষ্ট না দেয় তবে তাদের মধ্যে যারা নামাযী তারা জান্নাতে যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২০১৩)

অনুরূপ বর্ণনা জামে মা‘মার ইবনে রাশিদে নির্ভরযোগ্য মুরসালসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীস নং ২০৬০২

সুতরাং আপনার স্ত্রীর সন্তান পরিচর্যা ও প্রতিপালন এবং তাদের সেবা করার গুণটি উত্তম গুণ। এর পেছনে তিনি যে সময় ও শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এতে তিনি বড় সওয়াবের অধিকারী হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামায, যিকর-আযকারের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং তা না করতে পারার আক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয়।

এক্ষেত্রে তার করণীয় হবে, দৈনন্দিনের ফরয ওয়াজিব এবং সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাযসমুহ আদায় এবং সাংসারিক ব্যস্ততা থেকে ফারেগ হয়ে যদি উক্ত নফল ইবাদত-বন্দেগী কিছু করা সম্ভব হয় তাহলে করবে আর সময় সুযোগ না থাকলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বরং সন্তান লালন পালনের জন্য তিনি সওয়াব পেতে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রকাশ থাকে যে, সন্তানের পরিচর্যা প্রতিপালন এবং ঘর সংসারের কাজ সাধারণত মহিলাদের কাজ হলেও পুরুষ যখন ঘরে অবস্থান করবে সময় সুযোগমত তাদের কাজে সহযোগিতা করা উচিত। বিশেষত নিজের ব্যক্তিগত কাজ তো নিজেরই করা উচিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে অবস্থানকালে গৃহস্থালীর বিভিন্ন কাজকর্ম নিজে করতেন। যেমন একটি হাদীসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বললেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ.

তিনি নিজ কাপড় সেলাই করতেন, জুতা সেলাই করতেন, ঘরের কাজকর্ম করতেন যেমন তোমরা ঘরের কাজকর্ম করে থাক। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৫৩৪১) সূত্র: আল কাউসার

6
বলিগের একজন সাথী আমাকে বলেছেন যে, একদিন গাশতে তিনি এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ভাই কালেমা পড়তে জানেন? লোকটি অবাক করে দিয়ে অত্যন্ত আশ্চর্য স্বরে বলল, নাহ! আমি তো এখনও বিয়ে করিনি!!

বিয়ের আক্বদ পড়ানোকে অনেকে ‘কালেমা’ পড়ানো বলে। কিন্তু এই তাবলিগী সাথীর ঘটনা শুনে বুঝলাম, ‘কালেমা পড়ানোর আরো অর্থ আছে।

সাধারণত কালেমা বলতে ‘কালেমা তাইয়েবা’ অর্থাৎ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বা ইসলামের বুনিয়াদী আক্বীদা সম্বলিত কয়েকটি কালেমাকেই বুঝায়।

বিয়ের আক্বদের সময় এই ধরনের কোনো কালেমা পড়া বা পড়ানোর নিয়ম নেই। মাসনুন খুতবার পর স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে মেয়ে পক্ষের সম্মতিক্রমে খতিব ঈজাব বা প্রস্তাব দেন। ছেলে ‘কাবিলতু’ কিংবা কবুল করলাম শব্দ বলার সাথে আক্বদ পূর্ণ হয়ে ছেলেমেয়ে উভয়ে স্বামী-স্ত্রীতে পরিণত হয়ে যায়।

এখানে কালেমা পড়ানোর কোনো বিষয় নেই। তবে কাবিলতু বা কবুল করলাম শব্দটিকে যদি আরবী আভিধানিক অর্থে কালিমা বলা হয় তবুও তো এখানে পড়ানোর কিছু নেই। যেহেতু বিভ্রান্তির অবকাশ থাকে তাই বিয়ের আক্বদকে কালেমা পড়ানো না বলাই ভালো।

সবচেয়ে বড় কথা হল, দীন সম্পর্কে কী পরিমাণ অজ্ঞতা ও উদাসীনতা থাকলে একজন মুসলমান কালেমা পড়াকে বিয়ের সময়ের বিষয় বলে মনে করতে পারে তা ভেবে দেখা উচিত এবং এ বিষয়ে আমাদের কোনো করণীয় আছে কি না তাও ভেবে দেখা কর্তব্য।

7
কয়েক ধরণের নাম রয়েছে যেগুলো দ্বারা কারো নাম রাখা হারাম। যেমন, আল্লাহ তায়ালার জাতি নাম ‘আল্লাহ’ ও গুনবাচক নাম ‘আর রহমান’ দিয়ে নাাম রাখা হারাম নাম সমূহের মধ্যে নিকৃষ্টতম।

আল্লাহ তায়ালার বিশেষ গুনবাচক নাম সমূহ যেমন, খালেক, কুদ্দুস, আল আহাদ, আস সামাদ, আল খালেক, আর রায়েক, আল জাব্বার, আল মুতাকাব্বির, আল আওয়াল, আল আখের, আল বাতেন, আল্লামুল গুয়ুব ইত্যাদি নাম রাখা হারাম।

এমন নাম রাখা যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সাথেই প্রযোজ্য যেমন, মালিকুল মুলক, মুলতানুল সালাতিন, হাকিমুল হুক্কাম ইত্যাদি দ্বারা নাম রাখাও হারাম।

আল্লাহ তায়ালার নাম ছাড়া অন্য কারো নামের সাথে ‘আব্দ’ শব্দ যুক্ত করে নাম রাখা। যেমন, আব্দুল উজ্জা, আব্দুল কা’বা, আব্দুন নবী, ইত্যাদি নাাম রাখাও হারাম।

সূত্র: ফাতহুল বারী-১০/৫৮৮, ফাতাওযা শামী, ৫/ ২৬৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬২

8
দাবা খেলা কী নাজায়েজ ?

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: দাবা একটি জনপ্রিয় খেলা যা বোর্ডের উপর খেলা হয়। দাবা খেলার সর্বপ্রথম সূচনা হয় ভারতবর্ষে। যিনি দাবা খেলেন তিনি দাবাড়ু হিসেবে আখ্যায়িত।

দাবায় দু’জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। দাবা খেলায় জিততে হলে বোর্ডের ওপর ঘুঁটি সরিয়ে বা চাল দিয়ে বিপক্ষের রাজাকে ফাঁদে ফেলে “খেতে” বা নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়, দাবার পরিভাষায় একে বলে “কিস্তিমাত”।

যুদ্ধংদেহী বোর্ড ক্রীড়া হিসেবে দাবা খেলার সুনাম রয়েছে। খেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে – প্রতিপক্ষের ঘুঁটি আয়ত্তে আনার মাধ্যমে নতস্বীকারে বাধ্য করা। বোর্ডজাতীয় ক্রীড়ার মধ্যে এ খেলার বিশ্বব্যাপী অসম্ভব জনপ্রিয়তা রয়েছে।

পরিকল্পনামাফিক অগ্রসরতা ও আক্রমণ চিহ্নিত করার দক্ষতার মাধ্যমে দাবাড়ুর শক্তিমত্তা যাঁচাই করা সম্ভবপর। প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই রাজা, মন্ত্রী, হাতি, ঘোড়া, নৌকা ও বোড়ের সমন্বয়ে গঠিত ১৬ ঘুঁটির সৈনিকদল একে-অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। প্রত্যেক ঘুঁটিরই বোর্ডের স্থানান্তরের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

কোন কারণে ঘুঁটির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ঘুঁটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে তা দখলের পর্যায়ে পৌঁছে ও বোর্ড থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়।

এক বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ مَرَّ عَلَى قَوْمٍ يَلْعَبُونَ الشِّطْرَنْجَ فَقَالَ: مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ؟ لَأَنْ يَمَسَّ جَمْرًا حَتَّى يُطْفَأَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمَسَّهَا.

হযরত আলী রা. একবার দাবা খেলায় রত কিছু মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের কে বললেন, এ মুর্তিগুলো কী, যাদের সামনে তোমরা বসে আছো? এগুলো স্পর্শ করার চেয়ে জলন্ত অঙ্গার নির্বাপিত হওয়া পর্যন্ত তাতে হাতে রেখে দেওয়া ভাল। -সুনানে কুবরা, বাইহাকী ১০/২১২

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে দাবা খেলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, هُوَ شَرٌّ مِنَ النَّرْدِ
সেটা ‘নারদ’ (নামক খেলা) থেকে নিকৃষ্ট।

আর নারদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
যে নারদ দ্বারা খেলল সে আল্লাহ ও তার রাসূলের নাফরমানি করল। -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৩৮

মুসলমানদের জন্য এ ধরনের খেলা থেকে বিরত থাকা উচিত । (-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৮/৫৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৯৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৯৪)

9
মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান
আমীর, মজলিসে দাওয়াতুল হক
মুহতামিম, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী ঢাকা

রোজার ফজিলত হাসিল করার জন্য যেমন অনেক কিছু আমল করতে হয়, তেমনি অনেক কুঅভ্যাস পরিত্যাগ করতে হয়, নচেৎ ওই রোজার কোনো মূল্য থাকে না।

একটি হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অনেক রোজাদার এমনও আছে, যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতীত অন্য কোনো ফল লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন আছে, যাদের শুধু জাগরণ ব্যতীত আর কোনো ফল লাভ হয় না।’

এ জন্য এ ব্যাপারে অতি সতর্ক থাকা উচিত। রোজা অবস্থায় কী কী বিষয় বর্জনীয়, এ সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নিচে উদ্ধৃত করা হলো :

১. ‘রোজা’ রোজাদারের জন্য ঢাল এবং সুদৃঢ়ভাবে প্রস্তুত প্রাচীরস্বরূপ, যতক্ষণ পর্যন্ত একে মিথ্যা ও গীবতের দ্বারা নষ্ট না করবে। অতএব, রোজা অবস্থায় মিথ্যা, গীবত-কটুবাক্য, ঝগড়া, কলহ গালাগালি ও অন্যান্য পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা চাই।

২. ‘রোজা’ রোজাদারের জন্য ঢালস্বরূপ। অতএব যে রোজা রাখবে, জাহেলদের মতো অশ্লীল কোনো কাজ করা বা কথা বলা তার জন্য উচিত নয়। যদি কেউ তার সঙ্গে জাহেলদের ন্যায় অসভ্য ব্যবহার করে, তবে প্রতিউত্তরে তার অনুরূপ ব্যবহার করা সমীচীন নয়। বরং বলা উচিত- আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখছি। (নাসায়ী)

৩. দৃষ্টি সংযত করা উচিত, যাতে অবৈধ স্থানে দৃষ্টি না পড়ে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, দৃষ্টিশক্তি শয়তানের তীরসমূহ থেকে একটি তীর বিশেষ। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এই তীরে বিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পেতে প্রচেষ্টা চালায়, আল্লাহ পাক তার হৃদয়ে এমন ইমানের দীপ্তি ভরে দেন যে, সেই ব্যক্তি তার মজা ও আস্বাদ অন্তরে অনুভব করতে পারে।

৪. গীবত বা কুৎসা থেকে বিরত থাকা চাই। কুরআনে কারিমে গীবতকে মৃত মানুষের পচা-দুর্গন্ধযুক্ত গোশতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারও গীবত করল, সে যেন উক্ত পচা-দুর্গন্ধযুক্ত মৃত মানুষের গোশত ভক্ষণ করল।

সাহাবাকেরাম রা. একবার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গীবতের মর্মার্থ জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর করলেন, কোনো ব্যক্তির পশ্চাতে এমন কোনো কথা বলা, যাতে সেই ব্যক্তি নারাজ হয়।

সাহাবিরা আরজ করলেন যে, নিন্দিত ব্যক্তি যদি সেই দোষে প্রকৃত দোষী হয়ে থাকে? রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেন, তবেই তো গীবত বা কুৎসা রটনা করা হলো। আর যদি ঘটনা সত্য না হয়, তাহলে তা মিথ্যা অপবাদ হবে, যার অপরাধ হিসেবে আরও বেশি গুরুতর।

এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা রয়েছে : দুজন স্ত্রীলোক রোজা রেখে বড় অবসন্ন ও কাতর হয়ে পড়ল। তাদের এ অবস্থা দেখে সাহাবায়ে কেরাম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সুপারিশ করলে তিনি তাদের কাছে একটি পেয়ালা দিয়ে এরশাদ করলেন, স্ত্রীলোক দু’জন যেন এতে বমি করে। উভয় স্ত্রীলোক বমি করল। দেখা গেল তাতে কয়েক টুকরো গোশ্ত এবং কিছু তাজা রক্ত বের হয়েছে।

সাহাবায়ে কেরাম রা. এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, এরা দুজনই হালাল খাদ্য খেয়ে রোজা রাখছিল। কিন্তু রোজা অবস্থায় গীবত করে মরা গোশ্ত হারাম বস্তু ভক্ষণ করেছে।

৫. অশ্লীল কথাবার্তা, গানবাদ্য ইত্যাদি থেকে কানের হেফাজত করা চাই। হাদিসে রয়েছে কুৎসা করা যেমন পাপ, শোনাও তদ্রূপ (মহাপাপ)।

রোজা ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। অতএব, ওজর ব্যতীত রোজা পরিত্যাগ করা মহাপাপ এবং অত্যন্ত জঘন্য কাজ। এরকম অন্যায় কাজ একমাত্র তারাই করতে পারে, যাদের অন্তরে ইসলামের বিন্দুমাত্র স্থান নেই।

10
হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত আছে, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন সকাল হয়, তখন মানুষের শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যবানকে সম্বােধন করে।

বলে, হে জবান! তুমি আল্লাহকে ভয় করাে। কেননা আমরা তােমার অধীনস্থ, যদি তুমি ঠিক থাকো, তাহলে আমরাও ঠিক থাকবাে।

আর যদি তুমি বাঁকা হয়ে যাও তাহলে, আমরাও বাঁকা হয়ে যাবাে। অর্থাৎ মানুষের পূর্ণ শরীর যবানের অধীন।

11
১. সত্য বলার অভ্যাস তৈরী করা।

২. মিথ্যার পরিণতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা।

৩. কথা বলার সময় সতর্কতার সাথে কথা বলা।

৪. সৎসঙ্গ গ্রহণ করা।

৫. অসৎসঙ্গ পরিত্যাগ করা।

Collected

12
১. প্রথমত আপনি যখনই জাগ্রত হবেন, অলসতা না করে তখনই ফজরের নামায আদায় করে নিবেন। যদি আপনার ঘুম থেকে উঠতে দেরিও হয় বা পুরোপুরি সূর্যোদয় হয়ে যায়, তথাপি আল্লাহর রাসূলের সূন্নত হল কখনো ফজর ছুটে গেলে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে আদায় করে নেয়া।

২. আপনি সুন্নত ও নফল নামাযের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। ফলে তা ইয়াওমুল হিসাবে আপনার ফজর আদায়ে ত্রুটি ও কমতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজে আসবে। কেননা রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “কেয়ামত দিবসে সর্ব প্রথম নামাযের হিসাব নেয়া হবে।

যদি নামায ঠিক থাকে তাহলে তার সমস্ত আমল ঠিক থাকবে, আর যদি নামায ঠিক না থাকে তাহলে তার কোন আমল ঠিক থাকবে না।” (বুখারি ও মুসলিম)

৩. ফজর নামায কাযা হওয়াকে অন্য নামাযগুলো কাযা করার অজুহাত বানাবেন না যে- ‘আজ যেহেতু ফজর কাযা হয়ে গেছে, থাক, তাহলে আগামিকাল থেকেই আবার সব নামায পড়া শুরু করবো!’। সাবধান! এটা হবে শয়তানের অনেক বড় ফাঁদে পা দেয়া।

প্রতি ওয়াক্ত নামায স্বতন্ত্র একেকটি ফরয। প্রত্যেক নামাযের হিসাবও স্বতন্ত্র। আদায় করলে মহা প্রতিদান, অনাদায়ে মহা শাস্তি। তাই ফজর কাযা হয়ে গেলেও অন্য সকল ওয়াক্তের নামাযগুলো সঠিক সময়ে আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন যাতে সেগুলো কখনোই আপনার দ্বারা কাযা না হয়ে যায়।

৪. অবশ্যই জামা’আতের সহিত নামায আদায়ে পূর্ণ সচেষ্ট হোন। কেননা, জামা’আতের গুরুত্ব অন্তরে না থাকলেই এভাবে নামায কাযা হওয়াটা এক সময় স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্রিয় নবী সা. বলেন, যে গ্রামে বা মাঠে কমপক্ষে তিনজন লোক থাকে আর সেখানে জামা’আতের সহিত নামায আদায় করা হয় না, তাদের উপর শয়তান প্রভাব বিস্তার করে ফেলে।

কাজেই জামা’আতকে জরুরী মনে কর। দল ত্যাগকারী ছাগলকে বাঘে খেয়ে ফেলে। আর মানুষের বাঘ হল শয়তান। (আবূ দাঊদ, নাসাঈ, আহমদ) বোনেরা ওয়াক্ত আসার প্রথম সময়েই নামায আদায়ের অভ্যেস করে নিন।

13
* শরীরে শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোন কারণ ছাড়া রমজানের রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত ভেঙে ফেললে তার উপর কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। কিতাবুল ফিকহ ১/৯০৬

* রমজানের রোজার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ধূমপান করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে। রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

* রোজা রেখে খাবার বা খাবার জাতীয় কোনো জিনিস বা ওষুধ শরয়ি নিতান্ত ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে আহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। কিতাবুল ফিকহ ১/৫৩০

* সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে রোজার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের রোজা ভেঙে যাবে। উভয়ের উপর কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। ফতোয়া দারুল উলুম ৬/৪৩৯

বি.দ্র. যদি স্ত্রীর সঙ্গে জোরপূর্বক সহবাস করে তাহলে স্ত্রীর উপর শুধু রোজা কাজা আদায় করা ওয়াজিব। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। ফতোয়া দারুল উলুম ৬/৪৩৯


14
দুনিয়ার অন্য সব জিনিসের যেমন দুর্গন্ধ ও সুঘ্রাণ হয়, ভালো ও মন্দ কথারও সুঘ্রাণ ও দুর্গন্ধ হয়। আমরা যেমন অন্য সব জিনিসের সুঘ্রাণ ও দুর্গন্ধ অনুভব করি, ফেরেশতারা ভালো ও মন্দ কথার সুঘ্রাণ ও দুর্গন্ধ অনুভব করেন। আল্লাহর যে বান্দাদের রুহানিয়ত প্রবল, তারাও কখনো কখনো তা অনুভব করেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. -থেকে বর্ণিত রাসুল সা. বলেছেন,
اِذَا كَذَبَ الْعَبْدُ تَبَاعَدَ الْمَلَكُ مَيْلاً مِنْ نَتْنِ مَاجَاءَ بِه

যখন বান্দা মিথ্যা বলে তখন (মানুষের হিফাযতকারী) ফেরেশতারা তার পাপের দুর্গন্ধে এক মাইল দূরে চলে যান।

15
অজু করার পর অজুর অঙ্গগুলো শুকানোর পূর্বেই দুই রাকাত নামাজ পড়া মোস্তাহাব। ইসলামী পরিভাষায় এই নামাজকে “তাহিয়্যাতুল অজু” বলে।

সাধারণ সুন্নাত ও নফল নামাজের ন্যায় যে কোনো সুরা-কিরাত দ্বারা  তাহিয়্যাতুল অজু আদায় করা যায়। উভয় রাকাআতেই সূরা ফাতিহার পর অন্য সুরা মিলাতে হবে এবং আখেরী বৈঠক আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা সব পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।
নামাজের নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময় ছাড়া যে কোনো সময় অজু করার পর এ নামাজ পড়া যায়। অর্থাৎ তিন সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।  (তিরমিযী শরীফ, ২য় খ-, ৩৪১ পৃষ্ঠা) (নামাজের মাকরুহ ও হারাম সময় সম্পর্কে একটু পরে আলোচনা আসছে)
হাদিস শরিফে এসেছে,
عَن عقبَة بن عَامر الْجُهَنِيّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْه، أَن رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ قَالَ: “مَا من أحد يتَوَضَّأ فَيحسن الْوضُوء، وَيُصلي رَكْعَتَيْنِ يقبل بِقَلْبِه وَوَجهه عَلَيْهِمَا؛ إِلَّا وَجَبت لَهُ الْجنَّة “. أخرجه أَبُو دَاوُد.(304)  رواه مسلم (234) .
উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে মুসলমান সুন্দর রুপে অজু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত নামাজ আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। ” (সহিহ মসলিম, হাদিস নং 234, আবু দাউদ, হাদিস নং 304)

Pages: [1] 2