Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 28
1
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মহামারি করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাসীর জন্য। কোভিডের নতুন এই ধরন মোকাবিলায় আগের টিকা নেওয়া থাকলেও কাজ হচ্ছে না তেমন।
যার ফলে নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে। 

বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু উপসর্গের কথা বলেছেন ওমিক্রনের ক্ষেত্রে। যার ১৪টি লক্ষণ জেনে নিয়ে সতর্ক থাকুন। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে আইসোলেশনে থাকুন ও করোনা পরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা নিন।

লক্ষণগুলো হচ্ছে:

•    নাক দিয়ে পানি পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে
•    মাথাব্যথা থাকছে কিছু ক্ষেত্রে
•    ক্লান্তি ছাড়ছে না রোগীকে
•    হাঁচি হচ্ছে
•    গলা ব্যথাও হচ্ছে
•    খুব কাশি
•    গলা ভেঙে যাচ্ছে
•    কাঁপুনি হচ্ছে
•    জ্বর আসছে অনেকের
•    মাথা ঝিমঝিম করার প্রবণতা
•    মস্তিষ্কে ধোঁয়াশার প্রবণতাও আছে অনেক রোগীর
•    পেশীতে ব্যথা
•    গন্ধের অনুভূতিও হারাচ্ছেন কেউ কেউ
•    বুকে ব্যথাও দেখা যাচ্ছে। 


 বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ‘ওমিক্রন’ করোনা

2

ইসলামের প্রতিটি নির্দেশনা তার অনুসারীদের জন্যে কল্যাণবান্ধব। ফলে, যে কুরআন মানুষের জীবনবিধান, তা পাঠ করলেও সওয়াব হয়। দুনিয়ার আর কোনো বিতাব অথবা বই নেই, যা শুধু পড়লেও পাঠকের সওয়াব হয়।

হাদিসে এসেছ, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন: মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিবারভুক্ত লোক আছে।

সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, তারা কারা? তিনি বললেন, যারা কুরআনওয়ালা: এরা আল্লাহর পরিবারভুক্ত ও তার বিশেষ লোক। (তারগিব ওয়া তারহিব: ০২/৩০৩)

জিকির, কুরআন তেলাওয়াত ও এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমকে অবলম্বন করে যারা তার নৈকট্য লাভ করে, তারা তার পরিবারভুক্ত ও বিশেষ লোক। আল্লাহও তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তারাও তাকে ভালোবাসে।

তিরমিজিতে হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) এর বর্ণনায় এসেছে- যে আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে। আর প্রতিটি নেকি দশগুণের সমান। আমি বলি না: ‘আলিফ লাম মিম’ একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মিম একটি হরফ। (তিরমিজি, হা. ২৯১০)

কুরআন তেলাওয়াতের যেমন সওয়াব রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কুরআনের অর্থ ও মর্মাথ অনুধাবন করাও কুরআন-হাদিসেরই নির্দেশনা। এমন নয় যে, একজন সারাজীবন শুধু কুরআন তেলাওয়াতই করে যাবে বা শুধু কুরআন মুখস্ত করেই বসে থাকবে। বরং কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার জন্যেও চেষ্টা করতে হবে।

যেমন ইরশাদ হয়েছে- “আমি আপনার প্রতি এ বরকতপূর্ণ কিতাব নামিয়েছি; তারা যেন এর আয়াতগুলো অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে।” (সুরা সোয়াদ: ২৯)

আরেক আয়াতে এসেছে, “তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তকরণ বন্ধ?” (সুরা মোহাম্মাদ: ০৪)

আরেক আয়াতে এসেছে, “উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে আমি কোরআনকে সহজ করেছি; অতএব, কেউ কি আছে চিন্তা করবে?” (সুরা কামার: ১৭) তবে, এর অর্থ এই নয় যে, কুরআন না বুঝে পড়লে কোনো সওয়াব হবে না। কেননা, কুরআন তেলাওয়াত একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।

আমরা জানি, নফল নামাজে কুরআন তেলাওয়াত করার অনেক ফজিলতের কথা কুরআন-হাদিসে এসেছে। আচ্ছা, এই ফজিলত কারা লাভ করবে? যারা কুরআনের আরবি ভাষা জানে, শুধু তারাই? নাকি যারা অনারবি, তারাও?

নিশ্চয়ই এই ফজিলত আরবি-অনারবি, সবার জন্যেই অবারিত। এখন যদি কুরআন তেলাওয়াতের সওয়াবকে এর অর্থ বুঝে পড়ার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়, তাহলে দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ যারা আরবি জানে না, তাদের  তেলাওয়াতের কী হবে?

আল্লাহর অনুগ্রহ কি এতটাই সংকীর্ণ যে, তারা সওয়াব পাবে না? তা ছাড়া যেসব আয়াত বা হাদিসে কুরআন পড়ার ফজিলতের কথা এসেছে, সেসব জায়গায় কুরআন বুঝে পড়ার কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি।

বরং, সাধারণভাবে বলা হয়েছে, কুরআন তেলাওয়াত করলে প্রতি হরফে দশ নেকি। এখানে বুঝে না বুঝে পড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

কুরআন তেলাওয়াতের সওয়াব আর কুরআন বুঝে পড়ার গুরুত্ব; দু’টি আলাদা বিষয়। একটিকে আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক মনে করা ঠিক নয়।

শুধু তেলাওয়াত করলে যেমন সওয়াবের কথা বর্ণিত আছে, তেমনি কুরআন বুঝে পড়াও শরিয়তের নির্দেশ। হ্যাঁ, আপনি যদি কুরআন বুঝে পড়েন, তাহলে এর প্রতি আমল করার গুরুত্ব আপনার কাছে বেড়ে যাবে।

এবং এটা খুব দরকারি একটা কাজ। আর এটাই হচ্ছে মূল কথা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

3
আমরা যারা ইসলামকে সামান্য হলেও মেনে চলার চেষ্টা করি তাদের অনেকের ইচ্ছা থাকে নতুন নতুন দু’আ, কুরআনের আয়াত ও সূরা মুখস্থ করার। হয়তো আমরা অনেকেই সে চেষ্টা করেছি।
কেউ কেউ সফল হয়েছি এবং হচ্ছি। কেউবা আবার ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়েও দিয়েছি। মুখস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পেছনের একটি অন্যতম কারণ হলো এটা মনে করা যে, আমাদের স্মৃতিশক্তি কমে গিয়েছে। তাহলে এই স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় কী? আসুন এ ব্যাপারে জেনে নেই কিছু কৌশল।

স্মৃতি বলতে মূলত তথ্য ধারণ করে পুনরায় তা ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বিজ্ঞানীরা আমাদের স্মৃতিকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করেছেন। ১. স্বল্পস্থায়ী বা স্বল্প মেয়াদী স্মৃতি ২. দীর্ঘস্থায়ী বা দীর্ঘ মেয়াদী স্মৃতি। খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যে সব স্মৃতি স্থায়ী থাকে সেগুলো হচ্ছে স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি। আর দীর্ঘ সময়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক যেসব স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে সেগুলো হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। এই লেখায় আমরা মূলত দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করবো।

১. ইখলাস বা আন্তরিকতা: যে কোনো কাজে সফলতা অর্জনের ভিত্তি হচ্ছে ইখলাস বা আন্তরিকতা। আর ইখলাসের মূল উপাদান হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়তের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব সম্পর্কে উস্তাদ খুররাম মুরাদ বলেন, “উদ্দেশ্য বা নিয়ত হল আমাদের আত্মার মত অথবা বীজের ভিতরে থাকা প্রাণশক্তির মত। বেশীরভাগ বীজই দেখতে মোটামুটি একইরকম, কিন্তু লাগানোর পর বীজগুলো যখন চারাগাছ হয়ে বেড়ে উঠে আর ফল দেওয়া শুরু করে তখন আসল পার্থক্যটা পরিস্কার হয়ে যায় আমাদের কাছে। একইভাবে নিয়ত যত বিশুদ্ধ হবে আমাদের কাজের ফলও তত ভালো হবে। ”

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তাদের এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম। ” [সূরা আল-বায়্যিনাহঃ ৫]

তাই আমাদের নিয়ত হতে হবে এমন যে, আল্লাহ আমাদের স্মৃতিশক্তি যেনো একমাত্র ইসলামের কল্যাণের জন্যই বাড়িয়ে দেন।

২. দু’আ ও যিকর করা: আমরা সকলেই জানি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর কাছে দু’আ করা যাতে তিনি আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেন এবং কল্যাণকর জ্ঞান দান করেন। এক্ষেত্রে আমরা নিন্মোক্ত দু’আটি পাঠ করতে পারি, “হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। ” [সূরা ত্বা-হাঃ ১১৪]

তাছাড়া যিকর বা আল্লাহর স্মরণও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “…যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন…” [সূরা আল-কাহ্‌ফঃ ২৪] তাই আমাদের উচিত যিকর, তাসবীহ (সুবহান আল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) – এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আল্লাহকে স্মরণ করা।

৩. পাপ থেকে দূরে থাকা: প্রতিনিয়ত পাপ করে যাওয়ার একটি প্রভাব হচ্ছে দুর্বল স্মৃতিশক্তি। পাপের অন্ধকার ও জ্ঞানের আলো কখনো একসাথে থাকতে পারে না। ইমাম আশ-শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, “আমি (আমার শাইখ) ওয়াকীকে আমার খারাপ স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলাম এবং তিনি শিখিয়েছিলেন আমি যেন পাপকাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখি। তিনি বলেন, আল্লাহর জ্ঞান হলো একটি আলো এবং আল্লাহর আলো কোন পাপচারীকে দান করা হয় না। ”

আল-খাতীব আল-জামী'(২/৩৮৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বলেন: “এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘হে আবদ-আল্লাহ, আমার স্মৃতিশক্তিকে শক্তিশালী করে দিতে পারে এমন কোন কিছু কি আছে? তিনি বলেন, যদি কোন কিছু স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে তা হলো পাপ করা ছেড়ে দেয়া। ”

যখন কোনো মানুষ পাপ করে এটা তাকে উদ্বেগ ও দুঃখের দিকে ধাবিত করে। সে তার কৃতকর্মের ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে তার অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যায় এবং জ্ঞান অর্জনের মতো কল্যাণকর ‘আমল থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই আমাদের উচিত পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
 
৪. বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করা: একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখবো যে, আমাদের সকলের মুখস্থ করার পদ্ধতি এক নয়। কারো শুয়ে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কারো আবার হেঁটে হেঁটে পড়লে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়। কেউ নীরবে পড়তে ভালোবাসে, কেউবা আবার আওয়াজ করে পড়ে। কারো ক্ষেত্রে ভোরে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, কেউবা আবার গভীর রাতে ভালো মুখস্থ করতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ উপযুক্ত সময় ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ঠিক করে তার যথাযথ ব্যবহার করা। আর কুর’আন মুখস্থ করার সময় একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ (কুরআনের আরবি কপি) ব্যবহার করা। কারণ বিভিন্ন ধরনের মুসহাফে পৃষ্ঠা ও আয়াতের বিন্যাস বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট মুসহাফ নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের মধ্যে তার একটি ছাপ পড়ে যায় এবং মুখস্থকৃত অংশটি অন্তরে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

৫. মুখস্থকৃত বিষয়ের উপর আমল করা: আমরা সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো একটি বিষয় যতো বেশিবার পড়া হয় তা আমাদের মস্তিষ্কে ততো দৃঢ়ভাবে জমা হয়। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে অতো বেশি পড়ার সময় হয়তো অনেকেরই নেই। তবে চাইলেই কিন্তু আমরা এক ঢিলে দু’পাখি মারতে পারি। আমরা আমাদের মুখস্থকৃত সূরা কিংবা সূরার অংশ বিশেষ সুন্নাহ ও নফল সালাতে তিলাওয়াত করতে পারি এবং দু’আসমূহ পাঠ করতে পারি সালাতের পর কিংবা অন্য যেকোনো সময়। এতে একদিকে ‘আমল করা হবে আর অন্যদিকে হবে মুখস্থকৃত বিষয়টির ঝালাইয়ের কাজ।

৬. অন্যকে শেখানো: কোনো কিছু শেখার একটি উত্তম উপায় হলো তা অন্যকে শেখানো। আর এজন্য আমাদেরকে একই বিষয় বারবার ও বিভিন্ন উৎস থেকে পড়তে হয়। এতে করে ঐ বিষয়টি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।

৭. মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য গ্রহণ: পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ আমাদের মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য একান্ত আবশ্যক। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ আমাদের ঘুম বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের অলস করে তোলে। ফলে আমরা জ্ঞানার্জন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ি। তাছাড়া কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। সম্প্রতি ফ্রান্সের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যয়তুনের তেল চাক্ষুস স্মৃতি (visual memory) ও বাচনিক সাবলীলতা (verbal fluency) বৃদ্ধি করে। আর যেসব খাদ্যে অধিক পরিমাণে Omega-3 ফ্যাট রয়েছে সেসব খাদ্য স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপের জন্য খুবই উপকারী। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য অনেক ‘আলিম কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণের কথা বলেছেন। ইমাম আয-যুহরি বলেন, “তোমাদের মধু পান করা উচিত কারণ এটি স্মৃতির জন্য উপকারী। ”

মধুতে রয়েছে মুক্ত চিনিকোষ যা আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মধু পান করার সাত মিনিটের মধ্যেই রক্তে মিশে গিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। ইমাম আয-যুহরি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি হাদীস মুখস্থ করতে চায় তার উচিত কিসমিস খাওয়া। ”

৮. পরিমিত পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া: আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ব্যস্ত অফিসের মতো কাজ করে। এটি তখন সারাদিনের সংগৃহীত তথ্যসমূহ প্রক্রিয়াজাত করে। তাছাড়া ঘুম মস্তিষ্ক কোষের পুণর্গঠন ও ক্লান্তি দূর করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে দুপুরে সামান্য ভাতঘুম আমাদের মন-মেজাজ ও অনুভূতিকে চাঙা রাখে। এটি একটি সুন্নাহও বটে। আর অতিরিক্ত ঘুমের কুফল সম্পর্কে তো আগেই বলা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাওয়াহ বিতরণ না করে নিজের মস্তিষ্ককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া।

৯. জীবনের অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারসমূহ ত্যাগ করা: বর্তমানে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া ও জ্ঞান অর্জনে অনীহার একটি অন্যতম কারণ হলো আমরা নিজেদেরকে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখি। ফলে কোনো কাজই আমরা গভীর মনোযোগের সাথে করতে পারি না। মাঝে মাঝে আমাদের কারো কারো অবস্থা তো এমন হয় যে, সালাতের কিছু অংশ আদায় করার পর মনে করতে পারি না ঠিক কতোটুকু সালাত আমরা আদায় করেছি। আর এমনটি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে নিজেদেরকে আড্ডাবাজি, গান-বাজনা শোনা, মুভি দেখা, ফেইসবুকিং ইত্যাদি নানা অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে রাখা। তাই আমাদের উচিত এগুলো থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা।

১০. হাল না ছাড়া: যে কোনো কাজে সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো হাল না ছাড়া। যে কোনো কিছু মুখস্থ করার ক্ষেত্রে শুরুটা কিছুটা কষ্টসাধ্য হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়। তাই আমাদের উচিত শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে হাল না ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

সূত্র: আলোরপথে (ইন্টারনেট থেকে)

4
বর্তমানে বিশ্বজুড়েই স্তন ক্যানসারের মতোই জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। এই ক্যানসারের সঠিক চিকিৎসা করা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর যারা প্রথম থেকেই চিকিৎসা করান, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভবনা ৯৫ শতাংশ।

দেশে প্রতিবছর ৮ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ রোগে মৃত্যু হয় ৫ হাজারেরও বেশি নারীর। এ প্রাণহানি কমাতে প্রয়োজন এ রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে রাখা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা খাতুন এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য ও পরামর্শ জানিয়েছেন।

জরায়ুমুখ ক্যানসার বলতে কী বোঝায়, কত ধরনের?

নারীদের প্রজননতন্ত্র জরায়ুর দুটি অংশ। একটি হলো বডি, আরেকটি হচ্ছে জরায়ুমুখ, যেটাকে সার্ভিক্স বলা হয়। এই সার্ভিক্সে যখন হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) দিয়ে কিছু পরিবর্তন হয়ে অনেকগুলো ধাপের মাধ্যমে জরায়ুমুখে ঘা হয় সেটাই হচ্ছে জরায়ুর ক্যানসার। জরায়ুর বডির ক্যানসার আর জরায়ুর ক্যানসার দুটোর কারণও একদম ভিন্ন।

জরায়ুমুখের ক্যানসারের সাধারণত যে রিসপেক্টরগুলো আছে, সেগুলো হলো- খুব অল্প বয়সে যাদের বিয়ে হয়, খুব কম বয়সেই বেশ কয়েকটি সন্তান জন্মদান করা, কম বয়সেই প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়া ইত্যাদি কারণে জরায়ুমুখের ক্যানসার হয়ে থাকে।

জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ বা উপসর্গ

জরায়ুমুখ ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ৭০ ভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগ অ্যাডভান্সড স্টেজে ধরা পড়ে। প্রথমদিকে এই রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না। এরপর যখন লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন সেটা অ্যাডভান্সড হয়ে যায়। এ কারণেই জরায়ু ক্যানসারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে।

jagonews24

>> নিন্মাঙ্গের চারপাশে চাপ লাগা কিংবা ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করা।

>> গ্যাস, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য। হালকা খাবারের পর পেট ভর্তি লাগা, পেটে অস্বস্তি লাগা, ইত্যাদি পেটের কোন সমস্যা খুব বেশি হলে তা জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

>> পেটে অতিরিক্ত ব্যথা কিংবা পেট ফুলে থাকা, সঙ্গে বমি বমি ভাব কিংবা বার বার বমি হওয়া। এর ফলে খিদে কমে যায়।

>> অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া বা হঠাৎ করে ওজন অনেক কমে যাওয়া।

>> প্রথম দিকে রোগীর সাদাস্রাব হয়। অনেক সময় গন্ধযুক্ত বা রক্তমিশ্রিত সাদাস্রাব হয়।

>> যৌন সম্পর্কে রক্ত যাওয়া জরায়ু ক্যানসারের এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এজন্য সহবাসে কারও রক্ত গেলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

>> মাসিক অনিয়মিত হওয়া। দুই মাসিকের মাঝে অনিয়মিত রক্তস্রাব অথবা মাসিক এতবেশি অনিয়মিত হচ্ছে যে মাসিকের তারিখ শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

>> মেপোজ হওয়ার পরও যদি কোনো নারী রক্তক্ষরণ দেখা যায়, তাহলে সেটিও জরায়ু ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সেক্ষেত্রে দ্রুত তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

>> এ ছাড়া তলপেটে ব্যথা, ব্যাকপেইন বা পা ফুলে যাওয়া ও পায়ে পানি আসা জরায়ু ক্যানসারের অ্যাডভান্সড স্টেজের লক্ষণ।

জরায়ু ক্যানসার হওয়ার কারণ কী?

>> কম বয়সে অর্থাৎ ১৩-১৪ বছর বয়সে কোনো মেয়ের বিয়ে হলে তার যোনিপথের কোষ কলাগুলো পরিণত হওয়ার আগেই সে যৌন সংস্পর্শে আসছে। এটি জরায়ু ক্যানসারের জন্য বড় এক ঝুঁকির কারণ।

>> যারা কম বয়সে বাচ্চা নেয়, যারা অনিরাপদ সঙ্গম চর্চা করে, শারীরিক সম্পর্কের জন্য যাদের একাধিক সঙ্গী থাকে, শারীরিক সম্পর্কের সময় যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন নারীদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস ক্যানসারে রূপান্তরিত করে।

এসব কারণেই জরায়ু ক্যানসারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকিতে। কারণ, এই ক্যানসারের যতগুলো রিস্ক ফ্যাক্টর আছে তা সবই বাংলাদেশে আছে।

জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধ করতে ১৩-১৫ বছরের কিশোরীদের টিকা দিতে হবে। এই ভ্যাকসিনের ১০০ ভাগ সুফল পাওয়া যায়। তবে তাদেরকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। এর পাশাপাশি জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

দ্বিতীয় প্রতিরোধ হলো- স্ক্রিনিং সেন্টারে গিয়ে সুস্থ মায়েদের স্ক্রিনিং করতে হবে। স্ক্রিনিংয়ে ৩টি পদ্ধতি আছে। এগুলো হলো- পেপস স্মেয়ার টেস্ট, ভায়া টেস্ট ও এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট। এই টেস্টগুলোর মাধ্যমে জরায়ু মুখের ক্যানসারের পূর্ব লক্ষণ শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসা দেওয়া যায়।

সূত্র: ডক্টরটিভি

5
ইউরিন ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) খুবই মারাত্মক একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভুগলে অকেজো হতে পারে কিডনি। এ ছাড়াও মূত্রথলিতে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু পানিশূনত্যার কারণেই নয়, ইউটিআই হওয়ার আরও কিছু কারণ আছে। যেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে।

নারী-পুরুষ উভয়ই আক্রান্ত হতে পারেন এই রোগে। এ বিষয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ সামাদ বলেন, ‘পুরুষের চেয়ে নারীর ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নয়গুণ বেশি, যা দীর্ঘদিন চিকিৎসা করা না হলে কিডনি বিকল হতে পারে। এজন্য নারীদের শরীরের নিম্নাঙ্গের যত্ন নিতে হবে ও পরিষ্কার রাখতে হবে।’

ইউটিআিই হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ। যখন এর ফলে মূত্রনালির নিম্নাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে মূত্রথলির সংক্রমণ (বা সিস্টাইটিস) বলে আর যখন এর ফলে মূত্রনালির ঊর্ধ্বাংশ আক্রান্ত হয়, তখন তাকে কিডনির সংক্রমণ (বা পায়েলোনেফ্রাইটিস) বলে।

ইউটিআইয়ের লক্ষণ

১. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
২. ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ
৩. প্রস্রাবের রং লালচে
৪. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত
৫. দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
৬. নারীদের গোপনাঙ্গে ব্যথা
৭. পুরুষদের মলদ্বারে ব্যথা

অবস্থা সংকটাপন্ন হলে-

১. পেট ও কোমরের মাঝামাঝিতে ব্যথা অনুভব করা
২. শীত লাগা
৩. জ্বর
৪. বমি বমি ভাব
৫. বমি

যেসব কারণে ইউটিআিই হয়

>> পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়ার ফলেই বেশিরভাগ মানুষ এই সংক্রমণে ভোগেন। এক্ষেত্রে পানিশূন্যতার কারণে মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

>> নারী-পুরুষ ভেদে অনেকেই টাইট অন্তর্বাস পরেন। যা স্বস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। টাইট অন্তর্বাস ব্যবহারের ফলে যৌনাঙ্গ অতিরিক্ত আর্দ্র অবস্থায় থাকে। যার ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।

>> প্রস্রাব বা মলত্যাগের পর গোপনাঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার না করার কারণেও হতে পারে ইউটিআই। এক্ষেত্রে অনেকেই পেছন থেকে সামনের দিকে মোছেন, যা ভুল পদ্ধতি। এতে জীবাণুর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে উচিত সামনে থেকে পেছন দিকে মোছা।

>> সহবাসের পর অবশ্যই প্রস্রাব করা উচিত। এর ফলে গোপনাঙ্গে থাকা জীবণু প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। এর ফলে ইউটিআিইয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

>> দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখার কারণেও মূত্রাশয়ে সংক্রমণ ঘটতে পারে। প্রস্রাব বেশিক্ষণ ধরে রাখলে মূত্রাশয়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে।

>> অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেই প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে।

>> মেনোপজের সময়ও নারীদের ইউটিআিইয়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

>> ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ইউটিআিই হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

প্রতিরোধে করণীয়

>> প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

>> ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

>> অপরিষ্কার পোশাক পরবেন না।

>> নিয়মিত গোসল করতে হবে।

>> একই কাপড় না ধুয়ে বেশিদিন পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন।

>> গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে হবে।

>> একই অন্তর্বাস দীর্ঘসময় ব্যবহার করবেন না।

প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি মানুষ মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এ সংক্রমণের হার বেশি।

Source: https://www.jagonews24.com/lifestyle/news/728304

6
Hadith / কোন পাপের কি শাস্তি
« on: December 21, 2021, 12:14:03 PM »
পাপিকে তার পাপের শাস্তি ভোগ করতেই হবে। এ শাস্তি কেউ ভোগ করবে ইহকালে, কেউ ভোগ করবে পরকালে। আল্লাহতায়ালা কাউকে স্বীয় দয়ায় ক্ষমাও করে দিতে পারেন। পার্থিব জগতে কোন পাপের কি শাস্তি হয় এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- ১. কোনো জাতির মধ্যে আত্মসাৎ বৃদ্ধি পেলে সে জাতির লোকদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করা হয়। ২. কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। ৩. কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিমাপ ও ওজনে কম দিলে তাদের রিজিক সঙ্কুচিত করা হয়। ৪. কোনো জাতির লোকেরা অন্যায়ভাবে বিচার-ফায়সালা করলে তাদের মধ্যে রক্তপাত বিস্তৃতি লাভ করে। ৫. কোনো জাতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আল্লাহ শত্রুদেরকে তাদের ওপর চাপিয়ে দেন। -মুয়াত্তা মালেক : ১৩২৩

বর্তমান পৃথিবীতে অশান্তি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দাবানল, করোনাভাইরাস ইত্যাদি সবই মানুষের অপকর্মের ফসল। এসব কিছু দিয়ে আল্লাহতায়ালা দুনিয়াতেই শাস্তির কিঞ্চিত নমুনা দেখাচ্ছেন। এবার জেনে নেওয়া যাক কিছু পাপ ও তার শাস্তির কথা।

অন্যের মাল আত্মসাৎ
আত্মসাৎ করা মারাত্মক গোনাহ ও জঘন্য অপরাধ। মালের মালিক ক্ষমা না করলে এ গোনাহ আদৌ ক্ষমা হবে না। তাকে অবশ্যই জাহান্নামের অনলে জ্বলতে হবে। হজরত জায়েদ ইবনে খালিদ জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তি কোনো দ্রব্য আত্মসাৎ করে। পরে সে মারা গেলে নবী কারিম (সা.) তার জানাজা পড়াননি। সাহাবিদের বললেন, তোমাদের এ সঙ্গী আল্লাহর পথের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তার জিনিসপত্র তল্লাশি করে তাতে একটি রেশমী বস্ত্র পেলাম যার মূল্য হবে দুই দিরহাম। -মিশকাত : ২৪২

ব্যভিচার
ব্যভিচারের শাস্তি ভয়ানক। হাদিস শরিফে রয়েছে, ব্যভিচারের মন্দ পরিণাম ছয়টি। তিনটি দুনিয়ায়, আর তিনটি আখেরাতে। দুনিয়ার তিনটি হলো- ১. সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া; ২. দরিদ্র্যতা; ৩. অকাল মৃত্যু। আর আখেরাতের তিনটি হলো- ১. আল্লাহর অসন্তুষ্টি; ২. হিসাব-নিকাশের কঠোরতা এবং ৩. জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। -ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ, ইফা : ১০৯

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তীও হয়ো না। কারণ, তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ -সুরা বনি ইসরাইল : ৩২

হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো বান্দা যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং এটি তার মাথার ওপর মেঘখণ্ডের মতো ভাসতে থাকে। অতঃপর সে যখন তওবা করে, তখন ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ৪৬৯০

ওজনে কম দেওয়া
পরিমাপে ও ওজনে কম দেওয়া নিষেধ। এটি জঘন্যতম খেয়ানত ও গোনাহে কবিরা। এর ফলে আল্লাহতায়ালা ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দেন এবং দুর্ভিক্ষ ঘটান। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের কাছ থেকে ওজন করে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে আর যখন মানুষকে মেপে কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’-সুরা মুতাফফিফিন : ১-৩

নবী কারিম (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় যান, তখন সেখানে আবু জুহায়লা নামক এক ব্যবসায়ী ছিল। তার দোকানে ছিল দু’টি পাল্লা। একটি দিয়ে সে অন্যের জিনিস মেপে রাখত, আরেকটি দিয়ে মানুষকে মাল মেপে দিত। তারই প্রসঙ্গে উল্লিখিত আয়াতটি নাজিল হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা পরিমাপকারী ও দাঁড়িপাল্লা দ্বারা ওজনকারী ব্যবসায়ীদেরকে বললেন, তোমাদের ওপর এমন দু’টি জিনিসের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যে জিনিসদ্বয়ের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।’-সুনানে তিরমিজি

বিচারে ইনসাফ না করা
অন্যায়, দুর্নীতি ও অসততা সর্বদা হারাম ও মারাত্মক অপরাধ। বিচারক সেজে বিচারকার্যে দুর্নীতি করা আরও জঘন্য অপরাধ। বিচারককে ইনসাফ ও সততা অবলম্বন করা অপরিহার্য। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে শাসক আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।’-মুস্তাদরাকে হাকেম

হাদিসে আরও ইরশাদ হয়েছে, এক শ্রেণির বিচারক জান্নাতে যাবে, আর দুই শ্রেণীর বিচারক জাহান্নামে যাবে। যে বিচারক জান্নাতে যাবে, সে হলো- এমন বিচারক যে সত্য ও ন্যায়কে যথার্থ উপলব্ধি করে এবং তদনুযায়ী বিচার করে। পক্ষান্তরে, যে বিচারক সত্যকে যথার্থ উপলব্ধি করেও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় রায় প্রদান করে, সে জাহান্নামি। তদ্রুপ যে বিচারক সত্যকে যথার্থ উপলব্ধি না করে স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী রায় দেয়, সেও জাহান্নামি।’-সুনানে আবু দাউদ

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা
প্রতিশ্রুতি করলে তা পূরণ করা আবশ্যক। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা নিষেধ ও গোনাহে কবিরা। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো। কেননা, প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়ে তোমাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’-সুরা বনি ইসরাইল : ৩৪

নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই। অনুরূপ যে ব্যক্তি অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই।’-মিশকাত : ১৫
দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়

 

হিংসা করা
হিংসা নেকসমূহকে ধ্বংস করে দেয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, হিংসা পুণ্যকে এমনভাবে বিনষ্ট করে দেয়, যেমনিভাবে আগুন কাঠকে ভস্মীভূত করে দেয়।’-সুনানে আবু দাউদ

তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে (এক সময়) পূর্ববর্তীদের নৈতিক ব্যাধি বিস্তার লাভ করবে, আর তা হলো হিংসা ও বিদ্বেষ।’-জামে তিরমিজি

হিংসা থেকে বেঁচে থাকা ফরজ। কারণ, তা এমন নীরব অনল যা ক্রমে ক্রমে জ্বলে উঠে এবং মানুষের নেকসমূহকে ধ্বংস করে দেয়। অথচ মানুষের কোনো খবরই থাকে না যে, তার নেকসমূহ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।

সুদ ও ঘুষ খাওয়া
‘সুদের ৭০ প্রকার গোনাহ রয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নতম গোনাহ হলো স্বীয় মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা।’ –মিশকাত : ২৪৬
আর সর্বোচ্চ গোনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে জিহাদ করা। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যারা সুদ খায় (বিচার দিবসে) তারা সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে।’-সুরা বাকারা : ২৭৫

ঘুষ আদান-প্রদান করা অভিশাপযোগ্য কাজ। নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের প্রতি আল্লাহতায়ালার লানত।’-আন নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস : ২/২২৬

মদ পান ও জুয়া খেলা
মদ পান ও জুয়া খেলা উভয় শয়তানের কাজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে।’ -সুরা আল মায়িদা : ৯০

মজুতদারি ও কালোবাজারি
মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য মজুদ রাখা এবং কালোবাজারি সম্পূর্ণরূপে হারাম। নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমান হয়েও খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে (মজুতদারি করে) আল্লাহতায়ালা তার ওপর মহামারি ও দারিদ্র্যতা চাপিয়ে দেন।’-মিশকাত : ২৫১

চুরি করা
চুরি করা জঘন্য অপরাধ। চুরি সমাজের শান্তি থেকে বিদূরিত করে। এর শাস্তি হলো- কবজি পর্যন্ত হাত কেটে দেওয়া। যেমন আল্লাহর বাণী, ‘পুরুষ চোর ও মহিলা চোর অপরাধের শাস্তিস্বরূপ উভয়ের হাত কবজি পর্যন্ত কেটে দাও।’-সুরা মায়িদা : ৩৮

ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাট ইত্যাদি চুরি অপেক্ষা গুরুতর অপরাধ। কারণ, চুরি হয় গোপনে। আর ডাকাতি, ছিনতাই ও লুটপাট হয় প্রকাশ্যে। এদের শাস্তি হলো- হত্যা, শূলে চড়ানো, হাত-পা কেটে ফেলা ও দেশ থেকে বহিষ্কার করা। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে লুটপাট করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’-মিশকাত : ৩১৩

Source:https://barta24.com/details/islam/147302/what-is-the-punishment-for-any-sin

7
নবীজির সুপারিশের পর হিসাব শুরু হবে

শাফায়াত মানে সুপারিশ ও সাহায্য। বিভিন্ন কাজে আমরা বিভিন্ন মানুষের জন্য সুপারিশ করে থাকি। কাউকে কোনো কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কিংবা কাউকে কোনো ঝামেলা ও বিপদ থেকে মুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়ে থাকে।

সুপারিশের মাধ্যেমে অন্য মানুষের উপকার করা মূখ্য উদ্দেশ্য হয়। বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট। আমাদের আলোচ্য বিষয়ে শাফায়াত বা সুপারিশ বলতে আখেরাতের সুপারিশ বুঝানো হচ্ছে।

শাফায়াত সম্পর্কে মৌলিক কথা
আমরা বিশ্বাস করি, কুল কায়েনাত ও বিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা হলেন- মহান আল্লাহ। তার কোনো শরিক নেই, তিনি একক। তার একার সিদ্ধান্তে সকল জগত পরিচালিত হয়। তার সমকক্ষ কেউ নেই। কারণ, তিনি ছাড়া বাকি সবকিছুই হলো তার সৃষ্টি। সৃষ্টি কখনও স্রষ্টার মতো হতে পারে না।

মানুষের মৃত্যুর পর কবর জগতে অবস্থান করবে। কবরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে তার কবরের সঙ্গে জান্নাতের একটা সম্পর্ক হবে; আর উত্তর দিতে না পারলে জাহান্নামের সঙ্গে সম্পর্ক হবে। পুণরুত্থান পর্যন্ত মানুষ কবরে থাকবে। কেয়ামতের ময়দানে সবাই একত্রিত হবে। সকলের হিসাব-কিতাব হবে। হিসাব-কিতাবের পর অনেকেই জান্নাতে চলে যাবে। আবার অনেকে যাবে জাহান্নামে। জাহান্নামে যারা যাবে তাদের দু’টি শ্রেণি রয়েছে। এক শ্রেণির জাহান্নামি স্থায়ী। তাদের ঈমান না থাকায় তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামি। কোনোদিন জাহান্নাম থেকে বের হবে না। আরেক শ্রেণির জাহান্নামি হলো অস্থায়ী। তাদের ঈমান ছিল তবে নেক আমল কম ছিল কিংবা গোনাহ ছিল, যে কারণে তারা জাহান্নামি হয়েছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

কেয়ামতের ময়দানে মানুষ একত্রিত হওয়ার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে। সূর্যের তাপে মানুষের মগজ পর্যন্ত গলে যাবে। কেয়ামতের ময়দানের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তির জন্য হিসাব-কিতাব শুরু হওয়া দরকার। হিসাব শুরুর জন্য মহান আল্লাহর কাছে সুপারিশ করা দরকার। কে করবে সুপারিশ? সবাই পেরেশান। সকল মানুষ মিলে হজরত আদম আলাইহিস সালামের কাছে যাবে, তাকে সুপারিশের অনুরোধ করবে। তিনি অক্ষমতা প্রকাশ করবেন। এভাবে আরও অনেক নবী-রাসুলের কাছেই যাবে। সবাই নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করবে। সবশেষে হজরত ঈসা (আ.)-এর কাছে যাওয়ার পর তিনিও অক্ষমতা প্রকাশ করে বলবেন, তোমরা সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও। সবাই নবীজির কাছে এসে অনুরোধ করবে, যেন তিনি মহান আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন। নবীজি আল্লাহর আরশের নিচে সিজদায় লুটিয়ে পড়বেন। দীর্ঘক্ষণ সিজদার পর মহান আল্লাহ ডাক দিয়ে বলবেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা তুলুন, আপনি সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে; আপনি চান, আপনার চাওয়া কবুল করা হবে।’ –সহিহ বোখারি : ৩৩৪০

নবীজির সুপারিশের পর হিসাব শুরু হবে। এটাই প্রথম সুপারিশ। এই শাফায়াতকে শাফায়াতে উজমা কিংবা কুবরা অর্থাৎ সর্ববৃহৎ শাফায়াত বলা হয়। এটাই মাকামে মাহমুদ।

শাফায়াতের প্রয়োজনীয়তা
আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা করলে মাফ করে দিতে পারেন, তাহলে আবার শাফায়াত কেন? এর উত্তর হলো- শাফায়াত মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা আমলের সম্মান প্রদর্শন। যাদেরকে আল্লাহ শাফায়াত করার অনুমতি দেবেন তারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, আল্লাহর কাছে রয়েছে তাদের সম্মান ও মর্যাদা। এই সম্মান ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশের জন্যই মূলত শাফায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেসব আমলের শাফায়াত কবুল করা হবে বলে হাদিস রয়েছে, সেগুলোর সম্মান ও গুরুত্ব বুঝানো উদ্দেশ্য।

শাফায়াতের প্রকারভেদ
কোরআন ও হাদিস গবেষণা করে কাজি ইয়াজ (রহ.) বলেন শাফায়াত পাঁচ প্রকার-
১. হাশরের ময়দানে হিসাব শুরুর সুপারিশ। এই শাফায়াত নবীজির সঙ্গে খাস।
২. একদল লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশেরে সুপারিশ। আর এটাও শুধু আমাদের নবীজির জন্য প্রযোজ্য। অন্য কেউ এরূপ সুপারিশের সুযোগ পাবে না।
৩. জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে এমন একদল লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সুপারিশ। নবী আলাইহিস সালাম ছাড়াও আল্লাহর ইচ্ছানুসারে অনেকে এই সুপারিশ করবে।
৪. জাহান্নামের শাস্তি ভোগকারী লোকদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুপারিশ। রাসুল আলাইহিস সালাম, ফেরেশতা, নেককার মুমিনসহ অনেকেই এ ধরনের সুপারিশ করবেন।
৫. জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফায়াত। -হাশিয়ায়ে নববি : ১/১০৪

সবাই আল্লাহর অনুমতিতে সুপারিশ করতে পারবে
শাফায়াত মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি সীমাহীন অনুগ্রহের কিয়দংশ মাত্র। শাফায়াতের একচ্ছত্র মালিক কেবল আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে শাফায়াত করার অনুমতি দিবেন। তার অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। দুনিয়ার মতো না যে, প্রভাবশালী কেউ এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে। সেখানে আল্লাহ ছাড়া কারও কোনো প্রভাব চলবে না। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তারা কি আল্লাহ ব্যতীত সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, তাদের কোনো এখতিয়ার না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও? বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও জমিনে তারই সাম্রাজ্য। অতঃপর তারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ -সুরা যুমার : ৪৩-৪৪

কারা শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হবে?
কেয়ামত দিবসে অনুষ্ঠিত শাফায়াত থেকে বঞ্চিত হবে যারা শিরক ও কুফুরির গোনাহে লিপ্ত ছিল এবং এর ওপর মারা গেছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, সে ব্যক্তিকে কে বাঁচাতে পারে যার ওপর আজাবের ফয়সালা হয়ে গেছ, তুমি কি তাকে বাঁচাতে পার যে জাহান্নামে রয়েছে?’ -সুরা যুমার : ১৯

বর্ণিত আয়াতের আলোকে বুঝা গেল, এসব জাহান্নামীদের জন্য কোনো শাফায়াতকারী নেই। নেই কোনো রক্ষাকারী। তাদের ব্যাপারে কোনো শাফায়াত গ্রহণ করা হবে না। কারণ, তারা ঈমানশূন্য। এ ছাড়া যারা আল্লাহর দীনের মধ্যে বিকৃতি এনেছে অথবা এর মধ্যে পরিবর্তন করেছে তাদের অবস্থাও সম্পূর্ণ আশঙ্কাজনক। কারণ, তারা হাউজে কাউসারের পানি পান করতে পারবে না। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এই বলে তাড়িয়ে দেবেন, ‘দূর হও, ধ্বংস হও যারা আমার পর (দীনের মধ্যে) পরিবর্তন বা রদবদল করেছ।’ –সহিহ বোখারি : ৬৫৮৪

তাই সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরোপুরিভাবে মেনে চলতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দীনের অপব্যাখ্যা করা যাবে না, সম্পূর্ণ অবিকৃতভাবে তা গ্রহণ করতে হবে। বস্তুত তাওহিদ হচ্ছে- মানুষের চিরমুক্তির সুনিশ্চিত সনদ আর শিরক হচ্ছে ধ্বংসের মূল। তাই তাওহিদবাদী ঈমানদার লোক মহাপাপী হলেও মুক্তি পাবে। আর মুশরিক মহাজ্ঞানী ও গুণধর হলেও অমার্জনীয় অপরাধী। এ জন্য ইসলামের নবী বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এই শাফায়াত ইনশাআল্লাহ সে ব্যক্তি লাভ করবে, যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করা অবস্থায় মারা গেছে।’ -সহিহ মুসলিম : ১৯৯

কারা কারা শাফায়াত করতে পারবে?
১. আমাদের নবীজি শাফায়াত করবেন। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের মাধ্যমে সর্বপ্রথম কেয়ামতের ময়দানে হিসাব-কিতাব শুরু হবে। সেটা হল শাফায়াতে কুবরা। হিসাব শুরু হওয়ার আগেই নবীজির শাফায়াতে নবীজির কিছু উম্মত বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হিসাব কিতাবের পর নবীজির অনেক উম্মত জাহান্নামি হবে, তাদেরকে শাফায়াত করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। জাহান্নামে যাওয়ার পর অনেকেই নবীজির শাফায়াতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতে যাওয়ার পর জান্নাতিদের মর্যাদা বুলন্দির জন্যও নবীজি শাফায়াত করবেন। এভাবে বিভিন্ন স্তরেই নবীজির শাফায়াতের কথা হাদিসে এসেছে।
২. আমাদের নবীজি ছাড়াও সকল নবী-রাসুল স্বীয় উম্মতের জন্য শাফায়াত করবেন।
৩. অনেক ফেরেশতাদের শাফায়াত কবুল করা হবে।
৪. নবীজির উম্মতের মধ্য থেকে নেককার ও নাবালেগ বাচ্চারা শাফায়াত করার সুযোগ পাবে। নেককারদের মাঝে আল্লাহর অলি, শহীদ, হাফেজে কোরআন ও উলামায়ে কেরামের কথা হাদিসে এসেছে।
৫. এমনকি নেক আমলও শাফায়াতের সুযোগ পাবে। যেমন সুরা বাকার ও সুরা আলে ইমরান তেলাওয়াতকারীদের জন্য শাফায়াত করবে।
৬. মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে অনেক মুমিনকে মাফ করবেন, জাহান্নাম থেকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

নবীজিকে আল্লাহর ওয়াদা
আমার প্রভু আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যাদের কোনো হিসাবও নেওয়া হবে না এবং শাস্তি প্রদান করা হবে না। আর প্রতি হাজারের সঙ্গে থাকবে আরও সত্তর হাজার। আর আমার পরওয়ারদিগারের তিন মুঠি পরিমাণ।’ -সুনানে তিরমিজি : ২৪৩৭

যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করা অবস্থায় মারা গেছে, সে নবীর শাফায়াত পাবে

 

আল্লাহতায়ালা নবীজির কাছে ওয়াদা করেছেন এবং স্বয়ং আল্লাহতায়ালাও নিজের কুদরতি মুষ্ঠি দ্বারা তিন মুষ্ঠি পরিমাণ উম্মতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন, এটাও হুকমি শাফায়াত। নবীজির সম্মানে আল্লাহতায়ালা এই পরিমাণ উম্মতকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

মুমিন কর্তৃক শাফায়াত প্রসঙ্গে
মুমিন মুসলমানগণ অন্য মুসলমানদের জন্য শাফায়াত করবেন। মুমিনদের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম, শহীদ, অলি, হাফেজে কোরআন, উলামায়ে কেরাম এবং অপ্রাপ্তবয়স্ত সন্তান সবাই অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে বহু হাদিস রয়েছে।

সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতার জন্য সুপারিশ
হজরত হারেস ইবন আকইয়াশ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু বারযা (রা.)-এর নিকট কোনো এক রাতে উপস্থিত ছিলাম, সেই রাতে তিনি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে দুই মুসলিমের চারটি সন্তান মারা যাবে, আল্লাহ তার দয়ার বরকতে তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহ রাসুল! তিনজন মারা গেলে? তিনি বললেন, তিনজন মারা গেলেও (তিনি তাদের উভয়কে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন); সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহ রাসুল! দুইজন মারা গেলে? তিনি বললেন, দু’জন মারা গেলেও।’ -মুসনাদে আহমাদ : ১৭৮৫৯

মুমিনদের মাঝে শাফায়াতকারী নির্দিষ্ট না
মুমিনদের অনেকেই শাফায়াতের সুযোগ পাবে, তবে তাদেরকে নির্দিষ্ট করা যাবে না। কারণ, শাফায়াতের জন্য ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করা জরুরি। আর কে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করল তা নির্দিষ্ট করা অসম্ভব। তাই কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে ধারণা করা যাবে না যে, সে আমার জন্য শাফায়াত করতে পারবে। যেমন একজন পীর সাহেব, হাফেজে কোরআন কিংবা আলেম। আমরা সুধারণা করতে পারি যে, তিনি নেককার মানুষ, হতে পারে তারা অন্যদের জন্য শাফায়াতের সুযোপ পাবেন; কিন্তু এই সুধারণা পর্যন্তই সীমিত থাকতে হবে, কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে শাফায়াতকারী বলা যাবে না।

শাফায়াতের অপেক্ষা করা যাবে না
আমাদের উচিত ঈমান ও আমল নিয়ে কবরে যাওয়ার চেষ্টা করা। শাফায়াতের অপেক্ষা না করা। এই আশা করা যাবে না যে, আমার ছেলে হাফেজ, সে আমাকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

তবে শাফায়াত পাওয়ার জন্য যেসব আমল রয়েছে সেগুলো বেশি বেশি করতে হবে। ছেলেমেয়েকে হাফেজ, আলেম ও দীনদার বানানোর চেষ্টা করতে হবে। নাবালেগ বাচ্চা মারা গেলে সবর করতে হবে। শাফায়াতের মাঝে নবীজির শাফায়াত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর এবং সুনিশ্চিত। তাই নবীজির সুন্নাহ মোতাবেক জীবন গড়তে হবে, নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে হবে। হে আল্লাহ! তোমার নবীর শাফায়াত নসিব করো। আমিন।

Source:https://barta24.com/details/islam/147549/intercession-who-will-do-it-for-whom
   



















   

   

   

8
কোরআনে কারিমের শুরুতে আল্লাহতায়ালা কোরআন সম্পর্কে মানবজাতিকে সচকিত করে ঘোষণা করেন, ‘এটি এমন এক কিতাব (বিধান), যার মধ্যে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই।’ -সূরা বাকারা: ২

আল্লাহতায়ালার কিতাব কোরআনে কারিমে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন নেই, সংস্কার নেই। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তি জীবনের ২৩ বছরে কোরআন যেভাবে নাজিল হয়েছিল হুবহু ঠিক সেভাবেই সমগ্র দুনিয়াজুড়ে আজও কোরআন বিদ্যমান।

‘এ কিতাবে কোনোপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি নেই’ মানুষের লেখা যেকোনো গ্রন্থের শুরুতে এভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার দুঃসাহস কোনো লেখক বা গ্রন্থপ্রণেতা করতে পারেন না। বরং প্রত্যেক গ্রন্থকারই বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করে দেন, ‘ভুলত্রুটি মার্জনীয়। কোনো পাঠকের নজরে কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে পরবর্তী সংস্করণে তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবো।’ অর্থাৎ মানুষের কোনো কাজই ভুলচুকের ঊর্ধ্বে নয়। এটাই স্বাভাবিক।

পৃথিবীতে ১০-২০ পৃষ্ঠার কোনো একটি বইয়ের কোনো হাফেজ কি আছে? অর্থাৎ শুরু থেকে শেষ অবধি কোরআন ব্যতীত অন্যকোনো গ্রন্থ কেউ মুখস্থ করেছেন- বলে মনে হয় না। কারণ তা সম্ভব না। কিন্তু কোরআনে কারিমের প্রায় ৬ কোটিরও বেশি হাফেজ রয়েছে এক সমীক্ষায় জানা গেছে।

কোরআনের হাফেজ হওয়ার সংখ্যা তিন দিন বেড়েই চলছে। যারা এর জের, যবর, পেশ ও নোকতা অর্থাৎ বিন্দুবিসর্গ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে কণ্ঠস্থ করেছেন।

লাখ লাখ শিশু পুরো কোরআন মুখস্থ করেন মাত্র ৩-৪ মাসে। আবার অসংখ্য অন্ধ হাফেজও রয়েছেন পৃথিবীতে। মুখস্থ করার হিসেবে কোরআন ব্যতীত এমন কোনো নজির আর পৃথিবীতে নেই। এটা আল্লাহর কালাম কোরআনে কারিমে অলৌকিকতার চেয়ে আর কী হতে পারে?

পৃথিবীর সমস্ত ছাপা কোরআন, ক্যাসেট ও হার্ডডিস্ক আগুনে পুড়ে ছাই করে ফেললেও এর কপি হাফেজদের কাছ থেকে সহজেই পাওয়া যাবে। অন্যকোনো গ্রন্থের এমনটি প্রায়ই অসম্ভব। কারণ মানবপ্রণীত কোনো গ্রন্থই হুবহু কারো মুখস্থ নেই।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৪শ’ বছর আগের তুলির সাহায্যে লেখা আর বর্তমান কম্পিউটার যুগের কোরআনের মধ্যে বিন্দুমাত্র ফারাক নেই। এটাই একটি অলৌকিকতা।

এর কারণ হচ্ছে, কোরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এর সংরক্ষক আল্লাহতায়ালা নিজে। পবিত্র কোরআনের এমন অলৌকিক নজির আর কোথাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পৃথিবীর বহু পন্ডিত পবিত্র কোরআনের খুঁত ধরতে এসে বিস্ময়ে-বিমুগ্ধ হয়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন প্রতিদিন। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে এর অসংখ্য নজির রয়েছে।

কোরআন নাজিলের সময়কালে একসময় আরবের কবিরা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিল, কোরআনের মতো তারাও নিখুঁত বাণী লেখতে সক্ষম। আল্লাহতায়ালা হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহির মাধ্যমে জানান, ঠিক আছে। ওরা লেখুক। কিন্তু আরবের সবকবি একসঙ্গে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বলতে বাধ্য হয়- এ হলো আসলেই মহান আল্লাহর বাণী।

পবিত্র কোরআন যে আল্লাহতায়ালার বাণী তা বহুভাবে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। পৃথিবীর কোনো পন্ডিত এতে সামান্যতম ভুল খুঁজে পাননি। পাবার উপায়ও নেই।

উল্লেখ্য, কোরআন শুধু মুসলিমদের নয়। এ কিতাব সমগ্র মানবজাতির এক মহাসম্পদ। এর আলোয় আলোকিত হবার অধিকার রয়েছে প্রত্যেক মানুষের। এ কিতাব শুধু মুসলিমরা পড়বে এমন নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সবাই এ কিতাব নির্দ্বিধায়-নির্বিঘ্নে অধ্যয়ন করতে পারেন। পাঠ করতে পারেন। পারেন এর মর্ম উপলব্ধি করতে।

হেরাগুহায় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় প্রথম যে ওহি নাজিল হয়েছিল তা কী ছিল জানেন নিশ্চয়। ছিল- পড়ুন, আপনার রবের নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। এই যে ‘পড়ুন’,। এর তাৎপর্য হচ্ছে মানুষকে পড়তে হবে। অধ্যয়ন করতে হবে। বিদ্যার্জন ব্যতীত কল্যাণ যেমন নিজের জন্য সম্ভব নয়, তেমনই অন্যের জন্যও তা সম্ভব নয়। পড়া বা শিক্ষাই হচ্ছে উন্নয়ন ও সভ্যতার চাবিকাঠি। পড়া বা শিক্ষার মধ্যেই মানবতার প্রকৃত মুক্তি। তাই প্রথম ওহি বা কোরআনের প্রথম বাণীই হলো- ‘ইকরা’ বা পাঠ করুন।

অনেকে মনে করেন কোরআন কেবল মুসলিমদের জন্য। কোনো কোনো মুসলিমেরও এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। আসলে তা ঠিক নয়। কোরআন সবমানুষের জন্য নাজিল হয়েছে। পৃথিবীর আলো-বাতাস, খাদ্য-পানীয়তে যেমন সমান অধিকার, তেমনই পবিত্র কোরআন আল্লাহর তরফ থেকে একটি বিশেষ রহমত ও নিয়ামত। সূর্যের আলো যেমন সবার জন্য উন্মুক্ত, তেমনই কোরআনের জ্ঞান অর্জনসহ এ থেকে সব মানুষই ফায়দা নিতে পারে। যারা এ চিরশাশ্বত নিয়ামত থেকে বঞ্চিত তারা সত্যিকার অর্থেই হতভাগ্য বৈকি।

হঠকারিতা নয়, বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে নয়; কোনো ভাবাদর্শে আপ্লুত বা আবেগতাড়িত হয়ে নয়। গভীর আন্তরিকতা ও ঔদার্য নিয়ে এসব কথা ভাবুন। তাহলে অন্ধকারাচ্ছন্ন মনোজগতের দুয়ার খুলে যাবে সহসা।

সম্প্রতি বৃটিশ সংস্থা ‘ফেইথ ম্যাটার্স’র গবেষণা জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ব্রিটেনে গত ১০ বছরে ৪০ হাজারের অধিক তরুণ-তরুণী পবিত্র কালেমা পড়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। আর তাদের মনের দুয়ার খুলতে সাহায্য করেছে কোরআন। আসলে কোরআনই পারে মানুষের অন্ধকারাচ্ছন্ন মনোজগতের দুয়ার খুলতে।


Source:https://barta24.com/details/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE/10935/%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A5-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8

9
Quran / কোরআনে বিজয় নামের সুরা
« on: December 21, 2021, 11:32:27 AM »
পবিত্র কোরআনের ৪৮ নম্বর সুরার নাম ফাত্হ। আরবি ফাত্হ শব্দের অর্থ বিজয়। এই সুরায় মহান আল্লাহ মুমিনদের সুনিশ্চিত বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন বলে সুরার নামকরণ ফাত্হ হয়েছে। সপ্তম হিজরিতে মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর সুরাটি অবতীর্ণ হয়। হিজরতের পরে অবতীর্ণ হওয়ায় সুরা ফাত্হ একটি মাদানি সুরা হিসেবে গণ্য।

সুরা নাজিলের পরিপ্রেক্ষিত : আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, সপ্তম হিজরির জিলকদ মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ১৪ শ সাহাবির একটি দল নিয়ে বায়তুল্লাহ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা অভিমুখে রওনা করেন। কিন্তু মক্কার মুশরিকরা তাতে বাধা প্রদান করে। অবশেষে উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐতিহাসিক এই চুক্তি বাহ্যত মুসলিম স্বার্থবিরোধী ছিল। ফলে বেশির ভাগ সাহাবি মন খারাপ করেন। চুক্তি অনুসারে মুসলিম কাফেলা যখন ওমরা পালন না করে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন আল্লাহ মুমিনদের অনাগত দিনে মহাবিজয় দানের সুসংবাদ প্রদান করেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)
বিজয় দ্বারা উদ্দেশ্য : বেশির ভাগ তাফসিরবিদের কাছে এখানে বিজয় দ্বারা ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় উদ্দেশ্য। তবে বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, ‘মক্কা বিজয়কে তোমরা বিজয় মনে করছ। মক্কা বিজয়ও একটি বিজয়। কিন্তু হুদাইবিয়ার দিনে বাইআতের রিদওয়ানকে আমরা প্রকৃত বিজয় মনে করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪১৫০)

মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা ফাত্হ পাঠ করতে করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন। (বুখারি, হাদিস : ৫০৩৪)

মুমিনদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার : সুরা ফাতেহর ২৯টি আয়াতে আল্লাহ মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের জন্য একাধিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন—

১.   প্রথম আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের সুস্পষ্ট বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।

২.   দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ মহানবী (সা.)-এর অতীত ও ভবিষ্যতের যাবতীয় পাপ মার্জনার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণা মূলত তাঁকে সম্মানিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে। কেননা মহানবী (সা.) ছিলেন যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত।

৩.   তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের জন্য সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন।

৪.   চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের প্রশান্তি দানের ঘোষণা দিয়েছেন।

৫.   পঞ্চম আয়াতে তাদের জন্য জান্নাতের অঙ্গীকার করেছেন।

৬.   ১৯তম আয়াতে আল্লাহ গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন।

৭.   ২৭তম আয়াতে আল্লাহ মহানবী (সা.)-এর স্বপ্ন তথা বায়তুল্লাহ জিয়ারতের অবকাশ দানের অঙ্গীকার করেছেন।

৮.   ২৮তম আয়াতে আল্লাহ সব মতাদর্শের ওপর ইসলামকে বিজয়ী করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ছাড়া সুরা ফাত্হ-এ আল্লাহ অবিশ্বাসী, মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের অধিকারীদের নিন্দা করেছেন। মুমিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।

ঐতিহাসিক বাইআতে রিদওয়ান : হুদায়বিয়ার প্রান্তরে মুসলিম কাফেলা অবস্থানরত অবস্থায় উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ এলে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ঈমানি স্পৃহায় উদ্বেলিত হন এবং সত্যের পথে আমৃত্যু সংগ্রামের শপথ গ্রহণ করেন। সুরা ফাতেহর ১৮তম আয়াতে আল্লাহ সাহাবিদের ঈমানি স্পৃহা ও সত্যের পথে সংগ্রামের অঙ্গীকার গ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, ‘আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষতলে আপনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করল। তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি অবগত ছিলেন। তাদেরকে তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়।’

বিডি প্রতিদিন/

10
নামাজ বেহেশতের চাবি, ইসলামের স্তম্ভ, প্রতিটি জ্ঞানসম্পন্ন সাবালক মুসলমানের ওপর নামাজ ফরজ। তাই নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিভাবে পড়লে নামাজ আল্লাহর কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে, তা যেমন জানা জরুরি, কী কী কারণে নামাজ ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায় বা ভেঙে যায়, তা-ও অবশ্যই জানা উচিত। নিম্নে নামাজ ভঙ্গের কিছু কারণ তুলে ধরা হলো—

১.   নামাজে অশুদ্ধ কিরাত পড়া। যতটুকু অশুদ্ধ পড়লে কোরআনের অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নামাজ আবার পড়তে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬৩৩-৬৩৪, হিন্দিয়া : ১/৮০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৩৪৪)
২.   নামাজের ভেতর কথা বলা। নামাজে এমন কোনো অর্থবোধক শব্দ করা, যা সাধারণ কথার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভেঙে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়েক : ২/২)

৩.   নামাজরত অবস্থায় কোনো লোককে সালাম দেওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৯২, আল বাহরুর রায়েক : ২/১২০)

৪.   কারো সালামের উত্তর দেওয়া। (বুখারি, হাদিস : ১২১৭)

৫.   ব্যথা কিংবা দুঃখে উহ-আহ শব্দ করা। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬১৯, আল বাহরুর রায়েক : ২/৪, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১)

৬.   বিনা কারণে কাশি দেওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৬১৮, মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, আল বাহরুর রায়েক : ২/৫)

৭.   আমলে কাসির করা। ফিকাহবিদরা আমলে কাসিরের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো, কোনো মুসল্লির এমন কাজে লিপ্ত হওয়া, যার কারণে দূর থেকে কেউ তাকে দেখলে তার মনে প্রবল ধারণা জন্মাবে যে ওই ব্যক্তি নামাজরত নয়। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৪৮৫, ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২৪-৬২৫, বায়েউস সানায়ে : ১/২৪১)

৮.   দুনিয়াবি কোনো বিপদে কিংবা বেদনায় শব্দ করে কাঁদা। (হাশিয়াতু তাহতাবি : ১/৩২৫, ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৯, নুরুল ইজাহ, পৃষ্ঠা ৬৮)

৯.   তিন তাসবিহ পরিমাণ সতর খুলে থাকা। নামাজি ব্যক্তির নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত শরীরের কোনো স্থান যদি তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় অনাবৃত থাকে, তাহলে তার নামাজ ভেঙে যাবে। (ফাতওয়ায়ে শামি : ১/২৭৩, কাফি : ১/২৩৮, মাওয়াহিবুল জলিল : ১/৩৯৮, মুগনিল মুহতাজ : ১/১৮৮, হাশিয়াতুত তাহতাবি : ১/৩৩৭)

    উল্লেখ্য, নারীদের মাথাও সতর। কোনো কারণে মাথার ওড়না সরে গেলে নামাজ ভেঙে যাবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৬৪১, তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৬৫৫)

১০.  মুক্তাদি ছাড়া অন্য ব্যক্তির লোকমা (ভুল সংশোধন) লওয়া। যেমন—ইমাম সাহেব কিরাতে ভুল করছেন, সঙ্গে সঙ্গে নামাজের বাইরের কোনো লোক লোকমা দিলে তা গ্রহণ করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬২২, হিন্দিয়া : ১/৯৮)

১১.  সুসংবাদ বা দুঃসংবাদের প্রত্যুত্তর করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৩, আল বাহরুর রায়েক : ২/২)

১২.  অপবিত্র জায়গায় সিজদা করা। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১১৫, আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৭, তাবয়িনুল হাকায়েক : ১/৯৫)

১৩.  কিবলার দিক থেকে সিনা (বুক) ঘুুরে যাওয়া। তবে অপারগতাবশত যানবাহনে নামাজের ক্ষেত্রে মাসআলা ভিন্ন। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নুরুল ইজাহ : ১/৬৮)

১৪.  নামাজে কোরআন শরিফ দেখে পড়া। (মারাকিল ফালাহ ১/১২৪, হাশিয়াতুত তাহতাবি ১/৩৩৬)। তবে সৌদি আরবের আলেমরা এই মাসআলার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন।

১৫.  নামাজে শব্দ করে হাসা। (কানযুদ্দাকায়েক : ১/১৪০)

১৬.  নামাজে সাংসারিক (দুনিয়াবি) কোনো বিষয় প্রার্থনা করা। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৬১৯, আল বাহরুর রায়েক : ২/৩)। তবে এই মাসআলার ক্ষেত্রে অন্য মাজহাবের ভিন্নমত আছে।

১৭.  হাঁচির জবাব দেওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/১১৭)

১৮.  নামাজরত অবস্থায় খাওয়া ও পান করা। (মারাকিল ফালাহ : ১/১২১, নুরুল ইজাহ : ১/৬৮)

১৯.  ইমামের আগে মুক্তাদি দাঁড়ানো। মুক্তাদির পায়ের গোড়ালি ইমামের আগে চলে গেলে নামাজ ভেঙে যাবে। তবে যদি (দুজনের জামাতে নামাজের ক্ষেত্রে) মুক্তাদি ইমামের পায়ের গোড়ালির পেছনেই দাঁড়ায়, কিন্তু তিনি লম্বা হওয়ার কারণে তাঁর সিজদা ইমামকে অতিক্রম করে যায়, তাহলে তাঁর নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫৯, আল মাবসুত লিস সারাখসি : ১/৪৩)

এখানে নামাজ ভঙ্গের প্রসিদ্ধ ১৯টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও নামাজ ভঙ্গ হওয়ার আরো কারণ আছে। যেমন—কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী পাশে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়া; ইমামের আগে কোনো রুকন আদায় করে ফেলা; ইচ্ছাকৃত অজু ভাঙার মতো কোনো কাজ করে ফেলা; পাগল, মাতাল কিংবা অচেতন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নামাজ ভঙ্গের কারণ।

বিডি-প্রতিদিন/

11
Salad / ধনে পাতার গুণাগুণ
« on: December 20, 2021, 12:29:58 PM »
ধনে পাতা পছন্দ করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। সেই প্রাচীন কাল থেকে রান্নাকৃত খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মসলা ব্যবহার হয়ে আসছে। ধনে পাতা খাদ্যের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। ধনে শীতকালে চাষ করা হয়। শীত কালে বাজারে গেলে অন্য তরকারীর সাথে খানিক ধনে পাতা কিনতে কেউ বেশ একটা ভুলে যায় না। এই সময়ে বাজারের ফর্দে ধনে পাতার নাম থাকেই থাকে। ধনের আদি নিবাস ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চল হলেও আমাদের দেশের সব এলাকাতেই কম বেশী ধনে চাষ করা হয়। অন্তত ধনে পাতা খাওয়ার জন্য বাড়ির আশপাশে অল্প হলেও ধনে চাষ হয়। ধনে পাতার ঘ্রাণ সবার প্রিয়। আমরা শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই ধনে পাতা খেয়ে থাকি। শীতকাল ছাড়াও রান্নায় সমলা হিসাবে সারা বছরই ধনের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। আমরা ধনে কে মসলা হিসেবে চিনি। কিন্তু মহান আল্লাহ ধনে সহ প্রত্যেক খাবার, মসলা সব কিছুতেই আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকার রেখে দিয়েছেন। আমরা যখন যে খাবার গ্রহন করি তার উপকার জানতে পারলে মাওলার শুকরিয়া আদায় করা আরো আমাদের জন্য সহজ হবে । ধনে পাতায় রয়েছে ১১ প্রকার আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় তেল, ৬ প্রকার এ্যাসিড, এলকোহল, তারপিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, ভিটামিন কে, ফসফরাস, প্রোটিন, থায়ামিন, বিরোফ্লাবিন, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ক্লোরিন, জিংক, ক্যালসিয়াম। এতে রয়েছে পলিফেনল ও ফাইটোকেমিকেল যা এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

১। উচ্চ রক্তচাপ: ধনে পাতা ভর্তা করে ২-৩ ঘন্টা পর পর খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকবে।
২। কোলেস্টেরল: ধনে পাতা নিয়মিত খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় এবং ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। যকৃতকে সবল রাখে ফলে হজম শক্তি বেড়ে যায়।
৩। ডায়াবেটিস: ধনে পাতা খাওয়ায় ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিসে উপকার করে।

৪। এলার্জি: ধনে পাতায় এন্টি হিস্টামিন রয়েছে। নিয়মিত ধনে পাতা খেলে এলার্জির থেকে বেঁচে থাকা যায়। আশ্চর্য হলেও সত্য যে আল্লাহ তায়ালা ধনে পাতা শীত কালে দিয়েছেন। আর শীত কালেই এলার্জির সবচেয়ে বেশী প্রভার থাকে। বান্দা যাতে সহজেই এ রোগ থেকে বাঁচতে পারে, আল্লাহ তায়ালা এই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

৫। চোখের রোগ: ধনে পাতায় প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ রয়েছে। যা আমাদের চোখের পুষ্টি জুগিয়ে চোখকে রোগ মুক্ত রাখে। রাত কানা রোগেও ধনে পাতা উপকারী।
৬। অরুচি: ধনে পাতা তরকারীকে সুস্বাদু করে। আর ধনে পাতার চাটনীও খুব সুস্বাদু। ধনে পাতার ভর্তা রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

৭। কিডনি ভাল রাখতে: প্রতিদিন ধনে পাতার শরবত খেলে কিডনি ভাল থাকে। ধনে পাতায় থাকা উপাদান কিডনিতে জমে থাকা ক্ষতিকর লবন ও বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের সাথ বের করে দিয়ে কিডনিকে রাখে সবল।

৮। মুখে আলসার: ধনে পাতায় থাকা এন্টিসেপটিক মুখের আলসার ভাল করে দেয়।
৯। যৌনশক্তি: মধুর সাথে মিশিয়ে ধনে পাতার চাটনি খেলে প্রাকৃতিক ভাবেই যৌনশক্তি বেড়ে যায়।
১০। মুখের দুর্গন্ধ: মুখে যাদের দুর্গন্ধ হয়, অন্যের সামনে যাওয়া তাদের জন্য খুব বিব্রতকর। কাঁচা ধনে পাতা চিবিয়ে খান মুখের দুর্গন্ধ বিদায় নেবে।

১১। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: ধনে পাতা স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করে। মস্তিস্কের নার্ভকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
১২। রক্তশূন্যতা: ধনে পাতায় থাকা আয়রণ রক্তশূন্যতা দুর করতে সাহায্য করে।
১৩। অর্শ রোগে: অর্শ রোগে ধনে পাতা বেটে রস খেলে অর্শ রোগের রক্ত পড়া বন্ধ হতে সাহায্য করে।
১৪। ঋতুস্রাব: ঋতুস্রাবের সময় স্রাব স্বাভাবিক হওয়ার জন্য ধনে পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে স্রাবের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।

১৪। ক্যান্সার নিরাময়: ধনে পাতায় থাকা উপাদান ফুসফুস ও পাকস্থলীল ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।
১৫। হাড় মজবুত: ধনে পাতা দেহের হাড়কে মুজবুত করে। শরীরের বাত ব্যথা সারায় ধনে পাতা। ধনে পাতা সিদ্ধ করে পানি খেলে বাত রোগে উপকার পাওয়া যায়। ধনে পাতায় এন্টিরিউম্যাটিক ও এন্টি আথ্রাইটিস বিদ্যমান। ধনে পাতা ত্বকের জ¦ালাপোড়া ও ফুলে যাওয়া কমিয়ে দেয়।

১৬। দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া: ধনে পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতেরও উপকার হয়। এমনকি দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। মুখের ভিতরের নরম অংশকে রক্ষা করে। মুখ গহবরের ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। ধনে পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতের মাড়িও শক্ত হয়।
১৭। হজম শক্তি বৃদ্ধি: ধনে পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। পেট ফাঁপা দুর করে। পাকস্থলির বিভিন্ন সমস্যা দুর করে।

১৮। অনিদ্রা: নিয়মিত ধনে পাতা খেলে নিদ্রাহীনতা ও উদ্বেগ উৎকন্ঠা দুর হয়ে যায়।
১৯। এন্টিবায়োটিক ও এন্টি অক্সিডেন্ট: ধনে পাতায় এন্টিবায়োটিক ও এন্টি অক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে। তাই এটা রোগপ্রতিরোধেও সাহায্য করে।
২০। সালমোনেলা রোগ: এই রোগ খাবারের মাধ্যমে সৃষ্ট এক ভয়াবহ রোগ, যাকে সাধারনত টাইফয়েড নামেই সবাই চেনে। ধনে পাতায় থাকা উপাদান এই রোগ সারাতে এন্টিবায়োটিকের সাথে কাজ করে।
২১। বসন্ত: ধনে পাতায় থাকা উপাদান বসন্ত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে।

২২। রূপচর্চা: ধনে পাতা যেমন খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে। তেমনি রূপচর্চায়ও কাজে লাগে। যাদের ঠোটে কালো দাগ আছে। মানুষের সামনে যেতে বিব্রত বোধ করেন। তারা রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ধনে পাতার রসের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ঠোটে লাগান। এভাবে একমাস ব্যবহার করলে ঠোটের কাল দাগ দুর হয়ে যাবে। ঠোটও কোমল হবে।

সাবধানতা: ধনে পাতার অনেক গুনাগুন থাকলেও খুব বেশী পরিমাণে একসাথে খাওয়া ঠিক নয়। সব সময় স্বাভাবিক পরিমাণ খাওয়াই উচিত নতুবা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হিতে বিপরিত হতে পারে।

Source:https://www.dailyinqilab.com/article/444958/%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3

12
আমরা সবাই জানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন কি ধরণের ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আমরা ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছি।
তবে আমরা যখন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশপাশি ভিটামন সি সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছি তখন তৈরি হয় আরও অনেক সমস্যা।

তবে অন্যান্য খাবারের মত বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়া শরীরের অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বেশি খাওয়ার যে একটা খারাপ দিক আছে সে বিষয়টা মানুষ ভুলে যায়। শরীরের জন্য ভিটামিন সি কতটা প্রয়োজন সে সম্পর্কে না জানা খাওয়া ঠিক নয়।

গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিনি ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া উচিত, উপরে ২ হাজার মিলিগ্রাম। একটি কমলায় প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, সুতরাং দিনে দুইটি কমলা খেলে শরীরে চাহিদা পূরণ হয়েও আরও বেশি হয়।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

ডায়রিয়া

পেটে ব্যাথা

বমি বমি ভাব

অনিদ্রা

ভিটামিন সি গ্রহণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট করাও আপনার জন্য জরুরি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

13
নামাজে দাঁড়িয়ে অনেক সময় এলোমেলো চিন্তা আসে। আমার মনে আছে অনেক কিছুই। মাঝে মাঝে নামাজের রাকাত সংখ্যা ভুল হয়ে যায়। নামাজে অমনোযোগে অনেকে আক্রান্ত হন। একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে 'শয়তানের ছিনতাই' বলেছেন।

এ ব্যাপারে ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালি (রহঃ) তার বিখ্যাত ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এতে তিনি ছয়টি বিষয়ের কথা বর্ণনা করেন, যেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিলে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
#নামাজে_হৃদয়ের_উপস্থিতি_ও_একাগ্রতাঃ

একাগ্রতা নামাজের প্রাণ। রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তাকে তুমি দেখতে পাচ্ছো। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০; মুসলিম, হাদিস : ৮)

মানুষের মন কখনই অলস হয় না। এবং যখন নামাজে দাঁড়ালে, শয়তান বারবার লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় বিভিন্ন দিকে। তবে আপনাকে যেভাবেই ফোকাস ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয়। সুতরাং প্রার্থনার শুরু থেকে শেষ অবধি, "আল্লাহ আমাকে দেখছেন" এই ধারণাকে (উচ্চারণ ছাড়াই) ধরে রাখার অনুশীলন করুন।

দাঁড়ানো থেকে রুকুতে যাওয়ার আগে, রুকু থেকে সেজদায় যাওয়ার আগে কিংবা সেজদা থেকে বসার আগে, প্রত্যেক অবস্থান পরিবর্তনের পূর্বে মনের অবস্থাটা দেখে নিন যে কল্পনাটা আছে কি না; যদি না থাকে তাহলে আবার নিয়ে আসুন। এভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে নামাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।

রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে (একাগ্রতার সঙ্গে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, (অন্য বর্ণনায় এসেছে, যেই নামাজে ওয়াসওয়াসা স্থান পায় না) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ১৫১; বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)

(অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)।
#বিশুদ্ধ_উচ্চারণে_পড়ার_চেষ্টাঃ

এটি হৃদয়ের ঘনত্বকে শক্তিশালী করে। কমপক্ষে সূরা ফাতিহা ও তাসবিহ এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘স্পষ্ট করে ধীরে ধীরে কোরআন তেলাওয়াত করুন।’ (সূরাতুল মুযযাম্মিল: ৪) বর্ণিত হয়েছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারতাল দিয়ে প্রত্যেক সূরা তেলাওয়াত করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৩, তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৩)

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুটি ভাগে ভাগ করেছি। চাকর আমার কাছ থেকে যা চাইবে তা পাবে। আমার বান্দা যখন বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বের মালিক। অতঃপর আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করেছেন।’ যখন তিনি বলেন, ‘পরম দয়ালু পরম করুণাময়। তখন আল্লাহ বললেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করলেন’। যখন বলা হবে, কেয়ামতের মালিক। তখন আল্লাহ বললেন, বান্দা আমাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। যখন তারা বলে, "আমরা কেবল আপনারই উপাসনা করি এবং কেবল আপনার সাহায্য প্রার্থনা করি।" আল্লাহ বলেন, ‘এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে আর আমার বান্দা যা চাইবে, তাই পাবে।’ যখন বলে, আপনি আমাদের সরল পথপ্রদর্শন করুন। এমন ব্যক্তিদের পথ, যাদের আপনি পুরস্কৃত করেছেন। তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। আল্লাহতায়ালা তখন বলেন, ‘এটা আমার বান্দার জন্য আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তাই পাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৯৫; মিশকাত, হাদিস : ৮২৩)
#নামাজে_আল্লাহর_প্রতি_শ্রদ্ধা_প্রদর্শনঃ

আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা বিনীতভাবে আল্লাহর সম্মুখে দণ্ডায়মান হও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৮)

কাজেই নামাজে ধীর-স্থিরতা অবলম্বন জরুরি। আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নামাজে চুরি করে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামাজে কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, ‘যে রুকু-সেজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না’। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৮৫)
#নামাজে_আল্লাহতায়ালাকে_ভয়_করাঃ

প্রতিটি নামাজই হতে পারে জীবনের শেষ নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে জনৈক ব্যক্তি সংক্ষিপ্ত উপদেশ কামনা করলে তিনি তাকে বলেন, ‘যখন তুমি নামাজে দণ্ডায়মান হবে, তখন এমনভাবে নামাজ আদায় করো, যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ নামাজ।’ (ইবনু মাজাহর বরাতে মিশকাত, হাদিস : ৫২২৬)
#নামাজের_মাধ্যমে_কল্যাণ_আশা_করাঃ

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫) তাই প্রতিটি নামাজি ব্যক্তির এই বিশ্বাস রাখা চাই যে, আল্লাহ আমার প্রতিটি প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ নামাজে দাঁড়ালে সে মূলত তার প্রভুর সঙ্গে কথোপকথন করে। তাই সে যেন দেখে কীভাবে সে কথোপকথন করছে।’ (মুস্তাদরাক হাকিম; সহিহুল জামে, হাদিস : ১৫৩৮)
#নিজের_গুনাহর_কথা_চিন্তা_করাঃ

আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার কথা ভেবে নিজের ভেতর অনুশোচনা নিয়ে আসুন। দণ্ডায়মান অবস্থায় একজন অপরাধীর মতো মস্তক অবনত রেখে দৃষ্টিকে সিজদার স্থানের দিকে নিবদ্ধ রাখুন। রাসূল (সাঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন।’ (তাফসিরে তাবারি : ৯/১৯৭)

ওপরের ছয়টি বিষয় অনুসরণ করলে নামাজে মনোযোগ তৈরি হবে। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের সময় হলে সুন্দরভাবে অজু করে এবং একাগ্রতার সঙ্গে সুন্দরভাবে রুকু-সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করে, তার এ নামাজ আগের সব গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর এ সুযোগ তার সারা জীবনের জন্য।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৮; মিশকাত, হাদিস : ২৮৬)


সূত্র:https://islamicknowledage24.blogspot.com/2021/01/blog-post_18.html

14
Islam & Science / মুমিনের গুণাবলি
« on: December 02, 2021, 11:49:00 AM »
একজন মানুষ ঈমান গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের ছায়াতলে এসে মূলত আল্লাহর প্রিয় বন্ধু ও অধিনস্থ হয়ে যায়। যেমনটি স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কুরআনুল কারীমেই বলেছন: আল্লাহই হচ্ছেন তাদের অভিভাবক যারা ঈমান এনেছে, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে আসেন। আর যারা ঈমান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে তাদের পৃষ্ঠপোষক হলো তাগুত তথা পথভ্রষ্ট শাসকরা যারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়,বস্তুতঃ তারাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী তারা সেখানে চিরকাল বসবাস করবে’। (সূরা বাকারা ২৫৭)।

উক্ত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, স্রেফ জন্মসূত্রে বা কালিমা পড়ে ঈমান গ্রহণ করলেই প্রকৃত মুমিন হওয়া সম্ভব নয়, বরং মুমিনের যথাযথ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য যতক্ষণ না নিজের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে ততক্ষণ আল্লাহর ভাষায় প্রকৃত মুমিন হওয়া যাবেনা। অতএব আমাদেরকে যেসব গুনে গুণান্বিত হতে হবে সেগুলোর অন্যতম হলো: সন্দেহমুক্ত দৃঢ় ঈমান এবং আল্লাহর পথে সংগ্রাম ও সৎকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত ঈমানের প্রমাণ উপস্থাপন। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ বলেন : ‘প্রকৃত মুমিন তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তাতে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করে না এবং তাদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। বস্ত্ততঃপক্ষে তারাই হ’ল সত্যনিষ্ঠ’ (হুজুরাত ১৫)।
উল্লেখ্য:-‘জিহাদ’ অর্থ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। যা কথা, কলম, সংগঠন তথা সার্বিকভাবেই হয়ে থাকে। সশস্ত্র জিহাদও এর মধ্যে শামিল। যুগে যুগে উদ্ভূত শিরকী দর্শনচিন্তা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তাওহীদভিত্তিক দর্শনচিন্তা ও সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশ সাধনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করাই হ’ল ইসলামের চিরন্তন জিহাদ। স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে যা সর্বদা সর্বত্র প্রযোজ্য। সেদিকে ইঙ্গিত করেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জিহাদ করো মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল দ্বারা, জান দ্বারা ও যবান দ্বারা’। (আবুদাঊদ ২৫০৪)।
কুরআনের সর্বত্র জিহাদের বর্ণনায় আল্লাহ প্রথমে মালের কথা এনেছেন। কারণ জিহাদে প্রথম মালের প্রয়োজন হয়। মুমিনের আরোও সাতটি গুণ বর্ণনা করে সূরা মু’মিনুনে আল্লাহ বলেন, ‘সফলকাম হলো ঐসব মুমিন’ (১) ‘যারা তাদের সালাতে গভীরভাবে মনোযোগী’ (২) ‘যারা অনর্থক ক্রিয়া-কর্ম এড়িয়ে চলে’ (৩) ‘যারা সঠিকভাবে যাকাত আদায় করে’ (৪) ‘যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’ (৫) ‘নিজেদের স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত। কেননা এসবে তারা নিন্দিত হবে না’ (৬) ‘অতঃপর এদের ব্যতীত যারা অন্যকে কামনা করে, তারা হলো সীমা লংঘনকারী’ (৭) ‘আর যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে’ (৮) ‘যারা তাদের সালাত সমূহের হেফাযত করে’ (৯) ‘তারাই হলো উত্তরাধিকারী’ (১০) ‘যারা উত্তরাধিকারী হবে ফেরদৌসের। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’ (মুমিনূন ১-১১)।
উপরোক্ত আয়াতগুলিতে মুমিনের ৭টি গুণ বর্ণিত হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ হলো ‘তারা সালাতে গভীরভাবে মনোযোগী’। তারা খুশূ-খুযূর সাথে তন্ময়-তদ্গতভাবে সালাত আদায় করে। এর বিপরীতে কুরআনের অন্যত্রে আরও দু’প্রকার মুসল্লীর কথা এসেছে। একদল মুসল্লী হলো ‘উদাসীন’ আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ ওইসব মুছল্লীর জন্য, যারা তাদের সালাতে উদাসীন’ (সূরা মাঊন : ৫)। অন্য একদল মুসল্লী হলো ‘অলস’ এটা হলো মুনাফিকদের সালাত। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়’ (সূরা নিসা : ১৪২)। আয়াতদৃষ্টে বুঝা যায় যে, উদাসীন ও অলস মুসল্লীরা জাহান্নামী হবে এবং কেবল মনোযোগী মুসল্লীরাই জান্নাতী হবে। আর তারাই হলো সফলকাম মুমিন। কেননা হৃদয় মনোযোগী হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মনোযোগী হয়। আর উভয়ের সহযোগে কর্ম সফল হয়। হৃদয়ের টান ও আকর্ষণ না থাকলে কোন কর্মই যথার্থ হয় না। আর আল্লাহর কাছেও তা কবুল হয় না।
সাতগুণের আরোও একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো লজ্জাস্থানের হেফাজত করা : এবিষয়ে রাসূল সা. বর্ণনা করেছন,’যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে, আমি তাঁর জান্নাতের যিম্মাদার। (সহীহ বুখারী : ৬৪৭৪)। দুনিয়াতে যত ফিতনা ফাসাদ ও অপকর্ম সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে জিহ্বা ও লজ্জা স্থানের দ্বারা । এ দুটোকে যে সংযত করবে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ।
কাফিরদের সাথে শক্ত দিল আর মুমিনদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরন করবে। যেমন: মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে আপোষহীন’ এবং নিজেরা পরস্পর দয়া পরবশ। (সুরা ফাতহ : ২৯)।
অন্যদের উপাস্যকে গালি না দেয়া: আর ( হে ঈমানদারগণ!) এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিয়ো না। (সূরা আনআম : ১০৮)। সঠিকভাবে ওজন করা, ওজনে কম না দেয়া। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। (সূরা মুতাফ্ফিফীন : ১)। তোমরা ওজন ও পরিমাপে পুরোপুরি ইনসাফ করো (সূরা আনআম : ১৫২)।
মানুষকে সৎ কাজের উপদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া : আল্লাহ বলেন ‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে এবং অসৎ কাজে বাঁধা দিবে,আর আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। (সূরা আলে ইমরান ১১০)। আল্লাহ তাআ’লা আমাদের এসকল গুণে গুণান্বিত করুন।

Source:https://www.dailyinqilab.com

15
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের নাম রাখা হয়েছে ‘ওমিক্রন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে নতুন ভেরিয়েন্টটির নামকরণ করা হয়।
ডব্লিউএইচ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন। প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

হু কর্মকর্তা মারিয়া ভ্যান কারখোভে বলেন, ‘এই রূপ সম্পর্কে এখনো বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তবে যতটুকু জেনেছি, তা থেকে বলতে পারি, এত বার মিউটেশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মানেই ভাইরাসের কার্যক্ষমতায় এর প্রভাব পড়তে পারে।’

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ধরনটি।

করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে ইউরোপের দেশগুলোতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই শনাক্ত হলো ওমিক্রন। একে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলা করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহামারির শুরুর দিকে তুলনামূলক দুর্বল আলফা, বেটা ও গামা ধরনও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

বিডি-প্রতিদিন/

Pages: [1] 2 3 ... 28