Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Talukdar Rasel Mahmud

Pages: 1 2 3 [4] 5
46
[/size]
এ মৌসুমে দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। আর বজ্রপাতের কারণে এ সময় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ লেখায় দেওয়া হলো কয়েকটি উপায়, যা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সহায়ক হবে। এক নিবন্ধে বিষয়টি জানিয়েছে উইকিহাউ।
১. দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নিন
ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা যাবে না। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো একটি পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারলে।
২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকুন
কোথাও বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এসব স্থানে আশ্রয় নেবেন না। খোলা স্থানে বিচ্ছিন্ন একটি যাত্রী ছাউনি, তালগাছ বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।
৩. জানালা থেকে দূরে থাকুন
বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।
৪. ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না
বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলো স্পর্শ করেও বহু মানুষ আহত হয়।
৫. বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে সাবধান
বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ  বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।
৬. গাড়ির ভেতর থাকলে...
বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। গাড়ির ভেতরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। গাড়ির কাচেও হাত দেবেন না।
৭. খোলা ও উঁচু জায়গা থেকে সাবধান
এমন কোনো স্থানে যাবেন না, যে স্থানে আপনিই উঁচু। বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যান। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু কোনো স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যান।
৮. পানি থেকে সরুন
বজ্রপাতের সময় আপনি যদি ছোট কোনো পুকুরে সাঁতার কাটেন বা জলাবদ্ধ স্থানে থাকেন তাহলে সেখান থেকে সরে পড়ুন। পানি খুব ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী।
৯. পরস্পর দূরে থাকুন
কয়েকজন মিলে খোলা কোনো স্থানে থাকাকালীন যদি বজ্রপাত শুরু হয় তাহলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যান। কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।
১০. নিচু হয়ে বসুন
যদি বজ্রপাত হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ রাখুন। কিন্তু মাটিয়ে শুয়ে পড়বেন না। মাটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
১১. বজ্রপাতের আগ মুহূর্তের লক্ষণ জানুন
আপনার উপরে বা আশপাশে বজ্রপাত হওয়ার আগের মুহূর্তে কয়েকটি লক্ষণে তা বোঝা যেতে পারে। যেমন বিদ্যুতের প্রভাবে আপনার চুল খাড়া হয়ে যাবে, ত্বক শিরশির করবে বা বিদ্যুৎ অনুভূত হবে। এ সময় আশপাশের ধাতব পদার্থ কাঁপতে পারে। অনেকেই এ পরিস্থিতিতে ‘ক্রি ক্রি’ শব্দ পাওয়ার কথা জানান। আপনি যদি এমন পরিস্থিতি অনুভব করতে পারেন তাহলে দ্রুত বজ্রপাত হওয়ার প্রস্তুতি নিন।
১২. রবারের বুট পরুন
বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা সবচেয়ে নিরাপদ।
১৩. বাড়ি সুরক্ষিত করুন
আপনার বাড়িকে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। এজন্য আর্থিং সংযুক্ত রড বাড়িতে স্থাপন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিতে হবে। ভুলভাবে স্থাপিত রড বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
১৪. বজ্রপাতে আহত হলে
বজ্রপাতের সময় আশপাশের মানুষের খবর রাখুন। কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ সময় বজ্রাহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন।

Collected from: কালের কণ্ঠ অনলাইন
- See more at: http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2015/04/06/207399#sthash.vHiYTz5t.dpuf



47
Law of Bangladesh / Re: Forthcoming laws
« on: April 08, 2015, 04:05:43 PM »
We are experiencing many new enactments in each session of parliament...but we rarely see its enforcements.

48
Law of Bangladesh / Re: Remedy for negligence
« on: April 08, 2015, 04:00:26 PM »
Informative write up....but I think the punishment(fine) for negligence under Penal Code is inadequate. So, it should be amended & the amount of fine should be up to date. :)

49
Law / Re: Endorsing anti-trafficking law
« on: April 08, 2015, 03:53:09 PM »
Public awareness campaign may minimize human trafficking, but at the same time we need a strong legal mechanism which will include exemplary punishment to the criminals. I don't know whether “The Prevention and Suppression of Human Trafficking Act 2012”  has been passed in the Parliament yet.

50
Merely separation has been made in 2007...but it is still in a chain to some extent.

51
Alarming issues...Need of proper precautionary measures.

52
Law / Re: Freedom of expression: A myth or a right?
« on: April 08, 2015, 12:47:26 PM »
Very analytical piece of write up... as freedom of expression is conditional right. So we think these conditions should be revisited in context religious harmony.

53
Interesting story indeed. In fact folk story reflects the societal class interaction of that time & to some extent tabu as well.

54

প্রথম পরিচ্ছেদ
অনেক অবস্থান্তরের পর অবশেষে গতযৌবনা ক্ষীরোদা যে পুরুষের আশ্রয় প্রাপ্ত হইয়াছিল, সেও তাহাকে জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করিয়া গেল। তখন অন্নমুষ্টির জন্য দ্বিতীয় আশ্রয় অন্বেষণের চেষ্টা করিতে তাহার অত্যন্ত ধিক্কার বোধ হইল। যৌবনের শেষে শুভ্র শরৎকালের ন্যায় একটি গভীর প্রশান্ত প্রগাঢ় সুন্দর বয়স আসে যখন জীবনের ফল ফলিবার এবং শস্য পাকিবার সময়। তখন আর উদ্দাম যৌবনের বসন্তচঞ্চলতা শোভা পায় না। তত দিনে সংসারের মাঝখানে আমাদের ঘর বাঁধা একপ্রকার সাঙ্গ হইয়া গিয়াছে; অনেক ভালো-মন্দ, অনেক সুখদুঃখ, জীবনের মধ্যে পরিপাক প্রাপ্ত হইয়া অন্তরের মানুষটিকে পরিণত করিয়া তুলিয়াছে; আমাদের আয়ত্তের অতীত কুহকিনী দুরাশার কল্পনালোক হইতে সমস্ত উদ্ভ্রান্ত বাসনাকে প্রত্যাহরণ করিয়া আপন ক্ষুদ্র ক্ষমতার গৃহপ্রাচীরমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি; তখন নূতন প্রণয়ের মুগ্ধদৃষ্টি আর আকর্ষণ করা যায় না, কিন্তু পুরাতন লোকের কাছে মানুষ আরো প্রিয়তর হইয়া উঠে। তখন যৌবনলাবণ্য অল্পে অল্পে বিশীর্ণ হইয়া আসিতে থাকে, কিন্তু জরাবিহীন অন্তর-প্রকৃতি বহুকালের সহবাসক্রমে মুখে চক্ষে যেন স্ফুটতর রূপে অঙ্কিত হইয়া যায়, হাসিটি দৃষ্টিপাতটি কণ্ঠস্বরটি ভিতরকার মানুষটির দ্বারা ওতপ্রোত হইয়া উঠে। যাহা কিছু পাই নাই তাহার আশা ছাড়িয়া, যাহারা ত্যাগ করিয়া গিয়াছে তাহাদের জন্য শোক সমাপ্ত করিয়া, যাহারা বঞ্চনা করিয়াছে তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া - যাহারা কাছে আসিয়াছে, ভালোবাসিয়াছে, সংসারের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা শোকতাপ বিচ্ছেদের মধ্যে যে-কয়টি প্রাণী নিকটে অবশিষ্ট রহিয়াছে, তাহাদিগকে বুকের কাছে টানিয়া লইয়া - সুনিশ্চিত সুপরীক্ষিত চিরপরিচিতগণের প্রীতিপরিবেষ্টনের মধ্যে নিরাপদ নীড় রচনা করিয়া, তাহারই মধ্যে সমস্ত চেষ্টার অবসান এবং সমস্ত আকাঙ্খার পরিতৃপ্তি লাভ করা যায়।
যৌবনের সেই স্নিগ্ধ সায়াহ্নে জীবনের সেই শান্তিপর্বেও যাহাকে নূতন সঞ্চয়, নূতন পরিচয়, নূতন বন্ধনের বৃথা আশ্বাসে নূতন চেষ্টায় ধাবিত হইতে হয় - তখনও যাহার বিশ্রামের জন্য শয্যা রচিত হয় নাই, যাহার গৃহপ্রত্যাবর্তনের জন্য সন্ধ্যাদীপ প্রজ্বলিত হয় নাই - সংসারে তাহার মতো শোচনীয় আর কেহ নাই।
ক্ষীরোদা তাহার যৌবনের প্রান্তসীমায় যেদিন প্রাতঃকালে জাগিয়া উঠিয়া দেখিল তাহার প্রণয়ী পূর্বরাত্রে তাহার সমস্ত অলংকার ও অর্থ অপহরণ করিয়া পলায়ন করিয়াছে, বাড়িভাড়া দিবে এমন সঞ্চয় নাই - তিন বৎসরের শিশু পুত্রটিকে দুধ আনিয়া খাওয়াইবে এমন সংগতি নাই - যখন সে ভাবিয়া দেখিল, তাহার জীবনের আটত্রিশ বৎসরে সে একটি লোককেও আপনার করিতে পারে নাই, একটি ঘরের প্রান্তেও বাঁচিবার ও মরিবার অধিকার প্রাপ্ত হয় নাই - যখন তাহার মনে পড়িল, আবার আজ অশ্রুজল মুছিয়া দুই চক্ষে অঞ্জন পরিতে হইবে, অধরে ও কপোলে অলক্তরাগ চিত্রিত করিতে হইবে, জীর্ণ যৌবনকে বিচিত্র ছলনায় আচ্ছন্ন করিয়া হাস্যমুখে অসীম ধৈর্য-সহকারে নূতন হৃদয়-হরণের জন্য নূতন মায়াপাশ বিস্তার করিতে হইবে - তখন সে ঘরের দ্বার রুদ্ধ করিয়া ভূমিতে লুটাইয়া বারংবার কঠিন মেঝের উপর মাথা খুঁড়িতে লাগিল - সমস্ত দিন অনাহারে মুমূর্ষুর মতো পড়িয়া রহিল।
সন্ধ্যা হইয়া আসিল। দীপহীন গৃহকোণে অন্ধকার ঘনীভূত হইতে লাগিল। দৈবক্রমে একজন পুরাতন প্রণয়ী আসিয়া "ক্ষীরো" "ক্ষীরো" শব্দে দ্বারে করাঘাত করিতে লাগিল। ক্ষীরোদা অকস্মাৎ দ্বার খুলিয়া ঝাঁটা হস্তে বাঘিনীর মতো গর্জন করিয়া ছুটিয়া আসিল; রসপিপাসু যুবকটি অনতিবিলম্বে পলায়নের পথ অবলম্বন করিল।
ছেলেটা ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদিয়া কাঁদিয়া খাটের নীচে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল, সেই গোলমালে জাগিয়া উঠিয়া অন্ধকারের মধ্য হইতে ভগ্নকাতর কণ্ঠে 'মা' 'মা' করিয়া কাঁদিতে লাগিল।
তখন ক্ষীরোদা সেই রোরুদ্যমান শিশুকে প্রাণপণে বক্ষে চাপিয়া ধরিয়া বিদ্যুদ্বেগে ছুটিয়া নিকটবর্তী কূপের মধ্যে ঝাঁপাইয়া পড়িল।
শব্দ শুনিয়া আলো হস্তে প্রতিবেশীগণ কূপের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইল। ক্ষীরোদা এবং শিশুকে তুলিতে বিলম্ব হইল না। ক্ষীরোদা তখন অচেতন এবং শিশুটি মরিয়া গেছে।
হাসপাতালে গিয়া ক্ষীরোদা আরোগ্যলাভ করিল। হত্যাপরাধে ম্যাজিস্ট্রেট তাহাকে সেসনে চালান করিয়া দিলেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
জজ মোহিতমোহন দত্ত স্ট্যাট্যুটরি সিভিলিয়ান। তাঁহার কঠিন বিচারে ক্ষীরোদার ফাঁসির হুকুম হইল। হতভাগিনীর অবস্থা বিবেচনা করিয়া উকিলগণ তাহাকে বাঁচাইবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য হইলেন না। জজ তাহাকে তিলমাত্র দয়ার পাত্রী বলিয়া মনে করিতে পারিলেন না।
না পারিবার কারণ আছে। এক দিকে তিনি হিন্দুমহিলাগণকে দেবী আখ্যা দিয়া থাকেন, অপর দিকে স্ত্রীজাতির প্রতি তাঁহার আন্তরিক অবিশ্বাস। তাঁহার মত এই যে, রমণীগণ কুলবন্ধন ছেদন করিবার জন্য উন্মুখ হইয়া আছে, শাসন তিলমাত্র শিথিল হইলেই সমাজপিঞ্জরে একটি কুলনারীও অবশিষ্ট থাকিবে না।
তাঁহার এরূপ বিশ্বাসেরও কারণ আছে। সে কারণ জানিতে গেলে মোহিতের যৌবন ইতিহাসের কিয়দংশ আলোচনা করিতে হয়।
মোহিত যখন কালেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়িতেন তখন আকারে এবং আচারে এখনকার হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রকারের মানুষ ছিলেন। এখন মোহিতের সম্মুখে টাক, পশ্চাতে টিকি, মুণ্ডিত মুখে প্রতিদিন প্রাতঃকালে খরুরধারে গুম্ফশ্মশ্রু অঙ্কুর উচ্ছেদ হইয়া থাকে; কিন্তু তখন তিনি সোনার চশমায়, গোঁফদাড়িতে এবং সাহেবি ধরনের কেশবিন্যাসে ঊনবিংশ শতাব্দীর নূতন সংস্করণ কার্তিকটির মতো ছিলেন। বেশভূষায় বিশেষ মনোযোগ ছিল, মদ্যমাংসে অরুচি ছিল না এবং আনুষঙ্গিক আরো দুটো একটা উপসর্গ ছিল।
অদূরে একঘর গৃহস্থ বাস করিত। তাহাদের হেমশশী বলিয়া এক বিধবা কন্যা ছিল। তাহার বয়স অধিক হইবে না। চৌদ্দ হইতে পনেরোয় পড়িবে।
সমুদ্র হইতে বনরাজিনীলা তটভূমি যেমন রমণীয় স্বপ্নবৎ চিত্রবৎ মনে হয় এমন তীরের উপর উঠিয়া হয় না। বৈধব্যের বেষ্টন-অন্তরালে হেমশশী সংসার হইতে যেটুকু দূরে পড়িয়াছিল, সেই দূরত্বের বিচ্ছেদ-বশত সংসারটা তাহার কাছে পরপারবর্তী পরমরহস্যময় প্রমোদভবনের মতো ঠেকিত। সে জানিত না এই জগৎ যন্ত্রটার কলকারখানা অত্যন্ত জটিল এবং লৌহকঠিন - সুখে দুঃখে, সম্পদে বিপদে, সংশয়ে সংকটে ও নৈরাশ্যে পরিতাপে বিমিশ্রিত। তাহার মনে হইত, সংসারযাত্রা কলনাদিনী নির্ঝরিণীর স্বচ্ছ জলপ্রবাহের মতো সহজ, সম্মুখবর্তী সুন্দর পৃথিবীর সকল পথগুলিই প্রশস্ত ও সরল, সুখ কেবল তাহার বাতায়নের বাহিরে এবং তৃপ্তিহীন আকাঙ্খ কেবল তাহার বক্ষপঞ্জরবর্তী স্পন্দিত পরিতপ্ত কোমল হৃদয়টুকুর অভ্যন্তরে। বিশেষত, তখন তাহার অন্তরাকাশের দূর দিগন্ত হইতে একটা যৌবনসমীরণ উচ্ছ্বসিত হইয়া বিশ্বসংসারকে বিচিত্র বাসন্তী শ্রীতে বিভূষিত করিয়া দিয়াছিল, সমস্ত নীলাম্বর তাহার হৃদয়হিল্লোলে পূর্ণ হইয়া গিয়াছিল এবং পৃথিবী যেন তাহারই সুগন্ধ মর্মকোষের চতুর্দিকে রক্তপদ্মের কোমল পাপড়িগুলির মতো স্তরে স্তরে বিকশিত হইয়াছিল।
ঘরে তাহার বাপ মা এবং দুটি ছোটো ভাই ছাড়া কেহ ছিল না। ভাই দুটি সকাল সকাল খাইয়া ইস্কুলে যাইত, আবার ইস্কুল হইতে আসিয়া আহারান্তে সন্ধ্যার পর পাড়ার নাইট ইস্কুলে পাঠ অভ্যাস করিতে গমন করিত। বাপ সামান্য বেতন পাইতেন, ঘরে মাস্টার রাখিবার সামর্থ্য ছিল না।
কাজের অবসরে হেম তাহার নির্জন ঘরে আসিয়া বসিত। একদৃষ্টে রাজপথের লোক চলাচল দেখিত; ফেরিওয়ালা করুণ উচ্চস্বরে হাঁকিয়া যাইত, তাহাই শুনিত; এবং মনে করিত পথিকেরা সুখী, ভিক্ষুকেরাও স্বাধীন এবং ফেরিওয়ালারা যে জীবিকার জন্য সুকঠিন প্রয়াসে প্রবৃত্ত তাহা নহে - উহারা যেন এই লোক-চলাচলের সুখরঙ্গভূমিতে অন্যতম অভিনেতা মাত্র।
আর, সকালে বিকালে সন্ধ্যাবেলায় পরিপাটি বেশধারী গর্বোদ্ধত স্ফীতব মোহিতমোহনকে দেখিতে পাইত। দেখিয়া তাহাকে সর্বসৌভাগ্যসম্পন্ন পুরুষশ্রেষ্ঠ মহেন্দ্রের মতো মনে হইত। মনে হইত, ঐ উন্নতমস্তক সুবেশসুন্দর যুবকটির সব আছে এবং উহাকে সব দেওয়া যাইতে পারে। বালিকা যেমন পুতুলকে সজীব মানুষ করিয়া খেলা করে, বিধবা তেমনি মোহিতকে মনে মনে সকলপ্রকার মহিমায় মণ্ডিত করিয়া তাহাকে দেবতা গড়িয়া খেলা করিত।
এক-একদিন সন্ধ্যার সময় দেখিতে পাইত, মোহিতের ঘর আলোকে উজ্জ্বল, নর্তকীর নূপুরনিক্বণ এবং বামাকণ্ঠের সংগীতধ্বনিতে মুখরিত। সেদিন সে ভিত্তিস্থিত চঞ্চল ছায়াগুলির দিকে চাহিয়া চাহিয়া বিনিদ্র সতৃষ্ণ নেত্রে দীর্ঘ রাত্রি জাগিয়া বসিয়া কাটাইত। তাহার ব্যথিত পীড়িত হৃৎপিণ্ড পিঞ্জরের পক্ষীর মতো বক্ষপঞ্জরের উপর দুর্দান্ত আবেগে আঘাত করিতে থাকিত।
সে কি তাহার কৃত্রিম দেবতাটিকে বিলাসমত্ততার জন্য মনে মনে র্ভৎসনা করিত, নিন্দা করিত? তাহা নহে। অগ্নি যেমন পতঙ্গকে নত্রলোকের প্রলোভন দেখাইয়া আকর্ষণ করে, মোহিতের সেই আলোকিত গীতবাদ্যবিক্ষুব্ধ প্রমোদমদিরোচ্ছ্বসিত কটি হেমশশীকে সেইরূপ স্বর্গমরীচিকা দেখাইয়া আকর্ষণ করিত। সে গভীর রাত্রে একাকিনী জাগিয়া বসিয়া সেই অদূর বাতায়নের আলোক ছায়া ও সংগীত এবং আপন মনের আকাঙ্খ ও কল্পনা লইয়া একটি মায়ারাজ্য গড়িয়া তুলিত, এবং আপন মানসপুত্তলিকাকে সেই মায়াপুরীর মাঝখানে বসাইয়া বিস্মিত বিমুগ্ধনেত্রে নিরীক্ষণ করিত, এবং আপন জীবন-যৌবন সুখ-দুঃখ ইহকাল-পরকাল সমস্তই বাসনার অঙ্গারে ধূপের মতো পুড়াইয়া সেই নির্জন নিস্তব্ধ মন্দিরে তাহার পূজা করিত। সে জানিত না, তাহার সম্মুখবর্তী ঐ হর্ম্যবাতায়নের অভ্যন্তরে ঐ তরঙ্গিত প্রমোদপ্রবাহের মধ্যে এক নিরতিশয় ক্লান্তি, গ্লানি, পঙ্কিলতা, বীভৎস ক্ষুধা এবং প্রাণয়কর দাহ আছে। ঐ বীতনিদ্র নিশাচর আলোকের মধ্যে যে এক হৃদয়হীন নিষ্ঠুরতার কুটিলহাস্য প্রলয়ক্রীড়া করিতে থাকে, বিধবা দূর হইতে তাহা দেখিতে পাইত না।
হেম আপন নির্জন বাতায়নে বসিয়া তাহার এই মায়াস্বর্গ এবং কল্পিত দেবতাটিকে লইয়া চিরজীবন স্বপ্নাবেশে কাটাইয়া দিতে পারিত, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে দেবতা অনুগ্রহ করিলেন এবং স্বর্গ নিকটবর্তী হইতে লাগিল। স্বর্গ যখন একেবারে পৃথিবীকে আসিয়া স্পর্শ করিল তখন স্বর্গও ভাঙিয়া গেল এবং যে ব্যক্তি এতদিন একলা বসিয়া স্বর্গ গড়িয়াছিল সেও ভাঙিয়া ধূলিসাৎ হইল।
এই বাতায়নবাসিনী মুগ্ধ বালিকাটির প্রতি কখন মোহিতের লালায়িত দৃষ্টি পড়িল, কখন তাহাকে 'বিনোদনচন্দ্র'-নামক মিথ্যা স্বাক্ষরে বারংবার পত্র লিখিয়া অবশেষে একখানি সশঙ্ক উৎকণ্ঠিত অশুদ্ধ বানান ও উচ্ছ্বসিত হৃদয়াবেগপূর্ণ উত্তর পাইল, এবং তাহার পর কিছুদিন ঘাতপ্রতিঘাতে উল্লাসে সংকোচে সন্দেহে-সম্ভ্রমে আশায়-আশঙ্কায় কেমন করিয়া ঝড় বহিতে লাগিল, তাহার পরে প্রলয়সুখোন্মত্ততায় সমস্ত জগৎসংসার বিধবার চারি দিকে কেমন করিয়া ঘুরিতে লাগিল, এবং ঘুরিতে ঘুরিতে ঘূর্ণনবেগে সমস্ত জগৎ অমূলক ছায়ার মতো কেমন করিয়া অদৃশ্য হইয়া গেল, এবং অবশেষে কখন একদিন অকস্মাৎ সেই ঘূর্ণমান সংসারচক্র হইতে বেগে বিচ্ছিন্ন হইয়া রমণী অতি দূরে বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িল, সে সকল বিবরণ বিস্তারিত করিয়া বলিবার আবশ্যক দেখি না।
একদিন গভীর রাত্রে পিতা মাতা ভ্রাতা এবং গৃহ ছাড়িয়া হেমশশী বিনোদচন্দ্র ছদ্মনামধারী মোহিতের সহিত এক গাড়িতে উঠিয়া বসিল। দেবপ্রতিমা যখন তাহার সমস্ত মাটি এবং খড় এবং রাংতার গহনা লইয়া তাহার পার্শ্বে আসিয়া সংলগ্ন হইল, তখন সে লজ্জায় ধিক্কারে মাটিতে মিশিয়া গেল।
অবশেষে গাড়ি যখন ছাড়িয়া দিল তখন সে কাঁদিয়া মোহিতের পায়ে ধরিল; বলিল, "ওগো, পায়ে পড়ি আমাকে আমার বাড়ি রেখে এসো।" মোহিত শশব্যস্ত হইয়া তাহার মুখ চাপিয়া ধরিল। গাড়ি দ্রুতবেগে চলিতে লাগিল।
জলনিমগ্ন মরণাপন্ন ব্যক্তির যেমন মুহূর্তের মধ্যে জীবনের সমস্ত ঘটনাবলী স্পষ্ট মনে পড়ে, তেমনি সেই দ্বাররুদ্ধ গাড়ির গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে হেমশশীর মনে পড়িতে লাগিল, প্রতিদিন আহারের সময় তাহার বাপ তাহাকে সম্মুখে না লইয়া খাইতে বসিতেন না; মনে পড়িল, তাহার সর্বকনিষ্ঠ ভাইটি ইস্কুল হইতে আসিয়া তাহার দিদির হাতে খাইতে ভালোবাসিত; মনে পড়িল, সকালে সে তাহার মায়ের সহিত পান সাজিতে বসিত এবং বিকালে মা তাহার চুল বাঁধিয়া দিতেন। ঘরের প্রত্যেক ক্ষুদ্র কোণ এবং দিনের প্রত্যেক ক্ষুদ্র কাজটি তাহার মনের সম্মুখে জাজ্বল্যমান হইয়া উঠিতে লাগিল। তখন তাহার নিভৃত জীবন এবং ক্ষুদ্র সংসারটিকেই স্বর্গ বলিয়া মনে হইল। সেই পান সাজা, চুল বাঁধা, পিতার আহারস্থলে পাখা করা, ছুটির দিনের মধ্যাহ্ননিদ্রার সময় তাঁহার পাকা চুল তুলিয়া দেওয়া, ভাইদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা - এ সমস্তই তাহার কাছে পরম শান্তিপূর্ণ দুর্লভ সুখের মতো বোধ হইতে লাগিল; বুঝিতে পারিল না, এ-সব থাকিতে সংসারে আর কোন্ সুখের আবশ্যক আছে !
মনে হইতে লাগিল, পৃথিবীতে ঘরে ঘরে সমস্ত কুলকন্যারা এখন গভীর সুষুপ্তিতে নিমগ্ন। সেই আপনার ঘরে আপনার শয্যাটির মধ্যে নিস্তব্ধ রাত্রের নিশ্চিন্ত নিদ্রা যে কত সুখের, তাহা ইতিপূর্বে কেন সে বুঝিতে পারে নাই। ঘরের মেয়েরা কাল সকালবেলায় ঘরের মধ্যে জাগিয়া উঠিবে, নিঃসংকোচ নিত্যকর্মের মধ্যে প্রবৃত্ত হইবে, আর গৃহচ্যুতা হেমশশীর এই নিদ্রাহীন রাত্রি কোন্খানে গিয়া প্রভাত হইবে এবং সে নিরানন্দ প্রভাতে তাহাদের সেই গলির ধারের ছোটোখাটো ঘরকন্নাটির উপর যখন সকালবেলাকার চিরপরিচিত শান্তিময় হাস্যপূর্ণ রৌদ্রটি আসিয়া পতিত হইবে, তখন সেখানে সহসা কী লজ্জা প্রকাশিত হইয়া পড়িবে - কী লাঞ্ছনা, কী হাহাকার জাগ্রত হইয়া উঠিবে।
হেম হৃদয় বিদীর্ণ করিয়া কাঁদিয়া মরিতে লাগিল; সকরুণ অনুনয় সহকারে বলিতে লাগিল, "এখনো রাত আছে। আমার মা, আমার দুটি ভাই, এখনো জাগে নাই; এখনো আমাকে ফিরাইয়া রাখিয়া আইস।" কিন্তু, তাহার দেবতা কর্ণপাত করিল না; এক দ্বিতীয় শ্রেণীর চক্রশব্দমুখরিত রথে চড়াইয়া তাহাকে তাহার বহুদিনের আকাঙ্খিত স্বর্গলোকাভিমুখে লইয়া চলিল।
ইহার অনতিকাল পরেই দেবতা এবং স্বর্গ পুনশ্চ আর, একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর জীর্ণ রথে চড়িয়া আর-এক পথে প্রস্থান করিলেন - রমণী আকণ্ঠ পঙ্কের মধ্যে নিমজ্জিত হইয়া রহিল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
মোহিতমোহনের পূর্ব ইতিহাস হইতে এই একটিমাত্র ঘটনা উল্লেখ করিলাম। রচনা পাছে একঘেয়ে হইয়া উঠে এইজন্য অন্যগুলি বলিলাম না।
এখন সে সকল পুরাতন কথা উত্থাপন করিবার আবশ্যকও নাই। এখন সেই বিনোদচন্দ্র নাম স্মরণ করিয়া রাখে, এমন কোনো লোক জগতে আছে কি না সন্দেহ। এখন মোহিত শুদ্ধাচারী হইয়াছেন, তিনি আহ্নিকতর্পণ করেন এবং সর্বদাই শাস্ত্রালোচনা করিয়া থাকেন। নিজের ছোটো ছোটো ছেলেদিগকেও যোগাভ্যাস করাইতেছেন এবং বাড়ির মেয়েদিগকে সূর্য চন্দ্র মরুদ্গণের দুষ্প্রবেশ্য অন্তঃপুরে প্রবল শাসনে রক্ষা করিতেছেন। কিন্তু, এক কালে তিনি একাধিক রমণীর প্রতি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া আজ রমণীর সর্বপ্রকার সামাজিক অপরাধের কঠিনতম দণ্ডবিধান করিয়া থাকেন।
ক্ষীরোদার ফাঁসির হুকুম দেওয়ার দুই একদিন পরে ভোজনবিলাসী মোহিত জেলখানার বাগান হইতেই মনোমত তরিতরকারি সংগ্রহ করিতে গিয়াছেন। ক্ষীরোদা তাহার পতিত জীবনের সমস্ত অপরাধ স্মরণ করিয়া অনুতপ্ত হইয়াছে কি না জানিবার জন্য তাহার কৌতূহল হইল। বন্দিনীশালায় প্রবেশ করিলেন। দূর হইতে খুব একটা কলহের ধ্বনি শুনিতে পাইতেছিলেন। ঘরে ঢুকিয়া দেখিলেন, ক্ষীরোদা প্রহরীর সহিত ভারি ঝগড়া বাধাইয়াছে। মোহিত মনে মনে হাসিলেন, ভাবিলেন, স্ত্রীলোকের স্বভাবই এমনি বটে! মৃত্যু সন্নিকট, তবু ঝগড়া করিতে ছাড়িবে না। ইহারা বোধ করি যমালয়ে গিয়া যমদূতের সহিত কোন্দল করে।
মোহিত ভাবিলেন, যথোচিত র্ভৎসনা ও উপদেশ দ্বারা এখনো ইহার অন্তরে অনুতাপের উদ্রেক করা উচিত। সেই সাধু উদ্দেশ্যে তিনি ক্ষীরোদার নিকটবর্তী হইবামাত্র ক্ষীরোদা সকরুণস্বরে করজোড়ে কহিল, "ওগো জজবাবু, দোহাই তোমার ! উহাকে বলো, আমার আংটি ফিরাইয়া দেয়।"
প্রশ্ন করিয়া জানিলেন, ক্ষীরোদার মাথার চুলের মধ্যে একটি আংটি লুকানো ছিল - দৈবাৎ প্রহরীর চোখে পড়াতে সে সেটি কাড়িয়া লইয়াছে।
মোহিত আবার মনে মনে হাসিলেন। আজ বাদে কাল ফাঁসিকাষ্ঠে আরোহণ করিবে, তবু আংটির মায়া ছাড়িতে পারে না; গহনাই মেয়েদের সর্বস্ব ! প্রহরীকে কহিলেন, "কই, আংটি দেখি।" - প্রহরী তাহার হাতে আংটি দিল। তিনি হঠাৎ যেন জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে লইলেন, এমনি চমকিয়া উঠিলেন। আংটির এক দিকে হাতির দাঁতের উপর তেলের রঙে আঁকা একটি গুম্ফশ্মশ্রুশোভিত যুবকের অতি ক্ষুদ্র ছবি বসানো আছে এবং অপর দিকে সোনার গায়ে খোদা রহিয়াছে - বিনোদচন্দ্র।
তখন মোহিত আংটি হইতে মুখ তুলিয়া একবার ক্ষীরোদার মুখের দিকে ভালো করিয়া চাহিলেন। চব্বিশ বৎসর পূর্বেকার আর-একটি অশ্রুসজল প্রীতিসুকোমল সলজ্জশঙ্কিত মুখ মনে পড়িল; সে মুখের সহিত ইহার সাদৃশ্য আছে।
মোহিত আর একবার সোনার আংটির দিকে চাহিলেন এবং তাহার পরে যখন ধীরে ধীরে মুখ তুলিলেন তখন তাঁহার সম্মুখে কলঙ্কিনী পতিতা রমণী একটি ক্ষুদ্র স্বর্ণাঙ্গুরীয়কের উজ্জ্বল প্রভায় স্বর্ণময়ী দেবীপ্রতিমার মতো উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল।
(গল্পগুচ্ছ থেকে নেওয়া)

55
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষকেন্দ্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে সশস্ত্র সংগ্রামেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়। একাত্তরের মার্চ মাসে পাকিস্তানের সামরিক ও আমলাচক্রের মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের দমনের অভিযান অপারেশন সার্চ লাইট শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণকারী পাকিস্তান বাহিনীতে ছিল ১৮ নং পাঞ্জাব, ২২ নং বেলুচ, এবং ৩২ নং পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন। ২৫ মার্চের রাত থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত এ বিশেষ মোবাইল বাহিনী স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ট্যাংক বিধ্বংসী বিকয়েললস রাইফেল, রকেট লাঞ্চার মার্টার ভারি ও হালকা মেশিনগানে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে ফেলে। পশ্চিম দিক থেকে রেললাইন জুড়ে ৪১ ইউনিট, দক্ষিণ দিক জুড়ে ৮৮ ইউনিট এবং উত্তর দিক থেকে ২৬ ইউনিট কাজ শুরু করে।
২৫শে মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯ জন শিক্ষককে হত্যা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ নং নীলক্ষেতের বাড়িতে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমানকে তার দুই আত্মীয়সহ হত্যা করা হয়।  ফজলুর রহমানের স্ত্রী দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পাক বাহিনী অধ্যাপক আনোয়ার পাশা (বাংলা) ও অধ্যাপক রাশিদুল হাসানের (ইংরেজি) বাড়িতেও প্রবেশ করে। উভয় পরিবার খাটের নিচে লুকিয়ে সেই যাত্রা প্রাণে বাঁচেন। ঘরে ঢুকে টর্চের আলো ফেলে তাঁদের কাউকে না দেখে হানাদাররা চলে যায়। উভয় অধ্যাপক সে রাত্রে বেঁচে গেলেও, মুক্তিযুদ্ধের শেষে তাঁরা আলবদর বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পারেননি, এমনকি বাড়ি পরিবর্তন করেও। ২৪নং বাড়িতে থাকতেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (নজরুল গবেষক ও বাংলা একাডেমীর সাবেক পরিচালক)। সেই বাড়ির নিচে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ দুই মা তাদের শিশু সন্তান নিয়ে আশ্রয় নেওয়ায় সিঁড়িতে রক্ত ছিল। পাক সৈন্যরা ভেবেছিল, অন্য কোন দল হয়ত অপারেশন শেষ করে গেছে তাই তারা আর ঐ বাড়িতে ঢোকেনি। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন প্রাণে বেঁচে যান। ঐ বাড়িরই নিচতলায় থাকতেন এক অবাঙালি অধ্যাপক। পঁচিশে মার্চের আগেই সেই ব্যক্তি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার সব অবাঙালি পরিবার তা-ই করেছিলেন।
ফুলার রোডের ১২নং বাড়িতে হানা দিয়ে হানাদাররা নামিয়ে নিয়ে যায় অধ্যাপক সৈয়দ আলী নকিকে (সমাজ বিজ্ঞান)। তাঁকে গুলি করতে গিয়েও, পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং উপরের তলার ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ মুকতাদিরকে গুলি করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। ২৭শে মার্চ অধ্যাপক মুকতাদিরের লাশ পাওয়া যায় ইকবাল হলে (বর্তমান জহুরুল হক হল), তাকে পরে প্লটনে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাফন করা হয়। সলিমুল্লাহ হল এবং ঢাকা হলে (বর্তমান শহীদুল্লাহ্‌ হল) হানা দিয়ে সলিমুল্লাহ হলের হাউস টিউটর ইংরেজির অধ্যাপক কে এম মুনিমকে সেনারা প্রহার করে এবং ঢাকা হলে হত্যা করে গণিতের অধ্যাপক এ আর খান খাদিম আর অধ্যাপক শরাফত আলীকে। জগন্নাথ হলের মাঠের শেষ প্রান্তে অধ্যাপকদের বাংলোতে ঢুকে তারা অর্থনীতির অধ্যাপক মীর্জা হুদা এবং শহীদ মিনার এলাকায় ইতিহাসের অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীরের বাড়িতে ঢুকে তাঁদের নাজেহাল করে।
জগন্নাথ হলে হামলা করার সময় আক্রান্ত হয় হলের প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ ড. গোবিন্দচন্দ্র দেবের বাস ভবন। পাক হানাদাররা হত্যা করে অধ্যাপক দেব এবং তার পালিত মুসলমান কন্যা রোকেয়ার স্বামীকে। পরে জগন্নাথ হল সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফ কোয়ার্টার, সেখানে হত্যা করা হয় পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মনিরুজ্জামান তার পুত্র ও আত্মীয়সহ। আক্রমণে মারাত্বক আহত হন জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা পরে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী চিৎবালী ও জনৈকা রাজকুমারী দেবী তথ্য প্রদান করেন যে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা চিনতে পেরে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে মর্গের কাছে গাছের নিচে খুব অল্প পরিসরে চিরদিনের জন্য শুইয়ে রেখেছেন। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান ও অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে পাশাপাশি দাড় করিয়ে হত্যা করা হয়। জগন্নাথ হলে আরো নিহত হন হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। এ তথ্য যায় শহীদ বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক আনোয়ার পাশার মার্চ থেকে ডিসেম্বর নাগাদ লেখা আত্মজৈবনিক উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত গ্রন্থে।
১৯৭১ এর মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলিতে “স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের” কর্মকান্ড পরিচালিত হত ইকবাল হল (পর সার্জেন্ট জহুরূল হক হল থেকে)। পাকিস্তানি অপারেশন সার্চ লাইটের ১নং লক্ষ্যবন্তু ছিল জহুরুল হক হল। ২৫ মার্চের মধ্যরাতের পূর্বে ছাত্র লীগের প্রায় সব নেতাকর্মী হল ছেড়ে যান। সেদিন রাত থেকে ২৬ মার্চ সারা দিন রাত ঐ হলের উপর নীলক্ষেত রোড থেকে মার্টার, রকেট লঞ্চার, রিকয়েলস রাইফেল এবং ভারী মেশিন গান ও ট্যাংক থেকে প্রচন্ড আক্রমণ পরিচালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে এ মুনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭১-৭২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, শুধু জহুরুল হক হলেই প্রায় ২০০ ছাত্র নিহত হন।
রাত বারটার পর ইউওটিসি এর দিকের দেয়াল ভেঙ্গে পাকবাহিনী ট্যাংক নিয়ে জগন্নাথ হলের মধ্যে প্রবেশ করে এবং প্রথমেই মর্টার ছোড়ে উত্তর বাড়ির দিকে। সাথে সাথে অজস্র গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তারা ঢুকে পড়ে জগন্নাথ হলে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে বাড়ির প্রতিটি কক্ষ অনুসন্ধান করে ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করে। সে রাতে জগন্নাথ হলে ৩৪ জন ছাত্র শহীদ হয়। জগন্নাথ হলের কিছু ছাত্র তখন রমনার কালী বাড়িতে থাকত। ফলে, প্রায় ৫/৬ জন ছাত্র সে রাতে সেখানে নিহত হয়। এদের মধ্যে শুধু অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র রমনীমোহন ভট্টাচার্য ব্যতীত অন্যদের নাম জানা যায় না। এছাড়া বহু সংখ্যাক অতিথিও নিহত হয় এদের মধ্যে ভৈরব কলেজের হেলাল, বাজিতপুর কলেজের বাবুল পাল, জগন্নাথ কলেজের বদরুদ্দোজা, নেত্রকোনার জীবন সরকার, মোস্তাক, বাচ্চু ও অমরের নাম জানা যায়। ১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকার মার্কিন কনসাল আর্চার কে ব্লাডের লেখা গ্রন্থ, “দি ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ” থেকে জানা যায় সে রাতে রোকেয়া হলে আগুন ধরানো হয়েছিল এবং ছাত্রীরা হল থেকে দৌড়ে বের হবার সময় মেশিন গান দিয়ে গুলি করা হয়। ২৬ মার্চ সকালের দিকে সেনাবাহিনীর কন্ট্রোল রুম ও ৮৮ ইউনিটের মধ্যে যে কথোপকোথন হয় তা থেকে জানা যায় ক্যাম্পাসে প্রায় ৩০০ ছাত্র নিহত হয়।
জহুরুল হক হল আক্রমণকারী বাহিনী ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রহরারত ইপিআর সদস্যদের পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। তারা শিক্ষকদের ক্লাব লাউঞ্জে আশ্রয়গ্রহণকারী ক্লাব কর্মচারী সিরাজুল হক, আলী হোসেন, সোহরাব আলি গাজী এবং আবদুল মজিদকে হত্যা করে। টিএসসিতে নিহত কর্মচারীরা ছিলেন আবদুস সামাদ, আবদুস শহীদ, লাড্ডু লাল। রোকেয়া হল চত্বরে নিহত হন আহমদ আলী, আবদুল খালেক, নমী, মো: সোলায়মান খান, মোঃ নুরুল ইসলাম্, মোঃ হাফিজউদ্দিন, মোঃ চুন্নু মিয়া এবং তাদের পরিবার পরিজন।
যে বাহিনী শহীদ মিনার ও বাংলা একাডেমী আক্রমণ করে তারাই ঢাকা হল (বর্তমানে শহীদুল্লাহ হল) সংলগ্ন শিক্ষকদের আবাসে ও মধুসূদন দে’র বাড়িতে হামলা চালায়। সৈন্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ নং বাড়ির বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক মোহাম্মদ সাদেককে হত্যা করে। ২৩ নং নীলক্ষেত আবাসের ছাদে আশ্রয়গ্রহণকারী নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে আসা বাঙালি পুলিশ কর্মচারী, প্রেসিডেন্ট হাউস (পুরাতন গনভবন) প্রহরারত বাঙালি ইপিআর সদস্য এবং নীলক্ষেত রেল সড়ক বস্তি থেকে আগত প্রায় ৫০ জনকে পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করে লাশ ফেলে যায়। ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে তিনটি ধর্মস্থান ধ্বংস ও ঐ সব স্থানে হত্যা যজ্ঞ চালায়। তিনটি স্থান ছিল, কলা ভবন সংলগ্ন শিখ গুরুদ্বার, রমনার মাঠে দুটি কালি মন্দির এবং শহীদ মিনারের বিপরীত দিকে অবস্থিত শিব মন্দির। সে রাতে আরো নিহত হয় দর্শন বিভাগের কর্মচারী খগেন দে, তার পুত্র মতিলাল দে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সুশীল চন্দ্র দে, বোধিরাম, দাক্ষুরাম, ভীমরায়, মনিরাম, জহরলালা রাজভর, মনভরন রায়, মিস্ত্রি রাজভর, শংকর কুরী।
১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকার মার্কিন কনসাল আর্চার কে ব্লাডের লেখা গ্রন্থ, “দি ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ” থেকে জানা যায় সে রাতে রোকেয়া হলে আগুন ধরানো হয়েছিল এবং ছাত্রীরা হল থেকে দৌড়ে বের হবার সময় মেশিন গান দিয়ে গুলি করা হয়। ১০ নভেম্বর ১৯৭১ সালের কতিপয় দুস্কৃতকারী অস্ত্র নিয়ে রোকেয়া হলে হামলা করে প্রায় দুই ঘণ্টা ৩০ জন ছাত্রীকে আটকে রাখে। তারা হলের প্রোভস্টের বাড়িতেও প্রবেশ করে। উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৭১ সালে রোকেয়া হলের প্রবেশপথের পাশে একটি শক্তিশালী পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ছিল। তাদের সহায়তা ব্যতিত নিছিদ্র ব্লাকআউট প্রহরা ও মোবাইল পেট্রোলিংকে ফাঁকি দিয়ে সশস্ত্র দুস্কৃতকারীদের রোকেয়া হলে দুই ঘণ্টা অপারেশন চালানো সম্ভব ছিল না।
গভর্ণর টিক্কা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের ২১ এপ্রিল ও শিক্ষকদের ১ জুন থেকে কাজে যোগ দিতে আদেশ দেন। তার ঘোষণা মতে ২ আগস্ট থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। স্বাভাবিক অবস্থা দেখানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে পরিষ্কার করার নামে ইকবাল হল, সলিমুল্লাহ হল, এবং জগন্নাথ হলের ঘরে ঘরে ছাত্রদের ফেলে যাওয়া বই পুস্তক, কাগজ পত্র, বিছানা পত্র জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তখন সকল পরীক্ষা স্থগিত ছিল। ঐ সময় ক্লাসে ছাত্রদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। প্রতিদিনই প্রায় কলাভবনে গ্রেনেড বিস্ফোরন হত। সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ক্লাসে ছাত্রদের উপস্থিতিও বাড়ে। ক্লাস করা ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায়, তারা গ্রেনেড ফাটিয়েই ক্লাসে ঢুকে যেত। ফলে, সেনাবাহিনী কাউকে ধরতে সক্ষম হত না। পাকিস্তানি হায়েনারা ঐ সময় কলাভবনের বটগাছটি কেটে ফেলে এবং মধুর ক্যান্টিন উড়িয়ে দিতে যায়। উর্দুর অধ্যাপক আফতাব আহমদ সিদ্দিকী তাদের বাঁধা দিয়ে জানান, ১৯০৬ সালে ঐ ভবনে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষককে টিক্কা খান সরকার বন্দি করে। তদের মধ্যে ছিলেন ড. আবুল খায়ের, ড. রফিকুল ইসলাম, কে এ এম সালাউদ্দিন, আহসানুল হক, গিয়াসুদ্দিন আহমদ, জহুরুল হক এবং এম শহীদুল্লাহ। মার্শাল ল গভর্ণর লে. জেনারেল টিক্কা খান অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, অধ্যাপক নীলিমা ইব্রাহিম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক এনামুল হককে লিখিত ভাবে সতর্ক করে দেন। ড. আবু মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে পদচ্যুত্য করা হয়। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে পদচুত্য করে ছয় মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়, তবে পাকিস্তান বাহিনী তাকে ধরতে পারে নি। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে তার অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল উপাচার্য বিহীন। ঐ সময় উপাচার্য ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী দেশের বাইরে জেনেভাতে “জাতিসংঘের মানবাধিকার সম্মেলনে” ছিলেন। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভার পত্রিকায় ঢাকায় দুইজন ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে, বিচারপতি চৌধুরী পাকিস্তান প্রাদশিক শিক্ষা সচিবকে লিখিত ভাবের তার পদত্যাগ পত্র দেন এবং মানবাধিকার সম্মেলনে ছেড়ে লন্ডনে পৌছেন। তিনি বিদেশে প্রবাসী সরকারের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আজিজুর রহমান মল্লিক মুজিবনগর গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তান বাহিনী তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনকে তাদের কনভয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদে বসান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয় ড. আবদুল বারীকে। এদের সহায়তা করেন ড. হাসান জামান, ড. মোহর আলী, ড. এ কে এম আবদুর রহমান, ড. আবদুল বারি(রাবি), ড. মকবুল হোসেন (রাবি), ড. সাইফুদ্দিন জোয়ারদার (রাবি)। এরা সকলেই টিক্কা খানের বিশ্ববিদ্যালয় “পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য” ছিলেন। বিদেশী পত্রিকায় প্রকাশিত “পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই” এই সংবাদের প্রতিবাদ করে বাঙালি শিক্ষাবিদ ড. সাজ্জাদ হোসায়েন এবং ড. মেহের আলীর একটি পত্র ১৯৭১ সালের ৮ জুলাই লন্ডন টাইমস্‌ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উপাচার্য ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন তার সহযোগী ড. মোহর আলী ও ড. হাসান জামান স্বাধীনতার পর গ্রেফতার হন এবং আটক থাকেন। ১৯৭৩ সালের ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের তিনজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষকদের নাম:
১। গিয়াসউদ্দিন আহমেদ
২। ডঃ এ. এন. এম. মনিরুজ্জামান
৩। ডঃ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা
৪। এ. এন. মুনীর চৌধুরী
৬। মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
৭। ডঃ আবুল খায়ের
৮। ডঃ সিরাজুল হক খান
৯। রাশীদুল হাসান
১০। আনোয়ার পাশা
১১। ডঃ জি. সি. দেব
১২। ডঃ ফজলুর রহমান
১৩। ডঃ ফয়জুল মহি
১৪। আব্দুল মুকতাদির
১৫। শরাফৎ আলী
১৬। সাদত আলী
১৭। এ. আর. খান খাদিম
১৮। সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য
১৯। মোহাম্মদ সাদেক (ইউনিভার্সিটি ল্যাবটরি স্কুল)
২০। অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য
২১। ডাঃ মোহাম্মদ মর্তুজা(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার)



56
The Former U.S. Ambassador to Bangladesh Mr. James F. Moriarty emphasizes on IP protection of Bangladesh for its economical uplift. According to him, “Intellectual property rights (IPR) are the legal mechanisms – copyrights, patents and trademarks – that ensure that the products we buy are genuine. Dangerous and defective counterfeit products, from counterfeit medication, to toothpaste, to auto parts, put the lives of consumers at risk. A strong IPR system ensures that inventors and innovators are rewarded for their ideas. IPR protections foster an environment in which creative and innovative industries can thrive and contribute to economic development worldwide. At the dawn of the 21st century, an increasing share of global economic output is generated by services, many of which depend on new and evolving technologies. Inventors, creators, and other risk-takers play a critical role in this economic progress, and the protection of IPR is necessary to ensure that the advances that result from their efforts are rewarded and valued. Progress in nanotechnology, information technology, and clean energy fosters economic development and improves standards of living worldwide.
Intellectual property rights don’t just protect inventors or large corporations; they protect local entrepreneurs and artists. A clear example of innovation in Bangladesh is the pioneering work of Mustafa Jabbar, inventor of the Bijoy Bangla keyboard and related software. The recent court decision recognizing Mr. Jabbar’s ownership of the technology he developed is an important step in encouraging innovation. Bangladesh’s film-makers such as Catherine and Tareque Masud have won critical international acclaim for their films but frequently suffer the theft of their work in their home country.
The illegal sale of stolen music and films in nearly all of Bangladesh’s markets is a troubling indicator of the scale of the IPR protection challenge. Developing countries too often assume that IPR only benefits first world nations. This perspective unfairly discounts indigenous capacity for innovation – as if good ideas worth protecting and promoting can only come from the first world. Officials in less developed countries cite the World Trade Organization’s TRIPS agreement as granting their countries exemption from international IPR standards until 2013 (and 2016 for pharmaceutical patents.) Relying upon these temporary “exemptions” is a choice fraught with risks. An economy built on weak IPR foundations is one in which the abuse of foreign and domestic IPR occurs hand-in-hand. Any country seeking free-trade agreements cannot ignore today’s work to ensure meeting future obligations to protect IPR.
The human potential to create and innovate is a boundless worldwide resource. Clear rules and strong enforcement of IPR allows countries to sustain economic development and to build recognizable and respected brands worldwide. Bangladesh’s innovators, inventors and artists have proven themselves worthy of the highest awards and recognition world wide – it’s time that Bangladesh’s domestic IPR mechanisms now grant them the same honor.”

57
Law / Respite for children
« on: April 07, 2015, 03:00:05 PM »
In Bangladesh we had the Children Act, 1974 to ensure the rights of the children and to regulate the treatment towards them. With the passage of time the law became obsolete and society felt the need of an up-to-date legislation.  Moreover, Bangladesh signed the International Convention on the Rights of the Child (CRC), 1989 and has become pledge bound to enact a national legislation to suit with the international convention.
With a view to implementing the CRC convention, Bangladesh has enacted The Children Act, 2013, in its 9th Parliament last year. The move was appreciated by all. However, due to lack of exposure and social awareness, the law is little known among the masses.
Here are some of the basic features of the newly enacted Children Act, 2013.
Age of a child
The new law defines a child as a person under the age of 18 years, which is internationally accepted age limit for a child. In the previous legislation a child was defined as a person under the age of 16 years. This is a very important development because discrepancy in the age of a child in different laws may entail many legal and judicial complications.
Child Welfare Board
According to the new law, a “Child Welfare Board” will be constituted at the national level with its chapter at district and upazila levels. The functions of the national and upazila child welfare boards are to reintegrate the children with the family and the society who are deprived of or tangled into judicial process.
Help desk for children in police stations
The new law requires that every police station of the country have a help desk for children under the supervision of an officer not lower than the rank of a sub-inspector. This dedicated help desk will handle issues where children are involved.
Juvenile court in every district
According to the new law, a juvenile court will have to be established in every district or metropolitan area to deal with the cases in connection with children. While adjudicating a child, the court must take into account the age, sex, mental, and physical condition, family and life-style, economic condition etc of the child concerned.
Arrest of children
According to the law, whatever be the allegation against him/her, the police must not arrest a child who is under nine years of age. A child aged above nine may be arrested, but the law enforcers cannot use handcuffs or ropes.
Restriction on awarding certain punishments
If a child is proven to be guilty of an offence under any law, he/she must not be given death sentence or life imprisonment. Under exceptional circumstances, where the child is convicted of offence of any heinous nature, and the authority feels that the correction centres or safe homes are not appropriate for him/her, they may be given imprisonment which should not exceed the maximum period of imprisonment provided for the offence.

See more at: http://www.dhakatribune.com/juris/2014/feb/05/respite-children

58
Law / Trademark and economic development
« on: April 07, 2015, 11:36:54 AM »
Bangladesh is a developing country. In order to turn her into developed one, protection of trademark plays an important role in cultural, industrial and economic developments of our country. But it is a matter of great concern that the availability of counterfeit product flooded in the market recently is a big threat towards the economy of our country. The availability of counterfeit product is a common picture in our country as regards to cosmetics, medicines, electronic equipments, mobile handset or other products. As for example, people are importing substandard mobile hand sets from China or elsewhere and selling those labeling with the same logo of reputed brands. The most horrible picture is at medicine market. It is a recent concern that the availability of fake medicine in market which is a big threat to human health. However, people are frequently getting confused at market when they are buying products and thus customers are being cheated variously and the manufacturers of these products are being seriously affected. It is due to legal loopholes and inaction of the law enforcers against the unscrupulous importers and traders.
This is happening because of unauthorized use of registered mark or protected mark. Bangladesh has legal mechanism to protect these counterfeit products and its marketing. The present legal basis of trade mark protection in Bangladesh is the Trademark Act of 2009 and Trademark Rules 1963.Within the meaning of section-2(8) of the Trade Mark Act, 2009 of Bangladesh, the term ‘trademark’ denotes a registered trade mark or a mark used in relation to goods or service or a mark used or proposed to be used in relation to any service or goods indicating a connection in the course of trade between the goods and the person having the right, either as proprietor or as registered user, to use the mark.
The object of Trademark Law is to promote business of manufacturers or proprietors by preventing counterfeit products available in the market and ensuring a better protection of trademark for goods or services. Above all, the prime object of trademark law is to prevent the use of fraudulent marks on goods and services by preventing the public from being misled as to the origin or quality of a product or service. So, a trademark should be registered to get protection under the Trademark Act 2009 which gives the registered proprietor of a trademark in respect of any goods the exclusive right to the use of trademark in relation to those goods. In case of infringement and other violations of the legal provisions, the trade mark law provides for severe penalties, including imposition of fine and imprisonment.
There are some difficulties in implementing trademark law in Bangladesh notably weakness of authority and monitoring cell, registration difficulties, lack of awareness of the people, cheap rate of counterfeit products etc. However t¬¬¬¬¬rademark protection plays a vital role in industrial smooth development of a country. It has become a tool for economic development, when it is used in the context of well-articulated national, regional or enterprise-based strategies, to encourage and support innovation and creativity. As for example there are more than 50 varieties of rice developed in Bangladesh but any other country may register (Intellectual Property Right) IPR for these varieties if we fail to register. In order to strengthen the trade mark protection in Bangladesh, the following suggestions can be followed:
 Firstly, to create awareness among the people of all classes about trademark law and bad impact of counterfeit product through public campaign or by some other means.
Secondly, a trade mark registry office should be introduced in each Divisional City to scrutinize the trade mark related matters very swiftly and to assist the industrial development smoothly.
Thirdly, online trademark application system can be introduced to fasten the procedure of trademark registry due to shortage of trade mark registry office.
Fourthly, the number officers and employees must be increased as because the number of application for trademark registration is increasing every year but due to shortage of staff it takes long time.
Fifthly, the officials at the trade mark registry office should be well trained with a view to maintaining the provisions The Trademark Act, 2009 along with international agreements (Paris Convention and TRIPS Agreement) as regards trade mark protection.
Sixthly, to introduce Trade Mark Protection Court in the Divisional Cities in order to fasten disposal of suits for trademark infringements and passing off.
Besides the above mentioned suggestions, the Government should take several steps which can make the Trademark Registry Office speedier and implement the present trademark laws more effectively. Different forms of trademark, service mark, certification mark or collective mark should be updated to maintain the consistency of the digital based society. Although the law contains adequate standard provisions to deal with these matters- such as trademark protection of registered or unregistered marks, infringement and falsifications of them. But, due to lack of awareness of the people, administrative inefficiency, and very old rules (Trademark Rules, 1963), it stands tough to implement the present law (Trademarks Act, 2009) and to ensure exclusive protection to the trade mark proprietors. By removing the present problems better trademark protection can be ensured which can draw the attention of entrepreneurs at home and abroad and thus we are optimist that Bangladesh can turn into an industrially developed country one day.

See more at: http://www.thefinancialexpress-bd.com/2013/10/11/911/print

59
Law / On violence during hartal
« on: April 07, 2015, 11:27:19 AM »
Hartal is apparently the most important tool of the political parties in Bangladesh. The concept of hartal generally denotes a mass protest or a general strike that involves a voluntary closing of workplaces, offices, shops, schools and court of laws as a form of civil disobedience to appeal to a government to change an unpopular or unacceptable decision. Hartal is a common word in South Asian region. Oxford Dictionary defines hartal as 'a closure of shops and offices as a protest or a mark of sorrow.'

The concept of hartal was originated in the Indian sub-continent. The word 'hartal' is derived from a Gujarati term that signifies the closing down of shops and warehouses with the object of realising a demand. Mahatma Gandhi, who hailed from Gujarat, used the term to refer to his anti-British general strikes. Such a form of public protest dates back to the British colonial rule in the Subcontinent against repressive actions infringing on human rights by the colonial British government and princely states.

'Harthal' in the Hindusthani (meaning: 'har'-'all'; 'thal'-'lock') denotes a general strike or demonstration and a mass protest involving closure of offices, commercial establishments, educational institutions and transport services. It is a mode of voicing dissent against an allegedly faulty policy adopted by the ruling power or administration, and is considered a powerful political tool. However, it is strictly supposed to be voluntary in nature.

All the above definitions of hartal denote a peaceful observation for achieving collective rights. These were the old and traditional concept of hartal which was used to serve greater public interest. These concepts have been changed recently. Today, by hartal we mean cocktails, bombs, fire, torching of vehicles, vandalising vehicles, violence, clash, unexpected deaths, sufferings of patients, academic loss of students, gross economic loss, etc. The people fear to go out because they are not secured outside during hartal.

Hartals had a glorious tradition in our political culture but with the passage of time they have lost their appeal. The mass people are being exploited and harassed by hartals now.  During the British period such agitation was launched for the greater cause of the country, but hartals that are imposed now do not serve any good of the people. They only serve narrow partisan interests. A single-day hartal causes a huge amount of loss to the national economy.

Some people claim hartal as their fundamental right as per article 37 of the Constitution that mandates freedom of assembly but they obviously forget the last portion of this article. Under this article, "Every citizen shall have the right to assemble and to participate in public meetings and processions peacefully and without arms, subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of public order or public health". This right is subject to two limitations: the assembly must be peaceful and the member of the assembly must not bear arms. But, we often experience violence during hartals. Nobody is entitled to cause death, injury or violence in the name of hartal. Again, the right to peaceful assembly also involves the right to security against assaults when exercising the right. However, the authorities may impose restrictions on the exercise of this right in the interest of public order or public health, as mentioned above.

Again, article 39 of our Constitution guarantees freedom of expression subject to reasonable restrictions imposed by law in the interest of the security of the State, friendly relations with foreign states, public order, decency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence. Freedom of expression also includes a peaceful demonstration to protest against governmental actions but it is subjected to reasonable restrictions.  The term 'reasonable restrictions' to these rights are elaborated in laws which include the Penal Code, the Special Powers Act (1974), and laws to deal with terrorism. For example, section 124(A) (sedition), section141 (unlawful assembly) of the Penal Code 1860 and section 2(f) (prejudicial acts) of the Special Powers Act  restrict the right to freedom of expression and assembly.

The International Covenant on Civil & Political Rights 1966 (ICCPR) also recognises the right of peaceful assembly under article 21 subject to certain restrictions which are provided by law and are necessary for respect of the rights or reputation of others and the protection of national security, public order public health and morals. All these laws provide some reasonable restrictions but the recent activities during hartals clearly violate these restrictions.

The High Court had declared hartal a constitutional right in 1999 [Khondaker Modarresh Elahi vs. The Government of the People's Republic of Bangladesh (WP No. 1216 of 1999)]  but the scenario of hartal has changed now. Although hartal is a constitutional right but the present exercise of hartal violates our other fundamental rights also mandated by the Constitution as to protection of right to life and personal liberty (article 32). In India, the Supreme Court has given some extraordinary interpretations on 'Bandh' or 'strike' [Communist Party of India (M) vs. Bharat Kumar and others (1998) 1 SCC 201].

Hartal, which is brutal and inhuman, can never be democratic and constitutional. So, the political parties should find out other methods of protest and our apex court should make proper directives to stop this bad practice.

see more at: http://www.thefinancialexpress-bd.com/2013/11/07/2649/print

60
Law / Re: A Short Story based on Law
« on: April 07, 2015, 11:23:38 AM »
Nice story...Heart touching!!! :)

Pages: 1 2 3 [4] 5