Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
Skin / Top 5 Winter Skin Care Tips
« Last post by Mrittika Biswas on Today at 09:10:51 AM »
Winter is quite possibly the harshest season when it comes to our skin. Because of the lower humidity and colder temperature, our body loses out on a lot of moisture, causing loads of damage to the skin. To prevent that outcome, here are the top 5 things you can do to take care of your skin this winter.

Choose gentle, fragrance-free cleansers
Bar soap can make dry skin worse by robbing it of its natural oils and messing with the microbiome of the skin. Skin experts advise against using body wash for people with dry skin. They encourage people to look instead for soaps meant for 'for sensitive skin,' that is also 'dye free,' and 'fragrance free.'

Moisturise hands often
The CDC says that hand washing is important, particularly when the common cold, flu, and COVID-19 are risks. But according to board-certified dermatologists, "continuous washing will cause the hands to take a hammering." And that is why the experts suggests that after every wash, we lather our skin with dedicated cream – a bit thicker in consistency meant for the hands and feet.

An additional suggestion, to keep the hands and feet continuously soft and smooth, is to wear waterproof gloves while doing dishes or doing any sort of household chores.

Purchase a humidifier to increase moisture around the house
The outdoor air is often drier, colder, and holds onto less water during the chilly winter months. This causes chapped skin. Using a humidifier throughout the house and trying to maintain a humidity level of between 30 and 50 per cent will help to prevent extremely dry skin and any other irritations associated with the undesirable weather conditions.

Use sun protection even when inside the house
UV radiation have been connected to premature skin ageing. That is a major reason to use sunscreen on a daily basis – which will ultimately help maintain a smooth exterior to our ageing skin.

Eat healthy and drink plenty of water
You shouldn't anticipate immediate changes, but it might be feasible to gradually moisturise your skin from the inside out. A major study in the skincare fraternity suggests that people with poor water intake could improve the moisture of their skin by drinking more water. Skin experts have reminded us time and again that in addition to adequate intake of water – a meal complete in important vitamins, minerals, and fatty acids are equally important and helpful in keeping skin soft and supple for a long time to come.

https://www.thedailystar.net/life-living/health-fitness/news/top-5-winter-skin-care-tips-3181936
2
Food / কাটা মসলায় মাংস ভুনা
« Last post by kanisfatema on Today at 09:07:59 AM »
উপকরণ:এক কেজি গরুর মাংস ( ছোট-মাঝারি টুকরো করে কাটা), পেঁয়াজ (একটু বড় এবং পুরু করে কাটা, ২-৩টা), শুকনা মরিচ (আস্ত ৮-৯টা), আদা (৫০-৬০ গ্রাম, একটু বড় ও পুরু করে কাটা), রসুন (১টি, ৮-৯ কোয়া), তেজপাতা (৩/৪টি), দারুচিনি (কয়েক ফালি), এলাচ (৫-৬টা), লবণ স্বাদমতো, সয়াবিন তেল (এক কাপ),দই, ফুটানো গরম পানি (তিন কাপ)

প্রণালি: প্রথমে গরুর মাংস কেটে পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর সবগুলো উপকরণ একটি বড় পাত্রে নিয়ে (আদা, রসুন, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, দই, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা, লবণ আন্দাজমতো) মাংসের সঙ্গে মাখিয়ে আধা ঘণ্টা ম্যারিনেট হতে দিন। ম্যারিনেট হওয়ার পর রান্নার পাত্রে নিয়ে অল্প আঁচে বসিয়ে দিন। কোনো ধরনের বাড়তি মসলার প্রয়োজন নেই। এরপর মাঝারি আঁচে আধা ঘণ্টার মতো মাংস কষানো হতে দিন। কষানো হয়ে এলে তিন কাপ মতো গরম পানি ঢেলে আরও ২০ মিনিট রান্না হতে দিন। কষানোর সময়ই সাধারণত মাংস আধা সেদ্ধ হয়ে আসবে। গরম পানি দেওয়ায় রান্নার সময় কমে আসবে এবং মাংস প্রায় নরম তুলতুলে হয়ে আসবে। ২০-২৫ মিনিট পর পানি শুকিয়ে ভুনা ভুনা হয়ে এলে পাত্রে ঢেলে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

3
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৮১ ডলারে নেমে আবার বাড়ল


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি হয় তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবক, তাহলে বলা যায়, মন্দার আশঙ্কা তেলের দাম হ্রাসের প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে আরও কয়েক মাস আগেই। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে কমে আসছিল জ্বালানি তেলের দাম। এর মধ্যে চীনে আবার বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। আবারও তারা বিভিন্ন শহরে লকডাউন দিয়েছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশের চাহিদা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গতকাল সোমবার প্রায় ১১ মাসের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে—৮১.৪৬ ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম নেমে আসে ৭৪.৫১ ডলারে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকমের।





তবে মঙ্গলবার বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৬৯ ডলার, আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৭৯ দশমিক ২৪ ডলার। এ সময় অন্যান্য জ্বালানির দরও ছিল বাড়তি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই বাড়তে শুরু করে অপরিশোধিত তেলের দাম। একটা সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারে উঠে যায়।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশে গত এক বছরে দুবার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে খাদ্যসহ সবকিছুর দামই বেড়েছে। চাপে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সর্বশেষ আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়, যদিও তারপর আবার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা কমানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করলে বাংলাদেশেও দাম সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা তেলের দাম বাড়াইনি, কেবল সমন্বয় করেছি।’ অর্থমন্ত্রীও একাধিকবার বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশেও কমবে। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানির দর যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফেরত গেলেও দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত দাম কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।


দাম আরও কমবে
বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ হচ্ছে চীন। তার পরেই আছে ভারত। ফলে জ্বালানি বাজারে এ দুটি দেশের বিপুল প্রভাব। চীনের জ্বালানি চাহিদা কমে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা কমে যায়। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে চীনের লকডাউন। দেশটির বিভিন্ন স্থানে লকডাউন আরোপ করার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়েছে।

সেই সঙ্গে আছে সরবরাহ–সংকট। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছে, চীনের শূন্য কোভিড নীতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা হ্রাস পাবে। এ বাস্তবতায় তারা আগামী বছরের জন্য তেলের দামের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার হ্রাস করেছে।

Source : shorturl.at/DKMNW

5
অনেককিছু জানতে পারলাম
ধন্যবাদ
6
জান্নাতের অমিয় সুধা শারাবান ত্বাহুরা

জান্নাত পরম সুখের জায়গা। সেখানে কেবল অনাবিল শান্তি আর শান্তি। প্রেম সোহাগ আর ভালোবাসায় ভরপুর সেখানকার সব বাসিন্দার হৃদয়। হাসি-খুশি আর পরম আনন্দে কাটবে জান্নাতিদের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে, তবে শেষ নেই। জান্নাতিরা যখন যা চাইবে তৎক্ষণাত তা হাজির হয়ে যাবে। হৃদয়ের সুখানুভূতির চূড়ান্ত স্বাদ কেবল জান্নাতে রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সবরের প্রতিদানে তাদের দেবেন জান্নাত ও রেশমি পোশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রৌদ্র ও শৈত্য অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলগুলো তাদের আওতাধীন রাখা হবে। তাদের পরিবেশন করা হবে রুপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মতো পানপাত্রে। রুপালি স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদের সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবিল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবিল’ নামক একটি ঝরনা। তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা। আপনি তাদের দেখে মনে করবেন যেন, বিক্ষিপ্ত মণিমুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের আবরণ হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদের পরিধান করোনো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের পালনকর্তা তাদের পান করাবেন ‘শারাবান ত্বাহুরা’। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করেছে। (সূরা ইনসান : আয়াত : ১২-২২)।

শারাবান ত্বাহুরার পরিচয়
‘শারাবান ত্বাহুরা’ জান্নাতবাসীদের বিশেষ পানীয়। এ পানীয় জান্নাতিদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, মূল্যবান প্রতিদান। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে নিজেদের ইচ্ছানুসারে খাবে, পান করবে। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশকালে জান্নাতের প্রবেশমুখে তাদের জন্য প্রথম পানীয় হিসাবে যে পানীয় দেওয়া হবে, সে পানীয়ই হলো ‘শারাবান ত্বাহুরা’। আলী (রা.) বলেন, ‘জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশের প্রাক্কালে দেখতে পাবে জান্নাতের প্রবেশমুখে একটি সুন্দর বৃক্ষ, উক্ত বৃক্ষের নিচ থেকে দুটি ঝরনা প্রবহমান রয়েছে। ঝরনা দুটির প্রথমটি থেকে যখন তারা পানি পান করবে, তখন তাদের মনে পরম আনন্দের দোলা পরিলক্ষিত হবে। তাদের পরম আনন্দের আর কখনো পরিবর্তন হবে না, তাদের সুখে কখনো বিন্দু পরিমাণ ঘাটতি হবে না। প্রথম নহরের পানি পানে জান্নাতিরা ‘নদরাতুন নাঈম’ নামক নেয়ামত লাভে ধন্য হবে। এরপর তারা দ্বিতীয় ঝরনা থেকে পানি পান করবে, এ পানি পান করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের অন্তর পবিত্র হয়ে যাবে। তাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ, জিঘাংসা, কুটিলতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ইত্যাদি বদ স্বভাব থাকবে না। এমনকি এ পানি পানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পেট এতই বিশুদ্ধ হয়ে যাবে যে, চিরদিনের জন্য পায়খানা ও পেশাবের আর প্রয়োজন হবে না। জান্নাতিরা জান্নাতের খাবার শেষে যখন ‘শারাবান ত্বাহুরা’ পান করবেন, তখন তাদের খাবার হজম হয়ে দেহে একপ্রকার ঘাম দেবে যেটি খুবই সুঘ্রাণ।’ (তাফসিরে কুরতুবি)।

এ প্রসঙ্গ পবিত্র হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতি লোকেরা সেখানে পানাহার করবে। তবে তারা পায়খানা করবে না এবং নাকও ঝাড়বে না, পেশাবও করবে না। তাদের (ঐ) খাদ্য (নিঃশেষ হয়ে যাবে) মিশকের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরণের মতো ঢেঁকুর (দ্বারা)। (সহিহ মুসলিম : হাদিস : ৬৮৯১)।

তাদের জন্য ‘শারাবান ত্বাহুরা’ ছাড়া আরও পানীয় রয়েছে, এ সম্পর্কে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘পরহেজগারদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপ: তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্য আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত : ১৫)।

জান্নাতিরা যেসব পানীয় পান করবে
সালসাবিল নামক পানীয় : জান্নাবাসীরা সালসাবিল নামক পানীয় পান করবে। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা একেবারে স্বচ্ছ, সুমিষ্ট ও শীতল। জান্নাতবাসীরা এ পানি পান করার সময় গলনালিতে মিষ্টতা অনুভব করবে। এ পানি যখন পেটে গিয়ে পৌঁছবে, তখন নিদারুণ স্বাদ আস্বাদন করবে। মুফাসসিররা বলেন, সালসাবিল নামক এ সুপেয় পানির উৎস হলো ‘জান্নাতুল আদন’। এ পানি জান্নাতের সব স্তরে পাওয়া যায় বিধায় এ পানিকে সালসাবিল বলা হয়।

কাফুরমিশ্রিত পানীয় : পবিত্র কুরআন মাজিদে বর্ণিত ‘আবরার’ খ্যাতি লাভকারী পুণ্যবান জান্নাতিদের জন্য বিশেষায়িত পানীয় হলো কাফুরমিশ্রিত পানীয়। এ পানির বৈশিষ্ট্য হলো ইহা অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত। মুফাসসিরদের মতে, এ পানির গুণাগুণ বর্ণনাতীত। এ পানি পানের পর জান্নাতিদের মুখ থেকে এমন এক ধরনের সুঘ্রাণ ছড়াবে, যাতে অপরাপর জান্নাতিরা বিমোহিত হয়ে যাবে। এ ধরনের আবহ সব নেককার জান্নাতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তাসনীম নামক পানীয় : তাসনীম হলো জান্নাতের একটি বিখ্যাত ঝরনা। আরশে পাক থেকে উৎসারিত এ ঝরনার পানীয়কে ‘তাসনীম’ হিসাবে পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে। এ ঝরনার পানির বৈশিষ্ট্য হলো জান্নাতের অন্য সব ঝরনার পানির চোয়েও শ্রেষ্ঠতর। এ পানি পানের সৌভাগ্যবান কেবল ‘মুর্কারাবিন’খ্যাত বান্দারা। যেসব বান্দা নেক আমল করার মধ্য দিয়ে আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করেছেন তাদের মুকাররাবিন বলা হয়।

খামর নামক পানীয় : জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহপাক ‘খামর’ নামক বিশেষ পানীয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন। দুনিয়াবি খামর-এর মধ্যে নেশার প্রভাব বিদ্যমান। খামর পানকারী ব্যক্তি নেশার প্রভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ভালো মন্দ কোনোটিই বুঝতে পারে না। জান্নাতের ‘খামর’ বৈশিষ্ট্য হলো এ পানীয় অত্যন্ত সুস্বাদু ও রুচিকর। জান্নাতিদের চির যৌবনের সজীবতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবে এ বিশেষ পানীয়। এ পানীয়তে মস্তিষ্ক বিকৃতি কিংবা জ্ঞান বিলোপ হবে না। বরং এর প্রভাবে সবার জন্য নির্ধারিত জান্নাতি স্ত্রীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসার আসক্তি বৃদ্ধি পাবে।

যানজিল নামক পানীয় : জান্নাতবাসী মুত্তাকিদের জন্য আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিশেষ পানীয় হলো ‘যানজিল’। ‘যানজিল’ নামক পানীয়টি বিভিন্ন উপকারী উপাদেয় উপাদানে ভরপুর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ পানীয়ের মাধ্যমে জান্নাতিদের সম্মানিত করবেন। উল্লেখ্য, আরবি শব্দ ‘যানজিল’ দ্বারা ‘আদা’ নামক মসলাকে বোঝায়। আদার মধ্যে বিরাট ঔষধি গুণ রয়েছে। আদার রস বিভিন্ন দুরারোগ্য বাধ্যিতে ব্যবহার করা হয়। আদার রস নিষিক্ত বিশেষ পানি অনেক রোগজীবাণু বিদুরিত করে, রোগীকে রোগমুক্ত করে, রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

পরিশেষে, আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে তাঁর প্রকৃত বান্দাহ হিসাবে কবুল করুন। আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাসিল করে জান্নাতে তাঁর মেহমান হয়ে জান্নাতের অমিয় সুধা, সব ধরনের নেয়ামত ভোগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/features/islam-and-life/619073/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE
7
Allah: My belief / দোয়া করবেন কীভাবে
« Last post by Kakuly Akter on Yesterday at 04:08:09 PM »
দোয়া করবেন কীভাবে

দোয়া শব্দটি আক্ষরিক বিবেচনায় ছোট হলেও এর ক্ষমতার ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি সত্যিই পরিমাপ করা বড় কঠিন। প্রভু ও বিত্তের মাঝে চাওয়া-পাওয়ার সেতু নির্মাণকারী দোয়া। একজন ক্ষুদ্র দাস মালিকের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ভিক্ষা মাঙছে, আর মনিব তাকে খুশি হয়ে সব দিয়ে দিচ্ছেন। এ যেন একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া। দোয়া মহান রবের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বিশেষ এক উপহার। মুমিনের হাতিয়ারও বটে। সব ক্ষমতা যেখানে অকার্যকর, দোয়ার ক্ষমতা সেখান থেকে শুরু হয়।

নিম্নে দোয়ার ১২টি আদব তুলে ধরা হলো-

* দোয়ার আগে ওজু করা। (সহিহ বুখারি-৪৩২৩)

* কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা। (সহিহ বুখারি-১০০৫)

* হাত তুলে দোয়া করা। (সহিহ বুখারি-২৮৮৪)

* দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি দরুদ-সালাম পাঠ করা। (সহিহুল-জামি-৩৯৮৮)

* চোখের পানি ছেড়ে দোয়া করা।

* নীরবে দোয়া করা। (সূরা আরাফ আয়াত-৫৫)

* নিজের পাপ স্বীকার করা। (সহিহুল-জামি-১৬৫৩)

* কায়মনবাক্যে কাকুতি-মিনতি করা।

(সহিহ মুসলিম-২১৮৯)

* আল্লাহর গুণবাচক নাম ধরে দোয়া করা।

(নাসায়ী-১৩০০)

* নিজেকে মহান রবের কাছে ছোট করে উপস্থাপন করা।

* দোয়া শেষে আমিন বলা। (সহিহ বুখারি-৭৮১)

* দোয়ার পর দুহাত মুখে নিয়ে মাসেহ করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ-৩৮৬৬)

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/features/islam-and-life/616769/%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87
8
মানসিক চাপ এড়ানোর কৌশল

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা উপস্থাপনা প্রবন্ধ-নিবন্ধ থেকে আমরা বলতে পারি; মানসিক চাপ হলো, মানুষের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি-যা তার অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত করে। শয়তান মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতাকে ব্যর্থ করার জন্য প্রথম তীর ছোড়ে হতাশা, দুশ্চিন্তা ও ব্যর্থতার। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) খুব সুন্দর করেই বলতেন, ‘শয়তানের পাঠশালার প্রথম পাঠ হলো, হতাশা-নিরাশা, দুশ্চিন্তা।’ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায়, অভাবের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।’ (সূরা বাকারা-২৬৮)। শয়তান মুমিনকে ভবিষ্যতে বিপদ-মসিবত, দুরবস্থা, হতাশা-নিরাশার ভয় দেখায়।

মানসিক টেনশন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুশ্চিন্তা হতাশা থেকে মুক্তির জন্য ইসলামের মৌলিক দিকনির্দেশনাগুলো হলো-

আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা

একজন মানুষ যত বেশি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখবে, নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেবে, মানসিক শক্তি ও স্থিরতা ততই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহ-ই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সূরা তালাক-৩)।

আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার একটি চমৎকার উপমা রাসূল (সা.) পেশ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহতায়ালার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকাল বেলা খালি পেটে বের হয়, আর সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে। (সুনান তিরমিজি-২৩৪৪)।

তাকদিরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস

মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, হতাশা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম হলো নিজের ভালো-মন্দ, আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া। তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যাওয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) (৬৮ হি.) বলেন, আমি একদিন রাসূল (সা.)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি বলেন, হে বৎস!

আমি তোমাকে কিছু কথা শিক্ষা দিচ্ছি; তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে, আল্লাহতায়ালা তোমাকে সব বিপদ-মসিবত থেকে যথাযথভাবে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ আদায় করবে; তাহলে তুমি আল্লাহতায়ালাকে তোমার সামনে পাবে। আর তুমি যখন কিছু চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন কোনো সাহায্য চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে। জেনে রেখ, যদি সব মানুষ তোমার কোনো উপকার করার ইচ্ছা করে, তবে তারা শুধু এ পরিমাণ উপকার-ই করতে পারবে; যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর সব মানুষ তোমার কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা করে, তবে তারা কেবল এ পরিমাণ ক্ষতি-ই করতে পারবে, যা আল্লাহতায়ালা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন (সুনানে তিরমিজি-২৫১৬)।

কায়মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করা

রাসূল (সা.) হতাশা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাছালি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদদাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/features/islam-and-life/619074/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%AA-%E0%A6%8F%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8C%E0%A6%B6%E0%A6%B2
9
ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গঠনে ইসলামের নির্দেশনা

কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামি ফিকহের সুস্পষ্ট বিবরণ থেকে এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, যদি কোনো মুসলমান অন্য কোনো মানুষকে এমন ক্ষুধায় কাতর অবস্থায় দেখতে পায় যে, তার কাছে ক্ষুধা নিবারণের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাহলে তার ওপর অত্যাবশ্যকীয় হলো ওই ব্যক্তির ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করা।

এটা কোনো নিছক দয়া ও অনুগ্রহ নয়; বরং এটা তার ইমানি দায়িত্ব। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে ‘সে তো বন্ধুর গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আপনি বন্ধুর গিরিপথ সম্পর্কে কী জানেন? তা হলো দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার্যদান ইয়াতিম আত্মীয়কে অথবা দারিদ্র্য নিষ্পেষিত নিঃস্বকে’।

(সূরা-বালাদ, আয়াত-১১-১৬)। এভাবে কুরআন কারিম জাহান্নামিদের আত্মস্বীকৃত জবানবন্দিতে তাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে ‘তারা বলবে, আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করতাম না’ (সূরা-মুদ্দাছছির, আয়াত-৪৩-৪৪)।

মহানবি (সা.) ও বিভিন্ন হাদিসে এমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কথা বলেছেন। হজরত আবু মূসা (রা.) বর্ণনা করেন মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘যুদ্ধ বন্দিকে মুক্ত করো এবং ক্ষুধার্তকে আহার্য দান করো’ (সহিহ বুখারি, হাদিস-৩০৪৬)।

এমনিভাবে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) রেওয়ায়েত করেন, মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘যাদের গণ্ডি ও সীমানায় এভাবে লোকজন ঘুম থেকে ওঠে যে, তাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি জঠর জ্বালায় আক্রান্ত তাহলে আল্লাহতায়ালা তাদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত’। (মুসনাদে আহমাদ-৪৮৮০)।

হজরত আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে আরেক বর্ণনায় মহানবি (সা.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয় যে রাতে উদরপূর্তি করে ঘুমায় আর তার পাশের প্রতিবেশী অনাহারে কাতর’। (বাইহাকি, হাদিস-২০১৬০)।

কুরআন-সুন্নাহর এসব নির্দেশনাবলির ভিত্তিতে উম্মতে মুহাম্মাদির প্রায় সব ফোকাহা কেরাম একমত যে, ক্ষুধিত ব্যক্তিকে আহার্য দান করা যে কোনো ব্যক্তির জন্যই অপরিহার্য। দুর্ভিক্ষ ও আকালের সময় যখন অনেক লোক জঠর জ্বালায় আক্রান্ত হয়ে থাকে, তখন ক্ষুধার্ত লোকদের ক্ষুধা নিবারণে এগিয়ে আসা সচ্ছল লোকদের জন্য ফরজে কেফায়া।

এ সংক্রান্ত ফোকাহা কেরামের কয়েকটি সুস্পষ্ট বিবৃতি উল্লেখ করছি-ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ.) বলেন ‘সম্পদের যে অংশ আদায় করা মালিকের দায়িত্বে অপরিহার্য তা হলো জাকাত। তবে সহমর্মিতা ও দান করার উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখা দিলে সেটা ভিন্ন কথা (তখন জাকাতের মতো সাধারণ দান করাও জরুরি)। যেমন নিরুপায়, ক্ষুধিত ও বস্ত্রহীন কিংবা এমন মৃত ব্যক্তি যাকে দাফন দেওয়ার মতো কেউ নেই (আহকামুল কুরআন, খণ্ড-৩ পৃষ্ঠা-১০৬)।

ফিকহে হানাফির বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আলইখতিয়ার’-এ আল্লামা মুসিলী (রহ.) বলেন-যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর, তার জীবন বাঁচানোর মতো আহারের ব্যবস্থা না হলে এমন ব্যক্তির এমন পরিস্থিতি জানে যে কোনো ব্যক্তির জন্য ফরজ, তাকে খাওয়ানো বা আহার্য দিতে পারে এমন লোকের সন্ধান দেওয়া (আলইখতিয়ার লিতা’লিল মুখতার, খণ্ড-৪ পৃষ্ঠা-১৭৫)।

ইমাম গাজালী (রহ.) বলেছেন, মুসলমান যখন দুর্ভিক্ষ বা খরাকবলিত হয়ে পড়ে এবং এভাবে বহু লোক মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে যায় তখন তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কর্তব্য। এটা ফরজে কেফায়া। (শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা-২৪২)।

মোটকথা ক্ষুধিত ও বস্ত্রহীন লোককে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা, দুর্ভিক্ষের সময় বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের সাহায্য করা প্রত্যেক মুসলমানের শরয়ী ফরজ দায়িত্ব। কেউ যদি তাতে অবহেলা করে অথবা অন্যজনকে এ কাজ করতে দেখে নিজে না করার জন্য পরিতাপ করে না বরং বিদ্বেষ পোষণ করে সে গুনাহগার হবে। এমনকি এ পরিস্থিতিতে মুসলিম সরকার তাকে ফরজ দায়িত্ব আদায়ে বাধ্যও করতে পারে।

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/features/islam-and-life/616768/%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80-%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%BE
10
সময়ের সদ্ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা

সময় আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। প্রিয়নবি (সা.)-ও উম্মতকে বুঝিয়েছেন সময়ের গুরুত্ব। সময়ের ব্যাপারে আমরা খুবই উদাসীন। সময়ের যথাযথ মূল্য আমরা দিতে জানি না। হেলায় খেলায় কেটে যায় আমাদের সময়।

আল্লাহতায়ালা সময়ের শপথ করে বলেন, সময়ের শপথ! অবশ্যই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে, সৎকাজ করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়, উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের। (সূরা আসর, আয়াত : ১-৩)।

অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। দশ রাত বলতে এখানে জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য। (সূরা আল-ফাজর.১-২)।

যারা সময়কে সঠিক পন্থায় কাজে লাগায় তারা সফলতার মুখ দেখতে পায়। আর যারা তার সঠিক ব্যবহার করে না তারা অনেক সময় নিজেদের দোষ-ত্রুটি ঢাকতে সময়কে দোষারোপ করে। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা যুগকে গালি দিয়ো না। কারণ আল্লাহ-ই হলেন যুগের স্রষ্টা। (সহিহ মুসলিম-২২৪৬)।

মানুষের জীবন তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। শিশুকাল, যৌবনকাল ও বৃদ্ধকাল। এর মাঝে শিশুকাল ও বৃদ্ধকাল মানুষের দুর্বলতায় কেটে যায়। মাঝে বাকি থাকে যৌবনকাল। এ সময় শরীর সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। কঠিন থেকে কঠিনতম কাজ এ সময় সমাধান করা যায় খুব সহজেই।

এ সময়ের ইবাদতও আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক দামি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ সময়ের ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে সময় এখনো বাকি আছে। এখনই তো আর বুড়ো হয়ে যাইনি। অবশেষে এ উদাসীনতায় থাকাবস্থায় তার মৃত্যু চলে আসে। যেমনটা হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)- থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে মানুষ প্রবঞ্চিত হয়ে আছে। একটি হচ্ছে সুস্থতা; অন্যটি হচ্ছে অবসর সময়। (সহিহ বুখারি-৬৪১২)।

সুস্থতা আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নিয়ামত। সুস্থতাকে সঠিক কাজে লাগনো বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি অবসরতাও সব সময় আসে না। তাই এ দুটি মুহূর্তকে মূল্যায়ন করা উচিত। অবসরতা এবং সুস্থতার সময়টুকু কীভাবে কাটাতে হবে সে নির্দেশনা কুরআনে দেওয়া আছে সুস্পষ্টভাবে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতি মনোযোগী হও। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত ৭-৮)। আপনি হয়তো বা সারা দিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। ব্যস্ততা আপনাকে ঘিরে থাকে। তবে এসব কাজের ফাঁকে ফাঁকে যখন আপনি অবসর সময় পান, তখনই আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়ে যান। একান্তে নির্জনে কথা বলুন মহান আল্লাহর সঙ্গে।

প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলতেন, প্রতিটি দিনই আদম-সন্তানকে ডেকে বলে যায়, আদম-সন্তান, আমি নতুন একটি দিন। আমার মাঝে মানুষ যে কাজ করে, আমি তার সাক্ষী হয়ে থাকি। যদি আমি চলে যাই, তবে পেছনে আর কখনো ফিরে আসি না। তাই তোমার যা ইচ্ছা, সামনে পাঠাও। ভবিষ্যৎ জীবনে তুমি তারই প্রতিদান পাবে। আর যার পেছানোর ইচ্ছা করে, তাকে পিছিয়ে রাখ। মনে রেখ, সময় কখনো ফিরে আসে না। (আল হাসানুল বসরি-১৪০)। ইয়াহইয়া বিন মুআজ কতই না চমৎকার বলেছেন, রাত হয় দীর্ঘ। ঘুমিয়ে রাতকে তুমি ছোট করে ফেলো না। দিন হয় স্বচ্ছ ও নির্মল। তাই তোমার পাপ দিয়ে দিনকে পঙ্কিল করো না।’ (সিফাতুস সাফওয়া-৪/৯৪)।

যদি কেউ সময়কে অবহেলা করে কাটিয়ে দেয় এবং সঠিক পথে ফিরে না আসে, তাহলে পরপারে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এতটা দীর্ঘ সময় দান করিনি যে, কেউ সতর্ক হতে চাইলে অনায়াসে সতর্ক হতে পারত? তোমাদের কাছে তো সতর্ককারীও এসেছিল। (সূরা ফাতির-৩৭)। একটু চিন্তা করুন, যেদিন আল্লাহ আমাদের এ প্রশ্নটি করবেন, সেদিন জবাব দেওয়ার মতো আমাদের কী কোনো উত্তর থাকবে?

আল্লাহ আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন আমিন।

Source: https://www.jugantor.com/todays-paper/features/islam-and-life/619075/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A6%BE
Pages: [1] 2 3 ... 10