Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - ashraful.diss

Pages: 1 [2] 3 4 ... 10
16

সাক্ষাৎ করব সময়মতো

ইবনু আব্বাস (রাঃ) ছিলেন জ্ঞান পিপাসু। হাদীসের খোঁজে বিভিন্ন মানুষের কাছে যেতেন তিনি। যেন তাদের মুখে নবিজির হাদীস শুনতে পারেন।

একদিন তিনি গেলেন এক ব্যক্তির বাড়িতে। কিন্তু ঘরের সামনে গিয়ে থেমে গেলেন। দরজায় কড়া নাড়লেন না। গায়ের চাদর বিছিয়ে সেখানেই শুয়ে পড়লেন তিনি! একসময় বাতাসের সাথে উড়ে আসা ধূলোবালি পড়তে লাগল ইবনু আব্বাসের মুখে। তবুও ইনবু আব্বাস সেখানেই শুয়ে রইলেন।

অনেকক্ষণ পর লোকটি বের হলো। দরজার সামনে ইবনু আব্বাসকে শুয়ে থাকতে দেখে সে খুব অবাক হলো। এরপর ইবনু আব্বাস তাকে জানালেন যে, তার কাছে তিনি হাদীস শুনতে এসেছেন।

বন্ধুরা, তখন ছিল দুপুরবেলা। বিশ্রামের সময়। তাই ইবনু আব্বাস দরজার কড়া নাড়েননি। অপেক্ষা করেছেন।

ফজরের আগে, দুপুরে এবং ইশার পর মানুষ বিশ্রাম নেয়। এই তিন-সময়ে কারও সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে না। এই  তিন-সময়ে অনুমতি ছাড়া বাবা-মা, ভাই-বোনের ঘরেও প্রবেশ করবে না। তুমি ছোট, তবুও অনুমতি নিতে হবে তোমাকে। এটাই যে আল্লাহর নির্দেশ!

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাব

একটি ছেলে নবিজির সেবাযত্ন করত। ছেলেটি ছিল ইয়াহূদি। একবার সে অসুস্থ হয়ে গেল। নবি (সাঃ) তাকে দেখতে গেলেন। তিনি ছেলেটির মাথার কাছে বসে বললেন, “তুমি ইসলাম গ্রহণ করো” একথা শুনে ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকাল। ছেলেটির বাবা তার কাছেই ছিল। বাবা বলল, ‘তুমি তাঁর কথা মেনে নাও।’ সাথে সাথে ছেলেটি ইসলাম গ্রহণ করল। তখন নবিজি খুশি হয়ে বললেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচালেন।”

কেউ অসুস্থ হলে নবিজি তাকে দেখতে যেতেন। নবিজি বলেছেন, “যে ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় রোগী দেখতে যায়, তার সাথে ৭০ হাজার ফেরেশতা বের হয়। তারা ওই ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে সকাল হওয়া পর্যন্ত। আর যে ব্যক্তি সকালে রোগী দেখতে যায়,তার সাথেও ৭০ হাজার ফেরেশতা বের হয়। তারাও ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষমা চাইতে থাকে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত।”

নবি (সাঃ) আরোও বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যায়, তার খোঁজ-খবর নেয় অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে, সেই ব্যক্তিকে ডাক দিয়ে বলা হয়, ‘তুমি খুশি হও! তোমার এই সাক্ষাৎ সুখময় হোক! আর তোমার ঠিকানা হোক জান্নাতের প্রাসাদ!’’’

রোগী দেখার আদব

১। রোগীর বিশ্রামের সময় তাকে দেখতে যাবে না। অবসর সময়ে যাবে।
২। রোগীর কাছে লম্বা সময় বসে থাকবে না। একটু দেখা করেই চলে আসবে। তবে রোগী চাইলে বেশি সময় থাকতে পারো।
৩। রোগী কষ্ট পায় এমন কথা বলবে না। রোগীকে কোনো দুঃসংবাদ দেবে না।
৪। রোগীর কষ্ট হলে তার সামনে হাসি-তামাশা করবে না, অযথা কথা বলবে না।
৫। রোগীর জন্য সুস্থতার দু’আ করবে। রোগী ও তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেবে।
৬। রোগীকে আশা দেবে, সাহস জোগাবে। তাকে বলবে, ‘চিন্তা করো না, ভালো হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ! আল্লাহ তোমাকে সুস্থ করে দেবেন।’
৭। রোগীর কাছে অসুখের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চাইবে না। ডাক্তার বা চিকিৎসার সমালোচনা করবে না।
৮। নিজে ডাক্তার না হয়ে  রোগীকে এটা-ওটা খেতে বলবে না।
৯। রোগীর ব্যাপারে মন্দ ধারণা করবে না। আল্লাহর নবিরাও রোগে ভুগেছেন। রোগের কারণে মুমিনের গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বেড়ে যায়।

17
Common Forum/Request/Suggestions / সাক্ষাতের আদব
« on: September 07, 2022, 05:00:42 PM »

সাক্ষাতের আদব

একবার এক সাহাবি প্রশ্ন করলেন, ‘আল্লাহর রাসূল, কারও ভাই বা বন্ধুর সাথে দেখা হলে, সে কি তার সামনে মাথা ঝুঁকাবে?’ নবি (সাঃ) বললেন, “না!” সাহাবি আবার প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে কি তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবে?’ তিনি বললেন, “না।” সাহাবি আবার প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে কি তার হাত ধরে মুসাফাহা করবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ!”

দুজন মুসলিম একসাথে মুসাফাহা করলে আল্লাহ তাদের দুজনকেই ক্ষমা করে দেন। যদি এই মুসাফাহা করা হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য। তাই মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা হলে প্রথমে সালাম দেবো। এরপর হাত মেলাব। এটাই মুসাফাহা করা। মানে একজনের হাতের তালুর সাথে আরেকজনের হাতের তালু স্পর্শ করা।

মুসাফাহা মানে কিন্তু ‘হ্যান্ডশেইক’ করা নয় বা হাত ঝাঁকানো নয়! মুসাফাহা করা সুন্নাহ। আর ‘হ্যান্ডশেইক’ করা অমুসলিমদের রীতি। তাই মুসাফাহার সময় হাত ঝাঁকাবে না। হাতে হাত ধরে কুশলাদি জিজ্ঞেস করবে। আগে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে না। যখন অন্যজন হাত ছেড়ে দেবে, তখন তুমিও ছেড়ে দেবে। নবিজিও তা-ই করতেন।

ওহ! আরেকটা কথা! মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করবে হাসিমুখে। নবিজি বলেছেন, “তোমার ভাইয়ের প্রতি মুচকি হাসাও সদাকা।”

দরজায় কড়া নাড়ার আদব

একদিন ইমাম আহমাদ বসে ছিলেন তাঁর ঘরে। হঠাৎ অনেক জোরে শব্দ হলো দরজায়। ইমাম আহমাদ দ্রুত বের হয়ে এলেন ঘর থেকে। আর বললেন, ‘বাড়িতে পুলিশ এসেছে নাকি!’

দেখা গেল পুলিশ নয়, এক মহিলা এসেছে তাঁর কাছে মাসআলা জানতে!

হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। মনে হয় যেন বাড়িতে চোর-ডাকাত এসেছে অথবা পুলিশ এসেছে! তাই উচ্চ শব্দে কড়া নাড়া উচিত নয়।

সাহাবিরা কড়া নাড়তেন মৃদুশব্দে। নবিজির দরজায় টোকা দিতেন নখ দিয়ে। ঘরের বাইরে থেকে নাম ধরে ডাকাডাকি করতেন না।

তুমিও তা-ই করবে। কারও বাড়িতে গেলে প্রথমে টোকা দেবে দরজায়। কেউ কাছে থাকলে এটুকু শব্দই যথেষ্ট। আর যদি বুঝতে পারো দরজার কাছে কেউ নেই, তাহলে কড়া নাড়তে পারো। অথবা কলিং বেল চাপতে পারো। তবে হাতের তালু দিয়ে দরজায় ধাক্কা দেবে না। জেনে রেখো, “যে কাজে কোমলতা থাকে সেটি সুন্দর হয়।”, নবিজি বলেছেন। এভাবে তিনবার শব্দ করবে। প্রতিবার শব্দ করার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে। হয়তো ভেতরের লোক খাওয়া-দাওয়া করছে, ওজু-গোসল করছে কিংবা সালাত পড়ছে। তাই এতটুকু সময় অপেক্ষা করবে, যেন একজন ব্যক্তি চার রাকাআত সালাত শেষ করতে পারে!

তিনবার শব্দ করার পরেও সাড়া না পেলে আর দরজা ধাক্কাবে না। সেখান থেকে চলে আসবে।

নবি (সাঃ) বলেছেন, “তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরেও অনুমতি না পেলে চলে আসবে।”

না জানিয়ে দেখতে আসা

একবার একলোক বিশ্রাম নিচ্ছিল তার ঘরে। এমন সময় দেখা করতে এল এক বন্ধু। ঘরে-থাকা লোকটি তার ছেলেকে বলল, ‘তুমি বলে দাও, আমি বাসায় নেই!’ছেলেটি বলল, ‘আব্বু বলেছে, আব্বু বাসায় নেই!’

একথা শুনে বাইরে-থাকা-লোকটি বুঝে ফেলল, তার বন্ধু বাসাতেই আছে, কিন্তু সে মিথ্যা বলছে!
এতে সে রাগ করে চলে গেল। আর কিছুটা দুঃখও পেল। এভাবে দুজনের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে গেল।

তাই সরাসরি  বলে দেওয়াই ভালো, ‘কিছু মনে করো না। আমি এখন ব্যস্ত! পরে তোমার সাথে দেখা করব, ইনশা আল্লাহ।’

কাউকে চলে যেতে বললে তারও উচিত খুশি মনে চলে যাওয়া। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও, তাহলে ফিরে যাবে, এটাই তোমাদের জন্য বেশি পবিত্র’। (সূরা নূর, ২৮ নং আয়াত)

কাউকে না জানিয়ে দেখা করতে আসা ঠিক নয়। কারণ সবারই ব্যস্ততা থাকে। হয়তো ভাবছো, কীসের এত ব্যস্ততা! না! ব্যস্ততার কথা জানতে চাওয়াও ঠিক নয়।

পরিচয় দেবো নাম বলে

একদিন জাবির (রাঃ) এসে কড়া নাড়লেন নবিজির দরজায়। নবিজি (সাঃ) বললেন, ‘আমি!’ এই জবাব শুনে নবিজি অখুশি হলেন। তিনি বললেন, “আমি! আমি কে?” তাই সাহাবিরা দরজায় শব্দ করার পর নিজেদের নাম বলতেন। যেন ভেতরের লোক বুঝতে পারে কে এসেছে।

দরজার ওপাশ থেকে পরিচয় জানতে চাইলে নিজের পুরো নাম বলবে। কারণ একজনের সাথে আরেকজনের কন্ঠের মিল থাকে। তা ছাড়া এক-দু কথায় চেনাও যায় না। তাই শুধু ‘আমি’ বললে পরিচয় বোঝা কঠিন।

ইমাম হব না অতিথি হলে

একদিন মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাঃ) গেলেন তাঁর বন্ধুর বাড়িতে। সালাতের সময় তারা মসজিদে গেলেন। সালাতের ইকামাত দেওয়া হলো। তখন মুসল্লিরা ইমামতি করতে বললেন মালিককে। তিনি এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন বিনয়ের সাথে। আর বললেন, ‘আপনারা কেউ ইমামতি করুন!’

মালিক বললেন, ‘নবি (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা কারও সাক্ষাতে গিয়ে ইমামতি কোরো না। তাদের মধ্যেই কোনো ব্যক্তি যেন ইমামতি করে।” তাই কোথাও বেড়াতে গিয়ে নিজে থেকে ইমামতি করবে না।

জুতা খুলে সাজিয়ে রাখব

কারও বাড়িতে প্রবেশ করার সময় তাড়াহুড়া করবে না। বের হওয়ার সময়েও ধীরেসুস্থে বের হবে।

ময়লা জুতা নিয়ে ঘরে ঢুকবে না। জুতা খোলার আগে দেখবে, জুতায় কাদামাটি লেগে আছে কিনা। পাপোশ বা মাটিতে ঘষা দিয়ে জুতার তলা পরিস্কার করে নেবে। জুতা খোলার আদব খেয়াল রাখবে।

নবি (সাঃ) বলেছেন, “পরার সময় ডান পায়ের জুতা আগে পরবে, আর খোলার সময় বাম পায়ের জুতা আগে খুলবে।”

জুতা রাখার জায়গায় জুতা রাখবে। দরজার সামনে এলোমেলো করে ফেলে রাখবে না। অন্যের জুতার ওপর জুতা রাখবে না। নইলে তার জুতায় কাদামাটি ও ময়লা লেগে যাবে।

বসার আগে অনুমতি নেব

হাতিম তাঈ ছিলেন আরবের বিক্ষ্যাত দানশীন। তার ছেলের নাম আদি। আদি ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় এলেন। এরপর নবিজির সাথে দেখা করলেন। নবি (সাঃ) তাকে বসতে দিলেন গদিতে। আর নিজে বসলেন মাটিতে।

আদি বললেন, ‘আপনিই গদিতে বসুন!’ নবিজি বললেন, “না তুমি বসো!” আদি আবারও একই কথা বললেন। নবিজি বললেন, “না, তুমিই বসো।” শেষে গদির ওপরেই বসলেন আদি। গদিটি ছিল চামড়ার। ভেতরের ছিল খেজুর পাতা।

মেজবান যেখানে বসতে দেবে, মেহমানকে সেখানেই বসতে হবে। কারও বাসায় গিয়ে যেখানে-সেখানে বসবে না। ঘরের ভেতর চোখ পড়ে, এমন জায়গায়ও বসবে না।


18

সালাম দেবো আদব মেনে

করণীয়

মুখে হাসি রাখবে।
চেহারার দিকে তাকাবে।
সালামের পর হাতে হাত মিলিয়ে মুসাফাহা করবে।
স্পষ্ট আওয়াজে সালাম দেবে। কেউ শুনতে না পেলে সর্বোচ্চ তিনবার সালাম দেবে। এরপর থেমে যাবে।
অমুসলিমদের সালাম দেবে না, তবে কুশলাদি জিজ্ঞেস করবে।
আগে সালাম দেবে, এরপর অন্য কথা বলবে। যে আগে সালাম দেয়, তার অহংকার কম।
সাক্ষাতের শুরুতে ও শেষে সালাম দেবে।

বর্জনীয়

সালাম দেওয়া-নেওয়ার সময় মুখ ভার করে রাখবে না।
অন্যদিকে তাকিয়ে থাকবে না।
হাতের ইশারায় সালাম দেবে না। মাথা ঝুঁকাবে না। কুর্নিশ করবে না।
চিৎকার করে সালাম দেবে না। ‘আমি আপনাকে সালাম দিয়েছি’ এভাবে বলবে না!
পর্দা করতে হয় এমন নারী-পুরুষ একে অন্যকে সালাম দেবে না।
সালাম না দিয়ে কথা বলা শুরু করবে না।
সালাম না দিয়ে বিদায় নেবে না।

চলবে............

19
Common Forum/Request/Suggestions / সালামের আদব
« on: August 28, 2022, 01:25:10 PM »

সালামের আদব


নবি (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে আগে সালাম দেয়।”

আগে-আগে সালাম দিই


বাহনে-থাকা-লোক সালাম দেবে পায়ে-হাঁটা-লোককে।
পায়ে-হাঁটা-লোক সালাম দেবে বসে-থাকা-লোককে।
অল্প সংখ্যক লোক সালাম দেবে বেশি সংখ্যক লোককে।
বাইরে থেকে-আসা-লোক সালাম দেবে ঘরে-থাকা-লোককে।
ছোটরা সালাম দেবে বড়দেরকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর বিপরীত হলেও দোষের কিছু নেই। যেমনঃ নবিজি ছোটদের আগে সালাম দিতেন।
একসাথে অনেকে থাকলে, একজন জবাব দিলেই সবার সালামের জবাব হয়ে যায়।

যখন সালাম দেওয়া ঠিক নয় (মাকরুহ)

আযান-ইকামাতের সময়।
পেশাব-পায়খানা করার সময়।
মুখে খাবার থাকা অবস্থায়। যদি কথা বললে গলায় খাবার আটকে যাবার ভয় থাকে।
ইবাদাতরত অবস্থায়। যেমনঃ কেউ সালাত পড়ছে, কুরআন তিলাওয়াত করছে, যিকর করছে বা ওজু করছে।
খুতবা চলা অবস্থায় খতীবকে সালাম দেবে না। ক্লাস চলা অবস্থায় একে অন্যকে সালাম দেবে না। এতে সকলের মনোযোগ নষ্ট হয়।
দ্বীনি কাজে ব্যস্ত ব্যক্তিকে আগে সালাম দেবে না। যেমনঃ ইলমি গবেষণায় ব্যস্ত গবেষক (ফকীহ), বিচার কাজে ব্যস্ত বিচারক।
প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে আগে সালাম দেওয়া মাকরুহ। যেমনঃ যারা দাড়ি কামায়, বেপর্দায় চলাচল করে, নাচ-গান করে, নাটক-সিনেমা দেখে কিংবা সবার সামনে হারাম কাজ করে।

আলোচনাটি আবূ দাউদ-এর ৫১৯৭ এবং সহীহ বুখারী-এর ৬২৩৩ নং হাদীস অনুসারে সাজানো হয়েছে।


20

অমুসলিমের সালামের জবাব


একদিন এক ইয়াহূদি এল নবিজির কাছে। ইয়াহূদি বলল, ‘আস-সামু আলাইকুম!’ মানে তোমার মৃত্যু হোক! ‘আস-সামু’ অর্থ মৃত্যু। এই অদ্ভুত ‘সালাম’ শুনে খেপে গেলেন আয়িশা (রাঃ)। তিনি ইয়াহূদিকে বললেন, ’তোমারই মৃত্যু হোক! তোমাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ!’

নবি (সাঃ)আয়িশাকে শান্ত হতে বললেন। আর ইয়াহূদিকে বললেন, “ওয়া আলাইকুম!” অর্থাৎ ‘তোমার কথা তোমাকেই ফিরিয়ে দিলাম!’ এভাবে ইয়াহূদির ধোঁকা ইয়াহূদিকেই ফিরিয়ে দিলেন নবিজি।

যারা ঠিকমতো সালাম দেয় না, তাদের সালাম তাদেরকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। বলতে হবে, ‘ওয়া আলাইকুম!’

নবিজি বলেছেন, “ইয়াহূদি-খ্রিষ্টানদেরকে আগে আগে সালাম দিয়ো না। ওরা সালাম দিলে বলবে, ওয়া আলাইকুম।” কারণ সালাম মানে আল্লাহর কাছে শান্তি চেয়ে দু-আ করা। কাফিররা তো আল্লাহকেই বিশ্বাস করে না! তাই ওদেরকে সালাম দেওয়া নিষেধ।

আলোচনাটি সহীহ বুখারী-এর ৬৪০১ এবং সহীহ মুসলিম-এর ২১৬৭ নং হাদীস


21

ঘরে ঢুকব সালাম দিয়ে


একবার একলোক নবিজির ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইল। লোকটি বলল, ‘আমি কি ভেতরে আসব?’ নবিজি তাঁর খাদেমকে বললেন, “এই লোকটাকে অনুমতি চাওয়ার আদব শেখাও। তাকে বলতে বলো, ‘আস-সালামু আলাইকুম, আমি কি ভেতরে আসব? এরপর লোকটি নবিজির শেখানো নিয়মে অনুমতি চাইল। আগে সালাম দিলো। এরপর অনুমতি চাইল। এবার নবিজি তাকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন।

ঘরে প্রবেশের আগে সালাম দেওয়া আল্লাহর আদেশ। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “ হে মুমিনগণ, অনুমতি না নিয়ে তোমরা অন্যের ঘরে প্রবেশ কোরো না, আর ঘরের লোকদের সালাম দিয়ো।….”

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا۟ وَتُسَلِّمُوا۟ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ٢٧ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فِيهَآ أَحَدًۭا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤْذَنَ لَكُمْ ۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرْجِعُوا۟ فَٱرْجِعُوا۟ ۖ هُوَ أَزْكَىٰ لَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ٢٨ لَّيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَدْخُلُوا۟ بُيُوتًا غَيْرَ مَسْكُونَةٍۢ فِيهَا مَتَـٰعٌۭ لَّكُمْ ۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ ٢٩

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না, অনুমতি প্রার্থনা এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেয়া ব্যতীত। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যাতে তোমরা উপদেশ লাভ কর। সেখানে যদি তোমরা কাউকে না পাও, তাহলে তাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও, তাহলে ফিরে যাবে, এটাই তোমাদের জন্য বেশি পবিত্র’। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি অবগত। যে ঘরে কেউ বাস করে না, তোমাদের মালমাত্তা থাকে, সেখানে প্রবেশ করলে তোমাদের কোন পাপ হবে না, আল্লাহ জানেন তোমরা যা প্রকাশ কর আর যা তোমরা গোপন কর। (সূরা নূর, আয়াত নং ২৭,২৮,২৯)

এমনকি নিজের ঘরে কেউ না থাকলেও সালাম দিয়ে প্রবেশ করবে। তখন বলবে, السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ আমাদের উপরে ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে সালাম!’

নবিজি আনাসকে বলেছিলেন, “প্রিয় ছেলে আমার, তুমি যখন তোমার পরিবারের লোকজনের কাছে যাও, তখন তাদের সালাম দিয়ো। এতে তোমার ও তোমার পরিবারের উপর বরকত হবে।”

ঘর বা মজলিস থেকে বিদায় নেওয়ার আগেও সালাম দেবে। নবিজি বলেছেন, “মজলিসে গেলে সালাম দেবে। বসতে ইচ্ছা হলে বসবে। যখন উঠে দাঁড়াবে তখনো সালাম দেবে। শেষের সালামের গুরুত্ব প্রথমটির চেয়ে কম নয়।”

আলোচনাটি আবূ দাউদ-এর ৫১৭৭ এবং তিরমিযি-এর ২৬৯৮ নং হাদীস


22

সালামের জবাব দিতেই হবে

তখন ছিল খলীফা উমরের শাসনকাল। সা’দ (রাঃ) খলীফার কাছে এসে বিচার দিলেন। তিনি বললেন, ‘উসমান আমার সালামের জবাব দেননি!’

উমর (রাঃ) বললেন, ‘উসমান, তোমার ভাইয়ের সালামের জবাব দিলে না কেন?’ উসমান বললেন, ‘আমি গভীর মনোযোগের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর একটি হাদীস নিয়ে ভাবছিলাম। তাই আশেপাশে কী ঘটেছে টের পাইনি।’ এই জবাব শুনে শান্ত হলেন সা’দ। দূর হলো তার দুঃখ। কারও সালামের জবাব না দিলে সে মনে দুঃখ পায়। তাই সালামের জবাব দিতে হবে স্পষ্ট আওয়াজে। যেন সালামদাতা সালামের জবাব শুনতে পায়।

যদি কেউ তোমার সালাম শুনতে না পায়, তাহলে তাকে তিনবার সালাম দেবে। তবে কেউ ঘুমিয়ে থাকলে এমনভাবে সালাম দেবে, যেন শুধু জেগে-থাকা লোকেরাই সালাম শুনতে পায়। আর ঘুমিয়ে-থাকা-লোকের ঘুম ভেঙে না যায়। যদি কেউ বলে, ‘অমুক তোমাকে সালাম জানিয়েছেন,’ তাহলে দুজনকেই সালামের জবাব দেবে। জবাবে বলবে, ‘আলাইকা ওয়া আলাইহিস সালাম।’

সালাম দেওয়া সুন্নত। আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। জবাব না দিলে গুনাহ হবে। ইশারা-ইঙ্গিতে সালামের জবাব দেওয়া যাবে না। নবিজি বলেছেন, “তোমরা ইয়াহূদি-খ্রিষ্টানদের মতো সালাম দিয়ো না। তাদের সালাম হলো হাত দিয়ে ইশারা করা।”

আলোচনাটি মুসনাদে আহমাদ-এর ১৪৬২ এবং আল-জামিউস সগীর-এর ১৩৮৩ নং হাদীস


চলবে............

23

রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচারক বিশ্বনবী হযরত মোঃ (সাঃ)

নবী মুহাম্মদ (সাঃ), অন্যদের মত,  শুধুমাত্র একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। তিনি এই পৃথিবীতে এক ধরণের বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন।
 
এই কথাটি কেন বলেছি, সেই বিষয়ে কিছু তথ্য দেই, তারপর আমরা আবার মূল প্রশ্নে চলে আসবো।

আপনি কি জানেন, নবী হওয়ার পর এই মানুষটি, সর্বপ্রথম সমাজে কি পরিবর্তন চেয়েছিলেন ?

তিনি চেয়েছিলেন, নারীর অধিকার।

সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোরআনের আয়াতগুলিকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাজালে

প্রথম আয়াতটির মূল বিষয় ও আদেশ ছিল, "নারী শিশুদেরকে  জীবন্ত কবর দেয়া যাবে না"

এর পর কিছুদিন পরই তিনি বললেন, একজন নারী তার পিতার, স্বামীর ও সন্তানের সম্পদের অংশীদার হবে।

রাসূল (সাঃ) যখন এই ঘোষনা দিলেন, তখনই তিনি সমাজপতিদের রোষানলে পড়ে গেলেন।

এত দিনের মেনে চলা এই সংস্কৃতি ও আইনের বিরুদ্ধে, এই মত তারা মেনে নিতে পারেনি।

(নারী শিশুকে জীবন্ত কবর দেয়ার মত অপরাধ এই পৃথিবীতে এখনো আছে, আধুনিক ভারতে প্রতিদিন দুই হাজার নারী শিশুর এবরশন হয় কিন্তু কত জন নারীবাদী এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন ?)

তারপর আসলো ক্রীতদাসের কথা।

তিনি জানালেন, মানুষ আর মানুষের ক্রীতদাস হতে পারে না।

মৃত পিতার রেখে যাওয়া ইথিওপিয়ান ক্রীতদাসী উম্মে আইমানকে নিজের মা, আর উপহার হিসাবে পাওয়া জায়েদকে নিজের ছেলে, হিসাবে যখন সমাজে পরিচয় করিয়ে দিলেন, তখন সারা পৃথিবীতে আলোচনা শুরু হয়ে গেলো,

মুহাম্মদ (সাঃ)আসলে কি চায় ?

ক্রীতদাস ছাড়া সমাজ ব্যবস্থা কেমন করে চলবে?  অর্থনীতি কি করে আগাবে? ক্রীতদাসের দল মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করলে কি অবস্থা হবে ?
ব্যাস, তিনি হয়ে গেলেন সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু।

(আজকের আধুনিক ইউরোপীয়ানদের হাজার বছরের ক্রীতদাস প্রথা এখনো বহাল তবিয়তেই আছে। ব্ল্যাক লাইভস ষ্টীল ডাজ নট মেটার )

ম্যালকম এক্সের মত বিপ্লবীরা, মুহাম্মদ আলীর মত শক্তিমান পুরুষরা যখন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে ভালোবাসতে শুরু করলো, তখনই তাদের মনে হলো, সব অপরাধ ঐ আরব লোকটিরই।

তিনি বললেন,

ধনীদের সম্পদের সুষম বন্টন হতে হবে। তাদের সম্পদের উপর গরিবের অধিকার আছে।


তিনি ঘোষণা দিলেন, সবাইকে জাকাত দিতে হবে।

সমাজের ধনী ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাবানরা ভাবলো,
 
মুহাম্মদ একজন সমাজ বিপ্লবী, তাকে সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে।

শেক্সপিয়ারের শাইলকের মত লোভী সব ইহুদি মুদ্রা ব্যবসায়ীদেরকে সুদ বন্ধ করতে আদেশ দিলেন।

ধনী-গরিবের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেন।

সবাই ভাবলো, মুহাম্মদ (সাঃ) একজন সোসালিস্ট, তাকে মেরে ফেলতে হবে।

নিজের অনুসারীদেরকে বললেন,

তোমরা আর মদ পান করবে না। সমাজে অন্যায় অবিচার কমে গেলো। চুরি ডাকাতি কমে গেলো।

মাতাল স্বামীর সংখ্যা কমে যাওয়ায়, নারী নির্যাতন প্রায় বন্ধ হয়ে গেলো।

অসভ্য পুরুষের মনে হিংসা শুরু হলো, এ লোক পাগল নাকি? মদ খাবে না, নারীকে নিয়ে ফুর্তি করবে না

সে কোন ধরণের সমাজ চায়?
 
মাদক ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে মুহাম্মদকে (সাঃ) ঠেকানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা শুরু করলো।

অসহায় মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ নিয়ে জুয়ার আসরের নিষেধাজ্ঞা আসলো।

মুহাম্মদের (সাঃ)আর কোন রক্ষা নেই। সে বড় বেশি বাড়া বাড়ি করছে।

জুয়ার ব্যবসা ছাড়া সমাজে বিনোদনের আর কি রইলো ?

মুহাম্মদকে (সাঃ) ঘর ছাড়া করতে হবে। তার সব আয়-রোজগার বন্ধ করতে হবে।

এখন কি বুঝতে পারছেন,


কেন মুহাম্মদের (সাঃ)এত অপরাধ ?

এই যে এখন, নবী মুহাম্মদকে (সাঃ) কে এত বছর পর অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে

তার কি কারন?

 শুধু "ফ্রীডম অফ স্পিচ" ?

নো।

যে মানুষটির অনুসারীরা শুধু ভালোবাসা দিয়ে একসময় আফ্রিকা বিজয় করেছিল

সেই আফ্রিকার ২৪ টি দেশের, শত বছরের কলোনিয়াল নির্যাতন নিপীড়ন ও শোষণ থেকে যখন আলজেরিয়া ও তিউনেশিয়ার মত দেশগুলি অর্থনৈতিক ও রাজনৌতিক মুক্তি চেয়েছে

তখনই নবী মুহাম্মদ (সাঃ) হয়ে গেলেন বড় অপরাধী।

লক্ষ-লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে, অসহায় ও নিরপরাধ মানুষকে নিজের ক্রীতদাস করে রেখে যে সম্পদের পাহাড় তারা একসময় গড়েছেন, সেটি যখন হুমকির মুখে তখনই সব রাগ ও ক্ষোভ এসে জমা হয়েছে।

এখন তাদের নবীকে অপমান করতে হবে, তাঁর ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করতে হবে।

তারপর আফ্রিকাতে আবার জঙ্গি দমানোর জন্য ন্যাটো বাহিনীকে পাঠাতে হবে।

কিন্তু তারা পারবে না।

পিউ রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী, শুধু ইউরোপেই প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে।

আপনি দেখবেন কিছু দিন পর এই সংখ্যা হবে, দশ হাজার।

কারন হলো, এই ঘটনার পর, মানুষ জানতে চাইবে ,

কে এই মুহাম্মদ ? (সাঃ)

প্রথমেই সে জানবে।

মানুষটি শুধু আমাদেরকে মনে প্রাণে একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসতে বলেছেন। যার কোন শরীক নেই। যিনি এক ও অদ্বিতীয়।

মানুষরূপী কোন খোদার কাছে মাথানত করতে নিষেধ করেছেন। শিরক করতে নিষেধ করেছেন।

একজন মানুষের জন্য শুধু এতটুকু জানাই যথেষ্ট।


এখন কেউ যদি চোখ বন্ধ করে সূর্যের আলোকে দেখতে না চায়, তাহলে কি সূর্য আলো দেয়া বন্ধ করে দিবে নাকি সূর্যের আলো হারিয়ে যাবে ?

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন এই পৃথিবীতে সেই আলো।

এই আলোকে কেউ লুকিয়ে রাখতে পারবে না।


"Truth is Truth"
ইউ ডিনাই অর ইউ একসেপ্ট।
কলমে- Dr.Shamsul Alam

From the wall of Honorable Chairman, Board of trustees; DIU

24

সালাম দেবো পুরোপুরি

একবার একলোক এসে নবীজিকে বললেন, ‘আস-সালামু আলাইকুম।’ নবীজি তাকে তার সালামের জবাব দিলেন। এরপর সাহাবিদের বললেন, “এই সালামের নেকি ১০ টি।” এবার আরেকজন এসে বললেন, ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।’ নবীজি তার সালামের জবাব দিলেন। এরপর বললেন, “এই সালামের নেকি ২০ টি।” এবার এলেন তৃতীয় ব্যক্তি। তিনি বললেন, ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ এভাবে পুরো সালাম দিলেন। নবীজি সালামের জবাব দিলেন। আর সাহাবিদের বললেন, “এই লোক পেয়েছে ৩০ টি নেকি!”

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

কেউ সালাম দিলে তোমরা তার চেয়েও উত্তমভাবে সালামের জবাব দেবে অথবা তার মতো বলবে।

তাই তোমাকে কেউ সালাম দিলে, জবাবে তার মতো বলবে অথবা একটি-দুটি শব্দ বেশি বলবে। কম বলবে না।

‘আস-সালামু আলাইকুম’-এর জবাবে বলবে, ‘ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ!’

আর ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’-এর জবাবে বলবে,’ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহু!’ মানে ‘তোমার ওপরেও আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত হোক!’

আলোচনাটি আবূ দাঊদ-এর ৫১৯৫ নং হাদীস এবং সূরা নিসা-এর ৮৬ নং আয়াত

চলবে...............

25

সালাম দিবো বেশি বেশি

একদিন নবী করীম (সাঃ) বললেন, “ একটি কাজ আছে, যা করলে তোমাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। তোমরা কি তা জানতে চাও? সেটা হলো একজন আরেকজনকে বেশি বেশি সালাম দেওয়া”।

তাই সাহাবিরা একে অন্যের সাথে সালামের প্রতিযোগিতা করতেন। এমনই দুজন সাহাবি ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু উমর ও তুফাইল ইবনু কা’ব (রাঃ)।

একদিন তুফাইল দেখলেন, আব্দুল্লাহ বাজারে গিয়ে সবাইকে সালাম দিচ্ছেন। অথচ কোনোকিছু কেনাবেচা করছেন না। সেদিন তুফাইলকেও সাথে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তুফাইল বললেন, ‘শুধু শুধু বাজারে গিয়ে কী করব?’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘আমরা কেবল সালাম দেওয়ার জন্যই বাজারে যাব। যার সাথেই দেখা হবে, তাকেই সালাম দেবো!’

নবীজি (সাঃ) বলেছেন, “যখন এক মুসলিম আরেক মুসলিমকে সালাম দেয়, তার সাথে হাত মেলায়, তখন গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার মতো তাদের গুনাহগুলো ঝরে যায়”। তাই সাহাবিরা বারবার  সালাম দিতেন। একটি গাছ বা দেওয়ালের আড়ালে গেলেও আবার সালাম দিতেন।

আলোচনাটি সহীহ মুসলিম-এর ৫৪ এবং জামিউল উসূল-এর ৪৮৪৩ নং হাদীস।

চলবে..................

26

সালামের শুরু জান্নাতে

প্রথম মানুষ ছিলেন আদম (আঃ)। তাকে সৃষ্টির পর আল্লাহ বললেন, ‘’ হে আদম, ওখানে বসে-থাকা ফেরেশতাদের সালাম দাও। তারা কী জবাব দেয়, মনোযোগ দিয়ে শোনো। কারণ ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের অভিবাদন !’’

ফেরেশতাদের কাছে গিয়ে আদম (আঃ) বললেন, আস-সালামু আলাইকুম।’ (আপনাদের ওপর সালাম।)

ফেরেশতারা জবাব দিলেন, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম  ওয়া রহমাতুল্লাহ।’ (আপনাদের ওপরেও সালাম ও আল্লাহর রহমত।)

সালাম মানে শান্তি ! এক মুসলিম আরেক মুসলিমের সাথে দেখা হলেই বলবে, ‘আস-সালামু আলাইকুম।’ মানে আল্লাহ তোমাকে শান্তিতে রাখুন !

যারা জান্নাতে যাবে, তারা একজন আরেকজনকে এভাবে সালাম দেবে। আল্লাহও  তাদেরকে সালাম দেবেন। তিনি বলবেন, ‘ আস-সালামু আলাইকুম। হে জান্নাতবাসী, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক !’

ভাবুন একবার, কত সুন্দর এই অভিবাদন !

আলোচনাটি সহীহ বুখারী-এর ৬২২৭ নং হাদীস।

চলবে...............

27

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ শিক্ষকের পরিচয়

শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার্থীর জন্য একজন সংশোধনকারী ও পথপ্রর্দশক। কারো পক্ষে কোনো শিক্ষকের মাধ্যম ছাড়া বিদ্যা অর্জন করা সম্ভব নয়।

যে ব্যক্তি শিক্ষক ছাড়া শুধু বই পুস্তক পড়ে বিদ্যা অর্জন করে, সে কোনো দিন শিক্ষার পুর্ণতায় পৌঁছতে পারে না। বিজ্ঞ জনেরা বলেছেন, যার কোনো শিক্ষক নেই তার শিক্ষক শয়তান। মনীষীগণ আরো বলেছেন, শিক্ষকের দৃষ্টান্ত একজন মালীর মতো। একটা বাগানের সমৃদ্ধি যেমন মালীর পুর্ণ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে তেমনিভাবে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের উন্নতি-অবনতি শিক্ষকদের দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।

শিক্ষকের মর্যাদা : ইসলাম শিক্ষককে মহান ব্যক্তিত্ব ও শ্রদ্বার পাত্র হিসেবে স্বীকৃতি দান করেছে। যার বিবরণ কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন,  الرحمن علم القرأن  করুনাময় শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা নিজেই সর্বপ্রথম শিক্ষক। সুতরাং যে কাজ আল্লাহ তায়ালা করেছেন উক্ত কাজে যে ব্যক্তি আত্মনিয়োগ করবে তার চেয়ে আর কেউ সম্মানের অধিকারী হতে পারে না।

উল্লেখ্য যে, বর্ণিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালার  ‘রাহমান’ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, একজন শিক্ষকের মধ্যে সর্বপ্রথম যে গুণটি থাকতে হবে তা হলো দয়া। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, انما بعثت معلما আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। শুধু তাই নয় সব নবী রাসূলরা পৃথিবীতে শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছিলেন। অন্য আরো একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, خيركم من تعلم القرأن و علمه  তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কোরআন মাজীদ শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষকদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনাই করেছেন, শুধু এতটুকুই নয় বরং তিনি শিক্ষকদের জন্য দোয়াও করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, نضر الله عبدا سمع مقالتى فحفظها و وعاها و اداها  আল্লাহ তায়ালা সুখি স্বচ্ছল রাখুন ওই ব্যক্তিকে যে আমার কোনো বাণী শোনে তা যথাযথভাবে স্মরণ রাখে এবং সংরক্ষণ করে অন্যের নিকট পৌঁছে দেয়। উপরোল্লেখিত বর্ণনার ভিত্তিতেই হজরত ওমর (রা.) শিক্ষকদেরকে মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে আসীন করেছিলেন।

শিক্ষকতাই শ্রেষ্ঠ কর্ম : সব পেশা হতে শ্রেষ্ঠ ও সম্মান জনক পেশা হচ্ছে শিক্ষকতা। পৃথিবীতে মানুষ যত কর্মে নিয়োজিত আছে, তার মধ্যে শিক্ষকতার শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে কেউ প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারবে না। তাই সাহাবাদের (রা.) একটা বৃহৎ সংখ্যা শিক্ষক হিসেবে সমাজে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বড় বড় রাজনীতিবিদ, সমাজনীতিবিদ এবং ধর্মীয় দিক নির্দেশকের ভূমিকায় শিক্ষকরাই ছিলেন অন্যতম। এ জন্যেই ইসলাম শিক্ষককে রূহানী পিতা সাব্যস্ত করেছে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি পরামর্শ : শুধু শিক্ষা দিলেই মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায় না। বরং প্রশংসার আসনে আসীন হতে হলে শিক্ষকের জন্যেও কিছু করণীয় বিষয় রয়েছে, যেগুলো অবলম্বনে শিক্ষকতার দায়িত্ব আঞ্জাম দিলে ইহকালে পদমর্যাদার অধিকারী ও আখেরাতে বিরাট পুরস্কারে পুরস্কৃত হওয়া সম্ভব।

আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্যে শিক্ষা দেয়া এবং তদনুযায়ী আমল করা। ইমাম গায্যালী রহ.  বলেন, যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করে এবং মানুষকে শিক্ষা দান করে, আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্বে তাকেই মহান বলা হয়। সে সূর্যের মতো অপরকে আলো দান করে এবং নিজেও আলোকময়। সে মেশকের মতো অপরকে সুগন্ধিতে আমোদিত করে এবং নিজেও সুগন্ধি যুক্ত। আর যে ব্যক্তি অপরকে শিক্ষা দান করে কিন্তু নিজে আমল করে না সে শানের মতো লোহাকে ধারালো করে কিন্তু নিজে কাটে না, সে ব্যক্তি সুচের মত যে অন্যের জন্য পোশাক তৈরী করে কিন্তু নিজে উলঙ্গ থাকে।

পাঠ দানের পূর্বে পড়ানোর পদ্ধতি মুতালা‘আর মাধ্যমে অনুশীলন করে শ্রেণী কক্ষে যাওয়া। পড়ানো শেষ হলে শিক্ষার্থীদের চেহারার দিকে তাকানো। যদি তাদের চেহারায় আনন্দের আভা দেখা দেয় , তাহলে বুঝতে হবে যে তারা বিষয় বস্তু হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছে।  আর যদি তাদের চেহারায় নৈরাশ্যের ছাপ থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে তারা সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং শিক্ষকের উচিৎ পরবর্তিতে উক্ত বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া।

বর্ণিত আছে, একদা গ্যালেন (হাকিম জালিনুস ) একটি জটিল বিষয়ের ক্লাস নিলেন। পাঠদান সমাপ্ত করে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি বুঝেছ? শিক্ষার্থীরা হ্যাঁ বুঝেছি বলে উত্তর দিলেও তিনি মন্তব্য করলেন তোমরা বুঝনি। কারণ لو فهمتم لظهر السرورعلي وجوهكم  যদি তোমরা বুঝতে তাহলে তোমাদের চেহারায় আনন্দের আভা ফুটে উঠতো।

শিক্ষার্থীদেরকে সন্তানের মতো স্নেহ করা। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন انما انالكم مثل الوالد لولد সন্তানের জন্য পিতা যেমন, আমিও তোমাদের জন্য তেমন।  হজরত মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী (রা.) বর্ণনা করেন, ما رايت معلما قبله ولابعده احسن تعليما منه فوالله ما قهرني ولا ضربني ولاشتمني-   আমি  রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রেষ্ঠ কোনো শিক্ষক পূর্বেও দেখিনি এবং তাঁর পরেও দেখিনি । তিনি আমাকে না ধমক দিলেন, না মারলেন, না কোনো গাল-মন্দ করলেন।

‘শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ হচ্ছে’ মনে না করা। বরং তাদের প্রতি অনুগ্রহভাজন হওয়া। তাদের দ্বারাই আমি গৌরবের অধিকারী হয়েছি মনে করা। শিক্ষার্থীদেরকে আমলের জন্য উৎসাহিত করা। কখনো কখনো সৎ উপদেশ দান করা। যাতে করে তারা কুচরিত্র থেকে বেঁচে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। সংশোধনের জন্য গঠনমূলক শাস্তি দেয়া। রাগের বশে বেত্রাঘাত না করা। কারণ এর দ্বারা সংশোধনের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে। শরীরে দাগ পড়ে যায়, হাড্ডিতে আঘাত লাগে, প্রতিষ্ঠানের বদনাম হয়, নিজের সম্মান নষ্ট হয়, এ ধরণের প্রহার থেকে অবশ্যই আত্মরক্ষা করতে হবে। মৌখিক শাসনের বেলায় কুকুর, বিড়াল, শুকর, গাধা, গরু, ছাগল, ইত্যাদি শব্দে কখনো না শাসানো।

শিক্ষকদের নিজের জন্য এ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা জরুরি رب اشرح لي صدري ويسرلي امري واحلل عقدة من لساني يفقهو ا قولي  ‘হে আমার পালন কর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন, যাতে করে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’ ছাত্রদের জন্যেও দোয়া করা এবং তাদেরকে ইলমও আমলের জন্য দোয়া করতে উৎসাহিত করা।


28

আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

আত্মহত্যা বর্তমান সমাজে সংঘটিত জঘন্যতম পাপকাজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। এ কারণেই ইসলামে আত্মহত্যা করা কবিরা গোনাহ। নিজেই নিজের জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার নাম আত্মহত্যা। Suicide হচ্ছে আত্মহত্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ। লাতিন ভাষা Sui Sediur থেকে মূলত Suicide শব্দের উৎপত্তি। ইসলামে আত্মহত্যা যেমন মারাত্মক অপরাধ তেমনি এর শাস্তিও ভয়াবহ। এ সম্পর্কে ইসলামের বিধানই বা কী?

মানুষের জীবনের মালিক আল্লাহ; তিনি মানুষকে মৃত্যু দান করেন। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই কাছে ফিরে আসবে।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৫৭)

এক্ষেত্রে আত্মহত্যা হচ্ছে এমন মৃত্যু; যা বান্দা কর্তৃক আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাভাবিক মৃত্যু উপেক্ষা করে নিজেই নিজের জীবনকে শেষ করে দেওয়া, যা ইসলামে মারাত্মক অপরাধ ও হারাম কাজ। আর পরকালে এর পরিণামও ভয়াবহ।

ইসলাম কখনও আত্মহত্যার মতো কোনো অপরাধকেই সমর্থন করে না। এহেন কর্ম থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব প্রদান করে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারিমের একাধিক আয়াতে ঘোষণা করেন-


১. ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল।’ (সুরা নিসা : আয়াত ২৯)

২. ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৯৬)

যেসব কাজে বাড়ে আত্মহত্যার প্রবণতা

বর্তমান সময়ে সমাজে নানা শ্রেণির নানা পেশার মানুষের মাঝে আত্মহত্যার ব্যাপক প্রবণতা লক্ষণীয়। সম্প্রতি গবেষকরা আত্মহত্যার পেছনে কিছু মুখ্য কারণ উদ্ঘাটন করেছেন। তাহলো-

১. পারিবারিক কলহ

২. জীবন সংগ্রামে বিভিন্ন কাজে ব্যর্থতা ও হতাশা

৩. স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য

৪. মানসিক অবসাদ ও যন্ত্রণা উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ করে

আত্মহত্যার এ প্রবণতা খুব বেশি পরিলক্ষিত হয় উঠতি বয়সী তরুণ ও তরুণীদের মাঝে। এদের অনেকেই যেসব কারণে এ অপরাধে জড়িত হয়; তাহলো-

১. পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা হওয়া।

২. প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা বা প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি থেকে অনেকেই নিজেদের প্রতি আত্মঘাতী হয়ে আত্মহত্যা করছে। অথচ ইসলামি শরিয়তে একজন তরুণ ও তরুণীর মাঝে বিবাহপূর্বক প্রেম কিংবা ভালোবাসা স্থাপন সম্পূর্ণরূপে হারাম তথা নিষিদ্ধ।

কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যথাযথভাবে ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতি চালু না থাকায় অসংখ্য ব্যক্তি ইসলামের এই সত্য বিধানকে অন্তর দিয়ে উপলদ্ধি করতে পারে না। ফলে দিন দিন আত্মহত্যার মাধ্যমে সমাজে মেধা শূন্যের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্কুল বা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অসংখ্য মেধাবী শিক্ষর্থীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

আত্মহত্যার মতো মারাত্মক অপরাধ প্রবণতা থেকে সন্তানদের মুক্ত রাখতে প্রতিটি বাবা ও মায়ের উচিত নিজ সন্তানের প্রতি আরো যত্নবান হওয়া। কুরআন ও হাদিসের আলোকে নিজ সন্তানকে প্রেমের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা। সন্তানের সঙ্গে এমন সুসম্পর্ক গড়ে তোলা- যাতে অনায়াসেই সন্তান জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তার বাবা ও মাকে নির্ভয়ে জানাতে পারে।

ভূলে গেলে চলবে না, আত্মহত্যার মাধ্যমে শুধুই একটি জীবন প্রদীপ নিভে যায় না; বরং অন্তরে লুকিয়ে থাকা হাজারো স্বপ্ন মাটির সঙ্গে মিশে ধুলোয় পরিণত হয়।

পাশাপাশি কোনো কাজে ব্যর্থ হাওয়া মাত্রই আল্লাহর উপর ভরসা না করে অনেকেই হতাশায় ভুগে আত্মহত্যা করেন। অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন বিপদ-আপদের সম্মুখীন হলে কর্তব্য কী হবে, সে সম্পর্কেও রয়েছে কুরআনের ঘোষণা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলগণের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৩)

সকলের স্মরণে থাকা উচিত, আত্মহত্যার মারাত্মক অপরাধ প্রবণতা থেকে বাঁচতে জীবন পথে চলতে গিয়ে বহু বিপদের সম্মুখীন হতে হবে এবং অর্জিত হবে নানান অভিজ্ঞতা। শত বিপদের মাঝেও সর্বদা হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করতে হবে। নিজের মাঝে পরিবর্তনের চেষ্টা ও জীবনকে নতুন করে সাজানোর প্রচেষ্টা করতে হবে।

এই জীবন যুদ্ধে যিনি প্রতিটি মুহূর্ত ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করবেন, দিন শেষে তিনিই সফলতার মুখ দেখতে পাবেন। বাংলা ভাষাযর সেই প্রবাদ বাক্যই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যে- ‘সবুরে মেওয়া ফলে’। আর এ সবর বা ধৈর্যশীলতাই মহান আল্লাহর কাছে একান্ত পছন্দনীয়। তিনি ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন-

‘আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।

আত্মহত্যার ভয়াবহ পরিণতি

আত্মহত্যার পরিণতি মারাত্মক। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক বর্ণনা পেশ করেছেন। আত্মহত্যাকারীর শাস্তি জাহান্নামে কিভাবে দেওয়া হবে ও এর পরিণাম সম্পর্কে যদি কেউ যথাযথভাবে অবহিত থাকে, তবে আল্লাহর কাছে আত্মহত্যা থেকে অবশ্যই সে পানাহ চাইবে এবং এহেন কর্মের প্রতি নিজের অন্তরে ঘৃণা জন্মাবে। আত্মহত্যার শাস্তির ধরণ সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এসেছে-

১. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে।’ (বুখারি)

২. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে লোক পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে; চিরকাল সে জাহান্নামের ভেতরেৎ এভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে লোক বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে। যে লোক লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনের ভিতর সে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।

৩. এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আত্মহত্যাকারীর জানাজাও পড়েননি। হাদিসে এসেছে-

হজরত জাবের ইবনে সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক ব্যক্তির লাশ উপস্থিত করা হল। সে চেপ্টা তীরের আঘাতে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজা আদায় করেননি।’ (মুসলিম)

কুরআন সুন্নাহর আলোকে এটি প্রমাণিত যে, আত্মহত্যা মারাত্মক অপরাধ ও হারাম কাজ। আর এর পরিণতিও খুবই ভয়াবহ। আত্মহত্যাকারীকে জাহান্নামের আগুনে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

সুতরাং কুরআন সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হতাশা কিংবা যে কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নিমিষেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া যাবে না। বরং এক আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার মাধ্যমে জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ও নিজের মেধা খাঁটিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়; বরং আবেগতাড়িত হয়ে নিজের ভূলে নিজের জীবনকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেওয়া মারাত্মক ভুল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুক। আত্মহত্যার মতো মারাত্মক অপরাধ ও হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন!

29

আত্মহত্যার কারণ ও ইসলামী বিধান

আত্মহত্যা করা মহাপাপ। মানুষ না বুঝে নিজে নিজেকে হত্যা করে থাকে। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ, আত্মহত্যাও নিষিদ্ধ। মানুষ নিজের প্রাণের মালিক নিজে ন।

প্রত্যেক প্রাণের মালিক মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি সব মানুষের জানের নিরাপত্তা দিয়েছেন। আত্মহত্যা করা মুসা (আ.)-এর যুগে পাপ থেকে তাওবা করার একটি পদ্ধতি ছিল। বনি ইসরাইল যখন গরু পূজা করে শিরকে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তাদের তাওবা করার জন্য নিজে নিজেকে হত্যা ও একে অন্যকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে উম্মতে মুহাম্মদির বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নিজেকে পাপের তাওবা হিসেবে হত্যা করতে পারবে না।

আত্মহত্যার কারণ ও ধরন

আত্মহত্যার বিভিন্ন কারণ আমরা দেখতে পাই। দৈনন্দিন খবরের কাগজ পড়লেই আত্মহত্যার কারণগুলো চিহ্নিত হয়ে যায়। নিম্নে এ ধরনের কিছু প্রসিদ্ধ কারণ ও ধরন তুলে ধরা হলো—

♦ মানসিক রোগ : মানসিক বিকারগ্রস্ত লোক আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦ শারীরিক রোগ : বিভিন্ন রোগের কষ্ট সহ্য করতে না পেরেও মানুষ নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকে।

♦ অন্যকে হত্যা : অন্যকে হত্যা করে নিজেকে অন্যের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়েও নিজেকে হত্যা করে ফেলে। যেমন—ওমর (রা.)-এর হত্যাকারী করেছিল।

♦ আঘাতের যন্ত্রণা : অনেকে আঘাতের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজেকে হত্যা করে ফেলে। যেমন উহুদ যুদ্ধে কাজমান করেছিল।

♦ জুয়া খেলা বা নেশা পান : অনেক সময় জুয়া খেলা বা নেশার কারণে মানুষ নিজেকে হত্যা করে ফেলে।

♦ অভিভাবকের ধমকি ও গালি : অভিভাবকরা যখন কোনো ধমকি ও হুমকি দেয়, তখনো অনেকে না বোঝার কারণে নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকে।

♦ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঝগড়া : পরস্পর ঝগড়াবিবাদের কারণেও মানুষ আত্মহত্যার পথ গ্রহণ করে থাকে।

প্রেম এবং সম্পর্কে বিচ্ছেদ  : অনেক সময় প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্কে বিচ্ছেদ বা হতাশা থেকেও মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦  লজ্জা : অনেক সময় যখন কোনো পাপ করে, তখন লজ্জার কারণে মানুষ নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

♦ দুনিয়াবি পেরেশানি : বিভিন্ন টেনশন ও পেরেশানির কারণেও নিজের জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অনেকে।

♦  অপমান ও অভিমান : অনেকে অপমান বোধ করে কিংবা অভিমান করে আত্মহত্যা করে।

এভাবে বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন উপায়ে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। কখনো অস্ত্র দিয়ে নিজেকে আঘাত করে, কখনো ফ্যানে বা ছাদে বা অন্য কোনো কিছুর সাথে ফাঁস দিয়ে, বিষপান করে, গাড়ি বা রেলের চাকায় ফেলে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে, ছাদের ওপর থেকে লাফ দিয়ে, আত্মঘাতী বোমা শরীরে বেঁধে হামলা করার মাধ্যমে, গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে ও  ছুরিকাঘাতে  আত্মহত্যা করে।


আত্মহত্যার বিধান

ভুলে আত্মহত্যার শাস্তি হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে যদি আত্মহত্যা করে, তখন তা হারাম ও তার শাস্তি জাহান্নাম। পরকালে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর যে কেউ স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। তন্মধ্যে সে সদা অবস্থান করবে এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ ও তাকে অভিশপ্ত করেন। তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। এ আয়াতে আত্মহত্যার বিষয়ও রয়েছে। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)

বাহরুর রায়েকে এসেছে : ফতওয়ায়ে কাজিখানে কিতাবুল ওয়াকফে আছে, দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন নিজেকে হত্যা করেছে, আর দ্বিতীয়জন অন্যকে হত্যা করেছে, তখন যে নিজেকে হত্যা করেছে, তার পাপ বেশি হবে। ’ (বাহরুর রায়েক, খণ্ড ২, পৃ. ২১৫)। কেননা অন্যকে হত্যা করলে আপসের মাধ্যমে তাওবা করার সুযোগ থাকে; কিন্তু আত্মহত্যাকারীর জন্য তাওবার কোনো পথ থাকে না।

আত্মহত্যার শাস্তি

আত্মহত্যাকারী নিজেকে যে উপায়ে হত্যা করবে, তাকে সেভাবে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে লাফ দিতে থাকবে স্থায়ীভাবে। আর যে ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ তার হাতে থাকবে, জাহান্নামে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করবে, জাহান্নামে সেই ছুরি তার হাতে থাকবে। তা দিয়ে সে তার পেটে আঘাত করবে, তাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৭৭৮)

আত্মহত্যাকারী কি স্থায়ী জাহান্নামি?

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস হলো, যারা ইমান নিয়ে দুনিয়া থেকে যাবে, তারা স্থায়ী জাহান্নামি হবে না। যে হাদিসে আত্মহত্যাকারীর জন্য স্থায়ী জাহান্নামের কথা রয়েছে, তার ব্যাখ্যা হলো—তা ওই লোকের জন্য, যে তাকে হালাল মনে করেছে। তখন তো সে কাফির হয়ে যাবে। তাই আত্মহত্যাকারীকে যত দিন ইচ্ছা আল্লাহ শাস্তি দিয়ে পরে ইমানের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

আত্মহত্যাকারীর জানাজা ও দাফন

যারা আত্মহত্যা করবে, তাদের জানাজা পড়া যাবে। তবে সম্ভ্রান্ত লোক ও আলিমরা তাতে শরিক না হওয়া উত্তম। প্রখ্যাত তাবেয়ি ইবরাহিম নখয়ি বলেন, ‘যারা আত্মহত্যা করবে, তাদের জন্য জানাজা পড়া যাবে। তেমনি জেনার কারণে বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে যেসব নারী মারা যাবে, তাদেরও জানাজা পড়া যাবে। একইভাবে যে ব্যক্তি মদ পানের কারণে মারা যাবে, তারও জানাজা পড়া যাবে। ’ (ইবন আবি শায়বা, হাদিস : ১১৯৮৪)

অন্য হাদিসে এসেছে : জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী (সা.)-এর দরবারে এক লোককে হাজির করা হয়, তীরের ফলা দ্বারা যে নিজেকে হত্যা করেছে। তখন তিনি তার ওপর নামাজ পড়েননি। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮) তাই আমির, আলিম ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা ওই ব্যক্তির জানাজায় শরিক হবেন না।

অনশন ও ধর্মঘট

কোনো কারণে না খেয়ে মারা যাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। আমাদের দেশে অনেকে দাবি আদায়ের জন্য না খেয়ে অবস্থান করে। এটি ইসলাম সমর্থিত নয়।

‘মুহিতে বুরহানি’ নামক কিতাবে এসেছে : ‘যে ব্যক্তি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকল, ফলে মরে গেল, তখন তার জন্য জাহান্নামে প্রবেশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। কেননা সে নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করল। এটি ওই ব্যক্তির মতো, যে ছুরিকাঘাতে নিজেকে হত্যা করেছে। (আল মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৫৭)

কারো নির্দেশে আত্মহত্যা করার হুকুম

কারো নির্দেশেও আত্মহত্যা করা হারাম। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) একটি দল কোনো এক স্থানে পাঠালেন। তাদের আমির বানালেন এক ব্যক্তিকে। সে আগুন জ্বালাল আর বলল, তোমরা তাতে প্রবেশ করো, তখন তারা তাতে প্রবেশ করতে চাইল। আরেক দল বলল, আমরা আগুন থেকেই পালিয়ে এলাম। তখন তারা নবী (সা.)-কে এই সংবাদ দিলেন। তিনি যারা তা ইচ্ছা করেছে, তাদের বললেন, তারা যদি তাতে প্রবেশ করত, তারা তাতে কিয়ামত পর্যন্ত থাকত, আর অন্য দলকে বললেন, পাপকাজে কারো আনুগত্য নেই। নিশ্চয়ই আনুগত্য কল্যাণের কাজে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৭২৫৭) এ থেকে বোঝা যায়, আত্মহত্যা যেহেতু পাপ, তাই তাতে কারো আনুগত্য করা যাবে না।

আত্মহত্যায় সহযোগিতা ও প্ররোচনাও  হারাম

আত্মহত্যার জন্য কোন প্রকারেই সহযোগিতা করা যাবে না। কেউ যদি করে, তা বৈধ হবে না। যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলে, তুমি নিজেকে হত্যা করো নতুবা আমি তোমাকে হত্যা করব, তখনো সে নিজেকে হত্যা করতে পারবে না। নতুবা সে আত্মহত্যাকারী ও পাপী হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আত্মহত্যা পরকালে জাহান্নামের কারণ। অন্যকে হত্যা করার চেয়ে নিজেকে হত্যা করার শাস্তি বেশি। তাই ইসলামে আত্মহত্যার কোনো পথ নেই।

চলবে…………


30

কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবেও মদ পান করা যাবে না-পর্ব ৩

ত্বারিক ইবন সুওয়াইদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিকিৎসার জন্য মদ তৈরি করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,

«إِنَّهُ لَيْسَ بِدَوَاءٍ، وَلَكِنَّهُ دَاءٌ»

“মদ তো ঔষুধ নয়, বরং তা রোগই বটে”।

উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ اللهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِيْمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ»

“আল্লাহ তা‘আলা হারাম বস্তুর মধ্যে তোমাদের জন্য কোনো চিকিৎসা রাখেন নি”।

নামের পরিবর্তনে কখনো কোনো জিনিস হালাল হয়ে যায় না। সুতরাং নেশাকর দ্রব্য যে কোনো আধুনিক নামেই সমাজে চালু হোক না কেন তা কখনো হালাল হতে পারে না। অতএব, তামাক, সাদাপাতা, জর্দা, গুল, পচা তথা মদো সুপারি ইত্যাদি হারাম। কারণ, তা নেশাকর। সামান্য পরিমাণেই তা খাওয়া হোক অথবা বেশি পরিমাণে। পানের সাথেই তা খাওয়া হোক অথবা এমনিতেই চিবিয়ে চিবিয়ে। ঠোঁট ও দাঁতের মাড়ির ফাঁকেই সামান্য পরিমাণে তা রেখে দেওয়া হোক অথবা তা গিলে ফেলা হোক। নেশা হিসেবেই তা ব্যবহার করা হোক অথবা অভ্যাসগতভাবে। মোটকথা, এটার সর্বপ্রকার ও সর্বপ্রকারের ব্যবহার সবই হারাম।

আবু উমামাহ বাহিলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ تَذْهَبُ اللَّيَالِيْ وَالْأَيَّامُ حَتَّى تَشْرَبَ فِيْهَا طَائِفَةُ مِنْ أُمَّتِيْ الْـخَمْرَ؛ يُسَمُّوْنَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا»

“রাত-দিন যাবে না তথা কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার একদল উম্মত মদ পান করে। তবে তা মদের নামেই পান করবে না বরং অন্য নামে”।
‘উবাদাহ ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«يَشْرَبُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِيْ الْـخَمْرَ بِاسْمٍ يُسَمُّوْنَهَا إِيَّاهُ»

“আমার একদল উম্মত মদ পান করবে। তবে তা নতুন নামে যা তারা তখন আবিষ্কার করবে”।

কেউ কেউ আবার মদ পান না করলেও মদের ব্যবসার সাথে যে কোনোভাবে অবশ্যই জড়িত। মদ পান না করলেও মদ বিক্রির টাকা খান। ধূমপান না করলেও সিগারেট ও বিড়ি বিক্রির টাকা খান। ধূমপান না করলেও তিনি সাদাপাতা, গুল ও জর্দা খাওয়ায় সরাসরি জড়িত। বরং কেউ কেউ তো কথার মোড় ঘুরিয়ে অথবা কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তা হালাল করতে চান। অন্যকে ধূমপান করতে নিষেধ করলেও নিজের পেটে কেজি কেজি সাদাপাতা ও জর্দা ঢুকাতে লজ্জা পান না। তাদের অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা উচিৎ। নিজে ভালো হতে না পারলেও অন্যকে ভালো হতে সুযোগ দেওয়া উচিৎ। আল্লাহর লা‘নতকে অবশ্যই ভয় পেতে হবে।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«لَـمَّا نَزَلَتِ الْآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ فِيْ الرِّبَا؛ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ e فَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِيْ الْـخَمْرِ»

“যখন সুদ সংক্রান্ত সূরা বাক্বারাহ্’র শেষ আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয় তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ ঘর থেকে বের হয়ে মদের ব্যবসা হারাম করে দেন”।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ اللهَ حَرَّمَ الْـخَمْرَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْـمَيْتَةَ وَثَمَنَهَا، وَحَرَّمَ الْـخِنْزِيْرَ وَثَمَنَهُ»

“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা মদ হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বিক্রিমূল্যও। মৃত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বিক্রিমূল্যও। শূকর হারাম করে দিয়েছেন এবং তার বিক্রিমূল্যও”।

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَعَنَ اللهُ الْيَهُوْدَ ـ ثَلاَثًا ـ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ وَفِيْ رِوَايَةِ ابْنِ مَاجَةَ: فَجَمَلُوْهَا فَبَاعُوْهَا»

“আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত পড়ুক ইয়াহূদীদের ওপর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত বদ-দো‘আটি তিন বার দিয়েছেন। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন। তখন তারা তা সরাসরি না খেয়ে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা খেলো। অথচ তাদের এ কথা জানা নেই যে, আল্লাহ তা‘আলা কোনো সম্প্রদায়ের উপর কোনো কিছু খাওয়া হারাম করে দিলে তার বিক্রিমূল্যও হারাম করে দেন। ইবন মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে, যখন তাদের উপর চর্বি হারাম করে দেওয়া হয় তখন তারা চর্বিগুলো একত্র করে আগুনের তাপে গলিয়ে বাজারে বিক্রি করে দিলো”।
 
মদ্যপান কিয়ামতের আলামতগুলোর অন্যতম

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ: أَنْ يَّظْهَرَ الْـجَهْلُ، وَيَقِلَّ الْعِلْمُ، وَيَظْهَرَ الزِّنَا، وَتُشْرَبَ الْـخَمْرُ، وَيَقِلَّ الرِّجَالُ، وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ، حَتَّى يَكُوْنَ لِخَمْسِيْنَ اِمْرَأَةً قَيِّمُهُنَّ رَجُلٌ وَاحِدٌ»

“কিয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে এও যে, মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে, জ্ঞান কমে যাবে, ব্যভিচার বেড়ে যাবে, মদ পান করা হবে, পুরুষ কমে যাবে এবং মহিলা বেড়ে যাবে। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার দায়িত্বশীল শুধু একজন পুরুষই হবে”।

মাদকদ্রব্য সেবনের অপকারসমূহ

ক. নিয়মিত প্রচুর মাদকদ্রব্য সেবনে মানব মেধা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়ে যায়।

খ. এরই মাধ্যমে সমাজে বহু প্রকারের খুন ও হত্যাকাণ্ড বিস্তার লাভ করে। তথা সামাজিক সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।

গ. এরই মাধ্যমে অনেক পবিত্র চরিত্রবিশিষ্টা মহিলার ইজ্জত বিনষ্ট হয়। এরই সুবাদে দিন দিন সকল প্রকারের অপকর্ম, ব্যভিচার ও সমকাম বেড়েই চলছে। এমনো শোনা যায় যে, অমুক মদ্যপায়ী নেশার তাড়নায় নিজ মেয়ে, মা অথবা বোনের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। এমন অঘটন করতে তো মুসলিম দুরে থাক, অনেক সুস্থ বিবেক সম্পন্ন ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান, হিন্দু এবং বৌদ্ধও লজ্জা পায়।

মদ্যপায়ী ব্যক্তি কখনো কখনো নেশার তাড়নায় তার নিজ স্ত্রীকেও তালাক দিয়ে দেয়, অথচ সে তখন তা এতটুকু অনুভবও করতে পারে না। মূলত এ জাতীয় ব্যক্তির মুখে তালাক শব্দ বেশির ভাগই উচ্চারিত হতে দেখা যায়। আর এমতাবস্থায় সে তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দরুন তা ব্যভিচার বলেই পরিগণিত হয়।

ঘ. এরই পেছনে কতো কতো মানব সম্পদ যে বিনষ্ট হয় তার কোনো ইয়ত্তা নেই। মাদকসেবীরা কখনো কখনো এক টাকার নেশার বস্তু একশ টাকা দিয়ে কিনতেও রাজি। তা হাতের নাগালে না পেলে তারা ভারী অস্থির হয়ে পড়ে।

ঙ. এরই মাধ্যমে কোনো জাতির সার্বিক শক্তি ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ বিনষ্ট হয়। কারণ, যুবকরাই তো জাতির শক্তি ও ভবিষ্যৎ। মাদকদ্রব্য সেবনের সুবাদে বহুবিধ অঘটন ঘটিয়ে কতো যুবক যে আজ জেলহাজতে রাত পোহাচ্ছে তা আর কারোর অজানা নেই।

চ. এরই কারণে কোনো জাতির অর্থনৈতিক, সামরিক ও উৎপাদন শক্তি ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। কারণ, এ সকল ক্ষেত্র তো স্বভাবত যুবকদের উপরই নির্ভরশীল। ইতিহাসে প্রসিদ্ধ যে, খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে চাইনিজ ও জাপানীরা যখন পরস্পর যুদ্ধের সম্মুখীন হয় তখন চাইনিজরা পরাজয় বরণ করে। তারা এ পরাজয়ের খতিয়ান খুঁজতে গিয়ে দেখতে পায় যে, তাদের সেনাবাহিনীর মাঝে তখন আফিমসেবীর সংখ্যা খুবই বেশি ছিলো। তাই তারা পরাজিত হয়েছে।

ছ. মাদকদ্রব্য সেবন করার অনেকগুলো শারীরিক ক্ষতিও রয়েছে। তম্মধ্যে ফুসফুস প্রদাহ, বদহজমী, ব্যথা, অনিদ্রা, অস্থিরতা, খিঁচুনি ইত্যাদি অন্যতম। এ ছাড়াও মাদক সেবনের দরুন আরো অনেক মানসিক ও শারীরিক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। যা বিস্তারিত বলার অবকাশ রাখে না।

জ. মাদকদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে হিফাযতকারী ফিরিশ্তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়। কারণ, তারা এর দুর্গন্ধে কষ্ট পায় যেমনিভাবে কষ্ট পায় মানুষরা।

ঝ. মাদকদ্রব্য সেবনের কারণে মাদকসেবীর কোনো নেক ও দো‘আ চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল করা হয় না।

ঞ. মৃত্যুর সময় মাদকসেবীর ঈমানহারা হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা থাকে।

মাদকদ্রব্য সেবনে অভ্যস্ত হওয়ার বিশেষ কারণসমূহ

ক. পরকালে যে সর্বকাজের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে সে চেতনা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া।

খ. সন্তান প্রতিপালনে মাতা-পিতার বিশেষ অবহেলা। যে বাচ্চা ছোট থেকেই গান-বাদ্য, নাটক-ছবি দেখে অভ্যস্ত তার জন্য এ ব্যাপারটি অত্যন্ত সহজ যে, সে বড় হয়ে ধূমপায়ী, মদ্যপায়ী, আফিমখোর ও গাজাখোর হবে। এমন হবেই না কেন অথচ তার হৃদয়ে কুরআন ও হাদীসের কোনো অংশই গচ্ছিত নেই; যা তাকে সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম হবে। কিয়ামতের দিন এ জাতীয় মাতা-পিতাকে অবশ্যই কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।

গ. অধিক অবসর জীবন যাপন। কারণ, কেউ আল্লাহ তা‘আলার যিকির ও তাঁর আনুগত্য থেকে দূরে থাকলে, এমনকি দুনিয়ার যে কোনো লাভজনক কাজ থেকে দূরে থাকলেও শয়তান অবশ্যই তাকে বিপথগামী করবে।

ঘ. অসৎ সাথীবন্ধু। কারণ, অসৎ সাথীবন্ধুরা তো এটাই চাবে যে, তাদের দল আরো ভারী হোক। সবাই একই পথে চলুক। এ কথা তো সবারই মুখে মুখে রয়েছে যে, সৎ সঙ্গে সর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।



Pages: 1 [2] 3 4 ... 10