Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - ishaquemijee

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8
31
মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মাহির রমাদানের শেষ দশ দিনের জন্য এক চমৎকার আমলের ফর্মুলা দিয়েছেন:

 ১) প্রতিদিন এক দিরহাম (এক টাকা) দান করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর (১০০০ মাস) পর্যন্ত প্রতিদিন এক টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন। .
 ২) প্রতিদিন দু' রাকা'আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন দু' রাকা'আত সালাতের সাওয়াব পাবেন। .
৩) প্রতিদিন তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম ক্বর'আন পাঠের সাওয়াব পাবেন । .
তিনি আরও বলেন, উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে এ আমল করবে, আপনিও তাদের আমলের সমান সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ্। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।..." [মুসলিম ২৬৭৪] আল্লাহ আমাদের কে আমল করার তাওফিক দিন।আমীন। কপিরাইট....!

32
বাংলাদেশের অল্প কিছু এলাকায় লাইনের গ্যাস রয়েছে। বাকী সব এলাকার মানুষই এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন রান্নার কাজে। এছাড়া অপচয় রোধে ক্রমান্বয়ে বাসাবাড়িতে লাইনের গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাই গ্যাস সিলিন্ডার এখন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য হয়ে দাড়িয়েছে। ক্রমশ এর ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু একটু অসাবধানতার কারনেই ঘটতে পারে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণের ফলে মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, হতে পারে প্রাণহানি। তাই আমাদের সব সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

গ্যাস লিক হলে কী করবেন?
সিলিন্ডারের গ্যাস খুবই বাজে গন্ধযুক্ত। কোন অংশ লিক হলেই এই বাজে গন্ধ দ্রুত আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এমন উৎকট গন্ধ পেলেই সাবধান হয়ে যান। কোন প্রকার আগুন জ্বালানো যাবে না এই সময়। পাশাপাশি বাসার বিদ্যুৎ লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন। বাসার সকল দরজা, জানালা খুলে দিন যাতে বাতাস যাতায়াত করতে পারে। সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন এবং সেফটি ক্যাপ লাগান।

কীভাবে আগুন নেভাবেন?
যদি সিলিন্ডারে আগুন লাগে, আতঙ্কিত না হয়ে নেভানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে দ্রুত একটি সুতি কাপড় (লুঙ্গি জাতীয় কাপড়) দিয়ে পুরো সিলিন্ডারটি ঢেকে দিন। আগুন হাতে কিংবা শরীরে লাগবে না। তারপর দ্রুত রেগুলেটর ঘুরিয়ে সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন। দেখবেন আগুন নিভে যাবে।

শরীরে গ্যাস লাগলে
আর কিছু বিষয় জেনে রাখা খুবই প্রয়োজন। যদি সিলিন্ডারের গ্যাস শরীরের কোথাও লাগে তাহলে ওই স্থান ২০ মিনিট পানি দিয়ে ধুতে হবে। যদি কাপড়ে লাগে তাহলে ওই কাপড় দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। চোখে লাগলে পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি কোনভাবে শরীরে আগুন লেগে যায়, তাহলে শরীরের সব জামা-কাপড় খুলে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে হবে। যতটা দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে। আগুনে পুড়ে যদি শরীরে ফোস্কা পড়ে তা ভুলেও তুলে ফেলবেন না। এতে ওই স্থানে ইনফেকশন হতে পারে।

সাবধানতা অবলম্বন
সিলিন্ডারের গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে সিলিন্ডার লিক হচ্ছে কি না। এই পরীক্ষা করার জন্য পানিতে সাবানের গুঁড়া মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। এই ফেনা রেগুলেটর, হোস পাইপ, ভাল্ব ইত্যাদিতে লাগান। যদি কোন স্থানে সাবান পানির ফোঁটা বড় হতে দেখা যায় তাহলে বুঝবেন ওই স্থানে লিক হয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে তখন। সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ রোধে আপনাকে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। কখনো গ্যাসের চুলায় রান্না তুলে দিয়ে অন্যত্র যাবেন না। খাবারে আগুন ধরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। রান্নার সময় আপনার পরনের কাপড়ের দিকেও সাবধান দৃষ্টি রাখতে হবে।

33

উচ্চশিক্ষার জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের অন্যতম গন্তব্য এখন ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশ জার্মানি। কারণ এখানে রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণায় শূন্য টিউশন ফি ও শিক্ষাবৃত্তির সুবিধা। দ্য টাইমস হায়ার এডুকেশনের তালিকা অনুসারে এ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টিই জার্মানিতে অবস্থিত। জার্মান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও পড়ার সুযোগ আছে দেশটিতে।

জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়
বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক সব শাখাতেই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। জার্মানির উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে লুদভিক ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ, ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন, হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি, উলম ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাড হনেফ প্রভৃতি।

বৃত্তির সুযোগ
জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, প্রতিবছর আড?াই লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী এবং ২৩ হাজার পিএইচডি গবেষক জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হন? এই বিশাল সংখ্যার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ শতাংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকেন? ডিএএডি বা জার্মান ছাত্রবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী জার্মানি পড়াশোনার সুযোগ পান?

বর্তমানে ৪৫ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি? এই প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিভোগীদের ৭০ শতাংশই আসেন বিদেশ থেকে? স্নাতক কোসের্র শিক্ষার্থীরা মাসে ৬৫০ ইউরো, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা ৭৫০ ইউরো আর পিএইচডি গবেষকেরা এক হাজার ইউরো পেয়ে থাকেন বৃত্তি হিসেবে? তবে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ সীমিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বৃত্তি নিয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য জার্মানিতে যান শিক্ষার্থীরা।

'স্টিপেন্ডিয়াটেন ডেয়ার স্টুডিয়েনস্টিফটুং ডয়েচেস ফল্ক', 'ডয়েচলান্ড স্টিপেন্ডিয়ুম' নামের বৃত্তিসহ বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। ডিএএডি কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন, হাইনরিশ ব্যোল ফাউন্ডেশন, ফ্রিডরিশ এবার্ট ফাউন্ডেশন, বোরিংগার ইংগেলহাইম ফাউন্ডেশন প্রভৃতি ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

জার্মানিতে পড়ার বিষয় : জার্মানিতে বর্তমানে ৪৫০টির বেশি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গভর্ন্যান্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, অ্যাডভান্সড ম্যাটারিয়ালস, অ্যাডভান্সড অনকোলজি, কমিউনিকেশন টেকনোলজি, এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিন্যান্স, মলিকিউলার সায়েন্স, বিভিন্ন ভাষা বিষয়ে পড়াশোনা, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্সসহ প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

আবেদন-প্রক্রিয়া : অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সব প্রক্রিয়া ও বৃত্তি সম্পর্কে জানা যায়। বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন জার্মানির ওয়েবসাইট (bsaagweb.de) থেকেও শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে বর্তমানে পড়ছেন এমন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে পারেন। জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থা, দৈনন্দিন জীবনযাপন, পড়ালেখা-চাকরির সুবিধাসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এ সাইট থেকে।

প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট: স্টাডি ইন জার্মানি :study-in.de, ডিএএডি : daad.de/en, ঢাকার জার্মান দূতাবাস : dhaka.diplo.de, গ্যেটে ইনস্টিটিউট, ঢাকা : goethe.de/ins/bd/en/dha.html

34

নারী-পুরুষ প্রত্যেক মানুষের জীবনেই আসে ভালোবাসার সূক্ষ্ম অনুভূতি। কখনো এই অনুভূতি অযাচিতভাবে দমকা হাওয়ার মতো মনের ঘরে এসে পৌঁছায়। আবার কখনো নিভৃতে এসে হৃদয়ে কড়া নাড়ে। আসুক না, ক্ষতি কী? প্রত্যেক মানুষেরই তো বেঁচে থাকার জন্য এই অবলম্বনের দরকার পড়ে।
কিন্তু ভালোবাসার কথা বললে সঙ্গে মনে পড়ে যায় কবীর সুমনের সেই গানটি—‘মন খারাপ করা বিকেল মানে মেঘ করেছে, দূরে কোথাও দু-এক পশলা বৃষ্টি হচ্ছে’। বহুদিনের প্রিয় কাছের মানুষটি কখনো হারিয়ে যায়। কিংবা যাঁকে নিয়ে ধীরে ধীরে যেই স্বপ্নটি গড়ে তুলছিলেন তা ভেঙে যেতে পারে কয়েক মুহূর্তে। কিন্তু মন খারাপ করা বিকেল বেলাতেও দু-এক পশলা বৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। আর এখানে কয়েক পশলা বৃষ্টির ভূমিকাটা রাখতে পারে আপনার কাছের বন্ধুটি।
 ভালোবাসার সম্পর্কটি ভেঙে গেলে স্বাভাবিক কারণেই মানসিকতা ভেঙে পড়ে। যা আপনার পড়াশোনা থেকে শুরু করে পেশাজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময়টায় আপনার কাছের বন্ধুর দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিবারে অনেক সদস্য থাকে; কিন্তু খোলামেলা আলোচনাটা আমরা বন্ধুদের সঙ্গে করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
আপনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধুকে সবকিছু খুলে বলুন। অপর দিকে একজন বন্ধুর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজটা হবে মানসিকভাবে সহায়তা দেওয়া। হয়তো আলোচনার মাধ্যমে ভেঙে যাওয়া সম্পর্কটির নবোদয় হবে না। কিন্তু, হ্যাঁ বন্ধুর দেওয়া এই মানসিক শক্তির বলেই বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সামলে নিতে পারবেন আপনার ভগ্নহৃদয় বন্ধুটি। ব্রেকআপ হওয়া মানুষটির ভেতরে কী কী সদ্গুণ আছে তার পরিচর্যা করতে উৎসাহিত করলে বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যা অনেকখানি কমে যায়।
অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের কাউন্সেলর মরিয়ম সুলতানা বলেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে বিষণ্নতা, একাকিত্ববোধ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, ক্ষোভ—এ ধরনের বিভিন্ন মানসিক সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কাছের বন্ধুর মনের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলে কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। তবে তিনি এও বললেন, ‘খোলামেলা আলোচনার সঙ্গে এটাও মনে রাখুন, আপনি যাকে সব বলছেন সে সত্যিই কতটুকু বিশ্বাসী। আপনার অনুভূতির প্রতি ওই বন্ধু কতটুকু শ্রদ্ধাশীল।’


বন্ধুর করণীয়:

* ব্যাপারটি সম্পর্কে ভালোমতো জেনে নিন। ধৈর্য নিয়ে পুরোটা শুনে নিন। যদি এ পক্ষের দোষ থাকে তবে তাকে বুঝিয়ে বলুন, ভবিষ্যতে এমনটি করতে মানা করুন। আর যদি দোষ অপর পক্ষের হয়ে থাকে তবে তাকেও বুঝিয়ে বলুন, ‘চলার পথ এখনো অনেক বাকি, বন্ধু’।
* ভেঙে পড়া মানুষটিকে সময় দিন। একা থাকার কারণে সে আরও ভেঙে যেতে পারে। তাই তাকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাওয়া, কিংবা বন্ধুমহলে একসঙ্গে গল্প-আড্ডাও তাকে মানসিকভাবে ভালো রাখবে।
* তাকে সময় নিতে দিন। সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ার পর সে কী করতে চায়, সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ তার নিজের। প্রয়োজনে আপনি তাকে পরামর্শ দিতে পারেন, যেমন: ঝোঁকের বশে নতুন কোনো সম্পর্কে যেতে না করুন। কিন্তু মনে রাখবেন সিদ্ধান্তটা তার একান্তই নিজের।
* কোনোভাবেই আগের সম্পর্কের কথা তাকে মনে করিয়ে না দেওয়া। বরং তাকে সহায়তা করুন এর রেশ থেকে বেরিয়ে আসতে।
* সর্বোপরি তাকে মানসিকভাবে সহায়তা দেওয়া। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করুন। কেননা পরিবার থেকেও তার সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনে কোনো কাউন্সেলরের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দিতে পারেন।
Collected...

35
Islam & Science / রাতের বিশেষ ইবাদত
« on: February 27, 2016, 03:30:49 PM »
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থার নাম। তাই এতে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। আমাদের একটু সতর্কতাই পারে দৈনন্দিন কাজগুলোকে নেক আমলে পরিণত করতে। এরই ধারাবাহিকতায় রাত্রিকালীন কিছু সুন্নাত, আদব তুলে ধরার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
সন্ধ্যার আমল : মাগরিবের আজানের সময় হলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা ও ছোট বাচ্চাদের বাইরে যেতে বারণ করা উচিত। কেননা তখন জিন জাতি ঘোরাফেরা করে। (সিহাহ সিত্তাহ)

এমনিভাবে রাতে এশার নামাজ পড়েই শুয়ে পড়া সুন্নাত। তবে এর আগে কিছু এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগেও কিছু আমল রয়েছে। যেমন—ঘুমানোর আগে স্ত্রী-পরিজনের উপদেশমূলক ঘটনাবলি ও শরিয়তসম্মত কৌতুকপূর্ণ কথাবার্তা শোনানো। (শামায়েলে তিরমিজি : পৃ. ১৭) আর অহেতুক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা চাই। কেননা এর ফলে সকালে নামাজ কাজা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (তিরমিজি : ১/৪২) রাতে বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করা এবং বিসমিল্লাহ বলেই হুক লাগানো। (বুখারি : ২/৯৩১) পানির পাত্র, বালতি ইত্যাদি বিসমিল্লাহ বলে ঢেকে রাখা। ঢেকে রাখার কিছু না থাকলে অন্তত একখণ্ড লাকড়ি হলেও ওপরে দিয়ে রাখা। (বুখারি : ২/৯৩১) এরপর বিসমিল্লাহ বলে বাতি নিভিয়ে দেবে। (বুখারি : ২/৯৩১) যেসব বস্তু থেকে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকে, সেগুলোকে বিসমিল্লাহ বলে নিভিয়ে ফেলবে। (বুখারি : ২/৯৩১) যেমন—গ্যাসের চুলা ইত্যাদি। তা ছাড়া এর দ্বারা বিপুল পরিমাণ গ্যাসও অপচয় হয়, যা দেশ ও জাতির কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।

ঘুমানোর সময়ের কিছু আমল : অজুর সঙ্গে ঘুমানো। (আবু দাউদ : ১/৬৮৭) মিসওয়াক করে ঘুমানো। (মিশকাত ১/৪৪) চুল-দাড়ি আঁচড়ানো। (মিশকাত : ২/৩৮৪) উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানো। (উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম ১১৫) ঘুমানোর আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। (মিশকাত : ১/২০৮) শোয়ার আগে আরামদায়ক পোশাক পরিধান করা, কেননা রাসুল (সা.) শোয়ার  আগে লুঙ্গি পরিধান করতেন এবং জামা খুলে ঝুলিয়ে রাখতেন, তারপর আরাম করার আগে বিছানা ঝেড়ে নিতেন। তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানো। (নাসায়ি : ১/১৯৯) তাহাজ্জুদের জন্য জায়নামাজ শিয়রে রেখে ঘুমানো উত্তম। (আল উসওয়াহ : ৫৫৬)

নিদ্রা যাওয়ার আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া এবং বিছানায় শোয়ার পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। বুখারি : (২/৭৫৩) সুরায়ে ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ঘুমাবে। (বুখারি : ২/৭৫০) সম্ভব হলে কোরআনে কারিমের ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করে ঘুমানো। (সুনানে দারেমি : ২/৩৪১) অন্য বর্ণনা মতে, কমপক্ষে কোরআনের ১০টি আয়াত তেলাওয়াত করার কথা বলা হয়েছে। (দারেমি : ২/৩৪০) মাগরিবের পর সুরায়ে ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করা এবং ফজরের পর সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করা। (দারেমি : ২/৩৩৬) ঘুমানোর আগে তিনবার ইস্তিগফার অর্থাৎ ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পড়া। (মিশকাত : ১/২২১) বিছানায় শুয়ে এই দোয়া পড়া ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়াআহ ইয়া’। (বুখারি ২/৯৩৬)

সুবহে সাদেকের আগে ঘুম ভাঙলে উঠে তাহাজ্জুদ পড়া। (১/১০৯) রাতে যদি স্বপ্নদোষ কিংবা স্ত্রী সহবাস হয়ে থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে নেওয়া উত্তম, অন্যথায় কমপক্ষে সুবহে সাদেকের আগে গোসল করে নিতে হবে। এর বেশি বিলম্ব করা উচিত নয়। (আবু দাউদ : ১/২৯)
রাতের আদবসমূহে এটিও আছে যে একাধিক ব্যক্তি একই স্থানে ঘুমালে রাতে কোনো কারণে জাগ্রত হলে বাতি জ্বালানো ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক হওয়া, যাতে অন্যের ঘুমের ক্ষতি না হয়।

ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়ের সুন্নাত : খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। উঠেই সর্বপ্রথম উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল ও চক্ষুদ্বয় মর্দন করা, যাতে ঘুমের রেশ কেটে যায়। অতঃপর সুরায়ে আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করা। (নাসাই : ১ /২) তারপর এই দোয়া পাঠ করবে : ‘আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি আহয়ানা বা’দামা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’ (বুখারি : ২/৯৩৮) এরপর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করা সুন্নাত। (আবু দাউদ : ১/৮) তারপর তিনবার উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করবে। (তিরমিজি : ১/১৩)

36

ছেলে পরীক্ষা উপলক্ষে শিখেছে গরু সম্পর্কে রচনা। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এসে গেছে ‘নদী’। অতএব, কী আর করা? সে গরুকে নদীর তীরে নিয়ে এল; লিখল, ‘আমাদের গ্রামে একটি নদী আছে। নদীর তীরে অনেক গরু চরে’। অতঃপর জুড়ে দিল গরু সম্পর্কিত শেখা রচনাটা। আর পরীক্ষার খাতায় দুই ভাইয়ের গরু সম্পর্কিত রচনায় হুবহু মিল পরিলক্ষিত হলে পরীক্ষকের জিজ্ঞাসার জবাবে দুই ভাই সমস্বরে বলে উঠেছিল, ‘তা তো হবেই; কারণ আমরা যে একই গরুকে দেখে লিখেছি।’

এবং গ্রামের এক লোকের গরু হারানো গিয়েছিল; বহু চেষ্টা করেও সেটার খোঁজ পাওয়া গেল না। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ সাহেবের মতে, প্রতিটি গ্রামেই একজন করে পাগল থাকে। তো সেই পাগল এক ঘণ্টার মধ্যে গরুটি খুঁজে বের করে নিয়ে এসে বলল, ‘আমি চিন্তা করে দেখলাম, আমি গরু হলে কোথায় কোথায় যাইতাম। সেই সব জায়গায় গেছি, গরু পাইয়া গ্যাছিগা।’ আর গ্রামের অপর একজনের গরু হারালে পরে সে সকালে খুঁজতে বেরিয়ে দুপুরে শুষ্ক মুখে বাড়িতে প্রত্যাবর্তনের পর পুত্রকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে এক গ্লাস পানি আনতে বললে স্ত্রীর জিজ্ঞাসার জবাবে নাকি বলেছিল, ‘মা, গরু হারালে এমনই হয়।’

ছাত্রাবস্থায় ‘জরাসন্ধ’ রচিত কারাগার সম্পর্কিত গ্রন্থ লৌহকপাট-এ পড়েছিলাম, গরু চুরির অপরাধে ধৃত অপরাধীকে কারাগারে সবচেয়ে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়। কেননা, গরু চুরি নাকি সবচেয়ে সহজ কাজ, গরুকে গোয়ালঘর থেকে বের করে রাতটা কোনোরকমে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রেখে ভোরের আলোয় মানুষের হাঁটাচলার রাস্তায় তুলে দিয়ে গরুর পেছনে পেছনে হাঁটা দিলেই ব্যস, আর কিছু করার দরকার নেই।

মানবদেহের জন্য প্রোটিন অত্যাবশ্যক, আর প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে গরুর মাংস ও ডাল এবং একসময় ডাল অনেক সস্তা ছিল বিধায় ডালকে বলা হতো ‘পুওর ম্যানস বিফ’ তথা গরিবের গরুর মাংস; কিন্তু এখন আর সেই সুদিন নেই। আর আমাদের মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জবাইকৃত গরুর মাংসই সারা বছরের প্রোটিনের ঘাটতি বহুলাংশে পুষিয়ে দেয়। তো গল্প আছে: পাশাপাশি মুসলমান ও হিন্দুর বাড়ি। মুসলমানের বাড়িতে কোরবানির মাংস রান্না করায় হিন্দু প্রতিবেশী কোর্টে কেইস করে দিলেন যে যেহেতু ঘ্রাণে অর্ধভোজন হয়ে যায়, অতএব তাঁর জাত গেছে। সময়টা ছিল ব্রিটিশরাজের; ব্রিটিশ বিচারক রায় দিলেন—মুসলমান প্রতিবেশীকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হলো; তবে ২০০০ টাকার পরিমাণ মুদ্রার ঝনঝনানি অভিযোগকারীর কানের কাছে এক ঘণ্টা শোনালেই তা আদায় হয়ে যাবে, যেহেতু ঘ্রাণে অর্ধভোজন আর শ্রবণে সিকি।

বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ বা শব্দগুচ্ছও এসেছে গরু থেকে। উদাহরণস্বরূপ: গোবেট, গোমূর্খ, গোধূলি, গোবর-গণেশ, মাথায় গোবর, গো-বেচারা, গোগ্রাসে গেলা, গোবরে পদ্মফুল, ওগায়রা-ওগায়রা

আমাদের দেশে ‘টল-টক্’ তথা লম্বা-চওড়া কথা বলায় ওস্তাদ একজন একবার গল্প করছিলেন, ‘আমার দাদার গোয়ালঘর এত বিশালাকৃতির ছিল যে তার এক প্রান্তে গাভি বাছুর বিয়ালে সেটা অপর প্রান্তে হেঁটে যেতে যেতে নিজেই আরেকটা বাছুর বিয়ানোর উপযুক্ত হয়ে যেত।’ এটা শুনে আরেকজন বলল, ‘আমার দাদার একটি বিশাল লম্বা বাঁশ ছিল, যেটা দিয়ে তিনি মেঘাচ্ছন্ন সকালে মেঘ সরিয়ে রোদ পোহাতেন।’ ‘তা তোমার দাদা এত লম্বা বাঁশটি মাটিতে রাখতেন কোথায়’? প্রথমোক্ত ব্যক্তির এই প্রশ্নের উত্তরে দ্বিতীয় ব্যক্তি জানালেন, ‘তোমার দাদার গোয়ালঘরে।’

গল্পটির একটি চায়নিজ সংস্করণও আছে: জনৈক চায়নিজ বললেন, ‘আমাদের বাড়িতে একটা দারুণ ঢাক আছে, যেটা বাজালে আওয়াজ ১০০ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়।’ শুনে অপর চায়নিজ বলে উঠলেন, ‘আমাদের বাড়িতে একটি বিশালাকৃতির গরু আছে, যেটা নদীর এপারে যখন পানি খায়, তখন তার মুখ চলে যায় ওপারে।’ আগের ওস্তাদের ‘এত বিশালাকৃতির গরু কি থাকতে পারে’ প্রশ্নের উত্তরে এবার তিনি বললেন, ‘না থাকলে আপনাদের ওই ঢাকের চামড়া আসবে কোত্থেকে?’

ইসমাইলিয়া শিয়া সম্প্রদায়ের বর্তমান গুরু প্রিন্স করিম আগা খানের দাদা প্রিন্স আলী আগা খানকে একবার নাকি ইউরোপে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘এটা কি সত্যি যে আপনার ধর্মানুসারীরা আপনাকে পূজা করেন?’ তদুত্তরে তিনি মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘আরে, আমি যে ভারতবর্ষের অধিবাসী, সেখানে লোকজন গরুকে পূজা করে; আর আমি তো মানুষ।’

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের বেলায়ও গরুর একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। সিপাহিদের বন্দুকে যে কার্তুজ ব্যবহৃত হতো, সেটা দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। তো গুজব রটে যায় যে এর সঙ্গে গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে; তাই কার্তুজ ব্যবহার করলে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সৈন্যদেরই জাত যাবে। তাই দানা বাঁধে বিদ্রোহের, যেটা ব্রিটিশরা অনেক কষ্টে সামাল দিতে পেরেছিল।

গরু সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দেরও (যাঁর পারিবারিক নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত) একটি মজার উপাখ্যান আছে: একবার গিরিধারী লাল নামক এক ব্যক্তি স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎপূর্বক বলল যে সে গো-রক্ষিণী সমিতির সম্পাদক; দুর্বল, রুগ্ণ, জরাগ্রস্ত গো-মাতাদের সেবা করাই তাদের ব্রত। এটা শুনে বিবেকানন্দ বললেন, ‘শুনেছি মধ্য ভারতে দুর্ভিক্ষে প্রায় নয় লাখ লোক মারা গেছে। এ ব্যাপারে আপনারা কী করেছেন? লোকটি বলল, ‘মানুষ মরছে নিজের কর্মফলে। তাদের বাঁচার দরকার কী? আর গাভি হচ্ছে আমাদের মাতা।’ এবারে স্বামীজি সহাস্যে মন্তব্য করলেন, ‘হ্যাঁ, গাভি যে আপনাদের মাতা, সেটা বিলক্ষণ বুঝেছি। কেননা, তা নইলে এমন সব ছেলে জন্মাবে কেন?’

আর গোপাল ভাঁড়ের গল্পেও গরু যথারীতি বিদ্যমান। একদা নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর ভাঁড় গোপালের বুদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য বললেন, ‘কাল তুমি আমাকে একসের ষাঁড়ের দুধ এনে দিও।’ গোপাল তো চিন্তায় চিন্তায় অস্থির। তাঁর বউ বললেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই; আমি এটা সামাল দিচ্ছি।’ তিনি এক বোঝা কাপড় নিয়ে রাজবাড়ির সামনে নদীর ঘাটে কাচতে শুরু করে দিলেন। রাজা দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করাতে তিনি বললেন, ‘আমার স্বামী প্রসব বেদনায় কাতর। তাই আমাকে এ কাজ করতে হচ্ছে।’ রাজা এটা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করাতে গোপাল-পত্নী এবার বললেন, ‘রাজা মশায়, যে দেশে ষাঁড়ের দুধ পাওয়া যায়, সে দেশে ওটা এতই কি অসম্ভব!’ রাজা তখন বিষয়টা বুঝতে পেরে উচ্চ স্বরে হেসে উঠেছিলেন।

37
অনেকেই কেবল পানাহার ছেড়ে ভাবছেন রমজানের হক আদায় হয়ে যাচ্ছে। রোজার আসল উদ্দেশ্য হাসিল করছি। বিষয়টি আসলেই তেমন? অথচ রোজা অবস্থায় দিনরাত পরনিন্দা, অপরের দোষচর্চা, অহেতুক গল্পগুজবে মত্ত থেকে রোজার দিনগুলো পার করছে কেউ কেউ। কেউ বা আবার লোক দেখানো রোজা, নামাজ, তেলাওয়াতে গড়াচ্ছে সময়। বস্তুত রোজার আসল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে দিনে পানাহার থেকে বিরত থাকা; খারাপ-অশ্লীল কথা মুখে উচ্চারণ না করা এবং সর্বপ্রকার অন্যায় ও গর্হিত কাজ থেকে বেঁচে থাকা। কারণ সত্যিকারের রোজা তা-ই, যাতে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড শোভা পায় না। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- ‘রোজাদার ব্যক্তির জন্য রোজামুখে কোনো খারাপ কথা উচ্চারণ না করা উচিৎ। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া কিংবা গালমন্দ করে, তাহলে রোজাদার বলবে- আমি রোজা রেখেছি। তোমার কোনো খারাপ কথার উত্তর দেবো না।’ রাব্বে কারিম ইরশাদ করেন- ‘রোজা রাখার দ্বারা অন্তর পবিত্র ও কলুষমুক্ত হয়।’ তাছাড়া সত্যিকারের রোজার ফলেই লাভ করা যায় অনাবিল সুখনগরী জান্নাত। রাসূল (সা.) বলেন— ‘রোজা হলো দোজখ থেকে আত্মরক্ষার উপায়।’ রোজা রেখে অফিস কিংবা বাসাবাড়িতে বেশির ভাগকেই দেখা যায় গিবত তথা অপরের দোষচর্চা করতে। অথচ রাব্বে কারিম ইরশাদ করেন- ‘তোমরা একে অপরের গিবত ক’রো না।’ (সূরা হুজুরাত : ১২)। সাহাবিগণ রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন- ‘গিবত কি?’ রাসূল (সা.) বললেন- ‘তোমাদের ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কোনো কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে।’ সাহাবায়ে কেরাম বললেন- ‘যদি সে দোষটি তার মাঝে সত্যিই থাকে?’ প্রিয়নবী (সা.) বললেন- ‘সে দোষ তার মাঝে থাকলে, তবেই তোমরা গিবত করলে; আর যদি না থাকে, তবে তো অপবাদ লাগালে।’ গিবত কেবল মুখেই হয় না; হাত-পা, চোখ, ইত্যাদি দ্বারাও হয়। যেমন- একজন লোক খোঁড়া। কেউ যদি তার অনুকরণ করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে দেখায়, তাহলে সে তার গিবত করলো। রাব্বুল আলামিন গিবতের নিকৃষ্টতা তুলে ধরেছেন এভাবে- ‘তোমাদের মাঝে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? বস্তুত তোমরা তো তা ঘৃণা করো।’ (সূরা হুজুরাত : ১২)। এ আয়াত দ্বারা বোঝা গেল, গিবত করা ঠিক সে ধরনের ঘৃণার কাজ, যেমন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্র এমনও আছে, যখন একজনকে অপরের দোষ প্রকাশ করতে হয়; তখন তা গোনাহ নয়। ক্ষেত্রগুলো সাধারণত এমন- ১. ধর্মীয় ও চারিত্রিক দোষে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে ২. ফতোয়া গ্রহণের প্রয়োজনে ৩. একজনের অনিষ্ট থেকে অন্যকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ৪. কোনো ব্যক্তি এমন নামে পরিচিত হয়ে গেছে- যা মূলতঃ অমর্যাদাকর; কিন্তু এখন সে তাতে মনোক্ষুণ্ন না হলে, ৫. কোনো পদস্থ ব্যক্তি সম্পর্কে তার অফিসারের সামনে অভিযোগ করলে ৬. প্রকাশ্যে যে অপরাধ করে, তার অনিষ্টতা বর্ণনা করতে হলে। রমজানে পরনিন্দা বা অপরের দোষচর্চা তো দূরে থাক, শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে ফজিলতের এই ফরজ রোজাই রাখে না। অথচ রোজাদার আল্লাহতায়ালার কাছে খুব পছন্দনীয় ব্যক্তি। তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকআম্বর থেকেও সুগন্ধির। রোজা ও রোজাদারের এত ফজিলত থাকাসত্ত্বেও তারা হোটেল, রেস্টুরেন্ট কিংবা বাসাবাড়ির গোপন কক্ষে দিব্যি পেটপুরে পানাহার করে পার করে মাহে রমজানের দিনগুলো। আবার ইফতারের ঠিক পূর্বমুহূর্তে এদের অনেককেই দেখা যায় ইফতারের জন্য মসজিদে, বাসাবাড়িতে হল্লা দিতে। তাদের বড় গলায় করা উচ্চবাচ্যে কখনো বা খোদ রোজাদার ব্যক্তিই বিরক্ত হয়ে ঠিকমতো ইফতার করতে পারেন না। মানবতার এ চরম লাঞ্ছনাকর পরিস্থিতি! রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে দুর্ভোগ রয়েছে তাদের জন্য, যারা শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এমন ফজিলত ও মাহাত্ম্যপূর্ণ রোজা রাখা থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত রাখে। রোজা রাখার আগ্রহ কেবল আমাদের নয়, সাহাবায়ে কেরামের মাঝেও প্রবল ছিলো। যখন তাঁদের ঘরে খাবারের সঙ্কট হতো, তখন বলতেন- ‘আজ আমি রোজাদার।’ এমনকি নারী সাহাবিদের মাঝেও রোজা রাখার আগ্রহ ও প্রচলন খুব বেশি ছিলো। রোজা রাখার কারণে অনেকে তাঁদের স্বামীর কষ্টের কারণ হতেন। অবশেষে রাসূল (সা.)-এর পক্ষ থেকে আদেশ হলো- ‘কোনো নারী যেনো তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া (নফল) রোজা না রাখে।’ এর দ্বারা বোঝা যায়, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-ও সঠিকভাবে রোজার হক আদায় করতেন। তারা অপরের দোষচর্চা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতেন।

38

র : সিজদায়ে শোকর কখন কিভাবে করতে হয়?
উ : যখন কোন নিয়ামত লাভ হয় বা মুসীবত দূর হয় তখন সিজদায়ে তিলাওয়াতের মত একটি সিজদাহ করাতে অনেক সোয়াব পাওয়া যায়।
প্র : এক লোক নামাজে প্রবেশ করার আগে ইমামের আয়াতে সিজদাহ শোনার পর ঐ নামাযে ঐ ইমামের পিছনে ইকতিদা করলো; এমতাবস্থায় আয়াতে সিজদাহ শোনার কারণে তার উপর ওয়াজিব হওয়া সিজদাহ সে কখন আদায় করবে?
উ : সে যদি দ্বিতীয় আয়াতে ইকতিদা করে আর ইমাম প্রথম রাকাতে সিজদাহ করে ফেলে থাকে তাহলে নামাজ শেষ করেই তাকে সিজদাহ আদায় করতে হবে। আর যদি যে রাকাতে আয়াতে সিজদাহ পড়া হয়েছে সেই রাকাতের সিজদাহর আগে সে ইকতিদা করে তাহলে তো ইমামের সাথেই সিজদাহ আদায় করবে। আর সিজদাহর পরে ইকতিদা করলে তার আর সিজদাহ আদায় করতে হবে না।
প্র : কোন নামাজীর উপর নামাজের ভেতর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়েছিল কিন্তু সে যে কোন কারণে ওয়াজিব সিজদাহ আদায় করলো না। এমতাবস্থায় নামাজের বাইরে সে কী ঐ সিজদাহ আদায় করতে পারবে?
উ : না করতে পারবে না। কারণ নামাজের মধ্যে ওয়াজিব হওয়া সিজদাহ নামাজের ভেতরেই আদায় করতে হয়। বাইরে করার কোনো অবকাশ নেই। তাই ভুলবশতঃ ঐ সিজদাহ ছেড়ে দিলে কোন কিছু করার নেই। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড়লে নামাজীকে গোনাহগার হতে হবে।

39
হিংসা মানুষের অন্তরের দুরারোগ্য ব্যাধি। যা সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সমাজে নানা ফেতনা ফ্যাঁসাদ সৃষ্টি করে। সর্বোপরি তা সমাজের সম্প্রীতির ভিত নষ্ট করে দেয়। হিংসা-বিদ্বেষের ফলে মানুষ কারো বিরুদ্ধে কুচক্রান্ত, ষড়যন্ত্র এমনকি সম্পর্কচ্ছেদ করতেও দ্বিধা করে না। তাই যতক্ষণ মানুষের অন্তর বিদ্বেষমুক্ত না হয় ততক্ষণ তার কর্মও অন্যায়মুক্ত হয় না। হিংসা-বিদ্বেষ সমাজে অন্যায়-অপকর্ম ও পাপাচার ছড়ায়। হিংসার কারণে সমাজের মানুষ অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠে। পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পাপ করে ইবলিস। সেটা ছিল হিংসার কারণে। ইবলিসকে বলা হলো আদম (আ.)-কে সম্মানের সিজদা দিতে। আদম (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদা দেখে ইবলিস হিংসায় জ্বলে ওঠে এবং তাকে সিজদা করতে অস্বীকার করে। ফলে সে জান্নাত থেকে চিরদিনের জন্য বিতাড়িত হয়। অনুরূপভাবে আদম-পুত্র কাবীল তার ভাই হাবীলকে হত্যা করে হিংসার বশবর্তী হয়ে। হাবীল ছিল পরহেযগার ও মুত্তাকী। সে আল্লাহর ভালোবাসায় তার সবচেয়ে ভালো দুম্বাটি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে। কাবীল তার ক্ষেতের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ফসলের একটা অংশ আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি দেয়। আল্লাহতায়ালা কাবীলের কোরবানি কবুল না করে হাবীলেরটা কবুল করেন এবং আসমান থেকে আগুন এসে তা উঠিয়ে নেয়। এতে কাবীল হিংসায় জ্বলে ওঠে এবং হাবীলকে হত্যা করে। পরবর্তীকালে ইহুদিরা বিদ্বেষী হয়ে ওঠে মুসলমানদের ওপর এ হিংসায় যে, শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন মুসলমানদের মধ্যে আগমন করল। তাদের ধারণা ছিল, শেষ নবী তাদের মধ্য থেকে আগমন করবে। শেষ নবী তাদের মধ্য থেকে আগমন না করার হিংসায় তারা বহু মুসলমানকে ঈমান আনার পরও কাফের বানাতে চেষ্টা করেছে। কোরআনে কারীমে বলা হয়েছে, ‘আহলে কিতাবদের অনেকে চায় ঈমান আনার পর তোমাদেরকে কুফরীতে ফিরিয়ে নিতে, তাদের নিকট সত্য প্রকাশ হওয়ার পরও, শুধু বিদ্বেষবশত তারা এ অপকর্ম করে’ (সূরা বাকারা-১০৯)। দেখা যাচ্ছে, যুগে যুগে মানুষ হিংসার কারণেই অপরাধ প্রবণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ কর না, ষড়যন্ত্র কর না ও সম্পর্ক ছিন্ন কর না। বরং তোমরা আল্লাহতায়ালার বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।’হিংসা-বিদ্বেষ মুনাফিকের চরিত্র। কোনো মুমিন অন্য মুমিনের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রাখতে পারে না। এটি মুনাফিকদের একটি বদ স্বভাব। মুনাফিকদের হিংসা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যদি তোমাদের কোনো কল্যাণ স্পর্শ করে তাতে তারা অসন্তুষ্ট হয় আর যদি তোমাদের কোনো অকল্যাণ হয় তাতে তারা আনন্দিত হয়’। (সূরা আল ইমরান-১২০)। এই দুটি স্বভাবের মধ্যে মুমিনের গুণ হলো সে সর্বদা মানুষের কল্যাণ চাইবে, শুভ কামনা করবে। অন্যের অকল্যাণ কামনা করে কখনো মুমিন হওয়া যায় না। হাদিস শরিফে আছে, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্যের জন্য সেই বস্তুই ভালো না বাসবে যে বস্তু সে নিজের জন্য ভালোবাসে’। কারণ মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। সূরা হুজরাতের ১০নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই’। আর সত্যিকার অর্থে ভাই ভাইয়ের জন্য এমন বস্তু কামনা করতে পারে না যা সে নিজের জন্য অপছন্দ করে। অপরদিকে মুনাফিকের স্বভাব হলো, সে সর্বদা অন্যের অকল্যাণ চায়। অন্যের কোনো ভালো দেখলেই সে অস্বস্তি বোধ করে। আর এটাকেই হাদিসের পরিভাষায় হিংসা বলা হয়েছে। ‘আল্লাহতায়ালা অন্যকে যে নেয়ামত দান করেছেন তার প্রতি হিংসা করা এবং উক্ত নেয়ামত ধ্বংস কমনা করা’ এরই নাম হাসাদ বা হিংসা। সুতরাং বুঝা গেল হিংসার সাথে নেফাকের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। হিংসার সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, হিংসুক ক্রমান্বয়ে মুনাফিক হয়ে যায়। আর মুনাফিকদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনি¤œ স্তরে। কোরআনে কারীমে বলা হয়েছে, ‘মুনাফিকদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনি¤œ স্তরে এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাওয়া যাবে না’। (সূরা নিসা-১৪৫)

40
কোন চাকরি সবচেয়ে আনন্দের? কেবল ভালো বেতন কি চাকরিতে আনন্দের মূল উৎস? গার্ডিয়ানের জরিপে উঠে এসেছে, পাঁচটি চাকরির কথা, যেগুলো সবচেয়ে আনন্দদায়ক৷

টেকনিক্যাল ডিজাইন মেকার
শিল্পকারখানায় কোনো সমস্যা সমাধানে নতুন নকশার প্রস্তাব দেয়া এবং আপনার নকশাটা মনোনীত ও বিক্রি হওয়া- স্টুয়ার্ট বেরি’র মতে এ কাজটা তাকে আনন্দ দেয়৷ আইডিয়া খোঁজার মধ্যে নিজের স্বাধীনতা আছে এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা যায়, ফলে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা যায়৷

শিক্ষকতা
কোন কাজটা আপনাকে আনন্দ দেয়? কারিনা থম্পসনকে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বেশিরভাগ শিক্ষক বলেছেন, পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীর চোখে যে দীপ্তি দেখা যায় সেই মুহূর্তটা সবচেয়ে আনন্দের৷ এছাড়া তিনি বলেন, ‘‘শিশুদের সাথে কাজ করার সময় নিজেকে সবসময় তরুণ মনে হয়৷ পুরো দিনটা হাসিতে ভরা থাকে৷ সেই সাথে বিচিত্র ও সৃজনশীল কাজ করা হয়৷’’

হাসপাতালের নার্স
জোয়ানে উপটন রোগীদের সেবা করায় আনন্দ খুঁজে পান৷ যুক্তরাজ্যের ক্ল্যাটারব্রিজ ক্যানসার সেন্টারে কাজ করেন তিনি৷ তার মূল কাজ ত্বক ক্যান্সারের রোগীদের সেবা করা৷ ‘‘প্রতিদিন চমৎকার সব মানুষের সাথে দেখা হয় আমার৷ তারা আমাকে সবসময় ইতিবাচক অনুপ্রেরণা দেন৷’’

চিকিৎসক
অধ্যাপক ডেভিড গেরি লন্ডনের মোরফিল্ডস চক্ষু হাসপাতালের সার্জন৷ তিনি বলেন, ‘‘অস্ত্রোপচারের পর কোনো মানুষ যখন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায় এর চেয়ে তৃপ্তির কিছু হতে পারে না৷’’

মালি
বাগানের একজন মালির আয় খুব একটা বেশি নয়৷ কিন্তু সেখানে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে৷ ঘরের বাইরে প্রকৃতির মাঝে কাজ করা এবং ঋতুর পরিবর্তন দেখার আনন্দ রয়েছে- এমনটাই মনে করেন ইংল্যান্ডের পার্ক থেরাপি বাগানের মালি সুসি আটারবারি৷
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/15443#sthash.w4EFJbZP.dpuf

41

ব্যবসা পারস্পরিক চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের মহান উদ্যোগ এবং জীবিকা উপার্জনের উত্তম মাধ্যম। ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় শুধু বৈষয়িক মুনাফা লাভের সুযোগই নয়; বরং তা মহান ইবাদতেরও পর্যায়ভুক্ত হবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু সততা না থাকলে তা ইবাদত তো হবেই না, থাকবে না ব্যবসায়িক গণ্ডির মধ্যেও; পরিণত হবে প্রতারণায়।
রমজান আসবে আর দাম বাড়বে না, তা কী করে হয়! রমজানে দাম বাড়ানো একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ রীতিমতো হিংস্রও হয়ে ওঠেন রমজানে। তাদের লুটেরা মনোভাবের কারণে যুক্তিগ্রাহ্য কারণ না থাকলেও বাড়ান নিত্যপণ্যের দাম। মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ইবাদতের মাসকে পরিণত করেন ‘মুনাফার’ উৎসবে। চাল-ডাল, ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর ইত্যিাদির দাম হয় গগনচুম্বী।
একটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে যায় গোটা দেশের নাগরিক। আমাদের আশপাশের কত সাহেবেরা এখানে ওখানে লোক দেখানো দান সদকা করে দানশীলতার সুনাম কুড়ান। অথচ তারাই হয়তো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে রাখছেন। কোটি মানুষের টাকায় ভারী হচ্ছে তাদের পকেট। সিন্ডিকেটে জড়িত থেকে আল্লাহর বান্দাদের কষ্ট দিয়ে রমজানে ইবাদত, দান-খায়রাতের অভিনয় রমজানের সাথে উপহাস করা ছাড়া কিছুই নয়।
যারা বেশি লাভের আশায় মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করবে ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। রাসূলুল্লাহ সা: তাদের দিকে আঙুল তুলেছেন বারবার। মজুদদারদের প্রতি আল্লাহ তায়ালাও ক্ষুব্ধ হন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন খাদ্য মজুদ রাখল সে আল্লাহ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল, আল্লাহও নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে’ (মুসনাদে আহমাদ: ৮/৪৮১)। মজুদদারির মাধ্যমে কোটিপতি হলেও তার ওপর গজব ও দারিদ্র্য অবধারিত। হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম উপায়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেবেন (ইবনে মাজা : ২/৭২৯)। পক্ষান্তরে যারা মজুদদারি না করে স্বাভাবিকভাবে মুনাফা অর্জন করতে চান, আল্লাহ তাদের ব্যবসায় বরকতের দরজা খুলে দেন। তাকে অপ্রত্যাশিত রিজিক দান করেন। হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘অবাধ ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদদকারী অভিশপ্ত হয় (ইবনে মাজা: ২/৭২৮)। ড. ইউসুফ আল কারযাবি এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, একজন ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ক্রেতাকে বাধ্য করে অধিক মূল্যে বিক্রি করে যে লাভ করে তা খুবই সামান্য। কারণ তার পণ্য মজুদ করার কারণে তা বিক্রি হয়নি, পুঁজি আটকে আছে। পক্ষান্তরে অন্য একজন ব্যবসায়ী পণ্য বাজারে নিয়ে এসে অল্প লাভে বিক্রি করে এই মূলধন দিয়ে আবারো পণ্য নিয়ে আসবে, তাতে বহু গুণ মুনাফা পাবে। এভাবে তার ব্যবসা চলতে থাকবে আর পণ্যদ্রব্য বেশি ক্রয়-বিক্রয় হওয়ার কারণে অল্প অল্প করে মুনাফার বিশাল অঙ্ক দাঁড়াবে (ইসলামে হালাল-হারামের বিধান, পৃষ্ঠা-৩৫৫)। ‘আরো চাই’ প্রবণতা মানুষকে চরম সঙ্কটে ফেলে দেয়; হাজার কোটি টাকা থাকলেও তার অভাব শুধু বাড়তেই থাকে। তাই প্রাচুর্যের চাহিদার লাগাম টেনে ধরার নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কুরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। এমনকি তোমরা কবরে পৌঁছে যাবে’ (সূরা তাকাসুর : ১-২)। রাসূলুল্লাহ সা: তাঁর সাহাবিদের নির্মোহ জীবনযাপনে উৎসাহ দিয়েছেন। চাহিদার লাগাম টেনে ধরলে অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায় দৃষ্টিও থাকে না। হারামের সন্দেহ থাকলেই তা ত্যাগ করে।
মানুষের চাহিদা পুঁজি করে বেশি সম্পদ উপার্জনের নেশায় পণ্যের দাম বাড়ালে হাশরের ময়দানে বিন্দুমাত্রও ছাড় পাওয়া যাবে না। হজরত রিফা’আ রা: বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সা:-এর সাথে বের হলাম। তিনি লোকেদেরকে সকাল বেলা বেচাকেনা করতে দেখলেন। তিনি তাদের ডাকলেন, হে ব্যবসায়ীরা! তারা রাসূলুল্লাহ সা:-এর দিকে মনোযোগে তাকালে ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে তাকালে তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহাপাপী হিসেবে উত্থিত হবে। তবে যারা আল্লাহকে ভয় করবে, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত’ (তিরমিজি : ৩/৫১৫; ইবনে মাজা : ২/৭২৬)।
আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবসায় সব ধরনের প্রতারণা মজুদদারি, মুনাফাখোরি বাদ দিলে এর প্রতিদানও নিশ্চিতভাবে মিলবে হাশরের ময়দানে। হজরত আবু সায়ীদ খুদরি রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের হাশর হবে নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সাথে (তিরমিজি: ৩/৫১৫)। একজন ব্যবসায়ীর জন্য এর চেয়ে আশার বাণী আর কী হতে পারে!
তাই ব্যবসায়ীদের চাই একটি পরিকল্পনা করা, কিভাবে রমজানে ইসলাম নির্দেশিত পন্থায় ব্যবসার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যায়। দিনের বেলায় না খেয়ে যেমন পেটকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তেমনি ব্যবসায় হালাল-হারাম মেনে আদর্শ ব্যবসায়ী হওয়ার শপথ হোক রমজানে।

42
We, The Daffodil International University cricket team, are going to play an international tournament which will be held in Malaysia and this tournament is of international inter university tournament where total Eight universities from different parts of the globe will take part including Australia,  England, Srilanka,India Pakistan and others. For the recent performance in national level we are invited from the tournament organizer UKM. Regarding this context we have  created a strong team who will represent DIU in abroad.

43
সকল ধর্মেই রোজা রাখা বা উপবাস থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে অন্যান্য ধর্মের ন্যায় সূর্যের সময় হিসেবে রোজার সময় নির্দিষ্ট করা হয়নি। চাঁদের সময়ের হিসেবে রোজার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। যাতে মানুষ সহজে সারা বছর পরিবর্তিত সময়ে রোযা রাখতে পারে। সৌর মাস অনুযায়ী রোযা রাখার নির্দেশ হলে কোন কোন অঞ্চলে দিন বড় হবার কারণে মানুষের জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হতো। আবার কোন কোন অঞ্চলের মানুষ দিন ছোট হবার কারণে সহজেই রোজা রাখতে পারতো। চান্দ্র মাসের হিসেবে রোজা রাখার দরুন এই অসাম্যের কোন অবকাশ নেই।

হযরত হাফেজ আবদুল কায়্যিম (রঃ) বলেছেন যে, রোজার যতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ফরয করা হয়নি। বরং মাধ্যমিক অবস্থায় ফরয করা হয়েছে। কেননা সাহাবায়ে কেরাম ততদিনে তাওহীদ ও নামায ইত্যাদি ইবাদত পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করেছিলেন।” (যাদুন মাআদ)

রোজার মাধ্যমে মানুষ নিজের নাফসের বাড়াবাড়িকে সুনিয়ন্ত্রণ করতে শিখে। তাই সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে, প্রত্যেক জিনিসের যাকাত আছে আর দেহের যাকাত হলো রোযা।” মানুষের স্বভাবে দুই ধরনের শক্তি নিহিত আছে। একটি হলো ফেরেশতাসুলভ শক্তি আর অপরটি হলো পশুসুলভ শক্তি। ফেরেশতাসুলভ শক্তি মানুষকে আল্লাহর মারেফাত অর্জনে সহায়তা করে। আর পশুসুলভ শক্তি আল্লাহর পরিচিতি লাভে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাকওয়া বা খোদাভীতি রূহানী শক্তিকে প্রবল করে।

প্রকৃতপক্ষে মানুষের অন্তরই হলো তাকওয়ার স্থান। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, “ফা আলহামাহা ফুযূরাহা ওয়া তাকওয়াহা”- অর্থাৎ তিনি তাকে তার দুষ্কর্ম ও তার সংযমশীলতা এলহাম করিয়েছেন। যাবতীয় ইবাদত ও নেক আমল তাকওয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় আর যাবতীয় পাপাচার ফুযুরের আওতাধীন। এ দুটি পরস্পর বিরোধী শক্তি আদিকাল থেকে মানুষের মধ্যে সক্রিয় রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ শোন, দেহের মধ্যে একটি মাংসের টুকরা রয়েছে, যতক্ষণ ওটা ভালো থাকবে, সমস্ত দেহ ততক্ষণ ভালো থাকবে। আর যখন সেটা খারাপ হয়ে যাবে তখন সারা দেহই খারাপ হয়ে যাবে। জেনে রাখ সেটা হলো কালব বা হৃদপি-।” অন্য হাদীসে তিনি সাহাবায়ে কেরামদের (রাঃ) লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা জেনে রাখ তাকওয়ার স্থান এইখানে, অতঃপর তিনি দিলের দিকে ইঙ্গিত করলেন।”

রোজার মাধ্যমে একজন মুসলিম লেবাসী মুসলমান না হয়ে সর্বক্ষেত্রে তাকওয়ার পাবন্দি হতে হবে। একজন মুত্তাকী মুসলিমের ঈমানিয়াত বা বিশ্বাস সম্পর্কীয় বিষয়সমূহ, ইবাদত বা উপাসনা সম্পর্কিত বিষয়াদি, মুআমিলাত বা সাংসারিক সম্পর্কীয় বিষয়াদি, মুআশরাত বা সামাজিক ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়াদি। তামাদ্দুন বা কৃষ্টি সভ্যতা, ইকতেসাদিয়াত বা অর্থনীতি সম্পর্কীয় বিষয়াদি এবং সিয়াসিয়াত বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়াদি ইসলামের আদর্শে বাস্তবায়িত ও প্রতিফলিত করা অপরিহার্য। এটাই হলো মানব সমাজের জন্য তাকওয়ার দাবি।

44
Ramadan and Fasting / রোজা গোপন ইবাদত
« on: July 19, 2014, 06:19:57 PM »
রোজা ছাড়া অন্যান্য ইবাদত প্রকাশ্যে পালন করতে হয়। কিন্তু রোজা গোপন ইবাদত। রোজার কথা আল্লাহ ও রোজাদার ভিন্ন অন্য কোনো লোক জানতে পারে না।
দীর্ঘ সময়ের একটানা ইবাদত : রোজা প্রত্যেক বছর একটানা এক মাস আল্লাহর হুকুম মতো পালন করতে হয়। একটানা প্রত্যেক ঘণ্টা, প্রত্যেক মিনিট প্রত্যেক সেকেন্ড আল্লাহর ইবাদতে কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ। রোজার এই প্রশিক্ষণ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের অনুরূপ। এই দীর্ঘ সময় ইবাদতের ফলে একদল ঈমানদার তাকওয়াবান মুমিন বান্দা তৈরি হয়, যারা বাতিলের মোকাবিলায় যোগ্য হতে পারে।
দারিদ্র্যবিমোচন করে : রোজা ধনী ও বিত্তবানদের মনে সহানুভূতির ভাব সৃষ্টি করে। কারণ তারা বুঝতে পারে ুধার যন্ত্রণা। রোজা গরিবকে সাহায্য করার জন্য উৎসাহিত করে। ধনীরা এই মাসেই সাধারণত জাকাত আদায় করে, ফিতরা দান করে, সেহরি ও ইফতারি নিয়ে গরিবদের কাছে এগিয়ে যায়। তাই রমজান মাসকে সহানুভূতির মাস বলা হয়।
অন্তরের রোজাই প্রকৃত রোজা : অন্তর রোজা রাখার অর্থ হলো অন্তরে শিরক স্থান পাবে না, বাতিল আকিদা বিশ্বাস স্থান পাবে না। মনে গর্ব অহঙ্কার, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোক দেখানোর মনোবৃত্তি থাকবে না, গোনাহর কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ উদ্দীপনা থাকবে না। মনকে এ সব খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখলেই অন্তরের রোজা হয়ে যায়।
পেটের রোজা : পেটের রোজা বলতে বোঝায় পেটকে হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে বাঁচানো। পরীক্ষিত খাবার খাওয়া অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া।
জিহবার রোজা : জিহবার রোজা সম্পর্কে নবী করিম সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ ত্যাগ করে না, তার খানাপিনা বন্ধ রেখে রোজা রাখা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নাই।’ (বুখারি)
জিহবা দ্বারা যে অন্যায়গুলো হয় রোজার শিক্ষা অনুযায়ী এগুলো ত্যাগ করতে হবে। যেমন : ১. মিথ্যা বলা ২. ঠাট্টা বিদ্রƒপ করা ৩. গালি দেয়া ৪. অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা ৫. নিন্দা করা ৬. চোগলখুরি করা ৭. অপবাদ দেয়া ৮. মোনাফেকি করা ও দু’মুখো কথা বলা ৯. বিনা প্রয়োজনে গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া ১০. ঝগড়া-ঝাটি করা ১১. হিংসা করা ১২. বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা ১৩. বাতিল বা হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা ১৪. অভিশাপ দেয়া ১৫. সামনা-সামনি প্রশংসা করা। রোজা রেখে এ সব ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে দূরে থাকাই জিহ্বার রোজা।
চোখের রোজা : চোখের রোজা হচ্ছে হারাম অশ্লীল জিনিস থেকে চোখকে ফিরিয়ে রাখা। রমজান হচ্ছে চোখের প্রশিক্ষণের মাস। এই মাসে চোখকে ঠিক করতে পারলে তা মুমিনের পরবর্তী মাসগুলোতে দিশারী হিসেবে কাজ করবে।
কানের রোজা : কানের রোজার গুরুত্ব অপরীসিম। কান যা শোনে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। কানের রোজা হচ্ছে গানবাজনা না শোনা এবং মন্দ, খারাপ অশ্লীল কাজ যেন কানে প্রবেশ না করে সেজন্য চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’ (সূরা বনী ইসরাইল-৩৬)
রোজার উদ্দেশ্য শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়। রোজার আসল উদ্দেশ্য আল্লাহর হুকুম মানার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। কিন্তু রোজা রেখে যখন মানুষ সুদ খায়, ঘুষ খায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সা: নাফরমানি করে, তখন রোজার সুফল পাওয়া সেই রোজাদারের পক্ষে সম্ভব নয়।
এক কথায়, রোজাদার নিজের জিহ্বার হেফাজত করবে, দৃষ্টির হেফাজত করবে, কানের হেফাজত করবে, দেহের অপরাপর অঙ্গগুলো অবৈধ কাজে ব্যবহার না করবে, পেটকে হারাম খাদ্য থেকে মুক্ত রাখবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সার্বক্ষণিক তার স্মরণে নিমগ্ন থাকা আবশ্যক।

45


জনৈক বাদশাহ একদিন তার তিন মন্ত্রীকে ডেকে তাদেরকে একটি থলি নিয়ে রাজপ্রাসাদের বাগানে যেতে বললেন। অতঃপর সেখানে গিয়ে তাদের থলিগুলি উত্তম ফল-ফলাদি দ্বারা পূর্ণ করার নির্দেশ দিলেন। এছাড়া তাদেরকে বলে দিলেন, কেউ যেন একাজে একে অপরকে সাহায্য না করে। মন্ত্রীত্রয় বাদশাহর এ নির্দেশে আশ্চর্য হ’ল। কিন্তু কিছু করার নেই। রাজার নির্দেশ। তাই তারা একটি করে থলি নিয়ে বাগানে গেল।

একজন মন্ত্রী বাদশাহকে খুশী করার জন্য সবচেয়ে ভালো ভালো ফল-ফলাদি দ্বারা স্বীয় থলি ভর্তি করল। অপরজন মনে করল বিপুল প্রাচুর্যের অধিকারী বাদশাহর তো আর এত বেশী ফল-ফলাদির প্রয়োজন নেই। তাই সে অবহেলা ও অলসতা বশতঃ ভালো-মন্দ বাছাই না করে হাতের কাছে পাওয়া সবরকমের ফল-ফলাদি দ্বারা থলি ভর্তি করল। আর তৃতীয়জন বিশ্বাসই করল না যে, তাদের থলিতে কি ভরেছে তা বাদশাহ দেখবেন। তাই সে বিভিন্ন লতা-পাতা, খড়-কুটো ও গাছের পাতা দিয়ে ব্যাগ ভর্তি করল।

পরের দিন তারা বাদশাহর দরবারে উপস্থিত হ’ল। অতঃপর বাদশাহ স্বীয় সৈন্যদেরকে ডাকলেন এবং তিন মন্ত্রীকে তিনমাসের জন্য বন্দী করে রাখতে এবং খাবার হিসাবে উক্ত থলিগুলি তাদের সাথে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এছাড়া আরো নির্দেশ দিলেন যে, তিনমাসের মধ্যে তাদের কাছে কেউ যাবে না এবং তাদেরকে আর কোন খাবারও দেওয়া হবে না।

প্রথমজন উত্তম ফল-ফলাদি খেয়ে আরামেই তিনমাস পার করে দিল। দ্বিতীয়জন তার জমা করা ফলের মধ্যে ভালো গুলি দ্বারা অনেক কষ্টে তিনমাস পার করল। আর তৃতীয়জন একমাস পার হওয়ার পূর্বেই ক্ষুধায় মৃত্যুবরণ করল।

উপদেশ : দুনিয়াবী জীবন উক্ত বাগান সদৃশ। সৎ আমল বা মন্দ আমল উভয়টিই অর্জন করার ব্যাপারে মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু রাজাধিরাজ আল্লাহ যখন আমাদেরকে কবর নামক বন্দীশালায় বন্দী করবেন, সেখানে কোন আমলটি কাজে আসবে? নিশ্চয়ই সৎ আমল! অতএব ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রত্যেকটি দিনকেই জীবনের শেষ দিন হিসাবে গণ্য করুন। প্রতিদিন কতটুকু সৎ আমল পরকালের জন্য জমা করতে পারছেন তার হিসাব রাখুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন-আমীন।
- See more at: http://www.at-tahreek.com/july2014/article1101.html#sthash.RbIWgrj2.dpuf

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 8