Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - ishaquemijee

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 8
46


জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি মক্কায় বসবাস করত। তার ঘরে সতী-সাধ্বী স্ত্রী ছিল। একদিন স্ত্রী তাকে বলল, হে সম্মানিত স্বামী! আজ আমাদের ঘরে কোন খাবার নেই। আমরা এখন কি করব? একথা শুনে লোকটি বাজারের দিকে কাজ খুঁজতে বেরিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সে কোন কাজ পেল না। একসময় ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে সে মসজিদে গমন করল। সেখানে সে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করে স্বীয় কষ্ট দূর হওয়ার জন্য আল্লাহর নিকটে দো‘আ করল। দো‘আ শেষে মসজিদ চত্তরে এসে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখল এবং সেটা খুলে এক হাযার দিরহাম পেয়ে গেল। ফলে তা নিয়ে লোকটি আনন্দচিত্তে গৃহে প্রবেশ করল। কিন্তু স্ত্রী উক্ত দিরহাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলল, অবশ্যই আপনাকে এ সম্পদ তার মালিককে ফেরৎ দিয়ে আসতে হবে। ফলে সে পুনরায় মসজিদে ফিরে গিয়ে দেখতে পেল যে, এক ব্যক্তি বলছে ‘কে একটি থলি পেয়েছে যেখানে এক হাযার দিরহাম ছিল?’ একথা শুনে সে এগিয়ে গিয়ে বলল, আমি পেয়েছি। এই নিন আপনার থলিটি। আমি এটা এখানে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। একথা শুনে লোকটি তার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, ঠিক আছে ব্যগটি আপনিই নিন। আর সাথে আরো নয় হাযার দিরহাম নিন।

একথা শুনে দরিদ্র লোকটি বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। তখন লোকটি বলল, সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তি আমাকে দশ হাযার দিরহাম দিয়ে বলেছিল যে, এর মধ্য থেকে এক হাযার দিরহাম আপনি মসজিদে ফেলে রাখবেন এবং কেউ তা তুলে নেওয়ার পর আহবান করতে থাকবেন। তখন যে আপনার আহবানে সাড়া দিবে, আপনি তাকে সম্পূর্ণ টাকা প্রদান করবেন। কেননা সেই হ’ল প্রকৃত সৎ ব্যক্তি।

উপদেশ : যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য পথ খুলে দেন এবং এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করেনি’ (তালাক ৬৫/৩)

47
আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন:

জনৈক বাদশাহর একজন উযীর ছিল, যিনি সকল বিষয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করতেন। একদিন বাদশাহর একটি আঙ্গুল কেটে তা থেকে রক্ত গড়াতে লাগল। এ অবস্থা দেখে উযীর বললেন, এটা অবশ্যই কল্যাণকর হবে ইনশাআল্লাহ। একথা শুনে বাদশাহ উযীরের উপর রাগান্বিত হয়ে বললেন, আমার আঙ্গুল কেটে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, আর আপনি এর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাচ্ছেন? বিষয়টা বাদশাহকে এত বেশী ক্রোধান্বিত করল যে, তিনি উযীরকে কারান্তরীণ করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু উযীর স্বভাবতই বললেন, এটা অবশ্যই কল্যাণকর হবে ইনশাআল্লাহ।

কিছুদিন পর এক শুক্রবারে অভ্যাসবশত বাদশাহ বেড়াতে বের হয়ে একটি বিশাল জঙ্গলের পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর তিনি জঙ্গলের গহীনে বেড়াতে গিয়ে মূর্তিপূজারী একটি গোত্রের দেখা পেলেন। সেদিন ছিল তাদের পূজার দিন। তারা মূর্তির প্রতি উৎসর্গ করার জন্য কাউকে খুঁজছিল। হঠাৎ তারা বাদশাহকে পেয়ে গেল এবং উৎসর্গ করার জন্য তাকে ধরে নিয়ে গেল। কিন্তু তারা তার একটি আঙ্গুল কর্তিত দেখতে পেয়ে বলল, ‘এ ত্রুটিযুক্ত মানুষ উৎসর্গ করা আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে না’। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিল। ফিরে আসার পথে বাদশাহর উযীরের সেই কথা ‘এটা অবশ্যই কল্যাণকর হবে ইনশাআল্লাহ’ মনে পড়ল। ফলে তিনি রাজ্যে ফিরে এসেই উযীরকে মুক্ত করে দিলেন এবং ঘটনাটি বর্ণনা করে বললেন, সত্যিই আঙ্গুল কেটে যাওয়াটা আমার জন্য কল্যাণকর হয়েছে। তবে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই যে, আমি আপনাকে কারাগারে পাঠানোর সময় আপনি বলছিলেন ‘এটা অবশ্যই কল্যাণকর হবে ইনশাআল্লাহ’। এক্ষণে আপনি কারাগারে গিয়ে কি কল্যাণ লাভ করলেন?

উযীর বললেন, আপনার উযীর হিসাবে সবসময় আমি আপনার সাথে থাকি। আর আমি যদি কারাগারে না যেতাম, তবে অবশ্যই আপনার সাথে জঙ্গলে যেতাম। ইতিমধ্যে তারা আমাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে আমার মধ্যে কোন খুঁত পেত না। তখন তারা আপনাকে বাদ দিয়ে আমাকেই উৎসর্গ করত। এভাবেই কারাগারে গমন করা আমার জন্য কল্যাণকর হয়ে উঠলো!!


 

48
Hair Loss / Hair Maintenance / Ways to prevent hair loss
« on: July 15, 2014, 10:20:53 AM »
When we are suffering from hair loss, The first thing are we should focus on the food what is in our regular food menu. We can provide you a list of super foods that promotes good hair growth and prevents hair loss - Sunflower seeds:  Nuts: Eggs: Spinach:Carrots:Sweet Potatoes : Beans :Salmon :Beef: Oat: can even lead to hair loss which can be the temporary solutions.

BUT the best way to prevent hair loss and to improve the hair growth is to KNEADING hair by your fingers at lest once a day.

49
Cricket / Clemon Indoor Uni Cricket Tournament 2014
« on: April 13, 2014, 10:53:09 AM »
Clemon Indoor Uni Cricket Tournament 2014 started from 10th April, 2014 at Mirpur indoor stadium. Earlier in the first match on 11th April, 2014 Daffodil International University beat North South University by 25 runs.Today (13/04/2014) Daffodil International University will chase UITS at 3.30pm at Mirpur Indoor Stadium in its second match of Clemon Indoor Uni Cricket Tournament 2014. Our 3rd match on 14th April, 2014 against City University and 4th match on 15th April,2014 against University of Dhaka. Gazi TV will Live broadcast the matches. You are invited to watch the matches.

50
Career Fair / 1st DIU National Career Fair 2014
« on: March 03, 2014, 04:13:05 PM »


Venue of the event: Bangabandhu International Conference Center (BICC)
Date and time:        6th March, 2014, 9.00 AM to 5.00 PM

 Feature of Career Fair 2014:
        Master Class of Mr. Sabirul Islam (International motivational speaker and Young Entrepreneur)

        Master Class of Mr. Vivek Sood, CEO, Grameenphone

        Distinguished Panel Discussion

        Not only focused on jobs but also focused on Entrepreneurship, Self Employment, Higher Education Women Entrepreneurship,     Social Business

        Career Clinic with Skills Assessment Test

        Entrepreneurs’ Guidance Camp

        Young Entrepreneurs’ Award

        Young Leaders Award


51
আজকাল সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রায়ই শিক্ষকের দ্বারা ছাত্রী হয়রানির খবর প্রকাশিত হয়। একসময় শিক্ষক শব্দটি শুনলেই আমাদের মাথা শ্রদ্ধায় অবনত হত। এখন সময় পাল্টে গেছে, পরিস্থিতি অনেকটা বিপরীত দিকেই ধাবিত। কালের বিবর্তনে এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু স্বস্তি তৈরি করলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহজ সম্পর্কের সুযোগের অপব্যবহার করছেন অনেক শিক্ষকই। অনেক সময় শিক্ষার্থী হয়তো বুঝতেও পারছেন না তাকে নিয়ে শিক্ষকের করা মন্তব্যটি যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ছে। আবার অনেক সময় হয়রানি অনুভব করলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেন না মেয়েরা। কেউ যদি মনে করেন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাহলে তিনি আইনি আশ্রয় নিতে পারেন অথবা অন্য কারো পরামর্শ নিতে পারেন। কারণ হয়রানির প্রথম পর্যায়ে সঠিক উপায়ে তা ঠেকাতে না পারলে অপরাধী আরো উৎসাহ পায়। পরে এ থেকেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।  তাই কোন ধরনের বিষয়গুলো হয়রানির পর্যায়ে পড়ে তা জেনে রাখা ভাল।

যাচাই করুন মন্তব্যগুলো নির্দোষ নাকি ইঙ্গিতপূর্ণ

নির্দোষ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মধ্যে সূক্ষ্ম ফারাক রয়েছে। একটি উদাহারণ দেয়া যাক, ধরুন শান্তাকে তার শিক্ষক বললেন দেশি পোশাকের চেয়ে পশ্চিমা পোশাকে তাকে ভাল মানায়। অনেক শিক্ষার্থীই মনে করেন এক্ষেত্রে কোনো কথা না তুললেও তা এখানেই মিটে যাবে। অথবা তারা ভাবেন, তাদের শিক্ষক তাদের সঙ্গে অরুচিকর কিছু করতে পারবে না। সেই সঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পেছনে ভয়ও কাজ করে থাকে। এক্ষত্রে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় মনে করেন তারা। যা চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। কারণ শিক্ষক তার মৌনতাকে দুর্বলতা ধরে নিয়ে এগিয়ে যায়। তাই মন্তব্যের ভাষা বুঝে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ করতে হবে।

সীমা রেখা বুঝতে হবে

আজকের যুগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ অনেক সহজ। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটের কল্যাণে এ সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুত্বের পর্যায়ে চলে গেছে। আর ঠিক এ জায়গাতেই সীমা লঙ্ঘন করে বসেন অনেকে। ফেসবুকে কথোপকথনের সময় অনেক শিক্ষকই হয়ত মজা করে অনেক কিছু বলে থাকেন, আর শিক্ষার্থীও একে সহজ ভাবে নেন। এ থেকেই অনেক দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। তাই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কোনো মন্তব্য না পছন্দ হলে তা জানিয়ে দিতে হবে তৎক্ষণাৎ।

 প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে সময়মতো

চিত্রশিল্প, নাচ, নাটক, খেলা এসব ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অন্যরকম হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণের স্বার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী দুজনকেই কিছু শারীরিক যোগাযোগের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এ রকম মুহূর্তে শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা তা বের করা মুশকিল। তবে সহজাত বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে হবে। কাজ করে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে কী না- তা শিক্ষার্থীকে অনুভব করতে হবে। অস্বস্তি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে হবে। কারণ, এ ধরনের ঘটনায় নিরবতা অপরাধীকে আরো উৎসাহী করে তোলে। তাই অন্যরকম কিছু মনে হওয়া মাত্রই কর্তৃপক্ষসহ কাছের বন্ধুদের তা জানিয়ে রাখা ভাল। জানাতে হবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকতে হবে কঠোর নিয়ম-কানুন

নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির বিধান থাকলে যে কেউ অপরাধ করার আগে অন্তত একবার ভাববে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কঠিন নিয়ম থাকতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায় স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির ঘটনা খুব নিয়মিত ঘটে। আমাদের দেশেও প্রথমসারিতে থাকা স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হন। প্রায়ই আমরা এসবের বিরুদ্ধে মানববন্ধন সহ বিভিন্ন প্রতিবাদ অনুষ্ঠান দেখছি। কিন্তু, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ গড়ে না উঠলে এর প্রতিকার হবে না। শুধু এক বছর বা এরও কিছু বেশি সময়ের সাময়িক বরখাস্ত উপযুক্ত শাস্তি নয়। কারণ অভিযুক্ত শিক্ষক হয়তো এসময়ের মধ্যে অন্য কোথাও কাজ জুটিয়ে নেবেন, আর সেখানেও যে আগের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই কঠিন শাস্তির বিধান রাখতে হবে। যাতে একজনের পরিণাম দেখে আর কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।

দূরত্ব বজায় রাখতে হবে

কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয় হন। অনেক সময় শিক্ষার্থীও হয়তো বোঝেন না তার আচরণ শিক্ষককে প্রলুদ্ধ করছে। তাই শিক্ষার্থীকেও আচরণের ক্ষেত্রে সচেতেন হতে হবে। শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করা নিয়েও সতর্ক হতে হবে। এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে মার্কিন অধ্যাপক অ্যাঙ্গেলা ডেভিড বলেন, মেয়ে শিক্ষার্থীর কখনই একা একা তার শিক্ষকের বাসায় যাওয়া উচিত নয়। যদি কোনো কারণে যাওয়ার একান্ত প্রয়োজন পড়ে তাহলে অবশ্যই সঙ্গে কাউকে নিতে হবে।

কী কথা বলা হচ্ছে তা খেয়াল করুন

কোন ধরনের কথা গ্রহণযোগ্য:

-তোমাকে আজ সুন্দর লাগছে

-চুলে নতুন কোনো কাট দিয়েছ কি

- এই সুরগুলো ভাল করে তুলতে হবে

গ্রহণযোগ্য নয়:

- পোশাকটি তোমার শরীরে ভাল ফিট হয়েছে

- নতুন চুলের স্টাইলে তোমাকে খুব আকষর্ণীয় লাগছে

- তোমার আঙ্গুল খুব সরু ও সুন্দর

যখন পরিস্থিতি সহজ মনে হবে না তখন কী করবেন

- আপনার কাছের বন্ধুকে সব খুলে বলুন। তার কাছ থেকে জানুন এখন আপানার কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন অথবা হেল্পলাইনে ফোন দিন।
collected: কালের কণ্ঠ
 

52
হৃৎপিণ্ডের একটা রোগ আছে, সে রোগের নাম Coronary Artery Disease ev Ischaemic Heart Disease। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিগুলো তাদের অক্সিজেন ও নিওট্রিশন পায় হৃৎপিণ্ডের মধ্যে অবস্থিত Coronary Artery মাধ্যমে। এ Coronary Artery বা রক্তনালির মধ্যে যদি চর্বি জমে Coronary Arteryএর পথ সরু বা ঘধৎৎড় িকরে ফেলে তখন হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পায় না। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নিউট্রিশন না পাওয়ার জন্যই তখন বুকে ব্যথা হয়, শ্বাসকষ্ট হয়, বুক ধড়পড় করে এবং বমি ও ঘাম হয়। Coronary Artery এর মধ্যে যে চর্বি জমে সেই চর্বি পরিষ্কার করার পদ্ধতিকে PCI বা Percutaneous Coronary Intervention বলে। এ চিকিৎসা পদ্ধিতিতে কোনো হার্টের অপারেশন লাগে না অথবা কোনো কিছু কাটা ছেড়া করতে হয় না।

Angiogram বা Coronary Angiogram  হৃদপিণ্ডের Coronary Artery Disease বা Ischemic Heart Disease এক পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি যার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি অক্সিজেন ও নিউট্রিশন পায়, যার নাম Coronary Artery। সেই Coronary Artery এর মধ্যে কয়টি ব্লক আছে, ব্লকগুলোর অবস্থান কোথায় এবং ব্লকের Percentage কত সেটা নির্ণয় করা হয়। Angiogram সাধারণত ডান পায়ের কুচকির কাছে একটা রক্তনালি আছে যার নাম Femoral Artery, এ Femoral Artery এর মাধ্যমে একটা ইনজেকশন নিডিলের যে ছিদ্র থাকে সেই ছিদ্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের Coronary Artery এর কোথায় ব্লক আছে সেটা নির্ণয় করা যায়। অবশ্য এ জন্য এক ধরনের Dye ব্যবহার করা হয়। Angiogram এর মাধ্যমে যখন ব্লকের পরিমাণ বা Percentage ব্লকের সংখ্যা এবং ব্লকের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। যদি ব্লকের সংখ্যা তিনটির কম হয় এবং ব্লকের Percentage ৭০% এর উপরে থাকে তখন Angioplasty বা Ballooning এর মাধ্যমে Stent প্রতিস্থাপন করা হয়। এ পদ্ধতিকেই PCI বলে। আবার অনেকেরই ব্লক তিনটির উপরে থাকলেও Stenting করা যায়। এ সিদ্ধান্তটা নির্ভর করে যিনি PCI করছেন এবং রোগীর ইচ্ছার ওপর। অনেক রোগী আছেন যারা তিনটি ব্লক সত্ত্বেও Bypass করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাদের PCI বা Stenting করা হয়ে থাকে।

Angio শব্দের অর্থ রক্তনালি আর Plasty শব্দের অর্থ ঢিলা করে দেওয়া। Coronary Artery এর মধ্যে চর্বি জমে পথ সরু হওয়ার পর সরু স্থানে Balloon ফুলিয়ে ঢিলা করে দেওয়াকে Angioplasty বলে। এবং Angioplasty এর পর ওই স্থানে Stent স্থাপনকে Stenting বলে। অমন রোগীর ভেতরে ভয় কাজ করে সেটা হলো Angiogram অথবা Stenting করতে হয়তো বুক কেটে করা হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এবং এখানে বলে রাখা ভালো Angiogram যে পদ্ধতিতে করা হয় Angioplastyসেই পদ্ধতিই করা হয় সুতরাং কাটা ছেড়ার কোনো প্রশ্ন আসে না।

Angioplasty/ Stenting এর পরে হৃদরোগের জন্য আগে ওষুধ সেবন করতে হবে কি না?

হ্যাঁ Angioplasty অথবা Stenting এর পরে আগের ওষুধ যেমন Clopidegrel, Beta-blocker, ACE Inhibitor, Atorvastatin অবশ্যই সেবন করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন রাস্তার পাশে যে ড্রেন থাকে সেই ড্রেনের ভেতর পলিথিন পেপার ও অন্য ময়লা জমে ড্রেনের পথ বন্ধ করে দেয়, তখন সুইপার অথবা মেথর এসে সেই পলিথিন থাকা ড্রেন পরিষ্কার করে দিলে সেই ড্রেন দিয়ে আবার পানি বা অন্য ময়লা চলাচল করতে পারে। সে জন্য পলিথিন যেন ড্রেনের ভেতর পড়ে না থাকে তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। ডাক্তর এখানে সুইপারের ভূমিকা পালন করে। ডাক্তার Coronary Artery এর মধ্যে জমা চর্বি পরিষ্কার করে দেন। পরবর্তীতে আবারও রক্তনালিতে চর্বি জমতে পারে। তখন ডাক্তার পুনরায় সুইপারের ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক: ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল

কার্ডিওলজিস্ট, কনসালটেন্ট, ফোন: ০১৫৫২৪১২৬২৪
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/2013/09/12/15853#sthash.7xaHRexD.dpuf

53

An indoor beach party is an innovative way to inform people about the dangers of sun tanning both outdoors and on a bed!
Get the okay


•   You have to make sure that the people in charge at GYM are okay with your plans.
•   Get a teacher on board (health teacher maybe) before you ask the Registrar because having a teacher on your side will probably sway the decision.
Decide on a day
•   Think about what day would work best. You probably want to do this before prom and beach season so you can arm your peers with this important info on or before they plan on going out and frying themselves.
•   Check the gym calendar to make sure there are no games, sports team practices or other events going on in the gym that could conflict with your event.
Get some equipment
•   Sand may be out of the question (I mean, who’s gonna clean it up?) but maybe you can get a local party rental store to loan you some beach chairs and tables… Tell them it’s for a good cause!
•   Ask your friends and teachers to bring their beach chairs in for the day.
Decor matters:
•   See if your local craft store will donate some shells or go to the beach and get some!!! Randomly place them on tables.
•   Your friends probably have beach umbrellas, sand buckets and other beach accessories hanging around the institute or garage. See if they’ll lend them for the day.
•   Use what you have to create a beach atmosphere:
•   Make chair covers out of large beach towels.
•   Have beach pails filled with sand or shells dotting walkways.
•   Get your team together to make palm trees, sand castles, sea birds and other ocean stuff out of construction paper. You can also create a beach scene complete with blue water with that same construction paper. (Get the supplies donated by the art department!)
•   Encourage everyone to come in beach attire. Suggest Hawaiian shorts, T-shirts, skirts, and sandals.
Feed them
•   Food is a great way to get people to come to your event! Get your friends together to cook some great snacks or make it a potluck!
•   Visit a local bakery and/or grocery store and see if they’ll donate some goodies for your cause. Just be sure that when you make the ask, you’re armed with information on the bad sun tanning habits of teens. This will convince them that your event is necessary.
Party the favors
•   See if a party store will donate some fake sunglasses and seashell earrings.
Don’t forget the message
•   Create signs with facts about the dangers of sun tanning and frequenting tanning salons.
•   Use lots of color, images and large print to grab attention.
Post them around the entrance, exit and the entire gym.
•   Don’t let people walk out empty handed!
•   See if you local drug store will donate some self-tanning products to provide safe tanning options.
•   As they leave, hand them a list of facts and safe options.
It helps your Physical and Mental Health above all Cancer.


54
Common Forum/Request/Suggestions / Advantage of 'Thank You'
« on: September 07, 2013, 06:54:32 PM »

Sometimes a simple "thank you" can improve someone's self-esteem and mental health, even if its for the day. Send a "Thank You" note or card to three people who have made a positive difference in your life.
•   Open with a thank you.
•   Be specific. Why are you thanking this person? Use a specific story or helpful thing that they give you.
•   Upon closing, tell the person to think of three people they would also like to thank, and ask them to do the same.

55
Reduce Fat /Weight Loss / Truth About Personal Training
« on: August 22, 2013, 09:14:48 AM »
6 secrets of personal training success:
A majority of people who attempt to start an exercise plan fail to get started because they lack the motivation to start a fitness plan. Many people feel that they are stuck in the body that they have and they believe that there is no way that they can get into shape and improve their physical look. This is Undoubtedly not true.

 Secret #1: Gaining That Motivation

Firstly, it is important to look at yourself in the mirror to gain that motivation required for personal training.

While you are looking in the mirror, think of the following:
•   I can get into shape
•   I can drop those pounds.
•   I can become a happier person by getting into shape.
•   I can motivate myself to start a fitness plan.
•   I can improve my health.
•   Finding the motivation to start personal training is important.
 Secret #2: I Can Get Into Shape

You will never gain the motivation to start a fitness plan if you believe that you will not be able to get into shape. Since the idea of working out is based on the fact that you are trying to get into shape, you will be less likely to start a fitness plan if you believe that you can't get into shape, which is why Personal Training is so important.

By believing that you can get into shape, you will have an easier time gaining the motivation necessary to complete your fitness goals.

 Secret #3: I Can Drop Those Pounds

If you believe that you will exercise and not lose the weight, then you are making a big mistake. You will not be motivated to start exercising if you believe that it is impossible to lose the weight.

It is important to remember that if you start exercising, you will automatically start to lose weight.

Secret #4: I Can Become A Happier Personal By Getting Into Shape

Yes, many people believe that exercising will cause them to become sad. This is not true. You can remain happy while exercising if you find the exercise regiment that is right for you. Additionally, you can improve your level of happiness by using a combination of mental and physical health techniques which you can learn through Personal Training.

 Secret #5: I Can Motivate Myself To Start A Fitness Plan

If you don't have faith that you can motivate yourself to start a fitness plan, then you will never start a fitness plan. Simply, you must believe in yourself that you can be successful at improving your level of fitness.

When you can reach your fitness goals, you will feel better about the rest of your life.

 Secret #6: I Can Improve My Health

Above all, it is important that you believe you can improve your health. By starting a fitness plan, you will really be adding years to your life and start getting healthy and hand-sum. Starting a Personal Training plan is something that you need to do and knowing that participating in a fitness plan will add years to your life, you will be even more motivated to complete your goals.

So why you are waiting for, Use That Motivation for Personal Training Today Well, now since you have the motivation to start and finish your fitness goals, it is time for you to put your willing into action.


56
পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব উত্সব রয়েছে, কারণ উত্সবের মাধ্যমে প্রাণের সজীবতা অক্ষুণ্ন থাকে এবং মানুষ খুঁজে পায় জীবন সাধনার সিদ্ধি। আর মুসলমানদের জাতীয় উত্সব হলো ঈদ। ঈদ মানে আনন্দ ও সুখের বারতা। ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব। প্রতি বছর প্রতিটি মুসলমানের ঘরে এ বারতা আসে। রমজানের রোজার শেষে খুশির ঈদ ঈদুল ফিতর। একজন রোজাদার রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে কৃচ্ছ্রতা, সংযম, ধৈর্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ লাভ করে; তারই মূল্যায়নের দিন হলো ঈদুল ফিতর। রোজা মানুষের মনে উদারতা, সহমর্মিতা ও মানবপ্রীতি কতটা জাগিয়ে তুলতে পেরেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় ঈদের দিনে। ঈদের নামাজে ধনী-নির্ধন, ইতর-ভদ্র, ছোট-বড় সব মানুষ যখন একই সমতলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় ও ভক্তিভরে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কল্যাণ ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করে; তখন এক অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। ঈদগাহ হয়ে ওঠে সামাজিক মিলনমেলা। বছরে অন্তত ঈদের দিনে মানুষ সব ক্ষুদ্রতা, সঙ্কীর্ণতা, তুচ্ছতা, হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরকে ভালোবাসে। পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক ঐক্য ও সংহতির সৃষ্টি হয়। মুসলমানদের জীবনধারায় এর মূল্য বিশাল।
রমজানের রোজা তথা সাহরি, তারাবি ও ইফতার যারা যথাযথভাবে পালন করেছেন; পাপাচার ত্যাগ করার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, ঈদের আনন্দ তাদের জন্য। অপরদিকে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ছেড়ে দিয়েছে, দিনের বেলা পানাহার ও যৌন পরিচর্যায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঈদ হলো দুঃখ ও হতাশার। ঝলমলে ও সুবাসিত নতুন জামা গায়ে দিলেও তাদের প্রাপ্তির ভাণ্ডার শূন্য। প্রবৃত্তির প্ররোচনাকে দমন করে যারা বিবেকের শক্তিকে জাগ্রত করতে পেরেছেন রমজান মাসে, ঈদের দিন আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেন। ঈদের দিনে রোজাদারদের জন্য এটা বিরাট প্রাপ্তি।
ঈদের দিন বড়-ছোট সমাজের সব সদস্য নতুন জামা পরে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-পড়শিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সালাম, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। ঈদের দিন ঘরে ঘরে সেমাই, পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েশসহ নানা সুস্বাদু খাবার তৈরি হয়ে থাকে। ঈদের দিন শুধু নিজে ভালো খেলে ও ভালো পরলে ঈদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয় না, অন্যদের খাওয়া-পরার সুযোগ করে দিতে হবে। সুস্বাদু খাবার কেউ একা খায় না—সবাইকে খাইয়ে আমরা আনন্দ ও তৃপ্তি লাভ করব। যার দান করার বা খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই, তার মিষ্টি কথা বলে, স্নেহ-মমতা ও সহানুভূতি দেখিয়ে সবাইকে খুশি করা উচিত। এটাই ঈদের দিনের বিধান ও কর্তব্য। এর ফলে পরস্পর শত্রুতা ভাব বিদূরিত হয়ে সমাজের সদস্যদের মাঝে ভ্রাতৃত্বভাব জেগে উঠবে। ত্যাগের মাধ্যমে মানুষ মানুষের ভালোবাসা পায় এবং জীবন অমরত্ব লাভ করে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের আগে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষকে ফিতরা দান করা আর্থিকভাবে সচ্ছল প্রতিটি রোজাদারের ওপর ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী ফিতরা সমাজের আট শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নির্দিষ্ট হারে ফিতরা দানের ফলে সমাজের দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের আর্থিক কল্যাণ সাধিত হয়। ফিতরা হচ্ছে দুনিয়া-আখিরাত এবং ব্যক্তি-সমাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উত্কৃষ্ট উদাহরণ। ফিতরার প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। ১. সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে অপরাপর মুসলমানের সঙ্গে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে। ২. রোজা পালনে সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যেন তার প্রতিবিধান হয়। মাসব্যাপী পরিচালিত কঠোর সাধনায় রিপু ও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে অবদমন করে যারা জয়ী হতে পেরেছেন, ঈদ তাদের জয়ের উত্সব।

ঈদ উত্সবের মূল বাণী হচ্ছে মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সবার মাঝে একতা ও শান্তি। ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ—ঈদ একথা মনে করিয়ে দেয়। ঈদ নিছক উত্সব নয়, একটি গভীর অর্থ নিহিত আছে ঈদে। ঈদের মধ্যে সমাজ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষে-মানুষে সম্পর্কের উপাদান লুকিয়ে আছে। ঈদ আমাদের সামাজিক চেতনার আনন্দমুখর অভিব্যক্তি ও জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণপ্রবাহ। একথা আমাদের সবার মনে রাখা দরকার, ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে কেমন করে পবিত্র ও নির্মল আনন্দ পাওয়া যায়, সে শিক্ষা পাওয়া যায় ঈদ উত্সবে। নিছক আমোদ-প্রমোদ, হৈ-হুল্লোড়, পানাহার, নাচ-গান প্রভৃতি এ উত্সবের লক্ষ্য নয়। আনন্দ ও উত্সবের আতিশয্যে যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

57
আমাদের ভাষায় ঈদ মানে আনন্দ হলেও শাব্দিক ও সার্বিক বিবেচনায় ঈদ অর্থ শুধুই আনন্দ বা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নয়, খুশির বন্যা, ভোগাসক্তি বা অনিয়ন্ত্রিত উচ্ছলতাও নয়, বরং ঈদও একটি ইবাদত। ঈদুল আজহা যেমন হজ ও কোরবানির ঈদ, তেমনি ঈদুল ফিতর রোজা রাখা ও ফিতরাদানের ঈদ। উভয়টাই পৃথক এক একটা ইবাদত। তবে এই ইবাদতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আনন্দ।
মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় পুরস্কারের আশা অন্তরে পোষণ করাই হলো রোজা রাখার আনন্দ। আল্লাহর রহমত, গুনাহের ক্ষমা, দোজখ থেকে মুক্তি, শবেকদরে হাজার বছরের পুণ্য ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যলাভ—এ সবই রোজাদারের পুরস্কার। রোজাদার রোজা শেষে প্রত্যক্ষভাবে পুরস্কারগুলো না পেলেও তিনি বুঝতে পারেন, এগুলো তিনি পাবেন। তবে রোজা কবুল হওয়া-না হওয়া নিয়ে একটা সংশয় অবশ্যই থাকে। একবার হজরত আবু বকর (রা.) ঈদের দিন সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদছিলেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে কিনা আমি তো নিশ্চিত নই, তাহলে খুশি হব কিসের ভিত্তিতে? পক্ষান্তরে গরিব-দুঃখীর মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের ভালো খাওয়াতে ও পরাতে, তাদের সন্তানদের মুখে মিষ্টান্ন, ঈদের দিনে দু’মুঠো খাবার আর গায়ে নতুন জামা তুলে দিতে ধনীদের ফিতরাদান হলো রোজার আরেকটি আনন্দ।

আর ঈদের সূচনা হয় এভাবে—বায়হাকি শরিফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় উপস্থিত হলেন তখন তিনি তাদের দুটি উত্সব পালন করতে দেখেন। আর এ উপলক্ষে তারা বিভিন্ন আনন্দ-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা যে এ দুটি জাতীয় উত্সব পালন কর, এর মৌলিকত্ব ও বিশেষত্ব কী? তারা বলল, আমরা অন্ধকার যুগে এ দুটি উত্সব পালন করতাম এবং তা আজও করছি। একথা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহপাক তোমাদের এ দুটি উত্সবের পরিবর্তে এর চেয়ে অধিক উত্তম দুটি দিন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর দান করেছেন। সুতরাং আগের উত্সব বন্ধ করে এ দুটি দিনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো পালন করা শুরু কর।’ নিছক আনন্দ-উত্সব ও খেল-তামাশা এবং বাহারী দামি পোশাক-পরিচ্ছদের প্রদর্শনীর নাম ঈদ নয়। এতে ইসলামি তাহজিব-তামাদ্দুনের পরিবর্তে অনৈসলামিক কার্যকলাপের প্রসার ঘটে, যা পবিত্র ইসলামে কল্পনাও করা যায় না। ইসলামের আনন্দ-উত্সব হবে আল্লাহর নির্দেশ, নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী। এর বাইরে কোনো কিছুকে ইসলামের আওতাভুক্ত করা যায় না। এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহেলি যুগের বাহারী খেল-তামাশার আনন্দ-উত্সবকে বাতিল ঘোষণা করেছেন, আল্লাহর দেয়া বিধানকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।
আমরা ঈদ উত্সবকে পরিণত করেছি বিলাসের উত্সবে। এদিনে কে কত দামি পোশাক পরে, কে কত পোলাও, কোর্মা, রোস্ট, রেজালা, বিরিয়ানি, জর্দা ও ফিরনি ইত্যাদি অধিক পরিমাণে রান্না করতে পারে—এসবের প্রতিযোগিতা চলে। কিন্তু ইসলামের আদর্শ কি এটা? মুসলমানদের ঈদের আনন্দ হলো, স্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমে অভাবী, নিরন্নকে সাহায্য করার প্রাপ্ত আনন্দ। পরিতাপের বিষয়, আমাদের ঈদ-উত্সব এখন বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। ত্যাগের উত্সব পরিণত হয়েছে ভোগের উত্সবে।
ঈদের দিনগুলোতে আমরা সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে পারি। তারা দিনে নিজের ভালো, পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরিধান করতেন। অনেক বেশি দান করতেন। এমনকি সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিতেন। দীর্ঘ সময় মসজিদে কাটাতেন। অন্যান্য ইবাদতও বেশি করতেন। তাতেই অনেক বেশি আনন্দিত হতেন। পক্ষান্তরে আমাদের ঈদ-উত্সবে ত্যাগটা গৌণ, আর ভোগ ও ভোজনটাই মুখ্য। আমরা নাচ, গান, আড্ডা ও টেলিভিশন দেখে সময় নষ্ট করে দেই। মসজিদেও বেশিক্ষণ থাকতে চাই না। দামি ও বাহারী পোশাকের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হই এই দিনে। আবার কেউ কেউ ফিতরা দিতেও ইতস্তত বোধ করি। অথচ হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফিতরা, জাকাত রোজাদারকে বেহুদা, অবাঞ্ছনীয় ও নির্লজ্জতামূলক কথাবার্তা বা কাজকর্মের মলিনতা থেকে পবিত্র করার এবং গরিব-মিসকিনদের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে অবশ্যই আদায়যোগ্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগেই তা আদায় করবে তা ওয়াজিব ফিতরা হিসেবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর তা আদায় করবে, তা সাধারণ দানরূপে গণ্য হবে। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
প্রিয়নবী (সা.) ঈদের দিন সকালে পরিবার-পরিজন ও পাড়া-পড়শিদের সচেতন করে তুলতেন তাদের করণীয় কর্তব্য সম্পর্কে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) প্রত্যেক ঈদেই তার মেয়ে ও স্ত্রীদেরকে ফিতরা, দান-সাদকা আদায়ের নির্দেশ দিতেন। (মুসনাদে আহমদ)
সদকায়ে ফিতর আদায়ের ফলে একজন দীন-দরিদ্র লোকও ঈদের আনন্দে সামান্য হলেও শরিক হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে আজ যেভাবে ঈদ উত্সব পালন করা হয় তা কি প্রকৃত ঈদের আনন্দের আবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? এর উত্তর খুঁজলে নেতিবাচক জবাবই বেরিয়ে আসবে। রোজার সংযম, আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং ঈদের উদ্দেশ্য ও স্বরূপ থেকে আমরা আজ বহুদূরে অবস্থান নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে ঈদের আনন্দ-উত্সব হচ্ছে, ইসলামি জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির পরিপূর্ণ অভিব্যক্তি এবং সর্বজনীন আবেদনময়, যা উত্কট পঙ্কিলতার সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহপাক খুশি হন তখন, যখন তার দেয়া নেয়ামতের শোকর আদায়ের গুণ বান্দার মাঝে প্রকাশ পায়। ঈদের পুণ্যময় আনন্দের মাঝে নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশনার বাস্তবায়ন যত বেশি হবে ততই ঈদ-উত্সব সফল ও সার্থক হবে।

58
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রমজানের উদ্দেশে নিবেদিত কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে রমজানের গুরুত্ব এভাবে :
“ওগো রমজান, তোমারই তবে মুসলিম যত
রাখিয়া রোজা ছিল জাগিয়া চাহি তব পথ,
আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি পবিত্র কুরআন।”
আসলে পবিত্র কোরআন এ মাসের ২৭ কদরের রাতে অবতীর্ণ শুরু হয়। এ জন্যই এত মর্যাদা এ মাসের। এ মাসে আল্লাহ সোবহানুতায়ালা তাঁর অগণিত রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। শাবান মাসের সমাপ্তির পর আকাশে এক ফালি চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, কীভাবে তারা এই প্রিয় মাস থেকে ফায়দা হাসিল করবে ও কীভাবে ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দায় পরিণত হওয়া যাবে। বিশ্বে মুসলিম সমাজ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানকে স্বাগত জানায়।

আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতা পরিশুদ্ধির সুমহান বার্তা নিয়ে রমজান ঘুরে-ফিরে বছর পরিক্রমায় আমাদের ঘরে ঘরে এসে হাজির হয়। সিয়ামের সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আমাদের জন্য খুলে দেয় আশরাফুল মাকলুকাতের বৈশিষ্ট্য অর্জনের পথ। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের জীবনে বহুবার সিয়াম এসেছে, কিন্তু অনেকের পরিবর্তন হয়নি স্বভাব-চরিত্র ও আচার-আচরণের। আমরা সিয়ামের যথার্থতা এখনও উপলব্ধি করতে পারিনি। আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান আমরা মুখে বলে থাকি, কিন্তু কীভাবে এটা আমাদের আমল-আখলাকের পরিবর্তন সাধন করতে পারে, তা কি আমরা ভেবে দেখেছি? নৈতিক চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে রমজানের ভূমিকা কী? আমাদের সমাজে রমজানের পবিত্রতা কি রক্ষা করা হচ্ছে? রমজান মাস আসার আগেই দেখা যায় সব দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, চোরাকারবারী, মজুতদার ও ফটকাবাজ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ঊর্ধ্বগতিতে বেড়ে চলে সব মালামালের মূল্য। কেন এরকম হয়? রোজা তো বলে মানুষের প্রতি ইহসান করার জন্য। এসব বিষয় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে গভীরভাবে ভাবতে হবে এবং সমাজের অন্যায়, অসত্য, জুলুমবাজি ইত্যাদির মূলে কঠোর আঘাত হানতে হবে।

আত্ম-পরিশুদ্ধির মাধ্যমে চারিত্রিক গুণাবলী সৃষ্টিও মহান স্রষ্টার কাঙ্ক্ষিত জীবনধারা অনুসরণ করাই রমজানের সাধারণ মূল লক্ষ্য। পার্থিব জীবনের লাখো চাহিদা, বিভিন্ন লোভ-লালসা, ভয়ভীতি সব কিছুর মধ্য থেকে এ মহান কাজে মনোযোগী হওয়া সহজ কাজ নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য। আর পরীক্ষা মাত্রই কিছু কষ্টসাধ্য ও কঠিন কাজ। আল্লাহতায়ালা তাঁর সেরা সৃষ্টিকেও পরীক্ষার মাধ্যমে যার যা প্রাপ্য, সেভাবে রোজ হাশরের দিনে পুরস্কৃত করবেন। এ জীবনে কারা তাঁর মনোনিত পথে চলে, আর কারা স্বেচ্ছাচারী ও শয়তানের অনুগত, এটা দেখার বড় পরীক্ষা ক্ষেত্র হচ্ছে এ দুনিয়া। এ পুরো জীবনের যত দিক ও বিভাগ আছে, সব কিছুর সমন্বয়ে গঠিত ইহজীবনকে সুন্দর ও আল্লাহর কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ডে উন্নীত করতে হলে মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা সম্ভবত একটা মাধ্যম। কারণ মহান আল্লাহ পবিত্র আল-কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষের প্রতি ফরজকৃত এ রোজার উদ্দেশ্য হলো তোমরা যেন তাকওয়া ও সংযমী জীবনের অধিকারী হতে পারো।’ এখন সব রোজাদারকে দেখতে হবে সংযমের ক্ষেত্রগুলো কী কী? দৈনন্দিন জীবনের যেসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রতি সংযম বজায় রেখে চলার স্থায়ী নির্দেশ রয়েছে, সেগুলোতে গত এগার মাসে কী কী অবহেলা ঘটেছে, কী কী ত্রুটি-বিচ্যুতি আমরা এ দীর্ঘ সময়ে করেছি, সেসব ত্রুটি রোজার প্রথম পর্বেই সংশোধন করে নিতে হবে।

এর সঙ্গে রমজান মাসে সিয়াম ও ইবাদতের অতিরিক্ত কর্মসূচি হিসেবে একজন রোজাদারের যা যা পালনীয় সেগুলো পালনে পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। কোনো রোজাদার হয়তো আগে অবৈধ রোজগার করত, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা করত, পণ্যে ভেজাল দিত, মদ খেত, ঘুষ গ্রহণ করত, অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট করত, অন্যের সম্পদ জবর-দখল করে নিত, অন্যের কুত্সা রটনা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস, একের বিরুদ্ধে অপরকে উসকে দিত, নিজের শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখত না, বেগানা নারী-পুরুষের সঙ্গে অবাঞ্ছিত কথা-কাজের সম্পর্ক ছিল, অসত্ চিন্তা ও অসত্ কাজ তার মগজে গিজ গিজ করত, বড়কে সম্মান ও ছোটকে স্নেহ না করে তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করত, অভিভাবকদের কথার অবাধ্য চলত, দায়িত্বে অবহেলা করত, ওয়াদা খেলাপকে দোষ মনে করত না, আমানতের খেয়ানত করত, অপরাধপ্রবণতা নিজ চরিত্র থেকে দূর না করে বরং তা লালন করত, রিয়াকারী বা লোক দেখানো কাজ করত। এতে রমজান মাসের আগমন ও রোজা রাখা আর না রাখা তার জন্য সমান কথা হয়ে দাঁড়ায়। তাকওয়া ও সংযমের মাধ্যমে নিজ আত্মাকে সম্পূর্ণ আল্লাহর অনুগত করে অপরাধপ্রবণতা মন থেকে সম্পূর্ণরূপে দূর করা এবং আল্লাহর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টিকে নিজ জীবনে প্রাধান্য দেয়ার অভ্যাস তার মধ্যে গড়ে তোলার কাজে সে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখল এবং মিথ্যা, অবাঞ্ছিত কথা-কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হলো, তার রোজা রাখা আর না রাখা সমান কথা।’

59
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয়ে যায় তারাবির প্রস্তুতি। আবার শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার জন্য অন্য রকম আয়োজন। এগারোটি মাসের চিরচেনা রুটিনের সবকিছু পাল্টে যায়। আমরা যেন নতুন এক জীবন ধারায় প্রবেশ করি। রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের আর শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির। জাহান্নাম থেকে প্রতিটি মুমিনের প্রত্যাশিত ক্ষমার। রমজানের শেষ দশক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়টিতে এমন এক রজনী রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আর সেটি হলো লাইলাতুল কদর। এ রজনী লাভের আশায় অনেকেই মসজিদে ইতেকাফে বসেন। এভাবে এক সময় শাওয়ালের একফালি চাঁদ মুমিনের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দের বারতা নিয়ে হাজির হয়।

রমজান আসে, আবার চলে যায়, রেখে যায় কিছু স্মৃতি, ইবাদতের কিছু আনন্দঘন মুহূর্তের স্মরণ। মাহে রমজান থেকে কে কতটুকু শিক্ষা অর্জন করতে পারল, কে কতটুকু কোরবানি করতে পারল—এ নিয়ে হিসেব-নিকেশ হয়। রমজান সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই কমবেশি প্রভাব বিস্তার করে। আমার কাছে মনে হয়, রমজান সবচেয়ে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে আমাদের যুব সমাজের মধ্যে। রমজানের প্রথম দিনের তারাবির নামাজে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি মুসুল্লি দেখেছি মসজিদগুলোতে। এর মধ্যে ৭৫ ভাগ হলো যুব সমাজের অংশ। আমাদের দেশে অসংখ্য শিশু-কিশোরও রোজা রাখে। মসজিদে ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবির নামাজেও এসব শিশু-কিশোরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আমাদের দেশে মসজিদে এসব শিশু-কিশোরের উপস্থিতিকে অনেক মুসুল্লি বিরক্তিকর দৃষ্টিতে দেখেন। এতে আমার মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমি মসজিদে বাচ্চাদের উপস্থিতিকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখি। তাদের কিছু শিশুসুলভ আচরণ আমার মধ্যে বিরক্তি নয়, বরং আনন্দই প্রকাশ করে। এরাই এক সময় মসজিদকে ভরে তুলবে। তাদের মসজিদমুখী করতে না পারলে আমরা আল্লাহর কাছে দায়ী থাকব। আজকাল প্রযুক্তির যুগে যেভাবে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনুষ্ঠান হয়, সেসব অনুষ্ঠান ফেলে তারা যে মসজিদে আসে সেটা তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আজকে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কত চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে যেসব বাচ্চা মসজিদে আসে তাদের বরং অনেক আদর করা উচিত। তাদের স্নেহ-প্রীতি দিয়ে মসজিদে ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন। ছোটকালের এ অভ্যাসের কারণেই যুব বয়সেও তারা ইবাদতের মৌসুম রমজানে মসজিদে ভিড় করে। তাদের এই ভিড় করা ইসলামে অনেক দামি বিষয়।

আমাদের মহানবী (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, সাত শ্রেণীর মাুনষ কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া পাবে। তার মধ্যে অন্যতম একটি দল হলো সেসব যুবক যারা তাদের যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে যুবকদের মসজিদে উপস্থিতিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তাদের মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। দ্বীনি প্রেরণা সৃষ্টি করতে হবে। যুবকরাই হলো নতুন কিছু সৃষ্টির কারিগর। তাদের অদম্য সাহস, উদ্দীপনা সুন্দর কিছু গড়তে ভূমিকা রাখে। এদেশের ইমাম-খতিবরা রমজানকে কেন্দ্র করে যুবকদের মধ্যে কোরআন শিক্ষার প্রসার করতে পারে। সমাজের সব ধরনের অনৈতিক কাজ বন্ধ করার জন্য উত্সাহ দিতে পারে। রমজানের প্রতিটি রোজা, তারাবি, ইফতারসহ সব আমলে যুবকদের মধ্যে যে একনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যায়, তা এক কথায় অতুলনীয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পরিপূর্ণ সুফল অর্জন করার তৌফিক দিন।

60
ইসলাম প্রাকৃতিক (ঘধঃঁত্ধষ) ধর্ম। ইসলামের প্রত্যেকটি বিধানের পেছনে রয়েছে সুগভীর দর্শন। ইসলামের কোনো বিধানই অযৌক্তিক ও অনর্থক নয়। ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে জাকাত অন্যতম। কোরআন-হাদিসে জাকাতের ব্যাপারে বেশ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জাকাতকে আবশ্যক করে দেয়ার পেছনে রয়েছে অনেক অন্তর্নিহিত তাত্পর্য ও দার্শনিক ভিত্তি। যেমন :
সম্পদে আল্লাহর একক মালিকানা প্রতিষ্ঠা : দুনিয়ার সবকিছু আল্লাহ তায়ালার। আসমান-জমিন, গাছপালা, তরুলতা, পাহাড়-সাগর, নদনদী, বনজঙ্গল, পশু-প্রাণী, জলভাগ, স্থলভাগ, টাকাপয়সা, রাজত্ব, কর্তৃত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য—এককথায় গোটা দুনিয়ার সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ তায়ালা। কেননা তিনিই সব সৃষ্টি করেছেন। যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাঁরই সবকিছু। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুই একমাত্র আল্লাহর’ (সুরা আল-বাকস্ফারাহ : ২৮৪)। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সাময়িক সময়ের জন্য রাজত্ব কিংবা সম্পদের মালিক করেন, কিন্তু সে কখনোই এগুলোর স্থায়ী মালিক হতে পারে না। সে এগুলোর আমানতদার, বহনকারী হয় মাত্র। বর্তমানে আমরা যে সম্পদের অধিকারী হয়েছি, এগুলোর কেউ না কেউ অতীত কালে মালিক ছিল। একসময় আমরা মারা গেলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এগুলোর মালিক হবে। জাকাতের বিধানের মাধ্যমে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়, সম্পদে আল্লাহর একক মালিকানা।
সম্পদ ব্যয়ের নীতিমালা : দুনিয়ার সব অর্থসম্পদ আল্লাহর হলেও তিনি এই সম্পদকে আবার কিয়ামত অবধি বিভিন্ন জনকে ভোগ ও বণ্টনের জন্য প্রদান করে থাকেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে, বান্দাহ আল্লাহর নির্দেশিত পথে এই মাল ব্যয় করে কিনা তা যাচাই করা। মানুষ যেহেতু আজন্ম সম্পদপ্রিয়, তাই আল্লাহ তায়ালা একটি সীমারেখা টেনে দিয়েছেন যে, এই পরিমাণ সম্পদ হলে তুমি ধনী হিসেবে পরিগণিত হবে। আবার ধনী হলে ধনের নির্দিষ্ট অংশ তোমাকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করতে হবে, যাতে বিনা বাধায় তুমি সম্পদের মালিক হতে হতে সারা দুনিয়ার সম্পদ গ্রাস করার লোভ না কর। জাকাত আবশ্যকীয় করার এটাও একটি দার্শনিক ভিত্তি।
ধনী-গরিবের পার্থক্য : আল্লাহ যদি সবাইকে সমান যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করতেন, তাহলে এই সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়ত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দুনিয়ার সবাই যদি রাজা হতো তাহলে কে তাদের খাবার প্রস্তুত করে দিত? কে তাদের চাকর হতো? সবাই রাজা হওয়ার কারণে কেউ কারও ফরমায়েশ শুনতে চাইত না। এ কারণে সভ্যতার এই উন্নতি ও বিকাশ ঘটত না। হাজার হাজার কর্মসংস্থান ও কর্ম সৃষ্টি হতো না। মানুষগুলো সব নিষ্কর্মা হয়ে অকালে অনাহারে মারা যেত। আল্লাহ তায়ালা ধনী-গরিব সৃষ্টি করে একে অপরের ওপর দায়িত্ব বাতলিয়ে দিলেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি : অর্থনীতিতে একটি কথা আছে, সম্পদের যত ব্যবহার বাড়বে, সম্পদ তত বাড়বে। আর সম্পদ যদি ঘরে অলস পড়ে থাকে, তাহলে তা মূল্যহীন হয়ে পড়বে। জাকাত মানুষকে ধন-সম্পদ ব্যবসায় খাটাতে উত্সাহ জোগায়। কেননা সে যখন বোঝে, আমি যদি আমার সম্পদকে ব্যবসায় না খাটাই, তাহলে প্রত্যেক বছর মালের জাকাত দিতে দিতে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। অতএব আমাকে মাল ব্যবসায় খাটাতে হবে। সেখানে যে প্রবৃদ্ধি ঘটবে সেখান থেকে আমি প্রতিবছর জাকাত প্রদান করব।
দারিদ্র্য বিমোচন : সমাজের বিশাল অংশকে দারিদ্র্যের মধ্যে নিমজ্জিত রেখে দেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে সমাজ থেকে দরিদ্রতাকে উচ্ছেদ করা। সচ্ছলদের মধ্যে জাকাত বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। জাকাত বণ্টনের যে খাতগুলো কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সে অনুযায়ী বণ্টন করতে পারলে সমাজ থেকে অভাব-অনটন দূর হয়ে যাবে। সবার মধ্যে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
ইসলামের প্রত্যেকটি বিধানের পেছনে এভাবে অসংখ্য হিকমাত রয়েছে, যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, আল্লাহর জমিনে মানুষগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করতে পারে। যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না, থাকবে শুধু অনাবিল শান্তি।

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 8