Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Shamim Ansary

Pages: 1 [2] 3 4 ... 96
16
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে পুরো পৃথিবী এখন লড়াই করছে, কিন্তু এই লড়াইকে যেভাবে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, তা ঠিক নয় বলে মনে করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ বড় ধরনের দুর্যোগ, সন্দেহ নেই। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির জন্য গণতন্ত্র লাগবে। গণতন্ত্র সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়েই সফল হয়।

 অমর্ত্য সেন আরও বলেন, অস্ত্রের যুদ্ধে তো একক নেতৃত্ব থাকে, তিনি নেপোলিয়ন হতে পারেন বা স্তালিন। অর্থাৎ যুদ্ধে এমন একজন থাকেন, যিনি সিদ্ধান্ত নেন, কখন কী করতে হবে। কিন্তু এটা তো আর সে ব্যাপার নয়। সে জন্য করোনাবিরোধী এই লড়াইকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা দেওয়া ভালো কাজ নয়। কারণ, একটি দেশে তো বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থাকে। কারও লক্ষ্য থাকে মূলত এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো। কারও লক্ষ্য থাকে খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করা। আর কোনো দেশে লকডাউন করা হলে অনেক মানুষ চাকরি হারায়। মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। অনেক মানুষ ক্ষুধায় প্রাণ হারাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সবার সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কে যেতে হবে। কিন্তু যুদ্ধে তো আর সহযোগিতার বালাই থাকে না।

ভারতের টেলিভিশন মাধ্যম এনডিটিভির এক অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশ্ন ছিল এ থেকে কী শিক্ষা নেওয়ার আছে। জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘আমি অবশ্য অর্থনীতি নিয়ে অতটা চিন্তিত নই। অর্থনীতি আক্রান্ত হচ্ছে বা হবে, তা তো ঠিকই, আবার এটাও ঠিক, ভারতীয় অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। সমস্যা হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবহেলা। আবার এই সমস্যা বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্ট নয়, আগে থেকেই আছে। আমি মনে করি, আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে; বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়। ব্যাপারটা এ রকম নয় যে আপনি সরকারি হাসপাতালে যাবেন আর সরকার আপনার খরচ দিয়ে দেবে। আমাদের দরকার হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো।Ñএই অবকাঠামো চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে আছে। আরও অনেক দেশেই এটা আছে, এতে সেখানে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কিন্তু ভারতে এই স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবহেলাটা চিরকালীন ব্যাপার।’

অমর্ত্য সেন বলেন, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভারতে শিক্ষার প্রতি অবহেলাও আছে। এই অবহেলার নমুনা হচ্ছে, শিক্ষা এখন বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে।

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অতিমাত্রায় বঞ্চিত হওয়া নিয়ে অমর্ত্য সেনের চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে, খাদ্যবঞ্চনা ও দুর্ভিক্ষের বিশ্লেষণ। দুর্ভিক্ষের বিশ্লেষণ করে অমর্ত্য সেন যে দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন, তা হলো: ক. ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার মতো খাদ্যস্বল্পতা সাধারণত হয় না, যদিও ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক দেশেও দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যস্বল্পতা হতে পারে। খ. দুর্ভিক্ষ যে কেবল খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে হয় তা নয়, বরং গরিবের ‘খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারহীনতা’র কারণেও ঘটে। এ ছাড়া দুর্ভিক্ষ রোধে গণ-আলোচনা, গণমাধ্যমের প্রচার—এসবের গুরুত্ব আছে বলে মনে করেন তিনি। সে জন্য গণতন্ত্র তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649063/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8

17

কোভিড-১৯–এ বিশ্বে মানুষ মারা যাচ্ছে। মুষ্টিমেয় মহৎ মনের বিশ্বনেতা তাঁদের দেশ ও জনগণকে এ মহামারি থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন নিরন্তর, হৃদয়ের অকৃত্রিম কর্তব্যপরায়ণতা আর দায়িত্ববোধ নিয়ে। ঠিক তখনো ক্ষমতার মোহে অনেক বিশ্বনেতা অপরাজনীতির দাবা চালছেন কোভিড-১৯–এর সুযোগে।

অর্থলোলুপ অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অনেকেই সম্পদের পাহাড়কে পর্বতে রূপান্তর করার দিবা স্বপ্নে বিভোর। সময়োপযোগী যথাযথ প্রতিরোধমূলক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এক দেশ অন্য দেশকে, এক নেতা অন্য নেতাকে দুষছেন। প্রতিদিন শত শত অমূল্য প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতির কথা হরহামেশা ফলাও করে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এর অনেকটাই অকার্যকর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে দেশে দেশে। মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টার চেয়ে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে কোভিড-১৯–এর জন্মদাতা কোন দেশ, এমন জল্পনা–কল্পনা নিয়ে। দুর্ভাগ্য মানবতার, দুর্ভাগ্য মানবজাতির। স্রষ্টার কাছে আমরা সবাই একযোগে প্রার্থনা করি মহামারি কোভিড-১৯ থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।

চারদিকে মানবতার এত সব বিপর্যয়ের মধ্যেও যে সংবাদ, যে দৃষ্টান্ত মানুষের মনে বেঁচে থাকার আশা সঞ্চার করে, তেমন কিছু ত্যাগী, মানবদরদি মানুষের কথা এ মুহূর্তে না বললেই নয়। তাঁরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন, এ পৃথিবীতে সবাই অমানুষ নয়, সবাই স্বার্থপর নয়, ক্ষমতালোভী নয়। উদাহরণস্বরূপ সগৌরব আমরা উল্লেখ করতে পারি বর্তমানে বহুল আলোচিত কোভিড-১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের কথা। মানবদেহে পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ১৬ মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ‘কাইছার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (KPWRI)’। প্রথম দফার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৫। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট (NHI) এই পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের ওপর গবেষণার ব্যয় বহন করছেন এবং বাইও টেকনোলজি কোম্পানি ‘মডার্না থেরাপিউটিকস’–এর গবেষকেরা সরাসরি এই পরীক্ষা–নিরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

গবেষণাক দলের প্রধান চিকিৎসক লিসা জ্যাকসন বলেছেন, ‘পরীক্ষা–নিরীক্ষা শুরু হয়েছে মাত্র, পরবর্তী ধাপে আমরা এর মূল্যায়ন করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই চেষ্টা করছি এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কার্যকরী একটা কিছু জরুরি ভিত্তিতে করার জন্য।’

আমার এই লেখায়, কে গবেষণায় অর্থায়ন করছেন বা কারা গবেষণা পরিচালনা করছেন, সেটি মুখ্য বিষয় নয়। বরং আমি অধিক গুরুত্ব দিতে চাই মানবতার সেবায় সাধারণ মানুষ যারা এই গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালানোর জন্য। আমরা সবাই এ মহামারি থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছি, আতঙ্কিত হয়ে আছে সারা দুনিয়ার মানুষ, তখন স্বেচ্ছাসেবীরা নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে এগিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষা চালানোর জন্য। কয়জনার মন আছে এমন করে অন্যের জন্য, মানবজাতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করার উদাহরণ?

পরীক্ষার জন্য যদিও আসল করোনাভাইরাসের জীবাণু স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে ঢোকানো হবে না, পরীক্ষাটি মানবদেহে কৃত্রিম জীবাণুর ওপর প্রয়োগ করলে তার কী কী প্রতিক্রিয়া হয় এবং এর কার্যকারিতা কতটা গ্রহণীয়, তা যাচাই করা। তা সত্ত্বেও গবেষকেরা নিশ্চিত নন মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদি ফল কী হতে পারে। এর অর্থ স্বেচ্ছাসেবকেরা কিছুটা হলেও জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেই এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নিজ সন্তানসন্ততি, পরিবার–পরিজনের মায়া–মমতা ত্যাগ করে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাঁদের সহায়তায় পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে কোভিড-১৯–কে পরাস্ত করার কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা যেন সফল হন এবং সুস্বাস্থ্যে স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের পরিবারে ফিরতে পারেন, সে কামনা রইল আমাদের সবার পক্ষ থেকে।

নিল ব্রাউনিং মাইক্রোসফট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। ছবি: সংগৃহীতপ্রথম দফার প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক সিয়াটলের ৪৩ বছর বয়সী জেনিফার হলার। তিনি পেশায় একটি টেক কোম্পানির ম্যানেজার এবং দুই সন্তানের মা, ছেলের বয়স ১৬ এবং মেয়ের বয়স ১৩ বছর। ১৬ মার্চ তার শরীরে পরীক্ষার জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই অসহায় অনুভব করছি এ মহামারির জীবাণুর কাছে। তবে এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে অত্যন্ত ভালো কিছু করার সুযোগ পেয়েছি বলে মনে করি।’ তাঁর সন্তানেরা বলেছে তাদের মা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিল ব্রাউনিং নামের ৪৬ বছর বয়সের ওয়াশিংটন নিবাসী মাইক্রোসফট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ১৬ মার্চ তাঁর দেহে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাঁর তিন মেয়ের বয়স ৮, ৯ ও ১১ বছর। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক মা–বাবাই চান তাঁদের সন্তানেরা তাঁদের দেখভাল করবেন কিন্তু এটি কেবল মা–বাবার মধ্যেই সীমিত নয়, আরও মানুষ রয়েছে সেবা পাওয়ার জন্য।

দেখুন কী মানবীয় গুণের মহামূল্যবান উক্তি এই স্বেচ্ছাসেবক নিল ব্রাউনিংয়ের কণ্ঠে। তাঁদের মহৎ ত্যাগের বিনিময়ে হাজারো মানুষের প্রাণ রক্ষা পাবে কোভিড-১৯–এর মৃত্যুর হাতছানি থেকে, এ কামনা রইল নিরন্তর।


Source: https://www.prothomalo.com/durporobash/article/1649084/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1-%E0%A7%A7%E0%A7%AF-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87

18

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়ামহল্লা, মসজিদ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন তরুণ ব্যবসায়ী আশিকুল আলম। ৩ মার্চ, পূর্ব পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। প্রথম আলোকখনো পাড়ামহল্লা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে। আবার কখনো হাসপাতাল, ক্লিনিক, মসজিদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন তিনি। বাদ যায় না রাস্তার রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলও। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন আশিকুল আলম (৩০)। গত ১০-১২ দিন ধরে পানির সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে কাঁধে ১৮ লিটারের জীবাণুনাশক যন্ত্র নিয়ে আশিকুল কাজ করে যাচ্ছেন। এখন সবাই তাঁকে ‘স্প্রে আশিক’ বলে ডাকে।

আশিকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মুন্সেফপাড়া মৃত মো. হাবিব আলমের ছেলে। তাঁর পেশা ব্যবসা। ২০১২ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। পরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন।

আশিকুল বলেন, ‘মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত। আমরা কখনো এ রকম পরিস্থিতি দেখিনি, অভিজ্ঞতাও নেই। আতঙ্ক দিনদিন বাড়ছে। শহর জুড়ে চলছে মাইকিং। যে যেভাবে পারছেন, এগিয়ে আসছেন। তাই মানুষের নিরাপত্তার চিন্তা থেকেই জীবাণুনাশক ছিটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরিবেশ, রাস্তাঘাট, সরকারি দপ্তর, পাড়া মহল্লা, হাসপাতাল ও মসজিদসহ সবকিছু যেন জীবাণুমুক্ত থাকে এই জন্যই আমি এই কাজ করছি। আর মানুষকে সচেতন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এটা নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব।’

আশিকুল জানান, তিনি গত ২৪ মার্চ ওই জীবাণুনাশক ছিটানোর যন্ত্রটি কিনেছেন। ওইদিন দুপুরে যন্ত্রটি নিয়ে তিনি নিজের ঘর, এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। ৩১ মার্চ দুপুরে নিজের টাকায় ৫০টি মাস্ক কিনে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

গতকাল রোববার জেলা শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বিভিন্ন বাড়িঘর কীটনাশক ছিটিয়েছেন আশিকুল। এর আগের দিন জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জামে মসজিদ, নার্সদের ডরমিটরি, বাগানবাড়ি এলাকা ও জেলা শহরের জুবিলি রোড জামে মসজিদে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজ এলাকা মুন্সেফপাড়া ছাড়াও তিনি জেলা শহরের পাইকপাড়া, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল, পশ্চিমঘেঁষা এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, ফুলবাড়িয়া, সদর উপজেলার বড় হরণ এলাকার রাস্তাঘাট এবং কিছু বাড়ি ঘরে কাঁধে করে এই যন্ত্র নিয়ে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। এমনকি রাস্তাঘাটে চলাচলকারী রিকশা, ইজিবাইকই, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও বাদ পড়েনি।

আশিকুল আলম বলেন, সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতে তাঁর যেমন ভালো লাগে, তেমনি ঘুরে-বেড়াতেও ভালো লাগে তাঁর। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মিশর ঘুরে বাংলাদেশে আসেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস, তুরস্ক, জর্ডান ভ্রমণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইতালি, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, কোরিয়া, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ভ্যাটিক্যান সিটিসহ ৩০ টির বেশি দেশ ঘুরেছেন। আশিকুল জানান, ২০১০ সালে বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে ছয়টি দেখেছেন। মেক্সিকোর চিচেন ইৎজা দেখার বাকি আছে। আর ইতালির কলোসিয়াম ও জর্ডানের পেত্রায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649091/%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%95-%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E2%80%98%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E2%80%99

19

‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ নির্দেশিকার প্রচ্ছদ।এটি একটি নজিরবিহীন যুদ্ধ। সমগ্র মানবজাতির শত্রু একটাই, নতুন করোনাভাইরাস। যুদ্ধক্ষেত্র হচ্ছে হাসপাতাল। স্বাস্থ্যকর্মীরাই এখানে সৈনিক। তাঁদের জন্য নির্দেশিকা। শিরোনাম ‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’। চীনে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও শুশ্রূষায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকেরা এই নির্দেশিকা তৈরি করেছেন।

শুরুতে অধ্যাপক টিংবো লিয়ান সম্পাদকীয় নোটে বলেছেন, একটি অপরিচিত ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে প্রতিকারের উপায় হচ্ছে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা। টিংবো লিয়ান জেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটালের চেয়ারপারসন। এই হাসপাতালে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ১০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭৯ জনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। কিন্তু কোনো রোগী মারা যাননি। চীনের ও এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ৬৪ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৈশ্বিক চেহারা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশেও প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নির্দেশনা তৈরি হয়েছে।

Lifebuoy Soap

আইসোলেশন নিয়ে এ দেশে এখন বিস্তর কথা হচ্ছে। চীনের নির্দেশিকাটির শুরুতেই আছে আইসোলেশন এলাকা ব্যবস্থাপনার কথা। এলাকাটির একটি বিস্তারিত নকশার বর্ণনা নির্দেশিকায় আছে। সংক্রমিত, সম্ভাব্য সংক্রমিত ও সংক্রমণহীন মানুষের জন্য কোন ধরনের এলাকা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা আছে। এখানেই পরীক্ষার বিস্তর আয়োজন। এখানেই ঠিক হবে কাকে হাসপাতালে রাখতে হবে, কাকে ভর্তি না করে আলাদা করে রাখতে হবে। আর কাকে বাড়ি যেতে বলা হবে।

এরপর আইসোলেশন ওয়ার্ডের বর্ণনা। ওয়ার্ডে তিনটি ভাগ—পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড, মূল ওয়ার্ড ও আইসিইউ এলাকা। ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়
সামগ্রীর বর্ণনা আছে। রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: আত্মীয়স্বজনের আসা-যাওয়া ও নার্সিং সেবা কমাতে হবে। রোগীরা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আরও সংক্রমণ যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে রোগীদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা, থুতু ফেলা, ঠিকভাবে হাত ধোয়া—এসব ব্যাপারে রোগীদের সঠিক নির্দেশনা দিতে হবে।

‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ শিরোনামের এই নির্দেশিকায় রয়েছে চীনের অভিজ্ঞতা।

নির্দেশিকাটি তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা আলোচনা করা হয়েছে। এখানে পৃথক পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা বিষয়ে। এখানে ১৭টি পৃথক বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়াংশে নার্সিং বিষয়ে বর্ণনা আছে। এখানে ছয়টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নির্দেশিকায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরা ও পোশাক খুলে রাখার ব্যাপারে সচিত্র বর্ণনা আছে। ভাইরাসটির সংক্রমণক্ষমতা খুবই বেশি এবং যেকোনো সামান্যতম অসতর্কতার কারণে সংক্রমণ ঘটে যেতে পারে—সেই কারণে পোশাকের ব্যাপারে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের দেয়াল, মেঝে ও কক্ষের বায়ু জীবাণু ও দূষণমুক্ত করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগীর এবং সন্দেহভাজন রোগীর পোশাক পরিষ্কার করার জন্য পৃথক নির্দেশনা আছে।

নির্দেশিকার শেষ অংশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মৃদু, মাঝারি, তীব্র ও জটিল উপসর্গের রোগীকে কী চিকিৎসা দিতে হবে, তার বর্ণনা দেওয়া আছে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649093/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE

20
করোনার ভ্যাকসিন তৈরির জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো । ছবি: রয়টার্সবিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন ও ওষুধের খোঁজ চলছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ছোট বায়োটেক কোম্পানি ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যাল করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়ার পর সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইনোভিও তাদের ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টায় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ও কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা বা ভ্যাকসিনের জন্য দ্রুত চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে দেশটির শীর্ষ ১২টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ মহামারি রোধে প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এর মধ্যে ইনোভিওর তৈরি ‘আইএনএ-৪৮০০’ ভ্যাকসিনটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানব পরীক্ষা শুরু করার জন্য দ্বিতীয় সম্ভাব্য করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মর্ডানা তাদের ভ্যাকসিন নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি এস ফাউসি বলেছেন, ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং কার্যকর কিনা তা জানতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার হওয়ার ভ্যাকসিন খুঁজে পাওয়ার জন্য গবেষকদের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মর্ডানা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য সরকারি গবেষকদের কাছে পাঠিয়েছিল। এ মাসের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ডোজ স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের জেনিফার হলারের ওপর করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। সিয়াটলের কায়সার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা নেন হলার।

ইনোভিও ভ্যাকসিন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফিলাডেলফিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া মেডিকেল স্কুল ও মিসৌরির কানসাস সিটির সেন্টার ফর ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চে ৪০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন। প্রতিজন স্বেচ্ছাসেবক চার সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ ভ্যাকসিন পাবেন। ইনোভিও পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দ্রুত পরীক্ষা শেষে গ্রীষ্মের শেষের ফলাফল প্রত্যাশা করছে। যদি ফলাফল ইতিবাচক আসে তবে তারা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মূল্যায়নের দিকে লক্ষ্য রেখে আরও একটি গবেষণা শুরু করবে।

অভূতপূর্ব বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় কোনো ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হলে তা উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ইনোভিও বলছে, তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে যাতে ২০২০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ডোজ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা যায়। জরুরি প্রয়োজনের সময় বাড়তি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এসব ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যেতে পারে।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649305/%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%B8-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0

21
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার গভর্নর জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও হাসপাতালে নতুন ভর্তির সংখ্যা কমেছে। তবে মার্কিন সার্জন জেনারেল বলেছেন, আসছে সপ্তাহে করোনার বিস্তার বাড়তে পারে।

টাস্কফোর্সের শীর্ষ চিকিৎসক বলেছেন, এই ভাইরাসটি বারেবারে ফিরে আসতে পারে। এ জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অ্যান্থনি স্টিফেন ফাউসি সতর্ক করে বলেছেন, করোনাভাইরাস 'মৌসুমি ফ্লুর প্রকৃতি' ধারণ করবে। এটি বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো গতকাল জানিয়েছেন, এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শনিবারে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৩০। গতকাল একদিনে নতুন ৫৯৪ জনের নাম যোগ হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, হাসপাতালে করোনাভাইরাস নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৫ শতাংশই ঘরে ফিরেছেন। দুইদিনে ভর্তির সংখ্যাও কমেছে।

তবে নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র ডি ব্লাজিও সতর্ক করে বলেছেন, নগরীর হাসপাতালগুলোতে ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ ভেন্টিলেটর দরকার পড়বে। তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যা আছে তা ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের মজুত থেকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির রেংকিং সদস্য ডেভিন নানস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে আবার সচল করতে প্রেসিডেন্ট আরেকটি টাস্কফোর্স গঠন করবেন। নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি ,কানেক্টিকাট , মিশিগানসহ ছড়িয়ে পড়া অঙ্গরাজ্য ও নগরীগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত উন্মুক্ত করার পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোম এডাম গতকাল বলেছেন, আসছে সপ্তাহটি আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের জন্য জটিল হবে। সময়টি হবে পার্ল হারবার বা নাইন ইলেভেনের মতো জটিল। তিনি বলেন, মৃত্যু শুধু একেক জায়গায় হবে এমন নয় , পুরো আমেরিকায় হবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, ৩০ দিনের মাথায় সুড়ঙ্গের শেষে আলো দেখার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649098/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87

22
পুরো পৃথিবীর রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি দুই-ই করোনায় বুঁদ। এশিয়া থেকে আফ্রিকা কিংবা উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা-সবখানেই বিশ্ববাসী চরম অস্থিরতায় দিনাতিপাত করছেন। কোভিড-১৯ এ জেরবার বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত অর্থনীতি ধারণা মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম। সব দেশ সীমান্তে স্থিতাবস্থার আরোপ করেছে। দেশগুলো হয়ে পড়েছে কার্যত বিচ্ছিন্ন। অদৃশ্য এক ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

বেশ কয়েক দিন আগের আলোচনা ঝুঁকছিল ছিল পৃথিবীর ভবিতব্য সুপার পাওয়ার কে ঘিরে। এক করোনা এসে রাজনীতি আর অর্থনীতির গণ্ডিকে টেনে হিঁচড়ে সামনে এক অনিশ্চয়তার দেয়াল তুলে দিল।

আকাশচুম্বী উন্নয়ন দেখতে দেখতে পুরো পৃথিবী কখন যে গাছের মরা ডালের আগায় উঠে গেছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে নি অনেকেই। সব সময় খুঁজেছে লাভের প্রসঙ্গ। ফলাফল-পুরো পৃথিবীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘করোনা’-র প্রলয় নাচন। পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবীর ‘জায়ান্ট’ কিংবা আটপৌরে জনতার জীবন এখন হুমকিতে। পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলো এখন পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াইয়ের বদলে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ এক অদৃশ্য লড়াই।

ইউরোপ কিংবা তার ন্যাটো জোট এবার তার দৃশ্যমান শক্তি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

ইউরোপের ইতালি ও স্পেন ধুঁকছে চরমভাবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশ দুটো করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশেই মৃতের সংখ্যা আলাদাভাবে ১০ হাজার করে ছাড়িয়েছে। মৃতের মুহুর্মুহু আর্ত চিৎকারে ইতালি এবং স্পেনের সঙ্গে পুরো ইউরোপের আকাশ বাতাস কাঁপছে।

যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট আত্মশ্লাগার জয় হয়েছে। তবে এই জয়রথকে ম্লান করে দিয়েছে করোনার আক্রমণ। এক কালের সুপার পাওয়ার করোনার কাছে নেহাত এখন ‘ভাইরাস প্রোডাকটিভ এরিয়া’ বৈ কিছু নয়। ব্রেক্সিটের নেপথ্য নায়ক খোদ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছেন। এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও করোনা আক্রমণ থেমে নেই। দেশগুলোতে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শনাক্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা।

পৃথিবীর অন্যতম সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রও জেরবার করোনা ভাইরাসে। ট্রাম্প প্রশাসন করোনা মহামারি মোকাবিলায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের ‘কাশেম সোলাইমানি’ শোকের ক্ষত এখনো দগদগে। তাদের জন্য করোনা'র উপর্যুপরি আঘাত হয়ে এসেছে। দেশটির বেশ কয়েকজন সাংসদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

যেখান থেকে ভাইরাসের আবির্ভাব সেই চীন এখন ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ক্রমেই সেরে উঠছে। প্রথম দিকে চীনের বিরুদ্ধ শক্তিরা মনে মনে আউড়েছে যে, চীনকে এবার বাগে পেয়েছে! তবে চীন যেভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে তা পুরো টালমাটাল পৃথিবীর জন্যই আশা জাগানিয়া। এ ক্ষেত্রে আরও কিছু আশা জাগানিয়া নাম হতে পারে কিউবা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যারা খানিকটা খোঁজ রাখেন তারা জানেন দেশটি তার নাগরিকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে। নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর সব সময় নাগরিকদের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। তাদের বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কেজো আমলাতন্ত্রের মিশেল করোনার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার এখন ক্রমেই নিম্নমুখী। সেখানে ব্যাপক হারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আক্রান্ত নাগরিকদের আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ফলে সে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। জাপান করোনায় সংক্রমণ কমানোর জন্য বেশ জোরেশোরে কাজ করছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার সব ধরনের যানবাহন চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় জমায়েতের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বাংলাদেশে এখনো সে অর্থে করোনার বিস্তার খুব বেশি ঘটেনি। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। রোগীর বিপরীতে চিকিৎসকের আনুপাতিক হার তার ছোট্ট একটা উদাহরণ মাত্র।

জাতিসংঘের ‘সাসটেইনয়েবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ এবার হয়তো বিশ্ব উন্নয়নকে নতুন করে ভাবাবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যে উন্নয়ন যজ্ঞের গল্প চলে তা কতটা মেকি তা বিশ্ববাসী এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

কোন ফাঁক-ফোকর গলে জিডিপি স্তূপীকৃত হচ্ছে তা করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার সামনে করোনা নতুন এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিল।

শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালা যে অন্তঃসার তা এবার অনুমেয়। সময় হয়েছে বিশ্বকে নতুন করে ভাববার। হয়তো পরবর্তী দিনগুলোতে করোনার প্রকোপ কমবে, তবে এক কঠিন পরিস্থিতি পৃথিবীর কথিত ‘উন্নয়ন’-এ পিটিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য আগাম বার্তা জানিয়ে রাখল।


*লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Source: https://www.prothomalo.com/nagorik-sangbad/article/1649099/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8

23

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। গ্রামের প্রবেশপথ বন্ধ করে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবিটি আজ সোমবার ধুলটিয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিনটি গ্রামের মানুষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় লকডাউনে থাকছেন। গ্রাম তিনটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ গ্রাম থেকে বের হচ্ছেন না। আবার বাইরের কাউকেও গ্রাম তিনটিতে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

গ্রাম তিনটি হলো ধুলটিয়া, নবধুলটিয়া ও মোহনপুর।

গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সরকারি নির্দেশনা ভেঙে আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন তাদের গ্রামগুলোতে আড্ডা দিতে আসেন। এতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। তাই তাঁরা নিজেরাই লকডাউন ঘোষণা করেছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্রামের প্রবেশপথ। ছবিটি আজ সোমবার ধুলটিয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলোআজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় যুবকেরা গ্রামগুলোর প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখেছেন। সেখানে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন। নোটিশে লেখা আছে, 'প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ছাড়া বহিরাগতদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ।' গ্রামের প্রবেশপথে যুবকেরা নিরাপদ দূরত্ব রেখে অবস্থান করছেন। তাঁরা বাইরের লোকদের গ্রামে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছেন।

ধুলটিয়া গ্রামের হিমেলুর রহমান বলেন, 'আড্ডা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন অনেক বহিরাগত গ্রামে আসেন। তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অবাধে মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেন ও চলাফেরা করেন। এতে গ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি এড়াতেই সচেতন গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।'

নবধুলটিয়া গ্রামে বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রামবাসী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো। আর এটি দেখে অন্যরাও অনেক সচেতন হবেন।'

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান এ উদ্যোগের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649139/%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4

24
নির্দেশনাসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভোলা শহরে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের মালিক ও চালকদের জানানো যাচ্ছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অটো (বোরাক), মাহেন্দ্র, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভোলা পৌরসভার সড়ক এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।

কেবল রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা একজন যাত্রী নিয়ে ভোলা শহরের সড়কে চলতে পারবে।

মালবাহী ট্রাক, ট্রলি, নছিমন, করিমন সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। সব চালক ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649158/%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8

25
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া সারা দেশের সব দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

সুপারশপ ও স্বীকৃত কাঁচাবাজারগুলো ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। পাড়ামহল্লার মুদি দোকানগুলো খোলা থাকবে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। চালু থাকবে শুধুমাত্র ওষুধের দোকান।

জানা গেছে, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা ইতিমধ্যে এই নির্দেশনা সম্পর্কে সুপারশপগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেন। সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649162/%E0%A6%93%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7

26
করোনাভাইরাস নিয়ে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কথা বলেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সামাজিক দূরত্ব বলতে কী বোঝায়? কেন জরুরি? তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা এখন একটাই, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিক দূরত্ব হতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ে, যেমন ঘরে বসে অফিস করা, বাজারে বা বাইরে না যাওয়া। পারিবারিকভাবে হতে পারে যেমন কেউ আক্রান্ত হলে ঘরে থাকা বা পরিবারের সদস্যদের থেকেও দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিকভাবে হতে পারে, যেমন দোকানপাট, বাজার, স্কুল-কলেজ, গণপরিবহন বন্ধ রাখা। আবার রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও হতে পারে, যেমন বিদেশে যাতায়াতের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা, এক দেশ থেকে অন্য দেশে মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখা—এগুলো সবই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।’

বেনজির আহমেদ মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কেও বিশদভাবে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে কখন কোথায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা মাস্ক ব্যবহার করি দুটো কারণে, আমাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জীবাণু যেন বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে এবং বাতাসে থাকা জীবাণু যেন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে না ঢোকে। আমাদের ঘরের ভেতরে যদি কেউ আক্রান্ত ব্যক্তি না থাকে তাহলে ঘরে মাস্ক পরে থাকার দরকার নেই। কিন্তু আমরা যখন বাজারে যাচ্ছি বা বাইরে বের হচ্ছি, তখন অন্যের হাঁচি কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক পরতে হবে। আবার যখন রোগীর সেবা করছি, তখন অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। নিজে সতর্ক থাকুন এবং অন্যকেও জানান।


Source: https://www.prothomalo.com/life-style/article/1649163/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6-%E0%A7%A6%E0%A7%A9

27
বিশ্বের অনেক দেশেই গরম পড়তে শুরু করেছে। গরম আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে লকডাউন রাখা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জনসমাগম আটকানো কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ চাপের হবে। এ অবস্থায় কী করণীয় হবে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, গরম আবহাওয়ায় এই ভাইরাসের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখে নতুন কোনো ধারণা পাওয়া সম্ভব। অনেক সংক্রামক রোগের প্রকোপ শীত মৌসুম চলে গেলে বা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কমে যায়। সে রকম সূর্যের আলো কি করোনভাইরাস ও এর বিস্তারকে প্রভাবিত করতে পারবে—এটিই এখন মূল প্রশ্ন। এপিডেমিওলজিস্টরা খুব কাছ থেকে এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন। অনেকে বলেন, মৌসুমি রোগের ক্ষেত্রে যা কাজ করে, মহামারির ক্ষেত্রে অনেক সময় তা প্রযোজ্য হয় না।

ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান–এর অনলাইন একাধিক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই করোনাভাইরাসের আগে যে করোনাভাইরাসগুলো ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের মানুষদের ঠান্ডা লেগে সর্দি হয়েছে। শীতে ব্যাপক বাড়ত এর প্রকোপ। আবার বসন্ত আসতে আসতে কমে যেত। অদ্ভুতভাবে প্রায় সব ধরনের ফ্লুর ক্ষেত্রে এমনটা হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জাও শীতের মৌসুমে দেখা দেয়, গরম শুরু হলে চলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৌসুম পাল্টালেও সামান্য পরিমাণে সংক্রমণ দেখা গেছে।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা সাধারণ কিছু করোনাভাইরাস যেমন: এইচসিওভি-এনএলসিক্সথ্রি, এইচসিওভি-ওসিফোরথ্রি, এইচসিওভি-টুটুনাইনই নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। বেশ কয়েক বছর আগে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাস (আগেরগুলো) সংক্রমণের হার অনেক বেশি, গ্রীষ্মে প্রকোপ খুব কম। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে করোনাভাইরাসগুলো আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আচরণ পরিবর্তন করে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এ ধরনের মতামতের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী জানাচ্ছেন। গবেষক রব আলড্রিজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা গ্রীষ্মে করোনাভাইরাস সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে দেখেছি, তবে খুবই কম হারে। তবে শীতে এটি আবার বেড়ে যায়। নোভেল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা জানি না এটি মৌসুমি প্যাটার্ন ধরে রেখেছে কি না। এ জন্য বর্তমান যে স্বাস্থ্য পরামর্শ জারি আছে, তা অনুসরণ করে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস, যার আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে সার্ক-কোভ-২, একেবারেই নতুন ধরনের একটি ভাইরাস, যেটি সম্পর্কে খুব কম তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এটা ঋতুর সঙ্গে কতটা বদলাতে পারে তা দেখার। তবে শুধু তাপমাত্রা নয়, মানুষের আচরণ, তাদের মেলামেশা, একটি স্থানে কত মানুষ অবস্থান করছে, এ রকম আরও কিছু বিষয়ের ওপর ভাইরাসে বিস্তার নির্ভর করে।

ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভাইরোলজিস্ট মাইকেল স্কিনার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ভাইরাসের আচরণ ও এর বিস্তার মৌসুমি তারতম্য দ্বারা প্রভাবিত হবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে যে প্রভাব ফেলবে, তার তুলনায় এটি খুব সামান্য। এটি কিছু প্রান্তিক প্রভাব ফেলতে পারে তবে স্ববিচ্ছিন্নতার (আইসোলেশন) বিকল্প হবে না।’

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন রিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট বেন নিউম্যান। তিনি বলেন, এই ভাইরাস শুরু হয়েছিল চীনের একদম হাড় হিম করা আবহাওয়ায়। এখন একদিকে আইসল্যান্ড অন্যদিকে ব্রাজিল, ইকুয়েডরের মতো নিরক্ষীয় অঞ্চলে তা দ্রুত বাড়ছে। শীত শেষ হয়ে বসন্ত আসতে শুরু করল, তারপরও বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত আছে। এটি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের মতো নয়, মেঘ সরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো মেশিনও না, একে আমাদের, মানুষকেই মোকাবিলা করতে হবে।’

অন্য গবেষকেরা বলছেন, এটি মানবশরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে পারে। সারে ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট ন্যাটালি রিডেল বলেন, ‘আমাদের ইমিউন সিস্টেম একটি দৈনিক ছন্দ প্রদর্শন করে, তবে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেমন আচরণ করে, সে সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না।’

এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইমিউনোলজিস্টরা। সারে ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন মৌসুমে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে মানুষের শরীরে প্রতিরোধের যে পরিবর্তন হয় তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শীত, গ্রীষ্ম, বসন্ত বিভিন্ন সময়ের নমুনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইমিউন সিস্টেমে মূল ভূমিকা রাখে শ্বেত রক্তকণিকার একটি সাবসেট, যা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধি পায়। যা ইঙ্গিত করে, যে ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাড়া দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বি সেল যা মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সেটি রাতে বৃদ্ধি পায়।

তবে মৌসুমের সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক এখন গবেষণাধীন।


Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649138/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE

28
করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও মন্দা অবস্থার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মানুষকে কাজে নিয়োগের জন্য অফার দিচ্ছে বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও লোক নিয়োগের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। সিটি পুলিশেও নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে লোক নিয়োগের জন্য আগের থেকে দ্বিগুণ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন থেকে আবেদনপত্র অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ই-মেইলে লিংক পাঠাচ্ছে।

করোনার কারণে অনেকেই চাকরি ছেড়ে বা হারিয়ে এখন বাড়িতে থাকছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর লোক নিয়োগ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিটেইল কোম্পানিগুলোতে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। কসকো, বিজেসের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লোক নিয়োগে ব্যাপক প্রচার চলছে। আগের তুলনায় ঘণ্টায় চার বা পাঁচ ডলার করে বেশি দেওয়ার অফার দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্কে কাজ পেতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, আমেরিকায় সব সময় চাকরির বাজার উন্মুক্ত। তবে এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। চাকরি পেতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করে যাচ্ছে। অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হবে সে বিষয়ে তারা সহযোগিতা করছেন। এ আবেদন ঘরে বসেই করা যাচ্ছে।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649254/%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%93-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97

29
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে লোকজন লকডাউন মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একটি পুলিশ রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখলে এই গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্র তার কাছে গিয়ে বাইরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করবে।

রোবট পুলিশের হাত থেকে নিস্তার পেতে আইডি কার্ড বা অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে হবে। রোবটে যুক্ত ক্যামেরায় মাধ্যমে রোবট পরিচালনাকরী পুলিশ সদস্যরা সে কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখবেন।

ভাইরাস সংক্রমণের শিকার দেশটি লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করছে। ইতিমধ্যে এখানে ১৪ জন করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছেন। দেশটিতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হলেও ওষুধসহ জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের কত রোবট ‘পি-গার্ড’ মোতায়েন করেছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি। ইভোনা রোবোটিকসের তৈরি রোবটগুলোর দামও প্রকাশ করা হয়নি। এর নির্মাতারা বলছেন, রোবট মোতায়েন ও দামবিষয়ক তথ্যগুলো তাদের গোপনীয়। চারটি চাকাযুক্ত পি–গার্ড রোবটে থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও লাইট ডিটেকটিং অ্যান্ড রেঞ্জিং (লিডার) প্রযুক্তি রয়েছে। এতে বেতার তরঙ্গের পরিবর্তে আলোকতরঙ্গ ব্যবহার করে রাডারের মতো কাজ করে।

অনেকেই রোবট মোতায়েনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ অবশ্য একে বাস্তবিক কাজের ক্ষেত্রে অনেক ধীরগতির বলে মন্তব্য করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই রোবটের কার্যক্রমের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছে, তিনি কেন বাইরে এসেছেন? লকডাউনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কি না? এর জবাবে ওই ব্যক্তি সিগারেট কিনতে বাইরে বের হওয়ার কথা বলেছেন। রোবটটি অবশ্য তাতে বাধা দেয়নি। দ্রুত কাজ সেরে বাসায় ফিরে যেতে বলেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইভোনার গ্রাহক ছিল। এখন চিকিৎসা খাতে প্রয়োজনীয় রোবট তৈরির কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকে সেখানে রোবোটিক প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648692/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6

30
নিউইয়র্কে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশির করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ড. আবদুল্লাহকে ফোন করি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার কথা। এর আগের কয়েক দিনেও বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আমাদের একজন আত্মীয় পর্যন্ত আছেন। আবদুল্লাহ ভাই আইবিএমের স্টেশনপ্রধান ছিলেন। এখন অবসরে। থাকেন নিউইয়র্কেই। কেন্দ্র থেকে দেড় ঘণ্টা দূরে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আমেরিকায় এত উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, সেখানে কেন করোনায় এত মৃত্যু সইতে হচ্ছে? অথচ খোদ বাংলাদেশে সন্দেহভাজন ১০০ থেকে ১৫০ জনকে পরীক্ষা করে অন্তত এখন পর্যন্ত দিনে দু–একজনের বেশি করোনায় আক্রন্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। কোনো কোনো দিন হয়তো একজনও করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত কম। কত দিন কম থাকবে, বলা যায় না। দেখতে হবে। আমরা যদি সাবধান না থাকি, তাহলে তো দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়বেই। কিন্তু আজ পর্যন্ত তো বলতে হয় তুলনামূলক কম। অথচ নিউইয়র্কের অবস্থা কাহিল কেন?

আবদুল্লাহ ভাই বললেন, নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। তাই সেখানে ঝুঁকি বেশি ছিল। তারপরও নিউইয়র্কের গভর্নর ফেডারেল সরকারের কাছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভেন্টিলেটর চেয়েও পাননি। তা ছাড়া ফেডারেল সরকার এর আগে নিউমোনিয়া, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের বিস্তার যেভাবে ঘটেছে, তার অভিজ্ঞতার আলোকে করোনার প্রজেকশন করে চিকিৎসার কথা চিন্তা করেছে। এখানে হয়তো কিছু গরমিল হয়েছে।

গতকাল প্রচারিত বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, লোকজনও এবং সেই সঙ্গে প্রবাসী বাঙালাদেশিরাও ছিল প্রথম দিকে বেশ উদাসীন। লকডাউন কড়াকড়িভাবে কার্যকর হয়নি। এ কারণে নিউইয়র্কে সংক্রমণ বেশি হয়েছে। চিকিৎসায় সামাল দেওয়াও কঠিন হয়েছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় হাসপাতালে একটা ভেন্টিলেটর একজন রোগীর জন্য হয়তো এক দিন বা দুদিনের বেশি সময় লাগত না। কিন্তু এখন একজন রোগীর জন্য পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে একটি ভেন্টিলেটর আটকে থাকছে। এ কারণে চিকিৎসায় সমস্যাও হচ্ছে। অবশ্য এটা এখন কেটে যাচ্ছে।

এখন এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহ খুব ক্রিটিক্যাল। করোনার প্রকোপ অনেক বাড়তে পারে। এমনকি যদি লকডাউন ঢিলেঢালাভাবে চলে, বহুল প্রচারিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো যদি মেনে চলা না হয়, তাহলে আমেরিকায় নাকি মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ থেকে দুই লাখও হয়ে যেতে পারে। এটা তো ভয়াবহ।

তাই নিউইয়র্কসহ আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যে পুরো এপ্রিল মাস পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে আমরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেব। যদি আমাদের দেশেও কোয়ারেন্টিন বা লকডাউন মানতে না পারি বা না চাই, যদি ঢিলেঢালা ভাব আসে, তাহলে নিউইয়র্কের মতো দুর্ভাগ্য আমাদেরও হতে পারে।


* আব্দুল কাইয়ুম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক

Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1647907/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AA-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8

Pages: 1 [2] 3 4 ... 96