Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - Ishtiaque Ahmad

Pages: [1] 2 3 ... 10
What’s possible in a week? If you dedicated seven days to the achievement of one goal, how ambitious could you make this goal? These were the questions that the multilingual twins Matthew and Michael Youlden posed themselves when they determined to learn Turkish in one week. They would attempt to liberate themselves from the distractions and responsibilities of modern-day life in order to cram eight hours of study time into their daily routine. Here are the seven things that I learned by observing some of the world’s most capable language learners.
1. Get To Know Why

Lesson learned: Clearly define your goal at the very beginning and then plot a route towards this goal’s achievement.

The twins set themselves the challenge of learning a language in a week in order to stretch themselves, and then it was a question of choosing which language to learn. Turkish presented itself as a natural option; there are nigh on 300,000 Turkish speakers in Germany’s capital, and the areas of Kreuzberg and Neukölln are dotted with stores adorned with signs in Turkish. Truly understanding one’s environment in these neighbourhoods requires one to first understand Turkish.
2. Get Sticky

Lesson learned: Map and label your immediate environment in the new language from the very first moment. You’ll build and reinforce associations passively while going about your daily life.

The first operational step in the twins’ learning process was to decorate the entire apartment with sticky notes. This had an almost ceremonial touch to it as the twins delved into dictionaries and proceeded to label everything with its corresponding Turkish name. Within the space of about an hour it was impossible to carry out any menial task, be it making a coffee or flicking off a light switch, without first being presented with at least three different words related to this action.
3. Get A Partner

Lesson learned: There are few better motivations than a peer with the same goal. Whether you’re motivated by competition or a sense of mutual responsibility, the mere presence of a learning partner is likely to exert just the right amount of pressure to keep you on track.

The importance of the other twin’s presence became immediately apparent as Matthew and Michael delegated responsibilities for rooms to decorate with sticky notes. This simple task was augmented by continuous little tests that they would spring on one another, and the fact that they split up their day slightly differently and studied different topics meant that each twin became a source of knowledge for the other; the question how do you say that again? was met surprisingly often with an answer. The most extraordinary moment came towards the end of the week when the twins simply switched their everyday conversations to Turkish, asking one another if they wanted tea or coffee, were ready to cook dinner or when they were going to leave the house the next day.
4. Prepare Mini-Motivations

Lesson learned: You need landmarks on your route towards your goal. These landmarks can consist of small challenges - real life interactions in the language, for example - which force you to prepare areas of vocabulary to overcome them. The gratification that will come with their completion will serve to spur you on to ever greater heights.

Matthew and Michael had numerous micro-challenges throughout the week. On the first day they were visited by a Turkish friend who greeted them in Turkish and complimented them on how quickly they’d picked up their first words and phrases. They then learned the names of fruits and the numbers from one to a billion so that they could visit the Turkish market in Kreuzberg (although they refrained from purchasing nine hundred thousand kumquats). Displaying their haul after their first functional exchange in Turkish, they beamed with pride and a palpable sense of accomplishment before marching back home to study further.
5. Eat The Language

Lesson learned: Find a way to tie everything you do to learning. Surround yourself with the food, the music and the films, so that even in your downtime you can prime your mind towards the language and perhaps trigger further areas of interest and motivation.

On our second visit to the brothers’ apartment 24 hours into the week, we found them sampling dozens of different kinds of Turkish snacks. Like kids staring at the backs of cereal packs before heading to school, the nutritional information and various special offers and competitions on the packaging were analysed during snack breaks. There was no moment of complete removal from the language learning process during the eight hours that the twins had allotted to it. The intensity ebbed and flowed, but it never dissipated entirely.
6. Use What You Already Know

Lesson learned: The greater the depth of processing, the more likely the information will be remembered. Find pleasure in drawing parallels and making comparisons between the language(s) you already know and your new language.

One of the twins’ most common phrases was, “ah, that’s a bit like in … ?” They were constantly using their existing knowledge to support the ever-growing knowledge of Turkish. Not only did this spark some energetic exchanges regarding the etymology of various words, but it also ensured new words would never be forgotten once woven into their web of associations. Even if you are learning your second language, you will likely come across words that share common origins with words in your native tongue.
7. Variation is the spice of life

Lesson learned: So you have your route plotted and an idea of your favored methods, but do remember to try new things; your new language has just as many sources as your native language.

The twins spent a lot of time engrossed in books or on their computers and apps, flicking and swiping their way through exercises eagerly, but at other times they were to be found searching busily for Turkish radio stations and write-ups of Turkish football games on the web. There is no definitive method to learn a language, nor any tool or teacher that will single-handedly deliver you to the holy grail of fluency. Language is written, spoken, read and heard. Each of these areas is considered a core skill within which there are myriad potential inputs; would you restrict yourself to one in your native language? All too often, people enter their weekly language class to converse with their teacher, but then barely have any contact with other native speakers or the media being broadcast in their target language. Try something new every day. Listen to a cheesy song, read a newspaper article from a newspaper whose politics differ from your own, write a story for kids, attempt some improvised theatre and talk to yourself while cooking. Spice it up and add some flavour to your language learning!

যখনই নতুন টিভি কেনার প্রশ্ন আসে, অনেকের কাছে মূল বিতর্কের বিষয়টি থাকে 'পর্দার আকার'। কোনো ভাগ্যবান যদি ৫৫ ইঞ্চির টিভি ৪২ ইঞ্চির সমান দামে পেয়ে যান, তাহলে কি আর কেউ ছোট টিভি কিনবেন? সাধারণত সে সময় ছোট টিভি বাদ দিয়ে বড় টিভির দিকেই চোখ দেওয়ার কথা, তাই না?

কিন্তু না, সব সময় শুধু আকারে বড় দেখেই টিভি কেনা উচিত হবে না, আকারটা ঠিক করতে হবে অবস্থান বুঝে, এমনটাই বোঝা যায় প্রযুক্তি সাইট সিনেট-এর এক প্রতিবেদন থেকে।

যদি কেউ দেয়ালে লাগানো বড় টিভি কিনতে চান, সেক্ষেত্রে আগে বুঝে নিতে হবে ঘরের কোন দেয়ালটিতে আপনি টিভি রাখবেন। টিভি দেখার সময় 'ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল' বা দৃষ্টিকোণ কেমন হবে তাও বুঝে নিতে হবে, এক্ষেত্রে ঘরের আসবাবপত্র আবার নতুন করে সাজানোর দরকারও হতে পারে।

আবার যদি কোনো ছোট ঘরে টিভি রাখতে হয়, তবে কত দূরত্ব বজায় রেখে টিভি দেখলে তা ঠিকঠাকভাবে মানানসই হবে, তাও ভাবার বিষয়।

আমেরিকান ভিজুয়াল রিপ্রোডাকশন স্ট্যান্ডার্ড-এর মতে, টিভি দেখার দূরত্ব যাচাই করার সর্বোত্তম উপায়টি হচ্ছে- টিভি'র পর্দার যত ইঞ্চি তাকে ০.৮৪ দিয়ে ভাগ দেওয়া। কেউ যদি ৬৫ ইঞ্চির টিভি কিনতে চায় তাহলে ৬৫-কে দশমিক ৮৪ দিয়ে ভাগ দিলে পাওয়া যায় ৭৭ ইঞ্চি।

সে হিসেবে ২৮ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ২ দশমিক ৭ ফিট, ৩২ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৩ দশমিক ২ ফিট, ৪০ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৪ ফিট, ৪৩ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৪ দশমিক ২ ফিট, ৪৮ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৪ দশমিক ৮ ফিট, ৫০ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৫ ফিট, ৬০ ইঞ্চির টিভি হলে দূরত্ব হবে ৬ ফিট আর ৮৫ ইঞ্চির টিভি হলে দূরুত্ব হবে ৮.৪ ফিট।

খ্রীষ্টাব্দের মত বঙ্গাব্দেও ৩৬৫ দিনে বছর হয়। কিন্তু পৃথিবী তো সূর্যের চারিদিকে ঘুরতে ৩৬৫ দিনের থেকে একটু বেশি সময়ে নেয়। ঐ বেশি সময়টুকু যোগ করে চার বছর বাদে একবার করে লিপ ইয়ার হয়। সেই বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৯ দিন হয়, তাহলে?
প্রথমদিকে বাংলা পঞ্জিকা ঐ বেশি সময়ের হিসাব রাখত না। ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশের বাংলা একাডেমির তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। এই মতে, বৈশাখ থেকে ভাদ্র, প্রতি মাস হয়ে ৩১ দিনে। আশ্বিন থেকে চৈত্র, প্রতি মাস হয়ে ৩০ দিনে। চার বছর পরে পরে চৈত্র মাসে ৩১ দিন হয়।
৭. বঙ্গাব্দের বারো মাসের নামকরণ করা হযেছে নক্ষত্রমন্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে । এই নাম সমূহ গৃহীত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থ “সূর্যসিদ্ধান্ত” থেকে।বাংলা মাসের এই নামগুলি হচ্ছে –
ক    বৈশাখ – বিশাখা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
খ    জ্যৈষ্ঠ – জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
গ    আষাঢ় – উত্তর ও পূর্ব আষাঢ়ে নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ঘ    শ্রাবণ – শ্রবণা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ঙ    ভাদ্র -উত্তর ও পূর্ব ভাদ্রপদ নক্ষত্রের নাম অনুসারে
চ    আশ্বিন – অশ্বিনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ছ    কার্তিক – কৃত্তিকা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
জ    অগ্রহায়ণ(মার্গশীর্ষ) – মৃগশিরা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ঝ    পৌষ – পুষ্যা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ঞ    মাঘ – মঘা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ট    ফাল্গুন – উত্তর ও পূর্ব ফাল্গুনী নক্ষত্রের নাম অনুসারে
ঠ    চৈত্র – চিত্রা নক্ষত্রের নাম অনুসারে
সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত তারিখ-ই-ইলাহী-র মাসের নামগুলি প্রচলিত ছিল পারসি ভাষায়, যথা: ফারওয়াদিন, আর্দি, ভিহিসু, খোরদাদ, তির, আমারদাদ, শাহরিযার, আবান, আযুর, দাই, বহম এবং ইসক্নদার মিজ।

৮. বাংলা সন অন্যান্য সনের মতোই সাত দিনকে গ্রহণ করেছে এবং এ দিনের নামগুলো অন্যান্য সনের মতোই তারকামন্ডলীর উপর ভিত্তি করেই করা হয়েছে।
ক    সোমবার হচ্ছে সোম বা শিব দেবতার নাম অনুসারে কারো মতে চাঁদের নাম অনুসারে
খ    মঙ্গলবার হচ্ছে মঙ্গল গ্রহের নাম অনুসারে
গ    বুধবার হচ্ছে বুধ গ্রহের নাম অনুসারে
ঘ    বৃহস্পতিবার হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহের নাম অনুসারে
ক্স    শুক্রবার হচ্ছে শুক্র গ্রহের নাম অনুসারে
চ    শনিবার হচ্ছে শনি গ্রহের নাম অনুসারে
ছ    রবিবার হচ্ছে রবি বা সূর্য দেবতার নাম অনুসারে

বাংলা সনে দিনের শুরু ও শেষ হয় সূর্যোদয়ে । ইংরেজি বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির শুরু হয় যেমন মধ্যরাত হতে ।
৫৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে বরাহমিহির পঞ্চসিদ্ধান্তিকা নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। গ্রন্থটি পাঁচটি খণ্ডে সমাপ্ত। এই গ্রন্থটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার বলে অভিহিত করা হয়। পঞ্চসিদ্ধান্তিকার পাঁচটি খণ্ডের নাম– এই সিদ্ধান্তগুলো হলো– সূর্যসিদ্ধান্ত, বশিষ্ঠসিদ্ধান্ত, পৌলিশ সিদ্ধান্ত, রোমক সিদ্ধান্ত ও ব্রহ্ম সিদ্ধান্ত। প্রাচীন ভারতে দিন, মাস, বৎসর গণনার ক্ষেত্রে ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বরাহমিহিরের পরে ব্রহ্মগুপ্ত নামক অপর একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী (জন্ম ৫৯৮) একটি সিদ্ধান্ত রচনা করেছিলেন। এই গ্রন্থটির নাম ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত। এই গ্রন্থটি খলিফা আল-মনসুরের আদেশে সিন্দহিন্দ নামে আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে সৌর-মাস নির্ধারিত হয়, সূর্যের গতিপথের উপর ভিত্তি করে। সূর্যের ভিন্ন অবস্থান নির্ণয় করা হয় আকাশের অন্যান্য নক্ষত্রের বিচারে। প্রাচীন কালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের বার্ষিক অবস্থান অনুসারে আকাশকে ১২টি ভাগে ভাগ করেছিলেন। এর একটি ভাগকে তাঁরা নাম দিয়েছিলেন রাশি। আর ১২টি রাশির সমন্বয়ে যে পূর্ণ আবর্তন চক্র সম্পন্ন হয়, তার নাম দেওয়া হয়েছে রাশিচক্র। এই রাশিগুলোর নাম হলো– মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন। সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের বিচারে, সূর্য কোনো না কোন রাশির ভিতরে অবস্থান করে। এই বিচারে সূর্য পরিক্রমা অনুসারে, সূর্য যখন একটি রাশি থেকে অন্য রাশিতে যায়, তখন তাকে সংক্রান্তি বলা হয়। এই বিচারে এক বছরে ১২টি সংক্রান্তি পাওয়া যায়। একেকটি সংক্রান্তিকে একেকটি মাসের শেষ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।[৪] যেদিন রাত্রি ১২টার মধ্যে সূর্য্য ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে প্রবেশ করে তার পরদিনই ১ বৈশাখ (পয়লা বৈশাখ) হয়। যেদিন রাত্রি ১২টার মধ্যে সংক্রান্তি হয় তার পরদিনই মাসের প্রথম দিন।[৫] মূলত একটি সংক্রান্তির পরের দিন থেকে অপর সংক্রান্ত পর্যন্ত সময়কে এক সৌর মাস বলা হয়। লক্ষ্য করা যায় সূর্য পরিক্রমণ অনুসারে সূর্য প্রতিটি রাশি অতিক্রম করতে একই সময় নেয় না। এক্ষেত্রে মাসভেদে সূর্যের একেকটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগতে পারে, ২৯, ৩০, ৩১ বা ৩২ দিন। সেই কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন মাসের দিনসংখ্যা সমান হয় না। এই সনাতন বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছর ঋতুভিত্তিক থাকে না। একেকটি মাস ক্রমশঃ মূল ঋতু থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে।

বর্তমানে STROKE (স্ট্রোক) এর মাধ্যমে আমাদের সমাজে অনেকে খুব অল্প বয়সে মারা যাচ্ছে। তাই আমাদের যদি কিছু ব্যাপারে জানা থাকে তাহলে হয়তো STROKE (স্ট্রোক) নামক মরণ সমস্যা থেকে কাউকে না কাউকে তার জীবন ফিরে পেতে পারে। তাহলে আসুন STROKE (স্ট্রোক) সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় জানি।

স্ট্রোক চেনার লক্ষণ: অনেকে আছে যারা STROKE (স্ট্রোক) করার পরও বুঝতে পারেনা কিন্তু ধীরে ধীরে ২-৩ ঘন্টা পর প্রভাবিত হয় ও দীর্ঘ সময় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার জন্য মারা যেতে পারে। STROKE (স্ট্রোক) হওয়া ব্যাক্তি চেনার উপায়:
১। হাত-পা অবশ বা মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া
২। কথা জড়িয়ে যাওয়া
৩। মাথা ঘোরা ও মাথা ব্যথা
৪। হঠাৎ চোখে সমস্যা হওয়া
৫। কন্ঠস্বর বের না হওয়া
৬। হঠাৎ করে কোন কিছু ভুলে যাওয়া।

করণীয়: মনে রাখুন শব্দটির প্রথম ৩টি অক্ষরঃ S, T এবং R. আমরা সবাই-ই যদি এই ছোট্ট সাধারণ সণাক্তকরণ উপায়টা শিখে ফেলি, তবে হয়তো আমরা স্ট্রোকের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারবো। STROKE (স্ট্রোক) হয়েছে এমন কিছু বুঝতে পারলে সহজ তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুনঃ
S – Smile রোগীকে হাসতে বলুন।
T – Talk রোগীকে আপনার সাথে সাথে একটি বাক্য বলতে বলুন। উদাহরণঃ আজকের দিনটা অনেক সুন্দর।
R – Raise hands. রোগীকে একসাথে দুইহাত উপরে তুলতে বলুন।

সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হচ্ছে, রোগীকে বলুন তার জিহবা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে, বা অথবা যদি তা বেঁকে যেকোনো একদিকে চলে যায়, সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এর কোনো একটিতে যদি রোগীর সমস্যা বা কষ্ট হয়, তৎক্ষণাৎ দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এবং চিকিৎসককে সমস্যাটি খুলে বলুন। (রোগী বলতে স্ট্রোকের শিকার সন্দেহ করা ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে)

মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ সনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অজ্ঞতার কারণেই নেমে আসে যাবতীয় দুর্যোগ। স্ট্রোকের শিকার রোগীর মস্তিষ্কে যখন ভয়ানক রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানো প্রিয়জনটিই হয়তো বুঝতে পারছে না, কি অপেক্ষা করছে তাদের কাছের মানুষের জীবনে।

Health Tips / আধা ঘন্টা হাঁটার উপকার
« on: February 17, 2016, 01:33:14 PM »
প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টা হাঁটলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়, সেই সঙ্গে কমে কোলেস্টেরল, রক্তচাপ আর রক্তের শর্করা।

দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের সিনিয়র কনসাল্ট্যান্ট ডা. রোমেল টিক্কো বলেন, “আমরা সব রকম রোগীকেই দৈনিক হাঁটার পরামর্শ দিয়ে থাকি। রোগীদের জন্য বেশ উপযোগী। তাছাড়া ছোঁয়াচে নয় এমন রোগ মোকাবেলায় সবচেয়ে কার্যকরও বটে। রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার দুদিক থেকেই হাঁটা বেশ উপযোগী।”

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন(আইএমএ)’য়ের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. কে কে আগরওয়াল বলেন, “নিতান্ত অনিচ্ছায় হোক কিংবা বাধ্যবাধকতা, যেমন- উন্মুক্ত জায়গার অভাবে হোক, স্কুল পড়ুয়া শিশু থেকে বৃদ্ধ, সকল বয়সের মানুষদেরই শারীরিক পরিশ্রমের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে দিনকে দিন।”

এসব বিষয় বিবেচনায় শহুরে বাসিন্দাদের জন্য হাঁটা আরও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

বসে থাকার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে কার্যকর উপায় হিসেবে আমেরিকায় হাঁটা বিষয়ক সংঘ বা দলগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাঁটার কারণে বিভিন্ন আঘাত থেকে বাঁচিয়ে চলতে আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন(এএইচএ) হাঁটার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়গুলো প্রকাশ করেছে।

এএইচএ’য়ের পরামর্শ হচ্ছে, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এক সপ্তাহে দেড়শ মিনিট বা তার বেশি সময় মাঝারি-মাত্রার শরীরচর্চা অথবা ৭৫ মিনিটের কঠোর শরীরচর্চা করা উচিত। এখানে দ্রুত হাঁটা মধ্যম মাত্রার এবং জগিংকে তুলনামূলক তীব্র মাত্রার পরিশ্রম হিসেবে ধরা হয়েছে।

সপ্তাহে তিন থেকে চার বার ৪০ মিনিটের মাঝারি থেকে কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শ দেয় এএইচএ। এতে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর শরীরচর্চা শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথমে অল্প দূরত্বে হাঁটা উচিত। এরপর ধীরে ধীরে সময় ও দূরত্ব বাড়াতে হবে। হাঁটার ভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আঘাত এড়ানোর জন্য হাঁটার সময় মাথা ঝোঁকানো যাবে না, পেট চেপে রাখতে হবে এবং কাঁধ হতে হবে শিথিল।

নিয়মমিত হাঁটা শরীরের নানা ধরনের সমস্যা উপশমে সাহায্য করে। তাই শহুরে জীবনে ব্যস্ততার ফাঁকে প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটলে উপকার পাওয়া যাবে।

আপনি কী খান তা সরাসরি প্রভাব ফেলে আপনার ত্বকে।

খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, খাদ্য তালিকা থাকে কিছু খাবার বাদ দিয়ে এবং কিছু খাবার যোগ করে ত্বককে ব্রণ মুক্ত রাখা যায়।

চিনি: খাবার থেকে চিনি বাদ দিলে তা যে শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ভালো তাই নয়, ত্বকের জন্যও এটি খুবই উপকারী। তবে চিনি খাওয়া বাদ দেওয়া মানে শুধু চা বা কফিতে চিনি বাদ দেওয়া নয়, চিনিযুক্ত আরও অনেক খাদ্যের উৎস রয়েছে। যে কোনো প্যাকেটজাত জুস, সস, বিস্কিট, কুকিজ, ক্যান্ডি এবং অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাদ্যতেও প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে যা নিঃসন্দেহে আপনার শরীরের ক্ষতির কারণ হয়। এই খাবারগুলো যদি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় তবে ত্বকে একটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।

তবে চিনি একেবারেই বাদ দিলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে যেতে পারে। কারণ শর্করা মস্তিষ্কে শক্তি যোগায়। তাই মিষ্টি খেতে হবে পরিমাণ মতো।

উচ্চ গ্লাইসেমিক তালিকার খাবার: গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা বা গ্লাইসেমিক তালিকা একটা পরিমাপক দণ্ড যা নির্দেশ করে একটা খাদ্য দ্রুত এর মধ্যে থাকা শর্করাকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করতে পারে। যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, সাদা রুটি, চাল, এবং সাদা ময়দা থেকে বানানো বিস্কুট বা কুকিজ খুব দ্রুত বিশ্লেষিত হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এ খাবারগুলো দ্রুত রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর এবং ত্বকের ক্ষতি করে।

ফাস্ট ফুড: যারা খাদ্য রসিক তাদের জন্য ফাস্ট ফুড খাওয়া স্বর্গীয় আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে, তবে সে যদি রূপ সচেতনও হয়ে থাকে তবে স্বর্গের স্বপ্ন ভাংতে বেশি সময় নেয় না। যে কোনো ফাস্ট ফুড, চর্বিযুক্ত খাবার বা তেলে ভাজা শরীরে প্রদাহের সৃষ্টি করে যা ব্রণ রূপে প্রকাশ পায়। এইসব খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে যে পরিমাণে দূষিত পদার্থ যোগ করে তা শরীর থেকে দূর করতে সম্ভবত সারা জীবন লেগে যাবে। তাই এই খাবারগুলো যদি একদম না বাদ দিতে পারেন তবে চেষ্টা করুন যেন যতটা সম্ভব কম আপনার শরীরে প্রবেশ করে।

দুধ: খারাপ প্রভাবের তালিকায় দুধ শুনতে কিছুটা বেমানান লাগছে। তবে করাও এতটাই দুর্ভাগ্য হয় যে তাদের শরীরে দুধের প্রভাবও খারাপ ভাবে পড়ে। এর কারণ হিসেবে বলা হয় যে দুধে উপস্থিত হরমোন অনেকের শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তাদের দেহে গরুর দুধ এক ধরণের প্রদাহ তৈরি করে যার ফলে শরীরের ইনসুলিন হরমোন বেড়ে যায় এবং সিবাম (মুখের তেল) নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে মুখ তেলতেলা হয়ে যায়। ফল স্বরূপ ব্রণ বৃদ্ধি পায়।

ক্যাফেনেইটেড পানীয়: চা বা কফি ত্বকের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এরা শরীরকে অতিরিক্ত কাজের জন্য এমন একটি হরমোন তৈরি করে যা ত্বকে গিয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অ্যালকোহলও ঠিক একই কাজটা করে


পুরুষের অসংখ্য শারীরিক জটিলতার মধ্যে প্রায়ই অবহেলার শিকার হওয়া ছয়টি শারীরিক জটিলতার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েরসাইট।

বুক ব্যথা: পুরুষরা বুক ব্যথাকে সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে জুড়ে দেন। তবে হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও আরও কয়েকটি রোগ যেমন— ফুসফুসের জটিলতা, নিউমোনিয়া, পালমোনারি এম্বোলিজম, হাঁপানি ইত্যাদির উপসর্গ হিসেবেও নিয়মিত বুক ব্যথা হতে পারে।

পরামর্শদাতা মনোবিজ্ঞানী, ভারতের হেমন্ত মিত্তাল বলেন, “অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুরুষদের মধ্যে ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল’ জটিলতা যেমন, অ্যাসিড বিপরীতপ্রবাহ বা পাকস্থলীতে আলসার দেখা দেয় প্রায়শই। এই জটিলতাগুলোর কারণে প্রচণ্ড বুকব্যথা হয় এবং কোনো অবস্থাতেই তা অবহেলা করা উচিৎ নয়।”

শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি: শ্বাসরুদ্ধতা পুরুষদের একটি সাধারণ সমস্যা এবং এটি হৃদযন্ত্রের মারাত্বক জটিলতার লক্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন ফুসফুসজনিত জটিলতা যেমন, ফুসফুস ক্যান্সার, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিস (সিওপিডি), দীর্ঘমেয়াদি ব্রংকাইটিস, এম্ফিসেমা, হাঁপানি, ফুসফুসে উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিরও উপসর্গ হতে পারে এটি। শ্বাসরুদ্ধতা রক্তশূন্যতারও লক্ষণ, যা ইদানিং পুরুষদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।     

অবসাদ: মারাত্বক ক্লান্তি এবং কর্মচাঞ্চল্যের অভাব পুরুষরা অনুভব করেন প্রায় প্রতিনিয়ত। কারও ক্ষেত্রে তা ডেকে আনে কাজের প্রতি অনাগ্রহ, নেতিবাচকতা, অনিদ্রা।

ভারতীয় ফিজিশিয়ান ডা. প্রাভিন দিহানা বলেন, “গুরুতর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে অবসাদ। ক্যান্সার, ‘কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর’, ডায়বেটিস, আর্থ্রাইটিস, প্রদাহ এবং বুক ও যকৃতের নানান জটিলতার সঙ্গে সম্পর্ক আছে অবসাদের। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের কার্যকারীতা নষ্টের ইঙ্গিতও হতে পারে অবসাদ।”

দুশ্চিন্তা: জরিপ বলে, পুরুষের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ পুরুষের উপর পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন প্রত্যাশার মানসিক চাপ। আর পুরুষের চাপা স্বভাবের কারণে এই মানসিক চাপ বয়ে আনে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা।

ডা. হেমন্ত মিত্তাল বলেন, “মানসিক চাপের কারণ মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে সেরোটনিন, নোরেপিনফিন, ডোপামিন ইত্যাদি নিউরোকেমিকাল টেনে আনা। অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে মস্তিষ্ক ‘শাটডাউন মোড’য়ে চলে যায়।

“দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক অনেকগুলো কাজ বন্ধ করে দিয়ে এই রাসায়নিক উপাদানগুলোকে সঞ্চয় করে। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, দেখা দেয় আত্নহত্যার প্রবনতা।” বলেন মিত্তাল।

স্মৃতিভ্রম: খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ভুলে যাওয়া খুব একটা হালকা বিষয় নয়। ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতা পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

ডা. মিত্তাল বলেন, “এজন্য বয়স কিছুটা দায়ি। তবে আল্তছাইমার’স ডিজিস, মস্তিষ্কে টিউমার, মস্তিষ্কে প্রদাহ ইত্যাদিরও লক্ষণ হতে পারে স্মৃতিভ্রম। ভিটামিনের অভাবও স্মৃতিভ্রমের কারণ হতে পারে, যা খুব একটা ভালো ব্যাপার নয়।”

মুত্রনালীর জটিলতা: নারীদের মতো পুরুষদেরও বিভিন্ন জননেন্দ্রিয় বিষয়ক ঝামেলা পোহাতে হয়, যার বেশিরভাগই অবহেলিত রয়ে যায়। প্রসাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা প্রসাবে জ্বালাপড়ার পুরুষের জন্য বেশ মারাত্বক সমস্যা। কারণ তা হতে পারে বৃক্ক বা যকৃতের সমস্যা লক্ষণ। প্রসাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া প্রোস্টেট ক্যান্সার, বৃক্কে পাথর, মুত্রথলিতে প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে।

ডিএনবি ইউরোলজির চিকিৎসক ডা. আনন্দ বিশ্বাস বলেন, “অবহেলা করলে আরও নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যাওয়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষের সাধারণ সমস্যা। তবে পুরুষ এসবের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অবহেলা করে, ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।”

Food Habit / ওজন কমাতে গ্রিন টি
« on: January 18, 2016, 01:39:36 PM »

খবর > লাইফস্টাইল
ওজন কমাতে গ্রিন টি

  মামুনুর রশীদ শিশির,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published: 2014-07-14 19:24:26.0 BdST Updated: 2014-07-14 19:24:26.0 BdST

মেদ কমাতে সহায়ক 'গ্রিন টি'। তবে এই চায়ের গুণ কাজে লাগাতে কিছু কৌশল জানতে হবে।

ওমেন্সহেল্থম্যাগ ডটকমের এক প্রতিবেদনে 'গ্রিন টি' তৈরি কৌশল জানালেন নিউ ইয়র্কের মহিলাদের রেজিস্টার্ড পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান কেরি গ্লাসম্যান।

গরম অবস্থায় গ্রিন টি'র ওজন কমানোর ক্ষমতা বাড়ে। তবে পুরোপুরি ফুটানো পানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিলেন গ্লাসম্যান। তার মতে, পানিতে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা দিতে শুরু করলেই নামিয়ে নিতে হবে। এরপর সরাসরি টিব্যাগের উপর পানি ঢেলে ২-৪ মিনিট রেখে দিতে হবে।

তবে ওজন কমাতে 'আইসড গ্রিন টি'ও ব্যবহার করা যাবে।

ফ্লেইভারড গ্রিন টি'ও যথেষ্ট পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এক্ষেত্রে গ্লাসম্যান ক্র্যানবেরি ধরনের গ্রিন টি'র নাম উল্লেখ করে বলেন, "খেয়াল রাখতে হবে, কোনো ফ্লেইভারড গ্রিন টিতে যেন চিনি না থাকে।"

সাধারণ ফ্লেইভারড গ্রিন টি থেকে চিনিযুক্ত ফ্লেইভারড টিতে ক্যালরি বেশি থাকে।

গ্রিন টি থেকে উপকার পেতে চাইলে আলাদা চিনি বা সিরাপ না মেশানোর পরামর্শ দেন এই পুষ্টিবিদ।

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গ্রিন টি কেনার পরামর্শ দিলেন গ্লাসম্যান। এছাড়া পাতার গুণগত মানের ব্যাপারটিও লক্ষ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের গ্রিন টি'র উপরেই এই পুষ্টিবিদের আস্থা বেশি।

তবে চা পছন্দ না হলে গ্রিন টি'র নির্যাসও ব্যবহার করা যাবে। ১ মিলিলিটার গ্রিন টি'র নির্যাস প্রায় ৮ থেকে ১০ কাপ চায়ের সমপরিমাণ পুষ্টিগুণ বহন করে।

খেজুর অনেকেরই প্রিয় ফল। আমাদের দেশে যদিও উপলক্ষ ছাড়া খেজুর তেমন একটা খাওয়া হয় না। খেজুরে রয়েছে উচ্চমানের লোহা ও ফ্লোরিন। ভিটামিন ও খনিজের উৎস এ ফলটি প্রতিদিন খেয়ে কমাতে পারেন কোলেস্টেরলের মাত্রা ও প্রতিরোধ করতে পারেন নানারকম অসুখ-বিসুখ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিষ্টি স্বাদের এ ফলটিতে ফ্যাটের পরিমাণ কম বলে এটি কোলেস্টেরল কমায়। এতে রয়েছে প্রোটিন, ডায়েট্রি ফাইবার, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫ ও ভিটামিন এ।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিনটি খেজুর খেয়ে বিভিন্ন প্রকার শারীরিক সমস্যা কাটানো সম্ভব। এড়ানো সম্ভব প্রসবকালীন ঝুঁকির মাত্রা।

দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং বিভিন্ন প্রকার অ্যামিনো এসিড থাকায় খেজুর হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।

প্রাকৃতিক গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ রয়েছে বলে এটি এনার্জি বুস্টার হিসেবে পরিচিত। কম ক্যালরিযুক্ত এ ফলটি বিকেলের স্ন্যাকসে ওট ও দুধের সঙ্গে যোগ করতে পারেন।

লোহার উৎকৃষ্ট উৎস বলে যাদের অ্যানিমিয়া রয়েছে তারা নিয়মিত খেজুর খান। ফ্লোরিন সমৃদ্ধ খেজুর দাঁতের ক্ষয়রোধে সহায়ক।

শরীর ঝরঝরে রাখতে সারারাত দুধে বিচি ছাড়ানো খেজুর ভিজিয়ে রাখুন। সকালে দুধ সমেত খেজুর মিক্সারে ব্লেন্ড করে নিন। খাওয়ার সময় মধু ও এলাচগুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।

যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য বিশেষ উপযোগী একটি খাবার খেজুর।

বাচ্চার হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত মোটা হতে থাকা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এটি একটি রোগ। সময়মতো এই স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরবর্তীতে হৃদরোগ, হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সেখানে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন ওবিসিটির সমস্যায় ভোগে। শুধু তাই নয়, দিন দিন চাইল্ডহুড ওবিসিটির হার বেড়েই চলেছে।
আমাদের দেশের সাধারণ হিসাব থেকে বলা যায়, গ্রামের বাচ্চাদের তুলনায় শহরের বাচ্চাদের মোটা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি।
এর কারণ যথেষ্ট হাঁটা-চলা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, ডেজার্ট, ঘরমুখী বিনোদন (টিভি, কম্পিউটার, গেমস ইত্যাদি) ও আধুনিক জীবনযাপন।
সুস্থতা ও মোটা হওয়া এক নয়
প্রায় সব ঘরেই মায়েরা বাচ্চাদের খাওয়া নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। অনেকের ধারণা, মোটা মানেই ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী। কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। মোটা হওয়া মানেই সুস্থতা নয়। আবার অনেক বাচ্চা সঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করলেও মোটা হয় না। এ বিষয়টি নিয়েও অভিভাবকরা চিন্তিত থাকেন। মূল বিষয় হচ্ছে ক্যালরি।

আমরা দৈনিক যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করি এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে কী পরিমাণ পোড়ানো হচ্ছে তা স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালরি জমতে দেওয়া মানেই স্থূলতা। যেসব বাচ্চা খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ বেশি করে তাদের ক্যালরি জমতে পারে না। পরিশ্রমের ফলে শরীরে খাবারের চাহিদা থাকে বলে তারা সময়মতো ঠিকই খায় কিন্তু মোটা হয় না।
ওবিসিটি এড়াতে
•    বাচ্চাদের চিপস, পেস্ট্রি, কোমলপানীয় খেতে অভ্যস্ত হতে দেওয়া যাবে না।
•    রেগুলার ডাক্তারের কাছ থেকে শিশুর জন্য একটি ডায়েট মেন্যু তৈরি করে আনুন। ক্যালরি মেপে খাওয়ালে মুটিয়ে যাওয়ার অ‍াশঙ্কা থাকবে না।
•    খাওয়ার সময় ডাইনিং টেবিলে খেতে অভ্যাস করান। কারণ টিভি দেখতে দেখতে বা ভিডিও গেমস খেলতে খেলতে খেলে অনেক সময় বেশি খাওয়া হয়ে যায়।
•    রাতে খাওয়ানোর পরপরই ঘুম পাড়াবেন না।
•    খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করুন।
•    বাচ্চাকে কখনও জোর করে খাওয়াবেন না। তিনবেলা মূল খাবার ও এর ফাঁকে ফাঁকে তিন বার স্ন্যাকস (ফল, দুধ, ঘরে তৈরি জুস, বাদাম ইত্যাদি) রাখুন।

Children / স্কুল টিফিন কী?
« on: January 17, 2016, 11:28:00 AM »
স্কুল টিফিন কী?
স্কুল টিফিন হচ্ছে স্কুলে অবস্থানকালে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি চাহিদা মেটানো এবং স্বাস্থ্যের মান উন্নয়নের জন্য যে টিফিনের ব্যবস্থ্যা করা হয়। সাধারণত স্কুলে পাঠদানকালে মধ্যবর্তী বিরতির সময় এ খাবার পরিবেশিত হয়।

স্কুল টিফিনের উদ্দেশ্য
* শিশুর প্রাত্যহিক আহার্যের সাথে অধিক পুষ্টি সম্পন্ন নতুন খাবারের সমন্বয় সাধন।
* স্বাভাবিক বর্ধনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরবরাহের মাধ্যমে শিশুর বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ।
* প্রাত্যহিক কাজের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে উৎসাহিত করা।

এ বয়সের শিশুদের দৈনিক ১২শ’ থেকে ১৫শ’ কিলোক্যালরি পর্যন্ত কার্বোহাইড্রেট ৬০%, প্রোটিন ২০% এবং ফ্যাট ২০% দেওয়া প্রয়োজন যার মোট ক্যালরির বেশিরভাগ অংশ কার্বোহাইড্র্রেট এবং প্রোটিন থেকে নেওয়া ভালো। বাকি অংশ ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেলস থেকে পূরণ করতে হবে।

কার্বোহাইড্রেট থেকে শিশু শক্তি পাবে। প্রোটিন থেকে বর্ধনের উপাদান, ফ্যাট থেকেও শক্তি পাবে। ভিটামিন আর মিনারেলস থেকে পাবে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা যা শিশুকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বর্তমান যুগে সকল পরিবারে একটি বা দুটি সন্তান থাকে। মা বাবাসহ সংসারের সবাই তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের প্রতি খুব বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়—এই অভিযোগে সন্তানেরা সকল বিষয়ে সকল কাজে এমনকি স্কুল টিফিন নিয়েও মা বাবাদের বিপাকে ফেলে দেয়। তবে বর্তমান বিশ্বে শিক্ষিত মা বাবারা তাদের সন্তানদের জন্য নানা ধরনের ভাবনায় চিন্তিত থাকেন। কী করে শিশু সুস্থ্য থাকবে, শিশুর সঠিক বিকাশ বা বর্ধন ঠিকমত হচ্ছে কিনা, বয়স অনুযায়ী শিশুর সকল পরিপক্কতা এসেছে কিনা ইত্যাদি।

আগের যুগের মা বাবাদের এসব ভাবার খুব একটা ফুসরত ছিল না। এতগুলো সন্তান, কাকে নিয়ে ভাববে? তবে বর্তমানে সচেতন মা বাবারা তাদের শিশুদের সকল বিষয় নিয়ে ভাবেন। যেহেতু শিশুদের বর্ধনের একটি চরম সময় হচ্ছে প্রাক স্কুলগামী এবং স্কুলগামী সময় তাই বাবা মা’র ভাবনা কী করে এসময় শিশুকে সঠিক পুষ্টিকর খাবার দিয়ে শিশুর বেড়ে ওঠা ঠিক রাখা যায়।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা মনে করেন বাচ্চাদের খাদ্য যদি সুষম হয় এবং যা তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ যদি ঠিক থাকে তবেই একটি শিশু সঠিকভাবে বেড়ে উঠবে। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঠিক বা আদর্শ সময় হচ্ছে ২ থেকে ৬ বছর। এসময়টাতে শিশু খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টও সবচেয়ে বেশি হয় এ সময়ে।

বর্তমান মা বাবারা কর্ম ব্যস্ততার জন্য তাদের ছোট্ট সোনামনিকে আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। একক পরিবারে শিশুটির দেখাশোনা করার কেউ থাকে না বিধায় কর্মজীবী মা বাবা শিশুকে স্কুলে দিয়েই নিরাপদ বোধ করেন। বেড়ে ওঠার চরম এই সময়টিতে বেশিরভাগ শিশুকে স্কুলে সময় কাটাতে হয়। তাই শিশুর স্কুল টিফিন এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে সকল পুষ্টি উপাদন সঠিক পরিমাণে থাকে। টিফিন যাতে মৌলিক খাদ্যের সমন্বয়ে হয়। সবচেয়ে বড় কথা সব মিলিয়ে টিফিন যেন সুষম বা ব্যালান্স হয়। সেদিকে প্রতিটি মা বাবার খেয়াল রাখতে হবে।

তবে টিফিন শুধু ব্যালান্স ডায়েড হলেই হবে না। এতে যাতে বৈচিত্র থাকে, আকষর্ণীয় হয়, শিশুর যাতে পছন্দ হয়, শিশুর গ্রহণ-উপযোগী হয় সেদিকটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। একই টিফিন শিশুরা প্রতিদিন পছন্দ করে না। তাই পুষ্টি সম্পন্ন মজার মজার খাবার শিশুর সামনে উপস্থাপন করতে হবে। স্কুলে শিশুরা সহপাঠীদের নিয়ে খেতে ভালোবাসে তাই শিশুর টিফিনের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিতে হবে। এতে করে টিফিনের প্রতি শিশুর আগ্রহ বেড়ে উঠবে। সারাদিনের অর্ধেকটা সময় শিশুদের কাটাতে হয় স্কুলে। তাই তাদের খাবার চাহিদা পূরণে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। পুষ্টিহীন শিশু যেহেতু শারীরিকভাবে দুর্বল হয় সেহেতু তাদের মেধাও পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না। তারা জাতির ভবিষ্যত না হয়ে জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুর মোট ক্যালরির এক তৃতীয়াংশ চাহিদা স্কুল টিফিনের মাধ্যমে পূরণ করা প্রয়োজন। তাই অল্প সময়ে খাওয়া শেষ হবার মতো সুষম খাদ্য টিফিনে দেওয়া উচিত।

কয়েকটি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও আকষর্ণীয় স্কুল টিফিনের নাম
অবশ্যই টিফিনগুলো ঘরে তৈরি হতে হবে। এবং খাদ্য উপাদানের সব এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। যেমন ফিসফিংগার, মাছের চপ, নুডুলস চপ, মাংসের কাবাব, চিকেন ফ্রাই, সবজি নুডুলস, টোনা মাছের কাটলেট, সবজি পাকড়াও ইত্যাদি। ফিস বা মিট, সালাদ বার্গার, সবজি, মাছ, ডিম, মাংস একেকদিন একেকটি দিয়ে তৈরি হতে হবে। স্যান্ডউইচ, চিকেন নাগেট ঘরে তৈরি হতে হবে। চিকেন ললিপপ, সবজি মাংসের শাশলিক মিট, চিকেন এবং বিফ বল। সবজি চিকেন রোল, ব্রেড টোস্ট, বিভিন্ন ধাপের সমুচা, পুর ভরা সবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফল একেকদিন একেকটি দিলে শিশু আগ্রহী হয়ে তার টিফিন খাবে। এতে বেড়ে ওঠার সকল উপাদন সঠিক পরিমাণে পাবে এবং শিশু সুস্থ্যভাবে বেড়ে উঠবে।

নেপালের ভূমিকম্পের ঢেউ বাংলাদেশে ভালোভাবেই নাড়া দিয়ে গেছে। মানুষের মনে তৈরি করেছে আতংক। এই বিষয়ে আমাদের কী করতে হবে সেই ব্যাপারে রয়েছে অজ্ঞতা।

বাংলাদেশের ভূমিকম্পের সার্বিকবিষয় নিয়ে আমরা কিছু প্রশ্ন রেখেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আর্থকোয়েক রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিইআরআই)’য়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কর্মরত সাব্বির আহামেদের কাছে।

বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই সহকারী গবেষক সেসব প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ কতটা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে?

সামগ্রিকভাবে কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে তা জানতে হলে বাংলাদেশ ও তার আশপাশের ভূতাত্ত্বিক গঠণের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। বাংলাদেশ হচ্ছে একটা বদ্বীপ যা কিনা যুগ যুগ ধরে পলি প্রবাহের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। অনেক সময় একে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ নামেও অবিহিত করা হয়। অবস্থানের বিচারে এই বদ্বীপের অবস্থান তিনটি প্লেটের সংযোগস্থল ১) উত্তরে রয়েছে ইউরেশিয়ান (ইউরোপ এবং এশিয়া) প্লেট। ২) পূর্ব দিকে রয়েছে মায়ানমার বা বার্মা প্লেট। এবং ৩) ভারতীয় প্লেট যার উপরই বাংলাদেশ অবস্থিত।

এটা হচ্ছে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান। শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং এর একটু আশপাশের দিকে তাকালে দেখা যায় বাংলাদেশের উত্তর সীমান্ত বরাবর রয়েছে বিশাল এক ডাউকি চ্যুতি (Dauki fault) যা কিনা শিলং মালভূমির (Shillong plateau) কারণে গঠিত হয়েছে। শিলং মালভূমির মনোরম পাহাড়পুঞ্জ আমাদের মন কেড়ে নিলেও যেকোনো সময়ে এটা আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিলং এবং আশপাশে প্রতিনিয়ত ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে যা কিনা আমরা সবসময় টের পাই না। এই ছোট ছোট ভূমিকম্প আমাদের জানান দিচ্ছে, শিলং ও আশপাশের এলাকাতে অধিক পরিমাণে চাপ (stress) সঞ্চিত হচ্ছে যা কিনা যেকোনো সময় বড় মাত্রার ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে এবং তা হবে আমাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ।

এই তো গেল উত্তরের কথা, এবার পূর্বে আসা যাক। বাংলাদেশের পূর্বদিকে রয়েছে উত্তরে সিলেট থেকে দক্ষিণে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রয়েছে বিস্তৃত পাহাড়পুঞ্জ। অনেকেরই জানা নেই যে, এই পাহাড়পুঞ্জ মূলত ভারত ও মায়ানমার প্লেটের সংঘর্ষের ফলে গঠিত হয়েছে কোটি কোটি বছর ধরে। অনেক ছোট ছোট এমনকি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয় প্রায়শই এই অঞ্চলে। ধারণা করা হয় এক বিশাল চ্যুতি চট্টগ্রাম পাহাড়ের সমান্তরালে গিয়ে দক্ষিণে ইন্দনেশিয়ার উপকূলে সুন্দা (Sunda) চ্যুতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে একটু উত্তরে গেলে তো কথাই নেই, বিশাল হিমালয় পর্বতমালা যা কিনা তৈরি হয়েছে ভারত এবং ইউরোপ প্লেটের সংঘর্ষে। বাংলাদেশ যেহেতু পলি দ্বারা গঠিত যা কিনা ভূকম্পনকে তরান্বিত করে যার ফলে ক্ষতির সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।। ভূতাত্ত্বিক অবাস্থানের এবং গঠণের বিচারে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যা কিনা ভূমিকম্পের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশ এবং এর আশপাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকম্প

ইতিহাস বলে অনেক আগ থেকেই এই অঞ্চলে ছোট থেকে মাঝারি ধরণের ভূমিকম্প হয়ে আসছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের মধ্যে রয়েছে ১৭৬২ সালের ৭.৫ মাত্রার আসাম ভূমিকম্প। যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদী মধুপুর চ্যুতির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সরে এসে। ১৯২৩ সালে ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দুরে কিশোরগঞ্জের কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে এবং ঢাকাতে বেশ ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়।

ভূমিকম্পের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখতে পাব, বিশেষ করে সিলেট, কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলগুলো ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশেষ করে চাঁদপুরের মোহনা এবং পদ্মার পাড় বরাবর। উল্লেখ করার মতো হচ্ছে যে গত ২০১০ থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত চাঁদপুরের মোহনা অঞ্চলে চার থেকে পাঁচটি ৪.২ থেকে ৫.১ মাত্রার মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে। এরমধ্যে ২০১০ সালে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে অনুভূত হয়। 

চাঁদপুরের মোহনায় সাম্প্রতিক সময়ে এত ভূমিকম্পরে কারণ নির্ণয়ে ভূতত্ত্ববিদরা এখনও কাজ করছেন।

বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে?

উপরের আলোচনা থেকে এটা অন্তত জানতে পারি, বাংলাদেশের উত্তরে শিলং মালভূমির পাদদেশের অঞ্চলগুলো এবং পূর্বদিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পপ্রবণ। বাংলাদেশের ‘ঝুঁকি মানচিত্র’ থেকেও সেটা দেখা যায়।

নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে নেপালসহ পুরো অঞ্চলে যে কম্পণ অনুভূত হয়েছে তার একটা মানচিত্র প্রকাশ করেছে USGS. এই মানচিত্র থেকেও দেখা যায় বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল সমূহে PGA (Peak Ground Acceleration) সবচেয়ে বেশি। ঢাকার অবস্থানের বিচারে এখানে PGA মধ্যমানের হলেও এর ঝুঁকি একেবারে কম না। বিশেষ করে এর আশেপাশে গত কয়েক বছর ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অন্তত তাই বলে।

শুধু তাই নয় ঢাকার আশপাশে রয়েছে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি চ্যুতি (fault)। যা কিনা ঢাকাকে যেকোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

ঢাকার উত্তরে বিস্তৃত টাঙ্গাইল অঞ্চলে রয়েছে মধুপুর চ্যুতি (Madhupur fault)। এই মধুপুর চ্যুতিতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকার জন্য দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে আনতে পারে। ঢাকার দক্ষিণ পূর্ব দিকে অর্থাৎ চাঁদপুরের মেঘনা মোহনা অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে যা কিনা বড় কোনো ধরনের ভূমিকম্প হওয়ারই ইঙ্গিত।

ধারনা করা হয় ঢাকার আশপাশের নদীগুলাও চ্যুতির ফলে তৈরি হয়েছে, অবশ্য এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। শুধু তাই না, ঢাকার মাটি থেকে যে হারে খাবার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে পানির স্তর দিনে দিনে নিচে নেমে যাচ্ছে যা কিনা ঢাকার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি ছোট মাত্রার ভূমিকম্পেও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো রকম সমীক্ষা বা গবেষণা করা হয়েছে কিনা?

যদিও বাংলাদেশ এত বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে এখনও বাংলাদেশের সঠিক ‘ঝুঁকি মানচিত্র’ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যে ‘ঝুঁকি মানচিত্র’ আছে তাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের চ্যুতির ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয় নাই। শুধু তাই না সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশর অভ্যন্তরে ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যদি রিক্টার স্কেলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প মধুপুর চ্যুতিতে আঘাত হানে তাহলে ঢাকা শহরের অন্তত ৭২ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা কিনা মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়বে। আনুমানিক অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে প্রায় ৬ হাজার মার্কিন ডলার। CDMP (Comprehensive Disaster Management Program)এর তথ্য মতে এধরনের একটা ভূমিকম্প পুরাপুরিভাবে ঢাকার ২৫০টি হাসপাতালকে ক্ষতি করবে। এই হিসাব মতে ভূমিকম্পের একদিন পরে মাত্র ৪১ শতাংশ হাসপাতালের বেড চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী থাকবে। এক সপ্তাহ এবং ৩০দিন পর এর অবস্থা দাঁড়াবে যথাক্রমে ৫৪ এবং ৭২ শতাংশ।

শুধু তাই না, ঢাকায় সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হবে মারাত্মকভাবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Disaster Risk Reduction Approaches in Bangladesh বইটি পড়া যেতে পারে।

আমাদের দেশে ভূমিকম্প বিষয়ে শিক্ষাও তেমন পর্যাপ্ত নয়। মাত্র তিন থেকে চারটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব পড়ানো হয়। ভূতত্ত্বের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখেছি ভূমিকম্প সম্পর্কে নামমাত্র পড়ানো হয় মাঝে মাঝে তাও হয়না। অবশ্য এর কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে হাতেগোনা কয়েকজন আছে যারা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করেন। তার মধ্যে অনেকেই দেশের বাইরে থাকেন। শুধু তাই নয় অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়হলো ভূমিকম্প সঠিকভাবে পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নেই বলেই চলে। বাংলাদেশ কিংবা আশপাশে যেকোনো মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার পর রিকটর স্কেলে এর তীব্রতা জানতে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয় যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ভূতাত্ত্বিক সংস্থা USGS এর দিকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে কী করা যেতে পারে?

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস করতে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে অতি দ্রুত যা করা দরকার তা হচ্ছে বাংলাদেশের ‘ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র’ তৈরি করা। কারণ এই মানচিত্রই বলে দেবে বাংলাদেশের কোথায় কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

শুধু তাই নয় কীভাবে আমাদের বাসাবাড়ি তৈরি করতে হবে তারও নির্দেশনা থাকবে। এজন্য অবশ্য আমাদের ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো কোথায় হচ্ছে তা সনাক্ত করতে হবে প্রথমে। এর মাধ্যমে আমারা বাংলাদেশে চ্যুতির অবস্থান সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারব যা কিনা ‘ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র’ তৈরি করতে সাহায্য করবে। ছোট ছোট ভূমিকম্পের অবস্থান সনাক্ত করতে অনেক বেশি ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্র (Seismometer) বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করতে হবে। যদিও এই যন্ত্রগুলোর দাম অনেক বেশি। এজন্য অবশ্য বাইরের কোনো দেশের ভূমিকম্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে বেশি দরকার হচ্ছে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে অধিক গবেষণা। যা হচ্ছে না বললেই চলে। মোট কথা হচ্ছে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। তা না হলে একটা বড় মাপের ভূমিকম্প হলে আমাদের অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারি।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়

প্রথমে আমাদের যেদিকে নজর দিতে হবে তা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে শিক্ষিত করা। বেশিরভাগ লোকজনই জানে না ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে!

সাম্প্রতিক সময়ে নেপাল ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশও অনুভূত হয়। এসময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে যারফলে সবাই একসঙ্গে ছুটাছুটি করে ঘর বা অফিস থেকে বেড়িয়ে পরে। ফলে অনেকে এমনিতেই আহত হয়।

ভূমিকম্পের বিষয়ে যেহেতু পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। তাই যতটা সম্ভব আতঙ্কিত না হয়ে ঘর বা অফিসে থাকলে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। আর যতটা সম্ভব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সাবধানতা আগেই নিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমেরিকার Federal Emergency Management Agency দ্বারা নির্ধারিত নিচের সাবধানতাগুলো পালন করা যেতে পারে।

ঘর বা অফিসের ভিতরে থাকলে: ১) ভূমিকম্পের সময় যদি সম্ভব হয় মাথায় হেলমেট বা এজাতীয় কিছু থাকলে মাথায় পরে নিন, অন্যদেরও পরতে বলুন এবং টেবিল, কিংবা বেঞ্চেরমতো শক্ত কিছুর নিচে আশ্রয় নিন। আশ্রয় নেওয়ার মতো টেবিল বা বেঞ্চ না থাকলে দুইহাত মাথার উপড়ে রেখে ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকাঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন। সম্ভব হলে দ্রুত বৈদ্যুতিক ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দিন। কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য সময় নষ্ট করবেন না। কাচ, জানালা, কিংবা বাইরের দেয়ালের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

২) আপনি যদি ভূমিকম্পের সময় বিছানায় থাকেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন সম্ভব হলে নিরাপদ জাগায় চলে যান।

৩) যতক্ষণ পর্যন্ত ভূমিকম্প অনুভূতি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া নিরাপদ নয়। অধিকাংশ সময়ে আহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে হুড়াহুড়ি করে ঘর বা অফিসে ঢোকা বা বের হওয়ার সময়।

৪) ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

ঘর বা অফিসের বাইরে থাকলে: ১) যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। নিরাপদ মনে না হলে নিরাপদ জাগায় চলে যান। ২) বড় বড় বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা বড় গাছ থেকে দূরে সরে যান।

গাড়ির ভিতর থাকলে: ১) গাড়ি দ্রুত বন্ধ করে নিরাপদ জাগায় গাড়ি পার্ক করুন এবং গাড়ির মধ্যেই অবস্থান করুন। রাত হলে গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখুন। ২) গাড়ি বড় বিল্ডিং, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে পার্ক করবেন না। ৩) গাড়িতে GPS থাকলে আপানর অবস্থান জেনে নিন। অনিরাপদ মনে হলে জরুরি সাহায্যের জন্য জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন। ৪) ভূমিকম্পের সময় কোনো সেতুর উপর দিয়ে অথবা ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকলে: ১) আলোর জন্য ম্যাচ বা গ্যাস লাইট জ্বালাবেন না। ২) আপনার মুখমণ্ডল ও মাথা পরনের জামা দিয়ে ঢেকে ফেলুন। ৩) আপনার সামনে বা পিছনে কিছু সরানোর চেষ্টা করবেন না। যা কিনা বিপদ ডেকে আনতে পারে। ৪) শেষ সুযোগ হিসেবে চিৎকার করতে পারেন। মনে রাখবেন বেশি চিৎকার করলে ধ্বংসস্তূপের ধুলাবালি মুখে যেতে পারে যা কিনা নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে।

জেনে নেওয়া যাক ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের কিছু টুকিটাকি তথ্য।

দেশ ও সংস্কৃতিভেদে যার যার আলাদা আলাদা বর্ষপঞ্জি রয়েছে। তবে একমাত্র গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনেই চলে বিশ্ববাসীর সব হিসাব ও কর্মকাণ্ড।

ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস
আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছর উদযাপনের ধারণাটি আসে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে।

আবার অনেকের মতে, রোমে নতুন বছর পালনের প্রচলন শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালে। পরে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করেন। এটিই জুলিয়ান ক্যালেন্ডার।

রোমে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের অন্তর্গত বছরের প্রথম দিনটি জানুস দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। জানুস হলেন প্রবেশপথ বা সূচনার দেবতা। তার নাম অনুসারেই বছরের প্রথম মাসের নাম জানুয়ারি নামকরণ করা হয়।

এ গেলো যিশুর জন্মের আগের কথা। যিশুখ্রিস্ট্রের জন্মের পর তার জন্মের বছর গণনা করে ১৫৮২ সালে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি এই ক্যালেন্ডারের নতুন সংস্কার করেন। যা গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।

বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই কার্যত দিনপঞ্জি হিসেবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

নতুন বছর পালন
আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়ার পালনের শুরু হয় ১৯ শতক থেকে। নতুন বছরের আগের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হচ্ছে নিউ ইয়ার ইভ। এদিন নতুন বছরের অ‍াগমনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিভিন্ন দেশে নিউ ইয়ার বা নতুন বছরের এ দিনটি পাবলিক হলিডে হিসেবে উদযাপিত হয়। প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা এক মিনিট থেকেই শুরু হয় নতুন বছর উদযাপনের উন্মাদনা। আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আতশবাজির আলোকছটা। আধুনিক বিশ্বে অ‍ান্তর্জাতিক নিউ ইয়‍ার ডে সার্বজনীন একটি ঐতিহ্যে রূপান্তরিত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে অনেক আলোচনা-বিতর্ক হচ্ছে। একের পর এক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু এর প্রত্যাশিত ফল আমরা পাচ্ছি না।

জলবায়ু উঞ্চতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত। কোনো দেশে হয়তো কম কেউ বা বেশি। কিন্তু এর প্রভাব থেকে রেহাই পাবেনা কেউ। যে হারে জলবায়ু উষ্ণতা বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের জীবনপ্রবাহ কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।

জাতি সংঘের এক হিসাব মতে, যদি জলবায়ুর উষ্ণতা এই গতিতে বাড়তে থাকে, তাহলে সমুদ্র ও নদীর স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১ কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে অভ্যন্তরীণভাবে স্থানচ্যুত হবে।এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। বরং বাংলাদেশের মতো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য এর প্রভাব আরো বেশি।

উষ্ণতার এ হার যদি অব্যাহত থাকে তবে বাংলাদেশ এর মোট স্থলভাগের ১০ শতাংশ ভূমি হারাবে।এটি আমাদের সীমিত ভূমির ওপর জলাবায়ু পরিবর্তনের এক প্রত্যক্ষ প্রভাব। এর পরোক্ষ প্রভাব আরো ব্যাপক।

মরুকরণ, লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ এর রয়েছে আরো নানা প্রভাব। জমির উর্বরতা হ্রাস পাবে। ফলে, উৎপাদনের ওপর প্রভাব পড়বে। এদিকে রয়েছে অধিক জনসংখ্যার চাপ। একদিকে সম্পদের সংকট, অন্যদিকে জনসংখ্যার আধিক্য। এ দুয়ে মিলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অপরিহার্য দুর্ভোগ। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণের কোনো বিকল্প নেই।

এমনিতেই বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ রাষ্ট্র। ভবিষ্যতে এর মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। বন্যা ও সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপস্থিতি আরো বেড়ে যাবে। দুর্ভিক্ষ মহামারি বাসা বাধবে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়। বরং মানুষের সাথে সাথে অন্য সব জীবও একই ক্ষতির মুখোমুখি হবে। বিশ্ব হারাবে জীববৈচিত্র। আমাদের দেশে বনায়নের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ফলে সবুজের চিহ্ন মুছে যাওয়া উপক্রম হচ্ছে। বৃক্ষরোপন ও সবুজায়নের কোনো পদক্ষেপ নেই। এর ফলে ক্রমেই পানির স্তর নীচে যাচ্ছে। অন্যান্য প্রভাবতো আছেই।

আমাদের জন্য এমন আরো অনেক নির্মম বাস্তবতা হয়তো অপেক্ষা করছে।

কার্বন উদগীরনের মাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে বিশ্ব এখনো ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। কিন্তু বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলা করা যাবেনা।

কিন্তু এই যে জলবায়ু পরিবর্তন তার জন্য সব রাষ্ট্র সমানভাবে দায়ী নয়। নিশ্চিতভাবে উন্নত রাষ্ট্রগুলোই বেশি দায়ী। কিন্তু হতাশাজনক হলো যে তারা এর দায়িত্ব বহন করছে না। গ্রীন-হাউজ গ্যাস উদ্গীরণের জন্য দ্বায়ী রাষ্ট্রগুলো এ বিষয়ে তাদের করণীয় নিয়ে উদাসীনতা প্রদর্শন করছে।

বাংলাদেশ একটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। তাই বাংলাদেশের মতো অধিক ঝুকিঁপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোকে এর বিরুদ্ধে জোড়ালো ভুমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর সমস্যাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিঁ মোকাবেলা বা এর জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এর যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য।

একই সাথে  টেকসই উন্নয়নকেও আমরা এড়িয়ে যেতে পারবোনা। পরিবেশকে রক্ষা করেই টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।

একথা সত্য, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনকে রোধ করতে পারবোনা। কিন্তু এর মাত্রাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সেই সাথে অভিযোজন কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারি।

অভিযোজন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তর করতে হবে। সফল অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই। সীমিত ভূমিতে অধিক উৎপাদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভূমির উর্বরতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বাস্থ্যের প্রতি হুমকিস্বরুপ কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

নানামুখি পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিঁ মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। 


মানুষের মস্তিষ্কের ভাঁজের সঙ্গে দৃষ্টিভ্রমের সম্পর্ক খুঁজে পেয়ছেন বিজ্ঞানীরা। ১শ' ৫৩টি মস্তিষ্ক স্ক্যান করে গবেষণার পর দেখা যায়, মস্তিষ্কে সামনের অংশের ভাঁজ স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দৃষ্টিভ্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। দৃষ্টিভ্রম হয় এমন রোগীদের মস্তিষ্কের সামনের অংশের ভাঁজ স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় ছোট বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের সামনের অংশ এমন একটি এলাকা যা বাস্তবে দেখা দৃশ্য আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। গবেষণায় পাওয়া এমন তথ্য আগে থেকে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। জন্মের ঠিক আগ মূহুর্তে মানুষের মস্তিষ্কে এই ভাঁজ দেখা যায়, বিজ্ঞানীদের ভাষায় যাকে বলে হয় প্যারাসিঙ্গুলেট সাকলাস বা সংক্ষেপে পিসিএস। এই ভাঁজের আকার ব্যাক্তিভেদে আলাদা হয়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের স্নায়ুবিজ্ঞানী জন সিমন্স বলেন, "যদিও জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, তবে এটি এমন এক অঞ্চল যাতে বিশেষভাবে লক্ষণীয় কোনো ভাঁজ থাকুক বা না থাকুক, অঞ্চলটি জন্মের সময়ই মস্তিষ্কে থাকে। যদি কেউ এই বিশেষ লক্ষণ নিয়ে জন্ম নেন যে তার এই ভাঁজ ছোট তবে জীবনের পরবর্তীতে তাদের দৃষ্টিভ্রমে ভোগার প্রবণতা থাকে।"

জন সিমন্স বলেন, স্কিৎজোফ্রেনিয়া একটি জটিল বিষয়। দৃষ্টিভ্রম এর একটি অন্যতম উপসর্গ মাত্র। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি তাদের অনিয়মিত কল্পনা পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা গেছে।

১১৩ জন স্কিৎজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত মানুষ আর ৪০ জন স্বাভাবিক মানুষ, মোট ১শ' ৫৩ জনের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান প্রতিবেদন সহ অস্ট্রেলিয়ান স্কিৎজোফ্রেনিয়া রিসার্চ ব্যাংকের তথ্য ব্যবহার করে এই গবেষণা চালান ড. সিমোন্স আর তার সহকর্মীরা।

"আমরা রোগীদের এমনভাবে আলাদা করেছি যাতে তাদের মধ্যে যতটা সম্ভব সরাসরি তুলনা করা যায়।" আলাদা করার বিষয়ে এমনটাই বলেন ড. সিমন্স। প্রত্যেকের বয়স, লিঙ্গ, ওষুধ এমনকি তারা বাহাতি না ডানহাতি তাও হিসাবে ধরা হয় বলে জানান তিনি। "তাদের মধ্যে এতটা মিল রেখে নেওয়া হয়েছে যে, তাদের মধ্যে শুধু একটাই পার্থক্য ছিল- এক দলের আগে স্কিৎজোফ্রেনিয়া ছিল, আরেক দলের ছিল না", বলেন তিনি।

আগের এক গবেষণায় তারা জানতেন ওই ভাঁজের দৈর্ঘ্য মানুষের 'বাস্তব পর্যবেক্ষণ'- এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ কারণে, তারা পিসিএসের পার্থক্য নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। আর এতে দেখা যায়, যারা দৃষ্টিভ্রমের ভুগছেন তাদের এ ভাঁজ দৃষ্টিভ্রম না থাকা রোগীদের চেয়ে ২ সে.মি. আর সুস্থ মানুষদের এ ভাঁজের চেয়ে ৩ সে.মি. ছোট। সেই সঙ্গে তারা জানান, এই দৈর্ঘ্য এক সে.মি. কমার সঙ্গে দৃষ্টিভ্রমের আশঙ্কা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

Pages: [1] 2 3 ... 10