Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 23
1
হিজরি চান্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’ মাস। এ মাস বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। হিজরতের দেড় বছর পর পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’-এর পরিবর্তে মক্কা শরিফের মসজিদুল হারাম তথা খানায়ে কাবা তথা কাবা শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয় এই শাবান মাসেই। তাই শাবান মাস একদিকে যেমন মুসলিম স্বাতন্ত্র্য ও ইসলামি ঐক্যের মাস, অন্যদিকে তেমনি কাবাকেন্দ্রিক মুসলিম জাতীয়তা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হওয়ার মাস।

আরবি এ মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘আশ শাবানুল মুআজজম’ অর্থ মহান শাবান মাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল ইবাদত করতেন। ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, রজব আল্লাহ তাআলার মাস, শাবান নবীজি (সা.)-এর মাস, রমজান হলো উম্মতের মাস। রজব মাসে ইবাদতের মাধ্যমে মনের ভূমি কর্ষণ করা, শাবান মাসে আরও বেশি ইবাদতের মাধ্যমে মনের জমিতে বীজ বপন করা, রমজান মাসে সর্বাধিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সফলতার ফসল ঘরে তোলা হয়। রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশনাসংবলিত অসাধারণ আয়াতটি এ মাসেই অবতীর্ণ হয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর প্রতি পরিপূর্ণ রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতাগণ নবীজি (সা.)-এর জন্য রহমত কামনা করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৫৬)। তাই শাবান মাস হলো নবীজি (সা.)–এর প্রতি অগাধ ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং প্রেম-ভালোবাসা প্রদর্শনের মাস। তা হবে সুন্নাত অনুশীলনের মাধ্যমে। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘হে বৎস! যদি পারো এভাবে সকাল ও সন্ধ্যা পার করো যেন তোমার অন্তরে কারও প্রতি হিংসা না থাকে; তবে তাই করো।’ অতঃপর বলেন, ‘এটাই আমার সুন্নাত আদর্শ, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুসরণ করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালোবাসল; যে আমাকে ভালোবাসল সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, তিরমিজি শরিফ: ৩৬: ১৭৫)।
বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগ না রমাদান’। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান আমাদের নসিব করুন।’ (মুসনাদে আহমাদ, প্রথম খণ্ড: ২৫৯, শুআবুল ইমান, বায়হাকি,৩: ৩৭৫)।

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত ১৫ তারিখের রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি। শব মানে রাত, বারাআত মানে মুক্তি; শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। শবে বরাতের আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’ তথা মুক্তির রজনী। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি শবে বরাত নামেই সমধিক পরিচিত। এ রাতে ইবাদত করা ও দিনে রোজা রাখা সুন্নত।

বছরব্যাপী প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নাত। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের নফল রোজাও রয়েছে। মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখে রয়েছে নফল রোজা। এ ছাড়া কোনো সময় ও দিন-তারিখ নির্ধারণ ছাড়া যত বেশি সম্ভব নফল ইবাদত করা যায়, তা করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ফরজ ওয়াজিব ছুটে না যায় এবং কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত না হয়। নফল ইবাদত করা অপেক্ষা নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা অধিক গুরুত্ববহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায় সব রজব মাসে ১০টি নফল রোজা রাখতেন এবং শাবান মাসে ২০টি নফল রোজা রাখতেন। রমজানে পূর্ণ মাস ফরজ রোজা। নবীজি (সা.) রমজান ছাড়া বছরের সবচেয়ে বেশি শাবান মাসেই নফল নামাজ, নফল রোজা ও নফল ইবাদত-বন্দেগি করতেন।

রমজান মাসের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা বিশেষ জরুরি একটি সুন্নাত আমল। হাদিস শরিফে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১০৩)। সম্ভব হলে নতুন চাঁদ দেখা সুন্নাত, চাঁদ দেখে নতুন চাঁদের দোয়া পড়াও সুন্নাত; চান্দ্র মাসের তারিখের হিসাব রাখা ফরজে কিফায়া। কারণ, ইসলামি বিধিবিধানগুলো চাঁদের তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত। (আল বাদায়েউস সানায়ে)।

2
মহান আল্লাহ বছরের কিছু সময়কে কিছু সময়ের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কোনো মাস বা দিনরাতকে মোমিনের গুনাহ মোচন ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। এর অন্যতম শাবান মাস। শাবান শব্দের অর্থ বিস্তৃত হওয়া, ছড়িয়ে পড়া, প্রসারিত হওয়া ইত্যাদি। এ মাসে মহান প্রভুর রহমতের বারিধারা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে তাই এ মাসের নামকরণ হয়েছে শাবান। মহানবী (সা.) এ মাসকে নিজের মাস বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি শাবানে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। হজরত উসামা বিন জায়িদ (রা.) বলেন, ‘আমি একদিন মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে শাবানের মতো অন্য কোনো মাসে এত অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। উত্তরে তিনি বললেন, এ মাসের ব্যাপারে মানুষ বড়ই উদাসীন। অথচ এ মাসে মানুষের আমলসমূহ মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। আর আমি চাই আমার আমলগুলো (আল্লাহর দরবারে) এমন অবস্থায় পেশ করা হোক যখন আমি রোজাদার।’ নাসায়ি, বায়হাকি।

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ছাড়া অন্য সময় পূর্ণমাস রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবানের মতো অধিক পরিমাণ রোজা অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।’ বুখারি, নাসায়ি। মহানবী (সা.) মাহে রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ মাহে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘তোমরা রমজানের সম্মানার্থে শাবানের চাঁদের হিসাব গণনা করে রাখ।’ তিরমিজি।
রজব ও শাবান আগমন করলেই রসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি বেশি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান অর্থ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবানকে বরকতময় করে দিন এবং আমাদের হায়াতকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ নাসায়ি। হজরত আবুবকর বলখি (রহ.) বলেন, ‘রজব ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মেঘমালার মতো আর রমজান বৃষ্টির মতো।’ লাতায়েফুল মা’আরিফ। মহান আল্লাহ এ মাসের ১৫তম রজনীকে অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত করেছেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শাবানের মধ্যরাতে (১৫ শাবান) আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং প্রতিটি (মোমিন) বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তবে পরশ্রীকাতর ও মুশরিক ছাড়া।’ কিতাবুস সুন্নাহ, শরহুস সুন্নাহ। সুতরাং এ মাসে আমাদের করণীয় হলো, অধিক পরিমাণে রোজা রাখা, নফল নামাজ পড়া ও মাহে রমজানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ। বিশেষ করে এ মাসের ১৫তম রজনীতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, জিকির, তওবা, ইসতিগফার, কবর জিয়ারত ও দান-সদকা ইত্যাদি করা। মহান আল্লাহ আমাদের মহে শাবানের গুরুত্ব অনুধাবনের ও এ মাস থেকেই মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের তৌফিক দান করুন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন।




3
আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।’ সুরা আলে ইমরান আয়াত ১৮৫। এ আয়াতের স্পষ্ট করা হয়েছে, সবাইকে একদিন অবশ্যই আখিরাতের স্থায়ী জীবনে যেতে হবে। সেই পরিভ্রমণের লক্ষ্যের কিনারায় উপনীত হওয়ার জন্য কয়েকটি মঞ্জিল বা স্টেশন অতিক্রান্ত করা অপরিহার্য, সেগুলো হলো- প্রথম মঞ্জিল : প্রথম মঞ্জিল ‘সকরাতুল মাওত’ তথা মৃত্যুর দুর্বিষহ কষ্টের মঞ্জিল। এ ভয়াবহ অবস্থা প্রকাশ পাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত মানব জাতির জন্য তওবার দরজা অবারিত থাকে। এ সময় সৎ ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য জান্নাত থেকে ফেরেশতা অবতরণ করে। এজন্য অনেক সময় মৃত্যুর আগে আওয়াজ আসে, ‘হে প্রশান্ত অন্তর! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। এরপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ সুরা আল ফজর আয়াত ২৭-৩০। পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের মৃত্যুর সময় জাহান্নাম থেকে ফেরেশতারা নেমে আসে। এ সময় তারা তাদের রুহু কবজ করাকালে দুর্গন্ধ অনুভব করে। এর ফলে ফেরেশতারা নাক বস্ত্র দ্বারা আবৃত করে। দ্বিতীয় মঞ্জিল : মানব জাতির জন্য সফরে আখিরাতের দ্বিতীয় মঞ্জিল হচ্ছে কবর। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা কবরকে মাটির স্তূপ মনে কোর না; বরং কবর হচ্ছে জান্নাতের বাগিচা অথবা জাহান্নামের গর্তের মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ তিরমিজি। তৃতীয় মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের তৃতীয় মঞ্জিল হাশর। হাদিসে বিধৃত হয়েছে, ‘কাফিরদের জন্য হাশরের এক দিন ৫০ হাজার বছরের সমতুল্য, পক্ষান্তরে মোমিনদের জন্য ক্ষণিকের বরাবর হবে। সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না। সেই ছায়াতলে শুধু সাত ধরনের বান্দা স্থান পাবে। এক. ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী শাসক। দুই. সেসব যুবক যারা যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদতে রত ছিল। তিন. সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের দিকে অটুট থাকে। চার. সেই দুই ব্যক্তি যাদের মাঝে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। এ ভালোবাসার ভিত্তিতে তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে এবং এরই ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। পাঁচ. সেই ব্যক্তি যাকে পরমাসুন্দরী মহিলা নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল, আর সে আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ছয়. সেসব ব্যক্তি যারা নির্জনে আল্লাহর জিকির করে এবং তাদের চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে।’ বুখারি। চতুর্থ মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের চতুর্থ মঞ্জিল হচ্ছে মিজান। মিজানের সময় সবার আশঙ্কা থাকে, নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে না গুনাহর পাল্লা ভারী হবে। পঞ্চম মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের পঞ্চম মঞ্জিল হচ্ছে পুলসিরাত। এটি এমন পুল যা চুলের চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও অধিক তীক্ষ্ণ। এর ওপর দিয়ে সব মানুষকে অতিক্রম করতে হবে। এটি হবে তিমিরাচ্ছন্ন এক ভয়ানক সেতু, যা অতিক্রমকালে মোমিনদের সামনে ইমানের আলোকরশ্মি উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। অবিশ্বাসীদের কাছে আলো থাকবে না। ফলে তারা মোমিনদের কাছে আলো প্রার্থনা করবে। কিন্তু তাদের তা দেওয়া হবে না। মোমিন ও কাফিরদের মাঝে একটি দেয়াল তোলা হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আখিরাতে যাওয়ার পথ নিরাপদে অতিক্রম করার তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

4
নামাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিক পেছনে একজন নামাজ পড়ছেন। এ সময় সামনে থেকে চলে যাওয়া বা ডানে বামে সরে যাওয়া যাবে কি? কিংবা নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করা যাবে কি? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী?

নামাজের সালাম ফেরানোর পর যদি ঠিক পেছনে কেউ নামাজ পড়ে তবে সেখান থেকে সরে গেলে নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করলে গোনাহ হয় মর্মেও অনেকে বলে থাকেন। এ সব ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

হাদিসের বর্ণনা মতে নামাজ পড়া ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি নামাপ পড়ে তবে তার সামনে দিয়ে একপাশ থেকে অপর পাশে যাওয়া। এভাবে আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ। এমনটি করা গোনাহের কাজ। হাদিসে এসেছে-
- হজরত বুসর ইবনু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন হজরত যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আবু জুহায়ম রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী শুনেছেন?
তখন আবু জুহায়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলরেন, ‘আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী (ব্যক্তি) জানতো; এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে নামাজে থাকা ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো।’ আবুন নাজর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমার জানা নেই তিনি চল্লিশ দিয়ে- দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন কিনা।’ (বুখারি)

- হাদিসের অন্য বর্ণনায় আরও এসেছে যে-
কোন ব্যক্তি যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় তাহলে সে যেন তাকে হাত বাড়িয়ে বাধা দেয়। বাধা না শুনলে প্রয়োজনে তার সঙ্গে লড়াই করবে‌‌। কেননা সে একটি শয়তান।

- হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে কেউ নামাজ পড়তে চাইলে যেন সুতরা সামনে রেখে নামাজ পড়ে এবং তার কাছাকাছি হয়। সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে যেন তার সঙ্গে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক, দারেমি)

সামনে অতিক্রম বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অতিক্রম বলতে, এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া। আর নামাজের সামনে দিয়ে এমনটি করাকেই নিষেধ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আর যদি কোনো নামাজেরত ব্যক্তির সামনে উঁচু কোনো জিনিস তথা সুতরা থাকে তবে সুতরার বাহিরে দিয়ে অতিক্রম যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। তবে এ সুতরা সেজদার স্থান থেকে আধা হাত সামনে হতে হবে।
কিন্তু মুসল্লির সামনে যদি সুতরা (কোন একটা উঁচু জিনিস) থাকে তাহলে তার বাহির দিয়ে অথবা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে (সেজদার স্থান থেকে সর্ব নিম্ন প্রায় আধহাত দূর হলেই যথেষ্ট) যাতায়াত করা জায়েজ আছে।

ডান বা বামে সরে যাওয়া যাবে কি?
কোনো ব্যক্তির ঠিক বরাবর পেছনে যদি কেউ নামাজেরত থাকে তবে ওই ব্যক্তি ডানে কিংবা বামে যে কোনো একদিকে সরে যেতে পারবে। তবে যদি নামাজেরত ব্যক্তির সামনে থাকা ব্যক্তি যে দিকে বেশি থাকবে সেদিকেই যাবে। আর যদি টিক মাঝে অবস্থান করে তবে যেদিকে ইচ্ছা সরে যেতে পারবে। এভাবে ডানে কিংবা বামে সরে যাওয়া গোনাহের কারণ নয় এবং নিষিদ্ধের আওতায়ও আসবে না।

মুমিন মুসলমানের উচিত, নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল বা অতিক্রম না করে অপেক্ষা করা। নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া বা অতিক্রম করার গোনাহ থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


5
Eyes / চোখ নিয়ে অবহেলা নয়
« on: March 13, 2021, 04:23:04 PM »
চোখের প্রেসার বা গ্লুকোমা সম্পর্কে ও অন্ধত্ব রোধে সচেতনতার জন্য প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৮-১৩ মার্চ গ্লুকোমা সপ্তাহ পালিত হয়।

এ বছরও বাংলাদেশসহ সব দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। চোখের প্রেসার মানুষের অজ্ঞতার জন্য ব্লাড প্রেসারের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। চোখের উচ্চ প্রেসারকে অকুলার হাইপার টেনশন বলে।

এ ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক চোখের চাপ ১১-২১ মিমি. মার্কারির চেয়ে বেশি হলেই অকুলার হাইপার টেনশন ধরা হয়। যদিও অপটিক স্নায়ু বা দৃষ্টি পরিধির (ভিস্যুয়াল ফিল্ড) কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে। তবে যদি অপটিক স্নায়ু বা ভিস্যুয়াল ফিল্ডের ক্ষতি হয় এবং চোখের উচ্চ প্রেসার থাকে তাহলে তাকে গ্লুকোমা বলে।

গ্লুকোমা কেন হয়?

১. সিলিয়ারি এপিথিলিয়াম থেকে পানিজাতীয় চোখের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য যে প্রত্যক্ষ নিঃসরণ হয়, যদি তার পরিমাণ বেশি হয়। ২. পরোক্ষ নিঃসরণ ২০ শতাংশ স্বাভাবিক। যদি কোনো কারণে (ওষুধ দ্বারা) এর চেয়ে কম হয় তাহলে গ্লুকোমা হয়। ৩. যদি ট্রাবিকুলাম, কর্নিও স্কেলেরাল সেমওয়ার্ক, স্নেমস ক্যানাল ইত্যাদি কোনো পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তাহলেও গ্লুকোমা হয়।

গ্লুকোমা আছে কিনা কিভাবে জানা যায়

১. চোখের প্রেসার মাপার যন্ত্র টনোমিটার দিয়ে। ১১-২১ mm Hg-এর বেশি হলে গ্লুকোমা অফথালামোসকোপ দিয়ে অপটিক স্নায়ুর পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখা।

২. দৃষ্টি পরিধি বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড দেখার যন্ত্র পেরিমিটার/এনালাইসার (হাসফ্রে বা অক্টোপাস দিয়ে)।

৩. চোখের কোণ সরু কিনা দেখে।

৪. চোখের দৃষ্টিশক্তির লক্ষণগুলো পর্যালোচনা করা। ক. আলোর পার্শ্বে রংধনুর মতো দেখা; খ. চোখে ব্যথা হওয়া; গ. মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা; ঘ. চোখ লাল হওয়া/ঝাপসা দৃষ্টি; ঙ. চোখ দিয়ে পানি পড়া; চ. চোখে ঝাপসা দেখা; ছ. দৃষ্টির পরিধি কমে যাওয়া (ভিস্যুয়াল ফিল্ড); জ. মনি বড় হওয়া (ডাইলেটেড পিউপিল); ঝ. শেষের দিকে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া।

সবচেয়ে মারাত্মক হলো কখনো কোনো লক্ষণ ছাড়াই চোখের প্রেসারে মানুষ অন্ধত্ববরণ করে।

গ্লুকোমার প্রকারভেদ

ক. জন্মগত : গ্লুকোমা বা বুফথালমোস এবং খ. একোয়ার্ড বা জন্ম-পরবর্তী সংশ্লিষ্টতা। ১. প্রাইমারি : ক. চোখের কোণ ছোট হওয়া; খ. খোলা কোণ থাকা (সিম্পল গ্লুকোমা বা ক্রনিক গ্লুকোমা)। ২. সেকেন্ডারি : চোখের অন্য রোগের কারণে যেমন- ইউভিয়াইটিস, কর্নিয়ার ক্ষত, চোখের টিউমার, বিট্রাসে রক্ত জমা। ছানি রোগ হলেও অপারেশন না করালে।

চিকিৎসা

১. চোখের ওষুধ : চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো পাইলো ড্রপ, টিমো ড্রপ, ল্যাটোনো প্রষ্ট, প্রষ্টগ্লানডিন, আলফাগান, বেটাগান।

২. খাওয়ার বড়ি : এসিমক্স, ইলেকট্রো কে।

৩. ট্রাবিকুলোপ্লাষ্টি : লেজার।

৪. অস্ত্রোপচার : আইরিসে ছিদ্র করা, ট্রাবিকুলেক্টমি/ট্রাবিকুলেক্টমি, সিজ বা ফিল্টারিং অপারেশন।

সেকেন্ডারি গ্লুকোমার কারণগুলো দূর করা। যেমন, ছানি রোগ দীর্ঘদিন অপারেশন না করালে; ছানি অপারেশনের পর ইউভিয়াইটিস বা কর্নিয়ার ক্ষত চিকিৎসা না করালে।

প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ : চক্ষু বিশেজ্ঞ ও সার্জন; চেয়ারম্যান, কমিউনিটি অফথালমলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

6
রাসুল (সা.) মানুষ ছিলেন। তাই স্বাভাবিক মানুষের মতো তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর ওফাতের বছর হলো ১১ হিজরি। মাস রবিউল আউয়াল, আর তারিখ ১২। দিন হিসেবে সোমবার। সময় চাশত নামাজের শেষ। বয়স ৬৩। ওফাতের স্থান আয়েশা (রা.)-এর কক্ষ—তাঁর কোল। অন্য বর্ণনা মতে, আয়েশা (রা.)-এর গলা ও বুকের মধ্যবর্তী স্থানে মাথা রাখা অবস্থায় রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন।

মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেছেন সোমবার চাশতের শেষ সময়। মঙ্গলবার তাঁকে গোসল দেওয়া হয়। গোসল দিয়েছেন আব্বাস (রা.), হজরত আলী (রা.), হজরত আব্বাস (রা.)-এর দুই ছেলে ফজল ও সাকাম, রাসুল (সা.)-এর আজাদকৃত ক্রীতদাস সাকরাম, ওসামা বিন জায়েদ ও আউস ইবনে খাওলা (রা.)। গোসলের পর বিশ্বনবী (সা.)-কে তিনটি ইয়েমেনি সাদা কাপড়ে কাফন পরানো হয়, অতঃপর ১০ জন ১০ জন করে সাহাবায়ে কেরাম হুজরায় প্রবেশ করে পর্যায়ক্রমে জানাজার নামাজ আদায় করেন। নামাজে কেউ ইমাম ছিলেন না।

রাসুল (সা.)-এর জানাজা এককভাবে হয়েছিল। জায়গার সংকীর্ণতার কারণে জামাত করা সম্ভব হয়নি (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২০৭৮৫; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৪২৭৩)

ঘরের মধ্যে খননকৃত কবরের পাশেই তাঁর লাশ রাখা হয়। অতঃপর আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশক্রমে ১০ জন করে ভেতরে গিয়ে জানাজা পড়েন। তাঁরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে জানাজা পড়ে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে রাসুল (সা.)-এর পরিবার-পরিজন, অতঃপর মুহাজিররা, অতঃপর আনসাররা জানাজার সালাত আদায় করেন। এভাবে পুরুষ, নারী ও শিশুরা পরপর জানাজা পড়েন। জানাজার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া মঙ্গলবার সারা দিন ও রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে বুধবারের মধ্যরাতে দাফনকার্য সম্পন্ন হয় (সিরাতু ইবনে হিশাম : ২/৬৬৪)

মৃত্যুর প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর রাসুল (সা.)-এর দাফন কাজ সম্পন্ন হয় (রহমাতুল্লিল আলামিন ১/২৫৩, ২/৩৬৮)
মন্তব্য



Source:https://www.kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2021/02/27/1008854








7
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত তিন লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৮০% শিশুকেই চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে স্বাস্থ্য সেবার সুযোগের অভাবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৯০ ভাগ ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুই মারা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের ক্যান্সার বা চাইল্ডহুড ক্যান্সার বলতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়াকে বোঝায়। শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হারও কম। বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে ০.৫% থেকে ৪.৬% আক্রান্তরা শিশু।
শিশু বয়সে কোন ক্যান্সারগুলো বেশি হয়?

প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্যান্সার কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের মধ্যে সাধারণত লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার বেশি হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।

এছাড়া আরো যে ধরনের ক্যান্সার হয় সেগুলো হচ্ছে, লিম্ফোমাস এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরণের টিউমার। কিছু ক্যান্সার রয়েছে যা শুধু শিশুদেরই হয়। যেমন নিউরোব্লাস্টোমা, নেফ্রোব্লাস্টোমা, মেডুলোব্লাস্টোমা, এবং রেটিনোব্লাস্টোমা।

স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস, কোলন বা মলদ্বারের ক্যান্সার সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয়ে থাকে। শিশুদের এ ধরণের ক্যান্সার হবার ঘটনা খুবই বিরল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, শিশুদের কিডনি ক্যান্সার, মস্তিষ্কের কিছু ক্যান্সার এবং রক্তের কিছু ক্যান্সার হতে পারে।

শিশুদের ক্যান্সার কেন হয়?

শিশুদের ক্যান্সার আক্রান্তের ঝুঁকি এমনিতেই কম থাকে। তবে কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য শিশুরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ক্ষতিকর রশ্মি বা বিকিরণের সংস্পর্শে আসাটা অন্যতম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অনেক সময় জীনগত কারণে অনেক শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের উদাহরণ সাধারণত জাতিগতভাবে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়।

জেনেটিক্সের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা ভিন্ন হওয়ার কারণেও এটি হতে পারে। কিছু গবেষণায় জানা যায় যে, এপস্টেইন-বার নামে ভাইরাস ছাড়াও, হেপাটাইটিস বি, হিউম্যান হার্পিস এবং এইচআইভি ভাইরাসও শিশুদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শিশুদের ক্যান্সার কি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায়?

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য মতে, শিশুদের বেশিরভাগ ক্যান্সারেই তেমন কোন লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। যার কারণে দেরিতে শনাক্ত হয়। উন্নত বিশ্বে যেহেতু শিশুদের বাবা-মায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকে এবং চিকিৎসার সুযোগও বেশি - তাই তাদের মধ্যে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্ত করাটা সম্ভব হয়।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা এবং পরীক্ষার সুযোগ কম থাকায় প্রাথমিক অবস্থাতে ধরা পড়ে না।

কী কী লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না?

ডা. ফারজানা রহমান বলেন, যেকোনো বয়সের শিশুর মধ্যেই ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। তবে রক্তের ক্যান্সারটি সাধারণত এক বছরে বয়সের পর থেকে হয়। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের এটি বেশি হয়। "লিউকোমা নামেও একটা ক্যান্সার হয়, সেটা যেকোন বয়সের শিশুদেরই হতে পারে।"

তিনি বলেন, শিশুরা সাধারণত নিজের রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকে না এবং বেশিরভাগ সময় তারা বুঝতেও পারে না যে, তার আসলে কেমন লাগছে। এ বিষয়ে বাবা-মা কেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের মধ্যে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এসব লক্ষণ থাকার মানে এই নয় যে তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ক্যান্সারের কিছু লক্ষণের তথ্য দিয়েছে যেগুলো বেশিদিন ধরে স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডা. ফারজানা রহমান বলেন, ক্যান্সারের আসলে আলাদা করে কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। অন্যান্য রোগের মতোই সাধারণ উপসর্গ থাকে। তবে অন্যান্য রোগে যেমন চিকিৎসা করানো হলে উপসর্গগুলো ভালো হয়ে যায়, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। বরং উপসর্গগুলো থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে।

তিনি যে উপসর্গগুলোর কথা বলেছেন সেগুলো হচ্ছে-

১. শরীরে ব্যথা

শরীরের কোথাও যদি অনেক দিন ধরে ব্যথা থাকে এবং সেটি না সেরে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, যদি কোন শিশু অনেক দিন ধরেই তার শরীরে ব্যথা করছে বলে জানায় তাহলে সেটি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

"হয়তো সে বলতে পারবে না কিন্তু বোঝাবে যে তার শরীরটা ভালো নেই, গায়ে ধরতে দিচ্ছে না, শরীরে খুব বেশি ব্যথা"

২. ফোলা বা ফোলা ভাব

শরীরের কোনো অংশ যদি হঠাৎ ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘদিনেও ভালো না হয় - তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এ বিষয়ে ডা. ফারজানা রহমান বলেন, গলার ভেতরে কোনো গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া বা শরীরের কোথায় কোন অংশ ফুলে যাওয়া, পেটের ভেতরে চাকার মতো অনুভূত হওয়া, শরীরের জয়েন্ট বা কোনো সংযোগস্থলে ফুলে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়।

এ ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

৩. অনেক দিন ধরে জ্বর

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তেমন ভালভাবে কাজ করতে পারে না বলে অনেক সময় জ্বর আসলেও সেটি আর ভাল হয় না। ফলে অনেক দিন ধরে জ্বরে ভুগতে থাকে রোগী।

এটি রক্তের ক্যান্সারের একটি লক্ষণ বলে জানান ডা. ফারজানা রহমান।

সেক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে সে আসলেই ক্যান্সারে আক্রান্ত, নাকি অন্য কোন সমস্যা রয়েছে।

এছাড়া শরীর হঠাৎ করে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস হওয়ার পর অনেক দিন ধরে চলতে থাকে, ওষুধ খাওয়ার পরও জন্ডিস ভাল না হওয়া, শরীর হলুদ হয়ে যাওয়া- এসব লক্ষণ থাকলেও শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা - যা যায় না

শিশু যদি দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরানোর কথা জানায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৫. হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া

শিশু যদি খাবারের প্রতি অরুচি দেখায়, কোন কিছুই খেতে চায় না এবং এই সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তার পর এক পর্যায়ে হঠাৎ করে দেহের ওজন কমে যায় - তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে পরীক্ষা করাতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় লক্ষণ ছাড়াও কিছু লুক্কায়িত ক্যান্সার থাকে। সেক্ষেত্রে আলাদা কোন লক্ষণ থাকে না, শুধু শিশু খাওয়া দাওয়া করে না, ওজন কমে যাচ্ছে, কান্নাকাটি করছে, খেলাধুলা বা অন্য কোন কাজ করছে না - এরকম হলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।

৬. ক্লান্তি ও স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ঘাম

কোন কাজ না করেও যদি শিশু সারাক্ষণই ক্লান্তি বোধ করে, বিশ্রাম নেয়ার পরও ক্লান্তিভাব না যায় এবং স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকে - তাহলে সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. হঠাৎ রক্তপাত

শরীরের কোনো অংশ থেকে যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে রক্তক্ষরণ শুর হয় তাহলে অবশ্যই দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডা. ফারজানা রহমান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বা কোনো আঘাত ও ব্যথা পাওয়া ছাড়াই রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাহলে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তরোগ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বোন ম্যারো বা হাড়ের মজ্জা থেকে যে রক্ত তৈরি হয় সেটি যদি কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, বা রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি না হয় তাহলে শরীরের কোন একটি অংশ থেকে যেমন নাক, পায়খানার রাস্তা কিংবা প্রস্রাবের সাথে হঠাৎ করেই রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না বলে এই উপসর্গ দেখা দেয় বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া শরীরের চামড়ার ভেতরেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। তখন চামড়ায় কালো বা লাল লাল ছোপ দেখা যায় তখন শিশুরা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

উল্লিখিত লক্ষণগুলো যদি দেখা যায় যে, এক মাস বা দু'মাস থাকে এবং কোনোভাবেই ভালো হচ্ছে না - তখন সেটি পরীক্ষা করাতে হবে। তবে পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, আসলে কী কারণে এমন হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/

 

8
রজব আল্লাহর মাস। এ মাসে মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে বরকত চাইবেন। রমজানের ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরো রজব মাসজুড়ে বেশি বেশি বরকতের দোয়া পড়তে বলেছেন । তাহলো-
اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বছরে ১২টি মাস। এরমধ্যে ৪টি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক; আর তা হচ্ছে- জিলক্বদ, জিলহজ ও মহররম। আর চতুর্থ মাসটি হল- রজব, যা জমাদিউল উখরা ও শাবান মাসের মর্ধবর্তী মাস।’ (বুখারি)

অন্য হাদিসে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

উল্লেখ্য যে, ১৪৪২ হিজরি সনের রজব মাস গণনা শুরু হলো আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) রোববার । সে হিসেবে আগামী ২৬ রজব মোতাবেক ১১ মার্চ দেশব্যাপী পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রজব ও শাবান মাস জুড়ে এ দোয়াটি বেশি বেশি করে পড়ার এবং আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

9
ভরসা তো তার ওপরই করা যায়, যে সর্বাবস্থায় সাহায্য করতে পারেন। কাউকে সাহায্য করতে যার কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। যিনি নিজেই সর্বে সর্বা। তিনি আর কেউ নন; তিনিই হলেন মহান আল্লাহ তাআলা। ‘আল্লাহুল মুস্তাআন বা মহান আল্লাহ তাআলাই বান্দার একমাত্র সাহায্যস্থল।

আল্লাহ তাআলা মানুষের রব। মানুষ সব বিষয়ে তার ওপর ভসরা করবে এটাই স্বাভাবিক ও নিয়ম। কিন্তু তারপরও মহান আল্লাহ কুরআনে তার ওপর ভরসা স্থাপনকারীর ব্যাপারে দিয়েছেন সুসংবাদ। হাদিসে বিশেষ প্রতিদানের কথা বলেছেন বিশ্বনবি। আল্লাহর ওপর ভরসাকারীর সেই বিশেষ প্রতিদান কী?

‘হ্যাঁ’, মহান আল্লাহ কুরআনের অনেক সুরায় তাঁর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখার কথা বলেছেন বার বার। তার ওপর ভরসা রাখলে আল্লাহ তার সব ব্যাপারে যথেষ্ট হবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের (মুক্তির) পথ তৈরি করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন; যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে; আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)

আল্লাহর ওপর ভরসাকারীদের জন্য দুনিয়া ও পরকালের বিশেষ দুইটি প্রতিদানের কথা ঘোষণা করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসের সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত।
> দুনিয়ার বিশেষ প্রতিদান
দুনিয়ায় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিদান পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে- আল্লাহ তাআলার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া। হাদিসে এসেছে-
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেয়া হয়; সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেয়া হতো। এরা (পাখি যেমনিভাবে) সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ )

> পরকালের বিশেষ প্রতিদান
আল্লাহর ওপর ভরসাকারীদের জন্য পরকালের বিশেষ প্রতিদান হলো বিনা হিসেবে জান্নাত লাভ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ এক হাদিসে বিনা হিসেবে জান্নাত পাওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনা দিয়েছেন। তাতে এক শ্রেণি হলো- যারা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে।
- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মত থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে প্ৰবেশ করবে। তাদের অন্যতম গুণ এই যে- তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করবে।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

এছাড়া বিনা হিসেবে কারা জান্নাতে যাবে সে সম্পর্কে দীর্ঘ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন প্রিয় নবি। তাহলো-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সামনে বর্ণনা করছিলেন, ‘আমার কাছে সব (নবির) উম্মত পেশ করা হল। আমি দেখলাম, কোনো নবির সঙ্গে কতিপয় (৩ থেকে ৭ জন) অনুসারী রয়েছে। কোনো নবির সঙ্গে এক অথবা দুইজন রয়েছে। আবার কোনো কোনো নবিকে দেখলাম তার সঙ্গে কেউই নেই।
এমন সময় অনেক বড় একটি জামাআত আমার সামনে পেশ করা হল। আমি মনে করলাম, এটিই আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল যে, এটি হল হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের জামাআত। কিন্তু আপনি অন্য দিগন্তের দিকে তাকান।
অতপর আমি অন্য দিগন্তে তাকাতেই আরও বড় একটি জামাআত দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হল যে- ‘এটি হল আপনার উম্মত। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে এমন ৭০ হাজার ব্যক্তি; যারা বিনা হিসাব ও আজাব ভোগ কা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
এ কথা বলেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে নিজ বাসায় প্রবেশ করলেন। আর এদিকে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম ওই সব বিনা হিসাবে জান্নাতিদের ব্যাপারে বিভিন্ন আলোচনা শুরু করে দেয়-
- কেউ কেউ বলল, ‘সম্ভবত ওইসব লোকেরা হল তারা, যারা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণ।
- কিছু লোক বলল, বরং সম্ভবত ওরা হল তারা, যারা ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেনি। এভাবে আরও অনেকে অনেক কিছু বলল।
কিছুক্ষণ পর...
আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে এসে জানতে চাইলেন- তোমরা কী ব্যাপারে আলোচনা করছ? সাহাবায়ে কেরাম জানালেন, বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন; তারা কারা?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল।লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘ওরা হল সেইসব ব্যক্তি-
-যারা ঝাঁড়ফুঁক করে না এবং ঝাঁড়ফুঁক করায় না।
- আর কোনো জিনিসকে অশুভ লক্ষণ বলেও মনে করেন না। বরং
- তারা শুধুই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস রাখেন।

এ কথাগুলো শুনেই হজরত উক্কাশাহ ইবনে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন-
‘(হে আল্লাহর রাসুল!) আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে তাদের দলভুক্ত করে দেন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সঙ্গে সঙ্গেই) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে একজন।’
অতপর আরও এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আপনি আমার জন্যও দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের দলভুক্ত করে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘উক্কাশাহ (এ ব্যাপারে) তোমার চেয়ে অগ্রগামী।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব কাজে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। আল্লাহর ওপর আস্থা ও ভরসা রাখার মাধ্যমে দুনিয়ায় রিজিক ও পরকালে বিনা হিসেবে জান্নাত পাওয়ার চেষ্টা করা।

কেননা আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করার গুরুত্ব যেমন অপরিসীম তেমনি মুমিন মুসলমানের জন্য তাঁর ওপর ভসরা করা অপরিহার্য কাজও বটে। তাই আল্লাহকে ভুলে গাফেল বা অজ্ঞদের তালিকায় নাম লেখানো থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের ঈমানের একান্ত দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শুধু তাঁর ওপরই ভরসা করার তাওফিক দান করুন। মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের বর্ণিত দুনিয়া ও পরকালের বিশেষ প্রতিদান পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

10
Islam / নিরাশ হওয়া কবিরা গুনাহ
« on: February 09, 2021, 09:40:12 AM »
পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রতিটি সুরার শুরুতে আমরা ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ পাঠ করি। যার অর্থ, দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সুরা ফাতিহার দ্বিতীয় নং আয়াতে আল্লাহ নিজে সব প্রশংসার উপযুক্ততা দাবি করে তার কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি ‘দয়াময় অতিশয় দয়ালু’ এই নাম আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। তাই তিনি ‘আর রহমান’ সুরা নাজিল করেছেন। আল্লাহর রহমত ব্যতীত পৃথিবীর কোনো মাখলুকাতের পক্ষে একটি সেকেন্ডও তার অস্তিত্ব বা পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বরং পৃথিবীর সব মুমিন, কাফের সবাই আল্লাহপাকের রহমতেই বেঁচে আছে। প্রকাশ্যে ও গোপনে তার নাফরমানিতে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তার নাফরমান বান্দাকে শাস্তি দেন না বা প্রতিশোধ গ্রহণ করেন না। কারণ তিনি তো রহমানে রাহিম, দয়াময় অতি দয়ালু। তিনি তার প্রিয় বান্দাকে শাস্তি না দিয়ে, ক্ষমা করতেই বেশি পছন্দ করেন। আল্লাহর রহমত, তার ক্রোধ ও গোস্সার চেয়েও অনেক বেশি। আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বলেন, বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের জীবনকে হেলায় নষ্ট করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন, তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা যুমার) আল্লাহ বলেন, কাফিররা ব্যতীত কেউ আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হয় না। (সুরা ইউসুফ)। আল্লাহ বলবেন, হে আমার বান্দা, তুমি কি শোননি? আমার অবাধ্য বান্দাকে আমি কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকি? সে বলবে হ্যাঁ আমার মনিব, শুনেছি। আল্লাহ বলবেন, আমার অনুগত বান্দার জন্য আমার কত পুরস্কার রয়েছে তা কি শোননি? সে বলবে হ্যাঁ, শুনেছি। আল্লাহ বলবেন হে আমার বান্দা, তুমি কি আমার নাফরমানি করেছ? সে বলবে, হ্যাঁ কখনো কখনো করেছি। আল্লাহ বলবেন আজ আমার সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? সে বলবে হে আমার প্রভু, দয়াময় রব। আমার ধারণা এই যে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বলবেন, হে আমার বান্দা, তুমি কি নিশ্চিত ছিলে যে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব? সে বলবে, হ্যাঁ, কেননা আপনি আমাকে গুনাহের কাজ করতে দেখেছেন, কিন্তু আপনি তা সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেন, হে আমার বান্দা! যাও, আমি তোমাকে আজকেও গোপন রেখে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার ধারণা সত্য প্রমাণিত করলাম। আমার প্রতি তোমার আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখলাম। নবীজি বললেন তোমরা কি মনে কর, এই মহিলা তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করতে পারে? সাহাবিগণ বললেন না, তখন রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এই মহিলা তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি তার চেয়েও কোটি গুণ বেশি মেহেরবান ও দয়ালু।

লেখক : খতিব, কাওলারবাজার জামে মসজিদ,

বিডি প্রতিদিন/

11
তুলসি পাতায় রয়েছে একাধিক ঔষধি গুণ এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা। ছোটোখাটো অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে এই তুলসি পাতা ব্যবহার করা হয়। আজ দেখে নেওয়া যাক এমনই ৫টি শারীরিক সমস্যায় প্রতিকার হিসেবে তুলসি পাতার ব্যবহার।

১) গলা ব্যথা: সামান্য গরম পানিতে তুলসি পাতা দিয়ে সেদ্ধ করে কুলকুচি করলে বা পান পারলে গলার ব্যথা দ্রুত সেরে যাবে।
২) সর্দি ও কাশি: সর্দি-কাশি প্রায় প্রত্যেকটি মৌসুমের খুব সাধারণ একটি সমস্যা যা সবাইকে কষ্ট দেয়। এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে গেলে তুলসি পাতা ৫ মিনিট ধরে চিবিয়ে রসটি গিলে নিন। তাহলে এই সমস্যার হাত থেকে সহজেই সমাধান পেয়ে যাবেন।

৩) ত্বকের সমস্যা: ত্বকে ব্রণর সমস্যা সমাধানের একটি সহজলভ্য ও অন্যতম উপাদান হল তুলসি পাতা। এ ছাড়াও নানা রকম অ্যালার্জির সমস্যায় তুলসিপাতা অত্যন্ত কার্যকর। তুলসি পাতার পেস্ট তৈরি করে তা ত্বকে লাগালে এই সমস্যাগুলি অনেকটাই কমে যায়।

৪) জ্বর: তুলসি পাতা সব থেকে বেশি যে অসুখের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে তা হল জ্বর। চায়ে তুলসি পাতা সেদ্ধ করে পান করলে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতি অসুখ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। আপনার পরিবারের কারো জ্বর হলে তাকে তুলসি পাতা এবং দারুচিনি মেশানো ঠাণ্ডা চা পান করান। জ্বর সেরে যাবে দ্রুত।

৫) কিডনির সমস্যা: তুলসি পাতা কিডনির বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। তুলসি পাতার রস প্রতিদিন একগ্লাস করে খেতে পারলে, কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। যদি কিডনিতে পাথর জমে যায়, সে ক্ষেত্রে তুলসিপাতার রস টানা ৬ মাস খেতে পারলে সেই স্টোন মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।


বিডি প্রতিদিন/

12
ক্লাস বন্ধ। সারাক্ষণ মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে চোখ রেখে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে। এটি মা-বাবার জন্য এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনে লেখাপড়া কতটুকু হয়, তা বিচার করার চেয়ে এখন তাদের এতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা ভেবে দেখা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক ক্লাস করার নাম নিয়ে সারা দিন তারা অনলাইন ঘাঁটছে, কোনো বাধানিষেধ কাজ করছে না।
 অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এবং বিভিন্ন পর্যালোচনা বলছে, এই শিশুশিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বজনদের বিচ্ছিন্নতাও বাড়ছে। সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় কমে যাচ্ছে। বাবা-মায়েরা দেখছেন, এদের অনেকেই কঠিন মানসিক ও শারীরিক অবসাদে ভুগছে। উদ্বিগ্ন থাকছে। এমনকি পড়াশোনায় একাগ্র মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে। অনেকের কাছে আবার অনলাইনে ক্লাস করাটা ভীতির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভীতিকর উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক তাদের মানসিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে, তারা হয়ে পড়ছে আতঙ্কগ্রস্ত।
 
বিজ্ঞাপন

অবস্থাদৃষ্টে এই ই-শিক্ষাব্যবস্থা বৈষম্যমূলক, কারণ এতে অধিকাংশের প্রবেশাধিকার নেই। একঘেয়ে ও অবসাদ সৃষ্টিকারী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অত্যধিক মানসিক ও শারীরিক চাপ আর অবসাদ সৃষ্টি করছে, যা শিশুশিক্ষার মূল প্রকৃতি, প্রেষণা ও উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে। এ শিক্ষা কি আমাদের প্রজন্মকে সহায়তা করছে নতুন কিছুকে জানতে? আগ্রহ, অনুপ্রেরণা ও চেতনা বৃদ্ধি করতে? শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ ও ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধার যথাযথ কর্মময় সম্পর্ক তৈরি করতে?

যদি অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হয়, তাহলে আমার বাকি কথাগুলো মূল্যহীন।
আর যদি তা না করে থাকে, তাহলে ই-শিক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখাটা কার জন্য? কার উপকারে? বিদ্যালয়গামী অল্পবয়স্কদের জন্য এ নিয়মে ই-শিক্ষা গ্রহণ যদি কার্যকর না হয়, বরং তা মানসিক ও শিখন-সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে, তবে তা চালু রেখে লাভ কার? আমি হয়তো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাপ্রসূত মতামত প্রদান করছি না। তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কি যথেষ্ট সময় হয়নি এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিস্থিতি জানার ও জানানোর? ই-শিক্ষা মা-বাবার জন্য কি দিচ্ছে? প্রথমত, প্রযুক্তি সুবিধাবঞ্চিত মা-বাবাকে দিচ্ছে না পাওয়ার ও সব হারানোর হতাশা?

দ্বিতীয়ত, মা-বাবা, যাঁরা সন্তানকে প্রযুক্তি সহায়তা দিতে পারেন, মূলত শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অধিক সময় দিয়ে সহযোগিতা ও প্রেষণা দানের চেষ্টা করছেন। যদিও চাকরিজীবী মা-বাবার জন্য যা একটি বেসামাল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যেহেতু ‘বাড়ি থেকে অফিস’ এ কারণে প্রায় অফিসেরই মিটিংয়ের সময়সীমা পর্যুদস্ত, রাতবিরেত বলে সময়সীমা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না, এতে করে তাঁদের অফিস ও পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য বিরাট বিপর্যয়ের মুখে। অনেকে এ কারণেও চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন (কোভিড-করণীয় অন্যান্য ছাঁটাই তো আছেই)। সর্বোপরি এই অকালবয়স্ক শিক্ষার্থীরা ঝুঁকে পড়ছে সাইবার সেক্সুয়াল অপরাধের দিকে, যাতে অনেকে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

বাবা-মায়েরা অবশ্যই সর্বতোভাবে চেষ্টা করছেন বিষয়টি সামলে নিতে। তবে সব মা-বাবা যদি সন্তানের বিদ্যালয়মুখী (প্রচলিত) শিক্ষা প্রদানে সক্ষমই হতেন, তাহলে তো জগতে রাষ্ট্রীয় শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনই হতো না। মা-বাবার দুশ্চিন্তা, মনো-সামাজিক বৈকল্য, অপারগতার যন্ত্রণা, নিজেকে অযোগ্য মনে করে প্রতিনিয়তই দুর্বিষহ যন্ত্রণায় থাকা, উন্নতমানের প্রযুক্তি সরবরাহের চাপ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।
না হয় বাদ দিলাম ঘরের অপর্যাপ্ত পরিসর, লোকসংখ্যা, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কের স্বাস্থ্য ও পছন্দ-অপছন্দের পরিচর্যা প্রভৃতি সুনসান নীরব ‘সবকিছু ঠিকঠাক’ এমন একটি পরিবেশ ঘরে পাওয়া, বিশেষ করে যেখানে বাড়িতে একের অধিক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও অন্যান্য সদস্যও রয়েছেন।

উল্লিখিত একেকটা বিষয়ই পরিবারে শারীরিক ও মানসিক অশান্তি বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সেখানে শুধু কল্পনা করুন দীর্ঘকালীন সবগুলোর জটিল সমন্বয় একটি পরিবারে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে!
বিজ্ঞাপন

তাহলে সমাধান কী? গৃহালয়কে বিদ্যানিকেতনে পরিণত করা। এই ই-শিক্ষা বন্ধ করে এ মুহূর্তে এক বছর (বা যত দিন লাগে) স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষালয়গামী শিশু ও তরুণেরা যদি ঘরে সংসারের সাধারণ কাজগুলো শেখে, তা তার জীবন রক্ষকারী দক্ষতা তৈরি করবে, সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যের অন্বেষণ ঘটাবে, বাড়ির ছোটবড় ও সেবা-সহকারীদের সঙ্গে মত ও কাজ বিনিময়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে, সর্বোপরি পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হবে, যা অবশ্যই পরিবার ও ব্যক্তিপর্যায়ে দৃঢ় মানসিক ও নৈতিক ভিত তৈরি করবে, যা আজকের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অচেনা বিষয় বলে পরিগণিত হচ্ছে।

শিক্ষাবর্ষ শেষে শিক্ষালয়ের দায়িত্ব হবে এই বাড়ি-নিমগ্ন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মূল্যায়ন করা। এই বছরের জন্য এটাই হোক পাঠ্যক্রম। এই পাঠ্যক্রম তৈরির জন্য বিশাল বাজেটের বিশেষজ্ঞ ভাড়া করতে হবে না, মোটামুটি একটি নির্দেশিকা দরকার, দক্ষতাগুলো কোন মান পাবে, তা নির্ণয়ের জন্য। দক্ষতাগুলোর উদাহরণ হতে পারে, কোনো কাজকে ছোট মনে না করা, কাজের মূল্যায়নে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, দলীয় আনন্দ ও সাফল্য নির্ধারণ করা, বিনয়, জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ভাঙার সৎসাহস, ধৈর্যধারণ, স্বল্পে তৃপ্তি, সীমিত সুযোগ পাওয়া শিশু ও অন্যদের প্রতি সমমর্মিতা প্রভৃতি।

এর সঙ্গে যোগ করতে হবে সব টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েকবার ১-২ ঘণ্টাব্যাপী পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে মনোসামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করে মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিকতা জোরদার করে তোলা।

বাংলাদেশের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় শিশু, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অন্যদের ওপর অপশক্তির প্রকাশ্য সহিংসতার যে তাণ্ডবলীলা চলছে, তা সমষ্টিগতভাবে বিচার, আইন, নারীশিক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একযোগে সবাই মিলে কর্মক্ষম সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা ও সহিংসতানিরোধক সুব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করলেও তা বিশেষ কার্যকর ও স্থায়ী হবে না, যদি আমরা এর প্রতিকারে ‘ঘরে ঘরে মূল্যবোধের পারিবারিক দুর্গ’ গড়ে তুলতে না পারি।

শীপা হাফিজা সমতা ও মানবাধিকার কর্মী এবং সমাজ বিশ্লেষক

    শিশুশিক্ষাঅনলাইন গণমাধ্যম

13
মুসলমানদের যে প্রাথমিক সাতটি বিষয় বিশ্বাস করতে হয়, তার অন্যতম হলো আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। কিতাব মানে বই বা গ্রন্থ। শত সহিফা ও চারটি কিতাবের মধ্যে কোরআন হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি গ্রন্থ।

কোরআন অধ্যয়ন বা গবেষণা ও তিলাওয়াত দুটি স্বতন্ত্র ইবাদত এবং একটি অন্যটির পরিপূরক বা সহায়ক। পূর্ণ কোরআন একবার পড়াকে ইসলামি পরিভাষায় ‘খতম’ বলা হয়। খোলাফায়ে রাশেদিন ও আশারায়ে মুবাশ্শারাসহ বিশিষ্ট সাহাবিরা প্রায়ই সাত দিবসে এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করতেন, যে কারণে কোরআন শরিফে সপ্ত মঞ্জিল হয়েছে। এক মাসে বা ৩০ দিনে পড়ার জন্য ‘পারা’ বা ‘সিপারা’ ভাগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

লিপি, ধ্বনি বা উচ্চারণ এবং অর্থ—এ তিনের সম্মিলিত নাম কোরআন। কোরআন পাকের হক (অধিকার বা কর্তব্য) চারটি: এক. এ বিষয়ে ইমান আনা বা বিশ্বাস করা যে কোরআন আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ নাজিলকৃত কিতাব, যা সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, এতে অনুসরণকারীদের জন্য হিদায়াত তথা দুনিয়ার শান্তি এবং পরকালের মুক্তির পথ নিহিত রয়েছে। দুই. শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা। তিন. সঠিকভাবে অর্থ বোঝা। চার. পরিপূর্ণরূপে আমল তথা বাস্তবায়ন করা।

‘কোরআন’ শব্দের অর্থ যা পাঠ করা হয়, যা পাঠযোগ্য ও বারবার পাঠের উপযুক্ত। কোরআন শব্দের আরেকটি অর্থ যা নিকটে পৌঁছে দেয় বা যা নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা যায় বলেই এরূপ নামকরণ হয়েছে। কোরআনে কারিমে অবতীর্ণ প্রথম সুরার প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দেই পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘পড়ো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা-৯৬ আলাক, আয়াত: ১)। কোরআন তিলাওয়াত করা মানে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করা। ‘দয়াময় আল্লাহ কোরআন শেখানোর নিমিত্তে মানব সৃষ্টি করলেন, তাকে ভাব প্রকাশ শেখালেন।’ (সুরা-৫৫ রহমান, আয়াত: ১-৪)।

কোরআন মাজিদের প্রতি ইমান বা বিশ্বাস আনা হিদায়াতের পূর্বশর্ত। কোরআন তিলাওয়াতে ও শ্রবণে ইমান বৃদ্ধি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তাদের প্রতি কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বাড়িয়ে দেয়।’ (সুরা-৮ আনফাল, আয়াত: ২)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোরআন কারিম তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত।’ (বুখারি)। ‘যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করল, তা অনুধাবন করল, এর হালালকে হালাল জানল এবং হারামকে হারাম জ্ঞান করল, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার স্বজনদের এমন ১০ জনকে শাফায়াত করে জান্নাতে নেওয়ার সুযোগ দেবেন, যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।’ (বায়হাকি)।

হাদিস শরিফে আছে, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যিনি কোরআন মাজিদ শিক্ষা করেন এবং শিক্ষা দেন। (বুখারি ও মুসলিম)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘কোরআনওয়ালাই আল্লাহওয়ালা এবং আল্লাহর বিশেষ আপন-স্বজন।’ (বুখারি)।

কোরআন কারিম তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন শারীরিক ও মানসিক রোগমুক্তির অন্যতম উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোরআন অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য দান করে।’ (সুরা-১০ ইউনুস, আয়াত: ৫৭)। ‘আমি আল–কোরআনে এমন আয়াতসমূহ নাজিল করেছি, যদ্বারা মুমিনদের রোগমুক্তি ও শান্তি লাভ হয়।’ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ৮২)। ‘আপনি বলুন, এটা ইমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও রোগমুক্তি প্রদান করে।’ (সুরা-৪১ হা–মিম সাজদাহ, আয়াত: ৪৪)।
বিজ্ঞাপন

কোরআন তিলাওয়াত, অধ্যয়ন ও অনুশীলন থেকে বঞ্চিতদের সম্পর্কে হাদিস শরিফে আছে, ‘যার অন্তরে কোরআন নেই, সে যেন পরিত্যক্ত বাড়ি।’ (তিরমিজি)। কোরআনকে যারা দূরে সরিয়ে রেখেছিল বা কোরআন থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, তাদের প্রসঙ্গে কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(বিচারের দিনে) রাসুল (সা.) বলবেন, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার জাতি এই কোরআনকে পরিত্যাগ করেছিল।’ (সুরা-২৫ ফুরকান, আয়াত: ৩০)।

কোরআনের রয়েছে মানব ইতিহাসের আদি উৎস, সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতির বিবর্তন ও সমাজ পরিবর্তনের ক্রমিক বিবরণ। স্বজনের প্রতি ভালোবাসা, প্রেম-প্রণয়, দাম্পত্য ও পারিবারিক উপাখ্যান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি ও দর্শন। মনস্তত্ত্ব, অপরাধবিজ্ঞান, মানবাধিকার, দায়িত্বজ্ঞান ও কর্তব্য পালনে সচেতন করাসহ জীবনের সব বিষয়।

যাঁরা কোরআন শুধু তিলাওয়াত করে যাচ্ছেন, তা বোঝার ও আমল করার চেষ্টা করছেন না, তাঁদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাদের তাওরাত কিতাব বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা তা প্রকৃতরূপে বহন করেনি। তাদের দৃষ্টান্ত ওই গর্দভতুল্য যে পুস্তকের বোঝা বহন করে।’ (কিন্তু তা অনুধাবন ও অনুসরণ করে না)। (সুরা-৬২ জুমআ, আয়াত: ৫)।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী: যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি;

14
নেক আমল পরকালীন জীবনের মূলধন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বড় মাধ্যম।
তাই আখিরাতে শান্তি ও সফলতা লাভে বান্দার কবুলযোগ্য আমলের বিকল্প নেই। কিন্তু জীবন চলার পথে নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় এমন কিছু বদ আমল সংঘটিত হয়, যা খাঁটি ও কবুল হওয়া আমলগুলো নষ্ট করে দেয়।
এখানে আমল বিনষ্টকারী সেই বদ আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
 
রিয়া বা লৌকিকতা
মানুষের নিয়তনির্ভর আমলের ওপর আখিরাতের প্রতিদান নির্ধারিত হয়। তাই আমল হতে হবে একনিষ্ঠভাবে। লৌকিকতাপূর্ণ আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর (ছোট শিরক)। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, শিরকে আসগর কী? তিনি বলেন, রিয়া (লোক-দেখানো আমল), আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাদের (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেওয়া হবে তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের তোমরা দুনিয়ায় দেখাতে, দেখো তাদের কাছে কোনো প্রতিদান পাও কি না। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৬৩৬)
 
গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া
আল্লাহ তাআলা যেসব কাজ হারাম করেছেন, তা থেকে বেঁচে থাকা একজন মুমিনের একান্ত কর্তব্য। পাহাড়সম আমল করার পর কেউ যদি একান্ত গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আমি আমার উম্মতের একদল সম্পর্কে অবশ্যই জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সমপ্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতো ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ,    হাদিস : ৪২৪৫)
 
জাদুকর ও গণকে বিশ্বাস করা
ভবিষ্যৎ বিষয় জানার জন্য জাদুকর বা গণকদের  বিশ্বাস করা এবং তাদের কাছে আসা-যাওয়া করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর দ্বারা বান্দার আমল বিনষ্ট হয়। নবীজি (সা.) এর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং তাকে কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করল, ৪০ রাত তার কোনো নামাজ কবুল হবে না।
(মুসলিম, হাদিস : ৫৭১৪)
 
শখ করে কুকুর পোষা
ঘরে বা অফিসে শখ করে  কুকুর পোষা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, এমনকি কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর মাধ্যমেও নিজেদের কৃত আমল নষ্ট হয়। সাহাবি ইবনে ওমর (রা,) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৮৭)
অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৪৬৫০)
 
আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা
আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা মারাত্মক গুনাহ। এই মিথ্যা শপথে বান্দার আমল বিনষ্ট হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি তার ওপর বর্ষিত হয়। জুনদাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ অমুক লোককে মাফ করবেন না। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ওই ব্যক্তি কে? যে শপথ খেয়ে বলে যে আমি অমুককে মাফ করব না? আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার শপথ নষ্ট করে দিলাম। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭৫)
 
বিদআতের প্রচার-প্রসার করা
ইসলাম ধর্মে নতুন কিছু প্রবর্তন করা নিষিদ্ধ। যে ব্যক্তি তা করবে, এর দায় তাকেই বহন করতে হবে। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বিনে (ইসলাম ধর্মে) কোনো নতুন কিছু সৃষ্টি করে, যা (যার ভিত্তি) তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭)
উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে কোনো আমল ও ইবাদত দুটি শর্ত ছাড়া কবুল হয় না—
এক. ইখলাস তথা নিয়তের বিশুদ্ধতা। যেমন—হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। ’ (বুখারি, হাদিস : ১) দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যপূর্ণ অনুসরণ। সুতরাং আল্লাহর কাছে নিজেদের আমল গ্রহণযোগ্য করতে বিদআতি কর্মকাণ্ড থেকে বেঁচে থাকার বিকল্প নেই।
 
মুরতাদ বা ঈমান ত্যাগকারী হওয়া
আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আনার পর তাঁকে অস্বীকার করা এবং কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখাকে মুরতাদ বা ঈমান ত্যাগকারী বলা হয়। শরিয়তে ঈমান ত্যাগকারীর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অনেক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। পার্থিব শাস্তির একটি দিক হলো যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বিন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোজখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। ’ (সুরা :  বাকারা, আয়াত : ২১৭)
মহান আল্লাহ আমাদের আমল বিনষ্টকারী এই সব কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

15
চোখের সমস্যা কম-বেশি সবারই হতে পারে। কিন্তু অনেকে বুঝতে পারেন না যে, তার চোখে সমস্যা হয়েছে। তিনি জানেন না, কখন চোখের ডাক্তার দেখাবেন। এ ক্ষেত্রে নিজের চোখের অবস্থা ও লক্ষণ দেখে বুঝে নিতে হবে। চোখের কিছু লক্ষণে আপনাকে সাবধান হতে হবে। যেতে হবে  চিকিৎসকের কাছে।

লক্ষণগুলো কী?
১. ঝাপসা দেখা: চোখে ঝাপসা দেখা বা চোখের সামনে অন্ধকার দেখা ক্যানসার, টিউমার বা স্ট্রোকেরও ইঙ্গিত দেয়। এ সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ডাবল ভিশন: ডাবল ভিশন বা দুটো করে সবকিছু দেখার সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মূলত চোখের ভেতরে পেশির সমস্যা হলে ডাবল ভিশন হয়। এ ছাড়া স্নায়ু রোগেও এই সমস্যা দেখা যায়। এ ছাড়া স্ট্রোক বা ব্রেন টিউমার হলেও এই সমস্যা হয়।

৩. হঠাৎ চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া: অনেক সময়ে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। চোখের সামনে আলো ফেললে কিছু দেখা যায় না, তেমন অনেকেরই সাধারণ আলোতেই হঠাৎ চোখ ধাঁধিয়ে যায়। ক্ষণিকের অস্বস্তি হলেও এই সমস্যাকে কেউ খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি এই সমস্যা দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিন।

৪. চোখ জ্বালা করা বা চোখ চুলকানো: হঠাৎ চোখ জ্বালা করা বা চোখ চুলকানোর সমস্যায় ভুগলেও এড়িয়ে যাবেন না। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই সমস্যা হয়ে থাকে। প্রায়ই এই সমস্যা হতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।

৫. চোখ যদি লাল হয়ে যায়: হঠাৎ চোখ যদি লাল হয়ে যায়, তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। কোনও ইনফেকশন হলেও চোখ লাল হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরে অন্যান্য কয়েকটি রোগের উপসর্গ চোখ লাল হয়ে যাওয়া।


Pages: [1] 2 3 ... 23