Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 [2] 3 4 ... 23
16
ক্ষণে ক্ষণে লেগেই আছে মাথাব্যথা? দৃষ্টিশক্তি কমছে? আপনি ইডিয়োপ্যাথিক ইনট্রাক্রানিয়াল হাইপারটেনশনে ভুগছেন নাতো? যদি ওজন বাড়তে থাকে বা মেদ বৃদ্ধি পায়, তাহলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দেখা গেছে , অতিরিক্ত রক্তচাপ থাকে যাদের তাদের। ইডিওপ্যাথিক ইন্ট্রাক্রায়ানিয়াল হাইপারটেনশন অপটিক নার্ভকে  চাপ দিতে থাকে। ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। পাশাপাশি ডার্ক স্পট চোখে পড়ে।   
 
স্ট্রেস, কম ঘুম ও ডিহাইড্রেশনের ফলেও এই মাথা ব্যথা বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে ওজন কমানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এর থেকে মুক্তি পেতে ফল, কম ফ্যাট যুক্ত ডেয়ারি প্রোডাক্ট, ওটস, খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া একদম বারণ থাকে।
ইডিওপ্যাথিক ইন্ট্রাক্রায়ানিয়াল হাইপারটেনশন- এই ধরণের মাথাব্যথা ওজন বাড়লেই সম্ভবনা প্রবল।  গত ১৫ বছরে এর প্রবণতার হার অনেকটা বেড়েছে। এই মাথাব্যথা অনেকটা মাইগ্রেন পেইন এর মতো। এতে দৃষ্টিশক্তিও কমে আসে।


বিডি-প্রতিদিন/

17
নিজেকে নিরাপদ তথা করোনা বিস্তার প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নাই। কিন্তু টিকার টুকিটাকি জেনে রাখা ভালো। আশীর্বাদ হিসেবে এই টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। ফাইজার, অক্সফোর্ড, মডার্না সবগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই রকম বলা যায়। তবে সাধারণত একশ জনে একজন অল্পমাত্রা এবং এক হাজার জনে একজন অধিক মাত্রার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারেন। টিকা নেবার পরে টিকা নেওয়ার স্থান লাল হওয়া, সামান্য ফুলে যাওয়া, স্বল্পমাত্রার ব্যথা অনুভব করা, জ্বর ওঠা, মাথাব্যথা, ক্লান্ত বোধ করা, মাংসপেশীতে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

সাধারনত এই উপসর্গগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেরে যায়। তবে যে কেউ এই টিকা নিতে পারবেন। কিন্তু যাদের পূর্বে কোন টিকায় অথবা কোভিড-১৯ টিকায় অ্যালার্জি দেখা দিয়েছিলো এমন ক্ষেত্রে (টিকার একটি উপাদান পলিথিলিন গ্লাইকলে কারও কারো এলার্জি থাকতে পারে),  গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা বুকের দুধ খাওয়ান, ক্যান্সার এর জন্য কেমোথেরাপি/রেডিয়েশন নিয়েছেন এমন ব্যাক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি যারা উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড নিচ্ছেন, তীব্র অ্যালার্জি, অ্যাজমা, হাঁপানি থাকলে, রক্তপাত হয় সহজেই এমন অসুখ থাকলে, রক্তজমাট না বাঁধার জন্য যেসব রোগী ওষুধ সেবন করছেন, অন্য কোন গুরুতর অসুস্থতা থাকলে, তারা এই টিকা নেওয়ার উপযুক্ত নন।
যেকোন টিকা আমাদের নিজেদের ও বাচ্চাদের জন্য অবশ্যই নিতে হবে কেননা এ ছাড়া নিজেকে নিরাপদ করা ও মহামারির হাত থেকে বাঁচার অন্য কোন উপায় নাই। কিন্তু কোনো টিকাই শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, টিকা দেওয়ার পর, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শরীরে কতদিন স্থায়ী হবে তাও নিশ্চিত নয় এখনো।

তাই টিকা দেওয়ার পরেও মাস্ক পরিধান করা, দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা, বার বার হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। কেননা যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন বা টিকা নিয়েছেন তাদের করোনা না হলেও বাহক হিসাবে তাদের মাধ্যমেও নিরবে করোনা ছড়াতে পারে।আরও মনে রাখতে হবে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ১০/১২ দিন পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে শুরু হলেও তা সম্পূর্ন কার্যকরী হতে অন্তত ৫/৬ সপ্তাহ সময় লাগে।
মাস্ক, দৈহিক দূরত্ব এবং টিকার সমন্বয়েই আমরা মহামারি দূর করার কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে পারি, শুধু টিকাই যথেষ্ট নয়।

অতএব টিকা নিন; সতর্ক থাকুন; নিজে বাঁচুন-অন্যকে বাঁচান।

18
দাঁতের ক্ষয় নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তার অন্ত নেই! আর এজন্য দাঁত ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং মুখকে পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, খাদ্য তালিকায় মিনারেল, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি-এর অভাব ইত্যাদি কারণে দাঁত ক্ষয়ের সমস্যা হয়।

তবে কিছু বিষয় মেনে চললে দাঁতের ক্ষয় রোধ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই সুস্থ থাকতে দাঁতের যত্ন নেয়া খুবই জরুরি। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক দাঁতের ক্ষয় রোধের উপায়-
পুষ্টিকর খাবার খান

ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খান। এসব খাবারে থাকা ফ্যাট সলিউবল প্রকৃতি দাঁতের ক্ষয় রোধে কাজ করে। শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি নারকেল তেল, অ্যাভোকেডো, বাদাম ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর চর্বি খাদ্য তালিকায় রাখুন।

টুথপেস্ট

রাসায়নিক উপাদান কম থাকে এমন টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

দাঁত পরিষ্কার রাখুন

রাতে খাওয়ার পর এবং সকালে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করুন। এক্ষেত্রে নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করাই ভালো। দাঁত ব্রাশ করার সময় জিহ্বা পরিষ্কার করুন।

বিডি প্রতিদিন/

19
করোনাভাইরাসের এ মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে মসজিদে যাওয়া সময়ের দাবি। জুমা বিশ্বের মুসলমানদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। জুমার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।’ এ আয়াতের মাধ্যমে জুমার নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। জুমার নামাজের তাগিদ শুধু কোরআনেই নয়, হাদিসেও এসেছে। হজরত তারিক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তি- এ চার প্রকার মানুষ ছাড়া সব মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য।’ আবু দাউদ, মুসতাদরিকে হাকেম। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয় তবে তার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দফতরে লিপিবদ্ধ হবে যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তনও করা যাবে না।’ তাফসিরে মাজহারি। জুমার দিন মুসলমানের সাপ্তাহিক ঈদের দিন এবং এটি দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইবনে মাজায় বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ আর মুসলিমের হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। সে দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সে দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সে দিনেই জান্নাত থেকে তাঁকে বের করা হয়েছে। যেদিন কিয়ামত হবে সেদিনও হবে জুমার দিন।’ সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যায়। তারা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকে। এরপর যখন ইমাম এসে যায় তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকে। যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়।’ বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে শাফি।

লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ
মিরপুর, ঢাকা।

20
মানুষ সৃষ্টির সেরা। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ও উপকারী তা মহান আল্লাহ তাঁর পেয়ারা হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা জানিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে যা কিছু ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোটা পৃথিবীর রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর আমি আপনাকে পৃথিবীর রহমতরূপে পাঠিয়েছি।’ যখন তিনি এ পৃথিবীতে আসেন তখন পৃথিবীর সর্বত্র ছিল জুলুম -নির্যাতনের বাড়াবাড়ি, বিদ্বেষ-হানাহানি, কুপ্রথা ও অশ্লীলতায় ভরপুর। মানুষ আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে কল্পিত দেবতাদের মূর্তিপূজায় নিজেদের নিমগ্ন রেখেছিল। আর সর্বত্র অবাধে চলত মদ্যপান ও অশ্লীল বেহায়াপনা। এহেন কঠিন মুহূর্তে ইসলাম এসেছে বিশ্বমানবতার দ্বারে শান্তির বার্তা নিয়ে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন-বিধান হিসেবে। এতে রয়েছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক পথের সঠিক দিশা।

আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ আহার কর, যা আমি তোমাদের জীবিকা হিসেবে দান করেছি এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা তারই বন্দেগি করে থাকো।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৭২। উপরোক্ত আয়াতে মুমিনদের হালাল বস্তু পান ও  আহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রকারান্তরে যা কিছু হারাম তা পরিহারের ইশারা দেওয়া হয়েছে।
যেসব পানীয় এবং দ্রব্য সুস্থ ও স্বচ্ছ বিবেক অবলুপ্ত করে তা-ই মাদক এবং এটি হারাম। মাদক শব্দটি এসেছে মদ থেকে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সব নেশাকারী বস্তুই মদ বা মাদক আর সব নেশাকারী বস্তুই হারাম। মাদকদ্রব্য প্রাকৃতিক হোক যেমন মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ ইত্যাদি আর রাসায়নিক হোক যেমন ইয়াবা, হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি- পরিমাণে কম হোক আর বেশি হোক পান বা আহার বা অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করা হারাম। ইসলামী চিন্তাবিদদের সর্বসম্মত অভিমত, ইসলামে মদ্যপান সম্পূর্ণ হারাম। আল কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিন! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার দেবী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০-৯১।
লক্ষণীয়, কোরআনে মূর্তিপূজা, জুয়া ও ভাগ্যনির্ণায়ক শরের মতো মাদককে অভিন্ন কাতারে ফেলা হয়েছে এবং এ থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মদপান কোর না, কেননা মদ সব অনিষ্টের চাবিকাঠি।’ ইবনে মাজাহ। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি ইমানদার অবস্থায় মদপান করে না।’ মুসনাদে আহমাদ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর মূর্তিপূজারির মতো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ তিবরানি। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে না।’ ইবনে হিব্বান।

কোরআন ও হাদিসের নিরিখে মাদক গ্রহণকারীদের ইহকাল শুধু নয় পরকালেও কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। মাদকের অপকারিতা অসংখ্য- যেমন এটা আল্লাহর ইবাদতে ও নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, চিন্তা ও বিবেককে বিকৃত করে এবং পরস্পরের মাঝে হিংসা ও শত্রুতার জন্ম দেয়। এ ছাড়া আখিরাতের কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি তো রয়েছেই। মাদকের সঙ্গে বহু ধরনের গুরুতর অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। মাদক সেবনকারী জিনা ও অশ্লীল কাজে এবং কঠিন গুনাহর মধ্যে রত থাকে।

হজরত আনাস (রা.) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘রসুলুল্লাহ মদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন ১০ শ্রেণির ব্যক্তিকে লানত করেছেন। ১. যে লোক নির্যাস বের করে। ২. প্রস্তুতকারক। ৩. পানকারী। ৪. যে পান করায়। ৫. আমদানিকারক। ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়। ৭. বিক্রেতা। ৮. ক্রেতা। ৯. সরবরাহকারী ও ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।’ তিরমিজি।

মদ শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলামী শরিয়তে তাই মাদক নিষিদ্ধ। আল কোরআনে হারাম ঘোষণার পর মদ বাজারের রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয় এবং পানপাত্র ভেঙে চুরমার করা হয়। মাদকাসক্তি মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। মাদকদ্রব্য গ্রহণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, হৃৎস্পন্দন ও নাড়ির গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। মাদকে হজমশক্তি হ্রাস পায়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়। ফলে মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধে। মাদক সেবন বক্ষব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার ব্যয় সংকুলানে অপরাধে লিপ্ত হয়। এ জন্য রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল।’

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্তি যেমন একটি চরম অপরাধ তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি জঘন্য পাপাচার। তাই সমাজে এমন ঘৃণ্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা খুবই দরকার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদক থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


21
নেক আমল পরকালীন জীবনের মূলধন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বড় মাধ্যম। তাই আখিরাতে শান্তি ও সফলতা লাভে বান্দার কবুলযোগ্য আমলের বিকল্প নেই। কিন্তু জীবন চলার পথে নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় এমন কিছু বদ আমল সংঘটিত হয়, যা খাঁটি ও কবুল হওয়া আমলগুলো নষ্ট করে দেয়।

এখানে আমল বিনষ্টকারী সেই বদ আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
রিয়া বা লৌকিকতা

মানুষের নিয়তনির্ভর আমলের ওপর আখিরাতের প্রতিদান নির্ধারিত হয়। তাই আমল হতে হবে একনিষ্ঠভাবে। লৌকিকতাপূর্ণ আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর (ছোট শিরক)। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, শিরকে আসগর কী? তিনি বলেন, রিয়া (লোক-দেখানো আমল), আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাদের (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেওয়া হবে তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের তোমরা দুনিয়ায় দেখাতে, দেখো তাদের কাছে কোনো প্রতিদান পাও কি না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৬৩৬)

গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া

আল্লাহ তাআলা যেসব কাজ হারাম করেছেন, তা থেকে বেঁচে থাকা একজন মুমিনের একান্ত কর্তব্য। পাহাড়সম আমল করার পর কেউ যদি একান্ত গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আমি আমার উম্মতের একদল সম্পর্কে অবশ্যই জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সমপ্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতো ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৫)

জাদুকর ও গণকে বিশ্বাস করা

ভবিষ্যৎ বিষয় জানার জন্য জাদুকর বা গণকদের  বিশ্বাস করা এবং তাদের কাছে আসা-যাওয়া করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর দ্বারা বান্দার আমল বিনষ্ট হয়। নবীজি (সা.) এর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং তাকে কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করল, ৪০ রাত তার কোনো নামাজ কবুল হবে না।

(মুসলিম, হাদিস : ৫৭১৪)

শখ করে কুকুর পোষা

ঘরে বা অফিসে শখ করে  কুকুর পোষা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, এমনকি কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর মাধ্যমেও নিজেদের কৃত আমল নষ্ট হয়। সাহাবি ইবনে ওমর (রা,) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৮৭)

অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৪৬৫০)

আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা

আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা মারাত্মক গুনাহ। এই মিথ্যা শপথে বান্দার আমল বিনষ্ট হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি তার ওপর বর্ষিত হয়। জুনদাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ অমুক লোককে মাফ করবেন না। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ওই ব্যক্তি কে? যে শপথ খেয়ে বলে যে আমি অমুককে মাফ করব না? আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার শপথ নষ্ট করে দিলাম। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭৫)

বিদআতের প্রচার-প্রসার করা

ইসলাম ধর্মে নতুন কিছু প্রবর্তন করা নিষিদ্ধ। যে ব্যক্তি তা করবে, এর দায় তাকেই বহন করতে হবে। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বিনে (ইসলাম ধর্মে) কোনো নতুন কিছু সৃষ্টি করে, যা (যার ভিত্তি) তার মধ্যে নেই তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭)

উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে কোনো আমল ও ইবাদত দুটি শর্ত ছাড়া কবুল হয় না—

এক. ইখলাস তথা নিয়তের বিশুদ্ধতা। যেমন—হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের ওপর।’ (বুখারি, হাদিস : ১)

দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যপূর্ণ অনুসরণ। সুতরাং আল্লাহর কাছে নিজেদের আমল গ্রহণযোগ্য করতে বিদআতি কর্মকাণ্ড থেকে বেঁচে থাকার বিকল্প নেই।

মুরতাদ বা ঈমান ত্যাগকারী হওয়া

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আনার পর তাঁকে অস্বীকার করা এবং কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখাকে মুরতাদ বা ঈমান ত্যাগকারী বলা হয়। শরিয়তে ঈমান ত্যাগকারীর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অনেক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। পার্থিব শাস্তির একটি দিক হলো যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাওয়া। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বিন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোজখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।’ (সুরা :  বাকারা, আয়াত : ২১৭)

মহান আল্লাহ আমাদের আমল বিনষ্টকারী এই সব কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।

বিডি-প্রতিদিন/

 

22
আল্লাহ মানুষকে উঁচু-নীচু করে সৃষ্টি করেছে। সচ্ছলতা ও দরিদ্র্যতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। যাতে একে অপরের সহযোগী ও পরিপূরক হয়। ধৈর্য, সহানুভূতি ও মানবতার চর্চা হয়। এসবই স্রষ্টার সৃষ্টি রহস্যের নিদর্শন। ইসলামে পরোপকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটা ইমানের দাবি এবং আল্লাহর অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ। উপকার করা যায় অর্থ, শক্তি, বুদ্ধি ও বিদ্যা দিয়ে। যে খোদাপ্রদত্ত যোগ্যতা মানব সেবায় নিয়োজিত করে, তার যোগ্যতা সার্থক হয়। সে দুনিয়া ও আখেরাত সাফল্যমন্ডিত হয়। পরোপকার যে পন্থায়ই হোক, আল্লাহর কাছে কবুল এবং মর্যাদাপূর্ণ। পার্থিব যে কোনো উদ্দেশ্য ও স্বার্থহীনভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে যাওয়া। অর্থাৎ উপকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বদলা পাওয়া, কিংবা সুনাম-সুখ্যাতি লাভ করা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন বা অন্য কোনো রকম সুবিধা ভোগ করা। অথবা দান করে খোটা দিয়ে দমিয়ে রাখা। আল্লাহ বলেন, আমরা তো তোমাদের খাওয়াই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না (সুরা দাহার : ৯)। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মমিনের দুনিয়াবি সংকটসমূহের একটি বিমোচন করে, দয়াময় আল্লাহ তাঁর আখেরাতের সংকটসমূহ মোচন করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ আখেরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকেন। (মুসলিম শরিফ-২৬৯৯) তবে তা তখনই, যখন লক্ষ্যবস্তু শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ বলেন, যারা নিজ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে খোটা দেয় না, কষ্ট দেয় না, তারা নিজ প্রতিপালকের কাছে প্রতিদান পাবে। সুতরাং দান করা অনেক বড় নেকির কাজ কিন্তু দানের কথা মানুষের কাছে প্রকাশ করে জাহির করা কবিরা গুনাহ। সুতরাং উপকৃত ব্যক্তির থেকে সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়ে তাকে অপমান করা, অকৃতজ্ঞ ও অবাঞ্ছিত বলে গালিগালাজ করাও কবিরা গুনাহ। যে ব্যক্তি কারও কাছ থেকে উপকার নেয় সে এমনিতেই মানসিকভাবে দুর্বল থাকে, তার ওপর যদি খোটা দেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত অপমান ও কষ্টের কারণ হয় এবং অন্তরে রীতিমতো রক্তক্ষরণ ঘটায়। নবীজি বলেন, তিন ব্যক্তির সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হজরত আবু যর বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিন তিনবার বলেছেন। আমি বললাম ইয়া রসুলাল্লাহ! তারা কারা? তারা তো সর্বস্বান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। তিনি বললেন ১. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে, ২. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোটা দেয়, ৩. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করে।

দান করে খোটা দেওয়া কত বড় যে অপরাধ, তা উপরোক্ত হাদিস দ্বারা অনুমান করা যায়। আল্লাহ আমাদের এ গর্হিত গুনাহের কাজ থেকে হেফাজত করুন।

লেখক : গবেষক, ইমাম ও খতিব : কাওলারবাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা।


23
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পবিত্র কোরআনের একটি বরকতময় বাক্য। আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম সংবলিত এই বাক্যটি সুরা তাওবা ছাড়া কোরআনের সব সুরার শুরুতে আছে। তা ছাড়া এটি কোরআনের স্বতন্ত্র আয়াত। প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে এ বাক্যটি উচ্চারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এমন ফজিলতপূর্ণ আয়াত, যা পাঠ করার মাধ্যমে ওই কাজে বরকত ও পূর্ণতা আসে।

হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া হয়নি তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৪/৩২৯)
তাই কল্যাণ ও পূর্ণতার জন্য মুমিনের প্রতিটি ভালো কাজের প্রারম্ভিক আমল এই বিসমিল্লাহ হওয়া উচিত। মূলত এই আমলের মাধ্যমে মুমিন বান্দা তার কাজের ব্যাপারে আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

‘বিসমিল্লাহ’র প্রভাব : বিসমিল্লাহ একটি শক্তিশালী আমল। এর মাধ্যমে শয়তানের কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। অকল্যাণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আবু মুলাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি একজন সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার নবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর আরোহীর পেছনে বসা ছিলাম। এমন সময় আরোহী পা ফসকে পড়ে গেল। তখন আমি বললাম, শয়তান ধ্বংস হোক। নবী (সা.) বলেন, ‘শয়তান ধ্বংস হোক এরূপ বোলো না, কেননা এতে সে নিজেকে খুব বড় মনে করে এবং বলে আমার নিজ শক্তি দ্বারা এ কাজ করেছি; বরং এরূপ মুহূর্তে বলবে ‘বিসমিল্লাহ’। এতে সে অতি ক্ষুদ্র হয়ে যায় এমনকি মাছিসদৃশ হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৯৭৮২)

খাওয়াদাওয়াসহ যেকোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া হলে সেই কাজে শয়তানের অংশীদারি থাকে না। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে খাবারে বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে। সেই খাবার মানুষের সঙ্গে শয়তানও ভক্ষণ করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৩৭৬)

অন্য একটি হাদিসে এসেছে ‘শয়তান সেই খাদ্যকে নিজের জন্য হালাল করে নেয়, যে খাদ্যের ওপর বিসমিল্লাহ বলা হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০১৭)

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম ওহি নাজিলের সময়ও এ উত্তম বাক্য পড়ানো হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘জিবরাঈল (আ.) সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তা হচ্ছে জিবরাঈল (আ.) বলেন, হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় চান। মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। অতঃপর জিবরাঈল (আ.) বলেন, হে নবী! আপনি বলুন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।’ (তাফসির ইবনে কাসির : পৃষ্ঠা ২৬৩)

‘বিসমিল্লাহ’র মর্যাদা রক্ষা : দাওয়াতনামা, পোস্টার ও ব্যানার যা নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রয়োজন হয় না, আবার প্রয়োজন শেষে পথে-ঘাটে ও নর্দমায় পড়ে থাকে, কিন্তু বর্তমানে বরকত লাভের আশায় সেগুলোতেই আমরা বিসমিল্লাহ লিখে এর অমর্যাদা করছি। মনে রাখতে হবে, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কোরআনের একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। কোরআনের অন্য আয়াতের মতো এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। তাই এসব ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আরবি বাংলা কোনোভাবেই লেখা উচিত নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩২৩)

চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা সুন্নত। কিন্তু অনেকেই বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ৭৮৬ লিখে থাকে। এটা জায়েজ নয়। এতে বিসমিল্লাহর বরকত ও ফজিলত কিছুই পাওয়া যাবে না। এ রীতি পরিহার করা উচিত। কারো কারো ‘বিসমিহি তাআলা’ লেখার অভ্যাস আছে। এতে আল্লাহর নাম স্মরণ করার সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখার  স্বতন্ত্র সুন্নত আদায় হবে না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৮/২৪, ফাতাওয়া উছমানি ১/১৬৩)। মোটকথা লিফলেট, পোস্টার বা কোনো ধরনের কাগজের টুকরো, যেগুলো সাধারণত সংরক্ষণ করা হয় না সেসব কাগজে ‘বিসমিল্লাহ’ না লিখে বরং তা আরম্ভ করার সময় শুধু মুখে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করে নিলে এর ফজিলত ও বরকত পাওয়া যাবে। (শরহু মুসলিম নববি : ২/৯৮)

বরকতময় আয়াত ‘বিসমিল্লাহ’র মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার তাওফিক দান করুন।

 

বিডি প্রতিদিন/

24
নেককার ঈমানদার স্ত্রী সব সময় স্বামীর অনুগত ও উপকারি হয়। তারা দুনিয়ায় জীবনে স্বামীর জন্য যেমন উপকারি তেমনি পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্যও হয় সহায়তাকারী। এ কারণেই কেমন নারীকে বিয়ে করতে হবে সে উপদেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি।

শুধু উত্তম স্ত্রী নির্বাচনের কথাই নয় বরং স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের কথাও বলে বলেছেন তিনি। তাদের অধিকারের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন। স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের ব্যাপারে স্বামীদের লক্ষ্য করে বলেন-
‘আর তোমরা (স্বামীরা) তোমাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তম জীবনযাপন কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৯)

বিদায় হজের ভাষণে সবাইকে লক্ষ্য করে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
‘সমবেত জনতা! শোন! নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ কর। কেননা তারা তোমাদের (জীবনে/সংসারে) কাছে কয়েদির মতো আবদ্ধ। তাদের পক্ষ থেকে কোনো অবাধ্যতা প্রকাশ পাওয়া ছাড়া তাদের সঙ্গে তোমাদের নির্মম আচরণ করার কোনো অধিকার নেই।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ায় ধন-সম্পদ সঞ্চয় না করে পরকালের সহায়তাকারী মুমিন নারীকে বিয়ে করার উপদেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, সোনা-রূপা (মূল্যবান সম্পদ) পুঞ্জীভূত করে রাখার সমালোচনায় কুরআনের আয়াত নাজিল হলে সাহাবায়ে কেরাম বলেন, তাহলে আমরা কোনো সম্পদ ধরে রাখবো?
(তখন) হজরত ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি তা জেনে তোমাদের বলে দেব। অতপর তিনি তাঁর উটকে দ্রুত হাঁকিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাক্ষাত পেয়ে গেলেন। আমিও তার পেছনে পেছনে গেলাম। তিনি বলেন-
‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি কোনো সম্পদ সঞ্চয় করব?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই যেন অর্জন করে কৃতজ্ঞ অন্তর, জিকিরকারী জিহবা আর তোমাদের প্রত্যেকের জন্য পরকালের কাজে সহায়তাকারী মুমিনা স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত।’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, তালিকুর রাগিব)

এ হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ঈমানদার নারীকে গ্রহণ করতে বলেছেন, যিনি তার স্বামীর জন্য পরকালের সহায়তাকারী হবেন।

মুমিনা নারীকে বিয়ের পর আল্লাহর কাছে দুনিয়ার দাম্পত্য জীবন ও পরকালের সফলতা কামনায় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য আল্লাহর কাছে এভাবে সাহায্য প্রার্থনা করবেন-
اَللّهُمَّ بَارِكْ لِىْ فِىْ أَهْلِىْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِىَّ، اَللّهُمَّ اجْمَعْ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ بِخَيْرٍ و فَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লি ফি আহলি, ওয়া বারিক লাহুম ফিইয়্যা; আল্লাহুম্মাঝ্‌মা’ বাইনানা মা জামা‘তা বিখাইরিন ওয়া ফাররিক্ব বাইনানা ইজা ফাররাক্বতা ইলা খাইরিন। (আদাবুয যিফাফ, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দান কর এবং তাদের স্বার্থে আমার মাঝে বরকত দাও। হে আল্লাহ! তুমি যা ভাল একত্রিত করেছ তা আমাদের মাঝে একত্রিত কর। আর যখন কল্যাণের দিকে বিচ্ছেদ কর তখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ কর’।

উল্লেখ্য, স্বামী-উভয়ে একসঙ্গে থাকাকালে স্বামী দোয়া করবেন আর স্ত্রী আমিন বলবেন। পরস্পরের জন্য এ দোয়া করা মোস্তাহাব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে পরকালের কাজে সহায়তাকারী নারীদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

25
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনিই একমাত্র ‘পরিপূর্ণ মানব’ ছিলেন।

তিনি নিজে যেমন আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা রাখতেন ঠিক তার উম্মতকেও তিনি এ শিক্ষাই দিয়েছেন তারাও যেন সর্বাবস্থায় কেবলমাত্র সৃষ্টিকর্তার ওপরই ভরসা রাখে।

তাই আমরা যদি মহানবীর (সা.) পরিপূর্ণ অনুসরণ করি, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা রাখি এবং আল্লাহর সত্তায় ঈমান ও বিশ্বাস স্থাপন করি তাহলে তিনি আমাদেরকে কখনও বিনষ্ট করবেন না। আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখলে তিনি আমাদেরকে স্বীয় নিরাপত্তাবেষ্টনীতে স্থান দিবেন।

আল্লাহর প্রতি মহানবীর (সা.) আস্থা কতই না অসাধারণ ছিল। মহানবী (সা.) তায়েফ সফর থেকে ফেরার পথে যখন নাখলা নামক স্থানে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন সেই ঘটনা আমরা স্মরণ করতে পারি।

হজরত যায়েদ বিন হারেস (রা.) মহানবী (সা.)-এর সমীপে নিবেদন করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এখন মক্কায় কীভাবে প্রবেশ করবেন কেননা তারা তো আপনাকে বের করে দিয়েছে?

দেখুন! মহানবী (সা.) কত অসাধারণ মহিমা ও আস্থার সাথে উত্তর দেন, তিনি (সা.) বলেন হে যায়েদ! দেখবে আল্লাহ ঠিকই কোন না কোন পথ উন্মুক্ত করে দিবেন আর আল্লাহ নিজ ধর্মের সাহায্যকারী। তিনি তার নবীকে অবশ্যই বিজয় দান করবেন।

অতঃপর তিনি (সা.) কুরাইশ নেতাদের কাছে বার্তা প্রেরণ করেন যেন তারা তাদের আশ্রয়ে তার (সা.) মক্কায় প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেয়।

কয়েকজন নেতা অস্বীকৃতি জানালেও অবশেষে মক্কার একজন সম্ভ্রান্ত নেতা মুতঈম বিন আদী স্বীয় আশ্রয়ে মহানবী (সা.)-কে মক্কায় প্রবেশ করানোর ঘোষণা দেন।

অত্যাচারীদের নিপীড়ন-নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে মক্কা থেকে হিজরতের সময় যখন আসে আর তখন তিনি (সা.) পরম গাম্ভীর্যের সাথে মক্কা থেকে হিজরত করেন।

গুহায় আশ্রিত অবস্থায় শত্রুরা যখন মাথার ওপর এসে পৌঁছে তখনও আল্লাহতায়ালার প্রতি কীরূপ অসাধারণ আস্থা!

তার প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে তিনি (সা.) বলেছিলেন, হজরত আবু বকর (রা.) এ সম্পর্কে বর্ণনা করেন, আমি মহানবী (সা.)-এর সাথে গুহায় ছিলাম। আমি মাথা উঁচিয়ে তাকালে হঠাৎ পশ্চাদ্ধাবনকারীদের পা দেখতে পাই।

তখন আমি মহানবী (সা.)-এর সমীপে নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! কেউ যদি একটু ঝুঁকে তাকায় তবে আমাদের দেখে ফেলবে।

তিনি (সা.) বললেন, হে আবু বকর! নীরব থাক, আমরা দু’জন আর আমাদের সাথে তৃতীয় জন রয়েছেন ‘আল্লাহতায়ালা’। এটি হল, আল্লাহর ওপর আস্থার সেই উন্নত মান যা একমাত্র মহানবী (সা.)-এর জীবনেই আমরা দেখতে পাই।

এরপর দেখুন! গুহা থেকে বেরিয়ে তিনি (সা.) যখন যাত্রা আরম্ভ করেন তখন শত্রুর ভয়ের বিষয়ে কীরূপ ভ্রুক্ষেপহীনতা এবং আল্লাহতায়ালার সত্তায় কত গভীর আস্থা তার (সা.) ছিল।

হজরত আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, হিজরতের সময় ঘোড়া ছুটিয়ে আমাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে করতে সোরাকা যখন আমাদের নিকটে পৌঁছে যায় তখন আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল!
পশ্চাদ্ধাবনকারীরা তো একেবারে নাকের ডগায় পৌঁছে গেছে আর আমি আমার জন্য নয় বরং আপনার জন্য চিন্তিত। তখন তিনি (সা.) বলেন, ‘লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মা আনা’ অর্থাৎ বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন (সুরা আত তাওবা, আয়াত: ৪০)।

অতএব, ওই সময়ই মহানবীর (সা.) দোয়ার কল্যাণে সোরাকার ঘোড়ার পা মাটিতে দেবে যায় আর সে মহানবী (সা.)-এর নিকট নিরাপত্তা চায়।

সে সময় তিনি (সা.) সোরাকার স্বপক্ষে এই মহান ভবিষ্যদ্বাণী করেন, হে সোরাকা! তখন তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন কিসরার কঙ্গণ তোমার হাতে পরানো হবে? আর এই ভবিষ্যদ্বাণীও পরবর্তীতে অত্যন্ত মহিমার সাথে পূর্ণ হয়।

এরপর সেই মহিমাও দেখুন! যখন তিনি (সা.) শত্রুর কাছ থেকে মাত্র এক ফুট দূরত্বে নিরস্ত্র দাঁড়িয়ে ছিলেন আর শত্রু তরবারী উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু মহানবীর (সা.) কোন ভয় ছিল না।

কীরূপ ঈমান, বিশ্বাস এবং আল্লাহতায়ালার সত্তায় মহানবীর (সা.) কতটা আস্থা ছিল।

হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘যাতুর রিকার যুদ্ধে আমরা মহানবীর (সা.) সাথে ছিলাম। একদিন আমরা ছায়াপ্রদ একটি বৃক্ষের নিকট পৌঁছাই। মহানবীর (সা.) বিশ্রামের জন্য সেটিকে নির্বাচন করা হয়।

হঠাৎ এক মুশরিক সেখানে আসে যখন কিনা মহানবীর (সা.) তরবারী গাছে ঝুলানো ছিল। সেই ব্যক্তি তরবারী উঁচিয়ে বলল, তুমি কি আমাকে ভয় পাও নাকি পাও না?

মহানবী (সা.) তাকে উত্তর দেন, না। সে আবার বলল, কে তোমাকে আমার কাছ থেকে রক্ষা করতে পারে? তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহ। এতে তার হাত থেকে তরবারী পড়ে যায়। তখন মহানবী (সা.) সেটি উঠিয়ে বললেন, এখন আমার হাত থেকে কে তোমাকে বাঁচাবে?

তখন সে বলতে আরম্ভ করে, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। তিনি (সা.) বললেন, তুমি কি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই আর আমি আল্লাহর রাসুল? সে ছিল কট্টর মুশরিক।

সে উত্তরে বলল, না; কিন্তু আমি এই অঙ্গিকার করছি, আপনার সাথে আর কখনো লড়াই করবো না আর তাদের সাথেও যোগ দিব না যারা আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করে। তখন তিনি (সা.) তাকে ছেড়ে দেন। এরপর সে তার সঙ্গিদের সাথে গিয়ে যোগ দেয় আর তাদের বলতে থাকে, আমি এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে তোমাদের কাছে এসেছি যিনি লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম। (বোখারি, কিতাবুল মাগাজি)

একথা সত্য যে, মহানবীর (সা.) সাথে আল্লাহতায়ালার যে ব্যবহার এবং যে অঙ্গীকার ছিল, তা সাধারণ মুসলমান ও মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে না কিন্তু যেমনটি এই হাদীস থেকে স্পষ্ট, হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাতের বেলা মহানবীর (সা.) নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে পাহারা দেয়া হতো।

মহানবীর (সা.) প্রতি যখন এই ওহী ‘ওয়াল্লাহু ইয়া’সিমুকা মিনান্নাস’ অবতীর্ণ হল অর্থাৎ, আল্লাহতায়ালা মানুষের দুরভিসন্ধি হতে তোমাকে রক্ষা করবেন তখন মহানবী (সা.) তাবুর বাইরে উঁকি দিয়ে বললেন, তোমরা এখন চলে যেতে পার।

কেননা আল্লাহতায়ালা স্বয়ং আমার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজ উম্মতকে আল্লাহতায়ালার সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের জন্য এবং তার প্রতি আস্থা রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে একস্থানে তিনি (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের সত্তর হাজার মানুষ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তারা এমন মানুষ হবে যারা অন্যের দোষ-ত্রুটিসন্ধানে থাকে না। আর তারা (গণক দ্বারা) শুভাশুভ নির্ণয়ের কুসংস্কারেও লিপ্ত থাকবে না বরং স্বীয় প্রভুর প্রতি আস্থা রাখবে।’ (বোখারি, কিতাবুর রিকাক)

এই হাদিসের আলোকে এটি স্পষ্ট হয় যে, উম্মতের লোকেরা যদি আল্লাহতায়ালা প্রদত্ত শিক্ষামালার ওপর আমল করে, বৃথালাপ ও অপকর্মে লিপ্ত না হয়, বান্দার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করে, স্বীয় প্রভুর প্রতি ঈমান আনয়ন করে, তার প্রতি আস্থা রাখে এবং তারই সমীপে বিনত হয় তাহলে তারা কোন হিসাবের সম্মুখীন না হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

এখানে সংখ্যার যে উল্লেখ আছে তা আধিক্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং পাশাপাশি এই ভবিষ্যদ্বাণীও রয়েছে যে, আমার উম্মতে ব্যাপকহারে এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা আল্লাহর সত্তায় ভরসাকারী হবে আর এমন মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি হতে থাকবে, ইনশাল্লাহ।

এমন নয় যে, সত্তর হাজার সংখ্যা পূর্ণ হওয়া মাত্রই  ফেরেশতারা জান্নাতের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলবে, এখন পুণ্যকর্ম সম্পাদনকারী এবং আল্লাহর সত্তায় আস্থাশীল সেই শেষ ব্যক্তি জান্নাতে ঢুকে গেছে তাই এখন আর সুযোগ নেই।

এখন তোমরা যতই আল্লাহর ওপর ভরসা কর না কেন কিংবা পুণ্য কাজ কর না কেন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। বরং এমন নয়, আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহের দ্বার কখনো বন্ধ হয় না।

তাই আসুন, বিপদাপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি আর তার কাছেই সাহায্য চাই। কেননা একমাত্র তিনিই পারেন বিপদাপদ দূর করতে।

সেই সাথে বাহ্যিক উপায় উপকরণের ওপর আস্থা না রেখে সব বিষয়ে আল্লাহতায়ালাকে প্রাধান্য দেই।
তবে বাহ্যিক উপকরণ ব্যবহার করতে কোন বাধা নেই কিন্তু আস্থা রাখব কেবল সৃষ্টিকর্তার ওপর। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে এর তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: গষেবক ও কলামিস্ট

26
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছি, রমজানের রোজা রাখছি এবং অন্যান্য ভালো কাজও করছি কিন্তু সংসারে অশান্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না।

নামাজে যে দোয়া করছি তাও কবুল হচ্ছে না, সন্তানরাও নানান খারাপ কাজে লিপ্ত। এর কারণ কি? এর মূল কারণ হচ্ছে আমার অন্তর ও বাহির এক নয়।

আমি মুখে বলি একটা আর করি অন্য। আমি অন্যকে যে নসিহত করি তা নিজেই পালন করি না। নিজ ঘরে সেই নসিহতের আমল নেই। আমার সবকিছুতে মিথ্যা ছেয়ে আছে।

হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (সহিহ মুসলিম)

তাই যেব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে তার পুণ্যকর্ম আল্লাহর দরবারে মূল্যহীন।

আসলে যারা মিথ্যা বলে আল্লাহতায়ালার তাদের ওপর ভরসা নেই। তারা মনে করে মিথ্যা বলে আমি অনেক কিছু অর্জন করে নিব কিন্তু তারা বুঝে না যে, এই মিথ্যাই তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে, তার সন্তানদের ভবিষ্যত সে নষ্ট করছে। মিথ্যাবাদীদের মূলত ঈমান নেই।

যেভাবে  আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে যারা ঈমান রাখে না কেবল তারাই মিথ্যা আরোপ করে থাকে।’ (সুরা নাহাল, আয়াত: ১০৫)

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে মিথ্যা কসম করা থেকে বিরত থেকো। কেননা এর কারণে (সাময়িক) পণ্য বেশি বিক্রি হলেও বরকত কমে যায়।’ (মুসলিম)

এখন আমরা কি দেখছি? ব্যবসায়-বাণিজ্য যে কাজই করছি সব কিছুতে মিথ্যাকে প্রাধান্য দিচ্ছি, যার ফলে সংসারের শান্তি যেন বিনষ্ট হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে আমার ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর দরবারে কোন কাজে আসছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমার সকল কাজে মিথ্যার ছড়াছড়ি। যদিও আমরা জানি মিথ্যা বলার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, তারপরও মিথ্যাই যেন আমার সঙ্গী।

দেহের প্রতিটি অঙ্গের বিষয়ে আল্লাহর দরবারে আমাদেরকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সামান্য লাভের জন্য মিথ্যা বলে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন: ‘আর যে বিষয় তোমার জানা নেই সে বিষয়ে কোন অবস্থান নিও না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয়-এগুলোর প্রত্যেকটি সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৩৬)

আল্লাহতায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘আর তোমাদের জিহ্বা দ্বারা বানানো মিথ্যার ওপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।’ (সুরা নাহাল, আয়াত : ১১৬)

সর্বক্ষেত্রে যারা সত্য বলে তাদের পুরস্কারস্বরূপ রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আর যার সাময়িক লাভের জন্য মিথ্যাকে জীবনের সঙ্গী বানিয়ে নিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।

হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে পথ দেখায় এবং কল্যাণ মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। কোন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে সত্যবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। মিথ্যাচার পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোন লোক মিথ্যা কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে মিথ্যাবাদীদের তালিকাভুক্ত করেন।’ (বোখারি ও মুসলিম) 

মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।’ (তিরমিজি)

এখন বলুন, আমি নামাজ-রোজা যাই করিনা কেন মিথ্যা যদি পরিত্যাগ না করি তাহলে আমার এ আমলে কোন লাভ নেই। তাই যেভাবেই হোক মিথ্যা পরিত্যাগ করতেই হবে। মিথ্যা পরিত্যাগ ছাড়া আমার ইবাদত আল্লাহর কাছে কোনই মূল্য নেই।

স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলার কারণে কারণে প্রতিনিয়ত কতই না সুখের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। 

এছাড়া আমাদের মিথ্যা বলার কারণে সন্তানদের ওপরও এর মন্দ প্রভাব বিস্তার করে। যারফলে সন্তানরাও মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে যায় আর ধীরে ধীরে তারা পরিবারের বদনামের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আসুন, নিজেদের পুণ্যকর্মগুলোকে আল্লাহর দরবারে গৃহীত করার জন্য মিথ্যা পরিত্যাগ করি আর পাপকর্মের জন্য তার কাছে ক্ষমা চাই।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে তার ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নিন, আমিন।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট
 

27
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, (তিনিই) আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই।

তিনি চিরঞ্জীব-জীবনদাতা ও চিরস্থায়ী-স্থিতিদাতা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। আকাশসমূহে যা আছে ও পৃথিবীতে যা আছে সব তারই। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫)।

ইসলাম এই দাবি করে যে, এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা হলেন একজন জীবন্ত প্রভূ প্রতিপালক। তিনি নিজ বান্দাদের জন্য বর্তমান যুগেও সেভাবেই প্রকাশিত হন যেভাবে পূর্ববর্তী যুগসমূহে প্রকাশিত হতে থেকেছেন।

আদি থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত তার গুণাবলীর কোন একটি গুণও নষ্ট হয় নি। তিনি আজও সেভাবেই শুনতে পান যেভাবে পূর্বে শুনতেন আর আজও সেভাবেই পুণ্যবানদের সাথে ব্যবহার করেন যেভাবে পূর্বে করতেন।

আল্লাহতায়ালার জীবন্ত এবং চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী হওয়াই মানুষকে তার ওপর ঈমান আনতে, তার সাথে সম্পর্ক রাখতে, তার প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতে বাধ্য করে। যদি তিনি জীবন্ত এবং অনাদি ও অনন্ত না হন তাহলে তার জীবন সম্পর্কেও ভীতি থেকে যাবে যে, তিনি আবার আমাদের পূর্বেই না মারা যান।

আল্লাহতায়ালা নিজের জীবন্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়ার মাধ্যমে তার ওপর তাওয়াক্কুল করার দাওয়াত দিয়েছেন এভাবে যে, তিনি বলেন: আর তুমি সেই চিরঞ্জীব (সত্তার) ওপর ভরসা কর যার মৃত্যু নেই। (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৫৮)।

আল্লাহপাক আরও ইরশাদ করেন: এ (পৃথিবীতে) যা-ই আছে সবই নশ্বর, কিন্তু প্রতাপ ও মর্যাদার অধিকারী তোমার প্রভু-প্রতিপালকের সত্তা অবিনশ্বর। (সুরা রহমান, আয়াত: ২৬-২৭)।

অর্থাৎ পৃথিবী ও আকাশের সব জগতের প্রত্যেকটি সত্তা পরিবর্তনশীল এবং নশ্বর। আর যার ওপর কোন পরিবর্তন এবং ধ্বংস আপতিত হবে না তিনিই হলেন খোদা।

আল্লাহতায়ালার ওপর ঈমান এবং বিশ্বাসই প্রকৃত পক্ষে ধর্মের ভিত্তি এবং আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু। এটি ছাড়া ধর্মের চিন্তাই করা যায় না।

ইসলাম আল্লাহতায়ালার সত্তাকে একটি জীবন্ত বাস্তবতা বা নিদর্শন রূপে উপস্থাপন করেছে। তিনি এক জীবন্ত এবং চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী প্রভূ। তার জীবন্ত সত্তার একটি প্রমাণ হলো, তিনি নিজ বান্দাদের দোয়া শুনেন এবং সেগুলোর উত্তর দেন।

যেভাবে আল্লাহতায়ালা কোরআনে ইরশাদ করেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০)।

আল্লাহর সঙ্গে মহানবীর (সা.) সম্পর্ক এবং এক জীবন্ত সৃষ্টিকর্তার ওপর ঈমান এবং এর প্রমাণের হাজার হাজার উদাহরণের মাঝ থেকে শুধুমাত্র একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি।

মহানবী (সা.) বিভিন্ন বাদশাহদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র লিখেন। মহানবীর (সা.) এই চিঠি যখন ইরানের বাদশাহ কিসরার কাছে পৌঁছে তখন এই চিঠির লেখা পড়ে তার এত রাগ হয় যে, সে এই চিঠিকে টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে এবং বলে, আমার গোলাম হয়ে আমাকে এভাবে সম্বোধন করে।

এরপর সে তার ইয়ামেনের গভর্নরকে হুকুম দেয়, এই আরবী অর্থাৎ মহানবীকে বন্দী করে আমার সামনে উপস্থাপন করা হোক। অতএব ইয়ামেনের গভর্নর মহানবীকে (সা.) বন্দী করার জন্য দু’জন লোক প্রেরণ করে।
তারা মদীনায় পৌঁছে মহানবীকে (সা.) উপদেশের মাধ্যমে বুঝায় যে, আপনি আমাদের সাথে চলুন নতুবা কিসরা আপনার দেশকে ধ্বংস করে দিবে। তিনি (সা.) বলেন, তোমরা আজ রাতে এখানে অবস্থান কর, আমি ইনশাল্লাহতায়ালা আগামীকাল তোমাদের উত্তর দিব।

তারপর তারা যখন দ্বিতীয় দিন মহানবীর (সা.) কাছে যায় তখন মহানবী (সা.) বলেন: তোমাদের মালিকের (অর্থাৎ ইয়ামেন এর অধিকারীর) কাছে গিয়ে বলে দাও যে, আমার প্রভু তার প্রভুকে (অর্থাৎ কিসরাকে) আজ রাতে হত্যা করেছেন।

যখন ইয়ামেনের গভর্নরের কাছে মহানবীর (সা.) এই উত্তর পৌঁছে তখন সে বলে, এ ব্যক্তি যেই কথা বলেছে যদি সত্যিই এমন হয়ে যায় তাহলে সে সত্যিই আল্লাহর এক নবী হবে।

অতএব কিছুদিন পর গভর্নরের নামে কিসরার পুত্রের চিঠি আসে যাতে লিখা ছিল, আমি দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে নিজ পিতাকে হত্যা করেছি।

এমনই ছিল জীবন্ত আল্লাহর সাথে মহানবীর (সা.) সম্পর্ক। যার ফলে মহানবীকে (সা.) সর্বাবস্থায় আল্লাহতায়ালা নিরাপত্তার বেষ্টনিতে রেখেছিলেন।

আসলে আল্লাহতায়ালাকে যারা ভালোবাসেন, যাদের হৃদয় পাক-পবিত্র, তারা যখন আল্লাহকে স্মরণ করে, তাকে ডাকেন, তার সাহায্য কামনা করেন তখন আল্লাহ তাদের ডাক শুনেন এবং তার সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন।

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন: ‘এবং যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বল, আমি নিকটে আছি। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই যখন সে আমার নিকট প্রার্থনা করে। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।

তাই আমাদের সবার উচিত হবে এই জীবন্ত আল্লাহর সাথে প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তোলা, তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলে জীবন পরিচালনা করা।

আসুন! সব ধরনের অপকর্ম থেকে নিজেক দূরে রাখি এবং আল্লাহর স্মরণে সময় অতিবাহিত করি।

 লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট

28
নিজ সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এক নারীকে। যদিও তিনি ছিলেন নিরপরাধ। অসচেতন থাকায় মারা যায় তার সদ্যজাত শিশুটি। বলছিলাম এন গ্রেনের কথা। তিনি অক্সফোর্ডেশিয়ারে ১৬২৬-২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

বেশ দরিদ্র পরিবারেই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ভাগ্যের সন্ধানে এ কিশোরী স্যার থমাস রিড নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করতেন। ভালোই কাটছিল তার দিন। হঠাৎ এক বসন্তে গ্রেন ও বাড়ির মালিকের নাতির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্যার থমাসের ১৬ বছরের নাতি জেফ্রির সঙ্গে প্রেমের কারণে একসময় গর্ভবতী হয়ে পড়েন গ্রেন।

কিশোরী গ্রেন স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি, এমন এক কাণ্ড তিনি ঘটিয়ে ফেলবেন। ৬ মাস পর আকস্মিকভাবে গ্রেনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তিনি কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। বাড়ির পাশেই একটি ছোট স্টোর রুম ছিল। গ্রেন কাতরাতে কাতরাতে সেখানে পৌঁছান এবং একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। যদিও শিশুটি খুবই ছোট ও অপুষ্টির শিকার ছিল।

jagonews24

গ্রেনের প্রসব বেদনার চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য চাকররা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তারা গ্রেনকে অন্য ঘরে নিয়ে যান। এদিকে শিশুটিকে তারা জীবন্ত কবর দিয়ে দেন। গ্রেনের কাছে না জানতে চেয়েই এমন ঘৃণ্য কাজ করে বসেন। গ্রেন জানতে পারলে তারা বলেন, এটিই ঠিক কাজ হয়েছে।

কারণ এ ঘটনা জানতে পারলে মালিক তাদের সবাইকে পুলিশে দেবেন। এসব শুনে চুপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না গ্রেনের। কিছুদিন পরই এ ঘটনা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। তখনকার সময় শিশুহত্যার বিষয়টিকে অনেক গুরুত্ব সহকারে দেখা হতো। গ্রেনের এ ঘটনা বাড়ির মালিক জানতে পারেন।

তিনি জানতেন, তার নাতির কারণেই গ্রেন গর্ভবতী হয়েছিলেন। তবুও তিনি নিজের নাতিকে বাঁচিয়ে গ্রেনকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। অপরাধী না হয়েও বেচারা গ্রেন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৬৫০ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

jagonews24

সঠিকভাবেই তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডের নির্দিষ্ট সময় পরই তার দেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উঠিয়ে একটি কফিনে করে নেওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। গ্রেনের ময়নাতদন্তের সময় দায়িত্বরত ছিলেন অক্সফোর্ডের সার্জন ও গবেষক উইলিয়াম পেট্টি।

যখন পেট্টি কফিনের ঢাকনাটি খোলেন; তখন তিনি বুঝতে পারেন গ্রেন নিশ্বাস নিচ্ছেন। এমন কাণ্ড দেখে তার শরীরের লোম মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে যায়। ফাঁসি হওয়ার পর কারও বেঁচে থাকার ঘটনা বিরল। পেট্টি তার সব জ্ঞান ও প্রচেষ্টা দিয়ে গ্রেনকে সুস্থ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। গরম উত্তাপ দিয়ে ও মালিশ করে গ্রেনের জ্ঞান ফেরানো হয়।

পেট্টি কাউকে কোনো খবর না দিয়ে, সঙ্গে এক নার্সকে নিয়ে গ্রেনের সেবা-যত্ন করা শুরু করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই গ্রেন স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও তার গলার অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। তারপরও তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই মুরগির মাংস খেয়েছিলেন। এক মাসের মধ্যে গ্রেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

jagonews24

এরপর সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে গ্রেনের নাম। ঘটনাটি লুকিয়ে রাখতে পারেননি পেট্টি। এরপর গণমাধ্যমে পেট্টি এ ঘটনার কথা জানান। বিভিন্ন পত্রিকায় গ্রেনের অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার ঘটনা প্রচার হতে থাকে। এরপর পেট্টি তার সঙ্গে ঘটা সব ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানান। তিনি আরও জানান, কীভাবে তিনি অপরাধী না হয়েও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

এরপর আদালতে আবারো গ্রেনের মামলাটি খোলা হয়। গ্রেনের যেদিন ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল; তার তিন দিন পরই স্যার থমাস রিড মারা যান। এরপর সব তথ্য-প্রমাণাদি বিবেচনা করে আদালত কর্তৃক খালাস পান গ্রেন। গ্রেন পরবর্তীতে বিয়ে করেন। তিন সন্তানের জননী গ্রেন ১৬৬৫ সালে আরেকটি সন্তান প্রসবের সময় মারা যান।

আলফা হিস্টোরি/জেএমএস/এসইউ/এমএস

   

   

29
দাঁতের সমস্যার কোনো বয়স নেই। পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধেরও এ ব্যথা হতে পারে।

দাঁতের গোড়া বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মারাত্মক যন্ত্রণা হয়। ব্যথা থেকে মাথা, চোখব্যথাও শুরু হয়ে যায়।

কিছু ঘরোয়া উপায় আছে, যা অবলম্বন করলে দাঁতের ব্যথা থেকে অনেকটাই মুক্তি মেলে।

১. এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ টেবিল চামুচ লবণ মিশিয়ে মুখে নিয়ে ১ মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে তিনবার কুলি করলে করুন ব্যথা কমে যায়।

২. ১ টেবিল চামুচ লবণ অল্প সরিষার তেলের সঙ্গে অথবা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন কয়েক মিনিট। তার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করে নিন। এভাবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে।

৩. রসুন ঘরোয়া অ্যান্টিবায়োটিক। রসুন দাঁতে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ও ব্যথা উপশমেও সহায়ক। একটি-দুটি রসুনের কোয়া নিয়ে থেঁতলে সামান্য লবণ মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় লাগান। রসুন চিবিয়েও খেতে পারেন। যন্ত্রণা কম না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন লাগাতে পারেন।

৪. অ্যালোভেরায় থাকে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা দাঁতের জীবাণুকে নষ্ট করে দেয়। অ্যালোভেরা জেল নিয়ে ব্যথার জায়গায় লাগাতে পারেন।

৫. কমানোর করার জন্য হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দারুণ কাজ করে। এটি দাঁতে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। এ ছাড়া দাঁতের যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়, মাড়ি থেকে রক্তপড়াও আটকায় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড। পানি ও হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সমপরিমাণ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ওই মিশ্রণ দিয়ে কুলকুচি করুন। তবে কোনোভাবেই গিলে ফেলা যাবে না। কুলকুচির পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন।

তবে দাঁতে অতিরিক্ত ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

30
ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন নারী-পুরুষ উভয়ই। তবে এ সমস্যায় নারীরা বেশি ভুগে থাকেন। দীর্ঘদিন এ রোগে আক্রান্ত থাকলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। কারণ মূত্রনালী থেকে ইনফেকশন কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। এতে কিডনি বিকল হতে শুরু করে।

সম্প্রতি ‘বন্ড গার্ল’ খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ও মডেল দীর্ঘদিন ইউরিন ইনফেকশনে ভুগে ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার নাম তানিয়া রবার্টস। এরপরই দুনিয়াজুড়ে ইউটিআই রোগটি নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ রোগে আক্রান্তদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের নারীরাও ইউটিআইতে ভুগে থাকেন। দীর্ঘসময় পায়খানা ও প্রস্রাব চেপে রাখার ফলে নারীরা নানা রকম শারীরিক জটিলতার মধ্যে পড়েন। চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু নারীরা নন, পুরুষরাও ভুগতে পারেন মূত্রনালী সংক্রমণসহ নানা ধরনের জটিলতায়।

jagonews24

যেসব লক্ষণে বুঝবেন-
১. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
২. ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ
৩. প্রস্রাবের রং লালচে
৪. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত
৫. দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব
৬. নারীদের গোপনাঙ্গে ব্যথা
৭. পুরুষদের মলদ্বারে ব্যথা

অবস্থা যখন সংকটাপন্ন হয়-
১. পেট ও কোমরের মাঝামাঝিতে ব্যথা অনুভব করা
২. শীত লাগা
৩. জ্বর
৪. বমি বমি ভাব
৫. বমি

jagonews24

কেন হয় ইউটিআই?
একধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ হলো ইউটিআই বা মূত্রনালীর সংক্রমণ। এ রোগের জন্য দায়ী হলো এশেরিকিয়া কোলাই (Escherichia coli) ব্যাকটেরিয়া। যদিও রোগটি অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের কারণেও হতে পারে। শারীরিক গঠন, যৌন মিলন, বহুমূত্র রোগ, অতিস্থূলতা এবং বংশগত ধারার কারণে ইউটিআই হয়ে থাকে।

প্রাথমিকভাবে এ রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ হয়ে থাকে। যদি দীর্ঘদিন আপনি এমন সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো অস্পষ্ট থাকে। তাদের জন্য রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে।

jagonews24

প্রতিরোধে করণীয়
>> প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

>> ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

>> অপরিষ্কার পোশাক পরবেন না।

>> নিয়মিত গোসল করতে হবে।

>> একই কাপড় না ধুয়ে বেশিদিন পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন।

>> গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে হবে।

>> একই অন্তর্বাস দীর্ঘসময় ব্যবহার করবেন না।

প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি মানুষ মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এ সংক্রমণের হার বেশি।



    টিপস হেলথ-টিপস কিডনি-রোগ







   

Pages: 1 [2] 3 4 ... 23