Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 23
31
শীত আসতেই জ্বর-ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছেন অনেকেই। এ সময় জ্বরের লক্ষণ দেখলেই অনেকে করোনা ভেবে ভুল করে থাকেন। টাইফয়েড জ্বরও হতে পারে এ সময়। তাই লক্ষণ বুঝে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সালমোনেলা টাইফি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে রোগটি হয়। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে প্রধানত দেহে এ জীবাণু ছড়ায়। ফলে জ্বরসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেকোনো বয়সী টাইফয়েডে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে-

রোগটি কীভাবে ছড়ায়?
যে এই রোগে আক্রান্ত, তার মলের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। সাধারণত এ জীবাণু দ্বারা দূষিত খাবার এবং পানি কোনো সুস্থ মানুষ খেলে তিনিও এ রোগে আক্রান্ত হন।

jagonews24

লক্ষণ

১. প্রথম সপ্তাহে-
> অনেক জ্বর
> মাথা ব্যথা
> শরীর ব্যথা
> নাড়ির গতি কমে যাওয়া
> কোষ্ঠকাঠিন্য
> ডায়রিয়া এবং বমি (শিশুর)

২. প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে-
> বুকে-পেটে র্যাশ ওঠা
> স্প্লিন বড় হয়ে যাওয়া
> কাশি
> পেট ফুলে যাওয়া
> ডায়রিয়া

৩. দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষদিকে-
> প্রলাপ বকা
> কোমায় চলে যেতে পারে
> মৃত্যুও হতে পারে

jagonews24

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

১. প্রথম সপ্তাহে-
> রক্ত কালচার (রক্তে কোনো জীবাণু আছে কি-না পরীক্ষা করা)
> কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট

২. ২য় এবং ৩য় সপ্তাহে-
> মল কালচার
> প্রস্রাব কালচার
> ভিডাল টেস্ট

চিকিৎসা
কালচার এবং জীবাণুর জন্য কোন এন্টিবায়োটিক কার্যকর; তা পরীক্ষা করার পর উপযুক্ত ওষুধ দেওয়া হয়।

কী কী জটিলতা হতে পারে

> অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া
> অন্ত্র থেকে রক্তপাত হওয়া
> হাড় এবং গিরায় ইনফেকশন
> মস্তিষ্কের পর্দায় ইনফেকশন
> পিত্তথলিতে ইনফেকশন
> হার্টে ইনফেকশন
> কিডনিতে ইনফেকশন ইত্যাদি

jagonews24

প্রতিরোধের উপায়

> নিয়মিত হাত ধোয়া। বিশেষ করে খাবার খাওয়া এবং তৈরি করার আগে এবং টয়লেট সারার পর।
> বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফুটানো পানি বা পরিশোধিত পানি সংরক্ষণ করতে হবে।
> কাঁচা শাক-সবজি ও ফল-মূল সতর্কভাবে খাওয়া।
> গরম খাবার খাওয়া।
> টয়লেট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

32
মহামারি করোনার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ছে বার্ড ফ্লু। ভারতে এরই মধ্যে ৯টি রাজ্য আক্রান্ত হয়েছে বার্ড ফ্লুতে। এতই মারাত্মক হতে পারে বার্ড ফ্লু যে, এর কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। তাই সামান্য জ্বর-সর্দি হলেও সচেতন থাকুন। কারণ বার্ড ফ্লু হলেও জ্বর-সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।

বার্ড ফ্লু

একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় রোগ এটি। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে বার্ড ফ্লু মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে। ভাইরাসটি সাধারণত পাখির শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাখিরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজেই চলে যায় বলে রোগটিও দ্রুত ছড়ায়। বার্ড ফ্লু বায়ুবাহিত রোগ হিসেবে বিবেচিত।

লক্ষণ

>> এ ভাইরাস সংক্রমণের পর রোগীর দেহে প্রাথমিকভাবে জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

>> জ্বরের পাশাপাশি শরীর ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, হাঁচি, কাশি, মাথা ব্যথা, মাংসপেশী ব্যথা, বমি, পেট খারাপ- এ ধরনের উপসর্গ থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ খুব বেশি দেখা যায়। মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকতে পারে।

>> অনেক সময় ফুসফুসে সংক্রমণ হয়ে মারাত্মক নিউমোনিয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং এআরডিএস অর্থাৎ অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেসের ঝুঁকি থাকে।

>> এর থেকে এনসেফেলাইটিস, হৃদপিণ্ডের সংক্রমণ, মায়োসাইটিস হয়। বার্ড ফ্লুর জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ রয়েছে।

রোগের বিস্তার

>> আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে অন্য ব্যক্তির মাঝে বার্ড ফ্লু ছড়াতে পারে।

>> আক্রান্ত পাখির ডিম বা মাংস সঠিকভাবে সেদ্ধ করে না খেলে বার্ড ফ্লু হতে পারে।

>> এটি ভাইরাসজনিত একটি ছোঁয়াচে রোগ।

>> বার্ড ফ্লু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে; রক্তে এ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পিসিআর পদ্ধতিতে দেখে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়।

jagonews24

প্রতিরোধের উপায়

>> যেকোনো ফ্লুর মতোই বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিকল্প নেই।

>> মাস্ক পরার অভ্যাসকে জীবনের অঙ্গ করে নিতে পারলে যেকোনো ফ্লু-র সংক্রমণ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

>> খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস করা জরুরি।

>> মাংস বা ডিম খুব ভালো করে সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত। কাঁচা মাংস খুব ভালো করে ধুয়ে অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন।

>> মাংস ধোয়ার সময় কাছাকাছি যেন কোনো ধরনের খাবার না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখুন।

33
সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ নানা ভাবে ভাত খেয়ে থাকেন। বিশেষত, এশিয়া মহাদেশে প্রতিদিন ভাত খাওয়া লোকের সংখ্যা সবথেকে বেশি।আর ভা`রতের ও বাংলাদেশ কথা তো ছেড়েই দিলাম!বাঙালি সারাদিনে একবার ভাত খাবে না, সেটা হতেই পারে না। গরম হলে তো কথাই নেই পান্তা হলেও চলবে। ভাত অবশ্যই উপকারী খাবার।কিন্তু এমন কিছু বদঅভ্যাস রয়েছে যেগুলো আমাদেরকে সুস্থ রাখার পরিবর্তে অ’সুস্থ করে তোলে। আর তাই সে সব অভ্যাস পরিত্যাগ করাই ভাল। এ অভ্যাস গুলো শরীরে নানা বিরূপ প্রভাব ফেলে।

১. খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে ফল খায়। এটা একদম ঠিক নয়।কারণ এতে বাড়তে পারে এসিডিটি।খাবার গ্রহণের দু’এক ঘণ্টা আগে বা পরে ফল খাওয়া ভাল।২. অনেকে দেখা যায় খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই ধূমপান শুরু করে। এটা খুবই মা’রাত্মক খা’রাপ অভ্যাস। চিকিত্‍সকরা বলেন, অন্য সময় ধূমপান যতটুকু ক্ষতি করে খাবার খাওয়ার

পর ধূমপান করলে তা ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।৩. খাবার গ্রহণের পর পরই স্নান করবেন না। কারণ খাওয়ার পরপরই স্নান করলে শরীরের র’ক্ত সঞ্চালন মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে পাকস্থিলির চারপাশের র’ক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা পরিপাকতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে। ফলে খাবার হ’জমের স্বাভাবিক সময়কে ধীরগতি করে দেয়।

৪. অনেকে দেখা যায় খাবার গ্রহণের সময় বা পরপরই কোমড়ের বেল্ট কিংবা কাপড় ঢিলা করে দেয়। এটা ঠিক নয়। কারণ কোম’রের বেল্ট বা কাপড় ঢিলা করলে খুব সহ’জেই ইন্টেসটাইন (পাকস্থলি) থেকে রেক্টাম (মলদ্বার) পর্যন্ত খাদ্যনারীর নিম্নাংশ বেকে যেতে পারে বা

পেঁচিয়ে যেতে পারে বা ব্লক হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যাকে ইন্টেসটাইনাল অবস্ট্রাকশন বলে।৫. খাবার পরপরই ব্যয়াম করা ঠিক নয়।৬. ভাত খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া খুবই খা’রাপ অভ্যাস। এর ফলে শরীরে মেদ জমে যায়।

৭. খাবার পরেই অনেকে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে বসে যান। চায়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ টেনিক এসিড যা খাদ্যের প্রোটিনকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে তোলে। এতে খাবার হ’জম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে।তাই কিছু সময় অ’পেক্ষা করার পর চা পান করুন।৮. হাটা চলা করবেন না! অনেকেই বলে থাকেন যে , খাবার পর ১০০ কদম হাটা মানে আয়ু ১০০ দিন বাড়িয়ে ফেলা!

কিন্তু আসলে বিষয়টা পুরোপুরি সত্য নয় খাবার পর হাটা উচিত , তবে অবশ্যই সেটা খাবার শেষ করেই তাত্‍ক্ষণিক ভাবে নয় ।কারণ এতে করে আমাদের শরীরের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষনে অক্ষম হয়ে পড়ে।জনকল্যাণ স্বার্থে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষদের

” সুস্থ রাখু’ন ও সুস্থ থাকুন”

34
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে অনেকের দেখা যায় অল্প বয়সেই স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে যা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য সময় থাকতে থাকতেই বাড়িতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন সেই সাথে জীবনযাত্রায় আনেন কিছু পরিবর্তন। তাহলেই দেখবেন মেমোরি আগের তুলনায় কিছুটা হলেও শার্প হবে।

ব্যায়াম:

শরীরচর্চা করলে পেশীর সাথে সাথে মস্তিষ্কের উন্নতি হয়। ব্যায়াম করলে মগজে নতুন কোষ তৈরি হয়। এজন্য শরীরচর্চাকেই প্রথমে বেছে নিতে পারেন।

ডায়েট:

একটি ব্যালেন্স ডায়েটও আপনার স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। তবে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এই ডায়েট করতে হবে। মস্তিষ্কের উন্নতির জন্য পুষ্টিকর খাবার অনেক জরুরী।

ঘুম:

মস্তিষ্ক ভালো রাখার জন্য ঘুমের কোন বিকল্প নেই।আবার ভালো ঘুম না হলে আপনি কোন কাজও ঠিকভাবে করতে পারবেন না। এজন্য নিয়মিত ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমের চেষ্টা করুন।

লেখা:

কোন বিষয় যখন পড়বেন তা পরবর্তীতে মনে রাখার জন্য কাগজে লিখুন। এতে করে দেখা যায় বিষয়টি মাথার ভিতর থেকে যায়। তবে ফোন নোট করে বা কম্পিউটারে টাইপ করে লিখতে যাবেন না।

ভিজুয়ালাইজ:

যখন যে বিষয় পড়বেন তখন তা ইমেজিন করার চেষ্টা করুন। যেমন আমাদের গায়ের রঙ এর উপাদান মেলানিন নিয়ে পড়ার সময় মেলোন নিয়ে চিন্তা করুন। এতে করে পরবর্তীতে দেখা যাবে ওই বিষয়টি মাথায় থেকে যাবে।

পুনরায় বলা:

আপনার অভিজ্ঞতা বা যা শিখেছেন তা অন্যান্য অনেকের সাথে শেয়ার করুন। তবে তা যত দ্রুত করা যায় তা ভালো।

কোর্স:

মেমোরি শার্প করতে বিভিন্ন কোর্সের ব্যবস্থা আছে। এজন্য স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কোর্স করুন।

বাদাম:

বাদাম বিশেষ করে আলমন্ডের ভূমিকার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সূত্র: দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া

35
আধুনিক সময়ে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে রোজ রোজ। ফর্সা মুখশ্রী, নির্মেদ চেহারা আর এক ঢাল চুল থাকলেই সুন্দর, এই ধারণা আজ আউট অব ফ্যাশন। তবে মসৃণ, উজ্জ্বল ত্বকের কদর সব সময়েই রয়েছে। আর গায়ের রং যেমনই হোক, মুখের ঔজ্জ্বল্য কিন্তু আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার দিকেই ঝুঁকছে আজকের প্রজন্ম। ভালো খাবার খেলে, তার ছাপ মুখে পড়বেই। সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে চিকিৎসক, কেউই এ কথা অস্বীকার করেন না। তবে কি না, এমন বেশ কিছু খাবার আছে, যা মুখে মাখলে মুখ উজ্জ্বল হয় অনেক। দেখে নেওয়া যাক সেরকম কিছু খাবারের তালিকা

অলিভ অয়েল

আপনার দেহের ময়েশচারাইজার হিসেবে কাজ করতে পারে অলিভ অয়েল। সূর্যাস্তের পর বাইরে বেরোলে হাল্কা করে অলিভ অয়েল মেখে বেরোতে পারেন। রাতে শোয়ার আগে নাইট ক্রিম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। মেকাপ ধোয়ার জন্য খুব ভালো কাজ করে এটা।

বেসন-দুধ

দুধে প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্টিক অ্যাসিড থাকায় ত্বকের পুষ্টির জন্য খুব ভাল। দুধ মাখলে ত্বক অনেকটা নরমও হয়। দুধের সঙ্গে একটু বেসন মিশিয়ে সারা মুখে ম্যাসাজ করলে দূষণের কারণে মুখে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

কফি আর নারকেল তেল

কফি আর নারকেল তেলের মিশ্রণ আপনার মুখ এবং দেহ স্ক্রাবের ক্ষেত্রে খুব কাজ দেবে। তবে ঘনঘন স্ক্রাব করবেন না। আর চোখের আশেপাশে স্ক্রাব করবেন না। সপ্তাহে দু’বার কফি আর নারকেল অথবা আ’মন্ড অয়েলের মিশ্রণ দিয়ে স্ক্রাব করলে দেহের ডেড সেল মরে যাবে।

দই

ড্রাই স্কিন অর্থাৎ শুষ্ক ত্বকে দই খুব উপকারী। দইয়ের সঙ্গে মধু, বেসন আর হলুদ দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ১০ থেকে ২০ মিনিট মুখে মেখে তারপর ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ত্বক একেবারে বাচ্চাদের মত সতেজ লাগবে।

মধু

সেনসিটিভ স্কিনে মধু খুব কার্যকর। অধিকাংশ প্রসাধনীতে মধু ব্যবহার করা হয়। দারচিনি আর মধুর মিশ্রণ মুখে মাখলে মুখের দাগ ছোপ দূর হয়। ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে মধুর তুলনা হয় না।

পেপে

পেপেতে প্রচুর পরিমাণে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড রয়েছে। মুখে মেচেতা থাকলে পেপে মাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পাপাইন উৎসেচক পিগমেন্টেশন দূর করতে সাহায্য করে। পেপে স্ম্যাশ করে থকথকে পেস্ট বানিয়ে ২০ মিনিট মতো মুখে লাগিয়ে রেখে তারপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

টমেটো

মুখের ডার্ক স্পট মেলাতে গেলে টমেটো মাখলে বেশ কাজ দেবে। দৈনিক ডেড স্কিন মারতেও টমেটো খুব উপকারী।

গ্রিন টি

মন খুশি থাকলে তার ছাপ মুখে পড়তে বাধ্য। দেহ হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল এবং গ্রিন টি খান।

আলু

আলু খুব বেশি খেলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আলুর রস যদি মুখে মেখে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন, ঘুম থেকে উঠে পরের সকালে মুখটা ধুয়ে নিন। ত্বকের জল ধরে রাখতে সাহায্য করবে আলুর রস। সতেজ লাগবে সারা দিন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

36
প্রত্যেকের শরীরে তিল বা আঁচিল আছে। শরীরের যে কোনো জায়গায় এগুলো দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অবাঞ্চিত তিল বা আঁচিল আমাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।

মুখের মধ্যে একাধিক তিল অনেকেরই অপছন্দ। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিল বা আঁচিল সারানো বেশ ব্যয়বহুল। তবে আপনি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে বাড়িতে থেকেই তিল বা আঁচিল সহজেই দূর করতে পারেন।

কী করবেন

১. তিল বা আঁচিল সারাতে রসুন খুবই কার্যকর। তিলের ওপর নিয়মিত রসুনের রস লাগালে তিল দূর হবে।

২. ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্রতিদিন নিয়ম করে লাগান স্কিনে। কয়েক সপ্তাহ লাগালেই স্কিন থেকে তিল দূর হয়ে যাবে। বেকিং সোডা তিলগুলোকে শুকিয়ে দেয় আর ক্যাস্টর অয়েল স্কিনকে প্রটেক্ট করে।

৩. দিনে বেশ কয়েকবার লেবুর রস লাগান স্কিনে। ব্লিচের কাজ করবে লেবুর রস।

৪. টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেকে দাবি করেন, দিনে কয়েকবার এই তেল প্রয়োগ করলে তিল অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এই তেল কোনোভাবেই শরীরের ভেতরে যেন না যায়।

 তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

37
বিভিন্ন কারণে ঠোঁটে অনেক সময় কালচে দাগ দেখা দেয়। অনেক সময় আর্দ্রতা হারালেও ঠোঁট বিবর্ণ ও ঠোঁট কালো হয়ে যায়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও ধূমপানের অভ্যাসও ঠোঁট কালো হয়ে থাকে। আর অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে তা থেকেও ঠোঁটে হতে পারে কালচে দাগ। তাই ত্বকের মতো ঠোঁটেরও সমান যত্ন নেয়া জরুরি।

আসুন জেনে নিই ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করার সহজ ৫ উপায়-

১. ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে চিনিকে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

২. ঘুমানোর আগে সামান্য মধু ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে দিন সারারাত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঠোঁটের রঙে পার্থক্য চোখে পড়বে।

৩. প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে তাজা লেবুর রস দিয়ে ঠোঁটে ভালো করে ম্যাসাজ করলে কালচে ভাব দূর হবে।

৪. প্রতিদিন একবার করে ঠোঁটে বরফ ঘষুণ। এতে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

৫. দুধের সর ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সরে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান প্রতিদিন।

সূত্র: বোল্ডস্কাই

38
Skin / আঁচিল দূর করার সহজ উপায়
« on: January 05, 2021, 05:03:50 PM »

আঁচিল শরীরে তখনই হয়, যখন ত্বক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। মুখে আঁচিল হলে সমস্যার শেষ থাকে না। বিশেষ করে আঁচিল মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। এর কারণ সর্বদা শরীর জামা-কাপড়ে ঢাকা থাকে আর তখনই আঁচিল সংক্রমণকারী জীবাণু খুব অল্পসময়ে ত্বকের উপরিভাগে আক্রমণ করে। তবে পুরুষের কাঁধে আঁচিল খুব বেশি দেখা যায়।

অনেকে মনে করি, আঁচিল প্রাকৃতিকভাবে শরীরে হয়ে থাকে কিন্তু এই ধারণা ভুল। আঁচিল শরীরে তখনই হয়, যখন ত্বক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। মুখে আঁচিল হলে সমস্যার শেষ থাকে না। বিশেষ করে আঁচিল মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। এর কারণ সর্বদা শরীর জামা-কাপড়ে ঢাকা থাকে আর তখনই আঁচিল সংক্রমণকারী জীবাণু খুব অল্পসময়ে ত্বকের উপরিভাগে আক্রমণ করে। তবে পুরুষের কাঁধে আঁচিল খুব বেশি দেখা যায়।

আঁচিল হলে সাধারণত মানুষ চিন্তা বা চিকিৎসা করে না। কুসংস্কার হিসেবে প্রচলিত আছে যে, আঁচিল হলে মাথার চুল বেঁধে রাখলে আঁচিল সেরে যাবে। কথাটা যদিও কার্যকর তবে এটা আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে আরও বড় আঁচিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর আঁচিল যদি একবার বড় হয়ে যায় তাহলে ক্ষতস্থান থেকে গাছের শিকড়ের ন্যায় রূপ নিতে পারে। তাই আঁচিল হলে অবশ্যই খুব দ্রম্নত চিকিৎসা নিতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক।

আঁচিল হলে কি করবেন?

প্রথমেই হোমিও চিকিৎসার কথা উলেস্নখ করা হলো। আঁচিল রোগের কোনো অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিন নেই; তাই সাধারণত হোমিও চিকিৎসা নেয়া হয়। আঁচিল দূর করতে হোমিও মেডিসিন অত্যন্ত কার্যকরী। সর্বোচ্চ একুশ দিনের মধ্যে হোমিও মেডিসিন সম্পূর্ণভাবে আঁচিল দূর করতে সক্ষম। আঁচিল দূর করার জন্য যে মেডিসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার নাম সুজা মাদার ও সুজা। সুজা মাদার তুলা দিয়ে আঁচিল আক্রান্ত স্থানে তিন বার লাগাতে হবে। আর মুখে সেবন যোগ্য হিসেবে সুজা-২০০ থেকে শুরু করে সুজা-১০ এম পর্যন্ত সেবন করতে হবে।

প্রাকৃতিকভাবে আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ফলদায়ক। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে একটি পাত্রে সারা দিন ঢেকে রেখে দিন। রাতে ঘুমানোর আগে পেঁয়াজ কুচির সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিন। প্রথম অবস্থাতে হালকা ঝাঁজ বা জ্বালা করতে পারে, তবে এই পদ্ধতি আঁচিল দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

টি ট্রি অয়েল আঁচিল সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম। কিছু তুলা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েল ভেজা তুলাতে নিয়ে আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে ঘষতে থাকুন। আপনার আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে চুলকাতে পারে, তারপরেও আপনি ভালো করে টি ট্রি অয়েল দিয়ে আক্রান্তস্থান পরিষ্কার করুন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনার আঁচিল দূর হবে।

অ্যালোভেরা জেল আঁচিল দূর করার অ্যান্টিসেপটিক থাকে। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল টুকু ছাড়িয়ে আঁচিল হওয়া আক্রান্তস্থানে ম্যাসাজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। আপনার আক্রান্তস্থান থেকে আঁচিল ধীরে ধীরে শুকিয়ে ছোট হয়ে পরিপূর্ণভাবে দূর হবে।

ছুলি থেকে মুক্তির উপায়

ছুলি একটি চর্মরোগ। ছুলি শরীরের যে কোনো স্থানে হতে পারে যেমন- মুখে, গলাতে, ঘাড়ে, কাঁধে, বগলে, বুকে, পেটে, হাতে ও পায়েসহ বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। ছুলি একটি ছোঁয়াচে রোগ, পরিবারের কারো ছুলি হলে অন্য সুস্থ ব্যক্তির মাঝে ছুলি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ছুলি কেন হয়?

ছুলি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে অ্যালার্জির কারণে ছুলি বেশি হয়ে থাকে। তা ছাড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ছুলি প্রকোপ হতে পারে। প্রায় ৫০% রোগীর ক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ছুলি হয়, এর কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ইমিউন প্রতিক্রিয়া।

ছুলি দেখতে কেমন হয়?

উন্মুক্ত স্থানে সাদা বা বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। সঁ্যাতসেঁতে ও গরম আবহাওয়ায় ছুলির সংক্রমণ বেশি হয়। সাধারণ ত্বকের থেকে ছুলির রং সাদা হয় এবং লোমগুলো সাদা বর্ণ ধারণ করে।

ছুলি হলে করণীয়

ছুলি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হওয়াতে এই রোগের মেডিসিন সেবন করতে হয় অনেক ধর্য্য ধরে। ছুলি রোগ সম্পূর্ণ সেরে তুলতে হোমিওপ্যাথি মেডিসিন ভালো সমাধান দেয়। তবে কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে যা ব্যবহার করলে ছুলি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১) লেবুর রস ও মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত সকাল ও রাতে ছুলির স্থানে লাগালে ছুলি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই ভালো ফলাফল পেতে ১ থেকে ২ মাস ব্যবহার করতে হতে পারে।

২) লেবুর রস ও হাইপো খুব ভালো কাজ দেয় ছুলি দূর করতে। প্রতিদিন গোসলের আগে এই মিশ্রণটি ভালোভাবে ব্যবহার করলে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ছুলি দূর হবে।

৩) পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুর সালফার থাকে। যা ছুলির ত্বক স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত ছুলির চুলকানি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে পেঁয়াজ।

৪) সাদা তিল ও হলুদ খুব ভালো ফলাফল দেয় ছুলির জন্য। সাদা তিল ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ছুলির হওয়া স্থানে ১৫ মিনিটের জন্য লাগাতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুঁয়ে ফেলতে হবে।

৫) টক দইতে প্রচুর ল্যাকটিক এসিড থাকে যা আমাদের ত্বকের যে কোনো চর্মরোগের জন্য বেশ উপকারী। তবে বিশেষ করে ছুলির ক্ষেত্রে টক দই ব্যবহার করা উত্তম। গোসলের আগে টক দই ছুলির উপর লাগিয়ে দিতে হবে এবং শুকিয়ে গেলে ধুঁয়ে ফেলতে হবে।

ছুলি সেরে তুলতে সময় লাগতে পারে, অনেক সময় ছুলি অনেক জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ছুলি পুরোপুরি দূর করতে বেশ সময় লাগতে পারে। আর ছুলির জন্য কোনো হোমিও সেবন করার মনস্থির করলে অবশ্যই একজন ভালো হোমিও ডাক্তারের নিদের্শ গ্রহণ করে তারপরে হোমিও সেবন করা প্রয়োজন।

39
শীতকালে মুখ ও চুলের যত্নের চেয়েও বেশি যত্ন নেওয়া উচিত পায়ের। কারণ, পা ধুলোবালির সংস্পর্শে বেশি আসে। যার ফলে অনেকেরই গোড়ালি ফেটে বিচ্ছিরি হতে শুরু করে।

শীতের দিনে পা ফাটার সমস্যা প্রকট হয়। তাই আজ থেকেই যদি আপনি প্রচেষ্টা শুরু করেন, তাহলে তীব্র শীতেও পা থাকবে পরিষ্কার ও কোমল। কিভাবে চেষ্টা করবেন তা এবার জেনে নিন...

* প্রতিদিন কাজকর্মের শেষে বাড়িতে ফিরে অন্তত মিনিট ২০ পা ডুবিয়ে রাখুন শ্যাম্পু মেশানো উষ্ণ পানিতে। এরপর পামিস স্টোন বা ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে নিয়ে একবার ধুয়ে নিন। তারপর ক্রিম মেখে, চটি পরে নিন। রাতে ঘুমানোর সময় ডিপ ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।

* পায়ের ত্বকের মৃত কোষ প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে, জমতে দিলেই কিন্তু কড়া পড়ার আশঙ্কা বাড়বে। চালের গুঁড়া, মধু, লেবুর রস, দুধের সর দিয়ে ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরি করে নিন। এই প্যাক লাগিয়ে খানিকক্ষণ রাখুন। শুকনো হয়ে গেলে ঘষে ঘষে তুলে নিন।

* পা ধুয়ে নেয়ার পর অ্যালো ভেরা জেল আর অলিভ অয়েলের একটা মিশ্রণ তৈরি করে পুরো পায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।

* কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ফুটো করে তেলটা বের করে নিন। তারপর পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে ভিটামিন ই মিশিয়ে সেটা পায়ে মেখে ফেলুন। রাতে এই প্রলেপ লাগিয়ে মোজা পায়ে ঘুমালে দারুণ নরম থাকবে পা।

* যাদেরকে পা ফাটার সমস্যা খুব বেশি ভোগায়, তারা রাস্তায় বের হওয়ার আগে মোজার সঙ্গে পা ঢাকা জুতা পরুন। বিশেষ করে গোড়ালি ঢাকা জুতা।

* গোসলের পর পায়ে ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নেওয়া আবশ্যক, তারপর পা-ঢাকা জুতা পরার আগে ভালো করে ক্রিম মেখে মোজা পরে জুতা পরলে সুস্থ থাকবে গোড়ালি।
 সূত্র : জি নিউজ

40
চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। নারী পুরুষ উভয়ই এ সমস্যায় পড়ে থাকেন। অন্য সময়ের চেয়ে শীতকালে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ফলে নতুন চুল গজানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন সবাই। তবে কয়েকটি নিয়ম মানলেই চুল পড়া সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে আর একইসঙ্গে গজাবে নতুন চুল। আসুন জেনে নেই নতুন চুল গজানোর উপায়

নারকেল তেল

নারকেল তেল চুলের জন্য খুব কার্যকরী। চুলের ভেতরে এ তেল থেকে পুষ্টি পায়। নারকেল তেলে রয়েছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে দ্রুত চুল লম্বা হয়, সেইসঙ্গে নতুন চুল গজায়। এ ছাড়া চুল হয় ঝলমলে ও কোমল।

হেয়ার ম্যাসাজ

ম্যাসাজ করলে নতুন চুল গজাবে খুব শিগগিরই। এজন্য তেল বা হেয়ার মাস্ক মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে ও নতুন চুল গজাবে। নিয়মিত চুল চিরুনি করতে ভুলবেন না যেন।

খাবারে ওমেগা রাখুন

চুল পড়া সমস্যা রোধ ও নতুন চুল গজাতে কার্যকরী উপাদান হলো ওমেগা। চুল পড়া রোধে ও নতুন চুল গজানোর জন্য ওমেগা ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ওমেগা গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবারে ভিটামিন

শরীর যদি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন না পায়, তবে চুলেও পুষ্টি পৌঁছায় না। এজন্য সুষম খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এতে নতুন চুল গজাবে দ্রুত আর চুল পড়াও বন্ধ হবে। তবে চুলের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান হলো- ভিটামিন-এ, বায়োটিন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, আয়রন এবং জিঙ্ক।

ধূমপান ত্যাগ

ধূমপানের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যেও ওপর নয়, চুলের ওপরও পড়ে থাকে। এতে চুলের ফলিকল নষ্ট হয়। ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। এ কারণেই ধূমপায়ীদের চুল দ্রুত পেকে যায় ও টাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রোটিন গ্রহণ

যখন আপনার শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন পাবে না, তখনই চুল পড়া শুরু হয়। দিনে অন্তত ৫০-১০০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। তবে অবশ্যই ই ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেই তা গ্রহণ করতে হবে।

41
চুল পাকা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাকা চুলের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে প্রাকৃতিক উপায়ে। কম বয়সে চুল পাকার পেছনে জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি, অস্থিরতা, ধূমপান, দূষণ, মানসিক চাপ প্রভৃতি বিষয় কাজ করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেনে নিন প্রাকৃতিকভাবে চুল পাকা বন্ধ করার উপায়...

* আমলকি, এই প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানটি পাউডার ও তেল দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। আমলা তেল চুলের কালো রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পাউডার চুলকে খুশকি মুক্ত রাখতে ব্যবহার করা যায়।

* পেঁয়াজ বাটা চুলের অকালে পেকে যাওয়া ঠেকাতে অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। পেঁয়াজ বেটে প্রতিদিন চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। অল্প কয়দিনের মধ্যেই পাকা চুলের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

* আমলকির গুঁড়ার সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। তারপর ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। পাকা চুলের সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

* বাদাম চুলের জন্য খুবই উপকারী। সুন্দর চুল ধরে রাখতে বাদাম খাওয়ার পাশাপাশি বাদামের তেল চুলে লাগালে চুল স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

* পাকা চুলের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিদিন নারিকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় মাখুন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই পাকা চুলের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

* ছোলা বি১২ ও ফোলিক এসিডে ভরপুর। তাই সকালে খালি পেটে ছোলা খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পাশাপাশি চুল কালো করার জন্যে যথেষ্ট উপাদেয়।

* চুলের সুরক্ষায় হেনার ব্যবহার অনেক পুরনো। চুল ধূসর হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সরিষা তেলের সঙ্গে হেনা পাতার মিশ্রণ অনেক উপকারি।

42
মাঝে মাঝেই ভীষণ ক্লান্ত লাগে? এদিকে হাজারটা কাজের চাপে সেদিকে নজর দেয়ারও সময় মেলে না? কাজের চাপ যতই থাকুক, এই ক্লান্তিবোধকে কখনো অবহেলা করবেন না। আবার এই ক্লান্তি যে কাজের চাপের কারণেই দেখা দিচ্ছে, এমনটা না-ও হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে। মেয়েদের তো বটেই, ছেলেদেরও রক্তে আয়রনের ঘাটতি এখনকার দিনে বড় সমস্যার।

শরীরে মিনারেলের অভাব দেখা দিলে আয়রনের অভাব দেখা যায়। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। এছাড়া রক্তে এক ধরনের ব্লাড সেল থাকে যা রক্তে অক্সিজেন সঞ্চালনে সাহায্য করে। আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও কমে যায়।

আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত চুল পড়লেও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। রক্তে আয়রনের অভাব হলে সৃষ্টি হতে পারে নানা জটিলতার। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক কী খাবেন-

ড্রাই ফ্রুট
সকালের খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট, কাজু বা আমন্ড। এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যা শরীরকে আয়রন শুষে নিতে সাহায্য করে। সকালের খাবার ছাড়াও দিনের অন্য সময় এক মুঠো বাদাম আপনার আয়রনের ঘাটতি মেটাতে পারে।

ডাল
ডাল প্রায় প্রতিদিনই থাকে অনেকের খাবারের তালিকায়। সেদ্ধ বিন সাত থেকে নয় মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন জোগাতে পারে শরীরে। এক কাপ ছোলায় রয়েছে তিন থেকে পাঁচ মিলিগ্রাম আয়রন। সেদ্ধ ডালের পানি প্রতিদিন খেলে উপকার পাবেন।

সয়াবিন
সয়াবিন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সেলেনিয়ামের ভালো উৎস। নিয়মিত সোয়বিন খেলে হার্টের অসুখ, ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ভালো থাকে হাড়ের স্বাস্থ্যও।

সবুজ শাকসবজি
প্রতিদিন পালং শাক, সবজি, স্যুপ খান। পালং শাকে আয়রন রয়েছ প্রচুর। এছাড়াও ছানা বা পনির, ডিম, চিকেন, কলিজা খেলেও শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন পাবে।

আপেল
আপেলে আছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে শূন্য দশমিক তিন এক মিলিগ্রাম আয়রন। এটি হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। ডেজার্ট, সালাদ, অথবা স্মুদি তৈরিতে আপেল ব্যবহার করতে পারেl

খেজুর
আয়রনের খুব চমৎকার একটি উৎস হলো খেজুর। এর মধ্যে আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি৬। খেঁজুরের মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটিও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চকোলেট আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে। ডার্ক চকোলেট শুধুমাত্র আয়রনের ঘাটতিই পূরণ করেনা, স্ট্রেস কমায় এবং ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

Source:https://www.jagonews24.com/lifestyle/news/623960

43
ওজন কমানো আর পেটের মেদ দূর করা এক নয়। অনেক সময় ওজন কমলেও পেটে ঠিকই মেদ জমে থাকে। মেদ দূর করার জন্য প্রয়োজন পড়ে বাড়তি যত্নের। ডায়েটে নিয়ন্ত্রণ, কঠোর পরিশ্রমের পরেও এটি কমতে সময় নিতে পারে। এর গতি অনেক সময় এতটাই ধীর হয় যে, অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে পেটের অতিরিক্ত মেদ দূর করার সহজ ছয় উপায়-

ডায়েটে প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন
অন্ত্রের স্বাস্থ্য আমাদের ওজন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই পেটের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী প্রোবায়োটিক পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় এটি দেখা গেছে যে, প্রোবায়োটিক পেটের মেদ পোড়াতে পারে।

ফাইবার
নিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং ভারী শরীরচর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপ নিতে না চাইলে, অতিরিক্ত পেটের মেদ কমানোর জন্য অবশ্যই ফাইবার গ্রহণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। বেশি দ্রবণীয় ফাইবার খেলে তা আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্ত রাখে এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ কমিয়ে আনে।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
অ্যালকোহল পান করলে পেটে চর্বি জমে এবং কোমরের লাইনের চারপাশে ফ্যাট স্টোরেজ বাড়তে পারে। বেশিরভাগ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে তোলে। অতিরিক্ত ক্যালোরি পেটের অঞ্চলে জমা হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বেরি
পেটের চর্বি কমানোর এক দুর্দান্ত উপায় হলো সেই ফ্যাটযুক্ত নাস্তার বদলে বেরি জাতীয় ফল খাওয়া। এগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়, পাশাপাশি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যেও সমৃদ্ধ।

ঘুমের সাথে আপস করবেন না
ঘুমের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়তে পারে। খুব অল্প ঘুম করটিসোলকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুতরাং, এটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারছেন।

চিনিকে না বলুন
যদি সত্যিই আপনার পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে চান তবেচিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা শুরু করুন। চিনি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা শরীরকে ফ্যাট সংরক্ষণে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ পেটে জমতে থাকে মেদ।

Source:https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/626246

44
Women / নারী ঘরের রানি
« on: January 03, 2021, 11:00:27 AM »
রাসূল (সা.) যখন দুনিয়ায় আগমন করেন, সে সময়টাকে অন্ধকার যুগ বলা হয়। সময়টা ছিল মানবতার ক্রান্তিকাল। পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধ ছিল ভয়াবহ মাত্রায়। নীতিনৈতিকতার তোয়াক্কা ছিল না। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গোষ্ঠীযুদ্ধ চলত বছরের পর বছর। মানবাধিকার ছিল চরমভাবে পর্যবসিত। সবদিকে ছিল ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মানবতার সেই ক্রান্তিকালে নারী সমাজও চরমভাবে নিগৃহীত ছিল। নারীদের নিয়ে তখনকার সমাজে নানা কুসংস্কারের চর্চা ছিল। ইতিহাস ও কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনায় পাওয়া যায়, খ্রিষ্টানরা নারীদের পিরিয়ডকালীন তাদের আলাদা গুরুত্ব দিত না। বরং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করত। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যা খুবই মন্দ একটি বিষয় বলে বিবেচিত। তা ছাড়া এটি মানসিক ও শারীরিক হেনস্তাও বটে। আবার ইহুদি আর অগ্নিপূজারিরা পিরিয়ডের সময় নারীদের ঘর থেকে বের করে দিত। ভেবে দেখুন তো, একজন গৃহিণীকে তার স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের সময় ঘর থেকে বের করে দেয়ার চিত্রটা কতটা অমানবিক! কন্যাসন্তান হলে সম্মানহানিকর মনে করা হতো। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো। এ ধরনের বহু অমানবিক নারীবিরোধী কুপ্রথা তখনকার সমাজে প্রচলিত ছিল। রাসূল (সা.) দুনিয়ায় এসে এ অশুভ রাহুর কবল থেকে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটালেন। তিনি এসে নারীদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দিলেন। নারীরাও যে সমাজের অনিবার্য অংশ, তারাও যে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে, তিনি তাঁর কথা ও কাজে প্রমাণ রাখলেন। এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, নারী ও সুগন্ধি আমার প্রিয়। মুজামে আওসাত ০৬/৫৩।

আরেক হাদিসে এসেছে, আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, আমিও আমার প্রাণাধিক প্রিয় রাসূল (সা.) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। (সহি বোখারি হা. ৫৯৫৫)। আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়ে যাই দান করবে, তার জন্য সওয়াব পাবে। এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে খাবার তুলে দাও, তার জন্যও। (সহি বোখারি হা. ৫৬)।

রাসূলের এসব কথা তখনকার সময়ের, যখন নারীদের কুলক্ষণে মনে করা হতো। অচ্ছুত মনে করা হতো। তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, নারী ঘরের রানি; নারীরা ভালোবাসার পাত্র, ঘৃণার নয়। তাদের অপমান করা যাবে না। সমাজে পুরুষের সমান্তরালে রয়েছে নারীর ন্যায্য হিস্যা। আজ বিশেষত যখন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের মতো ভয়াবহ সামাজিক অপরাধের দৌরাত্ম্য চলছে, তখন আমাদের আবার রাসূল (সা.)-এর জীবনচরিত পাঠ করতে হবে। মুসলিমদের জন্য তিনিই অনুপম আদর্শ। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণেই রয়েছে মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি।

45
নামাজ ফার্সি শব্দ। এর আরবি হল সালাত। নামাজ বা সালাত কায়েম করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।

নামাজ ফার্সি শব্দ। এর আরবি হল সালাত। নামাজ বা সালাত কায়েম করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।

নামাজ এক ধরনের নিয়ামত। এটি সর্বাপেক্ষা উত্তম দোয়া বা প্রার্থনা। আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই নামাজ [নামাজিকে] অশ্লীলতা এবং মন্দ কাজ থেকে মুক্ত করে। -সূরা আনকাবুত : ৪৬

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন- তুমি তোমার পরিবারদের নামাজের তাগিদ করতে থাক। আমরা তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না; বরং আমরাই তোমাকে রিজিক দিচ্ছি। বস্তুত তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্যই উত্তম পরিণাম।-সূরা ত্বাহা : ১৩৩

আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে রাত জেগে নামাজ পড়তেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক জানেন, তুমি দাঁড়িয়ে থাক রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু কম এবং কখনো অর্ধেকাংশ এবং কখনো বা এক তৃতীয়াংশ এবং [দাঁড়িয়ে থাকে] তাদের এক দলও যারা তোমার সঙ্গে রয়েছে। -সূরা মুজ্জাম্মিল : ২১।

নামাজের মাধ্যমে আজ্ঞানুবর্তিতার শিক্ষা লাভ করা যায়। তাছাড়া নেতার অধীনে চলা, সময়ানুবর্তিতা, সামাজিক সাম্য, একতা ও ভ্রাতৃত্ব, দৈহিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, একাগ্রচিত্ততা, পাপবর্জন এবং পুণ্যার্জন, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং নিদর্শন লাভ করা, সামাজিক কদাচার পরিহার, শান্তি ও সুস্থির মনোভাব, কষ্ট-সহিষ্ণুতা এবং সময়ের সদ্ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে নামাজে বহু শিক্ষা রয়েছে।

সর্বোপরি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, সিজদা করো কাছে আসো। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, যে যত বেশি সিজদা করবে, সে তত বেশি আল্লাহতায়ালার কাছে যাবে; অর্থাৎ নৈকট্য লাভ করবে।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিআতুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া গাজীপুর

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 23