Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 ... 19 20 [21] 22 23 24
301
গ্যাসের সমস্যায় আমরা কম বেশি সকলেই ভুগি। বেশিক্ষণ কিছু না খেয়ে থাকলেই গ্যাস হয়ে যায় আমাদের পেটে। ফলে এ থেকে দূর হতে আমরা সচরাচর ওষুধ সেবন করে থাকি। এর ফলে সাময়িকভাবে সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া গেলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান  হয় না। প্রাকৃতিক অনেক উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করে গ্যাসের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। নিচে তেমনই কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো :

আদা : গ্যাস-অম্লের জন্য আদা খুবই উপকারি। ২০০৮ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ গ্যাসট্রোএনটেরেলজি এন্ড হেপ্যাটোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে একটি তথ্য। যে আদা খাওয়ার ফলে হজম খুব তাড়াতাড়ি হয়। পেট যদি খুব তড়াতাড়ি খালি হয়ে যায় তাহলে সেই খালি পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মশলাদার অথবা ভারী কোনও খাবার খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে এক কুঁচি আদা খেয়ে নিলে আর কোনও সমস্যাই থাকবে না।

রসুন : রসুন গ্যাসের জন্য খুবই উপকারি। রসুন শুধুমাত্রই খাবারে অন্য স্বাদ আনে না। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে যা হজম করতে সাহায্য করে।

জিরা : যে কোনো খাবারে অল্প একটু জিরে গুঁড়ো দিলে খাবারের স্বাদ পরিবর্তনের সঙ্গে ভালো হয়ে যাবে গ্যাসের সমস্যাও।

তুলসী পাতা : সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জলে তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর করা যায়। এছড়াও এই পাতার রস খেলে খুব তাড়াতাড়ি রোগাও হওয়া যেতে পারে।

মেনথল : মেনথল গ্যাসের সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি দূর করতে পারে। চায়ের সঙ্গে মেনথল মিশিয়ে খেলে গ্যাসের পাশাপশি হজম খুব সহজে এবং শরীর বেশ সতেজ লাগে।

বিডি প্রতিদিন/

302
দেহের রেচন প্রক্রিয়াসহ সব ধরনের বর্জ্য পদার্থ নির্গমনের কাজ করে কিডনি। তবে কিডনি যেকোনো মুহূর্তে অকেজো হয়ে পড়তে পারে কিংবা এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শুরু থেকে কিডনির সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা জরুরি। কারণ যদি কিডনির সমস্যার লক্ষণ শুরু থেকে জানা থাকে, তাহলে সমস্যা অল্প থাকতেই চিকিৎসার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব।

চলুন জেনে নেই কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলো সম্পর্কে।

১. দুর্বলতা
কিডনি সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হচ্ছে দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতা আসে রক্তশূন্যতা থেকে। কিডনি যদি ঠিকমত কাজ না করতে পারে তাহলে রক্ত ক্রমাগত দূষিত হতে থাকে। যার কারণে রক্তে নতুন করে ব্লাড সেল উৎপন্ন হয় না। এছাড়াও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন এরিথ্রোপ্রোটিন উৎপন্ন করতে পারে না। এই হরমোন বোন ম্যারো থেকে ব্লাড সেল উৎপাদনে সাহায্য করে।

২. শ্বাসকষ্ট
যখন কিডনি কাজ করা বন্ধ করতে শুরু করে, তখন শরীরের বর্জ্য পদার্থ রক্তে মিশতে শুরু করে। এই বর্জ্য পদার্থের বেশিরভাগই হচ্ছে অম্লীয় পদার্থ। তাই এই বর্জ্য যখন রক্তের সাথে ফুসফুসে পৌঁছায় তখন ফুসফুস সেই বর্জ্য বের করার জন্য কার্বনডাই অক্সাইড ব্যবহার করা শুরু করে। যার কারণে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ফুসফুসে ঢুকতে পারে না। এতে আপনার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।

৩. চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা মানসিক অস্থিরতা
কিডনির সমস্যা আপনার চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা মানসিক অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শরীরের বর্জ্য পদার্থের একটি বড় অংশ হচ্ছে ইউরিয়া। কিডনির সমস্যার কারণে ইউরিয়া শরীর থেকে বের না হয়ে বরং রক্তে মিশে যায়। এই দূষিত রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছে মানসিক অস্থিরতা, ঝাপসা দেখা এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। যদি ইউরিয়ার পরিমাণ অত্যধিক হয় তাহলে তা মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে, যার ফলাফলে রোগী কোমাতে পর্যন্ত চলে যেতে পারেন।

৪. শরীরে চুলকানির উপসর্গ
কিডনির অক্ষমতায় শরীরে প্রিউরিটাস দেখা দেয়। প্রিউরিটাস আসলে চুলকানির মেডিক্যাল নাম। শরীরের রক্তে যখন বর্জ্য পদার্থ মিশতে শুরু করে তখন চুলকানির উপসর্গ দেখা দেয় কারণ ওই বর্জ্যের মধ্যে ফসফরাস থাকে। যেসব খাবারে ফসফরাস থাকে যেমন দুধজাতীয় খাবার, সেগুলো হজমের পর ফসফরাস বর্জ্য হিসেবে মূত্রের সাথে বের হতে পারে না। যার কারণে এটি রক্তে মিশে চামড়ায় চুলকানি সৃষ্টি করতে থাকে।

৫. মূত্রের রং পরিবর্তন এবং রক্তক্ষরণ
কিডনির সমস্যায় মূত্রের রং পরিবর্তন হয়ে যায়। কারণ, কিডনির অক্ষমতায় রেনাল টিউবিউলস এর ক্ষতি হয়, যা পলিইউরিয়ার সৃষ্টি করে। এর মানে হচ্ছে আপনার অধিক পরিমাণে মূত্র তৈরির কাজ করে। তবে কিডনির অক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে, মূত্রের পরিমাণ ততই কমবে। এবং মূত্রের রং গাঢ় হলুদ কিংবা কমলা রং হয়ে যাবে। সেই সাথে মূত্রের সাথে রক্তক্ষরণ এবং অত্যধিক ফেনা হতে পারে।

৬. অরুচি
শরীরের বর্জ্য পদার্থের আরেকটি উপাদান হচ্ছে অ্যামোনিয়া। যদি অ্যামোনিয়া রক্তে মেশে তাহলে তা শরীরে প্রোটিন নষ্ট করে ফেলে। কিডনির অক্ষমতায় শরীর বর্জ্য হিসেবে অ্যামোনিয়া ফিল্টার করতে পারে না। রক্তে অত্যধিক পরিমাণের অ্যামোনিয়া মুখে অরুচি, ওজন হারানোর মত সমস্যার সৃষ্টি করে।

৭. শরীরে ব্যথা
একটি জেনেটিক কন্ডিশনের কারণে শরীরের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে কিডনি এবং লিভারে এক ধরনের ফ্লুইড ভর্তি সিস্ট বা গুটির সৃষ্টি হয়। এই সিস্টের মধ্যে থাকা ফ্লুইড এক ধরনের বিশেষ টক্সিন বহন করে, যা শরীরের শিরা বা ধমনী গুলোতে ক্ষতি করতে পারে। একাধিক শিরার বা ধমনীর ক্ষতি হলে তা শরীরে ব্যথা সৃষ্টি করে। এই ব্যথা সাধারণত ভোঁতা অনুভূতি, খোঁচা কিংবা জ্বলুনির মত হতে পারে। সাধারণত এই ব্যথাগুলো শরীরের পেছনের অংশে, পায়ে কিংবা কোমরে হতে পারে।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে সমস্যা হলে কোন ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। তাই কিডনির নিয়মিত চেক আপ উচিত।

সূত্র: ইন্টারনেট

বিডি প্রতিদিন/ ৭ জুন ২০১৮/

303
এই গরমে নিজেকে ভালো রাখতে গেলে একটু তো রূপচর্চার প্রয়োজন পড়ে। ভাবছেন কী দিয়ে রূপচর্চা করবেন। খুব সহজেই আম দিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। আমের মধ্যে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, কপার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। এ ছাড়াও গরমে সানস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করে আম।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে:
অনেক সময় যত্নের অভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। তাহলে সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্যবহার করে দেখুন। উপকার পাবেন।

১ চামচ আমের পাল্প, ২ চামচ ময়দা, ১ চামচ মধু দিয়ে একটি প্যাক বানান। এরপর পুরো মুখের মধ্যে লাগান। ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ট্যান পড়ে যাওয়া ত্বক:
আমের ফেস-প্যাক কিন্তু ট্যান তুলতে দারুণ কাজ দেয়। ১ চামচ আমের পাল্পের সঙ্গে ২ চামচ বেসন, ১ চামচ মধু মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন। অন্তত ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মৃত কোষ:
অনেক সময়ে আমাদের যত্নের অভাবে ত্বকের মধ্যে ধুলো, ময়লা জমতে থাকে এবং মুখের মধ্যে মৃত কোষগুলি থেকে যায়। ত্বকের যত্ন নিতে অনায়াসে আম ব্যবহার করতে পারেন। আমের পাল্পের মধ্যে ১ চামচ মধু, ১ চামচ দুধ মিশিয়ে একটি স্ক্র্যাবার বানিয়ে নিন। এর পরে মুখে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

নরম ও কোমল ত্বক:
যদি নরম ও কোমল ত্বক রাখতে চান তা হলে ২ চামচ আমের পাল্প, ১ চামচ ওটস, ২ চামচ দুধ মিশিয়ে স্ক্র্যাবার বানিয়ে নিন। এরপর ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। স্ক্র্যাবারটি মুখে শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

ব্রণ:
ব্রণ থেকে মুক্তি দিতে পারে আম। ১ চামচ আমের পাল্প, ২ চামচ টক দই ও ২ চামচ মধু দিয়ে প্যাকটি বানিয়ে নিন। ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এর পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিন।


বিডি প্রতিদিন/৬ জুন ২০১৮/হিমেল

304
পেঁপে আমাদের দেশের খুবই পরিচিত একটি ফল বা সবজি। একে ফল বা সবজি দুটোই বলা যায়। কাঁচা অবস্থায় পেঁপে সবজি, ভর্তা, ভাজি বা রান্না করে খাওয়া যায়। আর পাকা পেঁপে তো অতীব রসালো ও সুস্বাদু ফল।  প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম থাকে। এছাড়াও পেঁপে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো শুধুমাত্র শরীরের চাহিদাই মেটায় না, বরং রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে। এটি অজীর্ণ রোগ, কৃমির সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা ও ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে। চলুন পেঁপের আরো কিছু উপকারী গুণ জেনে নেই-
১. ওজন নিয়ন্ত্রণে পেঁপে বেশ কার্যকর:  ওজন কমাতে খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখা যায়। পেঁপের ক্যালরির পরিমাণ খুব কম। এছাড়া পেঁপেতে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সবজি হিসেবে পেঁপে অনন্য।
২. হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতেও পেঁপে খাওয়া যায়। আমাশয় ও পেট ফাঁপা দূর করেতেও পেঁপে সাহায্য করে।
৩. চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে: পেঁপের ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টি রোগ প্রতিরোধেও পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
৪. রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে: দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেঁপে জোরদার ভূমিকা রাখে । নিয়মিত পেঁপে খেলে সাধারণ রোগবালাই দূরে থাকে।
৫. ডায়াবেটিস রোগের পথ্য: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁপে বেশ উপকারী ফল। ডায়াবেটিস রোগ এড়ানোর জন্যও পেঁপে খাওয়া যেতে পারে।
৬.তারুণ্য ধরে রাখে: পেঁপেতে থাকা বিভিন্ন উপাদান বয়সের ছাপ লুকিয়ে রাখে। নিয়মিত পেঁপে খেলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার প্রবণতা কমে যায়।
৭. ক্যানসার প্রতিরোধ করে: পেঁপে কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৮. হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে: পেঁপে ভিটামিন এ, সি, ই এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এর চমৎকার উৎস। এই খাদ্য উপাদানগুলো কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সাহায্য করে।  ফলে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমে। এছাড়া পেঁপেতে থাকা আঁশ রক্তের উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। এতে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।
৯. চুলের যত্নে বেশ কার্যকর: চুলের যত্নে পেঁপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টক দইয়ের সাথে পেঁপে মিশিয়ে চুলে মাখলে চুলের গোড়া শক্ত হয় ও চুল ঝলমলে হয়।

Source:https://islameraalo.wordpress.com/

 

305
Hadith / দু’আ কবুলের গল্প
« on: June 06, 2018, 12:19:12 PM »
বৃদ্ধ মানুষটি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন মসজিদের সামনে!

এত রাতে কোন মানুষজনের ঘরে গিয়ে তাঁদের কষ্টের কারণ হতে চান নি তিনি। সেকারণেই চেয়েছিলেন মসজিদেই কাটিয়ে দিবেন রাতটুকু। নফল নামাজ আর কিছুটা ঘুমিয়ে দিব্যি রাত কাটিয়ে দেয়া যেত।

কিন্তু বাধ সাধলেন মসজিদের খাদেম। কোন এক অজানা কারণে তাঁকে পছন্দ করলেন না খাদেম। স্রেফ মানা করে দিলেন খাদেম– মসজিদে রাত কাটানো যাবে না। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে খাদেম সাহেব সেই কথাটি-ই বেশ উঁচু গলায় কথা বলে দিলেন বৃদ্ধকে।

মরমে মরে গেলেন বৃদ্ধ মানুষটি। মসজিদ লাগোয়া রুটির দোকানে মধ্য বয়স্ক একজন বিশাল তন্দুরে রুটি বানাচ্ছেন। খাদেমের চড়া গলা তাঁর কানে পর্যন্ত গেল। রুটি বানানো বন্ধ রেখে মধ্যবয়স্ক মানুষটি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ মানুষটির কাছে।

– আসসালামু আলাইকুম। পথিক বুঝি আপনি? আপনার আপত্তি না থাকলে আজকের রাত আমার সাথে কাটিয়ে দিতে পারেন আপনি। আমি ওপাশের দোকানে রুটি বানাই, একটু কষ্ট হয়তো হবে আপনার।
খুব খুশি হলেন বৃদ্ধ মানুষটি। রুটি বানানো লোকটির সাথে গিয়ে তার ঘরে উঠলেন। বৃদ্ধের শোয়ার আয়োজন করে দিয়ে আবার রুটি বানাতে লেগে গেলেন মানুষটি। বিছানায় আধশোয়া বৃদ্ধ খেয়াল করছিলেন- কাজের ফাঁকে ফাঁকে কি যেন পড়ছেন তাঁকে আশ্রয় দেয়া মানুষটি।

বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন,

– কিছু মনে না করলে আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ভাই? রুটি বানাতে বানাতে আপনি কিছু পড়ছেন মনে হচ্ছে। দয়া করে বলবেন কি পড়ছেন?
– তেমন কিছু না, ইস্তিগফার (মহান আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) করছি।
– এই যে কাজের ফাঁকেও একটানা ইস্তিগফার করছেন, কোন লাভ কি হয়েছে আপনার?
– জ্বী জনাব। আলহামদুলিল্লাহ, আমার মনে হয় এই ইস্তিগফারের কল্যাণেই মহান আল্লাহ এখন পর্যন্ত আমার যাবতীয় দোআ কবুল করেছেন; শুধু একটি দোআ ছাড়া।
– আপনার কোন দোআটি কবুল করেন নি আল্লাহ পাক?
– আমাদের এখান থেকে অনেক দুরে আল্লাহর প্রিয় এক বান্দা থাকেন। জ্ঞান-গরিমা-মেধা-যুক্তি সবকিছুতেই আল্লাহ পাকের রহমতপ্রাপ্তদের একজন তিনি। আমার খুব শখ – একবার যদি তাঁর সাথে দেখা করতে যেতে পারতাম। কিছুটা সময় যদি কাটাতে পারতাম সেই জ্ঞানী বান্দার সাথে। আল্লাহ পাক আমার এই প্রার্থনাটি-ই শুধু কবুল করেন নি এখনও। নিশ্চয়ই কবুল করবেন তিনি। আমার কোন গুনাহের কারণে হয়তো এখনো কবুল হচ্ছে না।

বৃদ্ধ মানুষটির চোখ ভারী হয়ে এলো কান্নায়। ধরা গলায় কান্না চেপে জিজ্ঞেস করলেন তিনি,

– আপনি কি আহমদ ইবনে হাম্বলের কথা বলছেন ভাই?
– জ্বী জনাব। আমি শায়খুল ইসলাম, জগত বিখ্যাত মুজতাহিদ ও মুহাদ্দীস ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল এর কথাই বলছি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি অবিরাম রহমত বর্ষণ করুক।

বৃদ্ধ মানুষটি এবার উঠে এসে পাশে দাঁড়ালেন-

“সেই পবিত্র স্বত্তার কসম- যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আপনার ইস্তিগফার আল্লাহ পাক শুধু কবুল-ই করে নি, উপরন্তু আমাকে এই দূর দেশে, অচিন শহরে, মধ্য রাতে – আপনার ঘর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি-ই মহান আল্লাহ তাআ’লার সেই অধম বান্দা – আহমাদ ইবনে হাম্বল!”

“….আমি মহান আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি।”

[সুত্রঃ মানাকিব আল ইমাম আহমাদ]

306
Hadith / গাছ লাগানো সদাক্বা !
« on: June 06, 2018, 12:09:04 PM »
বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ এবং পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর কাজ গুলোর মধ্যে একটা হল বৃক্ষরোপণ। বন জঙ্গল কেটে যত বেশি বসতি বা কারখানা তৈরি হচ্ছে ততই বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছ যত কমবে সমস্যা ততই বাড়বে। সেটা দুষিত বায়ুর সমস্যা হোক কিংবা মেঘ-বৃষ্টি না হওয়ার সমস্যা। সরকার এবং সমাজসেবামুলক সংগঠন গুলো এব্যাপারে খুবই সচেতন। সরকারীভাবে বারবার বৃক্ষরোপণ প্রকল্প নেওয়া হয়। গাছ লাগাতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে প্রচারনাও চালানো হয়। যখন কোন ব্যক্তি বা সংস্থা জনকল্যাণের জন্য গাছ লাগায় তখন মিডিয়া, সরকার বা জনগণ তাকে/তাদের বাহবাহ দেয়। অনেক সময় পুরুস্কৃতও করে। মোট কথা গাছ লাগানো বর্তমান সময়ে খুবই ভালো একটা কাজ। এবং এই কাজের মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং পৃথিবীর অনেক মঙ্গল।
ইসলামে গাছ লাগানো খুব ভালো একটা কাজ। এব্যাপারে অনেকগুলো হাদিস আছে। আমি মাত্র কয়েকটি হাদিস শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।
✿ আনাস বিন মালেক (রা) কর্তৃক বর্ণিত, নবী কারীম (সা) বলেছেন, ‘কিয়ামাত কায়েম হয়ে গেলেও তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে’। (আহমাদ/১২৯৮১, বুখারীর আদাব/৪৭৯, সহীহুল জামে’/১৪২৪)
✿ জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘যে কোন মুসলিম যখন কোন গাছ লাগায় অতঃপর তা হতে যা (পাখী, মানুষ অথবা পশু দ্বারা তার ফল ইত্যাদি) খাওয়া হয়, তা তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয়। যা চুরি হয়ে যায়, তাও তার জন্য সদকাহ স্বরুপ হয় এবং যে কেউ তা (ব্যবহার) দ্বারা উপকৃত হয়, তাও তার জন্য কিয়ামাত অবধি সদকাহ স্বরুপ হয়’। (মুসলিম/৪০৫০; গায়াতুল মারাম/১৫৮)
✿ আব্দুল্লাহ বিন হুবশী (রা) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (খামোখা) কোন কুল গাছ কেটে ফেলবে (যে গাছের নিচে মুসাফির বা পশু-পক্ষী ছায়া গ্রহণ করত), সে ব্যক্তির মাথাকে আল্লাহ সোজা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’। (আবু দাউদ/৫২৪১)
উপরের হাদিস তিনটিতে একটু খেয়াল করুন। প্রথম হাদিসে বলা হচ্ছে কিয়ামাতের সময়েও যদি কারো কাছে চারা গাছ থাকে সম্ভব হলে সে যেন তা রোপণ করে। আমরা সকলেই কম বেশি জানি কিয়ামাত কত ভয়ংকর সময়। কিন্তু গাছ লাগানোটা এত জরুরি যে সেই ভয়ংকর সময়তেও গাছ লাগাতে বলা হয়েছে। চোখ বন্ধ করে একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন গাছ লাগানোর মহাত্ম্য। দ্বিতীয় হাদিসে গাছ লাগানোর উপকারিতা বলা হয়েছে। কেউ একটা গাছ লাগালো, সেই গাছ থেকে যত মানুষ, পশু পাখী যে কোন ভাবে উপকৃত হল তার নেকি গাছ রোপণকারী ব্যক্তি পাবে। এমনকি মৃত্যুর পরেও সেই গাছ থেকে সে নেকি পেতে থাকবে। তৃতীয় হাদিসে, কুল গাছের মতো সাধারণ গাছ অকারণে কাটার শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের কথা বলা হয়েছে।
দুটি পয়েন্ট পরিস্কার হল। এক, বর্তমান বিশ্বে গাছ লাগানো সবথেকে কল্যানকর কাজ গুলোর একটি। দুই, আজ থেকে সারে চৌদ্দশ বছর আগে ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে গাছ লাগানোর এবং গাছ না কাটার।
এবার আরো একটি ব্যাপারে আলোচনা করা যাক। আমাদের বুঝতে হবে, ইসলামে ‘ধর্ম এবং দুনিয়া’ আলাদা নয়। ইসলামে ধর্ম এবং দুনিয়া একই। তাই ইসলামকে দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা বলা হয়। আর ইসলাম শুধু (প্রচলিত) ইবাদত বা উপাসনাকেন্দ্রিক ধর্মও নয়। ইসলামে আদেশকৃত প্রত্যেকটা কাজ করাই ইবাদত এবং নিষেধকৃত প্রত্যেকটা কাজ না করাও ইবাদত। কিন্তু আফসোস বেশিরভাগ মুসলিমরা ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতকেই বোঝে্ন।
গাছ লাগানোর এত এত উপকার এবং ইসলামী নির্দেশ থাকা সত্ত্যেও কি কখনও দেখেছেন বা শুনেছেন ইমাম, উলেমা কিংবা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অথবা কোন মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ইসলামের নামে বৃক্ষোরোপণ প্রকল্প বা প্রচারনা করতে? পশ্চিমবঙ্গে এটা অল্পনীয় ব্যাপার। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসা বা মুসলিম সংগঠনের অভাব নাই। অভাব আছে ‘ইসলামের সৌন্দর্য্য ও বৈশিষ্ট্য’ প্রচারকারী ব্যক্তি বা সংগঠনের। ইসলাম প্রতিষ্ঠা শুধু ইসলামের দাওয়াত দিয়েই হয়নি। হয়েছিল সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর কাজ করার মাধ্যমেও। আমরা যারা ইসলামের জন্য কিছু করতে চাই, আমাদের উচিত ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামে সমাজ সংস্কার এবং সমাজের জন্য কল্যানকর যে সব নির্দেশ ইসলামে দেওয়া হয়েছে সে গুলোকে বাস্তবায়িত করা। আল্লাহ আমাদের ভালো কাজ করার এবং ইসলাম মেনে চলতে সাহায্য করুন। আমীন!

Source:https://islameraalo.wordpress.com/

307
একজন প্রকৃত মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেনা। এমনকি নিজের দুশমনের সাথেও না। মুসলিম হবে ইনসাফকারী। কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষের কারনে সে সুবিচার বর্জন করবেনা। বদলা নেওয়ার রাগেও সে কারও প্রতি অন্যায় করবেনা। একটা ঘটনা শুনুন। ইবনে হিশাম, সিরাতুর রাসুল (সা.) ইত্যাদি সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আমি সংক্ষেপে বলছি –
মক্কার কাফেররা ষড়যন্ত্র করে কয়েকজন লোক পাঠায় মদিনায় মুহাম্মাদ (সা.) -এর কাছে। তারা মিথ্যা করে বলে, ‘আমাদের গোত্রে ইসলামের কিছু চর্চা আছে, দ্বীন শিক্ষা ও কুর’আন পড়ানোর জন্য কিছু জ্ঞানসম্পন্ন সাহাবীদের পাঠালে আমরা উপকৃত হবো।’ রাসুল (সা.) তাদের কথায় বিশ্বাস করে, দশ জনের একটি মুবাল্লিগ দল প্রেরণ করেন। কিন্তু কিছুদুর যেতেই তাদের উপর অতর্কিত হামলা করে প্রায় একশজন কাফের তীরন্দাজ। বিশ্বাসঘাতকতা করে মেরে ফেলা হয় আট জন সাহাবীকে। দুজন বেঁচে যান। তাঁরা হলেন, খোবায়েব বিন আদী (রা.) এবং যায়েদ বিন দাসেনাহ (রা.)। এই দুজনকে মক্কায় এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এদের কেনেন দুইজন কাফের শুধুই হত্যা করার জন্য। বদর যুদ্ধে পিতৃহত্যার অন্যায়ভাবে বদলা নেওয়ার জন্য।
হত্যা করার আগে খোবায়েব (রা.) -কে হারেশ বিন আমেরের বাড়ীতে কয়েকদিন বন্দি করে রাখা হয়। এসময় তাকে খাবার দেওয়া হতনা। এমনকি জলও না। একদিন হঠাত, হারেসের ছোট বাচ্চা ছেলেটি ধারালো ছুরি নিয়ে খেলতে খেলতে খোবায়েব (রা.) -এর কাছে চলে আসে। তিনি শিশুটিকে আদর করে কোলে বসান। এই দৃশ্য দেখে বাচ্চাটির মা ভয় পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন। (তিনি ভেবেছিলেন খোবায়েব (রা.) হয়ত বাচ্চাটির কোন ক্ষতি করবে বা মেরে ফেলবে বদলা নেওয়ার জন্য কারণ তাঁর মৃত্যু তো নিশ্চিত!)। তখন খোবায়েব (রা.) বলেন, ‘মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না’।
*** খোবায়েব (রা.) -কে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরে আনা হয়, তাঁর সাথীদের হত্যা করা হয়, অন্যায়ভাবে তাঁকে বিক্রি করা হয়, কিছুদিনের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হবে এতসব জানা সত্তেও তিনি নিজ শত্রুর বাচ্চা শিশুকে আদর করে কোলে বসান এবং কাছে ধারালো ছুরি পেয়েও বাচ্চাটিকে হত্যা করেননি বা পরিবারের অন্য কাউকেও মারেননি। বাচ্চাটির মা ভয় পেলে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন মুসলিম কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেনা। অর্থাৎ বুঝিয়ে দেন নিশ্চিন্ত হও, তোমার শিশুর কিছু হবেনা।

Source:https://islameraalo.wordpress.com/

308
(ক) কবরে ৩টি প্রশ্ন করা হবেঃ

১. তোমার রব্ব কে?

২. তোমার দ্বীন কি?

৩. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যপারে প্রশ্ন করা হবে, তিনি কে বা তুমি কি তাঁকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করেছিলা?

সুনানে আবু দাউদঃ ৪৭৫৩, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ।

(খ) হাশরের ময়দানে ৫টি প্রশ্ন করা হবেঃ

আবু বারযা নাদলা ইবনে উবায়েদ আসলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“কিয়ামতের দিন (হাশরের ময়দানে) বান্দা তার স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকবে,

যে পর্যন্ত না তাকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ

১. তার জীবনকাল কিভাবে কাটিয়েছে,

২. তার জ্ঞান কি কাজে লাগিয়েছে,

৩. তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে,

৪. তার সম্পদ কোথায় খরচ করেছে এবং

৫. তার শরীর কিভাবে পুরানো করেছে?”

সুনানে আত-তিরমিযীঃ ২৪১৭, হাদীসটি হাসান ও সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ।

309
Hadith / আলোকিত শান্তির বাণী
« on: June 06, 2018, 11:42:45 AM »
“যারা সবসময় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে তাদের সাথে উঠাবসা করুন, কেননা তাদের হৃদয় সবচেয়ে কোমল।”
—  হযরত উমার (রা)
“তোমরা কি দেখ না সিংহ কেমন নিশ্চুপ হয়ে থাকে তবু সবাই তাকে ভয় করে, কুকুর তো সবসময় ঘেউ ঘেউ করে এবং সবাই তাকে ঘৃণা করে।”
— ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)
“একজন পাপাচারী লোক তার পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়না। কারণ তার অন্তর ইতোমধ্যেই মরে গেছে।”
— ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)
“কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন কিন্তু তাদের চরিত্র তাদের আজো বাঁচিয়ে রেখেছে, আর কিছু মানুষ বেঁচে আছে কিন্তু তাদের চরিত্র তাদেরকে মেরে ফেলেছে।”
—- ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)
“আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীলতা যেন সেই শিশুটির মতন যে খুব ভালো করে জানে সে যদি মাকে না-ও ডাকে তবু মা তার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন এবং তার সঠিকভাবেই তার দেখাশোনা করছেন।”
—- ইমাম আবু হামিদ আল গাজ্জালি (রাহিমাহুল্লাহ)
“আল্লাহ যেভাবে চান সেইভাবে সবকিছু চলবে তা না চেয়ে বরং আপনার ইচ্ছেমতন চলুক এমন চাওয়ার নিদর্শন হলো আপনার রাগ।”
— ইমাম গাজ্জালি (রাহিমাহুল্লাহ)
“আমাদের জীবনের সবচাইতে স্বাস্থ্যকর উপাদান হচ্ছে সবর (ধৈর্য)।”
— উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
“আপনার অবশ্যই নিজেকে বুঝিয়ে সন্তুষ্ট রাখতে হবে এই বলে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আপনার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন সেটাই আপনার সবচাইতে সঠিক এবং সর্বাধিক কল্যাণকর।”
— ইমাম আবু হামিদ আল গাজ্জালী (রাহিমাহুল্লাহ)
“কোন ভাই যদি আপনাকে গোপনে কিছু কথা বলে চলে যাবার আগে যদি তা অন্য কাউকে বলতে নিষেধ না করেও থাকেন, তবু কথাগুলো আপনার জন্য আমানাত।
— উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
“আমি তিরিশ বছর ব্যয় করেছি আদব শিখতে এবং বিশ বছর ব্যয় করেছি জ্ঞানার্জনে।”
— আব্দুল্লাহ বিন মুবারাক (রাহিমাহুল্লাহ) [৭৩৬-৭৯৬]
“সন্তানপ্রাপ্ত হওয়া যদি একটি কল্যাণ হয়, তাহলে একজন দ্বীনদার-পরহেযগার স্ত্রী হলো সকল কল্যাণের জননী।”
— ইয়াসির ক্বাদী
“কেউ বন্ধু হওয়ার একটি প্রমাণ হচ্ছে তার বন্ধুটির যে বন্ধু থাকে তারও বন্ধু হওয়া।”
— ইমাম শাফি’ঈ (রাহিমাহুল্লাহ)
“আপনার রব আল্লাহর উপরে নির্ভর করে আপনি যা-ই করবেন তা কখনই কঠিন হবে না, এবং আপনার নিজের উপরে নির্ভর করে আপনি যা-ই করবেন তা কখনই সহজ হবে না।”
— ইবনু আতা’ইল্লাহ আল ইসকান্দারি (রাহিমাহুল্লাহ)
“ভালো করে খেয়াল করুন কোন কোন কাজ করার সময় মৃত্যুবরণ করাকে আপনি ঘৃণা করবেন, অতঃপর সে কাজগুলোকে এড়িয়ে চলুন।”
– সালামাহ ইবনে দিনার (রাহিমাহুল্লাহ)
“সেই ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকুন যে ভালোবাসে তার মতামত সবাই অনুসরণ করুক, যে পছন্দ করে তার অভিমত সবাই জানুক এবং তা ছড়িয়ে যাক।”
— ইমাম সুফিয়ান আস সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ)
“দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের জন্য বিক্রি করলে আপনি দুই জীবনেই জয়ী হবেন।
আখিরাতের জীবনকে দুনিয়ার জন্য বিক্রি করলে আপনি দুই জীবনেই পরাজিত হবেন।”
— হাসান আল-বাসরি (রাহিমাহুল্লাহ)
“সে কী পেলো যে আল্লাহকে হারালো ?
সে কী হারালো যে আল্লাহকে পেলো?”
— ইবনু আতা’আল্লাহ আল ইসকান্দারি (রাহিমাহুল্লাহ)
“আপনি যখন কাউকে সাহায্য করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তখন আনন্দিত হোন এইজন্য যে আল্লাহ ঐ ব্যক্তির দোয়ার সাড়া আপনার মাধ্যমেই দিচ্ছেন।”
— নু’মান আলী খান

Source:[http://islamicquotesbangla.wordpress.com/ থেকে সংগ্রহ করা]

310
ইসলাম ডেস্ক: ১.আলিফ-লাম-রা। এই কিতাব আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে অন্ধকার থেকে বের করে আলোকে আনতে পারো। বের করে আনতে পারো তাঁর পথে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত। [সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ১ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : এ আয়াতের মূল কথা হলো, কোরআন আলোকময় গ্রন্থ। এই কোরআন মানুষকে আলোকিত করে। এটি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে।

‘অন্ধকারের যাত্রী’ ও ‘আলোকের যাত্রী’ বলে সমাজভাবুকদের একটি বিশেষ পরিভাষা আছে। কেউ কেউ মনে করে, ধর্মপ্রবণতা, ধর্মপরায়ণতা ও ধর্মভীরুতা হলো ‘অন্ধকারের পথে যাত্রা’। এর বিপরীতে যুক্তিবাদিতা, ধর্মবিযুক্ততা ও বস্তুবাদিতা হলো ‘আলোকের পথে যাত্রা’।

কিন্তু কোরআন বলছে, ঈমান হলো আলোকের পথে যাত্রা। খাঁটি ঈমানদারই প্রকৃত আলোকিত মানুষ। পবিত্র কোরআন প্রকৃত আলোকিত গ্রন্থ। এই কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে। যারা বিশ্বাসী মানুষ, তারাই আলোকিত মানুষ।

ঈমানের আলোয় তাদের অন্তর আলোকিত। চির আলোকময় জান্নাতে তাদের বসবাস হবে। আর যারা অবিশ্বাসী, তারাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাদের অন্তর কুফর ও শিরকের আঁধারে ভরপুর। সব সময় তারা পাপ সাগরে নিমজ্জিত থাকে। চির অন্ধকারময় জাহান্নামে তাদের ঠিকানা হবে।

কোরআন নিজেই আলোর আধার। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘.... আল্লাহর কাছ থেকে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব তোমাদের কাছে এসে গেছে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এটা দিয়ে তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ ইচ্ছায় অন্ধকার থেকে বের করে আলোকে নিয়ে আসেন। আর তাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১৫-১৬)

কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আলোকিত মানুষ তৈরি করা। এ কথা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। এক আয়াতে এসেছে, ‘তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন, তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোকে আনার জন্য। আল্লাহ তো তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ৯)

তবে এই কোরআন পাঠ করে তাদের পক্ষেই আলোকিত মানুষ হওয়া সম্ভব, মহান আল্লাহ যাদের তাওফিক দান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোকে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে, তাগুত তাদের অভিভাবক। এরা তাদের আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৭)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) সুরা বাকারার এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এ আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, তাঁর সন্তুষ্টি-সন্ধানীদের তিনি শান্তির পথ দেখান। তিনি বিশ্বাসী বান্দাদের অবিশ্বাস, সন্দেহ ও দ্বিধা-সংকোচ থেকে বের করে সত্যের উজ্জ্বল পথে নিয়ে যান। পক্ষান্তরে অবিশ্বাসীদের অভিভাবক হলো শয়তানেরা, যারা মানুষের মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতাকে শোভনীয় করে দেখায়। এর মাধ্যমে তারা তাদের সত্যের পথ থেকে বের করে অবিশ্বাস ও সন্দেহের দিকে নিয়ে যায়। (ইবনে কাসির)

আল্লামা ওহাবা জুহাইলি (রহ.) আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এ আয়াতে ‘আলো’ বোঝাতে একবচন এবং ‘অন্ধকার’ বোঝাতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। এর কারণ হলো, ঈমান ও হেদায়েতের পথ এক ও অভিন্ন। কিন্তু কুফর ও অজ্ঞতার পথ হাজারো। তাই ‘আলো’ বোঝাতে একবচন এবং ‘অন্ধকার’ বোঝাতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। (আততাফসিরুল মুনির : ১৩/২২১)
গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ
এমটিনিউজ২৪/এম.জে


311
করলা (করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে) এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ। এবার জেনে নিন, করলার আরো পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা-

ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী। করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরি। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন। 
করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি।

ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়। করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।

অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন। নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারি। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে। স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

করলা পাতার রসের উপকারিতা
করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

বিডি প্রতিদিন/

312
পেটের সমস্যা? ওষুধে তেমন কাজ হচ্ছে না? নিয়মিত কিসমিস খান। রক্তাল্পতায় কিসমিস যে উপকারী, তা অনেকেই জানেন। কারণ কিসমিস শরীরে নতুন রক্ত তৈরি করে। সেইসঙ্গে নিয়মিত কিসমিসের পানি খেলে একদম পরিষ্কার থাকবে লিভারও।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিসমিসের পানি খেলে লিভারে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শরীরে রক্ত দ্রুত পরিশোধন হতে থাকে। টানা চার দিন কিসমিসের পানি খেলে পেট একদম পরিষ্কার হয়ে যায়। পেটের গণ্ডগোল উধাও হয়ে যায়। সঙ্গে পাওয়া যায় ভরপুর এনার্জি। সেইসঙ্গে কিসমিসে রয়েছে নানা রকম ভিটামিন ও মিনারেল। কিসমিস না খেয়ে কিসমিসের পানি খেলেও সেই ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ঢোকে। পানি ভেজানোর বাড়তি উপকারিতা হলো শর্করার মাত্রা কমে।

কীভাবে তৈরি করবেন কিসমিসের পানি?
দুই কাপ পানিতে ৪০০ গ্রাম কিসমিস রাতভর ভিজিয়ে রাখুন। সকালে কিসমিস ছেঁকে নিয়ে জল হালকা গরম করে খান। পানি পানের পর আধঘণ্টা অন্য কিছু খাবেন না। তবে একটা কথা মাথায় রাখা দরকার। ডায়াবেটিস রোগীদের কিন্তু কিসমিস খাওয়ার আগে ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে হবে।

বিডি প্রতিদিন/

313
গর্ভবতী প্রায় সব নারীই কয়েকটি সাধারণ ভুল করেন। এ ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা ধরে রাখা সম্ভব। জেনে নিন তেমনই কয়েকটি ভুল যা গর্ভবতী নারীদের হয়ে থাকে।

১. গর্ভাবস্থায় বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো গর্ভবতী নারী গর্ভাবস্থাকে অসুস্থতা ধরে নিয়ে শুয়ে-বসে থাকেন। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায়ও শরীর সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ কারণে স্বল্পমাত্রায় শারীরিক কার্যক্রম যেমন চালাতে হবে, একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবারও খেতে হবে। এছাড়া কিছু খাবার ও ওষুধপত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

২. গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খান এমন নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকে আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবারও খান।
 দুটোই গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব রাখে। অনেক নারীর ওজন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। এ কারণে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী খাবার খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৩. গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নিতে দেরি করা যাবে না। এটি সুস্থ সন্তান জন্মদানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৪. সুস্থ গর্ভধারণের জন্য কিছু ব্যায়াম রয়েছে। এগুলো পেটের মাংসপেশিকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং সন্তান ধারণে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভাবস্থায় উপযোগী ব্যায়াম করতে হবে।

৫. অনেক গর্ভবর্ত নারী যেমন সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট খেতে চান না তেমন অনেক নারী আবার অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট সেবন করেন। উভয় বিষয়ই ক্ষতিকর। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, বাড়তি ডোজ যেমন ক্ষতিকর হতে পারে তেমন প্রয়োজনের তুলনায় কম ডোজও ক্ষতিকর হতে পারে।

বিডি প্রতিদিন/

314
আনারস শুধু সুস্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। রসালো এ ফল জুস তৈরি করেও খাওয়া যায়। সারাদিন রোজা রেখে সুস্থ থাকতে অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারসের জুস যেমন শরীরে পানির চাহিদা মেটায় তেমনি বাড়তি পুষ্টিগুণ পেতেও এর জুড়ি নেই।

আনারসে আছে ক্যালসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন। এছাড়া আছে ব্রোমেলিন যা হজম শক্তি বাড়ায়। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

প্রস্তুতপ্রণালী : আনারস দুইকাপ (কিউব করে) কাটা, বিট লবণ, পুদিনা পাতা, চিনি পরিমাণমত এবং পানি একসঙ্গে দিয়ে ব্ল্যান্ড করে নিন। এবার একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এখন বরফ কুচি দিয়ে গ্লাসে সাজিয়ে ইফতারে পরিবেশন করুন।

বিডি প্রতিদিন/






315
রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো কাঁচামরিচ। রান্নায় বা সালাদে তো বটেই, কেউ কেউ ভাতের সঙ্গে আস্ত কাঁচামরিচ খেতেও পছন্দ করেন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে এই কাঁচামরিচে রয়েছে নানা গুণ। কাঁচামরিচে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলি ডায়াবেটিসতো নিয়ন্ত্রণে রাখেই পাশাপাশি কাটাছেড়ার ক্ষেত্রে রক্তপাতও বন্ধ করে। তবে এখানেই শেষ নয়। রয়েছে কাঁচামরিচের আরও উপকারিতা-

১। কাঁচামরিচে থাকা ‘ক্যাপসিসিন’ নাকে রক্তপ্রবাহ সুগম করে। যা সর্দি-কাশি এবং সাইনাসের জটিলতা সারাতে উপকারী।

২। কাঁচামরিচ খেলে যে গরম অনুভূত হয় তা ব্যথা উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকর।

৩। কাঁচামরিচে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই কাঁচামরিচ ঠাণ্ডা জায়গায় রাখা উচিত। কারণ তাপ, আলো এবং বাতাসের সংস্পর্শে আসলে এই ভিটামিন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৪। ‘এন্ডোরফিনস’ নামক রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত হয় কাঁচামরিচ থেকে। যা মন ভাল রাখার জন্য এনজাইম বৃদ্ধি করে।

৫। ডায়বেটিস রোগীদের জন্য কাঁচামরিচ অত্যন্ত উপকারী। কারণ তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৬। আয়রণের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে অন্যতম কাঁচামরিচ। তাই যাদের শরীরে আয়রণের অভাব রয়েছে এবং ঝাল সহ্য করতে পারেন তাদের কাঁচামরিচের উপর জোর দেওয়া উচিত। দৃষ্টিশক্তির জন্যেও কাঁচামরিচ উপকারী।

৭। কাঁচামরিচে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া রোধকারী উপাদান থাকে। ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করতে এই উপাদানগুলি উপকারী।

৮। কাঁচামরিচে উচ্চমাত্রায় ‘বেটা–ক্যারোটিন’ নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে। এটা হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৯। কাঁচামরিচে উচ্চমাত্রায় থাকা ভিটামিন–এ হাড়, দাঁত ও মিউকাস ঝিল্লিকে শক্ত করে।

বিডি-প্রতিদিন/

Pages: 1 ... 19 20 [21] 22 23 24