Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 24
46
Skin / আঁচিল দূর করার সহজ উপায়
« on: January 05, 2021, 05:03:50 PM »

আঁচিল শরীরে তখনই হয়, যখন ত্বক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। মুখে আঁচিল হলে সমস্যার শেষ থাকে না। বিশেষ করে আঁচিল মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। এর কারণ সর্বদা শরীর জামা-কাপড়ে ঢাকা থাকে আর তখনই আঁচিল সংক্রমণকারী জীবাণু খুব অল্পসময়ে ত্বকের উপরিভাগে আক্রমণ করে। তবে পুরুষের কাঁধে আঁচিল খুব বেশি দেখা যায়।

অনেকে মনে করি, আঁচিল প্রাকৃতিকভাবে শরীরে হয়ে থাকে কিন্তু এই ধারণা ভুল। আঁচিল শরীরে তখনই হয়, যখন ত্বক ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। মুখে আঁচিল হলে সমস্যার শেষ থাকে না। বিশেষ করে আঁচিল মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। এর কারণ সর্বদা শরীর জামা-কাপড়ে ঢাকা থাকে আর তখনই আঁচিল সংক্রমণকারী জীবাণু খুব অল্পসময়ে ত্বকের উপরিভাগে আক্রমণ করে। তবে পুরুষের কাঁধে আঁচিল খুব বেশি দেখা যায়।

আঁচিল হলে সাধারণত মানুষ চিন্তা বা চিকিৎসা করে না। কুসংস্কার হিসেবে প্রচলিত আছে যে, আঁচিল হলে মাথার চুল বেঁধে রাখলে আঁচিল সেরে যাবে। কথাটা যদিও কার্যকর তবে এটা আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে আরও বড় আঁচিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর আঁচিল যদি একবার বড় হয়ে যায় তাহলে ক্ষতস্থান থেকে গাছের শিকড়ের ন্যায় রূপ নিতে পারে। তাই আঁচিল হলে অবশ্যই খুব দ্রম্নত চিকিৎসা নিতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক।

আঁচিল হলে কি করবেন?

প্রথমেই হোমিও চিকিৎসার কথা উলেস্নখ করা হলো। আঁচিল রোগের কোনো অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিন নেই; তাই সাধারণত হোমিও চিকিৎসা নেয়া হয়। আঁচিল দূর করতে হোমিও মেডিসিন অত্যন্ত কার্যকরী। সর্বোচ্চ একুশ দিনের মধ্যে হোমিও মেডিসিন সম্পূর্ণভাবে আঁচিল দূর করতে সক্ষম। আঁচিল দূর করার জন্য যে মেডিসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার নাম সুজা মাদার ও সুজা। সুজা মাদার তুলা দিয়ে আঁচিল আক্রান্ত স্থানে তিন বার লাগাতে হবে। আর মুখে সেবন যোগ্য হিসেবে সুজা-২০০ থেকে শুরু করে সুজা-১০ এম পর্যন্ত সেবন করতে হবে।

প্রাকৃতিকভাবে আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ফলদায়ক। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে একটি পাত্রে সারা দিন ঢেকে রেখে দিন। রাতে ঘুমানোর আগে পেঁয়াজ কুচির সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিন। প্রথম অবস্থাতে হালকা ঝাঁজ বা জ্বালা করতে পারে, তবে এই পদ্ধতি আঁচিল দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

টি ট্রি অয়েল আঁচিল সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম। কিছু তুলা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েল ভেজা তুলাতে নিয়ে আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে ঘষতে থাকুন। আপনার আঁচিল হওয়া ক্ষতস্থানে চুলকাতে পারে, তারপরেও আপনি ভালো করে টি ট্রি অয়েল দিয়ে আক্রান্তস্থান পরিষ্কার করুন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনার আঁচিল দূর হবে।

অ্যালোভেরা জেল আঁচিল দূর করার অ্যান্টিসেপটিক থাকে। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল টুকু ছাড়িয়ে আঁচিল হওয়া আক্রান্তস্থানে ম্যাসাজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। আপনার আক্রান্তস্থান থেকে আঁচিল ধীরে ধীরে শুকিয়ে ছোট হয়ে পরিপূর্ণভাবে দূর হবে।

ছুলি থেকে মুক্তির উপায়

ছুলি একটি চর্মরোগ। ছুলি শরীরের যে কোনো স্থানে হতে পারে যেমন- মুখে, গলাতে, ঘাড়ে, কাঁধে, বগলে, বুকে, পেটে, হাতে ও পায়েসহ বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। ছুলি একটি ছোঁয়াচে রোগ, পরিবারের কারো ছুলি হলে অন্য সুস্থ ব্যক্তির মাঝে ছুলি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ছুলি কেন হয়?

ছুলি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তবে অ্যালার্জির কারণে ছুলি বেশি হয়ে থাকে। তা ছাড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ছুলি প্রকোপ হতে পারে। প্রায় ৫০% রোগীর ক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ছুলি হয়, এর কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ইমিউন প্রতিক্রিয়া।

ছুলি দেখতে কেমন হয়?

উন্মুক্ত স্থানে সাদা বা বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। সঁ্যাতসেঁতে ও গরম আবহাওয়ায় ছুলির সংক্রমণ বেশি হয়। সাধারণ ত্বকের থেকে ছুলির রং সাদা হয় এবং লোমগুলো সাদা বর্ণ ধারণ করে।

ছুলি হলে করণীয়

ছুলি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হওয়াতে এই রোগের মেডিসিন সেবন করতে হয় অনেক ধর্য্য ধরে। ছুলি রোগ সম্পূর্ণ সেরে তুলতে হোমিওপ্যাথি মেডিসিন ভালো সমাধান দেয়। তবে কিছু প্রাকৃতিক উপায় আছে যা ব্যবহার করলে ছুলি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১) লেবুর রস ও মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত সকাল ও রাতে ছুলির স্থানে লাগালে ছুলি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই ভালো ফলাফল পেতে ১ থেকে ২ মাস ব্যবহার করতে হতে পারে।

২) লেবুর রস ও হাইপো খুব ভালো কাজ দেয় ছুলি দূর করতে। প্রতিদিন গোসলের আগে এই মিশ্রণটি ভালোভাবে ব্যবহার করলে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ছুলি দূর হবে।

৩) পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুর সালফার থাকে। যা ছুলির ত্বক স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত ছুলির চুলকানি দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে পেঁয়াজ।

৪) সাদা তিল ও হলুদ খুব ভালো ফলাফল দেয় ছুলির জন্য। সাদা তিল ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে ছুলির হওয়া স্থানে ১৫ মিনিটের জন্য লাগাতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুঁয়ে ফেলতে হবে।

৫) টক দইতে প্রচুর ল্যাকটিক এসিড থাকে যা আমাদের ত্বকের যে কোনো চর্মরোগের জন্য বেশ উপকারী। তবে বিশেষ করে ছুলির ক্ষেত্রে টক দই ব্যবহার করা উত্তম। গোসলের আগে টক দই ছুলির উপর লাগিয়ে দিতে হবে এবং শুকিয়ে গেলে ধুঁয়ে ফেলতে হবে।

ছুলি সেরে তুলতে সময় লাগতে পারে, অনেক সময় ছুলি অনেক জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ছুলি পুরোপুরি দূর করতে বেশ সময় লাগতে পারে। আর ছুলির জন্য কোনো হোমিও সেবন করার মনস্থির করলে অবশ্যই একজন ভালো হোমিও ডাক্তারের নিদের্শ গ্রহণ করে তারপরে হোমিও সেবন করা প্রয়োজন।

47
শীতকালে মুখ ও চুলের যত্নের চেয়েও বেশি যত্ন নেওয়া উচিত পায়ের। কারণ, পা ধুলোবালির সংস্পর্শে বেশি আসে। যার ফলে অনেকেরই গোড়ালি ফেটে বিচ্ছিরি হতে শুরু করে।

শীতের দিনে পা ফাটার সমস্যা প্রকট হয়। তাই আজ থেকেই যদি আপনি প্রচেষ্টা শুরু করেন, তাহলে তীব্র শীতেও পা থাকবে পরিষ্কার ও কোমল। কিভাবে চেষ্টা করবেন তা এবার জেনে নিন...

* প্রতিদিন কাজকর্মের শেষে বাড়িতে ফিরে অন্তত মিনিট ২০ পা ডুবিয়ে রাখুন শ্যাম্পু মেশানো উষ্ণ পানিতে। এরপর পামিস স্টোন বা ঝামাপাথর দিয়ে ঘষে নিয়ে একবার ধুয়ে নিন। তারপর ক্রিম মেখে, চটি পরে নিন। রাতে ঘুমানোর সময় ডিপ ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নিন।

* পায়ের ত্বকের মৃত কোষ প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে, জমতে দিলেই কিন্তু কড়া পড়ার আশঙ্কা বাড়বে। চালের গুঁড়া, মধু, লেবুর রস, দুধের সর দিয়ে ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরি করে নিন। এই প্যাক লাগিয়ে খানিকক্ষণ রাখুন। শুকনো হয়ে গেলে ঘষে ঘষে তুলে নিন।

* পা ধুয়ে নেয়ার পর অ্যালো ভেরা জেল আর অলিভ অয়েলের একটা মিশ্রণ তৈরি করে পুরো পায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।

* কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ফুটো করে তেলটা বের করে নিন। তারপর পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে ভিটামিন ই মিশিয়ে সেটা পায়ে মেখে ফেলুন। রাতে এই প্রলেপ লাগিয়ে মোজা পায়ে ঘুমালে দারুণ নরম থাকবে পা।

* যাদেরকে পা ফাটার সমস্যা খুব বেশি ভোগায়, তারা রাস্তায় বের হওয়ার আগে মোজার সঙ্গে পা ঢাকা জুতা পরুন। বিশেষ করে গোড়ালি ঢাকা জুতা।

* গোসলের পর পায়ে ময়েশ্চরাইজার লাগিয়ে নেওয়া আবশ্যক, তারপর পা-ঢাকা জুতা পরার আগে ভালো করে ক্রিম মেখে মোজা পরে জুতা পরলে সুস্থ থাকবে গোড়ালি।
 সূত্র : জি নিউজ

48
চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ পাওয়া খুবই দুষ্কর। নারী পুরুষ উভয়ই এ সমস্যায় পড়ে থাকেন। অন্য সময়ের চেয়ে শীতকালে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ফলে নতুন চুল গজানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন সবাই। তবে কয়েকটি নিয়ম মানলেই চুল পড়া সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে আর একইসঙ্গে গজাবে নতুন চুল। আসুন জেনে নেই নতুন চুল গজানোর উপায়

নারকেল তেল

নারকেল তেল চুলের জন্য খুব কার্যকরী। চুলের ভেতরে এ তেল থেকে পুষ্টি পায়। নারকেল তেলে রয়েছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে দ্রুত চুল লম্বা হয়, সেইসঙ্গে নতুন চুল গজায়। এ ছাড়া চুল হয় ঝলমলে ও কোমল।

হেয়ার ম্যাসাজ

ম্যাসাজ করলে নতুন চুল গজাবে খুব শিগগিরই। এজন্য তেল বা হেয়ার মাস্ক মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে ও নতুন চুল গজাবে। নিয়মিত চুল চিরুনি করতে ভুলবেন না যেন।

খাবারে ওমেগা রাখুন

চুল পড়া সমস্যা রোধ ও নতুন চুল গজাতে কার্যকরী উপাদান হলো ওমেগা। চুল পড়া রোধে ও নতুন চুল গজানোর জন্য ওমেগা ব্যবহার করতে পারেন। তবে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ওমেগা গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবারে ভিটামিন

শরীর যদি নির্দিষ্ট পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন না পায়, তবে চুলেও পুষ্টি পৌঁছায় না। এজন্য সুষম খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এতে নতুন চুল গজাবে দ্রুত আর চুল পড়াও বন্ধ হবে। তবে চুলের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান হলো- ভিটামিন-এ, বায়োটিন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, আয়রন এবং জিঙ্ক।

ধূমপান ত্যাগ

ধূমপানের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যেও ওপর নয়, চুলের ওপরও পড়ে থাকে। এতে চুলের ফলিকল নষ্ট হয়। ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। এ কারণেই ধূমপায়ীদের চুল দ্রুত পেকে যায় ও টাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রোটিন গ্রহণ

যখন আপনার শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন পাবে না, তখনই চুল পড়া শুরু হয়। দিনে অন্তত ৫০-১০০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। তবে অবশ্যই ই ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেই তা গ্রহণ করতে হবে।

49
চুল পাকা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাকা চুলের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে প্রাকৃতিক উপায়ে। কম বয়সে চুল পাকার পেছনে জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি, অস্থিরতা, ধূমপান, দূষণ, মানসিক চাপ প্রভৃতি বিষয় কাজ করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেনে নিন প্রাকৃতিকভাবে চুল পাকা বন্ধ করার উপায়...

* আমলকি, এই প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানটি পাউডার ও তেল দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। আমলা তেল চুলের কালো রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পাউডার চুলকে খুশকি মুক্ত রাখতে ব্যবহার করা যায়।

* পেঁয়াজ বাটা চুলের অকালে পেকে যাওয়া ঠেকাতে অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। পেঁয়াজ বেটে প্রতিদিন চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। অল্প কয়দিনের মধ্যেই পাকা চুলের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

* আমলকির গুঁড়ার সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট চুলের গোড়ায় মালিশ করুন। তারপর ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। পাকা চুলের সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

* বাদাম চুলের জন্য খুবই উপকারী। সুন্দর চুল ধরে রাখতে বাদাম খাওয়ার পাশাপাশি বাদামের তেল চুলে লাগালে চুল স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

* পাকা চুলের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে প্রতিদিন নারিকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় মাখুন। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই পাকা চুলের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

* ছোলা বি১২ ও ফোলিক এসিডে ভরপুর। তাই সকালে খালি পেটে ছোলা খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পাশাপাশি চুল কালো করার জন্যে যথেষ্ট উপাদেয়।

* চুলের সুরক্ষায় হেনার ব্যবহার অনেক পুরনো। চুল ধূসর হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সরিষা তেলের সঙ্গে হেনা পাতার মিশ্রণ অনেক উপকারি।

50
মাঝে মাঝেই ভীষণ ক্লান্ত লাগে? এদিকে হাজারটা কাজের চাপে সেদিকে নজর দেয়ারও সময় মেলে না? কাজের চাপ যতই থাকুক, এই ক্লান্তিবোধকে কখনো অবহেলা করবেন না। আবার এই ক্লান্তি যে কাজের চাপের কারণেই দেখা দিচ্ছে, এমনটা না-ও হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে। মেয়েদের তো বটেই, ছেলেদেরও রক্তে আয়রনের ঘাটতি এখনকার দিনে বড় সমস্যার।

শরীরে মিনারেলের অভাব দেখা দিলে আয়রনের অভাব দেখা যায়। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। এছাড়া রক্তে এক ধরনের ব্লাড সেল থাকে যা রক্তে অক্সিজেন সঞ্চালনে সাহায্য করে। আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও কমে যায়।

আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত চুল পড়লেও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। রক্তে আয়রনের অভাব হলে সৃষ্টি হতে পারে নানা জটিলতার। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক কী খাবেন-

ড্রাই ফ্রুট
সকালের খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট, কাজু বা আমন্ড। এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যা শরীরকে আয়রন শুষে নিতে সাহায্য করে। সকালের খাবার ছাড়াও দিনের অন্য সময় এক মুঠো বাদাম আপনার আয়রনের ঘাটতি মেটাতে পারে।

ডাল
ডাল প্রায় প্রতিদিনই থাকে অনেকের খাবারের তালিকায়। সেদ্ধ বিন সাত থেকে নয় মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন জোগাতে পারে শরীরে। এক কাপ ছোলায় রয়েছে তিন থেকে পাঁচ মিলিগ্রাম আয়রন। সেদ্ধ ডালের পানি প্রতিদিন খেলে উপকার পাবেন।

সয়াবিন
সয়াবিন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সেলেনিয়ামের ভালো উৎস। নিয়মিত সোয়বিন খেলে হার্টের অসুখ, ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ভালো থাকে হাড়ের স্বাস্থ্যও।

সবুজ শাকসবজি
প্রতিদিন পালং শাক, সবজি, স্যুপ খান। পালং শাকে আয়রন রয়েছ প্রচুর। এছাড়াও ছানা বা পনির, ডিম, চিকেন, কলিজা খেলেও শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন পাবে।

আপেল
আপেলে আছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে শূন্য দশমিক তিন এক মিলিগ্রাম আয়রন। এটি হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। ডেজার্ট, সালাদ, অথবা স্মুদি তৈরিতে আপেল ব্যবহার করতে পারেl

খেজুর
আয়রনের খুব চমৎকার একটি উৎস হলো খেজুর। এর মধ্যে আরো রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি৬। খেঁজুরের মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটিও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চকোলেট আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে। ডার্ক চকোলেট শুধুমাত্র আয়রনের ঘাটতিই পূরণ করেনা, স্ট্রেস কমায় এবং ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

Source:https://www.jagonews24.com/lifestyle/news/623960

51
ওজন কমানো আর পেটের মেদ দূর করা এক নয়। অনেক সময় ওজন কমলেও পেটে ঠিকই মেদ জমে থাকে। মেদ দূর করার জন্য প্রয়োজন পড়ে বাড়তি যত্নের। ডায়েটে নিয়ন্ত্রণ, কঠোর পরিশ্রমের পরেও এটি কমতে সময় নিতে পারে। এর গতি অনেক সময় এতটাই ধীর হয় যে, অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে পেটের অতিরিক্ত মেদ দূর করার সহজ ছয় উপায়-

ডায়েটে প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন
অন্ত্রের স্বাস্থ্য আমাদের ওজন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই পেটের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী প্রোবায়োটিক পেটের মেদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় এটি দেখা গেছে যে, প্রোবায়োটিক পেটের মেদ পোড়াতে পারে।

ফাইবার
নিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং ভারী শরীরচর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপ নিতে না চাইলে, অতিরিক্ত পেটের মেদ কমানোর জন্য অবশ্যই ফাইবার গ্রহণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। বেশি দ্রবণীয় ফাইবার খেলে তা আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্ত রাখে এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ কমিয়ে আনে।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
অ্যালকোহল পান করলে পেটে চর্বি জমে এবং কোমরের লাইনের চারপাশে ফ্যাট স্টোরেজ বাড়তে পারে। বেশিরভাগ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে তোলে। অতিরিক্ত ক্যালোরি পেটের অঞ্চলে জমা হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বেরি
পেটের চর্বি কমানোর এক দুর্দান্ত উপায় হলো সেই ফ্যাটযুক্ত নাস্তার বদলে বেরি জাতীয় ফল খাওয়া। এগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়, পাশাপাশি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যেও সমৃদ্ধ।

ঘুমের সাথে আপস করবেন না
ঘুমের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়তে পারে। খুব অল্প ঘুম করটিসোলকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুতরাং, এটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারছেন।

চিনিকে না বলুন
যদি সত্যিই আপনার পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে চান তবেচিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা শুরু করুন। চিনি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা শরীরকে ফ্যাট সংরক্ষণে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ পেটে জমতে থাকে মেদ।

Source:https://www.jagonews24.com/lifestyle/article/626246

52
Women / নারী ঘরের রানি
« on: January 03, 2021, 11:00:27 AM »
রাসূল (সা.) যখন দুনিয়ায় আগমন করেন, সে সময়টাকে অন্ধকার যুগ বলা হয়। সময়টা ছিল মানবতার ক্রান্তিকাল। পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধ ছিল ভয়াবহ মাত্রায়। নীতিনৈতিকতার তোয়াক্কা ছিল না। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গোষ্ঠীযুদ্ধ চলত বছরের পর বছর। মানবাধিকার ছিল চরমভাবে পর্যবসিত। সবদিকে ছিল ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মানবতার সেই ক্রান্তিকালে নারী সমাজও চরমভাবে নিগৃহীত ছিল। নারীদের নিয়ে তখনকার সমাজে নানা কুসংস্কারের চর্চা ছিল। ইতিহাস ও কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনায় পাওয়া যায়, খ্রিষ্টানরা নারীদের পিরিয়ডকালীন তাদের আলাদা গুরুত্ব দিত না। বরং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করত। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যা খুবই মন্দ একটি বিষয় বলে বিবেচিত। তা ছাড়া এটি মানসিক ও শারীরিক হেনস্তাও বটে। আবার ইহুদি আর অগ্নিপূজারিরা পিরিয়ডের সময় নারীদের ঘর থেকে বের করে দিত। ভেবে দেখুন তো, একজন গৃহিণীকে তার স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের সময় ঘর থেকে বের করে দেয়ার চিত্রটা কতটা অমানবিক! কন্যাসন্তান হলে সম্মানহানিকর মনে করা হতো। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো। এ ধরনের বহু অমানবিক নারীবিরোধী কুপ্রথা তখনকার সমাজে প্রচলিত ছিল। রাসূল (সা.) দুনিয়ায় এসে এ অশুভ রাহুর কবল থেকে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটালেন। তিনি এসে নারীদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দিলেন। নারীরাও যে সমাজের অনিবার্য অংশ, তারাও যে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে, তিনি তাঁর কথা ও কাজে প্রমাণ রাখলেন। এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, নারী ও সুগন্ধি আমার প্রিয়। মুজামে আওসাত ০৬/৫৩।

আরেক হাদিসে এসেছে, আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, আমিও আমার প্রাণাধিক প্রিয় রাসূল (সা.) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। (সহি বোখারি হা. ৫৯৫৫)। আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়ে যাই দান করবে, তার জন্য সওয়াব পাবে। এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে খাবার তুলে দাও, তার জন্যও। (সহি বোখারি হা. ৫৬)।

রাসূলের এসব কথা তখনকার সময়ের, যখন নারীদের কুলক্ষণে মনে করা হতো। অচ্ছুত মনে করা হতো। তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, নারী ঘরের রানি; নারীরা ভালোবাসার পাত্র, ঘৃণার নয়। তাদের অপমান করা যাবে না। সমাজে পুরুষের সমান্তরালে রয়েছে নারীর ন্যায্য হিস্যা। আজ বিশেষত যখন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের মতো ভয়াবহ সামাজিক অপরাধের দৌরাত্ম্য চলছে, তখন আমাদের আবার রাসূল (সা.)-এর জীবনচরিত পাঠ করতে হবে। মুসলিমদের জন্য তিনিই অনুপম আদর্শ। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণেই রয়েছে মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি।

53
নামাজ ফার্সি শব্দ। এর আরবি হল সালাত। নামাজ বা সালাত কায়েম করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।

নামাজ ফার্সি শব্দ। এর আরবি হল সালাত। নামাজ বা সালাত কায়েম করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।

নামাজ এক ধরনের নিয়ামত। এটি সর্বাপেক্ষা উত্তম দোয়া বা প্রার্থনা। আল্লাহতায়ালা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন- নিশ্চয়ই নামাজ [নামাজিকে] অশ্লীলতা এবং মন্দ কাজ থেকে মুক্ত করে। -সূরা আনকাবুত : ৪৬

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন- তুমি তোমার পরিবারদের নামাজের তাগিদ করতে থাক। আমরা তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না; বরং আমরাই তোমাকে রিজিক দিচ্ছি। বস্তুত তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্যই উত্তম পরিণাম।-সূরা ত্বাহা : ১৩৩

আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে রাত জেগে নামাজ পড়তেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক জানেন, তুমি দাঁড়িয়ে থাক রাতের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু কম এবং কখনো অর্ধেকাংশ এবং কখনো বা এক তৃতীয়াংশ এবং [দাঁড়িয়ে থাকে] তাদের এক দলও যারা তোমার সঙ্গে রয়েছে। -সূরা মুজ্জাম্মিল : ২১।

নামাজের মাধ্যমে আজ্ঞানুবর্তিতার শিক্ষা লাভ করা যায়। তাছাড়া নেতার অধীনে চলা, সময়ানুবর্তিতা, সামাজিক সাম্য, একতা ও ভ্রাতৃত্ব, দৈহিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, একাগ্রচিত্ততা, পাপবর্জন এবং পুণ্যার্জন, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এবং নিদর্শন লাভ করা, সামাজিক কদাচার পরিহার, শান্তি ও সুস্থির মনোভাব, কষ্ট-সহিষ্ণুতা এবং সময়ের সদ্ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে নামাজে বহু শিক্ষা রয়েছে।

সর্বোপরি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, সিজদা করো কাছে আসো। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, যে যত বেশি সিজদা করবে, সে তত বেশি আল্লাহতায়ালার কাছে যাবে; অর্থাৎ নৈকট্য লাভ করবে।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিআতুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া গাজীপুর

54
পবিত্র কুরআনের ১৮নং সূরা হচ্ছে সূরা কাহাফ। এর আয়াত সংখ্যা ১১০। নিয়মিত এ সূরা তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের ১৮নং সূরা হচ্ছে সূরা কাহাফ। এর আয়াত সংখ্যা ১১০। নিয়মিত এ সূরা তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে জুমার দিন এ সূরা তিলাওয়াতের ফজিলত অনেক বেশি।

রুহুল মাআনিতে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, সূরা কাহাফ সম্পূর্ণ একসঙ্গে নাজিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে সত্তর হাজার ফেরেশতা আগমন করেছেন। এতে বোঝা যায় সূরা কাহাফের মহত্ব অনেক বেশি ।

যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার নুর এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে (মিশকাত ২১৭৫)।

আরেক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে তার ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে।

মুসনাদে আহমদে হজরত সাহল ইবনে মুয়াজের রেওয়াতে আছে যে, রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ আয়াতগুলো পাঠ করে তার জন্য তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটি নুর হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ সূরা পাঠ করে তার জন্য জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত নূর হয়ে যায়।

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নিচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নুর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগিব ওয়াল তারহিব-১/২৯৮)।

55
মহামারি করোনায় বিপদজনক সময়টিতে ইংরেজি নতুন বছরের আগমন। তাই বছরের শুরু থেকেই বিগত বছরের গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি সামনের দিনগুলো সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণ কামনাই সবার প্রত্যাশা।

মহামারি করোনাসহ সব বিপদ-আপদে, সুন্দর শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন লাভে আল্লাহর সাহায্য লাভের বিকল্প নেই। কেননা আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ ছাড়া আর নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা যে কারো নেই।

সুতরাং বছরজুড়ে নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভালে দুনিয়ার যাবতীয় বিপদ, শয়তানের আক্রমণ ও ইসলামি জীবন-যাপনে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি এ প্রার্থনা করি-
اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

অর্থ : `হে আল্লাহ আমাদের ঈমান, ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।

56
রমজানের ২৯/৩০টি রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের যে কোনো ছয়দিন রোজা রাখলেই এক বছর অর্থাৎ, পুরো ৩৬০ দিন রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে যাদের রমজানের ভাংতি রোজা আছে তাদের জন্য করণীয় কী? কীভাবে তারা এ ফজিলতপূর্ণ রোজা পালন করবেন?

শাওয়ালের রোজা ফজিলত বর্ণনায় অনেক হাদিস এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
- 'যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পালন করবে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।' (মুসলিম)

- 'রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দু’মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।'

- 'যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (কেননা) মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে (সুরা আনআম : আয়াত ১৬০) ঘোষণা করেন- যে কোনো সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য প্রতিদান হবে তার দশগুণ।' (মুসনাদে আহমদ, সুনানে দারেমি)

যাদের ভাংতি রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা নারীদের মাসিক তথা হায়েজ-নেফাসের করণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে তবে তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো-
'শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে এবং বছরজুড়ে রোজা পালনের সাওয়াব লাভে ধন্য হবে। কারণ হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি…। আর যার ওপর কাজা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় না করে।' (আল-মুগনি)

আর এ কারণেই আগে রমজানের কাজা রোজা পূরণ কর রমজানের রোজা পূর্ণ করার সাওয়াব লাভ করবে। তারপর শাওয়ালের রোজা পালন করে বছরজুড়ে সাওয়াব লাভের ফজিলত অর্জন করবেন।

এ সম্পর্কে কয়েকজন ইসলামিক স্কলারের বক্তব্য হলো-
- শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিনের মতে, 'নারীদের জন্য বা যাদের রোজা কাজা আছে, তারা শাওয়ালের সওয়াব পেতে হলে আগে রমজানের কাযা রোজা রেখে এর পরে শাওয়ালের রোজা রাখা শুরু করতে হবে।'

- শায়খ সুলায়মান আর-রুহাইলির মতে, 'শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য প্রথমে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নিতে হবে।'

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর সব নারী-পুরুষের উচিত, রমজানের রোজা কাজার প্রস্তুতি নেয়া। আর কাজা সম্পন্ন করে শাওয়ালের রোজার অসামান্য ফজিলত লাভে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজার পর মাত্র ৬টি রোজা পালনের মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজা রাখার সাওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

57
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম রোজা। রমজানের রোজা ছাড়াও প্র্যত্যেক সপ্তাহের বৃহস্পতি ও সোমবার দুদিন রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সপ্তাহের এ দুদিন রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত কী? এ সম্পর্কে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী ঘোষণা করেছেন?

রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম একটি। মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ, ওয়াজিব, নফল রোজা রয়েছে। রোজা আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় ইবাদত। এ ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর একান্ত দিদার লাভ করেন।

রমজানের রোজা ব্যতীত প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তাহের প্রত্যেক বৃহস্পতি ও সোমবার রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামকে এ দুদিন রোজা রাখার ব্যাপারেও উৎসাহিত করেন। কারণ এ দুদিন আল্লাহর কাছে বান্দার আমলনামা পেশ করা হয়। সপ্তাহিক এ রোজার ফজিলত বর্ণনায় হাদিসে এসেছে-

- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতি বৃহস্পতি ও সোববার আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দার আমলসমূহ পেশ করা হয়। সুতরাং আমার পছন্দ যে, আমার আমলসমূহ যেন রোজা রাখা অবস্থায় পেশ করা হয়।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

- অন্য বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাঁর সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন-

‘আল্লাহ তাআলা সোম ও বৃহস্পতিবার প্রত্যেক মুসলমানের গোনাহ ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারীর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, এদের ছেড়ে দাও যতক্ষণ পর্যন্ত না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে।’ (ইবনে মাজাহ, তারগিব)

- হজরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

- হজরত আবু কাতাদা আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এদিনে আমি জন্ম নিয়েছি এবং এদিনেই আমার ওপর কুরআন নাজিল হয়েছে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণে নিজেদের আমলনামা আল্লাহর কাছে পৌছার দিনে রোজা রাখা। হাদিসের ওপর আমল করা। আল্লাহর একান্ত নৈকট্য অর্জন করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সপ্তাহের বৃহস্পতি ও সোমবার এ দুই দিন রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

58
ত্বকের যত্নে জলপাইয়ের তেল খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, সি সমৃদ্ধ জলপাইয়ের তেল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ত্বকের যত্নে জলপাইয়ের তেলের উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হল।


১. জলপাইয়ের তেল ‘এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড’ সমৃদ্ধ। যা  ত্বক কোমল ও মসৃণ করে আর্দ্রতা রক্ষা করে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালনই বাড়ায় না পাশাপাশি ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতেও সহায়তা করে।

২. এই তেল ত্বক পরিষ্কার করে। ত্বকে জলপাইয়ের তেল মালিশ করলে তা লোমকূপে প্রবেশ করে ময়লা পরিষ্কার হয়। তাই মুখ পরিষ্কারের আগে জলপাইয়ের তেল মালিশ করে নিতে পারেন।

৩. মেকআপ তুলতে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল ত্বক কোমল রাখে ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করে।

59
গাঢ় শেডের লিপস্টিক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে ঠোঁটে অনেক সময় কালচে দাগ দেখা দেয়। অনেক সময় আর্দ্রতা হারালেও ঠোঁট বিবর্ণ ও ঠোঁট কালো হয়ে যায়। তাই ত্বকের মতো ঠোঁটেরও সমান যত্ন নেয়া জরুরি।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও ধূমপানের অভ্যাসও ঠোঁট কালো হয়ে থাকে। আর অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে তা থেকেও ঠোঁটে হতে পারে কালচে দাগ।

আসুন জেনে নিই ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করার ঘরোয়া ৫ উপায়-

১. ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে চিনিকে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

২. ঘুমানোর আগে সামান্য মধু ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে দিন সারারাত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঠোঁটের রঙে পার্থক্য চোখে পড়বে।

৩. প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে তাজা লেবুর রস দিয়ে ঠোঁটে ভালো করে ম্যাসাজ করলে কালচে ভাব দূর হবে।

৪. প্রতিদিন একবার করে ঠোঁটে বরফ ঘষুণ। এতে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

৫. দুধের সর ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সরে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান প্রতিদিন।

 

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই
 

60
ত্বকের যত্নে জলপাইয়ের তেল খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, সি সমৃদ্ধ জলপাইয়ের তেল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ত্বকের যত্নে জলপাইয়ের তেলের উপকারিতা সম্পর্কে জানানো হল।


১. জলপাইয়ের তেল ‘এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড’ সমৃদ্ধ। যা  ত্বক কোমল ও মসৃণ করে আর্দ্রতা রক্ষা করে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালনই বাড়ায় না পাশাপাশি ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতেও সহায়তা করে।

২. এই তেল ত্বক পরিষ্কার করে। ত্বকে জলপাইয়ের তেল মালিশ করলে তা লোমকূপে প্রবেশ করে ময়লা পরিষ্কার হয়। তাই মুখ পরিষ্কারের আগে জলপাইয়ের তেল মালিশ করে নিতে পারেন।

৩. মেকআপ তুলতে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল ত্বক কোমল রাখে ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করে।

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 24