Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - taslima

Pages: [1] 2 3 ... 33
1

থাইরয়েড অন্যতম অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি গুলির মধ্যে একটি যেটা হরমোন নিঃসরণ করে যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ করাতে গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড হরমোনের উচ্চতা পরিবর্তন এর ফলে আমাদের শরীরের মেটাবলিজম এর উপর প্রভাব পড়ে এবং এর ফলে ওজন, মুড, উষ্ণতার তারতম্য ইত্যাদি সহ বিভিন্ন পরিবর্তন হতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজম এর বৈশিষ্ট্য:

এটি থাইরয়েড হরমোনের সঞ্চালনের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে হতে পারে।
আয়োডিনের ঘাটতি এবং হাসিমোটো এর থাইরয়েডিটিস(একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার) হল হাইপোথাইরয়েডিজম এর প্রধান কারণগুলি।
অত্যাধিক ফ্যাটিগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিষন্নতা, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মুখ ফুলে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি এবং মাসিক চক্রের পরিবর্তন সহ বিভিন্ন লক্ষণ হল এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
হোমিওপ্যাথি এটির প্রতিকার প্রদান করে যেটা শুধুমাত্র উপরোক্ত লক্ষণগুলির চিকিৎসা নয় বরঞ্চ ব্যক্তিটিকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ করে।

সেপিয়া অফিশিনালিশ: কিভাবে ব্যবহার করা হয় যখন রোগীর মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

দুর্বলতা ,হালকা হলুদ ভাব।
ভয় পাওয়ার প্রবণতা বিশেষত ঠাণ্ডা তাপমাত্রায়
খুব বেশি ভাবে ঠাণ্ডা না সহ্য করতে পারা এমনকি গরম পরিবেশে ইহা ঘটতে পারে।
বিরক্তি ভাব বৃদ্ধি পাওয়া।
চুল পড়া।
মাসিক চক্র বৃদ্ধি পাওয়া যা সময়ের আগেই চলে আসে।
কোষ্ঠকাঠিন্য।
আচার এবং অম্ল যুক্ত খাবার খাবার ইচ্ছা বৃদ্ধি পাওয়া।
ক্যালসেরিয়া কার্বনিকা: এই ওষুধটি প্রচন্ড কার্যকর যখন রোগীর মধ্যে নিম্নোক্ত লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

মোটা, তুলতুলে ,ফর্সা ব্যক্তি।
ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা বৃদ্ধি পায়।
বিশেষত মাথায় প্রচন্ড ঘাম।
চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি বিতৃষ্ণা।
ডিম, চক ,পেন্সিল, চুন সহ কোন বিশেষ খাবারের জন্য ক্ষুধিত হওয়ার অভ্যাস।
মাসিক চক্র বৃদ্ধি যা দীর্ঘায়িত হয় এবং পা ঠান্ডা করে দেয়।
লাইকোপোডিয়াম ক্লাভেটাম: রোগীদের জন্য উপকারী যাদের এ নিম্নোক্ত লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়া।
বিরক্তি ভাব বেড়ে যাওয়া।
প্রচন্ড রকম ভাবে চুল পড়া।
মুখ হালকা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং চোখের চারপাশে নীল হয়ে যায়।
গরম এবং মিষ্টি খাবারের ইচ্ছা।
অম্বল যা সন্ধ্যেবেলায় আরো খারাপ হয়ে যায়।
অতিরিক্ত পেট ফুলে যাওয়া সহ গ্যাস্ট্রিক সমস্যা।
অসম্পূর্ণ মলত্যাগ সহ কোষ্ঠকাঠিন্য।
গ্রাফাইটস: সেই সমস্ত লক্ষণ এর জন্য গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয় যেগুলিতে:

ওবেসিটি
ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা
মানসিকভাবে বিষন্ন হওয়া, ভীতু, অস্থির সংকল্প, ফোঁপানো, গান শোনা
গ্যাস এবং পেটফাঁপা
শক্ত এবং বেদনাদায়ক মলত্যাগ সহ ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য
লোডিয়াম:

ভালো খিদে হওয়া সত্ত্বেও তাড়াতাড়ি ওজন কমে যায়
কিছুক্ষণ পরপর খাওয়ার ইচ্ছা
প্রচন্ড গরম লাগা এবং ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকার ইচ্ছা
বর্তমান সম্পর্কে উদ্বিগ্নতা
প্রচন্ড বুক ধড়ফড় করা
লাচেছিস মিউটাস:

প্রচন্ড গরম অনুভব করা এবং সেই কারণে টাইট কাপড় চোপড় পড়তে না পারা
কোন কাজ না করার সাথে সাথেই দুঃখিত হয়ে পড়া
একা থাকার প্রবণতা
প্রচন্ড বাচালতা
মহিলাদের মেনোপজে উপনীত হওয়া
এগুলি হল প্রায়শই ব্যবহার করা প্রতিকার; যদিও আপনার হোমিওপ্যাথ এর সাথে একটি বিশদ আলোচনা করা জরুরি যে কোন প্রতিকার টি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে। যদি আপনার কোন চিন্তা অথবা প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি সর্বদাই একজন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন।



https://www.lybrate.com/bn/topic/top-homeopathic-remedies-for-hypothyroidism-and-hyperthyroidism/61807e1c4a1f3d76fb5edaaf75b0edde

2
ডায়াবেটিস: ইনসুলিন হরমোন সঠিকমাত্রায় নির্গত না হলে অথবা শরীরের কোষগুলি এই হরমোনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়৷ যা থেকে পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস হতে পারে। মোট চার ধরনের ডায়াবেটিস হতে পারে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, গ্যাস্টোটাইনাল, ডায়াবেটিস ইনসেপিডাস।

অব্যর্থ ওষুধ: Sixygium.jamool, Acetic Acid, Thuja, Plumbum, Phosphoric Acid প্রভৃতি ওষুধ ডায়বেটিসে খুব কাজে লাগে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া উচিত।


https://www.sangbadpratidin.in/lifestyle/allopathy-failed-try-homeopathy-to-cure-diabetes-asthma-and-thyroid/

3
থাইরয়েড: থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোন সমস্যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অব্যর্থ। থাইরয়েড হরমোনের কম ক্ষরণে হয় হাইপো থাইরয়েড। বেশি ক্ষরণে হাইপার থাইরয়েড। এই দুই ক্ষেত্রেই থাইরয়েড গ্রন্থি বৃদ্ধি পেতে পারে। একে গয়টার বলে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হলে বা কোনও লক্ষণ ছাড়াই রক্ত পরীক্ষায় থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা ধরা পড়লে হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা খুবই উপকারী।

অব্যর্থ ওষুধ:

হাইপো থাইরয়েডিজমের কিছু ওষুধ- Calcarea carb, Scpia, Lycopodium, Graphities, Nux.Vomica

হাইপার থাইরয়েডিজমের কিছু ওষুধ: Calcarea Phos, Iodium, Thyroidinum, Spongia, Calcarea.iod


https://www.sangbadpratidin.in/lifestyle/allopathy-failed-try-homeopathy-to-cure-diabetes-asthma-and-thyroid/

4
চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের এই যূগে মুক্ত-বাজার অর্থনীতি, গ্লোবালাইজেশন এবং একই সাথে তথ্য-প্রযুক্তির ক্রমাগত উৎকর্ষের ফলে ব্যবসা-বানিজ্যকে কোন দেশ বা মহাদেশের সীমানায় আটকে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অভ্যন্তরীণ গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বেচাকেনায় তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কিছু কিছু পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আবার বাংলাদেশেও বৈদেশিক পণ্যের চাহিদা ও ঘাটতি থাকায় আমদানি-রপ্তানি খাতে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

কোন ব্যবসায়ী বা শিল্পোউদ্যোগতা বিদেশ থেকে দেশে কোন কাঁচামাল বা পন্য আমদানি করতে চাইলে আবার বাংলাদেশে উৎপাদিত কোন পন্য বিদেশের বাজারে রপ্তানী করতে চাইলে তার ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট লাইসেন্সে থাকা বাধ্যতামূলক।

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আজকের এই আর্টকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট লাইসেন্সের বা সংক্ষেপে IRC and ERC আবেদন কি ভাবে করতে হয়, সে সম্পর্কে।

এই লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়ন এবং এ সংক্রান্ত রেগুলেটরি অথরিটি হলঃ

Office of the Chief Controller of Imports & Exports (CCI&E)

প্রথমে জেনে নিই কে বা কারা এই লাইসেন্স পেতে পারে-

কোন প্রোপ্রাইটরশিপ কনসার্ন বা একমালিকানাধিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

কোন পার্টনারশিপ ফার্ম

বা কোন লিমিটেড কোম্পানি

আমদানী এবং রপ্তানী লাইসেন্স দুইটা কিন্ত আলাদা লাইসেন্স এবং আলাদা ভাবে নিতে হয়, তবে প্রসেস একই রকম।

আমদানী বা রপ্তানী লাইসেন্স আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্টস দরকার হয়ঃ

1)      ট্রেড লাইসেন্স দরকার হবে;

2)     সংশ্লিষ্ট চেম্বার অফ কমার্স অথবা সংশ্লিষ্ট কোন স্বীকৃত ট্রেড এসোসিয়েশনের মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট দরকার হবে;

[যারা নতুন তাদের জন্য বলছি, চেম্বার অফ কমার্স হল ব্যবসায়ীদের সংগঠন, প্রত্যেক জেলায় একটি করে চেম্বার অফ কমার্স থাকে, আপনি নির্দৃষ্ট একটা ফিস দিয়ে সেখানকার সদস্য হতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন স্বীকৃত ট্রেড এসোসিয়েশন রয়েছে যেমন- গার্মেন্ট মালিক ও রম্পানী-কারকদের সংগঠন বিজিএমইএ]

3)    মালিকের টিআইএন সার্টিফিকেট;


4)     মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র;

5)    মালিকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি;

6)     ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট;

7)    ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন সার্ফিকেট এর কপি;

আপনার প্রতিষ্ঠান যদি পার্টনারশিপ ফার্ম হয়, তাহলে পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের কপি;

আপনার প্রতিষ্ঠান যদি লিমিটেড কোম্পানি হয় তাহলে আরজেএসসি কর্তৃক অনুমোদিত মেমোরান্ডাম অফ এসোসিয়েশন, আর্টিকেলস্‌ অফ এসোসিয়েশন এবং সার্টিফিকেটস্‌ অফ ইন-করপরেশনের কপি।

কোম্পানীর পরিচালকদের নাম,ঠিকানার, কোম্পানীর নামে ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন সার্ফিকেট ইত্যাদি।

(আপনারা যারা একটা কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা চাইলে এখানে ক্লিক করে বাংলাদেশে একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানী গঠনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।)

এবং সরকার নির্ধারিত কোডে ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি এর টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে অথবা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় জমা প্রদানের পর জমার রশিদ।

সকল প্রকার কাগজপত্র ঠিক থাকলে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লাইসেন্স পাওয়া যায়।

https://www.sublimelegalbd.com/2021/03/how-to-apply-for-import-export.html

5
আমদানি বলতে বিদেশ থেকে কোনও পণ্য দেশে আনা বোঝায়। দেশের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এ জাতীয় পণ্যগুলিতে আমদানি শুল্ক প্রয়োগ করে।

আমদানি রফতানির বিপরীত। এটি সীমানা পেরিয়ে দেশে ভাল আনার প্রক্রিয়াটিকে বোঝায়। যখন আপনি কোনও আন্তর্জাতিক বিক্রেতার কাছ থেকে কোনও ভাল ক্রয় করেন, যিনি আপনার চেয়ে অন্য দেশ বিক্রি করছেন, তখন তাকে আন্তর্জাতিক শিপিং বলা হয়।

আমদানি ক্রস সীমান্ত বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং একটি শুল্ক আরোপ করে যা এই দেশের জন্য নির্দিষ্ট যেখানে আমদানি হচ্ছে। পণ্য আমদানির সময়, বিক্রেতা বা ক্রেতা হয় পণ্য আমদানির সাথে জড়িত শুল্ক এবং শুল্ক বহন করে। এই শুল্ক এবং শুল্ক উভয় পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির একটি অংশ।


https://www.shiprocket.in/bn/encyclopedia/import-import-duty/

6
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। আর সে অর্জনের প্রধানতম উপায় হলো রপ্তানি-বাণিজ্য। সরকারও তাই রপ্তানি-বাণিজ্যকে সর্বাধিক গরুত্ব দিয়ে থাকে। রপ্তানিকারক হতে চাইলে আগেই জেনে নিতে হবে কিছু প্রাথমিক তথ্য ও এ সম্বন্ধে করণীয়।

এদিক থেকে মুসকিল আসান হিসেবে আপনি পাশে পেতে পারেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র বা ট্রেড ইনফরমেশন সেন্টারকে(টিআইসি)। এই কেন্দ্র থেকে আপনি পাবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, করণী ও করণীয় বিষয়ে প্রযোজনীয় পরামর্শ।



 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ভবন
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ভবন

সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়, নতুন কেউ রপ্তানিকারক হতে চাইলে তাকে প্রথমেই আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে নাম নিবন্ধন করতে হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ‘রপ্তানি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করতে পারে না। সেজন্য নতুন রপ্তানিকারককে নিকটস্থ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অফিসে গিয়ে রপ্তানি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হয়। 
ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এজন্য ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি, স্বীকৃত চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশন থেকে বৈধ মেম্বারশিপের সার্টিফিকেট, ফি জমাদানের প্রমাণ হিসেবে  ট্রেজারি চালানের মূল কপি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড অংশীদারি দলিলের সত্যায়িত কপি, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।
রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র বা এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) পাওয়ার পর নিকটস্থ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে বিদেশি ক্রেতাদের তালিকা, নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য বিদেশের নির্দিষ্ট বাজারের সন্ধান ও ফলাফল জানা যাবে। বিদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি করবেন সেসব পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, বিদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগও মিলবে। রপ্তানি নীতিতে প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার নানা দিকের কথাও এখান থেকে জানা যাবে।


রপ্তানি-বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য সরকার রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ রপ্তানিকারক তাদের রিটেনশন কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারেন। যার পরিমাণ সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে থাকে। জমাকৃত টাকা থেকে রপ্তানিকারক প্রকৃত ব্যবসায়িক ব্যয়নির্বাহ করতে পারবেন। 

এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোতে (ইপিবি) একটি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল রয়েছে। এ তহবিল থেকে রপ্তানিকারকদের পণ্য উৎপাদনের জন্য হ্রাসকৃত সুদে ও সহজ শর্তে ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল (উদ্যোক্তা-বান্ধব অর্থায়ন) প্রদান করা হয়। পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখিকরণের ক্ষেত্রে বিদেশি কারিগরি পরামর্শ, সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হয়। বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণে সহায়তা করা হয়।


রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানিপণ্যের ক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত সুদ ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়। 

এছাড়া রপ্তানির অর্থ সংস্থান, রপ্তানি-ঋণ, রপ্তানিশিল্পের ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা, রপ্তানিমুখি শিল্পের জন্য সাধারণ সুযোগসুবিধা, আকাশপথে শাক-সব্জিসহ প্ল্যান্ট, ফলমূল, ফুল ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে বিমানভাড়ার সুবিধা ও সর্বোপরি রপ্তানিকারকদের জন্য আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-২০১৫ তে প্রদেয় সুযোগ সুবিধা, রপ্তানি বাণিজ্যে বর্জনীয় বিষয়সমূহ, রপ্তানিনিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা (২০১৫-২০১৮) কোন কোন্ পণ্য রপ্তানি করা যাবে, সে তালিকা পেতে যোগাযোগ করতে পারেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রে (টিআইসি)।


রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর টিআইসি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান আমলে, ১৯৬২ সালে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ এই শাখা ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ও নলেজ’ হিসেবে কাজ করছে। এখানে ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিটার-সেবা পাওয়া যায়। ম্যাগাজিন, সাময়িকী ও পত্রিকা পড়ার সুবিধাও রয়েছে এখানে। বাণিজ্য-জিজ্ঞাসা বা চাহিদা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় হালফিল তথ্য এখানে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। পণ্য ও পণ্যের দেশভিত্তিক রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের তালিকাও এখানে পাওয়া যায়।
 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারি পরিচালক রাহিমা আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, রপ্তানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো তথ্য সরবরাহ করে থাকে বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র (টিআইসি)। নতুন অথবা পুরনো রপ্তানিকারক যে কেউ যেকোনো তথ্য ও সহায়তার জন্য আমাদের বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ টিআইসিতে যান। তাদের মধ্যে অনেকে লাইব্রেরির বই ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন। বছরে ৭০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিয়ে এই লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ব্যবহার করা যায়। যারা ঘন্টা হিসেবে সেবা নিতে চান তাদের প্রতি ঘন্টার জন্য ২০ টাকা ফি দিতে হয়।
 
হস্তশিল্প রপ্তানিকারক আনোয়ার হোসেন পলাশ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমি ৩ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে হস্ত-শিল্পপণ্য রপ্তানি করে আসছি। প্রথমে ইপিবির টিআইসি থেকে তথ্য নিয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করি। এখনো মাঝেমাঝে টিআইসিতে যাই নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে। রপ্তানিকারকদের জন্য টিআইসি (বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রটি) অনেক কাজে লাগে।

রপ্তানি-ব্যবসায় আগ্রহী রানা বড়ুয়া টিআইসিতে গিয়েছিলেন কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন তা জানতে। 
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমি রপ্তানি ব্যবসা করতে চাই। সেজন্য ইপিবির টিআইসিতে গিয়েছিলাম। তাদের কাছ থেকে আমি বিস্তারিত জানতে পেরেছি। কোথায় কি করতে হবে এগুলো জানার জন্য সেন্টারটি ভালো।

https://www.banglanews24.com/economics-business/news/bd/632485.details

7
থাইরয়েডের চিকিৎসা কী?

আজ ভারতে দশ জনের মধ্যে একজন থাইরয়েড রোগে ভুগছেন। ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক থাইরয়েডের চিকিৎসার  ব্যয় কম করে দিয়েছেন । যাতে মানুষ  তাদের চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারে। পুরুষদের  তুলনায় মহিলাদের থাইরয়েডের সমস্যা বেশি। থাইরয়েড হ’ল  শরীরে অন্তঃস্থ গ্রন্থিগুলির মধ্যে অন্যতম। থাইরয়েড গলায় শ্বাস প্রশ্বাসের খাঁজের উপরে প্রজাপতির আকারের একটি গ্রন্থ । এটি থায়োরিসিসিন নামক হরমোন তৈরি করে। এটি শরীরের শক্তি এবং বিপাক বৃদ্ধি করে। এই থাইরয়েড গ্রন্থি দেহে অবস্থিত কোষগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি এক ধরণের মাস্টার লিভার। যা এমন জিন্সকে গোপন করে যা সকল কোষে রক্ত ​​সরবরাহ করতে কাজ করে। এই গ্রন্থিটি সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। এই প্রশ্নটি অবশ্যই সবার মনে আসবে, এর চিকিৎসা কী, আসুন আরও তথ্য জেনে  নেওয়া যাক।

    থাইরয়েড কী? (What is the meaning of Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েডের কতগুলি প্রকার রয়েছে ? (Types of Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েডের কারণ কী? (What causes Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েডের লক্ষণ কী? (What are the symptoms of  Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েডের চিকিৎসা কী? (What is the Treatment for Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েড সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ঘরোয়া উপায় কী? (Home Remedies to Treat Thyroid in Bengali)
    থাইরয়েডে কী খাবেন এবং কী এড়ানো উচিত ? (What to eat and what to Avoid in Thyroid in Bengali)

থাইরয়েড কী? (What is the meaning of Thyroid in Bengali)

থাইরয়েড হ’ল একটি গলার  রোগ যা প্রাথমিক দিকে  সনাক্তকরণযোগ্য নয়। তবে এটি যখন বৃদ্ধি পায়ে তখন এটি গলায় সহজেই দৃশ্যমান হয়। এটি গোলাকার ঘাড়ের মতো। এটি আয়োডিনের ঘাটতির কারণে হয় তাই খাবারে আয়োডিন যুক্ত নুন খান যাতে আপনি  থাইরয়েডের মতো সমস্যা এড়াতে পারেন।
থাইরয়েডের কতগুলি প্রকার রয়েছে ? (Types of Thyroid in Bengali)

থাইরয়েড দুটি উপায়ে ঘটে। টি 3 হাইপারথাইরয়েডিজম, টি 4 হাইপোথাইরয়েডিজম। এই গ্রন্থি অন্যান্য হরমোনের প্রতি সংবেদনশীল।
থাইরয়েডের কারণ কী?
থাইরয়েডের নিম্নলিখিত কারণ থাকতে পারে।

    থাইরয়েডের সর্বাধিক সাধারণ কারণ হ’ল গ্রাভস ডিজিজ। এটি এক ধরণের অটোইমিউন রোগ, যেখানে অটো অ্যান্টিবডিগুলি আরও বেশি থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন  করতে গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করতে শুরু করে। মহিলাদের মধ্যে এটি ঘন ঘন হতে দেখা যায় ।
    থাইরয়েড গ্রন্থিতে গলিত গঠনের কারণে হরমোন নিঃসরণ ঘটতে পারে।
    শরীরে আয়োডিনের অভাব থাইরয়েডের সমস্যা তৈরি করে।
    গর্ভাবস্থায়, মহিলার দেহে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে কিছু হরমোন পরিবর্তন হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, পিটুইটারি গ্রন্থিতে ক্যান্সার সেল বিকশিত হলে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে।
    থাইরয়েড এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি ঝুঁকির  হয় যারা দীর্ঘকালীন উদ্বেগ ও অবসাদে ভোগেন তাই লোকেদের স্ট্রেস পরিচালনা করার চেষ্টা করা উচিত।
    যাদের হাই বিপি বা লো বিপি সমস্যা রয়েছে তাদের থাইরয়েড হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
    থাইরয়েড সমস্যা প্রায়শই প্রসবের পরে মায়ের হতে পারে তবে কিছু সময়ের পরে এটি নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। যদি মহিলার দীর্ঘায়িত থাইরয়েড থাকে তবে অবিলম্বে কি চিকিৎসা  করা উচিত।

থাইরয়েডের লক্ষণ কী? (What are the symptoms of  Thyroid)

    নীচে থাইরয়েডের লক্ষণগুলি রয়েছে।
    কোষ্ঠকাঠিন্য।
    শরীরের ওজন বৃদ্ধি।
    ঠান্ডা হাত পা।
    ত্বক শুকানো হয়ে পড়া।
    উত্তেজিত হওয়া।
    অলস হওয়া।
    সর্দি নিরাময় না হওয়া।
    শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা।
    চুল পড়া।

থাইরয়েডের চিকিৎসা কী? (What is the Treatment for Thyroid )

    থাইরয়েড রোগটি বিভিন্ন উপায়ে চিকিৎসা  করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি গ্রন্থিতে কোনও সমস্যা দেখা দেয় তবে চিকিৎসকরা  কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের একটি ডোজ দেন যাতে থাইরয়েড হ্রাস পায়।
    যদি ব্যক্তির গলা ব্যথা হয় তবে ডাক্তার প্রথমে ব্যক্তির রক্ত ​​পরীক্ষা করেন। থাইরয়েডের লক্ষণ আছে কিনা তা নির্ধারণ করতে রক্তে টিএসএইচ এবং টিআরএমের পরিমাণ পরীক্ষন করা হয় । ফলাফল পাওয়ার পরে  চিকিৎসকরা চিকিৎসার  জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দেন।
    ওষুধ সেবন করার ফলে থায়েরোইডে অনেক সময় সিস্টের  সম্ভাবনা দেখা দেয়।  সিস্ট অন্যান্য রোগের কারণও হতে পারে তাই চিকিৎসকরা অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে সিস্ট  অপসারণ করে দেন ।
    যদি সেই ব্যক্তির থাইরয়েডে ক্যান্সার থাকে তবে চিকিৎসক  কেমোথেরাপির সাহায্যে  এটি  চিকিৎসা  করেন। থাইরয়েডের অবস্থা আরও খারাপ হলে, ডাক্তারও শল্য চিকিৎসা  করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

থাইরয়েড সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ঘরোয়া উপায় কী? (Home Remedies to Treat Thyroid in Bengali)

    লাউয়ের  রসে তুলসী পাতা মিশিয়ে  পান করুন। থাইরয়েড সমস্যা সমাধান হবে।
    রান্না তে  ফিশ অয়েল বেশি ব্যবহার করুন কারণ ফিশ অয়েলে ওমেগা ফ্যাট উপাদান রয়েছে।
    আপেল ভিনেগার খাওয়া উচিত কারণ আপেল ভিনেগারে রয়েছে ক্ষারীয় অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপে সহায়তা করে।
    আদা চায়ে মধু মিশিয়ে পান করলে এতে অনেক আরাম পাওয়া যায়। আদাতে পটাসিয়াম, জিঙ্ক  জাতীয় উপাদান রয়েছে যা থাইরয়েডের সমস্যা হ্রাস করে।
    খাবারে সবুজ ধনের  চাটনি মিশিয়ে খান , যাতে হজম প্রক্রিয়া ভাল থাকে, এবং  থাইরয়েডের পাচনপ্রক্রিয়া  ঠিক থাকলে হাযেরীদের সমস্যা  দেখা দেয় না।
     প্রাণায়ামে অনেক আসন আছে থাইরয়েডের জন্য খুব উপকারী। কারণ এটি সহজে গলায় মনোনিবেশ করে।
    যদি কোনও টিস্যুর একটি মাইক্রোস্কোপিক এবং বায়োপসি করার পরে, গলিত গঠনের  সঠিকভাবে সনাক্ত না হয় তবে চিকিৎসক থাইরয়েডেক্টির পরামর্শ দিতে পারেন। থাইরয়েডেক্টোমি দিয়ে সহজেই ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়। (আরও পড়ুন – থাইরয়েডেক্টমি (থাইরয়েড সার্জারি)) কীভাবে করা হয়?

থাইরয়েডে কী খাবেন এবং কী এড়ানো উচিত ? (What to eat and what to Avoid in Thyroid )

    থাইরয়েডে আয়রন ও কপারের ব্যবহার আহারে বাড়াতে হবে । যেমন: রসুন, পেঁয়াজ, মাশরুম, থাইরয়েডের ভারসাম্য বজায় রাখে।
    নারকেল তেলে রান্নায় ব্যবহার করুন এবং অল্প পরিমাণে দই খান এবং পনির, টমেটো, সবুজ শাকসবজি এবং ভিটামিন এ জাতীয় পুষ্টি বেশি খান।
    থায়েরোইডে  পরিশোধিত ময়দা, ফুলকপি, ব্রকলি, চা, কফি, মুরগী, মাটন, বেশি মরিচ মশলা, টক, ক্রিম, বিস্কুট, মিষ্টি, ভাত, সাদা নুন এবং  ধূমপান এড়িয়ে চলুন
https://www.logintohealth.com/blog/bn/uncategorized-bn/treatment-for-thyroid-in-bengali/

8
ধরি’  মোতিন একজন তরুন উদ্যোক্তা। সে চাচ্ছে বিদেশ থেকে কিছু পন্য নিয়ে এসে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করতে। কিন্তু সে জানেনা কিভাবে পন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আজকে আমি সে বিষয়েই কিছু আলোচনার চেষ্টা করব। যাতে করে আপনি জানতে পারেন কি করে বিদেশ থেকে কোন পন্য আমদানি করে ব্যবসা শুরু করবেন।


 
প্রথমেই বলি পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে পন্য আমদানির পদ্ধতি প্রায় একই রকম। তো ধরে নেই, মোতিন চায়না থেকে কিছু ইলেক্ট্রনিক পন্য আমদানি করতে চায়। পন্য আমদানির শুরুতে মোতিনকে ‘আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অধিদপ্তর’ থেকে একটি আমদানি লাইসেন্স করতে হবে।

আমদানি লাইসেন্স করতে আপনার যে সমস্ত কাগজপত্র লাগবেঃ-

১। আমদানি কারকের জাতীয় পরিচয় পত্র

২। আমদানি কারকের ৩ কপি ছবি

৩। ট্রেড লাইসেন্স

৪। ব্যাংক সলভেন্সী সার্টিফিকেট

৪। ট্রেড এ্যাসোসিয়েশন সনদ

৫। আমদানিকারকের TIN সার্টিফিকেট

আমদানি লাইসেন্স করার পর এবার আপনি; যে দেশ থেকে পন্য আনবেন সেই দেশের একজন উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেকেই alibaba.com থেকে পন্যের বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে । এছাড়া আরও অনেক উপায়ে আপনি আপনার পছন্দের বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে বর্তমানে সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ ও বাকি কাজগুলো করে থাকে।

তো আপনি যখন আপনার পছন্দের সরবরাহকারীকে পেয়ে যাবেন তখন উক্ত সরবরাহকারীকে আপনার প্রয়োজন অসুসারে পন্যের ধরন, কালার, সংখ্যা ইত্যাদি বিষয় গুলোর তালিকা পাঠাবেন একই সাথে পন্যের মূল্য ঠিক করে নিবেন। সরবরাহকারীর সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে এবার সরবরাহকারী আপনাকে একটি (PI-‘প্রফরমা ইনভয়েস’) পাঠাবে। উক্ত (PI -‘প্রফরমা ইনভয়েস’)-এ পন্যের সমস্ত তথ্য থাকবে এবং উক্ত (PI – ‘প্রফরমা ইনভয়েস’) অবশ্যই বিক্রেতা বা প্রতিষ্টানের পেডে হতে হবে ও তাতে প্রতিষ্ঠানের বা বিক্রেতার শীল সহ সাক্ষর থাকবে। উক্ত (pi- ‘প্রফরমা ইনভয়েস’) আপনাকে ই-মেইল করে পাঠালেও হবে।

এবার আপনাকে উক্ত সরবরাহকারীর উদ্দেশ্যে LC ওপেন করতে হবে LC আপনাকে ব্যাংক থেকে ওপেন করতে হবে। LC  করতে হলে আপনাকে (PI -‘প্রফরমা ইনভয়েস’)-এর কপি, আমদানি লাইসেন্সর কপি, ট্রেড লাইসেন্সের কপি, পন্যের মূল্য ইত্যাদি নিয়ে একটি ব্যাংক-এ যেতে হবে। সবকিছু ঠিক দেখলে ব্যাংক LC ওপেন করে দিবে। এখানে বলে রাখা ভাল যে সরবরাহকারী যদি আপনার কাছ থেকে LC দাবি না করে তবে আপনাকে LC  দেয়া লাগবে না। আসলে LC হল সরবরাহকারীর টাকা পাওয়ার নিশ্চিয়তার কপি। অর্থাৎ মনে করুন সরবরাহকারীর পন্য হাতে পেয়ে যদি আপনি টাকা না দেন তবে সরবরাহকারী কি করবে। আবার আপনিও পন্য পেয়ে টাকা সরবরাহকারীকে দিলেন না। তাই ব্যাংক দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারির ভূমিকায় কাজ করে। যাই হোক LC-এর কাগজ এবার আপনাকে সরবরাহকারীর নিকট পাঠাতে হবে। সরবরাহকারী LC-র কাগজ পাওয়ার পরে আপনার পন্য উৎপাদন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। এবার সরবরাহকারী আপনার চাহিদা মত পন্যগুলো জাহাজে বা বিমানে লোড করবে। সাধারনত সবাই জাহাজে করেই পন্য আনে। জাহাজেবা বিমানে পন্য লোড করার পরে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারীকে Bill of Loading  প্রদান করবে। এবার সরবরাহকারী Bill of Loading -এর একটি কপি আপনাকে ই-মেইল করবে বা যে কোন মাধ্যমে মাধ্যমে আপনার কাছে পাঠাবে। এতে করে আপনি নিশ্চিত হলেন যে আপনার পন্য জাহাজে বা বিমানে সত্যিই উঠানো হয়েছে। উক্ত Bill of Loading -এ পন্য কত তারিখে বাংলাদেশে আসতে পারে তার একটি আনুমানিক তারিখ থাকবে। এবার নির্ধারিত তারিখে আপনি পোর্টে গিয়ে C&F এজেন্টের সহযোগিতায় আপনার পন্য খালাস করিয়ে আনবেন। এখানে আপনি C&F এজেন্টের সহযোগিতা না নিতে চাইলে আপনি একাও কাজগুলো করতে পারেন। তবে কাস্টমস-এর কাজগুলো কঠিন বিধায় সবাই C&F-এর এজেন্টদের সহযোগীতা নিয়ে থাকে। তারা আপনার পক্ষ হয়ে কাস্টমস–এর সমস্ত কাজ করে দিবে। কাস্টমসের কাজ শেষ করার পর এবার আপনি আপনার পন্য বন্দর থেকে বের করার অনুমতি পাবেন। তখন আপনি সে পন্য দিয়ে আপনার কাক্ষিত মনের ইচ্ছা পূরন করতে পারবেন। ধন্যবাদ। আশা করি আপনার বিদেশ থেকে কোন পন্য আনতে আর সমস্যা হবে না । যদি এই লিখার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে শেয়ার করে আপনার পরিচিতজনদের জানিয়ে দিন যেন তারাও জানতে পারে । ধন্যবাদ আবারো।


https://grathor.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA/

9
আমাদের শরীরের মধ্যে গোপনে কোন রোগ ক্রমশ বেড়ে উঠছে, তা আমরা সবসময় বুঝতে পারি না। তার একটা কারণ, আমরা সমস্ত অসুখের লক্ষণগুলো জানি না। তাই শরীর লক্ষণের মাধ্যমে রোগের উপস্থিতি জানান দিলেও, আমরা তা বুঝতে পারি না।
কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে?
ওয়েব ডেস্ক: আমাদের শরীরের মধ্যে গোপনে কোন রোগ ক্রমশ বেড়ে উঠছে, তা আমরা সবসময় বুঝতে পারি না। তার একটা কারণ, আমরা সমস্ত অসুখের লক্ষণগুলো জানি না। তাই শরীর লক্ষণের মাধ্যমে রোগের উপস্থিতি জানান দিলেও, আমরা তা বুঝতে পারি না।

থাইরয়েড। আমাদের ঘাড়ের সামনের দিকে যে প্রজাপতি আকৃতির গ্ল্যান্ড দেখতে পাওয়া যায়, সেটিই থাইরয়েড গ্ল্যান্ড। থাইরয়েড হরমোন আমাদের দেহের মধ্যে সজীব উত্‌পাদনের রাসায়নিক পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড হরমোন যেমন একদিকে আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে। তেমনই থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের মাধ্যমে আমাদের শরীরের ক্ষতিও হয় অনেক ক্ষেত্রে। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের কর্মহীনতার জন্য আমাদের শরীর অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে সমস্যা হয়েছে?

১) সবসময় ক্লান্তি অনুভূত হওয়া।

২) কোষ্ঠকাঠিন্য।

৩) সহ্য শক্তি কমে যাওয়া।

৪) বিষণ্ণতায় ভোগা।

৫) খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া।

৬) অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া।

৭) অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়াল পিরিয়ড।

৮) যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া।

৯) চোখের সমস্যা।

শরীরে এই সমস্ত লক্ষণগুলো যদি আপনি দেখেন, তাহলে তত্‌ক্ষণাত্‌ চিকিত্‌সকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। থাইরয়েডের সমস্যা একেবারেই ফেলে রাখবেন না।

https://zeenews.india.com/bengali/health/sings-and-symptoms-of-thyroid_153963.html

10
থাইরয়েড একটি অত্যন্ত গুরুতর রোগ যা বর্তমানে প্রায় ৬০% মানুষের হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি মানুষের শরীরে থাইরয়েড বলে একটি গ্রন্থি আছে যা গলার ঠিক ওপরের কোণার অংশে দুদিকে দেখা যায়। এই গ্রন্থি তিন রকমের হরমোন নিঃসরণ করে- ট্রিওডোথাইরোনিন (T3), থোরোক্সিন (T4) এবং ক্যালসিটোনিন যা আপনার শরীরের নানারকমের কার্যকারিতা যেমন হজমের ক্ষমতা, মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, মহিলাদের মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ, হার্টের কার্যকলাপ, ঘুমের চক্র ও ভাবনা চিন্তার কার্জকপালগুলি সঠিকভাবে চালনা করে। যখনই এই থাইরয়েড গ্রন্থি কোনোরকম সমস্যার শিকার হয়, তখনই থাইরয়েড রোগ ধরা পড়ে।

থাইরয়েড সাধারণত দুই প্রকারের হয়- হাইপারথাইডিসম ও হাইপোথাইরয়েডিজম। যখন থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন উৎপন্ন হয়, তখন তাকে বলে হাইপারথাইরোয়েডিজম;  আবার যখন অত্যন্ত কম পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ হয় তখন তাকে বলা হয় হাইপো থাইরয়ডিজম। এই দুটির ফলেই শরীরে নানারকমের সমস্যা যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, উচ্চতা না বাড়া, মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকলাপ না হওয়া, অস্থিরতা, মাসিকের অনিয়ম, বিষন্নতা, ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্যে নানারকমের ওষুধ পাওয়া যায়, কিন্তু যেকোনো ওষুধেরই আয়ু খুব কম কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে ওষুধ আর কাজ করেনা।  তাই, থাইরয়েডের আসল চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী, ওষুধের থেকেও বেশি প্রতিদিনের আহার অর্থাৎ খাদ্য তালিকা সঠিক রাখলে ধীরে ধীরে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেকোনো থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের জন্যে নির্দিষ্ট ক্যালোরি অনুযায়ী তার খাদ্যতালিকা তৈরী করা হয়। তবে হাইপারথাইরোয়েডিজম এবং হাপোথাইরোয়েডিজমের খাদ্যতালিকা সম্পূর্ণ আলাদা। আপেক্ষিকভাবে বলা হয় যে একজন থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের দিনে ১০০০ ক্যালোরির বেশি খাদ্য খাওয়া উচিত নয়। আজকের এই নিবন্ধে আমরা থাইরয়েডের রোগের সঠিক আহার ও খাদ্যতালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে  আলোচনা করবো। চলুন দেখে নেওয়া যাক:

হাইপো থাইরয়েড এর আহার চার্ট –

থাইরয়েড ডায়েট অর্থাৎ থাইরয়েড রোগের খাদ্যতালিকা খুব বেছে বেছে ঠিক করা প্রয়োজন। তার ওপর হাইপোথাইরয়েডের খাদ্যতালিকা হওয়া চাই বেশ পুষ্টিকর অথচ কম ক্যালোরি যুক্ত। নিচের তালিকায় হাইপোথাইরয়েডের একটি ডায়েট চার্ট দেওয়া হল:

কখন খাবেন   কি কি খাওয়া উচিত   ক্যালোরি
ভোরবেলা (৭.০০ – ৭.৩০)   ১ কাপ গরম জলে একটি গোটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন   ২৫
জলখাবার (৮.১৫ – ৮.৪৫)   ১টি ডিম সেদ্ধ  +  ফ্লাক্স বীজ মেশানো ওটস  + ৩ টি ব্রাজিল বাদাম   ৩৩০
দুপুরে  (১২.০০ – ১২.৩০)   ফলের স্যালাড অথবা চিংড়ি মাছ এবং লেটুসের স্যালাড   ৬০
বিকেলে  (৪.০০)   ১টি বেদনা  + ১ কাপ ডাবের জল   ১০৪
রাতে (৭.০০)   সবজি দিয়ে তৈরী ১ কাপ ডাল   ৩০
হাইপো থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত – Food for Hyperthyroidism in Bengali
ওপরে দেওয়া খাদ্যতালিকাটির মধ্যে শুধু কয়েকটি একান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যের কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধুমাত্র এগুলো খেয়ে থাকতে পারা কঠিন, তাই আরো কিছু কিছু বিশেষ প্রয়োজনীয় খাদ্যের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে যা হাইপোথাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের অবশ্যই খাওয়া উচিত:

১. আয়োডিন যুক্ত নুন: Iodised salt

একজন হাইপোথাইরয়েডে ভোগা মানুষের জন্যে আয়োডিন খুবই প্রয়োজনীয়। আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরোয়েড থেকে গলগণ্ড হতে পারে (১) কারণ এই সময় শরীর নিজে থেকে আয়োডিন উৎপন্ন করতে পারেনা। তাই আপনাকে নিজে থেকে এমন খাদ্য খেতে হবে যা আয়োডিন ভরপুর। তাই রান্নায় সাধারণ নুন একেবারেই ব্যবহার না করে আয়োডিন যুক্ত নুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।

২. মাছ: Fish

Fish2Save
Shutterstock

মাছে রয়েছে ভরপুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ও সেলেনিয়াম (২)। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এল ডি এল কোলেস্টেরলকে কম করতে সাহায্য করে ও সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, চিংড়ি, টুনা, সার্ডিন, স্যালমন, ইত্যাদি এই সমস্যা খাওয়া খুব উপকারী। তবে মনে রাখবেন, মাছ যেন অতিরিক্ত ভাজা বা রান্না করা না হয়; এতে মাছের আসল গুণ হারিয়ে যায়।

৩. টেংরীর স্যুপ: Bone broth
টেংরি অর্থাৎ খাসির মাংসের হাড় ফুটিয়ে যেই স্যুপ তৈরী হয়, সেটি যেকোনো হাইপোথাইরোয়েডিজমে আক্রান্ত মানুষের জন্যে খুব উপকারী। এই সময় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের জোর কম হয়ে আসে যার ফলে হাড়ের ভঙুরতটা দেখা দেয়। তাই এই সময় ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য খাওয়া খুবই জরুরি। প্রতিদিন এক বাটি টেংরীর স্যুপের মধ্যে কয়েকটি সবজি ভালো করে ফুটিয়ে সেটি খাওয়ার অভ্যেস করলে উপকার পাওয়া যায় (৩)।

৪. ফল ও সবজি: Veggies and fruits
শাক সবজি এবং ফলে রয়েছে নানারকমের মিনারেল, ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার। যদিও কিছু কিছু সবজি এই সময় খাওয়া ঠিক নয়, যেমন-*-ফুলকপি, মিষ্টি আলু, পালংশাক, বাঁধাকপি, মুলো, ইত্যাদি। এগুলিকে গোইট্রোজেন বলা হয় (৪)। তবে এগুলি ভালো করে রান্না করলে গোইট্রোজেন উপাদানগুলি মরে যায়।

৫. দুগ্ধ পদার্থ যুক্ত খাদ্য: Dairy
কম ফ্যাট সম্পন্ন দুধ, দই এবং পনিরে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আয়োডিন এবং সেলেনিয়াম যা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া দুগ্ধজাত পদার্থে থাকা এমিনো এসিড লাইরোসিন হাইপোথাইরোয়েডিজমের নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন বিষন্নতা, ক্লান্তি, ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে (৫)।

৬. মুরগির মাংস: Chicken
মুরগির মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয়  জিঙ্ক যা হাইপোথাইরয়েডের বিরুধ্যে কাজ করে ও সেটিকে  ট্রিওডোথাইরোনিন (T3) ও থোরোক্সিনে (T4) রূপান্তর করতে সাহায্য করে (৬)। সপ্তাহে অন্তত ৩ বার ২ টুকরো করে মাংস খাওয়ার অভ্যেস করলে ভালো।

৭. ডিম: Eggs
Eggs2Save
Shutterstock

আয়োডিনের একটি সূত্র হল ডিম যা হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে (৭)। তবে এক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশটিই খাওয়া উচিৎ এবং  কুসুমটি বাদ দেওয়া উচিৎ। ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টরল বেড়ে যেতে পারে।

৮. শিম শস্য: Legumes
শিম জাতীয় শস্য বা ডাল হল আয়োডিন ও জিঙ্কে ভরপুর (৮)। প্রতিদিন নিয়ম করে ডাল, বিনস, ছোলা, মটরশুঁটি, ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো। এতে থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি থেকে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ হয়।

৯. অলিভ অয়েল: Olive oil
হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে, সমস্ত রান্না অলিভ ওয়েলে করা ভালো। অলিভ ওয়েলে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং পুষ্টিকর উপাদান যা থাইরয়েড হরমোনগুলিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে (৯)। অলিভ অয়েল এল ডি এল কোলেস্টরল নামিয়ে ওজন কমাতে ও হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

১০. জল: Water
জল কোনো খাদ্য না হতে পারে, কিন্তু হাইপোথাইরোয়েডিজমের জন্যে জলের মত ওষুধ আর নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করার অভ্যেস করুন, কারণ শরীরের নানা রকমের বিষাক্ত পদার্থ অনায়াসে দূর করা যায় জলের মাধ্যমে। এছাড়া থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব অঙ্গগুলি সাহায্য করে সেগুলি জলের সাহায্যে কার্যকরী করা যায়।

হাইপো থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় –

নিচের এই খাদ্যগুলি হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। বিস্তারিতভাবে জেনে নিন:

১. কাঁচা অথবা অর্ধেক রান্না করা শাক সবজি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, পালং শাক, ইত্যাদি।

২. গ্লুটেন যুক্ত খাদ্য।

৩. অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাদ্য।

৪. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জাঙ্ক ফুড অথবা তেলে ভাজা খাদ্য যেমন আলুর চিপ্স, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ওয়েফার, ইত্যাদি। এগুলির মধ্যে থাকে উচ্চ সোডিয়াম কিন্তু কোনো আয়োডিন নেই। এছাড়া এতে কোলেস্টরল বেড়ে যায়।

৯. হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে গ্রিন টি পান করা একেবারেই নিষিদ্ধ কারণ এতে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান (১০)।

হাইপার থাইরয়েড এর আহার চার্ট – Hyperthyroidism Diet Chart in Bengali
কখনও কখনও থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি একেবারে উল্টোভাবে কাজ করে, অর্থাৎ অতিরিক্ত পরিমানে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ করে যাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েড। নিচে আপনার জন্যে রইলো হাইপার থাইরয়েডের আহার চার্ট:

কখন খাবেন   কি কি খাবেন?   ক্যালোরি
ভোরবেলায় (৭:০০ – ৭:৩০)   ২ গ্লাস  জল   ০
জলখাবার  (৮:১৫ – ৮:৪৫)   টমেটো +আপেল +আঙুরের তৈরী স্মুদি এবং দুটি সেদ্ধ ডিম   ৩০৭
মাঝ সকালে (১০:৩০)   ১টি মিডিয়াম সাইজের কাপ ভর্তি কচি গাজর লেবুর রস ও নুনের সাথে মাখিয়ে   ৭০
দুপুরে  (১২:৩০- ১:০০)   টুনা/ মুরগির মাংস/ পালং শাকের সাথে মেশানো মাশরুম স্যালাড, টমেটো এবং মুলো   ৩৭০
বিকেলে (৪:০০)   ১ কাপ গ্রিন টি + ৩২ টি পিস্তা বাদাম   ৫৭০
রাতে  (৭:০০ – ৭:৩০)    বিনস দিয়ে তৈরী স্যালাড, সবজি দিয়ে তৈরী মাছের ঝোল   ২৬৭
হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত – Food for Hypothyroidism in Bengali
হাইপার থাইরয়ডিজমের ক্ষেত্রে যেই যেই লক্ষণগুলি সবথেকে বেশি করে ফুটে ওঠে সেগুলি হল ওজন অত্যাধিক কমে যাওয়া, উত্তেজনা হওয়া, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম, চোখ ফুলে যাওয়া, খিদে বেড়ে যাওয়া, ঘুমের অভাব ও ত্বকে সারাক্ষণ ঘাম ঘাম ভাব। এক্ষেত্রে যেসব খাদ্যগুলি সব থেকে বেশি করে খাওয়া উচিত সেগুলি হল:

১. কাঁচা সবজি ও ফল: Raw fruits and veggies
কাঁচা ও পাতা সমৃদ্ধ সবুজ শাক ও সবজি খেলে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ হওয়াকে আটকানো যায়।  এর জন্যে যেসব সবজিখাওয়া উচিত সেগুলি হল ব্রকোলি, পালং শাক, বাঁধাকপি, গাজর, ফুলকপি, লেটুস, ইত্যাদি। ফলের মধ্যে খাওয়া উচিত কমলা লেবু, আপেল, টমেটো, আঙ্গুর, কিউই, জাম, ইত্যাদি।

২. ব্রাউন রাইস: Brown rice
ব্রাউন রাইস হল উচ্চ গোইট্রোজেনিক সমৃদ্ধ, যাতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল। প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ ব্রাউন রাইস খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো।

৩. প্রোটিন: Lean protein
প্রোটিন যেমন মুরগির মাংস, মাছ, মাশরুম, সয়াবিন ও ডাল খাওয়া হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। এসব প্রোটিন অনেকটা দেরিতে হজম হওয়ার ফলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে।

৪. গ্রিন টি: Green tea
Green tea2Save
Shutterstock

হাইপার থাইরয়েড যখন নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয় তখন গ্রিন টি হল একটি অনবদ্য ঔষধীয় পানীয় যার মধ্যে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান ও ফ্লুরাইড। প্রতিদিন অন্তত ২ কাপ করে গ্রিন টি পান করার অভ্যেস করুন।

৫. ঔষধিক গাছ: Herbs
কিছু কিছু ঔষধীয় গুণ সমৃদ্ধ পাতা যেমন ধনে পাতা, অরিগ্যানো, তুলসী পাতা, পুদিনা, ইত্যাদি হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। তাই এগুলি রোজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় – Foods to Avoid in Hyperthyroidism in Bengali
Foods to Avoid in HyperthyroidismSave
Shutterstock

হাইপোথাইরোয়েডে ভুগলে যেই সমস্ত খাদ্যগুলি একেবারেই খাওয়া উচিত নয় সেগুলি হল:

১. অতিরিক্ত আয়োডিন, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন সামুদ্রিক মাছ, ডিম, নুন, ব্রাজিল বাদাম, ইত্যাদি।

২. কৃত্রিম ভাবে তৈরী মিষ্টি জাতীয় সুইটনার।

৩. দুধ এবং দুগ্ধ পদার্থ যেমন দই, মাখন, পনির, চিজ, ইত্যাদি।

৪. মদ্যপান ত্যাগ করুন এবং যেকোনো বোতলবন্দি পানীয় পর্যন্ত খাওয়া নিষেধ।

৫. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জনক ফুড এবং কৃত্রিমভাবে সুগন্ধযুক্ত বা রঙিন খাদ্য।

থাইরয়েড রোগের জন্য আরো কিছু টিপস – Other Tips for Thyroid Diet in Bengali
যদিও থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা একটি বিশাল ভূমিকা নিয়ে থাকে, তবুও খাদ্যের বাইরেও এমন কিছু নিয়মিত অভ্যেস ও জীবনশৈলী মেনে চলতে হবে যা হাইপোথাইরোয়েডিজম এবং হাইপারথাইরোয়েডিজম দুটির ক্ষেত্রেই খুব জরুরি। জেনে নেওয়া যাক কি কি করা উচিত ও কি কি করা উচিত নয়:

কি কি করা উচিত:
বেশি করে জল পান করুন
জল থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ওষধির কাজ করে। জলের সাহায্যে নানারকমের বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া জল মেদ ঝরাতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

ডায়েটের দিকে খেয়াল রাখুন
একজন থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের ১০০০ ক্যালোরির বেশি খাদ্য খাওয়া একেবারেই উচিত না। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক খাদ্য তালিকা অর্থাৎ ডায়েট চার্ট বেছে নিয়ে নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করুন।

যোগ ব্যয়াম করুন
থাইরয়েডের ফলে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ওজন বৃদ্ধি খুব সাধারণ। নিয়মিত যোগা অথবা ব্যয়াম করা খুবই জরুরি। এতে শরীর সম্পূর্ণভাবে সচল থাকে ও মেজাজ ভাল থাকে।

ভালো করে ঘুমান
দিনে কম করে ৮ ঘন্টা ঘুম খুবই জরুরি। না ঘুমোনোর ফলে শরীরে আরো বেশি ক্লান্তি আসে ও সারাদিন অলস লাগে।

চিন্তা মুক্ত থাকুন
অতিরিক্ত বিষন্নতা বা মানসিক চাপ থেকেও শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যার ফলে থাইরয়েড ধরা পড়ে। তাই সব সময় হাসি খুশি ও প্রানোজ্জল থাকার চেষ্টা করা দরকার।

কি কি করা উচিত নয়:

তৈলাক্ত খাদ্য থেকে দূরে থাকুন
বেশি ভাজা খাবার বা তৈলাক্ত খাবার খেলে থাইরয়েডের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই কম তেলে রান্না করা উচিৎ, অলিভ অয়েল ব্যবহার করা আরও ভালো।

বাইরের খাবার থেকে দূরে থাকুন
ফাস্ট ফুড থাইরয়েডের জন্যে অতিরিক্ত বিষাক্ত কারণ এতে থাইরয়েড উৎপন্ন করা হরমোনগুলি খুব খারাপভাবে বেড়ে যায়।

ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন
ধূমপান বা মদ্যপান দুটিই হল থাইরয়েডের জন্যে ক্ষতিকারক। এই ধরণের নেশা বন্ধ না করলে থাইরয়েড শুধু হবে তা নয়, সেটি সারা জীবনেও আর কমবেনা।

নুন কম খান
রান্নায় যেটুকু নুনের প্রয়োজন হয় সেইটুকু ছাড়া পাতে নুন একেবারে না খাওয়া উচিত, প্রয়োজনে রান্নাতেও নুন কম ব্যবহার করতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরোইয়েডিজম দুটিই হল খুব গুরুতর সমস্যা যা একেবারেই অবহেলা করা ঠিক না। তাই থাইরয়েডের সমস্যা যাতে কোনোদিনও না হয় তার জন্যে এর প্রবণতা থেকেও আজ থেকেই দূরে থাকতে হবে। সেইজন্যে আপনার উচিত আজ থেকেই নিজের খাদ্যতালিকা ও জীবনধারার দিকে নজর দেওয়া। আশা করি আমরা এই পোস্টে আপনাকে থাইরয়েড নিয়ে অনেক কিছু জানাতে পেরেছি। এ বিষয় কোনো মতামত থাকলে বা আরো কিছু জানা  থাকলে আমাদের অবশ্যই জানান কমেন্টের মাধ্যমে।

https://www.stylecraze.com/bengali/thyroid-roger-aahar-in-bengali/#-hypothyroidism-diet-chart-in-bengali

11
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব সহজে ধরা পড়ে না। আবার ধরা পড়ার পর সঠিক চিকিৎসা না হলে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অনেক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষই নন, যেকোনো বয়সী মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত বেশি ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতির কারণে এমনটা হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মিত সেবনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

তাই বলে খাদ্যাভ্যাসে যে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, তা কিন্তু নয়। ছোট কিছু পরিবর্তনেই উচ্চ রক্তচাপের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন তাজা ফল যেমন লেবু, জাম্বুরা, পেয়ারা, আমলকী, আপেল, কমলা, মাল্টা, ডালিম, কলা, নাশপাতি, পেঁপে ইত্যাদি খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে সবুজ শাকসবজি যেমন পালংশাক, কলমিশাক, মুলাশাক, পাটশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শসা, মুলা, লাউ, মটরশুঁটি, ঢ্যাঁড়স, বেগুন, কুমড়া

ইত্যাদি। খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম–জাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়াতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত ডাবের পানি, কলা, টমেটোসহ কিছু সবজিতে পটাশিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বাদাম, শালগম, তিসি, ডার্ক চকলেট ও কালিজিরা ভালো কাজ করে।
এবার জেনে নেওয়া যাক উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে:
লবণ ও বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। টেস্টিং সল্ট, বিট লবণ ও অন্যান্য মুখরোচক লবণ খাওয়া থেকেও বিরত
থাকতে হবে। সয়া সস পরিহার করতে হবে।

অতিরিক্ত মাখন, তেলযুক্ত খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি, পরোটা, লুচি, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়া যাবে না।
ডিমের কুসুম, খাসির মাংস, গরুর মাংস ইত্যাদি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
চাটনি, ভর্তা ও আচারে প্রচুর তেল ও লবণ ব্যবহার করা হয়, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এগুলো এড়াতে হবে।

https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0

12
বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি ভয়ঙ্কর মারণ রোগে পরিণত হয়েছে। অল্প বয়সেই অনেককেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যা বংশগতভাবে বা নিজেদের কিছু অসতর্কতার জন্য হয়ে থাকে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৮০ লক্ষ। বর্তমানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ২০ লক্ষ।

ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধি। ডায়াবেটিসের ফলে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, কিন্তু তা কোনো ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

২০১৭ সালে পাবলিক লাইব্রেরী অব সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন ঢেড়স-ই যথেষ্ট।     

তাই রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, তাও একেবারে সামান্য খরচে। প্রতিদিন মাত্র তিনটি ঢেঁড়সেই রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কীভাবে তা সম্ভব-

> তিনটি ঢেঁড়স ভাল করে পানিতে ধুয়ে নিন।

> এরপর সেগুলোর সামনের দিকের সামান্য অংশ (ডগার অংশ) এবং বৃন্তের অংশ বাদ দিয়ে দিন।

> এবার ঢ্যাড়সগুলো লম্বা করে চিরে দিয়ে সারা রাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

> সকালে উঠে এই ঢ্যাড়স ভেজানো পানি খেয়ে নিন।

রক্তে সুগারের মাত্রা কতটা কমল তা হাতেনাতে প্রমাণ পেতে এই পানি খাওয়ার আগে ও পানি খাওয়ার দু’ ঘণ্টা পরে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। তফাৎটা নিজেই দেখতে পাবেন। তবে এর সঙ্গে শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটাহাঁটি করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিসের আতঙ্ক কাটিয়ে সুস্থভাবে বাঁচুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ

13
Food / লবণের বিশেষ ব্যবহার
« on: October 01, 2019, 01:37:50 PM »
- ত্বকে চুলকানী বা অন্য কোনো সমস্যায় হালকা গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। লবণ ত্বকের ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

- কাপড়ে কলমের কালি লেগে গেলে সেটা তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। এক্ষেত্রে কালির উপর খানিকটা লবণ ঘষে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে সাবান দিয়ে ধূয়ে ফেললেই দাগ চলে যাবে।

- অনেক সময় টিফিন নেওয়ার ব্যাগ বা সাধারণ ব্যাগের ভিতরে গন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাগের গন্ধ দূর করতে ব্যাগের সবকিছু বের করে লবণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর চেইন আটকে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালে ব্যাগ থেকে লবণ ঝেড়ে ফেলতে হবে। এতে ব্যাগের ভিতরের গন্ধ কমে আসবে।

- অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সঙ্গে যুক্ত ব্যাগ বা টিউবে ঘর পরিষ্কারের সময় আবর্জনার সঙ্গে পোকামাকড় বা মাছির ডিম জমা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যাগে খানিকটা লবণ ছরিয়ে রাখলে মাছির ডিম মরে যাবে।

- চা এবং কফির মগ নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও দাগ পরে যায়। কফি বা চায়ের ওই দাগ দূর করতে কাপ বা মগ লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেললে দাগ হালকা হয়ে যাবে।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article885048.bdnews

14
Food / যষ্টিমধুর গুণ
« on: October 01, 2019, 01:34:51 PM »
আলসার নিরাময়ে

ক্লিনিক্যাল ও এক্সপেরিমেন্টাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন ও গ্লাইসিরাটিক অ্যাসিড আলসার সৃষ্টিকারী ১৫ হাইড্রোক্সিপ্রোস্টাগ্লান্ডিন ডিহাইড্রোজিনেস ও প্রোস্টাগ্লান্ডিন রিডাকটেজ এনড্রাইমের কার্যকারিতা প্রতিরোধ করে এবং পাকস্থলীতে আলসার বা ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক এনজাইম প্রোস্টাগ্লান্ডিল ই এবং এফ নিঃসরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষা করে।
যষ্টিমধু পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেন হতে মিউসিন নিঃসরণ উদ্দীপ্ত করে, পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষসমূহ শক্তিশালী করে গ্যাস্ট্রিক আলসার, পেপটিক আলসার নিরাময় করে।

ফুটন্ত পানিতে যষ্টিমধু ভিজিয়ে ঠাণ্ডা করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়।

যকৃত (লিভার) সুরক্ষায়

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন বিষাক্ত পদার্থের কবল থেকে লিভারকোষসমূহ সুরক্ষা করে।

টিউমার প্রতিরোধক

গ্লাইসিরাইটিনিক অ্যাসিড টিউমার সৃষ্টিকারী ‘এপস্টাইন বার ভাইরাস’ কার্যকারীতা প্রতিহত করে।

কফ নিঃসারক ও কাশি কমায়

যষ্টিমধু তরল আকারে কফ বের করে দেয় এবং কাশি ভালো করতে পারে। এছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, টনসিলাইটিস ও কণ্ঠনালীর প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধক

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিক অ্যাসিড মাস্টকোষ হতে হিস্টামিন নিঃসরণ কমিয়ে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে যষ্টিমধু

গ্লাইসিরাইজিন বিভিন্ন কঠিন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে। এছাড়াও যষ্টিমধু রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article936607.bdnews

15
Food / আদার স্বাস্থ্যগুণ
« on: October 01, 2019, 01:33:41 PM »
আদার স্বাস্থ্যগুণ

হজমশক্তি: বহুবছর ধরে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, লালারসের উৎপাদন বাড়ানো এবং মল তৈরিতে সহায়ক হিসেবে সুপরিচিত আদা।

সোজা কথা, খাবার হজম করতে এবং পেটের গোলমাল সামলাতে অত্যন্ত উপকারী এই মসলা।

বমিভাব: গর্ভবতীর জন্য অমৃত আদা। কাঁচা-আদা চিবালে কিংবা আদা-লেবু দেওয়া চা পান করলে বমিভাব দূর হয়। দুরপাল্লার যাত্রায় যাদের বমির সমস্যা আছে তাদের জন্যও উপকারী।

গলা ব্যথা: আদার রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে গেলে গলা ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। দিনে এই মিশ্রণ তিন থেকে চার চা-চামচ পরিমান খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি নিরাময় হবে। গর্ভবতী এবং যারা উষ্ণ এলাকায় বাস করেন তারা এই মিশ্রণ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আদা গুরুপাক খাবার।

প্রদাহ কমায়: প্রদাহ কমাতে বিশেষ কার্যকর আদা। বাতের সমস্যার যারা ভুগছেন তাদের জন্য আদা বেশ উপকারী। গর্ভাবস্থায় শরীর ফুলে যাওয়ার নিরাময়ে সহায়ক এই মসলা।

পেশি ব্যথা: কুসুম গরম আদা চা মাংস পেশির ব্যথা সারাতে কার্যকর। ঋতুস্রাব চলাকালীন ব্যথাতেও উপকার মেলে এই চা পান করলে। গর্ভাবস্থায় পিঠ ও তলপেটে ব্যথার নিরাময়েও কাজে আসে আদা চা।

কোলেস্টেরল: আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হৃদযন্ত্রের পরম বন্ধু এই মসলা।

খেয়াল রাখতে হবে

আদা কেনার সময় খেয়াল রাখতে তা যেন চুপসে না থাকে, বাইরের খোসা টানটান থাকে এবং গন্ধটা হয় কড়া। আদা ভাঙলে ভেতরের অংশ কুড়মুড়ে হবে এবং কোনো পশম থাকবে না। পশম আছে এমন আদা এড়িয়ে চলতে হবে।

আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দৈনিক এক থেকে তিন গ্রাম আদা গ্রহণ করা গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পরও অনেক উপকার আনে। তবে পরিমাণ নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

এটি গুরুপাক-জাতীয় খাবার। তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তপাত হলে সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের আদা খাওয়া নিষেধ। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস গর্ভপাতের আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এসময় আদা কম খাওয়াই নিরাপদ।

যেসব নারী ‘জেস্টেশনাল’ ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের আদা খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে সাবধান থাকতে হবে। কারণ তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে।

আগে গর্ভপাত, ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তক্ষরণ, ‘ভ্যাজাইনাল স্পটিং’ বা যোনিতে রক্তফোঁটা দেখা দেওয়া- এমন নারীদের আদা খাওয়া একেবারে বন্ধ করা উচিত। খালি পেটে আদার রস পান করলে বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।

খাওয়ার পন্থা

আদা চা: আদার প্রচলিত ব্যবহারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল চায়ে আদা দেওয়া যা স্বাদে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়।

দিনের শুরুতে এক কাপ আদা চা বেশ সুখকর অনুভুতি। গর্ভবতী নারীদের বমিভাবেও অনেক উপকারী হবে এটি।

আদা-লেবুর চা: চা বেশি ঝামেলা মনে হলে বিশুদ্ধ পানিতে আদা ফুটিয়ে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়েও পান করা যায়। পেটে তো আরাম বোধ হবেই, গলায় ব্যথা থাকলে তাও সেরে যাবে।

পিঠ ও পেটের ব্যথাতেও তা সামান্য উপকারী। গর্ভবতী নারীদের দৈনিক পানির চাহিদা পূরণেও সহায়ক এটি।

রান্নায় ও আচার হিসেবে: শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি রান্নায় সব ঘরেই কমবেশি আদার ব্যবহার হয়।

আদার আচারও হয়। তাজা আদা ছোট করে কেটে তাতে লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে রেখে দিলে গোলাপি বর্ণ ধারণ করবে।

যারা ঝাল বেশি খেতে চান তারা এতে কাঁচামরিচ যোগ করতে পারেন।

সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন ফ্রিজে রেখে দিলেই হয়ে হয়ে যাবে আদার আচার।

জিঞ্জার অ্যাল: এক কাপ আদা-কুচির সঙ্গে আধা কাপ চিনি ও আধা কাপ পানি মিশিয়ে চুলায় ফুটান। রস বের হয়ে টেনে আসবে। তারপর এক কাপ লেবুর রস ও এক লিটার সাধারণ সোডা-পানি মেশালেই তৈরি হয়ে যাবে জিঞ্জার অ্যাল। এই পরিমাণ কমপক্ষে আট জনের জন্য যথেষ্ট।

আদার শরবত: যে কোনো শরবত বা জুসে আদা-কুচি মেশানো যায়। যা স্বাদ বাড়াবে, দেবে আলাদা তৃপ্তি।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article1608996.bdnews

Pages: [1] 2 3 ... 33