Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - taslima

Pages: [1] 2 3 ... 23
1
ধরি’  মোতিন একজন তরুন উদ্যোক্তা। সে চাচ্ছে বিদেশ থেকে কিছু পন্য নিয়ে এসে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করতে। কিন্তু সে জানেনা কিভাবে পন্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আজকে আমি সে বিষয়েই কিছু আলোচনার চেষ্টা করব। যাতে করে আপনি জানতে পারেন কি করে বিদেশ থেকে কোন পন্য আমদানি করে ব্যবসা শুরু করবেন।


 
প্রথমেই বলি পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে পন্য আমদানির পদ্ধতি প্রায় একই রকম। তো ধরে নেই, মোতিন চায়না থেকে কিছু ইলেক্ট্রনিক পন্য আমদানি করতে চায়। পন্য আমদানির শুরুতে মোতিনকে ‘আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অধিদপ্তর’ থেকে একটি আমদানি লাইসেন্স করতে হবে।

আমদানি লাইসেন্স করতে আপনার যে সমস্ত কাগজপত্র লাগবেঃ-

১। আমদানি কারকের জাতীয় পরিচয় পত্র

২। আমদানি কারকের ৩ কপি ছবি

৩। ট্রেড লাইসেন্স

৪। ব্যাংক সলভেন্সী সার্টিফিকেট

৪। ট্রেড এ্যাসোসিয়েশন সনদ

৫। আমদানিকারকের TIN সার্টিফিকেট

আমদানি লাইসেন্স করার পর এবার আপনি; যে দেশ থেকে পন্য আনবেন সেই দেশের একজন উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেকেই alibaba.com থেকে পন্যের বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে । এছাড়া আরও অনেক উপায়ে আপনি আপনার পছন্দের বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে বর্তমানে সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ ও বাকি কাজগুলো করে থাকে।

তো আপনি যখন আপনার পছন্দের সরবরাহকারীকে পেয়ে যাবেন তখন উক্ত সরবরাহকারীকে আপনার প্রয়োজন অসুসারে পন্যের ধরন, কালার, সংখ্যা ইত্যাদি বিষয় গুলোর তালিকা পাঠাবেন একই সাথে পন্যের মূল্য ঠিক করে নিবেন। সরবরাহকারীর সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে এবার সরবরাহকারী আপনাকে একটি (PI-‘প্রফরমা ইনভয়েস’) পাঠাবে। উক্ত (PI -‘প্রফরমা ইনভয়েস’)-এ পন্যের সমস্ত তথ্য থাকবে এবং উক্ত (PI – ‘প্রফরমা ইনভয়েস’) অবশ্যই বিক্রেতা বা প্রতিষ্টানের পেডে হতে হবে ও তাতে প্রতিষ্ঠানের বা বিক্রেতার শীল সহ সাক্ষর থাকবে। উক্ত (pi- ‘প্রফরমা ইনভয়েস’) আপনাকে ই-মেইল করে পাঠালেও হবে।

এবার আপনাকে উক্ত সরবরাহকারীর উদ্দেশ্যে LC ওপেন করতে হবে LC আপনাকে ব্যাংক থেকে ওপেন করতে হবে। LC  করতে হলে আপনাকে (PI -‘প্রফরমা ইনভয়েস’)-এর কপি, আমদানি লাইসেন্সর কপি, ট্রেড লাইসেন্সের কপি, পন্যের মূল্য ইত্যাদি নিয়ে একটি ব্যাংক-এ যেতে হবে। সবকিছু ঠিক দেখলে ব্যাংক LC ওপেন করে দিবে। এখানে বলে রাখা ভাল যে সরবরাহকারী যদি আপনার কাছ থেকে LC দাবি না করে তবে আপনাকে LC  দেয়া লাগবে না। আসলে LC হল সরবরাহকারীর টাকা পাওয়ার নিশ্চিয়তার কপি। অর্থাৎ মনে করুন সরবরাহকারীর পন্য হাতে পেয়ে যদি আপনি টাকা না দেন তবে সরবরাহকারী কি করবে। আবার আপনিও পন্য পেয়ে টাকা সরবরাহকারীকে দিলেন না। তাই ব্যাংক দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারির ভূমিকায় কাজ করে। যাই হোক LC-এর কাগজ এবার আপনাকে সরবরাহকারীর নিকট পাঠাতে হবে। সরবরাহকারী LC-র কাগজ পাওয়ার পরে আপনার পন্য উৎপাদন এবং সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। এবার সরবরাহকারী আপনার চাহিদা মত পন্যগুলো জাহাজে বা বিমানে লোড করবে। সাধারনত সবাই জাহাজে করেই পন্য আনে। জাহাজেবা বিমানে পন্য লোড করার পরে জাহাজ কর্তৃপক্ষ সরবরাহকারীকে Bill of Loading  প্রদান করবে। এবার সরবরাহকারী Bill of Loading -এর একটি কপি আপনাকে ই-মেইল করবে বা যে কোন মাধ্যমে মাধ্যমে আপনার কাছে পাঠাবে। এতে করে আপনি নিশ্চিত হলেন যে আপনার পন্য জাহাজে বা বিমানে সত্যিই উঠানো হয়েছে। উক্ত Bill of Loading -এ পন্য কত তারিখে বাংলাদেশে আসতে পারে তার একটি আনুমানিক তারিখ থাকবে। এবার নির্ধারিত তারিখে আপনি পোর্টে গিয়ে C&F এজেন্টের সহযোগিতায় আপনার পন্য খালাস করিয়ে আনবেন। এখানে আপনি C&F এজেন্টের সহযোগিতা না নিতে চাইলে আপনি একাও কাজগুলো করতে পারেন। তবে কাস্টমস-এর কাজগুলো কঠিন বিধায় সবাই C&F-এর এজেন্টদের সহযোগীতা নিয়ে থাকে। তারা আপনার পক্ষ হয়ে কাস্টমস–এর সমস্ত কাজ করে দিবে। কাস্টমসের কাজ শেষ করার পর এবার আপনি আপনার পন্য বন্দর থেকে বের করার অনুমতি পাবেন। তখন আপনি সে পন্য দিয়ে আপনার কাক্ষিত মনের ইচ্ছা পূরন করতে পারবেন। ধন্যবাদ। আশা করি আপনার বিদেশ থেকে কোন পন্য আনতে আর সমস্যা হবে না । যদি এই লিখার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে শেয়ার করে আপনার পরিচিতজনদের জানিয়ে দিন যেন তারাও জানতে পারে । ধন্যবাদ আবারো।


https://grathor.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA/

2
আমাদের শরীরের মধ্যে গোপনে কোন রোগ ক্রমশ বেড়ে উঠছে, তা আমরা সবসময় বুঝতে পারি না। তার একটা কারণ, আমরা সমস্ত অসুখের লক্ষণগুলো জানি না। তাই শরীর লক্ষণের মাধ্যমে রোগের উপস্থিতি জানান দিলেও, আমরা তা বুঝতে পারি না।
কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে?
ওয়েব ডেস্ক: আমাদের শরীরের মধ্যে গোপনে কোন রোগ ক্রমশ বেড়ে উঠছে, তা আমরা সবসময় বুঝতে পারি না। তার একটা কারণ, আমরা সমস্ত অসুখের লক্ষণগুলো জানি না। তাই শরীর লক্ষণের মাধ্যমে রোগের উপস্থিতি জানান দিলেও, আমরা তা বুঝতে পারি না।

থাইরয়েড। আমাদের ঘাড়ের সামনের দিকে যে প্রজাপতি আকৃতির গ্ল্যান্ড দেখতে পাওয়া যায়, সেটিই থাইরয়েড গ্ল্যান্ড। থাইরয়েড হরমোন আমাদের দেহের মধ্যে সজীব উত্‌পাদনের রাসায়নিক পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড হরমোন যেমন একদিকে আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে। তেমনই থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের মাধ্যমে আমাদের শরীরের ক্ষতিও হয় অনেক ক্ষেত্রে। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের কর্মহীনতার জন্য আমাদের শরীর অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে সমস্যা হয়েছে?

১) সবসময় ক্লান্তি অনুভূত হওয়া।

২) কোষ্ঠকাঠিন্য।

৩) সহ্য শক্তি কমে যাওয়া।

৪) বিষণ্ণতায় ভোগা।

৫) খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া।

৬) অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া।

৭) অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়াল পিরিয়ড।

৮) যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া।

৯) চোখের সমস্যা।

শরীরে এই সমস্ত লক্ষণগুলো যদি আপনি দেখেন, তাহলে তত্‌ক্ষণাত্‌ চিকিত্‌সকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। থাইরয়েডের সমস্যা একেবারেই ফেলে রাখবেন না।

https://zeenews.india.com/bengali/health/sings-and-symptoms-of-thyroid_153963.html

3
থাইরয়েড একটি অত্যন্ত গুরুতর রোগ যা বর্তমানে প্রায় ৬০% মানুষের হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি মানুষের শরীরে থাইরয়েড বলে একটি গ্রন্থি আছে যা গলার ঠিক ওপরের কোণার অংশে দুদিকে দেখা যায়। এই গ্রন্থি তিন রকমের হরমোন নিঃসরণ করে- ট্রিওডোথাইরোনিন (T3), থোরোক্সিন (T4) এবং ক্যালসিটোনিন যা আপনার শরীরের নানারকমের কার্যকারিতা যেমন হজমের ক্ষমতা, মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, মহিলাদের মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ, হার্টের কার্যকলাপ, ঘুমের চক্র ও ভাবনা চিন্তার কার্জকপালগুলি সঠিকভাবে চালনা করে। যখনই এই থাইরয়েড গ্রন্থি কোনোরকম সমস্যার শিকার হয়, তখনই থাইরয়েড রোগ ধরা পড়ে।

থাইরয়েড সাধারণত দুই প্রকারের হয়- হাইপারথাইডিসম ও হাইপোথাইরয়েডিজম। যখন থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ হরমোন উৎপন্ন হয়, তখন তাকে বলে হাইপারথাইরোয়েডিজম;  আবার যখন অত্যন্ত কম পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ হয় তখন তাকে বলা হয় হাইপো থাইরয়ডিজম। এই দুটির ফলেই শরীরে নানারকমের সমস্যা যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, উচ্চতা না বাড়া, মস্তিষ্কের সঠিক কার্যকলাপ না হওয়া, অস্থিরতা, মাসিকের অনিয়ম, বিষন্নতা, ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্যে নানারকমের ওষুধ পাওয়া যায়, কিন্তু যেকোনো ওষুধেরই আয়ু খুব কম কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে ওষুধ আর কাজ করেনা।  তাই, থাইরয়েডের আসল চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী, ওষুধের থেকেও বেশি প্রতিদিনের আহার অর্থাৎ খাদ্য তালিকা সঠিক রাখলে ধীরে ধীরে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেকোনো থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের জন্যে নির্দিষ্ট ক্যালোরি অনুযায়ী তার খাদ্যতালিকা তৈরী করা হয়। তবে হাইপারথাইরোয়েডিজম এবং হাপোথাইরোয়েডিজমের খাদ্যতালিকা সম্পূর্ণ আলাদা। আপেক্ষিকভাবে বলা হয় যে একজন থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের দিনে ১০০০ ক্যালোরির বেশি খাদ্য খাওয়া উচিত নয়। আজকের এই নিবন্ধে আমরা থাইরয়েডের রোগের সঠিক আহার ও খাদ্যতালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে  আলোচনা করবো। চলুন দেখে নেওয়া যাক:

হাইপো থাইরয়েড এর আহার চার্ট –

থাইরয়েড ডায়েট অর্থাৎ থাইরয়েড রোগের খাদ্যতালিকা খুব বেছে বেছে ঠিক করা প্রয়োজন। তার ওপর হাইপোথাইরয়েডের খাদ্যতালিকা হওয়া চাই বেশ পুষ্টিকর অথচ কম ক্যালোরি যুক্ত। নিচের তালিকায় হাইপোথাইরয়েডের একটি ডায়েট চার্ট দেওয়া হল:

কখন খাবেন   কি কি খাওয়া উচিত   ক্যালোরি
ভোরবেলা (৭.০০ – ৭.৩০)   ১ কাপ গরম জলে একটি গোটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন   ২৫
জলখাবার (৮.১৫ – ৮.৪৫)   ১টি ডিম সেদ্ধ  +  ফ্লাক্স বীজ মেশানো ওটস  + ৩ টি ব্রাজিল বাদাম   ৩৩০
দুপুরে  (১২.০০ – ১২.৩০)   ফলের স্যালাড অথবা চিংড়ি মাছ এবং লেটুসের স্যালাড   ৬০
বিকেলে  (৪.০০)   ১টি বেদনা  + ১ কাপ ডাবের জল   ১০৪
রাতে (৭.০০)   সবজি দিয়ে তৈরী ১ কাপ ডাল   ৩০
হাইপো থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত – Food for Hyperthyroidism in Bengali
ওপরে দেওয়া খাদ্যতালিকাটির মধ্যে শুধু কয়েকটি একান্ত প্রয়োজনীয় খাদ্যের কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধুমাত্র এগুলো খেয়ে থাকতে পারা কঠিন, তাই আরো কিছু কিছু বিশেষ প্রয়োজনীয় খাদ্যের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে যা হাইপোথাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের অবশ্যই খাওয়া উচিত:

১. আয়োডিন যুক্ত নুন: Iodised salt

একজন হাইপোথাইরয়েডে ভোগা মানুষের জন্যে আয়োডিন খুবই প্রয়োজনীয়। আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরোয়েড থেকে গলগণ্ড হতে পারে (১) কারণ এই সময় শরীর নিজে থেকে আয়োডিন উৎপন্ন করতে পারেনা। তাই আপনাকে নিজে থেকে এমন খাদ্য খেতে হবে যা আয়োডিন ভরপুর। তাই রান্নায় সাধারণ নুন একেবারেই ব্যবহার না করে আয়োডিন যুক্ত নুন খাওয়ার অভ্যেস করুন।

২. মাছ: Fish

Fish2Save
Shutterstock

মাছে রয়েছে ভরপুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ও সেলেনিয়াম (২)। ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড এল ডি এল কোলেস্টেরলকে কম করতে সাহায্য করে ও সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, চিংড়ি, টুনা, সার্ডিন, স্যালমন, ইত্যাদি এই সমস্যা খাওয়া খুব উপকারী। তবে মনে রাখবেন, মাছ যেন অতিরিক্ত ভাজা বা রান্না করা না হয়; এতে মাছের আসল গুণ হারিয়ে যায়।

৩. টেংরীর স্যুপ: Bone broth
টেংরি অর্থাৎ খাসির মাংসের হাড় ফুটিয়ে যেই স্যুপ তৈরী হয়, সেটি যেকোনো হাইপোথাইরোয়েডিজমে আক্রান্ত মানুষের জন্যে খুব উপকারী। এই সময় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের জোর কম হয়ে আসে যার ফলে হাড়ের ভঙুরতটা দেখা দেয়। তাই এই সময় ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য খাওয়া খুবই জরুরি। প্রতিদিন এক বাটি টেংরীর স্যুপের মধ্যে কয়েকটি সবজি ভালো করে ফুটিয়ে সেটি খাওয়ার অভ্যেস করলে উপকার পাওয়া যায় (৩)।

৪. ফল ও সবজি: Veggies and fruits
শাক সবজি এবং ফলে রয়েছে নানারকমের মিনারেল, ভিটামিন, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার। যদিও কিছু কিছু সবজি এই সময় খাওয়া ঠিক নয়, যেমন-*-ফুলকপি, মিষ্টি আলু, পালংশাক, বাঁধাকপি, মুলো, ইত্যাদি। এগুলিকে গোইট্রোজেন বলা হয় (৪)। তবে এগুলি ভালো করে রান্না করলে গোইট্রোজেন উপাদানগুলি মরে যায়।

৫. দুগ্ধ পদার্থ যুক্ত খাদ্য: Dairy
কম ফ্যাট সম্পন্ন দুধ, দই এবং পনিরে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আয়োডিন এবং সেলেনিয়াম যা থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া দুগ্ধজাত পদার্থে থাকা এমিনো এসিড লাইরোসিন হাইপোথাইরোয়েডিজমের নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন বিষন্নতা, ক্লান্তি, ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে (৫)।

৬. মুরগির মাংস: Chicken
মুরগির মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয়  জিঙ্ক যা হাইপোথাইরয়েডের বিরুধ্যে কাজ করে ও সেটিকে  ট্রিওডোথাইরোনিন (T3) ও থোরোক্সিনে (T4) রূপান্তর করতে সাহায্য করে (৬)। সপ্তাহে অন্তত ৩ বার ২ টুকরো করে মাংস খাওয়ার অভ্যেস করলে ভালো।

৭. ডিম: Eggs
Eggs2Save
Shutterstock

আয়োডিনের একটি সূত্র হল ডিম যা হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে (৭)। তবে এক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশটিই খাওয়া উচিৎ এবং  কুসুমটি বাদ দেওয়া উচিৎ। ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টরল বেড়ে যেতে পারে।

৮. শিম শস্য: Legumes
শিম জাতীয় শস্য বা ডাল হল আয়োডিন ও জিঙ্কে ভরপুর (৮)। প্রতিদিন নিয়ম করে ডাল, বিনস, ছোলা, মটরশুঁটি, ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো। এতে থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি থেকে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ হয়।

৯. অলিভ অয়েল: Olive oil
হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে, সমস্ত রান্না অলিভ ওয়েলে করা ভালো। অলিভ ওয়েলে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফ্যাট এবং পুষ্টিকর উপাদান যা থাইরয়েড হরমোনগুলিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে (৯)। অলিভ অয়েল এল ডি এল কোলেস্টরল নামিয়ে ওজন কমাতে ও হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

১০. জল: Water
জল কোনো খাদ্য না হতে পারে, কিন্তু হাইপোথাইরোয়েডিজমের জন্যে জলের মত ওষুধ আর নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করার অভ্যেস করুন, কারণ শরীরের নানা রকমের বিষাক্ত পদার্থ অনায়াসে দূর করা যায় জলের মাধ্যমে। এছাড়া থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব অঙ্গগুলি সাহায্য করে সেগুলি জলের সাহায্যে কার্যকরী করা যায়।

হাইপো থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় –

নিচের এই খাদ্যগুলি হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। বিস্তারিতভাবে জেনে নিন:

১. কাঁচা অথবা অর্ধেক রান্না করা শাক সবজি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, পালং শাক, ইত্যাদি।

২. গ্লুটেন যুক্ত খাদ্য।

৩. অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাদ্য।

৪. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জাঙ্ক ফুড অথবা তেলে ভাজা খাদ্য যেমন আলুর চিপ্স, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ওয়েফার, ইত্যাদি। এগুলির মধ্যে থাকে উচ্চ সোডিয়াম কিন্তু কোনো আয়োডিন নেই। এছাড়া এতে কোলেস্টরল বেড়ে যায়।

৯. হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে গ্রিন টি পান করা একেবারেই নিষিদ্ধ কারণ এতে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান (১০)।

হাইপার থাইরয়েড এর আহার চার্ট – Hyperthyroidism Diet Chart in Bengali
কখনও কখনও থাইরয়েড গ্রন্থিগুলি একেবারে উল্টোভাবে কাজ করে, অর্থাৎ অতিরিক্ত পরিমানে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ করে যাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েড। নিচে আপনার জন্যে রইলো হাইপার থাইরয়েডের আহার চার্ট:

কখন খাবেন   কি কি খাবেন?   ক্যালোরি
ভোরবেলায় (৭:০০ – ৭:৩০)   ২ গ্লাস  জল   ০
জলখাবার  (৮:১৫ – ৮:৪৫)   টমেটো +আপেল +আঙুরের তৈরী স্মুদি এবং দুটি সেদ্ধ ডিম   ৩০৭
মাঝ সকালে (১০:৩০)   ১টি মিডিয়াম সাইজের কাপ ভর্তি কচি গাজর লেবুর রস ও নুনের সাথে মাখিয়ে   ৭০
দুপুরে  (১২:৩০- ১:০০)   টুনা/ মুরগির মাংস/ পালং শাকের সাথে মেশানো মাশরুম স্যালাড, টমেটো এবং মুলো   ৩৭০
বিকেলে (৪:০০)   ১ কাপ গ্রিন টি + ৩২ টি পিস্তা বাদাম   ৫৭০
রাতে  (৭:০০ – ৭:৩০)    বিনস দিয়ে তৈরী স্যালাড, সবজি দিয়ে তৈরী মাছের ঝোল   ২৬৭
হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত – Food for Hypothyroidism in Bengali
হাইপার থাইরয়ডিজমের ক্ষেত্রে যেই যেই লক্ষণগুলি সবথেকে বেশি করে ফুটে ওঠে সেগুলি হল ওজন অত্যাধিক কমে যাওয়া, উত্তেজনা হওয়া, মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম, চোখ ফুলে যাওয়া, খিদে বেড়ে যাওয়া, ঘুমের অভাব ও ত্বকে সারাক্ষণ ঘাম ঘাম ভাব। এক্ষেত্রে যেসব খাদ্যগুলি সব থেকে বেশি করে খাওয়া উচিত সেগুলি হল:

১. কাঁচা সবজি ও ফল: Raw fruits and veggies
কাঁচা ও পাতা সমৃদ্ধ সবুজ শাক ও সবজি খেলে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ হওয়াকে আটকানো যায়।  এর জন্যে যেসব সবজিখাওয়া উচিত সেগুলি হল ব্রকোলি, পালং শাক, বাঁধাকপি, গাজর, ফুলকপি, লেটুস, ইত্যাদি। ফলের মধ্যে খাওয়া উচিত কমলা লেবু, আপেল, টমেটো, আঙ্গুর, কিউই, জাম, ইত্যাদি।

২. ব্রাউন রাইস: Brown rice
ব্রাউন রাইস হল উচ্চ গোইট্রোজেনিক সমৃদ্ধ, যাতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল। প্রতিদিন ১/২ থেকে ১ কাপ ব্রাউন রাইস খাওয়ার অভ্যেস করা ভালো।

৩. প্রোটিন: Lean protein
প্রোটিন যেমন মুরগির মাংস, মাছ, মাশরুম, সয়াবিন ও ডাল খাওয়া হাইপোথাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। এসব প্রোটিন অনেকটা দেরিতে হজম হওয়ার ফলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে।

৪. গ্রিন টি: Green tea
Green tea2Save
Shutterstock

হাইপার থাইরয়েড যখন নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয় তখন গ্রিন টি হল একটি অনবদ্য ঔষধীয় পানীয় যার মধ্যে রয়েছে এন্টি থাইরয়েড উপাদান ও ফ্লুরাইড। প্রতিদিন অন্তত ২ কাপ করে গ্রিন টি পান করার অভ্যেস করুন।

৫. ঔষধিক গাছ: Herbs
কিছু কিছু ঔষধীয় গুণ সমৃদ্ধ পাতা যেমন ধনে পাতা, অরিগ্যানো, তুলসী পাতা, পুদিনা, ইত্যাদি হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। তাই এগুলি রোজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

হাইপার থাইরয়েডে কি খাওয়া উচিত নয় – Foods to Avoid in Hyperthyroidism in Bengali
Foods to Avoid in HyperthyroidismSave
Shutterstock

হাইপোথাইরোয়েডে ভুগলে যেই সমস্ত খাদ্যগুলি একেবারেই খাওয়া উচিত নয় সেগুলি হল:

১. অতিরিক্ত আয়োডিন, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন সামুদ্রিক মাছ, ডিম, নুন, ব্রাজিল বাদাম, ইত্যাদি।

২. কৃত্রিম ভাবে তৈরী মিষ্টি জাতীয় সুইটনার।

৩. দুধ এবং দুগ্ধ পদার্থ যেমন দই, মাখন, পনির, চিজ, ইত্যাদি।

৪. মদ্যপান ত্যাগ করুন এবং যেকোনো বোতলবন্দি পানীয় পর্যন্ত খাওয়া নিষেধ।

৫. প্যাকেটজাত খাদ্য বা জনক ফুড এবং কৃত্রিমভাবে সুগন্ধযুক্ত বা রঙিন খাদ্য।

থাইরয়েড রোগের জন্য আরো কিছু টিপস – Other Tips for Thyroid Diet in Bengali
যদিও থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা একটি বিশাল ভূমিকা নিয়ে থাকে, তবুও খাদ্যের বাইরেও এমন কিছু নিয়মিত অভ্যেস ও জীবনশৈলী মেনে চলতে হবে যা হাইপোথাইরোয়েডিজম এবং হাইপারথাইরোয়েডিজম দুটির ক্ষেত্রেই খুব জরুরি। জেনে নেওয়া যাক কি কি করা উচিত ও কি কি করা উচিত নয়:

কি কি করা উচিত:
বেশি করে জল পান করুন
জল থাইরয়েডের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ওষধির কাজ করে। জলের সাহায্যে নানারকমের বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া জল মেদ ঝরাতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

ডায়েটের দিকে খেয়াল রাখুন
একজন থাইরয়েডে আক্রান্ত মানুষের ১০০০ ক্যালোরির বেশি খাদ্য খাওয়া একেবারেই উচিত না। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সঠিক খাদ্য তালিকা অর্থাৎ ডায়েট চার্ট বেছে নিয়ে নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করুন।

যোগ ব্যয়াম করুন
থাইরয়েডের ফলে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে ওজন বৃদ্ধি খুব সাধারণ। নিয়মিত যোগা অথবা ব্যয়াম করা খুবই জরুরি। এতে শরীর সম্পূর্ণভাবে সচল থাকে ও মেজাজ ভাল থাকে।

ভালো করে ঘুমান
দিনে কম করে ৮ ঘন্টা ঘুম খুবই জরুরি। না ঘুমোনোর ফলে শরীরে আরো বেশি ক্লান্তি আসে ও সারাদিন অলস লাগে।

চিন্তা মুক্ত থাকুন
অতিরিক্ত বিষন্নতা বা মানসিক চাপ থেকেও শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যার ফলে থাইরয়েড ধরা পড়ে। তাই সব সময় হাসি খুশি ও প্রানোজ্জল থাকার চেষ্টা করা দরকার।

কি কি করা উচিত নয়:

তৈলাক্ত খাদ্য থেকে দূরে থাকুন
বেশি ভাজা খাবার বা তৈলাক্ত খাবার খেলে থাইরয়েডের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই কম তেলে রান্না করা উচিৎ, অলিভ অয়েল ব্যবহার করা আরও ভালো।

বাইরের খাবার থেকে দূরে থাকুন
ফাস্ট ফুড থাইরয়েডের জন্যে অতিরিক্ত বিষাক্ত কারণ এতে থাইরয়েড উৎপন্ন করা হরমোনগুলি খুব খারাপভাবে বেড়ে যায়।

ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন
ধূমপান বা মদ্যপান দুটিই হল থাইরয়েডের জন্যে ক্ষতিকারক। এই ধরণের নেশা বন্ধ না করলে থাইরয়েড শুধু হবে তা নয়, সেটি সারা জীবনেও আর কমবেনা।

নুন কম খান
রান্নায় যেটুকু নুনের প্রয়োজন হয় সেইটুকু ছাড়া পাতে নুন একেবারে না খাওয়া উচিত, প্রয়োজনে রান্নাতেও নুন কম ব্যবহার করতে হবে।

হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরোইয়েডিজম দুটিই হল খুব গুরুতর সমস্যা যা একেবারেই অবহেলা করা ঠিক না। তাই থাইরয়েডের সমস্যা যাতে কোনোদিনও না হয় তার জন্যে এর প্রবণতা থেকেও আজ থেকেই দূরে থাকতে হবে। সেইজন্যে আপনার উচিত আজ থেকেই নিজের খাদ্যতালিকা ও জীবনধারার দিকে নজর দেওয়া। আশা করি আমরা এই পোস্টে আপনাকে থাইরয়েড নিয়ে অনেক কিছু জানাতে পেরেছি। এ বিষয় কোনো মতামত থাকলে বা আরো কিছু জানা  থাকলে আমাদের অবশ্যই জানান কমেন্টের মাধ্যমে।

https://www.stylecraze.com/bengali/thyroid-roger-aahar-in-bengali/#-hypothyroidism-diet-chart-in-bengali

4
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব সহজে ধরা পড়ে না। আবার ধরা পড়ার পর সঠিক চিকিৎসা না হলে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অনেক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষই নন, যেকোনো বয়সী মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত বেশি ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতির কারণে এমনটা হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মিত সেবনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

তাই বলে খাদ্যাভ্যাসে যে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, তা কিন্তু নয়। ছোট কিছু পরিবর্তনেই উচ্চ রক্তচাপের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন তাজা ফল যেমন লেবু, জাম্বুরা, পেয়ারা, আমলকী, আপেল, কমলা, মাল্টা, ডালিম, কলা, নাশপাতি, পেঁপে ইত্যাদি খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে সবুজ শাকসবজি যেমন পালংশাক, কলমিশাক, মুলাশাক, পাটশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শসা, মুলা, লাউ, মটরশুঁটি, ঢ্যাঁড়স, বেগুন, কুমড়া

ইত্যাদি। খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম–জাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়াতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত ডাবের পানি, কলা, টমেটোসহ কিছু সবজিতে পটাশিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বাদাম, শালগম, তিসি, ডার্ক চকলেট ও কালিজিরা ভালো কাজ করে।
এবার জেনে নেওয়া যাক উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে:
লবণ ও বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। টেস্টিং সল্ট, বিট লবণ ও অন্যান্য মুখরোচক লবণ খাওয়া থেকেও বিরত
থাকতে হবে। সয়া সস পরিহার করতে হবে।

অতিরিক্ত মাখন, তেলযুক্ত খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি, পরোটা, লুচি, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়া যাবে না।
ডিমের কুসুম, খাসির মাংস, গরুর মাংস ইত্যাদি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তাই এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
চাটনি, ভর্তা ও আচারে প্রচুর তেল ও লবণ ব্যবহার করা হয়, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এগুলো এড়াতে হবে।

https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0

5
বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি ভয়ঙ্কর মারণ রোগে পরিণত হয়েছে। অল্প বয়সেই অনেককেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যা বংশগতভাবে বা নিজেদের কিছু অসতর্কতার জন্য হয়ে থাকে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৮০ লক্ষ। বর্তমানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ২০ লক্ষ।

ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যাধি। ডায়াবেটিসের ফলে দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, কিন্তু তা কোনো ভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

২০১৭ সালে পাবলিক লাইব্রেরী অব সাইন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন ঢেড়স-ই যথেষ্ট।     

তাই রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, তাও একেবারে সামান্য খরচে। প্রতিদিন মাত্র তিনটি ঢেঁড়সেই রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কীভাবে তা সম্ভব-

> তিনটি ঢেঁড়স ভাল করে পানিতে ধুয়ে নিন।

> এরপর সেগুলোর সামনের দিকের সামান্য অংশ (ডগার অংশ) এবং বৃন্তের অংশ বাদ দিয়ে দিন।

> এবার ঢ্যাড়সগুলো লম্বা করে চিরে দিয়ে সারা রাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

> সকালে উঠে এই ঢ্যাড়স ভেজানো পানি খেয়ে নিন।

রক্তে সুগারের মাত্রা কতটা কমল তা হাতেনাতে প্রমাণ পেতে এই পানি খাওয়ার আগে ও পানি খাওয়ার দু’ ঘণ্টা পরে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন। তফাৎটা নিজেই দেখতে পাবেন। তবে এর সঙ্গে শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটাহাঁটি করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিসের আতঙ্ক কাটিয়ে সুস্থভাবে বাঁচুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ

6
Food / লবণের বিশেষ ব্যবহার
« on: October 01, 2019, 01:37:50 PM »
- ত্বকে চুলকানী বা অন্য কোনো সমস্যায় হালকা গরম পানিতে লবণ গুলিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। লবণ ত্বকের ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

- কাপড়ে কলমের কালি লেগে গেলে সেটা তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়। এক্ষেত্রে কালির উপর খানিকটা লবণ ঘষে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে সাবান দিয়ে ধূয়ে ফেললেই দাগ চলে যাবে।

- অনেক সময় টিফিন নেওয়ার ব্যাগ বা সাধারণ ব্যাগের ভিতরে গন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাগের গন্ধ দূর করতে ব্যাগের সবকিছু বের করে লবণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর চেইন আটকে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালে ব্যাগ থেকে লবণ ঝেড়ে ফেলতে হবে। এতে ব্যাগের ভিতরের গন্ধ কমে আসবে।

- অনেক সময় ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সঙ্গে যুক্ত ব্যাগ বা টিউবে ঘর পরিষ্কারের সময় আবর্জনার সঙ্গে পোকামাকড় বা মাছির ডিম জমা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যাগে খানিকটা লবণ ছরিয়ে রাখলে মাছির ডিম মরে যাবে।

- চা এবং কফির মগ নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও দাগ পরে যায়। কফি বা চায়ের ওই দাগ দূর করতে কাপ বা মগ লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেললে দাগ হালকা হয়ে যাবে।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article885048.bdnews

7
Food / যষ্টিমধুর গুণ
« on: October 01, 2019, 01:34:51 PM »
আলসার নিরাময়ে

ক্লিনিক্যাল ও এক্সপেরিমেন্টাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন ও গ্লাইসিরাটিক অ্যাসিড আলসার সৃষ্টিকারী ১৫ হাইড্রোক্সিপ্রোস্টাগ্লান্ডিন ডিহাইড্রোজিনেস ও প্রোস্টাগ্লান্ডিন রিডাকটেজ এনড্রাইমের কার্যকারিতা প্রতিরোধ করে এবং পাকস্থলীতে আলসার বা ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক এনজাইম প্রোস্টাগ্লান্ডিল ই এবং এফ নিঃসরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষা করে।
যষ্টিমধু পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেন হতে মিউসিন নিঃসরণ উদ্দীপ্ত করে, পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষসমূহ শক্তিশালী করে গ্যাস্ট্রিক আলসার, পেপটিক আলসার নিরাময় করে।

ফুটন্ত পানিতে যষ্টিমধু ভিজিয়ে ঠাণ্ডা করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়।

যকৃত (লিভার) সুরক্ষায়

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন বিষাক্ত পদার্থের কবল থেকে লিভারকোষসমূহ সুরক্ষা করে।

টিউমার প্রতিরোধক

গ্লাইসিরাইটিনিক অ্যাসিড টিউমার সৃষ্টিকারী ‘এপস্টাইন বার ভাইরাস’ কার্যকারীতা প্রতিহত করে।

কফ নিঃসারক ও কাশি কমায়

যষ্টিমধু তরল আকারে কফ বের করে দেয় এবং কাশি ভালো করতে পারে। এছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, টনসিলাইটিস ও কণ্ঠনালীর প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধক

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিক অ্যাসিড মাস্টকোষ হতে হিস্টামিন নিঃসরণ কমিয়ে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে যষ্টিমধু

গ্লাইসিরাইজিন বিভিন্ন কঠিন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে। এছাড়াও যষ্টিমধু রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article936607.bdnews

8
Food / আদার স্বাস্থ্যগুণ
« on: October 01, 2019, 01:33:41 PM »
আদার স্বাস্থ্যগুণ

হজমশক্তি: বহুবছর ধরে পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, লালারসের উৎপাদন বাড়ানো এবং মল তৈরিতে সহায়ক হিসেবে সুপরিচিত আদা।

সোজা কথা, খাবার হজম করতে এবং পেটের গোলমাল সামলাতে অত্যন্ত উপকারী এই মসলা।

বমিভাব: গর্ভবতীর জন্য অমৃত আদা। কাঁচা-আদা চিবালে কিংবা আদা-লেবু দেওয়া চা পান করলে বমিভাব দূর হয়। দুরপাল্লার যাত্রায় যাদের বমির সমস্যা আছে তাদের জন্যও উপকারী।

গলা ব্যথা: আদার রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে গেলে গলা ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। দিনে এই মিশ্রণ তিন থেকে চার চা-চামচ পরিমান খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি নিরাময় হবে। গর্ভবতী এবং যারা উষ্ণ এলাকায় বাস করেন তারা এই মিশ্রণ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আদা গুরুপাক খাবার।

প্রদাহ কমায়: প্রদাহ কমাতে বিশেষ কার্যকর আদা। বাতের সমস্যার যারা ভুগছেন তাদের জন্য আদা বেশ উপকারী। গর্ভাবস্থায় শরীর ফুলে যাওয়ার নিরাময়ে সহায়ক এই মসলা।

পেশি ব্যথা: কুসুম গরম আদা চা মাংস পেশির ব্যথা সারাতে কার্যকর। ঋতুস্রাব চলাকালীন ব্যথাতেও উপকার মেলে এই চা পান করলে। গর্ভাবস্থায় পিঠ ও তলপেটে ব্যথার নিরাময়েও কাজে আসে আদা চা।

কোলেস্টেরল: আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হৃদযন্ত্রের পরম বন্ধু এই মসলা।

খেয়াল রাখতে হবে

আদা কেনার সময় খেয়াল রাখতে তা যেন চুপসে না থাকে, বাইরের খোসা টানটান থাকে এবং গন্ধটা হয় কড়া। আদা ভাঙলে ভেতরের অংশ কুড়মুড়ে হবে এবং কোনো পশম থাকবে না। পশম আছে এমন আদা এড়িয়ে চলতে হবে।

আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দৈনিক এক থেকে তিন গ্রাম আদা গ্রহণ করা গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পরও অনেক উপকার আনে। তবে পরিমাণ নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

এটি গুরুপাক-জাতীয় খাবার। তাই গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তপাত হলে সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের আদা খাওয়া নিষেধ। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস গর্ভপাতের আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এসময় আদা কম খাওয়াই নিরাপদ।

যেসব নারী ‘জেস্টেশনাল’ ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের আদা খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে সাবধান থাকতে হবে। কারণ তা রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে।

আগে গর্ভপাত, ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তক্ষরণ, ‘ভ্যাজাইনাল স্পটিং’ বা যোনিতে রক্তফোঁটা দেখা দেওয়া- এমন নারীদের আদা খাওয়া একেবারে বন্ধ করা উচিত। খালি পেটে আদার রস পান করলে বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।

খাওয়ার পন্থা

আদা চা: আদার প্রচলিত ব্যবহারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল চায়ে আদা দেওয়া যা স্বাদে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়।

দিনের শুরুতে এক কাপ আদা চা বেশ সুখকর অনুভুতি। গর্ভবতী নারীদের বমিভাবেও অনেক উপকারী হবে এটি।

আদা-লেবুর চা: চা বেশি ঝামেলা মনে হলে বিশুদ্ধ পানিতে আদা ফুটিয়ে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়েও পান করা যায়। পেটে তো আরাম বোধ হবেই, গলায় ব্যথা থাকলে তাও সেরে যাবে।

পিঠ ও পেটের ব্যথাতেও তা সামান্য উপকারী। গর্ভবতী নারীদের দৈনিক পানির চাহিদা পূরণেও সহায়ক এটি।

রান্নায় ও আচার হিসেবে: শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি রান্নায় সব ঘরেই কমবেশি আদার ব্যবহার হয়।

আদার আচারও হয়। তাজা আদা ছোট করে কেটে তাতে লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে রেখে দিলে গোলাপি বর্ণ ধারণ করবে।

যারা ঝাল বেশি খেতে চান তারা এতে কাঁচামরিচ যোগ করতে পারেন।

সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন ফ্রিজে রেখে দিলেই হয়ে হয়ে যাবে আদার আচার।

জিঞ্জার অ্যাল: এক কাপ আদা-কুচির সঙ্গে আধা কাপ চিনি ও আধা কাপ পানি মিশিয়ে চুলায় ফুটান। রস বের হয়ে টেনে আসবে। তারপর এক কাপ লেবুর রস ও এক লিটার সাধারণ সোডা-পানি মেশালেই তৈরি হয়ে যাবে জিঞ্জার অ্যাল। এই পরিমাণ কমপক্ষে আট জনের জন্য যথেষ্ট।

আদার শরবত: যে কোনো শরবত বা জুসে আদা-কুচি মেশানো যায়। যা স্বাদ বাড়াবে, দেবে আলাদা তৃপ্তি।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article1608996.bdnews

9
তুলসির জল

উপাদান: তুলসি-পাতা ও পানি

দুই কাপ পানি একটি পাত্রে নিয়ে তাতে ১০/১৫টি তুলসি-পাতা দিয়ে ফুটান। পানি ফুটে অর্ধেক হয়ে আসলে নামিয়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। এই পানীয় গলাব্যথা ও খুশখুশে ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

ভেষজ ক্যাফেইন ছাড়া চা

উপাদান: তুলসি-পাতা, গুড়, পানি ও লেবুর রস
https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article1294092.bdnews

একটি পাত্রে এক কাপ পানিতে এক টেবিল-চামচ গুড়, পাঁচ ছয়টি তুলসি-পাতা, অর্ধেক লেবুর রস দিয়ে ফুটিয়ে  গরম গরম পান করতে হবে।

ভেষজ তুলসির জল

উপাদান: আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ, তুলসি-পাতা, দারুচিনি, এলাচ

এক কাপ পানিতে এক টেবিল-চামচের চার ভাগের এক ভাগ গোলমরিচ, দুটি লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনি আধা টেবিল চামচ করে, আদার টুকরা ও পাঁচ ছয়টি তুলসি-পাতা দিয়ে ভালোভাবে ফুটাতে হবে। ঘরের সাধারণ তাপমাত্রা বা কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন। ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া থেকে সুস্থ হতে এটি সাহায্য করবে।

ভেষজ জুস

উপাদান: আজওয়াইন, তুলসি-পাতা, জিরা, আমচুর পাউডার, লবণ ও পুদিনা-পাতা

এক কাপ পানিতে এক টেবিল-চামচের চার ভাগের এক ভাগ আমচুর পাউডার, আধ টেবিল-চামচ আজওয়াইন, আধ টেবিল-চামচ জিরা, এক টেবিল চামচের চার ভাগের একভাগ লবণ, পাঁচ ছয়টি তুলসি-পাতা ও চার পাঁচটি পুদিনা-পাতা একসঙ্গে নিয়ে দশ থেকে পনের মিনিট ফুটাতে হবে। কুসুম গরম অবস্থায় এটি পান করুন। পানি স্বল্পতা থেকে রক্ষা পেতে এই পানীয় সহায়তা করে।   

ছবি: রয়টার্স।

10
Food / দারুচিনির যত গুণ
« on: October 01, 2019, 12:07:49 PM »
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে দারুচিনি। যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে দারুচিনি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

ব্যাক্টেরিয়া জনিত পেটের অসুখ থেকে বাঁচতে

দারুচিনিতে আছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। যা পেটে ব্যাক্টেরিয়া কারণে যে সব অসুখ হতে পারে তা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। দারুচিনির চা, দারুচিনির তেল, দারুচিনিগুঁড়া ইত্যাদি পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

অন্ত্রে অস্বস্তি কমাতে

‘ইরিটেবল বাউয়াল সিন্ড্রম’ বা পেটের ভিতরে অন্ত্রের যে কোন অস্বস্তিকর অনুভূতি কমাতে কার্যকর দারুচিনি। গ্যাস্ট্রোনমিকাল অংশে ক্ষত ভালো করা এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ‘গ্যাস্ট্রিক জুস’য়ের কার্যপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। তাছাড়া যাদের পেট ব্যথার সমস্যায় ভুগেন তারা যদি দিনে দুই থেকে তিনকাপ দারুচিনি চা খাওয়ার অভ্যাস করেন তাহলে উপকৃত হবেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর

গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার ও টিউমার, মেলানোমা বা ত্বকের মেলানিন কোষ মিলে যে টিউমার হয় তার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে দারুচিনি। লিউকোমিয়া ও লিমফোমা ক্যান্সারের কোষগুলোর প্রভাব কমাতেও সাহায্য করে এই মসলা।

বাত ও অস্টিওপোরোসিস

দারুচিনিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড় গঠন, রক্ত ও শরীরের অন্যান্য কোষ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে খনিজ উপাদানের অভাব থাকে তাদের বাত ও অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা হতে পারে। ব্যাথার স্থানে দারুচিনির তেল লাগালে এবং দারুচিনি চা পানের অভ্যাস গড়ে তুললে উপকার পাওয়া যায়।


স্মরণ শক্তি বাড়াতে
মানুষের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য দারুচিনির কিছু উপাদান। যারা প্রতিদিন দারুচিনি খেয়ে থাকেন তাদের স্মরণশক্তি তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট

পৃথিবীর সেরা সাত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় রয়েছে দারুচিনি। শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষত সারিয়ে তুলতে এই মসলা বেশ কার্যকর।

ওজন কমাতে সহায়ক

যারা ওজন কমাতে চান তাদের খাবারের তালিকায় দারুচিনি রাখা খুবেই জরুরি। কারণ দারুচিনি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে এবং হজমেও সাহায্য করে। আর তাই এই উপাদান ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পেশীর ব্যথা উপশমে সাহায্য করে

হঠাৎ টান বা অন্য কোন কারণে পেশীতে ব্যথা হলে আহত স্থানে দারুচিনি তেল দিয়ে মালিশ করলে উপকার হওয়া যায়।

অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান

শরীরে ছত্রাকের সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে দারুচিনি।

দাঁত ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যায় দারুচিনি

চুইংগাম, মিন্ট চকলেট, মাউথওয়াশ, টুথপেস্ট ইত্যাদি তৈরিতে বহুল প্রচলিত একটি উপাদান হল দারুচিনির তেল। এই উপাদান দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে মুখের ভিতরে এমন ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

 প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রম

দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, যা প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রম বা পিএমএস-এর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। মাসিকের আগে মেয়েদের শরীরে হরমোনের ভারসম্য পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। দারুচিনি এর প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।

খাদ্যের বিষক্রিয়া

খাদ্য-বিষক্রিয়া থেকে আক্রান্ত হলে দারুচিনি খেলে উপকার পাওয়া যায়। কারণ এই মসলা পাকস্থলির ব্যাক্টেরিয়া ও ফাংগাস দমন করতে সাহায্য করে।

 https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article892921.bdnews

11
Food / রসুনের উপকারিতা
« on: October 01, 2019, 12:06:35 PM »
রক্ত পরিষ্কার করতে: ব্রণের সমস্যা দূর করতে ব্যর্থ হলে তা গোঁড়া থেকে নির্মুল করার চেষ্টা করুন। দুই কোয়া রসুন হালকা গরম পানির সঙ্গে খেয়ে নিন, এটি রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে: ঠাণ্ডা-কাশি যদি কখনও আপনার পিছু না ছাড়ে তবে রসুনের সাহায্য নিন। প্রতিদিন মধু ও আদার সঙ্গে দুতিন কোয়া রসুন খান। এতে ঠাণ্ডা-কাশির প্রকোপ কমে যাবে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে: গবেষকদের মতে, রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার যেমন- মূত্রাশয়, স্তন, পাকস্থলি ইত্যাদি বিরূদ্ধে কাজ করে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত রসুন খেলে রক্তচাপ ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সংক্রমণ দূর করতে: রসুনের রয়েছে ঔষধি গুণ। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদানের জন্য বেশ সুপরিচিত। মুখের ক্ষতসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে রসুন সহায়তা করে।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article1290078.bdnews

12
Food / পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ
« on: October 01, 2019, 11:09:12 AM »
- পেঁয়াজে ক্যালরির পরিমাণ কম। তবে রয়েছে নানান পুষ্টি উপাদান। দৈনিক মাঝারি মাপের একটা পেঁয়াজ শরীরের দৈনিক পুষ্টি সরবারহ করতে সক্ষম। এটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা শরীরে উৎপন্ন হতে পারেনা এবং এই ভিটামিন বাইরের উৎস থেকে গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষকলা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।   

- পেঁয়াজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, উন্মুক্ত ‘রেডিকেল’য়ের বিরুদ্ধে কাজ করে কোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

- ‘কুয়ারসেটিন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেঁয়াজে পাওয়া যায় যা হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রেখে রক্তের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে। এটা কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখে। পেঁয়াজে ভিটামিন বি ও পটাশিয়াম থাকে যা শরীর কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।

- পেঁয়াজ নিয়মিত খাওয়ার আরেকটা সুবিধা হল এটা ক্যান্সার থেকে দুরে রাখতে সাহায্য করে। কারণ এতে আছে সালফারের যৌগ ও ফ্লাভানয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

- খাবারে নানাভাবে পেঁয়াজ যোগ করা যায়। যেমন- সালাদ, সুপ, পিউরি এবং ওমলেট তৈরি করতে পেঁয়াজ ব্যবহার করে শক্তিশালী সকালে নাস্তা তৈরি করা যায়।

https://bangla.bdnews24.com/lifestyle/article1670958.bdnews

13
Children / শিশুদের দাঁতের যত্ন
« on: October 01, 2019, 11:04:36 AM »
শিশুদের দাঁতের যত্ন
ডা. তাজিন রফিক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমআপডেট: ২০১৯-০৯-২৬ ১০:৩০:১৬ এএম


শিশুর মুখে প্রথম দাঁত আসে পাঁচ থেকে ছয় মাস বয়সে। নিচের মাড়ির সামনের দিকে দুটি দাঁত প্রথম ওঠে। এর পর ধীরে ধীরে বাকি ১৮টি দুধ দাঁত অর্থাৎ মোট ২০টি দুধ দাঁত বা Deciduous teeth শিশুর মুখে আসে। এসময় থেকেই শিশুদের দাঁতের যত্ন প্রয়োজন।

চলুন জেনে নিই শিশুর দুধদাঁতের যত্নে কী কী করতে হবে:

কখন থেকে দুধ দাঁত ব্রাশ করা উচিত

শিশুর মুখে যখন প্রথম দাঁত আসে তখন শিশুরা হাতের কাছে যা পায় তাই কামড়ে দিতে চায়। এসময় থেকেই দাঁত ব্রাশ করে দিতে হবে। বাচ্চাদের ছোট দাঁতব্রাশ দিয়ে টুথপেস্ট ছাড়াই শুধু পানিতে ভিজিয়ে আলতো করে দাঁতগুলো পরিষ্কার করে দিতে হবে। শিশুরা যেহেতু মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাই দাঁতে এবং মাড়িতে যেন দুধের সর বা ময়লা লেগে না থাকে তাই দাঁতের পাশাপাশি মাড়ির অংশ পাতলা সুতি কাপড় বা গজ ভিজিয়ে মুছে দিতে হবে।

বাচ্চার কত বছর বয়স থেকে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে
শিশুর বয়স ১বছর ৬ মাস হলে থুথু ফেলা বা কুলি করা শেখানো শুরু করাতে হবে এবং একটি চালের দানার পরিমাণ টুথপেস্ট ব্রাশে লাগিয়ে আস্তে আস্তে ব্রাশ করে দিতে হবে। এই সময় বাচ্চাদের উপযোগী ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দেয়া যেতে পারে।

বাচ্চার বয়স ২-৫ বছরের মধ্যে টুথপেস্টের পরিমাণ বাড়িয়ে মটরদানা সমান টুথপেস্ট দেয়া যেতে পারে।

শিশুদের জন্য টুথব্রাশ
শিশুদের জন্য ছোট মাথার নরম ব্রিসল বা লোম এর টুথব্রাশ উপযোগী। বাজারে ০-৫ বছর এবং ৫ থেকে ১২ বছরের আলাদা সাইজের ব্রাশ পাওয়া যায়।


বাচ্চাদের দাঁত কয় বার ব্রাশ করা উচিত?
বাচ্চাদের দাঁত অবশ্যই দুইবার ব্রাশ করা উচিত। রাতে ঠিক ঘুমানোর আগে লক্ষ্য রাখতে হবে যেনো ব্রাশ করার পর অন্য কোনো খাবার সে না খায় এবং সকালে নাস্তার পর।


শিশুদের দাঁতের জন্য ফ্লসিং কতটুকু জরুরি

শিশুদের দুধদাঁত গুলোর মাঝে খাবার খুব সহজে আটকে যায় যা সাধারণ ব্রাশ করে  পরিষ্কার হয় না। বরং এই খাবারগুলো জমে থাকতে থাকতে ক্যাভিটি বা গর্ত তৈরি করে। তাই দুই দাঁতের মাঝে আটকে থাকা খাবার নিয়মিত ফ্লসিং করতে হবে।

শিশুদের দুধদাঁত কতদিন পর্যন্ত থাকে
শিশুদের মুখে থাকা ২০টি দুধ দাঁত ৬বছর থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত পড়ে গিয়ে নতুন স্থায়ী দাঁত আসে।

দুধ দাঁততো পরেই যাবে তাহলে ক্যাভিটি বা গর্ত হলে দাঁত কি আগেভাগেই ফেলে দেওয়া যাবে?

প্রতিটি দুধ দাঁত এর একটি জীবনকাল রয়েছে এর পূর্বে দাঁতটি ফেলে দিলে অথবা ক্যাভিটি বা গর্ত থেকে দাঁতের ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে, এর নিচে তৈরি হওয়া স্থায়ী দাঁতটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিশুর দাঁতে কোনো সমস্যা হলে অবশ্যই ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

লেখা: ডা. তাজিন রফিক
পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট
নিওস্মাইল – চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি ডেন্টাল ওয়েলনেস

14
Diabetics / ডায়াবেটিস ও খাদ্য
« on: September 25, 2019, 11:15:30 AM »
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কি?

রক্তে শর্করার পরিমাপক হিসেবে এটি কাজ করে। শর্করার মাত্রা কি পরিমাণে বাড়ছে বা কমছে তা এর মাধ্যমে জানা যায় । বিভিন্ন খাবারে কি পরিমাণ শর্করা থাকে তা নিরূপণ করা হয় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স দ্বারা। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন হোন। ডায়াবেটিক রোগীদের খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI )জানা জরুরী, কম  GI যুক্ত খাবারে এর মাত্রা থাকে ৫৫ এর কম, মধ্যম GI যুক্ত খাবারে ৫৬–৬৯ ও উচ্চ GI যুক্ত খাবারে ৭০ এর বেশি, ডায়াবেটিক আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কম GI  যুক্ত খাবার খাওয়া আবশ্যক।

অবশ্য, সত্যিকার অর্থে– এ ব্যপারে এখন পর্যন্ত কোন সুন্দর ধারনা তৈরি হয়নি, দেখা যায় অনেকে কম জি আই ভুক্ত ওষুধ সেবন করছেন যা হয়ত আরো খারাপ কোন অবস্থার সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গেছে জি আই এর উপরে নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে দেয়া খাবারের তালিকা অনুযায়ী চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশি ভূমিকা রাখে।

 

আশ যুক্ত খাবার সনাক্তকরণ

কি পরিহার করবেন   কি খাবেন
সাদা চালের ভাত   বাদামি বা লাল চাল এর ভাত
গোল আলু– ভর্তা, ভাজি   মিষ্ট আলু, ফুলকপি
রেগুলার পাস্তা   গমের পাস্তা, স্পেগেটি
সাদা পাউরুটি   গমের রুটি, লাল আটার রুটি
চিনিযুক্ত সেরিয়াল   উচ্চ আশ ও কম চিনি যুক্ত সেরিয়াল
ইনস্ট্যান্ট ওট মিল   গোল ওটস
করনফ্লেক্স   কম চিনি যুক্ত করনফ্লেক্স
ভুট্টা   সিম বা সবুজ শাক।
 

শর্করা জাতীয় খাবারে সাবধানী হোন–

 

ডায়াবেটিক খাবার মানে এই না যে এটি আপনার শরীরের শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করবে বা নিঃস্বরন করবে। আপনি যদি ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে সাধারণ সকল শর্করা জাতীয় খাবার খেতে পারবেন, কিন্তু নিয়ম মাফিক ও পরিমিত আকারে।

যেমন–

অল্প পরিমাণে দৈনিক খাবারের তালকায় চিনিযুক্ত খাবার রাখতে পারেন।
খাবারের তালিকায় মিষ্টি থাকলে, সাদা পাউরুটি, ভাত বা পাস্তা খাবেন না। ডেজারট খেতে পারেন।
অল্প পরিমাণে সুষম চর্বি সমৃদ্ধ খাবার রাখতে পারেন, চর্বি ধীরে ধীরে খাবার হজমে সাহায্য করে। এ জাতীয় খাবারের মধ্যে পিনাট বাটার, পনির, টক দই বা বাদাম রাখতে পারেন।
অন্যান্য সুষম খাবারের সাথে চিনি জাতীয় খাবার খান, শুধু মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ শুধু মিষ্টি খেলে এটি হটাত করে রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
খাবারকে উপভোগ করুন, যাই অল্প পরিমাণ মিষ্টি জাতীয় খাবার খান না কেন তার প্রতিটি বাইট কে উপভোগ করুন, পাশাপাশি লক্ষ্য রাখুন কি খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন ও কতবার খাচ্ছেন।
 

কিভাবে চিনি জাতীয় খাবার কমাবেন?

কোমল পানীয় ও জুস – প্রতিদিন এক বোতল ( ২৫০ মিলি) কোমল পানীয় বা জুস পানে রক্তের শর্করার মাত্রা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে লেবুর শরবত বা কমলার রস পান করতে পারেন। চিনিযুক্ত দুধ চা এর বদলে চিনিহীন রঙ চা পান করতে পারেন।
 

সম্পৃক্ত চর্বি ও চিনি– আপনার দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাখা সম্পৃক্ত  চর্বি জাতীয় খাবার, যেমন– সরযুক্ত দুধ এর বদলে চিনি সমৃদ্ধ খাবার পরিহার করুন। আমরা অনেকেই ভাবি দুধের বদলে মিষ্টি খাবার খেলে এর চাহিদা পূরণ হবে, কিন্তু এটি ভুল ধারনা। দৈনিক এক গ্লাস দুধ শরীরের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করে।
 

নিজেই খাবারে মিষ্টি যোগ করুন– টক দই, রঙ চা, ওট্মিল ইত্যাদি খাবারে সাধারণ চিনি থাকেনা। আপনি চাইলে অল্প পরিমাণ মিষ্টি কোন ফল, বা অল্প পরিমাণ চিনি মেশাতে পারেন এসকল খাবারে।
 

প্রক্রিয়াজাত খাবার নির্বাচন– বাইরের প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখুন এর গায়ে শর্করার মাত্রা কত। কম শর্করাযুক্ত খাবার নির্বাচন করুন। বিশেষ করে চিপস, কোমল পানীয়, বিস্কিট ইত্যাদি। সবচে ভাল হয় ঘরে তৈরি করা খাবার গ্রহণ।
 

খাবারে চিনির বদলে ফ্লেভারকে গুরুত্বদান– খাবারে চিনির মাত্রা এক তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ কমিয়ে এনে এতে পুদিনা, ভ্যানিলা, জলপাই ইত্যাদি ফ্লেভার যুক্ত করুন।
 

অন্যভাবে খাবারে পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করুন– যেমন আইসক্রিমের বদলে ফ্রোজেন কলা, কালো চকলেট ইত্যাদি।
 

চর্বি জাতীয় খাবার নির্বাচন–

চর্বি যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি রয়েছে এর অনেক গুন, তাই চর্বি যুক্ত খাবার নির্বাচনে সাবধানী হোন–

অস্বাস্থ্যকর চর্বি– সবচে খারাপ চর্বি হল এটি ( প্রক্রিয়াজাত ট্রান্স ফ্যাট) । প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার , প্রাণীজ তেলে ভাজা খাবার এছাড়া– চিপস, বার্গার ইত্যাদি খোয়া থেকে বিরত থাকুন।
 

স্বাস্থ্যকর চর্বি– অসম্পৃক্ত চর্বি সবচেয়ে ভাল, এটির প্রধান উৎস হল মাছ ও উদ্ভিদ; যেমন– অলিভ অয়েল, বাদামের তেল ইত্যাদি। মাছের তেলে থাকে ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিড যা, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি মগজ ও হৃদপিণ্ডকে সবল রাখে।
 

সম্পৃক্ত চর্বি– সাধারণত বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য, লাল মাংস, ট্রপিক্যাল তেল এর উৎস। এটি খাওয়া যেতে পারে , কিন্তু হিসেব করে।
 

কি ভাবে অস্বাস্থ্যকর চর্বি পরিহার করবেন?

চিপস বা ক্র্যাকারস এর বদলে বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার খতে পারেন। সাধারণ বাটার বা মাখনের পরিবর্তে পিনাট বাটার বেশ ভাল।
খাবার কড়া করে ভাজার পরিবর্তে হালকা তেলে ভাজি, সিদ্ধ খাবার বা সেকা খাবার খেতে পারেন।
প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন।
লাল মাংসের ( যেমন– গরুর মাংস) বদলে চামড়াবিহিন মুরগির মাংস, মাছ, কুসম ছাড়া ডিম ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খেতে পারেন।
পাস্তা, সবজি ও সালাদে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন।
স্যান্ডউইচ, বার্গার ইত্যাদির মাংসে থাকে অসম্পৃক্ত চর্বি, এগুলোতে মাংসের বদলে সবজি যোগ করলে খাবারে ভিন্নমাত্রা আসবে।
পরিমিত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ।
 

নিয়মিত খাবার গ্রহণ ও খাবারের তালিকা প্রস্তুতি

মজার ব্যাপার এই যে মাত্র ৭% শরীরের ওজন কমালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অর্ধেক কমে যায়। এর জন্য অতিমাত্রার সচেতনতার দরকার নেই। শুধুমাত্র নিয়ম করে খাবার গ্রহণ ও কি খাচ্ছেন তার তালিকা প্রস্তুতি বা সচেতন হওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।

দিনটি শুরু করুন সুসাস্থ্যকর নাস্তা দিয়ে– এটি সারাদিনের শক্তি যোগাবে পাশাপাশি রক্তের শর্করা নিয়মিত রাখবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তা হিসেবে ২/৩ পিস লাল আটার রুটি, ১ টি সিদ্ধ ডিম ও পরিমাণ মত সবজি ছাড়াও ১ কাপ দুধ যথেষ্ট।
দুপুরের খাবার হিসেবে ১ কাপ ভাত, ১/২ কাপ সবজি ,মাছ বা মাংস ১ পিস ও পরিমাণ মত সালাদ যথেষ্ট।
রাতের খাবার হিসেবে ২/৩ পিস রুটি, ১ কাপ সবজি ও মাছ বা মুরগি ১ পিস যথেষ্ট।
অল্প অল্প খাবার গ্রহণ– সরবোচ্চ ৬ বারের বেশি খাবেন না। এভাবে খাবার গ্রহণে সহজে হিসেব রাখতে সুবিধা হয়।
ক্যলরি নিয়মিতকরন– নিয়মিত চাহিদানুযায়ি খাবার গ্রহণ করুন। কোন এক বেলার খাবার পরিহার করা থেকে বিরত থাকুন। ধরুন রাতে না খেয়ে পরেরদিন সকালে বেশি খেলেন, এটা কাম্য নয়। খাবার পরিহারে রক্তের শর্করার মাত্রার তারতম্য হয়।
 

খাবারের ডায়েরি

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা খাবারের ডায়েরি তৈরি করেছেন, তাদের ওজন হ্রাসের হার, যারা করেন নি তাদের থেকে প্রায় দ্বিগুণ। খাবারের ডায়েরি তৈরিকরণের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কোন খাবারে আপনার ঘাটতি রয়েছে ও কোন খাবার বেশি খাওয়া হচ্ছে। এভাবে আত্ম সচেতনতা তৈরি করে নিজেই খাবারের তালিকা প্রস্তুত করতে পারেন।

কর্মমুখর হোক প্রতিদিন–

সকালটি শুরু হোক ব্যায়ামের দ্বারা। পরদিন ৩০ মিনিট করে জোরে হাটা বা ১০ মিনিট বিরতিতে মোট ৩০ মিনিট হাটা শরীরের ইনসুলিন এর কর্মপ্রক্রিয়া অনেক বাড়িয়ে দেয়। হাঁটাহাঁটি ছাড়াও, ব্যায়াম, সাতার, সাইকেল চালানো, দড়ি লাফ ইত্যাদি মধ্যম মাত্রার কায়িক শ্রমের মাধ্যমে রক্তের শর্করার মাত্রা থাকে সহনীয় পর্যায়ে।

সুতরাং, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি চর্বি ও আমিষ জাতীয় খাবারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, একটি সুন্দর খাবারের তালকা প্রস্তুতি বা ডায়েরির মাধ্যমে কি খাচ্ছেন তার তালিকা তৈরির মাধ্যমে তা লিপিবদ্ধ করে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত নিয়ম মাফিক ব্যায়ামের মাধ্যমে যে কেউ ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বা ডায়াবেটিস এর মাত্রা  বহুলাংশে কমিয়ে আনতে পারেন।

https://cmed.com.bd/%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B8-%E0%A6%93-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A8-copy/

15
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ওষুধ, শরীরচর্চা এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ম মেনে করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু তা কোনোভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

ডায়াবেটিস ধরা পড়লে প্রথমেই মিষ্টি জাতীয় খাবার বন্ধ করার কথা বলেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে একেবারে বদলে যায় প্রতিদিন খাবারের রুটিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিন ইনজেকশনই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। তবে রোজ রোজ ইনসুলিন ইনজেকশন না নিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এই ঘরোয়া উপায়ে, একেবারে সামান্য খরচে। এমন চারটি খাবার রয়েছে যা খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা থাকবে একেবারে নিয়ন্ত্রণে। চলুন জেনে নেয়া যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

করলা : গবেষণায় দেখা গেছে, করলার মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এবং ইনসুলিন ইনজেকশনের থেকেও বেশি কার্যকর। চিকিৎসকরা বলছেন, কাঁচা করলা বা করলার রস নিয়মিত খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

গম : যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য গম খুবই উপকারী। আটার রুটি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সবুজ শাক-সবজি : চিকিৎসকদের মতে, যেকোনো সবুজ শাক, যেমন সর্ষে শাক-সবজি, পালং শাক, মুলা শাক ইত্যাদি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি খেতে পারলে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

কুমড়ার বীজ : ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ কুমড়ার বীজ রোদে শুকিয়ে নিয়ে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। যখনই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করবে, তখনই দু'একটা কুমড়ার বীজ মুখে রাখলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং একই সঙ্গে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

http://www.arthosuchak.com/archives/152707/%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B8-%E0%A6%A0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE/

Pages: [1] 2 3 ... 23