Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - taslima

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 33
31
Health Tips / গেঁটে বাত হলে কী করবেন?
« on: October 04, 2017, 04:53:01 PM »
বাতের ব্যথায় শয্যাশায়ী ও কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়া লোকের সংখ্যা কম নয়। পেশি ও অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হওয়াকে বাত বলে। গাউট বা গেঁটে বাত এমন একধরনের রোগ, যার উদ্ভব হয় মেটাবলিজমের বিশৃঙ্খলা থেকে।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র অসহনীয় রকমের হয়ে থাকলেও সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

কেন হয়?
গেঁটে বাত একপ্রকার সিনড্রোম, যা ইউরেট নামের একধরনের লবণদানা জমে জোড়া বা সঞ্চিত সৃষ্ট প্রদাহ, যা শরীরের রক্তের প্লাজমায় অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে ঘটে থাকে। গেঁটে বাত স্বল্পকালীন তীব্র প্রদাহ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ—এই দুই প্রকারের হতে পারে। আবার যে কারণে রক্তের ইউরেট লবণ বেড়ে যায়, তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন পারিপার্শ্বিক বা পরিবেশগত কারণ, ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের কারণে বা ব্যক্তির জন্মগত ত্রুটির কারণে, যাকে জেনেটিক কারণও বলা যায়।
অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহে দুইভাবে জমতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন ও ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে নির্গত হতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া। ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে সাধারণত কিডনির সাহায্যে বের হয়। কোনো কারণে, বিশেষ করে কিডনির রোগের কারণে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাসে অসুবিধা হতে পারে।

কাদের বেশি হয়?
পুরুষদের এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ পাঁচ গুণ বেশি। গেঁটে বাত সাধারণত কম বয়সী পুরুষ ও বেশি বয়সী নারীদের হয়ে থাকে। মেনোপোজ হওয়ার পর নারীদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে। যাঁরা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি বেশি খান, তাঁদের এই রোগ বেশি হয়।

গেঁটে বাতের লক্ষণ
এই রোগের প্রধান প্রধান উপসর্গের মধ্যে পায়ের বুড়ো আঙুলের অসহনীয় ব্যথাসহ হাঁটু, গোড়ালি বা কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে বেড়ে যেতে পারে।
হঠাৎ তীব্র ব্যথা, এমনকি ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া। পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যাওয়া। হাঁটু, কনুই বা অন্য যেকোনো জোড়া ফুলে যাওয়া। ক্রমান্বয়ে হাড় ও তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে। ইউরেট লবণের দানা জমাট বেঁধে টফি তৈরি করতে পারে। ক্রমান্বয়ে জোড়া স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে পারে।
গিঁটের ব্যথা ও অন্যান্য বাতের ব্যথা আলাদা করার উপায় কী?
সহজেই আলাদা করা যায়। এটি মধ্যবয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়। আরও কিছু বৈশিষ্ট্য, যেমন পায়ের গোড়ালির জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা হওয়া ইত্যাদি। মজার বিষয় হলো, যদি গিঁটের বাতের রোগীকে চিকিৎসা না দেওয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে প্রথম প্রথম তিন থেকে সাত দিন বা দশ দিনের মধ্যে ব্যথাটি চলে যাবে। ফোলাটাও কমে আসবে। এত তীব্র ব্যথা হয় যে ব্যথানাশক ওষুধ দিতেই হবে। আর বাতজ্বর যেমন ছোট বয়সে হয়, ৫ থেকে ১৫ বছরে হয়, ক্ষেত্রবিশেষে একটু বড়দেরও হতে পারে। কিন্তু সেটার আশঙ্কা কম। বাচ্চাদের জন্য সেটা প্রযোজ্য। সেই বাতজ্বরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে জয়েন্টের ব্যথাগুলো চলে যাবে, থাকবে না। আর অন্য যে বাতগুলো যে জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করবে এবং সেখানেই থাকতে চাইবে।

নো কার্ব ডায়েট থেকে কি গিঁটে ব্যথা হয়?
হ্যাঁ হতে পারে। যাঁরা ডায়েটে একেবারে শর্করা বাদ দিয়ে প্রোটিন বেশি করে খেয়ে থাকেন, তাঁদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বেশি তৈরি হয়।

চিকিৎসা ও এর প্রতিকার
প্রাথমিক চিকিৎসা—আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে। বেদনানাশক ওষুধ বেশ কার্যকর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা—ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে বাদ দিতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস (হাঁস, ভেড়া, কবুতর, খাসি ইত্যাদি), ডিম, শিমের বিচি, কলিজা ইত্যাদি খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। যেসব রোগের কারণে গিঁটে ব্যথা হয়, সেসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে। কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিক্যাল থেরাপি লাগতে পারে।

সতর্কতা
গেঁটে বাত হলে হাত বা পায়ের দিকে বেশি নজর দিতে হবে, যাতে হাত বা পায়ে কোনো আঘাত না লাগে। কারণ, আঘাত লাগলে এ রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়।

লেখক: চিকিৎসক।

Source  http://www.prothom-alo.com/life-style/article/1332616/%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8

32
Health Tips / জন্ডিস হলে কী করবেন?
« on: October 04, 2017, 04:49:16 PM »
জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি রোগের লক্ষণ। জন্ডিস হতে পারে নানা কারণে। জন্ডিস বলতে সাধারণত লিভারের প্রদাহজনিত জন্ডিসকেই বোঝানো হয়। ভাইরাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ওষুধ, অ্যালকোহল ইত্যাদি কারণে লিভারে প্রদাহ হতে পারে। আমাদের দেশে লিভার প্রদাহের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই, এ এবং বি ভাইরাস। এর মধ্যে প্রথম দুটি পানি ও খাদ্যবাহিত আর তৃতীয়টি ছড়ায় মূলত রক্তের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রধানত শিশুদের জন্ডিসের কারণ, তবে যেকোনো বয়সের মানুষই হেপাটাইটিস ই ও বি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদা রহিম বলেন, প্রস্রাবের রং, চোখ ও ত্বক হলদে দেখালে জন্ডিস হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। অনেক কারণেই জন্ডিস হতে পারে। তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জন্ডিসের কারণ, মাত্রা, জটিলতা ইত্যাদি জেনে নেওয়া উচিত। আর জন্ডিসের রোগীরা তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই বিভ্রান্তিতে থাকে। কী খেতে হবে আর কী খাওয়া যাবে না, এই নিয়ে পরামর্শের যেন শেষ থাকে না। কারণ, জন্ডিস রোগীর পথ্যের ব্যাপারে প্রচলিত বিশ্বাস অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞানের সঙ্গে খাপ খায় না।

কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

সব সময় বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি খেতে হবে। শরীরে রক্ত নেওয়ার দরকার হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করে নিতে হবে। ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করাটাও খুবই জরুরি। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা প্রত্যেকেরই নেওয়া উচিত। যাঁরা সেলুনে শেভ করেন, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আগে ব্যবহার করা ব্লেড বা ক্ষুর পুনরায় ব্যবহার করা না হয়। জন্ডিস হলে টিকা নিয়ে কোনো লাভ হয় না। তাই সুস্থ থাকতে আগেই টিকা নিতে হবে। হেপাটাইটিস বি-এর ক্ষেত্রে প্রথম মাসে একটি, দ্বিতীয় মাসে একটি বা ছয় মাসের মধ্যে একটি ডোজ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস এ-এর ক্ষেত্রে একটি ডোজই যথেষ্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই পাঁচ বছর পর পর বুস্টার টিকা দেওয়া হয়।

চিকিৎসা

যেহেতু জন্ডিস কোনো রোগ নয়, তাই এর কোনো ওষুধ নেই। ৭ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলে জন্ডিস এমনিতেই সেরে যায়। এই সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রামই চিকিৎসা। এ সময় ব্যথার ওষুধ যেমন: প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, ঘুমের ওষুধসহ অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় ও কবিরাজি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এককথায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই বাস্তবে সেবন করা ঠিক না। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকিটাই বেশি থাকে।

সাবধানতা

রোগীকে বাইরের খাবার সব সময় পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে খুব সাবধান থাকতে হবে পানির ক্ষেত্রে। জন্ডিস থাক বা না থাক, না ফুটিয়ে পানি পান করা যাবে না। বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে ফুচকা, চটপটি, বোরহানি আর সালাদের ব্যাপারে। কারণ, হেপাটাইটিস এ বা ই-এর মতো পানিবাহিত ভাইরাসগুলো এসবের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের খুব সাবধান থাকা উচিত। এ সময় মায়েরা প্রায়ই বাইরের খাবার খেয়ে থাকেন। আর গর্ভাবস্থায় শেষ তিন মাসে যদি হেপাটাইটিস ই হয়, তবে তা থেকে মা ও গর্ভের শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি।

খাবার কেমন হবে?

খাবারের ব্যাপারে তেমন কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে ভাইরাল হেপাটাইটিসে যকৃতের কার্যকারিতা কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়। তাই যকৃৎ ও পিত্তথলির ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি না হয় এমন কিছু খাবার এড়িয়ে চলাই উচিত। যেমন চর্বিজাতীয় খাবার (ঘি, মাখন, যেকোনো ভাজা খাবার বা ফাস্টফুড, গরু-খাসির মাংস ইত্যাদি)। জন্ডিসের রোগীদের ক্যালরির উৎস হিসেবে তাই সহজে হজমযোগ্য সরল শর্করা, যেমন: শরবত, ভাত, জাউভাত, সুজি, রুটি ইত্যাদি বেশি খাওয়া উচিত।

বিশ্রাম কেমন হবে?

পূর্ণ বিশ্রাম মানে এই সময়ে ভারী কোনো কাজ বা পরিশ্রমের কোনো কাজ না করা। কারণ, ভাইরাল হেপাটাইটিস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে পূর্ণ বিশ্রাম না নিলে বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ফলে জন্ডিসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

কিছু ভ্রান্ত ধারণা

অনেকে মনে করে, জন্ডিস হলে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। খেতে হবে বেশি করে আখের রস, ডাবের পানি, গ্লুকোজের শরবত ইত্যাদি। আসলে ব্যাপারটি এ রকম নয়। জন্ডিস রোগীকে সাধারণ মানুষের মতোই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। সমস্যা হতে পারে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পানি পান করলে। বেশি বেশি পানি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় বলে তা কিছুটা হালকা হয়ে এলেও রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ এতে বিন্দুমাত্র কমে না। বরং ঘন ঘন প্রস্রাব করার জন্য রোগীকে বারবার টয়লেটে যেতে হলে রোগীর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে।

আখের রস আমাদের দেশে জন্ডিসের একটি বহুল প্রচলিত ওষুধ। রাস্তার পাশের যে দূষিত পানিতে আখ ভিজিয়ে রাখা হয় সেই পানি মিশ্রিত আখের রস খাওয়া থেকে হেপাটাইটিস এ বা ই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।

আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস হচ্ছে জন্ডিসের রোগীকে হলুদ দিয়ে রান্না করা তরকারি খেতে দিলে নাকি জন্ডিস বাড়তে পারে। কথা হলো, রক্তে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ পিগমেন্টের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই জন্ডিস দেখা দেয়। এর সঙ্গে খাবারের হলুদের কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।

জন্ডিসে আক্রান্ত মায়ের দুগ্ধদানে মানা নেই

জন্ডিস রোগে আক্রান্ত মা নিশ্চিন্তে তাঁর সন্তানকে দুধপান করাতে পারেন। তবে মায়ের যদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসজনিত জন্ডিস হয়ে থাকে তবে শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, মায়ের দুধের মাধ্যমে না ছড়ালেও, মায়ের ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে শিশুর হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নবজাতকের জন্ডিস

সব ঠিকঠাক থাকলেও জন্মের পর শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ নবজাতকের জন্ডিস হতে পারে। জন্ডিস আক্রান্ত শিশুর প্রায় ৫০ শতাংশের বেলায় একে বলে স্বাভাবিক জন্ডিস। শিশুর যকৃৎ পুরোপুরি কর্মক্ষম হয়ে উঠতে একটু দেরি হলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা  বেড়ে গিয়ে এই জন্ডিস হয়। এ সময়ে কোনো  অবস্থায়ই নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত রাখা যাবে না। স্বাভাবিক জন্ডিস সাত দিনের মধ্যেই সেরে ওঠার কথা। তবে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জন্ডিস দেখা দিলে, সাত বা দশ দিনের পরও না সারলে, শিশু খাওয়া বন্ধ করে দিলে বা কমিয়ে দিলে, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে, বিলিরুবিনের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

লেখক: চিকিৎসক

33
থাইরয়েড হচ্ছে হরমোন উৎপাদনকারী প্রজাপতির আকৃতির ছোট গ্রন্থি যা শরীরের বিপাক এবং প্রতিটা কোষ, কলা এবং অঙ্গের কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এটি ঘাড়ের নীচের ও মধ্যবর্তী স্থানে থাকে। পুরুষের চেয়ে নারীরাই থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন বেশি। থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যাগুলো হচ্ছে – হাইপারথাইরয়ডিজম, হাইপোথাইরয়ডিজম, থাইরয়ডিটিস, থাইরয়েড নডিউল ইত্যাদি। অনেক থাইরয়েডের সমস্যাই জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে থাইরয়েডের সমস্যা আপনার বিপাককে প্রভাবিত করবে এবং আপনার কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ, অষ্টিওপোরোসিস এবং বন্ধ্যাত্ব এর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বেশীরভাগ থাইরয়েডের সমস্যাই সারা জীবন থাকে, যা আপনি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন চিকিৎসা গ্রহণ, খাবার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে। থাইরয়েডের সমস্যা আছে যাদের তাদের যে কাজগুলো করা ঠিক নয় সেগুলো জেনে নিই চলুন।

১। স্ট্রেস

থাইরয়েডের রোগীদের জন্য স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরী। বস্তুত অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে থাইরয়েডের সমস্যা বৃদ্ধি বা প্রকাশিত হতে পারে। স্ট্রেসে ভুগলে শরীরে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয় যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করে।

২। ধূমপান

থাইরয়েডের রোগীদের জন্য ধূমপান করা এবং পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ ক্ষতিকর। সিগারেটের ধোঁয়ায় সায়ানাইড থাকে যা অ্যান্টিথাইরয়েড এজেন্ট রূপে কাজ করে। এই যৌগটি সরাসরি আয়োডিন গ্রহণ এবং হরমোনের সংশ্লেষণে বাধা দেয়। এছাড়াও ধোঁয়ার অন্যান্য উপাদানও থাইরয়েডের কাজের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্তদের টোব্যাকো থেকে দূরে থাকা উচিত থাইরয়েডের লক্ষণের বৃদ্ধি প্রতিরোধের জন্য।

৩। ঔষধ গ্রহণে অবহেলা এবং নিয়মিত চেকআপ না করা

থাইরয়েডের সমস্যা নিরাময়ের জন্য নিয়মিত ঔষধ সেবন করা জরুরী। ভালো অনুভব করলেও নিজে নিজে ঔষধ গ্রহণ করা বন্ধ করে দেয়া ঠিক নয়। নিজে নিজে ভুল মাত্রার ঔষধ গ্রহণ করাও থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) ব্লাড টেস্ট নামক রক্ত পরীক্ষাটি বছরে ১/২ বার করানো উচিত।

৪। সকালে কফির সাথে থাইরক্সিন ট্যাবলেট গ্রহণ করা

থাইরক্সিন ট্যাবলেট সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে ভালোভাবে শোষিত হয়। নাস্তা গ্রহণের ৩০-৬০ মিনিট আগে থাইরক্সিন ট্যাবলেট সেবন করুন। এছাড়াও রাতে ঘুমানোর ২-৩ ঘন্টা আগে গ্রহণ করতে পারেন এই ঔষধ। মনে রাখবেন ফাইবারযুক্ত ও দুধের তৈরি খাবারের সাথে, প্রোবায়োটিকের সাথে, ক্যালসিয়াম ফরটিফায়েড ফ্রুট জুস, ক্যালসিয়াম, আয়রন বা অন্য কোন খনিজের সাপ্লিমেন্ট এবং কফির মত পানীয়ের সাথে থাইরেডের ঔষধ গ্রহণ করা ঠিক নয়। সবচেয়ে ভালো উপায়টি হচ্ছে ১ গ্লাস পানির সাথে এই ঔষধ গ্রহণ করা। একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ঔষধ গ্রহণ করা উচিত।

৫। কাঁচা ক্রুসিফেরি সবজি খাওয়া

অতিরিক্ত কাঁচা ক্রুসিফেরি সবজি খাওয়া থাইরয়েডের রোগীদের জন্য খারাপ, বিশেষ করে যাদের আয়োডিনের ঘাটতি আছে তাদের ক্ষেত্রে। এ ধরণের সবজিগুলোতে গ্লুকোসায়ানোলেডস নামক যৌগ থাকে যা থাইরয়েড হরমোন সংশ্লেষণে হস্তক্ষেপ করে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, পালংশাক, এবং মিষ্টি আলু এ ধরণের কয়েকটি সবজি যা কাঁচা খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া জরুরী থাইরয়েডের রোগীদের।

৬। সয়া খাদ্য

যদি আপনার থাইরয়েডের সমস্যা থাকে তাহলে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজির মত সয়া খাদ্য খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সয়া পণ্যে ফাইটোইস্ট্রোজেন এবং গয়ট্রোজেনিক উপাদান থাকে যা থাইরয়েডের কাজে এবং থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের শোষণে হস্তক্ষেপ করে। তাই থাইরয়েডের সমস্যা আছে যাদের তাদের সয়া সাপ্লিমেন্ট, জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ারড সয়া খাদ্য, সয়া চিজ, সয়াবিন তেল, সয়া আইসক্রিম এবং সয়া বার্গার খাওয়া উচিত নয়।

সূত্র: টপ টেন হোম রেমেডিস

সম্পাদনা: কে এন দেয়া

বিভাগ: লাইফ স্বাস্থ্য
ট্যাগ: থাইরয়েডের সমস্যা জীবনযাত্রা সুস্থ থাকুন

34
• নিরীক্ষা করুন প্রখর ভাবে
কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে, কী অবস্থায়, কাদের উপস্থিতিতে শিশু ভয় পায় তা সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক। তার সাথে থাকুন, সে যা ভয় পাচ্ছে তার মুখোমুখি হতে সাহায্য করুন। ধরুন সে বিজ্ঞান ভয় পাচ্ছে। তাকে চারপাশের প্রকৃতির মাঝে বিজ্ঞানের উপস্থিতি দেখান। বোঝান বিজ্ঞান আলাদা কিছু নয়, এটি আমাদের জগতেরই অংশ। প্রয়োজনে বিজ্ঞানবাক্সের সহজ এক্সপেরিমেন্ট দেখাতে পারেন। বাস্তবের সাথে এর সম্পর্কটাও দেখিয়ে দিন।
• ভয় পাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার-
এ বিষয়টি বোঝান শিশুকে। সবাই ভয় পায়, সুতরাং সে আলাদা কিছু না। এই বলে সাহস যোগান যে ভয়ের মুহূর্তে সবসময় তার পাশে থাকবেন। দুজন একসাথে থাকলে কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।
• অভিনয়ের মাধ্যমে-
এর সাহায্যে শিশুকে ভয়ের জিনিসগুলো সম্পর্কে স্বাভাবিক ধারণা দিতে চেষ্টা করুন। খেলাচ্ছলে শিশুকে বুঝিয়ে দিন। যেমন অনেক শিশু ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পায়। এক্ষেত্রে আপনি খেলাচ্ছলে বোঝাতে পারেন যে চিকিৎসক আমাদের বন্ধু, আমাদের অসুখ হলে ডাক্তার আমাদের সাহায্য করে। তবে শিশুর ভয় আস্তে আস্তে কেটে যাবে।
• নিজের ভীতি শেয়ার করুন -
নিজের ভীতিগুলো শিশুর সাথে শেয়ার করতে যাবেন না, এতে শিশু নিজের ভয়ের ব্যাপারগুলোর পাশাপাশি আপনার ভীতি নিয়েও ভয় পাবে। তাই তাদের সামনে নিজের ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়াটা উচিত হবে না।
OnnoRokom BigganBaksho : অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স

36
১। নির্দিষ্ট কোন রুটিনে আবদ্ধ না করা
আমাদের সমাজটা খুব সৃজনবান্ধব না। স্কুল, কোচিং সবখানেই সেই চেনা গৎ। এসো, শেখো, মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় উগরে দাও। শিশুর মানসিক বিকাশের জন্যে এটা মোটেও সহায়ক নয়। এমনিতেই দিনদিন সংকুচিত হয়ে আসছে তাদের বিনোদনের স্থানগুলো। ভরাট হয়ে যাচ্ছে মাঠ, উঠছে হাইরাইজ বিল্ডিং। এমন নিগড়বদ্ধ জীবনে তাকে একটু খোলা বাতাস, একটু নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ দিন। মুক্তি দিন কঠিন রুটিন থেকে। কিছু সময় সে নিজের মত কাটাক না!
২। তিরষ্কার কম পুরষ্কার বেশি
সে কোন ভালো কাজ করলে তাকে বাহবা দিন, অনুপ্রেরণা যোগান, সম্ভব হলে পুরষ্কৃত করুন। এতে সে উৎসাহী হবে। তবে এই উৎসাহটাও দিতে হবে মাত্রা মেপে। একই কাজের জন্যে বারবার পুরষ্কৃত করলে তার কর্মবৈচিত্র কমে যাবে। বিচিত্র এবং বিভিন্নরকম কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করুন। সে কোন অপরাধ করলে রেগে না গিয়ে তাকে বোঝান।
৩। বয়স বুঝে সমালোচনা
ভালো কাজের জন্য অতি প্রশংসা করা যেমন ভালো না, তেমনি শিশু কোনো ভুল করে ফেললে অতিরিক্ত সমালোচনা করাও উচিত না। এতে শিশুর মন ভেঙে যাবে, আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। সন্তানের ধারণ ক্ষমতা ও বয়সের চাহিদা বুঝে সমালোচনা করা উচিত।
৪। শাস্তির ভয় না দেখানো
“পরীক্ষায় ভালো না করলে তোমাকে গ্রামে রেখে আসবো” অথবা “ঠিকমত পড়াশোনা না করলে তুমি বড় হলে রিকশা চালাবে” এই জাতীয় হুমকি দেখানো থেকে বিরত থাকুন। এতে শিশুমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এতে তার নিজের কাজ সম্পর্কে ভীতি তৈরি হবে। সে কাজকে ভালোবাসতে পারবে না।
৫। প্রতিযোগিতা চাপিয়ে দেবেন না
বর্তমান সময়টাই প্রতিযোগিতার। ঘাটে, মাঠে, অফিসে, আদালতে, সবখানেই প্রতিযোগিতা। এমন কী শিশুরাও এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ভালো স্কুলে ভর্তি হতে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে, এমন নানারকম বাধ্যবাধকতা । এসব শিশুমনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলাফল কখনই ভালো না।
৬। অতি নজরদারি না করা
শিশুকে অবশ্যই নজরদারিতে রাখা উচিত। কিন্তু সেটা হবে এমন, যেন সে বুঝতে না পারে। শিশু যদি মনে করে যে, সবসময় তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে, তাহলে তার উপর মানসিক চাপের সৃষ্টি হবে, যা তার স্বাভাবিক সৃজনশীলতা ব্যাহত হতে পারে।
৭। প্রযুক্তি নির্ভরতা কমান
প্রযুক্তির প্রতি অতি নির্ভরতা শিশুর বিকাশে ক্ষেত্রে বাধা। এর ফলে২+২=? অংক করতেও তার ক্যালকুলেটর লাগে। নিজের ক্ষমতা এবং দক্ষতার প্রতি সংশয় জন্ম নেয়, এবং তার চিন্তা ভাবনায় কোন স্বকীয়তা থাকে না। সে হয়ে ওঠে যন্ত্রনির্ভর।
শিশুদের সৃজনিশক্তি বিকশিত করতে অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আপনার শিশুর জন্যে বিজ্ঞানবাক্স হতে পারে সেরা উপহার।

OnnoRokom BigganBaksho : অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স

37
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার ক্রমবর্ধমান শিশুর ঘুমের সময়সীমার পরিবর্তন চলে আসবে। জেনে নিন বয়সের সাথে আপনার শিশুর ঘুমের পরিবর্তিত সময়সূচির সাধারণ নির্দেশিকা-
বয়স ১-৪ সপ্তাহ: দিনে ১৫-১৬ ঘন্টা
নবজাতকেরা সাধারণত দিনে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ঘন্টা অব্দি ঘুমোতে পারে, কিন্তু খুব কম সময় যেমন ২ থেকে ৪ ঘন্টা অন্তর অন্তর তারা জেগে উঠবে। অকালজাত(Premature babys) শিশুরা আরো অধিকতর সময় ধরে ঘুমোতে পারে তবে তারা খুব ঘন ঘন চিল্লায়ে উঠতে পারে।
যেহেতু নবজাতকদের অভ্যান্তরিন ভৌতিক কোনো সময় নির্ণয়ক যন্ত্র থাকেনা তাই দিনে বা রাতে ঘুমেরও কোনো প্যাটার্ন তারা মেনে চলে না।

বয়স ১-৪ মাস: দিনে ১৪-১৫ ঘন্টা
৬ সপ্তাহের মধ্যে আপনি আপনার বেবির ঘুমের কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন, তার ঘুমের মধ্যে একটু নিয়মানুবর্তীতা আসবে অর্থাৎ সে এখন থেকে তার ঘুমে একটা প্যাটার্ন ফলো করতে শুরু করবে। তার একটানা ঘুমের সর্বচ্চ সময়সীমা এখন চার থেকে ছয় ঘন্টা হতে পারে এবং সন্ধ্যার দিকে এই নিয়মানুবর্তিতা বেশি লক্ষণীয় হবে। এই বয়সে তার দিন-রাত্রির বিব্ভ্রান্তি অনেকটা শেষ হতে চলেছে।

বয়স ৪-১২ মাস: দিনে ১৪-১৫ ঘন্টা
এই সময়ে আপনার বাচ্চার জন্য দিনে ১৫ ঘন্টা ঘুমোনো আদর্শ হলেও বেশিরভাগ ইনফ্যান্টস ১১ মাসে গিয়ে শুধুমাত্র দিনে ১২ ঘন্টা ঘুমায়। আপনার বাচ্চা এখন থেকেই আরো বেশি সামাজিক হতে চলেছে সুস্থ স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাস প্রতিষ্ঠার মাদ্ধমে, সে ঘুমের একটা প্যাটার্ন মেনে চলতে শিখে যাচ্ছে।
ছয় মাস চলাকালে আপনার বাচ্চা রাতে ঘুমোনোর আগে সাধারণত তিনবার তন্দ্রায়(Nap)  যাবে। সকাল বেলা ৯ টার দিক থেকে শুরু করে ১ ঘন্টা, দুপুরে ২ টা বা তার আগে থেকে শুরু করে ১ থেকে ২ ঘন্টা এবং বিকেলে ৩ টা থেকে ৫ টার  মদ্ধবর্তী যেকোনো সময়ে আপনার বাচ্চা তন্দ্রায় যেতে পারে, সাধারণত ঘুমের এই কালচক্রটি সবার ক্ষেত্রে একইরকম নাও হতে পারে।

বয়স ১-৩ বছর: দিনে ১২-১৪ ঘন্টা
এক বছর পার হয়ে যাবার সাথে সাথে আপনার বাচ্চার সকাল ও বিকেল বেলার ঘুমের অভ্যাসটা চলে যাবে, সে এখন দিনের বেলা শুধুমাত্র একবার ঘুমাবে। যদিও এইসময় তার সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ ঘন্টা ঘুমানো উচিত, সে যদি সব মিলিয়ে ১০ ঘন্টাও ঘুমায় তবুও সেটা স্বাভাবিকতার মধ্যেই পরবে।
২১ থেকে ৩৬ মাস বয়স পর্যন্ত আপনার শিশু দিনে একবার এক থেকে তিন ঘন্টার মতো লম্বা ঘুম দিবে। এসময় সাধারণত সে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবে এবং সকাল ৬ টা থেকে ৮ টার মধ্যে বিছানা ছাড়বে।

বয়স ৩-৬ বছর: দিনে ১০-১২ ঘন্টা
এই বয়সে আপনার শিশুটি সাধারণত সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত ৯ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যাবে এবং সকাল ৬ টা থেকে ৮ টার মধ্যে ঘুম থেকে জেগে যাবে। তিন বছর পর্যন্ত এই নিয়মেই ঘুমাবে কিন্তু বয়স যখন পাঁচ বছরে পৌঁছবে তখন আবার ঘুমে খানিকটা পরিবর্তন আসতে পারে, যেমন কোনো বাচ্চা দিনে ঘুমাবে আবার কোনোটা না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে দিনের বেলার ঘুমের অভ্যাসটা স্বভাবিকভাবে কমতে থাকবে।

বয়স ৭-১২ বছর: দিনে ১০-১১ ঘন্টা
এই বয়সে, আপনার সন্তানের সামাজিক, স্কুল, পারিবারিক ও অন্নান্য নানান এক্টিভিটিজের জন্য বেড টাইমটা একটু পিছিয়ে যাবে, বেশিরভাগ ১২ বছর বয়সীরা রাত নয়টার মধ্যে ঘুমাবে। এখনো তারা ৭:৩০ থেকে ১০ টার মধ্যে ঘুমাতে যাবে এবং সব মিলিয়ে ৯ থেকে ১২ ঘন্টা ঘুমাবে, যদিও আপনার সন্তান এসময় গড়ে মাত্র ৯ ঘন্টাও ঘুমাতে পারে।

Source: WebMD

38
শিশু কিছুই খেতে চায় না, এ অভিযোগ প্রায় সব বাবা-মা করেন। শিশুরা হঠাৎ করেই খাওয়ার রুচি কিংবা আগ্রহ হারাতে পারে। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মেনে চললে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
১. পরিমিত খাবার দিন
শিশুর পাকস্থলি ছোট। এ কারণে তার কাছ থেকে বড় মানুষের মতো খাওয়া আশা করা উচিত হবে না। প্রতিবার অল্প অল্প করে শিশুকে খেতে দিন। কখনো বেশি খাবার খেয়ে ফেললে তার রুচি নষ্ট হতে পারে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়বার তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী খাবার খেতে দিন তাকে।
২. পুষ্টিকর খাবার
শিশুর পক্ষে বেশি খাবার খাওয়া সম্ভব নয়। তাই তাকে যতটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে খাবারটি যেন শিশুর হজম হয় সেজন্যও মনোযোগী হতে হবে। নরম খাবারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী কামড়ানোর জন্য কিছু শক্ত টোস্ট বা এ ধরনের খাবারও দেওয়া যেতে পারে।
৩. খেলাধুলা
ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য শিশুর পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম প্রয়োজন। এজন্য শিশুকে বাড়ির বাইরে নিয়ে খেলাধুলা করতে দিতে হবে। শিশু যেন বাড়িতে অলস বসে থেকে টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারে সময় না কাটায় সেজন্য লক্ষ্য রাখতে হবে।
৪. শিশুর পছন্দ জানুন
আপনার শিশু যে সব খাবার খেতে চাইবে তা নয়। তার নির্দিষ্ট রুচি গড়ে উঠবে। আপনার উচিত হবে তার সে পছন্দকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। খাবারে বৈচিত্র আনতে হবে। প্রতিদিন একই খাবার সে খেতে চাইবে না। তাই প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন খাবার দিতে হবে।
৫. রাগারাগি ও দুশ্চিন্তা নয়
শিশু যদি খেতে না চায় তাহলে বাড়তি দুশ্চিন্তা করবেন না। অনেকেই শিশুর সঙ্গে রাগারাগি করেন কিংবা জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। শিশু খেতে না চাইলে খাবার নিয়ে জোর না করে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ পরে শিশুর চাহিদা অনুযায়ী অন্য খাবার দিতে হবে।
--বিবিসি অবলম্বনে ওমর শরীফ পল্লব
http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2017/04/02/481862

39
ভাইরাসও দায়ী
খাবার রান্না শুরুর আগের সময়টা যদি টয়লেট বা অন্যান্য নোংরা স্থান পরিষ্কার করে থাকেন, তাহলে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার আপনি একা নন। এসব কারণে লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকে। সবাই সালমোনেলা বা অন্যান্য সাধারণ ব্যাকটেরিয়াকে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী করে। কিন্তু ভুল ভাবছেন। এমন অনেক ভাইরাস রয়েছে, যা খাদ্যের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে এবং একই ধরনের লক্ষণ প্রকাশ করে। বমি ভাব আনা পরিচিতি এক ভাইরাসের নাম ‘নরোভাইরাস’।
পচা খাবার মানেই বিষক্রিয়া নয়
পচা খাবার খেলেই যে বিষক্রিয়া হবে—এমন কোনো কথা নেই। এটি এমন একটি বিষয়, যা একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। ‘ডিসিক্রেট নিউজ’ জানায়, আপনার কাছের কেউ এতে আক্রান্ত হলে কোনো খাবার না খেয়ে আপনিও ভুগতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ভালো খাবার স্পর্শ করার পর তা খেলে আপনারও ফুড পয়জনিং হতে পারে।
পোল্ট্রি বিষয়ে সাবধান
খাবারে বিষক্রিয়া ঘটলেই যে পোল্ট্রির মুরগিকে দোষারোপ করতে হবে, বিষয়টা তেমন নয়। তবে মুরগি বা টার্কি বড় ধরনের কালপ্রিট হতে পারে। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি ফুড পয়জনিংয়ের পেছনে পোল্ট্রি দায়ী ছিল বলে এনবিসি নিউজ জানায়।
খাবার থেকে হেপাটাইটিস ‘এ’
‘ই. কোলি’র নাম অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, খাবার থেকেও আপনি ‘হেপাটাইটিস এ’-তে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত খাদ্য ও পানির জীবাণু থেকে এটি ছড়ায়। এই রোগে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। যেসব দেশে পানিদূষণ বেশি, সেখানকার মানুষ ই. কোলির কারণে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হতে পারে।
আন্দাজে ওষুধ নয়
খাদ্য বিষক্রিয়ার চরম অবস্থা প্রকাশ পেতে পারে বমি আর ডায়রিয়ার মাধ্যমে। আবার এসব লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনার ফুড পয়জনিং ঘটেছে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

--চিট শিট অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2017/04/03/482289

40
জেনে নিন শ্যাম্পু করার সময় কোন কাজগুলি একেবারেই করবেন না।

* শ্যাম্পু করার আগে অনেকেই চুলে তেল দিয়ে ফেলেন। এতে খারাপ কিছু নেই। তবে চুল ময়লা হলে তাতে একেবারেই তেল দেবেন না। এতে ময়লাগুলি চুলেই আটকে থাকে।

* অনেকেই চুল ভাল করে না ধুয়ে শ্যাম্পু দিয়ে দেন। এই কাজটি একেবারেই করবেন না। আগে ভাল করে চুল ধুয়ে নেবেন। পারলে দুইবার ধুয়ে নেবেন। তারপরই শ্যাম্পু দেবেন।

* শ্যাম্পু দিয়ে চুল জোরে জোরে ঘষবেন না। বরং হালকা ম্যাসাজ করলে ময়লা অনেক ভাল পরিষ্কার হয়। আর এতে চুলের গোড়াও ভাল থাকে।

* অনেকেই জানেন না যে কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় নয়, শুধু আগায় ব্যবহার করতে হয়। এর কাজ চুলকে নরম করা। গোড়ায় এটি লাগালে চুলের গোড়া নরম হয়ে পড়ে যাবে।

* শ্যাম্পুর পর চুল ধোয়া হয়ে গেলে তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে ঘষে মোছা উচিত না। চুলের জল শুকানোর জন্য গামছা বা তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়াও ঠিক নয়। এতে চুল বেশি ওঠে।

* আর শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুল একদম আঁচড়াবেন না। এতে চুল তো ওঠেই সেই সঙ্গে চুলের গোড়ারও ক্ষতি হয়।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

41
অতিরিক্ত আত্মসমালোচোনা পরিহার করুন
নিজের সমালোচনা করতে পারাটা অবশ্যই ভাল গুণ। তবে অতিরিক্ত সমালোচনা আপনার শিশুর মানসিক বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। মা-বাবা যদি সবসময় আত্মসমালোচোনা এবং অনুশোচনায় মগ্ন থাকেন তবে তা তাদের সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

ভার্চুয়াল জগত ছেড়ে বাস্তবে ফিরে আসুন
আধুনিক সমাজে ই-মেইল, ফেইসবুকিং কিংবা এসএমএস ছাড়া আমাদের জীবন প্রায় অচল বলা চলে। তবে পরিবারের সদস্যদের ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় কাটানোর অভ্যাস থাকলে শিশুদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দেবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যেসব শিশু টিভি, কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে বেশি সময় পার করে তাদের পড়াশোনায় মনো্যোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থূলতা বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অন্তত প্রতিদিন খাবার টেবিলে কিংবা পারিবারিক আলোচনার সময় মোবাইল জাতীয় ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

বস্তুবাদী চিন্তা বাদ দিন
জন্মের পর থেকেই কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার উপর জোর দেয়া হয়। সর্বঅবস্থায় নিজেকে সুন্দর করার প্রবণতা একটি মেয়ের সঠিক বিকাশে বাঁধে সৃষ্টি করে। বাহ্যিক নয়, সন্তানের সৃজনশীলতা কে উৎসাহ দিন। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে খেলাধুলোর প্রতি আকৃষ্ট করুন। এর ফলে আপনার সন্তান চাপমুক্ত থাকবে।

শিশুর সামনে ধুমপান, মদ্যপান বন্ধ করুন
দুশ্চিন্তা এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই মদ্যপান করে থাকেন। তবে মদ্যপান প্রকৃতপক্ষে কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। সন্তানের সামনে মদ্যপান বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা আপনার শিশুর শারিরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে কারণ পরবর্তী জীবনে আপনার সন্তানও তা অনুসরণ করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়ার মতো অভ্যাসও পরিহার করা উচিত।

সর্বক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মনোভাব থেকে বিরত থাকুন
আপনার সন্তানকে সবসময় প্রতিবেশী কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে এমন ধারণা বাদ দিন। এক্ষেত্রে সন্তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন এবং তার ভাল কাজের প্রশংসা করুন। এছাড়া শিশু যাতে তার পছন্দের কাজ ঠিকমতো করতে পারে তা নিশ্চিত করুন।

মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করুন
যদি আপনি আপনার শিশুর সঙ্গে সবকিছু নিয়েই খিটখিট করেন তবে শিশুর কাছে এটাই স্বাভাবিক বলে মনে হবে। এর ফলে শিশু স্বভাববশতই এমন আচরণ অনুকরন করবে যা মোটেই ঠিক নয়। বেশির ভাগ সময়ই মানসিক চাপ খিটখেটে মনোভাব তৈরি করে। মানসিক চাপ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিজেকে শান্ত রাখার কৌশল বের করতে হবে।

অন্যদের নিয়ে অতিরিক্ত আলোচোনা বন্ধ করুন
সন্তানের সামনে অন্য কারো চেহারা বা আচরণ নিয়ে সমালোচনা একেবারেই অনুচিত। অনেক সময় এটি অভ্যাসগত হলেও তা দূর করা উচিত। মুভি, টিভি অনুষ্ঠান বা সেলিব্রেটিদের নিয়ে অতিরিক্ত গল্পগুজব করে সময় নষ্ট করাটাও ঠিক না। শিশুর উপর বিরূপ প্রভাব পরবে। এবং সেও একটা সময় অন্যের সমালোচনা করতে শুরু করবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

উপরোউক্ত নির্দেশনাগুলো অনুসরণের পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এছাড়া নিজ সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল না থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

http://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2017/03/28/479805

42
হাম, লুতি বা লুতমি—গ্রামবাংলায় অনেক নামেই ডাকা হয় রোগটাকে। শিশুদের এই অসুখ বেশ পরিচিত। হাম হলে শিশুর জ্বর হয়, সঙ্গে কাশিও। নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। তিন দিন পর জ্বর সামান্য কমতে থাকে। আর তখনই দেখা দেয় ফুসকুড়ি বা র্যা শ। মাথার পেছনে ও মুখ থেকে এই র্যা শ শুরু হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম হলে তেমন কোনো চিকিৎসা লাগে না। আক্রান্ত শিশুকে প্রচুর পানি পান করান। আর দুই বছরের কম বয়সীদের ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। পাশাপাশি জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দিলেই যথেষ্ট। তবে হাম হওয়ার পরে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তখন নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি হতে পারে। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ-এর অভাব হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে।
হামের জীবাণু বা ভাইরাস বাতাসে শ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। র্যা শ ওঠার তিন দিন আগে এবং র্যা শ দেখা দেওয়ার ছয় দিন পর পর্যন্ত সময়টাতেই হাম ছড়ায়। এই সময়ে কোনো শিশু হামে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি এলে তারও হাম হতে পারে। তবে কাছাকাছি যে আসতেই হবে, তাও নয়। কারণ, হামে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ছেড়ে চলে গেলেও বাতাসে হামের জীবাণু প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এ কারণেই শিশুর বয়স নয় মাস পেরোলে এবং ১৫ মাসে হামের টিকা দেওয়া জরুরি।
আগে একবার হামের টিকা দেওয়া হতো। একবার টিকা দিলে প্রায় ৯৩ শতাংশ সফলতার সম্ভাবনা, কিন্তু দুই ডোজে তা ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কাজেই এখন দেওয়া হয় দুবার। হামের টিকা দিলে খুবই কম ঝুঁকি থাকে (মাত্র ৩ শতাংশ)। টিকা দেওয়ার পদ্ধতিতে ভুল হলে কিংবা সরকারি অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল থেকে টিকা দিলে এর কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।

শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

43
এই শতকে বাড়তি ওজনের শিশুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এটা সুস্থতার লক্ষণ নয়।

শিশুর ওজন কত হওয়া উচিত, সেটা তার বয়স ও উচ্চতার ওপর নির্ভর করে। শৈশবে মুটিয়ে যাওয়ার নানা কারণ আছে। যেমন মিষ্টি বা চিনিযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক, বাড়িতে প্রতিদিন রান্নার প্রবণতা হ্রাস ইত্যাদি। একেকটা ফাস্টফুডে প্রায় ২ হাজার কিলোক্যালরি ও ৮৪ গ্রাম চর্বি থাকে। পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়, জুস প্রভৃতি প্রতিবার গ্রহণে প্রায় ৫৬০ কিলোক্যালরি শক্তির জোগান আসে। এই ক্যালরিই শরীরে বাড়তি মেদ হিসেবে জমা হয়। শহরের শিশুরা যান্ত্রিক যানবাহনে অভ্যস্ত, হাঁটে কম। পড়াশোনার চাপে স্কুলেও খেলাধুলার সময় পায় না বললেই চলে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে তাদের ওজন বাড়ে। আবার নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে অনেক অভিভাবক শিশুদের বাইরে বেরোতে দেন না। তার ওপর আছে টেলিভিশন, ভিডিও গেমস, কম্পিউটার আসক্তি। এখনকার শিশুরা ঘুমায়ও কম, এতে করে তাদের শরীরে ‘লেপটিন’-এর মাত্রা কমে এবং ‘গ্রিলিন’-এর মাত্রা বাড়ে। ফলে অনেক শিশুর অতিরিক্ত রুচি বা খাওয়ার স্বভাব বাড়ে। মুটিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কিছু জিনগত কারণও আছে।

অতিরিক্ত ওজনের বিপদ

অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের পরবর্তী জীবনে হৃদ্‌রোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ বেশি। এ ছাড়া তারা ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত হয়। কিশোরীরা মুটিয়ে গেলে হরমোনজনিত অসামঞ্জস্যে ভোগে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে।

মুটিয়ে যাওয়া রোধে করণীয়

শিশু নাদুসনুদুস বলে খুশি হবেন না। তার ওজন সঠিক মাত্রায় আছে কি না, জেনে নিন। ওজন অতিরিক্ত হলে পদক্ষেপ নিন।

* জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ দিতে হবে। ছয় মাস পর দোকান থেকে সিরিয়াল কিনে খাওয়ানোর পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি ভাত-খিচুড়ি সাধারণ খাবার দিতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই চলবে।

* নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে শিশুকে নিয়ে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেতে বসবেন এবং ঘরের খাবারই খেতে দেবেন, শিশুর জন্য আলাদা খাবার নয়।

* টেলিভিশন, কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের যান্ত্রিক পর্দা (স্ক্রিন) দেখিয়ে খাওয়াবেন না।

* শিশুকে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও চর্বিযুক্ত খাবার দেবেন না। স্কুল টিফিনে প্রতিদিন তেলযুক্ত বা মিষ্টি খাবার নয়, বরং ঘরের রান্না স্বাস্থ্যকর খাবার বা ফলমূল দিন।

* বেশি বেশি ফলমূল ও শাকসবজি খেতে শিশুকে উৎসাহ দিন।

* শিশুকে যখন-তখন চিপস, জুস, চকলেট কিনে দেবেন না। উপহার বা পুরস্কার হিসেবে শিশুর হাতে ফাস্টফুড বা চকলেট নয়।

* শিশুরা তাদের ‘পেট ভরে যাওয়া’ বড়দের চেয়ে আগে বুঝতে পারে। সুতরাং তাকে ‘পুরো প্লেট শেষ করে খেতে হবে’ এ রকম নির্দেশ জারি করবেন না। খাওয়ার জন্য জবরদস্তি তো নয়ই।

* শিশুকে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমে উৎসাহ দিন। বসে বসে কম্পিউটার ব্যবহার বা গেমস খেলতে নিরুৎসাহিত করুন।

ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

http://www.prothom-alo.com/life-style/article/1128736/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87

44
১. ডিম ভাঙার পর সাদা অংশ ও কুসুম এক হয়ে যায়।
২. সাধারণ ডিমের চেয়ে এই ডিম বেশি ঝকঝকে।
৩. এর খোলস বেশি শক্ত। খোলের ভেতর রাবারের মতো লাইন থাকে।
৪. ডিম ঝাঁকালে পানি গড়ানোর মতো শব্দ হয়।
৫. প্লাস্টিকের ডিমে কোনো গন্ধ থাকে না।
৬. আসল ডিম ভাঙলে মুড়মুড়ে শব্দ হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমে তেমন শব্দ হয় না।
৭. আসল ডিম ভেঙে রেখে দিলে পিঁপড়া বা পোকামাকড় আসে। কিন্তু নকল ডিমে পোকামাকড় আসে না।


 জিনিউজ, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি।

45
Food / নুনের যত গুণ
« on: April 02, 2017, 02:00:00 PM »
নুনের  কিছু গুণের কথা জেনে নিই চলুন।

 ১. মশা কামড়ালে জ্বলুনি কেমন, সেটার আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কেউ কেউ তো বেশি চুলকাতে গিয়ে ক্ষতই সৃষ্টি করে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে লবণের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পানি মিলিয়ে ত্বকে ঘষুন, জ্বলুনি কমে যাবে।

 ২. তামা বা পিতলের তৈজসপত্র ময়লা হলে দেখতে ভালো লাগে না। লবণের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে তামা বা পিতলের জিনিসপত্র মেজে নিন, ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠবে। লবণের সঙ্গে ভিনেগার এবং ময়দাও মিশিয়ে নিতে পারেন।

 ৩. কড়াই বা প্যানে কিছু ভাজার জন্য তেল ঢাললে অনেক সময় ছিটে আসে। গরম কড়াই বা প্যানে তেল ঢালার আগে একটুখানি লবণ ছিটিয়ে দিন, তেল ছিটে আসবে না।

 ৪. মোমবাতি জ্বললে মোম গলবে এবং মোমও গলে পড়বে। এ কারণে মোমদানি বা টেবিল নষ্ট হওয়ার ঝামেলাও থেকে যায়। মোম জ্বালানোর আগে লবণ-পানিতে মোমটা চুবিয়ে নিন। তারপর মোমটা শুকিয়ে জ্বালান। মোম আর গলে গলে পড়বে না।

 ৫. জুতার গন্ধ ভীষণ অস্বস্তিকর একটা ব্যাপার। তাই ছোট একটা কাগজে লবণ ভরে জুতার ভেতরে রেখে দিন। অথবা লবণ ছিটিয়েও দিতে পারেন জুতার ভেতরে। গন্ধ দূর হবে।

 ৬. পিঁপড়ার দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে? ৪ চামচ পানির সঙ্গে ১ চামচ লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করুন। সেই দ্রবণ ছিটিয়ে দিন পিঁপড়ার আস্তানায় বা যেসব জায়গায় পিঁপড়ার উৎপাত বেশি। শুধু লবণ ছিটিয়ে দিলেও উপকার পাবেন।

সূত্র: ব্রাইটসাইড ডটকম

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 33