Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - mamun.113

Pages: [1] 2 3 ... 9
1
দেশি রান্নাবান্নায় অত্যাবশ্যক মসলা হলুদের নানা গুণের কথা কমবেশি সবাই জানেন। সম্প্রতি জার্মান বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে, এই হলুদের নির্যাস নাকি মস্তিষ্কের ক্ষত সারাতেও উপকারী!

মস্তিষ্কের কোষগুলো কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর নিজে নিজেই সেই ক্ষত সারানোর চেষ্টা করে। আর হলুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পাওয়া যায় এমন একটা উপাদান মস্তিষ্কের এই ক্ষত সারানোর ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিবিসি এক প্রতিবেদন এই গবেষণার কথা জানিয়েছে।

জার্মানির উলিখে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিনের বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি স্টেম সেল রিসার্চ অ্যান্ড থেরাপি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের ‘মেরামত যন্ত্র’ হিসেবে বিবেচিত স্নায়ুতন্ত্রের নির্দিষ্ট কোষগুলোর বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে হলুদের নির্যাসের একটি উপাদান। ‘অ্যারোমেটিক-টারমেরোন’ নামের ওই উপাদানটি হলুদের রসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে মস্তিষ্কের ক্ষত সারাতে হলুদের নির্যাসের এই উপকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে স্ট্রোক এবং আলঝেইমারের ওষুধের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, মানব শরীরে সরাসরি পরীক্ষা চালানোর আগে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

হলুদ-নির্যাসের ইনজেকশন
হলুদের নির্যাস থেকে ‘অ্যারোমেটিক-টারমেরোন’ নামের উপাদানটি নিয়ে ইনজেকশন তৈরি করেন জার্মানির এই বিজ্ঞানীরা। পরে ইঁদুরের শরীরে ইনজেকশন দিয়ে ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্ক্যান করেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, এই ইনজেকশনের পর ইঁদুরের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ কোষগুলোর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, স্নায়ুতন্ত্রের স্টেম সেল বা বিশেষ কোষগুলোর ক্ষমতা আছে নিজেদের মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো কোষে রূপান্তরিত করার। ফলে হলুদের ‘অ্যারোমেটিক-টারমেরোন’ নির্যাস যদি ওই কোষগুলোর বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে তাহলে শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মস্তিষ্কের ক্ষত সারানোর কাজে আরও সাফল্য আসবে।


2
Faculty Sections / অর্থ ফেরত দেবে গুগল
« on: September 29, 2014, 03:56:06 PM »
অনলাইনে গুগলের মোবাইল অ্যাপস বিক্রির দোকান প্লে স্টোর থেকে ভুলে কেনা অ্যাপ্লিকেশনের (অ্যাপ) অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। প্রতিটি অ্যাপের সঙ্গে থাকা ‘ইন-অ্যাপ-পারচেজ’ নামের বোতাম ব্যবহার করে বাচ্চাদের মাধ্যমে কেনা অ্যাপের সর্বমোট এক কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেরত দেওয়া হবে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের। মূলত অভিভাবকদের অজান্তে বাচ্চারা বিভিন্ন সময় মোবাইল থেকে অ্যাপ স্টোরে গিয়ে অ্যাপ কিনে ফেলে। এর ফলে অনেক অভিভাবকের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। এ নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে সমঝোতা হয় গুগলের। আর এর অংশ হিসেবেই ব্যবহারকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে এফটিসি সভাপতি এডিথ রামিরেজ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতোই যুক্তরাষ্ট্রেও স্মার্টফোন, ট্যাবলেটসহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তিবিষয়ক যন্ত্রাংশ ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। এসব যন্ত্র শুধু বিক্রয়ই নয়, পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানগুলোর। আমরা সে বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরেছি।

গ্রাহকদের কথা চিন্তা করেই ‘ইন-অ্যাপ-পারচেজ’-এর ক্ষেত্রে বিল দেওয়ার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছে গুগল। এতে করে ব্যবহারকারীর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অ্যাপ কেনার বিষয়ে স্পষ্ট ও তথ্যবহুল অনুমতি নিশ্চিত করলেই কেবল অ্যাপ কেনা যাবে। এর আগে জানুয়ারি মাসে নিজেদের ইন-অ্যাপ-পারচেজ প্রক্রিয়াটিতে পরিবর্তন করে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। অ্যাপলও ভুলে কেনা অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফেরত দিয়েছে তিন কোটি ২৫ লাখ ডলার।

3
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি নতুন ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এতে ওই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে নারীর লড়াইয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পারজেটা নামের ওষুধটি তৈরি করেছে সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রোশ।
ওষুধটির পরীক্ষামূলক ওই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন হসপিটাল সেন্টারের বিজ্ঞানী সান্ড্রা সোয়েন। তিনি স্পেনের মাদ্রিদে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে গতকাল রোববার বলেন, নতুন ওষুধটি প্রয়োগের ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের টিকে থাকার লড়াইয়ে বিশেষ উন্নতি হয়েছে। তাঁরা প্রায় ১৬ মাস পর্যন্ত বেশি সময় পাচ্ছেন। এটি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়া স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের এক-চতুর্থাংশই যে সমস্যায় ভুগছেন, তার নাম এইচইআর-টু পজিটিভ। গবেষকেরা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রচলিত পুরোনো ওষুধ হারসেপটিন এবং কোমোথেরাপির পাশাপাশি পারজেটা প্রয়োগ করে দেখতে পান, হারসেপটিন ও কেমোথেরাপির চেয়ে এটি বাড়তি কার্যকারিতা দেখাচ্ছে এবং রোগীরা অন্তত ১৫ মাস সাত দিন বেশি বেঁচে থাকতে পারছেন।

ওষুধের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দুই বছর আগে পারজেটা অনুমোদন করে। রোশের সহায়তায় ওষুধটি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত অন্তত ৮০০ নারীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। স্তন ছাড়িয়ে শরীরের অন্যান্য অংশেও ওই নারীদের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল। পরীক্ষামূলক গবেষণা অনুযায়ী, পারজেটা প্রয়োগের ফলে রোগীরা উন্নতি ছাড়াই বেঁচে থাকেন। মানে, রোগটি আগের চেয়ে খারাপ হয় না। মধ্যবর্তী অবস্থায় রোগীদের বেঁচে থাকার ব্যাপ্তি ৫৬ মাস পাঁচ দিন। আর পারজেটা ছাড়া পুরোনো ওষুধে তাঁরা ৪০ মাস আট দিন বেঁচে থাকতে সমর্থ হন।

বার্সেলোনার ভল দ’এবর্ন ইনস্টিটিউট অব অনকোলজির গবেষক জ্যাভিয়ার কোর্তেস বলেন, গবেষণার ফলাফল উল্লেখযোগ্য এবং এতে এইচইআর-টু পজিটিভ স্তন ক্যানসারের রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসার জন্য পারজেটা প্রয়োগের পক্ষে জোরালো সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হলো পারজেটা খুব দামি ওষুধ। তাই অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে এটি প্রয়োগ করে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অনেক রোগীরই সামর্থ্যের বাইরে থাকবে। হারসেপটিন নামের ওষুধটিও রোশের তৈরি এবং ১৯৯৮ সালে এটি প্রথম অনুমোদন পায়। পারজেটা ও হারসেপটিন—দুটি ওষুধই ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এইচইআর-টু পজিটিভ হচ্ছে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট জিনের মাধ্যমে উৎপাদিত একধরনের প্রোটিন। পারজেটা ওই প্রোটিনের বিভিন্ন অংশ আবদ্ধ করে বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এতে হারসেপটিন ও অন্য ওষুধগুলো বাড়তি কার্যকারিতা দেখানোর সুযোগ পায়।

দীর্ঘমেয়াদে পারজেটা ব্যবহারের নিরাপদ বিভিন্ন দিক সম্পর্কে মাদ্রিদের ওই সম্মেলনে ব্যাখ্যা করা হয়। সুইস প্রতিষ্ঠানটি ক্যাডসাইলা নামের আরেকটি ওষুধও সরবরাহ করে থাকে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি পারজেটার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রয়োগে সাফল্যের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখছেন গবেষকেরা। কেউ কেউ মনে করছেন, পারজেটার সঙ্গে কার্যকারিতা না দেখাতে পারলে ক্যাডসাইলার চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যানসারের চিকিৎসায় প্রতিষেধক ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের হার কম। প্রচলিত অন্যান্য রোগের প্রতিষেধকের চেয়ে ভিন্ন ধরনের কিছু প্রতিষেধক ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যানসার কোষ বা টিউমারের বিস্তার থামিয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই প্রচেষ্টা খুব সফল হয়নি। কারণ, প্রতিষেধকগুলো রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সফল হলেও ক্যানসার কোষগুলোর বিস্তার ঠেকাতে পারেনি। এখন সেই ব্যর্থ প্রতিষেধকগুলো নতুন ওষুধের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে ক্যানসারবিরোধী লড়াইয়ে জয়লাভের উপায় খুঁজছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

4
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ইয়াহুর ডিরেক্টরি সেবা। গত দুই বছরে ৬০টিরও বেশি সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ইয়াহু। গত শুক্রবার একসময়ের জনপ্রিয় ডিরেক্টরি সেবা ছাড়াও ইয়াহু এডুকেশন ও কুইকি নামের দুটি সেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়াহু। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট এ তথ্য জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইয়াহুর ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জে রুসিটার বলেন, ইন্টারনেটের শুরুর দিকের জনপ্রিয় সেবা ইয়াহু ডিরেক্টরি এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৩১ ডিসেম্বর এই সেবাটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার অনুরোধ করা হবে।

ইয়াহু ডিরেক্টরিকেই ইয়াহুর ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একসময়ের জনপ্রিয় একটি সার্চ টুল ছিল এই ডিরেক্টরি, যাতে গুগলের কী ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ রেজাল্ট দেখানোর পরিবর্তে ইন্টারনেটে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর বিভাগ অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হতো। ইয়াহুর ইয়াহু হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠার আগে এই প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো ১৯৯৪ সালে এই ডিরেক্টরি তৈরি করেন। এই ডিরেক্টরিকে বলা হতো ‘জেরি অ্যান্ড ডেভিড’স গাইড টু দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।’

জে রুসিটার এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে মানুষকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা করে দিতে ওয়েবসাইটের ডিরেক্টরি হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইয়াহুর। তিনি বলেন, ‘ইয়াহু এখন মোবাইল প্ল্যাটফর্মকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইয়াহুর সব সেবাকে আপগ্রেড করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইয়াহু স্পোর্টস বা ফাইন্যান্সও রয়েছে। আরও উদ্ভাবনী ও স্মার্টভাবে মূল পণ্যগুলোর দিকে নজর দেবে ইয়াহু। এর মধ্যে রয়েছে সার্চ, যোগাযোগ, ডিজিটাল ম্যাগাজিন ও ভিডিও। আমরা এই ক্ষেত্রগুলোতে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে ভালো সেবা দিতে পারব।’

5
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী হাজারো আন্দোলনকারী পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস উপেক্ষা করে রাজপথে অবস্থান করছেন। বিক্ষোভের কারণে হংকংয়ের যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার তথা পুরোপুরি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীসহ হংকংয়ের সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলন করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিক্ষোভকারীদের হটাতে আজ সোমবারও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে হংকংয়ের দাঙ্গা পুলিশ। তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হামলা ও সরে যাওয়ার আহ্বান উপেক্ষা করে রাজপথে রয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের হটাতে রাতভর একই ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে পুলিশ। তারা বিক্ষোভকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যেতে বলেছে। তবে বিক্ষোভকারীরা এই আহ্বান গায়ে মাখেননি। রাতভর তারা সরকারি দপ্তরের বাইরে অবস্থান করেছেন। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় হংকংয়ের যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, দুই শতাধিক বাস চলাচলের পথ বন্ধ করা হয়েছে বা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ শিক্ষা ব্যুরো জানিয়েছে, যেসব এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছেন, সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

বিক্ষোভের কারণে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যাংক তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। হংকংয়ের বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৭টি ব্যাংক তাদের ২৯টি শাখা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার তারা ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগের দিন গ্রেপ্তার করেছে ৭০ জনকে।

রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের পর গতকাল গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা হংকংয়ের সরকারি দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেন। কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

চীনের অধীন আধা স্বায়ত্তশাসিত এ ভূখণ্ডে নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিধিনিষেধ বাতিল করার দাবিতে গণতন্ত্রপন্থীরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন।

হংকংয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিওয়াই লিউং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ‘অবৈধ’ বিক্ষোভে অংশ না নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে নির্ধারিত সময়েই হংকংয়ের নতুন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার নির্বাচন হবে।

6
আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের পর জাপানের মাউন্ট ওনতাক পর্বতে উদ্ধারকাজ চলছে। গতকাল রোববার পর্বতটির চূড়ার কাছে অন্তত ৩১ জন ভ্রমণকারীর মৃত্যুর আশঙ্কাকে সামনে রেখে এই উদ্ধারকাজ চলছে। ফিরে আসা ভ্রমণকারীরা জানান, ছাই ও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে আছেন।

এএফপির খবরে জানানো হয়, ওনতাক পর্বতে এক হাজারের বেশি অগ্নিনির্বাপক বাহিনী উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পর্বত থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, কাজ করার সময় তাঁরা শ্বাস নিতে পারছেন না।

ঘটনাস্থল থেকে জীবিত ফিরে আসা ব্যক্তি সেইচি সাকুরি বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের স্থান থেকে ক্রমাগত ছাই পড়ছিল। অনেকে ছাইয়ের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছিল। আমি কিছুই করতে পারছিলাম না। তাঁদের উদ্ধার করতে বলছিলাম উদ্ধারকর্মীদের।’

আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এত গরম ছিল যে আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। কালো ছাইয়ে পুরো এলাকা ভরে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমি মারা যাচ্ছি।’

ধ্বংসস্তূপের পাশে প্রিয়জনকে খুঁজে ফিরছিলেন অশ্রুসজল এক বাবা। এক তরুণ খুঁজছেন তাঁর বান্ধবীকে। এক মা বলেন, তাঁর ছেলে অগ্ন্যুৎপাতের পর ফোন করেছিল। বলেছিল, ‘মা, আমি মারা যাচ্ছি। ঠিক এ সময় লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’ পরে ছেলের কী হয়েছে, তিনি জানেন না।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তশিতসুগু ফুজি জানান, ৪৭টি আগ্নেয়গিরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন।

গত শনিবার ওই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ক্ষিপ্রগতিতে ধোঁয়া এবং উত্তপ্ত ছাই ও পাথর বেরোতে থাকে। তার আগে প্রচণ্ড শব্দও হয়। এ সময় পর্বতটিতে অন্তত ২৫০ জন পরিব্রাজক আটকা পড়েন। তবে পরে তাঁদের বেশির ভাগই নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন।

পর্বতটি থেকে বেশ কয়েকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, এর মধ্যেও রাতে অন্তত ৫০ জন সেখানে অবস্থান করছিলেন। গতকালও অগ্ন্যুৎপাত অব্যাহত ছিল। সকালে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ওই পরিব্রাজকদের নিথর দেহের খোঁজ মেলে।

মাউন্ট ওনতাকের উচ্চতা তিন হাজার ৬৭ মিটার বা ১০ হাজার ১২০ ফুট। এর বিভিন্ন অংশে থাকার কেবিন ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হাঁটাপথ আছে।

7
পশু মোটাতাজাকরণে হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধে নির্দেশনার সুপারিশ তৈরি করতে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।
আট সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব, খাদ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবকে ওই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ওই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, চিকিৎসক, পুষ্টিবিজ্ঞানী, পশু চিকিৎসক ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে।
কমিটিকে পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কোরবানির হাটে আনা পশু মোটাতাজাকরণে হরমোন বা রাসায়নিকসহ মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থের ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদনটি করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দুই আইনজীবী এ রিট আবেদনটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
রুলে পশু মোটাতাজাকরণে অতিরিক্ত হরমোন বা রাসায়নিক ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশু মোটাতাজাকরণে স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। বিবাদীদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাণিজ্যসচিব, খাদ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের সচিব, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেসের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

8
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরবেন কি ফিরবেন না, এ আলোচনা এই মুহূর্তে রীতিমতো অসহনীয় ঠেকছে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কর্তারা নাকি রোনালদোকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার প্রসঙ্গও মুখে না নিতে। তাঁরা রোনালদোকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে এতটাই মরিয়া যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে রোনালদোর দামটাম নিয়ে আলাপ-আলোচনাতেও রয়েছে তাঁদের রাজ্যের অনীহা। কেবল অনীহা বললে বোধ হয় ভুল হবে, রোনালদোর ‘মূল্য’ নিয়ে কোনো আলোচনাতেই রিয়াল মাদ্রিদ রাজি নয়।

রিয়াল মাদ্রিদ বিরক্ত খোদ রোনালদোর ওপরই। মাঝেমধ্যেই তিনি বিভিন্ন ফোরামে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি নিজের ‘ভালোবাসা’র কথা প্রকাশ করেছেন। অনেক জায়গাতেই বলেছেন, হয়তো কোনো না-কোনো দিন তিনি ফিরে যাবেন তাঁর পুরোনো ক্লাবে। রিয়ালের অবস্থা এখন অনেকটা, ‘বললেই হলো’টাইপ। রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ‘যেতে চাইলে’ই যে ‘যেতে পারবেন না’, সেটা বেশ স্পষ্ট করেই সিআর-সেভেনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বে বাণিজ্যিক রাজস্বের দিক দিয়ে সবচেয়ে ‘লাভজনক’ এই তারকাকে ছেড়ে দেওয়ার মতো ‘বোকা’ যে রিয়াল নয়, সেটা হাভভাবে এখনই জানিয়ে দেওয়া শুরু করেছে ব্লাঙ্কোস-ব্যবস্থাপনা। সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে আর কে-ইবা ছাড়তে চায়!

হ্যাঁ, রোনালদো রিয়ালের কাছে এই মুহূর্তে সোনার ডিম পাড়া হাঁসই। ২০০৯ সালে তাঁকে যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে কিনে আনা হলো, তখনই রোনালদোকে নিয়ে রিয়াল তৈরি করেছে বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বুনিয়াদ। পাঁচ বছর পরে সেই বাণিজ্যিক বুনিয়াদ হয়েছে আরও মজবুত। এই মুহূর্তে রিয়ালের কাছে রোনালদো খেলোয়াড় হিসেবে তো বটেই বাণিজ্যিক দিক দিয়েও অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এক অনুষঙ্গ। রোনালদো ব্যক্তিগতভাবে করপোরেট বাণিজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। রোনালদো থাকা মানেই নিশ্চিত বাণিজ্য। কেবল পেছনে ‘রোনালদো’ লেখা ৭ নম্বর খচিত জার্সির রেপ্লিকা বিক্রি করেই যে পরিমাণ আয় করে রিয়াল, তা দিয়ে পৃথিবীর নামকরা অনেক তারকাকেই এক তুড়িতে কিনে নিয়ে আসতে পারে তারা। তারা এখন কোন হিসাবে, কীসের ভিত্তিতে রোনালদোকে ছেড়ে দেবে! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি ‘ভালোবাসা’ দেখানোর জন্য তো আর গত সেপ্টেম্বরে নতুন করে রোনালদোর সঙ্গে চুক্তি হয়নি! নতুন চুক্তিতে রোনালদো বেতন কত পান জানেন? বছরান্তে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় ২১ মিলিয়ন ইউরো। তাও আবার ট্যাক্স কেটে। এর পাশাপাশি অন্যান্য বোনাস-টোনাসের প্রসঙ্গ না হয় বাদই দেওয়া হলো।

এবার আসা যাক রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইডে যাওয়াটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেই আলোচনায়। এই মৌসুমে খেলোয়াড় কেনা বাবদ ইতিমধ্যেই ২৫৭ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে ফেলেছে ইউনাইটেড। এখন নতুন করে রোনালদোকে দলে নিতে গেলে যে আরও একটি ‘রেকর্ড’ করতে হবে, সেটা তো বলাই বাহুল্য। তাও না হয় করার চেষ্টা করত ইউনাইটেড। কিন্তু গত মৌসুমে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ হারানোটা সব দিক দিয়েই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির জন্য। রোনালদো মুখে যতই ইউনাইটেড-ভালোবাসার কথা বলে থাকুন না কেন, তিনি কেবল সেই ভালোবাসার জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের মায়া ছাড়বেন—এ কথা বোধ হয় বিশ্বাস করার খুব বেশি লোক এই পৃথিবীতে নেই। সবকিছু ছেড়ে দিন, তিনি যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার মায়াও ছেড়ে দেন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকেরা নিশ্চয়ই বসে থাকবেন না, যখনই দেখবেন রোনালদো ইউরোপ-সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নেই, ঠিক তখনই তাঁরা পিঠটান দিয়ে দেবেন। রোনালদো এই ঝুঁকিই বা কেন নিতে যাবেন!

সবচেয়ে বড় কথা, এই মৌসুমে ২৫৭ মিলিয়ন ইউরো খরচ করার পরেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বাজে পারফরম্যান্স ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের কর্তাদের নিশ্চয়ই রোনালদোকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে ‘নতুন রেকর্ড’ গড়তে উৎসাহিত করবে না! এমনিতেই চ্যাম্পিয়নস লিগে না থাকার কারণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রাজস্ব লক্ষ্য অনেকটাই কম হবে বলে আভাস মিলেছে। এমন অবস্থায় রোনালদোকে কিনে ব্যবসায়িক ঝুঁকি কেন নেবে ইউনাইটেড।

নাইকি-অ্যাডিডাসের চিরন্তন দ্বন্দ্বও রোনালদোর বার্নাব্যু ছাড়ায় প্রতিরোধ তৈরি করছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সম্প্রতি সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে চুক্তি রদ করেছে। অ্যাডিডাসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেও নাকি সমস্যার মধ্যে আছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগ না খেলতে পারার কারণে অ্যাডিডাস নাকি অর্থকরী বেশি দেওয়ার ব্যাপারে গড়িমসি করছে। এ তো গেল একটা বিষয়। নাইকির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর রোনালদো এর মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে অ্যাডিডাসের জার্সি-বুট পরবেন, এই ভাবনা একটু বাড়াবাড়িই হয়ে যায়। তিনি যদি অ্যাডিডাস পরেন, তাহলে রিয়ালের অ্যাডিডাস জার্সিই পরবেন, অন্য কারও নয়।

তবে যাকে নিয়ে এত কথাবার্তা, সেই রোনালদোই তাঁর ওল্ড ট্র্যাফোর্ড যাত্রাকে ‘জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। তাহলে এত দিন যে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড নিয়ে ভালোবাসার গান গাইলেন তিনি, সেগুলো কিছুই নয়! আরে ঠ্যালার নাম বাবাজি বলেও তো একটা কথা আছে—তাই নয় কি? তথ্যসূত্র: গোল ডটকম।

9
রুদ খুলিত ভেবে পাচ্ছেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কর্মকর্তাদের বুদ্ধিসুদ্ধি হঠাৎ লোপ পেল কীভাবে? কীভাবে তাঁরা অন্ধের মতো কোচ লুই ফন গালের কথায় অপরিকল্পিতভাবে খরচ করে ফেললেন এতগুলো টাকা! হল্যান্ডের ইউরো-জয়ী অধিনায়ক মনে করেন, দুর্বল পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ফন গাল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অর্থের অপচয়ই করেছেন শুধু।

এবারের দলবদলে বিপুল অর্থ খরচ করলেও মাঠে একেবারেই তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে না ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ছয় ম্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র আট পয়েন্ট সংগ্রহ করা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ধুঁকছে যোগ্য রক্ষণভাগের অভাবেই। আর খুলিতের মতে, এর সম্পূর্ণ দায়ভার ওই ফন গালেরই, ‘আমি খুব অবাক হচ্ছি—কীভাবে ফন গালের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচ ভাবতে পারেন যে তিনি পুরো মৌসুম কাটিয়ে দেবেন দুজন শক্তিশালী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছাড়াই।’ ফন গালের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডাচ ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা, ‘আপনি আপনার দলের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করবেন, মধ্যমাঠকে আঁটসাঁট করবেন কিন্তু রক্ষণকে দুর্বল রাখবেন—এমন পরিকল্পনা থাকলে আমি বলব, ইংলিশ লিগকে আপনি দুর্বল ও সহজ লিগ মনে করেন। এতে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে আপনার দলের রক্ষণভাগকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। তাই আমি মনে করি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে ফন গালের পুরো পরিকল্পনাই ভুল।’

খুলিতের মতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে চাকরি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সফল এই কোচ গভীর গাড্ডার মধ্যেই পড়েছেন, ‘শুরুর পরিকল্পনাটা ভুল হওয়া এই মুহূর্তে ভয়াবহ বিপদে পড়ে গেছেন ফন গাল। এমনিতেই দলের রক্ষণভাগ দুর্বল, তার ওপর এতে আছে চোট-সমস্যা। ফন গালকে যেন সমস্যার পাহাড়ই ডিঙাতে হচ্ছে। খুলিতের মতে, ইংলিশ ফুটবলে কোচিং করাতে এসে এই বয়সে ফন গালকে অনেক কিছুই শিখতে হচ্ছে, দুঃখের বিষয় এটিই। তিনি বোধ হয় জানতেন না যে এটা ইংলিশ ফুটবল, এখানে ছকবাঁধা নিয়মের অনেক কিছুই চলে না।’

নিজে চেলসির কোচ ছিলেন, ছিলেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্বে। ইংলিশ ফুটবলটা হাতের তালুর মতোই চেনা খুলিতের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ফন গালকে কিছু পরামর্শই দিয়েছেন এই ডাচম্যান, ‘ইংলিশ ফুটবলে আগে আপনাকে বাড়ির ভিত্তিটা শক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। এরপর কাঠামোটা নির্মাণ করতে হবে। সবশেষে যেতে হবে বাড়ির ছাদ তৈরিতে। ফন গাল করেছেন এর ঠিক উল্টো কাজটা।

সমালোচনা করলেও স্বদেশী কোচ ফন গালের সাফল্যই চান খুলিত, ‘আমি তাঁর সাফল্য চাই। প্রাথমিক ভুলটা তিনি করেছেন। তবে হাতে কিছু সময় এখনো আছে। পরের তিনটি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন মাস পরিকল্পনাটা ঠিকঠাক হলে ম্যানচেস্টার নিজেদের লড়াইয়েও ফেরাতে পারে।’ সূত্র: সানডে এক্সপ্রেস।

10
আইফোন ৬ প্লাস বেঁকে যাচ্ছে—এ অভিযোগ পাওয়ার পর আইফোনকে যে পরীক্ষাগুলোতে পাস করে বাজারে আসতে হয়, সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের তথ্য জানিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ, রিকোড ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের সামনে আইফোন পরীক্ষা করে দেখিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।
অ্যাপল দাবি করেছে, সম্প্রতি বাজারে আনা আইফোন ৬ ও আইফোন৬ প্লাস হচ্ছে অ্যাপলের সবচেয়ে বেশিবার পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়া স্মার্টফোন। প্রায় ১৫ হাজার ইউনিট আইফোনকে বিভিন্ন প্যারামিটারে প্রতিটি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আইফোনকে যে পাঁচটি পরীক্ষায় অবশ্যই পাস করতে হয়, সেগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ভার্জ।

সিট টেস্ট
অ্যাপলের তৈরি আইফোনকে প্রথম যে পরীক্ষায় উতরে যেতে হয় তার নাম ‘সিট টেস্ট’। এই পরীক্ষায় কোনো আইফোন ব্যবহারকারী দুর্ঘটনাবশত হঠাৎ আইফোনের ওপর বসে পড়লে কী ধরনের ক্ষতি হয় তা দেখা হয়। এ পরীক্ষাটি তিনটি ধাপে করা হয়। প্যান্টের পেছনের পকেটে আইফোন রেখে শক্ত কোনো কিছুর ওপর বসে পড়তে হয় প্রথম ধাপে। দ্বিতীয় ধাপে কোচ বা কুশনের মতো কোথায় আইফোনের ওপর বসে পড়লে কী ক্ষতি হয় তা দেখা হয়। তৃতীয় ধাপে আইফোনকে যেভাবে পরীক্ষা করা হয় সেটিকে সবচেয়ে বাজে পরীক্ষা বলে দাবি করেছে রিকোড। এই ধাপে সুচালো কোনো শক্ত পৃষ্ঠের ওপর আইফোন ব্যবহারকারীকে বসতে হয়। অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান রিকো দাবি করেছেন, এই পরীক্ষাগুলো হাজার হাজার বার করা হয়।

তিন পয়েন্টে বাঁকানো পরীক্ষা
এই পরীক্ষায় আইফোনের ওপর নির্দিষ্ট ওজন চাপিয়ে তা বাঁকা হয় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। এই পরীক্ষার সময় আইফোন বেঁকে যায় কি না, তা দেখতে ২৫ কেজি ওজনের একটি বার দিয়ে আইফোনের পেছনের দিকে মাঝ বরাবর চাপ দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার সময় আইফোন যদিও কিছুটা বেঁকে যায়, তবে চাপ সরিয়ে নিলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। অ্যাপলের কর্মকর্তা ড্যান রিকো বলেন, অনেক বেশি ওজন চাপালে শুধু আইফোন কেন এ পরীক্ষায় যেকোনো ফোনই স্থায়ীভাবে বেঁকে যাবে। অবশ্য একটি আইফোন সর্বোচ্চ কত ওজন সহ্য করতে পারে, সে তথ্য জানায়নি অ্যাপল কর্তৃপক্ষ।
প্রেশার পয়েন্ট পরীক্ষা
এই পরীক্ষার সময় আইফোনের কোনো দিক থেকে ধরে পেছন দিক থেকে মাঝ বরাবর যথেষ্ট চাপ দিয়ে আইফোনের চাপ সহনীয়তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। সাংবাদিকদের সামনে ১০ কেজি চাপ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখানো হয়েছে। বেঁকে গেলে আইফোন আবার চাপ দিয়ে সোজা করা যায় কি না, সেই পরীক্ষাও হাজার বার করা হয় বলেই অ্যাপলের দাবি।

মোচড়ানো পরীক্ষা
আইফোনকে দুদিক থেকে ধরে তা মোচড়ানোর চেষ্টা করা হয়। আইফোন টেকসই কি না, তা দেখতে বিভিন্ন কোণ থেকে প্রায় আট হাজার বার মুচড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়। তবে কত ডিগ্রি কোণ থেকে এটি মোচড়ানো হয়, তা জানায়নি অ্যাপল।

ব্যবহারকারীকে দিয়ে পরীক্ষা করানো
এই পরীক্ষার সময় অ্যাপলের কর্মীদের কাছে আইফোনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার জন্য নতুন আইফোন দেওয়া হয়। প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে এর পারফরম্যান্স, স্থায়িত্ব প্রভৃতি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো বিষয় নজরে এলে তা নিয়ে আবার কাজ শুরু করে অ্যাপল।

11
হৃদযন্ত্রের অনুকূল পরিবেশ গড়তে টিভি ও রেডিওতে ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন প্রচারে নিয়ন্ত্রণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চহারে কর আরোপের আহ্বান জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
আজ সোমবার বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে হার্ট ফাউন্ডেশনে আয়োজিত সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়।
এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘হার্টবান্ধব পরিবেশ গড়ুন, সুস্থভাবে বাঁচুন’।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল মালিক। আলোচকেরা বলেন, হৃদযন্ত্রের অনুকূল পরিবেশ গড়ার কাজ পরিবার থেকে শুরু করতে হবে।
জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারিভাবে দিবসটি পালনের পরামর্শ দেন।
মূল প্রবন্ধে ফাউন্ডেশনের শিক্ষক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশেরও বেশি ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি থেকে। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে আবার শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ। হৃদরোগকে খাদ্যবাহিত রোগ বলা হয়। টিভি ও রেডিতে ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা, স্বাস্থ্যকর খাবারে উচ্চহারে কর আরোপ এবং স্থানীয়ভাবে ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদনে সহযোগিতা করায় নীতিনির্ধারকদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও হৃদরোগের চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুলভ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ব্যস্ততার কারণে স্বাস্থ্যকর নয় জেনেও অনেক অভিভাবককেই ফাস্টফুড বা তেল-চর্বিযুক্ত খাবার টিফিন হিসেবে দিতে হচ্ছে। স্কুল থেকে স্বাস্থ্যসম্মত টিফিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, দুশ্চিন্তা ও অত্যধিক মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পরিবার ও সমাজে সবার সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, ঢাকার বেশির ভাগ মানুষ হয় রেলের বস্তিতে থাকছেন, নয়তো দালানকোঠার বস্তিতে। এর মধ্যেই ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে। ছাদে বাগান করা যেতে পারে, বার্গারের বদলে ভেজিটেবল রোল খাওয়া যেতে পারে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম স্থূলতা এড়াতে নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দেন। মনে রাখার জন্য সব পুরুষকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরোক্ষ ধূমপানে গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান আরেক সহসভাপতি আর কে খন্দকার।
বিশ্বে প্রতিবছর এক কোটি ৭৩ লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা দুই কোটি ৩০ লাখে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারণা করছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮০ ভাগই হবেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।

Pages: [1] 2 3 ... 9