Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Rasel Prodhania

Pages: [1] 2
1
 

 আমরা প্রতিনিয়ত যারা বাজার করি বিশেষ করে কোনো উপলক্ষে যখন বাজার করা হয়, তখন সাধারণত ফর্দ বা তালিকা তৈরি করে নিয়ে যাই। ফর্দ ছাড়া বাজারে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ফেলে আসি। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনেক ক্ষেত্রেই আমরা গোছাতে পারি না। একেবারে শেষ সময়, কোভিডের কারণে এবং রিটার্ন তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার ব্যস্ততার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ বা ছাড়াই রিটার্ন তৈরি হলে তা ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে

 আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পরও ফাইল আবার উন্মোচন হতে পারে। আয়কর আইনে ছয় বছর পর্যন্ত আয়কর ফাইল পুনরায় উন্মোচন করা যায়। অর্থাৎ আয়কর ফাইলে ত্রুটি থাকলে বিপদ থাকবে ছয় বছর পর্যন্ত।

 সুতরাং একটি তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী কাগজপত্র গুছিয়ে রিটার্ন তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আয়কর বিষয়ে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা আলোকে একটি ফর্দ বা তালিকা করেছি, যা করদাতাদের উপকারে আসতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
অল্প সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হলে জেনে নিন
অল্প সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হলে জেনে নিন

এ ক্ষেত্রে ২০২০-২১ কর বছরের জন্য ১ জুলাই ২০১৯ থেকে ৩০ জুন ২০২০ তারিখের মধ্যে সংঘটিত কার্যক্রমের কাগজ দলিলাদি কি না, বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে। ফর্দটি এ রকম—

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যা যা দরকার
আয়ের বিবরণী

১. বেতন খাতে আয় (ফটোকপি সংযুক্ত করবেন)
২. সিকিউরিটির ওপর সুদ খাতে আয় (উপযুক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত বেতন সার্টিফিকেট, অর্জিত সুদের সপক্ষে ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট)
৩. গৃহ সম্পত্তি খাতে আয়
ক. গৃহের তলাভিত্তিক ফ্লোর স্পেস ও ভাড়া (ভাড়ার চুক্তিপত্র)
খ. পৌরকরের পরিমাণ (পৌরকর প্রদানের রসিদ)
গ. বন্ধকি ঋণের ওপর সুদ (ব্যাংকের ইস্যুকৃত বিবরণী বা সার্টিফিকেট)
ঘ. বাসস্থান খালি থাকলে তার সময়কাল (উপ–কর কমিশনারকে জানানো হলে পত্রের কপি)
৪. কৃষি আয়
ক. কৃষিজমির পরিমাণ খ. ফলনকৃত শস্যের পরিমাণ
গ. বাজারমূল্য
৫.ব্যবসা বা পেশা খাতে আয়: (স্থিতিপত্র ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী, যদি থাকে)
৬. মূলধনি লাভ
ক. মূলধনি সম্পদের বিক্রয়মূল্য (বিক্রীত চুক্তিপত্র ও বিক্রয়ের রসিদ বা দলিল)
খ. বিক্রীত সম্পদের ক্রয়মূল্য (ক্রয়ের দলিল অথবা প্রমাণপত্র)
গ. আনুষঙ্গিক মূলধনি ব্যয় (ক্রয় ও আনুষঙ্গিক মূলধনি ব্যয়ের প্রমাণপত্র)
৭. অন্যান্য উৎস খাতে আয়
ক. লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট)
খ. সুদ (সার্টিফিকেট সুদের ওপর উৎসে কর কর্তনের এবং ব্যাংক বিবরণী)
গ. অন্য কোনো উৎস (আয়ের সপক্ষে প্রমাণপত্র)
ঘ. এফডিআর বা সঞ্চয় (বিবরণী/সার্টিফিকেট)
কর রেয়ায়েতের জন্য বিনিয়োগ

ক. জীবনবিমার প্রদত্ত কিস্তি (প্রিমিয়ার রসিদ)
খ. ভবিষ্যতে প্রাপ্য বার্ষিক ভাতাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে চাঁদা (উপযুক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট)
গ. ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা (সার্টিফিকেটের ফটোকপি)
ঘ. স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে স্বীয় ও নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা (সার্টিফিকেটের ফটোকপি)
ঙ. অনুমোদিত বয়সজনিত তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা (নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেট)
চ. অনুমোদিত ঋণপত্র বা ডিবেঞ্চার স্টক, স্টক বা শেয়ারে বিনিয়োগ (বিনিয়োগের প্রমাণপত্র)
ছ. ডিপোজিট পেনশন স্কিমে প্রদত্ত চাঁদা (ব্যাংকের সার্টিফিকেট সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ অনুমোদনযোগ্য)
জ. কল্যাণ তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা এবং গোষ্ঠী বিমা স্কিমের অধীন প্রদত্ত কিস্তি (নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেট)
ঝ. জাকাত তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা (প্রমাণপত্র)
ঞ. অন্যান্য, যদি থাকে (বিবরণ দিন ও প্রমাণপত্র)
রিটার্ন তৈরি করে স্বাক্ষর করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সংযুক্ত করার পর রিটার্নসহ কাগজপত্রের ফটোকপি করে ফাইলে সংরক্ষণ করুন। তাহলে পরবর্তী রিটার্ন তৈরি করা এবং যদি কোনো কারণে আয়কর ফাইল অডিটে নির্বাচিত হয় বা কোনো তদন্ত করা হয়, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে সুবিধা হবে।

2
পৃথিবীর ভয়ংকর ৭ ভাইরাস

সেই আদিকাল থেকে মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে যে ক্ষুদ্র দানব, তার নাম ‘ভাইরাস’। লাতিন শব্দ ‘ভাইরাস’–এর অর্থ ‘বিষ’। আবার মানুষ এই ‘বিষ’কে মানবকল্যাণেও কাজে লাগাচ্ছে ইদানীং। তবে এটা নিশ্চিত যে এই ভয়ংকর ক্ষুদ্র দানবদের পুরোপুরি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপে বন্দী করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

অতি ক্ষুদ্র ভাইরাসের আছে ভয়ংকর মারণ ক্ষমতা। শুধু বিশ শতকেই গুটিবসন্ত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি মানুষের। প্রথম কে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা জানা না গেলেও এ পৃথিবীর সর্বশেষ আক্রান্ত ব্যক্তিটি ছিলেন আমাদের বাংলাদেশের রহিমা বানু। বর্তমানে এই দানবটিকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। আরেকটি বিভীষিকার নাম স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারায় পাঁচ থেকে দশ কোটি মানুষ, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ।

পৃথিবীতে জানা-অজানা বহু ভাইরাস আছে। এর মধ্যে ছয়টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সে ছয়টি ভাইরাসের সঙ্গে ইদানীং যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস।

প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। ছবি: লেখকপ্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। ছবি: লেখকইবোলা ভাইরাস
এ পর্যন্ত ঘাতক ভাইরাসের শীর্ষে আছে ইবোলা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর ছয়টি প্রকরণ শনাক্ত করা গেছে। প্রকরণভেদে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ১৯৭৬ সালে। একই সঙ্গে নাইজার, সুদান, ইয়াম্বুকু ও রিপাবলিকান কঙ্গোতে। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালে ইবোলা মহামারিতে আফ্রিকার পশ্চিমাংশের দেশগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০১৯ সালে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসে ২ হাজার ৯০৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং এদের মধ্যে ১ হাজার ৯৫৩ জন প্রাণ হারায়। আজ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি। ইবোলা ভাইরাস সংক্রামিত মানুষের রক্ত, লালা বা যেকোনো নিঃসৃত রস থেকে কিংবা শরীরের ক্ষতস্থানের মাধ্যমে অপরের শরীরে সংক্রামিত হয়ে থাকে।

রেবিজ ভাইরাসের থ্রিডি ছবি। ছবি: উইকিপিডিয়ারেবিজ ভাইরাসের থ্রিডি ছবি। ছবি: উইকিপিডিয়া
রেবিজ ভাইরাস
রেবিজ ভাইরাস নিউরোট্রপিক অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয়, তার নাম জলাতঙ্ক। প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে জলাতঙ্কের আক্রমণে প্রাণ হারায় ৫৯ হাজার মানুষ। সংক্রামিত প্রাণীর লালায় রেবিজ বা জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বিচরণ করে। সেসব প্রাণী মানুষকে কামড়ালে মানুষ সংক্রামিত হয়। কার্যকর ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তিকে সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়ার কারণে জলাতঙ্কের আতঙ্ক থেকে এখনো মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না।

ভাইরাসটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে এবং এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। সময়মতো টিকা না দিতে পারলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। মস্তিষ্কে রেবিজ ভাইরাস যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখনই রেবিজের লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে তীব্র খিঁচুনি ও পক্ষাঘাতে রোগীর মৃত্যু হয়।

এইচ৫এন১ ভাইরাসের একটি সাব টাইপ এইচ১এন১। ছবি: উইকিপিডিয়াএইচ৫এন১ ভাইরাসের একটি সাব টাইপ এইচ১এন১। ছবি: উইকিপিডিয়া
এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
এই ভাইরাসটি মিউট্যান্ট। ডাচ ভাইরোলজিস্ট রন ফুচিয়ে গবেষণাগারে বার্ড ফ্লু ভাইরাসকে রূপান্তরিত করেন। এ ভাইরাসটি মারাত্মক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ভীষণ বিপজ্জনক বিধায় ২০১১ সালে আমেরিকান বায়োসফটি এজেন্সি (এনএসএবিবি) এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। গবেষকেরা আশ্বস্ত করেছেন, এই দানব ভাইরাসটির স্থান হয়েছে গবেষণাগারের অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রকোষ্ঠে। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ খোলা নেই। এমনিতেই সাধারণ বার্ড ফ্লু ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা ৬০ শতাংশের ওপরে। এরপরও উচ্চ মারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাইরাসটি নিজে থেকেই ভোল পাল্টাতে অর্থাৎ রূপান্তরিত হতে পারে। সে জন্য এটি নিয়ে বিশেজ্ঞরা বিশেষ বেকায়দায় আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা দায়ী। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এই মৌসুমে তিন কোটির বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ ভাইরাসে ফ্রান্সে ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজার ১০০ জন।

মারবুর্গ ভাইরাস নিউক্লিয়োক্যাপসিডের ক্রিও ইএম পুনর্নির্মাণ। ছবি: উইকিপিডিয়ামারবুর্গ ভাইরাস নিউক্লিয়োক্যাপসিডের ক্রিও ইএম পুনর্নির্মাণ। ছবি: উইকিপিডিয়া
মারবুর্গ
জার্মানির একটি শহরের নামে এই ফিলোভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও এটি ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে কম মারাত্মক। তবে এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে। উচ্চ মারণক্ষমতা অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ এ ভাইরাসে মারা যায়। মারবুর্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পঞ্চম বা সপ্তম দিনে সংক্রামিত ব্যক্তির প্রচণ্ড জ্বর এবং সেই সঙ্গে রক্তবমি, মলের সঙ্গে রক্ত, নাক, দাঁতের মাড়ি এবং যোনিপথে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ অসুস্থতার পরে পুরুষদের মধ্যে অর্কিটিস নামক অণ্ডকোষের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। আশার কথা, এ ভাইরাস খুব সহজে সংক্রামিত হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশার কারণে তার মল, প্রস্রাব, লালা বা বমির মাধ্যমে মারবুর্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।

একটি টিইএম মাইক্রোগ্রাফে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস। ছবি: উইকিপিডিয়া।একটি টিইএম মাইক্রোগ্রাফে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস। ছবি: উইকিপিডিয়া।
ডেঙ্গু
ডেঙ্গুর আরেকটি নাম আছে, তা হলো ‘ট্রপিক্যাল ফ্লু’। এডিস মশার কামড় দ্বারা সংক্রামিত হয় ডেঙ্গু। অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে কম বিপজ্জনক। ডেঙ্গু ভাইরাস সাম্প্রতিককালে ইউরোপেও হানা দিয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ১৪১টি দেশে আনুমানিক ৩৯ কোটি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তি মারাত্মক রক্তক্ষরণকারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রাণ হারায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

এইচআইভি ভাইরাসের ডায়াগ্রাম। ছবি: উইকিপিডিয়া।এইচআইভি ভাইরাসের ডায়াগ্রাম। ছবি: উইকিপিডিয়া।
এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস
এই ভাইরাসটি পোষক কোষে আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। সক্রিয় হয়ে উঠলে পোষক দেহের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকল করে দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, এইডস মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।

১০ মার্চ ২০২০, ব্রিটিশ মেডিকেল বৈজ্ঞানিক জার্নাল The Lancet খবর দিয়েছে, এইডসে আক্রান্ত একজন ব্রিটিশ ব্যক্তির অস্থি–মজ্জা–কোষ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাকে পুরোপুরি সরিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে এইডসের কবল থেকে মুক্ত করা গেছে। এইডসের মোকাবিলায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্সকরোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
নভেল করোনা (Covid-19)
ইদানীং যে ভাইরাসটি সারা বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে, তা হলো করোনাভাইরাসের একটি প্রকরণ নভেল করোনা (Covid-19)। এ পর্যন্ত যে তথ্য আমাদের হাতে আছে, তাতে দেখা যায়, এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১০০ জনে প্রাণ হারিয়েছে ৪ জনের কম ব্যক্তি এবং অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে সেরে উঠেছে। করোনা নামের ভাইরাসের নতুন রূপটি এখনো পুরোপুরি উন্মোচন করেনি। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এর মতিগতি বুঝতে এবং উঠেপড়ে লেগেছেন এর প্রতিষেধক উদ্ভাবনের। এ ব্যাপারে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা অচিরেই বিশ্ববাসীকে সুখবর দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

(তথ্যসূত্র: ব্যানিয়ার্ড এসি ও ট্রুডো এন, ‘রেবিজ প্যাথজেনেসিস অ্যান্ড ইমিনোলজি’, ২০১৮)

3
চেক ডিজঅনার খসড়া আইনে থাকছে জেল-জরিমানা


চেক ডিজঅনারের মামলায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে লিখিত অর্থের চারগুণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।

একইসঙ্গে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধন করে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন ২০২০ নামে নতুন আইন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের জন্য আইনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন, ২০২০ এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের পর আইনটি চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করা হবে।

বর্তমানে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টে চেক ডিজঅনারের মামলায় এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট যে পরিমাণ টাকা উল্লেখ করা হয় তার তিনগুণ জরিমানা করা হয়। অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তার কোনো ব্যাংকের হিসাবে অপর কোনো ব্যক্তিকে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য চেক লিখে দিয়েছেন, কিন্তু ব্যাংক হিসাবে যে পরিমাণ টাকা আছে তা দিয়ে চেক সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, আবার উক্ত হিসাব থেকে টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের সঙ্গে যে পরিমাণ টাকার চুক্তি করা হয়েছে তা অতিক্রান্ত হওয়ায় কিংবা স্বেচ্ছায় ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে লেনদেন স্থগিত বা বন্ধ করার কারণে ব্যাংক কর্তৃক উক্ত চেকটি অপরিশোধিত হয়ে ফেরত এলো, তাহলে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে অপরাধী নতুন এ আইনে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা চেকে লিখিত অর্থের চারগুণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

একইসঙ্গে দি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১ রহিতক্রমে তা পরিমার্জন পূর্বক সময়োপযোগী করে নতুনভাবে প্রণয়ন করা সমীচীন। একই নতুন আইনে শিরোনাম করা হয়েছে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন, ২০২০।

বিনিময়ের উপাদন সংক্রান্ত আইন নিয়ে ১৮৮১ সালে তৈরি করা হয়েছিল হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (দ্য নিগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১)। এই আইনের মাধ্যমেই প্রমোজারি নোট (অঙ্গিকারপত্র), বিনিময় বিল (বিল অব এক্সচেঞ্জ) এবং চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে ব্যবহারে হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৬, ২০২০
জিসিজি/জেডএস

4

 
                                                                      ডায়াবেটিসে ভুল ধারণা

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ—এ কথা বলছে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন। কিন্তু যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের ৫৭ শতাংশই জানেন না যে তাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। তাদের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবার নিয়ে অনেকের মনেই নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কোন খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী, এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে অনেক গবেষণা করা হয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ে যেসব ভুল ধারণা রয়েছে, সেসব সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো।

ডায়াবেটিস কি ছোঁয়াচে

না, ডায়াবেটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। বিশেষ করে জিনগত কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে। প্রচলিত এসব ধারণায় বিশ্বাস না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নিন। যদি ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তাহলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন প্রণালির পরিবর্তন, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থেকে নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করা যায়।

মিষ্টি বেশি খেলে কি ডায়াবেটিস হয়

সরাসরি মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার কোনো যোগসূত্র নেই। মিষ্টি বেশি না খেলেও ডায়াবেটিস হতে পারে। আসলে পারিবারিক ইতিহাস, ওজন বৃদ্ধি, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি বেশি খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, মিষ্টি দ্রব্যে ক্যালরি বেশি আর এ কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।

ইনসুলিন কি শেষ চিকিৎসা

ব্যাপারটা এমন নয় যে ইনসুলিন দেওয়া হচ্ছে মানে আপনার অবস্থা খুব জটিল। ইনসুলিন একজন ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে যেকোনো সময়েই লাগতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়, যেকোনো বড় অস্ত্রোপচারের আগে-পরে, কোনো গুরুতর রোগে হাসপাতালে থাকাকালীন বা মারাত্মক কোনো সংক্রমণের সময়, কিডনি বা যকৃতের ইত্যাদি জটিলতায় ইনসুলিনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ চিকিৎসা। এ ছাড়া কোনো কারণে রক্তে শর্করা অনেক বেড়ে গেলেও ইনসুলিন দরকার হয়।

শ্বেতসারজাতীয় খাবার কি ক্ষতিকর

এর উত্তর হচ্ছে—না, মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং শ্বেতসার জাতীয় খাবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে শ্বেতসারের ভূমিকা অনেক বেশি। শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যে শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন, খনিজ ও আঁশজাতীয় উপাদান রয়েছে, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। বেশি আঁশযুক্ত ফল ও শাকসবজি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উত্তম। তবে প্রতিদিন কী পরিমাণ শ্বেতসার জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, তা একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া উচিত।

মিষ্টিজাতীয় সব খাবার ত্যাগ করতে হবে

এটি সত্যি নয়। আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন এবং মিষ্টান্ন যদি খেতে চান, তবে বিভিন্ন উপায়ে এই জাতীয় খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। যেমন—

* মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরিতে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা যেতে পারে।

* মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলেও তা পরিমাণ কমিয়ে আনুন। যেমন দুই চামচ আইসক্রিম খাওয়ার পরিবর্তে এক চামচ খান।

* নিয়মিত খাওয়ার পরিবর্তে শুধু উৎসব বা অনুষ্ঠানে মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

* আর বেশি খাওয়া হয়ে গেলে একটু ব্যায়াম করে নিন।

কোন ফল কতবার, কী পরিমাণে খাবেন

অবশ্যই ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এতে আঁশ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে; কিন্তু ফলে শর্করাও থাকে, যাকে অবশ্যই খাদ্যতালিকার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করুন, কোন ফল কতবার, কী পরিমাণে খাবেন। ডায়াবেটিস হলে পছন্দের সব খাবার পরিহার করতে হবে এটিও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা পছন্দের খাবার অবশ্যই খেতে পারবেন, তবে তা তৈরিতে সামান্য পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে আনা।

লেখক: বিআরবি হাসপাতালের পুষ্টিবিদ

5
                                                        দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহারে আপনার করণীয়

আজকাল প্রায় সব ধরনের পেশা ও লেখাপড়ার কাজে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কম্পিউটার ব্যবহার না করায় তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা।

কী কী শারীরিক সমস্যা দেখা যায়

■ দীর্ঘ সময় কম্পিউটার টেবিলে বসে থাকা এবং শরীরের দেহভঙ্গি ঠিক না থাকার কারণে মাংসপেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ঘাড়ব্যথা, কোমরব্যথা, ঘাড়ের মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁধ ও হাতব্যথা হতে পারে।

■ বারবার বা অতিরিক্ত কম্পিউটার অপারেটিংয়ের ফলে কনুই, কবজি, হাতব্যথাসহ ফুলে যাওয়া, সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি অবশ ও দুর্বল হতে পারে।

■ কম্পিউটারের মনিটর ও চোখের দূরত্বের অসামঞ্জস্যের জন্য মাথাব্যথা, চোখব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, পানি পড়া ইত্যাদি সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

চেয়ার ও কম্পিউটার টেবিল কেমন হওয়া উচিত

■ যেকোনো অফিস সাজানোর আগে একজন এর্গোনোমিকস এক্সপার্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

■ বসার চেয়ারের ডিজাইন এমন হবে, যেখানে ঘাড় সোজা ও পিঠ বিশ্রামে থাকবে, কোমরে বা পেছনে সাপোর্ট থাকবে, বসার গদি আরামদায়ক হবে, চেয়ারের উচ্চতা ঠিক রাখার জন্য সুবিধাজনক স্ক্রু থাকবে, হাঁটু থেকে টেবিলের মধ্যে একটি ফাঁক থাকবে এবং পা মাটিতে বা ফ্লোরে লেগে থাকবে। মাউস ও কি-বোর্ড টেবিলের মাঝামাঝি থাকবে, যাতে কনুই ও হাত টেবিলের ওপর সাপোর্টে থাকে।

করণীয়
প্রতি ১ ঘণ্টা কাজের ফাঁকে ৫ মিনিট বিরতি নিন এবং একটু হাঁটাহাঁটি করুন। কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন। এতে মাংসপেশিতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং মাংসপেশি ক্লান্ত হবে না। যেমন

ক) ডানে, বাঁয়ে, সামনে, পেছনে ঘাড়কে হেলিয়ে টান টান শক্ত করে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ছেড়ে দিন। এটি ৫-১০ বার করুন। এতে ঘাড়ব্যথা হবে না।

খ) দুই হাত সোজা করে শক্তভাবে মুঠ করুন। এভাবে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন ও ছাড়ুন। এটিও ৫-১০ বার করুন। এতে কবজি ও হাতের আঙুল ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।

গ) সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত কোমরের পেছনে রেখে যতটুকু সম্ভব ধনুকের মতো বেঁকে যান এবং আবার সোজা হোন। এটি ৫-১০ বার করুন। এতে আপনার কোমরে মাংসপেশি স্ট্রেচিং হবে এবং সহজে আপনি কোমরব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।

মেহেরুন নেসা, ফিজিওথেরাপি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আদ-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক–উল হক হাসপাতাল, ঢাকা।

6


 
 
রিটার্ন দেওয়ার হিসাব–নিকাশ

শুরু হলো আরেকটি নতুন অর্থবছর, এল নতুন কর বছর। শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে আপনি এখনই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারবেন। আপনি আয়ের হিসাব-নিকাশ দেবেন ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে করযোগ্য আয় থাকলে কর দিতে হবে। এখন আপনি হিসাব করে দেখুন, কত আয় করলেন।

প্রতিবছরই আয়কর অধ্যাদেশে কমবেশি পরিবর্তন হয়। সেখানে ব্যক্তি আয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আসে। রিটার্নের প্রস্তুতি নিতে জেনে নিতে হবে এবার আয়করে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়া যায়।

এবারের রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য যেমন ভালো খবর আছে, তেমনি খারাপ খবরও আছে। খারাপ খবরটি হলো, বিভিন্ন মহলের দাবি সত্ত্বেও এবারও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। চার বছর ধরেই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। ভালো খবর হলো, সঞ্চয়পত্রসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে কর ছাড় বাড়বে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ন্যূনতম কর যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা ও ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর নীতি) কানন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, এবার আরও বেশি করদাতাবান্ধব পরিবর্তন আইন আনা হয়েছে। সৎ করদাতারা বেশি সুবিধা পাবেন। অসৎ করদাতারা পার পাবেন না। আশা করি, এবার আগের চেয়ে আরও বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দেবেন।

যত পরিবর্তন

 বার্ষিক আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ এবং ১৫ লাখ টাকার বেশি আয় হলে ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। এতে বিনিয়োগকারী করদাতার হিসাব রাখা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।

অন্যদিকে কম্পিউটার-ল্যাপটপ কিনলে প্রতিবছর কর রেয়াত পাওয়া যেত। এখন আর ল্যাপটপ-কম্পিউটার কিনে কর রেয়াত মিলবে না। এনবিআর বলছে, এত দিন এই সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে। রসিদ দেখিয়ে অনেকে কর রেয়াত নিয়ে যেত। এ ছাড়া আপনি যদি ন্যায্যমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে শেয়ার কেনেন, তাহলে কম প্রদর্শিত টাকা আয় হিসেবে বিবেচনা করবে এনবিআর।

এবার ধনীদের সারচার্জে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এত দিন সোয়া দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলেই সারচার্জ দিতে হতো। এবার এই সীমা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা করা হয়েছে। কোনো করদাতার যদি নিজের নামে দুটি গাড়ি থাকে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় আট হাজার বর্গফুট আয়তনের এক বা একাধিক ফ্ল্যাট বা গৃহসম্পত্তি থাকে, তাহলে সারচার্জ আরোপ হবে।

প্রতিবছরই আয়কর অধ্যাদেশে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়
রিটার্ন জমার জন্য সেই পরিবর্তনগুলো জানতে হবে

চলতি বছর থেকে এ দেশে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করলে অনাবাসীদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে বিদেশিদের রিটার্ন দিতেই হবে।

টিআইএনে কড়াকড়ি

 এ বছর টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে দুটি ক্ষেত্রে। সব ধরনের বিদ্যুৎ–সংযোগে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) লাগবে। যাঁদের বিদ্যুৎ–সংযোগ আছে, তাঁদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সময় টিআইএনের অনুলিপি জমা দিতে হবে।

সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও জেলা সদরে এক লাখ টাকার বেশি জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের সময় টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দলিলে ক্রেতা-বিক্রেতার টিআইএনের উল্লেখ থাকতে হবে। টিআইএন ছাড়া জমি কেনাবেচা করা যাবে না।

যাঁদের রিটার্ন বাধ্যতামূলক

১০ পেশাজীবীর আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় আছেন চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, হিসাববিদ, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ হিসাববিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি, জরিপকারী, আয়কর পেশাজীবী এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীর সরকারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার। গত বছর থেকে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সব বেসরকারি চাকরিজীবীর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিলেও বছর শেষে রিটার্ন দিতে হবে।

যদি আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকার বেশি হয়; তবু আপনাকে সম্পদ বিবরণী দিতে হবে। আপনার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তি করদাতা না হলে তাঁদের সম্পদ ও দায় আপনার সম্পদ বিবরণীতে দেখাতে হবে।

চেক লিস্ট

শুধু আয়কর ও সম্পদ বিবরণীর ফরম পূরণ করে দিলেই হবে না, আয় কিংবা বিনিয়োগ করে কর রেয়াতের বিপরীতে বেশ কিছু কাগজপত্র আয়কর বিবরণীর দলিলের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে; সেগুলোর অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌর করের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।

কোনো করদাতা যদি কর রেয়াত নিতে চান, তবে বেশ কিছু কাগজপত্র লাগবে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য–তহবিলে চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, স্টক বা শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলে চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে চাঁদার সনদ।

https://www.prothomalo.com/economy/article/1604176/%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E2%80%93%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6

7


 
 
রিটার্ন দেওয়ার হিসাব–নিকাশ

শুরু হলো আরেকটি নতুন অর্থবছর, এল নতুন কর বছর। শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে আপনি এখনই বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিতে পারবেন। আপনি আয়ের হিসাব-নিকাশ দেবেন ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে করযোগ্য আয় থাকলে কর দিতে হবে। এখন আপনি হিসাব করে দেখুন, কত আয় করলেন।

প্রতিবছরই আয়কর অধ্যাদেশে কমবেশি পরিবর্তন হয়। সেখানে ব্যক্তি আয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আসে। রিটার্নের প্রস্তুতি নিতে জেনে নিতে হবে এবার আয়করে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়া যায়।

এবারের রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য যেমন ভালো খবর আছে, তেমনি খারাপ খবরও আছে। খারাপ খবরটি হলো, বিভিন্ন মহলের দাবি সত্ত্বেও এবারও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। করমুক্ত আয়সীমা আগের মতোই আড়াই লাখ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। চার বছর ধরেই করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। ভালো খবর হলো, সঞ্চয়পত্রসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে কর ছাড় বাড়বে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ন্যূনতম কর যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা, ৪ হাজার টাকা ও ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর নীতি) কানন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, এবার আরও বেশি করদাতাবান্ধব পরিবর্তন আইন আনা হয়েছে। সৎ করদাতারা বেশি সুবিধা পাবেন। অসৎ করদাতারা পার পাবেন না। আশা করি, এবার আগের চেয়ে আরও বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দেবেন।

যত পরিবর্তন

 বার্ষিক আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যাবে। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ এবং ১৫ লাখ টাকার বেশি আয় হলে ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পাওয়া যাবে। এতে বিনিয়োগকারী করদাতার হিসাব রাখা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।

অন্যদিকে কম্পিউটার-ল্যাপটপ কিনলে প্রতিবছর কর রেয়াত পাওয়া যেত। এখন আর ল্যাপটপ-কম্পিউটার কিনে কর রেয়াত মিলবে না। এনবিআর বলছে, এত দিন এই সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে। রসিদ দেখিয়ে অনেকে কর রেয়াত নিয়ে যেত। এ ছাড়া আপনি যদি ন্যায্যমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে শেয়ার কেনেন, তাহলে কম প্রদর্শিত টাকা আয় হিসেবে বিবেচনা করবে এনবিআর।

এবার ধনীদের সারচার্জে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এত দিন সোয়া দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলেই সারচার্জ দিতে হতো। এবার এই সীমা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা করা হয়েছে। কোনো করদাতার যদি নিজের নামে দুটি গাড়ি থাকে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় আট হাজার বর্গফুট আয়তনের এক বা একাধিক ফ্ল্যাট বা গৃহসম্পত্তি থাকে, তাহলে সারচার্জ আরোপ হবে।

প্রতিবছরই আয়কর অধ্যাদেশে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়
রিটার্ন জমার জন্য সেই পরিবর্তনগুলো জানতে হবে

চলতি বছর থেকে এ দেশে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করলে অনাবাসীদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে বিদেশিদের রিটার্ন দিতেই হবে।

টিআইএনে কড়াকড়ি

 এ বছর টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে দুটি ক্ষেত্রে। সব ধরনের বিদ্যুৎ–সংযোগে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) লাগবে। যাঁদের বিদ্যুৎ–সংযোগ আছে, তাঁদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সময় টিআইএনের অনুলিপি জমা দিতে হবে।

সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও জেলা সদরে এক লাখ টাকার বেশি জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের সময় টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দলিলে ক্রেতা-বিক্রেতার টিআইএনের উল্লেখ থাকতে হবে। টিআইএন ছাড়া জমি কেনাবেচা করা যাবে না।

যাঁদের রিটার্ন বাধ্যতামূলক

১০ পেশাজীবীর আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই তালিকায় আছেন চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, হিসাববিদ, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ হিসাববিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি, জরিপকারী, আয়কর পেশাজীবী এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীর সরকারে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদার। গত বছর থেকে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সব বেসরকারি চাকরিজীবীর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি উবার, পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিংয়ে গাড়ি দিলেও বছর শেষে রিটার্ন দিতে হবে।

যদি আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকার বেশি হয়; তবু আপনাকে সম্পদ বিবরণী দিতে হবে। আপনার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তি করদাতা না হলে তাঁদের সম্পদ ও দায় আপনার সম্পদ বিবরণীতে দেখাতে হবে।

চেক লিস্ট

শুধু আয়কর ও সম্পদ বিবরণীর ফরম পূরণ করে দিলেই হবে না, আয় কিংবা বিনিয়োগ করে কর রেয়াতের বিপরীতে বেশ কিছু কাগজপত্র আয়কর বিবরণীর দলিলের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এ জন্য যেসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে; সেগুলোর অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌর করের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।

কোনো করদাতা যদি কর রেয়াত নিতে চান, তবে বেশ কিছু কাগজপত্র লাগবে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্য–তহবিলে চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, স্টক বা শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলে চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, জাকাত তহবিলে চাঁদার সনদ।
https://www.prothomalo.com/economy/article/1604176/%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E2%80%93%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6

8
Life Style / গরমের শুরুতে এসির যত্ন
« on: February 27, 2019, 07:39:41 PM »
বর্ষপঞ্জির হিসাবে শীত বিদায় নিয়েছে। চলছে বসন্ত। প্রকৃতিতে গরমের আবহ শুরু হয়ে গেছে। গরম আবহাওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আপনি প্রস্তুত কিন্তু গরমে শীতল হাওয়ার পরশ দেওয়ার যন্ত্রটি কি প্রস্তুত!

শীতকালের প্রায় পুরোটাজুড়েই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বন্ধ থাকে। তাই গরমের শুরুতেই এসি চালানোর আগে বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। ওয়ালটন গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক (পিআর, মিডিয়া ও ব্র্যান্ডিং) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শীতের কারণে বছরের বেশ কয়েক মাস এসি বন্ধ থাকে বা প্রায় চালানোই হয় না। তাই গরমের শুরুতে এসি চালানোর আগে একবার পেশাদার টেকনিশিয়ানদের দিয়ে চেকআপ এবং সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া ভালো। এয়ার ফিল্টারে কোনো ময়লা জমেছে কি না, বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক আছে কি না ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত হয়ে এসি চালানো উচিত। আমাদের দেশে প্রচুর ধুলাবালি বলে এসির যত্ন বেশি করে নেওয়া প্রয়োজন। অন্তত মাসে একবার এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা ভালো।

গরমের শুরুতে এসির বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার—এসবের অবস্থাটা ঠিকমতো পরীক্ষা করতে হবে। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর চালু করতে গেলে অবশ্যই এসির সংযোগ তার পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অনেক দিন বন্ধ থাকার কারণে চালু করলে এসির ভেতরে শব্দ হতে থাকে। আবার পানিও পড়তে পারে।

এসি অনেক দিন বন্ধ থাকলে এসির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হয় কুলিং বা ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে এসির ভেতরের নেট খুলে ডাস্ট ক্লিনিং করে নিতে হবে। ব্যবহারকারী নিজেই সাধারণ উপায়ে এসির ইনডোর খুলে নেট ওয়াশ করে নিতে পারেন।

এ ছাড়া কুলিং একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝতে হবে এসির ভেতরে গ্যাস ফুরিয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেবা প্রদানকারী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গ্যাস রিফিল করে নিতে পারেন। বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের সময় পার হয়ে গেলে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।

সাম্প্রতিক প্রযুক্তির ১৮টি মডেলের এসি রয়েছে ওয়ালটনের। এর মধ্যে আছে ১ থেকে ২ টনের ১৪ মডেলের স্প্লিট এসি, ৪ ও ৫ টনের সিলিং ও ক্যাসেট টাইপ এসি। সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৭৮ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালটন স্প্লিট এসি। এ ছাড়া ৫ টন এসি পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকায়। স্প্লিট এসির ভেনচুরি ও রিভারাইন সিরিজে ১.৫ ও ২ টনের বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির নতুন মডেলের স্মার্ট এসি ছেড়েছে ওয়ালটন।

এসিতে প্রতিদিন বা মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসছে কত? ভোল্টেজ লো না হাই? কম্প্রেসর কি ওভারলোডে চলছে? স্মার্ট এসিতে মিলবে এসবের উত্তর। বাংলাদেশে ওয়ালটন আইওটিভিত্তিক (ইন্টারনেট অব থিংস) স্মার্ট এসি নিয়ে এসেছে, যা কথা বলে কিংবা মুঠোফোনের অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘ভয়েস কন্ট্রোল’ বা ‘অ্যামাজন ইকো’র মাধ্যমে দূর নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (রিমোট কন্ট্রোলার) ছাড়াই স্মার্ট এসির শীতাতপ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছয় মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ছাড়াও ইনভার্টার প্রযুক্তির এসির কম্প্রেসরে ১০ বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছে ওয়ালটন।

এদিকে দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের ‘এসি এক্সচেঞ্জ অফার’। এর আওতায় যেকোনো ব্র্র্যান্ডের ব্যবহৃত এসি বদলে নতুন এসি দিচ্ছে তারা। ওয়ালটন প্লাজা ও শোরুমে পুরোনো এসি জমা দিয়ে গ্রাহকেরা ওয়ালটনের যেকোনো মডেলের নতুন এসি কিনতে পারবেন। পুরোনো এসি জমা দিলে গ্রাহক তাঁর পছন্দকৃত নতুন ওয়ালটন এসির মূল্য থেকে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। এ সুবিধা সারা দেশে পাওয়া যাবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।


https://www.prothomalo.com/life-style/article/1580944/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A8

9
বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপ ও শুল্ক ব্যবস্থায় জটিলতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নেপালের ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি নেপালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এই আহ্বান জানান। ‘নেপাল-বাংলাদেশ বাণিজ্য: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নেপালের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভায় ঝাপা জেলার ধুলাবাড়ির নেপাল-বাংলাদেশ চেম্বার অব ট্রেডার্সের সভাপতি যাদব পৌডেল বলেন, বাংলাদেশে পণ্য পাঠানোর সময় উচ্চ আবগারি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। এসব বাধা দূর করতে হবে। সভায় কার্পেট প্রস্তুতকারক সুনীল তিবদেওয়াল বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্য হিসেবে কার্পেটকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর কার্পেট আমদানি করে। এই ক্ষেত্রে নেপালি ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলে দেশ লাভবান হবে।

কাঠমান্ডু পোস্ট, কাঠমান্ডু

10
চেক ডিজঅনার মামলায় অপরাধ প্রমাণে যা জানা দরকার

ল"ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটমকম: মে ১২, ২০১৮   
মো: রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী

 

মো: রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রয়োজনে দায় অথবা ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে চেক এর ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময়ে চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা চেক প্রদানকারীর একাউন্টে না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পক্ষে চেক গ্রহণকারীকে টাকা দেয়া সম্ভব হয় না। অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক কর্তৃক চেক প্রত্যাখ্যান করা হয়। যা চেক ডিজঅনার নামে পরিচিত। পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারী অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। কারন, অপর্যাপ্ততার কারণে ব্যাংকের চেক প্রত্যাখ্যাত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তহবিল অপর্যাপ্ততায় কোন চেক প্রত্যাখ্যাত বা ডিজঅনার হলে সেইসব অপরাধের প্রতিকারের সুরক্ষা বিধান করা হয়েছে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের (এনআই অ্যাক্ট) ১৩৮, ১৪০ ও ১৪১ ধারায়।

দেশের আদালতসমূহে প্রচুর এনআই অ্যাক্টের অধীনে মামলা চলমান আছে। এই আইনে প্রতিদিন নতুন মামলা দায়েরও হচ্ছে। এসব দেখে সহজে অনুমান করা যায় দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকান্ডে চেক এর অপব্যবহার কি পরিমান হচ্ছে। চেক ডিজঅনারের মামলা অন্যান্য সাধারণ আইনের চেয়ে ব্যাতিক্রম। যার কারণে এই আইন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি মামলায় অপরাধ প্রমাণ করতে বেশ কিছু সতর্কতা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিতে হয়। নির্দিষ্ট সময় এবং নিয়ম মেনে মামলা করে রায় নিতে হয়। এই আইন সম্পর্কে অবহেলা বা অজ্ঞতা কিংবা অজানার কারণে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন ও ক্ষতিগ্রস্থ হন। সমস্যা গুলোর কারনে মামলা খারিজ হয় কিংবা বিচারে অপরাধ প্রমাণে ব্যার্থ হন। যার ফলে বাদীর আর ঐ টাকা পাওয়া হয় না। মামলা মোকদ্দমা করতে তার অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। সামাজিকভাবে তিনি হেয় প্রতিপন্ন হন। মূলত এসব বিবেচনায় এই লেখায় প্রয়োজনীয় কিছু আইনগত বিষয়ে আলোচনা করব যা চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় অপরাধ প্রমান করতে সহায়ক হবে আশাকরি।

প্রথম কথা হচ্ছে এই আইনে মামলা দায়ের করতে হলে কোন দায় অথবা ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে চেক এর ব্যবহারটা হবে। উক্ত স্বাক্ষরিত চেকটি প্রদানকারী কর্তৃক ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস সময়ের মধ্যে নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে চেক গ্রহণকারীকে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক চেকটি অপরিশোধিত অবস্থায় ফেরত আসার অর্থাৎ ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একাউন্টধারীকে চেক ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা প্রদানের দাবি জানাতে হবে। চেক ইস্যুকারীকে তিনভাবে উপরোক্ত দাবী জানানো যায়; চেক প্রদানকারী অর্থাৎ নোটিশ গ্রহীতার হাতে সরাসরি নোটিশ প্রদান করে অথবা প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে চেক প্রদানকারীর জ্ঞাত ঠিকানায় অর্থাৎ সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা কিংবা বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক ঠিকানা বরাবর নোটিশ প্রেরণ করে অথবা বহুল প্রচারিত কোনো জাতীয় বাংলা দৈনিকে নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে। আইনে প্রতিটা ক্ষেত্রেই ‘অথবা’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে কোন একটা পদ্ধতি অনুসরণ করলে হবে। কোনোভাবেই নোটিশ প্রেরণ না করে সরাসরি মামলা করা যাবে না। চেক প্রদানকারী নোটিশ প্রাপ্তির পর চেকের প্রাপক বরাবরে চেকে উল্লেখিত অংকের টাকা পরিশোধ ব্যর্থ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে। মামলা করার ক্ষেত্রে বর্ণিত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেওয়া হয়েছে কেবল তিনিই মামলা করতে পারে। ব্যাংকের এলাকা যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে অবস্থিত সেই আদালতে করতে হবে। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেওয়া হয়েছে তিনিই মামলা করতে পারেন। অভিযোগ নালিশি মামলা বা সিআর মামলা হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করতে হবে। মামলা করার সময় আদালতে মূল চেক, ডিজঅনারের রসিদ, আইনি নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির কপি, পোস্টাল রসিদ, প্রাপ্তি রসিদ আদালতে প্রদর্শন করতে হবে। এসবের ফটোকপি ফিরিস্তি আকারে মামলার আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

মামলার আরজিতে চেক প্রদানকারীর নাম, প্রদানের তারিখ, ডিজঅনার হওয়ার তারিখ, ব্যাংক ও শাখার নাম, হিসাব নম্বর, চেক নম্বর ও টাকার পরিমাণ এবং কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চেক দেওয়া হয়ে থাকলে ইস্যুকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে এই আইনের ১৩৮ ধারার পাশাপাশি ১৪০ ধারা উল্লেখ করতে হবে। মামলা দায়ের করার পর সমন এবং ওয়ারেন্ট দ্রুত জারির জন্য স্পেশাল তদবির করতে হবে যাতে আসামী হাজির হয়। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করলেও অপরাধের মূল বিচার হয় দায়রা আদালতে। দায়রা আদালত ইচ্ছা করলে যুগ্ম দায়রা আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠাতে পারেন। বিচার শেষে অপরাধের শাস্তি হিসাবে আইনানুসারে আদালত এক বছরের কারাদন্ড অথবা চেকে বর্ণিত অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত পরিমাণ অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ আছে। তবে আপিল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, চেকে উল্লেখিত টাকার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ টাকা যে আদালত দণ্ড প্রদান করেছেন সেই আদালতে জমা দিতে হবে একাউন্টধারীকে।

চেকে উল্লেখিত টাকার যতটুকু জরিমানা হিসেবে আদায় হবে তা চেকের বাহক বা ধারককে প্রদান করা হয়। অনেক সময়ে দেখা যায় আসামীরা সাজা খেটেই বেরিয়ে যান। টাকা আর পরিশোধ করেন না। বিজ্ঞ বিচারিক আদালত চেকের মামলায় জরিমানার টাকা আদায়ে জেলা কালেক্টর বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারী কৌশলী মারফত দেওয়ানী আদালতে জারী মামলা দায়ের করতে হয়। যদি কোন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে মামলা করা না যায় তাহরে দন্ডবিধি ৪০৬ ও ৪২০ ধারা অনুসারে ফৌজদারি মামলা করা যায়। কিন্তু এসব মামলার ক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। দোষী সাব্যস্ত হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদন্ড ও জরিমানা হতে পারে। মোটামুটি উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে চেক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়।

লেখক : শিক্ষানবীশ আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট। ইমেইল : ll.braihan@gmail.com

12
Food / খাবারে অ্যালার্জি
« on: April 07, 2018, 06:14:53 PM »

ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন
২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০২:৩২
আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০২:৩৪
প্রিন্ট সংস্করণ
 
 

কারও দুধ খেলে পেট খারাপ হয়ে যায়। কারও বেগুনে মুখ চুলকায়। ডিম খেয়ে পেট ব্যথা শুরু হয় কারও কারও। এগুলো ফুড অ্যালার্জি বা খাবারে অ্যালার্জি। অ্যালার্জি থাকলে কেবল বেগুন, চিংড়ি বা গরুর মাংস বাদ—এই ধারণাও ভুল। কেননা একেজনের একেক ধরনের খাবারে অ্যালার্জি থাকে।
* দুধ: বিশেষ করে শিশুদের দুধে অ্যালার্জি বেশি হয়। একে বলে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স। দুধে যে ল্যাকটোজ নামের উপাদান থাকে তা হজম করার উৎসেচকে সমস্যা থাকে বলেই এমন হয়।
* শস্য: যব, ভুট্টা, ওট, ময়দা ইত্যাদি খাবারে গ্লুটেন থাকে, আর অনেকেরই গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকে। এ ছাড়া সিলিয়াক ডিজিজে আক্রান্ত রোগীরা গ্লুটেন খেতে পারেন না।
* ডিম: ডিমে অনেকেরই অ্যালার্জি থাকে। ডিমের আমিষ অংশ খেলে অনেকের প্রতিক্রিয়া হয়, চোখ লাল হতে পারে, ত্বকে চুলকানি হতে পারে। খুব ছোট শিশুদের ডিম না দেওয়াই ভালো।
* মাছ: সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, ইলিশ, স্কুইড ইত্যাদিতে অ্যালার্জি হয় বেশি। সবারই চিংড়ি বা ইলিশ খাওয়া নিষেধ তা নয়। যাদের এসব খাবার খেলে প্রতিক্রিয়া হয় শুধু তাঁরাই বাদ দেবেন।
* বাদাম ও বীজ: বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারেও অনেকের অ্যালার্জি হয়। এগুলোও আমিষজাতীয় খাবার। তাই ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে বেশি।

কীভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি?
যদি একই ধরনের খাবার খেয়ে আপনার ত্বক ও মুখ জিবে চুলকানি, র‍্যাশ, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, শুকনো কাশি, পেট কামড়ানো বা ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দেয় তবে বুঝবেন ওই খাবারে আপনার অ্যালার্জি আছে। অনেক সময় খুব তীব্র অ্যালার্জি থেকে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে। সাধারণত পরিবারেও অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে।

কী করবেন?
সহজ উপায় হলো ওই খাবারটি এড়িয়ে চলা। বাড়িতে তা সহজ, কিন্তু রেস্তোরাঁয় বা কেনা অনেক খাবারে এই উপাদান লুকিয়ে থাকতে পারে। সমস্যা দেখা দিলে অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে পারেন। শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

http://www.prothomalo.com/life-style/article/1374541/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF

13

 
                                                                                জমজম কূপের সংস্কার কাজ শুরু

    দুনিয়ায় যত আশ্চর্যজনক সৃষ্টি রয়েছে, ‘জমজম কূপ’ তার অন্যতম একটি। এই কূপের পানি কখনও নিঃশেষ হয় না, যা অতি পবিত্র ও উপকারী। কাবা ঘরের কাছে হাজরে আসওয়াদের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে এর অবস্থান।

    প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহতায়ালার বিশেষ দয়ায় পবিত্র কাবা থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে কুদরতি এই পানি পবিত্র উৎস চালু হয়। চালুর কয়েক শতাব্দী পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় এর পানি প্রবাহ। সেই থেকে প্রায় ৫০০ বছর জমজম কূপটি অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকে। কেউ এর সন্ধান দিতে পারেনি। প্রায় সাড়ে ১৫০০ বছর আগে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পিতামহ আবদুল মুত্তালিব কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া জমজম কূপ পুনরুদ্ধার করেন।

    বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) জমজম কূপের কাছে যান এবং বড় এক বালতি পানি ভর্তি করার আহ্বান জানান। তিনি সেই পানি দিয়ে অজু করেন এবং বলেন, ‘হে বনি আবদুল মুত্তালিব! তোমরা পানি তোল, তোমরা পানি না ওঠালে অন্যরা তোমাদেরকে ওই কাজ থেকে বঞ্চিত করবে।’ এরপর তিনি দাঁড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে অনেকক্ষণ পানি পান করেন। তারপর মাথা ওপরের দিকে তুলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন।

    এভাবে নবী করিম (সা.) তিনবার পানি পান করেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘জমিনের ওপর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে, দ্বীনদারের পানীয় জমজমের পানি।’ -ইবনে হিব্বান

    হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে যেই নিয়তে পান করবে, তার সেই নিয়ত পূরণ হবে। যদি তুমি এই পানি রোগমুক্তির জন্য পান করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। যদি তুমি পিপাসা মেটানোর জন্য পান করো, তাহলে আল্লাহ তোমার পিপাসা দূর করবেন। যদি তুমি ক্ষুধা দূর করার উদ্দেশ্যে তা পান করো, তাহলে আল্লাহ তোমার ক্ষুধা দূর করে তৃপ্তি দান করবেন। এটি হজরত জিবরাইল (আ.)-এর পায়ের গোড়ালির আঘাতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পানীয় হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে।’ -ইবনে মাজা

    জমজম

জমজম কূপের সংস্কার কাজ শুরু
ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম   
আপডেট: ২০১৭-১০-৩১ ৫:৫২:১৯ পিএম
AddThis Sharing Buttons
Share to Facebook4.8KShare to SkypeShare to TwitterShare to Google+Share to WhatsApp
জমজম কূপের সংস্কার কাজ শুরু

14
Accounts & Finance Info / Bkash Payment System
« on: June 28, 2017, 04:37:39 PM »
Pls see the attach file for Academic fees payment through Bkash of DIU students

15
Ramadan and Fasting / Rules of ZAKAT
« on: June 28, 2017, 03:34:38 PM »
 মাহে রমজানে সঠিকভাবে যেভাবে যাকাত হিসেব ও আদায় করবেন !

ইসলামী রাষ্ট্রের আয়ের যে কটি উৎস রয়েছে, তারমধ্যে যাকাত অন্যতম। একই সঙ্গে যাকাত ইসলামের তৃতীয় বৃহত্তম ইবাদাত। ঈমানের সাক্ষ্য ও সালাতের পরই যাকাতের অবস্থান। ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের সেই প্রসিদ্ধ হাদীসে রাসূল স. যাকাতকে সালাতের পর উল্লেখ করেছেন।[বুখারী ও মুসলিম]
 

এছাড়া মুয়ায রা. ইয়ামানে যাওয়ার পূর্বে রাসূল স. তাঁকে দাওয়াতের যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন, তাতেও সালাতের পরই যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “যদি ইয়ামানবাসী শাহাদাত ও সালাতের কথা স্বীকার করে নেয়, তাহলে তাদের জানাবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর যাকাত ফরয করেছেন। যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে উসুল করে গরীবদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে”।[বুখারী ও মুসলিম]

আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে অধিকাংশ জায়গায় সালাতের সাথে যাকাতকে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, “সালাত কায়েম করো আর যাকাত আদায় করো”
[সূরা নূর: ৫৬] ।

যাকাত গরীবের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যা যোগান বৃদ্ধিতে চাপ প্রয়োগ করে। যোগান বাড়াতে প্রয়োজন হয় বিনিয়োগ বাড়ানোর। গড়ে ওঠে নতুন কারখানা। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, বেকারত্ব হ্রাস পায়। বিনিয়োগ বাড়ালে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। কাজেই সম্পদও বৃদ্ধি পায়। ফলে যাকাতও বেড়ে যায়। এভাবেই পুরো অর্থনীতিকে চালিয়ে নিয়ে যায় যাকাত।

যাকাত কী?

যাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া। রিবা(সুদ) অর্থও বৃদ্ধি পাওয়া। তবে যাকাত আর রিবার বৃদ্ধির মাঝে পার্থক্য আছে।যাকাত সম্পদের বরকত ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; সম্পদকে পবিত্র করে। অপরদিকে রিবা সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে,তবে বরকত নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহ রিবার সম্পদ ধ্বংস করে দেন, আর যাকাত-সাদাকাতের সম্পদকে বৃদ্ধি করে দেন”।[সূরা বাক্বারা: ২৭৬]

তিনি আরো বলেন, “আপনি তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা-যাকাত উসুল করুন। এটা তাদেরকে পবিত্র করবে”।[সূরা তাওবা: ১০৩]

পরিভাষায় যাকাত হলো, শরীয়ত নির্ধারিত ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি চিত্তে শরীয়ত নির্ধারিত সম্পদের অংশের মালিক বানিয়ে দেয়া।

যাকাত হলো ধনীর সম্পদে গরীবের হক। আল্লাহ বলেন, “আর তাদের সম্পদে গরীব ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে”।[সূরা যারিয়াত: ১৯] কাজেই যাকাত আদায় না করার অর্থ, গরীবকে প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করা।

যাকাত অনাদায়ের ক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালা কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে,তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার”।[সূরা তাওবা: ৩৪-৩৫]

যাকাত কখন ফরয হয়?

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর যাকাত ফরয হয়, যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পর্যন্ত থাকে।

নেসাবের ব্যাখ্যা:

নেসাব হলো সম্পদের একটি পরিমাপ;সর্বনিম্ন যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরয হয় এবং তাকে বলা হয় সাহিব-এ-নিসাব।
রাসূল স. সোনা-রূপা, পশু ও ফসলের ভিন্নভিন্ন নেসাব বর্ণনা করে গেছেন।তবে যেহেতু পশু ও ফসল ভিন্ন অন্য সবখাতে সোনা-রূপার নেসাবই ধর্তব্য, তাই আমরা কেবল সেটা নিয়েই আলোচনা করব।

রাসূল স. এর বর্ণিত হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সোনার নেসাব হয় ৮৭.৪৮ গ্রাম বা ৭.৫ ভরি। আর রূপার নেসাব হয় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা ৫২.৫ ভরি। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে সোনার নেসাব দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা।আর রূপার নেসাব দাঁড়ায় প্রায় বায়ান্ন হাজার পাঁচ শত টাকা। এই পরিমাণ সম্পদের মালিক কেউ হলে সে সাহিবে নেসাব বা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে।

যেহেতু যাকাত গরীবের হক, তাই গরীবের যে নেসাবে হিসাব করলে উপকার বেশি হবে, সেটাই হিসাব করা উচিৎ। সে হিসেবে সামর্থ্যবানদের উচিৎ রূপার নেসাবে হিসাব ধরে যাকাত আদায় করা। হ্যাঁ, যদি কারো সামর্থ্য কম থাকে বা কোনো আয়ের কোনো উৎস না থাকে,তাহলে তিনি সোনার নেসাবে উত্তীর্ণ হলেই যাকাত আদায় করবেন।

উল্লেখ্য যে, যাকাত হিসাবের সময় সম্পদের মূল্য হিসাব করতে হয়। আর সম্পদের মূল তা-ই, যা দিয়ে তা বাজারে বিক্রয় করা যায়। কাজেই, সম্পদের বিক্রয়মূল্যই যাকাতের ক্ষেত্রে হিসাব করতে হবে। তা ক্রয়মূল্য বাবাজারমূল্য থেকে কম-বেশী যা-ই হোক।

উদাহরণস্বরূপ, রাশেদ একটি প্লট ক্রয় করেছে চল্লিশ লাখ টাকা দিয়ে। ক্রয়ের সময়ই তা পুন:বিক্রয়ের নিয়্যতে ক্রয় করেছে। যাকাত হিসাবের তারিখে যাচাই করে দেখা গেল যে, প্লটটি এখন পঞ্চাশ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করা যাবে।তখন প্লটটির মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকা ধরেই যাকাত হিসাব করতে হবে।

আবার খালেদ আশি হাজার টাকার শেয়ারক্রয় করেছে, সুযোগ পেলেই বিক্রয় করে দিবে। কিন্তু যাকাত হিসাবের তারিখে বাজারে তার শেয়ারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ত্রিশ হাজার টাকা। কাজেই তাকে ত্রিশ হাজার টাকাই যাকাতের জন্য হিসাব করতে হবে।

যাকাত হিসাবে ঋণের প্রভাব:

যাকাত হিসাব করার সময় ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করা যাক।

ঋণ দুই রকম হতে পারে।

এক. প্রাপ্য ঋণ বা যে ঋণ অন্যের কাছ থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
দুই. প্রদেয় ঋণ বা যে ঋণ অন্যকে আদায় করতে হবে।

প্রাপ্য ঋণের ক্ষেত্রে বিধান হলো, যখন হাতে আসবে তখন পেছনের বছরসহ যাকাত আদায় করে দিতে হবে। কাজেই পাওয়ার সম্ভাবনাময় ঋণগুলো প্রতিবছর যোগ করে হিসাব করে যাকাত আদায় করে দেয়াই ভালো।

প্রদেয় ঋণ দুই রকম হতে পারে। একবারে পরিশোধযোগ্য ও কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।

যেসব ঋণে কিস্তির সুবিধা নেই এবং তা নগদ আদায় করে দিতে হবে, সেগুলোকে যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ করে নিতে হবে।

আর যেসব ঋণে কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী এক বছরের কিস্তি যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ করতে হবে। পুরো ঋণ বিয়োগ করা যাবে না।

যেমন,রাশেদ একটি গাড়ী ক্রয় করল, যার মূল্য বিশ লাখ টাকা। এবং তা পাঁচ বছরে পরিশোধযোগ্য। তো,যাকাত হিসাব করার সময় কেবল এক বছরের প্রদেয় তথা চার লাখ টাকা বিয়োগ দিতে পারবে।

তবে ঋণ যদি প্রয়োজনিতিরিক্ত সম্পদ ক্রয়ের জন্য নেয়া হয়ে থাকে, যেমন, অতিরিক্ত একটি বাড়ি বা গাড়ি,কিংবা ফ্যাক্টরীর একটি অতিরিক্ত মেশিন, যেটার ওপর জীবন নির্ভর করে না, তাহলে তা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ দেয়া হবে না।

বরং, এই ঋণ ঐ সম্পদের বিপরীতে ধরা হবে। অর্থাৎ, ঋণ আদায়ে অপারগ হলে তা ঐ সম্পদ বিক্রয় করেই পরিশোধ করা হবে।

বিষয়টা আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক।যাকাতের হিসাব থেকে প্রদেয় ঋণ বিয়োগ দেয়ার কারণ হলো, যেহেতু ঋণ আদায় করতে হবে এই টাকা দিয়েই, তাই তা থেকে খরচ না করা।

কিন্তু প্রয়োজনিতিরক্ত সম্পদে বিনিয়োগের জন্য ঋণ করা হলে, সমস্যা হলে তা বিক্রয় করেই ঋণ আদায় করা সম্ভব।এবং এতে ব্যক্তির জীবন চালাতে কোনো ক্ষতি হবে না। কাজেই এই ঋণ যাকাতের হিসাব থেকে বাদ দেয়া হবে না।

উদাহরণস্বরূপ, রাশেদ একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে চল্লিশ লাখ টাকায়। উদ্দেশ্য,দাম বাড়লে বিক্রয় করে দেয়া। রাশেদ তা পাঁচ বছরের কিস্তিতে ক্রয় করেছে। তার মোট প্রদেয় ঋণের পরিমাণ পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা।কিন্তু রাশেদের আরো একটি বাড়ি আছে,যেখানে সে ও তার পরিবার থাকে। কাজেই এই ফ্ল্যাটের টাকা অন্য খাত থেকে পরিশোধ করতে অসমর্থ হলে তা বিক্রয় করেই পরিশোধ করা সম্ভব। কাজেই এই ঋণের টাকা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ দেয়া হবে না।

যাকাত কীভাবে হিসাব করবে?

প্রথমবার নেসাবের মালিক হওয়ার একচান্দ্র বছর পর যাকাত আসে এমন সমুদয় সম্পদের মূল্য টাকায় (বা অন্য কোনোমুদ্রায়) রূপান্তর করে নিবে। এরপর সব যোগ করবে। প্রাপ্য ঋণ থাকলে তাও যোগ করবে। প্রদেয় ঋণ থাকলে, তা নগদে পরিশোধ করতে হলে, পুরোটা বিয়োগ দিবে।আর কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হলে কেবল পরবর্তী এক বছরের কিস্তি বিয়োগ দিবে।এরপর বিয়োগফলের ২.৫% যাকাত হিসাব করবে।

যাকাতের সম্পদ + প্রাপ্য ঋণ – প্রদেয় ঋণ (নগদ) – প্রদয়ে ঋণ (পরবর্তী এক বছরের কিস্তি) = মোট সম্পদ X২.৫% = যাকাত

যাকাত কাকে দেয়া যায়:

বৈবাহিক সম্পর্ক ও ঔরষজাত সম্পর্কের মানুষকে যাকাত দেয়া যায় না। কাজেই স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র, দাদা-নাতী কাউকে যাকাত দেয়া যাবে না। অনুরূপভাবে রাসূল স. এর বংশের কাউকে যাকাত দেয়া যাবে না।

এছাড়া যে কোনো গরীবকে যাকাত দেয়া যাবে।গরীব বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝায়, যার হয়ত কোনো সম্পদই নেই। কিংবা আছে, তবে তার প্রয়োজনীয়সম্পদ ও জীবন যাপনে প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিলে তা নেসাবের চেয়ে কম হয়।

আল্লাহ তায়ালা যাকাত আদায়ের সাতটি খাত উল্লেখ করেছেন। ফকীর, মিসকীন, যাকাত উসুল ও আদায়ের কাজে নিয়োজিত, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য, দাসমুক্তির জন্য,ঋণগ্রস্তদের জন্য, জেহাদকারীর জন্য এবং মুসাফির।[সূরা তাওবা:৬০]

যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। যাকাত আদায়ের সময় ‘যাকাতের টাকা’ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আদায়ের সময় বা যাকাতের টাকা আলাদা করার সময় নিয়্যত করলেই হবে। তবে এই দুই সময়ের কোনোটাতেই নিয়্যত না করলে যাকাত আদায় হবে না। এমনিতে কাউকে টাকা দিয়ে পরে তা যাকাতের খাত থেকে দিয়েছে নিয়্যত করলে যাকাত আদায় হবেনা।

এখানে উল্লেখ্য যে, যাকাতের ক্ষেত্রে গরীবকে মালিক বানিয়ে দেয়া শর্ত।কাজেই যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদ বানানো, মাদ্রাসা বানানো, রাস্তাঘাট নির্মাণ, কূপ খনন ইত্যাদি করা যাবে না। বরং সরাসরি গরীবকে যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে।

কোনো গরীবকে পড়াশোনা, চিকিৎসা, বিবাহ দেয়ার জন্যও যাকাত দেয়া যেতে পারে। তবে তাকে সে টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে।

যাকাতের টাকা নগদ না দিয়ে গঠনমূলক কিছুক্রয় করে দেয়া যেতে পারে।যেমন,কেউ কাজ করার সামর্থ্যবান হলে তাকে সেলাই মেশিন, রিক্সা, ভ্যান, কম্পিউটার ইত্যাদি ক্রয় করে দেয়া যেতে পারে। যেন তা দিয়ে উপার্জন করে সে স্বাবলম্বী হতে পারে। এবং এক সময় তাকে আর যাকাত গ্রহণ করতে নাহয়।

অল্প অল্প করে অনেককে না দিয়ে প্রতিবছর প্ল্যান করে কিছু মানুষকে বেশি করে দিলে সে তাকে গঠনমূলক কাজে লাগাতে পারবে।

হারাম সম্পদে যাকাত ও অনাদায়কৃত যাকাত:

যাকাত ফরয হওয়ার পর যাকাত আদায় না করা হলে পরবর্তীতে পূর্বের অনাদায়কৃত সব বছরের যাকাত আদায় করে দিতে হবে।

হারাম সম্পদে যাকাত আসে না এবং হারামসম্পদ দিয়ে যাকাত আদায়ও করা যায়না। যাকাত তো হল সম্পদের কেবল ২.৫শতাংশ। আর হারাম সম্পদ তো পুরো একশশতাংশই দান করে দেয়া ওয়াজীব। কারণ এসম্পদের মালিক ব্যক্তি নয়। কাজেই সুদ,ঘুষ,দুর্নীতি,অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি সবপ্রকার হারাম সম্পদ তাৎক্ষণিক ভাবে সওয়াবের নিয়্যত ছাড়া দান করে দায়মুক্ত হতে হবে।

ট্যাক্স এবং যাকাত:

সরকারী ট্যাক্স এবং যাকাত এক নয়। যাকাত একটি ইবাদত। কাজেই ট্যাক্সের টাকাকে যাকাত বলে গণ্য করা যাবে না। তবে হ্যাঁ, ট্যাক্সে প্রদেয় টাকা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ দেয়া যাবে।কারণ এটিও একটি ঋণ, যা ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্র পাবে।

কাকে যাকাত দেয়াযাবে:

১.মিসকীন: যার কোনো সম্পদ নেই, মানুষের কাছে হাত পেতে চলে।
২.অভাবী: যার সম্পদ আছে, তবে নেসাব পরিমাণ নেই, কারো কাছে হাতও পাতে না সে, অথচ সে তার প্রয়োজন পূরণে অক্ষম।
একাতারে ঋণ আদায়ে অক্ষম ও ভিনদেশী অভাবী মুসাফিরও পড়বে।

চিকিৎসাগ্রহণে অক্ষম ব্যক্তিও এ কাতারে শামিল। অর্থাৎ, কেউ যদি এমনিতে সচ্ছলহয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে অক্ষম হয়, তাহলে তাকেও যাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যেতে পারে।তবে শর্ত হলো, চিকিৎসার পর্যায়টা এমন হতে হবে যে, যা না করালেই নয়, এবং যে চিকিৎসা করালে তার সুস্থতাও অনেকটা নিশ্চিত।

উদাহরণস্বরূপ, যে চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব, তা যদি সিরফ বিলাসিতা বশত বিদেশে গিয়ে করাতে চায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেয়া যাবে না। কিন্তু চিকিৎসকরা যদি বলেন যে, তাকে অমুক দেশে নিতেই হবে, এ ছাড়া কোনো গতি নেই, তখন তাকে সাহায্য করা যেতে পারে। মোটকথা, চিকিৎসা যদি কারো সত্যিই প্রয়োজন হয়, এবং এ প্রয়োজন মেটাতে যদি সে সত্যিই অক্ষম হয়, তাহলে সেও এই অভাবীর পর্যায়ভুক্ত হয়ে যাকাতগ্রহণ করতে পারবে।

তবে দুই সম্পর্কের মানুষকে যাকাত দেয়া যাবে না।

১.ঔরসজাত সম্পর্ক। যেমন- পিতা ছেলেকে, বা ছেলে পিতাকে।

২.বৈবাহিক সম্পর্ক। যেমন- স্বামী স্ত্রীকে, বা স্ত্রী স্বামী।

এ দুই গ্রুপ ছাড়া অন্য সকল অভাবীকে (উপরোক্ত সংজ্ঞানুসারে) দেয়া যাবে।

যাকাতবিষয়ক কিছু জরুরী জ্ঞাতব্য:

১.যাকাতের ক্ষেত্রে নিয়ত করা (যাকাত দিচ্ছি এই জ্ঞান করা) আবশ্যক। সেটা প্রদান করার সময়ও হতে পারে বা যাকাতের সম্পদ হিসাব করে পৃথক করার সময়ও হতে পারে।
২.প্রতিটা সম্পদের উপর এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরী নয়। বরং, বছরের মাঝে যে সম্পদ অর্জিত হবে, তাতেও যাকাত আসবে।
৩.যাকাত আদায়ের তারিখে যে যে সম্পদ থাকবে, সে সে সম্পদের যাকাত আদায় করবে।
৪.যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণে মনগড়া/অনুমাননির্ভর হিসাব করবে না। বরং পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে যাকাত আদায় করবে। যেন কোনো ক্রমেই পরিমাণের চেয়ে কম আদায় না হয়।
৫.যাকাত যেদিন হিসাব করে পৃথক করবে, সেদিনের মূল্য ধর্তব্য হবে।
৬.চন্দ্র মাস হিসাব করে যাকাত দিবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিবছর রমজানের বা মুহাররমের এক তারিখ যাকাত আদায় করবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর বিধান মেনে চলার তাওফীক দিন। আমীন।

Ref:http://bangla.crushbd.com/religion/4528/

   


Pages: [1] 2