Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - farjana aovi

Pages: 1 ... 6 7 [8] 9
107
গর্ভধারণের সঠিক স্থান হচ্ছে জরায়ু। এর বাইরে যে কোন স্থানে গর্ভধারণ হলে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়। সাধারনত এই প্রেগনেন্সি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিম্বনালীতে  হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য স্থানগুলো হল ডিম্বাশয়, সারভিক্স বা পেটের ভিতরস্থ যেকোনো স্থান। প্রতি ১০০০ টি প্রেগনেন্সির মধ্যে ১১ জনের ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার সম্ভাবনা থাকে।

কাদের হয় ?
-কারো কারো ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার রিস্ক বেশি থাকে,যেমন-যাদের  আগেই একবার একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়েছে তাদের পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুন বেড়ে যায়।
-কোন কারণে ডিম্বনালীর স্বাভাবিক এনাটমি ও গঠন নষ্ট হলে,যেমন পেলভিক ইনফেকশনের হিস্ট্রি থাকলে একটোপিক হবার চান্স অনেক গুন বেড়ে যায়।
-জন্মগতভাবে ডিম্বনালীর গঠনগত সমস্যা থাকলে।
-ইন-ভিট্র ফার্টিলাইজেশন বা টেস্ট টিউব বেবি নেবার ক্ষেত্রে অথবা ডিম্বস্ফুটনের ঔষধ খেলে।
-কপার-টি পরা অবস্থায় প্রেগনেন্সি হলে।
কীভাবে হয়?

মানবজীবনের সূচনা একটি ডিম্বানুর সাথে শুক্রানুর মিলনের মধ্য দিয়ে। নারী দেহের ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীতে এই কার্য সম্পাদন হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর কোষ বিভাজন হতে থাকে এবং জাইগোট টি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে জরায়ুর  দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই অগ্রযাত্রা কোন কারণেব্যাহত হলে সঠিক স্থান না পেয়ে এটি ডিম্বনালীর মধ্যে বড় হতে থাকে। কিন্ত বাড়ন্ত ভ্রুণের জন্য ডিম্বনালীর প্রসারণক্ষমতা না থাকায়  একসময় এটা ফেটে গিয়ে পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
লক্ষণ:

ডিম্বনালী রাপচার বা ফেটে যাবার আগ পর্যন্ত এই রোগের কোন লক্ষণথাকে না। টিউব ফেটে যাবার সময় কিছু লক্ষণপ্রকাশ পায়। এ সময় রোগী হটাৎকরে প্রচন্ড পেটে ব্যথা অনুভব করে,অনেকে জ্ঞান হারিয়েও ফেলতে পারেন।  পেটের ভিতর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ব্লাড প্রেশার কমে যায়,পালস বেড়ে যায় ইত্যাদি। তবে এই লক্ষণগুলো দিয়ে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নিশ্চিত হওয়া যায় না। গর্ভধারণের লক্ষণবোঝার আগেই অর্থাৎ পিরিয়ড মিস হবার কিছুদিনের মধ্যে এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হলে অনেকে ভুল করে একে এপেন্ডিসাইটিস বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা মনে করে থাকেন। যার কারণেদেখা যায়,প্রথমে মেডিসিন বা সার্জারির ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। যা পরবর্তী পরীক্ষা -নিরীক্ষার মাধ্যমে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় হয়।

 একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয়ের জন্য রক্ত বা ইউরিনের প্রেগনেন্সি টেস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম-ই যথেষ্ট। তবে কিছুকিছু  ক্ষেত্রে একটপিক প্রেগনেন্সির অবস্থান খুঁজে বের করতে ল্যাপারোস্কপির সাহায্য নেয়া লাগে।

চিকিৎসা :

এর চিকিৎসা নির্ভর করে রোগী কোন পর্যায়ে আসল তার উপর। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে আলট্রাসাউন্ড করা হলে প্রাথমিক অবস্থায় একটোপিক প্রেগনেন্সির অস্তিত্ব ধরা পরতে পারে। এমনাবস্থায় সার্জারি ছাড়াই  ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো যায়। এক্ষেত্রে  টিউব ফেটে যাবার একটা রিস্ক থেকে যায়। তাই রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। অপরদিকে ডায়াগনোসিস এ দেরি হলে কিংবা টিউব ফেটে গেলে বা পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ঔষধে কাজ হবে না। রোগীকে দ্রুত রক্ত দেয়ার পাশাপাশি অপারেশন করার ব্যাবস্থা করতে হবে। অপারেশন পেট কেটে বা ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে- দুই ভাবেই করা যায়। এটা নির্ভর করে রোগীর অবস্থা, সার্জন এবং ল্যাপারোস্কপির সুবিধা আছে কিনা তার উপর। সঠিক সময়ে একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় করা না গেলে এবং চিকিৎসায় বিলম্ব হলে এটা মায়ের মৃত্যুর কারন ঘটাতে পারে। তাই গর্ভকালীন এই জরুরী অবস্থা সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া উচিত।

108
আজকাল খুব বেশি পরিচিত একটি না অ্যাপেল সিডার ভিনেগার। সাধারনত এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে, চুল পরা রোধ করা এবং গোড়া মজবুত ও চুল সিল্কি করতে সাহায্য করে। তাছাড়াও এটি স্কিন এর সৌন্দরয্য বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এই পানীয়টি আজকাল খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই পানীয়টির রয়েছে আরো কিছু গুনাগুন। আসুন জেনে নিই অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এর কিছু অজানা উপকারিতা।
১। যাদের নাক প্রায় বন্ধ থাকে বা সর্দির সমস্যাতে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাদের জন্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খুব উপকারী। এতে রয়েছে এসেটিক এসিড যা অনুজীব প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন ১ গ্লাস পানিতে ১ টেবল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন। এটি সাইনাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।
২। প্রতিদিন সকাল বেলা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে গার্গেল করুন। এটি দাঁত এ জমে থাকা দাগ ও হলদে ভাব দূর করে সাথে মুখে জমে থাকা অনুজীব দূর করে থাকে। তারপর সাধারন নিয়মে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন।
৩।  মাথার খুশকি হতে রেহায় পেতে এই অ্যাপেল সিডার ভিনেগার খুব ভালো কাজ করে। এতে থাকা এসিড খুশকি জন্মানোতে বাধা দান করে। ১/৪ টেবিল চামচ ভিনেগার, ১/৪ কাপ পানিতে মিশিয়ে ১টি বোতলে ভরে মাথার স্কাল্পে স্প্রে করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ বার এভাবে ব্যবহার করা যায়।
৪। অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এর আন্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। যা মুখে ব্রণের বৃদ্ধি কমিয়ে আনে এবং ব্রণ দূরীকরণে সাহায্য করে। এর এসিড মুখের পি এইচ এর মাত্রা ঠিক রাখে এবং অন্যান্য দাগ দূর করতে সহায়তা করে।
৫। ব্যাক্টেরিয়া সংক্রামণ এর কারণে যদি ডায়রিয়া হয়ে থাকে তবে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এর ১ চামচ সেই ডায়রিয়া নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে। কারণ এর মধ্যে তার জীবাণুধ্বংসী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
৬। ১ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আপনার হাঁচি রোধ করতে পারে। ভিনেগার এর টক স্বাদ হাচির উদ্রেক প্রতিহত করে।
৭। যখনি কোন ব্যায়াম বা জিম করার পর পেশিগুলোতে শক্তির প্রয়োজন পরে বা অতিরিক্ত পরিশ্রম এর পর যখন শক্তি চাহিদা বেড়ে যায় তখন অ্যাপেল সিডার ভিনেগার শক্তির সঞ্চয় করে, এতে রয়েছে পটাসিয়াম ও বিভিন্ন রকম এনজাইম যা দুর্বলতা থেকে পরিত্রান দেয়।
৮। অনেকেরই পায়ের নিচের দিকে ব্যথা হয় যাকে লেগ ক্রাম্পস বলে, এটি মুলত পটাসিয়ামের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে । সেক্ষেত্রে ভিনেগারটি উচ্চ পটাসিয়াম বলে তা উপকারি। তাই ২ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, ১ চা চামচ মধু গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এছাড়াও এর আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। কোলেস্টেরল কমাতে এবং ডায়েবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমান ঠিক রাখতেও অ্যাপেল সিডার ভিনেগার সাহায্য করে থাকে। তবে যাদের মারাত্তক এসিডিটির সমস্যা আছে তাদের অ্যাপেল সিডার ভিনেগার না গ্রহন করাই ভালো।

109
আমাদের দেশে সবার কাছে এক পরিচিত নাম হচ্ছে করলা। অতিমাত্রার তিক্ত স্বাদযুক্ত করলা অনেক ভাবেই খাওয়া হয়। এমনকি অনেকে জুস করেও খেয়ে থাকেন। অপ্রিয় স্বাদের এই করলার রয়েছে অসাধারণ পুষ্টি গুণ। এতে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন- এ, সি ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন- বি। আসুন জেনে নিই, করলার কিছু স্বাস্থ্যগুণ-
(১) রক্ত পরিষ্কার করে
করলা প্রাকৃতিক রক্ত পরিষ্কারকের কাজ করে। রক্তের কারণে অনেক সময় অনবরত মাথা ব্যাথা, এলার্জি, ক্লান্তি বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস হয়। রক্তের ইম্পিওরিটিসকে করলা পরিষ্কার অথবা ডিটক্সিফাইং করতে সাহায্য করে। নিয়মিত করলা গ্রহণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পায়। এ জন্য করলার জুসের সাথে সামান্য লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে প্রতিদিন কালি পেটে পান করুন। এভাবে ছয় মাস পান করুন।
(২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
ব্লাডে গ্লুকোজ লোয়ারিং ইফেক্টের দ্বারা করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এন্টি ডায়াবেটিক গুনে সমৃদ্ধ তিন ধরনের একটিভ সাবসটেন্ট রয়েছে।
(৩) লিভারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে
হেপাটিক গুণে সমৃদ্ধ করলা লিভারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে উপকারী ভূমিকা পালন করে। লিভারের ছাঁকন ক্রিয়ায় সহায়তা করে এটি রক্তের অপদ্রব্য পরিষ্কার করে এবং লিভারের ক্ষতিকর টক্সিন দূরীকরণ করে। আর স্বাভাবিকভাবে ক্রিয়ারত লিভার মেদবৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়, কার্ডিওভাস্কুলারের রোগবালাই কমায়, পরিপাক সমস্যা, মাথা ব্যাথা এবং অন্যান্য অনেক ধরণের রোগ থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে। তাই লিভারকে ভালো রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে একবার এককাপ করলার জুস গ্রহণ করুন।
(৪) কোলেস্টেরল কমায়
এই অসাধারণ সবজিটি দেহের লো- ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক, হার্টের রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। তাই ডাক্তারের পরামর্শে আপনার ডায়েটে করলা রাখুন কিংবা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।
(৫) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত করলা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই যেকোনো ধরনের রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এজন্য করলা চাও পান করতে পারেন।
(৬) ক্যান্সার প্রতিরোধে
করলা ক্যান্সার প্রতিরোধেও সক্ষম। যে ফ্রি র‍্যাডিকেল ড্যামেজের কারণে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হয়, তার বিরুদ্ধে এর মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট কাজ করে।
(৭) ওজন কমাতে সাহায্য করে
করলা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এন্টি অক্সিডেন্টের বড় উৎস, যা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম। এই সবজি কার্বোহাইড্রেটের মেটাবোলিজমকে আরো দ্রুততর করে, বিধায় দেহে কম ফ্যাট জমা হয়।
(৮) অভ্যন্তরীণ কৃমিনাশক
করলাতে থাকা এন্থেলমিন্টিক কম্পাউন্ডস দেহের অভ্যন্তরীণ কৃমি থেকে রক্ষা করে। এজন্য এক সপ্তাহব্যাপী খালি পেটে অর্ধেক কাপ করলার জুস পান করুন।

এমনই আরও অনেক স্বাস্থ্যগুণে পরিপূর্ণ এই করলা। তবে কখনই দুই থেকে তিনটির বেশি করলা এক দিনে খাবেন না। গর্ভবতী মায়েরা অনেক বেশি পরিমাণে করলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

110
কাঁঠাল বৃক্ষ- উৎপন্ন সর্ববৃহৎ ফল।  এশিয়া মহাদেশে খুবই জনপ্রিয় একটি ফল, সাধারণত এই গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যায়। তবে খুঁজলে এমনও অনেক ফ্রুটস লাভার পাওয়া যাবে যারা এই ফলটির ব্যাপারে সর্বদাই নাক সিটকায়। অথচ হলুদ, রসালো আর মিষ্টি স্বাদযুক্ত এই ফলে রয়েছে বহু স্বাস্থ্যগুণ। আজ আমরা  পুষ্টিগুণে ভরপুর এই কাঁঠালের কিছু গুণাগুণ সম্পর্কে জানব।
১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভিটামিন সি এর উৎস স্বরূপ কাঁঠাল শ্বেত রক্ত কণিকার কার্যাবলীর সহায়ক হিসেবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভাইরাল আর ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনজনিত রোগসমূহ যেমন- সর্দি, কাশি, ফ্লু থেকে রক্ষা করে। শুধুমাত্র ১০০ গ্রাম কাঁঠাল আমাদের প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করে।
২। ত্বক ভালো রাখে
নিয়মিত কাঁঠাল খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এতে বিদ্যমান এন্টি অক্সিডেন্ট ফ্রী র‍্যাডিকেল ড্যামেজ প্রতিহত করে। ত্বকের বলিরেখা, শুষ্কতা ইত্যাদি কমায়। তাছাড়া কোলাজেন উৎপন্ন করতে সহায়তা করে ফলে ত্বক টানটান থাকে।
৩। রক্তশূন্যতা দূর করে
কাঁঠাল খেলে তা থেকে অনেক পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে আয়রনের অভাবে যে রক্তশূন্যতা হয়, তা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৪। দেহের শক্তি বাড়ায়
কাঁঠাল শক্তি উৎপন্নকারী ফল হিসেবে পরিচিত। এতে ফ্রুক্টোজ আর সুক্রোজ নামক শ্যুগার থাকে যা রক্তের শ্যুগার লেভেলকে প্রভাবিত না করে দেহে তৎক্ষণাৎ শক্তি প্রদান করে। এতে কোনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিংবা কোলেস্টেরল নেই।
৫। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণ দেয়
কাঁঠালের ডায়েটারি ফাইবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাছাড়া পাইলস আর কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৬।উচ্চ রক্তচাপ কমায়
এই ফল কার্ডিওভাস্কুলারের জন্যও অনেক উপকারী কেননা এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সক্ষম। এর ভিটামিন সি ফ্রী র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাছাড়া এর পটাশিয়াম দেহের সোডিয়াম লেভেল নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভিটামিন বি৬ রক্তের হোমোসিসটিনের মাত্রা কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
৭। দৃষ্টিক্ষমতা বাড়ায়
কাঁঠালে ভিটামিন এ রয়েছে, যা সুস্থ্য চোখের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই এই ফল খেলে দৃষ্টিক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তাছাড়া রাতকানা, চোখে ছানি পরা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। চোখকে যেকোনো ব্যাকটেরিয়াল আর ভাইরাল ইনফেকশন থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
৮। হাড় মজবুত করে
এর ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামের কার্যকারীতা বাড়িয়ে দেয়। এই ম্যাগনেসিয়াম আর ক্যালসিয়াম এক সাথে কাজ করে হাড় মজবুত করে এবং হাড় জনিত ডিসর্ডারসমূহ যেমন অসটেওপোরোসিস থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া পটাসিয়াম ক্যালসিয়ামের ক্ষয় রোধ করে হাড়ে এর ডেনসিটি বৃদ্ধি করে।
৯। থাইরয়েডের সুস্থ্যতায়
কাঁঠালের কপার থাইরয়েডের মেটাবোলিজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে হরমোন উৎপাদন আর শোষণে। এতে যে ভিটামিন বি রয়েছে তার সুবাদে হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এর জিংক, ম্যাগনেসিয়াম আর পটাসিয়াম ও থাইরয়েডের জন্য উপকারী।
১০। ক্যান্সার নিরোধক
ক্যান্সার নিরোধক ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস এবং এন্টিঅক্সিডেন্টস এই ফলে রয়েছে। তাই এটি ওরাল, কোলন আর স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে।
তাই খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল রাখুন। এমনকি এই রমজানে তৈলাক্ত ভাজা পোড়া আর মশলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে কাঁঠাল খেতে পারেন। তবে মনে রাখা ভালো,বেশি পরিমাণে কাঁঠাল খেলে পেটের অসুবিধা হতে পারে। গর্ভবতী মায়েরা এবং যারা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান তারা ডাক্তারের পরামর্শনুযায়ী কাঁঠাল খাবেন।

111
অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন বর্তমান নারীরা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেও চেষ্টা করেন সবসময় । তবে কোন খাবারকে আমারা বলব স্বাস্থ্যকর খাবার? যে খাবারে সঠিক পরিমানে ভিটামিন আছে সেটাই হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। সব বয়সের মেয়েদের জন্যই সঠিক মাত্রায় ভিটামিনযুক্ত খাবার  অতীব প্রয়োজনীয়।  নারীদের জন্য  অতি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলো হল-
১) ভিটামিন এ

কেন দরকার -

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার সাথে সাথেব শরীরের হাড়, চামড়া, দাঁত, নরম টিস্যু তৈরি করে ,ক্রনিক ডিজিস প্রতিরোধ করে, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।

কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-

গাজর, মিষ্টি কুমড়া, এপ্রিকট , টমেটো, তরমুজ, পেয়ারা, ব্রোকলি, কালে, পেপে,  রেড পিপার, পালং শাক, ডিম, কলিজা, দুধ।

২) ভিটামিন বি ২
রিবোফ্লাবিন নামে পরিচিত ভিটামিন টি মানুষের মানসিক ভাবে সুস্ত থাকার জন্যও দরকার।
কেন দরকার -
শরীরে শক্তি বৃদ্ধির, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি,  ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা কমিয়ে  মানুষকে উৎফুল্ল করে তোলে। পরিপাক তন্ত্র ভাল রাখে, স্নায়ু  কর্মক্ষম করে,গলদাহ , মুখের আলসার , শুষ্ক চুল , ত্বকে ভাঁজ পড়া ইত্যাদি  সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
মাংস, পনির, দুধ, টক দই, শাক,ডিম, সয়াবিন, নাট ও মাসরুম।

৩) ভিটামিন বি ৬
কেন দরকার -
শরীরে হরমোন উৎপাদন,  বিষন্নতা, হৃদরোগ ওস্মৃতিশক্তি কর্মক্ষম রাখা,  চিনির মাত্রা সঠিক রাখতে, গর্ভবতী মায়েদের সকাল বেলার দুর্বলতা কাটাতে, রক্ত স্বল্পতা  দূর করতে।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-সিরিয়াল, আভাকাডো , কলা, মাংশ, বিন , ওটমিল, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার ও শুকনো ফল।

৪) ভিটামিন বি ৭
কেন দরকার -
কোষের বৃদ্ধিতে ও ফ্যাটি এসিডের সংস্লেশন,  চুল ও ত্বক সাস্থ্যময় রাখা,   হাড়ের বৃদ্ধি ও অস্থি মজ্জা তৈরি করা,  শরীরে কোলেস্টরল ঠিক রাখা।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-মাছ, মিষ্টি আলু, গাজর, কলা, হলুদ ফল, ডাল, ডিম এর কুসুম, সয়াবিন, ওটমিল, দুধ, পনির,  দই ।

৫) ভিটামিন বি ৯
কেন দরকার -
হৃদরোগ , উচ্চ রক্তচাপ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিসন্নতা, ক্যান্সার এবং স্মৃতিশক্তি লোপ প্রতিরোধ করে, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-সবুজ সবজি, কমলা, তরমুজ,শস্যদানা, শিম , মটরশুটি  এবং ডিম ।

 ৬) ভিটামিন বি ১২
কেন দরকার -
বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে, কোষ এর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে, প্রোটিন সংশ্লেষণ, স্মৃতি শক্তি  কমে যাওয়া এবং রক্তস্বল্পতা রোধ
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-পনির , ডিম , মাছ , মাংস , দুধ , দই ।

৭)  ভিটামিন সি
কেন দরকার -
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, টিস্যুর বৃদ্ধি ঘটাতে,ক্যান্সার, হৃদরোগ লাল রক্ত কণিকা গঠনে ।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-ব্রোকলি , আঙ্গুর , কমলালেবু , মরিচ , আলু , স্ট্রবেরি , টমেটো।

৮) ভিটামিন ডি
কেন দরকার -
ক্যালসিয়াম শোষণ ,হাড় শক্তিশালী  করা, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য। অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে আপনার  অস্টিওপরোসিস  হতে পারে ।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোঁদে থাকলেই আপনার শরীর পরিমিত ভিটামিন ডি উৎপাদন  করতে পারে। আবার মাছ,দুধ , গরুর কলিজা   থেকেও পেতে পারেন।

৯) ভিটামিন ই
কেন দরকার -
চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া থেকে রক্ষা করে, হৃদরোগ , ছানি , স্মৃতিশক্তি লোপ প্রতিরোধ করে।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-গম,  বাদাম , শাক , ভূট্টা তেল , কড লিভার তেল , মাখন , এবং সূর্যমুখী।

১০) ভিটামিন কে
কেন দরকার -
হাড় শক্ত করতে , রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ও হৃদরোগের ঝুকি কমাতে।
কোন  খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-শস্যদানা,সবুজ সবজি, সয়াবিন তেল ও মাছের তেল।

Source: http://www.shajgoj.com/2016/08/20795/

112
Pharmacy / 'Sugar gel' helps premature babies
« on: September 18, 2016, 12:31:29 PM »
Around the globe each year 15 million babies are born too soon.
A dose of sugar given as a gel rubbed into the inside of the cheek is a cheap and effective way to protect premature babies against brain damage, say experts.
Dangerously low blood sugar affects about one in 10 babies born too early. Untreated, it can cause permanent harm.
Researchers from New Zealand tested the gel therapy in 242 babies under their care and, based on the results, say it should now be a first-line treatment.
Their work is published in The Lancet.
Sugar dose:
Dextrose gel treatment costs just over £1 per baby and is simpler to administer than glucose via a drip, say Prof Jane Harding and her team at the University of Auckland.
Current treatment typically involves extra feeding and repeated blood tests to measure blood sugar levels.
But many babies are admitted to intensive care and given intravenous glucose because their blood sugar remains low - a condition doctors call hypoglycaemia.
The study assessed whether treatment with dextrose gel was more effective than feeding alone at reversing hypoglycaemia.
Neil Marlow, from the Institute for Women's Health at University College London, said that although dextrose gel had fallen into disuse, these findings suggested it should be resurrected as a treatment.
We now had high-quality evidence that it was of value, he said.
Andy Cole, chief executive of premature baby charity Bliss, said: "This is a very interesting piece of new research and we always welcome anything that has the potential to improve outcomes for babies born premature or sick.
"This is a cost-effective treatment and could reduce admissions to intensive care services, which are already working at high capacity levels.
"While the early results of this research show benefits to babies born with low blood sugars, it is clear there is more research to be done to implement this treatment."
Source: http://www.bbc.com/news/health-24224206

113

ঘরে বাইরে এখন প্লাস্টিকের পেট বোতলের ছড়াছড়ি। খাবার রাখা থেকে পানি রাখা— সবেতেই এই প্লাস্টিক বোতল । কিন্তু, কখনও আমরা কেউ খেয়াল করি না প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে থাকা চিহ্নগুলিকে।
পড়ে গেলে চট করে ফেটে যায় না। বোতল পরিষ্কার করাও সোজা। ব্যবহারের এমন সোজা-সাপটা সুবিধায় প্লাস্টিকের বোতলের চল বাড়তে বাড়তে এখন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু, আমারা না বুঝেই দিনের পর দিন এই সব প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে থাকি। অনেকে তো বাচ্চার দুধ ভর্তি প্লাস্টিকের ফিডিং বোতলটাই গরম করে বসেন। প্লাস্টিক বোতলের এমন যথেচ্ছ ব্যবহার আদপেও কি স্বাস্থ্যকর? এ বিষয়ে বাছ-বিচার আমরা করি না। তাই প্লাস্টিক বোতলের তলায় থাকা ত্রিকোণ চিহ্নের মানেটা বুঝে নিলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে নিমেষে।
Plastic Bottle Symbols
১. ত্রিকোণ চিহ্ন— এটা আসলে প্লাস্টিক বোতলের চারিত্রিক ইনডেক্স। এই চিহ্নটা থাকলে বোঝা যায় বোতলটি বিধিসম্মতভাবে তৈরি। কিন্তু, বোতলটা ব্যবহারের কতটা নির্ভরযোগ্য বা কী ধরনের জিনিস তাতে রাখা যাবে, তা ত্রিকোণ চিহ্নের মধ্যে থাকা সংখ্যা দ্বারা বোঝা যায়।
২. ত্রিকোণের মাঝে ১ সংখ্যা থাকলে— এর মানে বোতলটি একবারই মাত্র ব্যবহার করা যাবে এবং বোতলটিতে পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের বোতল বহুব্যবহারে স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক।
৩. ত্রিকোণের মধ্যে ২ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বোতলে ঘন পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের বোতল ব্যবহার হয়।
৪. ত্রিকোণের মধ্যে ৩ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের বোতল বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এই বোতল তৈরি হয় ‘পোলিভিনিল ক্লোরাইড’ বা ‘পিভিসি’ থেকে। এতে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘পিনাট বাটার’ রাখতে এই বোতল ব্যবহার করা হয়।
৫. ত্রিকোণের মধ্যে ৪ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক বহু ব্যবহারের উপযোগী। বিশেষ করে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে এই চিহ্ন প্রচুর দেখা যায়। খুব দামি বোতলে এই চিহ্ন থাকে।
৬. ত্রিকোণের মধ্যে ৫ সংখ্যা থাকলে— এই ধরনের প্লাস্টিক একদম নিরাপদ এবং ব্যবহারের যোগ্য। আইক্রিম কাপ বা সিরাপের বোতল অথবা খাবারের কন্টেনারে এই ধরনের চিহ্ন দেখা যায়।
৭. ত্রিকোণের মধ্যে ৬ অথবা ৭ সংখ্যা থাকলে— প্লাস্টিকের রেড কার্ড বলা হয় একে। এই ধরনের প্লাস্টিক মারাত্মক রকমের ক্ষতিকারক। কারণ এই ধরনের প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিস্টিরিন এবং পলিকার্বনেট বিসপেনল-এ। এটা মানুষের মধ্যে হরমোন সমস্যা তৈরি করে। ক্রমাগত এই ধরনের প্লাস্টিকের ব্যবহার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।
সূত্র- ইন্টারনেট এবং সংগ্রহীত

114

১. অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভঙ্গ হবেনা। তবে ইচ্ছা করে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
২. স্যালাইন, গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক কিছু শিরাপথে নেওয়া যাবে না। এগুলো ছাড়া যেকোনো ওষুধ ইনজেকশন হিসেবে নিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
৩. যেকোনো ধরণের চোখ, নাক ও কানের ড্রপ, ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে। ওষুধ মুখে চলে আসলে তা না গিলে কুলি করে বাহিরে ফেলতে হবে। হার্টের রুগীর ব্যথা উঠলে নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে জিহ্বার নিচে ব্যবহার করা যাবে।
৪. রোজা রেখে কেউ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে, সে চাইলেই রোজা ভেঙ্গে ফেলতে পারবে। এই জন্য তাকে কাফফারা (একটানা ৬০ টি রোজা) দিতে হবেনা। তবে পরে অবশ্যই রমজান শেষে যেকোনো সময় এটি কাজা আদায় করে নিতে হবে।
৫. গর্ভবতী এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায় এমন মা'দের জন্য রোজা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যে রোজাগুলো বাদ যাবে, পরবর্তীতে যখন তার জন্য সহজ হবে এবং বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকবেনা, তখন কাজা আদায় করে নিতে হবে।
৬.মেয়েদের পিরিয়ডের রক্ত বের না হওয়া পর্যন্ত রোজা ভংগ হবেনা। পিরিয়ড শুরুর পর রোজা রাখা এবং নামাজ পড়া যাবেনা। যে রোজাগুলো মিস যাবে, রমজান শেষে সেগুলো কাজা আদায় করতে হবে। তবে নামাজের কাজা আদায় করতে হবেনা।
৭. পায়খানার রাস্তায় কিংবা যোনিপথে ট্যাবলেট, সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে। প্রসাবের রাস্তায় ক্যাথেটার করলে রোযা নষ্ট হয় না।
৮. রোযা রেখে দাঁত উঠানো যাবে।
৯. ল্যাব পরীক্ষা- নিরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজা নষ্ট হবেনা।
১০. সুস্থ সবল ব্যক্তির রক্ত দান করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। তবে রক্তদাতা দুর্বল অনুভব করলে রোজা ভেঙ্গে ফেলতে পারেন। এই জন্য কাফফারা দিতে হবে না, পরে শুধু একটি রোজা কাজা করলেই হবে।
১১. ইনসুলিন নিলেও রোজা ভংগ হবেনা। কিন্তু ইনসুলিন নেওয়ার পর যেহেতু খাবার খেতে হয়, তাই রোজা থাকাকালীন অবস্থায় নেওয়া খুব রিস্কের হয়ে দাড়ায়। তাই এটার
সকালের ডোজ হিসেবে ইফতার এবং রাতের ডোজ সেহেরির সময় এডজাস্ট করে নিতে হবে।
১২) যোনিপথে বা পায়খানার রাস্তায় কোন পরীক্ষা যেমন PV, DRE, এনোস্কোপ করলে রোযা নষ্ট হয় না।
১৩) অনিচ্ছাকৃতভাবে যেমন আহত হয়ে কিংবা নাক দিয়ে রক্ত পড়লে রোজা নষ্ট হবেনা।
রেফারেন্সঃ
১. 9th Fiqh Medical Seminar, Morocco. (সারা বিশ্ব থেকে নামকরা আলেমগন ও মুসলিম চিকিৎসকগন মরক্কোর এই সেমিনারে সবাই একমত হয়ে এই বিষয়ে ফতোয়া দেন)।
২. প্রশ্নোত্তরে সিয়াম By ডঃ আবু বকর মুহম্মদ জাকারিয়া
৩. Standing committee for issuing fatwa, Kingdom of Saudi
Arabia

115
Common Forum / pharmacy
« on: September 18, 2016, 12:22:18 PM »
জ্বর হয়েছে কিন্তু এন্টপাইরেটিক (প্যারাসিটামল) বা এনালজেসিক (পেইনকিলার) খান নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা কখনো ভেবেছি কি? জ্বরে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শরীর থেকে পানি ইভাপোরেশনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়? শরীরে এর ফলে ডিহাইড্রেশন (পানিস্বল্পতা) হয়। এজন্য কিডনি কম রক্ত পায় এবং কিডনির কাজে ব্যাঘাত ঘটে। আবার এর সংগে এনালজেসিক খেলে শরীরে প্রোস্টা গ্লান্ডিন তৈরী বন্ধ হয়ে যায় যেগুলো কিডনীর ভালোর জন্য কাজ করে! এরফলে কিডনি উভয় সংকটে পড়ে যায়। আমরা হারিয়ে ফেলি কিডনির অনেক মূল্যবান নেফ্রন (কিডনির কার্যকরী একক) । মনে রাখবেন কিডনীর নেফ্রন একবার নষ্ট হলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। যখন ৭০ পার্সেন্ট বা তারও বেশী নষ্ট হয় তখন রেনাল ফেইলিউর ডিভলপ করে এবং ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। এমনিতেই স্বাভাবিক ভাবেই ৫০ বছরের পর প্রত্যেক ১০ বছরে ১০ পার্সেন্ট করে নেফ্রন নষ্ট হয়। আমরা প্রত্যেকবার জ্বরেও কি নেফ্রন হারিয়ে কিডনিককে আরো বিপদে ঠেলে দিচ্ছি না? বেচারার ও তো জীবন তাই একসময় বিকল হয়ে আপনার উপর ও প্রতিশোধ নেয় তাহলে আমাদের করণীয় কি?
জ্বর আসলে পর্যাপ্ত পানি বা খাবার স্যালাইন খাওয়া। তাহলে দেখবেন জ্বরের পরে ডিহাইড্রেশন জনিত দুর্বলতা আপনাকে অতটা কাবু করতে পারে নি আর কিডনি তো মনের আনন্দে হাসবে। :D

116
লিউকোমিয়া এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার যা মানুষের রক্তের মাঝে থাকা শ্বেত রক্ত কণিকা গুলোকে আক্রমণ করে। শ্বেত রক্ত কণিকা সাধারণত আমাদের শরীরের এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। যেসব মানুষ লিউকোমিয়াতে ভোগেন তাদের রক্তের শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো কার্যক্ষম হয় না। যার কারণে রোগীর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি খুব দ্রুতই ভয়ানক অবস্থায় চলে যেতে পারেন।লিউকোমিয়া যে কারো হতে পারে। তাই আগে থেকে এর লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জানা থাকলে শুরু থেকেই চিকিৎসা করানো সম্ভব। আজকের লেখায় লিউকোমিউয়ার লক্ষণ সম্পর্কে জানা যাক।
 ১. ফ্লুঃ
লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রে সবচাইতে কমন যে লক্ষণ চোখে পড়ে সেটা হচ্ছে ফ্লু। লিউকোমিয়া হলে শরীরের এন্টিবডি যখন কাজ করা বন্ধ করে দেয় তখন সবার আগে শরীরে ফ্লু এর সংক্রমণ হয়। যদি দুই / তিন দিন পর ফ্লু ভালো হয়ে যায় সেটা সাধারণ ফ্লু এর লক্ষণ। কিন্তু যদি টানা জ্বর, শীত করা, ক্লান্তি অনুভূত হয় তবে দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরী।
 ২. অবসাদঃ
অবসাদ লিউকোমিয়ার অন্যতম উপসর্গ। এই রোগে আক্রান্ত রোগী খুব অবসাদে ভোগেন, এবং এটি সাধারণ অবসাদের থেকে ভিন্ন এবং মাত্রায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। লিউকোমিয়া রোগের প্রথম ধাপ থেকেই অবসাদের ব্যাপারটা শুরু হলেও অনেকে এটিকে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি কেউ কখনো টানা তীব্র অবসাদ অনুভব করেন তবে তার দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
 ৩. ওজন হ্রাসঃ
লিউকোমিয়া রোগী নিয়মিত ওজন হারাবেন। ওজন অনেক কারণেই কমতে পারে তবে সেটা একসময় থেমে যায় এবং ওজন ঘাটতি পূরণও হয়ে যায়। কিন্তু লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত ওজন হারাতে থাকবেন। সেই মুহুর্তে নিয়মিত খাওয়া দাওয়া কিংবা পুষ্টিকর খাবারেও লাভ হয় না।
 ৪. অল্পতেই রক্তপাতঃ
লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির খুব সহজেই রক্তপাত হওয়ার হার অনেক বেশি। এর কারণ হচ্ছে লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হলে ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ও অনুচক্রিকা বা প্লেটলেটের হার অনেক কমে যায়, যা অ্যানেমিয়ারও লক্ষণ। এই কারণে চামড়ায় সামান্য আঘাতেই অনেক রক্তপাত হয়। কারো সাথে এই ব্যাপারটি ঘটলে ব্যাপারটা খেয়াল রাখা উচিত কারণ এটি লিউকোমিয়ার অনেক বড় একটি লক্ষণ।
৫. শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে দাগ হওয়াঃলিউকোমিয়া হলে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে চামড়ার ভেতরে দাগ হয়ে যাবে। অনেক সময় চামড়ায় ঘষা লেগে কিংবা চাপ লেগে লাল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু লিউকোমিয়ার ক্ষেত্রে উপসর্গটি সম্পূর্ণ আলাদা। চামড়ায় চাকা চাকা লাগ দাগ হয়ে যাবে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফুলতেও পারে।তাই সবসময় উপরের ব্যাপার গুলো খেয়াল রাখবেন। যত টুকু সম্ভব লিউকোমইয়ার কারণ গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। আর যদি লিউকোমিয়া হয়েই যায়, তাহলে দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করুন।
 ৬. ইনফেকশনঃ
লিউকোমিয়া রক্তে থাকা শ্বেত রক্ত কণিকা নষ্ট করে দেয় বিধায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই চামড়ায় ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে। তাই চামড়ার সামান্য আঘাতে যদি কখনো ইনফেকশনের সৃষ্টি হয় তবে তা লিউকোমিয়ার লক্ষণ হিসেবেই ধরা হয়।
 ৭. হাড় ব্যথাঃ
যদি আপনার হাড়ে অযথাই ব্যথা হয়, তাহলে সেদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। অনেকের বাত এর ব্যথা থাকতে পারে। কিন্তু আপনার যদি বাত না থাকে, অথচ হাঁটু সহ শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব করেন তবে দ্রুত ডাক্তার দেখানোই শ্রেয়।

লিউকোমিয়ার অনেক গুলো কারণ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –
 ১. আগে কখনো কেমোথেরাপী নিয়ে থাকলে।

২. তেজস্ক্রিয়তা ।

৩. জিনগত সমস্যা।

৪. ধূমপায়ী হলে।

৫. পরিবারে কারো আগে থেকে থাকলে (বংশগত)।

৬. বেনজিন জাতীয় রাসায়নিক তরলের সংস্পর্শে থাকলে।
তাই সবসময় উপরের ব্যাপার গুলো খেয়াল রাখবেন। যত টুকু সম্ভব লিউকোমইয়ার কারণ গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। আর যদি লিউকোমিয়া হয়েই যায়, তাহলে দ্রুত অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করুন।

117
Good to know.

118
কোলন ক্যান্সার একটি নীরব ঘাতক। লক্ষণ দেখা দেবার আগে বেশীরভাগ মানুষই লক্ষ্য করেন না যে তিনি অসুস্থ। আর লক্ষণ যখন ধরা পড়ে ততদিনে নিরাময় করাটা অনেক জটিল ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রোগের প্রথম পর্যায়ে সাধারণত লক্ষণ চোখে পড়ে না, পড়লেও সেগুলোকে আমরা সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই, এর পেছনে গুরুতর কোনো রোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে যাই না।ওবেসিটি, ধূমপান, শরীরচর্চা না করা, বেশি রেড মিট খাওয়া, পারিবারিক ইতিহাস, টাইপ টু ডায়াবেটিস এগুলো থাকলে আপনার কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি বলে ধরা যেতে পারে। জেনে নিন কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু লক্ষণের কথা।
১) অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা
রক্তশূন্যতা ধরা পড়ার মানে এই যে আপনার অভ্যন্তরীণ কোনো অঙ্গ থেকে হয়তো রক্তক্ষরণ হচ্ছে, যদিও আপনি তা বুঝতে পারছেন না। যদি অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীর শরীরে, তাহলে সাধারণত অন্য কোনও কারণ খুঁজতে যায় না কেউ। আর যদি একজন পুরুষের মাঝে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় তাহলে সাধারণত ধরে নেওয়া হয় শরীরে কোনো সমস্যা আছে। অনেক সময়ে মাসের পর মাস শরীরে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হবার পরেও তা মলে খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনার যদি অ্যানিমিয়ার লক্ষণগুলো চোখে পড়ে যেমন ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
২) আপনি সহজেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন?
আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আরেকটি লক্ষণ হল সহজই দম ফুরিয়ে যাওয়া। কারণ এমনভাবে অ্যানিমিয়া তৈরি হলে আমাদের শরীর বেশি করে প্লাজমা বা রক্তরস, উৎপাদন করে, কিন্তু সে পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন করে না। ফলে আমাদের রক্ত কম পরিমাণে অক্সিজেন বহন করতে পারে এবং আমরা অক্সিজেনের কমতিতে ভুগে সহজে হাঁপিয়ে যাই।
৩) পেট ফাঁপা অথবা পেট ব্যথা
কোলনে খাবারের বর্জ্য আটকে যেতে শুরু করলে পেট ফেঁপে যাবে অবধারিতভাবেই। এছাড়াও পেটে ব্যথা হতে পারে। পেট ফাঁপা ও ব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তারপরেও এসব উপসর্গ অনেকদিন ধরে দেখলে ডাক্তার দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি পেটের ডান দিকে সবসময় ব্যথা লক্ষ্য করেন, তাহলে এমনও হতে পারে যে রোগটি প্রাথমিক পর্যায় পার হয়ে আরও খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে এবং লিভারে ছড়িয়ে গেছে।১) অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা
রক্তশূন্যতা ধরা পড়ার মানে এই যে আপনার অভ্যন্তরীণ কোনো অঙ্গ থেকে হয়তো রক্তক্ষরণ হচ্ছে, যদিও আপনি তা বুঝতে পারছেন না। যদি অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীর শরীরে, তাহলে সাধারণত অন্য কোনও কারণ খুঁজতে যায় না কেউ। আর যদি একজন পুরুষের মাঝে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় তাহলে সাধারণত ধরে নেওয়া হয় শরীরে কোনো সমস্যা আছে। অনেক সময়ে মাসের পর মাস শরীরে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হবার পরেও তা মলে খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনার যদি অ্যানিমিয়ার লক্ষণগুলো চোখে পড়ে যেমন ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
২) আপনি সহজেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন
আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আরেকটি লক্ষণ হল সহজই দম ফুরিয়ে যাওয়া। কারণ এমনভাবে অ্যানিমিয়া তৈরি হলে আমাদের শরীর বেশি করে প্লাজমা বা রক্তরস, উৎপাদন করে, কিন্তু সে পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন করে না। ফলে আমাদের রক্ত কম পরিমাণে অক্সিজেন বহন করতে পারে এবং আমরা অক্সিজেনের কমতিতে ভুগে সহজে হাঁপিয়ে যাই।
৩) পেট ফাঁপা অথবা পেট ব্যথা
কোলনে খাবারের বর্জ্য আটকে যেতে শুরু করলে পেট ফেঁপে যাবে অবধারিতভাবেই। এছাড়াও পেটে ব্যথা হতে পারে। পেট ফাঁপা ও ব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তারপরেও এসব উপসর্গ অনেকদিন ধরে দেখলে ডাক্তার দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি পেটের ডান দিকে সবসময় ব্যথা লক্ষ্য করেন, তাহলে এমনও হতে পারে যে রোগটি প্রাথমিক পর্যায় পার হয়ে আরও খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে এবং লিভারে ছড়িয়ে গেছে।১) অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা
রক্তশূন্যতা ধরা পড়ার মানে এই যে আপনার অভ্যন্তরীণ কোনো অঙ্গ থেকে হয়তো রক্তক্ষরণ হচ্ছে, যদিও আপনি তা বুঝতে পারছেন না। যদি অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীর শরীরে, তাহলে সাধারণত অন্য কোনও কারণ খুঁজতে যায় না কেউ। আর যদি একজন পুরুষের মাঝে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় তাহলে সাধারণত ধরে নেওয়া হয় শরীরে কোনো সমস্যা আছে। অনেক সময়ে মাসের পর মাস শরীরে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হবার পরেও তা মলে খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনার যদি অ্যানিমিয়ার লক্ষণগুলো চোখে পড়ে যেমন ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
২) আপনি সহজেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন
আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আরেকটি লক্ষণ হল সহজই দম ফুরিয়ে যাওয়া। কারণ এমনভাবে অ্যানিমিয়া তৈরি হলে আমাদের শরীর বেশি করে প্লাজমা বা রক্তরস, উৎপাদন করে, কিন্তু সে পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন করে না। ফলে আমাদের রক্ত কম পরিমাণে অক্সিজেন বহন করতে পারে এবং আমরা অক্সিজেনের কমতিতে ভুগে সহজে হাঁপিয়ে যাই।
৩) পেট ফাঁপা অথবা পেট ব্যথা
কোলনে খাবারের বর্জ্য আটকে যেতে শুরু করলে পেট ফেঁপে যাবে অবধারিতভাবেই। এছাড়াও পেটে ব্যথা হতে পারে। পেট ফাঁপা ও ব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। তারপরেও এসব উপসর্গ অনেকদিন ধরে দেখলে ডাক্তার দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি পেটের ডান দিকে সবসময় ব্যথা লক্ষ্য করেন, তাহলে এমনও হতে পারে যে রোগটি প্রাথমিক পর্যায় পার হয়ে আরও খারাপের দিকে মোড় নিয়েছে এবং লিভারে ছড়িয়ে গেছে।৪) আপনি প্রচন্ড কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন
মাঝে মাঝে সবারই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে, তা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই। বেশি করে ফাইবার জাতীয় খাবার খেলেই তা আবার ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এটা যদি খুব বেড়ে যায় এবং কিছুতেই এই অবস্থার উন্নতি করা না যায় তাহলে চিন্তিত হবার কারণ আছে বই কী। এই সমস্যার কারণ হতে পারে আপনার কোলনে থাকা কোনো প্রতিবন্ধকতা। তাই এই সমস্যা বেশিদিন থাকলে আপনার উচিৎ ভালো করে চেক করিয়ে নেওয়া।
৫) মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন
কোষ্ঠকাঠিন্য ছাড়াও ডায়ারিয়া, মলের আকৃতিতে পরিবর্তন, কালচে রঙের মলত্যাগ এগুলো লক্ষ্য করুন। তিন সপ্তাহ বা ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বজায় থাকলে এগুলো হতে পারে কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ। মলে রক্ত থাকলে তার রং লাল বোঝা নাও যেতে পারে। এ কারণে কালচে মলের ব্যাপারে সাবধান থাকা জরুরী। আর আপনার মল যদি আগের চাইতে চিকন আকৃতি ধারণ করে তাহলে এমন হতে পারে যে কোলনে পলিপ তৈরি হয়েছে এবং মলত্যাগের রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই সংকোচ না করে ডাক্তারকে খুলে বলুন।৬) অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস
ব্যায়াম বা খাদ্যভ্যাসজনিত কোনো কারণ ছাড়াই যদি আপনার ওজন অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে তবে সেটা যে কোনো ক্যান্সারের একটি নীরব লক্ষণ। কোলনে কোনো টিউমার থাকলে সেটা মেটাবলিজম বাড়ানোর কিছু রাসায়নিক নিঃসরণ করবে এবং ওজন হ্রাস পায় তার ফলে। এছাড়াও রুচি হ্রাস পাবার কারণে ওজন কমতে পারে। এ কারণে অকারণে ওজন কমলে খুশি হবার কিছু নেই।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেকটাই নিরাময়যোগ্য হতে পারে কোলন ক্যান্সার। এ কারণে বিলম্ব না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। কোলন ক্যান্সারের মতো খারাপ কিছু না হয়ে আরও কম ক্ষতিকর কোনো রোগ হতে পারে। কিন্তু সাবধানের মার নেই, এটা তো আমরা সবাই জানি, তাই না?

119
কাপড় টান টান করতে কম বেশি সবাই ভাতের মাড় ব্যবহার করে থাকি। এই ভাতের মাড় স্বাস্থ্যের জন্য কত উপকারী তা কি আপনি জানেন? ভাতের মাড় থেকে অনেকগুলো স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, ত্বক এবং চুল পরিচর্যায়ও ভাতের মাড়ের ভূমিকা রয়েছে। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সাধারণ ভাতের মাড়ের অসাধারণ কিছু গুণাবলী।
১। শক্তি প্রদান করে
এতে প্রচুর পরিমাণের কার্বোহাইড্রেইট থাকে যা শরীরে এ্যনার্জি প্রদান করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস রাইস ওয়াটার অথবা ভাতের মাড় খেয়ে দিন শুরু করুন। এটি সারাদিনের কাজের এ্যানার্জি দিয়ে থাকবে। ক্লান্তবোধ করলে খেয়ে নিতে পারেন এক গ্লাস ভাতের মাড়। নিমিষেই দূর করে দিবে আপনার সমস্ত ক্লান্তি।
২। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
ভাতের মাড়ে প্রচুর ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে। এটি পেটে উপকারি ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে থাকে। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
৩। ডায়ারিয়া প্রতিরোধে
ডায়রিয়া হলে এক গ্লাস ভাতের মাড় নিয়ে তাতে এক চিমটি লবণ ভালো ভাবে মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি খুব দ্রুত ডায়ারিয়া নিরাময় করে থাকে।৪। ক্যান্সার প্রতিরোধে
অবাক শোনালেও গবেষণায় দেখা গেছে ভাতের মাড় ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত ভাতের মাড় খেলে কয়েক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৫। সূর্যের রশ্মি থেকে সুরক্ষা
ওরিযানোল নামক উপাদান ভাতের মাড়ে রয়েছে যা সূর্যের ইউভি রশ্মি প্রতিরোধ করে। এটি ত্বকের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় দিক হতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।
৬। ত্বকের জন্য
মুখ ভাল করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর একটি তুলো ভাতের মাড়ে ভিজিয়ে সমস্ত মুখে টোনারের মত করে লাগিয়ে নিন। এটি ত্বক ময়েশ্চেরাইজার এবং এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে থাকে। যা ত্বকের উপর তামাটে প্রলেপ পড়ার প্রবণতা হ্রাস করে এবং বয়সের ছাপ পড়া রোধ করে থাকে।
যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি পাত্রে চাল নিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। ভাল করে কয়েকবার ধুয়ে পানি দিয়ে চুলায় চাল সিদ্ধ করতে দিন। চাল ফুটে আসলে নামিয়ে ফেলুন। তারপর চাল থেকে পানি আলাদা করে নিন। লক্ষ্য রাখবেন পানিতে কোন চাল যেন থেকে না যায়। পানিটি ঠান্ডা করার জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হলে এটি পান করুন।

120
Pharmacy / জ্যাম-কিডনি!!!
« on: March 01, 2016, 12:31:18 PM »
আপনার খাদ্যাভ্যাস বা জ্যাম শেষে বাসায় ফিরে মাথা ব্যাথা -কিডনি কি বলে?
সকালে শুকনো বিস্কিট খেয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। চা খাওয়ার পর পানি? নো ওয়ে। দুপুরের ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে লক্ষ্য করেছেন কি যতই দিন যাচ্ছে পানি পানের গ্লাস ও চিকন হয়ে যাচ্ছে? অথচ আপনার ডায়েট কন্ট্রোলের জন্য গ্লাসের স্বাস্থ্য ফ্যাটি হওয়া অত্যন্ত জরুরী আচ্ছা ভেবে দেখুন তো আপনি দুপুরে ঐ চিকন গ্লাসের কত গ্লাস পানি খেয়েছেন? সর্বোচ্চ দুই গ্লাস। ঐ দুই গ্লাস পানি মিলে ৩০০ মিলি পানি হবে কিনা সন্দেহ। আর থাকল রাতের খাবার ধরলাম তিন গ্লাস মানে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলি। মানে আপনি দিনে ৭০০ মিলি পানি খাচ্ছেন। আপনি জানেন কি আপনি দিনে কতটুকু প্রসাব করেন? স্বাভাবিক ভাবে প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ১.৫ লিটার। আর যদি ঢাকা শহরে থাকেন তবে চামড়া দিয়ে ঘামের মাধ্যমে ২০০ মিলি তো বটেই। ১.৫ লিটার প্রসাব স্বাভাবিক মানে বুঝেন কি? আপনার শরীরের ভিতর দৈনন্দিন কাজকর্মে যে ময়লা পদার্থ ইউরিয়া বা ক্রিয়েটিনিন জমে সেগুলো কমপ্লিট লি আপনার শরীর থেকে বের হতে এই পরিমান প্রসাব লাগে। কিন্তু আপনি যে ৭০০ মিলি খেলেন আবার চা বা কফি খেয়ে (চা, কফি ডাইইউরেটিকস যারা তাড়াতাড়ি প্রসাব তৈরি করে) সেটার কিছু অংশ বের করে দিলেন তাহলে কিডনি কিভাবে আপনার শরীরের সবটুকু ময়লা বা ইউরিয়া এবং ক্রিয়েটিনিন বের করে দিবে? সত্যি বলতে কিডনি সত্যি কিন্তু আপনাকে ভালোবাসে তাই নিজস্ব কিছু মেকানিজম দিয়ে এগুলোকে বের করার চেষ্টা করে। প্রথম দিকে সফলও হয় কিন্তু শেষে হয় বিকল! আপনি দেড় থেকে দুই লিটার পানি খেতেও কার্পন্য করেন অথচ বেচারা কিডনি দৈনিক ১৮০ লিটার রক্ত ছাঁকনি করে ময়লাগুলো বের করে! আপনার শরীরে রক্ত কত লিটার? মাত্র ৭ থেকে ৮ লিটার। তাহলে কিডনি এত্ত রক্ত পায় কোথায়? ভেবেছেন কখনো? আমার ভাবলেই খারাপ লাগে। বেচারা আপনার এক রক্তই বার বার ছেঁকে দেখে আর কোন ময়লা আছে কি না! ও ওর কাজে কত সিনসিয়ার আর আপনি এর বিনিময়ে কি দিচ্ছেন? পানিটুকুও দিচ্ছেন না এর ফলে ও হারিয়ে ফেলে কর্মক্ষমতা। ক্রনিক রেনাল বা কিডনি ফেইলিউর এর নাম শুনেছেন এর মানেই হলো কিডনি আপনার শরীর থেকে আর ইউরিয়া ক্রিয়েটিনিন বের করতে পারছে না। এ রোগ একবার হলে কিডনিকে আর ভালো করা যায় না আরেকজনের কিডনি কিনে লাগানো বা ট্রান্সপ্লান্ট না করা পর্যন্ত।
বাইরে বাসে জ্যামে অনেক্ষন আটকে ঘামে জুবজুবা হয়ে বাড়ি এসে দেখছেন মাথা ব্যাথা! আপনি জানলেনও না যে চামড়া দিয়ে ঘাম আকারে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে পানিস্বল্পতা হয়ে মাথা ব্যাথা করছে। আপনি ক করলেন? মাথা ব্যাথার ঔষধ খেলেন। পানিস্বল্পতা ও ব্যাথার ঔষধ মিলে কিডনির ১২ টা বাজালো। অথচ এক প্যাকেট ওরস্যালাইন ই যথেষ্ট ছিল আপনার এই মাথা ব্যাথা থামাতে। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। তাই যেখানে আপনার জ্যামে পড়ার বা যে কাজে আপনার শরীর ঘেমে যাবে আগেই স্যালাইন খেয়ে নিন

Pages: 1 ... 6 7 [8] 9