Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - farjana aovi

Pages: 1 [2] 3 4 ... 9
16
ব্লাড ক্যানসার বা রক্তের ক্যানসার নিয়ে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত। সময়ের সঙ্গে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি পাল্টেছে, অনেক উন্নতিও লাভ করেছে।

মূলত লিউকেমিয়াকে আমরা ব্লাড ক্যানসার বলে থাকি। এটি হলো রক্তকোষের ক্যানসার, বিশেষত শ্বেত রক্তকণিকার ক্যানসার। রক্তকোষ তৈরি হয় বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জায়, তারপর ধাপে ধাপে পরিপক্ব বা পরিণত হয়ে অবশেষে এটি রক্তে আসে। যদি কোনো কারণে অতিমাত্রায় ও অস্বাভাবিকভাবে এই রক্তকোষ তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো পরিপক্ব হতে পারে না। এতে প্রচুর অপরিপক্ব ও অস্বাভাবিক রক্তকোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে। মূলত শ্বেত রক্তকণিকাই বেশি আক্রান্ত হয়। কিন্তু ক্রমে অস্থিমজ্জা পুরোপুরি আক্রান্ত হওয়ার কারণে রক্তের অন্যান্য কোষের অভাবও দেখা দেয়।

কেন হয়?

ব্লাড ক্যানসার কেন হয় তার সঠিক কারণটি এখনো অস্পষ্ট। নানা ধরনের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব, রাসায়নিক বর্জ্য, ধূমপান, কৃত্রিম রং, কীটনাশক, ভাইরাস ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়। এগুলোর প্রভাবে জিনে মিউটেশন ঘটে যায় ও কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিক উল্টাপাল্টা সংকেত প্রবাহিত হয়। তখন কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, অপরিণত অস্বাভাবিক কোষ রক্তপ্রবাহে চলে আসে। ব্লাড ক্যানসার ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। ব্লাড ক্যানসার ছোট–বড় যে কারও হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন?

দীর্ঘদিনের জ্বর, রক্তশূন্যতা, ত্বকে লাল র‌্যাশ, দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, হাড়ে ব্যথা, বারবার সংক্রমণ ইত্যাদি সব উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে ব্লাড ক্যানসার। অনেক সময় কেবল রুটিন পরীক্ষা করতে গিয়েই ধরা পড়ে। রক্তের কাউন্ট ও পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্মই বেশির ভাগ সময় রোগ ধরিয়ে দেয়। তবে বোনম্যারো পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়। ফ্লো সাইটোমেট্রি, ইমিউনোফেনোটাইপিং ইত্যাদি আধুনিক পরীক্ষা এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতেই হচ্ছে। সাইটোজেনেটিকস করলে রোগের কেমোথেরাপির ধরন সম্পর্কে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, রোগ সারাইয়ের সম্ভাবনা আঁচ করা যায়।

লিউকেমিয়া চিকিৎসায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। শিশুদের একিউট লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় নিরাময়ের হার উন্নত বিশ্বে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ও আধুনিক কেমোথেরাপি রোগীদের সেরে ওঠার আশার আলো দেখাচ্ছে।
Source: ডা. গুলজার হোসেন, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ

17

অল্প কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার জন্য হাত বা পা অবশ, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা অন্ধকার দেখা ইত্যাদি আর তারপর নিজে নিজেই সব ঠিক হয়ে যাওয়া—এ রকম অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ট্রানসিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক। অনেকে বলেন মিনি স্ট্রোক। যদিও এতে স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতের মতো দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠলেও এই মিনি স্ট্রোক একটি সতর্কবার্তা। কেননা, প্রতি তিনজন মিনি স্ট্রোকের রোগীর মধ্যে অন্তত একজন অদূর ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই আগেই জীবনাচরণ পাল্টে ও চিকিৎসা নিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো জরুরি।
কীভাবে বুঝবেন

• হঠাৎ এক হাত, এক পা, শরীরের এক পাশ বা মুখ অবশ হয়ে পড়ে, দুর্বল অনুভব করা

• হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া

• চোখে অন্ধকার দেখা বা কোনো কিছু দুটো দেখা

• হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

• চেতনা হারানো বা চলাফেরার ভারসাম্যহীনতা

ওপরের যেকোনো উপসর্গ কিছু সময়ের জন্য থাকার পর নিজে নিজেই সেরে ওঠা মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী আবার ভালো বোধ করেন।

কেন হয়

যেসব কারণে মানুষের স্ট্রোক হয়, সেসবই এর জন্য দায়ী। মস্তিষ্কে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া বা রক্ত জমাট বেঁধে অল্প কিছুক্ষণ পর আবার রক্তপ্রবাহ সচল হওয়ার কারণে মিনি স্ট্রোক হয়। বয়স বৃদ্ধি, পারিবারিক ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল, ধূমপান, হৃদ্‌রোগ ইত্যাদি হলো এর কারণ।
Source: prothom alo

18
Health Tips / হিমোফিলিয়া
« on: April 07, 2019, 09:58:05 AM »
২৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামের ইতিহাস শোনালেন বাবা নুরুল ইসলাম। ছেলে হিমোফিলিয়া রোগী। ছেলের শৈশবে এই রোগের নাম শুনে ঘাবড়ে গিয়েছিল পুরো পরিবার। তবে থমকে যায়নি। এই রোগের ইতিবৃত্ত জানার জন্যই নুরুল ইসলাম গড়ে তোলেন একটি সংগঠন। নাম হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ। বর্তমানে তিনি এ সোসাইটির সভাপতি।

হিমোফিলিয়া হলো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জন্মগত রোগ। এটি ছেলেদের হয়। আর মেয়েরা হয় বাহক, অর্থাৎ মেয়েরা জিন বহন করে। মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের মধ্যে এর বিস্তার হয়। ছেলের বেলায় রোগটি প্রকাশ পায়। তবে রোগটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়।

নুরুল ইসলামের ছেলে বর্তমানে দেশের বাইরে থাকেন। বিয়ে করেছেন। নুরুল ইসলামের পরিবার এই ছেলের পাশে ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তবে এ রোগ নিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের ইতিহাস এখানেই থেমে নেই। তাঁর মেয়ে এ রোগের বাহক। বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী মেয়েও দেশের বাইরে থাকেন। এই মেয়ের ছেলেও একই রোগে আক্রান্ত। এ কারণে পরিবারটির সংগ্রাম চলছেই।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হিমোফিলিয়া রোগীদের রক্তক্ষরণ দীর্ঘক্ষণ ধরে হতে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ ফ্যাক্টর এইটের ঘাটতির জন্য হিমোফিলিয়া ‘এ’ এবং ফ্যাক্টর নাইনের ঘাটতির জন্য হিমোফিলিয়া ‘বি’ হয়। বংশানুক্রমের বাইরেও প্রতি তিনজন রোগীর মধ্যে অন্তত একজন নতুন করে আক্রান্ত হয়।

নুরুল ইসলামের সঙ্গে গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসেছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করা আবু সায়ীদ আরিফ। প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি নুরুল ইসলামের সঙ্গে হয়তো এমনিই সঙ্গ দিতে এসেছেন। তবে জানা গেল অন্য ইতিহাস। আবু সায়ীদের শ্বশুর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন হিমোফিলিয়া সোসাইটির প্রথম সভাপতি। তিনি নিজেই ছিলেন রোগী। ২০০১ সালে ৫৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তবে রোগের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মেয়ে হয়েছেন হিমোফিলিয়ার বাহক। অর্থাৎ আবু সায়ীদ ও তাঁর স্ত্রীর তিন বছর চার মাস বয়সী ছেলে হয়েছে রোগী। জন্মের পর ছয় মাস বয়সেই এই বাবা-মা জানতে পারেন ছেলের সমস্যার কথা। তাঁদের আরেক মেয়ে আছে, তবে প্রায় আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রোগটির বাহক কি না—তা জানতে যেতে হবে দিল্লি। দেশে এটি জানার কোনো উপায় নেই।

দেশে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো তথ্য নেই। আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার জনে একজনের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই হিসাব ধরে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ১০ হাজার ৬৪০ জনের মতো হিমোফিলিয়া রোগী রয়েছে। তবে হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ জন রোগী চিহ্নিত করে সমিতিতে নিবন্ধন করেছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ রোগী চিহ্নিতকরণের আওতার বাইরেই রয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী রোগীদের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমোফিলিয়া রোগীর কোথাও কেটে গেলে বা সামান্য আঘাত পেলে এই রোগীর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটু, পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি, পাকস্থলী, মস্তিষ্ক, ঘাড়, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পেশিতে রক্তক্ষরণের ফলে কালো কালো দাগ দেখা যায়। রোগটির স্থায়ী নিরাময়যোগ্য কোনো চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গের তাৎক্ষণিকভাবে উপশমের ব্যবস্থা আছে। যে ফ্যাক্টরগুলোর ঘাটতির জন্য রোগটি হচ্ছে, তা শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে দিয়ে চিকিৎসা করানো যায়। তবে এ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে বা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

হিমোফিলিয়া হলে কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটু, পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। ছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যেহিমোফিলিয়া হলে কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটু, পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। ছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যে২৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সংগ্রামের ইতিহাস শোনালেন বাবা নুরুল ইসলাম। ছেলে হিমোফিলিয়া রোগী। ছেলের শৈশবে এই রোগের নাম শুনে ঘাবড়ে গিয়েছিল পুরো পরিবার। তবে থমকে যায়নি। এই রোগের ইতিবৃত্ত জানার জন্যই নুরুল ইসলাম গড়ে তোলেন একটি সংগঠন। নাম হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ। বর্তমানে তিনি এ সোসাইটির সভাপতি।

হিমোফিলিয়া হলো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জন্মগত রোগ। এটি ছেলেদের হয়। আর মেয়েরা হয় বাহক, অর্থাৎ মেয়েরা জিন বহন করে। মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের মধ্যে এর বিস্তার হয়। ছেলের বেলায় রোগটি প্রকাশ পায়। তবে রোগটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়।

নুরুল ইসলামের ছেলে বর্তমানে দেশের বাইরে থাকেন। বিয়ে করেছেন। নুরুল ইসলামের পরিবার এই ছেলের পাশে ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তবে এ রোগ নিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের ইতিহাস এখানেই থেমে নেই। তাঁর মেয়ে এ রোগের বাহক। বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী মেয়েও দেশের বাইরে থাকেন। এই মেয়ের ছেলেও একই রোগে আক্রান্ত। এ কারণে পরিবারটির সংগ্রাম চলছেই।

RFL Gas Stove
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হিমোফিলিয়া রোগীদের রক্তক্ষরণ দীর্ঘক্ষণ ধরে হতে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ ফ্যাক্টর এইটের ঘাটতির জন্য হিমোফিলিয়া ‘এ’ এবং ফ্যাক্টর নাইনের ঘাটতির জন্য হিমোফিলিয়া ‘বি’ হয়। বংশানুক্রমের বাইরেও প্রতি তিনজন রোগীর মধ্যে অন্তত একজন নতুন করে আক্রান্ত হয়।

নুরুল ইসলামের সঙ্গে গত মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসেছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করা আবু সায়ীদ আরিফ। প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি নুরুল ইসলামের সঙ্গে হয়তো এমনিই সঙ্গ দিতে এসেছেন। তবে জানা গেল অন্য ইতিহাস। আবু সায়ীদের শ্বশুর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন হিমোফিলিয়া সোসাইটির প্রথম সভাপতি। তিনি নিজেই ছিলেন রোগী। ২০০১ সালে ৫৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তবে রোগের ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মেয়ে হয়েছেন হিমোফিলিয়ার বাহক। অর্থাৎ আবু সায়ীদ ও তাঁর স্ত্রীর তিন বছর চার মাস বয়সী ছেলে হয়েছে রোগী। জন্মের পর ছয় মাস বয়সেই এই বাবা-মা জানতে পারেন ছেলের সমস্যার কথা। তাঁদের আরেক মেয়ে আছে, তবে প্রায় আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রোগটির বাহক কি না—তা জানতে যেতে হবে দিল্লি। দেশে এটি জানার কোনো উপায় নেই।

দেশে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো তথ্য নেই। আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার জনে একজনের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই হিসাব ধরে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ১০ হাজার ৬৪০ জনের মতো হিমোফিলিয়া রোগী রয়েছে। তবে হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ জন রোগী চিহ্নিত করে সমিতিতে নিবন্ধন করেছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ রোগী চিহ্নিতকরণের আওতার বাইরেই রয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী রোগীদের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমোফিলিয়া রোগীর কোথাও কেটে গেলে বা সামান্য আঘাত পেলে এই রোগীর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটু, পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি, পাকস্থলী, মস্তিষ্ক, ঘাড়, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পেশিতে রক্তক্ষরণের ফলে কালো কালো দাগ দেখা যায়। রোগটির স্থায়ী নিরাময়যোগ্য কোনো চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গের তাৎক্ষণিকভাবে উপশমের ব্যবস্থা আছে। যে ফ্যাক্টরগুলোর ঘাটতির জন্য রোগটি হচ্ছে, তা শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে দিয়ে চিকিৎসা করানো যায়। তবে এ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে বা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে কালো কালো দাগ দেখা যায়। ছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যেরক্তক্ষরণের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে কালো কালো দাগ দেখা যায়। ছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যেনুরুল ইসলাম জানান, যেহেতু রোগটি চিহ্নিত হচ্ছে না, ফলে গ্রামাঞ্চলে মনে করা হয় রোগীকে জিন-ভূতে ধরেছে। আর এ ধরনের সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না বলে রোগী একসময় পঙ্গুত্ব বরণ করে পরিবারের বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

অভিভাবক হিসেবে অসহায়ত্বের কথা জানালেন আবু সায়ীদ আরিফ। তিনি বললেন, অভিভাবকদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়, যাতে সন্তান কোনোভাবেই ব্যথা না পায়। আর ব্যথা পেয়ে গেলে বা উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা করার সময় থাকে না। বিনা মূল্যে ইনজেকশন সব সময় পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও সেই ইনজেকশন কে পুশ করবে, তা নিয়েও চিন্তার অন্ত থাকে না। এ ছাড়া এ রোগে দুটি চিকিৎসাপদ্ধতি আছে। একটি হচ্ছে, রোগীর যে ঘাটতি, তা পূরণে নিয়মিত চিকিৎসা করে যাওয়া। এতে রোগী উন্নত মানের জীবন যাপন করতে পারে। আরেকটি হচ্ছে উপসর্গ দেখা দিলে তার চিকিৎসা করা, এতে রোগীর জীবনধারণ করে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। খরচের কথা চিন্তা করে বেশির ভাগ অভিভাবককেই উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

মাত্র ছয়জন রোগী নিয়ে রাজধানীতে হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ (১৫২/১, গ্রিন রোড) ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত এ সমিতি ১৯৯৬ সালে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার সদস্যপদ লাভ করেছে। এই সোসাইটি বর্তমানে রোগী চিহ্নিতকরণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়া থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া ফ্যাক্টর ইনজেকশন বিনা মূল্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে সরবরাহের মাধ্যমে রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসকদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণে সহায়তা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সোসাইটির পক্ষ থেকে হিমোফিলিয়া তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে।

ছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যেছবি: হিমোফিলিয়া সোসাইটির সৌজন্যে
সোসাইটির দেওয়া তথ্য বলছে, এখানে নিবন্ধিত রোগীর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারে। সেটিও শুধু রোগীর বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই। এই রোগের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হিমোফিলিয়া সোসাইটি প্রতিবছর ১৭ এপ্রিল হিমোফিলিয়া দিবস পালন করে।

হিমোফিলিয়া সোসাইটির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৯২ জন হেমাটোলজিস্ট চিকিৎসক আছেন। কোনো চিকিৎসকের পক্ষে এই রোগীদের এককভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব না। ফিজিওথেরাপিস্টসহ পুরো একটি দলের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন হয়, যা দেশের রোগীরা পাচ্ছেন না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ও হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক এম এ খান প্রথম আলোকে বলেন, হিমোফিলিয়া রোগটি একটি বংশগত রোগ এবং রোগীকে জীবনব্যাপী চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়। তবে এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখন পর্যন্ত সরকারি খরচে রোগীরা চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে না। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বারবার বিষয়টি জানানো হচ্ছে। কেননা সরকারের উদ্যোগ ছাড়া এ রোগীর চিকিৎসা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব না। উন্নত বিশ্বে সরকারের পক্ষ থেকে এই রোগীরা যাতে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পায় তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হিমোফিলিয়া সোসাইটির পক্ষ থেকে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। লিখিত ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি খরচে হিমোফিলিয়া রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর নিবন্ধন করে সরকারিভাবে চিকিৎসার সুযোগ থাকলে ভুক্তভোগী রোগী ও পরিবারগুলোর ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।
Source: Prothom alo

19
Life Style / মাইগ্রেন ও খাবার
« on: March 24, 2019, 10:03:32 AM »
মাইগ্রেন বা আধকপালি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। অনেককেই ভোগায় এই মাইগ্রেন। এতে মাথার এক পাশ বা দুই পাশজুড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয় মাঝেমধ্যে, সঙ্গে বমি ভাব, বমি, চোখব্যথা, চোখের সামনে আঁকাবুকি দেখা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। মাইগ্রেনের সঙ্গে জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। কিছু খাবার মাইগ্রেনের আক্রমণ কমাতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার আছে, যা খেলে অ্যাটাক হয়। তাই জেনে নিন মাইগ্রেনের রোগীর খাবার সম্পর্কে।

যা বেশি করে খাবেন
বাঁধাকপি-বাঁধাকপির ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা ৩ ও ফাইবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। বাঁধাকপির স্যুপ, স্মুথি বা সালাদ রোজকার খাবারে রাখুন।
গাজর ও মিষ্টি আলু: এ দুটিতে বিটা ক্যারোটিন অনেক। তা ছাড়া ভিটামিন সি, বি২, বি৬, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস আছে, যা ব্যথা ও প্রদাহ দূর করে।

মাশরুম: ম্যাগনেশিয়াম ও রিবোফ্লোবিন থাকায় মাশরুম মাইগ্রেনের স্থিতি ও পুনরাবৃত্তি রোধ করে।

চেরি: এই ফলে প্রচুর পলিফেনলস নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি স্ট্রেস দূর করে, মাথাব্যথা কমায়। চেরি ফলের জুসও ভালো। অরগান মিট: অরগান মিট হলো প্রাণীর ভেতরকার সেসব অঙ্গ যেমন যকৃৎ, হার্ট, কিডনি ইত্যাদি। এতে ভিটামিন বি১২ ও এ থাকার কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। যাঁদের দূরে যাত্রার কারণে মাথাব্যথা হয়, তাঁরা ভ্রমণের সময় এই অরগান মিট রাখতে পারেন বা যাত্রার আগে খেতে পারেন। চিংড়ি: চিংড়ির অ্যাসটাজ্যানথিন মাইগ্রেনের অ্যাটাক কমায়। আদা: মাইগ্রেনের ব্যথা ওঠার পর আদা দেওয়া চা বা কয়েক চামচ আদার গুঁড়া পানিতে গুলে খেলে ব্যথা কমে যাবে। শজনেপাতার রস: শজনেপাতায় অনেক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শজনেপাতার রস দিয়ে তৈরি চা খেলে মাথাব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

যা খাবেন না

চকলেট, অ্যালকোহল (ওয়াইন), ডিম, দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য, পেঁয়াজ, টমেটো, সাদা রুটি মাইগ্রেনের অ্যাটাকের সময় খাওয়া উচিত নয়। আর মনে রাখবেন মাইগ্রেনের ব্যথার সময় প্রচুর পানি পান করবেন।
Source:
পুষ্টিবিদ, বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতাল, বাসাবো

20
Phd Student / Prime Minister Fellowship Announcement 2019
« on: March 21, 2019, 11:09:53 AM »
Prime Minister Fellowship Announcement 2019.

Governance Innovation Unit of Prime Minister Office announce “Prime Minister Fellowship” for Master’s and Phd student’s from Bangladeshi citizens.

Primarily focus below subjects for achieve SDGs goals:

Economics, Public Policy, Public Management, Public Administration, Governance, Development Administration, Legal Studies, Peace and Conflict Studies, Environmental Issues, Global Issues, Global Warming, Climate Change, Disaster Management, Power and Energy, Development Economics, Social safety Net, Project Management, Financial Management, Business & Trade, Organizational Leadership, ICT Management, Performance Management, Issues related to Policy Consultancy and Social Policy Analysis, Women and Gender, Water and Maritime, Autism, Refugee and Migration, International Relation, Infrastructure, Health and Nutrition etc.Location: Bangladesh
Benefits

Maximum aid provided for 60 lakh for Master’s program and 2 core for Phd program.
Eligibilities

    Must have an unconditional offer letter (full time) from any University. 1st July 2019 to 31st December 2019.
    University rank must between 1 to 300; The Times Higher Education World University Ranking 2019 or QS World University Rankings 2019.
    TOEFL iBT result must higher 80 and IELTS score at least 6.
    Age limitation maximum: 45 years (Phd) and 40 years (Masters).
    See more details at official website.

Eligible Regions: BangladeshApplication Process

    Apply through specific form which is given giupmo.gov.bd, according to mentioned specific format.
    Send your application through these e-mail:

pmfphd2019@gmail.com (Phd)

pmfms2019@gmail.com (Masters) and also send one copy through postal or direct.

    Include documents with application:

    Attach both MS Word and PDF version.
    Submit your ‘Statement of Purpose (SoP)’ include your suitability for the scholarship, linkage of proposed research/ study with SDG implementation, future prospects of utilizing the knowledge acquired through this study program and professional experience.
    All certificate and transcript.
    National Identity Card.
    TOEFL Ibt /IELTS exam result copy.
    Unconditional offer letter (full-time) from University.
    Experience certificate.
    Two copy passport size recent photo.

Frequently Asked Questions.

Application Deadline: March 31, 2019 (10 Days Remaining)
Official link attached.

21
এমন অনেক মানুষ আছে যারা বিকেল বেলায় ঘুমানো ছাড়া থাকতেই পারেন না। এভাবে একটা সময় দিনের বেলায় ঘুম একটি অভ্যাস হয়ে ওঠে। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে কেন আপনার প্রতিদিন বিকেল বেলায় ঘুম পায়?
এটা আপনার রাতে কম ঘুমানোর জন্য হতে পারে। কারণ রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে বা বারবার ঘুম ভেঙে গেলে দিনের বেলা ঘুম ঘুম অনুভূত হয় এবং কোন কাজেই ঠিকমত মন বসে না। যাই হোক, এই দিনের বেলায় ঘুম কি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না খারাপ? কিছু মানুষ মনে করে যে, দিনের বেলা ঘুমানো দেহের জন্য ভালো, এতে দেহের অনেক উপকার হয়। আবার কিছু মানুষ আছেন যারা তাদের জীবনে কখনোই দিনের বেলা ঘুমাতে পছন্দ করেন না, তাদের মতে এটি দেহের জন্য খুব খারাপ, এতে স্বাস্থ্যহানি  ঘটে।

আয়ুর্বেদে এই সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। দিনের বেলা ঘুমানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং উপকারিতা সম্পর্কেও আয়ুর্বেদে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক দিনের বেলায় ঘুমের অপকারিতা বা উপকারিতা সম্পর্কে আয়ুর্বেদ কী বলে।
দিনের বেলায় ঘুম ও তার চক্র

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, আমাদের দেহচক্র প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ৩টি চক্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই ৩টি চক্র হলো- ভাতা, পিটা এবং কাপা।

এই প্রতিটি চক্র নিজ নিজ দশা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের শরীর একটি ছন্দের মধ্য দিয়ে চলে। এই প্রাকৃতিক ছন্দের মাধ্যমে আমরা কাজের গতি এবং আনন্দ খুঁজে পাই।
আয়ুর্বেদ অনুসারে যাদের দিনের বেলা ঘুমানো উচিত নয়

১) যারা স্থুলতায় ভুগছেন তাদের দিনে ঘুমানো উচিত নয়। এতে ওজন আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২) ডায়াবেটিক রোগীদের দিনে ঘুমানো উচিত নয়।

৩) যারা ওজন কমানোর জন্য পরিশ্রম করছেন।

৪) যারা প্রচুর তৈলাক্ত খাবার খেয়ে থাকেন।
দিনের বেলায় ঘুম কী কী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?

আয়ুর্বেদে দিনের বেলায় ঘুম অ্যাভয়েড করার জন্য বলা আছে কারণ এতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। কিছুটা নিম্নরূপ-

    জ্বর
    ঠাণ্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি
    স্থূলতা
    গলার রোগ
    বমি ভাব
    বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া
    চর্মরোগ
    দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম
    দুর্বল ইন্দ্রিয় অঙ্গ
Sources: Website.

22
গবেষকদের মতে, তাপ শাকের অ্যান্টি অক্সিডেন্টকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া ধ্বংস করে লুটিনের মতো রাসায়নিক যৌগ যা হৃদযন্ত্র ‌ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

নতুন এক গবেষণায় দেখানো হয়েছে, পাতাযুক্ত সবজি খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হলো একে মেশাতে হবে স্মুদি কিংবা দইয়ের সঙ্গে।

ওই গবেষকরা জানান, পাতাযুক্ত সবজি রান্না করা হলে এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভেঙে যায়। যখন এটি কাঁচা অবস্থায় দই বা দুধের সঙ্গে মেশানো হয় তখন এতে থাকা লুটিন নামের রাসায়নিক যৌগ অক্ষুণ্ন থাকে।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, শাক সিদ্ধ বা ভাজি করলে এর লুটিন ধ্বংস হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে লুটিন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় এবং চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

শাক রান্না করলে এর পুষ্টি সামগ্রী কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা নিয়ে পরীক্ষা চালান সুইডেনের লিংকপিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তাঁরা দেখেন, স্মুদি, দই কিংবা দুধে কাঁচা শাক কেটে তা মেশালে এর লুটিন মাত্রা অক্ষুণ্ন থাকে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি গবেষক রোসান্না চুং বলেন, 'শাক গরম করা আদৌ ভালো নয়।'

ওই গবেষণার ফল প্রকাশের সময় বলা হয়েছে, অল্প তাপমাত্রায় কিংবা ভাপে সিদ্ধ করলে খাবারটির ভিটামিন অক্ষুণ্ন থাকে। এ ছাড়া শাক মাইক্রোওয়েভে গরম করাও একটি স্বাস্থ্যকর উপায়।

গবেষণার এই ফল ফুড কেমিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র : ডেকান ক্রনিকল

23
হৃদযন্ত্রের সমস্যা আর উচ্চ রক্তচাপ- একটি আরেকটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। উচ্চ রক্তচাপ একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি (এটি পুরো শরীরের ক্ষতি করে) এবং এখানে আপনার সংখ্যাটি জানতে হবে। কিন্তু আপনার হার্ট রেট কী একই জিনিস? যদি আপনার 'হাই রেস্টিং হার্ট রেট' থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি আপনার রক্তচাপ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে নির্দেশ করছে।

রক্ত চাপ, হার্ট রেট এবং এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার তা নিচে দেওয়া হলো :

রক্ত চাপ কি?
উচ্চ রক্তচাপ কেন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তা বোঝার জন্য, আপনাকে জানতে হবে আপনার শরীরে কী ঘটছে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন'র মতে, আপনার রক্তনালীর ভেতর দিয়ে ক্রমাগত রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছে এবং এই ধারা হৃদযন্ত্রে গিয়ে মিলিত হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন তখনই হয় যখন আপনার ধমনী বেষ্টনীর বিপরীতে রক্তের চাপ অনেক বেশি থাকে। এতে ধমনী প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর এই চাপই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায়।

রক্তচাপ পরীক্ষায় দুটি সংখ্যা উপস্থাপন করা হয়। এতে সবসময় সিস্টোলিক চাপ ওপরে এবং ডায়াস্টলিক চাপ নিচে লিখে প্রকাশ করা হয়। যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি ১৪০ এর ওপরে এবং পরের সংখ্যাটি ৯০ এর বেশি হলে বুঝতে হবে আপনি হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের ভেতর আছেন।

হার্ট রেট কি?
হার্ট রেট হচ্ছে আপনার হৃদযন্ত্রের কম্পন প্রতি মিনিটে কতবার অনুভূত হয় সেই সংখ্যা। আপনার রেস্টিং হার্ট রেট জানতে, প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। তারপর, দুই আঙুল রাখুন হাতের কব্জির কেন্দ্রে অবস্থিত রেডিয়াল ধমনীতে। ১৫ সেকেন্ডে কম্পনগুলো গণনা করুন। এবার ওই কম্পন সংখ্যাকে ৪ দিয়ে গুণ করলে পেয়ে যাবেন আপনার রেস্টিং হার্ট রেট।

সাধারণত, প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার কম্পনের মধ্যে রেস্টিং হার্ট রেট পুরোপুরি স্বাভাবিক। ক্রীড়াবিদ বা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৬০ এর কম হতে পারে।

এই দুইয়ের মধ্যে সবসময় সম্পর্ক বিদ্যমান?
যেহেতু দুই অবস্থাই জানতে হয় হৃদযন্ত্র দিয়ে, তাই মনে হতে পারে এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে। কিন্তু ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক নোটস'র মতে, এটি আসলে একটি মিথ যে আপনার হার্ট রেট এবং রক্তচাপ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপ এবং হার্ট রেট-এর একই সময় ওঠানামা খুবই সাধারণ ব্যাপার। আপনি উভয় হার একইরকম দেখে মনে করতে পারেন এটি ভয়ঙ্কর ব্যাপার। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার হার্ট রেট এবং রক্তচাপ সংখ্যা দুটোই নিজস্ব গতিতে বাড়তে পারে। একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

উচ্চ রক্তচাপ উচ্চ হার্ট রেটের চেয়ে বিপজ্জনক
সামান্য উচ্চ রক্তচাপ মাত্রা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। আপনি না পারলেও আপনার রক্তনালী এই প্রভাব অনুভব করবে। অর্থাৎ, হাইপারটেনশন উচ্চ হার্ট রেটের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। সুতরাং, বিষয়টি স্পষ্ট হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র : চিটশিট

24
Pharmacy / শীতে ঘি
« on: January 24, 2019, 12:32:47 PM »
‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিকেল রিসার্চ’–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্দি-কাশি সারাতে, দুর্বলতা কাটাতে, ত্বকের সমস্যা দূর করতে ঘি ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ঘিয়ে পেঁয়াজ ভেজে খেলে গলা ব্যথা সারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতকালই ঘি খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এ সময় এটি সহজে হজম হয় ও শরীর গরম রাখে। এতে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে আছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি পেশি সুগঠিত রাখতে ঘি কার্যকর। এ ছাড়া শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারে ঘি। প্রতিদিন সকালে এক বা দুই চা-চামচ ঘি খাওয়া যেতে পারে। এরপর গ্রিন টি বা সাধারণ চা ও কফি খেলে উপকার পাওয়া যায়। ঘি অবশ্য অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো। যাদের কোলস্টেরলের সমস্যা আছে, তাদের অবশ্য ঘি এড়িয়ে চলাই উচিত।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘি খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকের জন্যও দারুণ উপকারী। বিশেষ করে ত্বকের যত্নে পুরোনো ঘিয়ের গুণাগুণ অনেক। ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহার করলে পাবেন নানা সুবিধা। খাবারে ঘিয়ের ব্যবহার যেমন স্বাদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে, তেমনি উপকারী রূপচর্চাতেও

25
রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংস লাফায়, কী যেন পিড়পিড় করে হাঁটে, পা ঝাঁকুনি দেয়—এমন অদ্ভুত সব উপসর্গের কথা শুনলে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই। এই সমস্যার নাম রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম। আমাদের আশপাশের অনেক মানুষই এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় অনুভূতির সঠিক প্রকাশটা করে উঠতে পারেন না বা বুঝিয়ে বলতে পারেন না।

রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে রাতে বা বিশ্রামের সময় বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর পায়ের পেশিগুলোতে একধরনের অস্বাভাবিক অনুভূতি হয়। তখন পা নাড়ালে বা পা নাচালে ভালো লাগে। কেউ আরাম পাওয়ার আশায় রাতে উঠে হাঁটতে শুরু করেন, বা হাত দিয়ে পা মালিশ করতে থাকেন, কেউ আবার বাড়ির ছোটদের বলেন পায়ের ওপর বসে গড়াগড়ি খেতে। কারও সত্যি সত্যি ঘুমের মধ্যে পায়ের মাংসপেশি লাফায় বা পা ঝাঁকুনি খায়।

কী করবেন
রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের পেছনে কোনো নিরাময়যোগ্য কারণ থাকলে তার চিকিৎসা করুন। যেমন আয়রনের অভাব থাকলে তা পূরণ করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা বা স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা দূর করা। কিছু সাধারণ জীবনাচরণ পরিবর্তন আরাম দিতে পারে। যেমন রাতে ঘুমানোর আগে হট শাওয়ার বা পায়ের পেশিতে গরম পানির সেঁক দেওয়া, পেশির কিছু ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং, পায়ের ম্যাসাজ, অতিরিক্ত কফি এড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি। স্লিপ ডিসঅর্ডার বা ঘুমের সমস্যা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের একটা বড় কারণ। তাই ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।

26
Pharmacy / শিশুর প্রথম ছয় বছর
« on: January 24, 2019, 12:21:21 PM »
বছরের এই সময়টা স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ। দিনে রোদের তাপ, ভোররাতে শীত শীত ভাব। শোয়ার সময় ফ্যান ছেড়ে ঘুমালে শেষরাতে ঠান্ডা লেগে যায়। তাই শোয়ার সময় কাঁথা, লেপ বা গরম কাপড় পাশে নিয়ে ঘুমান এবং ফ্যান একেবারে জোরে না দিয়ে আস্তে চালিয়ে দিন। রাতের বেলায় শিশুদের ক্ষেত্রে একটু বাড়তি নজর দিন।

১ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুর যত্ন
* এই বয়সে শিশুরা অনেক খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি করে। তাই খুব বেশি গরম ও ভারী কাপড় পরানোর প্রয়োজন হয় না। তবে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ও বিকেলে খেলতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত উষ্ণতা নিশ্চিত করুন।
* স্কুলে পরস্পরের মাধ্যমে শীতকালে কিছু ছোঁয়াচে চর্মরোগ হতে পারে। তাই বাচ্চার ত্বকের প্রতি খেয়াল রাখুন। নিয়মিত লোশন লাগান যেন ত্বক শুষ্ক হয়ে না যায়।
* গোসলের আগে সরিষার তেল ব্যবহার না করে জলপাই তেল ব্যবহার করাই ভালো। গোসলের পর বেবি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সাবান এবং এক দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।
* শাকসবজি ও ফল, যেমন: কমলা, বরই—এগুলো বেশি করে খেতে দিন।
* ত্বকের যত্নে শিশুর গায়ে বেবি অয়েল বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।

সতর্কতা
শীতের শুরুতে এবং রোদ উঠলে মাঝেমধ্যেই শিশুর লেপ, তোশক, কম্বল, চাদর ইত্যাদি রোদে দিতে হবে। রোদ থেকে তোলার পর তা ঝেড়ে ঘরে রাখতে হবে। আর ধুলাবালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এসবের ওপর কাপড়ের কভার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

যা করবেন না
* অযথা শিশুকে অতিরিক্ত সোয়েটার পরিয়ে রাখবেন না।
*  শিশুর নাক বা মুখের ওপর কাপড়, লেপ, কম্বল ইত্যাদি দেবেন না।
* জ্বর হলে শিশুকে অতিরিক্ত জামাকাপড় পরাবেন না। এতে শরীরের তাপ আরও বেড়ে যায়।

১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর যত্ন
* শিশুকে প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ রাখুন। স্যাঁতসেঁতে ঘরেও তাকে রাখা ঠিক হবে না।
* বাচ্চাকে বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়ান। ঘুমের মধ্যে ঠান্ডা দুধ দেবেন না।
* বয়স ছয় মাসের বেশি হলে বাচ্চাকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দিন। খিচুড়িতে ডিমের সাদা অংশ, লাল শাক, পালং শাক অল্প করে দিতে পারেন। লেবুর রস দেবেন, কমলার রস খাওয়াবেন। এতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়বে।
* যেসব বাচ্চা হামাগুড়ি দেয়, দেখবেন, তারা যেন ঠান্ডা মেঝেতে হামাগুড়ি না দেয়। তবে কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, কার্পেটের রোয়া বা ধুলা থেকে অ্যালার্জি হয়। তাই মাদুর বা ম্যাট ব্যবহার করাই ভালো।
* ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে এক দিন অন্তর গোসল করান। গোসলের পর বেবি লোশন লাগাবেন। অনেকে নবজাতককে নিয়মিত গোসল করান না। এ কারণে বাচ্চার গায়ে ফুসকুড়ি ওঠে এবং এর মধ্যে পুঁজ জমে যায়।
* এ সময় খুব গরম কাপড় পরানোর দরকার নেই। তবে মোটা সুতি কাপড় পরানো যেতে পারে। আঁটসাঁট বা উলের কাপড় পরালে শিশুর শরীর ঘেমে ঘামাচি উঠতে পারে।
* বাচ্চাকে নরম কাপড়ের জুতা পরানোর অভ্যাস করুন।
* এ বয়সী বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই সর্দি–কাশি সহজেই লেগে যায়। বাচ্চাকে খুব জনবহুল জায়গায় (মেলা, পিকনিক) না নিয়ে যাওয়াই ভালো।

ডা. মো. আল আমিন মৃধা : স্বাস্থ্য বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

27
ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে, এটা আমরা জানি। আর ক্যালসিয়াম শরীরে শোষণ করে কাজে লাগাতে দরকার হয় ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডির অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়। শিশুদের পা ধনুকের মতো বেঁকে যায় এবং মাথার খুলি বড় হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগলে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন ডির অভাবে চোয়ালের গঠন ঠিক হয় না, অসময়ে দাঁত পড়ে যায়।
বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া নামে একপ্রকার রোগ হয়। এই রোগে বয়স্কদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ক্ষয় হয়ে পড়ে। কখনো কখনো কোমরে ও মেরুদণ্ডে বাতের ব্যথার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড বেঁকে যায়।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহযোগী অধ্যাপক কাজী শামিমুজ্জামান বলেন, গড়পড়তা একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ১ হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৬০০ ইউনিট ভিটামিন ডি লাগে। নারীদের এবং সত্তরোর্ধ্ব পুরুষদের দরকার হয় একটু বেশি ক্যালসিয়াম, ১ হাজার ২০০ মিলিগ্রাম। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরও লাগে একটু বেশি। সঠিক নিয়মে সূর্যালোক ও ভিটামিন ডি–সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে এর ঘাটতি সহজেই মেটানো যায়। এর ফলে হাড় ক্ষয় রোধসহ ভিটামিন ডি-জনিত অন্যান্য রোগ থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায়।

ভিটামিন ডির উৎস?
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ডির অন্যতম উৎস। সূর্য যখন প্রখর থাকে, তখনই অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায়। তবে কাচ, ঘন মেঘ, কাপড়চোপড়, ধোঁয়া ও সানস্ক্রিন এই রশ্মিকে বাধা দেয়।
তৈলাক্ত মাছ, যেমন কড বা হাঙর মাছের যকৃতের তেল এবং অন্যান্য প্রাণীর যকৃতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ ছাড়া দুধ, ডিমের কুসুম, মাখন ও চর্বিযুক্ত খাদ্যে ভিটামিন ডি থাকে। যেসব প্রাণী মাঠে চরে বেড়ায় এবং প্রচুর সূর্যালোক পায়, ওই সব প্রাণীর দুধ, ডিম ও যকৃতে ভিটামিন ডির পরিমাণ বেশি থাকে।
সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে পেতে—
* কোন সময় গায়ে রোদ লাগাবেন? আলোয় বেরিয়ে যখন দেখবেন আপনার ছায়া আপনার তুলনায় ছোট, তখনই সেই আলোতে আপনার ত্বক সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারবে।
* যাঁরা কালো, তাঁদের ত্বকে মেলানিন নামের রঞ্জক উপাদান বেশি। আর যাঁরা ফরসা, তাঁদের ত্বকে এই উপাদান কম থাকে। মেলানিন অতিবেগুনি রশ্মিকে বাধা দেয়। ফরসা লোকজনের প্রতিদিন ২০ মিনিট রোদে থাকলেই চলে।
* অতিবেগুনি রশ্মি কাচ ভেদ করতে পারে না। তাই গাড়ি বা ঘরের ভেতর জানালা বন্ধ অবস্থায় রোদ এলেও লাভ নেই, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি মিলবে না।
* পোশাক ও সানস্ক্রিন ত্বকে সরাসরি ভিটামিন ডি লাগতে বাধা দেয়। তাই আপাদমস্তক ঢেকে বেরোলে চলবে না। অন্তত হাত-পা বা মুখের কিছু অংশ খোলা রাখুন। মাঝেমধ্যে সানস্ক্রিন ছাড়াই রোদে বেরোতে হবে।
* বয়স বাড়তে থাকলে ত্বকের ভিটামিন ডি তৈরি করার ক্ষমতা কমতে থাকে। আর বয়স্কদেরই কিন্তু হাড় ক্ষয়ের সমস্যা বেশি। তাই বয়স হয়েছে বলেই সারা দিন বাড়ি বসে থাকা ঠিক নয়। নিয়মিত বেরোন এবং গায়ে রোদ লাগান।
* দূষিত বায়ু, ধোঁয়া ইত্যাদি অতিবেগুনি রশ্মিকে শুষে নেয় বা প্রতিফলিত করে। তাই দূষিত শহরে থাকলে মাঝেমধ্যে একটু দূরের গ্রামে বা আউটিংয়ে যাওয়া উচিত।
Source: Prothom Alo

28

ক্যানসার চিকিৎসায় ভিআর পদ্ধতি

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সম্প্রতি ক্যানসার কোষের ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) থ্রিডি মডেল তৈরি করেছেন। এর ফলে প্রতিটি ক্যানসার কোষকে বিভিন্ন কোণ থেকে বিস্তারিত দেখা ও সে সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। এতে ক্যানসার সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন সম্ভব হবে বলে গবেষকেরা দাবি করেছেন।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকে কেমব্রিজ ইনস্টিটিউটের (সিআরইউকে) পরিচালক গ্রেগ হ্যানন বিবিসিকে বলেছেন, এক রোগীর কাছ থেকে টিউমারের নমুনা নেওয়া হয়। এর প্রতিটি কোষের ম্যাপ তৈরি করা হয়। এর আগে কেউ ক্যানসার কোষের গঠন নিয়ে এত বিস্তারিত গবেষণা করেনি। ক্যানসারকে দেখার নতুন পদ্ধতি এটা।

গবেষকেররা এক মিলিমিটারের একটি স্তন ক্যানসার টিস্যু নেন। এতে প্রায় এক লাখ কোষ ছিল। গবেষকেরা প্রতিটি কোষের আণবিক গঠন বের করেন। এরপর ওই ক্যানসারের ভিআর সংস্করণ তৈরি করেন তাঁরা। এর ফলে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে একসঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী ক্যানসার পরীক্ষা করতে পারবেন। ভিআরে দেখার সময় এক কোষ থেকে আরেক কোষে যেতে পারবেন ব্যবহারকারী।
Source: Prothom Alo

29
Pharmacy / ফ্রোজেন শোল্ডার
« on: December 22, 2018, 04:37:14 PM »


কাঁধের সন্ধিতে ব্যথা। হাত ওপরে তুলতে পারেন না। চুল আঁচড়াতে কষ্ট, পেছনে বোতাম লাগানো বা পেছনের পকেটে মানিব্যাগ রাখা অসম্ভব হয়ে উঠছে। এই সমস্যার নাম ফ্রোজেন শোল্ডার। ডাক্তারি নাম অ্যাডেসিভ ক্যাপসুলাইটিস। কেন হয় এই অবস্থা?

কোনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর কাঁধের নড়াচড়া কম করা হলে সন্ধিটা জমে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও পক্ষাঘাতে বা স্ট্রোকের পর এটা খুবই পরিচিত সমস্যা। কাঁধের এই সন্ধি অতিরিক্ত ব্যবহৃত হলেও এমন হতে পারে। আবার অনেক সময় তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে যে কারণেই হোক, ফ্রোজেন শোল্ডার পুরোপুরি সারতে অনেক সময় লেগে যায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দু-তিন বছর পর্যন্ত ভুগতে হতে পারে। অনেক সময় সন্ধি পুরোপুরি স্টিফ হয়ে যায় বা অকেজো হয়ে যায়। তবে ৯০ শতাংশ ফ্রোজেন শোল্ডার ব্যথানাশক ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সেরে যায়। ফ্রোজেন শোল্ডার নিরাময়ে কিছু পরামর্শ।
: হাতের পেন্ডুলাম মুভমেন্ট করুন। অনেকটা নৌকা বাওয়ার মতো ব্যায়াম।

    সুস্থ হাতটি দিয়ে আক্রান্ত হাতকে ধরে ওপর দিকে তুলুন, যতটা তোলা যায়। এবার মাথার পেছন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এই ব্যায়ামটা দিনে কয়েকবারই করুন।
    আক্রান্ত হাত দিয়ে সামনে বাতাসে বৃত্ত তৈরি করুন। যতটা সম্ভব বড় পরিধির বৃত্ত তৈরি করতে চেষ্টা করুন।
    গোসল করার পর গামছা বা তোয়ালেকে রোল করে দুই হাত দিয়ে ধরে পেছন দিকে পিঠ মোছার চেষ্টা করুন। ওপর-নিচ করতে থাকুন।
    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করুন। ব্যথা থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ খান চিকিৎসকের পরামর্শে। ব্যথা না কমলে ব্যায়াম করা সম্ভব হবে না।
    বাড়িতে ব্যায়াম করে না কমলে ফিজিওথেরাপি নিন।

Writer: উম্মে শায়লা রুমকী : ফিজিওথেরাপি পরামর্শক, ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

30
Pharmacy / শীতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
« on: December 11, 2018, 11:18:45 AM »
শীত পড়তে শুরু করেছে। পরিবেশেও বেড়েছে ধুলাবালির পরিমাণ। এ সময় আবহাওয়াও শুষ্ক হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে শীতকালটা হাঁপানি রোগীদের জন্য বিপজ্জনক। এ সময় তাদের শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির টান প্রায়ই বেড়ে যেতে পারে। আকস্মিক হাঁপানি রোগীর শ্বাসকষ্ট অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তাকে বলা হয় সিভিয়ার অ্যাকিউট অ্যাজমা। এ সময় অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে প্রথমে কী করবেন?

প্রথমেই রোগীকে বিছানায় বা সোফায় সোজা করে বসিয়ে দিন। আশ্বস্ত করুন ও আতঙ্কিত হতে নিষেধ করুন।

হাঁপানি রোগীর বাড়িতে উপশমকারী সালবিউটামল বা সালবিউটামল-ইপরাট্রোপিয়ামযুক্ত ইনহেলার থাকে। স্পেসারের সাহায্যে ধীরে ধীরে পাঁচটি চাপ দিন। স্পেসার না থাকলে কাগজের ঠোঙার সাহায্য নিন।

স্পেসারের মধ্যে একবার ওষুধটি চাপ দিয়ে ফেলার পর তা থেকে পাঁচবার শ্বাস নিতে হবে। বড় বড় ও জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে ওষুধটি বুকের ভেতর টেনে নিতে হবে, খেয়ে ফেললে চলবে না। বয়স্ক ও শিশুদের ভালো করে বুঝিয়ে বলে সাহায্য করুন।

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে বলুন। তারপরও শ্বাসকষ্ট না কমলে আবার পাঁচটি চাপ নিন। এভাবে পাঁচবার নিতে পারেন। মানে মোট ২৫ চাপ।

কারও বাড়িতে বা নিকটে নেবুলাইজার যন্ত্র থাকলে ভালো। নরমাল স্যালাইনের সঙ্গে সালবিউটামল দ্রবণ মিলিয়ে কয়েক মিনিট নেবুলাইজার যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস নিন।
Source: Prothom Alo

Pages: 1 [2] 3 4 ... 9