Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 27
1
আমরা সবাই জানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন কি ধরণের ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আমরা ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছি।
তবে আমরা যখন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশপাশি ভিটামন সি সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছি তখন তৈরি হয় আরও অনেক সমস্যা।

তবে অন্যান্য খাবারের মত বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়া শরীরের অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বেশি খাওয়ার যে একটা খারাপ দিক আছে সে বিষয়টা মানুষ ভুলে যায়। শরীরের জন্য ভিটামিন সি কতটা প্রয়োজন সে সম্পর্কে না জানা খাওয়া ঠিক নয়।

গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিনি ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া উচিত, উপরে ২ হাজার মিলিগ্রাম। একটি কমলায় প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, সুতরাং দিনে দুইটি কমলা খেলে শরীরে চাহিদা পূরণ হয়েও আরও বেশি হয়।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

ডায়রিয়া

পেটে ব্যাথা

বমি বমি ভাব

অনিদ্রা

ভিটামিন সি গ্রহণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট করাও আপনার জন্য জরুরি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

2
নামাজে দাঁড়িয়ে অনেক সময় এলোমেলো চিন্তা আসে। আমার মনে আছে অনেক কিছুই। মাঝে মাঝে নামাজের রাকাত সংখ্যা ভুল হয়ে যায়। নামাজে অমনোযোগে অনেকে আক্রান্ত হন। একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে 'শয়তানের ছিনতাই' বলেছেন।

এ ব্যাপারে ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালি (রহঃ) তার বিখ্যাত ‘ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এতে তিনি ছয়টি বিষয়ের কথা বর্ণনা করেন, যেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিলে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা যায়।
#নামাজে_হৃদয়ের_উপস্থিতি_ও_একাগ্রতাঃ

একাগ্রতা নামাজের প্রাণ। রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তাকে তুমি দেখতে পাচ্ছো। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০; মুসলিম, হাদিস : ৮)

মানুষের মন কখনই অলস হয় না। এবং যখন নামাজে দাঁড়ালে, শয়তান বারবার লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় বিভিন্ন দিকে। তবে আপনাকে যেভাবেই ফোকাস ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয়। সুতরাং প্রার্থনার শুরু থেকে শেষ অবধি, "আল্লাহ আমাকে দেখছেন" এই ধারণাকে (উচ্চারণ ছাড়াই) ধরে রাখার অনুশীলন করুন।

দাঁড়ানো থেকে রুকুতে যাওয়ার আগে, রুকু থেকে সেজদায় যাওয়ার আগে কিংবা সেজদা থেকে বসার আগে, প্রত্যেক অবস্থান পরিবর্তনের পূর্বে মনের অবস্থাটা দেখে নিন যে কল্পনাটা আছে কি না; যদি না থাকে তাহলে আবার নিয়ে আসুন। এভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে নামাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।

রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর মন ও শরীর একত্র করে (একাগ্রতার সঙ্গে) দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, (অন্য বর্ণনায় এসেছে, যেই নামাজে ওয়াসওয়াসা স্থান পায় না) তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ১৫১; বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪)

(অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়)।
#বিশুদ্ধ_উচ্চারণে_পড়ার_চেষ্টাঃ

এটি হৃদয়ের ঘনত্বকে শক্তিশালী করে। কমপক্ষে সূরা ফাতিহা ও তাসবিহ এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘স্পষ্ট করে ধীরে ধীরে কোরআন তেলাওয়াত করুন।’ (সূরাতুল মুযযাম্মিল: ৪) বর্ণিত হয়েছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারতাল দিয়ে প্রত্যেক সূরা তেলাওয়াত করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৩, তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৩)

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুটি ভাগে ভাগ করেছি। চাকর আমার কাছ থেকে যা চাইবে তা পাবে। আমার বান্দা যখন বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র বিশ্বের মালিক। অতঃপর আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করেছেন।’ যখন তিনি বলেন, ‘পরম দয়ালু পরম করুণাময়। তখন আল্লাহ বললেন, ‘বান্দা আমার প্রশংসা করলেন’। যখন বলা হবে, কেয়ামতের মালিক। তখন আল্লাহ বললেন, বান্দা আমাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। যখন তারা বলে, "আমরা কেবল আপনারই উপাসনা করি এবং কেবল আপনার সাহায্য প্রার্থনা করি।" আল্লাহ বলেন, ‘এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে আর আমার বান্দা যা চাইবে, তাই পাবে।’ যখন বলে, আপনি আমাদের সরল পথপ্রদর্শন করুন। এমন ব্যক্তিদের পথ, যাদের আপনি পুরস্কৃত করেছেন। তাদের পথ নয়, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। আল্লাহতায়ালা তখন বলেন, ‘এটা আমার বান্দার জন্য আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তাই পাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৯৫; মিশকাত, হাদিস : ৮২৩)
#নামাজে_আল্লাহর_প্রতি_শ্রদ্ধা_প্রদর্শনঃ

আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা বিনীতভাবে আল্লাহর সম্মুখে দণ্ডায়মান হও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৮)

কাজেই নামাজে ধীর-স্থিরতা অবলম্বন জরুরি। আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘নিকৃষ্টতম চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে নামাজে চুরি করে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামাজে কীভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, ‘যে রুকু-সেজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না’। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৮৫)
#নামাজে_আল্লাহতায়ালাকে_ভয়_করাঃ

প্রতিটি নামাজই হতে পারে জীবনের শেষ নামাজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে জনৈক ব্যক্তি সংক্ষিপ্ত উপদেশ কামনা করলে তিনি তাকে বলেন, ‘যখন তুমি নামাজে দণ্ডায়মান হবে, তখন এমনভাবে নামাজ আদায় করো, যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ নামাজ।’ (ইবনু মাজাহর বরাতে মিশকাত, হাদিস : ৫২২৬)
#নামাজের_মাধ্যমে_কল্যাণ_আশা_করাঃ

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫) তাই প্রতিটি নামাজি ব্যক্তির এই বিশ্বাস রাখা চাই যে, আল্লাহ আমার প্রতিটি প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ নামাজে দাঁড়ালে সে মূলত তার প্রভুর সঙ্গে কথোপকথন করে। তাই সে যেন দেখে কীভাবে সে কথোপকথন করছে।’ (মুস্তাদরাক হাকিম; সহিহুল জামে, হাদিস : ১৫৩৮)
#নিজের_গুনাহর_কথা_চিন্তা_করাঃ

আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার কথা ভেবে নিজের ভেতর অনুশোচনা নিয়ে আসুন। দণ্ডায়মান অবস্থায় একজন অপরাধীর মতো মস্তক অবনত রেখে দৃষ্টিকে সিজদার স্থানের দিকে নিবদ্ধ রাখুন। রাসূল (সাঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন।’ (তাফসিরে তাবারি : ৯/১৯৭)

ওপরের ছয়টি বিষয় অনুসরণ করলে নামাজে মনোযোগ তৈরি হবে। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের সময় হলে সুন্দরভাবে অজু করে এবং একাগ্রতার সঙ্গে সুন্দরভাবে রুকু-সিজদার মাধ্যমে নামাজ আদায় করে, তার এ নামাজ আগের সব গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর এ সুযোগ তার সারা জীবনের জন্য।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৮; মিশকাত, হাদিস : ২৮৬)


সূত্র:https://islamicknowledage24.blogspot.com/2021/01/blog-post_18.html

3
Islam & Science / মুমিনের গুণাবলি
« on: December 02, 2021, 11:49:00 AM »
একজন মানুষ ঈমান গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের ছায়াতলে এসে মূলত আল্লাহর প্রিয় বন্ধু ও অধিনস্থ হয়ে যায়। যেমনটি স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কুরআনুল কারীমেই বলেছন: আল্লাহই হচ্ছেন তাদের অভিভাবক যারা ঈমান এনেছে, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে আসেন। আর যারা ঈমান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে তাদের পৃষ্ঠপোষক হলো তাগুত তথা পথভ্রষ্ট শাসকরা যারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়,বস্তুতঃ তারাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী তারা সেখানে চিরকাল বসবাস করবে’। (সূরা বাকারা ২৫৭)।

উক্ত আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, স্রেফ জন্মসূত্রে বা কালিমা পড়ে ঈমান গ্রহণ করলেই প্রকৃত মুমিন হওয়া সম্ভব নয়, বরং মুমিনের যথাযথ গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য যতক্ষণ না নিজের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে ততক্ষণ আল্লাহর ভাষায় প্রকৃত মুমিন হওয়া যাবেনা। অতএব আমাদেরকে যেসব গুনে গুণান্বিত হতে হবে সেগুলোর অন্যতম হলো: সন্দেহমুক্ত দৃঢ় ঈমান এবং আল্লাহর পথে সংগ্রাম ও সৎকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে উক্ত ঈমানের প্রমাণ উপস্থাপন। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ বলেন : ‘প্রকৃত মুমিন তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। অতঃপর তাতে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করে না এবং তাদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে। বস্ত্ততঃপক্ষে তারাই হ’ল সত্যনিষ্ঠ’ (হুজুরাত ১৫)।
উল্লেখ্য:-‘জিহাদ’ অর্থ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। যা কথা, কলম, সংগঠন তথা সার্বিকভাবেই হয়ে থাকে। সশস্ত্র জিহাদও এর মধ্যে শামিল। যুগে যুগে উদ্ভূত শিরকী দর্শনচিন্তা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তাওহীদভিত্তিক দর্শনচিন্তা ও সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশ সাধনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করাই হ’ল ইসলামের চিরন্তন জিহাদ। স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে যা সর্বদা সর্বত্র প্রযোজ্য। সেদিকে ইঙ্গিত করেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জিহাদ করো মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের মাল দ্বারা, জান দ্বারা ও যবান দ্বারা’। (আবুদাঊদ ২৫০৪)।
কুরআনের সর্বত্র জিহাদের বর্ণনায় আল্লাহ প্রথমে মালের কথা এনেছেন। কারণ জিহাদে প্রথম মালের প্রয়োজন হয়। মুমিনের আরোও সাতটি গুণ বর্ণনা করে সূরা মু’মিনুনে আল্লাহ বলেন, ‘সফলকাম হলো ঐসব মুমিন’ (১) ‘যারা তাদের সালাতে গভীরভাবে মনোযোগী’ (২) ‘যারা অনর্থক ক্রিয়া-কর্ম এড়িয়ে চলে’ (৩) ‘যারা সঠিকভাবে যাকাত আদায় করে’ (৪) ‘যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে’ (৫) ‘নিজেদের স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত। কেননা এসবে তারা নিন্দিত হবে না’ (৬) ‘অতঃপর এদের ব্যতীত যারা অন্যকে কামনা করে, তারা হলো সীমা লংঘনকারী’ (৭) ‘আর যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে’ (৮) ‘যারা তাদের সালাত সমূহের হেফাযত করে’ (৯) ‘তারাই হলো উত্তরাধিকারী’ (১০) ‘যারা উত্তরাধিকারী হবে ফেরদৌসের। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’ (মুমিনূন ১-১১)।
উপরোক্ত আয়াতগুলিতে মুমিনের ৭টি গুণ বর্ণিত হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ হলো ‘তারা সালাতে গভীরভাবে মনোযোগী’। তারা খুশূ-খুযূর সাথে তন্ময়-তদ্গতভাবে সালাত আদায় করে। এর বিপরীতে কুরআনের অন্যত্রে আরও দু’প্রকার মুসল্লীর কথা এসেছে। একদল মুসল্লী হলো ‘উদাসীন’ আল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভোগ ওইসব মুছল্লীর জন্য, যারা তাদের সালাতে উদাসীন’ (সূরা মাঊন : ৫)। অন্য একদল মুসল্লী হলো ‘অলস’ এটা হলো মুনাফিকদের সালাত। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়’ (সূরা নিসা : ১৪২)। আয়াতদৃষ্টে বুঝা যায় যে, উদাসীন ও অলস মুসল্লীরা জাহান্নামী হবে এবং কেবল মনোযোগী মুসল্লীরাই জান্নাতী হবে। আর তারাই হলো সফলকাম মুমিন। কেননা হৃদয় মনোযোগী হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মনোযোগী হয়। আর উভয়ের সহযোগে কর্ম সফল হয়। হৃদয়ের টান ও আকর্ষণ না থাকলে কোন কর্মই যথার্থ হয় না। আর আল্লাহর কাছেও তা কবুল হয় না।
সাতগুণের আরোও একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো লজ্জাস্থানের হেফাজত করা : এবিষয়ে রাসূল সা. বর্ণনা করেছন,’যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে, আমি তাঁর জান্নাতের যিম্মাদার। (সহীহ বুখারী : ৬৪৭৪)। দুনিয়াতে যত ফিতনা ফাসাদ ও অপকর্ম সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে জিহ্বা ও লজ্জা স্থানের দ্বারা । এ দুটোকে যে সংযত করবে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ।
কাফিরদের সাথে শক্ত দিল আর মুমিনদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরন করবে। যেমন: মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল। আর যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে আপোষহীন’ এবং নিজেরা পরস্পর দয়া পরবশ। (সুরা ফাতহ : ২৯)।
অন্যদের উপাস্যকে গালি না দেয়া: আর ( হে ঈমানদারগণ!) এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিয়ো না। (সূরা আনআম : ১০৮)। সঠিকভাবে ওজন করা, ওজনে কম না দেয়া। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। (সূরা মুতাফ্ফিফীন : ১)। তোমরা ওজন ও পরিমাপে পুরোপুরি ইনসাফ করো (সূরা আনআম : ১৫২)।
মানুষকে সৎ কাজের উপদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া : আল্লাহ বলেন ‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে এবং অসৎ কাজে বাঁধা দিবে,আর আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে। (সূরা আলে ইমরান ১১০)। আল্লাহ তাআ’লা আমাদের এসকল গুণে গুণান্বিত করুন।

Source:https://www.dailyinqilab.com

4
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের নাম রাখা হয়েছে ‘ওমিক্রন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে নতুন ভেরিয়েন্টটির নামকরণ করা হয়।
ডব্লিউএইচ’র এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন। প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

হু কর্মকর্তা মারিয়া ভ্যান কারখোভে বলেন, ‘এই রূপ সম্পর্কে এখনো বিশেষ কিছু জানা যায়নি। তবে যতটুকু জেনেছি, তা থেকে বলতে পারি, এত বার মিউটেশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মানেই ভাইরাসের কার্যক্ষমতায় এর প্রভাব পড়তে পারে।’

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ধরনটি।

করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে ইউরোপের দেশগুলোতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই শনাক্ত হলো ওমিক্রন। একে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলা করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহামারির শুরুর দিকে তুলনামূলক দুর্বল আলফা, বেটা ও গামা ধরনও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

বিডি-প্রতিদিন/

5
ইসলামের অন্যতম ইবাদত হচ্ছে দোয়া। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আল্লাহর রাসূল (সা.) যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে দোয়ায় মত্ত হয়ে যেতেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমার কাছে আমার বান্দা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন বলে দাও যে), নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছে। প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে। আশা করা যায়, তারা সফলকাম হবে। ’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।

নিচে দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সময় নিয়ে আলোচনা করা হলো-

(১) আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া
আজান-ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (তিরমিজি, হাদিস: ২১২)।

(২) ফরজ নামাজের পর দোয়া করা
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সময়ের দোয়া দ্রুত কবুল হয়? তিনি জবাব দিলেন, রাতের শেষ সময়ে এবং ফরজ নামাজের পর। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৯৮)।

এ ছাড়া রোগাক্রান্ত অবস্থায়, বালামসিবতের সময়, দূরবর্তী সফরের সময় এবং মা-বাবার দোয়া কবুল হয় বলে হাদিসে এসেছে। আর দোয়া কবুলের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখা চাই এবং অব্যাহত দোয়ায় মত্ত থাকা চাই। 

(৩) শেষরাতে দোয়া করলে কবুল হয়
শেষ রজনী দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। কেননা এ সময় আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ প্রহরে (যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তিনি তখন বলেন, ‘আছ কি কোনো আহ্বানকারী, আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কোনো প্রার্থনাকারী কি আছ, আমি তোমাকে যা চাও তা দেব। কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। ’ (মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)।

Source:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

6
বয়স ৪০ পেরোলেই দেখা যায় হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। ক’দিন পরপরই হাঁটুতে ব্যথা।
উঠতে বসতে সমস্যা। অনেকে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেন। তবে তাতেও কাজে দেয় না। পরে যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, পরীক্ষা করলে দেখা যায় হাড়ক্ষয় হতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্যালসিয়ামের অভাবেই মূলত হাড়ক্ষয় রোগ দেখা দেয়। 

হাড়ের কাঠামো ও পেশিগুলোকে সচল রাখতে ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ক্যালসিয়াম ছাড়া ভিটামিন এ, ডি, ই আর কে-র মতো ভিটামিনগুলো শরীরে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীতা আছে। আর এই ক্যালসিয়াম আমরা প্রতিদিনের খাবার থেকেই পেয়ে থাকি। 

যেসব খাবার থেকে আমরা ক্যালসিয়াম পেতে পারি। জেনে নিন:

•    আমরা জানি, দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এক কাপ দুধে প্রায় ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। 
•    প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ছাড়াও ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো মিনারেলের সন্ধান মিলবে চিজ বা পনিরে
•    যারা দুধ হজম করতে পারেন না বা পছন্দ করেন না, তাদের জন্য আদর্শ হচ্ছে দই। এক কাপ দইয়ে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২৮০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি
•    নানা ধরনের ডালেও প্রচুর ক্যালসিয়াম মেলে। এক কাপ রান্না করা মুগ ডালে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও ২৫০ মিলিগ্রাম
•    পালং শাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি আর ফুলকপি থেকেও ক্যালসিয়াম পেয়ে থাকি। তবে এসব শাক-সবজি ধুয়ে কাটতে হবে, কাটার পরে ধোয়া যাবে না। এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়
•    শুকনো ফল খেজুর, বাদামেও বেশ ভালো পরিমাণেই ক্যালসিয়াম মেলে
•    এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ, ডিম, মাংসও ক্যালশিয়ামের জোগান দেয়। 

এবার হিসাব করে খাবারগুলো নিয়মমতো খেলেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পেয়ে যাবেন। 


Source:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

7
কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে কানে হঠাৎ যন্ত্রণা বা ব্যথা হতে পারে। তরল জমা ও প্রদাহের কারণে কানে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। ছোট-বড় সবাই কমবেশি কানের সংক্রমণে ভোগেন।

হঠাৎ এমন ব্যথা হলে কী করবেন তা না জানায় আক্রান্তরা প্রচণ্ড কষ্ট পান। ঘরোয়া উপায়ে মুহূর্তেই কানের প্রচণ্ড যন্ত্রণা কমাতে পারবেন। জেনে নিন কানের সংক্রমণ রোধের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার-

>> আদায় প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। ব্যথা কমাতে কানের চারপাশে আদার রস বা এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা গরম করে ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন কানের ভেতরে যেন আদার রস না ঢুকে।

>> টি ট্রি অয়েলে আছে অনেক গুণ। টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকে। যা কানের সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে।

এজন্য আপনার কানের চারপাশে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করুন। তবে অ্যালার্জি থাকলে এই তেল ব্যবহার করবেন না।

>> হাইড্রোজেন পারক্সাইড কানের ব্যথা সারাতে দুর্দান্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে আক্রান্ত কানে ৫-১০ ফোঁটা হাইড্রোজেন ব্যবহার করে কাঁত হয়ে শুয়ে থাকুন ১৫-২০ মিনিট। দেখবেন মুহূর্তেই ব্যথা কমে যাবেন।

হঠাৎ কানে ব্যথা হলে দ্রুত যা করবেন

৫. আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের পরামর্শ অনুযায়ী, অলিভ অয়েল হালকা গরম করে দু’ এক ফোঁটা কানের মধ্যে নিলে ব্যথা দ্রুত সেরে যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তেল ঠান্ডা করে নিতে হবে।

৬. রসুন কানের সংক্রমণের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। রসুনে থাকে অ্যালিসিন নামক উপাদান। যা ফাইটোকনস্টিটিউয়েন্ট। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে।

এটি কানের সংক্রমণ রোধ করে। কাঁচা রসুন খেলে কানের ব্যথা সেরে যায়। যদি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন তাহলে রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: ব্লাশইন

8
আয়রনের অভাবে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে মিনারেলের অভাব দেখা দিলে আয়রনের ঘাটতিও দেখা দেয়। আয়রনই শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে।

রক্তে যথেষ্ট পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে শরীরের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারীরাই আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন। ডাক্তারি পরিভাষায় একে অ্যানিমিয়া বলে।

অ্যানিমিয়া হওয়ার কারণ কী?

আয়রনের অভাবেই মূলত অ্যানিমিয়া হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। রক্তাল্পতা মূলত রক্তক্ষয়, লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন কমে যাওয়া ও লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে হয়।

jagonews24

যেসব নারীরা ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতে ভোগেন তাদের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে।

যারা দীর্ঘদিন অর্শ্ব রোগে ভুগছেন তারা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা ভুগছেন তারাও অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

jagonews24

তবে অনেকেই টের পান পান তিনি আসলেই রক্তাল্পতায় ভুগছেন। সেক্ষেত্রে কী কী উপসর্গ দেখে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের অভাব আছে কি না-

>> আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সারাদিনই শরীরে ক্লান্তি বোধ হতে পারে।

jagonews24

>> নখ দেখেও বোঝা যায় শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না। নখ যদি নরম থাকে আর বারবার ভেঙে যায় তাহলে বুঝবেন শরীরে আয়রনের অভাব আছে।

>> হঠাৎ যদি জিভ ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান। তার আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে দেখুন।

jagonews24

>> প্রায় প্রতিদিনই মাথার যন্ত্রণায় ভুগলে তাহলে এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাইনাস, মাইগ্রেন ইত্যাদি। কিন্তু অনেক সময়ে আয়রনের অভাব হলেও প্রায়ই মাথা ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

>> ইদানিং কি অল্পেই হাঁফিয়ে উঠছেন? যেমন অল্প পরিশ্রম কিংবা একটু হাঁটলেই নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে! আয়রনের অভাবে এই অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

jagonews24

>> হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।

>> হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণ হতে পারে।

jagonews24

>> যদিও বিভিন্ন কারণে ঘনঘন জ্বর আসতে পারে। তবে সব সময় ঠান্ডা লাগার কারণে নয়, আয়রনের অভাবেও এটি হতে পারে।

>> অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাকে সাধারণভাবে নেওয়া উচিত নয়। হঠাৎ করে যদি অধিক চুল পড়তে থাকে তাহলে তা হতে পারে আয়রনের ঘাটতি।

সূত্র: মায়োক্লিনিক

9
ইসলামী শরিয়তের বিধান পালনের জন্য কোরআন শেখা ফরজ। যেভাবে বিশুদ্ধ নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। তাই তিলাওয়াত শুদ্ধভাবে করা ফরজ। ইবাদতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—কোরআনের এমন জ্ঞানের ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো, তা অর্জন করা ফরজে কেফায়া।

যদি উম্মতের একটি বিশেষ দল কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে তাহলে অন্যরা পাপমুক্ত থাকবে। আর কেউ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। তবে প্রতিটি মুমিনের উচিত কোরআনচর্চায় আগ্রহী হওয়া। আল্লামা জারকাশি (রহ.) বলেন, ‘যার যথাযথ জ্ঞান, বোধ, আল্লাহভীতি ও গবেষণা নেই সে কোরআনের কোনো স্বাদ পাবে না।’ (আল বোরহান : ২/১৭১)
ব্যস্ত জীবনে কোরআন চর্চার উপায়

আধুনিক জীবনব্যবস্থায় মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যস্ত। ফলে বহু মানুষের কোরআন তিলাওয়াত ও কোরআনের জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা থাকলেও তারা তা অর্জন করতে পারে না। নিম্নে ব্যস্ততার মধ্যেও কিভাবে কোরআনচর্চা করা যায় সে বিষয়টি তুলে ধরা হলো—

চলতি পথে কোরআন পাঠ
প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় আমাদের প্রচুর পরিমাণ সময় নষ্ট হয়। বিশেষত, শহরের যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। এ সময় ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় না করে কোরআন, কোরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা পাঠ করা যায়। আধুনিক মোবাইল ফোনে ব্যবহার-উপযোগী অসংখ্য কোরআনভিত্তিক গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

চলতি পথে কোরআন শ্রবণ
কোরআন দেখে পাঠ করতে ইচ্ছা না করলে চলাচলের পথে কোরআন তিলাওয়াতও শোনা যেতে পারে। শায়খ হুজায়ফি, শায়খ সুদাইসি, শায়খ মিশয়ারির মতো আরব বিশ্বের খ্যাতিমান কারিদের তিলাওয়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি বহু কারির তিলাওয়াত অনলাইনে পাওয়া যায়। আরবের বিখ্যাত কারিদের তিলাওয়াতের অ্যাপসও গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

পাঁচ ওয়াক্তে ২৫ মিনিট
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে বা পরে যদি পাঁচ মিনিট করে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তাহলে দৈনিক পাঁচ থেকে আট পৃষ্ঠা কোরআন তিলাওয়াত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনেও কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। এমনও হতে পারে যে তিন ওয়াক্ত নামাজের পর তিলাওয়াত করা হলো এবং বাকি দুই ওয়াক্তের এক ওয়াক্তে ৫-১০টি আয়াতের অর্থ এবং অপর ওয়াক্তে ১-৩টি আয়াতের ব্যাখ্যা পাঠ করা হলো।

খাবার টেবিলে আলোচনা
দুপুরে বা রাতে যখন খাবার টেবিলে বা দস্তরখানে পরিবারের সদস্যরা তুলনামূলক বেশি উপস্থিত থাকে, তখন কোরআনের বিভিন্ন আয়াত, আয়াতের বিধান, আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত ও আয়াতের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলেমরা বলেন, খাওয়ার সময় একদম চুপ থাকার চেয়ে দ্বিনি বিষয়ে আলোচনা করা উত্তম। এ ক্ষেত্রে বড়দের আলোচনা ছোটরা শুনতে পারে, আবার ছোটদের আলোচনা বড়রাও শুনতে পারেন।

ঘুমের আগে ১০ মিনিট
ঘুমের সময় অজু করে ঘুমানো মুস্তাহাব। বিশুদ্ধ হাদিসে ঘুমানোর আগে ইখলাস, ফালাক, নাস, মুলক ইত্যাদি সুরা পাঠ করার কথা এসেছে। তবে যাঁরা সারা দিন কোরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পান না, তাঁরা রাতে ঘুমানোর আগে উল্লিখিত সুরার সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট অন্যান্য সুরাও তিলাওয়াত করে নিতে পারেন।

নামাজে তিলাওয়াত
যারা কোরআনের হাফেজ কিন্তু নিয়মিত তিলাওয়াতের সুযোগ হয় না, তাঁরা পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ ও সুন্নত নামাজে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত করতে পারেন। যাঁরা হাফেজ নন; কিন্তু কোরআনের বিভিন্ন অংশ মুখস্থ করেছেন, তাঁরাও তা ঠিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে নামাজে তিলাওয়াত করতে পারেন।

কর্মস্থলে কোরআন শরিফ
কখনো কখনো কর্মস্থলে অল্প সময়ের জন্য হলেও অবসর মেলে। তখন করার মতো ঠিক কোনো কাজ থাকে না। টুকরা টুকরা এসব অবসরেও কোরআনচর্চা করা যেতে পারে। এ জন্য কর্মস্থলেও একটি কোরআন শরিফ বা তার ব্যাখ্যা গ্রন্থ রাখা যেতে পারে।

কোরআন চর্চার পুরস্কার

যারা শত ব্যস্ততার মধ্যে কোরআন আকড়ে ধরে রাখবে এবং তা চর্চা করবে আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে তাদের আলোর পথ দেখাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর (কোরআন) দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ১৬)

এছাড়া কোরআনচর্চায় মুমিনের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার ধর্মীয় জীবনের উন্নতি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখনই কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল? যারা মুমিন এটা তাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারাই আনন্দিত হয়।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১২৪)

আল্লাহ সবাইকে কোরআনচর্চায় মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি প্রতিদিন/


10
মানুষের চিন্তার অনেক বিষয় স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। আবার এতে অনেক নেক কাজের ইঙ্গিতও বহন করে মানুষের স্বপ্ন। স্বপ্ন সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের।

মানুষের জন্য ইঙ্গিত বহন করে এমন স্বপ্ন দেখার রয়েছে কিছু সময় ও অবস্থা। কোনো ব্যক্তি যদি ওজুর সঙ্গে ঘুমানোর পর শেষ রাতে ডান কাতে কোনো স্বপ্ন দেখে, সে স্বপ্নে মানুষের জন্য থাকে বিশেষ কিছু ইঙ্গিত। যা পরবর্তীতে প্রতিফলিত হয়।

তবে যে কেউ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারে না। তবে আল্লাহভিরু ও জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন। যদি কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা বা শোনা সম্পর্কিত কোনো স্বপ্ন দেখেন তবে এর মর্মার্থ কী দাঁড়ায়? এর ব্যাখ্যা বা তাবিরই বা কী?
এ সম্পর্কে জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাখ্যা এসেছে। আর তাহলো-

>> কুরআন দেখে দেখে তেলাওয়াত
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি দেখে দেখে কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির মর্যাদা বেড়ে যাবে এবং জীবনে খুশি নেমে আসবে।

>> কুরআন মুখস্ত তেলাওয়াত করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মুখস্ত কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি কোনো বিচার ফয়সালার মুখোমুখি হবেন এবং সেখানে তার দাবি সঠিক হবে; সে সত্যবাদি পরিচিতি পাবেন; তিনি নরম হৃদয়ের অধিকারী হবেন, সৎ কাজের আদেন দেবেন এবং অসৎ কাজে বাধা দেবেন।

>> কুরআন খতম করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন খতম করতে দেখেন তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির বড় কোনো সফলতা আসবে। আল্লাহ তাকে অনেক সাওয়াব দান করবেন।

>> কুরআন মুখস্ত করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন মুখস্ত করেছেন। তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি অনুযায়ী শক্তি বা মর্যাদার অধিকারী হবেন।

>> কুরআন পড়তে দেখেছেন কিন্তু কোন অংশ পড়ছেন তা মনে নেই
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন পড়ছেন দেখছেন, কিন্তু কোন অংশ বা আয়াত পড়েছেন তা স্মরণ নেই, তাহলে এর ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি যদি অসুস্থ থাকে, তবে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আর যদি সে ব্যবসায়ী হয় তাহলে তার বড় মুনাফা হবে।

>> কুরআন তেলাওয়াত শুনতে দেখছেন
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তার সব কাজের ফলাফলও সুন্দর হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাবেন।

>> অন্য ব্যক্তি তার কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তার কুরআন তেলাওয়াত অন্য ব্যক্তিরা শুনছেন তবে এর ব্যাখ্যা হলো- লোক সমাজে তাঁর কথা মান্য হবে।

>> কুরআন বিকৃত করে পড়তে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে যে কুরআন বিকৃত করে পড়ছে কিংবা কুরআন নিয়ে বিতর্ক করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির জন্য এ স্বপ্ন দুর্দশা লক্ষণ হবে। তার জন্য কোনো দুর্দশা বা ক্ষতি অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে…
স্বপ্ন যেমনই হোক, তা দেখার পর মানুষের রয়েছে কিছু করণীয়। ভালো স্বপ্ন দেখলে যেমন আল্লাহর প্রশংসা করতে হবে তেমনি খারাপ স্বপ্ন দেখলেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। আর তাহলো-

ভাল স্বপ্ন দেখলে-
>> ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়া।
>> স্বপ্নেপ্রাপ্ত সুসংবাদ গ্রহণ করা।
>> প্রিয় ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা।
>> যে ব্যক্তি স্বপ্ন সম্পর্কিত ভালো জ্ঞান রাখে তার কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করা।
>> স্বপ্নে শুকরিয়াস্বরূপ বেশি বেশি দান করা।

মন্দ স্বপ্ন দেখলে-
>> ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম’ ৩বার পড়া।
>> বাম দিকে তিন বার থু থু ফেলা।
>> পার্শ্ব পরিবর্তন করে ঘুমানো।
>> কারও কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ না করা।
>> স্বপ্নে দুর্দশা থেকে মুক্ত থাকতে গরিবদের দান করা। আর এ দোয়াটি পড়া-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই-ইয়াহ্‌দুরুন।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নে ইঙ্গিতে প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/558263

11
কোরআন আল্লাহর কিতাব। এটি মানুষের চূড়ান্ত জীবন বিধান। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য আবশ্যক। জীবন পরিচালনায় কোরআন শোনা, তেলাওয়াত করা, মুখস্ত করা, চিন্তা-গবেষণা করা এবং কোরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও অনুকরণ করা খুবই জরুরি। এগুলো মানুষের প্রতি কোরআনের হকও বটে। বিষয়গুলো কোরআন-সুন্নায় সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে-

১. কোরআন শোনা
যখন কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন কথা না বলে চুপচাপ কোরআন তেলাওয়াত শোনা। এটি কোরআনের হক। আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন-
وَ اِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَ اَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
‘আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

২. কোরআন তেলায়াত করা
কোরআনের অন্যতম হক হলো নিয়মিত তা তেলাওয়াত করা। আর এ তেলাওয়াত কীভাবে করতে হবে তা-ও সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা এসেছে কোরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
اَوۡ زِدۡ عَلَیۡهِ وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا
‘অথবা তার চেয়ে একটু বাড়াও। আর কুরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে।’ (সুরা মুযযাম্মিল : আয়াত ৪)

৩. কোরআন মুখস্ত করা
কোরআনবিহীন অন্তর প্রাণবিহীন অন্তরের মতো। তাই নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতে ন্যূনতম কিছু অংশ মুখস্ত করা জরুরি। এ কারণেই কোরআর মুখস্ত রাখার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে কোরআন নেই সে ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের মতো।’ (তিরমিজি)

৪. কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা
আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে যেসব বিষয় বর্ণনা করেছেন; তার সবেই মানুষের কল্যাণে নাজিল হয়েছে। আর এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। জীবনঘনিষ্ঠ এসব বিষয় বোঝার জন্য কোরআনের অন্যতম হকও এটি। তাইতো মহান আল্লাহ বলেন-
> اَفَلَمۡ یَدَّبَّرُوا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَهُمۡ مَّا لَمۡ یَاۡتِ اٰبَآءَهُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ
তবে কি তারা এই বাণী (কোরআন) অনুধাবন করে না? অথবা তাদের কাছে কি এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?’ (সুরা মমিনুন : আয়াত ৬৮)

> اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ وَ لَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِیۡهِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا
‘তারা কি কোরআন সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে না? এ (কোরআন) যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে (অবতীর্ণ) হতো, তবে নিশ্চয়ই তারা তাতে অনেক পরস্পর-বিরোধী কথা পেত।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৮২)

৫. কোরআনের অনুসরণ করা
কোরআনের অন্যতম প্রধান হক হলো- কোরআনের অনুসরণ করা। কোরআন অনযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কোরআনকে জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেওয়া। কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী দুনিয়ার প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরকালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কোরআনের নির্দেশও এমনই। মহান আল্লাহ বলেন-
وَ هٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ مُبٰرَکٌ فَاتَّبِعُوۡهُ وَ اتَّقُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
‘এ কিতাব (কোরআন) বরকতময়; যা আমি নাজিল করেছি। সুতরাং কোরআনের অনুসরণ কর এবং সাবধান হও, হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৫৫)

সুতরাং মানুষের জন্য একান্ত আবশ্যক এই যে, তারা কোরআনের ৫ অধিকারের প্রতি যত্নবান হবে। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হৃদয় দিয়ে অনুধাবন ও কাজে বাস্তবায়ন করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের ৫ অধিকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/704116

12
করোনা মহামারির পাশাপাশি সম্প্রতি সময়ে ডেঙ্গুর প্রভাবও বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ ও দুঃশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তাই এ সময়ে সাবধানতা অবলম্বনের বিকল্প নেই। যারা জ্বর ও ব্যাথ্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা। পাশাপাশি জ্বর ও ব্যাথ্যা মুক্তিতে আমল এবং দোয়া করা। জ্বর-ব্যাথ্যায় আমল ও দোয়া করার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। জ্বর-ব্যাথ্যায় করণীয় আমল ও দোয়া কী?

জ্বরের সময় পড়ার দোয়া
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বর ও গলা ব্যাথায় এভাবে দোয়া করতে শিক্ষা দিতেন-
بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ
উচ্চারণ : 'বিসমিল্লাহিল কাবির, আউজুবিল্লাহিল আজিম, মিন শাররি কুল্লি ইরকিন নায়্যার, ওয়া মিন শাররি হাররিন নার।' (মুজামুল কাবির, তাবারানি, তিরমিজি)
অর্থ : মহান আল্লাহর নামে, দয়াময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, শিরা-উপশিরায় শয়তানের আক্রমণ থেকে। শরীরের আগুনের উত্তাপের মন্দ প্রভাব থেকে।'

ব্যাথ্যামুক্ত থাকতে হাদিসের একাধিক দোয়া ও আমলের নির্দেশনা
১. হজরত উসমান বিন আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যে ব্যথা আমাকে প্রায় অকেজো করে ফেলেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন-
‘তুমি তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখ, ৩ বার- بِسْمِ اللَّهِ বিসমিল্লাহ বল এবং ৭ বার বল-
أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু।
অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তাঁর বিশাল ক্ষমতার ওসিলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।' (ইবনে মাজাহ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত রেখে ৩ বার বিসমিল্লাহ বলা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়তে থাকা আর ব্যথার স্থান মর্দন করা।

২. হজরত উসমান ইবনু আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এলেন। আমি তখন ধ্বংসাত্মক ব্যথার কারণে অস্থির ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ব্যথার জায়গাতে তোমার ডানহাত দিয়ে ৭ বার মর্দন কর এবং বল-
بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমি আল্লাহ তাআলার ইজ্জাত ও সম্মান, তাঁর কুদরাত ও শক্তি এবং তাঁর রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের কাছে আমার এই কষ্ট হতে মুক্তি প্রার্থনা করছি।'

বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী ডান হাত দিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করছিলাম আর ৭ বার এ দোয়া পড়লাম। তাতে আল্লাহ তাআলা আমার পুরো ব্যথাই নিরাময় করে দিলেন। আমি এর পর থেকে আমার পরিবারের লোকদের এবং অন্যান্যদেরও এ নিয়মে আমল করার জন্য বলে আসছি।' (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত দিয়ে মর্দন করতে থাকা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়া।

৩. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, কোনো ব্যক্তি তার শরীরের কোনো অঙ্গে যদি ব্যথা অনুভব করতো অথবা শরীরের কোনো স্থানে ফোড়া দেখা দিতো বা জখম হতো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন-
بِسْمِ اللهِ تُرْبَةُ اَرْضِنَا بِرِيْقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفَىْ بِهِ سَقِيْمُنَا بِاِذْنِ رَبِّنَا
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বিরিকাতি বাদিনা লি-ইউশফা সাক্বিমুনা বি-ইজনি রাব্বিনা।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কারো থুথুর সংমিশ্রণে আমাদের রবের নির্দেশে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিকে আরোগ্য দান কর।' (বুখারি ও মুসলিম)

নিয়ম : মাটিতে থুথু ফেলে তা নিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করা আর এ দোয়া পড়া।

৪. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) ঝাড়-ফুঁক করতেন। আর এ দোয়া পড়তেন-
اَمْسَحْ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ بِيَدِكَ الشِّفَاءُ لاَ كَاشِفَ لَه“إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : ‘‌আমসাহল বাসা রাব্বান নাসি বিয়াদিকাশশিফাউ লা কাশিফা লাহু ইল্লা আংতা।'
অর্থ : ‘ হে মানুষের পালনকর্তা! ব্যথা দূর করে দাও। আরোগ্য দানের ক্ষমতা শুধু তোমারই হাতে। এ ব্যথা তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না।' (বুখারি)

নিয়ম : ব্যথা হলে এ দোয়া পড়তে থাকা।

৫. মাথা ব্যাথায় এ দোয়া পড়া-
لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
উচ্চারণ : লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা ইউনযিফুন।'

মাথা ব্যাথা এবং জ্বরের সময় যতবার ইচ্ছা এ দোয়া পড়লে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে হেফাজত করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জ্বর ও মাথা ব্যাথায় যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নিরাময়ে উল্লেখিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে মুক্তি দিন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/698613

13
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ষষ্ঠ হিজরিতে অনেক রাষ্ট্রের শাসকের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তেমন দুটি চিঠি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।
 

পারস্যের রাজা চসরোর কাছে পাঠানো মুহাম্মদ (সা.)-এর চিঠির একটি অংশ তুরস্কের ইস্তাম্বুল মিউজিয়ামে রাখা আছে। আর মূল চিঠি আছে সৌদি আরবের মদিনা মিউজিয়ামে। 

এছাড়া রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তা এখন জর্ডানের কিং হুসাইন মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে।

আল-আরাবিয়া ডটনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ষষ্ঠ হিজরিতে ইথিওপিয়ায় সম্রাট আশামা ইবনে আবজার, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট হেরাক্লিয়াস, পারস্যের রাজা চসরো, বাহরাইনের শাসক মুনজির ইবনে সাওয়া, ইয়েমেনের রাজপুত্র হিমায়রিত হরিত ও হরিত গাসানিকে দূতের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ ছাড়া শামের গভর্নরকেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

রাজা ও রাজকুমারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) মূলত ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। চিঠিগুলোর সবই এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছিল যে, ‘যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনি আপনার অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করবেন। ’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

14
Fruit / আনারসের যত গুণ
« on: October 02, 2021, 10:55:13 AM »
আনারস খাওয়া শরীরে জন্য অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক আনারসের পুষ্টি গুণ সম্পর্কে।

১। পুষ্টির অভাব দূর করে:
আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এই সকল উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আনারস খেলে দেহে এইসকল পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকবে না।
২। হজমশক্তি বাড়ায়:
আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
৩। হাড়ের সুস্থতায়:
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমান আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪। ওজন কমায়:
শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। সকালের যে সময়ে ফলমূল খাওয়া হয় সে সময় আনারস এবং সালাদে আনারস ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান।

৫। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়:
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।

৬। দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়:
আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।

বিডি প্রতিদিন/

15
Hypertension / হাত কাঁপলে যা করবেন
« on: September 23, 2021, 12:13:27 PM »
অকারণে হাত কাঁপাকে বলা হয় ট্রেমর। এটি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি এর জন্য লেখা বা জামার বোতাম লাগানোর মতো অনেক সহজ কাজও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। হাতের মাংসপেশির অনিয়ন্ত্রিত কম্পনের ফলেই হাত কাঁপে।

হাত কেন কাঁপে

হাত কাঁপার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম চারটি হলো— ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, অ্যাসেনসিয়াল ট্রেমর এবং পারকিনসন’স রোগ

শ্বাসকষ্টের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ (সালবিউটামল, থিওফাইলিন) সেবনের কারণে হাত-পা কাঁপতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য বা হাইপারথাইরয়েডিজম রোগে রোগীর হাত কাঁপে। তবে এ ক্ষেত্রে রোগীর অন্য কিছু উপসর্গও থাকে। যেমন: ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, গরম লাগা বা ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি। অ্যাসেনসিয়াল ট্রেমর একটি বংশগত রোগ, যেখানে হাত-পা কাঁপার সঙ্গে রোগীর মাথাও কাঁপে। পারকিনসন’স একধরনের স্নায়ুরোগ। এ রোগে রোগীর হাত কাঁপার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটাচলার গতিও ধীর হয়ে যায়, চলাফেরায় সমস্যা হয়।

হাত কাঁপা রোগের কারণ নির্ণয়ের জন্য রোগীর ইতিহাস ভালো করে জানতে হবে। প্রয়োজনে থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু স্নায়ুরোগ নির্ণয়ের জন্য মাথার এমআরআই পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।



চিকিৎসা

চিকিৎসার শুরুতেই হাঁত কাপার কারণ নির্ণয় করতে হবে। কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাত কাঁপছে কি না, বের করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সেই ওষুধ বন্ধ করলেই হবে। দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন ও ভালো ঘুম, হাত কাঁপার অন্যতম চিকিৎসা।

প্রোপ্রানলল–জাতীয় ওষুধ হাত-পা ও মাথা কাঁপার চিকিৎসায় কার্যকর। হরমোনের রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পারকিনসন’স রোগে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞর সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাত কাঁপার সমস্যা চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেসব হাত-পা কাঁপা রোগী ওষুধে ভালো হয় না, তাদের জন্য বর্তমানে দেশেই ডিবিএস নামের একধরনের শল্যচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। হরমোন বা স্নায়ুরোগের জন্য হাত কাঁপলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


ডা. নাজমুল হক মুন্না, সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি, মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

Pages: [1] 2 3 ... 27