Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Badshah Mamun

Pages: [1] 2 3 ... 125
1
Use of Forum / DIU Forum User Video Guideline
« on: November 16, 2021, 12:48:51 PM »
DIU Forum User Guideline


2
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য কতটুকু প্রস্তুত উচ্চশিক্ষা


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখসারির প্রতিষ্ঠান। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। একদিন আমি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। দেখলাম, ভর্তি-ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম, ড্যাফোডিল ক্রুজার নামক একটি রোবট ভর্তি সহকারী হিসেবে তাঁকে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করছে। সেখানে প্রতিদিন ভর্তি-ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন এবং অনুরূপ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। রোবটটি ভর্তি কর্মকর্তাদের সহায়তা করে। এ কাজে রোবটটি অত্যন্ত দক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ধারণা তৈরির জন্য, রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে পোশাকশিল্পে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এখন একটি বাস্তবতা। আমাদের যা কিছু আছে, তা পুঁজি করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ইউজিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসির কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা–দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলার’। একই দর্শন বহন করে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।একটি নিরাপদ, উন্নত ও উদ্ভাবনী দেশের মর্যাদায় পৌঁছাতে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১, ভিশন ২০৭১ এবং ডেলটা প্ল্যান ২১০০—এসব লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে

এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং একটি উদ্ভাবনী শিক্ষা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারব। এরই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আগামী ১০-১১ ডিসেম্বর থেকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিয়ন্ড বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, জীবন ও পরিবেশের উন্নতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য গবেষক ও চর্চাকারীদের একত্র করে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করা হবে। সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও অটোমেশন, আইওটি ও স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডেটা বিশ্লেষণ ও ক্লাউড কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সিগনাল এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিং ২০২২ অনুসারে, দেশের মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৮০১-১০০০), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১০০১-১২০০) ও বুয়েট (১২০১+)। ২০২২ সালে এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা রূপকল্পে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোয় জোর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ ফেস টু ফেস ডিজিটাল পার করেছে এবং এখন আমরা ডিজিটাল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটালে আছি। এর জন্য ইউজিসি সম্প্রতি ব্লেন্ডড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হলো অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের উপস্থিতি বোঝাতে পারেনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এর বাজারমূল্য ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সহজেই প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাকশিল্পের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এলএমএস, লার্নিং অ্যানালিটিকস) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করতে হবে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনলাইন ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বে অন্তত ১০ বছর আগে থেকে এটা করা হচ্ছে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি বৃত্তিমূলক উপাদান থাকা উচিত, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতের কাজের জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং, গ্রাফিকস, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন হতে পারে। দেশে অনেক স্নাতক বেকার আছে সত্যি, কিন্তু তাঁদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা থাকলে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তাঁরা অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এমনকি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, লার্নিং অ্যাডভাইজর, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার, লার্নিং টেকনোলজিস্টের মতো হাজারো চাকরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আবির্ভাবে অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‌্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পুরোনো। প্রায়ই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সেটা তৈরি বা হালনাগাদ হয় না। বিসিএসকেন্দ্রিক শিক্ষা আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করবে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট এবং আমাদের পাঠ্যক্রমে এটির সমাধান করতে হবে। একটি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শেষ বছরে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনুশীলনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়া উচিত, সেখানে একটি ক্যাপস্টোন প্রোজেক্ট বা থিসিস অপশন থাকতে পারে। ওই সময়ে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বা দুটি কোর্স অনলাইনে অফার করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

সফট স্কিল, যেমন যোগাযোগের ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, জ্ঞানীয় বা মানসিক সহানুভূতি, সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত চাকরির স্থান (স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক), ফ্রিল্যান্সিং, কনসালট্যান্সি প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গাইডেন্স এবং আইজিএ (ইনকাম জেনারেটিং অ্যাকটিভিটিস) নিশ্চিত করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার দক্ষতা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্কিম, যেমন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, সরকারি-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ ফি থাকতে পারে, যা করদাতার আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা যেতে পারে। স্থানীয় চাকরির বাজারে তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত কোর্স ও প্রোগ্রামগুলোয় আরও ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পাবেন বা উদ্যোক্তা হবেন, তখন তাঁদের ধীরে ধীরে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঋণ বা ভর্তুকি পেতে ছাত্রদের মা–বাবা বা অভিভাবকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, এমনকি তা শূন্য হলেও।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নিজস্ব অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশ থেকে ভিজিটিং অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের আনতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণায় একাডেমিক উৎকর্ষ রয়েছে। ফলে, শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসবে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র‍্যাঙ্কিং অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম থাকা উচিত। এতে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মানদণ্ড, যেমন একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও গবেষণা অনুদানকে স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অনুসরণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (২০১৬) একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ‘আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশকারী ৬৫ শতাংশ শিশু শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন চাকরিতে কাজ করবে, যা এখনো বিদ্যমান নেই।’ সুতরাং শিক্ষা কোনো টিক নয়, বরং সারা জীবনের অর্জন। ভবিষ্যৎ কাজগুলো হবে এমন, যা মেশিন করতে পারে না। একই সঙ্গে সৃজনশীল প্রচেষ্টা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শারীরিক দক্ষতার মতো ক্ষেত্রগুলোর বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষ যাতে মেশিনকে হারাতে পারে। এখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

লেখা:
অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক এবং
বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান

Source: shorturl.at/ltFK0

3
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য কতটুকু প্রস্তুত উচ্চশিক্ষা


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখসারির প্রতিষ্ঠান। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। একদিন আমি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। দেখলাম, ভর্তি-ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম, ড্যাফোডিল ক্রুজার নামক একটি রোবট ভর্তি সহকারী হিসেবে তাঁকে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করছে। সেখানে প্রতিদিন ভর্তি-ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন এবং অনুরূপ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। রোবটটি ভর্তি কর্মকর্তাদের সহায়তা করে। এ কাজে রোবটটি অত্যন্ত দক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ধারণা তৈরির জন্য, রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে পোশাকশিল্পে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এখন একটি বাস্তবতা। আমাদের যা কিছু আছে, তা পুঁজি করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ইউজিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসির কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা–দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলার’। একই দর্শন বহন করে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।একটি নিরাপদ, উন্নত ও উদ্ভাবনী দেশের মর্যাদায় পৌঁছাতে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১, ভিশন ২০৭১ এবং ডেলটা প্ল্যান ২১০০—এসব লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং একটি উদ্ভাবনী শিক্ষা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারব। এরই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আগামী ১০-১১ ডিসেম্বর থেকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিয়ন্ড বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, জীবন ও পরিবেশের উন্নতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য গবেষক ও চর্চাকারীদের একত্র করে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করা হবে। সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও অটোমেশন, আইওটি ও স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডেটা বিশ্লেষণ ও ক্লাউড কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সিগনাল এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিং ২০২২ অনুসারে, দেশের মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৮০১-১০০০), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১০০১-১২০০) ও বুয়েট (১২০১+)। ২০২২ সালে এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা রূপকল্পে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোয় জোর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ ফেস টু ফেস ডিজিটাল পার করেছে এবং এখন আমরা ডিজিটাল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটালে আছি। এর জন্য ইউজিসি সম্প্রতি ব্লেন্ডড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হলো অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের উপস্থিতি বোঝাতে পারেনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এর বাজারমূল্য ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সহজেই প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাকশিল্পের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এলএমএস, লার্নিং অ্যানালিটিকস) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করতে হবে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনলাইন ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বে অন্তত ১০ বছর আগে থেকে এটা করা হচ্ছে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি বৃত্তিমূলক উপাদান থাকা উচিত, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতের কাজের জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং, গ্রাফিকস, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন হতে পারে। দেশে অনেক স্নাতক বেকার আছে সত্যি, কিন্তু তাঁদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা থাকলে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তাঁরা অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এমনকি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, লার্নিং অ্যাডভাইজর, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার, লার্নিং টেকনোলজিস্টের মতো হাজারো চাকরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আবির্ভাবে অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‌্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পুরোনো। প্রায়ই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সেটা তৈরি বা হালনাগাদ হয় না। বিসিএসকেন্দ্রিক শিক্ষা আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করবে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট এবং আমাদের পাঠ্যক্রমে এটির সমাধান করতে হবে। একটি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শেষ বছরে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনুশীলনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়া উচিত, সেখানে একটি ক্যাপস্টোন প্রোজেক্ট বা থিসিস অপশন থাকতে পারে। ওই সময়ে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বা দুটি কোর্স অনলাইনে অফার করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

সফট স্কিল, যেমন যোগাযোগের ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, জ্ঞানীয় বা মানসিক সহানুভূতি, সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত চাকরির স্থান (স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক), ফ্রিল্যান্সিং, কনসালট্যান্সি প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গাইডেন্স এবং আইজিএ (ইনকাম জেনারেটিং অ্যাকটিভিটিস) নিশ্চিত করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার দক্ষতা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্কিম, যেমন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, সরকারি-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ ফি থাকতে পারে, যা করদাতার আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা যেতে পারে। স্থানীয় চাকরির বাজারে তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত কোর্স ও প্রোগ্রামগুলোয় আরও ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পাবেন বা উদ্যোক্তা হবেন, তখন তাঁদের ধীরে ধীরে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঋণ বা ভর্তুকি পেতে ছাত্রদের মা–বাবা বা অভিভাবকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, এমনকি তা শূন্য হলেও।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নিজস্ব অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশ থেকে ভিজিটিং অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের আনতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণায় একাডেমিক উৎকর্ষ রয়েছে। ফলে, শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসবে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র‍্যাঙ্কিং অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম থাকা উচিত। এতে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মানদণ্ড, যেমন একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও গবেষণা অনুদানকে স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অনুসরণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (২০১৬) একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ‘আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশকারী ৬৫ শতাংশ শিশু শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন চাকরিতে কাজ করবে, যা এখনো বিদ্যমান নেই।’ সুতরাং শিক্ষা কোনো টিক নয়, বরং সারা জীবনের অর্জন। ভবিষ্যৎ কাজগুলো হবে এমন, যা মেশিন করতে পারে না। একই সঙ্গে সৃজনশীল প্রচেষ্টা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শারীরিক দক্ষতার মতো ক্ষেত্রগুলোর বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষ যাতে মেশিনকে হারাতে পারে। এখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

লেখা:
অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক এবং
বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান

Source: shorturl.at/arDF5

4
'মেটাভার্স' (METAVERSE) এক স্বপ্নের দুনিয়া

গতকাল মার্ক জাকারবার্গ পৃথিবীতে একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, যা একুশ শতকের একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিশেষ করে ইন্টারনেটের একটা মাইলফলক।  জাকারবার্গের ভাষায়, "Metaverse is the Successor of Internet"। অনেকেই শুধু এটা জেনে ক্ষান্ত দিয়েছেন যে, ফেইসবুক ফেইসবুকই থাকছে শুধু 'Meta' নামে একটা নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে। আগে ফেইসবুক ছিলো ফাদার কোম্পানি, আর এখন Meta হবে ফাদার কোম্পানি, যার অধিনে থাকবে WhatsApp, Facebook, Instagram এর মতো অ্যাপস। এটা কোনো বিশেষ ঘটনা না, ঘটনা হচ্ছে এই Meta কোম্পানি তৈরি করতে যাচ্ছে মেটাভার্স (Metaverse) নামে এক নতুন ভার্চুয়াল দুনিয়া। আমাদের ইউনিভার্স এর একটা প্যারালাল কপি হবে মেটাভার্স। এই মেটাভার্স তৈরিতে সহযোগী হিসেবে থাকছে বিশ্বের সব বড়বড় টেক কোম্পানি। সবাই মিলে নির্মান করতে যাচ্ছে এক ভার্চুয়াল দুনিয়া। যার নেতৃত্বে থাকছে মেটা (Meta)।

মেটাভার্স এ আপনি নিজেই নিজের একটা 3D দুনিয়া তৈরি করতে পারবেন। সেখানে আপনার একটা 'ভার্চুয়াল কপি' বা 'এনিমেটেড কপি' (Avatar) বসবাস করবে। আপনি চাইলেই সেখানে আপনার বন্ধু বা আত্মীয়দের আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। আপনার প্রোফাইল পিকচারের মতোই আপনার '3D Avatar' সেখানে আপনার প্রতিনিধিত্ব করবে। মজার বিষয় হচ্ছে সেখানে আপনি  আপনার একাধিক 'ভার্চুয়াল কপি' তৈরি করতে পারবেন। যেমন গেইম খেলার জন্য একটা, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ভ্রমণের  জন্য একটা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য একটা। শুধু তাই না, সেই দুনিয়ায় আপনি পছন্দমতো যেকোনো পোশাক পরতে পারবেন, কাপড় ও আসবাবপত্র কিনতে পারবেন, আপনার ভার্চুয়াল ঘর আপনার ইচ্ছেমতো সাজাতে পারবেন। অনেকে সেখানে বিভিন্ন 3D  অবজেক্ট তৈরি করে বিক্রি করবে, আর আপনি কিনবেন।  অবশ্য আপনিও সে দুনিয়ার বিক্রেতা হতে পারবেন, যদি আপনি 3D অবজেক্ট তৈরি করতে পারেন।

মেটাভার্সে যখন আপনি বাংলাদেশে থেকে জার্মানিতে কোনো ক্লাসে  অংশ নিচ্ছেন, আর তখন যদি টিচার এসে আপনার কানটা মলে দেন, তাহলে আপনি সে ব্যথাও অনুভব করবেন! আপনি দুরবর্তী কারো সাথে যোগাযোগ করার জন্য, তাঁর সাথে চ্যাট করা, ছবি দেখা, কথা শুনার পাশাপাশি তাকে (ভার্চুয়াল কপি) ধরতে পারবেন এবং তার সাথে পাশাপাশি বসে কথা বলার ফিল পাবেন। আপনার আই কন্টাক্ট,  ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, বডি মুভমেন্ট সব হবে বাস্তব জগতের মতো, হুবহু। এজন্য আপনাকে একটা AR Glass পরতে হবে, যা দেখতে আমাদের সাধারণ চশমার মতোই।  যেখানে একটা ক্যামেরা লাগানো থাকবে, আর কাজ করবে আপনার চোখ ও হাতের মুভমেন্টকে অনুসরণ করে। আপনার আসেপাশের পরিবেশ ভালো না লাগলে, আপনি হাঁটতে হাঁটতে বা ঘরে বসেই চলে যেতে পারবেন মেটাভার্সে।

মেটাভার্সে ঘরে বসেই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন আমেরিকায়, চড়তে পারবেন আইফেল টাওয়ারের চূড়ায়, কিংবা ধরে দেখবেন মিশরের হাজার বছরের পুরনো পিরামিড। আপনি চাইলে সেখানে বসেই সেই পিরামিড নির্মাণের ইতিহাসও দেখতে পারবেন, স্বচক্ষে। দেখবেন প্রাচীন কাপড় পরা কোনো মিশরীয় দাস টেনে নিচ্ছে এক বিরাট পাথর, মরুভূমির বালুর উপর এই টানার শব্দ, চিহ্ন এবং সেই মিশরীয় দাসের দীর্ঘশ্বাস আপনি শুনতে পারবেন, ধরে দেখতে পারবেন সেই পাথরটিও! মহাকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে, মহাকাশেও একটা ভ্রমণ করে আসতে পারবেন। আপনি চাইলেই মেটাভার্সে একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে পারবেন যেখানে বাংলাদেশের নদীনালা, খালবিল, পাহাড়, ঝর্ণা,  সব থাকবে। অন্যদেরকে সে দেশে হয়তো আপনি নিমন্ত্রণ দিবেন। সেখানে ভিসা, পাসপোর্ট ও ফি'র ব্যবস্থা রাখতে পারবেন। আবার কাউকে একসেস না দিয়ে, একাই থাকতে পারবেন সে দেশে। সব মিলিয়ে আপনি নিজেই তৈরি করতে পারেন আপনার স্বপ্নের দুনিয়া। বন্ধুর সাথে বসে গল্প করতে চাইলে তাকে নক দিয়ে শুধু বলবেন, 'এই আমার ঘরে আয়, জরুরি আলাপ আছে'। চাইলে আপনা ভার্চুয়াল ঘরে বসে, ভার্চুয়াল বোর্ডে আপনি দাবা বা টেবিল টেনিস খেলবেন, ভার্চুয়াল টিভি দেখবেন, গান শুনবেন। মিটিং, আড্ডা, ক্লাস, খাওয়াদাওয়া সব হবে মেটাভার্সে।

মেটাভার্সে এপনি ডাক্তারও দেখাতে পারবেন।  আশংকা করা হচ্ছে  সেখানে হয়তো পতিতা নির্মানকারী অনেক প্রতিষ্ঠানও থাকবে। হয়তো এক্সেস সবার থাকবে না। তাঁরা বলছে শিশুদের জন্য সেখানে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম থাকবে। সবমিলিয়ে ইন্টারনেটে যা হতে যাচ্ছে, তখন আপনি কতক্ষণ অনলাইনে ছিলেন সেটা হিসেব না করে, কতক্ষণ ছিলেন না সেটা হিসাব করবেন।

উপরে যা যা বলা হয়েছে তা আগামী বছরই হয়ে যাচ্ছে না, এজন্য Meta এক দশকের পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা সবাই মিলে ধাপে ধাপে একটা দুনিয়া নির্মান করছে। নির্মাণ করছে সে দুনিয়ার ইতিহাস। আপনাকে এখন থেকেই সে দুনিয়া সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, সেই সর্বগ্রাসী দুনিয়ায় আপনি কি করবেন এবং কিভাবে সেটা মোকাবিলা করবেন সেটা এখন থেকেই ভাবতে হবে। ২০২২ সাল খুব দূরে নয়, দরজায় কড়া নাড়ছে, কড়া নাড়ছে এক নতুন দুনিয়া। 

লেখকঃ Chowdhury Rahat

সূত্রঃ Internet

5
নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর এত বদনাম কেন ?

তাঁর কি অপরাধ?

কে এই  মুহাম্মদ (দ:)?

কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও যীশু নয়

সব অপরাধ শুধু নবী মুহাম্মদের !

কেন ?

বিশ্বাসী -অবিশ্বাসী , মুসলিম -অমুসলিম, সবার মনেই এই প্রশ্ন,
কেন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর এত বদনাম ?
কেন তাকে অপমান করার চেষ্টা করতে হবে?

যখন উগ্রবাদী শিবসেনা, ভারতে মুসলিমদের উপর নির্যাতন করে, কিংবা কেউ অন্যায়ভাবে কাশ্মীরিদের হত্যা করে, তখন কেউ কিন্তু কৃষ্ণকে এইজন্য দায়ী করেনা I
যখন বার্মায় রোহিজ্ঞাদের উপর এমন পাশবিক
গণহত্যা হলো তখন কেউ এই গন হত্যার জন্য বুদ্ধকে অপমান করার চেষ্টা করেনি I
একইভাবে, ১.৫ মিলিয়ন ইরাকিদের হত্যার দায় যীশুর নেই I

প্রশ্ন হলো, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর এত বদনাম কেন ?

তাঁর কি অপরাধ?

কারন হলো, নবী মুহাম্মদ (সাঃ), অন্যদের মত,  কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও যীশুর মত শুধুমাত্র একজন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না I
তিনি এই পৃথিবীতে এক ধরণের বিপ্লব নিয়ে এসেছিলেন I
এই কথাটি কেন বলেছি, সেই বিষয়ে কিছু তথ্য দেই, তারপর আমরা আবার মূল প্রশ্নে চলে আসবো I

আপনি কি জানেন, নবী হওয়ার পর এই মানুষটি, সর্বপ্রথম সমাজে কি পরিবর্তন চেয়েছিলেন ?

তিনি চেয়েছিলেন, নারীর অধিকার I

সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোরআনের আয়াতগুলিকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাজালে
প্রথম আয়াতটির মূল বিষয় ও আদেশ ছিল, "নারী শিশুদেরকে  জীবন্ত কবর দেয়া যাবে না"

এর পর কিছুদিন পরই তিনি বললেন, একজন নারী তার পিতার, স্বামীর ও সন্তানের সম্পদের অংশীদার হবে I

রাসূল (সাঃ) যখন এই ঘোষনা দিলেন, তখনই তিনি সমাজপতিদের রোষানলে পড়ে গেলেন I
এত দিনের মেনে চলা এই সংস্কৃতি ও আইনের বিরুদ্ধে, এই মত তারা মেনে নিতে পারেনি I
 
(নারী শিশুকে জীবন্ত কবর দেয়ার মত অপরাধ এই পৃথিবীতে এখনো আছে, আধুনিক ভারতে প্রতিদিন দুই হাজার নারী শিশুর এবরশন হয় কিন্তু কত জন নারীবাদী এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন ?)

তারপর আসলো ক্রীতদাসের কথা I

তিনি জানালেন, মানুষ আর মানুষের ক্রীতদাস হতে পারে না I
মৃত পিতার রেখে যাওয়া ইথিওপিয়ান ক্রীতদাসী উম্মে আইমানকে নিজের মা, আর উপহার হিসাবে পাওয়া জায়েদকে নিজের ছেলে, হিসাবে যখন সমাজে পরিচয় করিয়ে দিলেন, তখন সারা পৃথিবীতে আলোচনা শুরু হয়ে গেলো,
 
মুহাম্মদ আসলে কি চায় ?

ক্রীতদাস ছাড়া সমাজ ব্যবস্থা কেমন করে চলবে?  অর্থনীতি কি করে আগাবে? ক্রীতদাসের দল মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করলে কি অবস্থা হবে ?

ব্যাস, তিনি হয়ে গেলেন সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু I

(আজকের আধুনিক ইউরোপীয়ানদের হাজার বছরের ক্রীতদাস প্রথা এখনো বহাল তবিয়তেই আছে I ব্ল্যাক লাইভস ষ্টীল ডাজ নট মেটার )

ম্যালকম এক্সের মত বিপ্লবীরা, মুহাম্মদ আলীর মত শক্তিমান পুরুষরা যখন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে ভালোবাসতে শুরু করলো, তখনই তাদের মনে হলো, সব অপরাধ ঐ আরব লোকটিরই I

তিনি বললেন,
ধনীদের সম্পদের সুষম বন্টন হতে হবে I তাদের সম্পদের উপর গরিবের অধিকার আছে I
তিনি ঘোষণা দিলেন, সবাইকে জাকাত দিতে হবে I
সমাজের ধনী ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাবানরা ভাবলো,
মুহাম্মদ একজন সমাজ বিপ্লবী,  তাকে  সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে I

শেক্সপিয়ারের শাইলকের মত লোভী সব ইহুদি মুদ্রা ব্যবসায়ীদেরকে সুদ বন্ধ করতে আদেশ দিলেন I
ধনী-গরিবের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেন I
সবাই ভাবলো, মুহাম্মদ একজন সোসালিস্ট, তাকে মেরে ফেলতে হবে I

নিজের অনুসারীদেরকে বললেন,
তোমরা আর মদ পান করবে না I সমাজে অন্যায় অবিচার কমে গেলো I চুরি ডাকাতি কমে গেলো I
মাতাল স্বামীর সংখ্যা কমে যাওয়ায়, নারী নির্যাতন প্রায় বন্ধ হয়ে গেলো I
অসভ্য পুরুষের মনে হিংসা শুরু হলো, এ লোক পাগল নাকি? মদ খাবে না, নারীকে নিয়ে অপমানজনক ফুর্তি করবে না
সে কোন ধরণের সমাজ চায়? 
মাদক ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে মুহাম্মদকে ঠেকানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা শুরু করলো I

অসহায় মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ নিয়ে জুয়ার আসরের নিষেধাজ্ঞা আসলো I
মুহাম্মদের আর কোন রক্ষা নেই I সে বড় বেশি বাড়া বাড়ি করছে I
জুয়ার ব্যবসা ছাড়া সমাজে বিনোদনের আর কি রইলো ?
মুহাম্মদকে ঘর ছাড়া করতে হবে I তার সব আয়-রোজগার বন্ধ করতে হবে I

এখন কি বুঝতে পারছেন,
কেন মুহাম্মদের এত অপরাধ ?

এই যে এখন, নবী মুহাম্মদকে (সাঃ) কে এত বছর পর অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে
তার কি কারন?
 শুধু "ফ্রীডম অফ স্পিচ" ?

নো I

যে মানুষটির অনুসারীরা শুধু ভালোবাসা দিয়ে একসময় আফ্রিকা বিজয় করেছিল
সেই আফ্রিকার ২৪ টি দেশের, শত বছরের কলোনিয়াল নির্যাতন নিপীড়ন ও শোষণ থেকে যখন আলজেরিয়া ও তিউনেশিয়ার মত দেশগুলি অর্থনৈতিক ও রাজনৌতিক মুক্তি চেয়েছে
তখনই নবী মুহাম্মদ হয়ে গেলেন বড় অপরাধী I
লক্ষ-লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে, অসহায় ও নিরপরাধ মানুষকে নিজের ক্রীতদাস করে রেখে যে সম্পদের পাহাড় তারা একসময় গড়েছেন, সেটি যখন হুমকির মুখে তখনই সব রাগ ও ক্ষোভ এসে জমা হয়েছে I
এখন তাদের নবীকে অপমান করতে হবে, তাঁর ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করতে হবে I
তারপর আফ্রিকাতে আবার জঙ্গি দমানোর জন্য ন্যাটো বাহিনীকে পাঠাতে হবে I

কিন্তু তারা পারবে না I

পিউ রিসার্চের গবেষণা অনুযায়ী, শুধু ইউরোপেই প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে I
আপনি দেখবেন কিছু দিন পর এই সংখ্যা হবে, দশ হাজার I
কারন হলো, এই ঘটনার পর, মানুষ জানতে চাইবে ,

কে এই মুহাম্মদ ?

প্রথমেই সে জানবে I
মানুষটি শুধু আমাদেরকে মনে প্রাণে একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসতে বলেছেন I
মানুষরূপী কোন খোদার কাছে মাথানত করতে নিষেধ করেছেন I

একজন মানুষের জন্য শুধু এতটুকু জানাই যথেষ্ট I

এখন কেউ যদি চোখ বন্ধ করে সূর্যের আলোকে দেখতে না চায়, তাহলে কি সূর্য আলো দেয়া বন্ধ করে দিবে নাকি সূর্যের আলো হারিয়ে যাবে ?

নবী মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন এই পৃথিবীতে সেই আলো I
এই আলোকে কেউ লুকিয়ে রাখতে পারবে না I

"Truth is Truth"
ইউ ডিনাই অর ইউ একসেপ্ট

(সংগৃহিত)

6
লক্ষ্মী
=====
©আশাভরী সেন
                     
১৯২৭ এর গ্রীষ্মে, প্যারিস এয়ারফিল্ডে ভীষণ ভিড় ! একটি প্লেন, এক লাফে আটলান্টিক সমুদ্র পেরিয়ে এসে ল্যান্ড করেছে প্যারিসে - পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার ! তার আগের প্লেনগুলো এক লাফে আটলান্টিক পেরোতে পারতো না। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্যারিস এয়ারফিল্ডে ছুটে গেছেন হাজার হাজার মানুষ । সেই ভিড়ে ছিলেন দুজন ভারতীয় - একজন লম্বা ছিপছিপে চেহারার, আরেকজন ছোটোখাটো।

ছোটোখাটো মানুষটি অত লোকের ভিড়ে কিছু-ই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাকে ভালো করে দেখার সুযোগ করে দিতে লম্বা মানুষটি তাকে কাঁধে বসিয়ে নেন। কাঁধে চড়ে ছোটোখাটো মানুষটি এবার বেশ ভালো করে সব দেখতে পেলেন - এবং খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠলেন। 

আরেকটি ইতিহাসও সবার অলক্ষে সেদিন রচিত হয়েছিল। সেই দুজন - যিনি কাঁধে নিলেন, আর যিনি কাঁধে চড়লেন - পরবর্তীকালে দুজনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন !         

এর অনেক বছর পরে, ছিপছিপে মানুষটি দেখলেন একটি বিশেষ খাতে ভারতের সব বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়ে যাচ্ছে - ভাঁড়ারে টান পড়ছে । সেই বিশেষ খাতটি ছিল বিদেশ থেকে প্রসাধনী আমদানি। ভারতে তখন প্রসাধনী তেমন তৈরী হতোনা আর যা হতো, তা প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য ছিল । ছিপছিপে লম্বা লোকটি দুম করে বিদেশ থেকে প্রসাধনী আমদানি বন্ধ করে দিলেন - প্রতিবাদের ঝড় উঠলো । কাঁধে চড়া সেই ছোটোখাটো চেহারার মানুষটি-ও তাকে ছাড়লেন না - বেশ দু কথা শুনিয়ে দিলেন ।
‎                           .
অগত্যা ছিপছিপে লম্বা মানুষটি ডেকে পাঠালেন JRD টাটা-কে এবং জিজ্ঞেস করলেন যে মেয়েদের নিত্য ব্যবহার্য প্রসাধনী কম দামে, এদেশে বানানো সম্ভব কিনা। JRD লাফিয়ে উঠলেন - "একদম সম্ভব ! আর কেউ না বানালে আমি বানাবো" কথা দিলেন। ৮ মাসের মধ্যে বানিয়ে ফেললেন প্রথম স্বদেশী প্রসাধনী।  কিন্তু মুশকিল হলো ব্র্যান্ডের নামটা কী হবে ?

একদম দেশি নাম দিলে যদি ব্যবহারের অযোগ্য ভেবে মেয়েরা না কেনে ? ক'দিন আগে JRD টাটা প্যারিস থেকে ফিরেছেন। সেখানে তিনি একটি ভারতীয় অনুপ্রেরণায় রচিত ফরাসি অপেরা দেখেছিলেন - যেটি তার খুব ভালো লেগেছিলো। যদিও অপেরার নামটা ছিল ফরাসি কিন্তু সেই নামের ভারতীয় মানে হলো "লক্ষ্মী"। নতুন ব্যবসায় লক্ষ্মীর মুখ দেখবেন আশা করে, লক্ষ্মীর ফরাসি নামটাই ব্র্যান্ডের নাম করে দিলেন। আর লক্ষ্মীও তাকে বিমুখ করেনি ! বাজারে পড়া মাত্র সেই ব্র্যান্ডের প্রসাধনী দারুন জনপ্রিয় হলো। 
‎                    .
 যে লম্বা ছিপছিপে লম্বা মানুষটির অনুপ্রেরণায় JRD টাটা, এই ব্র্যান্ডটির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি হলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু আর ছোটোখাটো মানুষটি ? তার কন্যা ইন্দিরা গান্ধী ! প্যারিস এয়ারফিল্ড-এর ঘটনার সময় ইন্দিরা গান্ধীর বয়েস ছিল মাত্র ৯ বছর।  ভালো করে দেখতে পাচ্ছিলেন না বলে পন্ডিত নেহেরু, শিশু ইন্দিরাকে তার কাঁধে বসিয়ে নিয়েছিলেন । 

প্রসাধনী ব্যবসায় JRD টাটার "লক্ষ্মী" লাভ যে ব্র্যান্ডটি দিয়ে, ১৯৫২ থেকে আজও দারুন জনপ্রিয়, লক্ষ্মীর ফরাসি নামের সেই প্রসাধনীর ব্র্যান্ডটি  হলো - ল্যাকমে (Lakmé) !

(Collected)

7
তোকে কোলে নেবার ঋণ...

"বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো"।

বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) "একটা গল্প শুনবি?"
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো-
"বলো বাবা শুনবো......"

তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চালানোর কষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর 'মা কে 'সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো।

সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বিষহ লাগতো। কিন্তু কখোনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মা কেও না।

একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে কাজে যাচ্ছি। কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি ল্যাপটপ এর জন্য। তোর কষ্টে আমার কষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে ল্যাপটপ টা কিনে দিয়েছিলাম। আমার তখনকার এক টাকা তোর এখন এক পয়সা! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস। ব্রান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো।

আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন সুগার মাপাই । জানিস আমার মাছ খাওয়া নিষেধ, মাংস খাওয়া নিষেধ, কি করে এত টাকা খরচ করি বল! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই। সে হাটে আমি বাইক চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের হাত ধরে তাঁত মেলায় ঘুরে বেড়াই।

বাবারা নাকি "খাড়ুশ টাইপের" হয় । আমিও আমার বাবাকে তাই ভাবতাম । পুরুষ থেকে পিতা হতে আমার কোনো কষ্ট হয়নি, সব কষ্ট তোর মা সহ্য করেছে। কিন্তু বিশ্বাস কর পিতা থেকে দ্বায়িত্বশীল পিতা হবার কষ্ট একজন পিতাই বোঝে।

যুগে যুগে সর্বস্থানে মাতৃবন্দনা হলেও পিতৃবন্দনা কোথাও দেখেছিস ?

পিতৃবন্দনা আমি আশাও করি না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কোনো পিতা হয়তো প্রকাশ করতে পারে না, তবে কোনো পিতা কখনোই সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হয় না। আমি তোর পেছনে আমার যে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করেছি তা হয়তো তুই তিন বছরে শোধ দিতে পারবি...

কিন্তু যৌবনে দেখা আমার স্বপ্ন গুলো ?

যে স্বপ্নের কাঠামোতে দাঁড়িয়ে তুই আজ তোর ঋণশোধের কথা বলছিস.
সেই স্বপ্ন গুলো কি আর কোনোদিন বাস্তব রুপ পাবে ?

আর যদি বলিস বাবা আমি তোমার টাকা না তোমার ভালবাসা তোমায় ফিরিয়ে দেব, তাহলে বলবো বাবাদের ভালবাসা কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।

তোকে একটা প্রশ্ন করি, ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় বসে আছি। হটাৎ নৌকা টা ডুবতে শুরু করলো....
যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবি তুই।
কাকে বাঁচাবি ?
( ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা! )
উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না।

পৃথিবীতে সব চেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস?
পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ!

আমি শুধু একটা জিনিস চাই।
আমার শেষ যাত্রায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋণ শোধ করতে পারবি - তোকে কোলে নেবার ঋণ...

(copy)

8

বাবা মা‌র বিচ্ছেদ যে‌দিন---------
সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় জজ সা‌হেব মা কে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আপনি কাকে চান ? ছেলে কে না মেয়েকে??"
মা তখন তার ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। মে‌য়ে ব‌লে বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।
কাঠের বেঞ্চিতে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা অনাতা আশ্রমে রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।
দিন যায়-মাস যায়,  অনাতা আশ্রমে জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে অনাতা আশ্রমে থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!
বছর দু'য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল'ইয়ার হবো।  আজ আমি একজন ডিভোর্স ল' ইয়ার। যারাই আমার কাছে ডিভোর্স এল জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!
চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।
সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।
একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাৎ দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।
মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!
ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।
.... কন্যা....
(সংগৃহিত)

9
মানুষ যদি মানুষের পাশেই না যায়, তবে এতো সময় বাঁচিয়ে কি হবে বলো ??

বাবার সাথে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে ব্যাংকে বসে আছি। বিরক্ত হচ্ছি খুব। যত না  নিজের উপর,  তার চেয়ে  বেশি বাবার উপর। অনেকটা রাগ করেই বললাম, বাবা,  কতবার বলেছি,অনলাইন  ব্যাঙ্কিংটা শিখো।

বাবা :  এটা শিখলে কি হবে?

ঘরে বসেই তুমি এই সামান্য কাজটা করতে পারতে।  শুধু ব্যাংকিং না। শপিংটাও তুমি অনলাইনে করতে পারো। ঘরে বসে ডেলিভারি পেতে পারো।  খুবই সহজ। কিন্তু এই সহজ জিনিসটাই করবে না।

বাবা :  করলে আমাকে ঘরের বাইরে বের হতে হতো না, তাই না?

হ্যাঁ, বাবা তাই।  এখানে এসে ঘন্টা খানেক অনর্থক বসে থাকতে হতো না।

এরপর বাবা যা বললেন, তাতে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।

বাবা বললেন: এতো সময় বাঁচিয়ে তোমরা কি করো।  ফোনেই তো সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকো। কবে শেষদিন তুমি তোমার খালা/ফুফুর সাথে কথা বলেছো? দশ হাত দূরে প্রতিবেশী বৃদ্ধ গফুর চাচার খবর নিয়েছো? অথচ, আপন জনের সাথে দেখা করতে দশ মাইল পথ হেঁটেছি। সময় বাঁচানোর চিন্তা করিনি। মানুষ যদি মানুষের পাশেই না যায়, তবে এতো সময় বাঁচিয়ে কি হবে বলো।

বাবার কথা পাশ থেকে মানুষেরা শুনছেন। আমি চুপচাপ বসে আছি।

বাবা বললেন:  ব্যাংকে প্রবেশের  পর থেকে চারজন বন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় করেছি। তুমি জানো,  আমি ঘরে একা। তাই ঘর থেকে বের হয়ে আসাটাই আমার আনন্দ। এইসব মানুষের সাহচর্যটাই আমার সঙ্গ। আমার তো এখন সময়ের কমতি নেই।  মানুষের সাহচর্যেরই কমতি আছে। ডিভাইস, হোম-ডেলিভারি, এনে দেবে...... মানুষের সাহচর্য তো আমায় এনে দেবে না।

মনে পড়ে, দু বছর আগে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। যে দোকান থেকে আমি দৈনন্দিন কেনাকাটা করি, তিনিই আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন। আমার পাশে বসে থেকে মাথায় হাত রেখেছিলেন। চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিলো।  তোমার ডিভাইস বড়জোড় একটা যান্ত্রিক ইমেইল পাঠাবে, কিন্তু আমার পাশে বসে থেকে চোখের অশ্রুতো মুছে দেবে না। চোখের অশ্রু মুছে দেয়ার মতো কোনো ডিভাইস কি তৈরি হয়েছে?

সকালে হাঁটতে গিয়ে তোমার মা পড়ে গিয়েছিলেন। কে তাকে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলো? অনলাইন মানুষের একাউন্ট চেনে,  সে তো মানুষ  চেনে না! মানুষের ঠিকানা চেনে,  রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের ঘরতো চেনে না!
এই যে মানুষ আমার শয্যাপাশে ছিলো, তোমার মাকে ঘরে পৌঁছে দিলো, কারণ  দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে একজন আরেকজনকে চিনেছি।

সবকিছু অনলাইন হয়ে গেলে  মানুষ "হিউম্যান টাচটা"  কোথায় পাবে বলো?  আর পায় না বলেই  পাশের ঘরে মানুষ মরে গিয়ে লাশ হয়ে থাকে,  দূর্গন্ধ না আসা পর্যন্ত কেউ কারো খবরও আর রাখেনা।  বড় বড় এ্যাপার্টম্যান্টগুলো আমাদের এ্যাপার্টই করে দিয়েছে।  পুরো পাড়ায় একটা টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান একসাথে দেখে সবার আনন্দ,  আমরা একসাথে জড়ো করতাম। এখন আমরা রুমে রুমে নানা ডিভাইস জড়ো করেছি।  আনন্দ আর জড়ো করতে পারিনা। 

এই যে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার দেখছো। তুমি ওনাকে ক্যাশিয়ার হিসাবেই দেখছো।  সেলস ম্যানকে সেলসম্যান হিসাবেই দেখছো।  কিন্তু আমি সুখ দুঃখের অনুভূতির একজন মানুষকেই দেখছি।  তার চোখ দেখছি।  মুখের ভাষা দেখছি। হৃদয়ের কান্না দেখছি। ঘরে ফেরার  আকুতি দেখছি । এই যে মানুষ মানুষকে দেখা, এটা  একটা বন্ধন তৈরি করে। অনলাইন শুধু সার্ভিস দিতে পারে, এই বন্ধন দিতে পারে না। পণ্য দিতে পারে, পূণ্য দিতে পারে না।  এই যে মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা,  কুশলাদি জিগ্যেস করা।  এখানে শুধু পণ্যের সম্পর্ক নেই, পূণ্যের সম্পর্কও আছে।

বাবা, তাহলে টেকনোলজি কি খারাপ?

বাবা বললেন: টেকনোলজি খারাপ না।  অনেক কিছু সহজ করেছে নিঃসন্দেহে সত্য।  ভিডিও কলের মাধ্যমে লাখে লাখে ছেলেমেয়েরা পড়ছে, শিখছে, এটা তো টেকনোলজিরই উপহার।  তবে,  টেকনোলজির নেশাটাই খারাপ। স্ক্রিন এ্যাডিকশান ড্রাগ এ্যাডিকশানের চেয়ে কোনো অংশে কম না। দেখতে হবে, ডিভাইস যেন  আমাদের মানবিক সত্ত্বার মৃত্যু না ঘটায়। আমরা যেন টেকনোলজির দাসে পরিণত না হই।  মানুষ ডিভাইস ব্যবহার করবে।  মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে। কিন্ত ভয়ঙ্কর সত্য হলো, এখন আমরা মানুষকে ব্যবহার করি, আর ডিভাইসের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি।  মানুষ ঘুম থেকে ওঠে আপন সন্তানের মুখ দেখার আগে স্ক্রিন দেখে,  সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন্সটিউট এটাকে ভয়ঙ্কর মানসিক অসুখ বলে ঘোষনা করেছে।

কিছুদিন আগে আশা ভোঁসলে একটা ছবি পোস্ট করে ক্যাপশান লিখেছেন-  "আমার চারপাশে মানুষ বসে আছে। কিন্তু কথা বলার মানুষ নেই। কারণ সবার হাতে ডিভাইস।"

বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন : জানিনা ভুল বলছি কিনা, তবে আমার মনে হয়, তোমরা পণ্যের  লোগো যতো চেনো, স্বজনের চেহারা তত চেনো না।  তাই, যত পারো মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করো, ডিভাইসের সাথে না। টেকনোলজি জীবন না। স্পেন্ড টাইম উইথ পিপল, নট উইথ ভিডাইস।


বাবাকে 'চাচা' বলে কে একজন ডাক দিলো । বাবা কাউন্টারের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।  এই প্রথম আমি বুঝতে পারলাম। বাবা ক্যাশিয়ারের দিকে যাচ্ছেন না। একজন মানুষ মানুষের কাছেই যাচ্ছেন। বাবাকে আমি অনলাইন শেখাতে চেয়েছিলাম,  বাবা আমাকে লাইফলাইন শিখিয়ে দিয়ে গেলেন।

সংগৃহীত

10
হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করা অপরাধেরই শামিল

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের কাছে ‘রিমান্ড’ শব্দটি যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অবশ্য জনগণের মাঝে এ ধারণা একদিনে জন্মায়নি। দীর্ঘদিন ধরে রিমান্ড সংক্রান্ত বাস্তব অবস্থা দেখতে দেখতে জনগণের মাঝে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। মূলত ‘রিমান্ড’ শব্দটি ফৌজদারি মামলার জন্য আসামির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। দেশে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি), ১৮৯৮-এর দুটি ধারায় (ধারা ১৬৭ ও ৩৪৪) রিমান্ড শব্দের উল্লেখ থাকলেও ওই কার্যবিধির কোথাও রিমান্ড শব্দটির সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।


রিমান্ড বিষয়ে সিআরপিসির ১৬৭ ধারায় বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হলে এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ বিবেচিত হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকটবর্তী আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিমান্ড প্রার্থনা করতে পারেন, যা একসঙ্গে ১৫ দিনের অধিক হবে না।

সহজভাবে বলতে গেলে, রিমান্ড হচ্ছে কোনো আমলযোগ্য অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আসামিকে পুলিশি হেফাজতে আটক রাখা। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা আটক রাখা যাবে। তারপর আটককৃত বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি প্রমাণিত হয় আটককৃত ব্যক্তি নির্দোষ, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুক্তি দেবেন।

আর যদি প্রমাণ হয় আটককৃত ব্যক্তি অপরাধী বা আরও তথ্য উদঘাটন প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে তিনি রিমান্ডের সময় বাড়াতে পারেন, তবে তা ১৫ দিনের বেশি হবে না। আর রিমান্ডে নিয়ে মারধর করার কোনো বিধান নেই, যদিও আমাদের দেশে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রিমান্ড মঞ্জুরের সময় সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

যা হোক, রিমান্ড বিষয়ে আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে (২০০৩ সালে) হাইকোর্ট কতিপয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। রিমান্ড বিষয়ে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনায় কোনো মামলায় আসামি গ্রেফতার এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর দেশে রিমান্ড ইস্যুতে নানা ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে তা এখন পর্যন্ত সংশোধিত হয়নি। যদিও সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বা নির্দেশনা প্রতিপালন করা সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে নিম্ন আদালতের দুই বিচারকের কাছে হাইকোর্ট ব্যাখ্যা চাইলে এবং মামলার নথিপত্রসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাজির হওয়ারও নির্দেশ দিলে রিমান্ডের বিষয়টি জোরালোভাবে সবার নজরে আসে। রিমান্ড মঞ্জুরকারী ঢাকার সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা কী উপাদানের ভিত্তিতে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন-হাইকোর্ট এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতে হাজির হতেও নির্দেশ দেওয়া হবে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছেন। পাশাপাশি চিত্রনায়িকা পরীমনির রিমান্ড বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রেখেছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘রিমান্ডের উপাদান ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা প্রার্থনা দিল, আপনি (ম্যাজিস্ট্রেট) মঞ্জুর করে দিলেন। এগুলো কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। রিমান্ড অতি ব্যতিক্রমী বিষয়।’

আগেই বলা হয়েছে, রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে এবং এ নির্দেশনা অনুসরণ না করেই পরীমনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন পরীমনির আইনজীবীরা। পরীমনিকে মাদকের মামলায় পরপর তিনবার রিমান্ডে নেওয়া হলে ওই রিমান্ডকে চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিটের শুনানিকালে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, পরীমনির ক্ষেত্রে রিমান্ডের অপব্যবহার হয়েছে। আইনজ্ঞরাও অভিযোগ করেছেন, দেশে প্রতিনিয়তই রিমান্ডের অপব্যবহার হচ্ছে। এক্ষেত্রে একমাত্র হাইকোর্ট তথা সুপ্রিমকোর্টই পারেন রিমান্ডের অপব্যবহার বন্ধ করতে।

বলা বাহুল্য, অনেক আগে থেকেই এ দেশে রিমান্ডের বিষয়ে বাস্তবতা ভিন্ন। রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় এবং সেই জবানবন্দি মামলার বিচারে আসামির বিরুদ্ধেই ব্যবহার, হত্যাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চ আদালতে এটির বৈধতার চ্যালেঞ্জ হয়েছে বহুবার, আদালত থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তারপরও রিমান্ডের অপব্যবহার বাড়ছে, যা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগজনক। ১৯৯৮ সালে ডিবি অফিসে হেফাজতে মারা যান ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র শামীম রেজা রুবেল। এ ঘটনা তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করে (রিট পিটিশন নম্বর : ৩৮০৬/১৯৯৮), যার প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ফৌজদারি আইন সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৫ মে ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

রিমান্ড বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে : ১. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না; ২. কাউকে গ্রেফতার দেখানোর সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে; ৩. গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে; ৪. গ্রেফতারকৃতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ আনবে পুলিশ; ৫. গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে পুলিশকে; ৬. বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যদি কাউকে আটক করা হয়, তাহলে আটক ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে; ৭. আটক ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে; ৮. জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের কাচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন; ৯. কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে; ১০. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে; ১১. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন।

বোর্ড যদি বলে, ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে; ১২. পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারেও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে; ১৩. পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয়, ওই ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা কি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। এ কথা সবার স্মরণে রাখা প্রয়োজন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তি আদায় করা সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আর সংবিধান হচ্ছে এ দেশের সর্বোচ্চ আইন। তাই রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের যে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে মানা উচিত।

যদি পালন করা বা মানা না হয়, তাহলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। তবে এ কথা সত্য যে, অপরাধের ধরন বা প্রকৃতি বা মাত্রা অনুযায়ী অথবা বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে রিমান্ড দরকার হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মামলার ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামির রিমান্ড চাচ্ছেন। একটি সভ্য সমাজে, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে রিমান্ড যেন কোনোভাবেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত না হয়, তা সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই সুনিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রিমান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা আর আজকের রিমান্ডের বাস্তব চিত্রের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য, যা একটি সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। সুতরাং, বাস্তবতাসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট তথা সুপ্রিমকোর্ট যদি মনে করেন, এভাবে আর রিমান্ডে নিতে দেওয়া যাবে না; তাহলে কেবল সুপ্রিমকোর্টই পারেন এ প্রবণতা রোধ করতে।


ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু
বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি;
ভিজিটিং প্রফেসর,
লাইসিয়াম অব দ্য ফিলিপিন্স ইউনিভার্সিটি, ফিলিপাইন
kekbabu@yahoo.com

Source: https://www.jugantor.com

11
ডেঙ্গুর কোন ঔষধ নাই জিনিসটা মাথায় ঢুকিয়ে ফেলুন।


মূল চিকিৎসা হচ্ছে শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স ঠিক রাখা।

এইটা আপনি পারবেননা, কোন ফার্মেসির দোকানদার, টেকনেশিয়ান, ভন্ড চিকিৎসক, আপনার মহা জ্ঞানী প্রতিবেশী কেউই পারবেন না।
সুতরাং কারো পরামর্শে কিচ্ছু করবেন না। কোন ঔষধ খাওয়াও নিষেধ।

ফ্লুইড খাবেন বেশি করে, যেমন ডাবের পানি, বাসায় বানানো ফলের রস, লেবুর শরবত ইত্যাদি।

জ্বর এলেই Dengue Ns1 পরীক্ষাটা দ্রুত করে ফেলুন। জ্বরের পাঁচ দিনের মধ্যেই এই টেস্ট করতে হয়, পাঁচদিন কেটে গেলে এই টেস্ট নেগেটিভ আসে। তখন ডেংগু কনফার্ম করার জন্য অন্য টেস্ট করতে হয়।  তাই জ্বর এলে দেরি না করে সেদিনই NS1 করে ফেলুন) এবং অবশ্যই হেলাফেলা না করে ডাক্তার দেখান। পরামর্শ নিন।

ফোনে ইনবক্সের চিকিৎসা না, সিরিয়াস রোগী হোন।

আর নিজের বাসার কোথাও পরিস্কার পানি জমে থাকছে কিনা খেয়াল রাখুন।

প্রতিবেশীদেরকেও সতর্ক করুন।

ছাদে কোথাও পানি জমে থাকছে কিনা খেয়াল করুন।

কারো উপর নির্ভর করে আসলে কোন লাভ নেই।

নিজেদের কাজ নিজেদেরই করতে হবে এখন।

রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবেন যেভাবে
(ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারন রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া)
রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তজমাটে সাহায্য করে। ২০ হাজারের নিচে প্লাটলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। কোনো কারণে রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই প্লাটিলেটের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিছু খাবার আছে যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই সেসব খাবারের নাম।

পেঁপে এবং পেঁপে পাতা
পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।

মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ
মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

লেবুর রস
লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।

আমলকী
আমলকীতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

অ্যালোভেরার রস
অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা উপকারী। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

ডালিম
ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দুর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

Collected from Social Media.

12
ওয়াইফাইয়ের পর এবার আসছে লাইফাই

ওয়াইফাইয়ের তুমুল জনপ্রিয়তার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। তবে ভয়ের কারণ নেই, আসছে এর থেকেও সহজ ও উন্নত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি লাইফাই। বলা হচ্ছে, ৪ গিগাবাইট স্টোরেজের একটি সিনেমা ডাউনলোড করতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তাও আবার একটি বৈদ্যুতিক বাতির তলায় দাঁড়ালেই! বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এমনই এক প্রযুক্তি আসছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় স্টোরেজের গেম, সিনেমা সবই ডাউনলোড হবে চোখের পলকে। ডাটা আদান-প্রদানের নতুন এ মাধ্যম নিয়ে যুগান্তরের আজকের আয়োজনে প্রথম পর্বে বিস্তারিত লিখেছেন- তানভীর তানিম

লাইফাইয়ের পূর্ণরূপ লাইট ফিডেলিটি (Light Fidelity)। ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের জার্মান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী হ্যারল্ড হ্যাস প্রথম ‘লাইফাই’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এ প্রযুক্তিতে আলোর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে। যেখানে ওয়াইফাইয়ে ব্যবহৃত হয় অদৃশ্য বেতার তরঙ্গ।

যেহেতু লাইফাই ওয়াইফাইয়ের তুলনায় বেশি ব্যান্ডউইথ, ব্যবহারের সহজতা, দক্ষতা এবং সুরক্ষার মতো অনেক সুবিধা দেয়। তাই এ প্রযুক্তি একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলের উচ্চ গতির ওয়্যারলেস যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, লাইফাই নামক এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ট্রিট লাইট থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের অটোমেটিক প্রযুক্তির গাড়িও হেডলাইটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। আলোর গতি যেহেতু অনেক দ্রুত তাই এ ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের গতিও খুব দ্রুত হয়। একইসঙ্গে ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রযুক্তি হতে পারে লাইফাই। ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে, বাসায় ব্যবহৃত এলইডি লাইট একই সঙ্গে ঘরকে আলোকিত করছে এবং ঘরের ভেতরে লোকাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে অবদান রাখছে। এমনকি বাড়ির প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতিকেই লাইফাই প্রযুক্তির রাউটার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

লাইফাই প্রযুক্তি কী?

ওয়াইফাইয়ের মতোই লাইফাই একটি ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি। এটি ভবিষ্যতে বহুল ব্যবহৃত ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো পুরোপুরি নেটওয়ার্কযুক্ত, দ্বিপাক্ষিক এবং উচ্চ গতির ওয়্যারলেস কানেকশন।

আজকাল ওয়্যারলেস যোগাযোগের সর্বাধিক ট্রেন্ডিং ডোমেন হলো ওয়াইফাই। প্রতি বছর এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আর এরচেয়েও উচ্চগতি, দক্ষতা, ব্যান্ডউইথ প্রাপ্তির সুবিধা থাকবে লাইফাইয়ে।

যেভাবে কাজ করে লাইফাই

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এলইডি বাতি ব্যবহার করে সহজেই ডেটা আদান-প্রদান করা যাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এমনকি হাতের মুঠোফোনটিতেও। লাইফাইয়ের ডেটা ট্রান্সমিশন রেঞ্জ ওয়াইফাইয়ের চেয়ে ১০০ গুণ দ্রুত। এ প্রযুক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২২৪ গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্য প্রেরণ করা যায়, যেখানে ওয়াইফাইয়ের সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০০ মেগাবাইট। তবে এ প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আলো কোনো দেয়াল ভেদ করে যেতে পারে না। ফলে যে ঘরে লাইফাই নেটওয়ার্ক রয়েছে সে ঘরটি ত্যাগ করলেই গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে একে লাইফাইয়ের সীমাবদ্ধতা হিসাবে নয়, সুবিধা হিসাবেই দেখছেন অনেকে। এর ফলে আবদ্ধ একটা জায়গাতে সীমাবদ্ধ থাকবে এর সিগন্যাল। সুতরাং আলোর মাধ্যমে সম্প্রচারিত ডেটা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। পাসওয়ার্ড চুরি করে আর কেউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে না।

লাইফাইয়ের ব্লক ডায়াগ্রাম

লাইফাই সিস্টেমে মূলত দুটি অংশ থাকে। ট্রান্সমিটার ও রিসিভার। ট্রান্সমিটার বিভাগে ইনপুট সিগন্যালটি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে মডিউল করা যায়। তারপর ০ ও ১ এর আকারে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করে ডেটা প্রেরণ করে। এখানে এলইডি বাল্বের আলোকে ০ এবং ১ এর সঙ্গে বোঝানো হয়েছে। রিসিভার প্রান্তে এলইডি আলো গ্রহণের জন্য একটি ফটোডায়োড ব্যবহার করা হয় যা সিগন্যালটিকে আরও শক্তিশালী করে এবং আউটপুট দেয়। অন্যদিকে, রিসিভার প্রান্তে ফটোডায়োডের পাশাপাশি এমপ্লিফায়ারও থাকে। এখানে, ফটোডায়োড এলইডি বাল্ব আলোকে গ্রহণ করে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে। সবশেষে অ্যামপ্লিফায়ার ফটোডায়োড থেকে সংকেত গ্রহণ করে এবং তার আরও শক্তিশালী আউটপুট দেয়।

Source: Daily Jugantor.

13
Smartphone / Find out Your Smart Phone while it is lost during Silent Mood
« on: September 04, 2021, 01:07:42 PM »
সাইলেন্ট করা মোবাইল হারিয়ে ফেললে কীভাবে তা খুঁজে পাবেন?
Find out Your Smart Phone while it is lost during Silent Mood


🤫 আপনার মোবাইলটি সাইলেন্ট অবস্থায় হারিয়ে ফেলেছেন। খুঁজে পাচ্ছেন না কোথাও। এমন ঘটনা প্রায়ই আমাদের সঙ্গে হয়ে থাকে। ফোন যদি সাইলেন্ট মোডে থাকে তাহলে ফোন খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

🤷🏻 সাইলেন্ট করা মোবাইল হারিয়ে ফেললে কীভাবে তা খুঁজে পাবেন?

১. প্রথমে অন্য কোনও মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে গুগল-এর ওয়েবসাইটে যান।
২. সেখানে সার্চ বারে লিখুন ‘ফাইন্ড মাই ফোন’।
৩. তারপর গুগল অ্যাকাউন্ট বা জিমেইল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন।
৪. নিজের মোবাইলের লোকেশন দেখতে পাবেন গুগল-এ।
৫. এরপর আপনার সামনে অপশন আসবে, যেটির মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজারটি ‘অন’ করে দিতে পারবেন।
৬. এবার ‘রিং’ অপশনটিকে সিলেক্ট করুন।
৭. আপনার ফোন সাইলেন্ট মোডে থাকলেও সেটি ফুল ভলিউমে রিং হতে শুরু করবে এবং যতক্ষণ না আপনি ফোনটিকে খুঁজে বের করে তার পাওয়ার বাটনটি চেপে ধরছেন, ততক্ষণ ফোন রিং হতেই থাকবে। এবার সেই আওয়াজ অনুসরণ করে ফোনটিকে খুঁজে বের করা কোনও ব্যাপারই নয়।

Source: Social  Media.

14
ভালো শেয়ার নির্বাচনের ১০ উপায়

প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর একটি সাধারণ লক্ষ্য থাকে পূঁজি নিরাপদ রেখে নিশ্চিত মুনাফা করা। সেজন্য বিনিয়োগের জন্য ভালো শেয়ার বাছাই করতে হয়। ভালো শেয়ার বাছাই করার আগে বিনিয়োগকারীদের জানতে হবে কোম্পানির অতীত ও বর্তমান ইতিহাস, এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের ব্যবসায়িক সততা, দক্ষতা, কোম্পানির বাজার পরিধি।

আমরা আমাদের আজকের ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নের ১০টি লক্ষণ বিবেচনা করবো।

১। ভাল প্রবৃদ্ধিঃ আমাদেরকে প্রথমেই ভালো প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে হবে। তারপর কোম্পানির গত ৫ বৎসরের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে কিনা দেখবো। আমাদেরকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে হবে, তা হলো কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ। কারণ দক্ষ পর্ষদ একটি কোম্পানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানী যে সব পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কি এবং কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির PE রেশিও, RSI, Growth in operating profit, NPAT, এবং EPS দেখলেই আমরা নিজেরাই ভাল কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে পারবো।

২। কম দায়ঃ আমাদেরকে কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোম্পানির দায়। এই দায় কোম্পানির লাভ খেয়ে ফেলে। ফলে প্রতিষ্ঠান ভাল ব্যবসা করলেও ঋণ দায়ের কারণে ভালো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারে না। অবশ্যই কোন কোম্পানির দায় .৫০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। যদি হয় তাহলে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। বড় বাজারঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের টার্গেট কতটা বড় খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিটি মোট মার্কেটের কতো শতাংশ হোল্ড করে তা দেখতে হবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাজার কতো বড় হতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ব্যবসায় আগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে।

৪। উচ্চ রিটার্নঃ আমাদেরকে সর্বদা উচ্চ রিটার্ন দেওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব কোম্পানি গত ৫ বৎসর যাবৎ ভালো ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নিচের পদ্ধতিগুলো দেখে বুঝতে হবে কোনটি High Return দেওয়া কোম্পানি।

ক. Return on Equity (ROE): এর ক্ষেত্রে অনুপাত ১০ বা তার বেশি হওয়া উচিত।

খ. Return on Asset (ROA): এই পদ্ধতিতে কোম্পানির বর্তমান সম্পদ ভিত্তিক রিটার্ন কী জানা যায়। মোট আয়কে মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়। একটি কোম্পানি মোট সম্পত্তির তুলনায় কতটা লাভজনক তার সূচক। এ সূচক যত বেশী হবে কোম্পানির অবস্থা ততো ভালো।

৫। যোগ্য নেতৃত্ব্ঃ আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারা কোম্পানিটি পরিচালনা করছে। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের কারণে কোম্পানিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। নেতৃত্বের সঙ্কটে থাকা কোম্পানিগুলো কখনো ভালো ফলাফল দিতে পারে না।

৬। প্রতিযোগিতাঃ বিনিয়োগের পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগী কারা কারা রয়েছে। পূর্ণ প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভাল গুনগতমান সম্পন্ন পণ্যের ও পণ্যের ডাইমেনশন নিয়ে ভাবতে হবে। নির্বাচিত পণ্যের Advantage গুলি কী কী আছে তা বের করে দেখতে হবে তার বাজার সম্ভাব্যতা।

৭। পরিচালকদের মালিকানার অনুপাতঃ কোম্পানির ডিরেক্টরদের অবশ্যই ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারন করতে হবে। তাহলেই কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর পরিচালকদের মালিকানা কম হলে সে কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

৮। সেক্টর নির্বাচনঃ ভবিষ্যতে কোন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

৯। নগদ প্রবাহ ও দায়ঃ আমাদেরকে অবশ্যই কম দ্বায় সম্পন্ন অর্থাৎ ০.৫০ শতাংশ শতাংশের কম Loan বা দায় গ্রহনকারী কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সকল কোম্পানির দায় বেশী তাদের লাভ থেকে ঋণের সুদ বেশী খরচ হয়ে যায়। যে সকল কোম্পানির নগদ প্রবাহ বেশী তারা অন্যান্য কোম্পানির থেকে অনেক বেশী স্থিতিশীল হয়।

১০। অবমুল্যায়িতঃ আমাদেরকে অবশ্যই অবমুল্যায়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। নিন্মোক্তভাবে অবমুল্যায়িত কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবেঃ

ক. Price Earning Ratio (PE Ratio): পিই রেশিও ১৫ বা তার আশেপাশে থাকা স্টকগুলো নির্বাচন করতে হবে।

খ. Price to Book Value ( PB Ratio): শেয়ারের ক্রয় মূল্য যেন কোনভাবেই NAV এর তিন গুনের বেশী না হয়।

গ. Price earning to Growth (PEG): কোম্পানির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৫ এর উর্ধে কোম্পানির স্টক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পিই রেশিও ১০ এর মধ্যে থাকলে ভালো। ওয়ারেন বাফেট বলেন “১৫ পিই রেশিও এর উর্ধে্র শেয়ারে বিনিয়োগ কখনও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।” বিনিয়োগকারী হিসেবে সফলতা পেতে হলে সকল পুঁজি একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভাল কোম্পানি নির্বাচন পূর্বক বিনিয়োগই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

লেখক:
মোঃ শাহ্ নেওয়াজ মজুমদার
শিক্ষক ও কলামিস্ট

Source: https://www.sharenews24.com/article/37248/index.html

15
চাঙ্গা বাজারে ভালো শেয়ার নির্বাচনের উপায়

অনেক চড়া-উৎেরাই পেরিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে অবশেষে চাঙ্গাভাব ফিরেছে। রমরমা এই বাজারে কয়েক গুণ বেড়েছে অনেক শেয়ারেরই দাম। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের অবস্থা যখন খারাপ হয় তখন তারা শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবার যখন শেয়ার দর অতি মূল্যায়িত হয় তখন আমাদের দেশের ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী (সম্ভবত আরো বেশি) শেয়ার কেনার কথা ভাবা শুরু করেন! একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বর্তমানে বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারই অতিরিক্ত দামে লেনদেন হচ্ছে।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানি শেয়ার নিয়ে আমাদের দেশের শেয়ারবাজারে কারসাজি বেশি হয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারসাজি চক্র বাজারকে ম্যানুপুলেট করার জন্য এসব কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে। পরবর্তীতে তাদের স্বার্থ হাসিলের পর তারা সব শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে সটকে পড়ে। তখন বিপদে পড়েন মৌসুমী ও স্বল্প অভিজ্ঞতার বিনিয়োগকারীরা।

ঠিক এসময়টাতেই আমাদের দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়তে দেখে সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে। আর একই সময়ে কারসাজি চক্র সেসব শেয়ার থেকে বের হয়ে যায়। পরিণতিতে বাজার আবারও পতনের ধারায় ফিরে আসে। এতে বিনিয়োগকারীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শেয়ারবাজারের প্রতি তাদের ধারণা পাল্টাতে থাকে।

কিছুকাল ধরে দেশের শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব ধরনের বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা যার যতটুকু সাধ্য তা নিয়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারপরও কোথাও যেনো একটি গলদ থেকে যাচ্ছে এবং বাজার উঠতে গেলেই একটি অদৃশ্য শক্তি সূচকের পেছন থেকে নিচের দিকে টেনে ধরে।

মূলত এই অদৃশ্য শক্তিটিই ১৯৯৬ সালে রাস্তার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নিয়ে খেলা করেছে। সেই একই শক্তি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে আবার ২০১০ সালে শেয়ারবাজারকে অনেক পেছনে ফেলেছে। অনেকেরই সন্দেহ সরকারের যাবতীয় নীতি সহায়তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ উদারনীতি নিয়ে বাজার ওঠানোর এত চেষ্টার পরও ওই শক্তিটিই এখন স্বল্প মুলধনী কোম্পানিগুলোকে নিয়ে এমন খেলাধুলা শুরু করেছেন। যাতে করে শেয়ারবাজার আর কিছুতেই সামনের দিকে এগোতে না পারে। মূলত ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ে বিপর্যস্ত বাজারে যতবার আশার আলো দেখা গেছে এই চক্রটির কারণেই সেই আলো আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ধারনা করা হচ্ছে স্বলমূলধনী কোম্পানিগুলোই হচ্ছে ওই গ্রুপটির বর্তমার সময়ের টার্গেট। আর কোন কিছু না বুঝেই সেই টার্গেটের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও কম অভিজ্ঞতার বিনিয়োগকারীরা।

এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেস্বর) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির সার্বিক অবস্থা যাচাই ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গঠিত কমিটিকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দাখিল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গঠিত কমিটিকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য কারণীয় নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা বিএসইসি উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অতিমূল্যায়িত বা Overpriced শেয়ার কিনে যাতে আমরা বেকায়দায় না পড়ি, সেজন্য কিছু পরামর্শ আমরা অনুসরণ করতে পারি-

১। ভাল প্রবৃদ্ধিঃ আমাদেরকে প্রথমেই ভালো প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে হবে। তারপর কোম্পানির গত ৫ বৎসরের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে কিনা দেখবো। আমাদেরকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে হবে, তা হলো কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ। কারণ দক্ষ পর্ষদ একটি কোম্পানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানী যে সব পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কি এবং কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির PE রেশিও, RSI, Growth in operating profit, NPAT, এবং EPS দেখলেই আমরা নিজেরাই ভাল কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে পারবো।

২। কম দায়ঃ আমাদেরকে কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোম্পানির দায়। এই দায় কোম্পানির লাভ খেয়ে ফেলে। ফলে প্রতিষ্ঠান ভাল ব্যবসা করলেও ঋণ দায়ের কারণে ভালো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারে না। অবশ্যই কোন কোম্পানির দায় সম্পদের বেশি হওয়া যাবে না। যদি হয় তাহলে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। বড় বাজারঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের টার্গেট কতটা বড় খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিটি মোট মার্কেটের কতো শতাংশ হোল্ড করে তা দেখতে হবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাজার কতো বড় হতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ব্যবসায় আগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে।

৪। উচ্চ রিটার্নঃ আমাদেরকে সর্বদা উচ্চ রিটার্ন দেওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব কোম্পানি গত ৫ বৎসর যাবৎ ভালো ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নিচের পদ্ধতিগুলো দেখে বুঝতে হবে কোনটি High Return দেওয়া কোম্পানি।

ক. Return on Equity (ROE): এর ক্ষেত্রে অনুপাত ১০ বা তার বেশি হওয়া উচিত।

খ. Return on Asset (ROA): এই পদ্ধতিতে কোম্পানির বর্তমান সম্পদ ভিত্তিক রিটার্ন কী জানা যায়। মোট আয়কে মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়। একটি কোম্পানি মোট সম্পত্তির তুলনায় কতটা লাভজনক তার সূচক। এ সূচক যত বেশী হবে কোম্পানির অবস্থা ততো ভালো।

৫। যোগ্য নেতৃত্ব্ঃ আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারা কোম্পানিটি পরিচালনা করছে। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের কারণে কোম্পানিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। নেতৃত্বের সঙ্কটে থাকা কোম্পানিগুলো কখনো ভালো ফলাফল দিতে পারে না।

৬। প্রতিযোগিতাঃ বিনিয়োগের পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগী কারা কারা রয়েছে। পূর্ণ প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভাল গুনগতমান সম্পন্ন পণ্যের ও পণ্যের ডাইমেনশন নিয়ে ভাবতে হবে। নির্বাচিত পণ্যের Advantage গুলি কী কী আছে তা বের করে দেখতে হবে তার বাজার সম্ভাব্যতা।

৭। পরিচালকদের মালিকানার অনুপাতঃ কোম্পানির ডিরেক্টরদের অবশ্যই ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারন করতে হবে। তাহলেই কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর পরিচালকদের মালিকানা কম হলে সে কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

৮। সেক্টর নির্বাচনঃ ভবিষ্যতে কোন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

৯। নগদ প্রবাহ ও দায়ঃ আমাদেরকে অবশ্যই কম দ্বায় সম্পন্ন অর্থাৎ ০.৫০ শতাংশ শতাংশের কম Loan বা দায় গ্রহনকারী কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সকল কোম্পানির দায় বেশী তাদের লাভ থেকে ঋণের সুদ বেশী খরচ হয়ে যায়। যে সকল কোম্পানির নগদ প্রবাহ বেশী তারা অন্যান্য কোম্পানির থেকে অনেক বেশী স্থিতিশীল হয়।

১০। অবমুল্যায়িতঃ আমাদেরকে অবশ্যই অবমুল্যায়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। নিন্মোক্তভাবে অবমুল্যায়িত কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবেঃ

ক. Price Earning Ratio (PE Ratio): পিই রেশিও ১৫ বা তার আশেপাশে থাকা স্টকগুলো নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শেয়ারের পিই যতো বেশি হবে, ঝুঁকিও ততো বেড়ে যাবে। আর লোকসানি বা নেগেটিভ পিই রেশিওর শেয়ার অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। যদি না চলেন, তাহলে ভাববেন আপনি হাতে আগুণের ফুলকি নিচ্ছেন। যা আপনার হাততে পোড়াবেই।

খ. Price to Book Value ( PB Ratio): শেয়ারের ক্রয় মূল্য যেন কোনভাবেই NAV এর তিন গুনের বেশী না হয়। শেয়ারের মূল্য সম্পদ মূল্যে কাছাকাছি থাকাটা সবচেয়ে নিরাপদ। মনে রাখতে হবে, শেয়ারের মূল্য সম্পদ মূল্যের অনেক বেশি হলে, তা অবশ্যই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

গ. Price earning to Growth (PEG): কোম্পানির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৫ এর উর্ধে কোম্পানির স্টক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পিই রেশিও ১৫ এর মধ্যে থাকলে ভালো। ওয়ারেন বাফেট বলেন “১৫ পিই রেশিও এর উর্ধে্র শেয়ারে বিনিয়োগ কখনও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।” বিনিয়োগকারী হিসেবে সফলতা পেতে হলে সকল পুঁজি একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভাল কোম্পানি নির্বাচন পূর্বক বিনিয়োগই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

Source: https://www.sharenews24.com/article/39265/index.html

Pages: [1] 2 3 ... 125