Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - abdussatter

Pages: 1 ... 7 8 [9]
121
 নরওয়ের ট্রমসে চলমান ৪১ তম বিশ্ব অলিম্পিয়াড দাবায় শুরুটা ভাল করতে না পারলেও ভাল ভাবেই ঘুরে দাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডে হারের পর দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশের দাবাড়ুরা। তবে পরের রাউন্ডে এবার ড্র করল বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় রাউন্ডের ওপেন সেকশনে চিলিকে ৩-১ সেটে হারালেও বাংলাদেশ তৃতীয় রাউন্ডে বেলজিয়ামের সাথে ২-২ সেটে ড্র করেছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে বাংলাদেশের গ্রান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান, আন্তর্জাতিক মাস্টার মিনহাজ আহম্মেদ সাগর নিজ নিজ খেলায় হেরে গেছেন। তবে গ্রান্ড মাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব এবং গ্রান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ জয় তুলে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলছে ৫৫ নং সিডেড দল হিসাবে। আর অন্য দিকে বেলজিয়ামের সিডেড স্থান ৪৫ তম। প্রতিযোগিতার তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের গ্রান্ড মাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব পরাজিত করেন বেলজিয়ামের গ্রান্ড মাস্টার মিশেল বার্টকে । আরেক ম্যাচে বাংলাদেশের গ্রান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ হারিয়েছেন বেলজিয়ামের আন্তর্জাতিক মাস্টার ডক্স স্টিফানকে । অন্যদিকে বাংলাদেশের আরেক গ্রান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান হেরে গেছেন বেলজিয়ামের উইনাটেস লুসের কাছে । আর আন্তর্জাতিক মাস্টার মিনহাজ আহম্মেদ সাগর হেরেছেন বেলজিয়ামের রিংগিয়র টাংগির কাছে । এ দুজন পরাজিত হওয়ায় ২-২ সেটের ড্র নিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে উভয় দল। অন্যদিকে মহিলা দল টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার সাথে ৩-১ সেটে জয় পেয়েছে। পরবর্তি রাউন্ডে বাংলাদেশ ওপেন টিম খেলবে ইউক্রেইনের বিপক্ষে এবং মহিলা দলের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

122
বাঙালির স্বভাব-চরিত্র বড়ই আজব ধরনের। গবেষণার বিষয়ও বটে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন- ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’ আমাদের বাংলা সাহিত্যের আরেকজন প্রবাদ পুরুষ শক্তিমান প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ রবীন্দ্রনাথের কথাকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেননি; তাই তিনি তাঁর প্রবচনগুচ্ছ বইতে লিখেছেন-‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপজ্জনক।’ অন্য জায়গায় তিনি লিখেছেন-‘বাঙালি যখন সত্য কথা বলে তখন বুঝতে হবে পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে।’ আরেকজন সব্যসাচী বিরলপ্রজ দার্শনিক ও মানবতাবাদী লেখক আহমদ ছফা - ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ নামে এক গবেষণাধর্মী বই লিখে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের দৃষ্টিতে যা গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দশটি মননশীল বইয়ের তালিকায় ৬ নম্বরে স্থান পেয়েছে। আর আহমদ ছফা’কে আপাদমস্তক সাহিত্যিক বলে মনে করেন আমাদের দেশের আরেক কৃতিমান লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। কোথায়ও পড়েছিলাম একদিন জাফর ইকবাল শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে তার ছেলেকে নিয়ে আসেন আগাগোড়া এক সাহিত্যিককে দেখাবেন বলে। সে ব্যক্তিটি হলেন আহমদ ছফা। কিন্তু আহমদ ছফা তখন ঘুমুচ্ছিলেন তাই জাফর ইকবাল তার ছেলেকে দেখাতে পারেননি। পরে আহমদ ছফা ঘুম থেকে উঠে নাকি তার লোকদেরকে বললেন, আমাকে ডাক দিলে না কেন? আহমদ ছফা তার বাঙালি মুসলমানের মন বইতে বাঙালি মনের চুলছেরা বিশ্লেষণ করেছেন।

কেউ বলে আমরা বাঙালি আবার কেউবা বলে আমরা বাংলাদেশী। আমি সে দিকে গেলাম না। তবে আমার দৃষ্টিতে আমরা প্রথমত বাঙালি দ্বিতীয়ত বাংলাদেশী। কারণ আমার লেখাটি সকল বাংলা ভাষাভাষী-সকল ধর্মের মানুষদের উপর লেখা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ শুধু বাংলাদেশে আছে এমন নয়; আমাদের পার্শ¦বর্তী দেশ ভারতের কলকাতা, আসাম, ত্রিপুরার একটা অংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাহলে শুধু বাংলাদেশ বললে বাঙালির সংজ্ঞা পুরোপুরি আদায় হয় না।

বাঙালির পুরো জীবনটাই যেন কেমন কেমন। চিন্তা-চেতনা, মনে-মননে, কর্মে ও শ্রেষ্ঠত্বে সে অনেক পিছনে পড়ে আছে। কারণ ধরলে অনেক কারণ, সকল কাজে তারা সন্দেহ খুঁজে। তাই মন-মানসিকতা আর কর্মে এখনও তারা বড় হতে পারেনি।

অন্য অনেক কিছুর মতো বাঙালির অনেক কিছুতে এখনো কার্পণ্যতা দেখা যায়। এই ধরুন:

১. ভালবাসতে কার্পণ্য : আমরা বাঙালিরা যেন ভালবাসতেও কার্পণ্য করছি। ভালবাসতে তো আর পয়সা লাগেনা যে আমি ফতুর হয়ে যাবো। কিন্তু বাঙালিকে সেটা কে বুঝাবে।

২. প্রশংসা করতে কার্পণ্য : বাঙালির আরেকটা অভ্যাস হলো তারা অন্য মানুষের সাফল্যকে গ্রহণ করতে পারে না। সে উল্টো তাকে হিংসা করে বসে।

৩. পড়ালেখায় কার্পণ্য : পড়ালেখা তো আমাদের বাঙালিদের কাছে বিষের মতো লাগে। একটা ছেলে যদি কোন রকম আইএ বা বিএ পাস করতে পারে তখন মা-বাবা বলেন, অনেক পড়ালেখা করেছো বাবা এবার একটা কিছু কর।

৪. হাঁটতে কার্পণ্য : আমরা বাঙালিরা স্বাস্থ্য সচেতন নই। আমরা আরাম প্রিয়। তাই বিশ মিনিটের পথ এক ঘন্টা জ্যামে আটকা পড়ে গাড়িতে করে গেলেও বিশ মিনিট পায়ে হেঁটে যেতে রাজি নই।

৫. হাসতে কার্পণ্য : রাসূল (স.) এর একটি হাদীস আছে-‘হাসি মুখে কথা বলা একটা সদকা।’ চীনা প্রবাদ আছে- ‘যে হাসতে জানে না তার দোকান দেয়া উচিত নয়।’ আমরা বাঙালিরা হাসলে উল্টো মুরব্বীদের বা সম বয়সী বন্ধুদের থেকে ধমক খেতে হয়।

৬. কথা বলতে কার্পণ্য : একে অপরের সাথে কথা বলতে পর্যন্ত কার্পণ্য করি।

৭. গাছ লাগাতে কার্পণ্য : বাপ-দাদার আমলের গাছ একে একে কেটে প্রয়োজন মিটালেও তার পরিবর্তে গাছ লাগাই না। এ কথা ভুলে যাই যে আমাদের ছেলে সন্তানদের জন্য আমরা কি রেখে যাচ্ছি। হাদীসে আছে গাছ লাগানো একটা সদকার কাজ।

৮. সম্মান দিতে কার্পণ্য : আমি অন্যকে সম্মান দেব কেন? আমি কি কম। এটা আমাদের বাঙালিদের মৌলিক স্বভাব। একটু পাওয়ারফুল জায়গা মতো আমরা যদি বসতে পারি তাহলে অন্য মানুষদেরকে তো আমরা মানুষই মনে করি না।

৯. বাগান করতে কার্পণ্য : ফুল মানুষের মনের চাহিদা মেটায়। মনে শান্তি আনয়ন করে। কিন্তু বাগান করা আজকে আমরা ছেড়ে দিয়ে একে অন্যের পিছনে লেগে শুধু শুধু তার বদনাম করছি।

১০. সালাম দিতে কার্পণ্য : হাদীস শরীফে আছে-যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম দিবে সে অহংকার মুক্ত। সালাম দিলে একে অন্যের সাথে ভালবাসা আর পবিত্র সম্পর্ক তৈরী হয়। কিন্তু আজকাল আমাদের সমাজে কাউকে তেমন একটা সালাম দিতে দেখা যায় না। আর ঢাকা শহরে তো অপরিচিত কাউকে সালাম দিলে বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হয়। একদিন পাবলিক লাইব্রেরীর সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় একজন মুরব্বী গোছের লোককে আমি সালাম দিই। মুরব্বীটি সালামের জবাব না দিয়ে আমার দিকে হা.. করে তাঁকিয়ে রইল। আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে উপরের দিকে চলে গেলাম। আর একটা কথা সত্য যে, আমরা বাঙালিরা কেউ যদি আমাদেরকে সালাম দেয়; তাহলে আমরা নিজেদেরকে বড় মনে করি।

১১. আদব দিতে কার্পণ্য : হিন্দুদের ক্ষেত্রেও সেম সেম অবস্থা। কারণ জাতে অমরা ভিন্ন হলেও রক্ত-মাংস আর ভাষার ক্ষেত্রে তো আর ভিন্ন নয়।

১২. আগ বাড়িয়ে কথা বলতে কার্পণ্য : আগ বাড়িয়ে আমরা একে অন্যের সাথে কথা বলি না। কারণ, আমি নিজেকে তার চেয়ে বড় মনে করি। এই হল বাঙালিদের বর্তমান হাল হাকিকত।

১৩. সৌজন্যতা দেখাতে কার্পণ্য : সৌজন্যতা তো আমরা ভুলেই যাচ্ছি বলা যায়। নিজেদেরকে নিয়ে অতটাই ব্যস্ত যে সৌজন্যতা দেখাবার সময় কোথায়।

১৪. জানার ক্ষেত্রে কার্পণ্য : শুধু খাও-দাও আর ঘুমাও এটা হলে আমরা বাঙালিরা তৃপ্ত। পৃথিবীর নতুন নতুন খবর সম্পর্কে আমরা বে-খবর যে আমরা যে বে-খবর সে সম্পর্কেও আমরা বে-খবর।

১৫. বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কার্পণ্য : বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমরা কার্পণ্য করছি। দেখা যায় যাকে আপনি বিশ্বাস করলেন সে আপনাকে দিল মস্ত বড় এক বাঁশ। তবুও বিশ্বাস করার মতো মানুষ যে নেই এমনটা কিন্তু নয়।

১৬. উচ্চাশার ক্ষেত্রে কার্পণ্য : আমাদের আশা অতি ছোট তাই আমরা বড় হতে পারি না।

১৭. গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্পণ্য : একে অন্যকে সমাদরে গ্রহণ করতে আমাদের কার্পণ্য করতে দেখা যায়।

১৮. সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কার্পণ্য : আমরা সকালে যা আয় করি দুপুরে তা খরচ করে ফেলি দুপুরের জন্য আর রাতের জন্য আমাদের কোন চিন্তাই মাথায় আসে না। প্রয়োজনে আগামীকাল উপোস থাকবো।

১৯. চিন্তার ক্ষেত্রে কার্পণ্য : বলা হয় যে জাতি চিন্তার ক্ষেত্রে বড় হতে পারে না সে জাতি কাজের ক্ষেত্রেও বড় হতে পারে না।

২০. কাজের ক্ষেত্রে কার্পণ্য : বাঙালিরা যে কোন কাজ করতে কার্পণ্য করে। যেমন: কোন কৃষকের ছেলে যদি বিএ পাস করে তখন সে আর কৃষি কাজ করে না। করলেও সমাজ তাদেরকে ভালো চোখে দেখে না।

২১. হাততালি দিতে কার্পণ্য : সে দিন এক শিল্পী পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে গান পরিবেশন করছিল। একে একে দুটো গান গাওয়ার পরও দর্শক কোন হাততালি দেয়নি। কয়েকজন দিলেও তেমন আওয়াজ হচ্ছে না। শিল্পী তখন বললেন- বাইরের দেশে যখন অমরা গান গাই তখন হাত তালির জন্য আমরা গান পরিবেশন করতেই কষ্ট হয়। আর এখানে হাততালি চাইলেও পাওয়া যায় না। এই হলো বাঙালি দর্শকদের অবস্থা।

এভাবে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে আমাদের কার্পণ্য। আসুন আর কার্পণ্য নয়; এখন সময় এসেছে নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।

By: সুহৃদ আকবর, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক

123
Story, Article & Poetry / সমুদ্র সম্পদ
« on: August 06, 2014, 04:12:50 PM »
ফেনিল, নীল, অনন্ত সমুদ্র! উভয় পার্শ্বে যতদূর চক্ষু যায়, ততদূর পর্যন্ত তরঙ্গভঙ্গপ্রক্ষিপ্ত ফেনার রেখা; স্তূপীকৃত বিমল কুসুমদামগ্রথিত মালার ন্যায় সে ধবল ফেনরেখা হেমকান্ত সৈকতে ন্যস্ত হইয়াছে; কাননকুন্তলা ধরণীর উপযুক্ত অলকাভরণ। নীলজলম-লমধ্যে সহ¯্র স্থানেও সফেন তরঙ্গভঙ্গ হইতেছিল।” সত্যিই “অনন্তবিস্তার নীলাম্বুম-ল” এই সমুদ্রের “জলধিশোভা দৃষ্টি” করলে বঙ্কিমচন্দ্রের নবকুমারের মতো সবারই “পরিমাণবোধ-রহিত” হতে বাধ্য। যুগে যুগে মানুষ অপার বিস্ময়ে সমুদ্রের মুখোমুখি হয়েছে। ভেবেছে এই জলরাশির ওপারে কী আছে? মধ্য এশিয়ার আদি মানুষ তাই হয়তো যখন দেখল এই বিশাল জলরাশির ওপর একটি বড় পাতায় বসে একটি পাখি বা পোকা ভাসতে ভাসতে চলেছে তখন সে প্যাপিরাসের নৌকা বানিয়ে পাড়ি দিল সমুদ্রে। সেই খ্রিস্টপূর্ব ছয় শতকে এশিয়া মাইনরের গ্রীক বৈজ্ঞানিকেরা বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টির প্রাচীন পৌরাণিক ব্যাখ্যা পরিত্যাগ করে প্রাকৃতিক কার্যকারণের দিকে মন দিলেন এবং অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) তার মেটিওরলজিকা’ রচনায় লিপিবদ্ধ করলেন সমুদ্রের উদ্ভবের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ঐতিহাসিক যুগ ধরেই মানুষ তার চারপাশের এই অনন্ত সমুদ্রকে জানতে চেয়েছে,  বুঝতে চেয়েছে, জয় করতে চেয়েছে। মধ্যযুগে সমুদ্রের লবণতা এবং জোয়ারভাঁটা নিয়ে ভাবনাচিন্তার পর পঞ্চদশ শতাব্দীতে কুসানার্স-এর “দ্য ইডিয়ট” রচনায় দেখি সীসের টুকরোর সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা মাপার উল্লেখ, ১৯৩২ সালে চার্লস ডারউইনের ‘বিগল’ জাহাজে অভিযান এবং ১৮৭২-৭৬ সালে পৃথিবীর প্রথম সংগঠিত সমুদ্রবিজ্ঞান সমীক্ষাÑ ‘চ্যালেঞ্জার’ অভিযান।এর “অনন্তবিস্তার নীলাম্বুম-ল”-এর শুধুমাত্র “জলধিশোভা দৃষ্টি”-এর শুধুমাত্র “জলধিশোভা দৃষ্টি” করে মানুষ ক্ষান্ত থাকছে না সমুদ্রের আনাচে কানাচে কী আছে জানার জন্য জাহাজ থেকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি, সাবমারসিবল রোবট, এমন কি মহাকাশ থেকে উপগ্রহের মাধ্যমে তুলে চলেছে এই অপার রহস্যের ছবি।

মানবসভ্যতার অগ্রগতি নির্ভর করে মূলত খাদ্যের উৎপাদন, খনিজ সম্পদের উৎপাদন ও ব্যবহার এবং শক্তির যোগানের উপর। এই তিনটি ক্ষেত্রই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং নির্ভরশীল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি এবং তার সঙ্গে জনসংখ্যার বৃদ্ধির ফলে কাঁচামালের চাহিদা বেড়েই চলেছে। হিসেব বলছে, ২০০০ সালে এই চাহিদা আজকের তুলনায় শতকরা ৪০০ ভাগ বেড়ে যাবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, আগামী ৫০ বছরে পৃথিবীর স্থলভাগের বেশীরভাগ সম্পদই শেষ হয়ে যাবে। তখন সমুদ্রই একমাত্র ভরসা। অপেক্ষাকৃত নবীন বিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে সমুদ্রের জলে এবং সমুদ্রের নিচে ভূস্তরে যে প্রভূত সম্পদের সম্ভাবনার কথা মানুষ জানতে পারছে, তার ফলে সে আশান্বিত। তাই আজ মানুষ সমুদ্রের দিকে চোখ ফিরিয়েছে। ফেরাবে না-ই বা কেন! ভূপৃষ্ঠের দুই-তৃতীয়াংশই তো পানি। এত পানি যে যদি পৃথিবীর সব পাহাড়-পর্বত ভেঙে গুঁড়িয়ে সমান করে ফেলা যায়, তাহলেও গোটা পৃথিবী কয়েক হাজার মিটার জলে ডুবে থাকবে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এভারেস্টকে সমুদ্রের নিচে সবচেয়ে গভীর খাত ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চ’-এ ঢুকিয়ে দিলেও তার চূড়া অন্তত এক কিলোমিটার জলের নিচে থাকবে।

কিন্তু আজকের এই জল-ডাঙার পরিস্থিতি তো আর পৃথিবীর জন্মের সময় একই রকম ছিল না বা কোটি কোটি বছর পরে একই থাকবে না। ভূতাত্ত্বিক যুগ ধরেই ভাঙাগড়ার খেলা চলছে। কোথাও নতুন সমুদ্রের সৃষ্টি হচ্ছে, কোথাও নতুন পর্বতমালার। এককালের টেথিস সমুদ্র, সেখানে দাঁড়িয়ে আজকের বিশাল হিমালয়। সেই হিমালয়ও একটু একটু করে বাড়ছে। ভূমধ্যসাগর ক্রমশ ছোট হচ্ছে। বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগর যদি তার অবলুপ্তির প্রথম স্তরে রয়েছে, তো আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগর রয়েছে পূর্ণতার শেষ ধাপে। আর্কটিক, এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগর রয়েছে সমুদ্রগঠনের প্রথম স্তরে। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে যে ২ কোটি বছর আগে যখন আফ্রিকা ও আরব পরস্পর থেকে দূরে সরতে শুরু করেছে, তখনই এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগরের সৃষ্টি। অন্যভাবে বললে, আজ পৃথিবীর সমুদ্রের নিচে যে ভূস্তরে খনিজের সন্ধান চলছে, তা হয়তো বহুযুগ আগে ছিল সমুদ্রের উপরে। তাই এই ভাঙাগড়ার খেলাটিকে ভালভাবে বোঝা দরকার। পৃথিবীর অভ্যন্তর বা ভূস্তরের এই নড়াচড়ারই ভূতাত্ত্বিক নাম “টেকটনিকস”।

প্লেট টেকটনিকস : পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে তাকালে মহাদেশগুলির তটরেখার আশ্চর্য মিল চোখে পড়বে। যেমন, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরপূর্বের বেরিয়ে আসা অংশটি কী সুন্দরভাবে আফ্রিকার  পশ্চিমের খাঁজটিতে ঢুকে যায়। এই শতকের শুরুতে জার্মান বিজ্ঞানী ওয়েগনার এই মিল এবং অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং জীবাশ্মের মিলের ভিত্তিতে “মহীসঞ্চরণ” বা “মহাদেশের সঞ্চরণ” তত্ত্ব খাড়া করেন। তার মতে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে আজকের সব মহাদেশগুলি একসঙ্গে জোড়া ছিল। বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন ‘প্যানগিয়া’। ২৫ কোটি বছর আগে উত্তর মহাদেশ বা “লরেসিয়া’ ছিল ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং গ্রীনল্যান্ডকে নিয়ে; আর দক্ষিণ মহাদেশ বা ‘গ-োয়ানা’ ছিল ভারত, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ম্যাডাগাসকার, অ্যান্টার্কটিকা এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে। পুরাচুম্বকত্ব তথ্যের মাধ্যমে বলা হচ্ছে যে গন্ডোয়ানাল্যান্ডে অভ্যন্তরীণ নড়াচড়া শুরু হয়েছে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে। আজ থেকে ৬ কোটি এবং আড়াই কোটি বছর আগে সময়টিতে (হিমালয়ের গঠনকাল) ভারত অন্তত ৫৫০০ কিলোমিটার, অর্থাৎ বছরে ১১ সেন্টিমিটার করে, সরেছে বলে হিসেব করা হয়। কিন্তু মহাদেশগুলির এই চলাফেরা কি একটি যুগেই সীমাবদ্ধ? প্যানগিয়ার আগে? সমুদ্রগুলি কি স্থির? চলাফেরার চালিকাশক্তিই বা কি?

ওয়েগনারের ঐতিহাসিক তত্ত্বের পথ বেয়েই এই শতকের মাঝামাঝি এল ‘প্লেট টেকটনিকস তত্ত্ব।’ আমরা জানি কম্পনতরঙ্গের তিনটি পর্যায় অনুযায়ী পৃথিবীকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে উপরের স্তর ভূত্বক (ঈৎঁংঃ), যার গড়গভীরতা ৪০ কিলোমিটার; মধ্যবর্তী স্তর ম্যানেটেল (গধহঃষব), যার গড় গভীরতা ২৯০০ কিলোমিটার এবং সবচেয়ে নিচের স্তর অন্তঃস্থল (ঈড়ৎব), যা কেন্দ্র পর্যন্ত প্রসারিত। ভূত্বক এবং ম্যান্টেলের উপরিভাগ নিয়ে ১০০ কিলোমিটার পুরু স্তর ‘লিথোস্ফেয়ার’ (এতে সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়ামের ভাগ বেশি) এবং তার নিচে ‘এসথেনোস্ফেয়ার’ (এতে সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়ামের ভাগ বেশি)। ‘প্লেট টেকটনিকস’ তত্ত্ব লিথোস্ফেয়ারকে অসংখ্য মহাদেশীয় এবং মহাসাগরীয় অংশে ভাগ করেছে যেগুলি কঠিন সচল ‘প্লেট’ হিসেবে নিচের ‘প্লাসটিক’ আধা-তরল এসথেনোস্ফেয়ারের উপর চলে ফিরে বেড়াচ্ছে। প্লেটের সচলতার ভিত্তিতে মূলত তিন ধরনের সীমানা চিন্তা করা হয়েছে।

১। ‘কাছাকাছি আসা’ (ঈড়হাবৎমবহঃ) প্লেটের সীমানা, যেখানে দুটি চলমান প্লেটের সংঘর্ষে একটি অপরের নিচে ঢুকে গিয়ে (সাবডাকশন) পৃথিবীর গভীরে মিশে যাচ্ছে। মহাদেশের সীমানা এবং আগ্নেয়গিরিজাত দ্বীপগুলি এই এলাকাভুক্ত।

২। ‘দূরে সরে যাওয়া’ (উরাবৎমবহঃ) প্লেটের সীমানা, যেখানে দুটি একে অপর থেকে দূরে সরে যাওয়ায় ‘সমুদ্রতল ছড়ানো’র (ঝবধভষড়ড়ৎ ঝঢ়ৎবধফরহম) ফলে নতুন লিথোস্ফেয়ার যুক্ত হচ্ছে। এগুলি নতুন সমুদ্রসৃষ্টির এলাকা।

৩। ‘সমান্তরাল” (ঢ়ধৎধষষবষ) প্লেটের সীমানা, যেখানে দুটি প্লেট পাশাপাশি চলেছে।

পৃথিবীর অজৈব খনিজ সম্পদের অবস্থান, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ইত্যাদি সবই প্লেটের এই নড়াচড়ার সঙ্গে যুক্ত। জাপানের বিখ্যাত কুরোকো খনিজভা-ার, ফিলিপাইনস-এর তামার ভা-ার এবং আলাস্কা, কানাডা, ব্রাজিল, রডেসিয়া প্রভৃতির সোনার ভা-ারগুলি ‘কাছাকাছি আসা’ প্লেট সীমানার সঙ্গে যুক্ত। ‘দূরে সরে যাওয়া’ প্লেটের সীমানার প্রকৃষ্ট উদাহারণ হল আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া প্লেটের মাঝামাঝি লোহিতসাগর এবং গভীর সমুদ্রের মাঝখানের দীর্ঘ পবর্তমালার অর্থাৎ ৮৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মধ্যসামুদ্রিক পর্বতশিরা। সত্তরের দশকেই লোহিত সাগরের ঠিক মাঝখানে ২০০০ মিটার গভীরে ৭০ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী সমুদ্রের নিচে ধাতব সালফাইডের সবচেয়ে বড় ভা-ারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই দুটি এলাকাই খনিজ তেলের ভা-ারের উপযোগী এলাকা। তাই সমুদ্রসম্পদ সমীক্ষার ক্ষেত্রে প্লেটগুলির গতিবিধি এবং ক্রিয়াপ্রক্রিয়া ভালভাবে বোঝা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সমুদ্রবিজ্ঞানের বড় এক হাতিয়ার হল কৃত্রিম উপগ্রহ ‘সীস্যাট’ দ্বারা সংগৃহীত পৃথিবীর সমস্ত সমুদ্রের ছবি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক গবেষণা জাহাজ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সাবমেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার।

সমুদ্রতলের ভূ আকৃতি :
সমদ্রের সম্পদের কথা বলার আগে সমুদ্রের নিচের অবস্থাটা জেনে নেয়া ভাল। অর্থাৎ সমুদ্রের সব জল শুষে নিলে নিচের ভূÑআকৃতি কী রকম হবে। সমুদ্রতলের আকৃতিকে মূল দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১) মহাদেশীয় উপান্ত (ঈড়হঃরহবহঃধষ গধৎমরহং) : ক) উপকূলবর্তী এলাকা (ঈড়ধংঃধষ অৎবধং), খ) মহাদেশীয় ধাপ বা মহীসোপান (ঈড়হঃরহবহঃধষ ঝযবষভ), গ) মহাদেশীয় ঢাল (ঈড়হঃরহবহঃধষ ঝষড়ঢ়ব), ঘ) মহাদেশীয় স্ফীতি (ঈড়হঃরহবহঃধষ জরংব)।

২) সামুদ্রিক অববাহিকা : ক) নিতলীয় তল খ) সামুদ্রকি স্ফীতি), গ) সামুদ্রিক পর্বতশিরা খ) খাত  ঙ) সামুদ্রিক টিলা  বা গায়টস।

উপকূলবর্তী এলাকায় তীর বরাবর রয়েছে পশ্চাৎতট, অগ্রতট এবং নিকটতট এলাকা। সর্বোচ্চ জোয়ারেরও ওপরে রয়েছে পশ্চাৎতট।

অগ্রতট এলাকা হল জোয়ার ও ভাটার মধ্যবর্তী এলাকা। নিকটতট এলাকায় এসে ঢেউ ভাঙে। এরপরই সমুদ্রের অপতট এলাকা।

মহীসোপান হল পার্শ্ববর্তী মহাদেশের সেই অংশ যা সমুদ্রের নিচে চলে গিয়েছে খুবই সামান্য ঢাল বজায় রেখে। মহীসোপান কয়েক কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৪০০ কিলোমিটারও হতে পারে। ভারতের পূর্ব উপকূলে মহীসোপান খুবই সরু। সব সমুদ্রের মহীসোপান সমুদ্রের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা সামুদ্রিক খাদ্যের শতকরা ৯০ ভাগ, পৃথিবীর তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শতকরা ২০ ভাগ এবং প্রচুর পরিমাণে হীরে, টিন, সোনা, মোনাজাইট ইত্যাদি স্থাপন খনিজ অবক্ষেপের যোগান দেয়।

মহীসোপানের প্রান্তে এসে গভীরতা হঠাৎ ১০০-২০০ মিটার থেকে ১৫০০-৩৫০০ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং গড়ে ৪ ডিগ্রির মতো ঢাল সৃষ্টি হয়। মহাদেশীয় ঢাল অঞ্চল খুবই সরু। প্রশান্ত মহাসাগরের গড় ঢাল ৫০২র্০। আটলান্টিকে ৩০০র্৫ এবং ভারত মহাসাগরে ২০৫৫। মহাদেশীয় ঢাল এলাকার মধ্যে রয়েছে অন্তঃসাগরীয় গিরিখাত ছোট অগভীর অববাহিকা ইত্যাদি। বস্তুত এই ঢালের প্রান্তেই মহাদেশীয় ত্বক এবং মহাসাগরীয় ত্বকের মিলন ঘটেছে।

মহাদেশীয় ঢাল এবং সামুদ্রিক অববাহিকার মধ্যভাগে ১০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার চওড়া মহাদেশীয় স্ফীতি অঞ্চল রয়েছে। এরও একটা সমুদ্রমুখী অল্প ঢাল আছে। এই অঞ্চলে স্থলভূমি থেকে বয়ে এসে বহু কিলোমিটার পুরু পলি জমা হয়। বঙ্গোপসাগরে গঙ্গা ব-দ্বীপের কাছে ‘সোয়াচ-অব-নো গ্রাউন্ড’ নামে গিরিখাত মহীসোপানও ঢাল অ্ঞ্চল পেরিয়ে সব পলিকে নিয়ে জমা করে দেয় গভীর সমুদ্রের নিতলীয় সমভূমিতে। মেক্সিকোতে ছেদন কার্যে এই অঞ্চলে বহু লবণ গম্বুজ এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।

নিতলীয় তল সঠিক অর্থেই গভীর সমুদ্রে সমুভূমি। তার মাঝে মাঝে রয়েছে পর্বত বা টিলা। পাহাড়গুলো এই সমভূমি থেকে ১০০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।

গভীর সমুদ্রতলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গঠন হল পৃথিবীব্যাপী পর্বতমালা বা পর্বত বলয়, যার নাম মধ্য সামুদ্রিক পর্বতশিরা। এগুলি আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের মাঝখানে আছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব সীমান্তেও দেখা যায়। এগুলি পৃথিবীর বুকে বততি রেখাÑ যে রেখা বরাবর সামুদ্রিক ত্বক সৃষ্টি হচ্ছে।

খাদ বা ট্রেঞ্চ সাধারণত ৬০০০ মিটারের বেশি গভীর হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর গভীরতম খাদÑ সমুদ্রতল থেকে ১১,৫১৫ মিটার গভীর।

সামুদ্রিক টিলাগুলি সমুদ্রতল থেকে ১০০০ মিটারেরও উঁচু আগ্নেয়গিরি। এর চূড়া জল ভেদ করে উঁচুতে উঠলে আগ্নেয়গিরির দ্বীপ তৈরি হয়।

সমুদ্রের সম্পদকে আমরা মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি; (১) জৈবসম্পদ বা খাদ্যসম্পদ, (২) অজৈবসম্পদ বা খনিজসম্পদ, (৩) শক্তি উৎপাদনকারী সম্পদ।

জৈবসম্পদ বা খাদ্যসম্পদ :
রাসায়নিক দিক থেকে সমৃদ্ধ সমুদ্রের জলে প্রথম প্রাণের উদ্ভব আনুমানিক ৩৫০ কোটি বছর আগে। তার অনেক পরে, প্রায় ৫০ কোটি বছর পর পৃথিবীর স্থলভাগে ঘটে প্রাণের আবির্ভাব। জীবাশ্ম বা ফসিল থেকে আমরা জানতে পারি প্রথম প্রাণী ছিল সাধারণ কোষবিশিষ্ট ব্যাক্টেরিয়া এবং গাছপালার অন্যতম এলগি। তারাই সমুদ্রে প্রাণের ভিত্তি। বস্তুত এলগি না থাকলে সমুদ্র বন্ধ্যা হয়ে যেত। সবচেয়ে বড় এলগি এক মিলিমিটার ব্যাসের। এক কিউবিক মিটার সমুদ্রজলে ২ লক্ষ এলগি থাকতে পারে। সাধারণভাবে বলতে গেলে তারা খনিজকে শাকসবজিতে পরিণত করে। আবহাওয়া, সমুদ্রের গভীরতা ও অন্যান্য কারণের উপর এলগির বিস্তৃতি নির্ভর করে। লাল, বাদামী, নীল এবং সবুজ-নীল এলগি পাওয়া যায়। তাছাড়া রয়েছে গাছপালা এঞ্জিওস্পার্ম।

পৃথিবীতে কমপক্ষে ২০ লক্ষ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদ আছে। ধরাপৃষ্ঠের দুই-তৃতীয়াংশ জল হলেও, স্থলভাগের তুলনায় কিন্তু সমুদ্রে প্রাণীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অন্যভাবে বললে পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগই মাছেদের দখলে। অফুরন্ত প্রাণের উৎস সমুদ্রের মূল বাসিন্দা মাছেরা হলেও সমুদ্রগর্ভে আছে এককোষী প্রাণী প্লাঙ্কটন থেকে শুরু করে শামুক, পোকা, কাঁকড়া, সরীসৃপ, তিমি পর্যন্ত সর্বস্তরের প্রাণী। মেরুদ-ী প্রাণীদের মধ্যে অগণিত মাছ, তিমি, সীল এবং সাপ সমুদ্রের বাসিন্দা। অমেরুদ-ী প্রাণীদের তো অধিকাংশই সামুদ্রিক জীব। আণুবীক্ষণিক প্লাঙ্কটন খেয়ে প্রাণধারণ করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীবেরা। ছোটখাটো সামুদ্রিক মাছেরও খাদ্য হচ্ছে প্লাঙ্কটন। পক্ষান্তরে তাদের চেয়ে বড় মাছ ও প্রাণী এইসব ছোট মাছদেরে খায়। স্পঞ্জ, প্রবাল, স্টারফিশ, জেলিফিশÑÑ এসব অমেরুদন্ডী প্রাণী স্থলভাগে একেবারেই দেখা যায় না। অন্যান্য আমেরুদ-ী প্রাণীদের মধ্যে কীটপতঙ্গ, শামুকজাতীয় কোমলাঙ্গ প্রাণী, কঠিন খোলাযুক্ত প্রাণী (কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি), যুক্তপদ ও বহুপদ প্রাণীরা) অধিকাংশই সামুদ্রিক জীব।

আজ থেকে প্রায় ২০ কোটি বছর আগে সমুদ্রের জলে মাছেদের কর্তৃত্ব খর্ব হল যখন কিছু শীতল রক্তের প্রাণী, যারা ইতিমধ্যেই চারটি পায়ের অধিকারী হয়েছে, তারা সমুদ্রে ফিরে এল। সরীসৃপরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং তাদের অন্যতম হল সামুদ্রিক কচ্ছপ (টার্টল)। এরপর কিছু পাখিও সমুদ্রে আস্তানা গাড়লোÑ আজকের পেঙ্গুইন উল্লেখযোগ্য। ৫ কোটি বছর আগে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রতিভূ হিসেবে সমুদ্রে প্রবেশ করলো তিমিদের পূর্বপুরুষ। বহু লক্ষ বছর পরে এল সীল। বর্তমানে পশু সা¤্রাজ্যের সব গোষ্ঠীরই প্রতিনিধিরা সমুদ্রে রয়েছে। এমনকি পোকাওÑ যার কথা আগেই উল্লিখিত হয়েছে। ‘কোয়েলেনট্রাটা’ প্রাথমিক স্তরের আমেরুদ-ী প্রাণী। এদের দেহে রয়েছে শুধু পাকস্থলী এবং কয়েকটি কর্ষিকা। এই শ্রেণীভুক্ত প্রাণী “অ্যানিকোনি” গন্ধ দিয়ে খাদ্যের অস্তিত্ব বুঝতে পারে। খাদ্যের অপাচ্য অবশিষ্ট অংশ একই মুখগহ্বর দিয়ে বের করে দেয়। এরা এবং জেলিফিশ একক প্রাণী (পলিপ) হিসেবে জীবন যাপন করে, কিন্তু প্রবাল (কোরাল) এবং সী-পেন কাটায় যৌথ জীবন। শত বা হাজার হাজার ‘পলিপ’ জুড়ে একটি প্রবাল কলোনী গড়ে ওঠে এবং এই কলোনীগুলো বিকশিত হয় প্রবাল দ্বীপে। ট্রপিকাল বা সাব-ট্রপিকাল সমুদ্রের ১৮০ সেন্টিগ্রেড-এর বেশি উষ্ণতায় সাধারণত প্রবাল সৃষ্টি হয়Ñ যেখানে খুব দ্রুত কার্বোনেট নিক্ষেপ ঘটে। সী-পেনকে ডাঙায় আনলে ফিকে নীল রঙের আলো ছড়ায়। অন্যদিকে, একই স্থানে স্থিত প্রাণী ‘স্পঞ্জ’-এর দেহ জালের মত সাজানো একক কোষের সমন্বয়ে তৈরি। এদের দেহের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোকর দিয়ে বয়ে যাওয়া জল থেকে তারা জীবন ধারণের খাদ্য ও অক্সিজেন গ্রহণ করে।

পিরীচ আকৃতির প্রাণী ‘জেলিফিশ’-এর দৈহিক আয়তন সাত ফুট হলেও এর কর্ষিকাগুলো ১২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের দেহ বিস্তর কোষ দিয়ে তৈরি এবং দুই স্তরের মাঝে থাকে জেলির মত পদার্থের স্তর। ‘একিনোডারমা’ শ্রেণীভুক্ত স্টারফিশ, সী কিউকাম্বার ইত্যাদিরা ত্রিস্তর কোষবিশিষ্ট। এদের অনেক বাহু বা পা থাকে। সমুদ্রের বিচিত্র কীটদের অন্যতম হল ‘টিউব ওয়ার্ম। তাদের দেহে মুখ, চোখ বা অস্ত্র বলতে কিছু নেই। যে সব ব্যাকটিরিয়া তাদের দেহে আশ্রয় লাভ করে, সেই ব্যাকটিরিয়াই তাদের প্রাণ। পোকামাকড়ের থেকে উন্নত স্তরের অমেরুদ-ী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম অক্টোপাস এবং স্কুইড। এরা উভয়েই মোলাসকা বা কোমলাঙ্গ শ্রেণীর প্রাণী। অক্টোপাসের আটটি পা এবং একটি উন্নত চোখ রয়েছে এবং স্কুইডের আছে দশটি পা এবং দুটি চোখ। শক্ত মেঝে এবং মহীসোপানের উল্লেখযোগ্য বাসিন্দা অক্টোপাস পাথরের ফাটলে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে এবং শুধুমাত্র রাতেই আহারের সন্ধানে বের হয়। স্কুইড ৫০ ফুট বা তার থেকেও লম্বা হতে পার্ েএ জন্য খুব বড় আকারের স্কুইডকে সমুদ্র-দানবও (সি মনস্টার) বলা হয়।

জল বাতাস থেকে ৮০০ গুণ ভারী। ফলে জলচর প্রাণীদের শরীরের সামান্য মেদবৃদ্ধি বা স্ফীতি পাখি বা এরোপ্লেনের তুলনায় গতিকে অনেক বেশি মন্থর কর্ েতাই আমরা দেখি দ্রুতগতিপম্পন্ন সামুদ্রিক মাছ টুনা, বোনিটো, মারলিন, ম্যাকেরেলÑ এদের শরীরের গঠন অপূর্ব চিকনÑ সামনে ছুঁচোলো, মাঝখানটা মোটা এবং আস্তে আস্তে সরু হয়ে দুটো ফালি হয়ে লেজের পাখনায় শেষ হয়েছে। ‘সাইক্লোস্টোমাটা’ গোষ্ঠীভুক্ত মাছেরা সবচেয়ে আদিম। বিশাল সমুদ্রের বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্ন গভীরতায় বিভিন্ন ধরনের মাছ রয়েছে। তারা তাদের শারীরিক গঠন এবং অন্যান্য ক্ষমতা দিয়ে সেই পরিবেশকে জয় করেছে। যেমন, গভীর সমুদ্রে ৭৫০ মিটারেরও নিচে যেখানে একে অপরের ‘সিগন্যাল’ দেখার জন্য একেবারেই আলো নেই, সেখানে মাছেরা নিজেরাই আলো তৈরি করে নিয়েছে। দ্রুততম মাছ ‘সেইল ফিশ’ একটি ছোট পথ যেতে তার গতিকে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার এ দাঁড় করায়। অর্থাৎ ডাঙার দ্রুততম প্রাণী চিতার থেকেও দ্রুত। ¯্রােত পক্ষে থাকলে হাঙর পাঁচশ’ মিটার দূর থেকে রক্তের গন্ধ পায়। সামুদ্রিক মাছেদের ভ্রমণসূচির একটি প্রকৃষ্ট উদারহণ ‘ম্যাকেরেল’-এর যাত্রা। তারা অক্টোবরে জলের উপরিভাগ ছেড়ে সমুদ্রতলের কাছে ছোট্ট একটি এলাকায় জড়ো হয়। সে সময় তারা ছোট মাছ বা শামুক ইত্যাদি খায়।

জানুয়ারি মাসে তারা দলবদ্ধভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠে চলে আসে এবং এপ্রিলে তাদের ‘ডিম ছাড়ার এলাকা’য় হাজির হয়। মহীসোপানের ধারে ঘুরতে ঘুরতে তারা ডাঙার খুব কাছে চলে আসে, সে সময় তাদের খাদ্য ক্ষুদ্র ভাসমান প্রাণ ‘প্লাঙ্কটন’। জুলাই মাস পর্যন্ত তারা উপকূলের খুব কাছাকাছি ছোট ছোট দলে ঘোরাফেরা করে, ছোট ছোট মাছ খায়। শরৎকালে তারা আবার গভীর সমুদ্রে ফিরে যায়। অপরদিকে ঈল মাছ জীবনের প্রথম অংশ কাটায় সমুদ্রে  তারপর শত শত কিলোমিটার জনপথ অতিক্রম করে স্থলভাগের নদী বা হ্রদে এসে আস্তানা গাড়ে এবং কয়েক বছর সেখানে কাটিয়ে আবার ফিরে আসে সমুদ্রে। সেখানেই ডিম পাড়ে এবং পাণত্যাগ করে। ‘ইলেকট্রিক ঈল’ মাছের সংস্পর্শে এলে মানুষ মারা যায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক মাছ হল ‘টরপেডো’। সমুদ্রে একদিকে যেমন রয়েছে লোভনীয় সব ভোজ্য মাছ কড, হেরিং, সারডিন, শাড, সালমন, ম্যাকেরেল, টুনা ইত্যাদি, অন্যদিকে রয়েছে টোডফিশ, স্টোনফিশ, স্করপিয়ন ফিশ-এর মত বিস্তৃত বা কদাকার মাছ। প্রায়  এক মিটার লম্বা কড মাছ কয়েক লাখ ভাসমান ডিমের জন্ম দেয়।

By: সুবীর দত্ত.

124
খ্রিস্টপূর্ব ৮০২ সালের আগের কথা। সে সময় কম্পোডিয়া ও তার আশপাশের দেশগুলোকে একত্রে কম্বুজা বলা হতো। তখন কম্বুজা জাভা দ্বীপের স¤্রাটের শাসনাধীন ছিল। আর জাভা হলো ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপ। জয়বর্মন জাভার রাজার কাছ থেকে কম্বুজাকে দখল করে নেন। তারপর সেখানে এক নতুন সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেনÑ গোড়াপত্তন করেন এক নতুন শহরের। যার নাম অ্যাংকর। অ্যাংকর একটা খেমার শব্দ। বাংলায় যার অর্থ হলো পবিত্র শহর। রাজা হয়েই তিনি ‘দেবরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন। দেবরাজ বা জয়বর্মন প্রতিষ্ঠিত এ রাজবংশই পরবর্তীতে খমের বা খেমার নামে পরিচিতি লাভ করে। এ রাজবংশ নবম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল। এই খেমাররা মিয়ানমারের (বার্মা) পশ্চিম থেকে ভিয়েতনামের পূর্বাংশ পর্যন্ত শাসন করত। আর খেমার সা¤্রাজ্যের রাজধানী ছিল এই অ্যাংকর। সে সময় অ্যাংকর ছিল সবচেয়ে অভিজাত ও সমৃদ্ধ নগরগুলোর একটি। আয়তনে বিশার এ নগরীতে সে সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ লোক বাস করত। বহু বছর ধরে সমৃদ্ধ নগরী অ্যাংকরের প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় ছিল।

১৪৩১ খ্রিস্টাব্দে অযোধ্যার রাজা অ্যাংকর নগরটি দখল করে তা ধ্বংস করে ফেলেন। অ্যাংকরের বিলুপ্ত হওয়ার কাহিনী এখনো এক বিশাল রহস্যময় হয়ে আছে। খেমার রাজারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তারা বহু হিন্দু মন্দির ও অনেক আকর্ষণীয় ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এগুলোর মধ্যে একটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী, যেনো একটা ফুটন্ত পদ্মের মতো। এ মন্দিরগুলোর মধ্যে অ্যাংকর ওয়াত ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত। রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মন এ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। মন্দিরটি এখনো টিকে আছে। তারা মন্দিরগুলোর দেয়ালের গায়ে অদ্ভুত সব মূর্তি খোদাই করেছিল। ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীর দিকে অ্যাংকর শহরে থেরাভাদা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অন্যদিকে হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। এর ফলে অ্যাংকরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের ওপরও বৌদ্ধদের প্রভাব বাড়তে থাকে। তাতে অবশ্য কারোর বিরুদ্ধে কারো অভিযোগ ছিল না, ছিল না কারোর সাথে কারো কোনো শত্রুতা। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাম্যের নীতির কারণে। হিন্দু সম্প্রদায় ৪টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথাÑ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। চার সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্রাহ্মণদের প্রভাব প্রতিপত্তি সবচাইতে বেশি, তারপর ক্ষত্রিয়দের। বৈশ্যদের প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল আরও কম। আর শূদ্ররা ছিল একেবারেই অবহেলিত। কিন্তু বৌদ্ধধর্মে বর্ণভেদ নেই, সবাই সমান। এর ফলে অ্যাংকর স¤্রাটদের প্রভাব প্রতিপত্তি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। অনেক গবেষকের মতে, ধর্মীয় রীতিনীতির বদল হওয়াতেই এক সময় অ্যাংকরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কলহ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। যা পরবর্তীকালে অ্যাংকরের সভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অ্যাংকরের পতনের এটাও একটা কারণ ছিল। অ্যাংকরের পশ্চিমে ছিল অযোধ্যা রাজ্য আর পূর্বে ছিল চম্পা রাজা। এ দু’রাজ্যই অ্যাংকরের শত্রু ছিল। সর্বদা তারা ক্ষমতার জন্য একে অন্যের সাথে লড়াই করত। অনেকের ধারণা, এ যুদ্ধ কলহ ও ধর্মীয় বিবাদ অ্যাংকরের পতনের জন্য বিশেষভাবে দায়ী ছিল।

আর ষেড়শ শতকে উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে একটা ‘সমুদ্র চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়Ñ যা এ সমৃদ্ধ সভ্যতাকে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। অ্যাংকর নগরীর সমৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল সেখানকার জলব্যবস্থা। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছিল এর নালা, খাল-বিলগুলো। শুষ্ক মওসুমে চাষাবাদের জন্য খাল-বিলগুলোকে ব্যবহার করা হতো পানি বয়ে নিয়ে আনার জন্য, আর বর্ষা মওসুমে ব্যবহার করা হতো অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়ার জন্য। তবে ক্রমশ অ্যাংকরের অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। নগরটির জলব্যবস্থাও ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়তে থাকে। এক দিকে নগরটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা, পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যুদ্ধাবস্থা এবং অন্যদিকে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ অ্যাংকরের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হয়ে পড়ল। ত্রয়োদশ শতকে ইউরোপে প্রচ- বরফ পড়তে থাকে।

এই সময়টাকে বলা হয় ‘লিটল আইস এজ’, বাংলায় বললে ক্ষুদ্র বরফ যুগ। এশিয়াতেও এর প্রভাব পড়ে। চলতে থাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ সময় খেমারদের প্রভাব প্রতিপত্তিও কমতে শুরু করে। ত্রয়োদশ শতকের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে খেমাররাজ অযোধ্যারাজের কাছে পরাজিত হয়। ১৪৩১ সালে অযোধ্যার রাজার কাছে খেমাররাজ চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। অযোধ্যারাজ অ্যাংকর নগরী দখল করে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এভাবে এশিয়ার সমৃদ্ধ নগরী অ্যাংকর ধ্বংস হয়ে গেল। তবে শহরটি এখনো পুরোপুরি হারিয়ে বা ধ্বংস হয়ে যায়নি। নগরটির অনেক স্থাপত্য এখনো টিকে আছে। তবে স্থাপত্যগুলো তিনটি দেশÑ কম্পোডিয়া, থাইল্যান্ড ও লাওসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। স্থাপত্যগুলোর বেশিরভাগই মন্দির। অধিকাংশ মন্দিরগুলো কম্বোডিয়া আর থাইল্যান্ডে অবস্থিত। কিছু মন্দির আছে লাওসে।

By: এম এস শহিদ ||

125
Faculty Forum / মেধা বাড়ানোর উপায়
« on: August 04, 2014, 02:43:06 PM »
কোন অনুষ্টানে হঠাৎ পরিচয়ের পর একজনের সাথে আলাপ হলো। দীর্ঘক্ষন কথা হলো। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তার নামটা ভুলে গেলেন। কোনো ভাবেই তার নামটা মনে করতে পারছেন না।

অফিসে আজ কী করবেন সে জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু অফিসে আসার পর কী একটা কাজ করার কথা ছিলো আর মনে করতে পারছেন না। দৈনন্দিন জীবনে এ রকম অভিজ্ঞতা কম-বেশি আমাদের সবারই হয়। নাম, ফোন নাম্বার, কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড, এমন অনেক মনে রাখার মতো জরুরি বিষয় একেবারেই কম নয়।

কিভাবে এসব বিষয় মনে রাখা যায় কিংবা ভুলে না যায় তার কী কোনো সহজ উপায় আছে। হ্যা অবশ্যই আছে। একটু অবাক লাগছে। সত্যিই কী এ রকম কি কোনো উপায় আছে ?

আসলে শরীরের যেকোনো মাসলের মতো ব্রেনকেও আপনি যত ব্যবহার করবেন ততই তা সক্রিয় হয়ে উঠবে। মনে রাখার ক্ষমতা জন্মসূত্রে পাওয়া হলেও স্মৃতিশক্তির একটা অংশ কিন্তু পরিবেশ, শেখার মাধ্যম এবং ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মানছি, ব্রেন কোনো কম্পিউটার নয় যে চিপ ঢুকিয়ে মেমরি বাড়ানো যাবে। তবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর অনেক ব্যাপার আছে পুরোপুরিভাবে আপনার হাতে। ঠিক যেমন ফিজিক্যাল ফিটনেস ভালো করার জন্য আপনারা ব্যায়াম করেন, তেমনই ‘ব্রেন পাওয়ার’ বাড়ানোর জন্য কিছু স্ট্র্যাটেজি মেনে চলতে হবে। যেমন ধরুন নেমনিক্স ব্যবহার করা। রোজকার জীবনে এই তুরুপের তাসটা যদি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারেন, দেখবেন মনে রাখার জন্য বেশি চেষ্টা করতেই হচ্ছে না। নাম মনে রাখতে পারেন না, তাতে কী? কোনো সুন্দর ছবির সাথে অ্যাসোসিয়েট করে দেখুন, চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবেন না। ফোন নম্বর মনে রাখতে চাঙ্কিং পদ্ধতি ট্রাই করুন। নম্বর তিন সেটে ভাগ করে নিন। ৫৫৫৬৭৩৯১০-এর বদলে মনে রাখুন ৫৫৫-৬৭৩-৯১০। এইভাবে লম্বা ইনফরমেশনও ছোট সেটে অনায়াসেই ভাগ করে নেয়া যায়।

বাজার করার ফর্দ বানাতে বসে আমরা দরকারি জিনিসের নাম লিখতে ভুলে যাই। এই সমস্যার সমাধানেও কাজে আসতে পারে নেমনিক্স। বাড়ির কোনো ঘর বা বিশেষ কোনো স্থান দরকারি জিনিসের প্রেক্ষাপট হিসেবে জুড়ে দিতে পারেন। এরপর আর কী! ঘরের কথা ভাবলেই জিনিসের নামও আমরা আমাদের মস্তিষ্কের যা ক্ষমতা তার খুব কম পরিমাণই ব্যবহার করি। যে কাজটা যেভাবে করে আসছি, সেটা অন্যভাবে করার কোনো চেষ্টাই করি না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেভাবে ইনফরমেশন প্রসেস করার গতি বেড়ে যায়, সেটাকে ঠিকমতো কাজে লাগাই না। গতানুগতিক রাস্তায় চলতেই পছন্দ করি। কিছু না ভেবে একই পদ্ধতি বারবার প্রয়োগ করে কোনো কাজ করলে কিন্তু মস্তিষ্ক ঝিমিয়ে পড়ে। ব্রেনকে চাঙা রাখতে হলে ‘আউট অব দ্য বক্স’ রাস্তা বেছে নিতে হবে। এমন কিছু অ্যাক্টিভিটি বাছুন, যা আপনার কাছে নতুন, চ্যালেঞ্জিং। নতুন ভাষা শিখতে পারেন, ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতে পারেন। পাজল বা সুডোকু সলভ করতে পারেন। এই পদক্ষেপগুলো মানলে ব্রেন বেশি সজাগ থাকবে।

মেমরি ভালো রাখার অন্য উপায়
‘ব্রেন বুস্টিং’
খাবার খান ব্রেনের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পুষ্টি ও এনার্জির প্রয়োজন। স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের শরীরের কিছু অক্সিডেন্ট তৈরি হয় যা মস্তিষ্কের কার্যকরী ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যা শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরি করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকরী ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্রেন হেলথের জন্য ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জরুরি উপাদান। মাছে (বিশেষ করে স্যামন, টুনা, ট্রাউট) ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। ফিস অয়েল সাপ্লিমেন্ট, আখরোট, ফ্যাক্সসিড, সয়াবিনও ট্রাই করতে পারেন। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান। পালংশাক, ব্রকোলি, লেটুসের মতো সবজি, ফল (তরমুজ, আম), গ্রিন টি খাওয়ার চেষ্টা করুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখার জন্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়াও জরুরি। সিম্পল কার্বোহাইড্রেট (চিনি, পাউরুটি ইত্যাদি) ব্রেনের জন্য ফুয়েলের মতো কাজ করলেও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ব্রেন এনার্জি বজায় রাখার ভালো অপশন কম্পলেক্স কার্বোহাইড্রেট। হোল হুইট ব্রেড, ব্রাউন রাইস, ওটমিল, হাই ফাইবার সিরিয়াল নিজের ডায়েটে রাখুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খান।

এক্সারসাইজ করুন
ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ ব্রেনে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং যেসব অসুখে (যেমন ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ) ‘মেমরি লস হতে পারে, সেগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। উপকারী ব্রেন কেমিক্যালের পরিমাণও বাড়িয়ে দেয়। মেডিটেশন ও আরো কিছু যোগাসন আছে যা ব্রেন ও নার্ভাস সিস্টেমকে স্টিমিউজেট করে স্মৃতিশক্তি ও মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

ভালো করে ঘুমান
ভালো করে না ঘুমালে ব্রেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। মনে রাখার সাথেও ঘুমের সরাসরি যোগাযোগ আছে। গবেষণা করে জানা গেছে, ‘মেমরি কনসলিডেশন’-এর জন্য ভালো ঘুম জরুরি। এমনকি দুপুরে আধঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট ঘুমও বেশ উপকারী। দুপুরে নিটোল ঘুম ডিকেরাটিভ মেমরিকে (বইপত্র পড়ে যা জ্ঞান অর্জন করা হয়, সেগুলো মনে রাখা) উসকে দেয়। ফলে যা শিখেছেন তা মনে রাখা সহজ হয়ে যায়। তবে জোর করে শেখা জিনিস কিন্তু মনে রাখতে সাহায্য করে না এই ঘুম।

বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান
রিসার্চ করে দেখা গেছে, জীবনকে যদি উপভোগ করতে পারেন, তার প্রভাব ‘কগনিটিভ অ্যাবিলিটির’ ওপরও পড়ে। আশপাশের লোকের সাথে ইন্টার‌্যাকশন করলে শুধু মন-মেজাজ ভালো থাকে না, ‘ইট ইজ অলসো আ ফর্ম অব ব্রেন এক্সারসাইজ’।
সাপোর্ট সিস্টেম থাকাটা শুধু ইমোশনাল হেলথের জন্যই নয়, ব্রেন হেলথের জন্যও জরুরি।

By: উম্মে হাবিবা

126
কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলো বেআইনিভাবে ব্যবসা করছে। পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থ স্থানান্তরের কাজও করছে কোম্পানিগুলো। অথচ দেশের কোনো আইন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে অর্থ স্থানান্তরের এখতিয়ার দেয়নি। ফলে আপনি যদি কুরিয়ার সার্ভিসে টাকা পাঠান এবং প্রাপক তা না পায়, তাহলে আপনি কোথাও অভিযোগ করতে পারবেন না।
শুধু তাই নয়, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আনা-নেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি। চাঁদাবাজ ও অপহরণকারীরা অর্থ আদায়ের জন্য কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোকে বেছে নিচ্ছে।
৩০ বছর ধরে এই কাজ চলতে থাকলেও নির্বিকার থেকেছে সব সরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েই ক্ষান্ত থাকছে। এক যুগ ধরে এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালিও হচ্ছে। কিন্তু সুরাহা আর হচ্ছে না।
দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কিত আইন রয়েছে দুটি। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং ডাকঘর আইন, ১৮৯৮। এই দুই আইনেই কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি অর্থ স্থানান্তর করতে পারে না। ডাকঘর আইনের আওতায় সর্বশেষ মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস বিধিমালা করা হয় ২০১৩ সালে। এতেও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে।
এদিকে মানি লন্ডারিং এবং হুন্ডি ব্যবসারও অভিযোগও রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। অবৈধ হুন্ডি তৎপরতা, বিদেশে অর্থ পাচার এবং মানি লন্ডারিং তৎপরতা প্রতিরোধ ও দমনের কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারের একটি কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স রয়েছে। টাস্কফোর্সের সব সভায় এমন আলোচনা উঠে এসেছে যে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলো কাজ করছে এমনকি মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আনা-নেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও।
ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘিত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু বলছে না। নোটিশ দিয়ে উল্টো রিট মামলা খেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিধি প্রণয়ন করেও কার্যকর করতে পারছে না। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (রেজসকো) শুধু নিবন্ধন দিয়েছে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোকে। এ নিবন্ধন ব্যবহার করে অন্য কাজ করলেও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না রেজসকো।
কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির জন্য বর্তমানে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য গঠন করা হয়েছে একটি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিলীপ কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০ কোম্পানি এ যাবৎ লাইসেন্স নিয়েছে। আরও কিছু আবেদন যাচাইয়ের কাজ চলছে।’
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে চিঠিপত্র ও পণ্য আনা-নেওয়া শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এ রকম আরও কিছু কোম্পানি নিয়ে ১৯৯৪ সালে গঠিত হয় কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএসএবি)। ওই সময় সিএসএবিকে বাণিজ্য সংগঠন (টিও) লাইসেন্স দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। তারও নয় বছর পর ২০০৩ সালের নভেম্বরে শুধু চিঠিপত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করতে পারার শর্তে সিএসএবিকে টিও লাইসেন্স দেওয়া হয়।
বেআইনি অর্থ লেনদেন: টিও লাইসেন্স দেওয়ার ১৮ দিনের মাথায় ২০০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিএসএবির কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, এতে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোর অর্থ স্থানান্তরের আইনি ভিত্তি নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান বৈঠকেই জানিয়ে দেন, এ স্থানান্তর বেআইনি। একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক লেনদেনের জন্য আইনগতভাবে এখতিয়ারভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণের অর্থের নিরাপত্তা বিধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কুরিয়ার সার্ভিসগুলো দেউলিয়া হয়ে গেলে এ দায় নেওয়ার কেউ নেই।
ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো মানি অর্ডার হারিয়ে গেলেও সরকারিভাবে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এ প্রতিকার পাওয়া যায় না।
২০০৪ সালের ৮ জানুয়ারি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, সিএসএবিকে লাইসেন্স দেওয়া হলেও তারা বেআইনিভাবে অর্থ লেনদেনের কাজ করছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকও এক চিঠি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, টিও লাইসেন্স যেহেতু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছে, কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোকে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্বও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরই।
এ ব্যাপারে অবশ্য দায় এড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নিয়ে কোনো তদন্ত করছে না। কেন করছে না, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিবন্ধন নেওয়া কোম্পানি নয়। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এগুলোর কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে দেখে না।’
জবাবাবিহীন ১০ বছর: বেআইনিভাবে অর্থ লেনদেন করছে এই তথ্য জানিয়ে সিএসএবির টিও লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না মর্মে ২০০৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংগঠনটিকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০ বছরেও এর জবাব পায়নি।
এ নোটিশের বিরুদ্ধে সিএসএবির সদস্য সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি হাইকোর্টে রিট মামলা (২৪৫৭/০৪) দায়ের করে। স্থগিতাদেশ দেন আদালত। এত বছরেও মামলাটির শুনানিই হয়নি বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। আর দীর্ঘসূত্রতার এই সুযোগ নিচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলো।
মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন বছরে (২০০৯-১২) ছয় দফা চিঠি পাঠায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে। তারাও কোনো জবাব দেয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাজার হাজার চিঠি আসে, সবগুলোর জবাব দেওয়া মুশকিল। উচিত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ লেগে থেকে কাজটি করিয়ে নেওয়া।’ প্রথম আলোর পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়ার কারণে বিষয়টি তিনি আদালতে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
নোটিশের বিপরীতে রিট মামলাটি করেছিল যে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি, তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটির কথা তিনি ভুলেই গেছেন। তবে এর যে কোনো সুরাহা হয়নি সে ব্যাপারে নিশ্চিত তিনি।
নিষিদ্ধ পণ্যের মাধ্যম: নিষিদ্ধ পণ্য চলাচলের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) কয়েক দফা ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে। এ বার্তাগুলোতে কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুনে এক কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করার কথা জানিয়েছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই বছরের সেপ্টেম্বরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ধানমন্ডি শাখার সামনে থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হারুনুর রশীদ নামের একজনকে। তিনি ১৩ হাজার ইয়াবা নিয়ে আসেন টেকনাফ থেকে। আগের বছর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসেরই বেনাপোল শাখা থেকে একটি পিস্তল ও ১৫৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর ইন্টারপোলের সহায়তায় হংকংয়ের শুল্ক কর্মকর্তারা আটক করে দুই কেজি হেরোইন।
২০০৮ সালের ১৭ জুন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে সে দেশের পুলিশ একটি টি-শার্টের প্যাকেট থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। সন্দেহভাজন ছাড়া কারও ব্যাগ খোলা হয় না উল্লেখ করে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এমডি হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেনাপোল থেকে পিস্তল উদ্ধারে আমরাই পুলিশকে খবর দিয়েছিলাম।’
সমিতিই রয়েছে পাঁচটি: দেশে প্রকৃতপক্ষে কতটি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি রয়েছে, তার কোনো হিসাব সরকারের কাছে নেই। এমনকি সিএসএবির কাছেও নেই। সিএসএবির সভাপতি অনুমান করে জানান, ৫০০-এর মতো কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি থাকতে পারে। দেশি কোম্পানির মধ্যে এসএ পরিবহন, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস ও কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের নাম বেশি পরিচিত। বিদেশির মধ্যে ডিএইচএল ও ফেডএক্স।
কোনো একটি খাতের জন্য সাধারণত একটি করে সমিতি থাকলেও এই খাতে রয়েছে পাঁচটি সমিতি। সিএসএবি ছাড়া বাকিগুলো হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অন বোর্ড কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পার্শেল সার্ভিস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট কেরিয়ার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশ পার্শেল সার্ভিস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং এসএ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালাউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির ব্যবসা পুরোপুরি বেআইনি বলা যাবে না। কারণ, এসএ পরিবহন নিবন্ধন নিয়েছে রেজসকো থেকে। কোম্পানির সংঘবিধিতে অর্থ লেনদেন করা যাবে বলে বলা রয়েছে।’
রেজসকো নিবন্ধক বিজনকুমার বৈশ্য তাঁর যুক্তিকে খণ্ডন করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থ লেনদেনের অনুমোদন রেজসকো দিতে পারে না, দেয়ওনি। এটি নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কর্তৃপক্ষ থেকে।’

ফখরুল ইসলাম
Link Add: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/282322/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87
[/size][/size]

127
ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় সঙ্গে নিতে হবে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ভ্রমণে জানালার পাশে অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটা থেকেও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়গুলোও মাথায় রাখা উচিত। ঈদের ভ্রমণে অধিকাংশ মানুষই গ্রামের বাড়িতে যান। যেখানে অনেক সাধারণ ঔষধও পাওয়া যায় না। তাই সম্ভাব্য অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে সাধারণ কিছু ঔষধপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া একটি ফার্স্টএইড বঙ্ নিজের মতো তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। উন্নত বিশ্বে প্রতিটি ঘরেই এ ধরনের বঙ্ থাকে।

ভ্রমণের খুঁটিনাটি : ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা মোটেও কাম্য নয়। তারপরও অনেকেই কিন্তু ভ্রমণের কারণে ঈদের আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা ঈদের দিনটিতে থাকেন অসুখে আক্রান্ত। বিশেষ করে শিশুরা খুব সহজেই আক্রান্ত হয় সর্দিজ্বর, বমি ও ডায়রিয়ায়। এই অসুস্থতার অন্যতম কারণ কিন্তু অসচেতনতা। ভ্রমণে অভিভাবকরা যদি শিশুদের ব্যাপারে সচেতন থাকেন তাহলে খুব সহজেই কিন্তু এসব শারীরিক বিপত্তি এড়িয়ে চলা সম্ভব। বিষয়টি খুবই সিম্পল। যেমন ধরুন_ ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময় সব সময়ই শিশুরা জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করেই শিশুরা অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটার মুখোমুখি হয়, যা অনেকেরই সহ্য ক্ষমতার বাইরে। এর ফলে শিশুরা অনেকেই ঠিক ভ্রমণের পর আক্রান্ত হয় সর্দিজ্বর কিংবা কাশিতে। ভ্রমণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ডায়রিয়ায়। এর কারণ হলো বাইরের পানীয় এবং খাবার গ্রহণ। আর তাই বাইরের খাবার কোনোভাবেই গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ঘরের তৈরি কিছু খাবার ও পানি সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া উচিত। ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আছেন বাসে চড়লে বমিভাব কিংবা বমি শুরু হয়। ভ্রমণজনিত বমি বা মোশন সিকনেস প্রতিরোধে স্টেমেটিল ট্যাবলেট ভ্রমণের আধা ঘণ্টা আগে গ্রহণ করা যেতে পারে। 

ঔষধ : যারা রোগী তারা ঈদ ভ্রমণে সঙ্গে করে প্রয়োজনীয় ঔষধ নিয়ে যাবেন_ এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া ভ্রমণে সঙ্গে করে কিছু সাধারণ ঔষধ নিয়ে যেতে পারেন। যেমন_ পেটের গণ্ডগোল, পেটে গ্যাস, বদহজম, সাধারণ সর্দি-কাশি, বমি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, মাসিকের ব্যথা ইত্যাদির সমস্যায় প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ সঙ্গে নিতে হবে। যেসব ঔষধ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত সেগুলো হলো_ জ্বর, ব্যথা, শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ যেমন নাপা, এইস ইত্যাদি। পেটের পীড়ার জন্য মেট্রোনিডাজল জাতীয় ঔষধ যেমন অ্যামোডিস, ফ্ল্যাজিল (ডোজ একটি করে দৈনিক তিনবার পাঁচ-সাত দিন) খাওয়া যেতে পারে। পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা, বুকজ্বলার জন্য এন্টাসিড ট্যাবলেট, পেপটিক আলসারের জন্য রেনিটিডিন (নিওসেপটিন আর/নিওট্যাক) অথবা ক্যাপসুল ওমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. (ওমেটিড/ওমিগাট/ সেকলো ইত্যাদি) খাওয়ার আগে, ডোজ ১৫০ মি.গ্রা. একটি করে দৈনিক দুবার গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়ার জন্য ওর স্যালাইন সঙ্গে রাখতে হবে। একই সঙ্গে কয়েকটি হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ আপনার পরিচিত কয়েকজন চিকিৎসকের ফোন নম্বর টুকে নিতে ভুলবেন না।

128
Story, Article & Poetry / Human
« on: July 21, 2014, 10:47:58 AM »
''বল দেখি এ জগতে ধার্মিক কে হয়,
সর্ব জীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়।
বল দেখি এ জগতে সুখী বলি কারে,
সতত আরোগী যেই, সুখী বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে বিজ্ঞ বলি কারে,
হিতাহিত বোধ যার, বিজ্ঞ বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে ধীর বলি কারে,
বিপদে যে স্থির থাকে, ধীর বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে মূর্খ বলি কারে,
নিজ কার্য নষ্ট করে, মূর্খ বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে সাধু বলি কারে,
পরের যে ভাল করে, সাধু বলি তারে।
বল দেখি এ জগতে জ্ঞানী বলি কারে,
নিজ বোধ আছে যার জ্ঞানী বলি তারে।''---------কে?-ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

129
Inspiration Stories / Inspiration story of a BCS cader
« on: July 15, 2014, 09:24:49 AM »
আমি আসলে একজন অ্যাক্সিডেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার৷ অ্যাকাডেমিক্যালি৷ একটা স’ময়ে অনার্স কমপ্লিট করার কোনো ইচ্ছেই ছিলো না আমার৷ কেনো অনার্স কমপ্লিট করবো, এর স্বপক্ষে কেনো যুক্তিই ছিলো না আমার সামনে৷ আমি তখন বুঝতে পারছিলাম না, সামনের দিনগুলোতে কী ক’রবো৷ আমি ব্যবসা শুরু ক’রেছিলাম৷ খুব ইচ্ছে ছিলো, Business Magnet হবো৷ ব্যবসা, বই পড়া, বিভিন্ন ব্লগ এবং ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে ভাবনা শেয়ার করা, মুভি দেখা, গান শোনা --- এসব নিয়েই বেশ ছিলাম৷ মনে আছে, লাস্ট সেমিস্টারের ফাইনাল প্রজেক্ট ঝুলিয়ে রেখেছি বহুদিন৷ আমার নিজের দোষে, ইচ্ছে ক’রেই৷ আমার প্রজেক্ট সুপারভাইজার সাকী কাউসার স্যার ছিলেন অত্যন্ত প্রস্তরকঠিন হৃদয়ের খুঁতখুঁতে মানুষ৷ আমি আমার বন্ধুদের চেয়ে অন্তত ৪.৫ বছর পর চাকরি করা শুরু করি। ২০১০ সাল। CUET অডিটোরিয়ামে ICT Festival হচ্ছে৷ ’02 ব্যাচের এক্স-স্টুডেন্টরা কে কোথায় কোন জবে আছে ব’লছে একে একে৷ শুধু আমি কিছুই ব’লতে পারিনি৷ ‘কিছু করা’ ব’লতে সবাই যা বোঝে তেমন কিছু ক’রতাম না আমি৷ লজ্জায় ম’নে হচ্ছিলো, ম’রে যাই৷ কী এক সংকোচ! খুব কান্না পাচ্ছে, অথচ কাঁদতে পারছি না, এই অনুভূতিটা অনেক বেশি কষ্টের৷ বিশেষ করে, যখন আশে-পাশের সবাই চাইছে, আমি এমন কিছু একটা হ’য়ে যাই, যা আমি হ’তে চাইছি না, তখন নিজেকে খুব অসহায় ম’নে হয়৷ তেমন কিছু হ’য়ে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারিনি ব’লেই আজ আমার এই অবস্থানে আসা৷ ভাবতাম, দিনের শেষে আমাকে তো ‘আমার মতো’ আমি’কে নিয়েই থাকতে হবে, ‘সবার মতো’ আমি’কে নিয়ে নয়৷ আমি আমাকে নিয়ে আমার মতো বেশ ছিলাম। ঘুমানোর সময়টাতে সময় নষ্ট না করে জেগে থাকার সময়টাতে স্বপ্ন দেখতাম৷ কত্তো স্বপ্ন! নানান রঙের, ঢঙের৷ অন্যদের চোখে আমার এক্জিস্টেন্সই ছিলো শুধু (তাও ছিলো কী?), কোনো এনটিটিই ছিলো না৷ হ্যাঁ, আমি এরকমই ছিলাম৷ নোবডি হ’য়ে৷ তবে নিজের কাছে সবময়ই ছিলাম স্পেশাল, সবাই যেমন থাকে আর কী! পৃথিবীতে নোবডি হ'য়ে থাকাটা সুখের নয়৷ যে যা-ই বলুক, এটা নিশ্চিত, নোবডি-দের জন্যে এই পৃথিবীতে শুধু নাথিং-ই বরাদ্দ থাকে৷ জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা কখনো তা ভাবতেই পারি না৷ Life is always stranger than fiction. আমরা অনেকেই জানি আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো কোথায়৷ অথচ, আমার মনে হয়, আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই, আমাদের শক্তির জায়গাগুলোকে চিনতে ভুল করি৷ তাই, আমরা সাহস করে বড় কিছু চাইতে পারিনা৷ এমনও তো হয়, ভালো-কিছু’র জন্যে অপেক্ষা ক’রতে ভয় লাগে, অথচ সেই ভালো-কিছু’ই অপেক্ষা ক’রে থাকে আমাদের জন্যে৷ ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এ-ই হয়৷
 
যা-ই হোক, একসময় মাত্র 2.74 সিজিপিএ নিয়ে কোনরকমে গ্র্যাজুয়েশন শেষ ক’রলাম৷ এরই মাঝে হঠাৎ মাথায় একটা পুরোনো ভূত নতুন করে চাপলো ---  লেখক হবো, দার্শনিক হবো৷ আমার মাথায় মাঝেমধ্যেই ছোটোখাটো ভূত চাপে৷ সেই ভূত বড়ো হয়, মানুষ হয়৷ পুরোনো অভ্যেস৷ বিসিএস এর ব্যাপারে আমার passion এবং feeling কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়৷ বরং আমার অনেক সহযোদ্ধার তুলনায় আমাকে অনেক কম সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ আপনাদের অনেকের মতো আমার একটা সমস্যা ছিলো৷ সমস্যাটা হলো, আমি আসলে কী হতে চাই --- এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমার সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর৷ অথচ, সিদ্ধান্ত নেয়ার পর লক্ষ্যে পৌঁছতে আমি সময় নিয়েছি মাত্র কয়েক মাস৷ সিদ্ধান্তই আপনার বর্তমান অবস্থান এবং ক্যারিয়ারের মধ্যে সেতুবন্ধন গ’ড়ে দেয়৷ ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার হওয়ার কয়েকদিন আগে আমার দুই বন্ধুর কাছ থেকে বিসিএস সম্পর্কে জানলাম৷ সেইদিন আমার বিসিএস’এ প্রথম হাতেখড়ি৷ আমার এখনো মনে আছে, অনেক ভালো লেগেছিলো সেদিন৷ কেন জানি বার বারই মনে হচ্ছিলো, আমার স্বপ্নের পালাবদল হওয়ার সময় এসেছে; সাথে অবশ্য লেখক হওয়ার ঝোঁকটাও ছিলো৷ সিভিল সার্ভিসে জয়েন করলে লেখক হওয়াটা সহজ হবে --- এমনটা মনে হয়েছিলো৷ একটা কথা পর্যন্ত আপনার জীবনের মোড় বদলে দিতে পারে, রীতিমতো U-turn’এ! আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো৷ আমার জীবনের ছোট-বড় যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমার মা-বাবা এবং ছোট ভাইয়ের সমর্থন পেয়েছি সব সময়৷ পরিবার পাশে থাকলে মনের জোর অনেকটাই বেড়ে যায়৷ আমি ম’ন থেকে যা কিছু চাই, তা কিছু আমার কাছে দুনিয়ার সমস্ত চাওয়ার চাইতেও বড়ো৷ পথের চাইতে অন্য-পথ নিয়ে খেলতে আমি বরাবরই শিহরণ বোধ ক’রেছি৷ ওটাও তো একটা পথ৷ আর দশজন কোনোকিছুকে ভুল ব’ললেই সেটা ভুল হ’য়ে যায় না৷ এমনও তো কিছু ভুল থাকে যেগুলো ক’রতে না পারার আফসোসেই জীবন কেটে যায়৷ স্রেফ কম্প্রোমাইজ ক’রেই জীবনটা কাটিয়ে দিলে বাঁচবোই বা কখন? মৃত্যুর আগেই যে ক’রে হোক একটু হ’লেও বাঁচতে হবে৷ জীবনটা তো কোনো ইউজার ম্যানুয়েল নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি৷ এতো দায় কীসের তবে? একটু-আধটু এক্সপেরিমেন্টালই হ’লাম না হয়! এইসব ভাবতাম৷

জীবনটা যেন পৃথিবীর সমস্ত দূরপাল্লার দৌড়বীরদের জুতোর মতন৷ তাকে ছোটাতে হয়৷ তবু জীবন মাঝে মাঝে থমকে যায়৷ মুক্তি অনিশ্চিত জেনেও মুক্ত হওয়ার আকুতি --- যতটা অনর্থক, ততটাই তীব্র ৷ নাম-পরিচয়হীন থাকার যে কী যন্ত্রণা, সেটা আমি খুব ভালোভাবে বুঝি৷ সাফল্যের জন্যে আত্মবিশ্বাস জরুরী, নাকি আত্মবিশ্বাসের জন্যে সাফল্য জরুরী --- এই দ্বন্দ্বে কেটেছে বহুদিন৷ আফসোস ছাড়া বেঁচে থাকাটাই সাফল্য, এটা ভাবতাম সবসময়ই৷ আমার সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা বেশ মনে আছে৷ আমার চিন্তা-ভাবনা, কাজ --- সবকিছুকেই আমি এককেন্দ্রিক করে ফেলেছিলাম --- আমার স্বপ্নকেন্দ্রিক৷ ধুলোর ঝড়ের মধ্যে চোখ বন্ধ করে হাঁটাটা যতটা বিপত্তিকর, তার চেয়েও অনেক বেশী কষ্টের, যখন দেখি, ঝড় থেমে গেছে, অথচ শুধু হাঁটতে শিখিনি বলেই যে পথে অনেকেই হেঁটে গেছে, সে পথ আমার আর পেরুনো হলনা৷ ফিনিক্স পাখির উপমা যদি বেশী বাড়াবাড়ি মনে না হয়, তাহলে বলা যায় যে এ পাখির মতনই আমাদের স্বপ্ন বারবার মরে এবং বাঁচে৷ স্বপ্নেরা কখনো কখনো ভেঙে যায়, দূরে ভেসে হারিয়ে যায় না৷ মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্বকেই অতিথি মনে হয়৷ যে অন্ধকারের মধ্যে ডুবে আছি তাকে নিয়েই গান গাইবার বড্ড সাধ হয়৷ ভেতরের ক্লান্ত ‘আমি’টা বিদ্রোহ করে যেন, আমি ওকে থামিয়ে দিই---সচেতনভাবেই৷ কোনো কাজ ক’রতে গিয়ে আপনার যদি অন্তত পাঁচ-ছয়’বার মনে না হয়, এই কাজটা আমাকে দিয়ে হবে না, আর পারছি না, এইবার ছেড়ে দিই, তাহলে ধ’রে নিতে পারেন, কাজটা আপনি এখনো শুরুই ক’রতে পারেননি৷ কথাটা বোধ হয় শাহরুখ খানের৷ আমার সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা বেশ মনে আছে৷ আমার চিন্তা-ভাবনা, কাজ --- সবকিছুকেই আমি এককেন্দ্রিক করে ফেলেছিলাম --- আমার স্বপ্নকেন্দ্রিক৷ মাঝে মাঝে নিজের ভেতরটা বিদ্রোহ ঘোষণা করত, বেঁকে বসত; তবু নিজের সাথে যুদ্ধ করেছি সবসময়৷ আমি নিজেকে প্রায়ই বলতাম, If you are not thinking about your dream, you are not thinking at all. ভেবেছিলাম, বুঝি হারিয়েই যাবো! কঠিন সময়ের স্রোতে শুধু কঠিন মানুষগুলোই টিকে থাকে --- এই বোধটুকু কাজ করত সবসময়৷ নিয়তি সহায় হ’য়েছে৷ আমি হারাইনি! এখনো মনে আছে, ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য আমরা সবাই বেশ কিছুদিন ধরেই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম৷ অবশেষে রেজাল্ট বের হল৷ তারিখটা ছিল ২ নভেম্বর৷ সেদিন ছিল আমার জন্মদিন৷ কী অদ্ভুত, তাই না? আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল৷ জীবনে এইবারই প্রথম আল্লাহর কাছ থেকে অনেক বড় একটা birthday gift পেলাম৷ ব্যাপারটাকে আপনারা স্রেফ মিরাকল কিংবা কাকতালীয়, যা-ই বলুন না কেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, Miracles happen when you believe. হ্যাঁ, মিরাকল ঘটে! আমি সবসময়েই আমার স্বপ্নের প্রতি sincere থেকেছি; তাই বোধ হয়, আমার স্বপ্নও শেষ পর্যন্ত আমার প্রতি sincerity দেখিয়েছে৷ স্বপ্ন এবং বাস্তবতার এই যে mutual interaction --- এটা সত্যিই বেশ দারুণ! আপনার স্বপ্ন নির্মাণ করুন৷ তাকে স্পর্শকের স্পর্ধায় ছুঁয়ে ফেলার শপথ নিন৷

 সামনের দিনগুলোতে কী ক’রলে সুন্দর একটা ক্যারিয়ার (‘সুন্দর’ মানে লোকে যেটাকে সুন্দর বলে আর কী!) গ’ড়তে পারেন, এটা নিয়ে ভাবছেন অনেকেই৷ আমি ব’লবো, এটা নিয়ে ভাববার আগে, নিজেকে জিজ্ঞেস ক’রে নিন, কী আপনার ভালো লাগে৷ অন্যেরা এর উত্তর দিতে পারবে না৷ ওরা বড়োজোর জানে, কী আপনার ভালো লাগা উচিত৷ অন্য দশ জনের মতো ক’রে ভাববার মস্তো বড়ো অসুবিধে হ’চ্ছে এই, আপনি আসলে যতোটুকু করার ক্ষমতা রাখেন, সেটা একটা বাঁধাধরা ছকে প’ড়ে যায় এবং আপনার অ্যাচিভমেন্ট এমন কিছু হয় না, যেটাকে আলাদা ক’রে বলা যায় কিংবা দেখা যায়৷ আপনার জীবনটাকে আপনি গড়পড়তায় ফেলবেন কিনা, It’s your choice.

নেলসন ম্যান্ডেলার একটা কথা আছে: It always seems impossible until it's done. একটা সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় যারা ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়, তাদেরকে আমার এ্যালিয়েন টাইপের কিছু ম’নে হ’তো৷ ভাবতাম ওরকম হওয়া সম্ভব নয়৷ পরে আমি সেই পরীক্ষায় প্রথম হ’য়েছি৷ যারা আইবিএ’তে চান্স পায় তাদের প্রতি কী এক মোহ আর শ্রদ্ধাবোধ কাজ ক’রতো৷ সেসব কথা ম’নে হ’লে এখন হাসি পায়৷ সবাই যেটাকে কঠিন বলে, সেটা করার জন্য আমি ম’ন থেকে সবসময়ই একটা তাগিদ বোধ করি৷ এই পৃথিবীতে কোনকিছুই ডিজার্ভ করা যায় না, সবকিছুই আর্ন ক’রতে হয়৷ আপনি যা চাইছেন, তা পাওয়ার জন্য সেটার প্রতি প্রচণ্ড শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসা থাকতে হবে৷ যারা সেটা পেয়ে গেছেন আগেই, তাদের ভালো দিকগুলো নিজের মধ্যে রেপ্লিকেট ক’রতে হবে৷ প্রয়োজনে নিজেকে কিছুটা ভেঙেচুরে নতুন ক’রে তৈরী ক’রতে হয়৷ এক অন্ধ অন্য এক অন্ধকে রাস্তা দেখাতে পারে না৷ তাই এই সময়ে যতটুকু সম্ভব অসফল লোকদের এড়িয়ে চলুন৷ ওদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সহজ, কারণ অসফল হওয়াটা সহজ৷ ওদের জীবনদর্শন বেশিরভাগ সময়েই খুব স্বাচ্ছন্দ্য দেয়৷ নিজের মতো কিংবা আরো বেশি অপদার্থ লোকের সাথে থাকতে কার না ভালো লাগে? নিজেকে চ্যালেঞ্জ ক’রতে জানাটা একটা মস্তো বড়ো আর্ট৷ ফেসবুকে অপদার্থের ফ্রেন্ড হওয়ার চাইতে জ্ঞানীর ফলোয়ার হ’য়ে থাকাও ভালো৷ মাঝে মাঝে নিজেকে কষ্ট দিতে হয়৷ নিজেকে কে না ভালোবাসে? সবাই ভাবে, সে দেখতে শাহরুখ খানের মতো, অন্যেরা যা-ই ভাবুক৷ তাই যখন নিজের অসহায়ত্ব নিজের অস্তিত্বকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ক’রে দেয়, সবার চোখে অপাংক্তেয় ক’রে তোলে, মা-বাবা, ভাই-বোন’কে আত্মীয়-স্বজনের কাছে ছোট হ’তে হয়, বন্ধু-বান্ধব কেমন যেনো দূরে স’রে যায়, তখন প্রচণ্ড অভিমানে নিজের সবটুকু দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ইচ্ছে ক’রে৷ জীবনের প্রয়োজনে কঠিন মৃত্যুতেও অভ্যস্ত হওয়া যায়৷ আরো একটা ভুল অনেকেই ক’রে থাকে৷ সেটা হ’লো, খুব সফল কারো কাছ থেকে অন্য কোন ব্যাপারে সাফল্যের ফর্মুলা নিতে যাওয়া৷ সফল অনেকেই আছে, যারা জানে যত কম, বলে তত বেশি৷ তারা ভাবে, কোন এক বিষয়ে সফল হ’য়েছে ব’লে দুনিয়ার যাবতীয় ব্যাপারে মতামত দেয়ার অধিকার তাদের হ’য়ে গেছে৷ বিল গেটসের কাছে চাল-ডালের ব্যবসার আইডিয়া চেয়ে কী লাভ? আরো একটা ব্যাপার শেয়ার করি৷ যতই সফল হোক না কেনো, এমন কারো কাছে ঘেঁষবেন না যে আপনার মনোবলকে ভেঙে দেয়৷ শুধু ভুলই ধরিয়ে দেয়, এমন লোকের কাছ থেকে আসলে কিছু শেখা যায় না কিংবা শিখলেও সেটাকে ওরাই কাজে লাগাতে দেয় না৷ If you cannot help a person to do something, you have no right to demoralize him/her saying that he/she cannot do it. কিন্তু, এটাই অনেকেই করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা নিজে যা পাননি, ধরেই নেন বাকিরাও সেটা পাবেন না; উনাদের পরামর্শগুলো শুনলে লেজকাটা শেয়ালের গল্প মনে পড়ে যায়। বাচ্চা খেতে চায় না, এটা কোনো কথা না; যুগে যুগে বাচ্চারা খেতে চায়নি, এই পৃথিবীতে কোনোকালেই কোনো রাক্ষস বাচ্চার জন্ম হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখি না, তবুও তো মা-বাবা কতো বুদ্ধি বের করে বাচ্চাকে খাওয়ান; বাচ্চাকে কীভাবে খাওয়ানো যায়, সেটা তো জানতে হবে। তাই, আপনি কিছু একটা ক’রতে পারবেন না, এমন কথা ক্যারিয়ারের শুরুতে কাউকেই ব’লতে দেবেন না, এমন কী আপনার বাবা-মা’কেও নয়৷ যারা আপনার ভালো কাজের প্রশংসা করে না, শুধু খারাপ কাজের সমালোচনা করে, তারা আর যা-ই হোক, আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী অন্তত নয় ৷ বন্ধু তো নয়-ই ৷ তারা আপনার পাশে থাকা না-থাকা, দুই-ই সমান ৷ ওদের যত পাত্তা কম দেবেন, ততই ভালো থাকবেন ৷ ওরকম দু'একটা ফালতু লোককে ছুঁড়ে ফেলে দিন ৷ প্রশংসা ক'রতে বড়ো মন লাগে ৷ যে কখনো প্রশংসিত হয়ইনি, সে আপনার প্রশংসা ক'রবে কীভাবে? এসব ভাইরাস থেকে দূরে থাকুন, সুস্থ থাকুন ৷

একটু ভেবে দেখুন তো, টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির হিসেবটা আমরা যতটা রাখি, ততটা খোঁজ নিয়েছি কি কখনো, সেঞ্চুরি হাঁকাতে গিয়ে কতটা ফিজিক্যাল এবং মেন্টাল স্ট্রেস উনাকে নিতে হয়? যতক্ষণ ব্যাটিং ক’রেন, ততক্ষণই কত কোটি মানুষের এক্সপেক্টেশনের সমস্ত টেনশন সাথে নিয়ে নিজের সবচে’ ভালোটুকু দেখাতে হয়? আমাদের কতটুকুই বা এক্সপেক্টেশনের প্রেসার নিতে হয়? খুব বেশি হ’লে, দশ জনের? যে ভালো খেলে সে-ই জানে, ভালো খেলতে কী কষ্ট হয়৷ কতটা নার্ভ-টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়৷ ক্রিকেট নিয়ে আরো ভালো হয়তো অনেকেই জানেন, তবুও এখানে শুধু জানাটা ইম্পর্টেন্ট নয়, জানাটাকে কাজে লাগানোই ইম্পর্টেন্ট৷ আপনি কী পারেন, আর কী পারেন না, আপনার কাজই তা ব’লে দেয়৷ এক্ষেত্রে সিরিয়াস হওয়ার চাইতে সিনসিয়ার হওয়াটা বেশি জরুরি৷ Work hard --- শুধু এই পুরোনো স্লোগান নিয়ে বসে থাকার দিন শেষ; এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে Work smartly.

সবাই তো আর সবকিছু পারে না৷ যে যা পারে না, তা ক’রতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে Average People’এর দলে মিশে যায়৷ অনার্স পড়ার সময় যে গ্রুমিংটা আপনাদের হ’য়েছে, সেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে ক্যারিয়ারটাকে নিজের মতো ক’রে গ’ড়ে নেয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ স্টিভ জবস্ একটা চমৎকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, Stay foolish, stay hungry. একটা টিভি অ্যাডের কথা মনে প'ড়ে গেলো। চকোলেটের অ্যাড। একটা চকোলেট নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য ক'রছে। কেউ ব'লছে চকোলেটটা ভালো, কেউ ব'লছে খারাপ, কেউ কেউ কনফিউসড্। একজন কিছুই ব'লছে না। মুখ বন্ধ। সবাই জিজ্ঞেস ক'রলো, কী ভাই, কিছু ব'লছেন না কেনো? উনি কোনোরকমে মুখ খুলে উত্তর দিলেন, ভাই, ব'লবো কীভাবে? আমি তো খাচ্ছি! ....... এটা আমার দেখা সেরা অ্যাডগুলোর একটা। When you are in the shit, keep your mouth shut. ক্যারিয়ারে সাফল্য লাভ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বোকা থাকুন, এর জন্যে ক্ষুধার্ত থাকুন, প্রস্তুতি নিন, চোখ-কান খোলা রাখুন; মুখ নয়৷ Que sera sera --- Whatever was, was; whatever is, is; whatever will be, will be. যা হবার তা হবেই। আপনাদের এই গানহীন অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে একদিন গান হবে৷ সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম৷ সেদিন, আমার এই কথাগুলো পড়েছিলেন, ব্যাপারটাকেই মনে হবে স্রেফ ছেলেমানুষি৷

বিসিএস আর আইবিএ ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি আমার আজকের প্রেজেন্টেশন থেকে সংগ্রহ করে নেবেন। এরপর নিজের মতো করে সেগুলোকে কাজে লাগাবেন। এখন আমার নিজের জীবন থেকে শেখা আরোকিছু লেসন শেয়ার করছি।

কোনো এক সন্ধ্যায় আমার ছোটো ভাইয়ের সাথে কথা ব'লে মনে হ'লো, সে প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছে, হাল ছেড়ে দেবেদেবে ক'রছে৷ এইরকম অবস্থায় মানুষ ভাবে, সে খুব একা, সবাই তার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে; খুব কাছের যারা, তারাও তার বন্ধু নয়৷ সে ভাবতে শুরু ক'রেছিলো, শুধু বেঁচে থাকাটাও কী ক্লান্তিকর! সবাই তার শত্রু৷ তাকে কেউই ভালোবাসে না৷ যাকে কেউ চায় না, সে কীভাবেই বা থাকে! আমি আশা এবং নিরাশা দু'টোরই চরম সীমানায় থেকেছি। আমি জানি, সামনে যখন শুধুই শূন্যতা থাকে তখন কেমন লাগে। কতটা আশায় মানুষ স্রেফ বেঁচে থাকে, তাও জানি। লাইফ অব পেন্যান্স কী, তা আমাকে কোনো থিওসোফিক্যাল লেকচার প'ড়ে শিখতে হয় নি৷ খুব কষ্টে আছেন, এর চেয়ে বেশি কষ্টে থাকা যায় না, এইরকম দাবী যাঁদের, তাঁদের ব'লছি, একটা সময়ে মৃত্যুর প্রহর গোনার ব্যাপারটা পর্যন্ত আমার কাছে বিলাসিতা মনে হ'তো৷ ওরকম প্রহর গুনতে হ'লে তো অন্তত বেঁচে থাকতে হয়; সেই বেঁচে থাকাটাও কী এক ভীষণ যন্ত্রণার বিলাসিতা!

 আমি দেখেছি, শুধু বেঁচে থাকলেও অনেককিছু হয়৷ হারিয়ে গেলে, খুব কাছের মানুষ ছাড়া কারোরই কিছু এসে যায় না৷ তাই, বেঁচে থাকুন। আপনার মৃত্যু কিছু লোককে দারুণ অস্বস্তিতে ফেলে দেবে, যারা আপনার মৃত্যুকামনা ক'রে স্বস্তি পায়। অন্তত তাদের কথা ভেবে হ'লেও . . . . . . . বাঁচুন!

বেঁচে থাকাটাই সবচে' বড় প্রতিশোধ। তাই, অন্তত নিজের কথা ভেবে হ'লেও . . . . . . . বাঁচুন!

বাঁচুন, নিজের জন্যে। বাঁচুন, অন্যের জন্যে।

আমি সেই দিনরাতেই এই লেখাটা ওর জন্যে লিখি, ওর ওয়ালে পোস্ট করি৷

Let me share some lessons my life has taught me:

Among our batchmates, probably I was the first person who took the risk to explore the avenue of traditional business. But not always it’s easy to walk on the path less travelled. Educated entrepreneurs must have the guts to walk away from the apparently secured well-paid jobs and stay on that out-track at least as long as success shows its first sign. Things are not that easy. Now I’m a derailed engineer. I started with my coaching centre, later entered the stock market taking some calculated risk (God bless the investors including me! Your friend says, money is nothing? Ok fine, tell him to invest in the share market.) My succession of such attempts ended in establishing my own gift business branding by the name DOVANA. I owned 2 shops and I’d always dreamt of being a business magnet extending my domain over some other sister concerns as well till the date my dream transformed meeting newer impulses. (Lucky I’m as I did never have to regret for my new impulses.) Yes, I was planning to kill my brainchild. To become successful you’ve to start young. It’s even more important to fail young if you really want to fail in any of your attempts. To fail successfully is an art. Not always luck meets you in the way you want, but it's still luck. Sometimes, Allah responds by not responding. Now I feel, sometimes failures are good and life-saving. I always found myself in a position that I hardly seemed very comfortable with. When I saw my friends already having crossed a long way, I felt just helpless. Gradually they were becoming the top professionals in their respective sectors. If you’re not accustomed to being considered ‘Nobody’ by others since your childhood, it’s difficult to see yourself ‘Nobody’ even for a short time. I strongly felt only walking or running at least to catch them was not enough, I must take a flying leap! I was struggling to win, but fighting with small people was constantly giving me a hollow inferior feeling. I was out there alone on my own island, and I felt like I was disengaged . . . . . . . Even if you win by fighting with small people it gives you a feeling that you’re the kind of them, just a mediocre talent. Success in business is an extremely selfish game. Maybe, you’re thinking, ‘Huh! I’m already much selfish,’ but to have won more than others you would have needed to be more selfish than you really are. . . . . . . . . I always talked to my engineer batchmates (I belong to ’02 batch) and used to insist we better start a software business. I found only a few really serious in words, fewer in action. The easiest way to start anything is just to start it. Everyone around me wanted to start a journey of a thousand miles; no one was willing to put even the first step. I know it’s true not always taking risks is easy especially when you’ve been brought up in a surrounding full of millions of NO’s. How easy it is to say NO to an attempt! Not always life sounds so easy as to stay indifferent to all the opportunity costs and be connected with your dream when it belongs to elsewhere contrary to common expectation. You start feeling that maybe you’re going to be a just nobody for whom just nothing is waiting. It’s horrible to be just a NOBODY to others. All the time you’re thinking, planning, hoping about your dream and at the same time wondering what would happen if you find yourself in the wrong place when it’s too late. (One thing I can tell you: Never it’s too late to realize it’s already getting late.) Life didn't come to us with a user-manual. So, it's our right to use and to abuse it! I can tell you for sure that playing with life is a wonderful game, but you must carefully make it sure that it remains wonderful at the end of the day. Winners stand alone only because only a few can really win. Living unremembered, unrecognized can give you the worst feeling, I can say. Not always life is so smooth as to stay complacent with, ‘I think, therefore I’m’ principle, life makes you feel the urge to start believing, ‘Others think, therefore I’m.’ Identity is more important than existence. Now I believe, deciding what you really want matters. It took me almost 2 decades to decide what I really want. When I'd decided finally, it took me only a few months to get what I really want. Whatever you do, job or business or anything else, you must work not only hard but also smartly to become successful enough to smile and not to be embarrassed seeing others smile at your previous ‘sweet failures’. Failures are never meant to be sweet. It’s your success that makes them sweet. Sometimes your best role model is only YOU in a better state you could be. Not always success is being anyone else you dream of being, rather being a new YOU better than previous YOU or not degrading your better YOU if you already are. Hardly, things not worth-challenging are worth-getting. Success is all about earning not deserving. The easiest way to make people admit you deserve something is only to earn it. Fact is, your success is what you think you earn, your failure is what others think you deserve. . . . . Success. It's just living without sighs. It's just dancing in the manner you want and making people think you dance well even if you don't. It's making your style others' favourite brand even if it's foolish. It's sometimes making people laugh listening to your even worst jokes. It's making others hear you even when you don't speak. It's taking the opportunity to tell others that meeting your previous millionth failure was essential, anyway. It's making your failures worth-mentioning by you or by others. It's just what it's, not the opposite of failure as often popularly told and wrongly believed. Throughout my life I’ve followed a simple technique. I always have the highest respect for any peak I’m trying to reach and I make the successful persons my heroes. It gives me a great drive! Really! Even a child wants to become the hero he dreams of. It’s easy to work for something when you really admire, in any job, in any business. Your business is like your child. You cannot expect your child to be a complete man overnight. Similarly, you cannot expect your business boom before you become used to the bitter reactions from the people around you. People have a natural talent of undermining your attempts to which they are not familiar with or don’t feel comfortable about. There are some people who can never appreciate. So, it's foolish to judge yourself by what they say. Kind words are healthier than chicken soup. Have a bowl of healthy soup----served (if you’re lucky enough) or self-served (if you want to make your own luck). Get busy living. I’ve always found this: learnt free, lost paid. So, invest before you earn. Get inspirations from people who never stop before they cross the miles to go before they sleep. Quitters are never winners. Que sera, sera---Whatever will be, will be. Things are that they're, things will be that they'll be. If you quit, only you quit. Some won't quit and will reach the peak. The easiest way to finish something is to start it. Once you start, you're surely on the way to the end. If you finish before it finishes, you must search for another way. Not always a new way is better rather sometimes it brings newer pains. If you still don't know what to do, ask your heart. Do what you love, love what you do. Your heart strangely somehow knows better than you. Never ask a blind man to help you cross the road because he is also trying or has failed to cross it. If you can't see ask someone who has already seen. Better to live 1 minute with a wise man than to stay 1 hundred years with an idiot. First decide, deserve and then desire. These 3 D's can give you what you and others want from your life. Not always life is easy, but it's still worth-living. Tough time doesn't last long for the tough men. Be that tough. Don't tell the world what you can do, let the world tell it for you. Your actions speak much louder than your words. Don't challenge others, challenge yourself because at the end of the day what all you're left with, is only yourself. It's never too late, rather being late is good as you've already paid the price for mistakes that others haven't yet. Know what to do, learn how to do it and JUST DO IT! Be that tough guy for whom time waits as he has refused to shape his life with time, by time, for time. Remember, only your results are rewarded, not your efforts. This is the way the world accepts or rejects you.

 ~ Never take anything for granted, even your failure.

~ Never call it a day until & unless the day ends.

~ Only your results are rewarded, not your efforts.

~ Really perform when you're performing.

~ Only your performance performs, not my prayers or curses.

~ Sometimes your luck matters much more than your performance.

~ Excuses are of no use. If you win, you need not show them. If you lose, you should not show them.

~ The game is always ON. So . . . . . . . JUST PLAY!

 Good luck! :)

 আপনাদের জন্যে আমার দুইটা ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করে লেখাটা শেষ করছি।

এক। ভাইয়া, পড়াশোনা করতে কখনোই ভালো লাগতো না; এর ফলও হাতেহাতে পাইসি। ম্যাট্রিকে গোল্ডেন এ+ পাইসিলাম। চিটাগাং কলেজে ভর্তি হলাম। সবাই ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে জানতো। ইন্টারমেডিয়েটে পড়াশোনা অনেকটা ছেড়েই দেই। স্যারদের বাসায় যেতাম আর আসতাম, পড়াশোনা কিসু করতাম না, রাস্তায়-গলিতে আড্ডাবাজি করতাম, বাসায় ফিরতাম ১০টার পর। বাবা-মা'র কথা শুনতাম না, উল্টা ঝগড়া করতাম, বাসায় চিল্লাচিল্লি করতাম। মনে হতো, ওইটাই জীবন। ভাইয়া, চিটাগাং কলেজ থেকে কেউ ফেল করে না, ইন্টারমেডিয়েটে ফেল করা সত্যিই কঠিন। আর আমি সেটাই করসিলাম। সায়েন্সে পড়তাম, কিসুই পারি না, বানায়ে কী লিখবো, সাদা খাতা জমা দিসি ভাইয়া। নিজেকে এই প্রথমবারের মতো চিনতে পারলাম। দেখলাম, সবাই দূরদূর ছাইছাই করে, কেউ দুই পয়সারও পাত্তা দেয় না। খালি মা-বাবা কিছু বলতো না, শুধু কাঁদতো, শুধু কাঁদতো। অথচ, আমি আগে ভাবতাম, বাকিরা সবাই আমার আপন, মা-বাবা'কে শত্রুর মতো লাগতো। খুব কান্না পেতো ভাইয়া, আবার কাঁদতে লজ্জাও লাগতো। মাঝে মাঝে মনে হতো, মরে যাই। আবার মরে গেলে মা-বাবা আরো বেশি কাঁদবে, এটা ভেবে কষ্টও লাগতো। আবার মরে গেলে কী হবে, কী হবে না, এগুলা ভাবতাম, ভয়ও লাগতো। পাগলের মতো ছিলাম কয়েক মাস। এরপর বাবা-মা বুঝালো, একবার ফেল করলে কিছু হয় না। আমি ভালোভাবে পড়লে পরেরবার অনেক ভালো করতে পারবো, পুরা লাইফটা তো পড়ে আছে, আমি চেষ্টা করলে অনেকদূর যেতে পারবো, ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাইয়া, হাসি পাচ্ছে না শুনতে? কিন্তু জানেন, ওইসময়ে কেউ আমাকে ভালো কিসু বলতো না, তাই একটু ভালো কিসু শুনলে মনটা অনেক বড়ো হয়ে যেতো, মনে হতো, আমিও পারবো! আমি পরেরবার পরীক্ষা দেই, খুব বাজে রেজাল্ট করি, কিন্তু পাস করি। ভাইয়া, জানেন, পরীক্ষার সময় স্যাররা এসে আমার সামনে দাঁড়ায়ে বলতো, এই পেজটা এক টানে কেটে দাও, পুরো পেজ তো ভিজায়ে ফেলসো। আমার খুব কষ্ট লাগতো, পরীক্ষার সময়ও কাঁদতাম, চোখের পানিতে পেজ ভিজে যেতো। আমি কোনোদিন পরীক্ষায় ফেল করি নাই, ছোটবেলায় সবসময় ফার্স্ট-সেকেন্ড হতাম। সেই আমি কিনা! যাই হোক, আমার বাজে রেজাল্ট দিয়ে ভালো কোথাও ভর্তি হওয়া তো দূরে থাক, পরীক্ষাও দিতে পারি নাই। বাবা বলসিলো, প্রাইভেটে ডাক্তারি পড়াবে। বাবার অতো টাকা ছিলো না, লোন নিবে ভাবতেসিলো। হঠাৎ আমার মনে হলো, অনেক কষ্ট দিসি বাবা-মা'কে, আর না। আমি অনেকটা জোর করেই কমার্স কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হলাম, বাবাকে অন্তত আমার জন্যে কারো কাছে হাত পাততে হবে না। আত্মীয়-স্বজন, পুরোনো বন্ধু-বান্ধব, পাড়ার লোকজন কেউই আমাকে গুনতো না, কেউ না, কেউ না! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের কেউ পাত্তা দেয় না, ভাইয়া। আমিও একসময় দিতাম না, আর সেখানেই আমাকে পড়তে হইসে। কী আইরনি, তাই না ভাইয়া? নিজের উপর খুব রাগ হতো। ভাইয়া, ছোটোবেলায় ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হয়ে যাওয়াটা একটা বিশ্রী জিনিস, নিজেকে কিছুতেই আর ছোটো ভাবা যায় না। আগে সবাই ভালো ভালো বলতো, তখন আর কিসু বলে না। সবার উপরে কী যে রাগ হতো! মনে হতো, কেউই আমাকে দেখতে পারে না, সবাই আমার শত্রু। কেউই ভালো না বাসলে খুব খারাপ লাগে, ভাইয়া; শুধু খারাপ লাগতেই থাকে। কারোর সাথে খুব একটা কথা বলতাম না, কেউ কিসু বললে, কষ্ট পেতাম, কষ্ট চেপে রাখতাম, কিন্তু মুখে কিসু বলতাম না। মনে হতো, বলবেই তো, সব দোষ আমার। ভাইয়া, আমি ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড জেদি, মুখে কিসু না বললেও জেদ ঠিকই ছিলো। আপনি তো জানেন, ডিগ্রি ৩ বছরের কোর্স; আমি থার্ড ইয়ারের মাঝামাঝি সময় থেকেই আইবিএ’র জন্যে পড়াশোনা শুরু করি। আমার মনে হতো, আইবিএ’তে যারা পড়ে সবাই তো ওদেরকে ভালো স্টুডেন্ট ভাবে, ওখানে ভর্তি হয়ে যদি আমার ফেইলিউরগুলোকে একটু কম্পেন্সেট করা যায়। খুব ভালোভাবে প্রিপারেশন নিলাম। জীবনে এই প্রথম ডিসাইড করতে পারসিলাম, আমি আসলে কী চাই। ভাইয়া, আপনার একটা কথা আমার খুব প্রিয়। আপনার ফেসবুকে অ্যাবাউট মি’তে আপনি লিখসেন, It took me almost 2 decades to decide what I really want . When I'd decided finally, it took me only 1 year to get what I really want. আপনি জানেন না, আপনার অনেক কথাই আমার মুখস্ত, ভাইয়া। যা-ই হোক, আমার ফাইনাল রেজাল্ট বের হবার আগেই আমি আইবিএ’তে পরীক্ষা দিলাম, এবং টিকলাম। এখন সবাই ভাবে, আমি যে ফেল করসিলাম, ওটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো, আমি আসলে অনেক ক্যালিবারওয়ালা ছেলে। অথচ, ওরাই একসময় বলতো, ও ফেল করবে নাতো, কে ফেল করবে? সারাদিন টো টো করে, লেখাপড়া নাই, আজেবাজে ছেলেদের সাথে মিশে, আরো কতোকিসু। ভাইয়া, বিশ্বাস করেন, ওরা যা যা বলতো, সব সত্যি ছিলো না। কিন্তু আমি তো ফেল করসিলাম, তাই ওদেরকে কিসু বলারও ছিলো না। আরো বেশি কষ্ট লাগতো যখন দেখতাম, ওরা ওই কথাগুলো আমার মা-বাবা’কেও শোনাতো। এখন ভাবি, মা-বাবা’কে কতো কষ্ট দিসি! এখন আর কেউ কিসু বলে না আমার মা-বাবা’কে। এটাই আমার কাছে সবচে’ বড়োকিছু, আইবিএ’তে পড়া একটা উছিলামাত্র। ভাইয়া, আমি বিশ্বাস করি, যদি কেউ আল্লাহর কাছে মন থেকে হালাল কিছু চায়, আর সেটা পাওয়ার জন্যে ঠিকভাবে পরিশ্রম করে, আল্লাহ কখনোই তাকে নিরাশ করেন না। ভাইয়া, আপনাকে এগুলা বলতে লজ্জা লাগতেসে, কিন্তু কেনো জানি মনে হলো, বলি। আপনার সম্পর্কে আমি কিসু কিসু জানি, আপনি নিজেও অনেক বাজে অবস্থা থেকে আজকের অবস্থানে উঠে আসছেন। আপনি লিখসিলেন, “পৃথিবীতে নোবডি হ'য়ে থাকাটা সুখের নয়৷ যে যা-ই বলুক, এটা নিশ্চিত, নোবডি-দের জন্যে এই পৃথিবীতে শুধু নাথিং-ই বরাদ্দ থাকে৷ জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা কখনো তা ভাবতেই পারি না৷” এটা খুব বেশি সত্যি, ভাইয়া। অনেক বকবক করলাম, কিছু মনে নিয়েন না। ডিগ্রি পাস করে তো বিসিএস দেয়া যায় না, দেয়া গেলে চেষ্টা করে দেখতাম। আমি মাস্টার্স শেষ করেই বিসিএস পরীক্ষা দিবো, একটু হেল্প কইরেন, ভাইয়া।

দুই। গ্লোরিয়া জিন্সে বসে কফির অর্ডার দিলেন। কফি এলো। ২ চুমুক দিলেন। আহ অপূর্ব! হঠাৎ কোত্থেকে যেন একটা বিশ্রী পোকা উড়ে পড়লো কফির মগে। এখন কী করবেন? কফিটা খেয়ে নেবেন? নাকি, ফেলে দেবেন? ফেলে দিলে তো টাকাটাও জলে গেলো। কিন্তু একটা মড়া পোকা ভাসছে, এরকম কফি তো খাওয়াও যায় না। কী করা যায়? এতো দামী কফি! টাকা জলে দেয়ার কষ্ট অনেক! ভাবছেন তো ভাবছেনই! সময় কেটে যাচ্ছে, তবু কফির দামের মোহ কাটছে না। এভাবেই কাটলো অনেকটা সময়। ওয়েটার বিল দিয়ে গেলো। বিলটা মিটিয়ে মেজাজ খারাপ করে রাস্তায় হাঁটতে লাগলেন। আজকে শতাব্দীকে পড়াতে যাওয়ার কথা ছিলো, আন্টি আজ বেতন দেয়ার কথা, তার উপর কালকে ওর ম্যাথ সেকেন্ড পার্ট এক্সাম। দেরি হয়ে গেছে, মনমেজাজও ভালো না। আজকেও গেলেন না। গত ৩ দিন ধরেই যাচ্ছেন না। আন্টি ফোনে বলেছেন, বাবা, তুমি না পারলে শতাব্দীর জন্যে একজন ভালো টিচার খুঁজে দাও। সামনেই তো ওর ইন্টার পরীক্ষা। ভাবতে লাগলেন, টিউশনিটা আর থাকবে না বোধ হয়। শালার কফি! পুরোই ফ্রুটলেস! পয়সাও গেলো, সময়ও গেলো। মেজাজ তো খারাপ হলোই। এই বাজারে একটা টিউশনি ম্যানেজ করা যে কী কষ্ট, একে ধরা লাগে, ওকে ধরা লাগে। হাতে ধরে এভাবে কেউ টিউশনি খোয়ায়?! আরেকটু আগে বের হলেই তো টিউশনিটা আর মিস হতো না। নিজের মাথার চুল নিজের হাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। থাক, না ছিঁড়ি। চেষ্টা করলে টিউশনি আরেকটা ম্যানেজ করা যাবে, কিন্তু চুল তো আর ম্যানেজ করা যাবে না। হেয়ার প্ল্যান্টেশনে অনেক খরচ! টিউশনির বেতনের ডাবল। শতাব্দীর বাবা অতো টাকা দেবেন না। শালা হাড়কিপ্টা; বেতন বাড়ায়ই না। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেলেন! ম্যানহোল ছিলো, খেয়াল করেননি।

টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না, তাই অনেক চেষ্টা করে দ্বিগুণ দাম দিয়ে দুইটা টিকেট কোনোরকমে ম্যানেজ করলেন। আপনার স্ত্রী সহ মুভি দেখবেন। ব্যাপক হিট মুভি! টিকেটই পাওয়া যায় না। ভালো তো হবেই! মুভিটা সম্পর্কে কোনো রিভিউ না দেখেই তাই ২টা কিনে ফেললেন বউকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে! বাসায় ফিরেই চিল্লাচিল্লি করে বউকে বললেন, চোখ বন্ধ! দেখ দেখ কী এনেছি! তুমি কালকে সন্ধ্যায় ফ্রি তো? বউ টিকেট দেখেই অগ্নিশর্মা! তোমার রুচিবোধ এই পর্যায়ে নামলো কবে থেকে? এসব সস্তা মুভি না দেখলে তোমার হয় না? ছিঃ! আমি যাবো না তোমার সাথে। তুমি কোনো সস্তা রুচির মেয়েকে নিয়ে মুভি দেখে আসো গিয়ে। আপনি বুঝিলেন, ইহা অনুরোধ নহে, ইহা থ্রেট। ড্রেস না ছেড়েই তখুনি নেটে রিভিউ দেখতে বসে গেলেন। আসলেই মুভিটা আপনার রুচির সাথে যায় না। কিন্তু, কী যুদ্ধ করেই না টিকেটটা ব্ল্যাকারের কাছ থেকে ম্যানেজ করলেন! ভাবলেন, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিই। দেখি, কেউ কিনে কিনা। অ্যাট লিস্ট টিকেটের দামটা অন্তত উঠুক। দিলেন স্ট্যাটাস। আপনার বন্ধুরা আপনাকে পচাতে পচাতে দুর্গন্ধ করে ছেড়ে দিলো। কেউ একজন কমেন্টে লিখলো, শালা খারুজের বাচ্চা! মুভি আর পাস না। তুই এই টিকেটও পয়সা দিয়া কিনসস! আবার কস, ডাবল দামে না বেইচ্যা অরিজিনাল দামে বেচবি! ....... দেখলেন, আপনার স্ট্যাটাসে লাইক ২টা, আর ওই কমেন্টে লাইক ১৮টা! বউ দেখে বললো, এই টিকেট বেচার স্ট্যাটাস দিতে তোমার লজ্জাও করলো না? ........ নারিকেল গাছ খুঁজতে লাগলেন, নারিকেল গাছের আগায় উঠে গলা ছেড়ে কাঁদতে পারলে অন্তত একটু শান্তি লাগতো। নাহ! একটাও নারিকেল গাছ নাই আশেপাশে, সব কয়টা ডাব গাছ। পরেরদিন সন্ধ্যায় একবুক সাহস সঞ্চয় করে বউকে জিজ্ঞেস করলেন, চলো না, না হয় দেখে আসি। বাসায় তো আর তেমন কোনো কাজ নাই। বাসায় রান্না করার দরকার নাই, আজকে আমরা বাইরে ডিনার করবো। বউ টিকেট হাতে নিয়েই ছিঁড়ে ২ টুকরা করে বললো, ওয়াও! গ্রেট! চলো, আজকে বাইরে ব্যুফে খাই! প্যাঁচা প্যাঁচা মুখ করে ভাবতে লাগলেন, হে ধরণী! দ্বিধা হও, আমি গাছে উঠি! শালার সিনেমার গুষ্ঠি কিলাই!!

 একটু ভাবুন তো!

যদি রেস্টুরেন্টে কফিটা ফেলে রেখেই বিলটা দিয়েই উঠে পড়তেন, তাহলে কিন্তু অতো ঝামেলা আর হতো না।

টিকেটটা জাস্ট জানালা দিয়ে প্রথমেই ছুঁড়ে ফেলে দিলেই কিন্তু আপনার দুনিয়ার পেইন আর নিতে হতো না।

 যে টাকাটা জলে গেছে, সেটা তো গেছেই! মানে, জলে ডুবে গেছে। The cost sank. So, it's a sunk cost. জলে ডুবে যাওয়া টাকার জন্যে মন খারাপ করে থাকতে হয় না। কোচিং সেন্টার বন্ধ করবো করবো করেও করা যায় না। কতো সময় দিয়েছি এটাকে আজকের অবস্থানে আনতে! কী পরিমাণ কষ্ট করে না খেয়ে না ঘুমিয়ে একার হাতে এতো বড়ো একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো! কোনো কাজ শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় একটাই, কাজটা শুরু করে দেয়া। একটা কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়ার একমাত্র উপায়, চিন্তাভাবনা ছাড়াই কোচিং সেন্টারটা বন্ধ করে দেয়া। টিউশনি ছেড়ে কম বেতনে চাকরিতে ঢোকার একটাই উপায়, টিউশনি ছেড়ে দেয়া। ব্যবসা ছেড়ে দেয়াটা খুব খুব কঠিন একটা কাজ। একটা দোকান নিজের সন্তানের মতো। কতো যত্ন করে, কতো ত্যাগ স্বীকার করে, কতো সময় আর টাকা ইনভেস্টমেন্ট করে, কতো মানুষের বাঁকা কথা শুনে, কতো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে হয়! যদি সেটা ছেড়েই দিতে হয়, তবে ঠিক ওই মুহূর্তে ছেড়ে দেয়াই সবচেয়ে ভালো। দেরি করতে করতে বেটার অপরচুনিটি মিস হয়ে যেতে পারে (এবং যায়)। শেয়ার মার্কেটের লাখলাখ টাকা জলে গেলো, আর আমার চোখের জলে অন্য সব স্বপ্নগুলোও ভেসে গেলো। কতোজন থেকে টাকা পাই! জানি ওরা কেউই আর টাকাটা ফেরত দেবে না। তবুও আমি শুধু মন খারাপ করে থাকি, টাকার কথা ভাবতে থাকি। জীবনে যা হতে চেয়েছিলাম, তার জন্যে এতটা পথ এতো কষ্ট করে পাড়ি দিয়ে আজকের দিনে যখন অন্য একটা বেটার সুযোগ পেয়েও শুধু এতোটা কষ্টকে ডুবে যেতে দেবো না ভেবে, ট্র্যাক চেঞ্জ করলাম না, পরে আফসোসে আফসোসে জীবনটা কাটলো। যার সাথে সারাটা জীবন কাটাবো ঠিক করেছিলাম, আমার নিজের জীবনটা প্রতিটি মুহূর্ত আমি হিসেব করে নিয়েছিলাম ওর মতো করে, যদি কখনো দেখি, ওর হাতে অন্য কারোর হাত; সে আমার হাত ছেড়ে দিয়েছে সেই কবেই, আমি বুঝতে পারিনি এতোদিন; তবুও কি নিজেকে ওর প্রতীক্ষায়ই শেষ করে দেবো, শুধু ওর জন্যে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বলে?

 যা চলে গেছে, আর ফিরবেই না, যাকে আঁকড়ে ধরে থাকলে প্রাপ্তি একটাই --- কষ্ট, যার জন্যে আমার নিজের অস্তিত্ব পর্যন্ত অচেনা হয়ে যাচ্ছে, যাকে ছুঁড়ে ফেলে না দিলে হয়তো বা সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো আসার আগেই একেবারেই হারিয়ে যাবে, তা হলো সাঙ্ক কস্ট। ডুবে যাওয়া খরচ; হোক সেটা পার্থিব কিংবা অপার্থিব। শুধু প্রেমিকা ছাড়া আমি ওপরের সব ক্ষেত্রেই প্রচণ্ডভাবে অসফল একজন মানুষ। প্রেমিকা আসে-ই তো নি, যাবে কী? আইবিএ'তে ফাইন্যান্সে এমবিএ কোর্সে আমি যা কিছু শিখেছি, তার মধ্যে আমার কাছে বেস্ট কনসেপ্ট মনে হয়েছে, সাঙ্ক কস্ট। আমার জীবন থেকে যে অবিশ্বাস্য রকমের অর্থ আর সময় হারিয়ে গেছে, যেটার যন্ত্রণা আমাকে তাড়া করে ফিরতো দিনরাত সবসময়ই, সেটাকে তাড়িয়ে দিতে এতো সুন্দর যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমি আর কোথাও পাইনি। পুরোনো ব্যথা-ক্ষতি-কষ্ট-হতাশা-দুঃখ সবকিছু ভুলে গিয়ে ছেড়েছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সামনের দিকে চলার জন্যে এই সাঙ্ক কস্ট কনসেপ্টটার প্রভাব অসামান্য।

 ক্যারিয়ার নিয়ে লেখা আমার কিছু ফেসবুক নোট পড়ে দেখতে পারেন।

  নোটগুলো হলোঃ

    বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্যেঃ স্বপ্নছোঁয়ার গল্প। আগামীকালকের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো
    বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্যেঃ স্বাগত হে স্বপ্ন
    বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার জন্যেঃ স্বপ্নঘরের ওয়েটিং রুমে
    বিসিএস পরীক্ষা + আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা'র প্রস্তুতিকৌশলের জন্যেঃ বিসিএস পরীক্ষা + আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা'র সাতসতেরো

সুশান্ত পাল

CSE (CUET) ‘02 batch, MBA (IBA, DU) 45th batch, MDS (DU) 9th batch

সহকারী পরিচালক

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ঢাকা

130
BCS Cadre / Inspiration article, By my senior brother
« on: July 14, 2014, 06:07:20 PM »
আমি আসলে একজন অ্যাক্সিডেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার৷ অ্যাকাডেমিক্যালি৷ একটা স’ময়ে অনার্স কমপ্লিট করার কোনো ইচ্ছেই ছিলো না আমার৷ কেনো অনার্স কমপ্লিট করবো, এর স্বপক্ষে কেনো যুক্তিই ছিলো না আমার সামনে৷ আমি তখন বুঝতে পারছিলাম না, সামনের দিনগুলোতে কী ক’রবো৷ আমি ব্যবসা শুরু ক’রেছিলাম৷ খুব ইচ্ছে ছিলো, Business Magnet হবো৷ ব্যবসা, বই পড়া, বিভিন্ন ব্লগ এবং ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে ভাবনা শেয়ার করা, মুভি দেখা, গান শোনা --- এসব নিয়েই বেশ ছিলাম৷ মনে আছে, লাস্ট সেমিস্টারের ফাইনাল প্রজেক্ট ঝুলিয়ে রেখেছি বহুদিন৷ আমার নিজের দোষে, ইচ্ছে ক’রেই৷ আমার প্রজেক্ট সুপারভাইজার সাকী কাউসার স্যার ছিলেন অত্যন্ত প্রস্তরকঠিন হৃদয়ের খুঁতখুঁতে মানুষ৷ আমি আমার বন্ধুদের চেয়ে অন্তত ৪.৫ বছর পর চাকরি করা শুরু করি। ২০১০ সাল। CUET অডিটোরিয়ামে ICT Festival হচ্ছে৷ ’02 ব্যাচের এক্স-স্টুডেন্টরা কে কোথায় কোন জবে আছে ব’লছে একে একে৷ শুধু আমি কিছুই ব’লতে পারিনি৷ ‘কিছু করা’ ব’লতে সবাই যা বোঝে তেমন কিছু ক’রতাম না আমি৷ লজ্জায় ম’নে হচ্ছিলো, ম’রে যাই৷ কী এক সংকোচ! খুব কান্না পাচ্ছে, অথচ কাঁদতে পারছি না, এই অনুভূতিটা অনেক বেশি কষ্টের৷ বিশেষ করে, যখন আশে-পাশের সবাই চাইছে, আমি এমন কিছু একটা হ’য়ে যাই, যা আমি হ’তে চাইছি না, তখন নিজেকে খুব অসহায় ম’নে হয়৷ তেমন কিছু হ’য়ে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারিনি ব’লেই আজ আমার এই অবস্থানে আসা৷ ভাবতাম, দিনের শেষে আমাকে তো ‘আমার মতো’ আমি’কে নিয়েই থাকতে হবে, ‘সবার মতো’ আমি’কে নিয়ে নয়৷ আমি আমাকে নিয়ে আমার মতো বেশ ছিলাম। ঘুমানোর সময়টাতে সময় নষ্ট না করে জেগে থাকার সময়টাতে স্বপ্ন দেখতাম৷ কত্তো স্বপ্ন! নানান রঙের, ঢঙের৷ অন্যদের চোখে আমার এক্জিস্টেন্সই ছিলো শুধু (তাও ছিলো কী?), কোনো এনটিটিই ছিলো না৷ হ্যাঁ, আমি এরকমই ছিলাম৷ নোবডি হ’য়ে৷ তবে নিজের কাছে সবময়ই ছিলাম স্পেশাল, সবাই যেমন থাকে আর কী! পৃথিবীতে নোবডি হ'য়ে থাকাটা সুখের নয়৷ যে যা-ই বলুক, এটা নিশ্চিত, নোবডি-দের জন্যে এই পৃথিবীতে শুধু নাথিং-ই বরাদ্দ থাকে৷ জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা কখনো তা ভাবতেই পারি না৷ Life is always stranger than fiction. আমরা অনেকেই জানি আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো কোথায়৷ অথচ, আমার মনে হয়, আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই, আমাদের শক্তির জায়গাগুলোকে চিনতে ভুল করি৷ তাই, আমরা সাহস করে বড় কিছু চাইতে পারিনা৷ এমনও তো হয়, ভালো-কিছু’র জন্যে অপেক্ষা ক’রতে ভয় লাগে, অথচ সেই ভালো-কিছু’ই অপেক্ষা ক’রে থাকে আমাদের জন্যে৷ ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এ-ই হয়৷
 
যা-ই হোক, একসময় মাত্র 2.74 সিজিপিএ নিয়ে কোনরকমে গ্র্যাজুয়েশন শেষ ক’রলাম৷ এরই মাঝে হঠাৎ মাথায় একটা পুরোনো ভূত নতুন করে চাপলো ---  লেখক হবো, দার্শনিক হবো৷ আমার মাথায় মাঝেমধ্যেই ছোটোখাটো ভূত চাপে৷ সেই ভূত বড়ো হয়, মানুষ হয়৷ পুরোনো অভ্যেস৷ বিসিএস এর ব্যাপারে আমার passion এবং feeling কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়৷ বরং আমার অনেক সহযোদ্ধার তুলনায় আমাকে অনেক কম সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ আপনাদের অনেকের মতো আমার একটা সমস্যা ছিলো৷ সমস্যাটা হলো, আমি আসলে কী হতে চাই --- এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমার সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর৷ অথচ, সিদ্ধান্ত নেয়ার পর লক্ষ্যে পৌঁছতে আমি সময় নিয়েছি মাত্র কয়েক মাস৷ সিদ্ধান্তই আপনার বর্তমান অবস্থান এবং ক্যারিয়ারের মধ্যে সেতুবন্ধন গ’ড়ে দেয়৷ ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার হওয়ার কয়েকদিন আগে আমার দুই বন্ধুর কাছ থেকে বিসিএস সম্পর্কে জানলাম৷ সেইদিন আমার বিসিএস’এ প্রথম হাতেখড়ি৷ আমার এখনো মনে আছে, অনেক ভালো লেগেছিলো সেদিন৷ কেন জানি বার বারই মনে হচ্ছিলো, আমার স্বপ্নের পালাবদল হওয়ার সময় এসেছে; সাথে অবশ্য লেখক হওয়ার ঝোঁকটাও ছিলো৷ সিভিল সার্ভিসে জয়েন করলে লেখক হওয়াটা সহজ হবে --- এমনটা মনে হয়েছিলো৷ একটা কথা পর্যন্ত আপনার জীবনের মোড় বদলে দিতে পারে, রীতিমতো U-turn’এ! আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হলো৷ আমার জীবনের ছোট-বড় যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমার মা-বাবা এবং ছোট ভাইয়ের সমর্থন পেয়েছি সব সময়৷ পরিবার পাশে থাকলে মনের জোর অনেকটাই বেড়ে যায়৷ আমি ম’ন থেকে যা কিছু চাই, তা কিছু আমার কাছে দুনিয়ার সমস্ত চাওয়ার চাইতেও বড়ো৷ পথের চাইতে অন্য-পথ নিয়ে খেলতে আমি বরাবরই শিহরণ বোধ ক’রেছি৷ ওটাও তো একটা পথ৷ আর দশজন কোনোকিছুকে ভুল ব’ললেই সেটা ভুল হ’য়ে যায় না৷ এমনও তো কিছু ভুল থাকে যেগুলো ক’রতে না পারার আফসোসেই জীবন কেটে যায়৷ স্রেফ কম্প্রোমাইজ ক’রেই জীবনটা কাটিয়ে দিলে বাঁচবোই বা কখন? মৃত্যুর আগেই যে ক’রে হোক একটু হ’লেও বাঁচতে হবে৷ জীবনটা তো কোনো ইউজার ম্যানুয়েল নিয়ে আমাদের কাছে আসেনি৷ এতো দায় কীসের তবে? একটু-আধটু এক্সপেরিমেন্টালই হ’লাম না হয়! এইসব ভাবতাম৷

জীবনটা যেন পৃথিবীর সমস্ত দূরপাল্লার দৌড়বীরদের জুতোর মতন৷ তাকে ছোটাতে হয়৷ তবু জীবন মাঝে মাঝে থমকে যায়৷ মুক্তি অনিশ্চিত জেনেও মুক্ত হওয়ার আকুতি --- যতটা অনর্থক, ততটাই তীব্র ৷ নাম-পরিচয়হীন থাকার যে কী যন্ত্রণা, সেটা আমি খুব ভালোভাবে বুঝি৷ সাফল্যের জন্যে আত্মবিশ্বাস জরুরী, নাকি আত্মবিশ্বাসের জন্যে সাফল্য জরুরী --- এই দ্বন্দ্বে কেটেছে বহুদিন৷ আফসোস ছাড়া বেঁচে থাকাটাই সাফল্য, এটা ভাবতাম সবসময়ই৷ আমার সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা বেশ মনে আছে৷ আমার চিন্তা-ভাবনা, কাজ --- সবকিছুকেই আমি এককেন্দ্রিক করে ফেলেছিলাম --- আমার স্বপ্নকেন্দ্রিক৷ ধুলোর ঝড়ের মধ্যে চোখ বন্ধ করে হাঁটাটা যতটা বিপত্তিকর, তার চেয়েও অনেক বেশী কষ্টের, যখন দেখি, ঝড় থেমে গেছে, অথচ শুধু হাঁটতে শিখিনি বলেই যে পথে অনেকেই হেঁটে গেছে, সে পথ আমার আর পেরুনো হলনা৷ ফিনিক্স পাখির উপমা যদি বেশী বাড়াবাড়ি মনে না হয়, তাহলে বলা যায় যে এ পাখির মতনই আমাদের স্বপ্ন বারবার মরে এবং বাঁচে৷ স্বপ্নেরা কখনো কখনো ভেঙে যায়, দূরে ভেসে হারিয়ে যায় না৷ মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্বকেই অতিথি মনে হয়৷ যে অন্ধকারের মধ্যে ডুবে আছি তাকে নিয়েই গান গাইবার বড্ড সাধ হয়৷ ভেতরের ক্লান্ত ‘আমি’টা বিদ্রোহ করে যেন, আমি ওকে থামিয়ে দিই---সচেতনভাবেই৷ কোনো কাজ ক’রতে গিয়ে আপনার যদি অন্তত পাঁচ-ছয়’বার মনে না হয়, এই কাজটা আমাকে দিয়ে হবে না, আর পারছি না, এইবার ছেড়ে দিই, তাহলে ধ’রে নিতে পারেন, কাজটা আপনি এখনো শুরুই ক’রতে পারেননি৷ কথাটা বোধ হয় শাহরুখ খানের৷ আমার সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা বেশ মনে আছে৷ আমার চিন্তা-ভাবনা, কাজ --- সবকিছুকেই আমি এককেন্দ্রিক করে ফেলেছিলাম --- আমার স্বপ্নকেন্দ্রিক৷ মাঝে মাঝে নিজের ভেতরটা বিদ্রোহ ঘোষণা করত, বেঁকে বসত; তবু নিজের সাথে যুদ্ধ করেছি সবসময়৷ আমি নিজেকে প্রায়ই বলতাম, If you are not thinking about your dream, you are not thinking at all. ভেবেছিলাম, বুঝি হারিয়েই যাবো! কঠিন সময়ের স্রোতে শুধু কঠিন মানুষগুলোই টিকে থাকে --- এই বোধটুকু কাজ করত সবসময়৷ নিয়তি সহায় হ’য়েছে৷ আমি হারাইনি! এখনো মনে আছে, ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য আমরা সবাই বেশ কিছুদিন ধরেই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম৷ অবশেষে রেজাল্ট বের হল৷ তারিখটা ছিল ২ নভেম্বর৷ সেদিন ছিল আমার জন্মদিন৷ কী অদ্ভুত, তাই না? আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল৷ জীবনে এইবারই প্রথম আল্লাহর কাছ থেকে অনেক বড় একটা birthday gift পেলাম৷ ব্যাপারটাকে আপনারা স্রেফ মিরাকল কিংবা কাকতালীয়, যা-ই বলুন না কেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, Miracles happen when you believe. হ্যাঁ, মিরাকল ঘটে! আমি সবসময়েই আমার স্বপ্নের প্রতি sincere থেকেছি; তাই বোধ হয়, আমার স্বপ্নও শেষ পর্যন্ত আমার প্রতি sincerity দেখিয়েছে৷ স্বপ্ন এবং বাস্তবতার এই যে mutual interaction --- এটা সত্যিই বেশ দারুণ! আপনার স্বপ্ন নির্মাণ করুন৷ তাকে স্পর্শকের স্পর্ধায় ছুঁয়ে ফেলার শপথ নিন৷

 সামনের দিনগুলোতে কী ক’রলে সুন্দর একটা ক্যারিয়ার (‘সুন্দর’ মানে লোকে যেটাকে সুন্দর বলে আর কী!) গ’ড়তে পারেন, এটা নিয়ে ভাবছেন অনেকেই৷ আমি ব’লবো, এটা নিয়ে ভাববার আগে, নিজেকে জিজ্ঞেস ক’রে নিন, কী আপনার ভালো লাগে৷ অন্যেরা এর উত্তর দিতে পারবে না৷ ওরা বড়োজোর জানে, কী আপনার ভালো লাগা উচিত৷ অন্য দশ জনের মতো ক’রে ভাববার মস্তো বড়ো অসুবিধে হ’চ্ছে এই, আপনি আসলে যতোটুকু করার ক্ষমতা রাখেন, সেটা একটা বাঁধাধরা ছকে প’ড়ে যায় এবং আপনার অ্যাচিভমেন্ট এমন কিছু হয় না, যেটাকে আলাদা ক’রে বলা যায় কিংবা দেখা যায়৷ আপনার জীবনটাকে আপনি গড়পড়তায় ফেলবেন কিনা, It’s your choice.

নেলসন ম্যান্ডেলার একটা কথা আছে: It always seems impossible until it's done. একটা সময়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় যারা ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়, তাদেরকে আমার এ্যালিয়েন টাইপের কিছু ম’নে হ’তো৷ ভাবতাম ওরকম হওয়া সম্ভব নয়৷ পরে আমি সেই পরীক্ষায় প্রথম হ’য়েছি৷ যারা আইবিএ’তে চান্স পায় তাদের প্রতি কী এক মোহ আর শ্রদ্ধাবোধ কাজ ক’রতো৷ সেসব কথা ম’নে হ’লে এখন হাসি পায়৷ সবাই যেটাকে কঠিন বলে, সেটা করার জন্য আমি ম’ন থেকে সবসময়ই একটা তাগিদ বোধ করি৷ এই পৃথিবীতে কোনকিছুই ডিজার্ভ করা যায় না, সবকিছুই আর্ন ক’রতে হয়৷ আপনি যা চাইছেন, তা পাওয়ার জন্য সেটার প্রতি প্রচণ্ড শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসা থাকতে হবে৷ যারা সেটা পেয়ে গেছেন আগেই, তাদের ভালো দিকগুলো নিজের মধ্যে রেপ্লিকেট ক’রতে হবে৷ প্রয়োজনে নিজেকে কিছুটা ভেঙেচুরে নতুন ক’রে তৈরী ক’রতে হয়৷ এক অন্ধ অন্য এক অন্ধকে রাস্তা দেখাতে পারে না৷ তাই এই সময়ে যতটুকু সম্ভব অসফল লোকদের এড়িয়ে চলুন৷ ওদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া সহজ, কারণ অসফল হওয়াটা সহজ৷ ওদের জীবনদর্শন বেশিরভাগ সময়েই খুব স্বাচ্ছন্দ্য দেয়৷ নিজের মতো কিংবা আরো বেশি অপদার্থ লোকের সাথে থাকতে কার না ভালো লাগে? নিজেকে চ্যালেঞ্জ ক’রতে জানাটা একটা মস্তো বড়ো আর্ট৷ ফেসবুকে অপদার্থের ফ্রেন্ড হওয়ার চাইতে জ্ঞানীর ফলোয়ার হ’য়ে থাকাও ভালো৷ মাঝে মাঝে নিজেকে কষ্ট দিতে হয়৷ নিজেকে কে না ভালোবাসে? সবাই ভাবে, সে দেখতে শাহরুখ খানের মতো, অন্যেরা যা-ই ভাবুক৷ তাই যখন নিজের অসহায়ত্ব নিজের অস্তিত্বকে পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ক’রে দেয়, সবার চোখে অপাংক্তেয় ক’রে তোলে, মা-বাবা, ভাই-বোন’কে আত্মীয়-স্বজনের কাছে ছোট হ’তে হয়, বন্ধু-বান্ধব কেমন যেনো দূরে স’রে যায়, তখন প্রচণ্ড অভিমানে নিজের সবটুকু দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ইচ্ছে ক’রে৷ জীবনের প্রয়োজনে কঠিন মৃত্যুতেও অভ্যস্ত হওয়া যায়৷ আরো একটা ভুল অনেকেই ক’রে থাকে৷ সেটা হ’লো, খুব সফল কারো কাছ থেকে অন্য কোন ব্যাপারে সাফল্যের ফর্মুলা নিতে যাওয়া৷ সফল অনেকেই আছে, যারা জানে যত কম, বলে তত বেশি৷ তারা ভাবে, কোন এক বিষয়ে সফল হ’য়েছে ব’লে দুনিয়ার যাবতীয় ব্যাপারে মতামত দেয়ার অধিকার তাদের হ’য়ে গেছে৷ বিল গেটসের কাছে চাল-ডালের ব্যবসার আইডিয়া চেয়ে কী লাভ? আরো একটা ব্যাপার শেয়ার করি৷ যতই সফল হোক না কেনো, এমন কারো কাছে ঘেঁষবেন না যে আপনার মনোবলকে ভেঙে দেয়৷ শুধু ভুলই ধরিয়ে দেয়, এমন লোকের কাছ থেকে আসলে কিছু শেখা যায় না কিংবা শিখলেও সেটাকে ওরাই কাজে লাগাতে দেয় না৷ If you cannot help a person to do something, you have no right to demoralize him/her saying that he/she cannot do it. কিন্তু, এটাই অনেকেই করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা নিজে যা পাননি, ধরেই নেন বাকিরাও সেটা পাবেন না; উনাদের পরামর্শগুলো শুনলে লেজকাটা শেয়ালের গল্প মনে পড়ে যায়। বাচ্চা খেতে চায় না, এটা কোনো কথা না; যুগে যুগে বাচ্চারা খেতে চায়নি, এই পৃথিবীতে কোনোকালেই কোনো রাক্ষস বাচ্চার জন্ম হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখি না, তবুও তো মা-বাবা কতো বুদ্ধি বের করে বাচ্চাকে খাওয়ান; বাচ্চাকে কীভাবে খাওয়ানো যায়, সেটা তো জানতে হবে। তাই, আপনি কিছু একটা ক’রতে পারবেন না, এমন কথা ক্যারিয়ারের শুরুতে কাউকেই ব’লতে দেবেন না, এমন কী আপনার বাবা-মা’কেও নয়৷ যারা আপনার ভালো কাজের প্রশংসা করে না, শুধু খারাপ কাজের সমালোচনা করে, তারা আর যা-ই হোক, আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী অন্তত নয় ৷ বন্ধু তো নয়-ই ৷ তারা আপনার পাশে থাকা না-থাকা, দুই-ই সমান ৷ ওদের যত পাত্তা কম দেবেন, ততই ভালো থাকবেন ৷ ওরকম দু'একটা ফালতু লোককে ছুঁড়ে ফেলে দিন ৷ প্রশংসা ক'রতে বড়ো মন লাগে ৷ যে কখনো প্রশংসিত হয়ইনি, সে আপনার প্রশংসা ক'রবে কীভাবে? এসব ভাইরাস থেকে দূরে থাকুন, সুস্থ থাকুন ৷

একটু ভেবে দেখুন তো, টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরির হিসেবটা আমরা যতটা রাখি, ততটা খোঁজ নিয়েছি কি কখনো, সেঞ্চুরি হাঁকাতে গিয়ে কতটা ফিজিক্যাল এবং মেন্টাল স্ট্রেস উনাকে নিতে হয়? যতক্ষণ ব্যাটিং ক’রেন, ততক্ষণই কত কোটি মানুষের এক্সপেক্টেশনের সমস্ত টেনশন সাথে নিয়ে নিজের সবচে’ ভালোটুকু দেখাতে হয়? আমাদের কতটুকুই বা এক্সপেক্টেশনের প্রেসার নিতে হয়? খুব বেশি হ’লে, দশ জনের? যে ভালো খেলে সে-ই জানে, ভালো খেলতে কী কষ্ট হয়৷ কতটা নার্ভ-টেস্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়৷ ক্রিকেট নিয়ে আরো ভালো হয়তো অনেকেই জানেন, তবুও এখানে শুধু জানাটা ইম্পর্টেন্ট নয়, জানাটাকে কাজে লাগানোই ইম্পর্টেন্ট৷ আপনি কী পারেন, আর কী পারেন না, আপনার কাজই তা ব’লে দেয়৷ এক্ষেত্রে সিরিয়াস হওয়ার চাইতে সিনসিয়ার হওয়াটা বেশি জরুরি৷ Work hard --- শুধু এই পুরোনো স্লোগান নিয়ে বসে থাকার দিন শেষ; এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে Work smartly.

সবাই তো আর সবকিছু পারে না৷ যে যা পারে না, তা ক’রতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে Average People’এর দলে মিশে যায়৷ অনার্স পড়ার সময় যে গ্রুমিংটা আপনাদের হ’য়েছে, সেটা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে ক্যারিয়ারটাকে নিজের মতো ক’রে গ’ড়ে নেয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র৷ স্টিভ জবস্ একটা চমৎকার পরামর্শ দিয়েছিলেন, Stay foolish, stay hungry. একটা টিভি অ্যাডের কথা মনে প'ড়ে গেলো। চকোলেটের অ্যাড। একটা চকোলেট নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন মন্তব্য ক'রছে। কেউ ব'লছে চকোলেটটা ভালো, কেউ ব'লছে খারাপ, কেউ কেউ কনফিউসড্। একজন কিছুই ব'লছে না। মুখ বন্ধ। সবাই জিজ্ঞেস ক'রলো, কী ভাই, কিছু ব'লছেন না কেনো? উনি কোনোরকমে মুখ খুলে উত্তর দিলেন, ভাই, ব'লবো কীভাবে? আমি তো খাচ্ছি! ....... এটা আমার দেখা সেরা অ্যাডগুলোর একটা। When you are in the shit, keep your mouth shut. ক্যারিয়ারে সাফল্য লাভ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বোকা থাকুন, এর জন্যে ক্ষুধার্ত থাকুন, প্রস্তুতি নিন, চোখ-কান খোলা রাখুন; মুখ নয়৷ Que sera sera --- Whatever was, was; whatever is, is; whatever will be, will be. যা হবার তা হবেই। আপনাদের এই গানহীন অন্ধকার দিনগুলো নিয়ে একদিন গান হবে৷ সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম৷ সেদিন, আমার এই কথাগুলো পড়েছিলেন, ব্যাপারটাকেই মনে হবে স্রেফ ছেলেমানুষি৷

বিসিএস আর আইবিএ ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি আমার আজকের প্রেজেন্টেশন থেকে সংগ্রহ করে নেবেন। এরপর নিজের মতো করে সেগুলোকে কাজে লাগাবেন। এখন আমার নিজের জীবন থেকে শেখা আরোকিছু লেসন শেয়ার করছি।

কোনো এক সন্ধ্যায় আমার ছোটো ভাইয়ের সাথে কথা ব'লে মনে হ'লো, সে প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছে, হাল ছেড়ে দেবেদেবে ক'রছে৷ এইরকম অবস্থায় মানুষ ভাবে, সে খুব একা, সবাই তার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে; খুব কাছের যারা, তারাও তার বন্ধু নয়৷ সে ভাবতে শুরু ক'রেছিলো, শুধু বেঁচে থাকাটাও কী ক্লান্তিকর! সবাই তার শত্রু৷ তাকে কেউই ভালোবাসে না৷ যাকে কেউ চায় না, সে কীভাবেই বা থাকে! আমি আশা এবং নিরাশা দু'টোরই চরম সীমানায় থেকেছি। আমি জানি, সামনে যখন শুধুই শূন্যতা থাকে তখন কেমন লাগে। কতটা আশায় মানুষ স্রেফ বেঁচে থাকে, তাও জানি। লাইফ অব পেন্যান্স কী, তা আমাকে কোনো থিওসোফিক্যাল লেকচার প'ড়ে শিখতে হয় নি৷ খুব কষ্টে আছেন, এর চেয়ে বেশি কষ্টে থাকা যায় না, এইরকম দাবী যাঁদের, তাঁদের ব'লছি, একটা সময়ে মৃত্যুর প্রহর গোনার ব্যাপারটা পর্যন্ত আমার কাছে বিলাসিতা মনে হ'তো৷ ওরকম প্রহর গুনতে হ'লে তো অন্তত বেঁচে থাকতে হয়; সেই বেঁচে থাকাটাও কী এক ভীষণ যন্ত্রণার বিলাসিতা!

 আমি দেখেছি, শুধু বেঁচে থাকলেও অনেককিছু হয়৷ হারিয়ে গেলে, খুব কাছের মানুষ ছাড়া কারোরই কিছু এসে যায় না৷ তাই, বেঁচে থাকুন। আপনার মৃত্যু কিছু লোককে দারুণ অস্বস্তিতে ফেলে দেবে, যারা আপনার মৃত্যুকামনা ক'রে স্বস্তি পায়। অন্তত তাদের কথা ভেবে হ'লেও . . . . . . . বাঁচুন!

বেঁচে থাকাটাই সবচে' বড় প্রতিশোধ। তাই, অন্তত নিজের কথা ভেবে হ'লেও . . . . . . . বাঁচুন!

বাঁচুন, নিজের জন্যে। বাঁচুন, অন্যের জন্যে।

আমি সেই দিনরাতেই এই লেখাটা ওর জন্যে লিখি, ওর ওয়ালে পোস্ট করি৷

Let me share some lessons my life has taught me:

Among our batchmates, probably I was the first person who took the risk to explore the avenue of traditional business. But not always it’s easy to walk on the path less travelled. Educated entrepreneurs must have the guts to walk away from the apparently secured well-paid jobs and stay on that out-track at least as long as success shows its first sign. Things are not that easy. Now I’m a derailed engineer. I started with my coaching centre, later entered the stock market taking some calculated risk (God bless the investors including me! Your friend says, money is nothing? Ok fine, tell him to invest in the share market.) My succession of such attempts ended in establishing my own gift business branding by the name DOVANA. I owned 2 shops and I’d always dreamt of being a business magnet extending my domain over some other sister concerns as well till the date my dream transformed meeting newer impulses. (Lucky I’m as I did never have to regret for my new impulses.) Yes, I was planning to kill my brainchild. To become successful you’ve to start young. It’s even more important to fail young if you really want to fail in any of your attempts. To fail successfully is an art. Not always luck meets you in the way you want, but it's still luck. Sometimes, Allah responds by not responding. Now I feel, sometimes failures are good and life-saving. I always found myself in a position that I hardly seemed very comfortable with. When I saw my friends already having crossed a long way, I felt just helpless. Gradually they were becoming the top professionals in their respective sectors. If you’re not accustomed to being considered ‘Nobody’ by others since your childhood, it’s difficult to see yourself ‘Nobody’ even for a short time. I strongly felt only walking or running at least to catch them was not enough, I must take a flying leap! I was struggling to win, but fighting with small people was constantly giving me a hollow inferior feeling. I was out there alone on my own island, and I felt like I was disengaged . . . . . . . Even if you win by fighting with small people it gives you a feeling that you’re the kind of them, just a mediocre talent. Success in business is an extremely selfish game. Maybe, you’re thinking, ‘Huh! I’m already much selfish,’ but to have won more than others you would have needed to be more selfish than you really are. . . . . . . . . I always talked to my engineer batchmates (I belong to ’02 batch) and used to insist we better start a software business. I found only a few really serious in words, fewer in action. The easiest way to start anything is just to start it. Everyone around me wanted to start a journey of a thousand miles; no one was willing to put even the first step. I know it’s true not always taking risks is easy especially when you’ve been brought up in a surrounding full of millions of NO’s. How easy it is to say NO to an attempt! Not always life sounds so easy as to stay indifferent to all the opportunity costs and be connected with your dream when it belongs to elsewhere contrary to common expectation. You start feeling that maybe you’re going to be a just nobody for whom just nothing is waiting. It’s horrible to be just a NOBODY to others. All the time you’re thinking, planning, hoping about your dream and at the same time wondering what would happen if you find yourself in the wrong place when it’s too late. (One thing I can tell you: Never it’s too late to realize it’s already getting late.) Life didn't come to us with a user-manual. So, it's our right to use and to abuse it! I can tell you for sure that playing with life is a wonderful game, but you must carefully make it sure that it remains wonderful at the end of the day. Winners stand alone only because only a few can really win. Living unremembered, unrecognized can give you the worst feeling, I can say. Not always life is so smooth as to stay complacent with, ‘I think, therefore I’m’ principle, life makes you feel the urge to start believing, ‘Others think, therefore I’m.’ Identity is more important than existence. Now I believe, deciding what you really want matters. It took me almost 2 decades to decide what I really want. When I'd decided finally, it took me only a few months to get what I really want. Whatever you do, job or business or anything else, you must work not only hard but also smartly to become successful enough to smile and not to be embarrassed seeing others smile at your previous ‘sweet failures’. Failures are never meant to be sweet. It’s your success that makes them sweet. Sometimes your best role model is only YOU in a better state you could be. Not always success is being anyone else you dream of being, rather being a new YOU better than previous YOU or not degrading your better YOU if you already are. Hardly, things not worth-challenging are worth-getting. Success is all about earning not deserving. The easiest way to make people admit you deserve something is only to earn it. Fact is, your success is what you think you earn, your failure is what others think you deserve. . . . . Success. It's just living without sighs. It's just dancing in the manner you want and making people think you dance well even if you don't. It's making your style others' favourite brand even if it's foolish. It's sometimes making people laugh listening to your even worst jokes. It's making others hear you even when you don't speak. It's taking the opportunity to tell others that meeting your previous millionth failure was essential, anyway. It's making your failures worth-mentioning by you or by others. It's just what it's, not the opposite of failure as often popularly told and wrongly believed. Throughout my life I’ve followed a simple technique. I always have the highest respect for any peak I’m trying to reach and I make the successful persons my heroes. It gives me a great drive! Really! Even a child wants to become the hero he dreams of. It’s easy to work for something when you really admire, in any job, in any business. Your business is like your child. You cannot expect your child to be a complete man overnight. Similarly, you cannot expect your business boom before you become used to the bitter reactions from the people around you. People have a natural talent of undermining your attempts to which they are not familiar with or don’t feel comfortable about. There are some people who can never appreciate. So, it's foolish to judge yourself by what they say. Kind words are healthier than chicken soup. Have a bowl of healthy soup----served (if you’re lucky enough) or self-served (if you want to make your own luck). Get busy living. I’ve always found this: learnt free, lost paid. So, invest before you earn. Get inspirations from people who never stop before they cross the miles to go before they sleep. Quitters are never winners. Que sera, sera---Whatever will be, will be. Things are that they're, things will be that they'll be. If you quit, only you quit. Some won't quit and will reach the peak. The easiest way to finish something is to start it. Once you start, you're surely on the way to the end. If you finish before it finishes, you must search for another way. Not always a new way is better rather sometimes it brings newer pains. If you still don't know what to do, ask your heart. Do what you love, love what you do. Your heart strangely somehow knows better than you. Never ask a blind man to help you cross the road because he is also trying or has failed to cross it. If you can't see ask someone who has already seen. Better to live 1 minute with a wise man than to stay 1 hundred years with an idiot. First decide, deserve and then desire. These 3 D's can give you what you and others want from your life. Not always life is easy, but it's still worth-living. Tough time doesn't last long for the tough men. Be that tough. Don't tell the world what you can do, let the world tell it for you. Your actions speak much louder than your words. Don't challenge others, challenge yourself because at the end of the day what all you're left with, is only yourself. It's never too late, rather being late is good as you've already paid the price for mistakes that others haven't yet. Know what to do, learn how to do it and JUST DO IT! Be that tough guy for whom time waits as he has refused to shape his life with time, by time, for time. Remember, only your results are rewarded, not your efforts. This is the way the world accepts or rejects you.

 ~ Never take anything for granted, even your failure.

~ Never call it a day until & unless the day ends.

~ Only your results are rewarded, not your efforts.

~ Really perform when you're performing.

~ Only your performance performs, not my prayers or curses.

~ Sometimes your luck matters much more than your performance.

~ Excuses are of no use. If you win, you need not show them. If you lose, you should not show them.

~ The game is always ON. So . . . . . . . JUST PLAY!

 Good luck! :)

 আপনাদের জন্যে আমার দুইটা ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করে লেখাটা শেষ করছি।

এক। ভাইয়া, পড়াশোনা করতে কখনোই ভালো লাগতো না; এর ফলও হাতেহাতে পাইসি। ম্যাট্রিকে গোল্ডেন এ+ পাইসিলাম। চিটাগাং কলেজে ভর্তি হলাম। সবাই ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে জানতো। ইন্টারমেডিয়েটে পড়াশোনা অনেকটা ছেড়েই দেই। স্যারদের বাসায় যেতাম আর আসতাম, পড়াশোনা কিসু করতাম না, রাস্তায়-গলিতে আড্ডাবাজি করতাম, বাসায় ফিরতাম ১০টার পর। বাবা-মা'র কথা শুনতাম না, উল্টা ঝগড়া করতাম, বাসায় চিল্লাচিল্লি করতাম। মনে হতো, ওইটাই জীবন। ভাইয়া, চিটাগাং কলেজ থেকে কেউ ফেল করে না, ইন্টারমেডিয়েটে ফেল করা সত্যিই কঠিন। আর আমি সেটাই করসিলাম। সায়েন্সে পড়তাম, কিসুই পারি না, বানায়ে কী লিখবো, সাদা খাতা জমা দিসি ভাইয়া। নিজেকে এই প্রথমবারের মতো চিনতে পারলাম। দেখলাম, সবাই দূরদূর ছাইছাই করে, কেউ দুই পয়সারও পাত্তা দেয় না। খালি মা-বাবা কিছু বলতো না, শুধু কাঁদতো, শুধু কাঁদতো। অথচ, আমি আগে ভাবতাম, বাকিরা সবাই আমার আপন, মা-বাবা'কে শত্রুর মতো লাগতো। খুব কান্না পেতো ভাইয়া, আবার কাঁদতে লজ্জাও লাগতো। মাঝে মাঝে মনে হতো, মরে যাই। আবার মরে গেলে মা-বাবা আরো বেশি কাঁদবে, এটা ভেবে কষ্টও লাগতো। আবার মরে গেলে কী হবে, কী হবে না, এগুলা ভাবতাম, ভয়ও লাগতো। পাগলের মতো ছিলাম কয়েক মাস। এরপর বাবা-মা বুঝালো, একবার ফেল করলে কিছু হয় না। আমি ভালোভাবে পড়লে পরেরবার অনেক ভালো করতে পারবো, পুরা লাইফটা তো পড়ে আছে, আমি চেষ্টা করলে অনেকদূর যেতে পারবো, ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাইয়া, হাসি পাচ্ছে না শুনতে? কিন্তু জানেন, ওইসময়ে কেউ আমাকে ভালো কিসু বলতো না, তাই একটু ভালো কিসু শুনলে মনটা অনেক বড়ো হয়ে যেতো, মনে হতো, আমিও পারবো! আমি পরেরবার পরীক্ষা দেই, খুব বাজে রেজাল্ট করি, কিন্তু পাস করি। ভাইয়া, জানেন, পরীক্ষার সময় স্যাররা এসে আমার সামনে দাঁড়ায়ে বলতো, এই পেজটা এক টানে কেটে দাও, পুরো পেজ তো ভিজায়ে ফেলসো। আমার খুব কষ্ট লাগতো, পরীক্ষার সময়ও কাঁদতাম, চোখের পানিতে পেজ ভিজে যেতো। আমি কোনোদিন পরীক্ষায় ফেল করি নাই, ছোটবেলায় সবসময় ফার্স্ট-সেকেন্ড হতাম। সেই আমি কিনা! যাই হোক, আমার বাজে রেজাল্ট দিয়ে ভালো কোথাও ভর্তি হওয়া তো দূরে থাক, পরীক্ষাও দিতে পারি নাই। বাবা বলসিলো, প্রাইভেটে ডাক্তারি পড়াবে। বাবার অতো টাকা ছিলো না, লোন নিবে ভাবতেসিলো। হঠাৎ আমার মনে হলো, অনেক কষ্ট দিসি বাবা-মা'কে, আর না। আমি অনেকটা জোর করেই কমার্স কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তি হলাম, বাবাকে অন্তত আমার জন্যে কারো কাছে হাত পাততে হবে না। আত্মীয়-স্বজন, পুরোনো বন্ধু-বান্ধব, পাড়ার লোকজন কেউই আমাকে গুনতো না, কেউ না, কেউ না! জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের কেউ পাত্তা দেয় না, ভাইয়া। আমিও একসময় দিতাম না, আর সেখানেই আমাকে পড়তে হইসে। কী আইরনি, তাই না ভাইয়া? নিজের উপর খুব রাগ হতো। ভাইয়া, ছোটোবেলায় ভালো স্টুডেন্ট হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হয়ে যাওয়াটা একটা বিশ্রী জিনিস, নিজেকে কিছুতেই আর ছোটো ভাবা যায় না। আগে সবাই ভালো ভালো বলতো, তখন আর কিসু বলে না। সবার উপরে কী যে রাগ হতো! মনে হতো, কেউই আমাকে দেখতে পারে না, সবাই আমার শত্রু। কেউই ভালো না বাসলে খুব খারাপ লাগে, ভাইয়া; শুধু খারাপ লাগতেই থাকে। কারোর সাথে খুব একটা কথা বলতাম না, কেউ কিসু বললে, কষ্ট পেতাম, কষ্ট চেপে রাখতাম, কিন্তু মুখে কিসু বলতাম না। মনে হতো, বলবেই তো, সব দোষ আমার। ভাইয়া, আমি ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড জেদি, মুখে কিসু না বললেও জেদ ঠিকই ছিলো। আপনি তো জানেন, ডিগ্রি ৩ বছরের কোর্স; আমি থার্ড ইয়ারের মাঝামাঝি সময় থেকেই আইবিএ’র জন্যে পড়াশোনা শুরু করি। আমার মনে হতো, আইবিএ’তে যারা পড়ে সবাই তো ওদেরকে ভালো স্টুডেন্ট ভাবে, ওখানে ভর্তি হয়ে যদি আমার ফেইলিউরগুলোকে একটু কম্পেন্সেট করা যায়। খুব ভালোভাবে প্রিপারেশন নিলাম। জীবনে এই প্রথম ডিসাইড করতে পারসিলাম, আমি আসলে কী চাই। ভাইয়া, আপনার একটা কথা আমার খুব প্রিয়। আপনার ফেসবুকে অ্যাবাউট মি’তে আপনি লিখসেন, It took me almost 2 decades to decide what I really want . When I'd decided finally, it took me only 1 year to get what I really want. আপনি জানেন না, আপনার অনেক কথাই আমার মুখস্ত, ভাইয়া। যা-ই হোক, আমার ফাইনাল রেজাল্ট বের হবার আগেই আমি আইবিএ’তে পরীক্ষা দিলাম, এবং টিকলাম। এখন সবাই ভাবে, আমি যে ফেল করসিলাম, ওটা একটা অ্যাক্সিডেন্ট ছিলো, আমি আসলে অনেক ক্যালিবারওয়ালা ছেলে। অথচ, ওরাই একসময় বলতো, ও ফেল করবে নাতো, কে ফেল করবে? সারাদিন টো টো করে, লেখাপড়া নাই, আজেবাজে ছেলেদের সাথে মিশে, আরো কতোকিসু। ভাইয়া, বিশ্বাস করেন, ওরা যা যা বলতো, সব সত্যি ছিলো না। কিন্তু আমি তো ফেল করসিলাম, তাই ওদেরকে কিসু বলারও ছিলো না। আরো বেশি কষ্ট লাগতো যখন দেখতাম, ওরা ওই কথাগুলো আমার মা-বাবা’কেও শোনাতো। এখন ভাবি, মা-বাবা’কে কতো কষ্ট দিসি! এখন আর কেউ কিসু বলে না আমার মা-বাবা’কে। এটাই আমার কাছে সবচে’ বড়োকিছু, আইবিএ’তে পড়া একটা উছিলামাত্র। ভাইয়া, আমি বিশ্বাস করি, যদি কেউ আল্লাহর কাছে মন থেকে হালাল কিছু চায়, আর সেটা পাওয়ার জন্যে ঠিকভাবে পরিশ্রম করে, আল্লাহ কখনোই তাকে নিরাশ করেন না। ভাইয়া, আপনাকে এগুলা বলতে লজ্জা লাগতেসে, কিন্তু কেনো জানি মনে হলো, বলি। আপনার সম্পর্কে আমি কিসু কিসু জানি, আপনি নিজেও অনেক বাজে অবস্থা থেকে আজকের অবস্থানে উঠে আসছেন। আপনি লিখসিলেন, “পৃথিবীতে নোবডি হ'য়ে থাকাটা সুখের নয়৷ যে যা-ই বলুক, এটা নিশ্চিত, নোবডি-দের জন্যে এই পৃথিবীতে শুধু নাথিং-ই বরাদ্দ থাকে৷ জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা কখনো তা ভাবতেই পারি না৷” এটা খুব বেশি সত্যি, ভাইয়া। অনেক বকবক করলাম, কিছু মনে নিয়েন না। ডিগ্রি পাস করে তো বিসিএস দেয়া যায় না, দেয়া গেলে চেষ্টা করে দেখতাম। আমি মাস্টার্স শেষ করেই বিসিএস পরীক্ষা দিবো, একটু হেল্প কইরেন, ভাইয়া।

দুই। গ্লোরিয়া জিন্সে বসে কফির অর্ডার দিলেন। কফি এলো। ২ চুমুক দিলেন। আহ অপূর্ব! হঠাৎ কোত্থেকে যেন একটা বিশ্রী পোকা উড়ে পড়লো কফির মগে। এখন কী করবেন? কফিটা খেয়ে নেবেন? নাকি, ফেলে দেবেন? ফেলে দিলে তো টাকাটাও জলে গেলো। কিন্তু একটা মড়া পোকা ভাসছে, এরকম কফি তো খাওয়াও যায় না। কী করা যায়? এতো দামী কফি! টাকা জলে দেয়ার কষ্ট অনেক! ভাবছেন তো ভাবছেনই! সময় কেটে যাচ্ছে, তবু কফির দামের মোহ কাটছে না। এভাবেই কাটলো অনেকটা সময়। ওয়েটার বিল দিয়ে গেলো। বিলটা মিটিয়ে মেজাজ খারাপ করে রাস্তায় হাঁটতে লাগলেন। আজকে শতাব্দীকে পড়াতে যাওয়ার কথা ছিলো, আন্টি আজ বেতন দেয়ার কথা, তার উপর কালকে ওর ম্যাথ সেকেন্ড পার্ট এক্সাম। দেরি হয়ে গেছে, মনমেজাজও ভালো না। আজকেও গেলেন না। গত ৩ দিন ধরেই যাচ্ছেন না। আন্টি ফোনে বলেছেন, বাবা, তুমি না পারলে শতাব্দীর জন্যে একজন ভালো টিচার খুঁজে দাও। সামনেই তো ওর ইন্টার পরীক্ষা। ভাবতে লাগলেন, টিউশনিটা আর থাকবে না বোধ হয়। শালার কফি! পুরোই ফ্রুটলেস! পয়সাও গেলো, সময়ও গেলো। মেজাজ তো খারাপ হলোই। এই বাজারে একটা টিউশনি ম্যানেজ করা যে কী কষ্ট, একে ধরা লাগে, ওকে ধরা লাগে। হাতে ধরে এভাবে কেউ টিউশনি খোয়ায়?! আরেকটু আগে বের হলেই তো টিউশনিটা আর মিস হতো না। নিজের মাথার চুল নিজের হাতে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। থাক, না ছিঁড়ি। চেষ্টা করলে টিউশনি আরেকটা ম্যানেজ করা যাবে, কিন্তু চুল তো আর ম্যানেজ করা যাবে না। হেয়ার প্ল্যান্টেশনে অনেক খরচ! টিউশনির বেতনের ডাবল। শতাব্দীর বাবা অতো টাকা দেবেন না। শালা হাড়কিপ্টা; বেতন বাড়ায়ই না। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেলেন! ম্যানহোল ছিলো, খেয়াল করেননি।

টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না, তাই অনেক চেষ্টা করে দ্বিগুণ দাম দিয়ে দুইটা টিকেট কোনোরকমে ম্যানেজ করলেন। আপনার স্ত্রী সহ মুভি দেখবেন। ব্যাপক হিট মুভি! টিকেটই পাওয়া যায় না। ভালো তো হবেই! মুভিটা সম্পর্কে কোনো রিভিউ না দেখেই তাই ২টা কিনে ফেললেন বউকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে! বাসায় ফিরেই চিল্লাচিল্লি করে বউকে বললেন, চোখ বন্ধ! দেখ দেখ কী এনেছি! তুমি কালকে সন্ধ্যায় ফ্রি তো? বউ টিকেট দেখেই অগ্নিশর্মা! তোমার রুচিবোধ এই পর্যায়ে নামলো কবে থেকে? এসব সস্তা মুভি না দেখলে তোমার হয় না? ছিঃ! আমি যাবো না তোমার সাথে। তুমি কোনো সস্তা রুচির মেয়েকে নিয়ে মুভি দেখে আসো গিয়ে। আপনি বুঝিলেন, ইহা অনুরোধ নহে, ইহা থ্রেট। ড্রেস না ছেড়েই তখুনি নেটে রিভিউ দেখতে বসে গেলেন। আসলেই মুভিটা আপনার রুচির সাথে যায় না। কিন্তু, কী যুদ্ধ করেই না টিকেটটা ব্ল্যাকারের কাছ থেকে ম্যানেজ করলেন! ভাবলেন, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিই। দেখি, কেউ কিনে কিনা। অ্যাট লিস্ট টিকেটের দামটা অন্তত উঠুক। দিলেন স্ট্যাটাস। আপনার বন্ধুরা আপনাকে পচাতে পচাতে দুর্গন্ধ করে ছেড়ে দিলো। কেউ একজন কমেন্টে লিখলো, শালা খারুজের বাচ্চা! মুভি আর পাস না। তুই এই টিকেটও পয়সা দিয়া কিনসস! আবার কস, ডাবল দামে না বেইচ্যা অরিজিনাল দামে বেচবি! ....... দেখলেন, আপনার স্ট্যাটাসে লাইক ২টা, আর ওই কমেন্টে লাইক ১৮টা! বউ দেখে বললো, এই টিকেট বেচার স্ট্যাটাস দিতে তোমার লজ্জাও করলো না? ........ নারিকেল গাছ খুঁজতে লাগলেন, নারিকেল গাছের আগায় উঠে গলা ছেড়ে কাঁদতে পারলে অন্তত একটু শান্তি লাগতো। নাহ! একটাও নারিকেল গাছ নাই আশেপাশে, সব কয়টা ডাব গাছ। পরেরদিন সন্ধ্যায় একবুক সাহস সঞ্চয় করে বউকে জিজ্ঞেস করলেন, চলো না, না হয় দেখে আসি। বাসায় তো আর তেমন কোনো কাজ নাই। বাসায় রান্না করার দরকার নাই, আজকে আমরা বাইরে ডিনার করবো। বউ টিকেট হাতে নিয়েই ছিঁড়ে ২ টুকরা করে বললো, ওয়াও! গ্রেট! চলো, আজকে বাইরে ব্যুফে খাই! প্যাঁচা প্যাঁচা মুখ করে ভাবতে লাগলেন, হে ধরণী! দ্বিধা হও, আমি গাছে উঠি! শালার সিনেমার গুষ্ঠি কিলাই!!

 একটু ভাবুন তো!

যদি রেস্টুরেন্টে কফিটা ফেলে রেখেই বিলটা দিয়েই উঠে পড়তেন, তাহলে কিন্তু অতো ঝামেলা আর হতো না।

টিকেটটা জাস্ট জানালা দিয়ে প্রথমেই ছুঁড়ে ফেলে দিলেই কিন্তু আপনার দুনিয়ার পেইন আর নিতে হতো না।

 যে টাকাটা জলে গেছে, সেটা তো গেছেই! মানে, জলে ডুবে গেছে। The cost sank. So, it's a sunk cost. জলে ডুবে যাওয়া টাকার জন্যে মন খারাপ করে থাকতে হয় না। কোচিং সেন্টার বন্ধ করবো করবো করেও করা যায় না। কতো সময় দিয়েছি এটাকে আজকের অবস্থানে আনতে! কী পরিমাণ কষ্ট করে না খেয়ে না ঘুমিয়ে একার হাতে এতো বড়ো একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো! কোনো কাজ শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় একটাই, কাজটা শুরু করে দেয়া। একটা কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়ার একমাত্র উপায়, চিন্তাভাবনা ছাড়াই কোচিং সেন্টারটা বন্ধ করে দেয়া। টিউশনি ছেড়ে কম বেতনে চাকরিতে ঢোকার একটাই উপায়, টিউশনি ছেড়ে দেয়া। ব্যবসা ছেড়ে দেয়াটা খুব খুব কঠিন একটা কাজ। একটা দোকান নিজের সন্তানের মতো। কতো যত্ন করে, কতো ত্যাগ স্বীকার করে, কতো সময় আর টাকা ইনভেস্টমেন্ট করে, কতো মানুষের বাঁকা কথা শুনে, কতো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে হয়! যদি সেটা ছেড়েই দিতে হয়, তবে ঠিক ওই মুহূর্তে ছেড়ে দেয়াই সবচেয়ে ভালো। দেরি করতে করতে বেটার অপরচুনিটি মিস হয়ে যেতে পারে (এবং যায়)। শেয়ার মার্কেটের লাখলাখ টাকা জলে গেলো, আর আমার চোখের জলে অন্য সব স্বপ্নগুলোও ভেসে গেলো। কতোজন থেকে টাকা পাই! জানি ওরা কেউই আর টাকাটা ফেরত দেবে না। তবুও আমি শুধু মন খারাপ করে থাকি, টাকার কথা ভাবতে থাকি। জীবনে যা হতে চেয়েছিলাম, তার জন্যে এতটা পথ এতো কষ্ট করে পাড়ি দিয়ে আজকের দিনে যখন অন্য একটা বেটার সুযোগ পেয়েও শুধু এতোটা কষ্টকে ডুবে যেতে দেবো না ভেবে, ট্র্যাক চেঞ্জ করলাম না, পরে আফসোসে আফসোসে জীবনটা কাটলো। যার সাথে সারাটা জীবন কাটাবো ঠিক করেছিলাম, আমার নিজের জীবনটা প্রতিটি মুহূর্ত আমি হিসেব করে নিয়েছিলাম ওর মতো করে, যদি কখনো দেখি, ওর হাতে অন্য কারোর হাত; সে আমার হাত ছেড়ে দিয়েছে সেই কবেই, আমি বুঝতে পারিনি এতোদিন; তবুও কি নিজেকে ওর প্রতীক্ষায়ই শেষ করে দেবো, শুধু ওর জন্যে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বলে?

 যা চলে গেছে, আর ফিরবেই না, যাকে আঁকড়ে ধরে থাকলে প্রাপ্তি একটাই --- কষ্ট, যার জন্যে আমার নিজের অস্তিত্ব পর্যন্ত অচেনা হয়ে যাচ্ছে, যাকে ছুঁড়ে ফেলে না দিলে হয়তো বা সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো আসার আগেই একেবারেই হারিয়ে যাবে, তা হলো সাঙ্ক কস্ট। ডুবে যাওয়া খরচ; হোক সেটা পার্থিব কিংবা অপার্থিব। শুধু প্রেমিকা ছাড়া আমি ওপরের সব ক্ষেত্রেই প্রচণ্ডভাবে অসফল একজন মানুষ। প্রেমিকা আসে-ই তো নি, যাবে কী? আইবিএ'তে ফাইন্যান্সে এমবিএ কোর্সে আমি যা কিছু শিখেছি, তার মধ্যে আমার কাছে বেস্ট কনসেপ্ট মনে হয়েছে, সাঙ্ক কস্ট। আমার জীবন থেকে যে অবিশ্বাস্য রকমের অর্থ আর সময় হারিয়ে গেছে, যেটার যন্ত্রণা আমাকে তাড়া করে ফিরতো দিনরাত সবসময়ই, সেটাকে তাড়িয়ে দিতে এতো সুন্দর যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমি আর কোথাও পাইনি। পুরোনো ব্যথা-ক্ষতি-কষ্ট-হতাশা-দুঃখ সবকিছু ভুলে গিয়ে ছেড়েছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সামনের দিকে চলার জন্যে এই সাঙ্ক কস্ট কনসেপ্টটার প্রভাব অসামান্য।

 ক্যারিয়ার নিয়ে লেখা আমার কিছু ফেসবুক নোট পড়ে দেখতে পারেন।

  নোটগুলো হলোঃ

    বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্যেঃ স্বপ্নছোঁয়ার গল্প। আগামীকালকের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো
    বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্যেঃ স্বাগত হে স্বপ্ন
    বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার জন্যেঃ স্বপ্নঘরের ওয়েটিং রুমে
    বিসিএস পরীক্ষা + আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা'র প্রস্তুতিকৌশলের জন্যেঃ বিসিএস পরীক্ষা + আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা'র সাতসতেরো

 সুশান্ত পাল

CSE (CUET) ‘02 batch, MBA (IBA, DU) 45th batch, MDS (DU) 9th batch

সহকারী পরিচালক

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ঢাকা

131
Evening Program (FSIT) / EEE class routine_Summer 2014
« on: May 08, 2014, 08:44:45 PM »
Evening class routine of EEE department.

132
Industrial Tour / Journey for TICI (2nd group_Fall 2013)
« on: October 25, 2013, 07:16:10 PM »
Journey for TICI (for second group) will be started at October 26, 2013 on 7:00 pm. The journey will started from the main building of DIU. All are requested to present on due time.

133
Evening Program (FSIT) / EEE midterm routine_Fall 2013
« on: October 25, 2013, 06:50:03 PM »
 EEE mid-term examination routine is attached herewith. For any problem please contact with Rifat Abdullah Akhi, Lecturer, EEE & Kazi Taufiqur Rahman, Lecturer, EEE.

Pages: 1 ... 7 8 [9]