Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - abdussatter

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 9
31
একবার ভাবুন তো, ফেসবুক খুলতেই দেখলেন, আপনি কবে মারা যাবেন, সে কথা লেখা আছে। হ্যাঁ, ফেসবুক আপনার মৃত্যুর তারিখটিও বলে দিতে পারবে। আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই এখন ওদের হাতে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে নানা পূর্বাভাস দিতে পারে ফেসবুক। তারা এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করছে, যা দিয়ে বিবাহসংক্রান্ত পূর্বাভাস থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্বাভাস পর্যন্ত জানাতে পারবে।

ইন্ডিপেনডেন্ট অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনের প্রতিটি দিকে নজরদারি। এখন তারা নতুন একটি বিষয় নিয়ে কাজে নেমেছে। মানুষ কখন মারা যাবে, তার পূর্বাভাস জানাবে ফেসবুক।

মৃত্যুর পূর্বাভাস জানানোর অ্যালগরিদম তৈরিতে একটি পেটেন্ট আবেদনও করেছে ফেসবুক। ‘দ্য প্রেডিকটিং লাইফ চেঞ্জেস’ নামের ওই পেটেন্টের খবর প্রথম জানায় নিউইয়র্ক টাইমস। তাতে বলা হয়, লাইফ চেঞ্জ প্রেডিকশন ইঞ্জিন নামের যে প্রযুক্তি তৈরি করা হবে, তাতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস থাকবে। এর মধ্যে বিয়ে, জন্মদিন, নতুন চাকরি, শিশুর জন্ম, পড়াশোনা, এমনকি মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের অ্যালগরিদম তৈরির কারণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন। একজন মানুষের জীবনের গভীর তথ্য জানার ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে ফেসবুক। যেমন ফেসবুকের অ্যালগরিদম যদি বুঝতে পারে কেউ গর্ভধারণ করেছে, তখন তার সামনে শিশুর নানা পোশাক, খাবারের বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করবে।

ফেসবুকের ওই পেটেন্ট আবেদন অনুযায়ী, ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের প্রোফাইলে যেসব তথ্য দেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করে নিজস্ব পূর্বাভাস দাঁড় করাবে ফেসবুক।

অবশ্য এর আগে ফেসবুক বলেছিল, তাদের পেটেন্টের আবেদনের অর্থ এই নয় যে তারা এটি তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবহার করবে।

সম্প্রতি কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার তথ্য কেলেঙ্কারি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের যুক্তরাজ্যের একটি নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে লাগিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর সূত্র ধরেই অনেকেই ফেসবুক ছেড়ে গেছেন। এর মধ্যে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে প্রচুর অর্থ আয় করছে ফেসবুক। কিন্তু বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা কিছুই পান না।

এর আগে সম্প্রতি গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়ার কথা জানায়। এরপরই ফেসবুক এ ধরনের প্রযুক্তির পেটেন্ট করার কথা জানাল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুগলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা রীতিমতো মানুষের জীবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় প্রায় নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পারছে। গবেষকদের দাবি, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক উত্তর মিলেছে। কোন ব্যক্তিকে কত দিন হাসপাতালে থাকতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তরেও ৮৭ শতাংশই নির্ভুল গুগলের প্রযুক্তিটি। শুধু তা-ই নয়, কোনো ব্যক্তির পুনরায় হাসপাতালে ভর্তির ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রেও ৭৭ শতাংশ নির্ভুল এই মডেল। তবে এই মডেল শুধু তখনই কাজ করবে, যখন কোনো রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ তথ্য তার কাছে থাকবে।

আসলে মডেলটি হাসপাতালের ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডস থেকে কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। এই প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি, যা ইএইচআর সিস্টেম থেকে কোনো রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে তবেই রোগীর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করবে গুগল।

ইউসি সানফ্রান্সিসকো, স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক আর গবেষকেরা মিলে এই বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এই বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে গুগল জানাবে আপনার মৃত্যুর দিনক্ষণও। এ প্রযুক্তির বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ সাময়িকীতে।


Source: prothom-alo

32
একদিন যা ছিল অধরা, বিজ্ঞান তা ধরে দিচ্ছে। এক প্রযুক্তি আরেক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ খুলে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সাবমেরিন কেবলগুলোর কথাই ধরুন। শুধু ইন্টারনেটের লাইন হিসেবেই নয়, সাবমেরিন কেবল ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন গবেষকেরা। তাঁরা ভাবছেন, ভূমিকম্প শনাক্তে কার্যকর উপায় হতে পারে সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক।

ইকোনমিস্ট বলছে, পৃথিবীকে নজরদারির যে সুযোগ আগে ছিল না, এখন তা হাতের নাগালে। কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে ঘূর্ণিঝড়, আগ্নেয়গিরির থেকে বের হওয়া ছাই-ধোঁয়া, মানুষের কার্যকলাপে ভূপ্রকৃতির পরিবর্তনের বিষয়গুলো এখন নজরদারি করা যায়। কয়েক দশক আগেও উন্নত ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দাদের কাছে উন্নত মানের ম্যাপ ও ছবি সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন গুগল ম্যাপের মতো বিনা মূল্যে সবার হাতের কাছে চলে এসেছে।

তবে পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলই পানির নিচে। সেখানে কী হচ্ছে, তা ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করা বেশি কঠিন। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি (এনপিএল) গবেষক জিউসেপ্পি মাররা নতুন এক তত্ত্ব দিয়েছেন। তাঁর গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স সাময়িকীতে।

ওই নিবন্ধে, সমুদ্রের তলে একটি ভিন্নধর্মী অবকাঠামো ব্যবহার করে সমুদ্রের তলায় নজরদারি করার বিষয়ে আলোকপাত করেছেন তিনি।

মাররা ও তাঁর সহকর্মীদের প্রস্তাব হচ্ছে, সমুদ্রের নিচে বসানো ১০ লাখ কিলোমিটার ফাইবার-অপটিক কেবলের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানো। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে ইন্টারনেট যেতে পারে। একে বিশাল সাবমেরিন সেন্সর হিসেবে ব্যবহারের কথা বলছেন তাঁরা।

তবে গবেষক মাররার মূল লক্ষ্য ভূমিকম্প শনাক্ত করা।

ইকোনমিস্ট বলছে, পৃথিবীর ভূভাগে অনেক সিসমোগ্রাফ যন্ত্র বসানো রয়েছে। তবে সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্প মাপার সেন্সরের ঘাটতি রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠে গুটিকয়েক স্থায়ী সেন্সর বসানো হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে অনেক ছোটখাটো ভূমিকম্পের কোনো রেকর্ড থাকে না। কারণ, এসব ভূমিকম্প মৃদু বলে তা দূরের ভূপৃষ্ঠে স্থাপিত সেন্সরগুলোতে ধরা পড়ে না।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, এনপিএল মূলত পরিমাপবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে। এর সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য গবেষণাগারে ফাইবার অপটিক কেবল দিয়ে সংযুক্ত। এটি অ্যাটমিক ঘড়ির সিনক্রোনাইজে ব্যবহৃত হয়। এই কেবলগুলো রাস্তার নিচ দিয়ে বসানো। এতে রাস্তায় যান ও মানুষ চলাচল করার ফলে ওই লাইনে শব্দ তৈরি হয়, যা সঠিক নাদ পরিমাপের ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয় বলে অধিকাংশ সময় তা বাতিল হয়ে যায়। এখন এ শব্দ-গোলযোগের পদ্ধতিটিকেই কাজে লাগাতে চাইচেন গবেষক মাররা।

ভূকম্পন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের নাদ ব্যবহার করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা হলো কেবলের মধ্যে থাকা কোনো অপটিক্যাল ফাইবারে উচ্চমানের লেজার বিম প্রেরণ করা। অন্য প্রান্তে ওই ফাইবার একই কেবলের অন্য আরেকটি ফাইবারের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা ফিরতি যাত্রা করে একটি লুপ বা ফাঁস তৈরি করে। কাছাকাছি ভূকম্পনের ফলে কোথাও সিসমিক তরঙ্গ তৈরি হলে এই লেজারের আলোকে তার দশা থেকে কিছুটা সরিয়ে দেবে। এ অসামঞ্জস্য বা গোলযোগ খুব ক্ষুদ্র। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের বিষয়টি ধরতে ফেমটোসেকেন্ডসের পার্থক্য ধরতে পারে, এমন যন্ত্রপাতি প্রয়োজন পড়বে। এক ফেমটোসেকেন্ড হচ্ছে এক সেকেন্ডের এক বিলিয়ন ভাগের এক মিলিয়নতম অংশ।

গবেষক মাররার ওই ধারণা দারুণ কাজে এসেছে। যেমন ২০১৬ সালে এনপিএল ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পেরেছিল, যা মধ্য ইতালিতে আঘাত হানে। এটি ফাইবার অপটিক কেবলে ধরা যায়। লন্ডনে এনপিএলের কার্যালয় থেকে রিডিংয়ের ডেটা সেন্টারে ৭৯ কিলোমিটারে এটি ধরা পড়ে। ২০১৭ সালে মাল্টা ও সিসিলির মধ্যকার পানির নিচে থাকা ৯৬ কিলোমিটার কেবলের মধ্যে আরেকটি পরীক্ষা চালানো হয়। এটি ৩ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ধরতে পারে। ওই কেবল থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ৮৯ কিলোমিটার দূরে।

গবেষকেরা বলছেন, সমুদ্রের তলায় থাকা কেবল ব্যবহারের সুবিধা হচ্ছে, এতে বহিঃশব্দ বা গোলযোগের মাত্রা কম হয়। সিসিলি-মাল্টার ওই কেবলে ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দের মাত্রা ছিল নগণ্য। তবে, গবেষকেরা এখনো তাঁদের পদ্ধতিটি পুরোপুরি সমুদ্রের নিচে থাকা দীর্ঘ কেবলের পরীক্ষা করেননি। তবে তাঁরা আশা করেন, তাঁরা যখন এ-সংক্রান্ত গবেষণা করবেন, আরও গোলযোগহীন সংকেত পাবেন। এতে বর্তমান সময়ে ধরা পড়ে না, এমন অনেক ভূকম্পনের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব। এটি ভূতাত্ত্বিকদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকেরা বলছেন, তাঁদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির অন্যান্য ব্যবহারও রয়েছে। মূলত এই পদ্ধতিতে যেকোনো শব্দের উৎস ধরা যেতে পারে; বিশেষ করে তেল বা গ্যাসের খোঁজে ব্যবহার করা গ্যাস গানের ফলে ডলফিন বা তিমির জায়গা পরিবর্তনের মতো বিষয়টিও ধরা যেতে পারে।

যদিও যোগাযোগের জন্য তৈরি এ সাবমেরিন কেবল পৃথিবীর ৭০ ভাগ পানির নিচের পুরো উপাত্ত দিতে পারে, তবেই একে সত্যিকারের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বলা যাবে বলে মনে করেন গবেষকেরা।

33
নিজের শ্রম, মেধা আর অধ্যবসায়ের কারণে অনেকেই জীবনে সফল হয়েছেন। অনেক না পাওয়ার যন্ত্রণা ভুলে সামান্য সুযোগটুকু কাজে লাগিয়ে উঠে এসেছেন সেরাদের কাতারে। বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বের পরিচিত মুখ ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার স্ল্যাকের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ড তেমনই একজন।

পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূল্যের স্ল্যাক ছাড়াও বিশ্বের জনপ্রিয় ফটো শেয়ারিং ওয়েবসাইট ফ্লিকার এসেছিল স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ডের হাত ধরেই। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুয়ার্টের শৈশব কেটেছে আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই। সেখানে ছিল না বিদ্যুতের উজ্জ্বল আলোর রোশনাই, স্বাভাবিক পানির নিশ্চয়তা। জন্মের পরপরই তাঁর বাবা ভিয়েতনামের যুদ্ধে যেতে চাননি বলে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। এ সময় কানাডার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে কাটে স্টুয়ার্টের জীবন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি বনের মধ্যে কাঠের কেবিনে শৈশব কেটেছে তাঁর। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর পানি ও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

এ প্রসঙ্গে বিবিসিকে স্টুয়ার্ট বলেন, তাঁর মা-বাবা হিপ্পি ছিলেন। জন্মের পর নাম রেখেছিলেন ‘ধর্মা’। সে সময় দেশ ছাড়তে চাইছিলেন তাঁরা। তবে দেশ ছাড়তে হলে তাঁদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হতো। তাই তাঁরা শহরের দিকে চলে আসেন।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় বসবাস শুরু করেন তাঁরা। সেখানে সাত বছর বয়সে কম্পিউটার প্রথম দেখেন স্টুয়ার্ট। ছোটবেলা থেকে কম্পিউটার প্রোগ্রামের কাজ শিখে ফেলেন। অ্যাপলের তৈরি প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার দিয়েই হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর।

ব্যবসার কাজের উপযোগী মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন স্ল্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ডের বর্তমান ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এত টাকার মালিক হয়েও খুব মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন স্টুয়ার্ট।

স্টুয়ার্ট বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, বেশি খরচ করতে গেলে আমার কাছে অপরাধী মনে হয়। কানাডীয় হয়ে বাড়তি জাঁকজমকপূর্ণ জীবন আমার কাছে অদ্ভুত ও অপরিচিত মনে হয়।’

নিজের বড় সাফল্যগুলোকে ভাগ্য বলে মনে করেন স্টুয়ার্ট।

স্টুয়ার্ট বলেন, ‘১৯৮০ সালের দিকে আমার বয়স সাতের মতো ছিল। তখন অ্যাপল টু বা (আইআইই) নামের কম্পিউটার কেনেন আমার মা-বাবা। ওই সময় কম্পিউটার ম্যাগাজিন পড়ে আমি কোড করা শিখে ফেলি।’

১২ বছর বয়সে নাম পরিবর্তন হয় স্টুয়ার্টের। ১২ বছর বয়সেই বেসিক কম্পিউটার গেম তৈরি করা শিখে যান তিনি।

তবে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পরেই কম্পিউটারের প্রতি আকর্ষণ হারান স্টুয়ার্ট। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর কম্পিউটার থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেন। পরে দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯৭ সালের দিকে দর্শন শাস্ত্রে অধ্যাপক হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই সময়ে ইন্টারনেট জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

স্টুয়ার্ট জানান, ওই সময় যাঁরা ওয়েবসাইট তৈরি করতে জানতেন, সবাই সানফ্রান্সিসকোতে ছুটছিলেন। অধ্যাপকেরা যা আয় করেন, ওই সময় বন্ধুরা তার চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ আয় করছিলেন। এটা ছিল নতুন আর রোমাঞ্চকর।

তখন স্টুয়ার্ট নিজেও অধ্যাপনার আশা ছেড়ে সিলিকন ভ্যালিতে জায়গা করে নেওয়ার চিন্তা করেন।

কয়েক বছর সিলিকন ভ্যালিতে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন এবং ২০০২ সালে স্ত্রী ক্যাটরিনা ফেইককে সঙ্গে নিয়ে একটি অনলাইন গেম উন্মুক্ত করেন। গেমটির নাম ছিল ‘গেম নেভারএন্ডিং’। তবে গেমটি জনপ্রিয় হয়নি। তখন তাঁদের দুজনের কাছে জমা করা টাকা শেষ হয়ে যায়। এরপর তাঁরা অন্য কিছু করার চিন্তা করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই চালু করেন ছবি শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লিকার’।

স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ড বলেন, সময়টা একেবারে সঠিক ছিল। প্রথম প্রথম ক্যামেরা ফোন বাজারে আসছিল। অনেক বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ যুক্ত হচ্ছিল। তাঁদের তৈরি সেবাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

২০০৪ সালে তাঁর তৈরি ফ্লিকার নামের অ্যাপ্লিকেশনটি ছিল প্রথম ওয়েবসাইট, যাতে মানুষকে ছবি আপলোড, শেয়ার, ট্যাগ ও মন্তব্য করার সুযোগ পায় মানুষ। মাত্র এক বছর পরেই ওই সময়ের ইন্টারনেট দুনিয়ায় রাজত্ব করা ইয়াহুর কাছে মাত্র আড়াই কোটি মার্কিন ডলারে ফ্লিকার বিক্রি করে দেন তাঁরা। পরে অবশ্য স্টুয়ার্ট বাটারফিল্ড আফসোস করে বলেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আরও কিছুদিন দেরি করলে ফ্লিকারকে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারতেন।

তবে স্টুয়ার্ট ফ্লিকার তৈরি করেই বসে থাকেননি। এরপর হাত দেন ফ্লিকারের থেকে বড় কিছু করার কাজে। তাঁর নতুন প্রচেষ্টার ফসল আজকের স্ল্যাক। গ্রুপ হিসেবে সহকর্মীদের মধ্যে সহজে যোগাযোগ করার সুবিধা দেয় এটি।

তবে স্ল্যাক তৈরির আগে আরও কিছু উদ্যোগ নেন স্টুয়ার্ট। ২০০৯ সালে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে একটি অনলাইন গেম তৈরির চেষ্টা করেন। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

স্টুয়ার্ট বলেন, ‘গেম তৈরির সময়ে আমরা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলাম। এটা আমাদের খুব পছন্দ ছিল। এটা যে কত কাজের, তা শুরুতে ভাবতে পারিনি। এটা নিজেদের মধ্যে কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে কয়েক বছর পরেই আমরা ভাবতে শুরু করি, এটি অন্যদেরও ভালো লাগবে। এ ভাবনা থেকেই জন্ম হয় স্ল্যাকের।’

বর্তমানে দৈনিক ৮০ লাখ মানুষ স্ল্যাক ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে ৩০ লাখ ব্যবহারকারী উন্নত ফিচারের জন্য অর্থ খরচ করে। স্ল্যাকের ৭০ হাজারের বেশি করপোরেট গ্রাহক রয়েছে। আইবিএম, স্যামসাং, টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি ফক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এটি ব্যবহার করেন। কয়েক রাউন্ডের বিনিয়োগ গ্রহণ করে স্ল্যাকের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার (৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি।

ব্রাইট লি নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ক্রিস গ্রিন বলেন, ‘একজন উদ্যোক্তার ব্যর্থ প্রকল্পের মধ্যে থেকে সফল কোনো কিছু সৃষ্টি করার দৃষ্টান্ত বিরল। সেটা দুবার করার ঘটনা তো প্রায় শোনাই যায় না। কিন্তু স্টুয়ার্টের ক্যারিয়ার দেখলে বোঝা যাবে, এটা শুধু ভাগ্যের জেরেই হয়নি। তিনি পেছনে থেকে উদ্ভাবনের কাজ করছেন। বিশৃঙ্খলার ভেতর থেকে নানা উপায় খুঁজে বের করে যাচ্ছেন। এভাবেই স্ল্যাক ও ফ্লিকারকে সামনে এনেছেন তিনি।’

স্ল্যাকের অবশ্য এখন প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়েছে। স্ল্যাকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এ ধরনের একটি সেবা অফিস ৩৬৫ প্যাকেজ বিনা মূল্যে দিচ্ছে মাইক্রোসফট। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান জুম স্ল্যাকের মতো খরচেই অনেক উন্নত সেবার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষক গ্রিন বলেন, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্ল্যাকের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তাই স্ল্যাককে তাদের নতুনত্ব ধরে রাখতে হবে।

ফ্লিকারের মতো স্ল্যাককেও কি বিক্রি করে দেবেন স্টুয়ার্ট? তিনি বলেন, স্ল্যাক ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। এ পর্যন্ত আসতে তাঁকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ভাগ্য সহায় ছিল।

স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমি এতটা ভালো নই যে একই সফলতা আবার আনতে পারব। তাই স্ল্যাক নিয়ে কত দূর যেতে পারি, সেটাই দেখতে চাই। এখন এটাই দেখার সময়।’

34
গবেষণাপত্রে নিজস্ব উপাত্তের নামে যা খুশি তা লিখে চালিয়ে দেওয়ার দিন শেষ। গবেষণাপত্রে উপস্থাপিত উপাত্তের ফাঁকফোকর পরীক্ষা ও গবেষকের অসততা ধরার পদ্ধতি চলে এসেছে। ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশিত গবেষণার ফাঁকফোকর পরীক্ষা করার উপযোগী কম্পিউটার অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন গবেষক। তাঁদের তৈরি এ অ্যালগরিদম সেট জার্নাল বা সাময়িকীর সম্পাদকদের জন্য সম্ভাব্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

ইকোনমিস্ট বলছে, অনেক সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে যেসব উপাত্ত ব্যবহার করা হয়, তা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে না। তখন গবেষকেদের কাছে ওই উপাত্তের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় তা পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অবশ্য এখন মানসিকতার কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। তারপরও অনেক গবেষক এখনো তাঁদের উপাত্ত উৎসের মালিকানা নিজের বলেই দাবি করে থাকেন। এসব উপাত্ত তাঁরা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে নিজেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে দাবি করে থাকেন এবং অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বিনিময় করতে চান না।

গবেষকেদের এই মনোভাব ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বলে মনে হলেও এর কারণ অজানা নয় এবং তা স্বাভাবিক বলেই মনে করা হয়। কিন্তু গবেষণার উপাত্ত নিজের বলে দাবি করার খারাপ দিকও থাকে। অনেক সময় এর মাধ্যমে গুপ্ত উদ্দেশ্য সাধন করা হতে পারে। কোনো গবেষণাপত্রে যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, তা নির্দিষ্ট ও আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের জন্য কারসাজি করা হয়ে থাকতে পারে। অন্য অর্থে বলতে গেলে লেখক বা গবেষক প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। তিনি যদি ওই উপাত্তের প্রকৃত উৎস উন্মুক্ত করে দেন, তবে তাঁর প্রতারণার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং তিনি প্রতারক হিসেবে ধরা পড়ে যেতে পারেন। তাই তিনি চান, উৎস যেন যেন গোপন থাকে।

তবে সে সুযোগ ভবিষ্যতে আর নাও থাকতে পারে। কারণ, তথ্য গোপন করা কঠিন হবে। বিশেষ করে ডেটা সেটের ক্ষেত্রে পরিচিত সীমার মধ্যে পূর্ণ সংখ্যার কোনো ডেটা সেট হলে তা আরও কঠিন হবে। যেমন মানসিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্নের উত্তর। গবেষক যদি এ ধরনের ডেটা সেটের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেন, সহজেই ধরা পড়ে যাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শন উইলনার ও তাঁর সহকর্মীরা মিলে বিষয়টির একটি সমাধান বের করেছেন। তাঁরা তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের একটি অ্যালগরিদম। ‘সাইয়্যিভিক প্রিপ্রিন্টস’ নামের একটি গবেষণা নিবন্ধে তাঁরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁরা ফলাফল নির্ণায়ক যে অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন, তার নাম দিয়েছেন ‘কমপ্লিট রিকভারি অব ভ্যালুস ইন ডায়োফ্যান্টাইন সিস্টেম বা সংক্ষেপে করভিডস।

গবেষকেরা দাবি করেছেন, কোনো গবেষণার উপাত্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে করভিডস কাজে লাগানো যাবে। যদি কোনো ফল দেখানোর সময় করভিডসে বৈধ ডেটা সেট দেখাতে না পারে, তবে ওই ফলাফল সুস্পষ্টভাবেই সন্দেহজনক বলে ধরতে হবে। যদি তা সুসংগঠিত ডেটা সেট দেখাতে পারে, তবে এটি বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা সহজেই বোঝা যাবে।

করভিডসের কৌশল হচ্ছে—এটি গাণিতিক সূত্র ব্যবহার করে সংখ্যার সব সম্ভাব্য সমন্বয় খুঁজে দেখে। সম্ভাব্য অনিয়ম বের করতে করভিডস সম্ভাব্য ডেটা সেটগুলোকে হিস্টোগ্রামসে রূপান্তর করে এবং ত্রিমাত্রিক চার্ট তৈরি করে। এতে যেকোনো অস্বাভাবিক গঠন দৃশ্যমান হয়। এ পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহে কোনো পক্ষপাত থাকলে বা উপাত্তে জালিয়াতি থাকলে তা ধরা পড়ে।

যাঁরা একাডেমিক জার্নাল পর্যালোচনা করেন বা সম্পাদনা করেন, তাঁদের কাছে করভিডস আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। তাঁদের কাছে জমা হওয়া গবেষণাপত্রের সমস্যা শুরুতেই ধরতে পারবেন। এরপর সে সমস্যার বিষয়টি লেখক বা গবেষককে জানিয়ে দিতে পারবেন। এতে প্রতিটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত উপাত্ত আলাদা করে গ্রহণ করে পরিসংখ্যান বের করার প্রয়োজন হবে না। কোনো অসমাধানযোগ্য সমস্যা থাকলে পদ্ধতিগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

করভিডসের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এটি চালানোর জন্য দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

অবশ্য করভিডসে যে ঘাটতি আছে, তা পূরণ করতে ‘স্যাম্পল প্যারামিটার রিকনস্ট্রাকশন ভায়া ইটারেটিভ টেকনিকস’ বা ‘স্প্রাইট’ নামের আরেকটি অ্যালগরিদম রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস হিদারস ‘পিয়ারজ প্রিপ্রিন্টস’ সাময়িকীতে স্প্রাইট সম্পর্কে বর্ণনা দেন। তাঁর মতে, স্প্রাইট হচ্ছে ‘হিউরিস্টিক সার্চ অ্যালগরিদম’। এর অর্থ হচ্ছে, এ পদ্ধতিতে সব সম্ভাব্য ফলাফল দেখাতে পারে না। তবে এর গতি দ্রুত প্রাথমিক কাজ সারতে পারে। এতে যদি কোনো অদ্ভুত ডেটা পদ্ধতি প্রদর্শিত না হয়, তবে তা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।

ইকোনমিস্ট বলছে, গবেষণা নিবন্ধের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের অনেক অপদ্ধতিগত প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়েছে। এখন অনেক সহজলভ্য সাজানো গবেষণা হচ্ছে। করভিডস ও স্প্রাইটের মতো অ্যালগরিদম আসার ফলে এ ধরনের ফাঁকিবাজি সহজে ধরা যাবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিবন্ধ বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

35
গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও সেবা ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে। নতুন ফিচারের মধ্যে ‘প্রিমিয়ারস’ নামের ফিচারটি ব্যবহার করে ভিডিও নির্মাতারা আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার ভিডিও বলে চালাতে পারবেন।

ইউটিউবের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা নীল মোহন গত বৃহস্পতিবার এক ব্লগ পোস্টে বলেছেন, রেকর্ড করা ভিডিও লাইভ হিসেবে চালানোর সুবিধাটি শুরু হয়েছে। শিগগির এটি সবার কাছে পৌঁছাবে। যখন ক্রিয়েটর বা ভিডিও নির্মাতারা প্রিমিয়ার নামে কোনো ভিডিও উন্মুক্ত করবেন, তখন এটি সবার জন্য একটি ল্যান্ডিং পেজ সৃষ্টি করবে। সেখানে ওই ভিডিও দর্শকদের জন্য চ্যাটিং অপশন যুক্ত হবে। ভিডিও নির্মাতা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি চ্যাটে অংশ নিতে পারবেন।

মোহন বলেন, বিষয়টি হবে পুরো কমিউনিটি একটি থিয়েটারে বসে সর্বশেষ আপলোড করা ভিডিও দেখছেন। শুরুতে নির্বাচিত কিছু ইউটিউবারকে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

প্রিমিয়ারসের পাশাপাশি ‘মার্চেন্টডাইজ ইন্টিগ্রেশন’ নামে একটি ফিচার চালু করেছে ইউটিউব। এতে ভিডিওর নিচে নির্মাতারা শার্ট, মগের মতো নিজস্ব পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আয়ের সুযোগ পাবেন ভিডিও নির্মাতারা।

এ ছাড়া ব্যবসাকে বড় করতে ‘ফেমবিট ইন্টিগ্রেশন’ নামের নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে ইউটিউবে। এর মাধ্যমে ইউটিউব ভিডিও নির্মাতাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের কনটেন্ট তৈরির জন্য ভাড়া নিতে পারবে। ফিচারটি চালুর এখনো কোনো তারিখ ঠিক হয়নি।

২০ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ভিডকন ইউএস ২০১৮ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় ইউটিউব।

মোহন জানান, ইউটিউবে মাসে ১৯০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। এর স্থানীয় সংস্করণ ৯০টি দেশে ৮০টি ভাষায় চলছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন যে–কারও কাছে তারা পৌঁছে গেছে।

37
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত বৈজ্ঞানিক সুপার কম্পিউটার উন্মুক্ত করেছেন। এ সুপার কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে দুই লাখ ট্রিলিয়ন হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। শক্তি উৎপাদন, উন্নত পদার্থ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলোর গবেষণাকাজে এ কম্পিউটার ব্যবহার করা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (ওআরএনএল) তৈরি সুপার কম্পিউটারটির নাম ‘সামিট’। বর্তমানে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার টাইটানের চেয়ে এটি আট গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। নির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে তিন বিলিয়নের বেশি হিসাব সম্পন্ন করতে পারবে এটি।

সুপার কম্পিউটারটি তৈরিতে মার্কিন কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইবিএম ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া একসঙ্গে কাজ করেছে। এটি মূলত আইবিএম এসি ৯২২ সিস্টেম, যাতে ৪ হাজার ৬০৮ কম্পিউটার সার্ভার রয়েছে। প্রতিটি সার্ভারে দুটি ২২ কোর আইবিএম পাওয়ার ৯ প্রসেসর ও ছয়টি এনভিডিয়া টেসলা ভি১০০ গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট অ্যাকসিলেটর রয়েছে।

সামিট আসার আগে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটারের মালিক দেশগুলোর তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সামিটের মাধ্যমে আবার সুপার কম্পিউটারের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে ফিরছে দেশটি।
দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে আইবিএম ও যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সুপার কম্পিউটারটি উন্মুক্ত করে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার হচ্ছে চীনের সানওয়ে তাইহু লাইট। এর সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ২০০ পেটাফ্লপস বা প্রতি সেকেন্ডে দুই লাখ ট্রিলিয়ন হিসাব করার ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সামিট সুপার কম্পিউটারটি তাইহু লাইটের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে কাজ করতে সক্ষম হবে।

২০ কোটি মার্কিন ডলার খরচে তৈরি সুপার কম্পিউটারটি কম বিদ্যুৎ খরচে চলতে সক্ষম। তাইহু লাইটে যেখানে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগে, সেখানে সামিটে লাগবে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বছরে দুবার গতির বিচারে সেরা ৫০০ সুপার কম্পিউটারের তালিকা প্রকাশ করে টপ ৫০০ নামের প্রতিষ্ঠান। জার্মান এবং মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে লিনপ্যাক বেঞ্চমার্কে জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে টপ ৫০০। এ মাসের শেষ দিকে নতুন র‍্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলে সামিট সুপার কম্পিউটার হিসেবে শীর্ষে চলে আসবে।

38
EEE / Titles indexed in Scopus: Check before you publish
« on: June 07, 2018, 11:41:31 AM »
Publication malpractice is an unfortunate occurrence in the world of scholarly literature. It happens in all subject areas and in all jurisdictions and few journals or books are immune. Here at Scopus, we have recently received notification of journals that purport to be indexed by Scopus but really are not. These journals have even gone as far as to forge letters from the Head of Scopus Content (signature and all)! And just because a journal may have a Scopus logo on their web site, this does not mean they’re indexed in Scopus.

As an author, if you would like to know if your published article will be included in Scopus, we urge you to take note of the following before submitting your work to a journal or conference.

    Check the title list. Browse sources on Scopus.com  to check the title list, and evaluate the journal with CiteScore and other journal metrics freely available.

    Search in Scopus. Use a Scopus search for the name of the journal or conference and check if any current content is available to see if the title is indeed indexed.

    Ask! When in doubt, send an email to the Scopus Helpdesk and one of our Customer Service representatives can let you know if that title is indexed (or is going to be indexed).

Recently, we have received questions about the Scopus coverage of the following titles. NONE of these titles are currently covered by Scopus. These titles have either never been included in Scopus OR have recently been discontinued in Scopus.

    British Journal of Education and Science (ISSN 0309-1114) - never in Scopus

    Academic Journal of Cancer Research (ISSN 1995-8943 / 2221-3422) - discontinued   

    Advances in Environmental Biology (ISSN 1995-0756 / 1998-1066) - discontinued

    Advances in Natural and Applied Sciences (ISSN 1995-0772 /1998-1090) - discontinued

    American-Eurasian Journal of Sustainable Agriculture (ISSN 1995-0748 / 1998-1074) - discontinued

    Australian Journal of Basic and Applied Sciences (ISSN 1991-8178 / 309-8414) - discontinued

    Global Journal of Pharmacology (ISSN 1992-0075 / 2221-3449) - discontinued           

    Global Veterinaria (ISSN 1992-6197 / 1999-8163) - discontinued           

    Journal of Applied Sciences Research (ISSN 1816-157X / 1819-544X) - discontinued

    Life Science Journal (ISSN: 1097-8135 /2372-613X) - discontinued

    Middle East Journal of Scientific Research (ISSN 1990-9233 / 1999-8147) - discontinued       

    World Applied Sciences Journal (ISSN 1818-4952 / 1991-6426) - discontinued           

    World Journal of Medical Sciences (ISSN 1817-3055 / 1990-4061) - discontinued             

The prevention of publication malpractice is the responsibility of every author, editor, reviewer, publisher and institution. It is also the responsibility of solution providers like Scopus. We hope that you will follow the above steps and also take the time to alert us about any fraud you may come across. For more information on publication ethics, please visit Elsevier’s information site on publication ethics.

39
 
শেষ হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা। ভর্তির সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে আরও একটা শব্দ—যুদ্ধ! ঢাল-তলোয়ারের ঝনঝনানি নেই ঠিক। কিন্তু সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থীকে যে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়, তাতে যুদ্ধ শব্দটা বোধ হয় বাড়াবাড়ি নয়। প্রত্যাশার চাপ, সময় ও নিজের আগ্রহের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটা লক্ষ্য নির্ধারণ, পরীক্ষার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে কাজটা সহজ নয়। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ যে উপভোগ করবে, জয়ী তো সে-ই। সময় আছে প্রায় তিন মাস। কীভাবে এ সময়টা কাজে লাগানো যায়, পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই পরামর্শ দিয়েছেন টেন মিনিট স্কুলের দুই শিক্ষক আয়মান সাদিক ও শামীর মোন্তাজিদ

ঠিক করো তোমার লক্ষ‍্য

আমাদের দেশে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাধারণত মেডিকেল কলেজ বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশের ঠিকানা হয় বিবিএ, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সাহিত্য, ইতিহাস, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো আকর্ষণীয় বিষয়গুলোতে। তাই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সামাজিক বা পারিবারিক চাপের কাছে হার না মেনে বরং প্রথমেই ঠিক করে ফেলো তোমার পছন্দের বিষয়টি। তারপর খুঁজে দেখো, বাংলাদেশের কোন কোন বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সে বিষয়টি পড়ার সুযোগ রয়েছে। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে তোমার স্বপ্নের তালিকা। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, পাশের বাসার আন্টির কথা শুনে নিজের জীবনের লক্ষ‍্য নির্ধারণ করা হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিশ্বাস রাখো নিজের পছন্দে।


অতঃপর প্রস্তুতি...

ভর্তিযুদ্ধের শুরুতেই অধিকাংশের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। অনেক পরীক্ষার্থীকেই দেখা যায় প্রথম অধ‍্যায়টা খুব মন দিয়ে পড়ছে; কিন্তু শেষের দিকের অংশটুকু রয়ে গেছে একেবারেই অধরা। তাই কলেজজীবনে যে অধ‍্যায়গুলো ভালো করে পড়া হয়নি, এখন সেই অংশতেই দিতে হবে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ। তোমার সময় খুব সীমিত। একই জিনিস বারবার পড়ার সুযোগ হয়তো হবে না। এখন কোনো অংশ বাদ পড়ে গেলে তা লাল কলমে চিহ্নিত করে রাখো। পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে সেগুলো গুরুত্বসহকারে পড়তে পারবে। ভর্তি পরীক্ষার জন‍্য তোমার বোর্ডের পাঠ‍্যবইগুলো হবে সবচেয়ে বড় সহায়ক। এ ক্ষেত্রে যেকোনো লেখকের বই পড়লেই মূল তথ‍্যগুলো তোমরা পেয়ে যাবে। বাজারের সহস্র গাইডের বোঝায় নিজের কাঁধ ব্যথা না করাটাই শ্রেয়।

দৌড়াতে হবে সময়ের বিপরীতে

বাংলাদেশের অধিকাংশ ভর্তি পরীক্ষাই হয় বহুনির্বাচনি প্রশ্নের আলোকে। সে ক্ষেত্রে প্রতি প্রশ্ন-উত্তরের জন‍্য সময় থাকে এক মিনিটেরও কম। তাই দুষ্ট ঘড়িটাকে বশে আনা শিখতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার জন‍্য প্রস্তুতির একটা বড় অংশ হলো বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করা। আগের প্রশ্নগুলোতে বারবার চোখ বোলালেই তোমার একটা মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যাবে। প্রশ্নগুলো পেতে যদি গাইডবই কিনতে না চাও, চাইলে ঢুঁ মারতে পারো টেন মিনিট স্কুলের সাইটে (www.10minuteschool.com)। সেখানে বিনা মূল্যে পেয়ে যাবে বেশ কিছু বিশ্ববিদ‍্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন। একটা অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা দিতে পারো। প্রতিটি কুইজের শেষে তোমার কতটুকু সময় লাগল এবং কত নম্বর তুমি পেলে, সেটা জানিয়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে থাকবে ভুল হয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর। বারবার পরীক্ষা দিলে দেখবে তোমার প্রাপ্ত নম্বরটা দিন দিন বাড়ছে। আর ব‍্যয়িত সময়টা যাচ্ছে কমে। এতে তোমার মনে জমা হবে প্রবল আত্মবিশ্বাস—‘আমিও পারব’। এই বিশ্বাসটাই ভর্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 
মচকাব, কিন্তু ভাঙব না

জীবনের অন্যান্য অংশের মতো ভর্তি পরীক্ষাতেও থাকবে জয়-পরাজয়। তুমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে পরীক্ষা দিয়েও ব্যর্থ হতে পারো। কিন্তু মনে রাখবে, পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে পুনরায় চেষ্টা করার মধ্যেই সফলতার মূলমন্ত্র নিহিত। কোনো কারণে নিজের প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ‍্যালয়ে চান্স না পেলে সময় নষ্ট না করেই দ্বিতীয় পছন্দকে পাওয়ার জন‍্য লেগে পড়তে হবে। হাল ছেড়ে দেওয়া চলবে না। অনেকেই অন্য বন্ধুদের ভালো প্রস্তুতি এবং সাফল‍্য দেখে হতাশ হয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তাই জেনে রেখো, বিফল হয়তো তুমি হবে। কিন্তু খোঁড়া পা নিয়েও যে যোদ্ধা লড়াই করতে জানে, বিজয়টা হয়তো তার জন‍্যই লেখা থাকবে।

 
স্বাস্থ‍্যই সকল সুখের মূল

অনেক ভালো ছাত্রকেই ভর্তি পরীক্ষার সময় ভয়ানক অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখেছি। ফলে তারা নিজের পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারে না। তাই সুস্থ থাকার জন‍্য আলাদা নজর দিতে হবে। এখন গ্রীষ্মকালে ভাইরাসজনিত অসুখ-বিসুখ ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষ করে খাবার পানির ব‍্যাপারে সতর্ক থাকবে। দৈনিক আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম তোমার ভর্তিযুদ্ধের জন‍্য খুবই দরকার।

 
তথ‍্যই শক্তি

অনেক কষ্ট করে তুমি হয়তো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে। কিন্তু পরীক্ষার হলে ক‍্যালকুলেটর ব‍্যবহার, প্রশ্নের মানবণ্টন, উত্তরপত্রে সেটকোড লেখার মতো বিষয়গুলোতে ভুল করে তোমার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। তাই পরীক্ষা-প্রক্রিয়ার আদ্যোপান্ত তোমাদের জানতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবণ্টন, সময়, নিয়মকানুন কিছুটা ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সেই তথ‍্যগুলো এখনই সংগ্রহ করে রাখো। অতিপরিচিত বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোর তথ্য আমাদের টেন মিনিট স্কুলের সাইটেও ছবির মাধ্যমে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সুতরাং, প্রযুক্তির এই যুগে ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যের ব‍্যাপারে নিজেকে সব সময় অবগত রাখবে।


সাজেশনের মায়াজাল

আমাদের বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের একটা সাজেশন পড়ে পাস করে যায়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় তফাত হলো, ‘এই পরীক্ষার কোনো সাজেশন নেই’। সিলেবাসের সবই আসতে পারে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে। তাই পাঠ‍্যবইটি হাতে নিয়ে তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো প‍্যারা বাদ না দিয়ে পড়ে যাও। কঠিন বিষয়গুলোকে পড়ার সময় তালিকা আকারে একটা সাদা কাগজে নোট করে রাখতে পারো। সাজেশন দেখে পড়ার সময় এখন শেষ।

নিজের পড়া, সেরা পড়া

আমাদের দেশে ভর্তি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা নানা রকম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আসি। এই শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ মাস না ঘুরতেই হতাশ হয়ে বাসায় বসে থাকে। কারণ যানজট ঠেলে, গরমের মধ্যে রাস্তায় দৌড়াতে গিয়ে নিজের পড়ার সময়টুকু একেবারেই হয়ে ওঠে না। মনে রাখবে, তুমি নিজের পড়ার টেবিলে বসে যেই প্রস্তুতিটা নেবে, সেটাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে। পড়াটা কেউ তোমাকে চামচ দিয়ে মুখে তুলে দিলে তা খুব বেশি কাজে আসবে না। কষ্ট করে একা একা পড়তে শেখো। বিশ্ববিদ‍্যালয়ে পড়ার অন্যতম একটা বৈশিষ্ট‍্য হলো জ্ঞানের দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হতে শেখা। বাইরের দৌড় কমাও, ভালোবাসতে শেখো নিজের ঘরের টেবিলটাকে (যারা বিছানায় বা মাটিতে বসে পড়তে অভ্যস্ত, তাদের জন্যও একইভাবে একই কথা প্রযোজ্য)।

স্নায়ুর সঙ্গে বোঝাপড়া

মাত্র এক ঘণ্টার একটা পরীক্ষায় আমাদের জীবনের লক্ষ‍্য নির্ধারিত হয়ে যায়। সুতরাং স্নায়ুর চাপ বাড়াটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক ভালো ছাত্রই পরীক্ষার হলে গিয়ে হার মানে এই স্নায়ুর কাছে। তাই নিজের স্নায়বিক বোঝাপড়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রস্তুতি। কথায় আছে, অনুশীলনই সৃষ্টি করে আত্মবিশ্বাস। পরীক্ষার অনুরূপ প্রশ্নপত্রে নিয়মিত বাসায় বসে পরীক্ষা দিতে থাকলে পরীক্ষার হল সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়ে যায়। তখন ভয়টা অনেকাংশে কমে আসে। এ ছাড়া নিয়মিত মেডিটেশন এবং প্রার্থনার মাধ‍্যমেও নিজের স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব।

এই পরামর্শটা মা-বাবার জন্য

জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীকে সবচেয়ে বড় মনোবল দিতে পারেন মা-বাবা। তাই সব শেষে অভিভাবকদের উদ্দেশ‍্য করে বলছি: আপনার সন্তানদের এ সময়ে সবচেয়ে বেশি দরকার মানসিক সাহায‍্য। আপনার সন্তান প্রকৌশলী হতে চাইলে তাকে জোর করে চিকিৎসক বানানো হয়তো ঠিক হবে না। তাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে তাদের প্রস্তুতি আরও বেগবান হবে। কারণ, নিজের নির্ধারিত লক্ষ‍্য অর্জনের জন‍্য মানুষ অনেক বেশি পরিশ্রম করে। দ্বিতীয়ত, কোনো একটা পরীক্ষায় খারাপ করলে দয়া করে তাদের দোষারোপ করবেন না; বরং সামনের পরীক্ষার জন‍্য প্রস্তুতি নিতে তাকে উৎসাহিত করুন। ‘কেন কম নম্বর পেলে?’ এই প্রশ্ন করে কারও নম্বর বাড়বে না; বরং আপনার ভালোবাসা আর সহযোগিতা পেলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বিজয়টা কিন্তু আসবে সেই আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়াতেই। একটু লক্ষ রাখবেন, যেন আপনার সন্তান প্রতিদিন কিছুটা সময় হলেও একা একা পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। সে যেন নিজেকে সময় দেয়। আগামী দুই-তিন মাস বাসাটা আপনার সন্তানের জন‍্য একটু ভেজালমুক্ত রাখুন। হয়তো মাঝেমধ্যে বাসায় ভালো রান্নাবান্না হলেও আপনার ছেলেটা বা মেয়েটা পড়াশোনায় উৎসাহ পাবে।

শেষ কথা

ভর্তি পরীক্ষা একটু প্রতিযোগিতামূলক, তবে এটা অসম্ভব কিছু নয়। নিয়মিত সামনের সময়টুকু কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতি নিলে কোনো একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ অবশ‍্যই পাওয়া যাবে। আবারও মনে করিয়ে দিই, কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারলেই কিন্তু সব শেষ হয়ে যাবে না। তোমার আশপাশেই এমন অনেক বড় ভাই বা বোনের দেখা পাবে, যাঁরা পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেননি। কিন্তু যা পড়ছেন, যেখানে পড়ছেন, সেটাই উপভোগ করছেন। ভালো করছেন। জীবনের এই ক্রান্তিকালে তোমাদের প্রতি রইল অনেক অনেক ভালোবাসা। এগিয়ে যাও বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে...

Source: Prothom-Alo

40
আসুন, মানুষ ও নীল তিমির মধ্যে একটু তুলনা করি। মানুষ কত ছোট্ট একটি প্রাণী। আর নীল তিমি আকারের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী। এর গড় ওজন হয়ে থাকে ১৭০ টনের মতো। কিন্তু একটি জায়গায় মানুষের থেকে পিছিয়ে নীল তিমি। সেটি হলো মস্তিষ্ক। দেহের আকারের অনুপাতে তিমির মস্তিষ্ক বেজায় ছোট। মোটে ছয়-সাত কেজি। অথচ ৫০-৬০ কেজি ওজনের মানুষের দেহেও থাকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের মস্তিষ্ক!

মস্তিষ্কের আকারের দিক থেকে মানুষ এই বিশ্বের অন্য সব প্রাণী থেকে আলাদা। মানুষই একমাত্র মেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের মস্তিষ্ক দেহের আকারের অনুপাতে সবচেয়ে বড়। মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে জটিল, নিউরনের ঘনত্বও থাকে বেশি। আর এই উন্নত মস্তিষ্কের জোরেই নীল তিমিকে হারিয়ে পৃথিবীতে রাজত্ব করছে দুপেয়ে মানুষ।

কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক এত বড় হলো কী করে? চার্লস রবার্ট ডারউইনের বিবর্তনবাদের দোহাই দিয়ে একটি অস্পষ্ট উত্তর দেওয়া যায় বটে, তবে তা নিখুঁত হয় না। বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরাও এত দিন এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছেন। এবার তার কিছু ফল আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি দুই বিজ্ঞানীর পৃথক গবেষণায় জানা গেছে, একটি বিশেষ জিনের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক এত বড় ও জটিল হয়েছে। অন্যান্য প্রাণীর দেহে ব্যবহার করে তার প্রমাণও মিলেছে।

এই দুই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ‘সেল’ সাময়িকীতে। একটি গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডেভিড হসলার ও সান্তা ক্রুজ। অন্যটির পরিচালনায় ছিলেন বেলজিয়ামের ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের জীববিজ্ঞানী পিয়েরে ভনডারহেঘেন।

গবেষণা দুটি নিয়ে দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষক ডেভিড হসলার ও তাঁর দল এক জাতের বানরের ওপর পরীক্ষা চালান। তাতে নতুন ধরনের এক জিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই জিনটি হলো নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল)। গবেষকেরা বলছেন, পরীক্ষা চালানো বানরের দেহে এই জিন পাওয়া যায়নি। শুধু বানর নয়, শিম্পাঞ্জি ও গরিলা বাদে পৃথিবীর অন্য কোনো প্রাণীর ডিএনএ-তেই এই জিন পাওয়া যায়নি। আর পাওয়া গেছে মানুষের দেহে। শিম্পাঞ্জি ও গরিলায় থাকা নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল) নামের জিন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। কিন্তু মানুষে সক্রিয়। বিবর্তনের ধারায় তা তিনটি সংস্করণও তৈরি করে ফেলেছে। এগুলো হলো এ, বি ও সি।

এই তিন সংস্করণের নচ জিন মানুষের দুটি বিলুপ্ত প্রজাতির মধ্যেও ছিল। সেগুলো হলো নিয়ানডার্থাল ও ডেনিসোভানস। গবেষকদের ধারণা, ৩০ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল) নামের জিনটি সক্রিয় হতে শুরু করে এবং তখন থেকেই পৃথিবীর বুকে মানুষ প্রজাতির প্রাণীর জয়জয়কার শুরু হয়।

ডেভিড হসলারের গবেষণায় দেখা গেছে, নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল) কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই জিনের অনুপস্থিতিতে কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়। কিন্তু নচ২এনএলের প্রভাবে কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় মস্তিষ্কের নিউরনের সংখ্যাও। আর সেটিই মানুষের মস্তিষ্ক বড় হওয়ার মূল কারণ।

জীববিজ্ঞানী পিয়েরে ভনডারহেঘেনের গবেষণাতেও একই জিনের প্রভাব দেখা গেছে। এই দুই পৃথক গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের মস্তিষ্ক বড় হওয়ার পেছনে নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল) নামের জিনের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন এটি হয়, অর্থাৎ প্রক্রিয়াটি ঠিক কী—তা এখনো জানা যায়নি। ডিএনএর মিউটেশন প্রক্রিয়া প্রতিনিয়ত ঘটে। এই মিউটেশন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বড় আকারের মস্তিষ্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে বড় ও জটিল মস্তিষ্কের কিছু ঝামেলাও আছে। বড় মস্তিষ্ক পেলে পুষে রাখা বেশ হ্যাপার। কারণ, বড় মস্তিষ্কের পুষ্টিও লাগে বেশি। মজার বিষয় হলো ৩০ থেকে ৪০ লাখ বছর আগে নচ২এনএল (এনওটিসিএইচ২এনএল) নামের জিনটি সক্রিয় হয় বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। প্রাণী হিসেবে মানুষের উন্নতিও শুরু হয় তখন থেকেই। কিন্তু বড় মস্তিষ্কের জন্য তো খাবারও লাগে। ১০ হাজার বছর আগে যখন কৃষিকাজের পত্তন হলো, তার আগে কিন্তু মানুষ বেশ দুর্লভই ছিল। খাবারের জোগান বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বুদ্ধির খোলতাই হওয়া শুরু হলো!

ঠিক কীভাবে মানুষের মস্তিষ্ক এত উন্নত হলো—তার নিখুঁত বিশ্লেষণ এখনো অজানা। যন্ত্রের উদ্ভাবন একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণায় আরেকটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই একদিন মানুষ জানতে পারবে নিজেদের মস্তিষ্কের পুরো রহস্য।


Source: Prothom-Alo

41
পেট খালি থাকলে দেহ-মনে নানা প্রভাব পড়ে। তাই কিছু কাজ আছে, যা খালি পেটে করা মোটেও ঠিক নয়। বিশেষ করে পেট খালি থাকলে কারও সঙ্গে তর্কে জড়ানো ঠিক নয়। কারণ, এ সময় মনমেজাজ ভালো না থাকায় বেফাঁস কিছু বলে বসতে পারেন। পেট খালি থাকলে আরও কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। জেনে নিন কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে:

ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না: খালি পেটে ওষুধ খাওয়া ঠিক না। বিশেষ করে প্রদাহনাশক কোনো ওষুধ খাওয়া মোটেও ঠিক না। ওষুধ খাওয়ার আগে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

খালি পেটে ঘুমানো ঠিক না: ঘুমানোর দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে ফেলার নিয়ম হলেও একেবারে খালি পেটে ঘুমানো ঠিক না। ঘুমানোর আগে অন্তত এক গ্লাস দুধ বা একটি আপেল খেয়ে ঘুমানো উচিত।

খালি পেটে কফি ঠিক না: কফিও খেতে নেই খালি পেটে। এতে অ্যাসিড তৈরি হয়ে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে। চেষ্টা করবেন ভরা পেটে বা হালকা কোনো স্ন্যাকস খেয়ে কফি খাওয়ার জন্য।

অ্যালকোহলকে ‘না’: খালি পেটে অ্যালকোহল গ্রহণ করতে নেই। খালি পেটে মদ্যপান করলে কিডনি, লিভার আর হার্ট অনেক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিত্যদিনের সমস্যা হিসেবে ভুগতে পারেন অ্যাসিডিটিতেও।

খালি পেটে সিদ্ধান্ত নেবেন না: খালি পেটে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব কাজের ওপর পড়তে পারে। এর ফল ভালো হয় না। অনেক সময় খালি পেটে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য পরে পস্তাতে হতে পারে। তাই পেটে কিছু থাকার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

ব্যায়াম থেকে বিরত থাকুন: ব্যায়াম করবেন না খালি পেটে। অনেকে মনে করেন, খালি পেটে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালরি পোড়ে। আসলে তা সত্যি নয়। বরং এতে শরীরের শক্তি কমে যাওয়ায় আপনি ঠিকঠাকভাবে ব্যায়ামও করতে পারেন না।

তর্ক করবেন না: পেট খালি থাকলে কারও সঙ্গে তর্কে জড়াবেন না। কারণ, পেট খালি থাকলে মন সঠিক কাঠামোতে থাকে না। এতে মনের ওপর প্রভাব পড়ে বলে অনেক সময় পরিস্থিতি বাজে পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

সমঝোতা করবেন না: যদি পেটে কিছু না থাকে, তবে কিছুতেই কোনো বিষয়ে সমঝোতার দিকে যাবেন না। কারণ, পেট খালি মানেই ঠিকভাবে যুক্তিগুলো মূল্যায়ন করতে পারবেন না বলে সঠিক সমঝোতা না হতে পারে।

বাজারসদাই করবেন না: পেট খালি থাকলে বাজারসদাই করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, অনেক সময় চাহিদার অতিরিক্ত কিনে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর অনেক খাবার ভুলবশত কেনার সময় মাথা কাজ নাও করতে পারে। পেট খালি থাকা অবস্থায় বেশি পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও চিনিজাতীয় খাবার কেনার সম্ভাবনা থাকে।

চুইংগাম খাবেন না: খালি পেটে চুইংগাম খাওয়া ঠিক নয়। খালি পেটে এটি খেলে বেড়ে যায় পেট ব্যথা। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি চুইংগাম চিবোবেন না।



তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

42
শিক্ষা পরিবারের প্রধান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, উপস্থিত সুধিমণ্ডলী এবং ছাত্রছাত্রী বন্ধুরা, আমার মতো একজন অযোগ্য মানুষকে সমাবর্তন বক্তা বানানো হয়েছে। (আমি আরেকটু জোরে করতালি প্রত্যাশা করেছিলাম, অন্তত এটুকুর সমর্থন আসুক!) তো এ থেকেই বোঝা যায় দেশে এ ধরনের সমাবর্তন বক্তার কী পরিমাণে বিলুপ্তি ঘটেছে। মিষ্টি রসওয়ালা আখের পরিবর্তে, আখগাছের পরিবর্তে এখন ভেরেন্ডাগাছ দিয়েই মোটামুটি কাজ চলছে। আমাদের গ্রামের দিকে আগে একটা প্রবাদ ছিল। মাঝে মাঝে বড় বড় দুর্ভিক্ষ হতো। তখন বাঘ আর ছাগলের অবস্থা প্রায় এক হয়ে যেত। তো সেই প্রবাদটা এ রকম—দেশে কি আইলো আকাল, ছাগলে চাটে বাঘের গাল। এখন আমরা ছাগলেরা সমাবর্তন বক্তার গাল চাটছি বসে বসে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। পুরান ঢাকায় একটা জোক আছে শুনেছিলাম। একদিন এক চোর ঢুকেছে চুরি করার জন্য এক বাড়িতে। ঢোকার পরে খুচখাচ খুচখাচ শব্দ করছে। ঘরের লোকেরা জেগে আছে। চোর আর পালানোর জায়গা পায়নি। গিয়ে ঢুকেছে চৌকির নিচে। একদম শেষ প্রান্তে চলে গেছে। এখন ওটাকে বের করে কী করে। হাত ঢুকিয়ে দিলে কামড়ে দিতে পারে। কী করা যায়? শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো যে মশারির যে স্ট্যান্ড আছে, ওই স্ট্যান্ড দিয়ে খোঁচালে চোর হয়তো বেরোবে। সেই অনুযায়ী স্ট্যান্ড দিয়ে খোঁচানো শুরু হয়েছে। তো দুই-চার খোঁচা খাওয়ার পরেই চোর বলছে, ‘আস্তে খোঁচাইয়েন, চোখে লাগবার পারে। চোখ লইয়া ডং নিহি?’ মানুষের যেমন চোখ নিয়ে ঢং করা যায় না। একটা জাতির শিক্ষা নিয়েও তেমনি ঢং করা যায় না।

পিথাগোরাসের সম্প্রদায়ের লোকেরা বলতেন, সব জিনিসই আসলে সংখ্যা। আমার বক্তব্য...আমি খুব ক্ষুদ্র মানুষ, বক্তব্য নয় এটা, কেবল ফিসফিস কথা—সব জিনিসই আসলই জ্ঞান। আসলে শিক্ষা। এই যে আজকে অ্যারোপ্লেন উড়ছে আকাশে, এই যে রেলগাড়ি চলছে, এই যে আমরা চাঁদে গেছি, এই যে মানুষের বিস্ময়কর সাফল্য, এই যে চিকিৎসাব্যবস্থার অবিশ্বাস্য উন্নতি, এই যে কৃষির আশ্চর্য প্রসার, এই যে অদ্ভুত শিল্পায়ন, এই যে মানবসভ্যতার বিকাশ, ধর্ম-দর্শন-বিজ্ঞান-শিল্পসাহিত্য সবকিছু—এগুলো আসলে কী? এগুলো আসলে তো সবই আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে পাওয়া। সুতরাং মানবসভ্যতাটাই একটা শিক্ষার মাধ্যমে পাওয়া, শিক্ষা দিয়ে তৈরি। শিক্ষার মান যত দিন আছে, এই সভ্যতা তত দিন আছে। যেদিন থাকবে না, সেদিন থাকবে না। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিতে শিক্ষার একটা বিরাট অবদান।

আমি বোধ হয় ২০০৩ বা ২০০৪ সালে তখন আমেরিকাতে ছিলাম। ওখানে কাগজে খুব ফলাও করে উঠল যে সেই বছরের যে সম্পদ উৎপাদন করেছে আমেরিকা, সেই সম্পদের ৮৭ ভাগ বিদ্যাজাত। বিদ্যা থেকে আসা। তাহলে বোঝা যায় যে বর্তমান পৃথিবীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কতখানি অবদান রাখে শিক্ষা। আমি তো মনে করি আমাদের দেশে এত সব চেষ্টা না করে সমস্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে দশ পারসেন্টে নিয়ে এসে যদি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নব্বই ভাগ করা হতো এবং এটা যদি ১০ বছর চলতে দেওয়া হতো তাহলে যে বাংলাদেশকে আমরা পেতাম সে বাংলাদেশকে পেতে আমাদের আরও ৪০ বছর লাগবে। সুতরাং শিক্ষা খুব বড় জিনিস। পৃথিবীর যা কিছু বড় যা কিছু মহান যা কিছু শ্রেষ্ঠ, এটা শিক্ষা থেকে আসা। শুধু শিক্ষা থেকে না, শিক্ষার জন্য যে মনটা দরকার সেই মনটা থেকেও আসা।

শিক্ষা শুধু অর্থনৈতিক বা বৃত্তিক বিকাশেই অবদান রাখেনি, শিক্ষা মহান জিনিসে অবদান রেখেছে। কী দিয়ে? নিমগ্নতা দিয়ে, নিবিষ্টতা দিয়ে, সাধনা দিয়ে, মানুষের প্রয়াস দিয়ে, মানুষের সংগ্রাম দিয়ে। আজকে কি সেই অবস্থার মধ্যে আমরা আছি? শিক্ষা কি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে? আমার তো মনে হয় শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা পৃথিবীতে শিক্ষাক্ষেত্রে একটা ধস আমরা দেখতে পাচ্ছি। বড় জিনিস থেকে মানুষ ক্রমাগতভাবে সরে যাচ্ছে। এর একটা কারণ হতে পারে—আমরা ইতিমধ্যে একটা ভিন্নযুগে পদার্পণ করেছি। একটা ভিন্ন কাল, একটা অস্থির সময়। একটা ঊর্ধ্বশ্বাস সময়। একটা প্রতিযোগিতামূলক সময়। একটা উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এই উত্তেজনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘উত্তেজনা এবং শক্তি এক নহে। ইহারা পরস্পরবিরোধী।’ কারণ উত্তেজিত মুহূর্তে আমরা সবচেয়ে শক্তিহীন। কারণ উত্তেজিত মুহূর্তে আমাদের মেধা কাজ করে না। আমাদের ইন্দ্রিয় গতিশীল, চঞ্চল, অস্থির। হৃদয় আজ এক রকম আছে, কাল আরেক রকম। কিন্তু মানুষের মনন চিরকাল একরকম, এটা স্থির। এই দুইয়ের একটা সমন্বয় আমাদের চাই। এখন একটা উত্তেজনায় আমরা ছুটছি। প্রতিযোগিতায় আমরা ছুটছি। রাস্তার দিকে যখন তাকাই, একটা গাড়ি আরেকটা গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছে পাগলের মতো। এটা কি একটা গাড়ি আরেকটা গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছে? না একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছে? পৃথিবীতে যখন বিত্তের বিশাল বিকাশ শুরু হলো, তখন এই বিত্ত পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে একটা উত্তেজনার জগতে চলে গেল। যা কিছু গভীর, যা কিছু বড়, যা কিছু স্থায়ী, তাকে অবজ্ঞা করছি। কিন্তু আমার মনে হয়, অ্যারোপ্লেনের যেমন দুই পাখা থাকে, আমাদের যেমন দুই পা থাকে, এক পা থাকলে আমরা হয়তো নাচতে পারব, দুই-তিন মিনিট এক মিনিটের জন্য, কিন্তু এক পা দিয়ে কোনো দিন হাঁটতে পারব না। তেমনি দুটোকে মেলাতে হবে। বড় জিনিসকেও আমাদের ধারণ করতে হবে। কিন্তু ব্যাপারটা কঠিন। কারণ বড় জিনিসকে ধারণ করতে হলে শুধু ছুটলে চলে না। উত্তেজনায় উন্মাদ হলে চলে না। থামতে হয়। থামা মানে কী? থামা মানে প্রত্যাখ্যান। থামা মানে আমি যেটা পেতে পারতাম, আমি সেটা নিচ্ছি না। থামা মানে হচ্ছে গাছের মতো দাঁড়ানো, যে রকমভাবে দাঁড়ালে ওই গাছ একদিন ফুলে-ফলে সবকিছুতে ভরে ওঠে।

আমি একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করি। আমার শারীরিক, মানসিক অবস্থা কোনোটাই আজকে ঠিক কথা বলার উপযোগী ছিল না। তবুও কথা বলে গেছি কিছুটা। একটা গ্রিক উপকথা। আপনারা অনেকে হয়তো পড়েছেন। একটা খুবই সুন্দরী মেয়ে ছিল। দাফনি। অবিশ্বাস্য সুন্দরী। উপকথাতে তা-ই হয়। উপকথাতে কোনো খারাপ চেহারার মানুষ কখনো দেখা যায় না। কারণ উপকথার মধ্যে মানুষ তার স্বপ্নের পৃথিবীকে তৈরি করতে চায়। সেই স্বপ্নের পৃথিবী কুৎসিত হতে পারে না। তো সেই উপকথায় একটা নদী আছে। দাফনি হলো সেই নদীর রাজার মেয়ে। নদীর পাশে একটা বিশাল জঙ্গল। বিশাল অরণ্য। সেই অরণ্যে সে একা একা ঘুরে বেড়ায়। সেখানে যত সুদর্শন যুবককে দেখে, তাদের সঙ্গে সে প্রেমের অভিনয় করে। সেই যুবক যখন সম্পূর্ণভাবে তার প্রেমে মত্ত হয়ে ওঠে, তখন সে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে একটা পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে। এ রকমভাবে তার দিন কাটছে। সে থামে না। একজন শেষ হলে আরেকজনের কাছে যায়, আরেকজন শেষ হলে আরেকজনের কাছে যায়।

এমন সময় হলো কী, সে চোখে পড়ে গেল অ্যাপোলো দেবতার। অ্যাপোলো দেবতা তাকে দেখেই তার প্রেমে মুগ্ধ হয়ে গেল। মানুষই যখন মুগ্ধ, দেবতা তো আরও অনুভূতিশীল, তাই না? তার তো অবস্থা আরও করুণ! সে বলল, ‘দাফনি তুমি দাঁড়াও।’ দাফনি বুঝল যে এ দেবতা, একে সে এড়িয়ে যেতে পারবে না। তখন সে দৌড়াতে লাগল, তার হাত থেকে পালানোর জন্য। সেও দৌড়াচ্ছে, অ্যাপোলোও দৌড়াচ্ছে। কিন্তু অ্যাপোলোর সঙ্গে দৌড়ে তো তার পারার কথা নয়। অ্যাপোলো ক্রমে কাছে চলে এল। একসময় দাফনি টের পেল যে তার পেছনে অ্যাপোলোর ঘন ঘন নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

এমন সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। অরণ্য শেষ হয়ে গেল এবং দেখল যে সামনে সেই নদী। তখন দাফনি চিৎকার করে উঠল, ‘বাবা আমাকে বাঁচাও।’ তখন দেখা গেল যে আস্তে আস্তে দাফনির পা মাটির মধ্যে গেড়ে গেল এবং পায়ের আঙুলগুলো শিকড়ের মতো হয়ে মাটির নিচে ছড়িয়ে গেল। তার হাতগুলো ডালের মতো হয়ে, আঙুলগুলো পাতার মতো হয়ে সমস্ত অবয়বটা গাছে পরিণত হলো। সে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকল। তখন অ্যাপোলো বলল, দাফনি, তুমি এত দিন অস্থির ছিলে। এত দিন তুমি শুধু ছুটেছ। কাউকে তুমি দাওনি কিছুই। কারণ তোমার নিজেরও কিছু ছিল না। তুমি ছিলে একটা ঊর্ধ্বগতিসম্পন্ন মানুষ। কিন্তু আজকে দেখো, তুমি দাঁড়িয়েছ। এই জন্য তুমি আজকে একটা বৃক্ষে পরিণত হয়েছ। এই জন্য দেখো আজ তোমার কত ডাল, কত পাতা এবং কত ফুল। আমি তোমাকে আশীর্বাদ করছি, বর দিচ্ছি, তুমি যেহেতু দাঁড়াতে পেরেছ, সুতরাং আজ থেকে এই গ্রিসের সমস্ত বীরদের মাথার মুকুট তোমার এই পাতা দিয়ে তৈরি হবে। দাফনি কী গাছ হয়ে গিয়েছিল? অলিভ। অলিভ গাছের পাতা দিয়ে মুকুট তৈরি হয়। গ্রিসে যত প্রেমিক-প্রেমিকা আছে, তারা তোমার ফুলের দ্বারা তাদের ভালোবাসা পরস্পরকে জানাবে।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমারও একটাই কথা—থামো। দৌড়াও, কিন্তু থামতে শেখো। দাঁড়াতে শেখো। গাছ হতে শেখো। গাছের মতো সমুন্নত, গাছের মতো পোশাক-আবহ, গাছের মতো পাতায় ভরা, ফুলে ভরা, সৌন্দর্যে ভরা। তাহলে এই পৃথিবীতে সত্যিকারভাবে কিছু দিতে পারবে। তা না হলে হাততালি এবং শিস দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। ধন্যবাদ।


(স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অসাধারণ বক্তা তিনি। গত ৯ মে তাঁর কথা শোনার সুযোগ হয়েছিল একদল শিক্ষার্থীর। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন তিনি। যখন সবাই শুধু ছুটছে, ছুটছে, সামনে এগোতে চাইছে; তখন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শিক্ষার্থীদের বলছেন—থামতে শেখো।)

Source: প্রথম আলো


43
চেহারা দেখে মন বোঝার কৌশল মানুষের আদিকালের। তবে একসঙ্গে অনেকের মন বোঝার চেষ্টা করাটা কঠিন। আর সে কাজটি করা হবে প্রযুক্তির সাহায্যে। চীনের এক স্কুলে শিক্ষার্থীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে চেহারা শনাক্তকরণ বা ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিটি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর খুঁটিয়ে দেখে তাদের অভিব্যক্তি ধারণ করে। ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বোঝার চেষ্টা করা হয় সেই শিক্ষার্থীরা আনন্দিত, রাগান্বিত, ভীত, বিভ্রান্ত নাকি তাদের মন খারাপ। একই সঙ্গে তারা লিখছে, পড়ছে, জিজ্ঞাসার জন্য হাত তুলছে নাকি ডেস্কে বসে ঘুমাচ্ছে, তা-ও ধারণ করে রাখে।

চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, প্রযুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাজিরা ধারণ করে এবং শুধু চেহারা দেখিয়েই তারা ক্যানটিনে টিফিনের অর্থ পরিশোধ বা লাইব্রেরি থেকে বই ধার করার মতো কাজ করতে পারে। আর এই পুরো ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘ইন্টেলিজেন্ট ক্লাসরুম বিহেভিয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’।

হাংঝৌ নাম্বার ইলেভেন হাইস্কুল নামের সে বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত। কারণ, প্রযুক্তিটি কোনো ছবি ধারণ করে না, শুধু পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ করে। তা ছাড়া পুরো কাজ হয় বিদ্যালয়ের স্থানীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে, ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থায় নয়। ফলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কম।

চীনা কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সহিংসতা এবং সন্দেহজনক বিষয় বাড়ার ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আর ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে সম্ভাব্য অপরাধের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। আর শুধু চীনেই নয়, এ বছরের শুরুর দিকে ভারতের নয়াদিল্লির সরকারি স্কুলগুলোতে নজরদারির ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এতে অভিভাবকেরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষের চিত্র দেখতে পারবেন।

মারিফুল হাসান, সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Prothom-alo

44
শুরুতে আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি বোধ হয় কথা বলার জন্য পাঁচ থেকে ছয় মিনিট সময় পাব। চেষ্টা করব এই সময়টুকু কাজে লাগাতে। চারটি বিষয় নিয়ে বলব। এর কোনো কোনোটা শুনে মনে হতে পারে যেন আপনারা এগুলো আগেও শুনেছেন। তবে এসব কথা আবারও নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

প্রথম কথাটি হলো: আমাদের কাজ করতে হবে। তবে এই কাজের পরিমাণ নির্ভর করবে আমরা কতটা ভালো করতে চাই তার ওপর। আমরা যদি একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করতে চাই সে ক্ষেত্রে বাড়তি পরিশ্রম দরকার। কিন্তু বাড়তি পরিশ্রম মানে কী? যেমন আমি আর আমার ভাই যখন আমাদের প্রথম প্রতিষ্ঠানটি চালু করি, সেই সময় একটা অ্যাপার্টমেন্ট নেওয়ার বদলে আমরা শুধু একটা ছোট্ট অফিস ভাড়া করেছিলাম। তখন ঘুমাতাম কাউচে এবং স্নান করতাম ওয়াইএমসিএতে। আমাদের পুঁজি এতই কম ছিল যে একটি মাত্র কম্পিউটার দিয়েই কাজ চালাতে হতো। ফলে দিনের বেলায় ওয়েবসাইটটি চালু থাকত আর রাতে সেই ওয়েবসাইটের জন্য আমি কোডিং করতাম। এভাবেই কাজ করেছি সপ্তাহে সাত দিন, দিনরাত।

প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে, বিশেষত আপনি নিজেই যদি একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করতে চান। একটা সহজ হিসাব দিয়ে বুঝিয়ে বলি। অন্য একটা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যদি সপ্তাহে পঞ্চাশ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে তাঁরা যেটুকু কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, ১০০ ঘণ্টা কাজ করতে পারলে আমরা নিশ্চয়ই তাঁদের চেয়ে দ্বিগুণ কাজ শেষ করতে পারব।

আমার দ্বিতীয় কথা: নতুন কোম্পানি গড়ি কিংবা কোনো কোম্পানিতে যোগ দিই; উভয় ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অসাধারণ সব লোক জোগাড় করা। কোথাও যোগ দিতে হলে সেরকম একটি ব্যতিক্রম দলেই আমার যাওয়া উচিত, যারা আমার সম্মান পাওয়ার যোগ্য। একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এমন কিছু লোকের একটি দল, যারা এক জোট হয়েছে কোনো একটি পণ্য তৈরির বা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে। আর সেই দলের লোকজন কতটা প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী এবং সঠিক পথে তারা কতটা সুন্দরভাবে এগোচ্ছে, এসবের ওপরেই নির্ভর করবে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য। কাজেই প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হলে অসাধারণ কিছু মানুষ পাওয়ার জন্য যা যা করার দরকার, সবই আমাদের করতে হবে।

তিন: আওয়াজ তোলার চেয়ে কাজের দিকে বেশি মনোযোগ দিন। অনেক প্রতিষ্ঠানই এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলে। তারা এমন সব ক্ষেত্রে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে যেগুলো তাদের পণ্যের মান উন্নয়নে আসলে কোনো কাজে আসে না। এখানে আমাদের কোম্পানি টেসলার উদাহরণ দেওয়া যায়। আমরা কখনোই বিজ্ঞাপনের পেছনে টাকা খরচ করি না। আমরা আমাদের সব পুঁজি খাটাই গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে, উৎপাদন ও নকশার কাজে, যেন আমাদের পণ্যটা আরও ভালো করা যায়। আমি মনে করি এভাবেই এগোনো উচিত। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্নটি সব সময় সামনে রাখতে হবে, ‘এই যে এত উদ্যোগ, এত যে অর্থ ব্যয়, এসবের ফলে কি আমাদের পণ্য বা সেবার মান বাড়ছে?’ এই প্রশ্নের উত্তর যদি নেতিবাচক হয়, তাহলে এই সব উদ্যোগ বন্ধ করে দিতে হবে।

সবশেষের কথাটি হচ্ছে, কেবল গতানুগতিক পথ ধরে হাঁটতে থাকলেই চলবে না। আপনারা হয়তো আমাকে এই কথা বলতে শুনেছেন যে পদার্থবিদ্যার সূত্র অনুযায়ী চিন্তাভাবনা করাটা ভালো। প্রথম শর্ত হলো, অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উত্তম।

একদম গভীরে গিয়ে আগে সমস্যাটা বুঝুন। তারপর যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। আমার কাজ আসলেই অর্থবহ হলো নাকি অন্য সবাই যা করছে আমিও তা-ই করলাম, যাচাই করার এটি একটি ভালো পন্থা। অবশ্যই এ কথা ঠিক যে এভাবে চিন্তাভাবনা করা খুব কঠিন এবং সব ক্ষেত্রে সম্ভবও নয়। এর জন্য অনেক চেষ্টার দরকার। তবে আমি যদি নতুন কিছু করতে নামি তাহলে এটাই হবে চিন্তার সর্বোত্তম ধারা। পদার্থবিদেরা এই কাঠামোটা উদ্ভাবন করেছেন গতানুগতিকতার বাইরে বা ঊর্ধ্বে নতুন কিছু পাওয়ার জন্য। যেমন, কোয়ান্টাম পদ্ধতি। এটি খুবই শক্তিশালী একটি পদ্ধতি।

পরিশেষে, একটা বিষয়ে আপনাদের উৎসাহ দিতে চাই। ঝুঁকি নেওয়ার এটাই সময়। আপনাদের কারও ছেলেপুলে নেই, তেমন কোনো পিছুটান নেই। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের দায়িত্বের পরিধিও বাড়তে থাকবে। যখন আপনাদের পরিবার হবে, তখনো অবশ্য আপনারা ঝুঁকি নেওয়া শুরু করতে পারেন। শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্যও। কিন্তু সেরকম পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজ না করলে আপনি বিপদে পড়বেন। সে কারণেই ওই কাজগুলো করে ফেলার এখনই সময়, দায়দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে চাপার আগেই। আমি আপনাদের ঝুঁকি নেওয়ার এবং সাহসী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাব। বিশ্বাস রাখুন, পস্তাবেন না। ধন্যবাদ।

আমি জানি না কথাগুলো আপনাদের কোনো কাজে লাগল কি না।


ইংরেজি থেকে অনুবাদ: জেরীন মারযান

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে চড়ে মহাকাশে পৌঁছেছে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ)—বঙ্গবন্ধু ১। ইলন মাস্ক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। ২০১৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সমাবর্তনে তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। বলেছেন একটি সফল প্রতিষ্ঠান গড়ার সূত্র।

সূত্র: অনুষ্ঠানটির ভিডিও

45
মহাকাশের অজানার পানে বাংলাদেশের একটি স্যাটেলাইট ছুটবে—লাল-সবুজের বাংলাদেশ এই স্বপ্নে বিভোর ছিল অনেক দিন থেকে। অবশেষে সেই স্বপ্ন হলো সত্যি। মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) বঙ্গবন্ধু-১। দেশীয় অর্জনের ক্যানভাসে পড়ল তুলির আরেকটি রঙিন আঁচড়।

মহাকাশে যাত্রার জন্য প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছিল আগেই। নানা কারণে বেশ কয়েকবার পেছানোর পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হলো।

এর আগে বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মিনিটে এসেই থমকে যায় সেকেন্ডের কাঁটা। রকেটের যাত্রা (স্টার্টআপ মোড) শুরু হওয়ার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে আর উড়ছে না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। ঘোষণা করা হয়, গতকাল ফের চালু হবে কাউন্টডাউন। বাংলাদেশ সময় গতকাল দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে আজ শনিবার ভোররাত ৪টা ২১ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয় তখন।

স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানোর কাজ করছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স। তাদের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে বঙ্গবন্ধু-১ যাত্রা শুরু করে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে। এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে তৈরি করা হয়েছে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিভিশন সেবা ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ এই স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে।

দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার ও বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

স্যাটেলাইট তৈরির এই পুরো কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে। তিনটি ধাপে এই কাজ হয়েছে। এগুলো হলো স্যাটেলাইটের মূল কাঠামো তৈরি, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষে গত ৩০ মার্চ এটি উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। সেখানে আরেক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে যাত্রা শুরু করে।

পথচলা শুরু যেভাবে
বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়। এই আপত্তির বিষয় এখনো সমাধান হয়নি। এরপর ২০১৩ সালে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বর্তমান কক্ষপথটি কেনা হয়। বাংলাদেশ বারবার আইটিইউর কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়ে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব কক্ষপথ আনতে পারেনি।

জাতিসংঘের মহাকাশবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্সের (ইউএনওওএসএ) হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৫। প্রতিবছরই স্যাটেলাইটের এ সংখ্যা ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এসব স্যাটেলাইটের কাজের ধরনও একেক রকমের। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হবে। এ ধরনের স্যাটেলাইটকে বলা হয় ‘জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট’। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে এ স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘুরতে থাকে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে চ্যানেলগুলোর খরচ হয় ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এই স্যাটেলাইট ভাড়ার অর্থ দেশে থেকে যাবে। আবার স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার বা সক্ষমতা অন্য দেশের কাছে ভাড়া দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সুযোগ থাকবে। এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে।


Prothom Alo

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 9