Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Faruq Hushain

Pages: 1 2 [3] 4 5
31
হজমের সমস্যা সমাধানে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী।এটি ত্বকের জন্যও উপকারী।পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর ই থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।পেঁপের মতো এর বীজও খুবই উপকারী এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।পেঁপের বীজ খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে পেঁপের বীজ।

২. ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে পেঁপে খুবই কার্যকরী।এই জ্বরে আক্রান্ত হলেই শরীরের প্লেটলেটের সংখ্যা কমতে শুরু করে। এই সময় নিয়মিত পেঁপে বীজ এবং পেঁপে পাতা খেতে পারলে প্লেটলেট আবারও স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

৩. লিভারের সমস্যা দূর করতেও পেঁপের বীজ উপকারী। এটি খেতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য পানি আর দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বীজ মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারলে লিভার ভাল থাকে।

৪. নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে তীব্র ব্যথা উপশমের জন্য পেঁপের বীজ অত্যন্ত কার্যকরী। এ সময় পেঁপে বীজের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারলে ব্যথা অনেক কম বোধ হবে।

৫. পেঁপের বীজ আর পাতা বেটে ফেস প্যাক বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ঘনত্ব কমাতে এর সঙ্গে সামান্য পানিও মিশিয়ে নিতে পারেন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন এমন করতে পারলে তৈলাক্ত ত্বক আর ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায়।

৬. পেঁপে বীজে থাকা প্রোটিওলাইটিক নামের উৎসেচক শরীরের ক্ষতিকর নানা জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

32
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ হয়তো শুনেছেন, ইদানীং ‘প্রোবায়োটিক’ ধরনের খাবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  এসব খাবার পেটে ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে। এর মাঝে আছে দই, কেফির, কিমচি, কম্বুচা ইত্যাদি। কিন্তু আপনি কি জানেন, বাসি ভাত দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ একটি প্রোবায়োটিক। হ্যাঁ, আমাদের চিরচেনা পান্তা ভাত খুবই উপকারী একটি ‘প্রোবায়োটিক’, পেটের জন্য তা বেশ ভালো।

ভারতীয় লাইফস্টাইল কোচ লুক কৌটিনহো এনডিটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন পান্তা ভাতের উপকারিতার কথা। ভাতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বেশি থাকে বলে অনেকেই একে ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু এই শর্করাই বরং সহজে অন্ত্রে চলে গিয়ে প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় খারাপ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে লিকি গাট, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। প্রোবায়োটিক খেলে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ে ও খারাপ ব্যাকটেরিয়া কমে। এতে পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

প্রোবায়োটিক হিসেবে দইয়ের পাশাপাশি খেতে পারেন পান্তা ভাত। তবে খেতে হবে সঠিক উপায়ে। ভাত রান্নার পর একে মাটির পাত্রে রাখুন পানিতে ভিজিয়ে। সারা রাত রাখার পর সকালে খালি পেটে এই পান্তা ভাত খেতে পারেন। এতে আপনার পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। পান্তা ভাতে থাকে বিউটাইরিক এসিড, যা প্রদাহ কমাতে পারে। তবে প্রোবায়োটিকের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের চর্চাটাও বজায় রাখতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

33
Life Style / মুড সুইং ...
« on: March 28, 2019, 07:37:40 PM »
মৌসুমীর দুই বাচ্চা, মাত্র দেড় বছরের ব্যবধান দু’জনের। এদিকে সাহয্য করারও তেমন কেউ নেই। বাচ্চা-ঘরের কাজ সামলে তার মেজাজ যেন সব সময়ই খারাপ থাকে। কেউ ভালোভাবে কিছু জানতে চাইলেও ঠিকভাবে উত্তরও দিতে ইচ্ছে করে না মৌসুমীর।

এদিকে জয়ার সসস্যা ভিন্ন সব সময় দারুণ চটপটে হাসিখুশি মেয়েটি হঠাৎ কেমন মনমরা হয়ে যায়। তখন যেন তাকে চেনাই যায় না, মনে হয় অন্য কোথাও হারিয়ে গেছে মনে-মনে। এই সমস্যাগুলোই আসলে মুড সুইং। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের মধ্যেই মুড সুইং দেখা যায়। তবে পুরুষদের যে একেবারেই হয় না তা কিন্তু নয়।

নারীদের মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পরপরই এমন বেশি দেখা যায়। তবে মুড সুইং ঘটতে পারে যেকোনো সময়ে, যেকোনো কারণে।

মুড সুইং-এর সময় সাধারণত মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, চট করেই বিরক্তি পেয়ে বসে এবং কখনো প্রবল দুঃখবোধ হতে থাকে। কোনো কারণ ছাড়াই হয়তো কান্না পাচ্ছে, কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করছে, এমন হাজারো উপসর্গ রয়েছে।

এমন হলে যা করতে হবে:
•    প্রথমেই লক্ষ্য করুন, ঠিক মতো ঘুম হচ্ছে তো!
•    পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে
•    হালকা ব্যায়াম করুন
•    খোলা জায়গায় প্রতিদিন কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন
•    সময় মেনে সুস্থ জীবন যাপন করুন
•    মন খারাপ করা মুভি বা সংবাদ দেখার পরিবর্তে কমেডি বা রোমান্টিক মুভি দেখুন
•    পছন্দের খাবার খান
•    প্রকৃতির কাছে যান, দু’চোখ ও মন ভরে উপভোগ করুন প্রকৃতির রূপ
•    মন কেন বারবার খারাপ হচ্ছে যদি বুঝতে পারেন তবে বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করুন
•    পরিবার আর কাছের বন্ধুদের জানিয়ে দিন আপনার মুড সুইং করছে, তারা যেন কয়েকটা দিন আপনাকে মানসিক সাপোর্ট দেন।


সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসাইন বলেন,  মুড সুইং এক ধরনের মানসিক অবস্থা বা সমস্যা। তবে প্রাথমিকভাবে একে সরাসরি মানসিক রোগ বলা যায় না। বেশির ভাগ সময়ই মুড সুইং খুব অল্প সময়ে ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু যদি ঠিক না হয় বা মনে করেন এটি সমস্যা করছে প্রতিদিনের জীবনে-কাজে-সম্পর্কে তাহলে দেরি না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

34
বাংলাদেশের ফুটবল এক বছরের মধ্যে দুটি ‘প্রথম’ দেখেছে। দুটিরই নেপথ্যে কোচ জেমি ডে। দুটিই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কল্যাণে। গত আগস্টে এশিয়ান গেমসে সবাইকে অবাক করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ। পরশু পাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে নিজেদের ১৩তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে। জয়টি যদিও প্রত্যাশিতই ছিল।

এশিয়ান গেমসে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্রর পর কাতারের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে জয় এসেছে বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে ৯ গোল খাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেই জয় নিয়ে বাহরাইন থেকে কাল রাত দুইটায় বাংলাদেশ দলের ঢাকায় ফেরার কথা। ফেরার আগে দুপুরে টেলিফোনে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা জয় নিয়ে ফিরতে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ। আমি খুব খুশি। ছেলেরা ভালো ফুটবল খেলেছে।’

টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে ২ হার, ১ জয় বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ার শুধু বাংলাদেশই জিতেছে এবার এই টুর্নামেন্টে। ভারত গ্রুপের দুটি ম্যাচেই হেরেছে। উজবেকিস্তানের কাছে ৩ ও তাজিকিস্তানের কাছে ২ গোলে। গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই হার নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের। ভুটান খেলেনি।

বাংলাদেশ ২ গোল খেয়ে ২ গোল করেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবশ্য গোল হতে পারত আরও। যদিও কোচ বলেন, ‘গোলের সংখ্যার চেয়ে জয়টাই আমার কাছে বড়।’ বাহরাইনের বিপক্ষে ১ গোলে পিছিয়ে থেকে ৭০ মিনিটে মতিন মিয়া ফাঁকা পোস্টে গোল করতে পারেননি। জেমি ডে এর কারণটা জানেন, ‘বাংলাদেশ দলের গোল করার ব্যর্থতা চলতেই থাকবে, যদি লিগের অবস্থা না বদলায়।’ ক্লাবগুলো ঘরোয়া ফুটবলে আক্রমণে বিদেশি খেলোয়াড়ই বেশি রাখে। ঘরের ছেলেরা সুযোগ তেমন পায় না। এই ধারার বদল চান জেমি ডে।

তবে এএফসির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি গোল আটকানোয়। শক্তিশালী বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্ষণ দুর্দান্ত লড়েছে। দুটি ম্যাচেই হার ১-০ গোলে। জেমি ডে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে তিন ব্যাক খুবই ভালো খেলেছে (রহমত, ইয়াসিন, বাদশা)।’ তাঁর চোখে ধরা পড়ছে বড় পরিবর্তন, ‘১২ মাসে আমরা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা, এএফসির টুর্নামেন্টে প্রথম জয়, দুটিকেই আমি ইতিহাস বলব। জাতীয় দল আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৪টি জিতেছে। যথেষ্ট ভালো ফল।’


জেমি ডে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ। ফাইল ছবিজেমি ডে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের ফুটবল এক বছরের মধ্যে দুটি ‘প্রথম’ দেখেছে। দুটিরই নেপথ্যে কোচ জেমি ডে। দুটিই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কল্যাণে। গত আগস্টে এশিয়ান গেমসে সবাইকে অবাক করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ। পরশু পাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে নিজেদের ১৩তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে। জয়টি যদিও প্রত্যাশিতই ছিল।

এশিয়ান গেমসে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্রর পর কাতারের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে জয় এসেছে বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের কাছে ৯ গোল খাওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেই জয় নিয়ে বাহরাইন থেকে কাল রাত দুইটায় বাংলাদেশ দলের ঢাকায় ফেরার কথা। ফেরার আগে দুপুরে টেলিফোনে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা জয় নিয়ে ফিরতে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ। আমি খুব খুশি। ছেলেরা ভালো ফুটবল খেলেছে।’

টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে ২ হার, ১ জয় বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ার শুধু বাংলাদেশই জিতেছে এবার এই টুর্নামেন্টে। ভারত গ্রুপের দুটি ম্যাচেই হেরেছে। উজবেকিস্তানের কাছে ৩ ও তাজিকিস্তানের কাছে ২ গোলে। গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই হার নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের। ভুটান খেলেনি।

বাংলাদেশ ২ গোল খেয়ে ২ গোল করেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবশ্য গোল হতে পারত আরও। যদিও কোচ বলেন, ‘গোলের সংখ্যার চেয়ে জয়টাই আমার কাছে বড়।’ বাহরাইনের বিপক্ষে ১ গোলে পিছিয়ে থেকে ৭০ মিনিটে মতিন মিয়া ফাঁকা পোস্টে গোল করতে পারেননি। জেমি ডে এর কারণটা জানেন, ‘বাংলাদেশ দলের গোল করার ব্যর্থতা চলতেই থাকবে, যদি লিগের অবস্থা না বদলায়।’ ক্লাবগুলো ঘরোয়া ফুটবলে আক্রমণে বিদেশি খেলোয়াড়ই বেশি রাখে। ঘরের ছেলেরা সুযোগ তেমন পায় না। এই ধারার বদল চান জেমি ডে।

তবে এএফসির এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি গোল আটকানোয়। শক্তিশালী বাহরাইন ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্ষণ দুর্দান্ত লড়েছে। দুটি ম্যাচেই হার ১-০ গোলে। জেমি ডে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে তিন ব্যাক খুবই ভালো খেলেছে (রহমত, ইয়াসিন, বাদশা)।’ তাঁর চোখে ধরা পড়ছে বড় পরিবর্তন, ‘১২ মাসে আমরা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি। এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা, এএফসির টুর্নামেন্টে প্রথম জয়, দুটিকেই আমি ইতিহাস বলব। জাতীয় দল আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৪টি জিতেছে। যথেষ্ট ভালো ফল।’

বাহরাইনে দারুণ ফুটবল খেলেছেন যুবারা। সৌজন্য ছবিবাহরাইনে দারুণ ফুটবল খেলেছেন যুবারা। সৌজন্য ছবিকম্বোডিয়াকে জাতীয় দল তাদেরই মাঠে ফিফা প্রীতি ম্যাচে কদিন আগে হারিয়ে এসেছে ১-০ গোলে। তারপর বাহরাইনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রশংসনীয় খেলা। জেমি ডের অধীনে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বিপলু, রবিউল, সুফিলরা ওপরে গতি আর ফিটনেস কাজে লাগিয়েছেন। অন্যদের ফিটনেসও ভালো। তাই ৯০ মিনিট লড়াই করতে শিখেছেন। আরামবাগের কোচ মারুফুল হকের কাছে এটা ‘অতুলনীয়’। বাংলাদেশ দলের খেলাও ভালো লেগেছে তাঁর, ‘খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী কোচ পরিকল্পনা নিয়ে সেটা বাস্তবায়নও করেছেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকাতে “ব্লক” তৈরি করে তারপর প্রতি আক্রমণে গেছেন, যেহেতু ওপরে গতিময় ফুটবলার আছে।’ মারুফ বলেন, ‘বাহরাইনে প্রথম দুটি ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের গতি ও ফিটনেস ঠিক আছে। সমস্যা টেকনিক্যাল সামর্থ্যে।’

জেমি ডে এটিকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দল বলেন। তাই আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ চান। তবে সামনের পরিকল্পনা কী তা জানেন না। দেশে এসে ফেডারেশনের সঙ্গে বসতে চান। সেই বসাটা অর্থপূর্ণ হলেই ভালো।

35
৩০শে মার্চ, ১৯৭১। ভোরবেলার হালকা আলোয় ঘুমন্ত কুষ্টিয়া শহর পরিষ্কার হয়ে ওঠছে। মাত্র ৫ দিন আগেই এখানে এসে হাজির হয়েছে হানাদার বাহিনী। কুষ্টিয়া জেলা স্কুল পাকিস্তানীদের প্রধান ঘাঁটি। ২৭তম বেলুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি পজিশন নিয়েছে। নিশ্চিত তারা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন পায়ে দলিয়ে ফেলতে পেরেছে। পিষে ফেলতে পেরেছে বাঙালিদের।

হঠাৎই গগণবিদারী চিৎকার! “জয় বাংলা!” সাথে সাথেই ঝাঁক ঝাঁক বুলেট ছুটে আসছে পাক বাহিনীর অবস্থানের দিকে। হাজার খানেক কণ্ঠের জয় বাংলা ধ্বনিতে বিভ্রান্ত পাক সেনারা। শত্রু আসলে কত? তাহলে পেছনের গল্প শোনা যাক এর।

বাংলাদেশকে পদানত করতে পাকিস্তানের করা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে ২৫শে মার্চ রাত থেকেই। সেদিন রাতেই এক কোম্পানি সৈন্য হাজির হয় কুষ্টিয়ায়। আগে থেকেও ছিল অল্প কিছু সেনা। ওয়্যারলেস স্টেশন এবং কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়েছে তারা। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে মেজর শোয়েব। এই দলের কাজ যুদ্ধক্ষেত্রে সবার আগে পৌঁছানো এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। পরে ফিরে আসা এবং প্রয়োজন হলে মূল দলকে সহায়তা করা। এ ধরনের দলে অস্ত্র থাকে প্রচুর।

এদিকে ইপিআর-এর মেজর আবু ওসমান (পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল) ১ মাস আগেই বাংলাদেশে এসে দায়িত্ব নিয়েছেন। ২৫শে মার্চ তিনি তার অধীনস্ত বাংলাদেশি অফিসার ক্যাপ্টেন আযম চৌধুরীকে নিয়ে খুলনা থেকে পালিয়ে চুয়াডাঙ্গা আসেন। এলাকার গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে আলোচনায় বসা হলো। পাক বাহিনীকে সর্বাত্মক বাঁধা দিতে হবে। সবমিলে ৬০০ জন সৈনিক, ব্রিটিশ আমলের থ্রি নট থ্রি রাইফেল, কয়েকটা মেশিনগান, গ্রেনেড আর ৬টা মর্টার- অস্ত্র বলতে এগুলোই।

স্থানীয় পুলিশ এবং কয়েকজন ছাত্র দলে ভিড়ল। স্থানীয় ২ জন চিকিৎসক নিলেন মেডিক্যাল টিমের দায়িত্ব। অস্ত্র কম তাতে কি? দেশপ্রেমের তো অভাব নেই। যে যেভাবে পেরেছে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় টেলিফোন বিভাগ পোড়াদহ মাঠে একটা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন করে দিল। অন্যান্য যোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হলো। আশেপাশের এলাকা থেকে আরো কিছু সেনা এসে যোগ দিল। মেহেরপুর মহকুমার প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সিপাহী জনতার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব নেন।
মেজর আবু ওসমান এবার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করতে বসেন। অস্ত্রের জোরে তার দলটি তেমন কিছুই না। নিমেষেই উড়ে যেতে পারে। তাই পাক বাহিনীকে হারাতে হবে অন্য কৌশলে।

আক্রমণ শুরুর সাথে সাথেই যশোরে সাহায্য চাইতে পারে পাক বাহিনী। হাইওয়েতে ১৫০ থেকে ২০০ জন সেনা সড়ক পাহারা দেবে। এ দিক থেকে নতুন করে যেন পাক সাহায্য আসতে না পারে সেটা নিশ্চিত করবে তারা।

কুষ্টিয়া থেকে মনযোগ সরাতে চুয়াডাঙ্গা সদর আক্রমণ করতে পারে পাক বাহিনী। বিশখালি, কালীগঞ্জ, কোঁটাচাঁদপুরে সবমিলে ৪ কোম্পানি সেনা প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত করা হয়। উদ্দেশ্য যশোর বা অন্য কোনো দিক থেকে আক্রমণ আসলে যেন কুষ্টিয়া আক্রমণ না থামে।

ক্যাপ্টেন আযম তার দল নিয়ে যাবে সার্কিট হাউজের কাছাকাছি। সেখান থেকে জিলা স্কুলের মূল ঘাঁটিতে হামলা হবে। সুবেদার মুজাফফরের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ লাইনে আক্রমণ করবে। সুবেদার নায়েক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ওয়্যারলেস স্টেশনে হানা দেবে আরেকটি দল।
পুরো সময়টাতেই 'Element of surprise' এর দিকে জোর দেন মেজর। সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে চমকে দিতে হবে পাক বাহিনীকে। কিন্তু এদিক ওদিকে প্রতিরক্ষার জন্য সেনা রেখে ফ্রন্ট লাইনে সেনা সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় খুবই কম। অস্ত্রও নগণ্য। এই সমস্যার কথা ভেবে আগেই মেজর ওসমান দুর্দান্ত এক পরিকল্পনা করেছিলেন। অগ্রগামী ৩ দলের পেছনে থাকবে কয়েক শত সাধারণ জনতা। যাদের কাজ একটাই, জয় বাংলা ধ্বনি তুলে শত্রুকে বিভ্রান্ত করা। অপারশনের নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন ফার্স্ট লেগ'।

২৯শে মার্চ আক্রমণ করার কথা থাকলেও দুঃসংবাদ পাওয়া গেল। সুবেদার মুজাফফরের দল জায়গামতো পৌঁছাতে পারেনি। তার দলের একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছে। আক্রমণ একদিন পিছিয়ে যায়।

৩০শে মার্চ সকাল বেলা। সারা রাত পাহারা দিয়ে তন্দ্রাচ্ছন্ন পাক গার্ডরা। হঠাৎ তাদের সবগুলো পজিশনে একসাথে হামলা শুরু। Element of surprise-এ মুক্তিবাহিনী আগেই এগিয়ে গেল যুদ্ধে। তারপর মেজর ওসমান তার মূল অস্ত্র ব্যাবহার করার নির্দেশ দিলেন। আকাশ কাঁপানো স্লোগান! জয় বাংলা! পাক সেনারা ধন্দে পড়ে যায় যে মুক্তিবাহিনীর সংখ্যা আসলে কত? যে সময়টায় তারা কোনো আক্রমণই আশা করেনি সে সময় এমন আক্রমণে চমকে যায় তারা।

এলিমেন্ট অব সারপ্রাইজের পর এবার মেজর ওসমান Deception-এর মারপ্যাঁচে জিতে যান। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে ধোঁকা দিতে পারা সাফল্যের নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ায়। পাক সেনারা জেলা স্কুলের মূল ঘাঁটিতে এক হতে চেষ্টা করে। কিন্তু প্রচেষ্টা বিফলে যায়। বিভ্রান্ত সেনারা দ্রুতই মুক্তিবাহিনীর শিকারে পরিণত হয়। পুলিশ লাইনের পাশের একটা তিন তলা বাড়ির ছাদে মেশিনগান স্থাপন করেছিল মুক্তিবাহিনী। এই পজিশন গুড়িয়ে দিতে পাক বাহিনী একটা রিকয়েললেস রাইফেল স্থাপন করার চেষ্টা করে। সেটা চোখে পড়তেই কয়েকটি মর্টার নিক্ষেপ করে রিকয়েললেস রাইফেলকে অকেজো করে ফেলে মুক্তিবাহিনী।
বিকেলের আগেই জিলা স্কুল ছাড়া সব পজিশন মুক্তিবাহিনী দখল করে নেয়। পর দিন রাত পর্যন্ত থেমে থেমে যুদ্ধ চলে। কিন্তু ওই ঘাঁটির বেশি কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। প্রচুর অস্ত্রের জোরে মুক্তিবাহিনীকে ঠেকিয়ে রাখছে পাক বাহিনী। মেজর শোয়েবও সেখানে। এরই মধ্যে যশোরে আবার সাহায্য চায় তারা। কিন্তু যশোরে থাকা পাকবাহিনী জানত যে কুষ্টিয়া আসার সব রাস্তায় মুক্তিবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। তাই তারা ঝুঁকি নিতে সাহস করেনি। এদিকে মেজর শোয়েবকে জানানো হয় নতুন করে সাহায্য পাঠানো সম্ভব নয়। মুক্তিবাহিনীর বেতারেও এই বার্তা ধরা পড়ে। উৎসাহ বেড়ে যায় সবার। অস্ত্রের জোরে ঘাঁটির কাছাকাছি ভিড়তে না পারলেও চারদিক থেকে ঘেরাও করে রাখা হয় মেজর শোয়েবের বাহিনীকে।

গভীর রাত, ঘাঁটি থেকে ৪টি গাড়ি বের হয়ে আসে। গুলি করতে করতে মুক্তিবাহিনীর ঘেরাও ভেঙ্গে ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়। পিছু ধাওয়া করার প্রয়োজন মনে করে না কেউই।

কিছু দূরেই একটা ব্রিজ ভেঙ্গে রেখেছিল গেরিলারা। বাঁশের বেড়া বসিয়ে তার উপর রং করে পিচ ঢালা রাস্তার মতো বানিয়ে রাখা হয়েছিল। দুটো গাড়ি তীব্র গতিতে এসে ব্রিজের নিচে পড়ে যায়। লুকিয়ে থাকা একদল মুক্তিযোদ্ধা অ্যামবুশ করে। বেঁচে যাওয়া পাকসেনারা এদিক সেদিক পালিয়ে যায়। মেজর শোয়েব নিহত হয়।

সবমিলে পাক বাহিনীর একটা ব্যাটিলিয়ন প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ধরা পড়ে এক অফিসার এবং কয়েকজন সেনা। প্রচুর অস্ত্র দখলে আসে। মুক্তিবাহিনীর ৪ জন শহীদ হন। ৫টি রিকয়েললেস রাইফেল, ৫০টির বেশি মেশিনগান, ৯০টি রাইফেল, ২৪টি গাড়ি ও পিক আপ এবং প্রচুর গোলা বারুদ মুক্তিবাহিনীর দখলে আসে।

পর্যাপ্ত অস্ত্র না থাকলেও পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমের সমন্বয়ে যে লড়াই করা যায় এই যুদ্ধ তারই প্রমাণ। বাংলাদেশ সরকার গঠন হওয়ার পর মেজর আবু ওসমান ৮ নং সেক্টরের কম্যান্ডারের দায়িত্ব পান। কুষ্টিয়ার এই যুদ্ধ ছিল সামরিক শক্তি এবং জনতার মিলিত প্রতিরোধের এক অভাবনীয় উদাহারণ। মুক্তিবাহিনীর পেছনে যেভাবে লাঠি, দা ইত্যাদি নিয়ে মানুষ এগিয়ে এসেছিল তা বাঙ্গালির স্বাধীনতার স্পৃহাকে আরো একবার প্রমাণ করে দেয়।

https://roar.media/bangla/main/liberation-war/operation-first-leg-1971/

36
৩৪ বছর বয়সে বিশ্বকাপের এক বছর আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিচ্ছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। আজ জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক। নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে ৬৯ ও ৬ রানের ইনিংস দুটিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের সর্বশেষ অবদান হয়ে থাকল।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ৯৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন এবি। সেখানেই নিজের বিদায়ের কারণটা জানিয়েছে, ‘ক্লান্তি’। এ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তটা ব্যাখ্যা করেছেন সবার সুবিধার্থে। বিদায় বেলায় যা বলেছেন ডি ভিলিয়ার্স—

‘আমি সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই মুহূর্ত থেকেই। ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর অন্যদের সময় এসেছে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার। আমি আমার কাজটা করেছি, সত্যি কথা বলতে আমি ক্লান্ত।

‘এটা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। আমি অনেক দীর্ঘ সময় নিয়ে এ নিয়ে ভেবেছি এবং ভালো ফর্মে থাকা অবস্থাতেই বিদায় নিতে চাচ্ছি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি সিরিজ জয়ের পর, আমার মনে হচ্ছে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।

‘দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নির্দিষ্ট কোনো ফরম্যাট বেছে নেওয়া কিংবা বেছে বেছে নির্দিষ্ট কোনো সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হতো না। যদি সবুজ-সোনালির হয়ে খেলতেই হয়, তবে সব খেলব, নয় তো একদম কিছু না। এত বছর ধরে আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ডের কোচ ও স্টাফদের কাছে কৃতজ্ঞ। ক্যারিয়ারজুড়ে যত সতীর্থ পেয়েছি, তাদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ। এতগুলো বছর যে সমর্থন পেয়েছি, সেটা না থাকলে আমি অর্ধেক (বর্তমান পর্যায়ের) ক্রিকেটারও হতে পারতাম না।

‘এটা অন্য কোথাও অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়, এটা হলো ক্লান্তির ব্যাপার। এ ছাড়া আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময় সরে যাওয়ার। সবকিছুই একসময় না একসময় শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্বের সব ক্রিকেট ভক্তদের বলছি, আপনাদের দয়া ও ঔদার্যের জন্য ধন্যবাদ। আর আজ আমার ব্যাপারটা বোঝার জন্য ধন্যবাদ।

‘আমার দেশের বাইরে খেলার কোনো ইচ্ছা নেই। সত্য হলো, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটানসের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই। ফাফ ডু প্লেসি ও প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়েই থাকব আমি।’

37
কালো পোশাক পরিহিত একঝাঁক নারী ঘুরে বেড়াত রাজস্থানময়। কোথাও কেউ মারা গেলে বা মারা যাবে এমন সম্ভাবনা থাকলে আগে থেকে ভাড়া করে রাখা হতো তাদের। তাদের প্রধান কাজ মরা বাড়িতে গিয়ে মাতম করা, বুক চাপড়ে কাঁদা, গাল বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে দেয়া। ভুল করেও সে চোখের পানির একটি কণাও মুছত না তারা, এই প্রথম কারো মৃত্যুতে কাঁদছে না তারা, শেষ কান্নাও নয় এটি। গোটা বাড়িতে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করতেই তো তাদের ভাড়া করে আনা! এই প্রথা চলেছে শত শত বছর, এখনো চলছে রাজস্থানের বিভিন্ন অজপাড়াগাঁয়ে।

মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম করা এই নারীরা সাধারণভাবে পরিচিত ‘রুদালি’ নামে। তাদেরকে বলা হয় ‘প্রফেশনাল মৌনার’ বা পেশাদার বিলাপকারী। বিলাপ করেই জীবিকা নির্বাহ করে তারা। পরনে থাকে কালো পোশাক, যমের পছন্দের রঙ নাকি কালো। তাই মৃত্যুদূতকে খুশি করতে তার পছন্দের সাজেই নিজেদের সজ্জিত করে তারা। সমাজের একেবারে নিচু জাত থেকে তুলে আনা এই রুদালিদের বেশ কিছু সমাজে বিয়ে করারও নিয়ম নেই। নিজের পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে লোকের মৃত্যুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঁদবে কে? চেনা নেই, জানা নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই; কেবল অর্থের বিনিময়ে মানুষের বাড়িতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থে লোক দেখিয়ে কাঁদার জন্যই যেন জন্ম হয়েছে তাদের।

রুদালিদের এই পেশা আমাদের কাছে অর্থহীন মনে হতেই পারে, কিন্তু রাজস্থানের পশ্চাৎপদ কিছু জনগোষ্ঠীর কাছে এটিই স্বাভাবিক, নির্মম সত্য। তাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে রুদালিদের অস্তিত্ব। সমাজের উচ্চশ্রেণীর নারীরা অর্থাৎ জমিদার বা ঠাকুর কন্যারা, বাড়ির বউরা বাইরের লোকের সামনে কাঁদবে বা নিজেদের আবেগ প্রকাশ করবে, সে আবার কেমন কথা? কাজেই তারা হাবেলির অন্দরমহলে বন্দী থেকে, লম্বা ঘোমটার আড়ালে দু’ফোঁটা চোখের পানি ফেলুক আর না ফেলুক তাতে মৃত ব্যক্তির কিছু আসে যায় না। কিন্তু সমাজের সামনে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি জাহির করতে গেলেও তো মরার সময় কান্নাকাটি করার জন্য কয়েকজন লোক লাগে। বড়লোকের সেই চাহিদা থেকে জন্ম নেয়া একটি সমাজের নাম ‘রুদালি’।

কলকাতার সাংবাদিক এবং লেখক নিধি দুগার কুন্দালিয়া তার ‘দ্য লস্ট জেনারেশন’ বইটিতে প্রায় বিলুপ্ত কিছু প্রথা বা পেশার কথা উল্লেখ করেছেন। অবধারিতভাবে সেখানে বাদ যায়নি রুদালিদের কথাও। রাজস্থানের এক তথাকথিত উঁচু শ্রেণীর পুরুষ নিধিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন-

    “আমাদের রাজ পরিবারের কেউ মারা গেলে তো কান্নার জন্য একজন লোক চাই, তা-ই না? নারীদের মস্তিষ্ক বিধাতা বানিয়েছেনই এমন করে, যাতে তারা দুঃখ-কষ্টের অনুভূতিগুলো ভালো করে বুঝতে পারে। তাদের মন খুবই নরম। অন্দরমহলের মেয়েদের তো আমরা বাড়ির বাইরে বের হতে দিতে পারি না। পরপুরুষের সামনে গিয়ে তারা কাঁদলে আমাদের পরিবারের মাথা নিচু হয়ে যাবে। স্বামী মরুক আর বাবা মরুক, আগে তাদেরকে নিজেদের মর্যাদাটা বুঝতে হবে। কাজেই তাদের হয়ে কান্নার কাজটা করে দেয় নিচু জাতের মহিলারা, রুদালিরা। রুদালিদের কান্নায় পুরো গ্রাম বুঝতে পারে তাদের কত বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। সবার দুঃখের প্রতিনিধিত্ব করতেই ডেকে আনা হয় রুদালিদের।”

রুদালিদের কাজে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে লিঙ্গ, জাত, শ্রেণী, অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি আগে বিবেচনা করা হয়। যদি কেউ নিচু জাতের হয় আর তার অর্থের খুব বেশি দরকার আছে বলে জমিদার শ্রেণী মনে করে, তাহলে জোর করেও অনেককে রুদালি হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়ার নজির আছে। তাদের চোখের পানি এমনই একটি জিনিস, যা খুব সহজে টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে পারে সামন্তপ্রভুরা। মাঝে মাঝে তাই কেউ মারা গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলে হতদরিদ্র এই সম্প্রদায়।

নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে, আবেগ-অনুভূতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে মানুষের চাহিদামতো চোখের পানি ঝরানো এই নারীদের সমাজে কিন্তু তেমন কোনো দাম নেই। অনেক সময়, অন্নদাতার জবরদস্তিতে অবৈধ সন্তানের জন্ম দিতে হয় তাদের। তাই হাবেলিতে প্রবেশ করা রুদালিদের দিকে বাঁকা চোখে তাকাতে কার্পণ্যবোধ করে না সে সমাজ। আর সেই সন্তান যদি হয় মেয়ে, তাহলে বন্ধ হয়ে যায় তাদের সামান্য আয়-রোজগারের পথটুকুও। কেননা রাজস্থানের মানুষের অন্ধবিশ্বাস অনুযায়ী, মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয়া রুদালি পরিবার আর সমাজের জন্য অভিশাপ বয়ে আনে। তাই রুদালিদের মধ্যে বেশ বিখ্যাত একটি প্রবচন প্রচলিত আছে-

    ‘পান্দো ভালো না কসকো, বেটি ভালি নায়েক’

কথাটির বাংলা করলে দাঁড়াবে- খালি পায়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতে বললেও কষ্ট পাব না, কিন্তু একটি মেয়েসন্তানও যেন ঘরে না আসে। পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেও সেই সন্তান কখনো বাবার নাম ব্যবহার করতে পারে না। কাজেই সমাজের কাছে তারা অচ্ছুত বলেই পরিচিতি লাভ করে।
ব্যক্তিগতভাবে কাউকে না চিনেও তার জন্য অঝোরে অশ্রু ঝরাচ্ছে- এই কঠিন কাজের বিনিময়ে তাদের যে অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে নামমাত্র মূল্য বললেও কম বলা হবে। আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বেও মরা বাড়িতে গিয়ে কাঁদার জন্য ৫-৬ রূপী করে পেত তারা। কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়া, বুক চাপড়ানো, শ্মশান ঘাটে গিয়ে আছড়ে পড়া- এমনি যত কলাকৌশল সেই কান্নার সাথে যুক্ত হতো, ততই তাদের অর্থের পরিমাণ বেড়ে যেত। টাকার সাথে পুরনো কাপড়, ভাত, রুটিও দিত কোনো কোনো দিলদার অন্নদাতা। তবে খাবারের মধ্যে কাঁচা পেঁয়াজ আর বাসী রুটিই বেশি দেয়া হতো তাদের।

কখনো কখনো রুদালিদের টানা বারোদিনও কাঁদতে হয়। যত দীর্ঘদিনব্যাপী শোকের মাতম চলবে, ততই লোকজন ঐ পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে কানাঘুষা করবে। পারফরম্যান্স ভালো করতে তাই পেশাদার রুদালিরা নিজেদের জীবনের দুঃখ-কষ্টের কথা মনে করার চেষ্টা করে। সবসময় কিন্তু চাইলেই চোখের পানি পড়ে না, তখন শুধু মুখের বিলাপই ভরসা। তবে যারা পুরোপুরি পেশাদার, তাদের নিজস্ব কিছু কৌশল আছে চোখে পানি আনার। কেউ কেউ থুতু লাগিয়ে মুখে পানির রেখা তৈরি করেন, কেউবা এক ধরনের গাছের শেকড় ব্যবহার করেন যা অনেকটা গ্লিসারিনের মতো কাজ করে। কাজলের মতো এক ধরনের কালিও পাওয়া যায়, যা চোখে লাগানোর সাথে সাথে তীব্র জ্বলুনি শুরু হয় আর চোখের পানি পড়তে থাকে।

38
     কালের বিবর্তনে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালকি আজ বিলুপ্তির পথে। পালকি মানুষ বহনের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহন। এই বাহনে ১ বা ২ জন যাত্রী নিয়ে ২, ৪ বা ৮ জন বাহক এটিকে কাঁধে তুলে একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। পালকি শব্দটি বাংলার সংস্কৃত ‘পল্যঙ্ক’ বা ‘পর্যঙ্ক’ থেকে উদ্ভূত। পালি ভাষায এই যানের নাম ‘পালাঙ্কো’। হিন্দি ও বাংলায় এটি পালকি নামে পরিচিত ছিল। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা এবং চতুর্দশ শতকের পর্যটক জন ম্যাগনোলি ভ্রমণের সময় পালকি ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে এবং পরবর্তী সময়ে সেনাধ্যক্ষদের যাতাযাতের অন্যতম বাহন ছিল পালকি। আধুনিক যানবাহন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা পালকিতে চড়েই যাতায়াত করতেন। বাংলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়েতে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল।

৭০ বছরের বয়সের বৃদ্ধা জানান, ২০ বছর বয়সে পালকিতে চড়ে বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। বয়স হয়ে গেছে এখন মনে পরে সেই দিনের কথা। গ্রামে বিয়ে হলেই বর কনে কে পালকিতে করে গান গাইতে গাইতে নিয়ে আসতো দেখে খুব আনন্দ পেতাম এখন আর পালকি দেখা যায় না। কালের বিবর্তনে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য সব হারিয়ে যাচ্ছে।,

আরেক বৃদ্ধ জানান, আমাদের বাপ দাদারা প্রাচীন কাল থেকে পালকি দিয়ে বিবাহের সময় বর-কনেকে বহন করতেন। আমরা এক কালের কলকাতার লোক ছিলাম কাজের তাগিদে বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আমরাও পালকি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বাংলাদেশে চলে আসি। এখন আর আগের মতো বিবাহ অনুষ্টানে আমাদেরকে ডাকা হয়না। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয় আমাদের। মাসে দু’একটা বিবাহে আমাদের ডাক পরে। যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে । পালকি বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট ও সাধারণ পালকি (ডুলি) দুজনে বহন করে। সবচেয়ে বড় পালকি বহন করে চার থেকে আটজন পালকি বাহক। পালকি বাহকদের বলা হয় বেহারা বা কাহার। হাডি, মাল, দুলে, বাগদি, বাউডি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোক পালকি বহন করে। পালকি বহনের সময তারা বিশেষ ছন্দে গান গায়। তাদের চলার গতির সঙ্গে তাল মিলিযে গানের তাল-লয় পরিবর্তিত হয়।

কাঠমিস্ত্রীরা সেগুন কাঠ, শিমুল কাঠ, প্রবৃত্তি কাঠ দিয়েও পালকি তৈরি করে। বটগাছের বড ঝুরি দিয়ে তৈরি হয় পালকির বাঁট বা বহন করার দণ্ড। পালকি সচরাচর তিন ধরনের হযে থাকে যেমন, সাধারণ পালকি, আয়না পালকি এবং ময়ূরপঙ্খি পালকি। সাধারণ পালকি আয়তাকার। চারদিক কাঠ দিয়ে আবৃত এবং ছাদ ঢালু। এর দুদিকে দুটি দরজা থাকে। কোন কোনটিতে জানালাও থাকে। পালকির বাইরের দিকে আলপনা আঁকা থাকে। ভেতরে চেয়ারের মতো দুটি আসন ও একটি টেবিল থাকে। ময়ূরপঙ্খি পালকির আয়তন সবচেয়ে বড়। এই পালকি ময়ূরের আকৃতিতে তৈরি করা হয় ভিতরে দুটি চেয়ার, একটি টেবিল ও তাক থাকে। এ পালকির বাঁটটি বাঁকানো এবং এর বাইরের দিকে কাঠের তৈরি পাখি, পুতুল ও লতাপাতার নকশা থাকে। সে যুগের পালকি ছিল এ যুগের মোটরগাড়ি অনুরূপ।

স্টিমার ও রেলগাড়ি আবির্ভাবের পূর্বে ভারতের গভর্নর জেনারেলও পালকিতে চড়ে যাতায়াত করতেন। উনিশ শতকের প্রথমদিকে ডাক ও যাত্রী বহনের জন্য ডাকবিভাগ ‘স্টেজ পালকি’ চালু করে। এই প্রথা উনিশ শতকের শেষ নাগাদ প্রচলিত ছিল। দূরের যাত্রীরা ডাকঘর থেকে স্টেজ পালকির টিকেট ক্রয় করত। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংরেজরা পালকিতে চড়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। তবে উনিশ শতকের শেষাবধি স্থানীয় বাবু এবং অভিজাত শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ যাতায়াতের জন্য পালকিই ব্যবহার করতেন। অবস্থানকালে তাঁর জমিদারি কাচারি পরিদর্শনের সময যে পালকি ব্যবহার করতেন, তা এখন আর জমিদার বাড়ি ধংস করে সেখানে পুলিশ ‌ব্যারাক হয়েছে । সে যুগে স্বছল পরিবারের নিজস্ব পালকি থাকত এবং তাদের ভৃত্যরাই তা বহন করত। সাধারণ মানুষ পালকি ভাড়া করত। উনিশ শতকের চতুর্থ দশকে দাসপ্রথা বিলোপের পর বিহার, উড়িষ্যা, ছোটনাগপুর এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে পালকি বাহকরা বাংলায় আসতে থাকে।

বহু সাঁওতাল পালকি বাহকের কাজ নেয়। শুষ্ক মৌসুমে তারা নিজেদের এলাকা থেকে এদেশে আসত এবং বর্ষা মৌসুমে আবার চলে যেত। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শেষে তারা কয়েকটি এলাকায় যেত এবং কোথাও কোথাও অস্থায়ী কুঁড়েঘর বানিয়ে সাময়িক আবাসের ব্যবস্থা করে নিত।উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্টিমার ও ‌নৌকা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পালকির ব্যবহার কমতে থাকে। ক্রমশ সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি এবং পশুচালিত যান চালু হলে যাতায়াতের বাহন হিসেবে পালকির ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমাগত প্রসার, সড়ক ও নদীপথে মোটর ও অন্যান্য যানের চলাচল এবং প্যাডেল চালিত রিকশা জনপ্রিয় হওয়ার ফলে পালকির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পালকি বাংলাদেশের অতীত ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবেই পরিচিত। এখন পালকির বদলে মটর গাড়ি দিয়ে বিবাহের বর কনেকে বহন করতে দেখা যায়।

39
হলিউডের চলচ্চিত্র পরিচালকদের একটি তালিকা করা হলে একদম উপরের দিকে থাকা নামগুলোর মধ্যে জেমস ক্যামেরন যে থাকবেন এটা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। তবে বেশীরভাগ মানুষ তাকে শুধু পরিচালক হিসেবে চিনলেও তিনি কিন্তু তার থেকেও অনেক বেশী কিছু। কানাডিয়ান এই চলচ্চিত্র নির্মাতা একাধারে একজন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়ার। গভীর সমুদ্র নিয়েও তার অনেক কৌতুহল। নিজের বানানো সাবমেরিন দিয়ে সাগরের সবচেয়ে গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চে ডুব দিয়ে এসেছেন। তিনি তার চলচ্চিত্রে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেন সেগুলোকে একেকটা মাইলফলক হিসেবেও ধরা যায়। অসাধারণ উদ্ভাবনী শক্তি তার অ্যাকশনধর্মী ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক চলচ্চিত্রগুলোকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
তার জীবনের গল্পটাও কিন্তু চিত্রনাট্যের মতোই অনেকটা।

জেমস ফ্রান্সিস ক্যামেরনের জন্ম ১৯৫৪ সালে কানাডার অন্টারিওতে। তার মা ছিলেন একজন আর্টিস্ট এবং বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তার পরিবার যখন ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে চলে আসে তখন তার বয়স ১৭ বছর। সেখানে তিনি ফুলারটন কলেজে ভর্তি হন পদার্থবিজ্ঞান পড়ার জন্য। কিন্তু সেখানে বেশীদিন টিকতে পারলেন না। এক বছর যেতে না যেতেই ড্রপ আউট হয়ে গেলেন কলেজ থেকে।
এরপর ট্রাক ড্রাইভারের কাজ নিলেন তিনি এবং সময় পেলে মাঝে মাঝে লেখালেখিও করতেন একটু আধটু। পরে তিনি বলেছেন এই সময়টাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইউএসসি লাইব্রেরীতে নিয়মিত যেতেন এবং ফিল্ম টেকনোলজির সাথে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের বই কিংবা থিসিস পেপার পড়ে ফেলতেন বা খাতায় নোট করে রাখতেন। এই সময়টাতে তিনি অপটিক্যাল প্রিন্টিং, ফ্রন্ট স্ক্রীন প্রজেকশন কিংবা ডাই ট্রান্সফারের মতো বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করেছেন যা তাকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালনায় বিস্তর সাহায্য করেছে।

এরপর ১৯৭৭ সালে একটি ঘটনা তার জীবনকে পুরোপুরি পাল্টে দিল। ওই বছর মুক্তি পেল বিখ্যাত চলচ্চিত্র সিরিজ স্টার ওয়ার্স এর চতুর্থ কিস্তি এ নিউ হোপ (A New Hope)। ওই চলচ্চিত্র দেখে তিনি বুঝতে পারলেন শিল্প এবং বিজ্ঞান কতটা কাছাকাছি থাকতে পারে। এরপর ট্রাক ড্রাইভারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ক্যামেরন ঝুঁকে পড়লেন চলচ্চিত্রের দিকে।

তিনি তার দুই বন্ধুকে নিয়ে জেনোজেনেসিস (Xenogenesis) নামে একটি ১০ মিনিটের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী স্ক্রিপ্ট লিখে ফেললেন। কিন্তু শ্যুট করার মতো যথেষ্ট টাকা তাদের হাতে নেই। শেষ পর্যন্ত বন্ধু-বান্ধবদেরকে নিয়ে চাঁদা তুলে ৩৩ মিলিমিটার ক্যামেরা, লেন্স, ফিল্ম স্টক এবং স্টুডিও ভাড়া করে ফেললেন। তারা ক্যামেরাটি পুরোটা খুলে এর বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে দেখলেন এটা বোঝার জন্য যে ফিল্ম ক্যামেরা কীভাবে কাজ করে।
বলা যায় জেমস ক্যামেরন ছিলেন জেনোজেনেসিস এর পরিচালক, লেখক, প্রযোজক এবং প্রোডাকশন ডিজাইনার। এরপর তিনি রক এন্ড রোল হাই স্কুল (Rock and Roll High School) নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন প্রোডাকশন সহকারী হিসেবে। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো স্বীকৃতি তিনি পাননি। তারপরও থেমে না গিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর কায়দা-কানুন নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে লাগলেন। রজার কোরম্যান স্টুডিওতে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির মডেল বানানোর কাজ শুরু করেন এই সময়টাতে। এরপর ১৯৮১ এবং ১৯৮২ এই দুই বছরে চারটি চলচ্চিত্রে আর্ট ডিজাইনার, প্রোডাকশন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।

পিরানহা মুভির সিকুয়্যাল পিরানহা-২ তে কাজ করার জন্য ইটালির রোমে যান ক্যামেরন। সেখানে ফুড পয়জনিং এর কারণে একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় একদিন রাত্রে ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখলেন। দেখলেন ভবিষ্যৎ থেকে একটি রোবট পাঠানো হয়েছে তাকে খুন করার জন্য। এই স্বপ্ন থেকেই তিনি তার দ্য টারমিনেটর (The Terminator) চলচ্চিত্রের আইডিয়া পান। বলা যায় এখান থেকেই তার উত্থান শুরু হয়।

40
একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে চিবিয়ে খাচ্ছে। মাংস খাওয়ার পর মরা মানুষের হাড়-হাড্ডিকে আবার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে। এরকম দৃশ্য খুব বেশি দিন দূরের নয়। মাত্র ৪০ হাজার বছর আগে এমন স্বগোত্রভোজী মানুষ ছিল পৃথিবীতে। আদি ওই মানুষেরা হল নিয়ানডার্থাল। ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের এক গুহায় কুড়িয়ে পাওয়া বিলুপ্ত এই আদিজাতের বেশ কতগুলো কঙ্কাল নিয়ে গবেষণা করে এমন তথ্য উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা।

নিয়ানডার্থাল হল আধুনিক মানুষের উপপ্রজাতি। এরা সমূলে বিলুপ্ত হওয়ার আগে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় বাস করত। ধারণা করা হয়, ৩০-৪০ হাজার বছর আগে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ আমি-আপনি বা আজকের মানুষের পূর্বপুরুষের উদ্ভবের মধ্য চিরপ্রস্থান ঘটে নিয়ানডার্থালদের। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই জাতের মধ্যে প্রজননও ঘটেছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক ইউরোপীয় ও এশীয়দের শতকরা ৪ ভাগ ডিএনএ নিয়ানডার্থালদের বৈশিষ্ট্য ধারণ ও বহন করছে বলে।

বেলজিয়ামের নামুরের কাছে গয়েত গুহা থেকে স্বজাতিখেকো মানুষের কঙ্কালগুলো উদ্ধার করা হয়। গর্ত, খামচি-খাঁজ, দাগ-ভাঁজ ইত্যাদির সাক্ষর দেখে তাদের রাক্ষুসে চরিত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। সায়েন্টিফিক রিপোর্টার্স জার্নালে এ নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

নিজ গোত্রের মানুষকে খাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটা কতগুলো ধারাবাহিক ধাপের সমষ্টি। যেমন প্রথমে চামড়া ছিলে ফেলা। এরপর টুকরো টুকরো করে কাটা। হাড়ের ভেতর থাকা নরম মজ্জা বের করা।

‘এসব খণ্ড খণ্ড চিত্রকে জোড় লাগালে,’ গবেষণা দলের প্রধান হার্ভে বোচারেনস বলেছেন, ‘আমরা এমন একটা কল্পচিত্র পাই যেখানে দেখা যাবে, নিয়ানডার্থালরা নরমাংসভক্ষণ প্রথায় অভ্যস্ত ছিল।’ জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব টাবিনজেনের এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘গয়েতে পাওয়া ওই সময়ের ঘোড়া ও বল্গাহরিণের কঙ্কালগুলোও একই রূপে প্রক্রিয়াজাত বলে দেখা গেছে।’

শুধু হত্যা করে মাংস বা হাড়ের মজ্জা খাওয়ায় শেষ নয়। আত্মীয়-স্বজনের অবশিষ্ট হাড়গুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত নিয়ানডার্থালরা। যেমন পাথর দিয়ে কোনো বিশেষ আকৃতি মজবুত করার জন্য একটি ফিমার (উরুর হাড়) এবং তিনটি টিবিয়া (ঠেংয়ের হাড়) মিলিয়ে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। আবার অন্য কোনো পশুর হাড় দিয়ে কোনো কিছু ভাঙা বা আঘাত করার জন্য ব্যবহার করত।

নিয়ানডার্থালরা যে স্বজাতিখেকো-এর আগে স্পেন ও ফ্রান্সে পাওয়া কঙ্কাল থেকে এমনটা অনুমান করেছিলেন বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।  http://www.poriborton.com/diverse-world/9319

41
History / ভয়ানক সব মানুষ খেকো ....
« on: August 02, 2016, 05:15:33 PM »
তিহাসে মানুষখেকোদের বর্ণনা থাকলেও একবিংশ শতাব্দিতেও পৃথিবী থেকে এদের অস্তিত্ব মিলিয়ে যায়নি। বিশ্বে বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনও রয়েছে, যেখানে সভ্যতার আলো পৌঁছায়নি। আবার কোথাও কোথাও এই ভয়ানক ব্যাপারটির অবসান ঘটেছে সদ্যই। বিশ্বে এখনও যেসব স্থানে মানুষখেকোদের বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে, এবারের আয়োজন সেসব নিয়েই।

১. ভারত: অভিযোগ আছে, ভারতের বারাণসীতে এখনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে মানুষ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আঘোরি সাধু নামে বিশেষ এক সন্নাসী সম্প্রদায় রয়েছে যারা মৃত মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। যদিও প্রচলিত আছে এই সম্প্রদায় বিশেষ মার্গ সাধনার পদ্ধতি হিসেবে মানুষের মাংস খেয়ে থাকে।
২. পাপুয়া নিউগিনি: দেশটির পশ্চিমে কোরোয়াই উপজাতির মানুষেরা প্রতিশোধ হিসেবে মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে এখনও এই সম্প্রদায়ের অন্তত ৩ হাজার মানুষ রয়েছে। এরা খাওয়ার মতো মানুষের সন্ধান না পেলে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মাংসও খেয়ে থাকে।
৩. সিগাটোকা, ফিজি: দেশটিতে একসময় মানুষখেকোরা থাকলেও এখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলে চন্দন ব্যবসায়ীরা আসা যাওয়া শুরু করলে আদিবাসীদের মাঝেও সভ্যতার আলো পৌঁছাতে থাকে। যদিও বলা হয় এই দ্বীপাঞ্চলটির কোথাও কোথাও এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবণতা মিলিয়ে যায়নি। সিগাটোকার নাইহেহে গুহায় যেসব নিদর্শন মিলেছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা গেছে যে মানুষখেকোরা আসলে মিলিয়ে যায়নি।
৪. কঙ্গো: আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশটির আদিবাসীদের মাঝে এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবনতা মিলিয়ে যায়নি। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে মানুষের মাংস খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের। ২০০৩ সালের গোড়ার দিকে কঙ্গোর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মানুষ খাওয়ার অভিযোগ তোলে খোদ জাতিসংঘ। দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের পর সরকারের এক প্রতিনিধি তাদের কর্মীদের জীবন্ত ছিড়ে খাওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত তোলেন।
৫. জার্মানি: আশ্চর্য হলেও সত্যি, জার্মানিতে মানুষের মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। আর সেজন্যই ২০০১ সালের মার্চে আর্মিন মাইভাস নামের এক জার্মান নাগরিক রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ খেলেও তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছাড়া কোনো অভিযোগ আনেনি পুলিশ। মানুষ খাওয়ার উদ্দেশে ‘দি ক্যানিবাল ক্যাফে’ নামের একটি ওয়েবসাইটে সুঠামদেহী, জবাইযোগ্য এবং আহার হতে চাওয়া মানুষের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন আর্মিন। অনেকে আগ্রহী হলেও বার্ন্ড জুর্গেন ব্রান্ডিসকে পছন্দ করেন আর্মিন। এরপর জার্মানির ছোট্ট গ্রাম রটেনবার্গে দুজনে মিলিত হন। একপর্যায়ে ব্রান্ডিসকে হত্যা করে প্রায় ১০ মাস তার মাংস খান আর্মিন মাইভাস। ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
৬. কম্বোডিয়া: ১৯৭০ সালের দিকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের সময় অভিযোগ ওঠে, একদল সেনা আটক কয়েকজন খেমারুজ বিদ্রোহীদের হৃদয় ও যকৃত কেটে বের করে নেয়। এবং পরে তারা শিবিরে ফিরে সেগুলি খায়।

http://www.poriborton.com

42
বাড়ির সামনে একটা মরা গাধা পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির মালিক গেলেন পৌরসভায় খবরটা দিতে।
* কমিশনার সাহেব, আমার বাড়ির সামনে একটি গাধা মরে পড়ে আছে, দ্রুত এর একটা ব্যবস্থা নিন।
* এটা তো আপনিই করতে পারেন, আর এটা তো আমাদের কাজের মধ্যে পড়ে না।
* বলেন কী! এটা পৌরসভার কাজ না?
* না, দেখুন, আমি কাজে ব্যস্ত আছি। আপনি গাধাটাকে দাহ করেন আর কবর দেন, যা করার বাড়ি গিয়ে করুন।
* ঠিক আছে। কিন্তু আমি যতটুকু জানি, কেউ মারা গেলে প্রথমেই তার নিকটাত্মীয়দের খবরটা দিতে হয়। তাই দিয়ে গেলাম!  :P :P :P

43
রতের জয়সালমিরের বাসিন্দা হরিশ ধনদেব। পেশায় ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। যে সরকারি চাকরির জন্য বেশিরভাগ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পরে সেখানে হরিশ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন চাকরি। চাকরি ছেড়ে শুরু করেন কৃষিকাজ। দিল্লিতে কৃষি এক্সপো দেখতে গিয়ে কৃষিকাজে আগ্রহী হন তিনি।

জয়সালমির থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ধাইসরে ১২০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে তার বিশাল ক্ষেত। চাকরি ছেড়ে সেখানে শুরু করে দেন অ্যালোভেরা ও অন্যান্য শস্যের চাষ। তৈরি করেন ন্যাচারাল আগ্রো নামে নিজস্ব একটি সংস্থা। এরপর থেকে আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন তার বার্ষিক আয় দেড়কোটি টাকা।
উল্লেখ্য যে, থর মরুভূমির অ্যালোভেরা চাষের জন্য ভালো। আর এই অ্যালোভেরা চলে যায় পতঞ্জলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের কারখানায়। সেখানে তৈরি করা হয় অ্যালোভেরার জুস। যা বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। মরুভূমি অঞ্চলের অ্যালোভেরার গুণগতমান এতটাই ভালো যে বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক।

জয়সালমিরের মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের পদে ইস্তফা দেওয়ার সময় যে সামান্য দ্বিধায় ভুগছিলেন তিনি তার আর কোনও জায়গা নেই হরিশের জীবনে। এক বছরের মধ্যেই সাফল্যের মুখ দেখতে পান তিনি। তাঁর ক্ষেতের অ্যালোভেরা চাহিদা রয়েছে ব্রাজিল, হংকং এবং আমেরিকাতে। শুরুতে ৮০ হাজার অ্যালোভেরার চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত লাখের কাছাকাছি।

http://bangla.moralnews24.com/archives

44
পলিশ করা সামান্য এক নুড়িপাথর কেমন করে বিশ্বের সবচেয়ে দামি বস্তুতে পরিণত হয়? দুটি শব্দে এর ব্যাখ্যা দেওয়া যায়—একাধিপত্য এবং প্রচারণা।

মাত্র দুই শতাব্দী আগেও হীরা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাত না মানুষ। তখন হীরা নামের বস্তুটি আসলেই দুর্লভ ছিল। রাজপরিবারের সদস্যরাই মূলত অলংকার হিসেবে এই বস্তু পরতেন এবং এর মালিক হতেন। এরপর ১৮৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ হীরার সন্ধান পান খনিশ্রমিকেরা। জমে ওঠে হীরার বাজার। হীরা যে শুধু সাধারণ এক বস্তু হয়ে ওঠে, এমনটি নয়। বরং তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে হীরা। কিন্তু এ অবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। সেসিল রোডস নামের এক ব্যক্তি হীরার খনির শেয়ার কিনতে শুরু করেন। মাত্র ১৮ বছরেই দক্ষিণ আফ্রিকার হীরা সরবরাহের পুরোটাতেই তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
সেসিল রোডসের নাম কখনো না শুনলেও আপনি নিশ্চয়ই ‘ডি বিয়ারস’-এর নাম শুনেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সেসিল রোডস। কয়েক দশকের পরিচর্যায় রোডস তাঁর প্রতিষ্ঠানটিকে প্রথমে একটি বাণিজ্য-জোটে পরিণত করেন। পরবর্তী সময়ে যা বাজারের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমেই হীরার উৎপাদন পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়।
কিন্তু তারপরই হঠাৎ করে হীরা এবং অলংকারের প্রতি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের আগ্রহ কমতে শুরু করে। বাজারে লাগে মন্দা। ১৯৩৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, সে সময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসা কনেদের এক-তৃতীয়াংশই কোনো ধরনের আংটিবদল ছাড়াই বিয়ে সম্পন্ন করতেন। ডি বিয়ারস তখন এমন এক অবস্থায় পড়ে গেল, যখন প্রয়োজনের অধিক জোগান থাকা সত্ত্বেও চাহিদা ছিল কম। কাজেই নতুন ধরনের এক পদ্ধতির অবতারণা করতে হলো। প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা এন ডব্লিউ আয়ার বরাবর এক চিঠি পাঠাল। জানতে চাইল ‘ভিন্ন ধরনের প্রচারণা’ করে হীরার বিক্রি বাড়ানো সম্ভব কি না। সংস্থাটি ক্রেতাদের ওপর এক জরিপ চালিয়ে দেখল, বেশির ভাগ মানুষই হীরাকে এক হাস্যকর বিলাসিতা হিসেবে দেখে। এ থেকে তারা বুঝতে পারে, ক্রেতার মানিব্যাগের দখল নিতে হলে আগে দরকার তাদের হৃদয়ে দখল স্থাপন।
এরপর তারা যা করল, তাকে বলা যায় আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিজ্ঞাপনী প্রচারাভিযান। তারকাদের এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হীরা ধার হিসেবে দেওয়া শুরু করে ডি বিয়ারস। সংবাদমাধ্যম দখলে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনের কলামে বড় বড় করে তাদের পণ্যের কথা ছাপতে থাকে। ১৯৪৮ সালে লিপিকার ফ্রান্সেস গেরেটি মাত্র চার লাইনে হীরাকে ব্যাখ্যা করে লেখেন, ‘অনন্তকালের জন্য হীরা’। এই চার লাইন যেমন ছিল স্বর্গীয় ভালোবাসার রূপক, তেমনি ছিল এক নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ। তাতেই কেল্লাফতে। হু হু করে বাড়তে লাগল হীরার আংটির বিক্রি।
বিজ্ঞাপনী সংস্থা এন ডব্লিউ আয়ার ১৯৫১ সালে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘জহুরিরা আমাদের জানিয়েছেন, হীরার আংটি ছাড়া একটি মেয়ে কখনই বাগদত্তা হতে পারে না।’ ১৯৬৮ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ আমেরিকান কনে হীরার আংটি পরতে শুরু করেন। কিন্তু এতেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি ডি বিয়ারস। তাই প্রচারাভিযান চলছিলই।
১৯৮০ সালে এন ডব্লিউ আয়ার নতুন এক বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করল। যাতে বলা হয়, ‘মাত্র দুই মাসের বেতন কি অবিনশ্বর কিছুর জন্য অতি সামান্য দাম নয়?’ হীরার আংটির মতোই নতুন এই বিজ্ঞাপন হবু বরদেরও হীরার পেছনে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। মাসিক পত্রিকা অ্যাটল্যান্টিক-এর ১৯৮২ সালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তখন থেকেই হীরার দাম তরতর করে বাড়তে থাকে।

45
একজন মানুষের কত টাকা হতে পারে? কত টাকা হলে তার প্রয়োজন ফুরায়? জীবন কি শুধু টাকার জন্যই? প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন একজনই। নাম তাঁর ল্যারি অ্যালিসন। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তিনি।
সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থবিত্ত সম্পর্কে নিজের ধারণার কথা তুলে ধরেন ল্যারি। তিনি বলেন, ‘একটা সময় আসবে কষ্ট করে আয় করা অর্থ পুরোটা খরচ করতে পারবেন না। বিশ্বাস করুন, আমি নিজেই ক্লান্ত।’
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট (ডক্টর অব হিউম্যান লেটার্স) ডিগ্রি গ্রহণ করার পর তিনি এখানকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জীবন নিয়ে কিছু উপদেশ দেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ক্যানসার চিকিৎসা ও গবেষণাকেন্দ্র খোলার জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলার দান করার ঘোষণা দেন ল্যারি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় দান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ক্যানসার গবেষণাকেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বিখ্যাত ক্যানসার চিকিৎসক ডেভিড আগুস। তিনি ল্যারি অ্যালিসনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসসহ প্রখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ক্যানসার চিকিৎসা করেছেন।
ল্যারি অ্যালিসন তাঁর বক্তব্যে নিজের সম্পর্কেও কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তোমাদের বয়সী ছিলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বিভাগে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম।’
অবশ্য অ্যালিসন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও কোনোটাতেই পড়াশোনা শেষ করেননি। তবে স্বশিক্ষিত হয়ে কম্পিউটার নিয়ে যে জ্ঞান অর্জন করেন তিনি, তা দিয়েই প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে নর্দান ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে চলে যান। এরপর তৈরি করেন ওরাকল ডেটাবেইস। বর্তমানে ওরাকল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তিদের তালিকায় সাত নম্বরে আছেন অ্যালিসন।
ল্যারির কিছু উদ্ধৃতি:
১. ‘একটা সময় আসবে, অর্থই সবকিছু নয়। একটা সময় আপনি সব খরচ করতে পারবেন না, বিশ্বাস করুন, আমি ক্লান্ত।’
২. ‘মানুষ যখন আপনাকে পাগল বলতে শুরু করবে, তখনই মনে করবেন জীবনের সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন করে বসেছেন।’
৩. ‘আমাদের মনের অনেক গভীরে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা করার সুপ্ত বাসনা থাকে।’
৪. ‘টিভি বিজ্ঞাপনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের জীবনকে চাকরির চেয়ে রোমাঞ্চকর বলে দেখানো হয়। সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘদিন কাটানোর বিষয়টি আমার কাছে সে রকম রোমাঞ্চকর মনে হয়।’
৫. ‘যেকোনো চলমান রোমাঞ্চের মতো সেটি কোথায় শেষ হবে, তার ধারণা আমার নেই। কিন্তু আমি জানি তা শেষ হবে।’
৬. ‘প্রতিটি প্রজন্মের মতো তোমার প্রজন্মও পৃথিবী বদলে দেবে। তুমি নতুন প্রযুক্তি নতুন শিল্প উদ্ভাবন করে যাবে।’
৭. ‘তুমি পৃথিবীকে বদলে দেবে, আর পৃথিবী তোমাকে বদলে দেবে।’
৮. ‘তোমার আবেগের সঙ্গে যতক্ষণ কোনো চাকরি না মেলে, ততক্ষণ খুঁজতে থাকো। আমি এটাই করেছি।’

তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।

Pages: 1 2 [3] 4 5