Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - Noor E Alam

Pages: 1 [2] 3 4 ... 7
When I became an entrepreneur, I distinctly remember thinking, “I had no idea I would be writing this much. My main job function is writing.” I was in the thick of creating Chic CEO, a website designed to give women the resources they needed to start a business. But what I was actually doing, was writing.  A LOT. Anyone who has started a business can attest to the fact that there are a lot of things they do daily that have nothing to do with their core competency.   
Here are a few things that no one told me when I became an entrepreneur. 

1. You’ll work longer hours, not fewer
The dream of being an entrepreneur is usually the freedom. The time to make your own decisions and make your own schedule. A lot of digital nomads out there purport the idea that they just run their businesses from a beach in Bali and make a billion dollars. Not so, my friend. Behind all of the success is always hard work. If you see an entrepreneur who is sitting on the beach, it’s because they hustled - or they are taking a quick break to snap a shot before they go running back to their computer.When you work for yourself, most everything is done by you. No one is there to tell you to start or stop working, and if you love what you do - you’ll do it non-stop. Then, when you get clients, they will be demanding of your time as well. Rarely is there 8-5 hours for any entrepreneur in the beginning.
Entrepreneurship isn’t a break from work, it’s work you create for yourself.

2. It’ll take a lot longer to make money than you expected
Making money with your business will take longer than you will expect. Most times it’s because there are so many little expenses that add up in the beginning that you may have not planned for and recouping those costs delays your efforts. Anything from website hosting to business card printing to inventory - startup costs are always more than what we estimate and securing profit always takes longer than expected.

Getting up and running to a place where you feel comfortable selling services and on boarding clients can take longer as well. It’s always best to plan for this.

3. You will say yes to everything, until you say no
My previous partner, Jody, and I always said yes to every opportunity that came along. It was fun, it definitely drove traction and attention - but we were pooped. We weren’t all that strategic about it, we just knew we wanted to be seen and to grow. Eventually though, we were so strapped down with everything we had committed to, that we never felt like we were doing anything really well anymore. This is when we realized we had to start saying no.

When you start to see some success, opportunities will start flying your way. Some are very exciting, some are ridiculous - either way, you must know what to say yes to and what to say no to.

4. You will fight your big ideas
This is a version of the issue above, except it’s what you do to yourself. When you get going, you’ll start to notice that great big, amazing ideas flood your brain. It’s really hard not to move forward on them all. Some will be worth pursuing, most will not. Like above, you must know what to say yes to and what to say no to. Especially to yourself.

5. Your ego will be rocked
Nothing makes you feel more inadequate than starting a business! What a humbling experience. There is a lot of rejection that can come with starting a business, and we need to check our ego at the door in order to make it work. Rarely do our businesses work out as planned and that can shatter the confidence we do have. If we can try to control what we can, and be curious about what we can’t - we are able to keep a better grasp on what’s going on as well as stay open to new opportunities for growth.

Stephanie Burns writes about female entrepreneurship and unreasonable requests.


বিশেষজ্ঞ অভিমত
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে অভিমত দিয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ, মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া, এস এম মাহবুবুর রহমান, তানভীর মঞ্জুর, মো. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার, মো. জহুরুল ইসলাম, মো. আশিকুর রহমান, ফেরদৌস সারোয়ার।

পুরান ঢাকার নিমতলী, চকবাজার থেকে বনানী, গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেট—প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে আমাদের জাতীয় অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিহীনতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অগ্নিনির্বাপণ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার শেষ ধাপ। কোনো স্থাপনায় আগুন পূর্ণশক্তিতে বড় আকারে জ্বলে উঠলে সর্বোচ্চ মানের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায়ও সেখানে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মৃত্যু ও আহত হওয়া এড়ানো দুরূহ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দ্বারা স্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থার নকশা করা ও তা স্থাপন করা এবং সেটা নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সেই স্থাপনা ব্যবহারকারীদের জীবন ও সেখানকার সম্পদের অগ্নিনিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব। নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে জনসাধারণ পর্যন্ত সবার এ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট নজরদারির মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়াসে যে সুফল পাওয়া গেছে, অন্যান্য খাতেও সেটা সম্ভব।

যেকোনো ইমারতকে নিরাপদ করতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বা বিল্ডিং কোড অনুসরণের বিকল্প নেই। ভবনের মালিকেরা নিজ উদ্যোগে তা করবেন, এটা ভাবা বাতুলতা। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পেশাদারি আচরণ করতে হবে, কিন্তু তারা তা করে না। জবাবদিহির অভাবই এর কারণ।

কোনো ভবনকে পর্যাপ্ত অগ্নিপ্রতিরোধক করতে হলে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপ পালন করা অত্যাবশ্যকীয়। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণগুলো সম্পূর্ণভাবে দূর করাই অগ্নিনিরাপত্তা বিধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এটা প্রতিরোধ। কিন্তু প্রকৌশলগতভাবে সব কারণ দূর করা সম্ভব নয়, এক শ ভাগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তাই প্রতিরোধের সঙ্গে সঙ্গে সুরক্ষাব্যবস্থাও রাখতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয়েই তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা। ছোটখাটো কিছু অসম্পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের জাতীয় বিল্ডিং কোড অগ্নিনিরাপত্তার এই পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাই নির্দেশ করে। এই কোড অনুসরণ করে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা, সেটা স্থাপন করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে সব ভবনকেই অগ্নিনিরাপদ করা কিংবা অগ্নিঝুঁকি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সীমাবদ্ধ করে রাখা সম্ভব। ভালো মানের অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য যথাযথ প্রকৌশলজ্ঞান ও কারিগরি প্রজ্ঞা প্রয়োজন।

অগ্নিপ্রতিরোধের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? আমরা জানি যে আগুনের জন্য তিনটি জিনিসের একসঙ্গে থাকার দরকার হয়—জ্বালানি, বাতাস বা অক্সিজেন ও তাপ। কিন্তু এই তিনটি জিনিস একত্র হলেও আগুন ধরবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এই মিশ্রণে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি না হয় (ইগনিশন)। সুতরাং ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধের উপায় হতে পারে তাপ উৎপাদনকারী ও উন্মুক্ত অগ্নিশিখা তৈরি করে এমন যন্ত্রপাতি সাবধানে রাখা; তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা; কোনো দাহ্য পদার্থ বা সূক্ষ্ম বস্তুকণা এই তাপের সংস্পর্শে না আসতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া। ভবনে যেন কোনোভাবে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তৈরি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অবাঞ্ছিত অগ্নিস্ফুলিঙ্গের একটা বড় উৎস ভবনের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ নকশা, স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৭৫ শতাংশের সূচনা ঘটে বিদ্যুৎ থেকে।

এ দেশের ভবনগুলোতে ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার মূল কারণ ভবনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুপরিকল্পনার গুরুত্ব না বোঝা এবং সেই কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে অপেশাদারি ও অদক্ষতা। ইমারত বিধিমালার নির্দেশনার অনুসরণে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের
দ্বারা ভবনের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নকশা বা পরিকল্পনা, স্থাপন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। তবে
যেহেতু অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সব কারণ শতভাগ দূর করা সম্ভব নয়, সেহেতু আগুন লেগে গেলে তা থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিতে হবে।

ভবনের অগ্নি-সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: সক্রিয় ব্যবস্থা (অ্যাকটিভ সিস্টেম) ও অসক্রিয় ব্যবস্থা (প্যাসিভ সিস্টেম)। সক্রিয় ব্যবস্থার একটি স্বয়ংক্রিয়, অন্যটি অস্বয়ংক্রিয় (ম্যানুয়াল)। ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম বা অগ্নিশনাক্তকরণ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় ও ম্যানুয়াল উভয় কৌশল থাকে। পুরো অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থায় তাপ শনাক্তকরণ, ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকতে হয়; এসব যন্ত্রের সাহায্যে অগ্নিকাণ্ডের একদম শুরুতেই তা শনাক্ত করে সতর্কসংকেত (অ্যালার্ম) দেওয়া, যেন ভবন ব্যবহারকারীরা অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। সক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে আরও থাকতে পারে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, স্প্রিঙ্কলার, হোস পাইপ সিস্টেম ইত্যাদি, এগুলোর সাহায্যে আগুন নেভানো হয়। স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম হলো স্বয়ংক্রিয়, যা আপনা–আপনি চালু হয়ে আগুন নির্বাপণ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অন্যগুলো ভবনের আগুন চিহ্নিত হওয়ার পরে অধিবাসী বা অন্য কারও স্ব-উদ্যোগী হয়ে এক্সটিংগুইশার বা হোস পাইপ ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণ বা নির্বাপণের ওপর নির্ভরশীল।

অসক্রিয় ব্যবস্থা হলো ভবনের এমন কিছু নির্মাণ বৈশিষ্ট্য, যা আগুনের বিস্তার রোধ করবে এবং ধোঁয়ার প্রভাবমুক্ত অবস্থায় বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্গমন নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য, সারা পৃথিবীতেই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশের মৃত্যু ঘটে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। বনানীর এফ আর টাওয়ারেও কেউই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাননি। ভবনের কোথাও আগুন লাগলে তা যাতে ছড়িয়ে না যায়, করিডর এবং অগ্নি-বহির্গমন পথ (ফায়ার করিডর এবং সিঁড়িপথ) যাতে ধোঁয়া ও আগুন থেকে মুক্ত থাকে, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অগ্নিকাণ্ডের পরেও যাতে ভবনটি কাঠামোগতভাবে অন্ততপক্ষে কয়েক ঘণ্টা টিকে থাকে ইত্যাদি নিশ্চিত করা হয় অসক্রিয় ব্যবস্থার দ্বারা। ওপরে উল্লিখিত দুটি ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি কার্যকরী অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়।

বনানীর অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার দুটি অংশের কোনোটিই নিয়মমাফিক ছিল না। এতগুলো প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার কারণ হিসেবে বহুতল ভবনটির নকশায় জীবন-সুরক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীলতা ও সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করা যায়। অগ্নিশনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত অগ্নিবহির্গমন পথ থাকলে মানুষ আগুন লাগামাত্রই সতর্কসংকেত পেত এবং ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে পারত। হয়তোবা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাও সম্ভব হতো। অবশ্য দাহ্য পদার্থ বেশি থাকলে আগুন শনাক্তকরণের পরও ম্যানুয়ালি আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না–ও হতে পারে। কারণ, আগুন নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছে গেলে মানুষের পক্ষে শুধু পানি বা নির্বাপণযন্ত্র দিয়ে আগুনের কাছাকাছি গিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। ভবনটিতে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম থাকলে আগুন শনাক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গে স্প্রিঙ্কলার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যেত, তাতে আগুন হয়তো সম্পূর্ণ নিভে যেত অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকত। এ সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারত। সঠিকভাবে অসক্রিয় ব্যবস্থার নকশা করা হলে আগুন দ্রুত অন্যান্য তলায় ছড়াতে পারত না। আগুন বা ধোঁয়া সিঁড়িঘরেও ছড়াত না, ভবনের অধিবাসীদের নিরাপদ বহির্গমনের জন্য যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে দাহ্য পদার্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভবনের অভ্যন্তরীণ সজ্জায় অতি দাহ্য উপকরণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অগ্নিঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভবনের আকার ও তা ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে অগ্নিনিরাপত্তা–ব্যবস্থার অন্তর্গত ওপরে উল্লিখিত অগ্নিপ্রতিরোধ ও অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেই একটি কার্যকরী অগ্নিনিরাপত্তা–ব্যবস্থার নকশা–পরিকল্পনা করতে হয়।

 নতুন ভবনের ক্ষেত্রে সঠিক নকশা ও নির্মাণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ইতিমধ্যে যেসব ভবন নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? এটা বর্তমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইতিমধ্যে নির্মিত অধিকাংশ ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তন জটিল ও ব্যয়বহুল, পারফরম্যান্স-বেইজড রেট্রোফিটিং করা যেতে পারে। আমাদের শহরগুলোতে বিশেষত সুউচ্চ ভবনের এলাকাগুলোতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান ভবনে পর্যাপ্ত পানির আধার বা ট্যাংক না থাকলে দু–একটি তলা ভেঙে ফেলে পানির আধার নির্মাণ করা যেতে পারে। বাস্তবসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা না করা গেলে উপযুক্ত সফটওয়্যারের মাধ্যমে অধিবাসীদের বহির্গমনের গতিবিধি সিমুলেট করে ভবনের যত তলা পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ বহির্গমন সম্ভব হবে, তত তলাই ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে। আগুন ও ধোঁয়া যাতে ছড়াতে না পারে এবং করিডর ও সিঁড়িঘরে যাতে আগুন ও ধোঁয়া ছড়াতে না পারে, সে জন্য পর্যাপ্ত ফায়ার সেপারেশন ও ধোঁয়া নির্গমনপথের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ফায়ার ড্যাম্পার ব্যবহার করতে হবে। সুউচ্চ ভবনের ক্ষেত্রে ফায়ার লিফট রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ও নিয়মিত ফায়ার ড্রিল অনুশীলনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস বিভাগ নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ফায়ার সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। মোটকথা, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে চলতে হবে, ভবনগুলোকে নিরাপদ করতেই হবে।

আমাদের দেশে প্রকৌশল শিক্ষায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়টি এখনো পুরোপুরি উপেক্ষিত। এই বিশেষায়িত শাখায় স্থাপত্য, পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, যন্ত্রকৌশল ইত্যাদি বিষয়ের সমন্বিত পাঠ্যক্রমভিত্তিক একটি বহুশাস্ত্রীয় বিদ্যার প্রয়োজন হয়। এ দেশে প্রশিক্ষিত অগ্নিসুরক্ষা প্রকৌশলী (ফায়ার প্রটেকশন ইঞ্জিনিয়ার) নেই। বুয়েটে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে উপযুক্ত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ফায়ার প্রটেকশন অ্যান্ড সেফটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার নকশা–পরিকল্পনা ও স্থাপনের কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিসুরক্ষা প্রকৌশলী পদ থাকাও বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

লেখকেরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, স্থাপত্য বিভাগ, যন্ত্রকৌশল ও আইপিই বিভাগের শিক্ষক এবং বুয়েটের ফায়ার সেফটি প্রোগ্রামের সদস্য

Source:- Prothom Alo

Fire and Safety / A Fire Next Door
« on: April 03, 2019, 02:54:12 PM »

Before the amber of the last one turn to ashes and forgotten memories, a new flame leaps up in another neighbourhood of the city, revealing, once again, cracks in the façade of our tilottoma. Burning buildings expose the inadequacies and vulnerabilities in our public life. Architects make stunning buildings, but the city goes to hell. Such is the state of our urban realm.

Greed is what makes this city move, and at the same time stops it from becoming a collective, a fundamental aspect of a “good” city. Embedded in the system, and in the predatory urban genetics, individual greed overrides the public good. Greed is also what makes the collective vulnerable. Those who have greater leverage in the contorted system show no hesitation in abusing the weak junctions. “To each his own” has turned the city into a breeding ground for endemic disaster and misfortune.

When death comes, we have to accept it, as is the writ, but not deaths that are unwarranted and, most importantly, avoidable. That is the tragic fact of the recent disasters of Dhaka: they were avoidable. Which is what makes us both aggrieved and angry. Deaths in the Banani fire, and in Chawkbazar and Nimtoli, could have been avoided if we had all played our parts right. If FR Tower were properly designed, not a single life would have been lost. Which makes us realise that constructing a beautiful building is half the task; keeping it safe is a greater achievement.

From the building owners, architects, builders and managers, who alter building plans for profit, to state officials, who allow faulty documents to pass, all contribute to these recurring catastrophes. “To fulfill the goal of achieving a planned city,” the city's premier agency Rajuk announces in its website, “Rajuk has taken initiatives to make it liveable through solving housing, transportation problems and creation of large-scale water-based public spaces/open spaces like Hatirjheel integrated project.” There is not much mention of safety and regulation.

Instead of beautification projects, we suggest that the administrators of the city give more attention to the wellbeing of their citizens. Instead of selling plots and making money, like a real estate developer, the city's premier agency might focus on its fundamental role of development control and ensuring safety. Declaring that they do not have adequate manpower, as Rajuk claims, is unacceptable when human lives are involved. Rajuk can instead create a special taskforce trained in safety codes which will enforce the requirements without any hindrance. While we laud the difficult and dangerous work of the fire brigade members, we also expect them to be proactive in monitoring buildings for fire safety.

A city of nearly 20 million, Dhaka is in the throes of hyper-construction with newer conditions of liveability and practices. Business as usual and institutions as before will not help. Clearly, it is time to rethink the governance and maintenance of this complex city. There is now more need of competence and vigilance as Dhaka proceeds onward at high speed. Institutional differences among the mayors' offices, Rajuk, and other agencies have not helped secure a safe city for us.

We have become habituated to mid-rise and high-rise structures before understanding and putting into practice the obligations that come along with it. While the high-rise is relatively a new building type for Dhaka, we have not yet developed the full measure for occupying it. Bangladesh does have firefighting codes in the Bangladesh National Building Code (1993) that speaks clearly about fire detection and fighting system for such building types. But the code by itself is not enough; it has to be internalised as a living practice.

The FR Tower tragedy has ushered in a necessary recitation of fire-related safety: high-rise buildings must have properly located fire exits, exit corridors and fire stairs should have fire-rated walls, building spaces must have fire-rated doors, fire stairs should keep smoke out through induced air pressure (most people succumb to smoke-related asphyxiation before burning), exits must be operable and not locked (as is the case in many Dhaka buildings), fire-sensing and fighting devices must be in place in key locations, AC outdoor units must be housed properly lest they explode during fire, there should be proper signage for exits, and most importantly, fire drills should be enacted for both awareness and ensuring exit practices.

It is obvious that few or none of the above were in place in FR Tower (“FR” now can only stand for “fire”). The negligence is appalling. The building plan is unacceptable for a tall building. Before one points to the total lack of firefighting conditions in the cursed building, Rajuk will have to explain how its authorising committee and inspectors allowed the construction of a building with a flawed plan.

Notwithstanding the usual blame-game scenario, someone has to take the blame for the Banani fire. When the Grenfell Tower burned in London in 2017, taking the lives of 72 people, the British government immediately offered to re-house displaced occupants and help deal with traumas, while the Scotland Yard brought up charges of “corporate manslaughter” against the borough that built Grenfell.

If the public works minister has declared the gruesome occurrence as a “murder” and police are filing a case, the target should not only be owners but officials who allowed the faulty building in the first place. It's a long chain of criminal negligence that needs to be exposed.

In fact, the stretch of buildings on Kemal Ataturk Avenue, where FR Tower is located, is particularly vulnerable and volatile—20-storeyed buildings abutting each other with structural risks and faulty plans. There are buildings with one staircase! Even if there is an emergency staircase, it is wrongly located, as in our villainous building. And, in most cases, such stairs have no fire-rated walls or doors, and no precaution for smoke control. A misfortune in one building—with a fire or earthquake—will affect neighbours like a pack of cards. That stretch is designed for disaster.

As buildings in the Kemal Ataturk stretch were built before the codes came into effect, they need to be retrofitted with special stairs and other firefighting systems. It is estimated that retrofitting a 22-storeyed building will cost approximately Tk 2 crore, or less than Tk 10 lakh per floor, which is not much of a challenge for a commercial enterprise.

The mayor of North City Corporation has announced an admirable plan to review all building plans in the next few weeks. Considering the enormity of the task, when 80 percent of Dhaka's buildings may fail the safety bar, we suggest that the mayor take on 10 different areas in Dhaka and put in place a retrofitting procedure on a fast-track basis as a demonstration. Instead of waiting for the authorities to take action, it would also be prudent for the owner and manager of each and every building above six storeys, with more than 200 people housed in it, to review their buildings for fire- and earthquake-related safety with professional help.

We all live in an extremely vulnerable environment in Dhaka. Without much of a warning, buildings may tilt, collapse, or burn. The office of Bengal Institute is located in a building neighboring the FR Tower. One fine afternoon, as our colleagues were working, they found the space next door shrouded in flames and smoke. Witnessing terrifying sights, they managed to escape to the street, dazed and distressed.

Is it that difficult to make things better in this stubborn city? No, it is not. Urban administration and governance are no rocket science unless impeded by lethargy, incompetence or corruption. Complacency is another foe. In our usual false contentment, we can say, “Ah well, the fire was next door,” or “in another neighborhood.” Next time, it could be our fire.

Kazi Khaleed Ashraf
He is an architect and directs the Bengal Institute for Architecture, Landscapes and Settlements. Hasina Choudhury and Nusrat Sumaiya provided important information for this article.

Source:- The Daily Star.

Articles and Write up / Working Against a Stacked Deck
« on: March 07, 2019, 01:34:20 PM »

“I've earned the degree and the job. It's not something that was given to me as a gift,” says Afnan Rudabe Rahman, Project Engineer and Coordinator at Energypac Electronics Ltd. She, like countless other women, has had to coolly answer multitudes of unnecessary questions about her established qualifications, simply because she didn't fit the mental image some people have of workers employed in her field. And like all those women, she takes it in stride as part of the unavoidable struggles of being a female STEM major.
Employment in Science, Technology, Engineering and Mathematics — or STEM — fields has been dominated by the male population since their origin. Some of the lowest numbers of females working in STEM fields can be found in south Asia and the Indian subcontinent, with a fact sheet1 published by the UNESCO in March 2015 placing their number at roughly 20 percent.


Research2 conducted upon gender differences in spatial ability and its implication regarding STEM education has shown that due to males generally being brought up playing outdoors, they develop better spatial visualisation from an early age. This in turn enables them to become better at STEM subjects in school. The paper also shows that given the same kind of upbringing girls achieve the same level of success in mathematics and science. Typically in Bangladesh, girls are not encouraged to engage in activities that would improve their spatial abilities, leading to a competitive disadvantage in these subjects. Hence a lack of confidence and interest in the technical fields of STEM is cultivated from childhood. This is one of the reasons which explain the fewer number of females in STEM fields compared to men.

Despite their upbringings, an extensive research3 that goes into multitudes of reasons for the differences in the innate ability of both sexes in grasping scientific and mathematical concepts, provides conclusive data illustrating that “there is no single factor by itself that has been shown to determine sex differences in science and math”. It states that no simple generalisation can be made regarding which one gender is better than the other in these subjects.

In recent times, especially in the last couple of decades, women have finally broken numerous barriers and managed to carve out their own niche in these fields. However, regardless of the increased number of females in STEM majors in Bangladesh and around the world, most women face gender-based discrimination of varied proportions at every step of the way.

While majoring in STEM fields, some unexpected hurdles lie in store for the females in the crowd.


“Most people think girls are naturally adept at working in research fields rather than in the industrial arena,” says Samira Mahmood, fourth-year Computer Science and Engineering (CSE) major from North South University.

These perspectives are not isolated, as is corroborated by Tajbia Hossain, third-year CSE major at Ahsanullah University of Science and Technology, who says, “Teachers always want our lab groups to have at least one boy. They think that an all-girls group won't be able to handle all the equipment.”

Farah Neha, third-year Civil and Environmental Engineering major at NSU, elaborates, “If some data needs to be recorded from a site, it's common for teachers to say, 'You can't do it, let him handle that.'” If females are missing out on these crucial learning experiences while studying the same major, it can only lead to further struggles in the future and propagate the already existent conception that, regarding their field of study, females have less knowledge than males.


Perhaps the most common form of gender-based discrimination faced is of a subtle nature, taking root in slight comments and insinuations.

Hossain discloses the story of a male teacher from a Safety Management and Industrial Law course who proclaimed that “boys are better than girls at maths”, when approached by a student who went to clear some confusion she had with a mathematical problem. Such comments, which are unfortunately familiar to all women, have the power to break one's self-confidence and needlessly make one doubt whether they have chosen the wrong path for themselves.

The problem isn't necessarily limited to being a local one either. Farial Samira Rahman, undergraduate research assistant at the University of Texas in Dallas reveals, “I've seen male master's students questioning my female PhD students on issues where she was telling him what he was doing wrong. He was arguing instead of following her instructions, but once another male PhD student told him the exact same thing, he went along with it.” With the same level of experience, and sometimes while voicing identical ideas, women find it much harder to have their voices heard.


The only STEM field in which gender-based discrimination at undergraduate levels does not appear to be a major concern are life sciences. This is perhaps the case because, of all STEM subjects, biological fields are thought to not require extensive visual-spatial ability or mathematical skill. Regardless of the accuracy of this notion, its outcome has been a more equitable educational system.

Fariha Akhter Chowdhury, currently studying International Master in Innovative Medicine at Uppsala University in Sweden, who completed her graduation in Pharmacy from Bangladesh, states that she did not face any gender-based discrimination in the academic level, and everyone was judged according to their intellect.

First-phase medical student at Popular Medical College, Fahemun Karim Mehika, responds with a resounding “Yes!” when asked whether she believed male and female students were treated equally in medicine.

The struggles don't stop with the completion of one's bachelor's degree however. On the contrary, most women would describe attaining and then working in a desired position in a STEM field as a much more challenging task, with gender-based discrimination growing in transparency.


Aparajita Goswami, Head of Voice & Data Service Operations at Grameenphone Ltd., who completed her BSc in Electrical and Electronics Engineering from BUET, identifies the major concerns females have upon entering the employment sector.

She mentions that employers during her initial years were not as attentive towards building up the careers of the females in the company as they did for the males. They may have thought that they wouldn't be able to be as demanding with females as they are with males about extra hours.

Something she stresses is that she does not want prioritisation. She does not want to be allowed to leave meetings early. “Even though a lot of managers think that they are helping us, that is not a favour; it's just another form of discrimination.”

“When I talk to male employees abroad, sometimes they cut our meetings short because the day-care closing hours are upon them. But here, it's unimaginable that a male would do that,” says Goswami. She expresses that if our familial responsibilities were divided even partially between the males and females, then work-life balance could be dealt with much better.

She is the first female to be handed the position she currently holds, because it is a role where she is on-call 24/7. “I took on this challenge and it is in fact difficult to maintain work-life balance, but I have a supportive family and that helps immensely.” She reveals that recently Grameenphone has taken initiatives to mitigate challenges faced by female employees, and claims that if these initiatives were taken when she first joined, she could have reached her current position years earlier.

To female STEM hopefuls, she advises that they should be very clear about their aspirations from the beginning of their undergraduate level, and build themselves up accordingly. She further states that no one will solve your problems if you do not vocalise them, so “You should speak your heart.”

Earlier, Goswami was also one of the initial female engineering recruits at a large multinational firm. She elaborated her struggle to convince less educated fifty-year-old male employees there to accept a younger female engineer as their supervisor. In the struggle to prove one's qualifications in STEM, she's definitely not alone.

Afnan Rudabe Rahman reveals that on the first solo meeting she conducted for her company, the initial thirty minutes were spent explaining her credentials. The client inquired after her major, the institution from which she graduated and her CGPA as well. “The way he asked me those questions in the beginning, I'm sure he thought I wasn't qualified enough for my job,” she says.

Furthermore, in the life sciences where previously discrimination had not been a concern, Fariha Chowdhury rightfully states that, “It's a different picture when you start looking for a job in this field.”

Sadia Afrin Shorna, Sr. Executive, International Marketing, Beximco Pharma Ltd., mentions that her job had been at risk of being handed to a male applicant, regardless of her outperforming them in the written exam, because it required travelling abroad. She had to convince her employers that she could perform all the travel required for the position, before they decided to hire her.

Pauline Francisca Gomes, Intern Doctor at Bangladesh Medical College and Hospital, imparts that when it comes to internal medicine, patients tend to prefer male doctors. She says, “Perhaps the patients get psychological peace thinking they are in safe hands.” She admits that females are more susceptible to negative bias from patients, but also says that male doctors sometimes have to struggle as well.

Having to prove one's abilities repeatedly despite possessing a degree that certifies said abilities is a physically and mentally exhausting ordeal. It is one that females who have chosen traditionally male-dominated fields have to face regularly. We may have come leaps and bounds from the times when engineering, medicine, or scientific research were solely male careers, but regardless of the increasing number of women in these fields, there are still miles to be covered and mountains to be conquered before gender parity is achieved in STEM.


1. Women in science: quarterly thematic publication, issue I, March 2015, UNESCO Office Bangkok and Regional Bureau for Education in Asia and the Pacific

2. Reilly, David & Neumann, David & Andrews, Glenda. (2016). Gender Differences in Spatial Ability: Implications for STEM Education and Approaches to Reducing the Gender Gap for Parents and Educators. 10.1007/978-3-319-44385-0_10

3. Halpern, D. F., Benbow, C. P., Geary, D. C., Gur, R. C., Hyde, J. S., & Gernsbacher, M. A. (2007). The Science of Sex Differences in Science and Mathematics. Psychological science in the public interest : a journal of the American Psychological Society


Rabita Saleh is a perfectionist/workaholic. Email feedback to this generally boring person at



The curriculum for any undergraduate programme is highly influenced by the social, physical, economic and cultural environment. Consequently, with the change of any such setting(s), its development process will also change. The great economist and Nobel Laureate, Wassily Leontief, wrote in 1953 that “labour will become less and less important… More and more workers will be replaced by machines.”

However, an insightful way to understand the overall effect of new technology on the number of jobs in the economy is to look at it as a race between two dynamic processes. Automation tends to take jobs away while the invention of new complex tasks creates new jobs. In this context, there is an increasing demand for graduates who can speak and write effectively, have high-quality interpersonal (teamwork) and creative thinking skills, are innovative and have some understanding of world affairs, and can work effectively with individuals from different cultures and backgrounds. Universities in developed countries as well as in many developing countries are paying greater attention to the quality of education they provide to students, and to redesigning curricula. These institutions are constantly rethinking their goals and priorities, their curricula, and the way learning takes place.

The present curriculum development process is different from that of traditional curriculum development. In the traditional process, the curriculum is a collaborative effort of senior faculty members and course teachers. Course teachers are involved as they know the contents of the courses and the way courses are taught. The curriculum focuses on a specific body of knowledge to be transmitted to students and relies heavily on memorisation and drilling of facts and formulas. Education systems founded on traditional curricula often focus solely on the subject matter being taught and favour measurement of educational objectives via a great deal of testing. Statements of programme outcomes do not exist for curricula and courses. Traditionally, course improvement has been the responsibility of individual faculty, and efforts to redesign curricula have usually been assigned to departmental committees established specifically for this purpose.

Designing a quality course or curriculum is always difficult, time-consuming, and challenging. A curriculum must be developed sequentially, beginning with aligning programme educational objectives with the institutional statement of vision and ending with the assessment of each student before and after graduation. It requires thinking about programme educational objectives and programme outcomes for students, the demands of accreditation agencies, competencies and skills required at jobs, and how a teacher can facilitate the learning process.

Programme educational objectives are broad statements that describe the career and professional accomplishments of graduates. Keep in mind that although programme educational objectives are long-range and focused on performance well after graduation, it is possible within an undergraduate programme to identify the skills, attitudes, and understandings that are the underpinnings of these long-range objectives. On the other hand, programme outcomes must be achieved during the academic programme. Each programme must have documented student outcomes that prepare graduates to attain the programme educational objectives.

As the design process starts, from defining programme educational objectives to developing programme outcomes and course outcomes and then course-by-course outcomes, the statements become increasingly specific. The design of each course, the selection of instructional methods, and student assessment are based on these statements. The process of moving from a statement of objectives and outcomes to deciding on and implementing a programme and relating individual courses to the curriculum requires careful planning. If, for example, speaking skills are identified as a basic competency that every student must have by graduation, public speaking must be initially taught and then reinforced, and no student should be able to graduate without receiving appropriate instruction and practice in this skill. Courses must be analysed to identify where this skill is introduced and then reinforced, and the curriculum must be structured so that every student has the opportunity to acquire speaking skills. In the case of developing competencies in speaking, the required courses will most likely be those with smaller enrolment, or lecture courses that have discussion sessions associated with them. Developing and using interpersonal skills, problem-solving, critical thinking, basic statistics, and so on, are widely listed core objectives and can be an integral part of most courses.

In every institution, the final determinant of the quality of the academic programme is the performance of its graduates. The degree of success will depend on how well the curriculum is delivered through its courses and other learning experiences provided to students. Every student must have the opportunity to reach and demonstrate every stated basic competency. Carefully articulated learning outcomes must be the basis on which instructional methods are chosen and the criteria by which competency must be measured. The effectiveness of an institution or programme and of individual faculty members is then determined by the ability of students to meet these objectives and outcomes. At the same time, it must be recognised that not all students will reach these goals, because their attitudes, willingness to work, and ability also play an important role in determining success. It is the responsibility of an institution to do everything to facilitate the learning that is required and to give each student a fair opportunity to succeed.

Higher education generates broader economic growth as well as individual success. For example, a recent study determined that universities contributed nearly 60 billion pounds to the economy of the United Kingdom in 2007-08 (Drew Gilpin Faust, June 30, 2010). Therefore, universities in Bangladesh can also change the society and remain the centre of change and economic development. In that case, universities need to produce graduates with high-level skills, critical thinking competency and innovative quality; and such graduates can get jobs in national and global markets, and also can be successful as entrepreneurs and self-employed workforce. Such dispositions demand changes in curricula, and teaching and assessment methods to create a young generation of active learners and creators. The primary task lies with universities in Bangladesh to develop curricula for programmes following the widely accepted development process.


MM Shahidul Hassan is Vice Chancellor of East West University & Former Syndicate member of DIU,Dhaka.

Announcements/News & Event / PRE-CONFERENCE WORKSHOP
« on: February 05, 2019, 03:01:00 PM »
Please see the attached file for details.

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। নিজে একজন সফল উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতেও সব সময় আগ্রহী। ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবনা, উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ—এমন নানা কিছু নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ

যত দূর জানি, আপনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে পড়েছেন। জীবনে নিশ্চয়ই এমন একটা মুহূর্ত এসেছে, যেটা আপনার ক্যারিয়ারের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছে।

এটা ঠিক যে স্কুল-কলেজে আমার পাইলট হওয়ার ইচ্ছা ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সেনাবাহিনীর লং কোর্সে টিকেও গিয়েছিলাম। আমি ও আমার এক বন্ধুর সকাল ১০টায় রিপোর্টিং করার কথা। অর্থাৎ সকাল ৮টায় জাহাঙ্গীরনগর থেকে রওনা হতে হবে। সকালে বন্ধু যখন আমার রুমের দরজায় টোকা দিল, কেন যেন বলে বসলাম, আমি যাব না। মনে হচ্ছিল, আর্মিতে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়–জীবনটা মিস করব। সবাই খুব অবাক হয়েছিল। মা-বাবা অখুশি হয়েছিলেন। সেদিন যদি আর্মিতে যেতাম, হয়তো জীবনটা অন্য রকম হতো। কিন্তু এই সুযোগটা হারানোর কারণে আমার জেদ চেপে গিয়েছিল। এরপর আরও নানা কিছু করেছি। বিদেশে যাব ভেবে টোয়েফল দিয়েছি। স্নাতক শেষ হওয়ার পর দেখি বন্ধুরা সবাই বিসিএস দেয়, আমিও দিলাম। টিকে গেলাম। আমার পোস্টিং হয়েছিল ডাক বিভাগে। পররাষ্ট্র ক্যাডার পেলে হয়তো সরকারি চাকরিতেই যেতাম। আবার ব্যাংকে চাকরি পেয়েছি। কিন্তু ব্যবসা করার ইচ্ছে সব সময় ছিল, তাই মাস্টার্সের রেজাল্ট হওয়ার আগেই আমি ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আমি মনে করি প্রতিটা ব্যর্থতাই একেকটা শিক্ষা। এই যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে হলো না, এই ব্যর্থতা আমাকে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

এখন যেমন সবকিছুই কম্পিউটারনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর। নব্বইয়ের দশকে তো এমনটা ছিল না। কম্পিউটারের ব্যবসা কেন শুরু করলেন?

আমার সব সময় একটা মনোভাব ছিল, আমি সেই ব্যবসাই করব, যেটা সম্পর্কে আমি ভালো জানি। সে সময় কম্পিউটার হয়তো এত পরিচিত ছিল না, কিন্তু যে অল্প কয়েকটা প্রোগ্রাম ছিল, সেগুলোই খুব ভালো জানতাম। কম্পিউটার নিয়ে যেহেতু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল, ভাবলাম এই খাতেই ব্যবসা করি। সে সময় কম্পিউটার সায়েন্স নামে কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু আমাদের সময়ই প্রথম কম্পিউটার সায়েন্স নামে ১০০ নম্বরের একটা কোর্স চালু হলো। আমি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম। কারণ পরিসংখ্যানের কিছু বিষয় মজা লাগত না, কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্স খুব ভালো লাগত।

ছাত্রজীবন থেকেই বোধ হয় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আপনার মধ্যে ছিল। একজন উদ্যোক্তা হতে হলে যেই বৈশিষ্ট্যটা খুব প্রয়োজন।

হ্যাঁ। আমি কখনোই বেকার থাকতে পছন্দ করতাম না। তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকত। এলাকায় গিয়ে তরুণদের ডেকে তখন উন্নয়নের অগ্রদূত নামে একটা সামাজিক সংগঠনের কাজ করতাম। স্কুলে পড়ার সময় খেলাঘর আসর করেছি, স্কাউটিং করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে রোটার​্যাক্ট ক্লাবে খুব সক্রিয় ছিলাম। সব সময় আগ্রহ ছিল নতুন কিছু করার। পারি বা না পারি, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, গান, সবকিছুতে নাম লেখাতাম। কখনো কখনো পুরস্কারও পেতাম। এখন বুঝি, এই আগ্রহই পরে কর্মজীবনে কাজে এসেছে।

২৪ জানুয়ারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১৭ বছর পূর্ণ হলো। ২০০২ সালে যখন শুরু করেছিলেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভাবনা কী ছিল?

আমাদের খুব সৌভাগ্য, শুরুতেই উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের মতো একজন মানুষকে পেয়েছিলাম। তিনি এত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়েছিলেন যে সত্যি বলতে, ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খুব একটা ভাবিনি। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা মূল্যায়ন করল। দেখলাম সেরা ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমাদের অবস্থান ৬ নম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স তখন মাত্র ৪-৫ বছর, অনেক সময় শিক্ষকদের বেতন ঠিকমতো দিতে পারি না, নানা সমস্যা। আমি খুব অবাক হলাম, এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে আমরা এত ভালো করলাম। তখন বুঝলাম, এটা আসলে অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের কঠিন নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতার ফল। এই ঘটনাটা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করল। তখন মনে হলো, আমিনুল ইসলাম স্যার যদি বিশ্ববিদ্যালয়টাকে এত দূর নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আমি কেন আমার অভিজ্ঞতাটাও তাঁর সঙ্গে যোগ করি না? বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দিতে শুরু করলাম। ঠিক করলাম, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আমরা একটা করে ল্যাপটপ দেব, বিনা মূল্যে। তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩৪ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ল্যাপটপ দিয়েছি।

ল্যাপটপ দেওয়ার কথা ভাবলেন কেন?
আমার ভাবনা ছিল, শিক্ষার্থীরা যদি ল্যাপটপ পায়, তারা কর্মজীবনে ভালো করবে। তাদের একটা বিরাট অংশ এটাকে কাজে লাগাবে। হয়েছেও তাই। আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তির সব খাতে দেখবেন আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো করছে। কয়েক দিন আগে একটা ছেলে এসে বলল, স্যার, আমি নারায়ণগঞ্জে একটা ব্যবসা করছি। আপনাকে একটা প্রেজেন্টেশন দেখাতে চাই। সে যখন প্রেজেন্টেশন দিতে শুরু করল, দেখলাম সে ড্যাফোডিলের দেওয়া ল্যাপটপ নিয়ে এসেছে। সে যখন বলল, স্যার, এই ল্যাপটপ দিয়েই তো আমি জ্যামে বসে পরিকল্পনা করেছি, ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছি; আমার মন ভরে গেল।

উদ্যোক্তা তৈরির জন্য আপনি অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ নামে একটা বিভাগ আছে। শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আরও নানা রকম কার্যক্রম আছে ড্যাফোডিলের।
প্রতি সপ্তাহে আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটা স্টার্টআপ মার্কেটের সুযোগ করে দিই। এই মার্কেটে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিক্রি করে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্তোরাঁ চালানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার কিংবা টি–শার্ট সরবরাহ...সবকিছুই করে শিক্ষার্থীরা। একটা দল পাস করে বের হয়ে যাচ্ছে, নিজের ব্যবসা চালু করছে। আবার নতুন একটা ব্যাচ এসে হাল ধরছে। এ ছাড়া আমরা ক্যাম্পাসে প্রচুর প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। হাল্ট প্রাইজ, গেট ইন দ্য রিং, আর ইউ নেক্সট স্টার্টআপ, স্টার্টআপ আইডিয়া ফর ফান্ড...এই সব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীকে ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করা, চর্চা করার সুযোগ করে দেওয়া। সম্প্রতি একটা তহবিল চালু করেছি। আমি ছাত্রছাত্রীদের কিছু ক্লাস নিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার জন্য আমাকে বেতন দেওয়া হয়। আমি বললাম, আমি বেতন নিলে সেটা তো ভালো দেখা যায় না। এই টাকাটা দিয়ে বরং একটা তহবিল গঠন করা হোক। উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল। কোনো শিক্ষার্থী যদি ব্যবসা করতে চায়, তার যদি তহবিলের দরকার হয়, সে বিনা সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য যদি সংক্ষেপে ৩টি পরামর্শ দিতে বলি...

প্রথম পরামর্শ হলো, শুরু করো। দ্বিতীয় পরামর্শ, ফান্ড নিয়ে ভেবো না। শুরু করতে পারলে ফান্ডের ব্যবস্থা হবে। তৃতীয় পরামর্শ হলো, সব লিখে রাখো। আমি অনেক বড় ব্যবসায়ীকে দেখেছি, যদি বলি আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা আমাকে পাঠান, আমি একটু বিশ্লেষণ করে দেখি। দিতে পারে না। এটা খুব দুঃখজনক। মাথায় রাখলে হবে না। নোট রাখতে হবে। তাহলে পরিকল্পনাটা গোছানো হয়, ভুলগুলো জানা যায়।

আরও ৬ পরিচিতি

● পরিচালক, ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা)

● হাইকমিশনার, ওয়ার্ল্ড বিজনেস অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম বাংলাদেশ

● সহসভাপতি, অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ অব এশিয়া অ্যান্ড দি প্যাসিফিক

● সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ

● সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি

● প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্ক (বিবিএএন)

মো. সবুর খান
জন্ম, বাবুরহাট, চাঁদপুর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর

ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা

দেশের প্রথম কম্পিউটার সুপারস্টোর ধারণার প্রবর্তন

ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি প্রতিষ্ঠা

প্রথম দেশে ব্র্যান্ড কম্পিউটার ড্যাফোডিলপিসি বাজারজাত

প্রথম তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে ‘পাবলিক লিস্টেড প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড

ভারতের কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি অর্জন

৫ প্রতিষ্ঠান

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

● বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই)

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

● ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি (ডিআইআইটি)

● ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি (ডিআইএ)

৩ বই

● হ্যান্ডবুক অব এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট

● উদ্যোক্তা উন্নয়ন নির্দেশিকা

● আর্ট অব ইফেক্টিভ লিভিং এবং আ জার্নি টুওয়ার্ডস এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ

৫ পুরস্কার

● দ্য ডেইলি স্টার আইসিটি বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৮

● লাইট অব এশিয়া অ্যাওয়ার্ড

● ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব আইটি (ডব্লিউসিআইটি) ২০১৭ মেরিট অ্যাওয়ার্ড

● এশিয়া’স মোস্ট ইনস্পায়ারিং ন্যাশন বিল্ডার পুরস্কার

● উইটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনিউর


Back in 1999, Jack Ma co-founded what would become the globe-spanning commercial behemoth Alibaba.

Twenty years later, he still has a spring in his step - and a stream of advice to pass on to young global entrepreneurs gathered to hear him speak at Davos 2019. Here are some of the top quotes from his talk.

1. "Of course I was scared and had doubts [when I started Alibaba]. But I believed someone, if not us, would win. There are no experts of tomorrow, only of yesterday."

2. "In business, never worry about competition, never worry about the pressure. If you worry about pressure, don't be a businessman ... If you create value, there is opportunity. Today the whole world worries. That means there is great opportunity."

3. "Your first job is your most important. Not necessarily a company that has a great name but you should find a good boss that can teach you how to be a human being, how to do things properly, and stay there. Give yourself a promise: I will stay there for three years."

4. "How can we teach kids to be more creative and do things that machines cannot do? Machines have chips, but human beings have hearts ... Education should move in this direction."

5. What keeps Jack Ma awake at night? "Nothing! If I don't sleep well, the problem will still be there. If I sleep, I have a better chance to fight it."

6. "To manage smart people you have to use culture, the value system, they believe what they do. If you just want to use rules and laws and documents to control - that's how you control stupid people."

7. "When I hire people, I hire the people who are smarter than I am. People who four, five years later could be my boss. I like people who are positive and who never give up."

Video Link: 1.


উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই বলে মনে করেন আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের অন্তরে শেখার অদম্য আগ্রহ এবং নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবনের সক্ষমতা থাকতে হবে বলে অভিমত দিয়েছন এই সফল শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি আরো মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা দেশে বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা উন্নয়নের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।  আজ শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭১  মিলনায়তনে  আয়োজিত ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া বক্তৃতা মালা’ অনুষ্ঠানের ১২তম পর্বের বক্তৃতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম, আলহাজ আনোয়ার হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মনোয়ার হোসেন, দ্বিতীয় পুত্র হোসেন মেহমুদ ও কনিষ্ঠ পুত্র হোসেন খালেদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক মো. আবু তাহের খান। অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান।

বাবার সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আলহাজ আনোয়ার হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র মনোয়ার হোসেনের বলেন, বাবার ব্যবসা জীবনের সফলতার কথা আপনারা অনেকেই জানেন। আমি বলতে চাই ব্যক্তি আনোয়ার হোসেনের কথা। তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে মিশতেন। দেশ-বিদেশে প্রচুর ভ্রমণ করতেন। এখন অসুস্থতার কারণে পারেন না। বাবা বলতেন, আনোয়ার গ্রুপে নিম্নস্তরে যারা কাজ করছে তাদের ছেলেমেয়েরা যেন পিতার মতো শ্রমিক হয়ে ফিরে না আসে। তাদেরকে অবশ্যই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হতে হবে। এজন্য তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতেন।  এসময় তিনি আরো বলেন, বাবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারেননি বলে সারা দেশে ৩৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহযোগিতা করেন। এখনো আনোয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকে সেই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

আলহাজ আনোয়ার হোসেনের দ্বিতীয় পুত্র হোসেন মেহমুদ বলেন, আমি পড়াশোনা শেষ করার পর বাবা আমাকে আনোয়ার টেক্সটাইল দেখাশোনার দায়িত্ব অর্পন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, মানুষের জীবনে শিক্ষার কোনো শেষ নেই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিখতে হবে। বাবার এই উপদেশ তিনি এখনো মেনে চলেন বলে জানান হোসেন মেহমুদ। তিনি বলেন, কীভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় তা বাবার কাছ থেকে শিখেছি।

সবশেষে কনিষ্ঠ পুত্র হোসেন খালেদ বলেন, বাবার সমগ্র জীবন অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই, তিনি তার মাকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন, সন্তানদের স্নেহ করতেন, নিয়মতান্ত্রিক খাবার খেতেন, প্রতিদিন হাঁটতেন, গোছানো জীবনযাপন করতেন এবং সব সময় নোট রাখতেন। এই কয়টি বিষয় মেনে চললে যেকোনো মানুষ জীবনে সফল হবেন। বাবার কর্মজীবনের স্মৃতিচারণা করে তিনি আরো বলেন,  বাংলাদেশে প্রাইভেট ব্যাংকিং থেকে শুরু করে অনেক কিছুই তার হাত দিয়ে শুরু হয়েছে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, ২০২০ সালের মধ্যে আনোয়ার গ্রুপে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করা। আমরা তার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছি।

স্বাগত বক্তৃতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, আনোয়ার হোসেন হচ্ছেন উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা। তিনি তার কর্মজীবনে অসংখ্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক নেতা, শিক্ষক এমনকি সিনেমা নির্মাতা পর্যন্ত তৈরি করেছেন। তার কাছে বাংলাদেশের অনেক ঋণ রয়েছে। আজকের তরুণ শিক্ষার্থীরা এই সফল উদ্যোক্তার গল্প শুনে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত হবেন বলে মনে করেন ড. সবুর খান। তিনি তার ‘এ জার্নি টুওয়ার্ডস এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ বই দেখিয়ে বলেন, এই বইয়ের প্রথম অধ্যায় শুরু করেছি আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসা জগতে পথিকৃতের মর্যাদায় থাকবেন বলে অভিমত ব্যাক্ত করেন ড. মো. সবুর খান।

তিনি আরো বলেন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লেকচার সিরিজের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এসব সফল উদ্যোক্তাদের গল্প শুনে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা যেন অনুপ্রাণিত হয় এবং নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কারণ বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রচুর উদ্যোক্তা তৈরি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

আলহাজ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কর্মময় স্মৃতির কথা উল্লেখ করে  ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আনোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তার সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে দ্বিমত হতো। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত। কিন্তু দিনশেষে আমরা হাসিমুখে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি, কিন্তু তিনি জীবন থেকে এত বিপুল শিক্ষা অর্জন করেছেন যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার কাছে নস্যি। তিনি তার সততা, দৃঢ়তা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে শূন্য থেকে শীর্ষে ওঠা যায়, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে একটি পরিবারে রূপান্তরিত করা যায়। আনোয়ার হোসেনের জীবন ও কর্ম অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলহাজ আনোয়ার হোসেনের হাতে নিজেদের তৈরি শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প ও ব্যাবসাখাতের নেতৃবর্গ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে একটি বই প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অথনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই ১২ জন উদ্যোক্তার ওপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হবে।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে যে, এ লোকবক্তৃতামালা নতুন প্রজন্মের সৎ, শিক্ষিত ও মেধাবী উদ্যোক্তাদেরকে সাহস, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গতিতে এগিয়ে যেতে পারছে না বলে যে ধারনা চালু রয়েছে, এ লোকবক্তৃতামালা সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে অনেকখানি সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।


কাউকে অনুসরণ করে কখনো সফল হওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার আয়োজিত ‘উদ্যোক্তা উন্নয়নবিষয়ক ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া বক্তৃতামালা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়টির সিটি ক্যাম্পাস মিলনায়তনে ১২ পর্বের লোকবক্তৃতামালার পঞ্চম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

একক বক্ত্রতায় শিক্ষার্থীদের  উদ্দেশে একে আজাদ বলেন,  কাউকে অনুসরণ (ফলো) করে কখনো সফল হওয়া যায় না। সফল হতে হলে নিজের ভেতরে উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হয়। নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন করো এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করো, সফলতা আসবেই।

নিজের সফলতার গল্প শোনাতে গিয়ে এ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বলেন, ‘গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেছিলাম মাত্র ২১টি মেশিন দিয়ে। এখন হা-মীম গ্রুপের কর্মীর সখ্যাই ৫০ হাজার। একদিনে এই অবস্থান তৈরি হয়নি। এর পেছনে আছে নিরলস পরিশ্রম আর সাধনা।’

বক্তৃতা শেষে ছিল প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। সেখানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়াস সরদার প্রশ্ন করেন, ‘যত দিন যাচ্ছে ভারতীয় চ্যানেলগুলো তত জনপ্রিয় হচ্ছে আমাদের দেশে। বিপরীতে পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে দেশীয় চ্যানেল। এ থেকে মুক্তির কী কোনো উপায় নেই?

জবাবে একে আজাদ বলেন, অবশ্যই মুক্তির উপায় আছে। এ জন্য আমাদের নির্মাতাদের নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন করতে হবে। গল্পের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে হবে। সংলাপে পরিবর্তন আনতে হবে। টোট্যাল সিস্টেমটাতেই পরিবর্তন জরুরি।

এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বৃষ্টি জানতে চান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একে আজাদ কোনো সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা রেখেছেন কি না।

উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ, কারও সাহায্য নিয়ে খুব বেশি দূর অগ্রসর হওয়া যায় না। সফল হতে হলে নিজের পরিশ্রম, চেষ্টা আর যোগ্যতা লাগে। আমি চাই, তোমরা নিজের যোগ্যতায় বড় হও।’

অপর এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে একে আজাদ বলেন, দেশে যে হারে ব্যবসা বাড়ছে সেই হারে যোগ্য ও দক্ষ লোক বাড়ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের ‍উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে পারছে না।’

এ সময় তিনি গুণগত শিক্ষার প্রতি নজর দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইউনির্ভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহাবুবুল ইসলাম ও ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের পরিচালক মো. আবু তাহের।

ডিআইইউ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে একটি বই প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অথনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই ১২ জন উদ্যোক্তার ওপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


ভারতের উড়িষ্যার আদিবাসী অঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জীবন বদলে দিয়েছেন ড. অচ্ছুত সামন্ত। তিনি আদিবাসী ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ভারতের ভুবনেশ্বরে গড়ে তুলেছেন দুটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—কলিঙ্গ ইন্সিটিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (কিট) ও কলিঙ্গ ইন্সটিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্স (কিস)। অচ্ছুত সামন্তকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে মূলত কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স এবং এর ১৫ হাজার আদিবাসী ছাত্রছাত্রী। এখানে পড়ার সুযোগ রয়েছে প্রথম শ্রেণি থেকে একদম স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া, বিনোদন, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসেবা, কম্পিউটার ল্যাব, কনফারেন্স ল্যাব ও ওয়াই-ফাই সিস্টেমের ব্যবস্থা। এছাড়া এখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী পড়ালেখার সঙ্গে সঙ্গে পায় কারিগরি প্রশিক্ষণ।

অচ্ছুত সামন্ত ১৯৬৫ সালে ভারতের উড়িষ্যার এক ছোট্টগ্রাম কটাক্কার কালাব্রাঙ্কায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম অনাদীচরণ এবং মায়ের নাম নীলিমা রানি। যখন ৪ বছর বয়স অচ্ছুত সামন্তের তখন তার পিতা পরলোক গমন করেন। বাবাকে হারিয়ে নিদারুণ দুর্দশা নেমে আসে সামন্তের পরিবারে। কারণ বাবাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরতে মায়ের সঙ্গে অন্যের বাসায় কাজ শুরু করেন ছোট্ট সামন্ত। এর মধ্য দিয়েই কালাবাঙ্কের সরকারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে অদম্য অচ্ছুত এবং পরবর্তীতে তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন রসায়ন শাস্ত্রে, উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মাস্টার্স শেষ করেই চাকরিতে ঢুকে যান মহেশ্বরী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। এই কলেজে প্রায় ১০ বছর শিক্ষকতা করেন অচ্ছুত সামন্ত। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম। তাই সুখের জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে পা বাড়ালেন সমাজ সেবায়। সিদ্ধান্ত নিলেন দুস্থ আদিবাসীদের জীবন পরিবর্তনের জন্য একটি দক্ষ উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তুলবেন। কিন্তু ততোটা আর্থিক সামর্থ ছিল না তার। তাতে কি? নিজের জমানো ৫ হাজার টাকা সম্বল নিয়েই মাঠে নামলেন। এভাবেই ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু হলো কেআইআইটি ও কেআইএসএস নামের দুটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

কিট এর শিক্ষার্থীদের ফি দিয়ে তিনি কিস পরিচালনা শুরু করেন। কিন্তু কিট থেকে কিস এর যাত্রা এত সহজ ছিল না। অনেক লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। প্রথম দিকে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ২৫ জন। কারণ আদিবাসীরা তার সন্তানদের ঘর থেকে অন্য কোথাও যেতে দিতে চাইতেন না। ফলে শিশুদের স্কুলে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে অচ্ছুত সামন্তকে। এরপর ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক সময় কিট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। এখানে প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছ। বর্তমানে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বলে রাখা ভালো, কিট এর শিক্ষার্থীদের প্রদেয় ফিসের ১০ শতাংশ ব্যয় হয় কিস এর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পরিচালনার জন্য। আর কিট এর সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩০ ভাগ প্রদান করা হয় কিস পরিচালনা ফান্ডে। কারণ কিসের দুস্থ শিক্ষার্থীদের  থাকার জন্য হোস্টেল, চিকিৎসার জন্য মেডিকেল সার্ভিস, তিন বেলা খাবার, তার মধ্যে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার প্রদান করা হয়। খাবারগুলো ভরপুর পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ।

ড. সামন্ত নিজের সাথে সাথে মায়ের স্বপ্ন ও পূরণ করছেন। তার মায়ের স্বপ্ন ছিল, তার গ্রাম কালাব্রাঙ্কাকে একটি স্মার্ট বিদেশি শহরে পরিণত করতে হবে। মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছেন ড. অচ্ছুত। কালাব্রাঙ্কা এখন ভারতের প্রথম গ্রাম, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্য বিমা রয়েছে। এটি গ্রাম হয়েও শহরের মত সকল সুযোগ রয়েছ। যেমন হাইস্কুল থেকে কলেজে পড়ার সুবিধা, পোষ্ট অফিস , ব্যাংক , ইন্টারনেট আরো কত কি!!

কিস-এর সাফল্যের জন্য ড. সামন্ত বলেন, কিস-এর উন্নতি ও সাফল্যের জন্য অনেক মানুষ তাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছেন। তিনি কেবলি তা ফেরত দেবার প্রতিদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বললেন, আমি আমার জীবনের ২৫ বছর ক্ষুধার জন্য কষ্ট করেছি। এখন আমি হাজার শিশুর ক্ষুধামুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।

অচ্ছুত সামন্ত এ পর্যন্ত ২৫টি উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ২০০০ সাল থেকে ‘খুদে মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন। এছাড়া মহাত্মা গান্ধীর স্মরণে একটি আদিবাসী জাদুঘর নির্মাণ করছেন যার নাম ‘গান্ধী গ্রাম’। তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ার হানসিওসহ ভারতের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশ থেকে পেয়েছেন নানা পুরস্কার।


গুলশান ক্লাবে অনুষ্ঠানটি তখনো শুরু হয়নি। শান্ত ভঙ্গিতে কক্ষে এসে ঢুকলেন সাদা শার্ট, জিনস ও কালো কোটি পরা একজন। মুখে সাদা খোঁচা খোঁচা দাড়ি। হাতে বন্ধুপত্নীকে উপহার দেওয়ার জন্য আনা শাড়ি। উঠে দাঁড়ালেন হলভরা লোকজন। জানলাম, ইনিই অধ্যাপক অচ্ছুত সামন্ত। তাঁকে সম্মানিত করতেই এই অনুষ্ঠান।

হতদরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়া অকৃতদার এই অধ্যাপক ভারতের ওডিশায় একদম একা হাতে গড়ে তুলেছেন দুটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (কিট) ও কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স (কিস)। কিট একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যার বার্ষিক আয় ৩০০ কোটি রুপির ওপরে। কিন্তু যে কারণটি অধ্যাপক সামন্তকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়, তা হলো কিস। শিক্ষা দিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করার এক ‘মেগা প্রজেক্ট’ হাতে নিয়েছেন তিনি। এখানে ১৫ হাজারের বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থী একদম বিনা মূল্যে পড়ছেন স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত। শুধু পড়ালেখা নয়, কিসের সব ছাত্রছাত্রীর জন্য থাকা, খাওয়া, বিনোদন, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসেবা—সবকিছুই বিনা মূল্যে। কিটের আয়ের কিছু অংশ এখানে ব্যয় হয়। কিসের শিক্ষার্থীদের তিন বেলা খাওয়ার দৃশ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে অনেক তথ্যচিত্র। সে এক এলাহি ব্যাপার, কেউ কেউ এটিকেই ভারতের বৃহত্তম রান্নাঘর আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্বের বরেণ্য লোকজন এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে কেউ তাকে আখ্যা দিয়েছেন ঈশ্বরের আশ্চর্য সৃষ্টি, কেউ বলেছেন বাতিঘর। কেউবা এ প্রতিষ্ঠানকে আখ্যা দিয়েছেন ভারততীর্থ নামে।

সেই অধ্যাপক সামন্ত এসেছিলেন ঢাকায়। গত ২৭ জুলাই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এক চুক্তি করতে। ড্যাফোডিলের মাধ্যমে ঢাকাতেও বিস্তৃত হচ্ছে কিসের কার্যক্রম।

গত বৃহস্পতিবার গুলশান ক্লাবে তাঁর সম্মানে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ড্যাফোডিল। সেখানেই কথা হয় অধ্যাপক সামন্তের সঙ্গে।

কথা শুরু হওয়ার পরপর বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের দেখিয়ে ভাঙা বাংলায় বললেন, ‘আমি হান্ড্রেডস অব ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। তারা খুবই সম্ভাবনাময়, মেধাবী ও ভালো শিখছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে কি না। আমি বলব, ঢাকায় তারা অনেক যত্ন পাচ্ছে।’ জানতে চাইলাম, শিক্ষার লক্ষ্যটা কী? অধ্যাপক বললেন, ‘একজন সফল মানুষ হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া বেশি জরুরি। ভালো মানুষ হতে পারলে সাফল্য তার পেছনে ঘুরবে। আমরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও অনেক কিছুই শেখাই। যাতে তারা ভবিষ্যতে ভালো মানুষ ও দায়িত্ববান নাগরিক হতে পারে। এসবের জন্য আমি আমার জীবনটা তাদের জন্য উৎসর্গ করেছি।’

কিস পরিদর্শনের পর ভুটানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিওনচেন জিগমি ওয়াই থিনলে লিখেছেন, ‘এখানে শিক্ষার্থীদের সবকিছু বিনা মূল্যে। কিন্তু কোনো কিছুই বিনা মূল্যে নয়, শিক্ষার্থীদের সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

কী হতে পারে সেই মূল্য, জানতে চাইলে অচ্ছুত সামন্ত বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে কোনো মূল্য প্রত্যাশা করি না। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছে, সম্মানজনক জীবন দিচ্ছে তার প্রতি, সেই সমাজের শিক্ষার্থীদের কর্তব্য রয়েছে, দায় রয়েছে।’

ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ভালো-মন্দটা জায়গাভেদে নির্ভর করে। ভারত সরকার এখন ভোকেশনাল শিক্ষার বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে, অনেক কিছু করছে। যার কারণে এই শিক্ষার দৃশ্যমান প্রসার ঘটছে। আমি আশা করব, বাংলাদেশেও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশেও অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে পুরোনো ও বড়। এখানে বেসরকারি পর্যায়েও অনেকগুলো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। কারণ, এক্সিলেন্স এক দিনে অর্জিত হয় না। এ জন্য সময় লাগবে।

‘তবে যা-ই হোক না কেন, শিক্ষা হতে হবে মানবিক ও মানসম্মত। আমার বিবেচনায় শিক্ষাহীনতার চেয়ে অর্ধেক শিক্ষা ক্ষতিকর।’

ছেলেমেয়েদের অস্থিরতা, উগ্রপন্থায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে এই অধ্যাপক বলেন, শিক্ষায় নৈতিকতা থাকতে হবে অবশ্যই। তাতে তারা ইতিবাচক ও সৃষ্টিশীল হয়। শিক্ষিত খারাপ মানুষ খুব ক্ষতির কারণ হতে পারেন। নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা থাকাটাও বড় বিষয়। এ বিষয়গুলো ঠিক থাকলে অন্তত শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা থাকবে না। তারা বিপথে যাবে না।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবারই বলেছেন, ‘যত কিছুই বলুন, পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এ অভ্যাস গড়তে হবেই। অনেক কিছুর সমাধান আছে এখানেই।’


সফল মানুষের সংজ্ঞা কী? সংজ্ঞার দিকে না গিয়ে যদি যাওয়া যায় উদাহরণের দিকে, তাহলে বলতে হবে সফল মানুষের উদাহরণ হবেন সুফি মিজানুর রহমান। বাংলাদেশের শীর্ষ শিল্প-মালিকদের একজন তিনি। যাঁকে সবাই সুফি মিজান বলেই চেনেন। একইসঙ্গে এদেশের সফল শিল্প-মালিক এবং নতুন উদ্যোক্ততাদের কাজে প্রেরণার গল্প হিসেবে চমৎকার উদাহরণ এই হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি। তিনি মনে করেন, নিবিষ্ট নিষ্ঠার সাথে কঠিন পরিশ্রম, কঠিন তপস্যা, সাধনা এবং নিয়তের সততা একত্রিত হলে বিধাতা তাকে উন্নত করবেই।

বেড়ে ওঠা

অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান সুফি মিজানুর রহমানের বেড়ে ওঠা থেকে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থায় পৌঁছানো পর্যন্ত কাজ ও বিশ্বাসের বিরাট সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়। সুফি মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১২ মার্চ বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলায় রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সুফি মুহাম্মদ দায়েম উদ্দিন। মাতা রাহেতুন্নেছা। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। গ্রামেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারত চন্দ্র স্কুল থেকে ১৯৬১ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষ করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই কলেজে বি.কম ক্লাসে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পাশ করেন।

শুরুর বয়ান

নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বি.কম পড়া অবস্থায় কাজ নেন অদূরের জালাল জুট ভ্যালি কোম্পানিতে। মাইনে ১০০ টাকা। এই কাজ নেয়ার উদ্দেশ্য এমন নয় যে, সারাজীবন চাকরি করবেন, আর এটা তো সূচনা। তিনি সে-সময় থেকেই ভাবতে শুরু করেন, কবে তাঁর নিজের একটা প্রতিষ্ঠান হবে। ছোট্ট একটা অফিস থাকবে। এমন একটি সংকল্পে তিনি শুরু থেকেই স্থির থেকেছেন।

নারায়ণগঞ্জের জালাল জুট ভ্যালি কোম্পানিতে চাকরি দিয়ে তাঁর যে ক্যারিয়ারের শুরু তা পরের বছর ১৬৭ টাকা বেতনে উন্নীত হয়। সারাদিন চাকরির পর আবার সন্ধ্যার সময় আবার কলেজে পড়তে যাওয়া। কলেজ থেকে প্রায় চার মাইল দূরে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। আবার পরদিন কর্মস্থলে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানো। এভাবে তাঁকে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি তোলারাম কলেজে স্নাতক পাশ করার পূর্বেই তিনি চট্টগ্রামে এসে ব্যাংকে চাকরি নেন। নতুন চাকরি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (সোনালী ব্যাংক) চট্টগ্রামের লালদীঘি শাখায়। এটা সরকারি চাকরি, পদে জুনিয়র ক্লার্ক। এর দুই বছর পর ১৯৬৭ সালে জয়েন করেন তৎলীন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংকে, বর্তমানে যেটি পূবালী ব্যাংক। তিনি এ ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় বৈদেশিক বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। বেতন ছিল ৮০০ টাকা। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূবালী ব্যাংকেই চাকরি করেন। স্বাধীনতার পর তিনি চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি প্রথমে ব্যবসার জন্য যার কাছ থেকে বেশি সহায়তা পেয়েছিলেন তিনি হলেন পূবালী ব্যাংকের তাঁর পূর্বের কর্মস্থলের কর্মকর্তা আলতাফুর রহমান। আলতাফুর রহমান তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন—ব্যাংকের টাকা নিয়ে লোকসান করলে কোত্থেকে টাকা ফেরত দেবেন। তখন তিনি বলেন, তিনি রক্ত বিক্রি করে হলেও ব্যাংকের টাকা ফেরত দেবেন। সে-সময় মূলত ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তার মধ্যে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যেত। তাছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ব্যবসাক্ষেত্রেও একটা শূন্যতা ছিল। কারণ এদেশের অধিকাংশ বড় ব্যবসায়ী ছিল অবাঙালি। আবার ব্যাংকে বৈদেশিক শাখায় চাকরির সুবাদে আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর।

চাকরিতে তিনি কখনো ঠিক প্রাণ খুঁজে পেতেন না। নিজের কাজে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে অন্য কিছুর জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে বুঝতে পারেন, তাঁকে ব্যবসায়ই জড়াতে হবে, না হয় শান্তি পাবেন না। এ নিয়ে তিনি একটা পরিকল্পনা করে ফেললেন, টাকা জোগাড় বা কিভাবে এগোবেন তার একটি রূপরেখা। শোনা যাক তাঁর ভাষ্যেই—‘ব্যবসা করতে গেলে টাকা লাগে। কিন্তু অত টাকা পাব কোথায়। ছোটখাটো একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতেও বহু অর্থের দরকার। আমাকে টাকা দেয়ার কোনো মানুষ নেই। চাকরি করার সময় পরিচয় হয়েছিল বেশ কিছু বড় আমদানি-রপ্তানিকারকের সঙ্গে। একদিন তাদেরই কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাত্ হলো আবার। তাঁরা আমাকে বাকিতে পণ্য দিতে রাজি হলেন। আমি পণ্য নিয়ে পরে সময়মতো টাকা শোধ করতাম। এতে ব্যাংকের সঙ্গেও আমার একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।’ এই প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, চট্টগ্রামের অনেক পুরনো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। তারা সহজ শর্তে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, গম ট্রাকে করে বিক্রির সুযোগ দেয়। আমি সেইসব পণ্য ঢাকার পাইকারি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতাম। বিক্রি শেষে নিজের লাভের টাকা রেখে দিতাম। বাকিটা দিয়ে পণ্যের দাম পরিশোধ করতাম।’


জীবনে আমদানি করা প্রথম জিনিসটি ছিল ব্রিজস্টোন টায়ার। সময়টা ছিল ১৯৭২, দেশ মাত্র স্বাধীন হয়েছে। এ ব্যবসায় তিনি বিনিয়োগ করেন চার হাজার ডলার। প্রতি ডলারের বিপরীতে তখন পাওয়া যেত ১১ টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুসারে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার টাকা। প্রথমবারের মতো এই আমদানি থেকে তিনি মুনাফা করেন এক লক্ষ টাকা। শুরু হলো প্রতিযোগিতার বাজারে নাম লেখানো। তিনি পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হিসেবে কার্যক্রম চালাতে লাগলেন। একসময় দেখলেন হাতে কয়েক কোটি টাকা জমে গেছে। তার মানে এখন চাইলে বড় কোনো কাজে হাত দেয়া সম্ভব। বঙ্গোপসাগর উপকূলে সীতাকুণ্ডে প্রতিষ্ঠা করলেন শিপইয়ার্ড। পুরনো জাহাজ কেটে আসবাবপত্র বিক্রি করা হতো সেই শিপইয়ার্ড থেকে। এখান থেকে অর্জিত আয় দিয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন রি-রোলিং মিল। তারপর ১৯৮৪ সালে, মংলা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়ার্কস নামে বিলেট তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন, ওটাই ছিল দেশের প্রথম বিলেট কারখানা। এভাবেই পুরোদস্তুর বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠেন সুফি মিজান।

সুফি মিজানকে নিয়ে ব্যবসায়ীমহলে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে। তিনি যেখানে হাত দেন তা সোনা হয়ে যায়। একজীবনে বহু ব্যবসায় জড়িয়েছেন। যে কাজে হাত দিয়েছেন, সফল হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে ঢাকায় ঢেউটিনের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন, পিএইচপি রানী মার্কা ঢেউটিন। এরপর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দেন সিআর কয়েল কারখানা। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং সফল হন।

পিএইচপির যাত্রা

স্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসেন সুফি মিজানুর রহমান। আর তাই স্ত্রী তাহমিনা রহমানের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে পিএইচপি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন—এমন একটা প্রবাদ চালু রয়েছে। পিএইচপি দেশে ২৩টির বেশি খাতে বিনিয়োগ করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—কোল্ড, স্টিল, ফিশারিজ, স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, পাওয়ার জেনারেশন প্লান্ট, কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস, শিপিং অ্যাজেন্সি, ফ্লাট গ্যাস, লেটেক্স অ্যান্ড রাবার প্রোডাক্টশন, টার্মিনাল অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, প্রপার্টিজ, রোটারি ক্লাব, পেট্রো রিফাইনারি, এগ্রো প্রোডাক্ট, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্স, কোল্ডস্টোরেজ, শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং, ওভারসিজ, হাসপাতাল, অ্যায়ারলাইন্স ও ইলেক্ট্রিক খাত। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে পিএইচপি এখন একটি আস্থার নাম। তবে একদিনে হয়নি এই গ্রুপ। ২২ বছরে এই গ্রুপ ডালপালা বিস্তার করে পরিণত হয়েছে এক মহীরুহে। অনেক প্রতিষ্ঠান হয়েছে এখান থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক মানুষ।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

ভব্যিষৎ স্বপ্নের কথা উঠতেই পিএইচপি গ্রুপের এই কর্ণধার বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের জন্য, দেশের জন্য সেবা করে যেতে চাই। যদি কখনো শুনি সুফি মিজানের জন্য আমার ভাগ্য বদল হয়েছে সেদিন আমার অনেক আনন্দ হবে। বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আমার কাজ।’

পারিবারিক জীবন

ব্যক্তিজীবনে সাত ছেলে এক মেয়ের গর্বিত পিতা সুফি মিজানুর রহমান। বড় সন্তান মো. মোহসিন পিতার মতোই দেশসেরা একজন শিল্পোদ্যোক্তা। তাঁর অন্য ভাইবোনেরা হলেন—ইকবাল হোসেন, আনোয়ারুল হক, আলী হোসেন, আমির হোসেন, জহিরুল ইসলাম ও আক্তার পারভেজ হিরু ও ফাতেমা তুজ-জোহরা। তাদের মা তাহমিনা রহমান।

বাবার প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. মোহসিন বলেন, ‘জানিনা তাঁর মতো হতে পারব কি না। তবে বাবা সবসময় একটি কথা বলেন, যখন যে কাজই করি না কেন তা যেন সম্মানের সঙ্গে করি। কোনো কাজকে অবহেলা বা খাটো করে দেখতে চাই না। বাবার স্বপ্ন আছে অনেক। তিনি মুখে না বললেও আমরা অনেক কিছু বুঝতে পারি।


পারিবারিকভাবে ঢাকার কাঞ্চননগর গ্রামে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। মাত্র পাঁচ টাকায় সেখানে রোগীদের দেয়া হয় চিকিত্সাসেবা। চট্টগ্রাম শহরের আসকারদীঘি পাড়ে মাউন্ট হাসপাতালসহ শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে উচ্চশিক্ষার জন্য ‘ইউআইটিএস’ গড়ে তুলেছেন তিনি।

তাঁর আরেকটি স্বপ্ন আছে দেশের ভেতর একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ডস কমার্স’ গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে।


সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুফি মিজান লাভ করেছেন ২০০৩ সালের দ্য ডেইলি স্টার অ্যান্ড ডিএইচএল বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, ২০০৭ সালে ব্যাংক বীমা অ্যাওয়ার্ড, ২০০৯ ও ২০১১ সালের ব্যাংক বীমা অর্থনীতি অ্যাওয়ার্ড।


Source:- Daily Prothom Alo,  12 January 2019.

Pages: 1 [2] 3 4 ... 7