Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 25
1
দেহের একটি ছোট অঙ্গ হলো হৃৎপিণ্ড। এটি আকারে ছোট এবং ভেতরে ফাঁপা। হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর প্রয়োজন হয় নিজস্ব রক্তের সরবরাহ। শরীরের বাকি অংশের মতো হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টির দরকার পড়ে।

এ কারণে হৃদযন্ত্র করোনারি ধমনীর মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। হৃৎপিণ্ড যখন তার কাজ ঠিকমতো করতে পারে না, তখন হার্ট ফেইলর হয়। একজন ব্যক্তির শ্বাস যতক্ষণ চলে ততক্ষণ তার হৃদস্পন্দনও চলতে থাকে।

যখন ওই ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যায়, তখন হৃদস্পন্দনও থেমে যায়। আর তখনই ওই ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যখন হৃৎপিণ্ডের রক্তের ধমনীর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন রক্ত প্রবাহ না হওয়ায় হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।

jagonews24

হার্ট অ্যাটাকের কারণ

>> যদি কোনো ব্যক্তির এক বা একাধিক হৃৎপিণ্ডের রক্তের ধমনী বিকল হয়ে পড়ে তখন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় করোনারি আর্টারিজ ডিজিজ।

>> কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ হৃৎপিণ্ডকে প্রভাবিত করে। যেখানে প্লেগ ফেটে যায়, সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। রক্ত জমাটের কারণেও হার্ট অ্যাটাক হয়।

jagonews24

>> হৃৎপিণ্ডের ধমনী ফেটে যাওয়ার কারণেও হার্ট অ্যাটাক হয়।

>> করোনারি আর্টারি স্প্যাম রক্তের পেশীগুলোকে প্রভাবিত করে। এ কারণে রক্ত হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তাই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের মারাত্মক লক্ষণ

>> বুক জ্বালা করা
>> মাথা ঘোরানো
>> শ্বাসকষ্ট

jagonews24
>> পেটে ব্যথা
>> ক্লান্ত হয়ে পড়া
>> বুকে চাপ অনুভব করা
>> গলায় প্রচণ্ড ব্যথা
>> স্ট্রেস অথবা ভয় পাওয়া।
>> হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি।
>> হাত, মুখ, পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।

jagonews24

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

পুরুষদের মতো নারীদেরও পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এছাড়াও পেটের সমস্যাসহ ক্লান্তি, হালকা মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগে নারীদের ফ্লু বের হতে পারে এবং অনিদ্রা দেখা দিতে পারে।

jagonews24

হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত করণীয়

>> জরুরি ভিত্তিতে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

>> হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন। গায়ের জামা-কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।

>> রোগীর শরীরে বাতাস চলাচলের সব রাস্তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে, যাতে রোগী গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন।

jagonews24

>> হার্ট অ্যাটাকের পর যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে।

>> রোগী বমি করলে তাকে একদিকে কাঁত করে দিন। যাতে সহজেই সে বমি করতে পারে।

>> হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ডের রক্তের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বাজারে প্রচলিত ৩০০ মি.গ্রা. ডিসপ্রিন (অ্যাসপিরিন), ৩০০মি.গ্রা. ক্লোপিডোগ্রেল, ৪০ মি.গ্রা. অ্যার্টভাস্টাটিন এবং ৪০ মি.গ্রা. ওমিপ্রাজল খেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে।

হার্ট অ্যাটাকের প্রতিকার

>> হৃদরোগের প্রধান শত্রু হচ্ছে ধূমপান। তাই ধূমপান থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকুন।

>> ধূমপানের মতো মাদক ব্যবহারও হৃদরোগের আরেকটি কারণ। তাই সব ধরনের মাদকদ্রব্য পরিহার করা উচিত।

>> অযথা দুঃশ্চিন্তা করবেন না। নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে মেডিটেশন বা ইয়োগা করুন।

jagonews24

>> মাঝে মাঝে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সে অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন।

>> ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এজন্য নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করে নিজেকে সুস্থ রাখুন।

>> প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

সূত্র: ওয়েব এমডি

2
সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যাও হতে পারে ক্যানসারের মারাত্মক লক্ষণ। অনেকেই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়াসহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যাকে অবহেলা করে থাকেন।

আর তাই হাতের কাছে থাকা কিছু ওষুধ খেয়েই এসব সমস্যা সারানোর চেষ্টা করেন। তবে জানলে অবাক হবেন, এসব সাধারণ সমস্যাই হতে পারে ক্যানসারের মারাত্মক লক্ষণ।

আর প্রাণঘাতী ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা হলে তা সারিয়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রয়োজন আরও সতর্কতা ও সচেতনতার। তাহলে কঠিন রোগও সহজে প্রতিরোধ করা যায়। জেনে নিন ক্যানসারের সাধারণ ১৫টি লক্ষণ। যেগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

jagonews24

>> ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। যেমন- ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, নতুন দাগ কিংবা র্যাশ। এক্ষেত্রে ত্বকে এমন দাগ হতে পারে যা কিছুটা অস্বাভাবিক। এমন কিছু ত্বকে দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

>> ফুসফুস ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ হলো কাশি। যারা ধূমপায়ী নন তাদেরও এ লক্ষণটি দেখা দেয়। একইসঙ্গে হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও ফুসফুস সংক্রমণের লক্ষণ। পাশাপাশি রক্ত কাশিও হতে পারে। যা ক্যন্সারের মারাত্মক লক্ষণ। এমনটি দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

jagonews24

>> প্রতিবছর বিশ্বের হাজারো নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। স্তনের যে কোনো সমস্যা যেমন- ব্যথা, স্তনবৃন্ত পরিবর্তনসহ কোনো তরল পদার্থ বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। তিনি পরীক্ষা করবেন ও একটি ম্যামোগ্রাম, এমআরআই বা বায়োপসি করার সুপারিশ দেবেন।

>> পেলভিক বা নারীর জননাঙ্গের ক্যানসারের উপসর্গগুলো বেশ সাধারণ। এ কারণে অনেক রোগীই প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ সনাক্ত করতে পারেন না। পেট ফুলে থাকা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাসহ, ক্লান্তি, ওজন হ্রাস, পিঠে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করে দেখুন।

jagonews24

>> অনেক পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রনালীর সমস্যা দেখা দেয়। প্রসাবে জ্বালা-পোড়া, ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ইত্যাদি মূত্রনালীর সমস্যা মূত্রনালীর সমস্যার সাধারণ লক্ষণ। তবে এগুলো সাধারণভাবে নেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব লক্ষণ প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

>> গলায়, বগলসহ শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে শিমের বীজের মতো গ্রন্থি থাকে। যখন এসব গ্রন্থি কোনো কারণে ফুলে ওঠে তখন আপনি ঠান্ডা বা গলা ব্যথায় ভুগতে পারেন। কিছু ক্যানসার যেমন লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের ফোলাভাব হতে পারে।

jagonews24

>> রক্তাক্ত মল স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। হেমোরয়েড বা কোলন ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে রক্তাক্ত মল। একইসঙ্গে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া মূত্রনালীর সংক্রমণ, কিডনি ও মূত্রাশয়ের ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

>> পুরুষরা যদি অণ্ডকোষের মধ্যে ফোলাভাব দেখতে পান তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অণ্ডকোষে ব্যথাহীন ফোলাভাব বা মাংসপিণ্ডও কিন্তু টেস্টিকুলার ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। আপনি যদি কখনও তলপেট বা অণ্ডকোষে ভারী অনুভব করেন তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করান।

>> সাধারণত ঠান্ডা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা ওষুধ খাওয়ার সময় গিলতে কষ্ট হতে পারে। তবে সব সময়ই যদি গিলতে অসুবিধা বা কষ্ট হয় তাহলে কণ্ঠনালীর ক্যানসারে ভুগতে পারেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক বেরিয়াম এক্স-রে করার পরামর্শ দেবেন।

jagonews24

>> সব নারীর ক্ষেত্রেই প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়া স্বাভাবিক। তবে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় কিংবা অন্য যে কোনো কারণে পিরিয়ড ছাড়াই অধিক রক্তপাতের লক্ষণ দেখা দেওয়া চিন্তার কারণ হতে পারে। জরায়ু বা যোনি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে এটি। মেনোপজের পরেও যদি এমন রক্তপাত হয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

>> অনেকেরই মুখে সাদা, লাল দাগ বা ঘা হয়ে থাকে। যা সহজে সারতে চায় না। বিশেষ করে যদি আপনি ধূমপান করেন তাহলে এমন ঘা অবহেলা করবেন না। হতে পারে এটি মুখের ক্যানসারের লক্ষণ। একইসঙ্গে যদি চোয়াল নাড়তে সমস্যা হয় বা মুখে ব্যথা ও দুর্গন্ধ হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

>> হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এটি অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, খাদ্যনালী, ফুসফুসসহ বিভিন্ন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

>> শারীরিক বিভিন্ন অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় জ্বর। কিছু ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভোগা রক্তের ক্যানসারের কারণ হতে পারে যেমন- লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমা।

>> প্রায়ই কি আপনি বদহজমে ভুগছেন? এটি সাধারণ কোনো সমস্যা নয়। হতে পারে এটি পেটের ক্যানসারের লক্ষণ।

>> অত্যাধিক ক্লান্তিও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। লিউকেমিয়ার মতো ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো ক্লান্তি। আবার কোলন বা পেটের ক্যানসারের রোগীরাও খুব ক্লান্ত বোধ করেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তিভাব পিছু না ছাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: ওয়েব এমডি



3
অনেক সময় মনের ভুলে বা বেখেয়ালে মানুষের জিনিস-পত্র হারিয়ে যায়। হারানো জিনিস ফিরে পেতে রয়েছে কুরআনি আমল। মানুষ যখন তাঁর কোনো জিনিস হারিয়ে ফেলে তখন কুরআনি আমল করলে হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পাওয়া যায়। হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার কুরআনি আমল তুলে ধরা হলো-

Amal

উচ্চারণ : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউ’ন। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ১৫৬)

আমলটির ফজিলত
>> কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে যে ব্যক্তি সহিহ নিয়তে কুরআন কারিমের এ আয়াতখানি তিলাওয়াত করতে করতে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করে, নিশ্চয় সে হারানো জিনিস পেয়ে যায়। অথবা এ আমলের ফলে আল্লাহ তাআলা হারানো জিনিসের চেয়েও উত্তম বস্তু দান করেন।

>> কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে অথবা অপহরণ করা হলে এ আয়াতখানি ২৯ বার এবং সুরা দোহা ৭ বার পাঠ করতে হয়। তবে এ আমলদ্বয়ের প্রথমে এবং শেষে অবশ্যই ১১ বার দরূদ পাঠ করতে হবে। এ আমল করলেও হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হারানো জিনিস ফিরে পেতে কুরআনের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথ নিয়মে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূত্র:https://www.jagonews24.com/religion/news/136097

4
পবিত্র কোরআনের এমন কিছু আয়াত বা আয়াতাংশ আছে, যা তিলাওয়াত করলে পাঠকারীর ওপর সিজদা ওয়াজিব হয়। ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় এমন সিজদাকে ‘সিজদায়ে তিলাওয়াত’ বা তিলাওয়াতের সিজদা বলা হয়।
নিম্নে সিজদায়ে তিলাওয়াতের বিধান ও তা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

সিজদার আয়াতগুলো : হানাফি মাজহাব মতে, পবিত্র কোরআনের ১৪টি সিজদার আয়াত হলো—ক. সুরা আরাফ, আয়াত ২০৬, খ. সুরা রাদ, আয়াত : ১৫, গ. সুরা নাহল, আয়াত : ৪৯, ঘ. সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৯, ঙ. সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৫৮, চ. সুরা হজ, আয়াত : ১৮, ছ. সুরা ফোরকান, আয়াত : ৬০, জ. সুরা নামল, আয়াত : ২৬, ঝ. সুরা সিজদা, আয়াত : ১৫, ঞ. সুরা সাদ, আয়াত : ২৫, ট. সুরা হা-মিম সিজদা, আয়াত : ৩৮, ঠ. সুরা নাজম, আয়াত : ৬২, ড. সুরা ইনশিকাক, আয়াত : ২১, ঢ. সুরা আলাক, আয়াত : ১৯।
বিধান ও দলিল : হানাফি মাজহাব অনুসারে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে বা তা শুনলে ব্যক্তির ওপর সিজদা করা ওয়াজিব। তবে অন্য ইমামদের মতে, তা সুন্নত। সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হওয়ার দলিল নিম্নরূপ—১. পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সেসব মানুষের নিন্দা করেছেন, যারা সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের পর সিজদা করে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তাদের সামনে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তারা সিজদা করে না। ’ (সুরা ইনশিকাক, আয়াত : ২১)

২. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তিনি এমন একটি সুরা তিলাওয়াত করলেন, যাতে সিজদা (আয়াতে সিজদা) ছিল। তিনি সিজদা দিলেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা দিলাম। এমনকি আমাদের ভেতর কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পেল না। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৭৫)

কার ওপর ওয়াজিব : সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব যে ব্যক্তি তিলাওয়াত করে এবং যে ব্যক্তি তা শোনে। চাই সে ইচ্ছায় শুনুক অথবা অনিচ্ছায় শুনুক। যদি ব্যক্তি মুসলিম, সাবালক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হয় এবং সিজদা আদায়ে শরিয়তসম্মত কোনো বাধা না থাকে। যেমন—ঋতুমতী নারী। এই হিসেবে পাগল, শিশু ও অপ্রকৃতিস্থ মানুষের ওপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়।

কখন আদায় করবে : উত্তম হলো তিলাওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে তা আদায় করা। তবে আয়াতটি যদি নামাজের বাইরে পাঠ করা হয়, তাহলে বিলম্বে আদায় করা বৈধ। কিন্তু নামাজের ভেতর তিলাওয়াত করলে নামাজের ভেতরেই তা আদায় করা ওয়াজিব। কেননা তা নামাজের অংশে পরিণত হয়।
কিভাবে আদায় করবে : নামাজের জন্য যেভাবে পবিত্রতা অর্জন করা হয়, সিজদায়ে তিলাওয়াতের জন্য সেভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, সিজদায়ে তিলাওয়াতের জন্য তাকবিরে তাহরিমা, সময় নির্ধারণের নিয়ত ও সালামের প্রয়োজন নেই। শুধু পবিত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে একটি তাকবির দিয়ে সিজদা করলে তা আদায় হয়ে যাবে। পুরুষের জন্য তাকবির জোরে পাঠ করা উত্তম। নামাজের সিজদা যেভাবে করা হয়, তিলাওয়াতের সিজদাও সেভাবে করা হয়।

নামাজের ভেতর সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায়ের নিয়ম হলো—আয়াত তিলাওয়াতের পর তাকবির বলে সিজদা আদায় করা এবং উঠে আরো কয়েক আয়াত তিলাওয়াত করে রুকুতে যাওয়া। তবে কেউ যদি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সরাসরি রুকুতে চলে যায় এবং নামাজের সিজদার সঙ্গে তিলাওয়াতে সিজদারও নিয়ত করে ফেলে, তাহলে তা আদায় হয়ে যাবে। শর্ত হলো সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের পর দুই আয়াতের বেশি তিলাওয়াত না করা।

সংশ্লিষ্ট মাসআলা : সিজদায়ে তিলাওয়াত বিষয়ক জরুরি কিছু মাসআলা নিম্নে তুলে ধরা হলো—
১.         একটি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে একবার সিজদা করা ওয়াজিব।
২.         এক বৈঠকে একাধিক আয়াত তিলাওয়াত করলে একটি সিজদাই যথেষ্ট হবে। তবে একাধিক সিজদা দেওয়া উত্তম।
৩.         কোনো বৈঠকে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত হলে বৈঠকে উপস্থিত সবার জন্য সিজদা করা ওয়াজিব।
৪.         রেকর্ডকৃত সিজদার আয়াত শুনলে বা রেডিও-টেলিভিশনের তিলাওয়াতে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা দেওয়া ওয়াজিব নয়।
৫.         বুঝমান নাবালেগ শিশু থেকে সিজদার আয়াত শুনলেও শ্রোতার ওপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়। যদি কেউ পাগল বা অবুঝ নাবালেগ শিশু থেকে সিজদার আয়াত শোনে, তাহলে তার ওপর সিজদা ওয়াজিব হবে না।
৬.         নামাজরত ব্যক্তি যদি বাইরের লোকের কাছে অথবা বাইরের লোক নামাজরত ব্যক্তির কাছে আয়াতে সিজদা শোনে, তাহলেও তাদের ওপর সিজদা ওয়াজিব হবে। তবে নামাজরত ব্যক্তি নামাজ শেষ করে আলাদাভাবে সিজদা আদায় করবে।
৭.         পুরো কোরআনের তিলাওয়াত শেষ করে একবারে ১৪টি সিজদা আদায় করাও জায়েজ হবে। তবে তিলাওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে আদায় করাই উত্তম।
৮.         কারো যদি অনেক সিজদায়ে তিলাওয়াত অনাদায়ি থাকে, তবে সে সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করবে। নির্ধারণ করা সম্ভব হলে সেই সংখ্যক সিজদা আদায় করবে। আর সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব না হলে মনে প্রশান্তি আসা পর্যন্ত সিজদা আদায় করবে।
৯.         তিলাওয়াতের সিজদার সময় দাঁড়ানো থেকে সিজদায় যাওয়া এবং সিজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাওয়া উভয়টিই মুস্তাহাব। তাই একাধিক তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করতে চাইলে এভাবেই করা উচিত। তবে বসে বসে সিজদা করলেও সিজদা আদায় হয়ে যাবে।
১০.       আসরের পর সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে সূর্য হলুদ বর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত। সূর্য হলুদ হয়ে গেলে অস্ত যাওয়া পর্যস্ত সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা যাবে না।

তথ্য: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

5
কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই শরীরচর্চা করার সময় পান না। যা স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরচর্চার অভাবে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা রোগ। সেইসঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তবে একেবারেই শরীরচর্চা করার সময় না পেলে, দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই।

জানেন কি, সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ৭ মিনিট করে ব্যায়াম করলেই শরীর থাকবে ফিট এবং দূরে থাকবে রোগব্যাধি। এই ৭ মিনিটের অভ্যাসেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন- এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। কম সময় হলেও কিছু ব্যায়াম আছে, যেগুলো করাও সহজ আবার সেগুলোতে বেশ ভালো ক্যালোরিও বার্ন হয়।

jagonews24

তবে খেয়াল রাখতে হবে শরীরচর্চার সময় শরীরের সব গুরুত্বপূর্ণ পেশিসমূহ যাতে ঠিকমতো কাজ করে। ঘরে ৭ মিনিটের এ ব্যায়ামগুলো করার অভ্যাস করলে আপনি সহজেই ফিট থাকতে পারবেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করলেও অনেক সময় ওজন কমানো যায় না।

তবে ৭ মিনিটে কয়েকটি ব্যায়ামের মাধ্যমেই আপনি ওজন কমাতেও পারবেন আবার সুস্থও থাকবেন। কম সময়ের এই শরীরচর্চায় শরীরের একটি পেশিসমূহকে ব্যবহার করার সময়, অন্য গুরুত্বপূর্ণ পেশিসমূহটিকে বিশ্রাম দেওয়া সম্ভব।

jagonews24

তবে প্রতিদিন নয়, এক দিন পরপর এই ব্যায়ামগুলো করুন। টানা দুই সপ্তাহ নিয়ম মেনে ৭ মিনিট করে শরীরচর্চা করলেই ফলাফল পাবেন। যেহেতু এগুলো হাই ইন্টেনসিটি ওয়র্কআউট; তাই শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোনো ব্যায়ামই ৩০ সেকেন্ডের বেশি করবেন না।

jagonews24

৭ মিনিটে কী কী ব্যায়াম করবেন?

জাম্পিং জ্যাক, ওয়াল সিট, পুশ-আপ, ক্রাঞ্চ, স্টেপ-আপ, স্কোয়াট, ট্রাইসেপ ডিপস, প্লাঙ্ক, হাই নিজ, লাঞ্জ, পুশ আপ উইথ রোটেশন, সাইড প্লাঙ্ক এই ১২টি ব্যায়াম পর্যায়ক্রমে করতে পারেন।

jagonews24

জাম্পিং জ্যাক করলে পুরো শরীরেরই ব্যায়াম হয়। ওয়াল সিট, স্টেপ আপ, স্কোয়াট ও লাঞ্জ করলে কোয়াডস, হ্যামস্ট্রিং ও গ্লুটসের পেশি উপকৃত হয়। পুশ-আপের ফলে কাঁধ, বুক ও ট্রাইসেপস ভাল থাকে।

jagonews24

ক্রাঞ্চ ও ট্রাইসেপ ডিপস করলে অ্যাবসের উপকার হয়। গ্লুট, হাত ও অ্যাবস ভালো থাকে প্লাঙ্ক করলে। হাইনিজের ফলে পায়ের ভালো ব্যায়াম হয়। পুশ-আপ উইথ রোটেশন এই ব্যায়ামটির বুক, কাঁধ, ট্রাইসেপ ও গ্লুটস ভাল রাখে।

jagonews24

ব্যায়াম করার সময় একটি টাইমার বা স্টপওয়াচ সঙ্গে রাখুন। প্রতিটি ব্যায়াম ৩০ সেকেন্ড করতে হবে। হাতে সময় থাকলে বাড়াতে পারেন। খুব তাড়াহুড়ো করে কখনও ব্যায়াম করবেন না। এতে শরীরের যেকোনো স্থানে টান লাগতে পারে। প্রত্যেকটি ব্যায়ামের মধ্যেই অন্তত ৫ সেকেন্ড বিরতি নিন।

সূত্র: ওয়েব এমডি

6
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখা খুবই জরুরি। আর মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কিছু বিশেষ যত্ন ও সাবধানতা জরুরি। অথচ নিজের অজান্তেই প্রতিদিন অসংখ্য ভুল কাজে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যহানি করে চলেছি আমরা নিজেরাই।

সাতটি বদঅভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর-
১. সকালের নাস্তা ভুলে যাওয়া/মিস করা
২. রাতে দেরিতে ঘুমানো
৩. অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া
৪. সকালে অধিক পরিমাণে ঘুমানো
৫. খাওয়ার সময় টিভি বা কম্পিউটার দেখা
৬.  ক্যাপ/স্কার্ফ বা মোজা পরে ঘুমানো
৭. ইচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব আটকে রাখা/বন্ধ করে রাখা


বিডি প্রতিদিন/

7
শরীর সুস্থ রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি। সূর্য রশ্মি এই ভিটামিনের প্রধান এবং উল্লেখযোগ্য উৎস। সূর্য রশ্মির সংস্পর্শে এলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে শুরু করে। আমাদের শারীরিক মানসিক সুস্থতার জন্য এই ভিটামিন কত জরুরি জেনে নিন।

রোগ দূর করে ভিটামিন ডি-
শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি তৈরি হলে তা নানান গভীর রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। একটি সমীক্ষা থেকে জানা গেছে যে, হৃদরোগের সম্ভাবনা কম করে ভিটামিন ডি। এ ছাড়াও আরও একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, এই ভিটামিনের প্রভাবে নানান ফ্লুয়ের সম্ভাবনাও দূর করা যায়।

ডিপ্রেশন কম করে-

সমীক্ষা অনুযায়ী এই ভিটামিন আমাদের মেজাজকে প্রভাবিত করে। গবেষকদের দাবি, ডিপ্রেশনের শিকার ব্যক্তিদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়ায় তাদের মধ্যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে, সেই ব্যক্তির মধ্যে অবসাদ, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ার সমস্যা অধিক দেখা যায়।

ওজন কম করে-

ওজন কম করতে চাইলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী যারা নিয়মিত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি ওষুধ খান, তাদের পক্ষে ওজন কম করা সহজ হয়।

এছাড়াও ভিটামিন ডি এর নানান উপকারিতা রয়েছে। ভিটামিন ডি বলতে সাধারণত যে ভিটামিন আমরা খেয়ে থাকি বা সূর্য রশ্মি থেকে লাভ করি তা হল ভিটামিন ডি৩। ভিটামিন ডি২ শরীর শোষণ করতে পারে না। তবে ডি৩ আমাদের শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। এই ভিটামিনের একাধিক উপকারিতা রয়েছে--

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে-

এই ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধের কাজে উন্নতি ঘটিয়ে সংক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

রক্তে শর্করার পরিমাণ কম করে-

কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী ভিটামিন ডি শরীরে ইনসুলিনের স্তরকে সাধারণের তুলনায় বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে ভিটামিন ডি৩ টাইপ-২ ডাইয়াবেটিস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

ক্যানসার থেকে রক্ষা করে-

ভিটামিন ডি-তে উপস্থিত ক্যান্সার বিরোধী গুণ টিউমার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। আবার কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী ভিটামিন ডি ক্যান্সারের গতিকে কমিয়ে দেয়।

কীভাবে শরীরে ভিটামিন ডি এর স্তর বৃদ্ধি করা যাবে-

এই ভিটামিন সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সূর্যরশ্মির মধ্যে। তাই প্রতিদিন সকালে সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে আসুন। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সকাল ৯টার মধ্যে রোদের সংস্পর্শে থাকলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই বেশি বেলা হলে রোদে না বের হওয়া ভালো। এছাড়াও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন। তবে কিছু কিছু খাবার আছে, যা আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

ফোর্টিফায়েড খাবার-

খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের সময় ভিটামিন ও মিনারেল বের হয়ে গেলে ফোর্টিফায়েড ফুড সেই অভাব দূর করে। এটি খাদ্যবস্তুর পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড খাবার হল পাউরুটি, সিরিয়াল, দুধ, পনীর, সোয়া মিল্ক ও কমলালেবুর জুস।

মাশরুম-

এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। সাদা বাটন মাশরুম, ওয়াইল্ড এডিবল ও চ্যান্ট্রেল মাশরুম ভিটামিন ডি-য়ে সমৃদ্ধ। মাশরুম ও কড লিভার তেলে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি থাকে।

দুধ শরীরের পক্ষে জরুরি-

এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। তাই প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করা উচিত। এছাড়াও চিজ, দই খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

ডিম ও মাংস-

ডিম এবং মাংস ভিটামিন ডি এর উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে প্রোটিনও পাওয়া যায়।

মাছ-

খাবারের মধ্যে মাছকে ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে ভালো উৎস মনে কার হয়। এক্ষেত্রে সালমন মাছকে ভিটামিন ডি এর উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।


বিডি-প্রতিদিন/

8
পবিত্র মাস মহররম। মহররম শব্দের অর্থ সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব মুসলিমদের নিকট অপরিসীম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এবং প্রেক্ষাপট এর মহত্তে¡র প্রতি নির্দেশ করে। এর সাথে জুড়ে আছে পূর্ববর্তীদের প্রতি মহান আল্লাহ প্রদত্ত রহমত ও ক্ষমার বাণী। সেই জুড়ে আছে শোকগাথা কারবালা ট্রাজেডি। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এর পবিত্রতা ও মর্যাদার ঘোষণা দিয়ে ঐশি গ্রন্থ আল কুরআনে এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আসমান সমূহ ও যমিনের সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে গণনায় মাস বারটি, তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত, এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কাজেই এই মাসগুলোতে তোমরা ( ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করে) নিজেদের প্রতি যুলুম করো না। ( সূরা আত তাওবাহ : ৩৬)।
বারটি মাস দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জুমাদাল আউয়াল, জুমাদাস সানি, রজব, শাবান, রমাদান, শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ। আর চারটি সম্মানিত মাস দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মহররম, রজব, যিলক্বদ ও যিলহজ। উক্ত আয়াতে আরবাআতুন হুরুম বা চারটি সম্মানিত মাস দ্বারা উদ্দেশ্য মহররম, রজব, জিলক্বদ ও জিলহজ এ ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বর্ণনা পাওয়া যায়। আবু বাকরাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই সময় আবার ঘুরে তার নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ফিরে এসেছে। যে পদ্ধতিতে আল্লাহ তায়ালা আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিনের মত। মাসের সংখ্যা বারটি। তারমধ্যে চারটি হচ্ছে হারাম বা সম্মানিত মাস। তিনটি পরপর যিলক্বদ, যিলহজ ও মহররম। আর হচ্ছে মুদার গোত্রের রজব মাস, যা যুমাদাস সানি ও শাবান মাসের মাঝখানে থাকে। (সহিহ বুখারি: ৪৬৬২, সহিহ মুসলিম: ১৬৭৯)।
সম্মানিত মাস বলার প্রেক্ষিতে ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুর বক্তব্য হচ্ছে, আল্লাহ পাকের এই উক্তির (হারাম মাস) মর্মার্থ হলো, তোমরা সকল মাসে সবধরনের পাপকাজ থেকে বিরত থাকবে, বিশেষকরে এই চার মাসে। কেননা, এগুলো বড়ই মর্যাদা সম্পন্ন মাস। এ মাসগুলোতে পাপ শাস্তির দিক দিয়ে এবং পূণ্য বা সওয়াব প্রাপ্তির দিক থেকে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। হযরত কাতাদা রহিমাহুল্লাহ বলেন, এ মাসগুলোতে পাপের শাস্তির বোঝা বেড়ে যায়, যদিও অত্যাচার সর্বাবস্থাতেই মন্দ। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার যে কাজকে ইচ্ছে বড় করে দেখেন। তিনি আরো বলেন যে, মহান আল্লাহ স্বীয় সৃষ্টির মধ্য থেকে বাছাই ও মনোনীত করেছেন। তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে দূত মনোনীত করেছেন। মানব জাতির মধ্য থেকে রাসূলদের মনোনীত করেছেন। কালামের মধ্য থেকে তার যিকিরকে পছন্দ করেছেন। যমিনের মধ্য থেকে মসজিদ সমূহকে পছন্দ করেছেন। মাসগুলোর মধ্য থেকে রমাদান ও হারাম মাসগুলোকে মনোনীত করেছেন। দিনগুলোর মধ্য থেকে শুক্রবারকে মনোনীত করেছেন। রাতগুলোর মধ্য থেকে লাইলাতুল কদরকে মনোনীত করেছেন। এভাবে মহান আল্লাহ যেটাকে চেয়েছেন প্রাধান্য দিয়েছেন। সুতরাং, আল্লাহ তায়ালা যেগুলোকে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দিয়েছেন সেগুলোর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি লক্ষ্য রাখা আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।
মহত্ত¡ ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ আশুরাহ: মহররম মাস মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে আশুরা। এ মাসের দশম তারিখকে আশুরা বলা হয়। পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে এই পবিত্র মাস মহররমের দশম তারিখ বা আশুরা। ইসলাম ও মুসলিমদের আন্তরিক ভালবাসা ও শোকের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এই স্মৃতিবিজড়িত মহররমের আশুরা।
১০ই মহররম ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনা গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ক. পৃথিবী, আসমান-যমিন সৃষ্টি। খ. আদম আ.কে সৃষ্টি এবং নির্ধারিত কিছুদিন জান্নাতে বসবাসের পর পৃথিবীতে প্রেরণ। গ. পূনরায় পৃথিবীতে আদম আ. ও হাওয়া আ. সাক্ষাত। ঘ. মহাপ্লাবন শেষে নূহ আ. এর যুদি পাহাড়ে অবতরণ। ঙ. অত্যাচারী বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে হযরত ইব্রাহিম আ. এর মুক্তি লাভ। চ. নবী আইয়ুব আ. এর দীর্ঘ দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি লাভ। ছ. দীর্ঘ ৪০ বছরের বিচ্ছেদের পর বিদগ্ধ পিতা ইয়াকুব আ. ও পুত্র ইউসুফ আ. এর মাঝে সাক্ষাত ঘটে। জ. অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে বনী ইসরাইল জাতির মুক্তি ও ফেরাউনের ধ্বংস। ঝ. ঈসা আ. এর আসমানে গমন এবং দাজ্জালকে ধ্বংসের নিমিত্তে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করবেন। ঞ. বেদনাদায়ক ট্রাজেডি কারবালা। নবী দৌহিত্র ও মুসলিম মিল্লাতের কলিজার টুকরো এবং জান্নাতি যুবকদের সর্দার হযরত হোসাইন রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুর সপরিবারে শাহাদাত বরণ। এছাড়াও কেয়ামত সংঘটিত হওয়া সহ আরো অসংখ্য ঘটনার সম্মিলনের কথা হাদিসের বাণী ও ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়।
পবিত্র মাস মহররমে যুদ্ধবিগ্রহ ও অসংখ্য পাপকাজে যেমনি কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে তদ্রæপ এমাসে আমলের ফজিলতের ব্যাপারে এসেছে অসংখ্য সুসংবাদ। আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “রমদান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা । আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায ।” (সহিহ মুসলিম:১১৬৩, রিয়াদুস সলেহিন: ১১৭৫)।
আশুরার দিনে সিয়াম পালন: আশুরার রোজা সকল নবীর সুন্নত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমনের পূর্বে এবং পরে আশুরায় রোজা রেখেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.) মদিনায় এসে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। নবী (সা.) বললেন, এটি কী? তারা বলল, এটি একটি ভালো দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্রæর কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) রোজা পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, মুসা (আ.)-কে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। অতঃপর তিনি রোজা রেখেছেন এবং সাওম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৫)।
নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, আশুরা দিবস এমন একটি দিবস ছিল, যে দিবসে জাহিলিয়া যুগে কুরাইশগণ রোজা রাখত। জাহিলিয়া যুগে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সে দিবসে রোজা রাখতেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় এলে পরে তিনি সেই রোজা রাখলেন এবং লোকদেরকেও সেই দিনের রোজা রাখতে হুকুম করলেন। অতঃপর যখন রমাদানের রোজা ফরয হল, উহাই ফরয হিসেবে রইল। আশুরা দিবসের রোজা ছেড়ে দেয়া হল। অতঃপর যে ইচ্ছা করত ঐ দিবসে রোজা রাখত, আর যে ইচ্ছা করত না সে তা ছেড়ে দিত। (বুখারি ২০০২, মুসলিম ১১২৫; মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ৬৪৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আশুরার দিনের সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৬)।
রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, ১০ তারিখের সাথে ৯ বা ১১ তারিখেও রোজা রাখা। কেননা যখন সাহাবিদের পক্ষ থেকে আরজ হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ এই দিনকে তো ইয়াহূদি স¤প্রদায় অনেক সম্মান করে এবং তারাও রোজা রাখে তখন নবীজী বললেন আগামী বছর থেকে আমরা ৯ ও ১০ তারিখে সিয়াম পালন করবো। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, তোমরা মহরমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখ। (তিরমিজি ৭৫৫)। অন্য হাদিসে নবি করিম (স) বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি তাহলে মহরম মাসের নয় তারিখের রোজাও পালন করব। (সহিহ মুসলিম ১১৩৪)।
সবিশেষ, এ পবিত্র মাসকে শাহরুল্লাহ বা আল্লাহর মাস বলে সম্বোধন করা হয়েছে। মহররম মাস পৃথিবীর সূচনা থেকে অদ্যবদী আল্লাহর রহমতের অসংখ্য নিদর্শনে ভরপুর। মহান আল্লাহ আমাদের জন্য অফুরন্ত সুযোগ করে দিয়েছেন অনেক বেশি সওয়াব ও নেকি অর্জনের জন্য। তাই আমাদের উচিত একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইবাদাতের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয়া। এ মাস দোয়া কবুলের মাস। ক্ষমার এ মাসে আমাদের ইসতেগফার ও ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের ইসলামী জীবনকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে। আশুরায় ইবাদাত বন্দেগির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যেনো মহররম ও আশুরার মহত্ত¡ হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। আমাদের বাস্তব জীবনে এর শিক্ষা লালন করে প্রকৃত ইসলামের পথে চলতে পারি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমলের সাথে জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source:https://www.dailyinqilab.com/article/407712

9
ইখলাস হলো মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মুসলমানদের একত্ববাদের বিশ্বাস ও আমলের প্রতিদানের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা ইখলাস বিহীন সম্পূর্ণ বৃথাই পরিণত হবে।
মানবজাতি ও জ্বীন জাতিকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মহান রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, আমি মানবজাতি ও জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি, একমাত্র আমি ( আল্লাহ পাকের) ইবাদাত করার জন্যে। মুফাসসিরগণ উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় উম্মতকে বুঝানোর নিবৃত্তে প্রশ্ন করে বলেন, আমরা তো শারিরীক, পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, আদায়ের পর জীবিকা নির্বাহের কাজে, অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য, ও কৃষি কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকি, তাহলে কিভাবে আল্লাহ তা’য়ালার ঘোষণার উপর আমল করা সম্ভব হবে? অর্থাৎ (কেবলমাত্র আল্লাহ পাকের ইবাদাত করা কিভাবে সম্ভব?) প্রশ্নের সাথে সাথে মুফাসসিরীনে কেরামগন, উত্তরে বলেন, বান্দার সমস্ত কাজকর্ম যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ অনুসারে, একনিষ্ঠতার সাথে, কেবলমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হবে, তখন এসকল কর্মকান্ড ইবাদাতের মাঝে গণ্য করা হবে।
অপর দিকে যদি কোন ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ও ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাহ, সহ নফল আমলের নিয়মিত পাবন্দীও হয়।আর যদি ইখলাস না থাকে, তাহলে এসকল আমলের কোনটিই ইবাদত হিসাবে গণ্য করা হবে না। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন: আপনি বলুন: আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল। (সূরা: আল আন’আম, আয়াত: ১৬২- ১৬৩)।
আর আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত ব্যতিত দিনরাত একাকার করে যত আমল’ই করা হোক তাতে বিন্দুমাত্র প্রতিদানের আশা ও করা যাবেনা। এপ্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সমস্ত আমল’ই নিয়তের ( বিশুদ্ধতার) উপর নির্ভরশীল, মানুষের জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়ত করে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্যেই হয়েছে বলে পরিগনিত হবে। এবং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে হবে, অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তাহলে হিজরত যে উদ্দেশ্যে করেছে, সেজন্যেই হয়েছে বলে পরিগনিত হবে। (বুখারী শরীফ)।
তাই আমল কবুল হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ নিয়তের বিকল্প নেই। আর বিশুদ্ধ নিয়ত হলো যা কিছু করা একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার নিভৃত্তে’ই করা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন: তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে। (সূরা: আল-বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
নিয়তকে বিশুদ্ধ করে অল্প আমল’ই মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে। এপ্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি তোমার ইমানকে বিশুদ্ধ করো,অল্প আমল’ই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। ( আল-হাদিস)। আল্লাহ পাক মানবজাতিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, মানুষের আমলের পরিক্ষা করবার জন্যে,কে ইখলাসের সাথে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে আমল করে? আর কে মানুষকে দেখানোর জন্য, বা দুনিয়া অর্জন করার নিভৃত্তে আমল করে?এজন্য মানুষকে দুনিয়াতে জীবন দান করেছেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন: যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ। (সূরা: আল মুল্ক, আয়াত: ২)।
মানুষকে ইবাদাতের পথনির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিম অবতীর্ণ করেছেন।এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী একনিষ্ঠতার সাথে ইবাদাত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন : আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, আপনি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করুন। জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ এবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত।
(সূরা: আয যুমার, আয়াত: ২- ৩)।
আমাদের সমাজ ধনী গরিব, সুন্দর কালো, উঁচু নিচু, শক্তিধর ও দূর্বলদের মাঝে তারতম্য করলেও, আল্লাহ তা’য়ালার কাছে এসবের কোন মূল্য নেই। আল্লাহ তা’য়ালা, কে ধনী কে গরিব, কে সুন্দর, কে কালো, কে উঁচু, কে নিচু, কে ক্ষমতাধর, কে ক্ষমতাধর নয়, এসবের কোন মূল্য নেই। আল্লাহ তা’য়ালা দেখেন, বান্দার অন্তরে কি রয়েছে। সুন্দর হওয়াতে যদি আল্লাহ তা’য়ালার কাছে কোন দাম থাকতো, তাহলে হাবশি কালো বেলাল (রা.) এর এতো মর্যাদা হতোনা। অথচ; রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেরাজের রজনীতে জান্নাতে হযরত বেলাল (রা.) এর পয়ের( চলাচলের) আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন।
হযরত বেলাল (রা.) এর এই মর্যাদা অন্য কোন কিছুর বিনিময়ে নয়। এই মর্যাদা হযরত বেলাল (রা.) এর ইমান,আমল ও ইখলাসের বিনিময়ে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহপাক তোমাদের শরীর ও অবয়বের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে লক্ষ করেন।’ (মুসলিম শরিফ, ২৫৬৪)।
ইখলাস বিহীন আমলের পরিনতি, আল্লাহপাক কোরআন করিমে বলেন : আমি ছাড়া অন্যের সন্তুষ্টির জন্য তারা যেসব আমল করবে , আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অত:পর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলিকণা করে দেব। (সুরা ফুরকান : ২৩)।
আল্লাহ পাক এধরনের ক্ষতিগ্রস্তদের অশুভ পরিনতি থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমাদেরকে একনিষ্ঠতার সাথে একত্ববাদ ও ইখলাসের উপর আমল করবার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source:https://www.dailyinqilab.com/article/407707

10
অনেকেই বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখার অভ্যেস করে থাকেন। শুয়ে মোবাইল দেখলে চোখের সঙ্গে দূরত্ব সমান থাকে না। চোখের পেশিগুলির উপরেও অনেক চাপ পড়ে। বেশিদিন এই অভ্যাস বজায় রাখলে প্রভাব পড়ে চোখে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে পারে। হতে পারে মাথা ব্যাথাও। তাই মোবাইল দেখুন বসে। শুয়ে শুয়ে একেবারেই নয়।

বাসে ট্রেনে যাতায়াত করার সময় যতটা সম্ভব চোখ মোবাইল থেকে দূরে রাখুন। কারণ এই সময় বাসের ঝাঁকুনির সময় মোবাইল দেখলে চোখের উপর প্রভাব পড়তে পারে। চেষ্টা করুন খুব প্রয়োজন না হলে এই সময়টুকু মোবাইল না দেখার। এতে চোখের ক্ষতি অনেকটাই কমবে।
একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকবেন না
কাজ করার সময় চেষ্টা করবেন একনাগাড়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থাকতে। বরং মাঝে মাঝেই অন্যদিকে তাকিয়ে চোখকে কিছুটা আরাম দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কাজের মাঝে দুই থেকে তিন মিনিট চোখ বুজে থাকুন। এতে চোখ বিশ্রাম পাবে।

চোখে পানির ঝাপটা দিন
কাজ থেকে খানিকটা বিরতি নিয়ে চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিন। এ সময় খুব জোরে পানির ঝাপটা না দেওয়াই ভালো। পানিতে ভেজানো তুলা দিয়ে চোখ মাঝেমধ্যে মুছে নিন। এতে চোখ আরাম পাবে।

চোখের ব্যয়াম করুন
হাত-পায়ের মতো চোখেরও ব্যয়াম আছে। যা কিনা দৃষ্টিশক্তিকে সবল করে তোলে। যারা কম্পিউটারে বা মোবাইলে বেশি চোখ রাখেন তাদের দিনে অন্তত একবার চোখের ব্যয়াম করা উচিত। যেমন, খুব দূরের কোনো বস্তু দেখার চেষ্টা করুন। তার পরের মুহূর্তে সামনের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এভাবে অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার করার চেষ্টা করুন। এতে দৃষ্টিশক্তি সবল হয়।

সানগ্লাস ব্যবহার করুন
রোদে বের হলে অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এতে চোখ ভালো থাকবে।

ড্রাই আই
কারো ড্রাই আইয়ের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আর্টিফিসিয়াল টিয়ার ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখ শুধু আরামই পাবে তা নয়, চোখের ক্লান্তি দূর হবে। আর মোবাইল দেখতে দেখতে যখনই চোখে ব্যথা অনুভব করবেন তখনই মোবাইল দেখা বন্ধ করে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখুন। চোখকে বিশ্রাম দিন। এতে চোখ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

এছাড়াও প্রতিদিন সকালে উঠে সবুজের দিকে তাকানোর অভ্যাস করুন। সবুজ চোখে আরাম দেয়। চোখের জন্য সবুজ রং অত্যন্ত উপকারী।

 

বিডি প্রতিদিন /

11
Fruit / আমাশয় দূর করে বহেড়া
« on: July 18, 2021, 10:37:05 AM »
বহেড়া এক ধরনের ঔষধি ফল। বহেড়া ফল উপমহাদেশের প্রাচীনতম আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বহেড়া বিশেষভাবে পরিশোধিত হয়ে এর ফল, বীজ ও বাকল মানুষের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক বহেড়া ফলের ঔষধিগুণগুলো-

হজমশক্তি বাড়াতে : বহেড়া হজমশক্তি বৃদ্ধিকারক। এ ফলের খোসা ভালো করে গুঁড়া করে নিন। পানির সঙ্গে এ গুঁড়া দিনে দু’বার খেয়ে যান। ক্ষুধামান্দা তাড়াতেও একই প্রণালী অনুসরণ করতে পারেন।
আমাশয় থেকে দূরে থাকতে : আমাশয়ে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে বহেড়ার গুঁড়া মেশানো পানি খেয়ে যান। উপকার পাবেন।
হাঁপানি থেকে মুক্তি পেতে : বহেড়া বীজের শাঁস ২ ঘণ্টা অন্তর চিবিয়ে খেলে হাঁপানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ পদ্ধতি মেনে চলুন।

কৃমি নাশ করে : পেটে কৃমি হয়েছে? হাতের কাছে সমাধান হিসেবে বহেড়া রয়েছে।

ডায়রিয়া প্রতিকারে : ডায়রিয়া হলে বহেড়ার খোসা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। অল্প মাত্রায় খেলে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত।

অনিদ্রা রোগে : রাতের পর রাত নির্ঘুম কেটে যায়? এখন থেকে চমৎকার ঘুমের জন্য বহেড়া খেয়ে যান।

চুল পাকা প্রতিরোধে : ১০ গ্রাম পরিমাণ বহেড়ার ছাল পানি মিশিয়ে থেঁতো করে নিন। এ থেঁতলানো বস্তু এক কাপ পানিতে ছেঁকে নিন। এবার পানিটুকু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

বিডি-প্রতিদিন

12
জিলহজ মাসে মুমিন মুসলমানের জন্য নির্ধারিত ৫ দিনে ২৩ ওয়াক্ত নামাজে তাকবিরে তাশরিক ওয়াজিব আমল। আর দশকজুড়ে এ আমলটি বেশি বেশি করতে বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জিলহজ মাসের প্রথম দশকে তোমরা বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

তাকবিরে তাশরিক হলো-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
অর্থ : ’আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।’

ওয়াজিব আমলের সময় ও নিয়ম
হজের দিন (৯ জিলহজ) ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত মোট ৫ দিন ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর নারী-পুরুষ (প্রাপ্তবয়স্ক) সবার জন্য ১ বার তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। পুরুষরা উচ্চস্বরে পড়লেও নারীরা তা নিচু আওয়াজে পড়বে। তবে ফরজ নামাজের পর একবার পড়া ওয়াজিব আর তারপর একাধিকবার পড়া মোস্তাহাব।

সুন্নাতের অনুসরণে তাকবিরের আমল
জিলহজ মাসের শুরু থেকে নির্ধারিত দিনগুলো ছাড়াও পুরো দশকজুড়ে বেশি বেশি তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলাফেরা, উঠা-বসা তথা সব সময় বেশি বেশি তাকবিরে তাশরিক পড়বেন।

উল্লেখ্য, ১৪৪২ হিজরি সনের শেষ মাস জিলহজ চলছে। আগামী ২১ জুলাই মোতাবেক ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা ও কুরবানি অনুষ্ঠিত হবে। ঈদুল আজহা, হজ ও কুরবানির জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসের মর্যাদা অনেক বেশি। আর এ মাসটির প্রথম দশকজুড়ে বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ বেশি বেশি পড়ার কথা বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, তাকবিরে তাশরিকের নির্ধারিত ৫ দিন ২৩ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও পুরো দশকজুড়ে বেশিবেশি এ তাকবির পড়ার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের অনুসরণে চলতি দশকজুড়ে বেশি বেশি তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Source:https://www.jagonews24.com/religion/article/683781

13
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, সবুজ ক্যাপসিকাম প্রায়ই পাওয়া যায় বাজারে। সেভাবে যদিও লাল কিংবা হলুদ ক্যাপসিকাম পাওয়া যায় না। আজকের এই ব্যস্ততার যুগে যে সবজিগুলো মানুষের প্রতিদিন খাওয়া উচিত, ক্যাপসিকাম তার মধ্যে অন্যতম। শরীরের নানা চাহিদা পূরণ করে, পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কোনও অসুখ থেকে উপশম পাওয়া যায়।

কেন খাবেন ক্যাপসিক্যাম-
১. ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়তে নিয়মিত খেলে ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে এটি।

২. ভিটামিন এ রয়েছে এতে। চোখের নানা রকম সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের ক্যাপসিকাম খাওয়া উচিৎ।

৩. ক্যাপসাইসিনস নামক একটি উপাদান থাকে এতে। যা ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. কোলেস্টেরল কম থাকে। খেলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার চিন্তা থাকে না মোটেই।

৫. মাইগ্রেনের ওষুধ বলা হয় ক্যাপসিকামকে। লাল কিংবা সবুজ, যেকোনও ক্যাপসিকামই শরীরে এবং মাথায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মাথা যন্ত্রণা, মাইগ্রেন এসকল সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ক্যাপসিকাম।


 Google News

14
একসময় যে সমস্যা চল্লিশ বছর বয়সেও দেখা দিত না, সেটাই এবার বিশ বছরের ঘরে পা রাখতে না রাখতেই চেহারায় ফুটে উঠছে। বয়স যাই হোক, কম বয়সেই বয়স্কদের মতো চেহারা হয়ে যাচ্ছে অনেকের। ত্বকে বলিরেখা, চুল পেকে যাওয়া, চোখের তলায় কালি, শরীরে ব্যথা। এর কারণ?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্ট্রেসের কারণেই এই ছাপগুলো কমবয়সিদের চেহারায় পড়ছে। তাছাড়া জীবনযাত্রার মানের তারতম্য হলে, অত্যধিক মাত্রায় ডিভাইসে সময় কাটালে, মদ্যপান, ধুমপানের কারণেও এই সমস্যা দেখা দেয়। চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে নির্দিষ্ট কিছু খাবারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন-
১. ওটস: এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা হজমশক্তি বাড়ায়। শরীর চাঙ্গা রাখে। দৌড়ঝাঁপ করলেও শরীর ক্লান্ত হয় না। ব্রেকফাস্টে নিয়মিত ওটস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. ডার্ক চকলেট: এর মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। তাছাড়াও এটি এনার্জি বুস্ট করে। তাই মিষ্টির বদলে ডার্ক চকলেট খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩. রাঙালু: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চোখের জন্যও ভীষণ উপকারী। স্যালাডের সঙ্গে এটি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

৪. দুধ: প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামে ভরপুর দুধ রোজকার ডায়েটে রাখতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত খেলে হাড় ও পেশী মজবুত থাকে। শরীরও হাইড্রেটেড থাকে। ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে দুধ।

৫. কলা: এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন। এনার্জি বুস্ট করে কলা। ফলে কাজের মাঝে ক্লান্তি আসে না সহজেই। শুষ্ক ত্বকের জন্যও ভীষণ উপকারী কলা।

Google News

15
একবিংশ শতকে সারাবিশ্বের দুই শতাধিক দেশে নির্মম তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানুষ এত ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়নি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশে ৮,৬৬,৮৪৭ জন মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে এবং ১৩,৭৮৭ জন মানুষ মারা গেছে (২৩ জুন, ২০২১)। সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সারাবিশ্বের সকল মানুষ আতঙ্কিত। বিশ্বের শক্তিশালী, প্রযুক্তিতে উন্নত এবং ধনাঢ্য দেশগুলোও এই ভাইরাসের হানায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সাথে সারাদেশের ট্রেন, বাস, লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের উহান প্রদেশ থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসের ভয়ে বাংলাদেশ, ভারতসহ সারাবিশ্বের ‌অধিকাংশ দেশে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সমূহ শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে পাড়ামহল্লা, অলিগলিতে প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিভিন্ন অফিস-আদালত, সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার‘ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যত্রতত্র স্টিকার লাগানো রয়েছে "মাস্ক পরিধান করুন, সেবা নিন"। সারাবিশ্বের গবেষকগণ টিকা আবিষ্কার করেছেন এবং করছেন। দেশের প্রতিজন নাগরিকের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোতে করোনার টিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ রোধে পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য কাবাঘর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাগিদ দিচ্ছেন। এমনি পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, জ্ঞানের স্বল্পতায় বা ‌অসচেতনতাবশতঃ আমরা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করছিনা, মাস্ক ব্যবহারে অবহেলা করছি। বৃটেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ সারাবিশ্বে ছোট বড়, ধনী গরীব, আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিপুল জনগোষ্ঠী অধ্যূষিত বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস হলেও মুসলমানদের সংখ্যা সর্বোচ্চ। আমরা লক্ষ্য করে থাকবো কতিপয় রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীরা বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের উত্তেজিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করেন, সরকারকে বিব্রত করার পায়তারা করেন। ঠিক তেমনিভাবে এই করোনা মহামারী কালেও কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠি করোনা মহামারীকালে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, বিপদগ্রস্ত করছেন, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছেন। উল্লেখ্য যে, পবিত্র কোরআন ও হাদীসে মহামারীকালে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন অনুশাসন রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
একটি স্বভাব ও স্বাভাবিকতার ওপর মহাবিশ্ব পরিচালিত হয়। পবিত্র কোরআনে সূরা আর-রূম এ বর্ণিত আছে ,"তোমরা একনিষ্ঠ ভাবে স্ব স্ব লক্ষ্য এই ধর্মের প্রতি রাখ; আল্লাহ প্রদত্ত (সত্যোপলব্ধির) সেই যোগ্যতা অনুসরণ করিয়া চলো, যাহার ওপর আল্লাহ মানবকে সৃষ্টি করিয়াছেন; আল্লাহর সৃষ্ট সেই বস্তুকে পরিবর্তন করা উচিত নহে, যাহার উপর আল্লাহ তায়ালা মানবকে সৃষ্টি করিয়াছেন; ইহাই হইতেছে সরল ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না"। প্রকৃতির স্বাভাবিকতার বিরুদ্ধাচারণ করলে মহান আল্লাহ যা চান তাই করেন (সূরা আল বুরূজ ১৬ নং আয়াত)। তখন মহান আল্লাহ কখনও কখনও প্রকৃতির স্বাভাবিকতা বদলে দেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আনফাল এর ২৫ নং আয়াতে বর্নিত আছে, "তোমরা এমন ফেতনার হইতে বাঁচিয়া (নিরাপদ) থাকো, যাহা কেবল তাহাদের উপরেই পতিত হইবে না যাহারা তোমাদের মধ্য হইতে পাপসমূহে লিপ্ত রহিয়াছে"। যেমন বন্যায় মসজিদ ডুবে যায়, আগুনে ধর্ম গ্রন্থের পাতাও পুড়ে যায় তদ্রুপ সুনামী, ভূমিকম্প, মহামারী ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরপরাধ মানুষও মারা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "যদি তোমরা শোন যে কোন এলাকায় মহামারী চলছে তবে সেখানে প্রবেশ করবে না। তোমরা যেখানে আছো সেখানে মহামারী দেখা দেয় তাহলে সেখান থেকে বের হবে না" (সহীহ আল বুখারী, হাদিস নং ৫২২৮: মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ২১৮১১)। অর্থাৎ মহামারীকালে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে না যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অর্থ্যাৎ লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের মত বিধান রাখা হয়েছে। সুতরাং মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। পবিত্র কোরআনে সূরা তালাক এর ৩ নং আয়াতে বর্ণিত আছে, "যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তিনিই (আল্লাহ) তার জন্য যথেষ্ট"।

সুতরাং চলমান করোনা সংক্রমণ রোধে মহামারীকালে কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুসরণ করি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করি, অপ্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে ঘোরাঘুরি পরিহার করি। নিরাপদ থাকি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

Google News

Pages: [1] 2 3 ... 25