Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - protima.ns

Pages: 1 [2] 3 4 ... 17
16
সূর্যের জন্মের আগের রহস্যজনক পদার্থের সন্ধান:
পৃথিবীতে হদিশ মিলেছে সূর্যের জন্মের আগের আদিমতম কঠিন পদার্থের। সাড়ে ৫০০ কোটি বছর আগে ওই পদার্থ প্রচণ্ড তাপে গলে বা বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পদার্থটি গলেনি। এখনও তা কঠিনই রয়েছে।


৫১ বছর আগে উত্তর মেক্সিকোতে আছড়ে পড়া একটি উল্কাপিণ্ড থেকে সেই বিরল পদার্থটির হদিশ মিলেছে। উল্কাপিণ্ডটির নাম ‘অ্যালেন্দে’। ১৯৬৯-র ফেব্রুয়ারিতে অ্যালেন্দে আছড়ে পড়ে পৃথিবীর বুকে। ব্রহ্মাণ্ডের আদিমতম ওই কঠিন পদার্থকে বলা হয়, ‘প্রি-সোলার গ্রেইনস’।

উল্কাপিণ্ডটির খাঁজেই ছিল ঝাপসাটে সাদা পদার্থটি। কিন্তু সেটি কী দিয়ে তৈরি, তা জানা সম্ভব হয়নি। আর তাই ওই পদার্থটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘কিউরিয়াস মারি’। দু’-দু’বার নোবেল পুরস্কারজয়ী রসায়নবিদ মারি ক্যুরির স্মরণে।

জানা যায়, অ্যালেন্দের খাঁজে থাকা পদার্থটি আসলে ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর একটি যৌগ। আর তার মধ্যে রয়েছে সিলিকন ও কার্বনের একটি যৌগ- সিলিকন কার্বাইড। যা রয়েছে আদ্যোপান্ত কঠিন অবস্থায়। ব্রহ্মাণ্ডে যার সৃষ্টি হয়েছিল সূর্যেরও জন্মের আগে। আজ থেকে অন্তত ৫০০/৫৫০ কোটি বছর আগে।

সেন্ট লুইয়ে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা এই খবর দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-অ্যাস্ট্রোনমি’তে।

৫১ বছর আগে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়া অ্যালেন্দে উল্কাপিণ্ডটি রাখা আছে শিকাগো ফিল্ড মিউজিয়ামের ‘প্রিৎজকার সেন্টার ফর মেটিওরিটিক্স অ্যান্ড পোলার স্টাডিজ’-এ।

মূল গবেষক প্রাভদিভ্‌তসেভার বলেন, আমাদের সূর্যের জন্মের আগে নেবুলার কোনও কোনও জায়গায় হয়তো এমন তাপমাত্রা ছিল, যাতে সিলিকন কার্বাইডের মতো কঠিন পদার্থ সৃষ্টির পর তা কয়েকশো কোটি বছর ধরে স্থায়ী হতে পারে। এর মানে, সূর্যের জন্মের আগে যে কঠিন পদার্থগুলির জন্ম হয়েছিল, তাদের সকলেই প্রচণ্ড তাপমাত্রায় গলে বা বাষ্পীভূত হয়ে যায়নি।

17
বিস্ফোরিত হবে উজ্জ্বল তারকা:
বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিদরা তা সে অ্যামেচার কিংবা পেশাদার যেই হোন না কেন, আকাশের দিকে নজর রেখেছেন ‘জীবনে একবার আসে এমন একটি মুহূর্তের’ সাক্ষী হওয়ার জন্য।


তারা ধারণা করছেন, বেটেলজাস যেটি কিনা পৃথিবী থেকে দেখা যায় এমন উজ্জ্বলতম নক্ষত্রগুলোর একটি হয়তো সুপারনোভায় পরিণত হতে যাচ্ছে, আর এটা হতে যাচ্ছে ধারণা করা সময়ের চেয়ে অনেক আগেই।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে : বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে। যদিও জ্যোতির্বিদরা জানেন যে, বেটেলজাস ধীরে ধীরে ‘বিস্ফোরিত’ হবে, কিন্তু সম্প্রতি হওয়া কিছু পরিবর্তন তাদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বেটেলজাসকে এরইমধ্যে ‘ধ্বংসের মুখে থাকা নক্ষত্র’ সিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যার বিস্ফোরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আমাদের সূর্য যা প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন বছর বয়সী-তার তুলনায় এই তারাটির বয়স ৮০ লাখ থেকে এক কোটি বছর। কিন্তু এটি এর পারমাণবিক জ্বালানি দ্রুত মাত্রায় ব্যয় করে ফেলেছে। এটি হচ্ছে লাল একটি সুপার জায়ান্ট, একটি তার যার আয়ু প্রায় শেষের পথে, কিন্তু এর আকার যথেষ্ট প্রসারিত হয়েছে।

বেটেলজাস একটি বিশালাকার স্পন্দিত নক্ষত্র অর্থাৎ এটি একইসঙ্গে প্রসারিত এবং সংকুচিত হয়- এই ‘প্রতিবেশী’র পরিসীমা সূর্যের চেয়ে ৫৫০ থেকে ৯২০ গুণ বেশি হতে পারে।

‘এর সম্পর্কে যা জানা যায় তা হচ্ছে এটির সুপারনোভায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,’ বিবিসিকে এ কথা বলেন নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড্যানিয়েল ব্রাউন। ‘এর বর্তমান অবস্থা থেকে এটা বোঝা যায় যে, জ্যোতির্বিজ্ঞানের সময়ের হিসাবে এটি যেকোনো সময় ঘটতে পারে।’ ‘কিন্তু এটার অর্থ হচ্ছে এটা আগামী এক লাখ বছরেও হতে পারে,’ ব্রাউন বলেন। তার মানে এটি শিগগিরই সুপারনোভায় পরিণত হচ্ছে না?

গদ কয়েক মাসে জ্যোতির্বিদরা লক্ষ্য করেছেন যে, ব্রেটেলজাস ধীরে ধীরে অনুজ্জ্বল তারায় পরিণত হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা গত ডিসেম্বর দাবি করেছেন যে, তারাটি ৫০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে অনুজ্জ্বল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্য হারে উজ্জ্বলতা হারানো থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই রেড জায়ান্টটি ‘বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে।’

‘আয়ুষ্কাল শেয় হয়ে এলে বিশালাকার নক্ষত্রও তাদের ব্যাপক হারে ভরশূন্য হয়ে পড়ে’ টুইটারে এমনটা লেখেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ এবং বেটেলজাসের গবেষক সারাফিনা ন্যান্স।

18
চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, কী করবেন?
অতিরিক্ত চুল ওঠার কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়। যত্নের অভাবে চুল পাতলা হয়ে যায় এমন নয়। দূষণ, পানির প্রকৃতি, মানসিক, চুলের স্টাইলিং, যন্ত্রের ব্যবহার, কেমিক্যাল হেয়ার ট্রিটমেন্টসহ বিভিন্ন কারণে চুল পাতলা হয়ে যায়।


তবে কিছু উপায় মেনে চললে চুল পাতলা হওয়া রোধ করা যায়।

আসুন জেনে নিই চুলের যত্নে কী করবেন?

১. সপ্তাহে দুদিন শ্যাম্পু করার আগে গরম তেলের ম্যাসাজ করুন চুলে। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল বা অ্যাভোকাডোর মতো প্রাকৃতিক তেল চুলের জন্য ভালোই। আর চুল বড় করতে চাইলে নারিকেল তেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মেশাতে পারেন।

২. ড্রাই ম্যাসাজও চুলের জন্য ভালো। মাথা নিচু করে পুরো চুলটা সামনের দিকে নিয়ে আসুন এবং আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

৩. ভালো মানের শ্যাম্পু, তেল, কন্ডিশনার চুল ভালো রাখে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে শ্যাম্পু, তেল, কন্ডিশনার বেছে নিন।

৪. ভিটামিন 'সি' ও প্রোটিনসংবলিত খাবার খেতে হবে। এরা চুলের কেরাটিন মজবুত করে চুল ঘন করে তোলে।

19
বয়স বাড়লেও যেভাবে ধরে রাখবেন তারুণ্য|:
বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হারিয়ে যেতে থাকে ত্বকের তারুণ্য। সাধারণত ৩০ পেরোলেই শরীরের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে থাকে। তবে একটু যত্ন নিলেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।


তবে আপনি জানেন কী ৩০, ৪০ বা ৬০ বছর বয়সেও ধরে রাখতে পারবেন পঁচিশের যৌবন। আসুন জেনে নিই বয়স বাড়লেও যেভাবে ধরে রাখবেন তারুণ্য–

১. ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। কারণ ঘুম শরীর সুস্থ রাখে। যৌবনকে ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে রোজ রাতে ১০টা থেকে ১০টা ৩০-এর মধ্যে ঘুমাতে যান এবং সকালে তাড়াতাড়ি উঠে শরীরচর্চা করুন।

২. সকালে ঘুম থেকে উঠে ও বিকালে সময় পেলে ব্যায়াম ও যোগাসন করুন। শারীরিক ব্যায়াম ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে ও পেশির কাজ সহজ করে।

৩. যৌবনকে ধরে রাখতে জাঙ্কফুড বা তেলে ভাজা জাতীয় খাবার, বাইরের ফাস্টফুড ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না। অল্প মসলা ও তেল দিয়ে রান্না করা খাবার খান। এ ছাড়া টাটকা সবজি, টিফিন হিসেবে খান সবজির স্যুপ ও সামুদ্রিক মাছ।

৪. সপ্তাহে ৩-৪ দিন খান মাছের তেল। কারণ মাছের তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা দেহে বয়সের ছাপ রুখতে সাহায্য করে।

৫. তারুণ্য বা যৌবনকে ধরে রাখতে মানসিক চাপ নেয়া কমাতে হবে। এই রোগ যা অল্প বয়সেই মানুষকে বার্ধক্যের কবলে ঠেলে দেয়। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, যোগব্যায়াম ও ভ্রমণ করতে পারেন।

৬. অলস জীবন ত্যাগ করে শারীরিক পরিশ্রম করুন। শারীরিক পরিশ্রম দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয় এবং দেহে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেনের সরবরাহ করে, যা কোষগুলোকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ থাকতে ও তারুণ্য ধরে রাখতে পরিশ্রম করুন।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে ও ত্বককে ঠিক রাখে। দেহের ওজন অনুযায়ী সারা দিনে কত লিটার পানি পান করবেন তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

৮. বেশি বয়সেও তারুণ্যতা বজায় রাখতে অবশ্যই ত্বক ও চুলের যত্ন নিতে হবে। কারণ কোঁচকানো ত্বক ও পেকে যাওয়া চুল বার্ধক্যের চিহ্ন।

20
বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দেবে ৪ খাবার:
প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন মানুষ বিষণ্ণতায় ভোগেন? এসব মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।


আনন্দ হ্রাস করা, অস্থিরতা বোধ, শক্তি হ্রাস হওয়া, বিরক্তি, ঘুমাতে অসুবিধা হওয়া, খিদে কমে যাওয়া, আত্মহত্যার প্রবণতা থাকা এবঙ নিজেকে অযোগ্য মনে হওয়া এসব বিষণ্ণতার লক্ষণ।

কিছু নির্দিষ্ট খাবার, ভেষজ ও খনিজ রয়েছে, যা প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে আর বিষণ্ণতা দূর করে। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

আসুন জেনে নিই চারটি প্রাকৃতিক প্রতিষেধক সম্পর্কে-

১. ফলিক অ্যাসিড মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। প্রতিদিন ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। ফোলেট সমৃদ্ধ খাবারের কয়েকটি উদাহরণ হলো– বিনস্, মসুর, বেশি পাতাযুক্ত সতেজ শাকসবজি, সূর্যমুখী বীজ, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি।

২. জিঙ্ক পুষ্টি সমৃদ্ধ, যা জ্ঞান ও আচরণের মতো মানসিক কার্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত। ১২ সপ্তাহে প্রতিদিন ২৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক গ্রহণ হতাশা হ্রাস করে।

৩. বিশেষজ্ঞের মতে, জাফরান মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসা করে ও জাতীয় ব্যাধিগুলোর ঝুঁকি হ্রাস করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জাফরান রাখতে পারেন।

৪. ল্যাভেন্ডার অ্যাসেনশিয়াল অয়েল স্ট্রেস ও উদ্বেগ হ্রাস করে। ল্যাভেন্ডার তেলের ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

21
ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখুন থাইরয়েডের ব্যথা:
থাইরয়েডের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। থাইরয়েড মানবদেহের গলায় অবস্থান করে, যা দেখতে প্রজাপতির মতো। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি হরমোন তৈরি হয়। আর যখন থাইরয়েডে হরমোনগুলো অস্বাভাবিক উত্পাদন হয়, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।


থাইরয়েড সাধারণত দুই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। একটি হলো– হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম।

থাইরয়েড গ্রন্থিতে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে। আর পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। থাইরয়েড সমস্যা প্রধানত দেখা যায় স্ট্রেস, ডায়েটের সমস্যা।

তবে আপনি চাইলে ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

আসুন জেনে নিই থাইরয়েড সমস্যা থেকে বাঁচার ঘরোয়া উপায়-

১. অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত ফল ও শাকসবজি খেতে পারেন। এসব ফল ও সবজি থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধে করে। এ ছাড়া ভিটামিন-বি ১২ যুক্ত খাবার থাইরয়েড গ্রন্থিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

২. থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চিনি খাবেন না। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া খেবে বিরত থাকুন।

৩. শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন যখন থাকে না, তখন থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না, যা হাইপোথাইরয়েডিজম-এর দিকে পরিচালিত হয়। তাই আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।

৪. মানসিক চাপ থাকলে শরীরচর্চা করুন। শরীরচর্চা করলে থাইরয়েডের সমস্যা কম থাকে।

৫. খাবারে আয়রন কম পরিমাণে থাকলেও থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৬. যোগ-ব্যায়াম ও ধ্যান থাইরয়েড গ্রন্থিতে রক্ত প্রবাহকে সঠিক রাখে।

22
বই থাকলে টিকিট ছাড়াই ভ্রমণ:
ট্রেনের চড়ে যে কোনো জায়গায় যেতে টিকিট লাগবে না। ২৮ মার্চ থেকে পুরো এক সপ্তাহ এ সুবিধা পেলেন নেদারল্যান্ডসের ট্রেনযাত্রীরা। বই পড়ায় উৎসাহ দিতে ১৯৩২ সাল থেকে নেদারল্যান্ডসে শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী উৎসব ‘বোকেনউইক’।


ডাচ শব্দ ‘বোকেন’-এর অর্থ বই। প্রতিবছর এ উৎসবের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে চলে নানা ধরনের সাহিত্য উৎসব। এমনকি প্রিয় বইয়ের পাতায় লেখকের স্বাক্ষরও পেয়ে যান সাহিত্যপ্রেমীরা।

‘বোকেনউইক’-এ নানা সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যায়। কেউ কোনো লাইব্রেরির সদস্য হলে, বিনা মূল্যে একটা বই দেয়া হয়। ‘বোকেনউইক’-এর কথা মাথায় রেখেই বিখ্যাত কোনো লেখক একটা বিশেষ উপন্যাস লেখেন। সেই বইটাই এ সময় নানাভাবে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয় নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দাদের।

এ বছর নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত লেখক ইয়ান সিবেলিঙ্কের উপন্যাস ‘ইয়াস ভ্যান বেলফত’ দেশের প্রতিটি ট্রেনেই বিতরণ করা হয়েছে। কোনো যাত্রী যদি ওই বইটা চেকারকে দেখান, তবে তার আর ট্রেনের টিকিট লাগেনি। অর্থাৎ একেবারে বিনা ভাড়ায় ট্রেনের ভ্রমণ।

এই বার্ষিক উৎসবের স্পন্সর হিসেবে এগিয়ে এসেছিল ডাচ রেলওয়ে কোম্পানি। শুধু কি বই বিতরণ, ট্রেনের মধ্যেই ইয়ান সিবেলিঙ্কের বুক রিডি-এর ব্যবস্থাও করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ।

শুধু ট্রেনেই নয়, নেদারল্যান্ডসের যে কোনো বইয়ের দোকান থেকে সাড়ে ১২ ইউরোতে বই কিনলেই ‘ইয়াস ভ্যান বেলফত’ বিনা মূল্যে পাওয়া গেছে। গোটা বিষয়ে উচ্ছ্বসিত লেখক ইয়ান সিবেলিঙ্ক।

ট্রেনে চড়া বুক রিডিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাত্রীদের হাশিখুশি অবাক করা চেহারাগুলো দেখে কী যে ভালো লাগে। গত ১৮ বছর ধরেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে চলেছে ডাচ রেল সংস্থাটি।

23
ব্রেইন ডেড’ রোগীর থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন হবে:

ক্লিনিক্যালি ডেড বা ব্রেইন ডেড রোগীদের থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে পাশের দেশ ভারত ও শ্রীলংকায় ‘ব্রেইন ডেড’ রোগীদের থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও বাংলাদেশে এমনটা আগে কখনো হয়নি। নতুন এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে এলে অনেক কিডনি রোগীর জীবন বঁাচানো সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। সাধারণত দুইভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায়। জীবিত মানুষের থেকে এবং ব্রেইন ডেড রোগীর থেকে। তবে যে পরিমাণ কিডনির চাহিদা রয়েছে সেটা জীবিত দাতা বা লিভিং ট্রান্সপ্ল্যান্ট থেকে পূরণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে ব্রেইন ডেড রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। গত বছরের জানুয়ারিতে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন-২০১৭ গেজেট আকারে প্রণয়ন করা হয়। সেই আইনানুযায়ী যদি চিকিৎসকরা কোনো রোগীকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন এবং ওই রোগীর নিকটাত্মীয়রা যদি রোগীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্যকে দেয়ার লিখিত অনুমোদন দেন তাহলে ট্রান্সপ্লান্ট টিম ওই রোগীর শরীর থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারবে। ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দাবিদার না থাকলে ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানের অনুমতি দিতে পারবেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট নামে এই প্রক্রিয়াটিকে বাংলাদেশে পরিচিত করাতে কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পঁাচ সদস্যের একটি কিডনি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় এসেছেন। তারা প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকার পঁাচটি হাসপাতাল পরিদশর্ন করবেন। সেখানে কোনো ‘ব্রেইন ডেড’ রোগী পাওয়া গেলে ওই দলটি দেশের কিডনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করবেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম, কিডনি ফাউন্ডেশন ও সিএমএইচÑ এই পঁাচ হাসপাতালের যেখানেই দাতা পাওয়া যাবে, সেখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের অস্ত্রোপচার করা হবে। যদি ‘ব্রেইন ডেড’ রোগী পাওয়া না যায়, তাহলে কিডনি বিশেষজ্ঞদের বিশেষ কমর্শালার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে কোরিয়া-কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট টিমের কো-অডিের্নটর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. এএসএম তানিম আনোয়ার বলেন, ‘দেশে বছরে ৫০০০ কিডনির চাহিদা থাকলেও কিডনি মেলে মাত্র ১২০টি। এই নগণ্য সংখ্যক কিডনি প্রতিস্থাপন করা হতো জীবিত মানুষের শরীর থেকে। যাদের বেশিরভাগই রোগীর নিকট আত্মীয়।’ আর যারা কোনো দাতা পান না তাদের ধঁুকে ধুঁকে মরতে হয়। না হলে দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করাতে হয়। ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে এই লিভিং ট্রান্সপ্লান্ট শুরু হয়। ব্রেইন ডেড রোগী কারা? ব্রেইন ডেড বলতে বোঝায় যখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কমিটি লাইফ সাপোটের্ থাকা কোনো রোগীকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন। মেডিসিন বা ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি ও অ্যানেস্থেশিওলজির কমপক্ষে তিনজন চিকিৎসক নিয়ে গঠিত কমিটি ব্রেইন ডেথ হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। হাসপাতালের নিবিড় পযের্বক্ষণ কেন্দ্রে লাইফ সাপোটের্ থাকলেই যে রোগী ব্রেইন ডেড হবেন সেটা ভুল ধারণা। চিকিৎসকদের মতে, ব্রেইন ডেড রোগীর মস্তিষ্ক পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়। শুধু হৃদপিÐটি যন্ত্র দিয়ে সচল রাখা হয়। এমন অবস্থায় রোগীর বেঁচে ফেরার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। তবে অঙ্গ দান করা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখন যে ভ্রান্ত ও নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, সেখান থেকে মানুষকে বের করে আনতে সবর্স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন ডা. আনোয়ার। তিনি বলেন, ‘এখন রক্ত দানের মতো কিডনি বা লিভার দানের বিষয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে

24
শিশুকে কতক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করতে দেয়া উচিত?
প্রযুক্তির এই যুগে শিশুরা মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে কান্না থামান অনেকে বাবা-মা। তবে শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে তা একসময় তার অভ্যাসে পরিণত নয়। মোবাইল না দিলে সে কান্না করে। অনেক শিশু মোবাইলে কার্টুন দেখা, গেমস খেলা ও গান শুনে থাকে। এছাড়া শিশু সন্তানের খাওয়ানোর কাজটা আমরা অনেকে মোবাইল হাতে দিয়ে করে থাকি।


তবে শিশুদের সামলানোর জন্যে তার হাতে শুধু মোবাইল না স্মার্ট ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ দেই আমরা। তবে কখনো ভেবে দেখেছেন কী? এই মোবাইল ফোন কী শিশুর জন্য ক্ষতিকর। বা শিশু কতক্ষণ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে বা এই মোবাইল ব্যবহারের পরিণতি শিশুর জন্য কী হতে পারে। জেনে রাখা ভালো শিশুদের এই মোবাইল ব্যবহার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

দুই বছর বয়সী প্রায় আড়াই হাজার শিশুর ওপর নজর রেখে শিশুদের স্মার্ট ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে কানাডায় বড় একটি গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের দক্ষতার বিকাশ, কথা বলতে শেখা এবং অন্যান্যদের সঙ্গে মেলামেশায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়স দেড় বছর না হলে তাকে স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।


বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফোন এবং ট্যাবলেটের মতো ডিভাইসে ভিডিও দেখা ও গেম খেলা।

শুধু শিশু নয়, পাঁচ বছর ধরে মায়েদের ওপরেও জরিপ চালানো হয়েছে। এত দেখা যায়, শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের কথা জানতে চাইলে মায়েরা জানায়, মায়েদের কাছে জনতে চাওয়া হয় কোন বয়সে শিশুদের আচরণ ও দক্ষতা কেমন ছিল। দেখা গেছে, দুই বছর বয়সী শিশুরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৭ ঘণ্টা, দিন বছর বয়সে সময় বেড়ে দাঁড়ায় সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা। বয়স যখন ৫ বছর তখন কমে হয় ১১ ঘণ্টা। কারণ এই সময় শিশুরা স্কুলে যেতে শুরু করে।

গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, স্ক্রিন ব্যবহারে সময় বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

গবেষকরা বলছেন, শিশুরা যে সময় স্কিনে তাকিয়ে থাকে ওই সময় যদি তারা কথা বলা ও শোনার দক্ষতা, দৌড়ানো, কোনো কিছু বেয়ে উপরে ওঠার মতো শারীরিক দক্ষতাও সে অর্জন করতে পারত।

গবেষক ড. শেরি মেডিগ্যান বলছেন, শিশুরা যেন বেশি সময় স্কিনে ব্যয় না করে সেদিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে এক বছরের শিশুরা বেশি সময় ধরে স্ক্রিন ব্যবহার করতে শুরু করে।

শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিশু বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে পরামর্শগুলো তুলে ধরা হলো।

১. দেড় বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেবেন না। এছাড়া তাদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করবেন না।

২. শিশুদের টিভি বা অন্য কোনো স্ক্রিনে মানসম্মত অনুষ্ঠান দেখতে দিন।

৩. স্ক্রিন যাতে ঘুমানোর কিম্বা খেলার সময় কেড়ে না নেয়। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন দেখতে দেবেন না।

25
টুথপেস্টের এই ১০ ব্যবহার যা আগে কখনোই জানতেন না:
টুথপেস্টের এই ১০ – শুধুমাত্র দাঁত পরিষ্কার জন্যই টুথপেস্ট ব্যবহার্য নয়। দৈনন্দিন অনেক খুঁটিনাটি কাজে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। আসুন একনজরে জেনে নেই টুথপেস্টের কিছু অবাক করা ব্যবহার।

১। গাড়ির কাঁচ পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করুন টুথপেস্ট৷ নতুন গাড়ি কেনার সময় যেমন কাঁচ চকচক করত, টুথপেস্ট দিয়ে পরিষ্কার করলেও তেমনই করবে৷

২। অনেকসময় লিপস্টিকের দাগ লেগে যেতে পারে, সসও পড়ে যেতে পারে জামায়। টুথপেস্ট দিয়ে ঘষে নিন৷ দেখবেন দাগ চলে গেছে৷

৩। রুপার গয়না একটু পুরানো হয়ে গেলই কালচে হয়ে যায়৷ রূপার গয়না ব্রাশে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষা দিলেই চকচকে হয়ে যাবে।

৪। কাঠের ফার্নিচার বা অ্যালুমিনিয়ামের ফার্নিচার হোক না কেন অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ সরাতে টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

৫। নেলপালিশ বা নখের দাগ উঠাতে ব্যবহার করুন টুথপেস্ট।

৬। হারমোনিয়াম বা সিন্থেসাইজারের রিডে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতেও টুথপেস্ট কার্যকরী৷

৭। যেকোন আঁশটে গন্ধ যেমন (মাছ, রসুন) দূর করতে এটি কার্যকরী।

৮। ফোনে স্ক্রিনগার্ড লাগালেও স্ক্র্যাচ পড়ে যায়। নতুন স্ক্রিনগার্ড না কিনে তুলোয়ে টুথপেস্ট নিয়ে ঘষে নিন৷ দেখবেন আগের মতো হয়ে গেছে ফোনের স্ক্রিন।

৯। আয়রনের দাগ তুলতেও টুথপেস্ট উপকারী৷ এবং বেসিন বা বাথরুমের স্টিলের কলে ময়লা জমলেও টুথপেস্ট দিয়ে তা পরিস্কার করা সম্ভব।

১০। ব্রন হলে টুথপেস্ট লাগান ব্রনের উপর, এরপর সকালে উঠে দেখবেন অনেকখানিই কমে গেছে ব্রনের দাগ।

26
একটি রসুনের টুকরো সারারাত কানের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখুন, আর সকালে উঠে দেখুন তার চমৎকার ফলাফল:
রসুনের টুকরো সারা রাত- রসুনের টুকরো সারা রাত- রসুন ছাড়া ভারতীয় রান্না অসম্পূর্ণ। সুগন্ধযুক্ত গন্ধ এবং স্বাদ ছাড়াও রসুন শরীরের গরম, রোগপ্রতিরোধ এবং সংক্রমণ নিরাময়ের জন্য প্রমাণিত হয়েছে ! এখানে রসুনের কিছু অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্যে ব্যবহারের গুন এনেছি !

১। চুল ঝড়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচায়: এক কোয়া রসুনের টুকরো কেটে মাথার তালুতে ঘোসুন। রসুনে থাকা প্রাকৃতিক তেল চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে ।

২। রসুনের চা ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি থেকে বাঁচায়: রসুন চা সবচেয়ে সুস্বাদু চা হয়। রসুন চা তৈরি করতে দুটো রসুনের কোয়ার সাথে লবঙ্গ ফুটন্ত জলে দিন, আপনার স্বাদ অনুযায়ী আদা ও মধু যোগ করুন। আপনি ১০ মিনিটের মধ্যেই ভাল বোধ করবেন ।

৩। রসুন ত্বকের ফুসকুরি দূর করতে সাহায্য করে: কিছু রসুনের তেল ফুসকুরি ওলা ত্বকে লাগান এবং চক্রাকারে ম্যাসাজ করুন। এটি অস্বস্তি থেকে মুক্ত এবং ঐ এলাকাটি মসৃণ করে এবং ফুসকুরি মুক্ত করে তুলবে।

৪। রসুন কানের ব্যাথা দূর করে: কানের ব্যাথা খুবই কষ্টকর। একটি রসুনের কোয়া কানে দিয়ে রাখুন সারা রাত আর দেখুন পরের দিন কেমন তাজা অনুভব করবেন যা আগে কখনও করেননি ।


৫। ডাইবেটিসের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে রসুন: রসুন শরীরে উচ্চ ইনসুলিনের উৎপাদন কম করে। আর শরীরে অধিক গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। একজন ডাইবেটিক রোগীর রোজ রসুন খাওয়া দরকার, চা বা রান্নার মধ্যে দিয়ে ।

৬। রসুন রক্ত চাপ কমায়: যদি হাইপারটেনশান রোগী দৈনিক ২-৩ টে করে রসুন চেবায়, তবে তাদের রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে যায়


৭। গাঁঠের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয় রসুন: যেখানেই ব্যথা হয়, সহজেই রসুনের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন এবং ব্যথা এবং অস্বস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। প্রতিদিন এটি ব্যবহার করলে অস্টিওপরোসিস, অস্টিওমালিয়া এবং আর্থ্রাইটিসের এর মত রোগের ব্যথাও কমাতে।

27
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আছে তো? কোলেস্টেরল কমাবেন যেভাবে…
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে – কোলেস্টেরল দেহের ভেতরে তৈরি হওয়া মোমের মত এক ধরনের চর্বি। এটি বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে একটা হলো উপকারি। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই কোলেস্টেরল জমা হয় রক্তনালিতে। জমা হতে হতে রক্তনালির স্বাভাবিক যে রক্তস্রোত তা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কম পরিশ্রমের জীবন যাপন, ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা সেবন, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি আর কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েড, হাইড্রোকোথায়াজাইড ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দেহের জন্য উপকারি কোলেস্টেরল হলো এইচডিএল। কারো ওজন বাড়তে থাকেলে এটি কমতে থাকে। অথবা যদি ডায়াবেটিস হয়।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আছে তো? আপনি হঠাৎ শুনলেন, পাশের বাসার ভদ্রলোকের টেলিভিশন দেখার সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হলো। ব্যথার তীব্রতা বাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলো। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তিনি অসাড় হয়ে পড়লেন। জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানালেন, কিছুক্ষণ আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। একে বলা হয় ‘সাডেন ডেথ’। সুস্থ-সবল একজন মানুষ আগাম কোনো অসুখের পূর্বাভাস না দিয়েও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হয়? রক্তনালির (ধমনি) ভেতরে কোলেস্টেরল বা লিপিড (বিশেষ করে এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড) জমা হয়ে ধমনির মুখ সরু করে দেয়। সরু মুখে হঠাৎ রক্তের কিছু উপাদান পিণ্ডাকারে জমা হলে রক্তনালি (ধমনি) তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ধমনি হঠাৎ বন্ধ হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। আর মস্তিষ্কের রক্তনালি হঠাৎ বন্ধ হলে ব্রেন স্ট্রোক হয়।

উচ্চ কোলেস্টেরলের কোনো আগাম উপসর্গ হয় না। তাই ২০ বছর বয়সের পর থেকে পাঁচ বছরে কমপক্ষে একবার সব মানুষের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা দরকার। তবে বয়স ৪০ পার হলে বছরে দুবার কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা ভালো। কোলেস্টেরল পরীক্ষার জন্য ৯-১২ ঘণ্টা কোনো কিছু না খেয়ে থাকতে হয়। তাই সকালে নাশতার আগে কোলেস্টেরল পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়াই উচিত। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ‘রিস্ক স্কোর’ মেপে পরবর্তী ১০ বছরে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কতটুকু, তা জানাতে পারবেন। তাহলে কীভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেন স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়? আসুন জেনে নিই থেরাপিউটিক লাইফ স্টাইল প্রোগ্রামের মাধ্যমে (এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড) কোলেস্টেরল কমানোর কর্মসূচি।

আপনাকে হৃদ্স্বাস্থ্য-উপযোগী খাদ্য খেতে হবে। ত্যাগ করুন আয়েশি জীবন। সম্পৃক্ত চর্বি মোট ক্যালরির ৭ শতাংশের কম নিতে হবে। দৈনিক ২০০ গ্রামের নিচে নিতে হবে কোলেস্টেরল। ফাস্ট ফুড, ট্রান্স ফ্যাট পরিহার করতে হবে। ভাতের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বেশি খিদে লাগলে সেদ্ধ সবজি খাবেন। টেলিভিশন দেখতে দেখতে খাওয়া বন্ধ করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খান।। মাংস খাবেন চর্বি ছাড়া। গরু ও ছাগলের মাংস, মেজবানি খাওয়া একেবারে কমিয়ে দিন। দৈনিক তিন থেকে পাঁচবার সালাদ ও ফল খান। আইসক্রিমের বদলে শরবত খান। কেক বা ডোনাটের বদলে মাফিন খান। খাবারে দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দিন।

কোলেস্টেরল কমাবেন কীভাবে? চিকিৎসকেরা প্রায়ই বলেন, ‘আপনার রক্তে কোলেস্টেরল বেশি। সাবধানে খাওয়াদাওয়া করবেন।’ এই কোলেস্টেরল নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন। এটা কি আমাদের কোনো কাজেই আসে না? সব কোলেস্টেরলই কি খারাপ? আর এটা বেশি হলে জীবনযাত্রাই-বা কেমন হওয়া উচিত?

চর্বি আমাদের দেহে মূলত কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড—এই দুই রূপে থাকে। ট্রাইগ্লিসারাইড শক্তি উৎপাদন করে। কোলেস্টেরল হরমোন তৈরি, কোষের দেয়াল প্রস্তুতি, স্নায়ুর কার্যক্রমসহ নানা রকমের শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই চর্বিমাত্রই খারাপ নয়, এর কাজ আছে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত চর্বি খারাপ। খারাপ চর্বি হলো প্রধানত এলডিএল, যা রক্তনালিতে জমা হয়ে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি করে। আবার এইচডিএল হলো ভালো চর্বি, যা বেশি থাকা হৃদ্যন্ত্রের জন্য ভালো। রক্তে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল ও এইচডিএলের মাত্রা নির্ধারিত পরিমাপের বেশি হয়ে গেলে তা নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই রোগীকে শরীরের চর্বি কমাতে উপদেশ দেওয়া হয়। রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে জীবনযাত্রায় আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। কেবল তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কমালেই হবে না। আমিষ বা প্রোটিন, শর্করা ও চর্বি—সব উপাদানই শেষ পর্যন্ত রূপান্তরিত হয়ে শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। তাই মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমাতে হবে, বিশেষ করে অতিরিক্ত শর্করা বা চিনি।

চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় যে চর্বি সলিড বা কঠিন অবস্থায় থাকে, যেমন: গরু-খাসির মাংসের সঙ্গে লেগে থাকা চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জারিন, ক্রিম ইত্যাদি খারাপ চর্বি। খাবার রান্নায় তেল কম ব্যবহার করুন। বারবার একই তেলে ভাজাভুজি করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অতি তাপমাত্রায় এই তেল পরিবর্তিত হয়ে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়। তাই অনেক ফাস্ট ফুড, বেকারির খাবারও ক্ষতিকর।

ভোজ্যতেলের মধ্যে ক্যানোলা তেল সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া ভালো সানফ্লাওয়ার, অলিভ অয়েল ও তারপর সয়াবিন। শরীরের ওজন কমান। কায়িক শ্রম করুন, যেন ক্যালরি পোড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ধূমপান নিষেধ। হৃদ্রোগের ঝুঁকি আছে মনে করলে চিকিৎসক আপনাকে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ দিতে পারেন। সেটা নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করতে হবে।

রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর ৪ সুপারফুডঃ রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে চান? তবে খাদ্যতালিকায় কিছু রদবদল করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভালো খাবার সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু ব্যায়াম ও খাবারের নিয়মকানুন মেনে চললে সুস্থ থাকার কৌশল রপ্ত করে ফেলতে পারবেন। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এমন এ রকম কিছু সুপারফুড রয়েছে। জেনে নিন সেই খাবারগুলোর কথা:

অলিভ অয়েলঃ হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় দৈনিক খাবারের তালিকায় অলিভ অয়েল যুক্ত করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট আছে অলিভ অয়েলে। এতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। জলপাইয়ের তেল এবং জলপাইয়ের তৈরি খাদ্য অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ই। গবেষণায় দেখা গেছে, মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড দেহের খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলকে কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলকে বাড়াতে সাহায্য করে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে আছে জিরো ক্যালোরি। ফলে এটি ওজন কমায়।

রান্নায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। কারণ এই তেল ব্লাড সুগার বৃদ্ধি না করেই ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এগুলো মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এই তেল আলঝাইমার রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে মস্তিষ্কের টিস্যুকে রক্ষা করে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনলস। এটি সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রয়েছে এমন এক ধরনের ফ্যাট যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এটি খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করে এবং শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।

স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

বাদামঃ বাদাম কী কোলেস্টেরলে কমানোর কোন গোপন রহস্য। বেশ কয়েকটি জরিপে বেশি পরিমাণ বাদাম খাওয়া (দিনে ২/৩ বার) এবং ওজন কমে যাওয়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়েছে। বেথ ইজরায়েল মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা ২০১০ সালে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ছোট একটি জরিপ পরিচালনা করেন। এতে দেখা যায় নাস্তার সময় কিছু আখরোট খেলে দুপুরের খাবার সময় পেট ভরাভরা লাগে, ফলে কম খাওয়া সম্ভব হয়। ক্যালরি কম খাওয়া হলে ওজন হ্রাসে সহায়তা হয়। বাদাম খেলে যেহেতু পেট ভরাভরা লাগে, তাই তো কম ক্যালরি খাওয়ার ব্যাপারে সহায়ক হবে। বাদামে থাকে পর্যাপ্ত চর্বি ও প্রোটিন এবং এর চর্বির প্রায় পুরোটাই অসম্পৃক্ত ধাঁচের অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর। এতে ভিটামিন বেশি না পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। তাছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম সহ প্রয়োজনীয় আরো কিছু খনিজ এতে রয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ যারা করেন, তারা ক্যালরি বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বাদামের চর্বি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। বাদামে শর্করা সামান্যই আছে। ফলে বাদাম খেলে ওজন বাড়বে না এবং কোলেস্টেরল কমতে শুরু করবে।

মাছঃ মাছে-ভাতে বাঙালি বলা হয় আমাদের। প্রতি বেলাতেই খাবারে মাছ আমাদের চাই-ই চাই। এছাড়াও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে প্রচুর পরিমাণে মাছ খেতে হবে। কারণ, মাছে উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা রক্তচাপ কমায়। মাছ রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অন্তত সপ্তাহে একদিন মাছ খান তাদের স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা ১৩ শতাংশ কম, যারা মাছ একবারেই খান না তাদের তুলনায়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা করে। চর্বি জাতীয় মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটের বিরাট উৎস। ওমেগা-৩ কার্ডিওভ্যাসকুলারের সুস্থ্যতার জন্য কাজ করে। তাছাড়া, বাত, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ এবং কিছু ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। সাধারণত ঠাণ্ডা পানির মাছে বেশি ওমেগা-৩ থাকে। যেমন: সামুদ্রিক পোনা মাছ, হেরিং, স্যামন, ম্যাকেরল এবং ট্রাউট মাছ। তাই মাংসের বদলে মাছে পেট ভরান। মাছ কোলেস্টেরল হ্রাস করতে সক্ষম। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদান রক্ত থেকে কোলেস্টেরল ও অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আর যাঁরা একেবারেই মাছ খেতে পছন্দ করেন না, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ ক্যাপসুল খেতে পারেন।

ওটমিলঃ সকালের নাস্তাকে আরও স্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু করে তুলতে সবচাইতে সহজ সমাধান হলো ওটমিল। খুব সহজেই আর অনেক দ্রুত তৈরি করা যায় এই ওটস। ওটমিলে দ্রবণীয় আঁশ থাকে বলে তা লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনের (এলডিএল) ঝুঁকি কমায়। এলডিএল খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত। ওটমিল রক্তে কোলেস্টেরল শোষণ হওয়ার হার কমায়। বিশাল আকারের তথ্য নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালচনায় দেখা গেছে, ওটস খাবারে তৃপ্তি বাড়ায়, খাদ্যের গুণগতমান রক্ষা করে, হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাসহ হৃদপিণ্ড সম্বন্ধীয় এবং সাধারণ বিপাকীয় ব্যবস্থা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে ওটমিলের বেটা-গ্লুক্যান আঁশ খাবারে পরিতৃপ্তি থাকতে সাহায্য করে এবং উপকারী ‘গাট’ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২৯টি গবেষণা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে ওটস এবং ওটসের ভুসি অন্ত্রের কিছু রোগের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য এবং প্রদাহজনীত পেটের রোগ।

ওটস এবং ওটসের ভুসি এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি সম্বন্ধীয় সাম্প্রতিক এক আকর্ষণীয় গবেষণায় দেখা গেছে এটা সার্বিকভাবে কোলেস্টেরল কমায় এবং খারাপ কোলেস্টেরলের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। গবেষণায় বলা হয়, বিশেষভাবে উচ্চ কোলেস্টেরল যুক্ত মানুষের উপর এই প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ আবেরডিনের গবেষণার প্রধান লেখক ফ্র্যাঙ্ক থিস বলেন, “সার্ভিং হিসেবে ৬০ গ্রাম ওটমিল খেলে উল্লেখযোগ্যভাবে কোলেস্টেরল কমাতে পারে।” গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করা যায়, খারাপ কোলেস্টেরল আনুমানিক ৪ থেকে ৬ শতাংশ কমার জন্য হৃদপিণ্ডের ধমনীর রোগের হার ৬ থেকে ১৮ শতাংশ কমিয়ে দেয়। সব ধরনের ওটস যেমন: ওটসের ভুসি, ওটমিল এবং ওট দিয়ে তৈরি যে কোনো খাবারই শরীরের জন্য উপকারী। ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনে এই গবেষণা পর্যালচনার ফলাফল প্রকাশিত হয়।

ডিম রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়ঃ ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে, তাতে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকে। এত দিনের এ ধারণা আসলে সত্যি নয়। ডিম খেলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ততটা বৃদ্ধি পায় না। একজন পূর্ণ বয়স্ক সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। আর একটি ডিমে রয়েছে মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল। সবচেয়ে বড় কথা, রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয় ডিম। এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখে, ভালো রাখে চোখ ও হাড় ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। যেকোনো ব্যক্তি ডিমের সাদা অংশ খেলে কোনো সমস্যা তো হবেই না, এমনকি কুসুমসহ সম্পূর্ণ ডিম খেলেও উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে একটি ডিম হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। সকালের নাশতায় একটি ডিম কোলেস্টেরল প্রোফাইলের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, যতটা প্রভাব ফেলে সকালের নাশতায় মিষ্টি বা চর্বি–জাতীয় খাবার থাকলে।

ডিমের মধ্যে যে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লোবিন, ফলেট ও ভিটামিন ডি রয়েছে, তা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয়। এমনকি অনেক দিন সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার চেয়ে ডিম ভালো বিকল্প খাদ্য হতে পারে। অনেকে সাদা বা লালচে ডিম খাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। আসলে সব ধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ একই রকম। তরুণেরা এবং যাঁরা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন, তাঁরা নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিরা সপ্তাহে কয়েকটি ডিম খেতে পারবেন। আর যাঁরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। [৪]

রান্নাঘরেই পাবেন রসুন: স্বাস্থ্যকর রসুনের গুণাগুণ অনেকের জানা। রসুনে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ ও অর্গানোসালফার যৌগ। এই যৌগ ঔষধি গুণ হিসেবে কাজ করে। বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে বাজে কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর রসুন। এটি রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর রসুন দৈনিক অর্ধেক বা এক কোয়া করে খেলে কোলস্টেরলের মাত্রা ৯ শতাংশ কমতে দেখা যায়।

সবুজ চায়ে আছে পলিফেনল: এটি মানুষের শরীরে দারুণ উপকার দেয়। এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি আমাদের শরীরকে সতেজ ও উৎফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। এটি হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের মেদ কোষে বেশি শর্করা ঢুকতে পারে না। ফলে এই চা আমাদের শরীরের ওজন ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

ধনে: আমাদের দেহে এলডিএল নামক একধরনের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থাকে, যা দেহের শিরা-উপশিরার দেয়ালে জমে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলে সমস্যা বাড়ায়। এর কারণে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধনে এই ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। আবার দেহের জন্য ভালো বা উপকারী একধরনের কোলেস্টেরল, এইচডিএলর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ধনে।

মেথি: মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটিই বলা চলে। স্বাদ তিতা ধরনের। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি ও তারুণ্য ধরে রাখার বিস্ময়কর এক ক্ষমতা। যাঁরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের বুড়িয়ে যাওয়ার গতিটা অত্যন্ত ধীর হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে। বিশেষত কৃমি মরে। রক্তের চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়। ডায়াবেটিসের রোগী থেকে শুরু করে হৃদ্‌রোগের রোগী পর্যন্ত সবাইকে তাঁদের খাবারে মেথি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমলকী: টক আর তেতো স্বাদে ভরা আমলকী গুণে-মানে অতুলনীয়। ফলটি শুধু ভিটামিন আর খনিজ উপাদানেই ভরপুর নয়, বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করায়ও রয়েছে অসাধারণ গুণ। আমলকীতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও আমলকীর জুসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে তা। নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে।

28

সেই ম্যাজিক সংখ্যাটি কত?:

সেই ম্যাজিক সংখ্যাটি কত?
একটি মজার ধাঁধা দেখুন। যদি তিনটি ধারাবাহিক (ক্রমিক) ধনাত্মক পূর্ণ স্বাভাবিক সংখ্যার যোগফল ও গুণফল একই হয়, তাহলে সংখ্যাগুলো কত? এই প্রশ্নের সমাধানের জন্য আমরা ধরে নেব সংখ্যা তিনটি যথাক্রমে ক, (ক - ১) ও (ক + ১)। এই তিনটি সংখ্যার যোগফল = ক + (ক - ১) + (ক + ১) = ৩ক। আবার এদের গুণফল যেহেতু একই, তাই [ক × (ক - ১) × (ক + ১)] = ৩ক। অর্থাৎ [ক(ক২ - ১)] = ৩ক। ক–এর মান যেহেতু ঋণাত্মক হতে পারবে না, তাই ক২ = (৩ + ১) = ৪। এখন আমরা সহজেই উত্তর বের করতে পারি। উত্তর হলো ক = ২। সুতরাং সংখ্যা তিনটি হলো ১, ২ ও ৩। এদের যোগফল = (১ + ২ + ৩) = ৬ এবং গুণফল = ১   × ২ × ৩ = ৬।


আরেকটি মজার অঙ্ক দেখুন। পাঁচটি ধারাবাহিক সংখ্যার যোগফল যদি ৫০ হয়, তাহলে সংখ্যাগুলো কত? এখানে আমরা আগের মতোই ধরে নিই সংখ্যাগুলো যথাক্রমে (ক - ২), (ক - ১), ক, (ক + ১) ও (ক + ২)। এদের যোগফল = [(ক - ২) + (ক - ১) + ক + (ক + ১) + (ক + ২)] = ৫ক = ৫০। তাহলে ক = ১০। সুতরাং সংখ্যাগুলো ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২। আসুন মিলিয়ে দেখি। সংখ্যাগুলোর যোগফল = (৮ + ৯ + ১০ + ১১ + ১২) = ৫০। এটাই তো ছিল শর্ত।

29
পুরো ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে নারী:
২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা। গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার। অনুষ্ঠান চলার সময় খবর এল এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দ্রুত তিনি ছুটলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। স্বজনদের মাথায় হাত বুলিয়ে ও দিকনির্দেশনা দিয়ে চলে গেলেন নিহত যুবকের বাড়িতে। এরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, কথা বলেন স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে।

এসপি শামসুন্নাহারের দিনের (২৫ অক্টোবর) শুরুটা হলো এভাবেই। সেদিন তিনি দুপুরে চলে যান গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা প্রাঙ্গণে ওপেন হাউস ডেতে অংশ নিতে। জনশৃঙ্খলা রক্ষায় মানুষের সহযোগিতা চেয়ে বক্তব্য দেন। বিকেলে কার্যালয়ে ফিরে এসে দেখেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে আসা মানুষের জটলা। একে একে সবার কথা শোনেন তিনি। এক ফাঁকে প্রথম আলোকে জানালেন, সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়ের জ্বর, তাকে সে অবস্থায় রেখেই সকালে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যরা দেশে জননিরাপত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু নারী সদস্যদের নিয়েই গঠিত হয়েছে পুলিশের একটি ব্যাটালিয়ন। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই ব্যাটালিয়ন ১১ আর্মড পুলিশ নামে পরিচিত।

১১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠিত হয় ২০১১ সালে। এতে দায়িত্ব পালন করছেন ৩৭১ নারী। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার শাহীনা আমীন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের সাধারণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিজেদের আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয় ১১ আর্মড পুলিশকে।

বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা ছাড়াও মাদক ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানেও সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন নারী পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৫। এর মধ্যে নারী পুলিশ সদস্য ১৩ হাজার ২৩০ জন, যা মোট পুলিশের ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বর্তমানে পুলিশের ডিআইজি পদে দায়িত্ব পালন করছেন একজন নারী। তাঁর নাম রোউশন আরা। ১৯৯৮ সালে মুন্সিগঞ্জের প্রথম নারী এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের চাকরিতে টিকে থাকতে হলে নিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা নারী পুলিশ সদস্যরা বাড়তি কোনো সুবিধা পান না। পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এবং বিভিন্ন ধাপ পাড়ি দিয়েই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন আসমা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাহস ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিই মোকাবিলা করতে হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুলিশ বাহিনীতে নারীরা প্রথম নিয়োগ পান ১৯৭৪ সালে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে নারীরা দায়িত্ব পালন শুরু করেন ১৯৭৬ সালে।

বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপপুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমীন। তাঁর অধীনে পুলিশের বিভিন্ন র‍্যাঙ্কের ১০৬ জন নারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ফরিদা ইয়াসমীন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার ৫০টি থানার নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত জটিল মামলাগুলোর তদন্ত করে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন। মাসে গড়ে ১০০টির বেশি মামলা তদন্ত করতে হচ্ছে তাদের। গত অক্টোবর মাসেই ৩৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

নারী পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, নেতৃত্ব ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ নারী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আমেনা বেগম। ট্রাফিক বিভাগ, র‍্যাব, হাইওয়ে, জাতিসংঘ শান্তি মিশন, নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আমেনা বেগমের মতে, পুলিশ বাহিনীতে হঠাৎ করে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। মাঠপর্যায় থেকে কাজ করে ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে নারী পুলিশ সদস্যদের। পুলিশের চাকরিতে অভিজ্ঞতাটাই বেশি জরুরি।

30
মুঠোফোনে জ্বলবে সড়কবাতি:
মুঠোফোনের সিম থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে সড়কবাতি। সিমের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে এই বাতিগুলো জ্বালানো ও নেভানো যাবে। এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন উত্তরা এলাকায়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি করপোরেশন’ প্রকল্পের আওতায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরার বিভিন্ন সড়কে ১ হাজার ৯৭৬টি এলইডি সড়কবাতি বসানো হচ্ছে। এই সড়কবাতিগুলোই মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্প শুরু হয়। তবে গত আগস্ট থেকে সড়কবাতিগুলো বসানোর কাজ শুরু হয়। ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হতে পারে সড়কবাতি বসানোর কাজ।

প্রকল্পটির পরিচালক ডিএনসিসি প্রকৌশল বিভাগের (বিদ্যুৎ সার্কেল) নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন এলইডি বাতির পরিচালনা ব্যবস্থা টাইমার (সময়) নির্ভর। সময় হলেই বাতি জ্বলবে এবং নিভবে। আর এই সময় নিয়ন্ত্রণ করা হবে মুঠোফোনের সিমের মাধ্যমে। তিনি বলেন, প্রকল্পের ‘স্মার্ট লাইটিং কন্ট্রোলের’ মাধ্যমে প্রয়োজনে বাতির আলো কমানো যাবে। বিশেষভাবে রাস্তায় যানবাহন কম থাকলে কিংবা গভীর রাতে বাতিগুলোর আলো প্রয়োজনমাফিক কমানো যাবে। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন করে লাগানো প্রতিটি এলইডি বাতিতে থাকবে লাইট কন্ট্রোল ইউনিট (এলসিইউ)। এলসিইউ যুক্ত হবে ডেটা কন্ট্রোল ইউনিটের (ডিসিইউ) সঙ্গে। ৪০ থেকে ৬০টি এলসিইউ মিলিয়ে হবে একটি ডিসিইউ। প্রতিটি ডিসিইউ জন্য একটি করে সিমকার্ড থাকবে। এতে ইন্টারনেটের ডেটা থাকবে। সিমের মাধ্যমেই ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ে স্থাপন করা মূল সার্ভার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সব কটি সড়কবাতি।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে গ্রামীণফোন থেকে ৪৫টি সিম নেওয়া হচ্ছে। এক একটি সিমের জন্য প্রতি মাসে দেড় গিগাবাইট (জিবি) ইন্টারনেট ডেটা বরাদ্দ থাকবে। ভ্যাট, ট্যাক্সসহ সিম প্রতি মাসে ১৮৩ টাকা ব্যয় হবে। দুই বছর পর্যন্ত প্রকল্প থেকেই এই ব্যয় বহন করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, জসীমউদ্‌দীন সড়ক, রবীন্দ্র সরণি, ঈশা খাঁ অ্যাভিনিউ, আলাওল অ্যাভিনিউ, সোনারগাঁও জনপথ, রানাভোলা অ্যাভিনিউসহ উত্তরার কয়েকটি সেক্টরের অভ্যন্তরীণ সড়কে নতুন এলইডি সড়কবাতি বসানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি সড়কে চলছে খুঁটি বসানোর কাজ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সড়কে বসানো নতুন বাতিগুলোও চালু করে দেওয়া হয়েছে।

তবে কিছু সড়কে নতুন বসানো এলইডি বাতিগুলো জ্বলছে না। সন্ধ্যার পরেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। এ বিষয়ে প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলেন, সড়কে বাতি বসানো হলেও সব জায়গার বাতি চালু করা হয়নি। তা ছাড়া কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু সড়কবাতি সঠিক সময়ে জ্বলছে না।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতেই সড়কবাতিগুলো জ্বালানো-নেভানো হচ্ছে। পরে সিমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ডিএনসিসি প্রকৌশল বিভাগ (বিদ্যুৎ সার্কেল) সূত্রে, উত্তরায় মোট ১ হাজার ৯৭৬টি সড়কবাতি বসানো হচ্ছে। এতে প্রায় দেড় হাজার খুঁটি প্রয়োজন।

সংস্থাটির উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, দেড় হাজারের বেশি বাতি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বাকি বাতি বসানোর কাজও চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলকে এর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

আমিনুর রহমান বলেন, ১ হাজার ৯৭৬টি বাতি ৪৫টি ডিসিইউ বক্সের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একটি ডিসিইউ ৪০ থেকে ৮০টি বাতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকলেও প্রতিটি বক্সে গড়ে ৪৩টি বাতি থাকবে। তিনি বলেন, মোট বক্সের মধ্যে প্রায় ৩৮টির কাজ শেষ। এখন সেখানে মুঠোফোনের সিমের সংযোগ দিলেই হবে।


Pages: 1 [2] 3 4 ... 17