Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Shakil Ahmad

Pages: 1 [2] 3 4 ... 23
16
Microeconomics / Re: Basic concept of Micro-Economics
« on: May 26, 2019, 06:07:48 PM »
Informative. Thank You.....

17
Microeconomics / Re: Top Best Microeconomics Books
« on: May 26, 2019, 06:06:50 PM »
Informative. Thank You Mam..............

20
এক দিন পরই দরপতনের ধারায় দেশের দুই শেয়ারবাজার। আজ সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৫৯ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭৬ পয়েন্টে। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) কমেছে ২০৫ পয়েন্ট।

গতকাল রোববার সূচকের বড় ধরনের উত্থানে লেনদেন শেষ হয় ডিএসইতে। এক দিনেই সূচক বাড়ে ১০৪ পয়েন্ট। অপর দিকে, সিএসইতে সূচক বাড়ে ৩০৬ পয়েন্ট। তবে এক দিন পরই আবার দর কমল দুই পুঁজিবাজারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আজ কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ছিল বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

আজ ডিএসইতে গতকালের তুলনায় মোট লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। লেনদেন হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫০টির, কমেছে ২৬২টির, অপরিবর্তিত আছে ৩০টির দর।

টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর গত বৃহস্পতিবার থেকে উত্থানে ফেরে ডিএসইএক্স সূচক। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে শিথিল করে নীতিমালা। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানিতে ব্যাংকের মূলধন বিনিয়োগকে এখন থেকে আর ওই ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হবে না। পাশাপাশি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড, অরূপান্তরযোগ্য বন্ড, প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগকেও ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হবে না। এ ছাড়া ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় গঠিত তহবিল (বর্তমান আকার ৮৫৬ কোটি টাকা) থেকে বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের পর গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই ব্যাপক দর বৃদ্ধি পায়।

আজ লেনদেনের শীর্ষে ছিল যে কোম্পানিগুলো, সেগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, এসকে ট্রিমজ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফরচুন সুজ, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, ডরিন পাওয়ার, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালি লাইফ ইনস্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিকস ও এসকোয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড।

আজ দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল যে কোম্পানিগুলো সেগুলো হলো এসকে ট্রিমজ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আইসিবি থার্ড এনআরবি, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল লিমিটেড, ড্যাফোডিল কম, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বে লিজিং, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, রংপুর ফাউন্ড্রি ও ন্যাশনাল টিউবস।

অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ১০২ পয়েন্টে। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ১৬৬টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির।

21
সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ২০১৮ সালে ৩৯২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের ৪ ভাগের ১ ভাগ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে মুনাফা কমে যাওয়ার এ চিত্র উঠে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের চলতে হয়। গত সপ্তাহে এ নিয়ে ব্যাংক চারটির সঙ্গে সভাও করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ, ব্যাংকগুলোতে বড় গ্রাহকদের অনেকে খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করেও কিস্তি পরিশোধ করছেন না। ফলে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে আয় থেকে বিপুল অর্থ সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া এ চার ব্যাংক গ্রাহকদের যে ঋণপত্র, নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টির মতো ‘নন ফান্ডেড’ (নগদ টাকার বাইরে দেওয়ার নিশ্চয়তা) সুবিধা দিয়েছিল, তার একাংশও খেলাপি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সোনালী ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ৭০৯ কোটি টাকা, যা ২০১৮ সালে দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকায়। একইভাবে জনতা ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬৮ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের মুনাফায়ও বড় ধস নেমেছে। ২০১৭ সালের ৬৭৬ কোটি টাকার মুনাফা থেকে গত বছর তা কমে ১০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অবশ্য বাকি ব্যাংকগুলোর তুলনায় রূপালীর মুনাফা কম হারে কমেছে, ৫০ কোটি টাকা থেকে নেমেছে ৩৮ কোটি টাকায়। এ মুনাফা দেখাতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে সঞ্চিতি রাখার ক্ষেত্রে ছাড় নিয়েছে ব্যাংকগুলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর সরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তির যেসব শর্ত থাকে, সে অনুযায়ী সব ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। এবারও তাই হয়েছে।

আটকে গেছে টাকা

রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক বেশ কিছু বড় গ্রাহককে ঋণ দিয়ে আটকা পড়েছে। এসব ঋণ সহজে আদায় করা যাচ্ছে না। খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণ পুনঃ তফসিল করার পর কিস্তি না দেওয়ায় ওই সব গ্রাহকের বড় অংশের নাম খেলাপির তালিকায় উঠছে।

ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চার ব্যাংক মিলে ৪৩২ জন গ্রাহকের ঋণ পুনঃ তফসিল করেছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় বছর শেষে আবার খেলাপি হয়ে পড়েন ২১৭ জন গ্রাহক। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ কিনে আটকে গেছে অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক। এসব ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। টাকা আদায়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এরপরও অন্য ব্যাংক থেকে কেনা ঋণের টাকা আদায় করতে পারছে না ব্যাংক দুটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সোনালী ব্যাংক ৭৩ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল করে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৫১ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ হয়নি। ফলে ৩৫ জন গ্রাহক আবার খেলাপি হয়ে গেছে। আলোচ্য সময়ে জনতা ব্যাংক ১২৬ জন গ্রাহকের ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল করে। এর মধ্যে পুনঃ তফসিল সুবিধা পাওয়া গ্রাহকেরা ২ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করেননি। আবারও খেলাপি হয়ে পড়েছেন ৭৩ জন গ্রাহক।

অগ্রণী ব্যাংক ১৬৬ গ্রাহকের ৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল করেছিল। এর মধ্যে ৭৩৪ কোটি টাকার কিস্তি অপরিশোধিত রয়ে গেছে। ফলে আবারও খেলাপি হয়েছেন ৬৩ জন গ্রাহক। রূপালী ব্যাংক ৬৭ জন গ্রাহকের ৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল করে। ৬৭৩ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ না করায় ৪৬ জন গ্রাহক আবারও খেলাপি হয়ে পড়েছেন।

সোনালী ব্যাংকের পুনঃ তফসিল করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, জনতার ১০ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা, অগ্রণীর ৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ও রূপালীর ২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রূপালী ব্যাংক গত বছর ‘কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের’ শর্তগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করেছে। ফলে ডিসেম্বর মাসে অনেক সূচক খারাপ দেখালেও জানুয়ারিতে আবার এসব সূচক ভালো হয়ে গেছে।

নিশ্চয়তাও খেলাপি

এদিকে ২০১৮ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা ফান্ডেড দায়ে পরিণত হয়েছে। আর এসব ঋণের মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৭৮৪ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। আর এসব দায় ফান্ডেড ঋণে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফান্ডেড হয়ে পড়েছে ২৮৫ কোটি টাকা এবং খেলাপি হয়ে গেছে ১৭১ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের নন-ফান্ডেড দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা, এর মধ্যে ফান্ডেড হয়ে গেছে ৫৭৮ কোটি টাকা। আর খেলাপি হয়ে গেছে ২০৯ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়াদে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অধিগ্রহণ করা হয়। এটি খুব ভালো চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ অধিগ্রহণের যে তথ্য তুলে ধরেছে, সেটা অনেক আগের।’ তিনি বলেন, ‘নন-ফান্ডেড ঋণ যাতে খেলাপিতে পরিণত না হয়, এ নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছি।’

22
• বিশৃঙ্খল ব্যাংক খাত
• তারল্যসংকটে ভুগছে ব্যাংক খাত
• আবার কমছে না সুদহার
• এতে বাড়ছে না বিনিয়োগ

ব্যাংক খাতে এখন হাহাকার। কান পাতলেই শোনা যায় টাকা নেই। টান পড়েছে নগদ টাকার। কমছে আমানত। কমেছে ঋণ আদায়। সংকট ডলারেরও। অথচ দুই বছর আগেও ব্যাংক যেন নগদ টাকার ওপর ভাসছিল। এই দুই বছরে দেশের অর্থনীতির বড় কোনো পালাবদল হয়নি। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকট হয়েছে ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট। কমেছে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল। যে ব্যাংক দুই বছর আগেও সাধারণ মানুষের আমানত রাখতে আগ্রহী ছিল না, তারাই এখন হন্যে হয়ে আমানত খুঁজছে। এমনকি অর্থের পরিমাণ বেশি হলে সাড়ে ১০ শতাংশ সুদও দিতে রাজি কিছু ব্যাংক।

সরকার ও ব্যাংকমালিকদের সিদ্ধান্ত ছিল, ব্যাংক ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ আর আমানতের সুদ ৬ শতাংশ। সুদ কমলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের খরচ কমবে, এতে নতুন বিনিয়োগও বাড়বে। অথচ ঘটছে উল্টোটা। বাড়ছে সব ধরনের সুদহার।

অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, ভুল নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের আস্থার অভাবের কারণেই ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকার ও গবেষকেরা মনে করেন।

তারল্য পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, আর ঋণ বেড়েছে ৬৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোর গত মার্চভিত্তিক তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা গেছে, সব মিলিয়ে ৯ থেকে ১০টি ব্যাংকের বিনিয়োগ করার মতো তহবিল আছে। বাকি ব্যাংকগুলো টাকা ধার করে ছোট আকারের বিনিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দেশে এখন মোট আমানতের মাত্র ২৮ শতাংশ আছে সরকারি ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। বাকি ৭২ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে। আবার সরকারি ব্যাংকের ঋণের হার আমানতের ৬৭ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে তা ৮৭ শতাংশ। অথচ ঋণ দেওয়ার সীমা সাড়ে ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসিক ও পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ব্যাংকের ঋণের হার যথাক্রমে ১১০ ও ১১৩ শতাংশ। এর বাইরে আরও ১০ ব্যাংক ঋণ দিয়েছে আমানতের ৯০ শতাংশের বেশি। ফলে বেসরকারি ব্যাংকের বড় অংশেরই ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে।

ব্যাংকঋণের একটি বড় অংশ যায় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকে আগের চেয়ে টাকা কমে গেছে, সুদহারও বেড়ে গেছে। এখন ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হচ্ছে। ব্যবসার জন্য সুদহার আরও কমানো প্রয়োজন।

কেন ভালো নেই ব্যাংক
আশির দশক থেকেই নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের ব্যাংক খাত। দাতাদের পরামর্শ ও ঋণে একাধিক সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হয়। গঠন করা হয় একাধিক কমিশন ও কমিটি। অনুসরণ করা হয় ব্যাংক পরিচালনার আন্তর্জাতিক রীতিনীতি। এতে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছিল। কিন্তু এক দশক ধরে উল্টো পথে চলেছে ব্যাংক খাত। নজরদারি শিথিল হয়েছে। ঘটেছে বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে।

গত এক দশকের মধ্যে ব্যাংক খাতে প্রথম ধাক্কা ছিল হল-মার্ক কেলেঙ্কারি। ২০১১ সালের এই কেলেঙ্কারির পর দেশের সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হয়ে পড়ে। এরপরই ঘটে বেসিক ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের একাধিক কেলেঙ্কারি। এরপরও নিয়মনীতি মানেনি অনেক ব্যাংক। তারা নিয়মের বাইরে ঋণ দেয়।

সবশেষ ঘটে ২০১৮ সালের ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি। আমানতের তুলনায় বেশি ঋণ দেয় তারা। একপর্যায়ে নগদ টাকা না থাকায় গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি। এতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমানত তুলে নেওয়া শুরু করলে এর প্রভাব পড়ে অন্য ব্যাংকের ওপর। আস্থার সংকটে তাদের আমানতও কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে যে সমস্যাগুলো চলছে, তা একদিনে আসেনি। ব্যবসায়ী ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনকানুন ঠিক করে দিচ্ছেন। এ কারণেই এত সমস্যার উদ্ভব। সমস্যা সবারই জানা, প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে তো শাস্তি দিতে দেখা গেল না। অথচ ব্যাংক খাতে এমন পরিস্থিতি চললে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও সম্ভব না।

তারল্যসংকটের আরও কারণ
অন্যান্য খাত থেকেও ব্যাংকের আয় কমে গেছে। যেমন, আমদানি ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, রপ্তানি ও প্রবাসী-আয় সেভাবে বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৭৮৩ কোটি ডলার। সেবা, ঋণ ও সুদ পরিশোধে খরচ হয়েছে আরও ৮৮৬ কোটি ডলার। অন্যদিকে এ সময়ে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ডলার, রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৬৯ কোটি ডলার।

এর আগের অর্থবছরে ব্যয় ছিল আরও বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ২৫ শতাংশ হারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ওই সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়। এতে ডলারের সংকট দেখা দিলে এর দর বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে যে ডলার ছিল ৮০ টাকা, তা এখন ৮৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ এখনো কম। আমদানি দায় মেটাতে গত জুলাই-মার্চ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১৮৭ কোটি ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে ১৫ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা চলে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। যা তারল্যসংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


অব্যবস্থাপনা ও আস্থার অভাবে তারল্যসংকট

• বিশৃঙ্খল ব্যাংক খাত
• তারল্যসংকটে ভুগছে ব্যাংক খাত
• আবার কমছে না সুদহার
• এতে বাড়ছে না বিনিয়োগ

ব্যাংক খাতে এখন হাহাকার। কান পাতলেই শোনা যায় টাকা নেই। টান পড়েছে নগদ টাকার। কমছে আমানত। কমেছে ঋণ আদায়। সংকট ডলারেরও। অথচ দুই বছর আগেও ব্যাংক যেন নগদ টাকার ওপর ভাসছিল। এই দুই বছরে দেশের অর্থনীতির বড় কোনো পালাবদল হয়নি। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকট হয়েছে ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট। কমেছে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল। যে ব্যাংক দুই বছর আগেও সাধারণ মানুষের আমানত রাখতে আগ্রহী ছিল না, তারাই এখন হন্যে হয়ে আমানত খুঁজছে। এমনকি অর্থের পরিমাণ বেশি হলে সাড়ে ১০ শতাংশ সুদও দিতে রাজি কিছু ব্যাংক।

সরকার ও ব্যাংকমালিকদের সিদ্ধান্ত ছিল, ব্যাংক ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ আর আমানতের সুদ ৬ শতাংশ। সুদ কমলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের খরচ কমবে, এতে নতুন বিনিয়োগও বাড়বে। অথচ ঘটছে উল্টোটা। বাড়ছে সব ধরনের সুদহার।

অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, ভুল নীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের আস্থার অভাবের কারণেই ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকার ও গবেষকেরা মনে করেন।

তারল্য পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, আর ঋণ বেড়েছে ৬৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোর গত মার্চভিত্তিক তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা গেছে, সব মিলিয়ে ৯ থেকে ১০টি ব্যাংকের বিনিয়োগ করার মতো তহবিল আছে। বাকি ব্যাংকগুলো টাকা ধার করে ছোট আকারের বিনিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দেশে এখন মোট আমানতের মাত্র ২৮ শতাংশ আছে সরকারি ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। বাকি ৭২ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে। আবার সরকারি ব্যাংকের ঋণের হার আমানতের ৬৭ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে তা ৮৭ শতাংশ। অথচ ঋণ দেওয়ার সীমা সাড়ে ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসিক ও পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ব্যাংকের ঋণের হার যথাক্রমে ১১০ ও ১১৩ শতাংশ। এর বাইরে আরও ১০ ব্যাংক ঋণ দিয়েছে আমানতের ৯০ শতাংশের বেশি। ফলে বেসরকারি ব্যাংকের বড় অংশেরই ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে।

ব্যাংকঋণের একটি বড় অংশ যায় চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকে আগের চেয়ে টাকা কমে গেছে, সুদহারও বেড়ে গেছে। এখন ১৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হচ্ছে। ব্যবসার জন্য সুদহার আরও কমানো প্রয়োজন।

কেন ভালো নেই ব্যাংক
আশির দশক থেকেই নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে দেশের ব্যাংক খাত। দাতাদের পরামর্শ ও ঋণে একাধিক সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হয়। গঠন করা হয় একাধিক কমিশন ও কমিটি। অনুসরণ করা হয় ব্যাংক পরিচালনার আন্তর্জাতিক রীতিনীতি। এতে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছিল। কিন্তু এক দশক ধরে উল্টো পথে চলেছে ব্যাংক খাত। নজরদারি শিথিল হয়েছে। ঘটেছে বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে।

গত এক দশকের মধ্যে ব্যাংক খাতে প্রথম ধাক্কা ছিল হল-মার্ক কেলেঙ্কারি। ২০১১ সালের এই কেলেঙ্কারির পর দেশের সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হয়ে পড়ে। এরপরই ঘটে বেসিক ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের একাধিক কেলেঙ্কারি। এরপরও নিয়মনীতি মানেনি অনেক ব্যাংক। তারা নিয়মের বাইরে ঋণ দেয়।

সবশেষ ঘটে ২০১৮ সালের ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি। আমানতের তুলনায় বেশি ঋণ দেয় তারা। একপর্যায়ে নগদ টাকা না থাকায় গ্রাহকের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি। এতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আমানত তুলে নেওয়া শুরু করলে এর প্রভাব পড়ে অন্য ব্যাংকের ওপর। আস্থার সংকটে তাদের আমানতও কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে যে সমস্যাগুলো চলছে, তা একদিনে আসেনি। ব্যবসায়ী ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনকানুন ঠিক করে দিচ্ছেন। এ কারণেই এত সমস্যার উদ্ভব। সমস্যা সবারই জানা, প্রয়োজন দৃশ্যমান পদক্ষেপ। কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে তো শাস্তি দিতে দেখা গেল না। অথচ ব্যাংক খাতে এমন পরিস্থিতি চললে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও সম্ভব না।

তারল্যসংকটের আরও কারণ
অন্যান্য খাত থেকেও ব্যাংকের আয় কমে গেছে। যেমন, আমদানি ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, রপ্তানি ও প্রবাসী-আয় সেভাবে বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৭৮৩ কোটি ডলার। সেবা, ঋণ ও সুদ পরিশোধে খরচ হয়েছে আরও ৮৮৬ কোটি ডলার। অন্যদিকে এ সময়ে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ডলার, রপ্তানি আয় ৩ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৬৯ কোটি ডলার।

এর আগের অর্থবছরে ব্যয় ছিল আরও বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ২৫ শতাংশ হারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে ওই সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়। এতে ডলারের সংকট দেখা দিলে এর দর বেড়ে যায়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে যে ডলার ছিল ৮০ টাকা, তা এখন ৮৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ এখনো কম। আমদানি দায় মেটাতে গত জুলাই-মার্চ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১৮৭ কোটি ডলার কিনেছে ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে ১৫ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা চলে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। যা তারল্যসংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিল্পের কাঁচামাল ও সাধারণের ভোগ্যপণ্যের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে এসব পণ্যের দামও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকেই মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।

এর মধ্যেই আবার সরকার ঋণখেলাপিদের নতুন করে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। খেলাপিরা ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিয়মিত করতে পারবে। এতেও ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লেগেছে।

একজন বড় উদ্যোক্তা এই প্রতিবেদককে জানালেন, চলতি মাসেই তাঁর শিল্পগ্রুপের নেওয়া ঋণের কয়েকটা কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ছিল। এখন তিনি একটু দেরি করছেন। কারণ, খেলাপি হলে সুবিধা বেশি, কম সুদে ঋণ পরিশোধ করা যাবে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বড় অঙ্কের টাকা খেলাপিদের কাছে আটকে পড়েছে। চাহিদামতো আমানতও মিলছে না। আবার ৯ শতাংশ সুদে টাকা পরিশোধের সুযোগ আসবে—এমন ঘোষণায় অনেকেই টাকা শোধ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্যে বড় চাপ এসেছে।

আস্থার সংকট
ব্যাংক খাতের এবারের তারল্যসংকটের অন্যতম কারণ আস্থার অভাব। এ সংকট কাটাতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা কাজে আসেনি। যেমন, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল সোনারগাঁও হোটেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার ১ শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ।

এরপরও চাহিদামতো আমানত আসেনি ব্যাংক খাতে। গ্রাহকেরা এখন মূলত টাকা খাটাচ্ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে। মুনাফার হার বেশি থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রই এখন টাকা রাখার বড় ভরসার জায়গা হিসেবে তৈরি হয়েছে। যেমন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অর্থবছরের আট মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬১ হাজার ১২ কোটি টাকা।

গত ১০ বছরে জিডিপির অংশ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে কর্মসংস্থানের সুযোগও খুব বাড়েনি। এই উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে অনেক গবেষক কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ অবস্থায় যখন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন, সেই সময়ে দুর্বল ব্যাংক খাত, তারল্যসংকট ও উচ্চ সুদহার বিনিয়োগ সুযোগকে আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

মীর নাসির হোসেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। প্রথম আলোকে তিনি বললেন, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বিনিয়োগের জন্য জরুরি হচ্ছে জ্বালানির প্রাপ্যতা। বিশেষ করে গ্যাস। অনেক দিন ধরে এ নিয়ে কথা হলেও এখনো প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তরলীকৃত বা এলএনজি গ্যাস আসতে বেশি সময় নিয়েছে। অন্যদিকে সংকট কমলেও মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এখনো নিশ্চিত হয়নি। জ্বালানির এসব চাহিদা পূরণ হলে তবেই আসবে ব্যাংকঋণের প্রশ্ন। কিন্তু ব্যাংক খাত বিশৃঙ্খল, জবাবদিহিও কম। তার ওপর অনেক আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে খেলাপি ঋণ ও সুদহার দুটিই বেড়েছে। সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে চাইছে। এসব উদ্যোগ ভালো। কিন্তু জ্বালানি ও ব্যাংক সমস্যার সমাধান না হলে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না।

23
Finance / Re: Swap getting popular in local financial market
« on: May 07, 2019, 04:34:49 PM »
Yes! :)

24
Finance / Re: Savings certificates become a headache: BIBM
« on: May 07, 2019, 04:32:25 PM »
 :'(

25
Finance / Re: What is Finance? Meaning Definition Features of Finance
« on: April 02, 2019, 09:58:00 PM »
 :)

26
Finance / Re: Income tax, VAT may be cut in budget
« on: April 02, 2019, 09:57:32 PM »
 :)

27
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একক বাজেট পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একক বাজেট পদ্ধতিতে দুই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করে এ পদ্ধতি অনুসরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী বাজেট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে একক বাজেট পদ্ধতিতে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে এবং অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈততাও দূর হবে এ পদ্ধতির মাধ্যমে।


একক বাজেট পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, প্রণয়ন, যাচাই, অনুমোদন, সংশোধন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন–সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও প্রণয়ন করেছে অর্থ বিভাগ। বলা হয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থা আগে খসড়া প্রকল্প তৈরি করবে। এরপর তা পাঠাবে সমন্বয় ইউনিটে। খসড়া প্রকল্প পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করবে ওই ইউনিট।

এ ছাড়া প্রকল্প যাচাইয়ে দুটি কমিটি রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো কর্মসূচির আওতায় ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলেই তা যাচাই করবে অর্থসচিবের নেতৃত্বাধীন একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। আর ব্যয়ের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে হলে তা যাচাই করবে অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। উভয় ক্ষেত্রেই এগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, সাধারণভাবে প্রকল্পের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা থাকবে না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা হবে সাধারণত পাঁচ বছর। আর প্রকল্প এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এর বাস্তবায়ন শেষ করা যায়।

বলা হয়েছে, প্রকল্প ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। যৌক্তিক ক্ষেত্রে প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগ করা যাবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও সেবা নেওয়া যাবে। তবে প্রকল্পের আওতায় যানবাহন কেনা যাবে না।

আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থার প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিটি কর্মসূচিতে একটি ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বাজেট ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরীক্ষা করবে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে তা ‘বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির’ বৈঠকেও উপস্থাপন করবে ওই অনুবিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক একটি সমাপ্তি প্রতিবেদন তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠাবেন। ওই মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তা চূড়ান্ত করে পাঠাবে অর্থ বিভাগ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের নেতিবাচক উদাহরণ সামনে রেখে পরীক্ষামূলকভাবে একক বাজেট পদ্ধতির দিকে যাওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক চর্চা মাথায় রাখা হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, দেখা গেল, একটি প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো। প্রকল্প শেষ, কিন্তু জনবল রাজস্ব খাতে গেল না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরেও চালু করা গেল না। বিষয়টি সবদিক থেকেই ক্ষতিকর। নতুন পদ্ধতির ফলে যেটা হবে তা হলো, কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যাবে, আর বাকি খরচ অর্থাৎ মূলধনি খরচ যাবে রাজস্ব বাজেট থেকে এবং তা হবে প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।

পরীক্ষামূলক পদ্ধতি সফল হলে উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার দরকার পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বে এখন অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন নামে আলাদা বাজেটের রেওয়াজ নেই। দাতা বা উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শে একসময় বাংলাদেশে অনুন্নয়ন (রাজস্ব) ও উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার যে ধারা চলে আসছে, তা এখন বন্ধ করার সময় এসেছে। সেই চিন্তা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে দুটি মন্ত্রণালয় বেছে নেওয়া হয়েছে।

28
Finance / অপচয় কমাতে নতুন পদ্ধতি
« on: March 24, 2019, 02:59:47 PM »
আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একক বাজেট পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একক বাজেট পদ্ধতিতে দুই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করে এ পদ্ধতি অনুসরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী বাজেট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে একক বাজেট পদ্ধতিতে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে এবং অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈততাও দূর হবে এ পদ্ধতির মাধ্যমে।

Eprothom Alo
একক বাজেট পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, প্রণয়ন, যাচাই, অনুমোদন, সংশোধন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন–সংক্রান্ত একটি বিধিমালাও প্রণয়ন করেছে অর্থ বিভাগ। বলা হয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থা আগে খসড়া প্রকল্প তৈরি করবে। এরপর তা পাঠাবে সমন্বয় ইউনিটে। খসড়া প্রকল্প পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করবে ওই ইউনিট।

এ ছাড়া প্রকল্প যাচাইয়ে দুটি কমিটি রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো কর্মসূচির আওতায় ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলেই তা যাচাই করবে অর্থসচিবের নেতৃত্বাধীন একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। আর ব্যয়ের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার মধ্যে হলে তা যাচাই করবে অর্থ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি প্রকল্প যাচাই কমিটি। উভয় ক্ষেত্রেই এগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, সাধারণভাবে প্রকল্পের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা থাকবে না। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা হবে সাধারণত পাঁচ বছর। আর প্রকল্প এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এর বাস্তবায়ন শেষ করা যায়।

বলা হয়েছে, প্রকল্প ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হলে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। যৌক্তিক ক্ষেত্রে প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগ করা যাবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও সেবা নেওয়া যাবে। তবে প্রকল্পের আওতায় যানবাহন কেনা যাবে না।

আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তর বা সংস্থার প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিটি কর্মসূচিতে একটি ‘বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বাজেট ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরীক্ষা করবে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে তা ‘বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির’ বৈঠকেও উপস্থাপন করবে ওই অনুবিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক একটি সমাপ্তি প্রতিবেদন তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠাবেন। ওই মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তা চূড়ান্ত করে পাঠাবে অর্থ বিভাগ এবং বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের নেতিবাচক উদাহরণ সামনে রেখে পরীক্ষামূলকভাবে একক বাজেট পদ্ধতির দিকে যাওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক চর্চা মাথায় রাখা হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, দেখা গেল, একটি প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো। প্রকল্প শেষ, কিন্তু জনবল রাজস্ব খাতে গেল না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরেও চালু করা গেল না। বিষয়টি সবদিক থেকেই ক্ষতিকর। নতুন পদ্ধতির ফলে যেটা হবে তা হলো, কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যাবে, আর বাকি খরচ অর্থাৎ মূলধনি খরচ যাবে রাজস্ব বাজেট থেকে এবং তা হবে প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।

পরীক্ষামূলক পদ্ধতি সফল হলে উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার দরকার পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বে এখন অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন নামে আলাদা বাজেটের রেওয়াজ নেই। দাতা বা উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শে একসময় বাংলাদেশে অনুন্নয়ন (রাজস্ব) ও উন্নয়ন বাজেট আলাদা করার যে ধারা চলে আসছে, তা এখন বন্ধ করার সময় এসেছে। সেই চিন্তা থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে দুটি মন্ত্রণালয় বেছে নেওয়া হয়েছে।

29
সমুদ্রবন্দরে পণ্যের একটি চালান আসার পর তা খালাসের প্রক্রিয়া শেষ করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪ দশমিক ৪ দিন সময় লাগে। বাংলাদেশে এ প্রক্রিয়া শেষ করতে লাগে ১৫ দশমিক ৮ দিন। কোরিয়ায় একজন শ্রমিকের মাসিক মজুরি ২ হাজার ২০৮ ডলার। বাংলাদেশে ১০৯ ডলার।

এ চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) এক জরিপে। জেট্রোর জরিপ ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ ব্যবসার পরিবেশের প্রায় সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। এ দেশে শুধু শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের পেছনে ব্যয় কম। ফলে উৎপাদন খরচ কম।

জেট্রোর জরিপে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশে উৎপাদনশীল খাতের শ্রমিক, প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক এবং সেবা খাতের ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের মাসিক ও বার্ষিক বেতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এটি শুধু জাপানি কোম্পানিগুলোর হিসাব।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, জরিপের আওতায় আসা ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে শ্রমিকের মজুরি সবচেয়ে কম। এ দেশে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন শ্রমিক মাসে মজুরি হিসেবে পান ১০৮ ডলার (প্রায় ৯ হাজার টাকা)। বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারের একজন শ্রমিক পান ১৬২ ডলার। এ মজুরি ভারতে ২৬৫ ডলার, পাকিস্তানে ১৮৭ ডলার এবং কম্বোডিয়ায় ২০১ ডলার।

শুধু শ্রমিকেরা নন, বেতন কম এ দেশের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপকদেরও। ১৯টি দেশের মধ্যে উৎপাদনশীল খাতে প্রকৌশলীদের মাসিক বেতন ২৮৭ ডলার (প্রায় ২৪ হাজার টাকা), যা ভারতে ৫৯১, পাকিস্তানে ৪৯২ ও মিয়ানমারে ৩৪৯ ডলার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছাকাছি আছে কেবল শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে প্রকৌশলীদের বেতন মাসে ২৯১ ডলার। উৎপাদনশীল ও সেবা খাতের ব্যবস্থাপকদের বেতনের দিক দিয়েও বাংলাদেশ তলানিতে রয়েছে। শুধু একটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। সেটি হলো উৎপাদনশীল খাতের ব্যবস্থাপকদের বেতন। শ্রীলঙ্কায় ব্যবস্থাপকদের বেতন মাসে ৫২৬ ডলার, বাংলাদেশে তা ৭৯৩ ডলার।

বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা বা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তানও। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬০টি দেশের মধ্যে ১০০তম।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সচরাচর যে মানদণ্ডে একজন বিনিয়োগকারী একটি দেশে আসেন, তার অধিকাংশই বাংলাদেশে অনুপস্থিত। এখানে হয়তো কর্মী পাওয়া খুব সহজ। এর কারণ প্রচুর মানুষ শ্রমবাজারে রয়েছে। তিনি বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো যেহেতু মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপক পাচ্ছে না, প্রচুর আধা দক্ষ বা অদক্ষ ব্যবস্থাপক চাকরির আবেদন করছে, তখন কম বেতনে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ থাকে না উল্লেখ করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশি পোশাক খাতের ব্যবস্থাপকদের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের কাজের মান বিদেশিদের সমান। তবে তাঁদের সার্বিক ধারণা, উপস্থাপনার দক্ষতা ও ইংরেজি জ্ঞান কম।

বন্দরে সময় বেশি লাগে বাংলাদেশে

জেট্রোর জরিপে জাপানি কোম্পানিগুলোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ব্যবসা সম্প্রসারণের কারণ কী কী। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে আছে সহজে শ্রমিক প্রাপ্যতার দিক থেকে। এ ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও উদার নীতির ক্ষেত্রে জাপানিদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। জাপানিদের চোখে বাংলাদেশে প্রধান পাঁচটি সমস্যা হলো পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ কঠিন, কর্মীর নিম্নমান, কাস্টমসে পণ্য খালাসে বিলম্ব, জটিলতা ও মজুরি বৃদ্ধি।

জেট্রোর জরিপ অনুযায়ী, ১৯টি দেশের মধ্যে সমুদ্রবন্দরে সময় বেশি লাগে পাকিস্তানে। আমদানি পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শেষ করতে পাকিস্তানে ১৬ দশমিক ৬, বাংলাদেশে ১৫ দশমিক ৮, মিয়ানমারে ১৩ দশমিক ৩ ও ভারতে ১২ দিন লাগে। একইভাবে বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে বাংলাদেশে।

উৎপাদন খরচ অর্ধেক

জাপানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের উৎপাদন খরচের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে জেট্রোর জরিপে। এতে দেখা যায়, এ ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। জাপানে যে পণ্যটি উৎপাদন করতে ১০০ টাকা খরচ হবে, সেটি বাংলাদেশে উৎপাদনে খরচ হবে ৫১ টাকা। লাওসে খরচ হবে ৫০ টাকার কিছু বেশি। একই পণ্য উৎপাদনে শ্রীলঙ্কায় ৬১, কম্বোডিয়ায় ৬৩, ভিয়েতনামে ৭৩, মিয়ানমানে ৭৬, ভারতে ৭৭ ও পাকিস্তানে ৮২ টাকার মতো খরচ হয়। জরিপ অনুযায়ী, এ দেশে কর্মরত ৭৩ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বলেছে, বাংলাদেশে তারা ব্যবসা বাড়াবে। এ হার অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি।

জেট্রো ১৯৮৭ সাল থেকে এ ধরনের জরিপ করে। এবারেরটি তাদের ৩২তম জরিপ। জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গত ৯ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত।

30
সূচকের ব্যাপক দরপতন লক্ষ করা যাচ্ছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪২ পয়েন্ট। দুই ঘণ্টায় লেনদেনের পরিমাণ মাত্র ১৫৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

একই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১৯ পয়েন্ট। তা অবস্থান করছে ১৬ হাজার ৯৮৯ পয়েন্টে।

ডিএসই ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৫টির। কমেছে ১৬৬টির। অপরিবর্তিত ৫৪টির।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, সুহৃদ, জেএমআই সিরিঞ্জেস, গ্রামীণফোন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক, বিএটিবিসি, মুন্নু সিরামিকস, ন্যাশনাল পলিমার, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

গত কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। মোট লেনদেন হয় ৩৯০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 23