Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - Badshah Mamun

Pages: 1 ... 123 124 [125]
Positive Bangladesh / Success and Failure of Bangladesh
« on: December 13, 2011, 02:58:39 PM »
 S. Akbar Zaidi

The country which was considered to be a basket case in 1971, is today offering a mirror to others on how developing countries can become a development state and is being referred to as the `development surprise` of the 21st century.

At the same time, it has also ensured that democracy is developing as a strong and permanent alternative to military rule, under which it has had many years of painful repression.

That this overwhelmingly Muslim country is also constitutionally and increasingly in practice politically secular is also a lesson for other Muslim majoritarian countries to emulate. The Supreme Court struck down a 31-year-old constitutional amendment and restored the country to its founding status as a secular republic, banning the writings of some radical Islamic ideologues.

The country which in the mid-1960s was heralded as a role model for other developing countries, where the international press had praised its military-led development model no end, stating that it might just reach the levels of development achieved only by the United States, has just appeared as the world`s 10th most failed, or failing, state. On the course towards reaching this rather ignominious distinction, this country has also been called “the most dangerous place in the world”, and a “rogue state with a nuclear arsenal”.

In the world of development achievements and democratic and secular credentials, it is Bangladesh today which offers a rather sad comment on Pakistan`s numerous failed promises. Bangladesh is one of the six countries in Asia and Africa which has been feted for its progress towards achieving its Millennium Development Goals, a set of targets that seek to eradicate extreme poverty and boost health, education and the status of women worldwide by 2015.

It has also halved its birth rate over the last few decades, happily giving up its title of the sixth most populous country to Pakistan. And despite the fanfare of having a larger number of women parliamentarians, it is Bangladesh which has far greater gender parity than does Pakistan, and women`s rights are better ensured in the former than in the latter.

Moreover, Bangladesh`s economy has grown at nearly six per cent a year over the past three years, despite the global downturn and high fuel and food prices which Pakistani finance officials cite as reasons for Pakistan`s failure. Furthermore, Bangladesh`s exports of garments worth $12.3bn last year, make it the fourth in the world behind China, the European Union and Turkey, leaving behind cotton-producing and exporting Pakistan.

Bangladesh gave the model of microfinance to the rest of the world and the man behind this received the Nobel Prize based on work undertaken at home for alleviating poverty. The fact that he was celebrated as a national hero differs sharply from the public and official treatment meted out to Pakistan`s Nobel laureate who was forced to do all his work abroad, in exile-like conditions, and never acknowledged as a son of Pakistan`s soil. Even in terms of diverse identities and religious tolerance, Pakistan can learn from the traditions of its former province. Economist

In a list of 167 countries listed by the magazine in its `Index of Democracy`, Bangladesh moved up the table from being 91st in 2008 to 83rd in 2010, while Pakistan also moved up, but from 108th to 104th. And despite being a democracy in 2010 and one of the two democracies on this list, Pakistan is 10th in the `Failed States Index`, and is part of a group that includes Somalia, Chad, Sudan, Zimbabwe and, of course, Afghanistan. One can dispute such a caricature for being politically motivated, however, this does require far greater and honest reflection.

Bangladesh as East Pakistan was probably a greater disaster created by the British than the one left behind and still unresolved in Kashmir. This was a union which the West Pakistani elite eventually forced and exploited. It should not have been, and it took 25 years for the Bangladeshi people to free themselves from the worst forms of West Pakistani repression — cultural, linguistic, economic, political and, of course, military.

Clearly, Bangladesh is not the only country which offers possible lessons for Pakistan, and the former is not devoid of a whole host of afflictions typical of developing countries. The argument being emphasized here is one of relative progress and possibilities. Clearly, at the moment Bangladesh seems to offer more of either than does Pakistan. And rather than fantasize about becoming another Turkey or Malaysia, as Pakistan`s elite is so fond of doing, perhaps it would be instructive to look closer home, and at small initial steps rather than grand, unachievable schemes.

In many ironic ways, it is Bangladesh which has become Jinnah`s Pakistan — democratic, developmental, liberal, secular — while Pakistan has become his worst nightmare — intolerant, authoritarian, illiberal and fundamentalist.

The West Pakistani elite which lived off the resources of East Pakistan for 25 years and was happy to see the basket case East Pakistan become Bangladesh, needs to seriously come to terms with its continuing hubris and past. The least that the civilian and military Pakistani elite can do is to seek forgiveness for the crimes committed four decades ago, and to begin to learn how basket cases and failed states can become successful democratic, developmental and secular states.

Source :

স্বাধীনতার নির্মম গণহত্যার স্মৃতিবহ ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলের খুনিয়া দিঘি
আবদুল লতিফ লিটু,

স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকহানাদারদের বর্বরতার এক করুণ, রোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারী ইতিহাস সৃষ্টিকারী বহুল আলোচিত 'খুনিয়া দিঘি' বধ্যভূমির কথা মনে হলে আজও গা শিহরে উঠে। কারও মতে ৫ সহস্রাধিক, কারও মতে দশ সহস্রাধিক আবার কারও কারও মতে হাজার হাজার বাঙালিকে ওই খুনিয়া দিঘির পাড়ে গুলি করে অথবা বেয়নেটের খোঁচায় হত্যা করেছে নরপশুরা। লাশগুলো ওই পানা পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সিংহভাগই দিঘির পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। যেদিন দলে দলে বাঙালি ধরে আনা হতো সেদিন তাদের সোজা করে লাইনে দাঁড় করিয়ে এক বা দুই গুলিতেই হত্যা করা হতো খুনিয়া দিঘির পাড়ে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর নির্মম গণহত্যার নিষ্ঠুরতম ইতিহাস ধারণ করে আছে এ খুনিয়া দিঘি।

রানীশংকৈলের মালদুয়ার এস্টেটের জমিদার (তদানীন্তন) টংকনাথ চৌধুরীর জমিদার বাড়িটিতে পাকহানাদার বাহিনী তাদের হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেছিল। সেখান থেকে রানীশংকৈলের উত্তরগাঁও, পদগমপুর, রাউথনগর, হরিপুরের চৌরাঙ্গী, যাদুরানী, ভাতৃড়িয়া, মশালগাঁওসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ডিফেন্স জোরদার করার জন্য পাকবাহিনীর সদস্যরা, পীরগঞ্জের গোদাগাড়ী, শিয়ালগাজী, পীরগঞ্জ কলেজ, হরিপুরের যাদুরানী ও তালদিঘিতে পৃথক অগ্রবর্তী ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। ঠাকুরগাঁও বিডিআর ক্যাম্প (তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্প) ও রানীশংকৈল জমিদার বাড়ি হেড কোয়ার্টার থেকে পীরগঞ্জ, রানীশংকৈলে ও হরিপুর থানার বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত পাকসেনারা। গেরিলা মুক্তিসেনা এবং সম্মুখ যোদ্ধাদের চৌকস আক্রমণে পাকবাহিনীর সদস্যরা স্বীয় অগ্রবর্তী ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা ব্যুহ সামাল দিতে যখন বেসামাল ঠিক সেই সময়ে মেজর তাজ ওরফে 'পাগল মেজর' নামক রক্ত পিপাসু নরপশুকে রানীশংকৈল হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়। কথিত আছে, ওই পাগল মেজরের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু ছিল বাঙালির তাজা রক্ত। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই পাগল মেজর প্রতিদিন সকালে অন্তত একজন বাঙালিকে হত্যা না করে সকালে নাশতা খেত না। পাক হানাদারদের নির্মমতা এবং হাজারও বাঙালির রক্তে রাঙানো খুনিয়া দিঘির স্মৃতি অম্লান করে রাখার তাগিদে ১৯৭২ সালে এ দিঘির পাড়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও খুনিয়া দিঘি বধ্যভূমিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা যায়নি। বর্তমানে এ স্তম্ভটির যত্রতত্র ভেঙে যাচ্ছে-গোড়া থেকে মাটি সরে গেছে। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাস জানাতে খুনিয়া দিঘিকে সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
Source :

আমিনুল ইসলাম
সহকারী অধ্যাপক, বক্ষব্যাধি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ

পাখির মতো চঞ্চল ছিল বুলবুলের জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে পাখির হঠা ৎ কী হলো। নেশা তাকে পেল। শিরাপথে নেশা নেয়। দিন দিন শুকায়। একদিন দেখা দিল কাশি। ওষুধপথ্য, অ্যান্টিবায়োটিক, কোনো কিছুই ধরে না। পরে পরীক্ষা করে জানা গেল, তার রক্তে বইছে এইচআইভি জীবাণু। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো সঙ্গে যোগ দিয়েছে যক্ষ্মা বা টিবি রোগ। এই এইচআইভি ও যক্ষ্মার দ্বৈত সংক্রমণে সে এখন কাহিল। দুই দানবে পর্যুদস্তু এক হাড়কঙ্কাল মানুষ। যক্ষ্মা ছাড়াও এইচআইভি বা এইডসে ফুসফুসের আরও কিছু রোগ বেশি বেশি চড়াও হয় রোগীর শরীরে। মোটা দাগে এগুলো হলো—
 নিউমোনিয়া
 নিউমোসিস্টিস ইনফেকশন
 ফুসফুসের ফাঙ্গাস রোগ বা ছত্রাক সংক্রমণ
 ফুসফুসে পানি জমা ইত্যাদি।
অনেক সময় দেখা যায়, রোগী ফুসফুসের সমস্যা যেমন শ্বাসকষ্ট, কফ-কাশি নিয়েই প্রথম চিকি ৎসকের কাছে ধরনা দেয়। পরে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে সাপ। বের হয়ে আসে রোগের পেছনে কলকাঠি নাড়তে থাকা অন্য এক রোগ—এইচআইভি বা এইডস! শরীরে এইডস হয়ে গেলে মানবদেহ সংক্রমণপ্রবণ হয়ে পড়ে অর্থা ৎ খুব সহজেই নানাবিধ জীবাণু তাকে কাবু করে ফেলে। এমনকি স্বাভাবিক অবস্থায় যেসব জীবাণু শরীরের অন্যান্য কোষের সঙ্গে সহাবস্থান করে তারাই এইডস রোগীদের দেহে মরণছোবল হানার সক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। এ আঘাত হানার অন্যতম প্রধান স্থান আমাদের ফুসফুস।

বিশ্বব্যাপী এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ একই সঙ্গে যক্ষ্মাতেও আক্রান্ত। এ যক্ষ্মা ফুসফুসে বা ফুসফুসবহির্ভূত অন্যান্য অঙ্গেও হতে পারে। টিবি-যক্ষ্মা মূলত অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের রোগ হলেও এইচআইভি বা এইডসের কারণে এর বিশ্বায়ন ঘটছে। পৃথিবীজুড়ে এখন যৌথ টিবি-এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ মিলিয়ন, যা নিরন্তর ধরাছোঁয়াহীন গতিতে বাড়ছে। কোনো কোনো দেশে প্রতি তিনজন টিবি রোগীর একজন একই সঙ্গে এইচআইভিতেও আক্রান্ত। যক্ষ্মা সংক্রমণ ও যক্ষ্মারোগ দুটি ভিন্ন জিনিস। স্বাভাবিক অবস্থায় যক্ষ্মা জীবাণুর সংস্পর্শে এলেও বহু বছর ধরে বা সারা জীবনেও যক্ষ্মারোগ নাও হতে পারে। এইচআইভির বেলায় ঘটনা কিন্তু ভিন্ন। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে যক্ষ্মা জীবাণুর সঙ্গ পেলেই তা যক্ষ্মারোগে রূপ নেয় অতিদ্রুত। তা ছাড়া এইডস রোগীদের দেহে কোথাও যক্ষ্মা হলে তা অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ার প্রবণতা, সুপ্ত কোনো টিবির হঠা ৎ অগ্ন্যু ৎপাতের মতো জেগে ওঠা, নতুন বংশের কোনো জীবাণু দ্বারা পুনরায় আক্রান্ত হওয়া, ফুসফুস ছাড়াও অন্যান্য স্থানকে টার্গেট করা—সবকিছুই বেশি বেশি এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে।

জ্বর, ব্যাখ্যাতীত কারণে ওজন কমে যাওয়া, সঙ্গে রাতের বেলা ঘামানো যক্ষ্মার মূল লক্ষণ। ফুসফুসের যক্ষ্মা হলে কফ-কাশি থাকে, কখনো রক্তও যেতে পারে কাশির সঙ্গে। ফুসফুসের বাইরে অন্য কোথাও যক্ষ্মা হলে তার লক্ষণ আক্রান্ত স্থান অনুযায়ী দেখা দেবে। নিউমোনিয়ার চিকি ৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক আর ধরছে না—তখনই সন্দেহ করতে হবে এ যক্ষ্মা বা টিবিকেই।

রোগ নির্ণয়
এইচআইভি-আক্রান্তদের যক্ষ্মা শনাক্ত করাও বেশ কঠিন। কফে টিবি জীবাণু পরীক্ষা যক্ষ্মারোগ ধরার সর্বোত্তম উপায়। কিন্তু এদের কফে সাধারণত টিবির জীবাণু পাওয়া যায় না। বুকের এক্স-রেতে যা পাওয়া যায়, তা ঠিক টিবির মতো নয়, একেবারেই বেমানান অন্য রকম আবছায়া। কখনো বা আবার এক্স-রেতে কিছুই পাওয়া যায় না।
শিরাপথে নেশা ও অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক পরিত্যাগ করে এইচআইভি প্রতিরোধ ও পরাজিত করতে না পারলে অদূর ভব্যিষতে এইডসের সঙ্গে এই টিবি, এমডিআর বা এক্সডিআর টিবি মানবজীবনের ওপর ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দেবে, সংকটে পড়বে তিলে তিলে গড়ে ওঠা বিশ্বসভ্যতা।

Source :

Be Alert /  ইচ্ছেমতো ওষুধ নয়
« on: December 12, 2011, 02:24:29 PM »
এ বি এম আবদুল্লাহ,
ডিন, মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

অসুখ হলে ওষুধ খেতে হয়—সবাই জানি, কিন্তু সঠিক নিয়মে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকেই অনুভব করি না। ওষুধ খেতে আমরা যতটা ত ৎপর, ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মানতে ততটাই উদাসীন। আমাদের এ অবহেলা জীবনরক্ষাকারী ওষুধকে করে তুলতে পারে জীবনবিনাশী বিষ।
ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই যে অনিয়মটা করি তা হলো চিকি ৎসকের পরামর্শ না নেওয়া। আমরা নিজেরাই নিজেদের চিকি ৎসা করি, কখনো আত্মীয়, কখনো বন্ধুর পরামর্শ নিই, কখনো চিকি ৎসকের চেয়ে ওষুধ বিক্রেতার ওপর বেশি নির্ভর করি। ‘অমুক ওষুধে তমুক ভালো হয়েছিল, তাই আমিও ভালো হব’—এমন চিন্তাই আমাদের মধ্যে কাজ করে। অথচ লক্ষণ এক হলেই অসুখ এক হবে, এমন কোনো কথা নেই। আবার একই রোগে একই ওষুধের মাত্রা রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। শুধু অসুখে নয়, ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায় সুখেও আমরা অন্যের পরামর্শে ওষুধ খাই। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড বা শক্তি বাড়ানোর জন্য ভিটামিন খাই যেন ভাতের চেয়ে বেশি। এসবের মারাত্মক, কখনো জীবনবিনাশী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
যদিও বা কখনো (বাধ্য হয়ে) চিকি ৎসকের পরামর্শ নিই, ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকি ৎসকের বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ মানি কম। সময়মতো ওষুধ খাওয়া, খাওয়ার আগে না পরে তা বুঝে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা—এসব আমরা খেয়াল রাখি না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজের ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি উদাসীন থাকি। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া। ‘জ্বর ভালো হয়ে গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক আর কী দরকার’ ভেবে নিজেরাই ওষুধ বন্ধ করে দিই। আবার অন্যদিকে কয়েক দিনে জ্বর ভালো না হলে ‘ওষুধ ঠিক নাই’ ভেবে তা বন্ধ করে দিই এবং অন্য চিকি ৎসকের কাছে নতুন ওষুধের প্রত্যাশায় যাই। যেসব অসুখে দীর্ঘদিন বা আজীবন ওষুধ খেতে হয়, সেখানে আমরা অসুখ নিয়ন্ত্রণে এলেই তা বন্ধ করে দিই, বুঝতে চাই না যে রোগ ভালো হয়নি, নিয়ন্ত্রণে আছে কেবল। একসময় লোকমুখে ‘ক্যানসারের ওষুধ’ শুনে বাতের ওষুধ বন্ধ করার ঘটনা প্রচুর হয়েছে। ওষুধ শুরুর মতো বন্ধ করার সময়ও আমরা নিয়ম মানি না। যেসব ওষুধ হঠা ৎ বন্ধ করা যায় না, তা নিজেরাই হঠা ৎ বন্ধ করে দিই।
ওষুধ নিয়ে এ অনাচারে কী ক্ষতি হতে পারে? প্রথম কথা, যে রোগের জন্য ওষুধ সেবন করা তার উপশম হবে না, বরং খারাপ হতে পারে। ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর আবির্ভাব এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার জীবাণুর বিরুদ্ধে এদের অকার্যকর করে দিচ্ছে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যে রোগ শুরুতেই ভালো করা যেত, ভুল ব্যবহারের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না, নতুন দামি ওষুধ দরকার হচ্ছে, কখনো তাতেও কাজ হচ্ছে না। বিশেষভাবে বলা যায় যক্ষ্মার কথা, যেখানে কমপক্ষে ছয় মাস ওষুধ খেতে হয়, অথচ অনেকেই কয়েক মাস খেয়ে ‘ভালো হয়ে গেছি’ মনে করে তা বন্ধ করে দেয়। ফলে তা মারাত্মক মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবিতে পরিণত হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। আর্থিক দিকটাও বিবেচনা করা জরুরি। যে চিকি ৎসা এখন সুলভে হচ্ছে, অবিবেচকের মতো ওষুধ খেলে বা না খেলে পরে ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে।
শুধু জীবাণু সংক্রমণ নয়, হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি অসুখেও ‘মাঝেমধ্যে ওষুধের ব্যবহার’ উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।
নিয়মিত ওষুধ খেলেও যদি সেবনবিধি না মানা হয়, তবে অনেক ওষুধই অকার্যকর হয়ে যায়। খালিপেটে খাওয়ার ওষুধ ভরা পেটে খেলে তা না খাওয়ার মতোই হবে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এক ওষুধ অন্য ওষুধের উপস্থিতিতে কাজ করে না। অজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে এসব ওষুধ একত্রে খেলে লাভ তো হবেই না, বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
মনের মতো ওষুধ খাওয়ার আরেক সমস্যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একজন চিকি ৎসক ভালোমতোই জানেন কোন ওষুধের কী সমস্যা, আর তাই তা কাকে দেওয়া যাবে, কাকে যাবে না। নিজে থেকে ওষুধ খেলে এসব বিবেচনা সম্ভব না, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বেশি। ব্যথার ওষুধ খেয়ে পেট ফুটো হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড খেয়ে অনেকেই মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হন, যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। বলে রাখা ভালো, চিকি ৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠা ৎ ওষুধ বন্ধ করেও অনেকে বিপদে পড়েন, বিশেষ করে স্টেরয়েড হঠা ৎ বন্ধ করলে এডিসনিয়ান ক্রাইসিস হতে পারে, যা থেকে রোগী মারাও যেতে পারে।
সাধারণ ওষুধ, যার অনেকগুলো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়, বিশেষ অবস্থায় তাও হতে পারে ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই জানি না যে ভিটামিন ‘এ’ বা কৃমির ওষুধের মতো সাধারণ ওষুধ গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে। লিভারের রোগীর জন্য প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ হতে পারে ক্ষতির কারণ।
এ অবস্থার জন্য দায়ী আমরা সবাই। রোগী যেমন চিকি ৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাহুল্য ভাবছেন, চিকি ৎসকও তেমনি রোগীকে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন না, আর কর্তৃপক্ষ হয়ে আছে উদাসীন।

ছবিটি প্রতীকী। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রোগীদের যা মেনে চলা উচিত তা হলো—
 শুধু চিকি ৎসক পরামর্শ দিলেই ওষুধ সেবন করা যাবে।
 বিশেষ অবস্থায় (যেমন গর্ভাবস্থা, লিভারের রোগ ইত্যাদি) সাধারণ ওষুধ, যা প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, তাও চিকি ৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করতে হবে।
 শুধু ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। কেনার সময় তার মেয়াদ দেখে নিতে হবে।
 চিকি ৎসক ওষুধ খাওয়ার যে নিয়ম বলে দেবেন (কতটুকু ওষুধ, কতক্ষণ পরপর, কত দিন, খাবার আগে না পরে ইত্যাদি), সে অনুযায়ী তা সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে তা লিখে রাখুন বা মনে রাখতে অন্যের সাহায্য নিন। নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা যাবে না।
 নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। সুস্থতা বোধ করলেও কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে চিকি ৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
 একই সঙ্গে অ্যালোপ্যাথিক ও অন্যান্য পদ্ধতির চিকি ৎসা চালালে তা চিকি ৎসককে জানানো উচিত।
 ওষুধ সব সময় আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা, শুষ্ক স্থানে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
 ব্যবহারের সময় ওষুধ ভালো আছে কি না দেখে নিন। নাম ও মাত্রাটা আবার খেয়াল করুন।
 অনেক সময় দোকানিরা প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ না দিয়ে শুধু বিক্রি করার জন্য অন্য কোম্পানির অন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন, বলেন, ‘একই ওষুধ।’ এ ক্ষেত্রে রোগীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রেসক্রিপশনে যে ওষুধ লেখা, তা-ই কেনা উচিত।
এ ছাড়া চিকি ৎসকেরও এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। তাঁদের কর্তব্য—
 রোগীকে রোগ এবং ওষুধ সম্পর্কে জানান।
 ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানান।
 নিজে থেকে বন্ধ করলে কী ক্ষতি হতে পারে জানান। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকি ৎসককে জানানোর পরামর্শ দিন।
 কখন ও কীভাবে ওষুধ বন্ধ করা যাবে জানান।
 নিয়মিত ও নিয়মমতো ওষুধ খেতে উ ৎসাহিত করুন।
 রোগীর খরচের দিকটা মাথায় রাখুন। অযথা অতিরিক্ত দামি ওষুধ নেহাত প্রয়োজন না হলে বা জীবন রক্ষাকারী না হলে না লেখাই ভালো।
 প্রেসক্রিপশনে অসুখের পূর্ণ নাম, ওষুধের নাম, মাত্রা, খাওয়ার নিয়ম, কত দিন খেতে হবে ইত্যাদি স্পষ্টাক্ষরে সুন্দরভাবে লেখা উচিত।
এর সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বিক্রেতার কর্তব্য প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করা, শুধ ব্যবসায়িক স্বার্থে যেনতেনভাবে যেকোনো ওষুধ বিক্রি না করা। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দোকানে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান করা।
ওষুধের অপব্যবহার, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স থেকে নিজেদের এবং ভবিষ্য ৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
Source :

সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কগুলো মানুষকে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলছে। ফেসবুকে আমাদের অনেকেরই বন্ধুর সংখ্যা হয়তো হাজারও ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের মস্তিষ্ক ১৫০ জনের বেশি বন্ধুর সঙ্গে ভালো ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে পারে না।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবিন ডানবার গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। ডেইলি মেইলের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডানবারের গবেষণায় পাওয়া গেছে, একজন মানুষ ১৫০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে পারে না।

ডানবার বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় অনেকেই বলেছে তাদের অনেক বন্ধু রয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেক বন্ধুদের তারা চেনে না।’
তিনি সমাজ ও বাণিজ্যিক বিশ্বের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং ভাববিনিময়ের জন্য ১৫০ জন খুবই অনুকূল। আফ্রিকা ও আমেরিকান আদিবাসীদের মধ্যেও এ বিষয়টি দেখা গেছে।
ডানবারের গবেষণার ফলাফল নিয়ে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। কারণ, সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কে বর্তমানে অনেকের অনেক বন্ধু আছে। সে বন্ধুরা আসলে কেমন বন্ধু? খুব ঘনিষ্ঠ নাকি শুধু নামে বন্ধু?

বেশ কিছু ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা। সেসব ওয়েবসাইটের কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য প্রথমেই বলতে হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কথা। ঠিক জাদুঘরের মতোই নানা তথ্যে সাজানো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নিজস্ব এই ওয়েবসাইট। বেশ সমৃদ্ধ এই সাইটে অনেক কিছুর সঙ্গে আছে ‘দিস মান্থ ইন ১৯৭১’ বিভাগটি। আরও আছে বেশ কিছু দুর্লভ ছবি, যা আমাদের নিয়ে যায় একাত্তরের সেই দিনগুলোতে।
এই সাইটে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অসংখ্য স্থিরচিত্র, স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণাপত্র, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে লেখা বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ, বইসহ প্রয়োজনীয় ওয়েব ঠিকানা।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সাইট এটি। এতে যে কেউ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কার্মকাণ্ড-বিষয়ক বিবরণ ও তথ্য সংযুক্ত করতে পারবেন। সাইটটিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার স্থিরচিত্র, অডিও-ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, যুদ্ধাপরাধী ও ঘাতক দালালদের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাটিং ইত্যাদি।
সবচেয়ে সমৃদ্ধ অনলাইন বিশ্বকোষের এই পৃষ্ঠায় গেলেই পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, ইতিহাস-রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি, বইপত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের মধ্যে নানা রকম তথ্য। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার জন্য একটি উইকি-ভিত্তিক ওয়েবসাইট রয়েছে। ঠিকানা:। বর্তমানে এখানে ৬৪টি নিবন্ধ রয়েছে।
একাত্তরের গণহত্যার আর্কাইভ এটি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণহত্যার ওপর তৈরি ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বেশ সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট। এতে যে কেউ চাইলে মুক্তিযুদ্ধের ওপর করা ওয়েবভিত্তিক কাজ জমা দিয়ে সাইটটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।
গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরেকটি চমৎকার ওয়েবসাইট এটি। সাইটটির ঠিকানায় পাবেন একাত্তরের গণহত্যার তথ্য ও ছবি, ঘটনাবলি, ভিডিও, মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যাবিষয়ক ওয়েবসাইটের সংযুক্তি, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার ছাড়াও অনেক কিছু।
আন্তর্জাতিক ক্রাইম স্ট্র্যাটেজি ফোরামের এই ওয়েবসাইটে একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে এখানে একটি ই-লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এই ওয়েবসাইট। একাত্তরের ঘাতক দালালদের নির্মূল করতে কাজ করছে সাইট।
এখানে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিকদের তালিকাসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে।
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সাইটটি।
 সাজিদুল হক
Source :

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ও কাদিরডাঙ্গা গ্রামের ডি কে প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ভরাট করেছেন এলাকার ছয় শতাধিক মানুষ।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চার বন্ধু ও স্থানীয় কোলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঝুড়ি-কোদাল হাতে নিয়ে গতকাল রোববার সকাল আটটার মধ্যে স্কুলের মাঠে হাজির হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। তাঁরা দিনভর মাটি কেটে বিদ্যালয়ের মাঠের বিশাল গর্ত ভরাট করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনিন নাহার বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে ১৮৫ জন ছেলেমেয়ে ভর্তি হয়। এরপর শিক্ষার্থী বেড়েছে, কমেনি। বর্তমানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা তিনটি কক্ষে ক্লাস নেওয়া হয়। একটি কক্ষ শিক্ষকেরা ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পড়ালেখার মান ভালো। কিন্তু বড় সমস্যা হলো, বিদ্যালয়টি নিচু জায়গায় হওয়ায় বর্ষার সময় পানি জমে থাকে। শিশুরা পানি পাড়ি দিয়ে আসতে পারে না। এ অবস্থার কথা প্রতিষ্ঠাতাদের জানিয়েছিলাম।’
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন দৌলতপুর গ্রামের কাজী এমদাদুল হক জানান, তাঁর গ্রাম ও পাশের কাদিরডাঙ্গা গ্রামে বিদ্যালয় ছিল না। ২০০৯ সালে অপর তিন বন্ধু একই গ্রামের ইসাহাক আলী ও মিকাইল হোসেন এবং কাদিরডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের সঙ্গে মিলে দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পাশে তাঁরা জমি কেনেন। তাঁরা সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম দেন ডি কে প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি এখনো রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়নি। সরকারি কোনো সহযোগিতাও পায়নি। এ কারণে এলাকাবাসীকে নিয়ে মাঠে মাটি ভরাট করার সিদ্ধান্ত নেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম ও ভাইস চেয়ারম্যান তিথি রানী ভদ্র তাঁদের সঙ্গে মাটি কাটেন। এ সময় স্থানীয় সাংসদ আবদুল মান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনজুমান আরা, উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু সরকার বেশ কিছু বিদ্যালয় জাতীয়করণ করবে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এই বিদ্যালয়টি সেই তালিকায় রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে এখানে ভবন হবে।’


Pages: 1 ... 123 124 [125]