Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 26
1
আয়রনের অভাবে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে মিনারেলের অভাব দেখা দিলে আয়রনের ঘাটতিও দেখা দেয়। আয়রনই শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে।

রক্তে যথেষ্ট পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে শরীরের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারীরাই আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন। ডাক্তারি পরিভাষায় একে অ্যানিমিয়া বলে।

অ্যানিমিয়া হওয়ার কারণ কী?

আয়রনের অভাবেই মূলত অ্যানিমিয়া হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। রক্তাল্পতা মূলত রক্তক্ষয়, লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন কমে যাওয়া ও লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে হয়।

jagonews24

যেসব নারীরা ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতে ভোগেন তাদের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে।

যারা দীর্ঘদিন অর্শ্ব রোগে ভুগছেন তারা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা ভুগছেন তারাও অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

jagonews24

তবে অনেকেই টের পান পান তিনি আসলেই রক্তাল্পতায় ভুগছেন। সেক্ষেত্রে কী কী উপসর্গ দেখে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের অভাব আছে কি না-

>> আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সারাদিনই শরীরে ক্লান্তি বোধ হতে পারে।

jagonews24

>> নখ দেখেও বোঝা যায় শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না। নখ যদি নরম থাকে আর বারবার ভেঙে যায় তাহলে বুঝবেন শরীরে আয়রনের অভাব আছে।

>> হঠাৎ যদি জিভ ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান। তার আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে দেখুন।

jagonews24

>> প্রায় প্রতিদিনই মাথার যন্ত্রণায় ভুগলে তাহলে এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাইনাস, মাইগ্রেন ইত্যাদি। কিন্তু অনেক সময়ে আয়রনের অভাব হলেও প্রায়ই মাথা ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

>> ইদানিং কি অল্পেই হাঁফিয়ে উঠছেন? যেমন অল্প পরিশ্রম কিংবা একটু হাঁটলেই নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে! আয়রনের অভাবে এই অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

jagonews24

>> হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।

>> হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণ হতে পারে।

jagonews24

>> যদিও বিভিন্ন কারণে ঘনঘন জ্বর আসতে পারে। তবে সব সময় ঠান্ডা লাগার কারণে নয়, আয়রনের অভাবেও এটি হতে পারে।

>> অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাকে সাধারণভাবে নেওয়া উচিত নয়। হঠাৎ করে যদি অধিক চুল পড়তে থাকে তাহলে তা হতে পারে আয়রনের ঘাটতি।

সূত্র: মায়োক্লিনিক

2
ইসলামী শরিয়তের বিধান পালনের জন্য কোরআন শেখা ফরজ। যেভাবে বিশুদ্ধ নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হওয়া আবশ্যক। তাই তিলাওয়াত শুদ্ধভাবে করা ফরজ। ইবাদতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—কোরআনের এমন জ্ঞানের ব্যাপারে বিশুদ্ধ মত হলো, তা অর্জন করা ফরজে কেফায়া।

যদি উম্মতের একটি বিশেষ দল কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে তাহলে অন্যরা পাপমুক্ত থাকবে। আর কেউ না করলে সবাই গুনাহগার হবে। তবে প্রতিটি মুমিনের উচিত কোরআনচর্চায় আগ্রহী হওয়া। আল্লামা জারকাশি (রহ.) বলেন, ‘যার যথাযথ জ্ঞান, বোধ, আল্লাহভীতি ও গবেষণা নেই সে কোরআনের কোনো স্বাদ পাবে না।’ (আল বোরহান : ২/১৭১)
ব্যস্ত জীবনে কোরআন চর্চার উপায়

আধুনিক জীবনব্যবস্থায় মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যস্ত। ফলে বহু মানুষের কোরআন তিলাওয়াত ও কোরআনের জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছা থাকলেও তারা তা অর্জন করতে পারে না। নিম্নে ব্যস্ততার মধ্যেও কিভাবে কোরআনচর্চা করা যায় সে বিষয়টি তুলে ধরা হলো—

চলতি পথে কোরআন পাঠ
প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সময় আমাদের প্রচুর পরিমাণ সময় নষ্ট হয়। বিশেষত, শহরের যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। এ সময় ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় না করে কোরআন, কোরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা পাঠ করা যায়। আধুনিক মোবাইল ফোনে ব্যবহার-উপযোগী অসংখ্য কোরআনভিত্তিক গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

চলতি পথে কোরআন শ্রবণ
কোরআন দেখে পাঠ করতে ইচ্ছা না করলে চলাচলের পথে কোরআন তিলাওয়াতও শোনা যেতে পারে। শায়খ হুজায়ফি, শায়খ সুদাইসি, শায়খ মিশয়ারির মতো আরব বিশ্বের খ্যাতিমান কারিদের তিলাওয়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি বহু কারির তিলাওয়াত অনলাইনে পাওয়া যায়। আরবের বিখ্যাত কারিদের তিলাওয়াতের অ্যাপসও গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে পাওয়া যায়।

পাঁচ ওয়াক্তে ২৫ মিনিট
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে বা পরে যদি পাঁচ মিনিট করে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তাহলে দৈনিক পাঁচ থেকে আট পৃষ্ঠা কোরআন তিলাওয়াত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনেও কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। এমনও হতে পারে যে তিন ওয়াক্ত নামাজের পর তিলাওয়াত করা হলো এবং বাকি দুই ওয়াক্তের এক ওয়াক্তে ৫-১০টি আয়াতের অর্থ এবং অপর ওয়াক্তে ১-৩টি আয়াতের ব্যাখ্যা পাঠ করা হলো।

খাবার টেবিলে আলোচনা
দুপুরে বা রাতে যখন খাবার টেবিলে বা দস্তরখানে পরিবারের সদস্যরা তুলনামূলক বেশি উপস্থিত থাকে, তখন কোরআনের বিভিন্ন আয়াত, আয়াতের বিধান, আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিত ও আয়াতের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলেমরা বলেন, খাওয়ার সময় একদম চুপ থাকার চেয়ে দ্বিনি বিষয়ে আলোচনা করা উত্তম। এ ক্ষেত্রে বড়দের আলোচনা ছোটরা শুনতে পারে, আবার ছোটদের আলোচনা বড়রাও শুনতে পারেন।

ঘুমের আগে ১০ মিনিট
ঘুমের সময় অজু করে ঘুমানো মুস্তাহাব। বিশুদ্ধ হাদিসে ঘুমানোর আগে ইখলাস, ফালাক, নাস, মুলক ইত্যাদি সুরা পাঠ করার কথা এসেছে। তবে যাঁরা সারা দিন কোরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পান না, তাঁরা রাতে ঘুমানোর আগে উল্লিখিত সুরার সঙ্গে ১০-১৫ মিনিট অন্যান্য সুরাও তিলাওয়াত করে নিতে পারেন।

নামাজে তিলাওয়াত
যারা কোরআনের হাফেজ কিন্তু নিয়মিত তিলাওয়াতের সুযোগ হয় না, তাঁরা পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ ও সুন্নত নামাজে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে তিলাওয়াত করতে পারেন। যাঁরা হাফেজ নন; কিন্তু কোরআনের বিভিন্ন অংশ মুখস্থ করেছেন, তাঁরাও তা ঠিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে নামাজে তিলাওয়াত করতে পারেন।

কর্মস্থলে কোরআন শরিফ
কখনো কখনো কর্মস্থলে অল্প সময়ের জন্য হলেও অবসর মেলে। তখন করার মতো ঠিক কোনো কাজ থাকে না। টুকরা টুকরা এসব অবসরেও কোরআনচর্চা করা যেতে পারে। এ জন্য কর্মস্থলেও একটি কোরআন শরিফ বা তার ব্যাখ্যা গ্রন্থ রাখা যেতে পারে।

কোরআন চর্চার পুরস্কার

যারা শত ব্যস্ততার মধ্যে কোরআন আকড়ে ধরে রাখবে এবং তা চর্চা করবে আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে তাদের আলোর পথ দেখাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর (কোরআন) দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ১৬)

এছাড়া কোরআনচর্চায় মুমিনের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার ধর্মীয় জীবনের উন্নতি হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখনই কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এটা তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল? যারা মুমিন এটা তাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারাই আনন্দিত হয়।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১২৪)

আল্লাহ সবাইকে কোরআনচর্চায় মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি প্রতিদিন/


3
মানুষের চিন্তার অনেক বিষয় স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। আবার এতে অনেক নেক কাজের ইঙ্গিতও বহন করে মানুষের স্বপ্ন। স্বপ্ন সম্পর্কে জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের।

মানুষের জন্য ইঙ্গিত বহন করে এমন স্বপ্ন দেখার রয়েছে কিছু সময় ও অবস্থা। কোনো ব্যক্তি যদি ওজুর সঙ্গে ঘুমানোর পর শেষ রাতে ডান কাতে কোনো স্বপ্ন দেখে, সে স্বপ্নে মানুষের জন্য থাকে বিশেষ কিছু ইঙ্গিত। যা পরবর্তীতে প্রতিফলিত হয়।

তবে যে কেউ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারে না। তবে আল্লাহভিরু ও জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন। যদি কেউ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা বা শোনা সম্পর্কিত কোনো স্বপ্ন দেখেন তবে এর মর্মার্থ কী দাঁড়ায়? এর ব্যাখ্যা বা তাবিরই বা কী?
এ সম্পর্কে জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাখ্যা এসেছে। আর তাহলো-

>> কুরআন দেখে দেখে তেলাওয়াত
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি দেখে দেখে কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির মর্যাদা বেড়ে যাবে এবং জীবনে খুশি নেমে আসবে।

>> কুরআন মুখস্ত তেলাওয়াত করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মুখস্ত কুরআন তেলাওয়াত করছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি কোনো বিচার ফয়সালার মুখোমুখি হবেন এবং সেখানে তার দাবি সঠিক হবে; সে সত্যবাদি পরিচিতি পাবেন; তিনি নরম হৃদয়ের অধিকারী হবেন, সৎ কাজের আদেন দেবেন এবং অসৎ কাজে বাধা দেবেন।

>> কুরআন খতম করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন খতম করতে দেখেন তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির বড় কোনো সফলতা আসবে। আল্লাহ তাকে অনেক সাওয়াব দান করবেন।

>> কুরআন মুখস্ত করতে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন মুখস্ত করেছেন। তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি পরিস্থিতি অনুযায়ী শক্তি বা মর্যাদার অধিকারী হবেন।

>> কুরআন পড়তে দেখেছেন কিন্তু কোন অংশ পড়ছেন তা মনে নেই
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কুরআন পড়ছেন দেখছেন, কিন্তু কোন অংশ বা আয়াত পড়েছেন তা স্মরণ নেই, তাহলে এর ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তি যদি অসুস্থ থাকে, তবে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আর যদি সে ব্যবসায়ী হয় তাহলে তার বড় মুনাফা হবে।

>> কুরআন তেলাওয়াত শুনতে দেখছেন
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- তার শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তার সব কাজের ফলাফলও সুন্দর হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাবেন।

>> অন্য ব্যক্তি তার কুরআন তেলাওয়াত শুনছেন
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখেন যে, তার কুরআন তেলাওয়াত অন্য ব্যক্তিরা শুনছেন তবে এর ব্যাখ্যা হলো- লোক সমাজে তাঁর কথা মান্য হবে।

>> কুরআন বিকৃত করে পড়তে দেখলে
কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে যে কুরআন বিকৃত করে পড়ছে কিংবা কুরআন নিয়ে বিতর্ক করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো- ওই ব্যক্তির জন্য এ স্বপ্ন দুর্দশা লক্ষণ হবে। তার জন্য কোনো দুর্দশা বা ক্ষতি অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে…
স্বপ্ন যেমনই হোক, তা দেখার পর মানুষের রয়েছে কিছু করণীয়। ভালো স্বপ্ন দেখলে যেমন আল্লাহর প্রশংসা করতে হবে তেমনি খারাপ স্বপ্ন দেখলেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। আর তাহলো-

ভাল স্বপ্ন দেখলে-
>> ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়া।
>> স্বপ্নেপ্রাপ্ত সুসংবাদ গ্রহণ করা।
>> প্রিয় ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা।
>> যে ব্যক্তি স্বপ্ন সম্পর্কিত ভালো জ্ঞান রাখে তার কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ করা।
>> স্বপ্নে শুকরিয়াস্বরূপ বেশি বেশি দান করা।

মন্দ স্বপ্ন দেখলে-
>> ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাঝিম’ ৩বার পড়া।
>> বাম দিকে তিন বার থু থু ফেলা।
>> পার্শ্ব পরিবর্তন করে ঘুমানো।
>> কারও কাছে স্বপ্নের কথা প্রকাশ না করা।
>> স্বপ্নে দুর্দশা থেকে মুক্ত থাকতে গরিবদের দান করা। আর এ দোয়াটি পড়া-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই-ইয়াহ্‌দুরুন।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে স্বপ্নে ইঙ্গিতে প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/558263

4
কোরআন আল্লাহর কিতাব। এটি মানুষের চূড়ান্ত জীবন বিধান। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য আবশ্যক। জীবন পরিচালনায় কোরআন শোনা, তেলাওয়াত করা, মুখস্ত করা, চিন্তা-গবেষণা করা এবং কোরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও অনুকরণ করা খুবই জরুরি। এগুলো মানুষের প্রতি কোরআনের হকও বটে। বিষয়গুলো কোরআন-সুন্নায় সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে-

১. কোরআন শোনা
যখন কোরআন তেলাওয়াত করা হয়, তখন কথা না বলে চুপচাপ কোরআন তেলাওয়াত শোনা। এটি কোরআনের হক। আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন-
وَ اِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَهٗ وَ اَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
‘আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৪)

২. কোরআন তেলায়াত করা
কোরআনের অন্যতম হক হলো নিয়মিত তা তেলাওয়াত করা। আর এ তেলাওয়াত কীভাবে করতে হবে তা-ও সুস্পষ্টভাবে দিকনির্দেশনা এসেছে কোরআনে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
اَوۡ زِدۡ عَلَیۡهِ وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا
‘অথবা তার চেয়ে একটু বাড়াও। আর কুরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে।’ (সুরা মুযযাম্মিল : আয়াত ৪)

৩. কোরআন মুখস্ত করা
কোরআনবিহীন অন্তর প্রাণবিহীন অন্তরের মতো। তাই নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতে ন্যূনতম কিছু অংশ মুখস্ত করা জরুরি। এ কারণেই কোরআর মুখস্ত রাখার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে-
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে কোরআন নেই সে ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের মতো।’ (তিরমিজি)

৪. কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা
আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে যেসব বিষয় বর্ণনা করেছেন; তার সবেই মানুষের কল্যাণে নাজিল হয়েছে। আর এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। জীবনঘনিষ্ঠ এসব বিষয় বোঝার জন্য কোরআনের অন্যতম হকও এটি। তাইতো মহান আল্লাহ বলেন-
> اَفَلَمۡ یَدَّبَّرُوا الۡقَوۡلَ اَمۡ جَآءَهُمۡ مَّا لَمۡ یَاۡتِ اٰبَآءَهُمُ الۡاَوَّلِیۡنَ
তবে কি তারা এই বাণী (কোরআন) অনুধাবন করে না? অথবা তাদের কাছে কি এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?’ (সুরা মমিনুন : আয়াত ৬৮)

> اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ وَ لَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِیۡهِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا
‘তারা কি কোরআন সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে না? এ (কোরআন) যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে (অবতীর্ণ) হতো, তবে নিশ্চয়ই তারা তাতে অনেক পরস্পর-বিরোধী কথা পেত।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৮২)

৫. কোরআনের অনুসরণ করা
কোরআনের অন্যতম প্রধান হক হলো- কোরআনের অনুসরণ করা। কোরআন অনযায়ী জীবন পরিচালনা করা। কোরআনকে জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেওয়া। কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী দুনিয়ার প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরকালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা। কোরআনের নির্দেশও এমনই। মহান আল্লাহ বলেন-
وَ هٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ مُبٰرَکٌ فَاتَّبِعُوۡهُ وَ اتَّقُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
‘এ কিতাব (কোরআন) বরকতময়; যা আমি নাজিল করেছি। সুতরাং কোরআনের অনুসরণ কর এবং সাবধান হও, হয়তো তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৫৫)

সুতরাং মানুষের জন্য একান্ত আবশ্যক এই যে, তারা কোরআনের ৫ অধিকারের প্রতি যত্নবান হবে। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হৃদয় দিয়ে অনুধাবন ও কাজে বাস্তবায়ন করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের ৫ অধিকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/704116

5
করোনা মহামারির পাশাপাশি সম্প্রতি সময়ে ডেঙ্গুর প্রভাবও বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই জ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ ও দুঃশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তাই এ সময়ে সাবধানতা অবলম্বনের বিকল্প নেই। যারা জ্বর ও ব্যাথ্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা। পাশাপাশি জ্বর ও ব্যাথ্যা মুক্তিতে আমল এবং দোয়া করা। জ্বর-ব্যাথ্যায় আমল ও দোয়া করার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। জ্বর-ব্যাথ্যায় করণীয় আমল ও দোয়া কী?

জ্বরের সময় পড়ার দোয়া
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বর ও গলা ব্যাথায় এভাবে দোয়া করতে শিক্ষা দিতেন-
بِسْمِ اللَّهِ الْكَبِيرِ أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ
উচ্চারণ : 'বিসমিল্লাহিল কাবির, আউজুবিল্লাহিল আজিম, মিন শাররি কুল্লি ইরকিন নায়্যার, ওয়া মিন শাররি হাররিন নার।' (মুজামুল কাবির, তাবারানি, তিরমিজি)
অর্থ : মহান আল্লাহর নামে, দয়াময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, শিরা-উপশিরায় শয়তানের আক্রমণ থেকে। শরীরের আগুনের উত্তাপের মন্দ প্রভাব থেকে।'

ব্যাথ্যামুক্ত থাকতে হাদিসের একাধিক দোয়া ও আমলের নির্দেশনা
১. হজরত উসমান বিন আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যে ব্যথা আমাকে প্রায় অকেজো করে ফেলেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন-
‘তুমি তোমার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখ, ৩ বার- بِسْمِ اللَّهِ বিসমিল্লাহ বল এবং ৭ বার বল-
أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু।
অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তাঁর বিশাল ক্ষমতার ওসিলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।' (ইবনে মাজাহ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত রেখে ৩ বার বিসমিল্লাহ বলা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়তে থাকা আর ব্যথার স্থান মর্দন করা।

২. হজরত উসমান ইবনু আবুল আস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এলেন। আমি তখন ধ্বংসাত্মক ব্যথার কারণে অস্থির ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ব্যথার জায়গাতে তোমার ডানহাত দিয়ে ৭ বার মর্দন কর এবং বল-
بِسْمِ اللَّهِ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আউজু বিইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আঝিদু।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমি আল্লাহ তাআলার ইজ্জাত ও সম্মান, তাঁর কুদরাত ও শক্তি এবং তাঁর রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের কাছে আমার এই কষ্ট হতে মুক্তি প্রার্থনা করছি।'

বর্ণনাকারী বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী ডান হাত দিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করছিলাম আর ৭ বার এ দোয়া পড়লাম। তাতে আল্লাহ তাআলা আমার পুরো ব্যথাই নিরাময় করে দিলেন। আমি এর পর থেকে আমার পরিবারের লোকদের এবং অন্যান্যদেরও এ নিয়মে আমল করার জন্য বলে আসছি।' (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

নিয়ম : ব্যথার স্থানে ডান হাত দিয়ে মর্দন করতে থাকা এবং ৭ বার এ দোয়া পড়া।

৩. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, কোনো ব্যক্তি তার শরীরের কোনো অঙ্গে যদি ব্যথা অনুভব করতো অথবা শরীরের কোনো স্থানে ফোড়া দেখা দিতো বা জখম হতো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন-
بِسْمِ اللهِ تُرْبَةُ اَرْضِنَا بِرِيْقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفَىْ بِهِ سَقِيْمُنَا بِاِذْنِ رَبِّنَا
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরদিনা বিরিকাতি বাদিনা লি-ইউশফা সাক্বিমুনা বি-ইজনি রাব্বিনা।'
অর্থ : ‘আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি এবং আমাদের কারো থুথুর সংমিশ্রণে আমাদের রবের নির্দেশে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিকে আরোগ্য দান কর।' (বুখারি ও মুসলিম)

নিয়ম : মাটিতে থুথু ফেলে তা নিয়ে ব্যথার স্থানে মর্দন করা আর এ দোয়া পড়া।

৪. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ব্যথার স্থানে) ঝাড়-ফুঁক করতেন। আর এ দোয়া পড়তেন-
اَمْسَحْ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ بِيَدِكَ الشِّفَاءُ لاَ كَاشِفَ لَه“إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : ‘‌আমসাহল বাসা রাব্বান নাসি বিয়াদিকাশশিফাউ লা কাশিফা লাহু ইল্লা আংতা।'
অর্থ : ‘ হে মানুষের পালনকর্তা! ব্যথা দূর করে দাও। আরোগ্য দানের ক্ষমতা শুধু তোমারই হাতে। এ ব্যথা তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না।' (বুখারি)

নিয়ম : ব্যথা হলে এ দোয়া পড়তে থাকা।

৫. মাথা ব্যাথায় এ দোয়া পড়া-
لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
উচ্চারণ : লা ইউসাদ্দাউনা আনহা ওয়া লা ইউনযিফুন।'

মাথা ব্যাথা এবং জ্বরের সময় যতবার ইচ্ছা এ দোয়া পড়লে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে হেফাজত করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জ্বর ও মাথা ব্যাথায় যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নিরাময়ে উল্লেখিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। জ্বর ও মাথা ব্যাথা থেকে মুক্তি দিন। আমিন।

https://www.jagonews24.com/religion/article/698613

6
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ষষ্ঠ হিজরিতে অনেক রাষ্ট্রের শাসকের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তেমন দুটি চিঠি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।
 

পারস্যের রাজা চসরোর কাছে পাঠানো মুহাম্মদ (সা.)-এর চিঠির একটি অংশ তুরস্কের ইস্তাম্বুল মিউজিয়ামে রাখা আছে। আর মূল চিঠি আছে সৌদি আরবের মদিনা মিউজিয়ামে। 

এছাড়া রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তা এখন জর্ডানের কিং হুসাইন মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে।

আল-আরাবিয়া ডটনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ষষ্ঠ হিজরিতে ইথিওপিয়ায় সম্রাট আশামা ইবনে আবজার, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট হেরাক্লিয়াস, পারস্যের রাজা চসরো, বাহরাইনের শাসক মুনজির ইবনে সাওয়া, ইয়েমেনের রাজপুত্র হিমায়রিত হরিত ও হরিত গাসানিকে দূতের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এ ছাড়া শামের গভর্নরকেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

রাজা ও রাজকুমারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) মূলত ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। চিঠিগুলোর সবই এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছিল যে, ‘যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনি আপনার অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করবেন। ’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

7
Fruit / আনারসের যত গুণ
« on: October 02, 2021, 10:55:13 AM »
আনারস খাওয়া শরীরে জন্য অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক আনারসের পুষ্টি গুণ সম্পর্কে।

১। পুষ্টির অভাব দূর করে:
আনারস পুষ্টির বেশ বড় একটি উৎস। আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এই সকল উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে আনারস খেলে দেহে এইসকল পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকবে না।
২। হজমশক্তি বাড়ায়:
আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
৩। হাড়ের সুস্থতায়:
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমান আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪। ওজন কমায়:
শুনতে বেশ অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমানোয় বেশ সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট। সকালের যে সময়ে ফলমূল খাওয়া হয় সে সময় আনারস এবং সালাদে আনারস ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খান।

৫। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়:
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।

৬। দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়:
আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।

বিডি প্রতিদিন/

8
Hypertension / হাত কাঁপলে যা করবেন
« on: September 23, 2021, 12:13:27 PM »
অকারণে হাত কাঁপাকে বলা হয় ট্রেমর। এটি যেমন বিরক্তিকর, তেমনি এর জন্য লেখা বা জামার বোতাম লাগানোর মতো অনেক সহজ কাজও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। হাতের মাংসপেশির অনিয়ন্ত্রিত কম্পনের ফলেই হাত কাঁপে।

হাত কেন কাঁপে

হাত কাঁপার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম চারটি হলো— ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, অ্যাসেনসিয়াল ট্রেমর এবং পারকিনসন’স রোগ

শ্বাসকষ্টের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ (সালবিউটামল, থিওফাইলিন) সেবনের কারণে হাত-পা কাঁপতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য বা হাইপারথাইরয়েডিজম রোগে রোগীর হাত কাঁপে। তবে এ ক্ষেত্রে রোগীর অন্য কিছু উপসর্গও থাকে। যেমন: ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, গরম লাগা বা ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি। অ্যাসেনসিয়াল ট্রেমর একটি বংশগত রোগ, যেখানে হাত-পা কাঁপার সঙ্গে রোগীর মাথাও কাঁপে। পারকিনসন’স একধরনের স্নায়ুরোগ। এ রোগে রোগীর হাত কাঁপার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটাচলার গতিও ধীর হয়ে যায়, চলাফেরায় সমস্যা হয়।

হাত কাঁপা রোগের কারণ নির্ণয়ের জন্য রোগীর ইতিহাস ভালো করে জানতে হবে। প্রয়োজনে থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু স্নায়ুরোগ নির্ণয়ের জন্য মাথার এমআরআই পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।



চিকিৎসা

চিকিৎসার শুরুতেই হাঁত কাপার কারণ নির্ণয় করতে হবে। কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাত কাঁপছে কি না, বের করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সেই ওষুধ বন্ধ করলেই হবে। দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন ও ভালো ঘুম, হাত কাঁপার অন্যতম চিকিৎসা।

প্রোপ্রানলল–জাতীয় ওষুধ হাত-পা ও মাথা কাঁপার চিকিৎসায় কার্যকর। হরমোনের রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পারকিনসন’স রোগে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞর সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাত কাঁপার সমস্যা চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যেসব হাত-পা কাঁপা রোগী ওষুধে ভালো হয় না, তাদের জন্য বর্তমানে দেশেই ডিবিএস নামের একধরনের শল্যচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। হরমোন বা স্নায়ুরোগের জন্য হাত কাঁপলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


ডা. নাজমুল হক মুন্না, সহকারী অধ্যাপক, নিউরোলজি, মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

9
ওজন কমাতে কতজনই না কতকিছু করেন। নানা উপায় বাতলে রোগা হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ডায়েট-জিমের পাশাপাশি কিছু উপায় আছে যেগুলো অনুসরণ করলে ওজন কমানোর যাত্রা আরও ফলপ্রসূ হয়।

খুব দ্রুত ওজন কমাতে পান করতে পারেন ওয়েট লস নাইট ড্রিংস বা ওজন কমানোর রাতের পানীয়। ভেষজ উপাদান দিয়ে প্রস্তুতকৃত এসব পানীয় খেলে বিপাক হার বাড়বে ও ওজন কমবে জলদি। জেনে নিন তেমনই ৩টি ওয়েট লস ড্রিংসের সন্ধান-

আদা-লেবুর চা

রাতে খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর আদা-লেবুর পানীয়টি পান করবেন। এই পানীয় অনিদ্রা কাটাতে বেশ কার্যকর। রাতে ঠিক মতো ঘুম না হলে দ্রুত ওজন বাড়ে। এই পানীয় বিপাক হার বাড়িয়ে তোলে। এ কারণে ওজন কমে খুব দ্রুত।

jagonews24

এই পানীয় তৈরি করতে প্রয়োজন আদার টুকরো ১ কুচি, লেবুর অর্ধেক রস ও গ্রিন টি আধা টেবিল চামচ একসঙ্গে পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর ছেঁকে এই চা পান করুন। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এই চা পান করলে ওজন খুব দ্রুত কমতে শুরু করবে।

পুদিনার পানীয়

পুদিনা পাতার একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। পুদিনার তৈরি পানীয় লিভার পরিষ্কার করে ও বিপাক হার বাড়ায়। তাই ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় হতে পারে সেরা বিকল্প।

jagonews24

এজন্য কয়েকটি পুদিনা পাতা এক গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে নিন। এরপর এই পানি ছেঁকে নিয়ে ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে পান করলেই ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই আপনি ফল পাবেন।

দারুচিনি-মধুর পানীয়

ওজন কমাতে দারুচিনির কার্যকারিতা অনেক। একইসঙ্গে মধুর স্বাস্থ্য উপকারিতাও কম নয়। এই দুই উপাদান ওজন কমাতে সহায়ক। দারুচিনির পানীয় ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে বিপাক হাড়ও বাড়ায়। ফলে দ্রুত ওজন কমতে শুরু করে।

jagonews24

এটি তৈরি করতে ২৫০ মিলিলিটার পানিতে ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে মধু ২ টেবিল চামচ মিশিয়ে পান করুন। নিয়মিত ঘুমানোর আগে এই পানীয় খেলে কিছুদিনের মধ্যেই ফলাফল টের পাবেন।

সূত্র: হেলথশটস

10
মূলত কোনো ব্যক্তি তার অবস্থানস্থল থেকে ৪৮ মাইল তথা ৭৮ কিলোমিটার দূরে সফরের নিয়তে বের হয়ে নিজ শহর বা গ্রাম পেরিয়ে গেলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে সে মুসাফির হয়ে যায়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ: ১/৪৩৬)

মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ দুই রাকাত (কসর) পড়বেন। এই সংক্ষেপে আল্লাহপ্রদত্ত কল্যাণ রয়েছে।

কোরআনে বলা হয়েছে— ‘তোমরা যখন জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজের কসর করায় কোনো আপত্তি নেই। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০১)

মুসাফিরের নামাজের নিয়ম

মুসাফির চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ একাকী পড়লে বা মুসাফির ইমামের পেছনে আদায় করলে, কসর করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পূর্ণ নামাজ পড়া ঠিক নয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের নবীর মুখে নামাজকে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত ফরজ করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৮৭)

মুসাফির ব্যক্তি সফর অবস্থায় ইচ্ছাকৃত চার রাকাত নামাজ পূর্ণ করলে গুনাহ হবে (তবে মুকিম ইমামের পেছনে হলে অসুবিধা নেই)। এ ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় পড়বে।

আর যদি ভুলক্রমে চার রাকাত শুরু করে দেয় এবং প্রথম বৈঠক করে থাকে, তা হলে সিজদা সাহু করে নিলে ফরজ নামাজ আদায় হয়ে যাবে। আর যদি প্রথম বৈঠক না করে থাকে, তা হলে ফরজ আদায় হবে না, আবারও পড়তে হবে।(বাদায়েউস সানায়ে: ১/৯১)

মুকিম ইমামের পেছনে নামাজ

মুসাফির ব্যক্তি মুকিম ইমামের পেছনে ইকতিদা করলে সে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজই আদায় করবে। (আল মাবসুত, সারাখসি : ১/২৪৩)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মুসাফির যদি মুকিমদের সঙ্গে নামাজে শরিক হয়, তবে সে যেন তাদের মতো (চার রাকাত) নামাজ পড়ে।’ (ইবনে আবি শাইবা: ৩৮৪৯)

সফর অবস্থায় নামাজ কসর করা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। এসব হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর অবস্থায় সর্বদা নামাজ কসর পড়েছেন। আর মাগরিব, বিতর ও ফজরের নামাজ পূর্ণই আদায় করতে হবে, এগুলোর কসর নেই।

সুন্নত পড়ার বিধান

মুসাফির ব্যক্তির জন্য চলন্ত অবস্থায় বা তাড়াহুড়া থাকলে ফজরের সুন্নত ছাড়া অন্যান্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক ও স্থির অবস্থায় সুন্নত নামাজ আদায় করবে। (ইলাউস্ সুনান: ৭/১৯১, রদ্দুল মুহতার : ১/৭৪২)

মূলত সফর অবস্থায় তাড়াহুড়া ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত না পড়ার অবকাশ আছে। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর সুন্নত নামাজ পড়া উত্তম। সুন্নত পড়লে পুরোটাই পড়বে। কেননা সুন্নত নামাজের কসর হয় না।

https://www.jugantor.com/islam-life/460213

11
পৃথিবী যতই এগিয়ে যাচ্ছে নানা রকম ফিতনা ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের সব সরঞ্জাম হাতের মুঠে থাকায় চারিত্রিক অবক্ষয়ও একদম তলানিতে। দিন যতই যাচ্ছে নানা সংকট যেন আরো বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) শেষ জামানায় ফিতনার ভয়াবহ বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘শিগগিরই ফিতনা রাশি রাশি আসতে থাকবে। ওই সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাঁড়ানো ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি থেকে বেশি রক্ষিত। আর ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে বেশি বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তাহলে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৬০১)

এই হাদিসের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট যে ফিতনা মানুষের জন্য এক বড় সংকট। তাই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। নিম্নে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো—
তাকওয়াময় জীবনচর্চা

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিনের অনিবার্য একটি গুণ। এই গুণ অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজে ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাবেয়িদের যুগে একবার ফিতনা দেখা দিলে লোকজন তালক ইবনে হাবিবের কাছে এসে জানতে চাইলেন যে চারদিকে অনেক ফিতনার প্রকাশ ঘটেছে, আমরা কিভাবে এর থেকে নিরাপদে থাকব? জবাবে তিনি বলেন, তাকওয়ার মাধ্যমে। তারা বলেন, আমাদের তাকওয়ার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিন। তিনি ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তাকওয়া হলো এমন আমল, যা আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশের জন্য আল্লাহর দেখানো পথে সওয়াব লাভের আশায় করা হয় এবং গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর শাস্তির ভয় করা হয়।’ (আজ-জুহদু ওয়ার রাকাইক : ১/৪৭৩)
 
ভালো কাজে আত্মনিয়োগ

সৎকর্ম বা আমালুস সালেহ মুমিনের অন্যতম গুণ। এ কর্মের মাধ্যমেই একজন মুমিন ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আঁধার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকেলে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে দ্বিন বিক্রি করে বসবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২১৩)

বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিহার করা

একাকী বা বিচ্ছিন্নতাবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে সমাজবদ্ধতা বা মুসলিমদের জামাত আঁকড়ে ধরা। হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা মুসলিমদের জামাত ও ইমামের সঙ্গে আকঁড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোনো জামাত বা ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, ‘তাহলে সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকবে, যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাঁত দিয়ে আঁকড়ে থাকো এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬৭৮)

কোরআন ও সুন্নাহর বিধান আঁকড়ে ধরা

প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ ও যাবতীয় ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার আরেকটি কার্যকরী উপায় হলো, ইসলামী শরিয়তের দুই উৎস কোরআন ও সুন্নাহর বিধানকে নিজেদের জীবনের জন্য অপরিহার্য করে নেওয়া। যারা ইসলামের এই দুই উৎসকে আঁকড়ে ধরবে তারা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুই বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ তা ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নত।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৬০৪)

ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া

যেকোনো অকল্যাণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া মুমিনের অন্যতম হাতিয়ার। দোয়াকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং না চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তাই রাসুল (সা.) দুনিয়া ও আখিরাতের সব ফিতনা এবং কবর ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাতে এই দোয়া বেশি পাঠ করতেন।

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কবরি, ওয়া মিন আজাবিন নারি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৭৭)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতের সব ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখুন।

বিডি-প্রতিদিন/

12

মানুষ ভালো-মন্দে পরিচালিত হয় অন্তরের মাধ্যমে। যার অন্তর যত বেশি শুদ্ধ ও সুস্থ, তার চালচলন, আমল-আখলাক তত বেশি উন্নত। মানুষ অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যাপারে স্বাস্থ্যসচেতন থাকলেও অদৃশ্যমান এই অঙ্গের সুস্থতা ও শুদ্ধতার বিষয়ে খুব উদাসীন থাকে। অথচ পরকালে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তরই প্রাধান্য পাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে (সে এর ব্যতিক্রম)।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

অন্তরের শুদ্ধতা মানুষের বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহমুক্ত রাখে। অন্তর অসুস্থ হয়ে পড়লে মানুষ যেকোনো অপকর্মে জড়িয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করে না।
নোমান ইবনে বশির (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে, গোটা শরীর ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায়। জেনে রেখো, ওই গোশতের টুকরা হলো কলব (অন্তর)।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২)

মানুষের অন্তরের শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা নিয়ে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে নানা উপায় ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই লেখায় অন্তর কলুষিত হয় এমন কয়েকটি বিষয় আলোচনা করা হলো—

অসৎ সঙ্গ

অসৎ লোকের প্রভাব মানুষের ইহকাল ও পরকাল ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অসৎ লোকদের থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি দৃঢ়চিত্তে তাদের সঙ্গে থাকুন, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ডাকে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ২৮)

বিলাসিতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা

বিলাসিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অতি ভোগে অন্তর আল্লাহভোলা হয়ে যায়। সীমাতিরিক্ত বিলাসী জীবন মুমিনের অন্তর কলুষিত করে দেয়। ইবাদতের আগ্রহ নষ্ট করে ফেলে। মানুষকে চরম হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। তাই অন্তরের শুদ্ধতার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসিতা দূর করে অল্পতে তুষ্ট থাকার মনোভাব লালন করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, যাকে প্রয়োজনমাফিক রিজিক প্রদান করা হয়েছে এবং যে তাতেই পরিতুষ্ট থাকে, সে-ই সফলকাম হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৩৮)


ভোজনবিলাস

স্বাস্থ্যের সুস্থতার জন্য পরিমিত খাবারের বিকল্প নেই। বেশি খাবার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি অন্তরকেও অসুস্থ করে তোলে। ইবাদত-বন্দেগিতে আলস্য ও অমনোযোগিতা চলে আসে। তাই শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতার জন্য খাবার গ্রহণে সতর্কতা জরুরি। তা ছাড়া যারা হরেক রকম বিলাসী খাবারে অভ্যস্ত হয়ে আমলবিমুখ থাকবে, তাদের নিকৃষ্ট লোক আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন লোকদের আবির্ভাব ঘটবে, যারা খাবে রকমারি খাবার, পান করবে রকমারি পানীয়, পরিধান করবে রকমারি পোশাক এবং তারা আবোলতাবোল বকবে। এরাই হবে আমার উম্মতের নিকৃষ্টতম লোক।’ (সিললাতুল আহাদিসিস সহিহা, হাদিস : ৩৬৬৩)

তাই অন্তর ও দেহকে সুস্থ রাখতে অনিয়ন্ত্রিত, বিলাসী ও হারাম খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।


মাত্রাতিরিক্ত ঘুম

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অন্যতম একটি নিয়ামত। তবে অসময় ও বেশি ঘুম শারীরিকভাবে যেমন ক্ষতি করে, অন্তরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে বেশি ঘুম প্রতিবন্ধক হয়। তা ছাড়া বেশি ঘুমে পরোক্ষভাবে শয়তানকেও খুশি করা হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদাংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এটা বলে চাপড়ায় যে তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত। অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, একটি গিঁট খুলে যায়। অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। অতঃপর নামাজ আদায় করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উদ্যম ও আনন্দের। অন্যথায় সে প্রভাত করে অলস ও মনমরা হয়ে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২)

 
বেশি হাসাহাসি

পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক হাসি সওয়াবের কাজ। কথাবার্তায়ও স্বাভাবিক হাসি দোষণীয় নয়। প্রিয় নবী (সা.) সর্বদা সবার সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতেন। কিন্তু বেশি হাসাহাসি করা, অট্টহাসি দৃষ্টিকটু ও নিন্দনীয়। তা ছাড়া এ অভ্যাস হৃদয়কে কঠিন ও নির্জীব করে দেয়। এ জন্য রাসুল (সা.) বেশি হাসতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা বেশি পরিমাণে হাসবে না। কেননা বেশি হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে এবং মৃত্যুর কথা ভুলিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)

তাই অন্তরকে স্বপ্রাণ ও শুদ্ধ রাখতে হলে বেশি হাসি থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের আত্মশুদ্ধি অর্জন করার তাওফিক দান করুক।

বিডি-প্রতিদিন/

13
পৃথিবীর ১২১ মিলিয়ন মানুষ ক্রনিক বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভুগছে বলে জানা গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় ৷ এ ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে৷

ডিপ্রেশন নিয়ে জার্মানির মনস্তাত্তিক ড. মোনিকা সাইস ভন হাইডেব্রান্ট বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি সঙ্গে বাড়ছে বেকারত্ব৷ ফলে পরিবারকে আগের মতো সাপোর্ট করতে পারছেন না তারা৷ এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে৷

তিনি বলেন, যারা মানসিক রোগের শিকার তারা সাধারণত নিজেদের একটি কাঁচের বাক্সের মধ্যে বন্দি হিসেবে মনে করেন৷ বাইরের এ সুন্দর জগত দেখতে পেলেও, কিছুতেই যেন তারা তার সঙ্গে নিজেদের মানাতে পারেন না৷ কোন কিছুই যেন তাদের মনে দাগ কাটতে পারে না৷ কোন কিছুতেই কোন উচ্ছ্বাস ও আনন্দ পায় না৷ এমনকি দুঃখও পায় না৷ কেমন যেন একটা আবেগহীন অবস্থা সেটা৷ বড় একা ও নিঃসঙ্গ হয়ে যায় তারা৷

এই আবেগহীন ব্যক্তিদের আবেগকে প্রভাবিত করতে মনস্তাত্তিক ড. হাইডেব্রান্ট বলেন, এর জন্য প্রথমেই আমরা তাদের মূল সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করে থাকি৷ বলি যে আপনি যদি সারাদিন বিছানাতে শুয়ে কাটান, তাহলে আপনাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যেও একটা নেতিবাচক দিক চলে আসবে৷ তাই আমরা তাদের ইতিবাচক কাজকর্মের জন্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য উৎসাহ দেই৷ তারা যদি সে কাজ করতে সক্ষম হয়, তবে তারা নিজেরাই বুঝতে শুরু করে যে এই পৃথিবী এতো ঘোলাটে, এতো কৃষ্ণবর্ণ নয়৷ আর এটা যদি করা যায়, তবে ধীরে ধীরে তারা চিন্তার সেই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করে৷

এই নিঃসঙ্গতা তাদের বাধ্য করে নিজেকে সমাজ-সংসার, বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ও বাধ্য করে নিজ ক্ষতি সাধন করতে৷ আত্মহননের পথ বেঁচে নিতে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই সমীক্ষাটিতে দেখা যাচ্ছে যে, বছরে প্রায় দশ হাজার জার্মান বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ৷ যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ডিপ্রেশনের শিকার৷

ডিপ্রেশনের রোগীদের মধ্যে পুরুষের চাইতে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি৷ শতকরা ২৮.৭ পুরুষ এবং ৩৯.৭ শতাংশ নারী ডিপ্রেশনে ভুগছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠান৷

এ বিষয়ে মনরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরুষের তুলনায় মহিলারা ডিপ্রেশন সম্পর্কে একটু বেশি সচেতন৷ তাই পুরুষের তুলনায় মেয়েরাই বেশি আসে সাহায্যে নিতে।


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

14
গরমের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কিংবা আরামের জন্য অনেকেই দীর্ঘক্ষণ এসি কক্ষে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউ কেউ আবার শুধুমাত্র শখ করে সারাক্ষণ এসি কক্ষে অবস্থান করাটাকে বেছে নেন।

কিন্তু সাবধান! কারণ বেশি সময় ধরে এসি রুমে থাকাটা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। এ থেকে নানা রকম দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে মাইগ্রেনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হতে পারে শিরদাঁড়ার সমস্যাও। সে সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডায় সর্দি-কাশির সমস্যা ও ফুসফুসে সংক্রমণের আশঙ্কাতো থাকছেই।  এমনকি 'ব্যাক পেইন' বা ‘স্লিপ ডিস্কে’র মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই খুব বেশি সময় বাসায় বা অফিসে নিজের কক্ষে এসি ছেড়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ পরপরই এসি বন্ধ রাখুন।

 বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

15
Life Style / হানিমুন এলো কোথা থেকে?
« on: September 22, 2021, 12:43:11 PM »
সংক্ষিপ্ত অক্সফোর্ড অভিধান অনুযায়ী হানিমুন অর্থ হলো- বিয়ের প্রথম মাস।  তবে হানিমুনের বর্তমান অর্থ হচ্ছে- বাড়িতে বসতি স্থাপনের আগে, সদ্যবিবাহিত দম্পতির একসঙ্গে ছুটি কাটানো।

হানিমুন বা মধুচন্দ্রিমা নিয়ে সব নব্যবিবাহিতেরই আগ্রহ থাকে। বিয়ের পর চেনা জগৎ থেকে দূরে কোথাও কয়েকটা দিন কাটানোর আনন্দই আলাদা। দু’ জন মানুষের যৌথ জীবন-যাপনের শুরুর কটা দিন কাটে রোমান্টিকতায়।

কিন্তু হানিমুনের ধারণাটি কোথা থেকে এলো?

হানিমুন কথাটা এসেছে 'হানি ওয়াইন' থেকে। ওয়াইনের সঙ্গে মধু মিশিয়ে তৈরি এই হানি ওয়াইন ফুলসজ্জার রাতে নতুন জামাইকে উপহার হিসেবে দিতেন শ্বশুর! এই 'হানি ওয়াইন' ছিল বলবর্ধক, ঠাণ্ডায় গা গরম করার মহৌষধ। আর এভাবেই হানিমুনের উৎপত্তি।

আবার অন্য একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিয়ের পর টানা এক মাস একপাত্র করে মধু দিয়ে তৈরি মদ খেতে হতো নব দম্পতিকে। মধু দিয়ে তৈরি মদ খাওয়ার প্রথা সেই হুন রাজা অ্যাটিলার সময় থেকে চালু ছিল। যার থেকেই এসেছে হানিমুন শব্দটি।

অনেকে মনে করেন, মুন শব্দটির সঙ্গে ঋতুচক্রের যোগ রয়েছে। আর সাথে হানি জুড়ে দেওয়ার কারণ বিয়ের পর নব্যবিবাহিতদের মধ্যে অন্য রকম এক আনন্দ, ভালো লাগা কাজ করে। সেটাকে মধুর সঙ্গে মিলিয়েই এ নাম দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে হানিমুনকে মধুচন্দ্রিমাও বলা হয়। বাংলাদেশি দম্পতিরা বিয়ের পরই দ্রুত সময়ের মধ্যে কোনো না কোনো পর্যটন এলাকা থেকে ঘুরে আসেন। বিবাহিত জীবনের প্রথম দিকের স্মৃতি ধরে রাখতে।


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Pages: [1] 2 3 ... 26