Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 24
1
ইসলাম ধর্ম পাঁচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত। এ গুলোর মধ্যে ‘যাকাত’ অন্যতম ভিত্তি। এ সর্ম্পকে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেন অর্থ্যাৎ ‘এবং তোমরা আল্লাাহ তা’লার সন্তুষ্টির জন্য যাকাত আদায় করো। অত:পর তিনি তা দ্বীগুন করে দেবেন। (সুরা: আর-রুম,আয়াত:৩৯)
যাকাত আদায়ের ব্যাপারে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পাক যাকাত দেয়া ফরয করেছেন যেন তোমাদের অবশিষ্ঠ সম্পদকে নির্দোষ বা নির্বিঘ্ন করে দিতে পারেন’। (আবু দাউদ শরীফ)।
যাকাত কাকে বলে: যাকাতের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা ও পরিচ্ছনতা। যাকাত যেহেতু অর্থসম্পদকে পুঁজিবাদের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করে, মানুষের মন-মস্তিস্ককে গর্ব-অহংকার, লোভ-লালসা ও কৃপনতার মলিনতা থেকে পরিচ্ছন্নতা রাখে। নিজের উপার্জিত সম্পদে সমাজের অবহেলিত শ্রেণীর দাবী-দাওয়া পূরণে উৎসাহ যোগায় এজন্য ইসলামের এই তৃতীয় স্তম্ভে নামকরণ হয় যাকাত। শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পরিমান সম্পদ মুসলমান গরীবকে আল্লাহর ওয়াস্থে পুরোপুরি মালিক বানিয়ে দেয়াকে যাকাত বলে।
ধনি সম্পদশালী ব্যাক্তিরা মনে করেন যে যাকাতের দ্বারা সম্পদ কমে যায় তা নিছক ভুল ধারণা। কেননা আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে পাকে ওয়াদা করেছেন যে,‘যাকাত আদায়ের ফলে তিনি বান্দার সম্পদ দ্বিগুন করে দিবেন’।
যাকাত অস্বীকারকারীর হুকুম: যাকাত ইসলামের অন্যতম খুঁটি। ক্বোরআন-হাদিসে যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বারবার তাগিদ করা হয়েছে। ক্বোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমানাদি দ্বারা যাকাতের বিধান প্রনোদিত হয়েছে। তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ কারো নেই। যাকাত অস্বীকারকারীকে শরিয়ত কাফির বলে আখ্যা দিয়েছে। কেননা ফরযের বিধান অস্বীকার করা কুফুরির অর্ন্তভুক্ত।
যে তা আদায় না করবে সে ফাসিক এবং ক্বাতল হওয়ার যোগ্য। আর যে আদায় করতে বিলম্ব করবে সে গুনাহগার তার সাক্ষি গ্রহণযোগ্য নয়। (আলমগীরি: তরিকুল ইসলাম বাংলা ২য় খন্ড,পৃ.২৬৫)
যাকাতের হিসাব যে মাস থেকে: যাকাত আরবি (চন্দ্র মাসের) হিসাবানুযায়ী আদায় করতে হবে। বছরের যে কোন মাসে যাকাত আদায় করলে হয়। তবে আদায় করার সময় নিয়ত করা শর্ত।
যাকাত যেভাবে আদায় করবে: পাঠকগনের সুবিদার জন্য সরল-সরল ও সাবলিল ভাষায় যাকাতের হিসাব দশ টাকা থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাকাত কত টাকা আসবে। নিম্নে টাকা-পয়সার হিসাব বিস্তারিত প্রদত্ত করা হল। এ দিকে লক্ষ্য রেখে আদায় করলে কোন অসুবিদা হবেনা বলে আমি আশাবাদী।
আনুগ্রহ করে আল্লাহর অফুরন্ত রহমতের আশা নিয়ে দোযখের আযাবের ভয় অন্তরে রেখে সময়মত যাকাত আদায় করুন।
যাকাতের হিসাব নিম্নরূপ: একলক্ষ টাকায় আড়াই হাজার টাকা। পঞ্চাশ হাজার টাকায় বার’শ পঞ্চাশ টাকা। দশ হাজার টাকায় আড়াইশ টাকা। এক হাজার টাকায় পঁচিশ টাকা। নয়শত টাকায় বাইশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা। আটশত টাকায় বিশ টাকা। সাতশত টাকায় সতের টাকা পঞ্চাশ পয়সা।
বি.দ্র: উপরোক্ত যাকাতের হিসাবানুযায়ী আপনার নিকট যত লক্ষ টাকা, যত হাজার টাকা, যত শত টাকা বা যত টাকা-পয়সা থাকবে আপনি এর যাকাত বের করতে হিমশিম খেতে হবেনা।
মুসলমান ভাই-বোনেরা! কৃপনতা করবেন না। সম্পদ আপনার একা নয়। কৃপন ব্যাক্তি আল্লাহ তা’লার শত্রু। দানশীল ব্যাক্তি আল্লাহর প্রিয়পাত্র।
ব্যবসায়ী মালের যাকাতের মাসআলা: ব্যবসার মাল যদি নেসাব পরিমাণ হয় অর্থ্যাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা ও বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ হয় তবে সে মালের উপর যাকাত ফরয। শতকরা আড়াই টাকা হিসাবে যাকাত আদায় করতে হবে।
যাকাত সংক্রান্ত মাসআলা: সোনা হোক বা রূপা, সবধরনের ব্যবসায়ী মালে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে বিক্রয় মূল্যই গ্রহণযোগ্য ক্রয় মূল্য নয়। যেমন কারো নিকট যাকাতের যা মাল বর্তমানে আছে তার ক্রয় মূল্য ১ লক্ষ টাকা। কিন্তু বিক্রয় মূল্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। উক্ত মালের ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার উপরই যাকাত ওয়াজিব।
যাকাত প্রদানের স্থান সমূহ: মিসকিনকে যাকাত প্রদান করতে হবে। মিসকিন ফকির বলতে সেসব মুসরিম নর-নারী বুঝায় যাদের নিকট জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি যেমন: অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদির ব্যবস্থা নেই অথবা আছে তবে তা প্রয়োজন মেটাবার নয়।
ঋণগ্রস্থ মানুষ যার নিকট ঋণ পরিশোধ করার উপায় নেই। সেসব নিস্বঃ নওমুসলিম যাদের মন জয় করা মুসলমানদের দরকার। আল্লাহর পথের মুজাহিদগন যারা দুস্থ এবং নিঃস্ব হওয়ার কারনে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে বিরত। অথবা সেসব হাজীগন যাদের টাকা-পয়সা ও পাথেয় শেষ হওয়ার কারনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে অপারগ।

 

2
রহমত, মাগফেরাত, নাজাতের মাস রমজান পেরিয়ে আরেক মাসের আগমন। আরবি চান্দ্রমাসের হিসেবে এটা দশম মাস। এই মাসের নাম শাওয়াল।বরকতময় ও ফযিলতপূর্ণ মাস রমাজানের পর শাওয়াল মাস অন্যতম। এই মাসের সাথে সম্পৃক্ত আছে ঈদুল ফিতরের,ফিতরা আদায় করার,ছয় রোজা রাখার,আছে হজ্বের সাথে সম্পৃক্তও। এই মাসের অন্যান্য আমলের মধ্যে ছয় রোজা রাখারও কথা রয়েছে।
‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো: উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা। এই মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়; নেকির পাল্লা ভারী হয়; গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে।
শাওয়ালের ছয় রোজার বিধান: অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখা সুন্নত। ফরজ বা ওয়াজিব নয়। কিন্তু এগুলোকে পরিভাষায় নফল রোজা বলে। কারণ, এগুলো ফরজ ও ওয়াজিব নয়, অতিরিক্ত তথা নফল। হজরত ইবনে মোবারক (রহ.) বলেন, প্রতি মাসের ৩ দিন রোজা রাখার মতো শাওয়ালের ৬ দিন রোজা রাখাও ভালো আমল। আল্লাহ তায়ালা ফরজ ইবাদতের পর সুন্নত ও নফল ইবাদতের প্রতি উৎসাহ ও নির্দেশনা দেন।
শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার ফজিলত : শাওয়ালের এই ছয় রোজার ফজিলত অন্যতম। এই ছয় রোজা রাখার কারণে আল্লাহ তায়া’লা বান্দাকে প্রতিদান হিসেবে সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব দেন। যেমন এক হাদীসে হজরত আবু আইউব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল এবং এ রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল।’ ( মুসলিম : ১১৬৪)। অন্য এক হাদিসে হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ৬ রোজা দু’মাসের রোজার সমান।’ (নাসায়ি : ২/১৬২)।
এক বছরের রোজার সওয়াব এভাবে হয় যে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুরা আনআমের ১৬০ নাম্বার আয়াতে এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ করবে সে দশগুণ বেশি সওয়াব পাবে।’ সে হিসেবে রমজানুল মোবারকের ত্রিশ রোজা তিনশ রোজার সমান হলো। আর শাওয়ালের ৬টি রোজা ষাট রোজার সমান। এভাবে ৩৬টি রোজা বছরের মোট তিনশ ষাটটি রোজার সমান হয়ে গেল। তাহলে আমরা এই ছয়টি রোজা রাখার মাধ্যমে সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব পেয়ে যাই। এই বিষয়টি আরেকটি হাদিস থেকে আরো স্পষ্ট হয়। যেমন, এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: হযরত উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাস করলাম,‘ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব? তখন রাসূল (সা.) বললেন, তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখ এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ৬ রোজা রাখ, তাহলেই তুমি সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে’ (তিরমিজি : ১/১৫৩৪)।
ছয় রোজা রাখার উপকারিতা : রোয়া রাখার উপকারিতার তো শেষ নেই। আমরা অনেক উপকারের কথাই তো জানি। কিন্তু এই নফল রোজার ফজিলতও অন্যতম। যেমন রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মানুষের আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের রব ফেরেশতাদেরকে বলেন অথচ তিনি সবকিছু জানেন- তোমরা আমার বান্দার নামাজ দেখ, সেকি নামাজ পূর্ণভাবে আদায় করেছে- নাকি নামাজে ঘাটতি করেছে। যদি পূর্ণভাবে আদায় করে থাকে তাহলে পূর্ণ নামাজ লেখা হয়। আর যদি কিছু ঘাটতি থাকে তখন বলেন, দেখ আমার বান্দার কোন নফল নামাজ আছে কিনা। যদি নফল নামাজ থাকে তখন বলেন,নফল নামাজ দিয়ে বান্দার ফরজের ঘাটতি পূর্ণ কর। এরপর অন্য আমলের হিসাব নেয়া হবে। (আবু দাউদ)।
অন্য এক হাদীসে এসেছে, হজরত সুফিয়ান ছাওরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কায় তিন বছর ছিলাম। মক্কাবাসীর মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি প্রত্যহ জোহরের সময় মসজিদে হারামে এসে বাইতুল্লাহ তওয়াফ করার পর নামাজ পড়ে আমাকে সালাম দিয়ে চলে যায়। ফলে তার ও আমার মাঝে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতির সৃষ্টি হয়। হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে ডাকল এবং বলল, আমি মারা গেলে তুমি আমাকে নিজ হাতে গোসল দেবে, নামাজ পড়বে এবং দাফন দেবে। ওই রাতে তুমি আমাকে কবরে একাকী রেখে চলে আসবে না। তুমি আমার কবরের কাছে রাতযাপন করবে এবং মুনকার-নকিরের সওয়ালের সময় আমাকে সহায়তা করবে। সুতরাং আমি তাকে নিশ্চয়তা দিই। আমি তার আদেশ মোতাবেক তার কবরের কাছে রাতযাপন করি। আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলাম।

 

3
ইসলাম ধর্ম পাঁচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত। এ গুলোর মধ্যে ‘যাকাত’ অন্যতম ভিত্তি। এ সর্ম্পকে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেন অর্থ্যাৎ ‘এবং তোমরা আল্লাাহ তা’লার সন্তুষ্টির জন্য যাকাত আদায় করো। অত:পর তিনি তা দ্বীগুন করে দেবেন। (সুরা: আর-রুম,আয়াত : ৩৯) যাকাত আদায়ের ব্যাপারে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পাক যাকাত দেয়া ফরয করেছেন যেন তোমাদের অবশিষ্ঠ সম্পদকে নির্দোষ বা নির্বিঘ্ন করে দিতে পারেন’। (আবু দাউদ শরীফ)। যাকাতের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা ও পরিচ্ছনতা। যাকাত যেহেতু অর্থসম্পদকে পুঁজিবাদের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করে, মানুষের মন-মস্তিস্ককে গর্ব-অহংকার, লোভ-লালসা ও কৃপনতার মলিনতা থেকে পরিচ্ছন্নতা রাখে। নিজের উপার্জিত সম্পদে সমাজের অবহেলিত শ্রেণীর দাবী-দাওয়া পূরণে উৎসাহ যোগায় এজন্য ইসলামের এই তৃতীয় স্তম্ভে নামকরণ হয় যাকাত। শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পরিমান সম্পদ মুসলমান গরীবকে আল্লাহর ওয়াস্থে পুরোপুরি মালিক বানিয়ে দেয়াকে যাকাত বলে।
শরীয়তের পরিভাষায় যাকাত হচ্ছে একটি আর্থিক ইবাদত। নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরীব মিসকিন ও অভাবী লোকদের মধ্যে বন্টন করাকে যাকাত বলা হয়। এটি নামাজ রোজার মতই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দ্বিতীয় হিজরীতে মদীনায় যাকাত ফরজ হয়। মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কুরআনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় বিরাশি জায়গায় এ জাকাতের কথা বলেছেন। যাকাত শব্দ দ্বারা ৩০ বার আল ইনফাক শব্দ দ্বারা ৪৩ বার, আস সাদাকাহ শব্দ দ্বারা ৯ বার। ৩০+৪৩+৯= ৮২ বার।
এতবার যে বিষয়টি সম্পর্কে মহান রব বলেছেন অবশ্যই বিষয়টি খুবই গুরুত্বের দাবি রাখে। কিন্তু আমাদের অনেককে দেখা যায় যে, আমাদের উপর ইসলামের এই মহান হুকুমটি ফরজ হয়ে আছে এর পরেও আমরা এর প্রতি খেয়াল করিনা। আমরা ভাবি আমাদের সম্পদ কমে যাবে। আসলে যাকাত দিলে সম্পদ কমবেনা বরং বৃদ্ধি পাবে। যাকাত দিলে যে সম্পদ বৃদ্ধি পাবে তা মহান আল্লাহ নিজেই বলেছেন: আল্লাহ তায়ালা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন আর দান সদকা কে বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ তায়ালা অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের কখনো পছন্দ করেননা।
ধনী সম্পদশালী ব্যাক্তিরা মনে করেন যে যাকাতের দ্বারা সম্পদ কমে যায় তা নিছক ভুল ধারণা। কেননা আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে পাকে ওয়াদা করেছেন যে,‘যাকাত আদায়ের ফলে তিনি বান্দার সম্পদ দ্বিগুন করে দিবেন’। যাকাত ইসলামের অন্যতম খুঁটি। ক্বোরআন-হাদিসে যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বারবার তাগিদ করা হয়েছে। ক্বোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমানাদি দ্বারা যাকাতের বিধান প্রনোদিত হয়েছে। তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ কারো নেই। যাকাত অস্বীকারকারীকে শরিয়ত কাফির বলে আখ্যা দিয়েছে। কেননা ফরযের বিধান অস্বীকার করা কুফুরির অর্ন্তভুক্ত। যে তা আদায় না করবে সে ফাসিক এবং ক্বাতল হওয়ার যোগ্য। আর যে আদায় করতে বিলম্ব করবে সে গুনাহগার তার সাক্ষি গ্রহণযোগ্য নয়। (আলমগীরি: তরিকুল ইসলাম বাংলা ২য় খন্ড,পৃ.২৬৫)।
কুরআনে কারিমের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, যা কিছু তোমরা সুদের উপর দাও ( তা তো এজন্যই দাও) যেন অন্য মানুষদের মালের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়ে বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা বারে না। অপরদিকে যে যাকাত তোমরা দান করো তা যেহেতু একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে দান করো! তাই বৃদ্ধি পায়। এরাই হচ্ছে সেসব লোক যারা যাকাতের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে নিজেদের সম্পদ বহুগুণে বাড়িয়ে নেয়।
আলোচ্য আয়াতে কারিমাগুলোর মাধ্যমে বুঝা গেলো যে, যাকাত মূলত সম্পদের স্থায়িত্বের জন্য দেয়া। এটি সম্পদকে স্থায়ী ও বহুগুণে বৃদ্ধি করে। কিন্তু আমরা ভাবি মনে হয় আমার সম্পদ কমে যাচ্ছে। আসলে সম্পদ কমে না বরং বারে।
হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে : আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন.রাসুল (সাঃ) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরন করেন তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন। (বুখারী)। অন্য হাদীসে এসেছে: জাবীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন যখন তোমাদের নিকট যাকাত আদায়কারী আসবে তখন সে যেন তোমাদের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (মুসলিম)।
মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামি সরকারের দায়িত্ব ৪টি। মহান আল্লাহ বলেন : আমি যদি তাদের পৃথিবীতে রাজত্ব দান করি তাহলে তারা সালাত প্রতিষ্টা করবে, যাকাত আদায় করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর সব কাজেরই চূড়ান্ত পরিনতি একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : অতঃপর সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহ তায়ালার রশ্মি শক্তভাবে ধারণ করো। তিনিই হচ্ছেন তোমাদের একমাত্র অভিভাবক। কত উত্তম অভিভাবক আর কত উত্তম সাহায্যকারী! সূরা মূমিনুনে বর্ণিত হয়েছে : নিঃসন্দেহে সেসব ইমানদারগণ মুক্তি পেয়ে গেছে যারা নিজেদের সালাতে একান্ত বিনয়ী, নম্র হয়, অর্থহীন বিষয় থেকে বিরত থাকে এবং রীতিমতো যাকাত প্রদান করে। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন : এবং তোমরা সালাত প্রতিষ্টা করো, যাকাত আদায় করো আর যারা আমার সামনে অবনত হয় তোমরাও তাদের সাথে আমার আনুগত্য স্বীকার করো।
উপরোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা এটাই প্রমানিত হয় যে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে কোনো মুমীনের অনীহা প্রকাশ করার সুযোগ নেই। এর অস্বীকার কারী মুমীন থাকেনা। এখন যাকাত কাদেরকে দিতে হবে আর কি পরিমান সম্পদ বান্দার কাছে থাকলে যাকাত ফরজ হবে? যাকাতের খাত কয়টি? মহান আল্লাহ বলেন : নিশ্চয়ই সদকা(যাকাত) হলো ফকির,মিসকীন, যাকাত আদায়ের কর্মচারী, মুয়াল্লিফাতুল কুলুব (যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন), দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, ঋণ মুক্তির জন্য, আল্লাহর পথে,মুসাফিরদের জন্য। (সূরা তাওবা, আয়াত ৬০)। যে সকল ব্যক্তিদের উপর যাকাত ফরজঃ মনে রাখতে হবে যেকোনো মূমিনের উপর নামাজ রোজার মত যাকাত ফরজ নয়। বরং যাকাত ফরজ হয় কিছু শর্ত সাপেক্ষে এবং আর্থিক ভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের উপর। যাদের কাছে বাৎসরিক যাবতীয় খরচের পর ৭.৫০ (সাড়ে সাত) তোলা পরিমান স্বর্নের সমমূল্যের সম্পদ কিংবা ৫২.৫০ (সাড়ে বায়ান্ন) তোলা পরিমাণ রৌপ্য বা রৌপ্যের সমমূল্যের সম্পদ গচ্ছিত থাকে তাদের উপরি যাকাত ফরজ। গচ্ছিত সম্পদের ২.৫০ শতাংশ যাকাত দিতে হবে। উপরোক্ত শর্ত পাওয়ার পরেও যাকাত ফরজ হবেনা যদি নিন্মোক্ত শর্তগুলো না পাওয়া যায়।
১. মুসলিম হওয়া। ২.বালেগ হওয়া। ৩. স্বাধীন হওয়া। ৪.জ্ঞানবান হওয়া। ৫. নিসাব পরিমান সম্পদ থাকা। ৬. পূর্নাঙ্গ মালিক হওয়া।৭. পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকা। এবার দেখা যাক কাদেরকে যাকাত দেওয়া জায়েজ নেই। ১. নিসাবের অধিকারী। ২.স্বামী। ৩. স্ত্রী। ৪. উপার্জনক্ষম। ৬.পিতা-মাতা এবং উর্ধগামী। ৭. সন্তান এবং নিম্নগামী। ৮.বনী হাসেম। ৯. অমুসলিম। ১০. যাদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব আছে।
মনে রাখতে হবে যাকাত দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারিত নেই। যখনি নিসাব পরিমান মালের এক বৎসর পূর্ণ হবে তখনই যাকাত দেওয়া কর্তব্য। আর না হয় এমতাবস্থায় ইন্তেকাল করলে গুনাহগার বলে গণ্য হবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এখন যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদের বৎসর পূর্ণ হয়েছে তাদের অবশ্যই বিশ্বমানবতার পাশে দাড়ানো দরকার। আমরা সকলে অবগত প্রাণঘাতি ভাইরাস কভিড-১৯ এ ছেয়ে গেছে বিশ্ব। আর দিন দিন লাশের মিছিল ভারি হচ্ছে। এই মূহুর্তে খেটে খাওয়া মানুষজন একদম অসহায় জীবনাতিপাত করছে। কারণ, দু মোঠো ভাত জোগাবার জন্য ঘর থেকে বের হওয়া যে দায়। আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও এ মূহুর্তে মুখ বুঝে ক্ষুদার যন্ত্রণা সহ্য করছে। আমাদের দেশে তাদের দশা হল এই যে বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা। তারা মুখ খুলে কারো কাছে বলতে পারেনা। তাই এই মূহুর্তে অর্থবানদের অবশ্যই অসহায় ও দুুর্বৃত্তদের পাশে দাড়ানো দরকার। বিশেষ করে এই মূহুর্তে যদি আমরা যাকাতের অর্থ দিয়ে হাত বাড়াই তাহলেও অনেক অনাহারির মুখে অন্ন জুটবে । তাছাড়াও যে যেভাবে পারি মানবতার পাশে দাড়াই। কারো পক্ষে এ কঠিন পরিস্থিতি একাকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে মানবতাই শ্রেষ্ঠ। নিজের সম্পদ থেকে নিজের দেশকে, দেশের মানুষকে, মানবতাকেই গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। মহান আল্লাহ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকলকে সকলের স্থান থেকে সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে আসার তাওফিক দিন। আমীন।

 

 


   

 

4
মুসলমানগন মদিনায় আগমনের ফলে তাওহীদের দাওয়াতের ভিত্তি আরো মজবুত এবং সু-প্রতিষ্ঠিত হবে। এবং মদীনা বাসীদের কে মক্কাবাসীদের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নিলে তা হবে মক্কাবাসীদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। মক্কার মুশরিকরা উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ সচেতন ছিল। সমস্ত কুফ্ফারে মক্কাবাসীদের নিকট রাসুলুল্লাহ সা:কে ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালো ।এবং তারা রাসুলুল্লাহ সা: কে প্রতিহত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো। কিন্তু কিভাবে তাকে ঠেকানো যায় সে বিষয়ে সকলেই চিন্তিত, অতঃপর দারুন নদওয়াতে(কুরাইশদের সংসদ ভবন) পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। এবং সেই বৈঠকে সকল কুরাইশ গোত্রের নেতৃবৃন্দ দের কে দাওয়াত দেওয়া হয় এবং সকলেই এতে অংশগ্রহণ করে। দুনিয়ার ইতিহাসে সবচাইতে নিকৃষ্টতম এ পরামর্শ সভার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয় যে, এমন একটি পরিকল্পনা করা যার মাধ্যমে তাওহীদের পতাকাবাহী রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের অস্তিত্বকে চিরতরে মুছে ফেলা।

এই নিকৃষ্টতম অধিবেশনে যেসকল কোরাইশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলো তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আবু জাহেল হিশাম বনি মখযুম থেকে, জুবায়ের বিন মুতঈম এবং তুয়াইমা বিন আদি এবং হাশেম বিন আমের বনি আবদে শামস বিন আবদে মানাফ থেকে। শাইবা বিন রাবিয়াহ ,উৎবা বিন রাবিয়া এবং আবু সুফিয়ান বিন হারব বনি আবদার থেকে। নজর বিন হারেস বনি আসাদ বিন আব্দুল উযযা থেকে। আবুল বুখতারী বিন হিশাম , যাযমা বিন আসওয়াদ, হাকিম বিন হেযাম , বনি আসাদ বিন আব্দুল উযযা থেকে। নরিহ বিন হাজ্জাজ ও মুনাব্বা বিন হাজ্জাজ বনি সহম থেকে। উমাইয়া বিন খলফ বনি জুমাহ থেকে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সকলেই যখন দারুন নদওয়ায় পৌঁছাল তখন ইবলিশ সম্ভ্রান্ত পন্ডিতের রূপ ধরে অনুপ্রবেশ করে, এবং সে নিজেকে নজদের শাইখ পরিচয় দিয়ে বলল, আমি শুনেছি যে আপনারা এক মহৎ সভার আয়োজন করেছেন। এজন্য আমি উপস্থিত হলাম সম্ভব হলে কিছু পরামর্শ দিব। তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত হয়ে আলোচনা শুরু হলো। এবং সেখানে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হলো। প্রথমে আবুল আসওয়াদ প্রস্তাব পেশ করল যে, আমরা মুহাম্মদকে আমাদের মধ্য থেকে আলাদা করে , শহর থেকে বের করে দেওয়া যেতে পারে। অতঃপর সে কোথায় থাকবে কোথায় যাবে তার ব্যাপার। তার সাথে আমাদের কোন রকম সম্পর্ক থাকবে না। এতে করে আমাদের আর কোন সমস্যা থাকবে না। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম নির্বিঘেœ পালন করতে পারব। সে আমাদের মধ্যে আর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা। আবুল আসওয়াদ প্রস্তাবটি শেষ করতে না করতেই নজদের শাইখ ( ইবলিশ) বলে উঠলো, আল্লাহর কসম! এটা কোন ভালো প্রস্তাব হলো না। তাছাড়া তোমরা দেখতেই পারছ যে, তার কথা কত চমৎকার এবং বাগ্ধারা কতটা মিষ্ট। সে কিভাবে মানুষের মন জয় করে চলছে ? আল্লাহর কসম! তোমরা যদি তাকে দেশান্তর করো, তবে সে অন্য কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিবে, এবং সেখানে জনমত তৈরি করে বিপুল সংখ্যক অনুসারী তৈরি করবে। অতঃপর তাদের সাথে সখ্যতা করে তোমাদের শহরে আক্রমন করবে এবং তোমাদের কোণঠাসা করবে। তাতে করে সবকিছুই তার ইচ্ছা অনুযায়ী হবে।
সুতরাং এটা কোন সমাধানের পথ হতে পারে না। তাই ভিন্ন কোনো পথ চিন্তা করো। এবার আবুল বুখতারি বলল, মোহাম্মদকে শক্ত শিকলে বেঁধে বন্দি অবস্থায় তালাবদ্ধ ঘরে ফেলে রাখা হোক। এবং অবশ্যম্ভাবী পরিণতির জন্য (মৃত্যুর) অপেক্ষা করতে থাকবো। যেমনটি যুহাইর, নাবেগা, ও অন্যান্য কবিদের কে রাখা হয়েছিল। এবারও ইবলিশ আপত্তি করল যে, আল্লাহর কসম! এই প্রস্তাব সঙ্গ মনে হচ্ছে না। কারণ কোনো-না-কোনোভাবে তার সঙ্গীদের নিকট খবর পৌঁছে যাবে, তখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যাবে এবং তোমরা পরাজয় বরণ করবে । সুতরাং এ প্রস্তাবও সমর্থনযোগ্য মনে হচ্ছে না। বরং ভিন্ন কোন রাস্তা বের করা প্রয়োজন। পরপর যখন দুইটা প্রস্তাব বাতিল বলে বিবেচিত হলো। এবার অভিশপ্ত, কুখ্যাত আবু জাহেল বলল,এ ব্যাপারে আমার একটি অভিমত রয়েছে। আমি লক্ষ্য করছি যে, কেউই সে লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। উপস্থিত সকলে বলল আবুল হাকাম সেটা কি? কুখ্যাত আবু জাহেল বলল, আমার প্রস্তাব হচ্ছে যে প্রত্যেক গোত্র থেকে সুঠামদেহী ও শক্তিশালী যুবক নির্বাচন করা হোক। এবং প্রত্যেকে একটি করে ধারালো তরবারি দেওয়া হোক। অতঃপর সকলেই তার দিকে অগ্রসর হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে তাকে হত্যা করুক। যার দরুন আমরা সকলেই তার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবো। আর এভাবে হত্যা করার ফলে এই হত্যার দায় সকল গোত্রের উপর বর্তাবে। ফলে একটি বিশেষ সুবিধা হবে যে, বনু আবদে মানাফ একা সকলের সাথে যুদ্ধ করতে সক্ষম হবে না। যার কারণে দিয়ত(খুনের বদলা একশত উট) গ্রহণে রাজি হবে। আমরা সকল গোত্র মিলে তা দিয়ে দিব এতে করে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।
এবার ইবলিশ আর কোন আপত্তি না করে বললো যে, এই যুবকের কথায় গ্রহণযোগ্য। আর কোনো কথা বা খেয়াল আসলে তারপরও এটা বহাল থাকবে। দারুন নদওয়ার নিকৃষ্টতম অধিবেশন এমনই এক কাপুরুষোচিত, ঘৃণ্য ও জঘন্য সিদ্ধান্ত শেষে সমাপ্তি ঘটলো। এবং সকলেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংকল্পবদ্ধ হয়ে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করল। এদিকে জিবরীল আমীন আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সা: কে মুশরিকদের ষড়যন্ত্রের কথা অবগত করলেন, তিনি বললেন “আপনার প্রভু আপনাকে মক্কা ছাড়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। আপনি এযাবৎ যে বিছানায় শয়ন করেছেন আজ রাতে সে বিছানায় শয়ন করবেন না”। এই কথার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সা:কে হিজরতের সময় জানিয়ে দেয়া হলো।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সা: ঠিক দুপুরে মাথা মোবারক ঢেকে হযরত আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু এর বাড়িতে তাশরিফ আনলেন। হযরত আবু বকরের রা: এর সাথে হিজরতের সময় ও বিভিন্ন পন্থা নিয়ে আলোচনা করে নিজ গৃহে ফিরে এলেন। এবং রাতের অপেক্ষা করতে লাগলেন। এদিকে পাপিষ্ঠরা নদওয়ার গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে দিল। তাদের জঘন্যতম উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ১১ জন পাপিষ্ঠ, নালায়েক কে নির্বাচন করল। আবুজাহেল বিন হিশাম, উকবা বিন আবু মুয়িত , উমাইয়া বিন খলফ, তুয়াইমা বিন আদী, উবাই বিন খলফ, মুনাব্বাহ বিন হাজ্জাজ, হাকাম বিন আস, ইসার বিন হারেস,যাময়াহ বিন আসওয়াদ, আবু লাহাব, হুবাইহ বিন হাজ্জাজ এবং তার ভাই। সন্ধ্যা লগ্ন শেষ হওয়ার পর রাতের অন্ধকার যখন চতুর্দিকে ছেয়ে গেল। পাপিষ্ঠরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়ির আশেপাশে উৎপেতে রইল। রাসুলুল্লাহ সা: শুয়ে পড়লেই তারা প্রিয় নবীজির উপর ঝাপিয়ে পড়বে। অভিশপ্ত আবু জেহেল ঘেরাও কারি পাপিষ্ঠদের সাথে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে যা তা বলতেছিল। এবং তারা বিজয়ী হবে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে ছিল। কিন্তু আল্লাহ যাকে বিজয়ী করতে চান সেই কেবল বিজয়ী হয়। তিনি যাকে বাঁচাতে চান কেউ তাকে মারতে পারেনা। পক্ষান্তরে তিনি যাকে পাকড়াও করতে চান পৃথিবীর কোন মহাশক্তি তাকে রক্ষা করতে পারেনা ।
এদিকে রাসুলুল্লাহ সা: মুশরিকদের বেষ্টনীর মধ্যেও হযরত আলীকে সবুজ হাযরামা চাদর জড়িয়ে তিনার বিছানায় শুইয়ে দিলেন। এবং বললেন তোমার ভয় নেই তারা কিছুই করতে পারবেনা। অতঃপর প্রিয় নবীজি গৃহের বাহিরে বের হয়ে এক মুষ্টি মাটি ছিটিয়ে দিলেন মুশরিকদের উপর। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের দৃষ্টিশক্তি আটকে দিলেন ফলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে দেখতে পেল না। এ সময় কোন মুশরিক বাকি ছিল না যে, তাদের মাথায় বালুকণা যায়নি। অতঃপর হযরত আবু বকরের গৃহে প্রবেশ করে তাকে নিয়ে ইয়েমেন অভিমুখে রওনা হলেন। রাতের অন্ধকার থাকতেই তারা মক্কা থেকে বেশ কিছুদূর “সাওর” নামক পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিলেন। এদিকে ঘেরাও কারি পাপিষ্ঠরা প্রিয় নবীজিকে হত্যার উম্মখতায় উম্মত্ত হয়ে সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকলো। কিন্তু এক ব্যক্তির খবরের মাধ্যমে যখন রাসুলুল্লাহর হিজরতের খবর জানতে পেরে তারা সকলেই হতচকিত হয়ে পড়লো। দৌড়ে গিয়ে নবীজি সা: এর ঘরের কাছে গিয়ে দরজার ফাক দিয়ে দেখতে পেল যে, তিনি চাদর গায়ে শায়িত অবস্থায় রয়েছে। তারা বলল আল্লাহর কসম ! মোহাম্মদ শুয়ে রয়েছে। পাপিষ্ঠরা ঘরে প্রবেশ না করার কারণে হযরত আলী রা:কে রাসুলুল্লাহ মনে করলো। এবং তারা এই ভ্রান্ত বিশ্বাস নিয়ে সকালের অপেক্ষায় থাকলো। এদিকে যখন ভোর হলো, হযরত আলী চাদর সরিয়ে বিছানা থেকে উঠলেন , তখন কুফফাররা বুঝতে পারল যে ব্যাপারটা কি ঘটেছে। তারা রাগান্বিত হয়ে আলীকে জিজ্ঞেস করল, মোহাম্মদ কোথায়? হযরত আলী বললেন আমি জানিনা। অতঃপর তারা রাসুলুল্লাহ কে খোঁজার জন্য চতুর্দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং একেবারে রাসুলের নাকের ডগায় গিয়েও প্রিয় নবীজিকে দেখতে পেল না। অতঃপর তারা হতাশ হয়ে ফিরে এলো।

5
কোভিড সেরে যাওয়ার পরে অনেকেরই হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই কমে যাচ্ছে অক্সিজেনের মাত্রা। তাই কোভিড সেরে যাওয়া মানেই আর কোনো চিন্তা নেই- এমন ভাবা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

কেন কোভিডের কারণে পরবর্তী সময়ে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ বাড়ছে? চিকিৎসকদের কথায়, কোভিডের জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার জন্য শরীর যে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে, তা অনেকে ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। তাছাড়া কোভিডের কারণে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তারও প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের পেশির উপর। গোড়ায় তা বোঝা না গেলেও পরে টের পাওয়া যায়।
তবে এগুলোর থেকেও বড় কারণ, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা। করোনার কারণে অনেকেরই রক্ত জমাট বাঁধে। সেই বিষয়ে সচেতন না হলে, পরে সেগুলোই হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতের হৃদরোগবিদ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল বলছেন, ‘রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না, তা বোঝার জন্য ডি ডাইমার পরীক্ষা করাটা খুব দরকারি। কোভিড সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার পরে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তার কারণ রক্ত জমাট বাঁধা।’

তার কথায়, কারও কারও ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে, কোভিডের সংক্রমণ হলেও কোনও উপসর্গ দেখা গেল না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষতি হলো শরীরের। পরে কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন ওই মানুষটি। এই সব কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোভিড কালে আলাদা করে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কখন সতর্ক থাকবেন?

বুক ভার

বুকের যেদিক হৃদযন্ত্র আছে, সে দিকটা ভারী লাগছে। মাঝে-মধ্যে অল্প অস্বস্তি হচ্ছে। মনে হচ্ছে হাত দিয়ে চেপে ধরলে ভালো হবে।

অক্সিজেন কম

অক্সিমিটারে পরীক্ষা করলে, হঠাৎ হঠাৎ অক্সিজেনের মাত্রা কম দেখাচ্ছে। কোভিড সেরে যাওয়ার পরেও এমন হওয়ার অর্থ হৃদযন্ত্রে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

প্রচণ্ড ঘাম

তেমন গরম লাগছে না। কিন্তু মাঝে-মধ্যেই প্রচণ্ড ঘাম হচ্ছে। এটাও হতে পারে হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণ।

শ্বাসের সমস্যা

কোভিড সেরে গেছে এক মাসের ওপর। কিন্তু শ্বাসকষ্ট কমছে না। এর কারণ হতে পারে হৃদযন্ত্রের সমস্যা।

বিডি প্রতিদিন/

6
কাশি উপশমে ঘরোয়া চিকিৎসা খুবই কার্যকরী। করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার পরও দুই-তিন সপ্তাহ পর্যন্ত কাশি থাকতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা গ্রহণ করলে কাশি দ্রুত সেরে উঠবে।

বাসক পাতা
বাসক পাতা পানিতে সেদ্ধ করে, সেই পানি ছেঁকে নিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় খেলে কাশি উপশম হয়। প্রতিদিন সকালে এ পানি খেতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসক পাতার রস খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।
তুলসী পাতা
তুলসী পাতা থেঁতো করে এতে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে প্রতিদিন দু–তিনবার খেলে কাশি ভালো হয়। তুলসী, আদা, লবঙ্গ, তেজপাতা, গুলমরিচ, দারুচিনি, কালোজিরা দিয়ে গরম মসলার চা খুবই উপকারী।

মধু

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ মধু, অর্ধেকটা লেবুর রস আর সামান্য আদার রসের মিশ্রণ প্রতিদিন এক–দুবার খেতে হবে। এ মিশ্রণ কফ ও গলাব্যথা উপশমে সহায়তা করে। গলায় ব্যথা কিংবা খুশখুশে কাশিতে সব ধরনের সমস্যাতেই মধু বেশ উপকারী। এতে ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে। এতে শরীরের উপকারী অনেক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে। শুকনো কাশি থেকে মুক্তি পেতে দিনে দুইবার করে গরম পানিতে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে গলা অনেকটাই আরাম পাবে।

আদা
অনেক অসুখ সারাতেই ‌আদা কাজ করে। বিশেষ করে যেকোনো ধরনের সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর। কাশি না কমলে বাড়িতেই আদা দিয়ে চা তৈরি করে দিনে একাধিকবার খেতে পারেন। আরাম পাবেন।

লবণ পানি:
হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে মাঝে মধ্যে কুচিকুলি করতে হবে। লবণ জীবাণু তাড়াতে সাহায্য করে। সংক্রমণের কারণে শরীরে যে জীবাণু ঢুকেছে, তার সঙ্গে লড়াই করতে পারে লবণ। কয়েকদিন টানা কুলিকুচি করলে গলায় আরাম পেতে পারেন।

এছাড়াও গরম দুধে অল্প পরিমাণে হলুদ মিশিয়ে খেলে তা কাশি উপশমে বেশ কাজে আসে।

 

বিডি প্রতিদিন / 

7
লবঙ্গের গুণাগুণ শুধু রান্নাতেই নয়, তার বাইরেও আছে। সুস্বাস্থ্যে লবঙ্গ নানাভাবে আমাদের উপকারে আসে। যেমন-

১) দাঁতের যন্ত্রণায় কষ্ট পেলে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে যন্ত্রণা কমবে।
২) লবঙ্গ মুখে রাখলে বা জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল মিশিয়ে খেলে আপনার বমি বমি ভাব দূর হবে।

৩) হাল্কা গরম পানিতে ১০ ফোঁটা লবঙ্গ তেল ও মধু যোগ করে, সেটা খেয়ে নিন। ভাইরাল ফিভারে কাজে দেবে।

৪) মানসিক চাপ দূর করে লবঙ্গ। পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। লবঙ্গের সঙ্গে তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা ও দারচিনি মিশিয়ে আপনি ফ্লেভার্ড চা তৈরি করতে পারেন।

৫) সর্দি, কাশিতে লবঙ্গ খেলে আরাম পাওয়া যায়। কফ দূর হয়। নিঃশ্বাসে বাজে দুর্গন্ধও দূর হয়।

বিডি-প্রতিদিন/

8
এলাচ এমন একটি মসলা যা ঠাণ্ডা, গলাব্যথা-সহ নানান অসুখ দূর করতে সাহায্য করে। রান্নায় ব্যবহার করা ছাড়াও এলাচের কিছু বাড়তি সুবিধা রয়েছে। এটি প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার হিসেবেও অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। চলুন জেনে নিই, এলাচের কিছু অবিশ্বাস্য উপকারিতার কথা।

পেটের সমস্যা দূর করে
এলাচ পেটের ফাঁপা অবস্থা হ্রাস করে, কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এলাচ বায়ুনাশকারী হিসেবে কার্যকরী। এটি পরিপাকে সাহায্য করে এবং পিত্তরসের প্রবাহ বৃদ্ধি করে থাকে। দেহের ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ দূর করতেও এলাচের বিকল্প পাওয়া কঠিন।
দুর্গন্ধ দূর করতে
মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে এলাচ কাজ করতে সক্ষম। এলাচ মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে, ফলে মুখে দুর্গন্ধ থাকে না। তাই মুখে দুর্গন্ধ হলে একটি এলাচ চুষে খান। দেখবেন, দুর্গন্ধ একেবারে দূর হয়ে গেছে।

শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যায়
এলাচ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারদর্শী। হুপিংকাশি, ফুসফুস সংক্রমণ, অ্যাজমার মতো নানা সমস্যায় এলাচ খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

রক্ত জমাট বাধার সমস্যায়
এলাচে বিদ্যমান ডিউরেটিক উপাদান উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হ্রাস করে। মূলত দেহের বাড়তি ফ্লুইড বের করে এলাচ এই কাজটি করে থাকে। এছাড়া এলাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে রক্তনালীতে রক্ত জমে যাওয়ার সমস্যা দূর করা। প্রতিদিন এলাচ খেলে রক্তের ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে।

কিডনির সমস্যা দূর করে
কিডনির সমস্যার দূর করতে এলাচ খুব ভালো কাজ করে। এলাচ মূত্রত্যাগের বিষয়টি উদ্দীপ্ত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। কিডনিতে জমতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ইউরিয়া দূর করতেও সাহায্য করে। নিয়মিত এলাচ গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরণের কিডনির সমস্যা, মূত্র থলির সমস্যা, কিডনি পাথর, নেফ্রাইটিস, মূত্র ত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা করা ও ঘন ঘন মূত্র ত্যাগের সমস্যা নিরাময়ে কাজ করে।


বিডি প্রতিদিন/

9
হিজরি চান্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’ মাস। এ মাস বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। হিজরতের দেড় বছর পর পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’-এর পরিবর্তে মক্কা শরিফের মসজিদুল হারাম তথা খানায়ে কাবা তথা কাবা শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয় এই শাবান মাসেই। তাই শাবান মাস একদিকে যেমন মুসলিম স্বাতন্ত্র্য ও ইসলামি ঐক্যের মাস, অন্যদিকে তেমনি কাবাকেন্দ্রিক মুসলিম জাতীয়তা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হওয়ার মাস।

আরবি এ মাসের পূর্ণ নাম হলো ‘আশ শাবানুল মুআজজম’ অর্থ মহান শাবান মাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি নফল ইবাদত করতেন। ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, রজব আল্লাহ তাআলার মাস, শাবান নবীজি (সা.)-এর মাস, রমজান হলো উম্মতের মাস। রজব মাসে ইবাদতের মাধ্যমে মনের ভূমি কর্ষণ করা, শাবান মাসে আরও বেশি ইবাদতের মাধ্যমে মনের জমিতে বীজ বপন করা, রমজান মাসে সর্বাধিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সফলতার ফসল ঘরে তোলা হয়। রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের নির্দেশনাসংবলিত অসাধারণ আয়াতটি এ মাসেই অবতীর্ণ হয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর প্রতি পরিপূর্ণ রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতাগণ নবীজি (সা.)-এর জন্য রহমত কামনা করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৫৬)। তাই শাবান মাস হলো নবীজি (সা.)–এর প্রতি অগাধ ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং প্রেম-ভালোবাসা প্রদর্শনের মাস। তা হবে সুন্নাত অনুশীলনের মাধ্যমে। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘হে বৎস! যদি পারো এভাবে সকাল ও সন্ধ্যা পার করো যেন তোমার অন্তরে কারও প্রতি হিংসা না থাকে; তবে তাই করো।’ অতঃপর বলেন, ‘এটাই আমার সুন্নাত আদর্শ, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুসরণ করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালোবাসল; যে আমাকে ভালোবাসল সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, তিরমিজি শরিফ: ৩৬: ১৭৫)।
বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগ না রমাদান’। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান আমাদের নসিব করুন।’ (মুসনাদে আহমাদ, প্রথম খণ্ড: ২৫৯, শুআবুল ইমান, বায়হাকি,৩: ৩৭৫)।

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত ১৫ তারিখের রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফারসি। শব মানে রাত, বারাআত মানে মুক্তি; শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। শবে বরাতের আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’ তথা মুক্তির রজনী। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি শবে বরাত নামেই সমধিক পরিচিত। এ রাতে ইবাদত করা ও দিনে রোজা রাখা সুন্নত।

বছরব্যাপী প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নাত। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের নফল রোজাও রয়েছে। মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখে রয়েছে নফল রোজা। এ ছাড়া কোনো সময় ও দিন-তারিখ নির্ধারণ ছাড়া যত বেশি সম্ভব নফল ইবাদত করা যায়, তা করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোনো ফরজ ওয়াজিব ছুটে না যায় এবং কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ সংঘটিত না হয়। নফল ইবাদত করা অপেক্ষা নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা অধিক গুরুত্ববহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায় সব রজব মাসে ১০টি নফল রোজা রাখতেন এবং শাবান মাসে ২০টি নফল রোজা রাখতেন। রমজানে পূর্ণ মাস ফরজ রোজা। নবীজি (সা.) রমজান ছাড়া বছরের সবচেয়ে বেশি শাবান মাসেই নফল নামাজ, নফল রোজা ও নফল ইবাদত-বন্দেগি করতেন।

রমজান মাসের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা বিশেষ জরুরি একটি সুন্নাত আমল। হাদিস শরিফে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১০৩)। সম্ভব হলে নতুন চাঁদ দেখা সুন্নাত, চাঁদ দেখে নতুন চাঁদের দোয়া পড়াও সুন্নাত; চান্দ্র মাসের তারিখের হিসাব রাখা ফরজে কিফায়া। কারণ, ইসলামি বিধিবিধানগুলো চাঁদের তারিখের সঙ্গে সম্পর্কিত। (আল বাদায়েউস সানায়ে)।

10
মহান আল্লাহ বছরের কিছু সময়কে কিছু সময়ের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কোনো মাস বা দিনরাতকে মোমিনের গুনাহ মোচন ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য বিশেষভাবে বরকতময় ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন। এর অন্যতম শাবান মাস। শাবান শব্দের অর্থ বিস্তৃত হওয়া, ছড়িয়ে পড়া, প্রসারিত হওয়া ইত্যাদি। এ মাসে মহান প্রভুর রহমতের বারিধারা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে তাই এ মাসের নামকরণ হয়েছে শাবান। মহানবী (সা.) এ মাসকে নিজের মাস বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি শাবানে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। হজরত উসামা বিন জায়িদ (রা.) বলেন, ‘আমি একদিন মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে শাবানের মতো অন্য কোনো মাসে এত অধিক রোজা রাখতে দেখিনি। উত্তরে তিনি বললেন, এ মাসের ব্যাপারে মানুষ বড়ই উদাসীন। অথচ এ মাসে মানুষের আমলসমূহ মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। আর আমি চাই আমার আমলগুলো (আল্লাহর দরবারে) এমন অবস্থায় পেশ করা হোক যখন আমি রোজাদার।’ নাসায়ি, বায়হাকি।

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ছাড়া অন্য সময় পূর্ণমাস রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবানের মতো অধিক পরিমাণ রোজা অন্য কোনো মাসে রাখতে দেখিনি।’ বুখারি, নাসায়ি। মহানবী (সা.) মাহে রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ মাহে শাবানের চাঁদের হিসাব রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘তোমরা রমজানের সম্মানার্থে শাবানের চাঁদের হিসাব গণনা করে রাখ।’ তিরমিজি।
রজব ও শাবান আগমন করলেই রসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি বেশি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান অর্থ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবানকে বরকতময় করে দিন এবং আমাদের হায়াতকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ নাসায়ি। হজরত আবুবকর বলখি (রহ.) বলেন, ‘রজব ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মেঘমালার মতো আর রমজান বৃষ্টির মতো।’ লাতায়েফুল মা’আরিফ। মহান আল্লাহ এ মাসের ১৫তম রজনীকে অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত করেছেন। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শাবানের মধ্যরাতে (১৫ শাবান) আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং প্রতিটি (মোমিন) বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তবে পরশ্রীকাতর ও মুশরিক ছাড়া।’ কিতাবুস সুন্নাহ, শরহুস সুন্নাহ। সুতরাং এ মাসে আমাদের করণীয় হলো, অধিক পরিমাণে রোজা রাখা, নফল নামাজ পড়া ও মাহে রমজানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ। বিশেষ করে এ মাসের ১৫তম রজনীতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, জিকির, তওবা, ইসতিগফার, কবর জিয়ারত ও দান-সদকা ইত্যাদি করা। মহান আল্লাহ আমাদের মহে শাবানের গুরুত্ব অনুধাবনের ও এ মাস থেকেই মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের তৌফিক দান করুন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন।




11
আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।’ সুরা আলে ইমরান আয়াত ১৮৫। এ আয়াতের স্পষ্ট করা হয়েছে, সবাইকে একদিন অবশ্যই আখিরাতের স্থায়ী জীবনে যেতে হবে। সেই পরিভ্রমণের লক্ষ্যের কিনারায় উপনীত হওয়ার জন্য কয়েকটি মঞ্জিল বা স্টেশন অতিক্রান্ত করা অপরিহার্য, সেগুলো হলো- প্রথম মঞ্জিল : প্রথম মঞ্জিল ‘সকরাতুল মাওত’ তথা মৃত্যুর দুর্বিষহ কষ্টের মঞ্জিল। এ ভয়াবহ অবস্থা প্রকাশ পাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত মানব জাতির জন্য তওবার দরজা অবারিত থাকে। এ সময় সৎ ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য জান্নাত থেকে ফেরেশতা অবতরণ করে। এজন্য অনেক সময় মৃত্যুর আগে আওয়াজ আসে, ‘হে প্রশান্ত অন্তর! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। এরপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।’ সুরা আল ফজর আয়াত ২৭-৩০। পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের মৃত্যুর সময় জাহান্নাম থেকে ফেরেশতারা নেমে আসে। এ সময় তারা তাদের রুহু কবজ করাকালে দুর্গন্ধ অনুভব করে। এর ফলে ফেরেশতারা নাক বস্ত্র দ্বারা আবৃত করে। দ্বিতীয় মঞ্জিল : মানব জাতির জন্য সফরে আখিরাতের দ্বিতীয় মঞ্জিল হচ্ছে কবর। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা কবরকে মাটির স্তূপ মনে কোর না; বরং কবর হচ্ছে জান্নাতের বাগিচা অথবা জাহান্নামের গর্তের মধ্য থেকে একটি গর্ত।’ তিরমিজি। তৃতীয় মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের তৃতীয় মঞ্জিল হাশর। হাদিসে বিধৃত হয়েছে, ‘কাফিরদের জন্য হাশরের এক দিন ৫০ হাজার বছরের সমতুল্য, পক্ষান্তরে মোমিনদের জন্য ক্ষণিকের বরাবর হবে। সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না। সেই ছায়াতলে শুধু সাত ধরনের বান্দা স্থান পাবে। এক. ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী শাসক। দুই. সেসব যুবক যারা যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদতে রত ছিল। তিন. সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের দিকে অটুট থাকে। চার. সেই দুই ব্যক্তি যাদের মাঝে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। এ ভালোবাসার ভিত্তিতে তারা সংঘবদ্ধ হয়েছে এবং এরই ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। পাঁচ. সেই ব্যক্তি যাকে পরমাসুন্দরী মহিলা নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল, আর সে আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ছয়. সেসব ব্যক্তি যারা নির্জনে আল্লাহর জিকির করে এবং তাদের চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে।’ বুখারি। চতুর্থ মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের চতুর্থ মঞ্জিল হচ্ছে মিজান। মিজানের সময় সবার আশঙ্কা থাকে, নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে না গুনাহর পাল্লা ভারী হবে। পঞ্চম মঞ্জিল : সফরে আখিরাতের পঞ্চম মঞ্জিল হচ্ছে পুলসিরাত। এটি এমন পুল যা চুলের চেয়েও অধিক সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও অধিক তীক্ষ্ণ। এর ওপর দিয়ে সব মানুষকে অতিক্রম করতে হবে। এটি হবে তিমিরাচ্ছন্ন এক ভয়ানক সেতু, যা অতিক্রমকালে মোমিনদের সামনে ইমানের আলোকরশ্মি উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। অবিশ্বাসীদের কাছে আলো থাকবে না। ফলে তারা মোমিনদের কাছে আলো প্রার্থনা করবে। কিন্তু তাদের তা দেওয়া হবে না। মোমিন ও কাফিরদের মাঝে একটি দেয়াল তোলা হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আখিরাতে যাওয়ার পথ নিরাপদে অতিক্রম করার তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

12
নামাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিক পেছনে একজন নামাজ পড়ছেন। এ সময় সামনে থেকে চলে যাওয়া বা ডানে বামে সরে যাওয়া যাবে কি? কিংবা নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করা যাবে কি? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনাই বা কী?

নামাজের সালাম ফেরানোর পর যদি ঠিক পেছনে কেউ নামাজ পড়ে তবে সেখান থেকে সরে গেলে নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করলে গোনাহ হয় মর্মেও অনেকে বলে থাকেন। এ সব ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

হাদিসের বর্ণনা মতে নামাজ পড়া ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি নামাপ পড়ে তবে তার সামনে দিয়ে একপাশ থেকে অপর পাশে যাওয়া। এভাবে আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ। এমনটি করা গোনাহের কাজ। হাদিসে এসেছে-
- হজরত বুসর ইবনু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন হজরত যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে আবু জুহায়ম রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কী শুনেছেন?
তখন আবু জুহায়ম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলরেন, ‘আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী (ব্যক্তি) জানতো; এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে নামাজে থাকা ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো।’ আবুন নাজর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমার জানা নেই তিনি চল্লিশ দিয়ে- দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন কিনা।’ (বুখারি)

- হাদিসের অন্য বর্ণনায় আরও এসেছে যে-
কোন ব্যক্তি যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায় তাহলে সে যেন তাকে হাত বাড়িয়ে বাধা দেয়। বাধা না শুনলে প্রয়োজনে তার সঙ্গে লড়াই করবে‌‌। কেননা সে একটি শয়তান।

- হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের যে কেউ নামাজ পড়তে চাইলে যেন সুতরা সামনে রেখে নামাজ পড়ে এবং তার কাছাকাছি হয়। সে যেন তার সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে না দেয়। অতএব যদি কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে যেন তার সঙ্গে লড়াই করে। কারণ সে একটা শয়তান।’ (ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক, দারেমি)

সামনে অতিক্রম বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
অতিক্রম বলতে, এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়া। আর নামাজের সামনে দিয়ে এমনটি করাকেই নিষেধ করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আর যদি কোনো নামাজেরত ব্যক্তির সামনে উঁচু কোনো জিনিস তথা সুতরা থাকে তবে সুতরার বাহিরে দিয়ে অতিক্রম যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। তবে এ সুতরা সেজদার স্থান থেকে আধা হাত সামনে হতে হবে।
কিন্তু মুসল্লির সামনে যদি সুতরা (কোন একটা উঁচু জিনিস) থাকে তাহলে তার বাহির দিয়ে অথবা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে (সেজদার স্থান থেকে সর্ব নিম্ন প্রায় আধহাত দূর হলেই যথেষ্ট) যাতায়াত করা জায়েজ আছে।

ডান বা বামে সরে যাওয়া যাবে কি?
কোনো ব্যক্তির ঠিক বরাবর পেছনে যদি কেউ নামাজেরত থাকে তবে ওই ব্যক্তি ডানে কিংবা বামে যে কোনো একদিকে সরে যেতে পারবে। তবে যদি নামাজেরত ব্যক্তির সামনে থাকা ব্যক্তি যে দিকে বেশি থাকবে সেদিকেই যাবে। আর যদি টিক মাঝে অবস্থান করে তবে যেদিকে ইচ্ছা সরে যেতে পারবে। এভাবে ডানে কিংবা বামে সরে যাওয়া গোনাহের কারণ নয় এবং নিষিদ্ধের আওতায়ও আসবে না।

মুমিন মুসলমানের উচিত, নামাজেরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাচল বা অতিক্রম না করে অপেক্ষা করা। নামাজের সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া বা অতিক্রম করার গোনাহ থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


13
Eyes / চোখ নিয়ে অবহেলা নয়
« on: March 13, 2021, 04:23:04 PM »
চোখের প্রেসার বা গ্লুকোমা সম্পর্কে ও অন্ধত্ব রোধে সচেতনতার জন্য প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৮-১৩ মার্চ গ্লুকোমা সপ্তাহ পালিত হয়।

এ বছরও বাংলাদেশসহ সব দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। চোখের প্রেসার মানুষের অজ্ঞতার জন্য ব্লাড প্রেসারের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। চোখের উচ্চ প্রেসারকে অকুলার হাইপার টেনশন বলে।

এ ক্ষেত্রে মানুষের স্বাভাবিক চোখের চাপ ১১-২১ মিমি. মার্কারির চেয়ে বেশি হলেই অকুলার হাইপার টেনশন ধরা হয়। যদিও অপটিক স্নায়ু বা দৃষ্টি পরিধির (ভিস্যুয়াল ফিল্ড) কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে। তবে যদি অপটিক স্নায়ু বা ভিস্যুয়াল ফিল্ডের ক্ষতি হয় এবং চোখের উচ্চ প্রেসার থাকে তাহলে তাকে গ্লুকোমা বলে।

গ্লুকোমা কেন হয়?

১. সিলিয়ারি এপিথিলিয়াম থেকে পানিজাতীয় চোখের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য যে প্রত্যক্ষ নিঃসরণ হয়, যদি তার পরিমাণ বেশি হয়। ২. পরোক্ষ নিঃসরণ ২০ শতাংশ স্বাভাবিক। যদি কোনো কারণে (ওষুধ দ্বারা) এর চেয়ে কম হয় তাহলে গ্লুকোমা হয়। ৩. যদি ট্রাবিকুলাম, কর্নিও স্কেলেরাল সেমওয়ার্ক, স্নেমস ক্যানাল ইত্যাদি কোনো পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তাহলেও গ্লুকোমা হয়।

গ্লুকোমা আছে কিনা কিভাবে জানা যায়

১. চোখের প্রেসার মাপার যন্ত্র টনোমিটার দিয়ে। ১১-২১ mm Hg-এর বেশি হলে গ্লুকোমা অফথালামোসকোপ দিয়ে অপটিক স্নায়ুর পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখা।

২. দৃষ্টি পরিধি বা ভিস্যুয়াল ফিল্ড দেখার যন্ত্র পেরিমিটার/এনালাইসার (হাসফ্রে বা অক্টোপাস দিয়ে)।

৩. চোখের কোণ সরু কিনা দেখে।

৪. চোখের দৃষ্টিশক্তির লক্ষণগুলো পর্যালোচনা করা। ক. আলোর পার্শ্বে রংধনুর মতো দেখা; খ. চোখে ব্যথা হওয়া; গ. মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা; ঘ. চোখ লাল হওয়া/ঝাপসা দৃষ্টি; ঙ. চোখ দিয়ে পানি পড়া; চ. চোখে ঝাপসা দেখা; ছ. দৃষ্টির পরিধি কমে যাওয়া (ভিস্যুয়াল ফিল্ড); জ. মনি বড় হওয়া (ডাইলেটেড পিউপিল); ঝ. শেষের দিকে চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যাওয়া।

সবচেয়ে মারাত্মক হলো কখনো কোনো লক্ষণ ছাড়াই চোখের প্রেসারে মানুষ অন্ধত্ববরণ করে।

গ্লুকোমার প্রকারভেদ

ক. জন্মগত : গ্লুকোমা বা বুফথালমোস এবং খ. একোয়ার্ড বা জন্ম-পরবর্তী সংশ্লিষ্টতা। ১. প্রাইমারি : ক. চোখের কোণ ছোট হওয়া; খ. খোলা কোণ থাকা (সিম্পল গ্লুকোমা বা ক্রনিক গ্লুকোমা)। ২. সেকেন্ডারি : চোখের অন্য রোগের কারণে যেমন- ইউভিয়াইটিস, কর্নিয়ার ক্ষত, চোখের টিউমার, বিট্রাসে রক্ত জমা। ছানি রোগ হলেও অপারেশন না করালে।

চিকিৎসা

১. চোখের ওষুধ : চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো পাইলো ড্রপ, টিমো ড্রপ, ল্যাটোনো প্রষ্ট, প্রষ্টগ্লানডিন, আলফাগান, বেটাগান।

২. খাওয়ার বড়ি : এসিমক্স, ইলেকট্রো কে।

৩. ট্রাবিকুলোপ্লাষ্টি : লেজার।

৪. অস্ত্রোপচার : আইরিসে ছিদ্র করা, ট্রাবিকুলেক্টমি/ট্রাবিকুলেক্টমি, সিজ বা ফিল্টারিং অপারেশন।

সেকেন্ডারি গ্লুকোমার কারণগুলো দূর করা। যেমন, ছানি রোগ দীর্ঘদিন অপারেশন না করালে; ছানি অপারেশনের পর ইউভিয়াইটিস বা কর্নিয়ার ক্ষত চিকিৎসা না করালে।

প্রফেসর ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ : চক্ষু বিশেজ্ঞ ও সার্জন; চেয়ারম্যান, কমিউনিটি অফথালমলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

14
রাসুল (সা.) মানুষ ছিলেন। তাই স্বাভাবিক মানুষের মতো তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর ওফাতের বছর হলো ১১ হিজরি। মাস রবিউল আউয়াল, আর তারিখ ১২। দিন হিসেবে সোমবার। সময় চাশত নামাজের শেষ। বয়স ৬৩। ওফাতের স্থান আয়েশা (রা.)-এর কক্ষ—তাঁর কোল। অন্য বর্ণনা মতে, আয়েশা (রা.)-এর গলা ও বুকের মধ্যবর্তী স্থানে মাথা রাখা অবস্থায় রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন।

মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেছেন সোমবার চাশতের শেষ সময়। মঙ্গলবার তাঁকে গোসল দেওয়া হয়। গোসল দিয়েছেন আব্বাস (রা.), হজরত আলী (রা.), হজরত আব্বাস (রা.)-এর দুই ছেলে ফজল ও সাকাম, রাসুল (সা.)-এর আজাদকৃত ক্রীতদাস সাকরাম, ওসামা বিন জায়েদ ও আউস ইবনে খাওলা (রা.)। গোসলের পর বিশ্বনবী (সা.)-কে তিনটি ইয়েমেনি সাদা কাপড়ে কাফন পরানো হয়, অতঃপর ১০ জন ১০ জন করে সাহাবায়ে কেরাম হুজরায় প্রবেশ করে পর্যায়ক্রমে জানাজার নামাজ আদায় করেন। নামাজে কেউ ইমাম ছিলেন না।

রাসুল (সা.)-এর জানাজা এককভাবে হয়েছিল। জায়গার সংকীর্ণতার কারণে জামাত করা সম্ভব হয়নি (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২০৭৮৫; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৪২৭৩)

ঘরের মধ্যে খননকৃত কবরের পাশেই তাঁর লাশ রাখা হয়। অতঃপর আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশক্রমে ১০ জন করে ভেতরে গিয়ে জানাজা পড়েন। তাঁরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে জানাজা পড়ে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে রাসুল (সা.)-এর পরিবার-পরিজন, অতঃপর মুহাজিররা, অতঃপর আনসাররা জানাজার সালাত আদায় করেন। এভাবে পুরুষ, নারী ও শিশুরা পরপর জানাজা পড়েন। জানাজার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া মঙ্গলবার সারা দিন ও রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ফলে বুধবারের মধ্যরাতে দাফনকার্য সম্পন্ন হয় (সিরাতু ইবনে হিশাম : ২/৬৬৪)

মৃত্যুর প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর রাসুল (সা.)-এর দাফন কাজ সম্পন্ন হয় (রহমাতুল্লিল আলামিন ১/২৫৩, ২/৩৬৮)
মন্তব্য



Source:https://www.kalerkantho.com/print-edition/islamic-life/2021/02/27/1008854








15
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত তিন লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৮০% শিশুকেই চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে স্বাস্থ্য সেবার সুযোগের অভাবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৯০ ভাগ ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুই মারা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের ক্যান্সার বা চাইল্ডহুড ক্যান্সার বলতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়াকে বোঝায়। শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হারও কম। বিশ্বে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে ০.৫% থেকে ৪.৬% আক্রান্তরা শিশু।
শিশু বয়সে কোন ক্যান্সারগুলো বেশি হয়?

প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্যান্সার কিছুটা ভিন্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের মধ্যে সাধারণত লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার বেশি হয়। ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।

এছাড়া আরো যে ধরনের ক্যান্সার হয় সেগুলো হচ্ছে, লিম্ফোমাস এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরণের টিউমার। কিছু ক্যান্সার রয়েছে যা শুধু শিশুদেরই হয়। যেমন নিউরোব্লাস্টোমা, নেফ্রোব্লাস্টোমা, মেডুলোব্লাস্টোমা, এবং রেটিনোব্লাস্টোমা।

স্তন ক্যান্সার, ফুসফুস, কোলন বা মলদ্বারের ক্যান্সার সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয়ে থাকে। শিশুদের এ ধরণের ক্যান্সার হবার ঘটনা খুবই বিরল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, শিশুদের কিডনি ক্যান্সার, মস্তিষ্কের কিছু ক্যান্সার এবং রক্তের কিছু ক্যান্সার হতে পারে।

শিশুদের ক্যান্সার কেন হয়?

শিশুদের ক্যান্সার আক্রান্তের ঝুঁকি এমনিতেই কম থাকে। তবে কিছু কারণ রয়েছে যার জন্য শিশুরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ক্ষতিকর রশ্মি বা বিকিরণের সংস্পর্শে আসাটা অন্যতম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অনেক সময় জীনগত কারণে অনেক শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের উদাহরণ সাধারণত জাতিগতভাবে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়।

জেনেটিক্সের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা ভিন্ন হওয়ার কারণেও এটি হতে পারে। কিছু গবেষণায় জানা যায় যে, এপস্টেইন-বার নামে ভাইরাস ছাড়াও, হেপাটাইটিস বি, হিউম্যান হার্পিস এবং এইচআইভি ভাইরাসও শিশুদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শিশুদের ক্যান্সার কি প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায়?

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য মতে, শিশুদের বেশিরভাগ ক্যান্সারেই তেমন কোন লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। যার কারণে দেরিতে শনাক্ত হয়। উন্নত বিশ্বে যেহেতু শিশুদের বাবা-মায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকে এবং চিকিৎসার সুযোগও বেশি - তাই তাদের মধ্যে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্ত করাটা সম্ভব হয়।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা এবং পরীক্ষার সুযোগ কম থাকায় প্রাথমিক অবস্থাতে ধরা পড়ে না।

কী কী লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না?

ডা. ফারজানা রহমান বলেন, যেকোনো বয়সের শিশুর মধ্যেই ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। তবে রক্তের ক্যান্সারটি সাধারণত এক বছরে বয়সের পর থেকে হয়। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের এটি বেশি হয়। "লিউকোমা নামেও একটা ক্যান্সার হয়, সেটা যেকোন বয়সের শিশুদেরই হতে পারে।"

তিনি বলেন, শিশুরা সাধারণত নিজের রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকে না এবং বেশিরভাগ সময় তারা বুঝতেও পারে না যে, তার আসলে কেমন লাগছে। এ বিষয়ে বাবা-মা কেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের মধ্যে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এসব লক্ষণ থাকার মানে এই নয় যে তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত। তবে লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ক্যান্সারের কিছু লক্ষণের তথ্য দিয়েছে যেগুলো বেশিদিন ধরে স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডা. ফারজানা রহমান বলেন, ক্যান্সারের আসলে আলাদা করে কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নেই। অন্যান্য রোগের মতোই সাধারণ উপসর্গ থাকে। তবে অন্যান্য রোগে যেমন চিকিৎসা করানো হলে উপসর্গগুলো ভালো হয়ে যায়, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। বরং উপসর্গগুলো থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে।

তিনি যে উপসর্গগুলোর কথা বলেছেন সেগুলো হচ্ছে-

১. শরীরে ব্যথা

শরীরের কোথাও যদি অনেক দিন ধরে ব্যথা থাকে এবং সেটি না সেরে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বলেন, যদি কোন শিশু অনেক দিন ধরেই তার শরীরে ব্যথা করছে বলে জানায় তাহলে সেটি গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

"হয়তো সে বলতে পারবে না কিন্তু বোঝাবে যে তার শরীরটা ভালো নেই, গায়ে ধরতে দিচ্ছে না, শরীরে খুব বেশি ব্যথা"

২. ফোলা বা ফোলা ভাব

শরীরের কোনো অংশ যদি হঠাৎ ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘদিনেও ভালো না হয় - তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এ বিষয়ে ডা. ফারজানা রহমান বলেন, গলার ভেতরে কোনো গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া বা শরীরের কোথায় কোন অংশ ফুলে যাওয়া, পেটের ভেতরে চাকার মতো অনুভূত হওয়া, শরীরের জয়েন্ট বা কোনো সংযোগস্থলে ফুলে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়।

এ ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি।

৩. অনেক দিন ধরে জ্বর

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তেমন ভালভাবে কাজ করতে পারে না বলে অনেক সময় জ্বর আসলেও সেটি আর ভাল হয় না। ফলে অনেক দিন ধরে জ্বরে ভুগতে থাকে রোগী।

এটি রক্তের ক্যান্সারের একটি লক্ষণ বলে জানান ডা. ফারজানা রহমান।

সেক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে সে আসলেই ক্যান্সারে আক্রান্ত, নাকি অন্য কোন সমস্যা রয়েছে।

এছাড়া শরীর হঠাৎ করে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস হওয়ার পর অনেক দিন ধরে চলতে থাকে, ওষুধ খাওয়ার পরও জন্ডিস ভাল না হওয়া, শরীর হলুদ হয়ে যাওয়া- এসব লক্ষণ থাকলেও শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা - যা যায় না

শিশু যদি দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরানোর কথা জানায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৫. হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া

শিশু যদি খাবারের প্রতি অরুচি দেখায়, কোন কিছুই খেতে চায় না এবং এই সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে, তার পর এক পর্যায়ে হঠাৎ করে দেহের ওজন কমে যায় - তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে পরীক্ষা করাতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় লক্ষণ ছাড়াও কিছু লুক্কায়িত ক্যান্সার থাকে। সেক্ষেত্রে আলাদা কোন লক্ষণ থাকে না, শুধু শিশু খাওয়া দাওয়া করে না, ওজন কমে যাচ্ছে, কান্নাকাটি করছে, খেলাধুলা বা অন্য কোন কাজ করছে না - এরকম হলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।

৬. ক্লান্তি ও স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ঘাম

কোন কাজ না করেও যদি শিশু সারাক্ষণই ক্লান্তি বোধ করে, বিশ্রাম নেয়ার পরও ক্লান্তিভাব না যায় এবং স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত ঘাম হতে থাকে - তাহলে সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. হঠাৎ রক্তপাত

শরীরের কোনো অংশ থেকে যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে রক্তক্ষরণ শুর হয় তাহলে অবশ্যই দেরী না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডা. ফারজানা রহমান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বা কোনো আঘাত ও ব্যথা পাওয়া ছাড়াই রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাহলে ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তরোগ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বোন ম্যারো বা হাড়ের মজ্জা থেকে যে রক্ত তৈরি হয় সেটি যদি কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, বা রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি না হয় তাহলে শরীরের কোন একটি অংশ থেকে যেমন নাক, পায়খানার রাস্তা কিংবা প্রস্রাবের সাথে হঠাৎ করেই রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না বলে এই উপসর্গ দেখা দেয় বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া শরীরের চামড়ার ভেতরেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। তখন চামড়ায় কালো বা লাল লাল ছোপ দেখা যায় তখন শিশুরা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

উল্লিখিত লক্ষণগুলো যদি দেখা যায় যে, এক মাস বা দু'মাস থাকে এবং কোনোভাবেই ভালো হচ্ছে না - তখন সেটি পরীক্ষা করাতে হবে। তবে পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে, আসলে কী কারণে এমন হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/

 

Pages: [1] 2 3 ... 24