Daffodil International University

Help & Support => Common Forum/Request/Suggestions => Topic started by: ashraful.diss on October 30, 2021, 12:36:26 PM

Title: লিখাটা পড়ি যদি আল্লাহর ভয় আসে
Post by: ashraful.diss on October 30, 2021, 12:36:26 PM
লিখাটা পড়ি যদি আল্লাহর ভয় আসে।

এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে? এর চেয়ে হতভাগা আর কে আছে....? আল্লাহুম্মাগফিরলী

জানা থাকা দরকার, অনেকেই জানেনা...জানলে হয়ত বা মানতেও পারতো। তাই নিজের জন্যেই পড়ুন প্লিজ!
________________________________
"কবরবাসীদের মধ্যে এমনকিছু লোক থাকবেন যাদের গুনাহের সংখ্যা নেকির সংখ্যার চেয়ে কম। অতএব, ওয়াদামতো এমন ব্যক্তির কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে, তার বিছানা হবে জান্নাতের বাগিচা, তার কবর হবে জান্নাতের একটা শাখার মতো। এভাবে বছরের পর বছর ধরে সেই ব্যক্তি পরম শান্তিতে দিনাতিপাত করতে থাকবে।
.
.
তারপর হঠাৎ!!
.
একদিন তার কবর থেকে ফুলের গন্ধ, সুন্দর বিছানা, আলোবাতাস ইত্যাদি নিয়ামতগুলো একে একে উঠিয়ে নেয়া হবে।

যে মালাইকা(ফেরেশতা)গণ তাকে খুব সম্মান করতেন,

তাদের মধ্যেও চলে আসবে ভাবলেশহীনতা।

লোকটি অবাক হয়ে জানতে চাইবে যে কেন তার সাথে হঠাৎ এমন আচরণ করা হচ্ছে। উত্তরে বলা হবে- " আপনি যে সকল সন্তান দুনিয়ায় রেখে এসেছেন, তাদেরকে ঠিকমতো মানুষ করেননি, তাদেরকে দ্বীন শিখাননি, যেটা আপনার জন্য ফরজ ছিলো।
.
এখন তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে প্রতিদিন হাজার রকম গুনাহের কাজ করে চলেছে।

আর সেই পাপ থেকে একটা উল্লেখযোগ্য একটা অংশ আপনার একাউন্টেও জমা হচ্ছে ক্রমাগত। এভাবে তাদের কুকর্মের সংখ্যা আপনার নেকিকে ছাড়িয়ে গেছে।"
.
.
একথা শুনে সেই ব্যক্তি শুধু আফসোসই করতে থাকবেন। আর কিছুই করতে পারবেন না। কারণ তার ভাল আমলের একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু খারাপ আমলের একাউন্ট এখনো সচল। ফলে দিন দিন কবরে পাওয়া নিয়ামতগুলো চলে যাচ্ছে, আর আযাব আসতে শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়া কেবলই একমুখী। কতকাল চলবে, কতটা ভয়াবহ আকার নেবে- কেউ আচ করতে পারিনা।।
____
_____
______
আরেক ধরণের মানুষ থাকবে যাদের নেক 'আমল খারাপ আমলের চেয়ে কম। তাই কবরে প্রবেশ করার পর তাতে সাপ-বিচ্ছু, আগুনের পোষাক, আগুনের বিছানা, মাটি সংকীর্ণতা, আযাব ইত্যাদি থাকবে। সাথে জাহান্নামের সাথে একটি দরজা ঐ লোকের কবরের সাথে কানেক্টেড থাকবে। জাহান্নামের হাওয়া সেখান দিয়ে আসতে থাকবে।
.
এভাবে শাস্তি ভোগ করতে করতে একদিন তিনি দেখবেন শাস্তিগুলো কেমন জানি একটা একটা করে কমে যাচ্ছে!!

এরপরে একসময় শাস্তির পরিবর্তে শান্তির বাগান হয়ে উঠবে তার কবর। নিয়ামত দিয়ে ভরে উঠতে সেই কবরের জীবন। সুবহান আল্লাহ্‌!
.
.
তিনি অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইবেন। তাকে বলা হবে- "দুনিয়াতে আপনি যেসকল সুসন্তান রেখে এসেছেন, তারা আজ বড় হয়েছে তাদের নেক 'আমল আর ইস্তেগফার আপনার বদ কর্মকে ছাড়িয়ে গেছে।"
.
একথা শুনে লোকটি খুব আনন্দিত হবে। লোকটির মৃত্যু হলে তার খারাপ কাজের একাউণ্ট বন্ধ হয়ে গেল, কিন্তু তিনি ভাল কাজের একাউন্ট যে রেখে এসেছিলেন, তা আজো সচল আর তার প্রতিদান পেয়েই চলেছেন।
____
এরকমভাবে মানুষদের সন্তানদের কর্মফলের বেশ কিছু অংশ মৃত্যুর পরেও প্রভাবিত করবে।

বাকিটা আপনার চয়েস---
..
..
সন্তানকে ঈমানদার করে গড়ে তুলবেন নাকি সেকুলার, সুশীল আর তথাকথিত মুক্তমনা করে গড়ে তুলবেন।

সন্তানকে নামায শিখাবেন নাকি দুনিয়ায় বিরাট 'স্ট্যাটাসওয়ালা' করে গড়ে তুলবেন।

সন্তানকে শুধু দুনিয়ার জন্য গড়ে তুলবেন নাকি দুনিয়া-আখিরাত দুটোই- সেটা অনেকাংশে আপনার হাতেই।
..
..
যেভাবে গড়ে তুলবেন, সেভাবেই বড় হবে।
...
তার কানে আর বুলিতে কুরআন এর আয়াত তুলে দিলে সে সেটাকেই ভালবাসতে শিখবে, আবার গান-বাজনা, বেহুদা জিনিষপত্র ইত্যাদির ভালোবাসা ঢুকিয়ে দিলে সেটাই তার জীবনের অংশ হয়ে যাবে।
..
..
এত কিছু জানার পরও যদি সন্তানকে 'আল্লাহু আকবার'' ,''লা~ ইলাহা ইল্লাল্লাহ" না শিখিয়ে হাবিজাবি গান-বাজনা-নাচ, মুভি-সিনেমা, উন্মত্ত দুনিয়ামুখীতা ইত্যাদির মধ্যে মানুষ করেন জেনেশুনে, তাহলে আপনি তো হক নষ্টকারী।
..
..
প্রত্যেক সন্তান ফিতরাতের উপর জন্ম নেয়। আপনি সেটা নষ্ট করে দিলেন। আর এর পরিণতি তো উপরের ঘটনায় পরিষ্কার।
..
তারপরও সজ্ঞানে যদি এমন করেন, জেনেশুনে নিজের পায়ে কুড়াল মারেন, তাহলে আপনার জন্য একরাশ করূণা।
..
সন্তানের হক মারবেন না, প্লিজ। সব বাবা মা এর কাছে অনুরোধ।