Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mohammad Nazrul Islam

Pages: [1] 2 3 ... 11
1
Common Forum / আমার ‘মা’ !
« on: May 16, 2022, 09:12:30 AM »
আমার মা বাল্যশিক্ষা পর্যন্ত পড়া। এখনও কুড়িতে কুড়িতে গণেন। বাবা বড়জোড় পঞ্চম শ্রেণী পাশ। বাবা কৃষিকাজ ও ডিলারী করতেন। সে-কালে ডিলারদের অনেক মূল্য ছিল। সরকারের সমস্ত রিলিফ স্বল্প মূল্যে ডিলার-দের মাধ্যমে জনগনের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া হতো।

সাধারনত সৎও ভাল মনের মানুষদেরকেই ডিলার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হতো। আর ডিলারী ব্যবসাটা আমাদের পৈতৃক ব্যবসা ছিল। সেজু ভাই বাবার ডিলারী ব্যবসা এখনও ধরে রেখেছেন। আমাদের বাড়ী, ‘ডিলার বাড়ী‘ হিসাবেই সকলে চিনেন।

আমাদের বাড়ীতে রিলিফের মাল ডেলিভারি দেয়ার দিন, হাজারো মানুষের উল্ল্যাস, চেঁচামেচি আর হাঁক-ডাক লেগেই থাকতো। বাবার সকল কাজের প্রধান সাহায্যকারী ও পরামর্শক কিম্বা বিষন্নতাভোগি ছিলেন মা।

মা, বাবাকে ‘এ্যাদু শুনছ নাকি’ বলে ডাকত।  চাল, চিনি, ডাল, লবণও তেল বিতরণ করার জন্য বাহির বাড়ী আলাদা একটা ঘর ছিল। যাকে আমরা ‘বাংলা-ঘর’ বলে জানতাম। সারা দিন বাংলাঘরে বাবা চাল, চিনি, ডাল, লবণ ও তেল বিলি করতেন আর নালিশ জমা হতো মায়েয় রান্না ঘরে।

নালিশের পাল্লা অতিশয় ভারি হলে মা রান্না ঘর হতে বাহির হয়ে বাংলাঘরের পাশে গিয়ে কাশি দিতেন। হাজারো লোকের ভীরে কাশির শব্দ শুনেই বাবা বুঝতে পারতেন। তাৎক্ষনীক তিনি ঘর হতে বাহিরে আসতেন। কাঁচু-মাঁচু হয়ে বলতেন- কি হয়েছে? তাড়াতাড়ি বল..।

মা, হুকুমের সুরে বলতেন-ছমিরণ চাল ডাল ও চিনি পায়নি, ওর পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন। হিসাব আনুয়ায়ী ছয় কেজী চাল, দুই কেজী ডাল ও এক কেজী চিনি পায়। নয়না মিয়াকে দিয়ে চাল, চিনি ও ডাল রান্না ঘরে পাঠিয়ে দিও। টাকা আমার কাছে জমা দিয়েছে। বাবার ইতস্ততায়ও কোন কাজ হতো না। সময় মত চাল, চিনি, ডাল রান্না ঘরে চলে যেত।

এদিকে ছমিরণ মায়ের রান্না ঘরে বসে উনুণে আগুন দিয়ে ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাদঁতো, ভাউজ, কি করি-করি বলে! মায়ের হাত হতে চাল, ডাল, লবণ ও চিনি নিয়ে বাড়ী যাবার সময় মায়ের পা ছুঁতে চাইলে মা তাকে বুকেঁ জড়িয়ে দিতেন। ছমিরণ ভাউজ’ ভাউজ; বলে স্বজোড়ে কান্নাঁয় মায়ের বুকে ভেঙ্গে পড়তো।

তখন সমাজে অর্থহীন বৃত্তহীন ছমিরনদের একমাত্র ভরসা ছিলেন আমার মা। এই সকল ঘটনা এক-দুই দিন নয়, নিত্যই আমাদের বাড়ীতে ঘটতে দেখেছি।

অবসর, সন্ধায়-পাড়ার আফাজ পাগলা, রসূলদী কাকু, সুলতান মাষ্টার, জিন্দা পাগলা, আকালী কাকু আমাদের বাড়ীতে আসতেন। বাড়ীর উঠানে জমিয়ে বৈঠকী গানের আসর বসত। বাবার কণ্ঠে-‘সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে’- গানটি শুনে মা আমাকে কোলে নিয়ে খুব কাঁন্না-কাটি করতো।

বাবা প্রয়াত হয়েছেন, আজ প্রায় ২৩ বছর। মায়ের বয়স ৮০‘এর কাছা-কাছি। ভাল ভাবে চোখে দেখেন না। আমাদের চাচিতারা বাজার সংলগ্ন চল্লিশ শতকের বাড়ীর, ছোট একটি ঘরে মা থাকেন অনেকটাই একা, নিবৃত্তচারী হয়ে। আমরা তিন ভাই ঢাকা থাকি। সকলেরই সময়ে অভাব মায়ের খোজঁ-খবর তেমন রাখতে পারি না। কিন্তু মা আমাদের খোজঁ- খবর ঠিকই রাখেন। প্রতি শুক্রবার হলেই মা  শুবার ঘরের বারান্দায় এসে বসে থাকেন, আর মাঝে মাঝে আওয়াজ তুলেন- উ কে এলো গো ...!!

আমি মায়ের ছোট সন্তান। মায়ের কাছে ছোট্র বেলায় বেশী বেশী ঘোরঘুর করতাম। এখন আর মায়ের কাছে তেমন বসা হয় না। খাবার শেষে মায়ের আঁচলে হাত মুঁছা হয় না, মায়ের কাছে বায়না ধরতে হয় না, মায়ের নতুন কাথাঁ সিলায়ে গড়াগড়ি যেতে হয় না, মায়ের আঁচলের খিঁট বাঁধা টাকা চুরি করতে হয়না। কিম্বা ক্রান্ত চোখে সাঝের সন্ধায় মা-বাবার হাত, পা টিপে দিতে হয় না। এখন আমি বৌয়ের মরমী আঁচলের সুবাসে মা ভালবাসার সলিল সমাধি দিয়েছি।

আজ মা দিবস। তাই কাগজের পাতায় দু‘ছত্র লিখে মায়ের প্রতি কৃজ্ঞতা জানালাম। জানি এটি নিন্দনীয়, তবু মা কে স্বরণে-বরনে রাখার প্রচেষ্টায় মন সব সময় কাঁদে।

পৃথিবী বড়ই অদ্ভূত। আশ্রয়দাতা এখানে প্রয়োজনে আশ্রয়হীন হয়। ব্যক্তিক সুযোগ-সুবিধার কাছে ভগবান অসহায়। ভাল লাগা, ভালবাসা এখানে বিনিময়ে বিক্রি হয়। কিন্তু মাতৃত্ব-পিতার ভালবাসার প্রকৃতির ধারা স্রোতের মতো বহমান রয়ে যায়।

মা ,আমি বড় অভাগা ছেলে। আজ ‘মা দিবসে’ অবনত মস্তকে তোমাকে প্রণাম করছি, যদিও সময়ে বেড়াজালে আমি জাগতিক; তুমি আমাকে ক্ষমা কর। তোমার ভালবাসার শূণ্যতা আমাকে কাদাঁয়।

এ জগৎ সংসারের প্রাপ্তি, ভাললাগা, ভালবাসা তোমার শূণ্যতা অসার মনে হয়। মা গো, আমি আজও তোমাকে আগের মতই ভালবাসি। আজকে মা দিবস। এই দিনে পৃথিবীর সমস্ত মা-দের পদচুম্বন করে পাপাসিক্ত দেহকে পবিত্র করতে চাই।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

2
Common Forum / অচিন চেনা-
« on: March 15, 2022, 03:33:28 PM »
শব্দ দিয়ে জব্দ করা
শব্দ ভালবাসা,
শব্দে চলে মনের গতি
অনুষ্কশাতে আশা।।

শব্দ আছে বুকের ভেতর
অচিন চেনার ভাষা,
শব্দ দিয়ে রপ্ত করি
অবুঝ মনের আশা।।

শব্দে চলে লেনাদেনা
গোপন গিরীপথ,
শব্দ চয়ণ মধুরবীনা
প্রাণ প্রিয়সীর মত।।

শব্দে আছে আশার সিন্ধু
বিষাদ ভারি জল,
শব্দে ফুটে কামুকচেরী
পদ্ম শতদল।।

শব্দে চেনা শব্দ জানা
শব্দ অভিরাম,
শব্দে উঠে অট্রলিকা
ঝড়ে শ্রমিকের ঘাম।।

শব্দে আমার ধর্মকথা
নিয়ম নীতির বেড়ী,
শব্দে উঠে ডাক-প্রতিরোধ
বাধঁ ছেদীর তুড়ি।।





3
Common Forum / Re: আমার ভাষা আন্দোলন
« on: February 22, 2022, 09:12:51 AM »
আমার ভাষা আনন্দোলনের পটভুমি--ফিরে দেখা

4
Common Forum / যৌবন
« on: February 21, 2022, 01:37:39 PM »
উচ্ছলিয়া-উঠিয়াছে আজ যৌবন মম
মদ-মত্তক পাত্রসম-
চির দুর্বীনাষী,-এক দুর্জয় মন,
অশান্ত অস্থীর, চির অপরাজয়-যৌবন।।

ধরিত্রীর বুকে এক জাগ্রত সেনানী
কামনা-বাসনায় অধর-অসরণ
আর্ত, অভিলাষী এক মূর্তমূতি
অভয়ের অবয়ব আবরণ।।

প্রেম পাত্র, সুধামত্ত-এ
-এক মাতালের আর্তনাথ,
চির বিপ্লবী, দুর্জয়ী সেনা-পরি পাত্র সাথ
উম্নুখ, উন্মাদ দুরু দুরু কেপেঁ উঠে বুক,
অতৃপ্ত রহি রহি এক শোক বেদনায়
যৌবন আমায়........।।

এক অপ্রাপ্তির তরে লালসার আরতি
ভালবাসার অক্ষয় অভিলাষ,
প্রিয়সীর সু-ঘ্রানে পাগল-চির অমিয়
ভক্তি বিনোদিনীর অদিতী দাস।।

প্রিয়ার বুকের মন মালিকা হরণে,
-যৌবন তব চায় রাজটিকা,
সদা, বসন-বাসন ভেদী ফুঁটে উঠে
মম নগ্নতার উলংগ প্রকাশ-
রাজর্ষীর রস্ হর্ষে যার বাস।।




5
Common Forum / প্যাট্রিক্যাল বাবু !
« on: February 15, 2022, 05:55:55 PM »
যোগ-যজ্ঞের বাবু গড়িলেন তাবু ----
ছয়কে নয় বলে সবই খেতে গিলে।

ভাবখানা-এ, মুখে ফুটে খৈই-
কিছুই নাই অজানা তার।

লোকেশন চুটিয়ে, পিটিশন কেটে-
 পেলেন প্যাট্রিক্যাল নেয়ার ভার।

শিক্ষকরা হাসে, বিড়াল বাচেঁ বুঝি ঘাসে !
-তবুও বাহাদুরী।

নব-রত্নের নতুন তত্ত্বে-
শিক্ষার্থীরা হাতে দেয় তুরি।

প্যাট্রিক্যাল ক্লাস, হাতে ভাঙ্গা গ্লাস-
----টুনটুন বাজি....

কত তথ্য-কাজ সারেন,
-নব-কাজের কাজী।

অভিকর্ষণ ত্বরণ, ডিপ্রেশনে মরণ,
-ইয়াং-এর গুণাংক মেপে-

দৃঢ়তার গুণে-দিস ইজ এ
–উঠেন ক্ষেপে।

প্রমোশনের পালা-
মনে বহুত জ্বালা-

এক্সটেনশনটা মেপ, তেল-ঝুলে বলেন,
-ইফেক্টীব ম্যাচ,

ল্যান্ডম্যার্ক একেঁ-
H. W লিখে দেন বাড়ীর কাজ।


6
ড্যাফোডিল গ্রুপ`শিক্ষণীয় এবং শিক্ষা বিস্তারে একটি বিশ্বস্ত নাম। সর্ম্পূণ একক মালিকানায় ‘জীবন ও জীবিকার অন্বেষায় প্রতিষ্ঠিত এই সকল সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠান গুলো সত্য-নিষ্ঠ পথে, দেশ-বিদেশী জ্ঞান-অন্বেষীদের জন্য  আলোর দিশারী হিসাবে ভূমিকা রেখে চলছে। তার মধ্যে অন্যতম ড্যাফোডিল আন্তজার্তিক বিশ্ববিদ্যালয়।

রবিবার, ৯ই জানুয়ারী ২০২২, এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আব্দুল হামিদের প্রতিনিধি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কামিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহিদুল্লাহ।

সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভিডিও বার্তা প্রদান করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শয়দুল্লাহ।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতের কৈলাস সাত্তার্থী অন্যতম বক্তা হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন।

আলোর পথের দিশারী বাংলাদেশের বিশিষ্ট উদ্দ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার সাইন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির স্বপ্নদ্রষ্টা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, তার জীবন ও  অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে জ্ঞান-দীপ্ত বক্তব্য রাখেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম লুৎফর রহমান, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এসএম মাহবুব উল হক মজুমদার, ট্রেজারার মো. মমিনুল হক মজুমদার, রেজিস্ট্রার- প্রফেসর প্রকৌশলী ড. একেএম ফজলুল হক প্রমুখ।

এবারের সমাবর্তনে প্রায় ১০,০০০ ছাত্র/ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সনদ প্রদান করা হয়। নিজ নিজ বিভাগে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য বিপুল সংখ্যক মেধাবীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। রবিবার সারাদিন, ছাত্র/ছাত্রীর অংশ গ্রহণ- পদচারনায় মূখরিত ছিল ‘অনন্য সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি আশুলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত র্স্মাট সিটি ক্যাম্পাসটি।

শ্যামলা, ছায়া-ঘেরা এই ক্যাম্পাসটি সকল দিক দিয়েই অন্য যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এক-বিশেষ কৃতিত্বের দাবি রাখছে এবং শিক্ষা ও সৌন্দর্য্য বিকাশের পথে মানবিক মননশীলতা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

ঢাকার অদূরে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে  অনুষ্ঠিত (আশুলিয়ার ক্যম্পাসে) এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি সকাল ৮:৩০ মিনিটে শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত। দুপুরের লাঞ্চের পর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশ খ্যাত বিশিষ্ট সংগীত শিল্পীগণ।
https://banglatopnews24.com/daffodil-bessobidaloyar-9m/

# মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম/বাংলাটপনিউজ২৪.কম #

7
Common Forum / সংসার
« on: January 01, 2022, 05:03:25 PM »

বি`ঘা বিশে‘ক ছিল বাবার জমি,
ভাগ-বন্টনের অ‘জুরে বিবাদের না ছিল ক‘মি।

মারা গিয়াছে বাবা প্রায় আড়াই যুগ আগে-
বাড়ীর কর্তা সেজে ভাই তা নিয়েছে ভাগে।

প্রায় বছর কুড়ি ধরে করে দখল-বাজী,
বোকা পেয়ে আমাকে; ও হলো কাজের কাজী।

কিছুতেই দিবেনা দখল, করেছে জীবন মরন-পণ,
দরবেশে বেশে পাঠাতে শেষে আমাকে বিন্দাবন।

টের পেয়ে আমি ধরি মানুষ-জন-
যুক্তি করে ও‘বোনের ভাগে বসায় দা‘দন।

আদরে জোড়ে মার ভাগ করিল দাবি,
বাপের রাখা এক-বিঘা, -ওটা সে খাবে।

আরো তুলিল দাবি, আমার লেখাপড়ার ছলে-
খরচ হয়েছে টাকা যা, তা দিতে হবে।

তা‘ছাড়া মায়ের খেয়েছি দুধ-বোনে নিয়েছে কোলে
-বড় ভাই হিসাবে তার দাবি রাখিল তুলে।

আর বলল এসে, ক্রুর হাসিঁ হেসে-আমার থাকিবার তরে-
মজমুদ এক‘খানা ঘরে করে দিবে হবে।

পাকাঁ রাস্তার ধারে জমি যা-আছে এক‘খান-
ওটার সাথে আছে আমার হৃদয়ের টান ।

নিজ হতে চুষেছি ওটা -ওজার করে মন-প্রাণ,
মরিবার আগে বাবা ওটা করেছে আমাকে মৌখিক দান।

সেচ পাম্পা একখানা যা করেছি কষ্ট-সৃষ্ট করে
ওটার দিব না ভাগে-থাকবে আমর তরে।

আরও আছে দাবি-দক্ষিণ ভিটায় তুলি ঘর-
সবায় আমার ভুলে গেলেও আমি হবো না কারও পর।

আমার গোপনের যে ধণ, হৃদি ভালবাসা,
কৌশলে-ঘটুফাদঁ পাতি, ফিরে পেতে তার আশা।

আমি আটঁ-শার্ট বাধিঁ-গোপনে শুধু কাদিঁ
এই ছিল মোর ভালে-
ভাগ চাইতে গিয়ে পড়িলাম  ঋণের জালে।

তার চেয়ে এই ভাল, যেমন আছি-পাগল বেশে,
ঘুরে ফিরি বিজনে-দশ দিশে।

8
Common Forum / আমি যেন কে স্যার !!!
« on: December 07, 2021, 01:43:40 PM »
জীবনের হিসাব বড়ই কঠিন। কারও কারও জীবন, সময়ে মানদন্ডে-বায়ুবিক। আবার কারও জীবন এ ভব-সাগরে সোনার তরী। জীবন গঠণ-পঠনে ভাবের প্রয়োজন আছে বৈকি! ভাবনা মানুষকে ভাবায়, আদি-অন্তের প্রশ্ন জিজ্ঞায়। এ কারণে জগতের অধিকাংশ মানুষই ভাবতে ভালবাসে। তবে, কথায় কথায় আমরা ভাববাদী উদাহরণ তুলে ধরলেও সুবিধা বুঝে-স্রোতে চলা শ্যাওলা আমরা
 
সুফিষ্টরা বলেছেন- ভাবনার সাথে মনের সংযোগ আর বস্তুর সাথে দেহের সংযোগ। বস্তুনিষ্ঠ ভাবনা  সকলেরই ভাবতে ভাল লাগে। কিন্তু বাস্তবতা সর্ম্পন-তরলার্থতায় ভরপুর। যত তেল তত গেল.. অবস্থা।

আমার কেবলি মনে হয়েছে সমাজে বস্তুবাদি মানুষের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ –পতিতা শ্রেণী।  কিন্তু তারা সমাজে ঘৃনিত । এর কারণ তারা আধুনা- সমাজকে চিনে এবং জানে।
ছোট বেলা থেকেই আমার খুব আগ্রহ ছিল বস্তুবাদি মানুষের সাথে সঙ্গ পাতানো। কিন্তু কেন জানি হয়ে উঠেনি। একবার আমি, পতিতাদের সাথে সঙ্গ করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু  সামাজিক বাধাঁ-বিপত্তির কারণে তা হয়ে উঠেনি। এই জন্য  আক্ষেপের সীমা ছিলনা.....।

কিন্ত পরক্ষণে তথাকথিত ভদ্র সমাজে বাস করে আমার মনে হয়েছে- আধুনিক ভদ্র সমাজে অঘোষিত পতিতাদের নিবৃত্ত-পদচারণা রয়েছে যার সংখ্যা অগনণিয়। কিন্তু তারা সর্বক্ষেত্রেই বিনিময়ে-সমাজ শুদ্ধ

হিসাব করে দেখেছি আমার ৪০ বছর জীবনের প্রাপ্তি; শুধু বিনিময়ের হিসাব মাত্র। পদে পদে ধাঁক্কা খাওয়া মানুষগুলো অবশ্যই বুঝেছেন সমাজে- কেউ কাউরে ভালবাসতে চায় না যদি সেখানে লোকসানের চেয়ে লাভের পাল্লা ভারি না হয়। এখন অতিমাত্রার তরলার্থিকতায় সমাজে  স্বার্থহীণ প্রাণীরা পানশে-অটুস, বিষন্ন প্রায়

একটু খেয়াল করে দেখবেন- সংসারে সবচেয়ে ছোট অবুঝ ছেলেটি দৌড়িঁয়ে এসে তার বাবার কাছে আবদার ধরে - বাবা আমার জন্য কি এনেছো ? সুন্দরী ষোড়শী নব-যৌবনা তরুনীটি জীবনের হিসাব গড়-মিলে হীনমান্য পুরুষের শস্য সঙ্গী হয়-দেনা-পওনার দায়ে। এ গুলো আমাদের সমাজের বাস্তব ধারাপদ।

আমার কর্মজীবনের মোট ১৮ বছরে খুব কম মানুষকেই দেখেছি যারা মানবিক। চিরা-চরিৎ ধরা বাধাঁ নিয়ম ভেঙ্গে জীবনের কথা বলেছেন। তবে ব্যতিক্রম যে হয়নি তা নয়। অনেকেই আবার গায়ে পড়ে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন। সর্বতো ভাবে বিশ্বাস করেছেন মানবতাই পরম-ধর্ম

চেখের সামনে দেখেছি –অমানবিক মানুষ গুলো সমাজের চোখ ফাকিঁ দিয়ে তরল-গড়ল কাজে- তর তর করে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করছেআত্ম-জ্ঞানী- চোখ বুঝা মানুষ গুলো, মাথা নিচু করে তাদেরকে সাধুবাদ জানাচ্ছে

আপনি একটু খেয়াল করে দেখবেন,  আমরা সারা জীবন যে ইমামের পিছনে নামাজ পড়ছি-ভাল ভাল কথা শুনছি, সেই ইমাম অন্যে বাড়ীর খাবারে অবস্থ্য । যাকে নিয়ে ঘরে করছি, জীবনের অর্ধাঙ্গীনি ভাবছি সেই কথায় কথায় বলছে- ‘শুধু আমি দেখে তোমার সংসার করে গেলাম…….।

নদীর মাছ সাগরে খৈই হারায় তার অভিযোজনিক সমস্যার কারণে। অবস্থার বিচারে আমরা ও আপনারা হয়তো তাই। কিন্তু বেচেঁ থাকার ইচ্ছা সবারই আছে? আর ভাল ভাবে বাচাঁর ইচ্ছা তো সার্বজনীন।

ছোট ঘরের সন্তানদের বড় হবার দূরন্ত ইচ্ছা থাকে। কিন্তু আমাদের সমাজ অভি-তান্ত্রিক। এখানে রাজার ছেলে রাজা হয়, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হয়, এমপির ছেলে এমপি হয়। এই অভি-তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিপরিতে অবস্থান নিতে চাওয়া সত্যিকার অর্থেই চ্যালেন্ঞ্জিং।

আমাদের কেবলই মনে হতে পারে- আবুল মিয়া কেরানীর চাকুরী করে বাড়ী-গাড়ী করলো? আমি কি করলাম? একটা কথা মরে রাখা প্রয়োজন- দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের সৎ পথে বড় হাবার ভাবনার চাদেরঁ বুড়িমার সূতাকাটাঁ গল্প..। দুই একজন বড় হতে পারে তা কদাচিৎ…..!

আমাদের ভাবনা হওয়া উচিৎ- পাশের বাড়ীর দরিদ্র কলিমুদ্দীনের একমাত্র মেধাবী ছেলে সলিমুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে হতাশায় ভোগে এখন গাজাঁ টানেছে কেন ?

মনে রাখবেন, আপনি যেটা/যাকে বেশী কাঙ্গিত মনে করেন আসলে সে/সেটা অত-সহজলভ্য নয়। আপনাকে বুঝতে হবে- এখন সমাজের মানুষ অনেক চালাক –তারা কিলিয়ে কাঠালঁ পাঁকাতে জানে। গাছ পাকিয়ে কাঁঠাল খওয়ার দিন শেষ। তাই বলে ‘প্রকৃত রস-আহরণে কাঁঠাল খাবার আশা ত্যাগ করা উচিৎ কি?

২০০১ সালের অক্টোম্বর মাসের ঘটনা, তারিখ মনে নাই। আমাদের এম.এ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার দিন। আমাদের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক জনাব প্রফেসর ড. মন্জুর মোরশেদ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) ক্লাসে এসে নাম ডাকলেন-আরশেদ আলী। আরশেদ আলী বুক টান টান করে উত্তর দিল- ইউয়েস স্যার। স্যার পকেট হতে দুইটা পাচঁ টাকার নোট বাহির করে বললেন-তুমি বিভাগে প্রথম হয়েছ নাও এটি তুমার পুরষ্কার।

পরে নাম ডাকলেন-মোহাম্মদ নজরূল ইসলাম ? আমি অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে উত্তর দিয়ে ছিলাম- আমি যেন কে স্যার?? ক্লাস সমবেত সকলেই উচ্চ স্বরে হাসাঁহাসি করে উঠলে স্যার সকলকে থামিয়ে দিয়ে পকেট হতে পাচঁশত টাকার একটা নোট বাহির করে বললেন-এটি তোমার দ্বিতীয় হবার পুরষ্কার নয়‘ আমি যেন কে স্যার? এই  উত্তরে পুরস্কার।

সেই দিন মাথায় হাত রেখে তিনি বলেছিলেন-যেখানেই থাক, যে অবস্থায় থাক; দিনে একবার হলেও নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করিও –আমি যেন কে স্যার???




9
Common Forum / বনবালা
« on: December 01, 2021, 01:42:05 PM »
ওগো, মায়াবিনী বনবালা
কেন তোমাকে লেগেছিনু ভাল?
দেখেছিনু কুমারীর বুকে-
রাগ-রাঙ্গা আলো।।

জীবনের যত গীত গেয়েছিনু-সংগোপনে
ভেবে ছিনু কত কথা,
নিমিষে উঁড়ে গেছে-শূণ্যবাতায়নে-
অশ্রু ভাঙ্গা ভাষায়।।

আজ, নিঃস্ব রিক্ত আমি
রক্ত ঝড়া প্রাণ রাঙ্গা,
অশ্রু জলে সিক্ত হয়ে
বনে যাই বাঁধ ভাঙ্গা।।

হে অভিসারী, বনবালা মোর
কার লাগি গেথেঁছিনু মালা,
লোলুপ-কামনায় জেগে উঠে ছিল
-এই ভিখারীর মরা প্রাণ ।।


10
Common Forum / মনের মানুষ !
« on: November 28, 2021, 09:40:57 AM »
যে যা মনে বাঞ্চা করে
তার কাছে সে হয় উদিয়,
মন ছাড়া কি?
মনের মানুষ রয়।।

মনের মানুষ মনহরা
রসময় রুপ তার রসে ভরা,
তারে দেখলে হবি আত্মহারা
অধরা যে ধরা দেয়।।

ভবে বিশুদ্ধ মানুষের করণ
চন্ডিদাস-রজকিনীর মতন,
তাদের এক-মরণে, দুইজন মরণ
আত্মায় আত্মায় মিশে রয়।।

গোসাঁই মাতাম কাদেঁ ভবে
মানুষ ধরা মানুষেতে,
আমি পাব কি আর এই ভূবন
সহজ মানুষ অসময়।।

11
নান্দিক সৌন্দর্য্যের চারণভূমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ড্যাফোডিল র্স্মাট সিটি-আশুলিয়ার) এইচআরডিআই (Executive Director) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে নিয়োগ পেলেন দেশের সুনামধণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

জনাব ড.মিজানুর রহমান ৭ই নভেম্বর ২০২১ইং সাল, রোজ রবিবার ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনিবার্হী আদেশে উক্ত পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান এর আগেও অত্যন্ত দক্ষতাও যোগ্যতার সাথে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ক্রমে রেজিষ্ট্রার ও ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করেন।

বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী এই জ্ঞান-তাপস  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Master of Science (MS) সম্পূর্ণ করেন। অতঃপর ইন্ডিয়ার জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Master of Philosophy (MPhil) ডিগ্রী লাভ করেন। শিক্ষা জীবনের সর্বোচ্চ ডিগ্রী Doctor of Philosophy (PhD) সম্পন করেন University Kebangsaan Malaysia থেকে।

শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৮৯ সালে তিনি Lecturer হিসাবে Geography and Environmental Studies বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দান করেন। সফলতার স্বীকৃতি স্বরুপ (অতি অল্প সময়ে) ১৯৯২ সালে Assistant Professor এবং ২০০১ সালে তিনি ‍Associate Professor পদোন্নতি লাভ করেন। তৎপর ২০০৬ সালে তিনি শিক্ষকতা জীবনের সর্বোচ্চ পদবী Professor পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

জনাব, রহমান আজীবন জ্ঞান সাধনায় অন্বেষী। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য International Research –এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার উল্লেখ্যযোগ্য প্রকাশিত কর্মগুলোর মধ্যে “Levels of Urbanization and Spatial Development in Bangladesh between 1974 and 1991 এবং Functional Master Plan and Detailed Area Plan under Rajshahi অন্যতম।

https://banglatopnews24.com/daffodil-bessobidaloier/

12
Common Forum / চির সনাতন
« on: October 22, 2021, 02:56:06 PM »

বাজিছে ব্রহ্মশির, পশুপত, বাসবী, তোমর ধ্বণি
উচ্চ স্বরে, বীর-বারুন, শকুনী-তরুনের গর্জনী।

অন্যায়-এ, শানিত ত্রিশূলের ধার-
খর্ব করিব, নিলাম দেবতার বর ।

সেনাপতি অর্জুন দম্ভ করি ; হাকিল সৈন্য দল,
প্রজ্ঞা লহ; বীনাপানির স্বরণে-
আদেশ লহ শিরে, তব ভগবান রামে,
সীতা উদ্ধারে, ধীক রাবনের হীন কামে।

ভগবান রাম স্থীর, স্তদ্ধ; তব প্রাণ-বিষন্ন পত্নী শোকে-
কি করে রাখিবে আজ তব সত্যের মান ।

অর্ন্তযামি দিব্য দৃষ্টিতে দেখিলেন-মহাভারতরণ
সত্যের বিজয়ে আজ হনুমানের সাহায্য প্রয়োজন ।

সভাসদ নারাজ, বনের পশু- ক্ষুদ্র-অতি নগন্য,
তার কি প্রয়োজন? থাকতে মহাবীর-বরেণ্য ।

চলিল, সৈন্যদল আগে-পিছে লয়ে মহারথীবল
লংকার শুচি, রাবন-মস্তক ছাড়িল বিষাদ-বারি/জল।

সৈণ্যদল দেখে, অসীম জল রাশি চৌ-দিকে ঘেরা
সতী মাতা সীতাসাধবী বন্দি তব দুর্যর্ধন দ্বারা।

নাই কূল-পথ-পার, আর কি উপায় ?
উঠিল ক্রন্দন সৈণ্যদলে ভিতরে হায় হায়!!
বড়-ধড়, বড় বাহু; অসস্থি দরবার-
সকলেই বিফল, বিষন্ন উপায় নাই আর!

পিছন হতে সহসা হনুমান করিল রাম-ধ্বনি
মিলল স্বদলে বানর, অরণ্যে হতে লতাপাতা আনি-
ফেলিছে সিন্ধুসম জলে!! নিমিষেই হইল রাস্তা-

চলিল, সৈণ্যদল বীরর্দপে করিতে লংকাজয়
দেখিল, সীতাবন্দি দ্বি-তলায়, চৌ-দিক অগ্নিময় ।

কেউ না পারে যেতে হেথা, হয়ে অগ্নি-পার
সকলেরই চিৎকার বানরের বড়ই দরকার ।

জীবন বাজি রেখে হনুর দল-
সীতাকে উদ্ধার করিল হইতে দ্বি-তল’
হইল জয়-জয়কার:  অশুভ বারন পরাজিত;
বীর সেনাপতিরা পুরস্কার নিতে রাজগীরে আগত ।

সকলেই পাইল মনি-মানিক্য আর গজ-মতিহার
সীতা উদ্ধারে হনুমানের রয়েছে কি পাইবার-??

রাজ সভায় উঠিল সহসা ধ্বনি!!
অংগুলি নির্দেশে ভগবান বলিলে-সীতা গুণমনি।

তৎক্ষণিক মাতা সীতা নিজ গলার হার
ছুড়িয়া ফেলিলেন বানরের গলে তার ।

হনুর দল পাইয়া বীরের পুরস্কার-
শুকিয়া-চিবাইয়া ছিড়িয়া ফেলিল সকলই তার ।

সভাসদ দলে হাসে সকলে, এর কি প্রয়োজন!!
বানরের গলে- কেন মুক্তার আয়োজন??

হনুমান ছড়িয়া চোখে পানি বলিল- বীনাপানি
বলিতে চাহি আজ কিছু, খুলে দাও জবান খানি ।

ভগবানের বড় কৃপা; সহসা খুলিল জবান-
বলিল হনু,-অমূল্য রত্নে আমার নাই প্রয়োজন?

আমি ভালবাসি মোর আদি পিতা-
জপি তব- রাম, রাম -ভালবাসার প্রয়োজনেই
-বাচাঁয়াছি মাতা সীতার প্রাণ ।

আমি অতি ক্ষুদ্র-নগন্য জানি-তব মোর ভালবাসা,
অতল অসীম -সিন্ধু সম দামি ।

বলিল সভাসদ দল-পরীক্ষা দিতে হবে ?
ভালবাসার অতল-অসীমতা-
যাতে রয়েছে পূর্ণ-ভক্তি, ব্রতা ।

হনু দেখাতে সে প্রেম-ভক্তি, ভালবাসা
নিজের পাজঁর ফারিয়া দেখাইল সেথা
-ভগবান রামের ছবি আকাঁ।

সভাসদ দলে, যত ছিল গুণি, মানি -
জয়ধ্বনি উঠিল- ভালবাসা-ই দামি ।

কাল জয়ী সেই ভালবাসা-জন্ম-জয়ন্তে ঘেরা
পবন-নন্দন হলেন, সনাতনের সেরা।












13
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আনন্দ আয়োজন শারদীয় দূর্গোৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেক আনন্দ, উল্লাস এবং বিনোদনের আনুষ্ঠানিকতা লক্ষ করা যায় এমন উৎসবে। শুভ মহালয়া থেকে চণ্ডীপাঠ, মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানায় ভক্তকুল।

অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার করার লক্ষ্যে মর্ত্যে আসে দেবী দুর্গা। তাদের পূজা মণ্ডপে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমীতে সকল হিন্দু সম্প্রদায় অর্থাৎ হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করে।

বলা দরকার, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দুর্গা পূজার দিন ক্ষণ গণনা শুরু হয় মহালয়ার দিনে অর্থাৎ ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবে আনন্দকে কেন্দ্র করে। তাই এ দূর্গোৎসব হিন্দুদের অবশ্যই বিশুদ্ধ পঞ্জিকার আলোকেই নির্ধারণ করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎ​সবের শুভ দশমীটাই তাদের কাছে শেষ দিন।

আর এই শুভ বিজয়ার দশমীতে পূজা সমাপন করে এবং দেবী দুর্গাকে বিসর্জনে ব্যাস্ত সকল হিন্দু সম্প্রদায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে তারা এদেশ ও সারা বিশ্বে ৩০ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মীয় জনগোষ্ঠী সকল মানবের চাহিদাকে পুরনের লক্ষে সর্ব বৃহৎ দেবী দুর্গাকে মণ্ডপে দাঁড় করানোর বাসনায় জাগ্রত হন।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তারা মহানবমী উপলক্ষে অনেক পূজা মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা এবং প্রসাদ বিতরণ করে। দশমীতে সব মণ্ডপে থাকে বিষাদের সুর। কারণ, তাদের শুভ বিজয়া দশমীর এই দিনে দূর্গাকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামী গৃহে ফিরে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা।

সুতরাং এই দিনে বাহির হয় ভক্তদের শোভাযাত্রা, দেবী দুর্গাকে বিদায়ের মাধ্যম হিসেবে জলে নৌকা নয়তো স্হলে রংবে রংয়ের ট্রাকে সাজ সজ্জা ঘটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে হিন্দু সম্প্রদায়। বিদায় বেলায় শত সহস্র ভক্তদের আনন্দ-উল্লাসে আর বিজয়ার অশ্রুতে আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠে।

দেবী দুর্গাকে স্বর্গালোকে এমন বিদায় দেয়ার আয়োজন সত্যিই সনাতন বিশ্বাসী ধর্মাবলম্বীদের গভীর আত্তায় শঙ্খ ধ্বনি এবং ঢাকের তালে তালে কম্পিত হয়। তাদের এমন দেবী দূর্গাকে বিদায়ের সুরের সাথে সঙ্গী সাথী করে গবীব দুখীকে।

তবে এবারে দূর্গা দেবীর বিদায় নেওয়াটা অবশ্যই ঘোটক বা ঘোড়া কেন্দ্রিক অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে দেবী দুর্গা গমন করবে স্বর্গালোকে। সেহেতু এমন বিদায়ের ফল শ্রুতিতে অনেক রোগ-ব্যাধি বাড়বে বৈকি এবং অনেক ফসল নাকি নষ্টও হবে। সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের এমন ধারনা এবং তাদের বিশুদ্ধ পঞ্জিকায় তার যথাযত সত্যতার প্রমাণ মিলে।

তবে দেবী দূর্গা এসেছিল নৌকায় চড়ে, ধর্মের আদর্শ বার্তা নিয়ে বছর ঘোরে বারংবার দেবী দূর্গা আসে মর্ত্যলোকে অর্থাৎ পৃথিবীতে। এজগতের মঙ্গল কামনায়, তাই বিশ্বাসী হিন্দু সম্প্রদায় বলেন, এমন আগমনের ফলেই অতি বৃষ্টি ও শস্য বৃদ্ধি হবে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় এমন অনন্দে ঘরে ঘরে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে আপ্যা-য়নে তৈরী করে জল-তিল-অন্ন। এমন উৎসর্গ তাদের অনেক আনন্দ দান করে। তারা মনে করে, পিতৃ পক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসে। মৃত আত্মীয়-পরিজন এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের আত্মার প্রতি মঙ্গল কামনা করার একটি শুভ দিন।

সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা এই দেবীপক্ষকে সবচেয়ে শুভ দিন মনে করেই নতুন নতুন পোষাক ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল ভাল খাবার তৈবী করে। এ সময় তারা সব ধরনের শুভ কাজ সম্পন্ন করে থাকে। পুরাণের কথায় বলা যায়, অসুর শক্তির নিকট পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিল। চারদিকে অশুভের প্রতাপ। তাই এ অশুভ শক্তিকে ধ্বংস বা বিনাশ করতেই একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হয়েই এক মহা শক্তির আবির্ভাব।

সুতরাং সেই দেবতাদের তেজরশ্মি থেকেই আবির্ভূত এক বৃহৎ শক্তি তিনিই হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। পুরাণ মতে বলা যায়, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিল। বসন্তে তিনি এ পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রীরামচন্দ্র দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিল।

শরৎ কালের এ পূজাকে হিন্দুদের মতে বলা চলে, অকালবোধন। তাদের ধর্ম মতে, এ দিনেই দেব-দেবীকুল দুর্গা পূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করে। মহালয়ার দিনে সূর্য উদয়ের আগেই শঙ্খধ্বনি এবং চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মন্দিরে মন্দিরে নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল হিন্দু সম্প্রদায় দেবী দূর্গাকে আবাহন জানায় এবং উল্লসীত সুরেলা কন্ঠে জয়ধ্বনি তোলে, সবার বলো "দূর্গা মাইকি জয়"।

-মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম/বাংলাটপনিউজ২৪.কম

https://banglatopnews24.com/osobosoktir-benas-kora-sobo-sokter/

14
Common Forum / অচিন পাখী
« on: October 01, 2021, 12:55:20 PM »
দূর-আকাশে উড়িঁয়ে দিলাম
আমার সুপ্ত ভালবাসা,
শব্দহীন চোখের জলে
-খুজঁতে তারে ভাষা।।

উড়ঁছে মায়া, অন্তগিরি
ছুটছে জোরে গতি,
গগণভেদী আকাশ ছেদী
-ধ্রুব-তারা-জ্যোতি।।

সপ্তরেখার দূর-নীলিমায়,
দূরন্ত তার ছায়া,
দিক ছড়িয়ে মাঠ পেরিয়ে,
-দৃষ্টি কারা কায়া।।

শূন্যে উড়ে শূন্যে ঘুরে
শূন্যে তাহার বাস,
নীলপরীদের মন মাতিয়ে
-মিটে তাহার আশ।।

হৃদ-আকাশে বাধঁনছেদী
বিশাল ভূবন পেয়ে,
নাচে-পাখী, ফিরে ঘুরে
-সপ্ত রঙ্গ গেয়ে।।

আধাঁর কালো আমার আকাশ
নিত্য ঝড়ে বারি,
পুরনো সেই স্মৃতি কথা
-প্রেম-বিরহে তারই।।

ফিরি গেয়ে জগৎ ধেয়েঁ,
গীত বিরহী প্রাণ,
অচিন পাখীর অচিন ভাষা,
-অচিন ছিল-গান।।



https://banglatopnews24.com/ochin-phaki/

15
Common Forum / অবিনাশ !
« on: September 22, 2021, 10:37:04 AM »
স্বর্ণলতা কয়`না কথা
মুখটা কেন ভার ?
হৃদ সাগরে মানিক জ্বলে
প্রেম-তরঙ্গে তার।।

নিত্য আড়ি পাড়ে তারই
দিতে কমল দোলা,
পেখম মেলে নৃত্য করে
চিত্ত করে খোলা।।

সমিরনের তালে তালে
বুকের গভীর হতে,
ভালবাসার বান উঠে, তার
ইচ্ছা-গতি মতে।।

রশিক মাঝি, কাজের কাজী
বুঝে বাও-এর, ভাও-
দাড়ঁ ঘুরিয়ে নোঙ্গর খোলে,
সামাল সামাল নাও।।

আমি তৃর্ণ সুক্ষ্ম অতি
বুঝি কি আর মতি-গতি ?
তবু মনে এ-ভীমরতি !
সদ্কা পেতে ফাঁউ।।


https://banglatopnews24.com/obinas/

Pages: [1] 2 3 ... 11