Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Badshah Mamun

Pages: [1] 2 3 ... 125
1
তোকে কোলে নেবার ঋণ...

"বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো"।

বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) "একটা গল্প শুনবি?"
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো-
"বলো বাবা শুনবো......"

তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চালানোর কষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর 'মা কে 'সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো।

সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বিষহ লাগতো। কিন্তু কখোনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মা কেও না।

একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে কাজে যাচ্ছি। কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি ল্যাপটপ এর জন্য। তোর কষ্টে আমার কষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে ল্যাপটপ টা কিনে দিয়েছিলাম। আমার তখনকার এক টাকা তোর এখন এক পয়সা! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস। ব্রান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো।

আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন সুগার মাপাই । জানিস আমার মাছ খাওয়া নিষেধ, মাংস খাওয়া নিষেধ, কি করে এত টাকা খরচ করি বল! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই। সে হাটে আমি বাইক চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের হাত ধরে তাঁত মেলায় ঘুরে বেড়াই।

বাবারা নাকি "খাড়ুশ টাইপের" হয় । আমিও আমার বাবাকে তাই ভাবতাম । পুরুষ থেকে পিতা হতে আমার কোনো কষ্ট হয়নি, সব কষ্ট তোর মা সহ্য করেছে। কিন্তু বিশ্বাস কর পিতা থেকে দ্বায়িত্বশীল পিতা হবার কষ্ট একজন পিতাই বোঝে।

যুগে যুগে সর্বস্থানে মাতৃবন্দনা হলেও পিতৃবন্দনা কোথাও দেখেছিস ?

পিতৃবন্দনা আমি আশাও করি না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কোনো পিতা হয়তো প্রকাশ করতে পারে না, তবে কোনো পিতা কখনোই সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হয় না। আমি তোর পেছনে আমার যে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করেছি তা হয়তো তুই তিন বছরে শোধ দিতে পারবি...

কিন্তু যৌবনে দেখা আমার স্বপ্ন গুলো ?

যে স্বপ্নের কাঠামোতে দাঁড়িয়ে তুই আজ তোর ঋণশোধের কথা বলছিস.
সেই স্বপ্ন গুলো কি আর কোনোদিন বাস্তব রুপ পাবে ?

আর যদি বলিস বাবা আমি তোমার টাকা না তোমার ভালবাসা তোমায় ফিরিয়ে দেব, তাহলে বলবো বাবাদের ভালবাসা কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।

তোকে একটা প্রশ্ন করি, ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় বসে আছি। হটাৎ নৌকা টা ডুবতে শুরু করলো....
যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবি তুই।
কাকে বাঁচাবি ?
( ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা! )
উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না।

পৃথিবীতে সব চেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস?
পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ!

আমি শুধু একটা জিনিস চাই।
আমার শেষ যাত্রায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋণ শোধ করতে পারবি - তোকে কোলে নেবার ঋণ...

(copy)

2

বাবা মা‌র বিচ্ছেদ যে‌দিন---------
সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় জজ সা‌হেব মা কে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আপনি কাকে চান ? ছেলে কে না মেয়েকে??"
মা তখন তার ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। মে‌য়ে ব‌লে বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।
কাঠের বেঞ্চিতে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা অনাতা আশ্রমে রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।
দিন যায়-মাস যায়,  অনাতা আশ্রমে জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে অনাতা আশ্রমে থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!
বছর দু'য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল'ইয়ার হবো।  আজ আমি একজন ডিভোর্স ল' ইয়ার। যারাই আমার কাছে ডিভোর্স এল জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!
চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।
সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।
একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাৎ দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।
মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!
ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।
.... কন্যা....
(সংগৃহিত)

3
মানুষ যদি মানুষের পাশেই না যায়, তবে এতো সময় বাঁচিয়ে কি হবে বলো ??

বাবার সাথে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে ব্যাংকে বসে আছি। বিরক্ত হচ্ছি খুব। যত না  নিজের উপর,  তার চেয়ে  বেশি বাবার উপর। অনেকটা রাগ করেই বললাম, বাবা,  কতবার বলেছি,অনলাইন  ব্যাঙ্কিংটা শিখো।

বাবা :  এটা শিখলে কি হবে?

ঘরে বসেই তুমি এই সামান্য কাজটা করতে পারতে।  শুধু ব্যাংকিং না। শপিংটাও তুমি অনলাইনে করতে পারো। ঘরে বসে ডেলিভারি পেতে পারো।  খুবই সহজ। কিন্তু এই সহজ জিনিসটাই করবে না।

বাবা :  করলে আমাকে ঘরের বাইরে বের হতে হতো না, তাই না?

হ্যাঁ, বাবা তাই।  এখানে এসে ঘন্টা খানেক অনর্থক বসে থাকতে হতো না।

এরপর বাবা যা বললেন, তাতে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।

বাবা বললেন: এতো সময় বাঁচিয়ে তোমরা কি করো।  ফোনেই তো সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকো। কবে শেষদিন তুমি তোমার খালা/ফুফুর সাথে কথা বলেছো? দশ হাত দূরে প্রতিবেশী বৃদ্ধ গফুর চাচার খবর নিয়েছো? অথচ, আপন জনের সাথে দেখা করতে দশ মাইল পথ হেঁটেছি। সময় বাঁচানোর চিন্তা করিনি। মানুষ যদি মানুষের পাশেই না যায়, তবে এতো সময় বাঁচিয়ে কি হবে বলো।

বাবার কথা পাশ থেকে মানুষেরা শুনছেন। আমি চুপচাপ বসে আছি।

বাবা বললেন:  ব্যাংকে প্রবেশের  পর থেকে চারজন বন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় করেছি। তুমি জানো,  আমি ঘরে একা। তাই ঘর থেকে বের হয়ে আসাটাই আমার আনন্দ। এইসব মানুষের সাহচর্যটাই আমার সঙ্গ। আমার তো এখন সময়ের কমতি নেই।  মানুষের সাহচর্যেরই কমতি আছে। ডিভাইস, হোম-ডেলিভারি, এনে দেবে...... মানুষের সাহচর্য তো আমায় এনে দেবে না।

মনে পড়ে, দু বছর আগে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। যে দোকান থেকে আমি দৈনন্দিন কেনাকাটা করি, তিনিই আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন। আমার পাশে বসে থেকে মাথায় হাত রেখেছিলেন। চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিলো।  তোমার ডিভাইস বড়জোড় একটা যান্ত্রিক ইমেইল পাঠাবে, কিন্তু আমার পাশে বসে থেকে চোখের অশ্রুতো মুছে দেবে না। চোখের অশ্রু মুছে দেয়ার মতো কোনো ডিভাইস কি তৈরি হয়েছে?

সকালে হাঁটতে গিয়ে তোমার মা পড়ে গিয়েছিলেন। কে তাকে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলো? অনলাইন মানুষের একাউন্ট চেনে,  সে তো মানুষ  চেনে না! মানুষের ঠিকানা চেনে,  রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের ঘরতো চেনে না!
এই যে মানুষ আমার শয্যাপাশে ছিলো, তোমার মাকে ঘরে পৌঁছে দিলো, কারণ  দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে একজন আরেকজনকে চিনেছি।

সবকিছু অনলাইন হয়ে গেলে  মানুষ "হিউম্যান টাচটা"  কোথায় পাবে বলো?  আর পায় না বলেই  পাশের ঘরে মানুষ মরে গিয়ে লাশ হয়ে থাকে,  দূর্গন্ধ না আসা পর্যন্ত কেউ কারো খবরও আর রাখেনা।  বড় বড় এ্যাপার্টম্যান্টগুলো আমাদের এ্যাপার্টই করে দিয়েছে।  পুরো পাড়ায় একটা টেলিভিশনে কোনো অনুষ্ঠান একসাথে দেখে সবার আনন্দ,  আমরা একসাথে জড়ো করতাম। এখন আমরা রুমে রুমে নানা ডিভাইস জড়ো করেছি।  আনন্দ আর জড়ো করতে পারিনা। 

এই যে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার দেখছো। তুমি ওনাকে ক্যাশিয়ার হিসাবেই দেখছো।  সেলস ম্যানকে সেলসম্যান হিসাবেই দেখছো।  কিন্তু আমি সুখ দুঃখের অনুভূতির একজন মানুষকেই দেখছি।  তার চোখ দেখছি।  মুখের ভাষা দেখছি। হৃদয়ের কান্না দেখছি। ঘরে ফেরার  আকুতি দেখছি । এই যে মানুষ মানুষকে দেখা, এটা  একটা বন্ধন তৈরি করে। অনলাইন শুধু সার্ভিস দিতে পারে, এই বন্ধন দিতে পারে না। পণ্য দিতে পারে, পূণ্য দিতে পারে না।  এই যে মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা,  কুশলাদি জিগ্যেস করা।  এখানে শুধু পণ্যের সম্পর্ক নেই, পূণ্যের সম্পর্কও আছে।

বাবা, তাহলে টেকনোলজি কি খারাপ?

বাবা বললেন: টেকনোলজি খারাপ না।  অনেক কিছু সহজ করেছে নিঃসন্দেহে সত্য।  ভিডিও কলের মাধ্যমে লাখে লাখে ছেলেমেয়েরা পড়ছে, শিখছে, এটা তো টেকনোলজিরই উপহার।  তবে,  টেকনোলজির নেশাটাই খারাপ। স্ক্রিন এ্যাডিকশান ড্রাগ এ্যাডিকশানের চেয়ে কোনো অংশে কম না। দেখতে হবে, ডিভাইস যেন  আমাদের মানবিক সত্ত্বার মৃত্যু না ঘটায়। আমরা যেন টেকনোলজির দাসে পরিণত না হই।  মানুষ ডিভাইস ব্যবহার করবে।  মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে। কিন্ত ভয়ঙ্কর সত্য হলো, এখন আমরা মানুষকে ব্যবহার করি, আর ডিভাইসের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি।  মানুষ ঘুম থেকে ওঠে আপন সন্তানের মুখ দেখার আগে স্ক্রিন দেখে,  সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন্সটিউট এটাকে ভয়ঙ্কর মানসিক অসুখ বলে ঘোষনা করেছে।

কিছুদিন আগে আশা ভোঁসলে একটা ছবি পোস্ট করে ক্যাপশান লিখেছেন-  "আমার চারপাশে মানুষ বসে আছে। কিন্তু কথা বলার মানুষ নেই। কারণ সবার হাতে ডিভাইস।"

বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন : জানিনা ভুল বলছি কিনা, তবে আমার মনে হয়, তোমরা পণ্যের  লোগো যতো চেনো, স্বজনের চেহারা তত চেনো না।  তাই, যত পারো মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করো, ডিভাইসের সাথে না। টেকনোলজি জীবন না। স্পেন্ড টাইম উইথ পিপল, নট উইথ ভিডাইস।


বাবাকে 'চাচা' বলে কে একজন ডাক দিলো । বাবা কাউন্টারের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।  এই প্রথম আমি বুঝতে পারলাম। বাবা ক্যাশিয়ারের দিকে যাচ্ছেন না। একজন মানুষ মানুষের কাছেই যাচ্ছেন। বাবাকে আমি অনলাইন শেখাতে চেয়েছিলাম,  বাবা আমাকে লাইফলাইন শিখিয়ে দিয়ে গেলেন।

সংগৃহীত

4
হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করা অপরাধেরই শামিল

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের কাছে ‘রিমান্ড’ শব্দটি যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অবশ্য জনগণের মাঝে এ ধারণা একদিনে জন্মায়নি। দীর্ঘদিন ধরে রিমান্ড সংক্রান্ত বাস্তব অবস্থা দেখতে দেখতে জনগণের মাঝে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। মূলত ‘রিমান্ড’ শব্দটি ফৌজদারি মামলার জন্য আসামির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। দেশে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি), ১৮৯৮-এর দুটি ধারায় (ধারা ১৬৭ ও ৩৪৪) রিমান্ড শব্দের উল্লেখ থাকলেও ওই কার্যবিধির কোথাও রিমান্ড শব্দটির সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।


রিমান্ড বিষয়ে সিআরপিসির ১৬৭ ধারায় বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হলে এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বস্তুনিষ্ঠ বিবেচিত হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকটবর্তী আদালতের ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিমান্ড প্রার্থনা করতে পারেন, যা একসঙ্গে ১৫ দিনের অধিক হবে না।

সহজভাবে বলতে গেলে, রিমান্ড হচ্ছে কোনো আমলযোগ্য অপরাধে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আসামিকে পুলিশি হেফাজতে আটক রাখা। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা আটক রাখা যাবে। তারপর আটককৃত বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যদি প্রমাণিত হয় আটককৃত ব্যক্তি নির্দোষ, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুক্তি দেবেন।

আর যদি প্রমাণ হয় আটককৃত ব্যক্তি অপরাধী বা আরও তথ্য উদঘাটন প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে তিনি রিমান্ডের সময় বাড়াতে পারেন, তবে তা ১৫ দিনের বেশি হবে না। আর রিমান্ডে নিয়ে মারধর করার কোনো বিধান নেই, যদিও আমাদের দেশে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রিমান্ড মঞ্জুরের সময় সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

যা হোক, রিমান্ড বিষয়ে আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে (২০০৩ সালে) হাইকোর্ট কতিপয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। রিমান্ড বিষয়ে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনায় কোনো মামলায় আসামি গ্রেফতার এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ এবং রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর দেশে রিমান্ড ইস্যুতে নানা ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে তা এখন পর্যন্ত সংশোধিত হয়নি। যদিও সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বা নির্দেশনা প্রতিপালন করা সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে নিম্ন আদালতের দুই বিচারকের কাছে হাইকোর্ট ব্যাখ্যা চাইলে এবং মামলার নথিপত্রসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাজির হওয়ারও নির্দেশ দিলে রিমান্ডের বিষয়টি জোরালোভাবে সবার নজরে আসে। রিমান্ড মঞ্জুরকারী ঢাকার সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা কী উপাদানের ভিত্তিতে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন-হাইকোর্ট এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতে হাজির হতেও নির্দেশ দেওয়া হবে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছেন। পাশাপাশি চিত্রনায়িকা পরীমনির রিমান্ড বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রেখেছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘রিমান্ডের উপাদান ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা প্রার্থনা দিল, আপনি (ম্যাজিস্ট্রেট) মঞ্জুর করে দিলেন। এগুলো কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। রিমান্ড অতি ব্যতিক্রমী বিষয়।’

আগেই বলা হয়েছে, রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে এবং এ নির্দেশনা অনুসরণ না করেই পরীমনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন পরীমনির আইনজীবীরা। পরীমনিকে মাদকের মামলায় পরপর তিনবার রিমান্ডে নেওয়া হলে ওই রিমান্ডকে চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিটের শুনানিকালে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, পরীমনির ক্ষেত্রে রিমান্ডের অপব্যবহার হয়েছে। আইনজ্ঞরাও অভিযোগ করেছেন, দেশে প্রতিনিয়তই রিমান্ডের অপব্যবহার হচ্ছে। এক্ষেত্রে একমাত্র হাইকোর্ট তথা সুপ্রিমকোর্টই পারেন রিমান্ডের অপব্যবহার বন্ধ করতে।

বলা বাহুল্য, অনেক আগে থেকেই এ দেশে রিমান্ডের বিষয়ে বাস্তবতা ভিন্ন। রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় এবং সেই জবানবন্দি মামলার বিচারে আসামির বিরুদ্ধেই ব্যবহার, হত্যাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চ আদালতে এটির বৈধতার চ্যালেঞ্জ হয়েছে বহুবার, আদালত থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তারপরও রিমান্ডের অপব্যবহার বাড়ছে, যা সত্যিকার অর্থেই উদ্বেগজনক। ১৯৯৮ সালে ডিবি অফিসে হেফাজতে মারা যান ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র শামীম রেজা রুবেল। এ ঘটনা তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করে (রিট পিটিশন নম্বর : ৩৮০৬/১৯৯৮), যার প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ফৌজদারি আইন সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৫ মে ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

রিমান্ড বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে : ১. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না; ২. কাউকে গ্রেফতার দেখানোর সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে; ৩. গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে; ৪. গ্রেফতারকৃতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ আনবে পুলিশ; ৫. গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে পুলিশকে; ৬. বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যদি কাউকে আটক করা হয়, তাহলে আটক ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে; ৭. আটক ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে; ৮. জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের কাচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন; ৯. কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে; ১০. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে; ১১. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন।

বোর্ড যদি বলে, ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে; ১২. পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারেও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে; ১৩. পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয়, ওই ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা কি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে? নিশ্চয়ই না। এ কথা সবার স্মরণে রাখা প্রয়োজন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তি আদায় করা সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আর সংবিধান হচ্ছে এ দেশের সর্বোচ্চ আইন। তাই রিমান্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের যে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে মানা উচিত।

যদি পালন করা বা মানা না হয়, তাহলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। তবে এ কথা সত্য যে, অপরাধের ধরন বা প্রকৃতি বা মাত্রা অনুযায়ী অথবা বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে রিমান্ড দরকার হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ মামলার ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামির রিমান্ড চাচ্ছেন। একটি সভ্য সমাজে, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে রিমান্ড যেন কোনোভাবেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত না হয়, তা সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই সুনিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, রিমান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা আর আজকের রিমান্ডের বাস্তব চিত্রের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য, যা একটি সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। সুতরাং, বাস্তবতাসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট তথা সুপ্রিমকোর্ট যদি মনে করেন, এভাবে আর রিমান্ডে নিতে দেওয়া যাবে না; তাহলে কেবল সুপ্রিমকোর্টই পারেন এ প্রবণতা রোধ করতে।


ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু
বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি;
ভিজিটিং প্রফেসর,
লাইসিয়াম অব দ্য ফিলিপিন্স ইউনিভার্সিটি, ফিলিপাইন
kekbabu@yahoo.com

Source: https://www.jugantor.com

5
ডেঙ্গুর কোন ঔষধ নাই জিনিসটা মাথায় ঢুকিয়ে ফেলুন।


মূল চিকিৎসা হচ্ছে শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স ঠিক রাখা।

এইটা আপনি পারবেননা, কোন ফার্মেসির দোকানদার, টেকনেশিয়ান, ভন্ড চিকিৎসক, আপনার মহা জ্ঞানী প্রতিবেশী কেউই পারবেন না।
সুতরাং কারো পরামর্শে কিচ্ছু করবেন না। কোন ঔষধ খাওয়াও নিষেধ।

ফ্লুইড খাবেন বেশি করে, যেমন ডাবের পানি, বাসায় বানানো ফলের রস, লেবুর শরবত ইত্যাদি।

জ্বর এলেই Dengue Ns1 পরীক্ষাটা দ্রুত করে ফেলুন। জ্বরের পাঁচ দিনের মধ্যেই এই টেস্ট করতে হয়, পাঁচদিন কেটে গেলে এই টেস্ট নেগেটিভ আসে। তখন ডেংগু কনফার্ম করার জন্য অন্য টেস্ট করতে হয়।  তাই জ্বর এলে দেরি না করে সেদিনই NS1 করে ফেলুন) এবং অবশ্যই হেলাফেলা না করে ডাক্তার দেখান। পরামর্শ নিন।

ফোনে ইনবক্সের চিকিৎসা না, সিরিয়াস রোগী হোন।

আর নিজের বাসার কোথাও পরিস্কার পানি জমে থাকছে কিনা খেয়াল রাখুন।

প্রতিবেশীদেরকেও সতর্ক করুন।

ছাদে কোথাও পানি জমে থাকছে কিনা খেয়াল করুন।

কারো উপর নির্ভর করে আসলে কোন লাভ নেই।

নিজেদের কাজ নিজেদেরই করতে হবে এখন।

রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবেন যেভাবে
(ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারন রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া)
রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তজমাটে সাহায্য করে। ২০ হাজারের নিচে প্লাটলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। কোনো কারণে রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই প্লাটিলেটের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিছু খাবার আছে যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই সেসব খাবারের নাম।

পেঁপে এবং পেঁপে পাতা
পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।

মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ
মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

লেবুর রস
লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।

আমলকী
আমলকীতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

অ্যালোভেরার রস
অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা উপকারী। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

ডালিম
ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দুর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

Collected from Social Media.

6
ওয়াইফাইয়ের পর এবার আসছে লাইফাই

ওয়াইফাইয়ের তুমুল জনপ্রিয়তার দিন বুঝি এবার শেষ হতে চলল। তবে ভয়ের কারণ নেই, আসছে এর থেকেও সহজ ও উন্নত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি লাইফাই। বলা হচ্ছে, ৪ গিগাবাইট স্টোরেজের একটি সিনেমা ডাউনলোড করতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তাও আবার একটি বৈদ্যুতিক বাতির তলায় দাঁড়ালেই! বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এমনই এক প্রযুক্তি আসছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় স্টোরেজের গেম, সিনেমা সবই ডাউনলোড হবে চোখের পলকে। ডাটা আদান-প্রদানের নতুন এ মাধ্যম নিয়ে যুগান্তরের আজকের আয়োজনে প্রথম পর্বে বিস্তারিত লিখেছেন- তানভীর তানিম

লাইফাইয়ের পূর্ণরূপ লাইট ফিডেলিটি (Light Fidelity)। ২০১১ সালে স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের জার্মান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী হ্যারল্ড হ্যাস প্রথম ‘লাইফাই’ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এ প্রযুক্তিতে আলোর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে। যেখানে ওয়াইফাইয়ে ব্যবহৃত হয় অদৃশ্য বেতার তরঙ্গ।

যেহেতু লাইফাই ওয়াইফাইয়ের তুলনায় বেশি ব্যান্ডউইথ, ব্যবহারের সহজতা, দক্ষতা এবং সুরক্ষার মতো অনেক সুবিধা দেয়। তাই এ প্রযুক্তি একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলের উচ্চ গতির ওয়্যারলেস যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, লাইফাই নামক এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ট্রিট লাইট থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের অটোমেটিক প্রযুক্তির গাড়িও হেডলাইটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। আলোর গতি যেহেতু অনেক দ্রুত তাই এ ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের গতিও খুব দ্রুত হয়। একইসঙ্গে ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী প্রযুক্তি হতে পারে লাইফাই। ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে, বাসায় ব্যবহৃত এলইডি লাইট একই সঙ্গে ঘরকে আলোকিত করছে এবং ঘরের ভেতরে লোকাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে অবদান রাখছে। এমনকি বাড়ির প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতিকেই লাইফাই প্রযুক্তির রাউটার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

লাইফাই প্রযুক্তি কী?

ওয়াইফাইয়ের মতোই লাইফাই একটি ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি। এটি ভবিষ্যতে বহুল ব্যবহৃত ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো পুরোপুরি নেটওয়ার্কযুক্ত, দ্বিপাক্ষিক এবং উচ্চ গতির ওয়্যারলেস কানেকশন।

আজকাল ওয়্যারলেস যোগাযোগের সর্বাধিক ট্রেন্ডিং ডোমেন হলো ওয়াইফাই। প্রতি বছর এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আর এরচেয়েও উচ্চগতি, দক্ষতা, ব্যান্ডউইথ প্রাপ্তির সুবিধা থাকবে লাইফাইয়ে।

যেভাবে কাজ করে লাইফাই

এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এলইডি বাতি ব্যবহার করে সহজেই ডেটা আদান-প্রদান করা যাবে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এমনকি হাতের মুঠোফোনটিতেও। লাইফাইয়ের ডেটা ট্রান্সমিশন রেঞ্জ ওয়াইফাইয়ের চেয়ে ১০০ গুণ দ্রুত। এ প্রযুক্তিতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২২৪ গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্য প্রেরণ করা যায়, যেখানে ওয়াইফাইয়ের সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০০ মেগাবাইট। তবে এ প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আলো কোনো দেয়াল ভেদ করে যেতে পারে না। ফলে যে ঘরে লাইফাই নেটওয়ার্ক রয়েছে সে ঘরটি ত্যাগ করলেই গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে একে লাইফাইয়ের সীমাবদ্ধতা হিসাবে নয়, সুবিধা হিসাবেই দেখছেন অনেকে। এর ফলে আবদ্ধ একটা জায়গাতে সীমাবদ্ধ থাকবে এর সিগন্যাল। সুতরাং আলোর মাধ্যমে সম্প্রচারিত ডেটা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। পাসওয়ার্ড চুরি করে আর কেউ সেটা ব্যবহার করতে পারবে না।

লাইফাইয়ের ব্লক ডায়াগ্রাম

লাইফাই সিস্টেমে মূলত দুটি অংশ থাকে। ট্রান্সমিটার ও রিসিভার। ট্রান্সমিটার বিভাগে ইনপুট সিগন্যালটি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে মডিউল করা যায়। তারপর ০ ও ১ এর আকারে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করে ডেটা প্রেরণ করে। এখানে এলইডি বাল্বের আলোকে ০ এবং ১ এর সঙ্গে বোঝানো হয়েছে। রিসিভার প্রান্তে এলইডি আলো গ্রহণের জন্য একটি ফটোডায়োড ব্যবহার করা হয় যা সিগন্যালটিকে আরও শক্তিশালী করে এবং আউটপুট দেয়। অন্যদিকে, রিসিভার প্রান্তে ফটোডায়োডের পাশাপাশি এমপ্লিফায়ারও থাকে। এখানে, ফটোডায়োড এলইডি বাল্ব আলোকে গ্রহণ করে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে। সবশেষে অ্যামপ্লিফায়ার ফটোডায়োড থেকে সংকেত গ্রহণ করে এবং তার আরও শক্তিশালী আউটপুট দেয়।

Source: Daily Jugantor.

7
Smartphone / Find out Your Smart Phone while it is lost during Silent Mood
« on: September 04, 2021, 01:07:42 PM »
সাইলেন্ট করা মোবাইল হারিয়ে ফেললে কীভাবে তা খুঁজে পাবেন?
Find out Your Smart Phone while it is lost during Silent Mood


🤫 আপনার মোবাইলটি সাইলেন্ট অবস্থায় হারিয়ে ফেলেছেন। খুঁজে পাচ্ছেন না কোথাও। এমন ঘটনা প্রায়ই আমাদের সঙ্গে হয়ে থাকে। ফোন যদি সাইলেন্ট মোডে থাকে তাহলে ফোন খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

🤷🏻 সাইলেন্ট করা মোবাইল হারিয়ে ফেললে কীভাবে তা খুঁজে পাবেন?

১. প্রথমে অন্য কোনও মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে গুগল-এর ওয়েবসাইটে যান।
২. সেখানে সার্চ বারে লিখুন ‘ফাইন্ড মাই ফোন’।
৩. তারপর গুগল অ্যাকাউন্ট বা জিমেইল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন।
৪. নিজের মোবাইলের লোকেশন দেখতে পাবেন গুগল-এ।
৫. এরপর আপনার সামনে অপশন আসবে, যেটির মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ম্যানেজারটি ‘অন’ করে দিতে পারবেন।
৬. এবার ‘রিং’ অপশনটিকে সিলেক্ট করুন।
৭. আপনার ফোন সাইলেন্ট মোডে থাকলেও সেটি ফুল ভলিউমে রিং হতে শুরু করবে এবং যতক্ষণ না আপনি ফোনটিকে খুঁজে বের করে তার পাওয়ার বাটনটি চেপে ধরছেন, ততক্ষণ ফোন রিং হতেই থাকবে। এবার সেই আওয়াজ অনুসরণ করে ফোনটিকে খুঁজে বের করা কোনও ব্যাপারই নয়।

Source: Social  Media.

8
ভালো শেয়ার নির্বাচনের ১০ উপায়

প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর একটি সাধারণ লক্ষ্য থাকে পূঁজি নিরাপদ রেখে নিশ্চিত মুনাফা করা। সেজন্য বিনিয়োগের জন্য ভালো শেয়ার বাছাই করতে হয়। ভালো শেয়ার বাছাই করার আগে বিনিয়োগকারীদের জানতে হবে কোম্পানির অতীত ও বর্তমান ইতিহাস, এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের ব্যবসায়িক সততা, দক্ষতা, কোম্পানির বাজার পরিধি।

আমরা আমাদের আজকের ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নের ১০টি লক্ষণ বিবেচনা করবো।

১। ভাল প্রবৃদ্ধিঃ আমাদেরকে প্রথমেই ভালো প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে হবে। তারপর কোম্পানির গত ৫ বৎসরের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে কিনা দেখবো। আমাদেরকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে হবে, তা হলো কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ। কারণ দক্ষ পর্ষদ একটি কোম্পানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানী যে সব পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কি এবং কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির PE রেশিও, RSI, Growth in operating profit, NPAT, এবং EPS দেখলেই আমরা নিজেরাই ভাল কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে পারবো।

২। কম দায়ঃ আমাদেরকে কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোম্পানির দায়। এই দায় কোম্পানির লাভ খেয়ে ফেলে। ফলে প্রতিষ্ঠান ভাল ব্যবসা করলেও ঋণ দায়ের কারণে ভালো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারে না। অবশ্যই কোন কোম্পানির দায় .৫০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। যদি হয় তাহলে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। বড় বাজারঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের টার্গেট কতটা বড় খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিটি মোট মার্কেটের কতো শতাংশ হোল্ড করে তা দেখতে হবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাজার কতো বড় হতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ব্যবসায় আগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে।

৪। উচ্চ রিটার্নঃ আমাদেরকে সর্বদা উচ্চ রিটার্ন দেওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব কোম্পানি গত ৫ বৎসর যাবৎ ভালো ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নিচের পদ্ধতিগুলো দেখে বুঝতে হবে কোনটি High Return দেওয়া কোম্পানি।

ক. Return on Equity (ROE): এর ক্ষেত্রে অনুপাত ১০ বা তার বেশি হওয়া উচিত।

খ. Return on Asset (ROA): এই পদ্ধতিতে কোম্পানির বর্তমান সম্পদ ভিত্তিক রিটার্ন কী জানা যায়। মোট আয়কে মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়। একটি কোম্পানি মোট সম্পত্তির তুলনায় কতটা লাভজনক তার সূচক। এ সূচক যত বেশী হবে কোম্পানির অবস্থা ততো ভালো।

৫। যোগ্য নেতৃত্ব্ঃ আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারা কোম্পানিটি পরিচালনা করছে। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের কারণে কোম্পানিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। নেতৃত্বের সঙ্কটে থাকা কোম্পানিগুলো কখনো ভালো ফলাফল দিতে পারে না।

৬। প্রতিযোগিতাঃ বিনিয়োগের পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগী কারা কারা রয়েছে। পূর্ণ প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভাল গুনগতমান সম্পন্ন পণ্যের ও পণ্যের ডাইমেনশন নিয়ে ভাবতে হবে। নির্বাচিত পণ্যের Advantage গুলি কী কী আছে তা বের করে দেখতে হবে তার বাজার সম্ভাব্যতা।

৭। পরিচালকদের মালিকানার অনুপাতঃ কোম্পানির ডিরেক্টরদের অবশ্যই ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারন করতে হবে। তাহলেই কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর পরিচালকদের মালিকানা কম হলে সে কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

৮। সেক্টর নির্বাচনঃ ভবিষ্যতে কোন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

৯। নগদ প্রবাহ ও দায়ঃ আমাদেরকে অবশ্যই কম দ্বায় সম্পন্ন অর্থাৎ ০.৫০ শতাংশ শতাংশের কম Loan বা দায় গ্রহনকারী কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সকল কোম্পানির দায় বেশী তাদের লাভ থেকে ঋণের সুদ বেশী খরচ হয়ে যায়। যে সকল কোম্পানির নগদ প্রবাহ বেশী তারা অন্যান্য কোম্পানির থেকে অনেক বেশী স্থিতিশীল হয়।

১০। অবমুল্যায়িতঃ আমাদেরকে অবশ্যই অবমুল্যায়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। নিন্মোক্তভাবে অবমুল্যায়িত কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবেঃ

ক. Price Earning Ratio (PE Ratio): পিই রেশিও ১৫ বা তার আশেপাশে থাকা স্টকগুলো নির্বাচন করতে হবে।

খ. Price to Book Value ( PB Ratio): শেয়ারের ক্রয় মূল্য যেন কোনভাবেই NAV এর তিন গুনের বেশী না হয়।

গ. Price earning to Growth (PEG): কোম্পানির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৫ এর উর্ধে কোম্পানির স্টক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পিই রেশিও ১০ এর মধ্যে থাকলে ভালো। ওয়ারেন বাফেট বলেন “১৫ পিই রেশিও এর উর্ধে্র শেয়ারে বিনিয়োগ কখনও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।” বিনিয়োগকারী হিসেবে সফলতা পেতে হলে সকল পুঁজি একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভাল কোম্পানি নির্বাচন পূর্বক বিনিয়োগই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

লেখক:
মোঃ শাহ্ নেওয়াজ মজুমদার
শিক্ষক ও কলামিস্ট

Source: https://www.sharenews24.com/article/37248/index.html

9
চাঙ্গা বাজারে ভালো শেয়ার নির্বাচনের উপায়

অনেক চড়া-উৎেরাই পেরিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে অবশেষে চাঙ্গাভাব ফিরেছে। রমরমা এই বাজারে কয়েক গুণ বেড়েছে অনেক শেয়ারেরই দাম। কিন্তু আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের অবস্থা যখন খারাপ হয় তখন তারা শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবার যখন শেয়ার দর অতি মূল্যায়িত হয় তখন আমাদের দেশের ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী (সম্ভবত আরো বেশি) শেয়ার কেনার কথা ভাবা শুরু করেন! একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বর্তমানে বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারই অতিরিক্ত দামে লেনদেন হচ্ছে।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানি শেয়ার নিয়ে আমাদের দেশের শেয়ারবাজারে কারসাজি বেশি হয়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারসাজি চক্র বাজারকে ম্যানুপুলেট করার জন্য এসব কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করে। পরবর্তীতে তাদের স্বার্থ হাসিলের পর তারা সব শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে সটকে পড়ে। তখন বিপদে পড়েন মৌসুমী ও স্বল্প অভিজ্ঞতার বিনিয়োগকারীরা।

ঠিক এসময়টাতেই আমাদের দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়তে দেখে সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে। আর একই সময়ে কারসাজি চক্র সেসব শেয়ার থেকে বের হয়ে যায়। পরিণতিতে বাজার আবারও পতনের ধারায় ফিরে আসে। এতে বিনিয়োগকারীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শেয়ারবাজারের প্রতি তাদের ধারণা পাল্টাতে থাকে।

কিছুকাল ধরে দেশের শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব ধরনের বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা যার যতটুকু সাধ্য তা নিয়ে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারপরও কোথাও যেনো একটি গলদ থেকে যাচ্ছে এবং বাজার উঠতে গেলেই একটি অদৃশ্য শক্তি সূচকের পেছন থেকে নিচের দিকে টেনে ধরে।

মূলত এই অদৃশ্য শক্তিটিই ১৯৯৬ সালে রাস্তার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নিয়ে খেলা করেছে। সেই একই শক্তি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে আবার ২০১০ সালে শেয়ারবাজারকে অনেক পেছনে ফেলেছে। অনেকেরই সন্দেহ সরকারের যাবতীয় নীতি সহায়তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ উদারনীতি নিয়ে বাজার ওঠানোর এত চেষ্টার পরও ওই শক্তিটিই এখন স্বল্প মুলধনী কোম্পানিগুলোকে নিয়ে এমন খেলাধুলা শুরু করেছেন। যাতে করে শেয়ারবাজার আর কিছুতেই সামনের দিকে এগোতে না পারে। মূলত ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ে বিপর্যস্ত বাজারে যতবার আশার আলো দেখা গেছে এই চক্রটির কারণেই সেই আলো আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

ধারনা করা হচ্ছে স্বলমূলধনী কোম্পানিগুলোই হচ্ছে ওই গ্রুপটির বর্তমার সময়ের টার্গেট। আর কোন কিছু না বুঝেই সেই টার্গেটের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ও কম অভিজ্ঞতার বিনিয়োগকারীরা।

এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেস্বর) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির সার্বিক অবস্থা যাচাই ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গঠিত কমিটিকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দাখিল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গঠিত কমিটিকে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য কারণীয় নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা বিএসইসি উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অতিমূল্যায়িত বা Overpriced শেয়ার কিনে যাতে আমরা বেকায়দায় না পড়ি, সেজন্য কিছু পরামর্শ আমরা অনুসরণ করতে পারি-

১। ভাল প্রবৃদ্ধিঃ আমাদেরকে প্রথমেই ভালো প্রবৃদ্ধির কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে হবে। তারপর কোম্পানির গত ৫ বৎসরের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে কিনা দেখবো। আমাদেরকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখতে হবে, তা হলো কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদ। কারণ দক্ষ পর্ষদ একটি কোম্পানিকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানী যে সব পণ্যের উৎপাদন বা ব্যবসা করে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কি এবং কেমন হতে পারে তা অনুমান করতে হবে। এছাড়াও কোম্পানির PE রেশিও, RSI, Growth in operating profit, NPAT, এবং EPS দেখলেই আমরা নিজেরাই ভাল কোম্পানিগুলো শনাক্ত করতে পারবো।

২। কম দায়ঃ আমাদেরকে কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোম্পানির দায়। এই দায় কোম্পানির লাভ খেয়ে ফেলে। ফলে প্রতিষ্ঠান ভাল ব্যবসা করলেও ঋণ দায়ের কারণে ভালো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারে না। অবশ্যই কোন কোম্পানির দায় সম্পদের বেশি হওয়া যাবে না। যদি হয় তাহলে বিনিয়োগ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

৩। বড় বাজারঃ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের টার্গেট কতটা বড় খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিটি মোট মার্কেটের কতো শতাংশ হোল্ড করে তা দেখতে হবে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বাজার কতো বড় হতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ব্যবসায় আগ্রগতি তার উপর নির্ভর করে।

৪। উচ্চ রিটার্নঃ আমাদেরকে সর্বদা উচ্চ রিটার্ন দেওয়া কোম্পানিগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব কোম্পানি গত ৫ বৎসর যাবৎ ভালো ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে। নিচের পদ্ধতিগুলো দেখে বুঝতে হবে কোনটি High Return দেওয়া কোম্পানি।

ক. Return on Equity (ROE): এর ক্ষেত্রে অনুপাত ১০ বা তার বেশি হওয়া উচিত।

খ. Return on Asset (ROA): এই পদ্ধতিতে কোম্পানির বর্তমান সম্পদ ভিত্তিক রিটার্ন কী জানা যায়। মোট আয়কে মোট সম্পদ দ্বারা ভাগ করে বের করতে হয়। একটি কোম্পানি মোট সম্পত্তির তুলনায় কতটা লাভজনক তার সূচক। এ সূচক যত বেশী হবে কোম্পানির অবস্থা ততো ভালো।

৫। যোগ্য নেতৃত্ব্ঃ আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারা কোম্পানিটি পরিচালনা করছে। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের কারণে কোম্পানিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। নেতৃত্বের সঙ্কটে থাকা কোম্পানিগুলো কখনো ভালো ফলাফল দিতে পারে না।

৬। প্রতিযোগিতাঃ বিনিয়োগের পূর্বে আমাদেরকে জানতে হবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগী কারা কারা রয়েছে। পূর্ণ প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভাল গুনগতমান সম্পন্ন পণ্যের ও পণ্যের ডাইমেনশন নিয়ে ভাবতে হবে। নির্বাচিত পণ্যের Advantage গুলি কী কী আছে তা বের করে দেখতে হবে তার বাজার সম্ভাব্যতা।

৭। পরিচালকদের মালিকানার অনুপাতঃ কোম্পানির ডিরেক্টরদের অবশ্যই ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারন করতে হবে। তাহলেই কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আর পরিচালকদের মালিকানা কম হলে সে কোম্পানির গ্রোথ ভালো হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

৮। সেক্টর নির্বাচনঃ ভবিষ্যতে কোন খাতে ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

৯। নগদ প্রবাহ ও দায়ঃ আমাদেরকে অবশ্যই কম দ্বায় সম্পন্ন অর্থাৎ ০.৫০ শতাংশ শতাংশের কম Loan বা দায় গ্রহনকারী কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে যে সকল কোম্পানির দায় বেশী তাদের লাভ থেকে ঋণের সুদ বেশী খরচ হয়ে যায়। যে সকল কোম্পানির নগদ প্রবাহ বেশী তারা অন্যান্য কোম্পানির থেকে অনেক বেশী স্থিতিশীল হয়।

১০। অবমুল্যায়িতঃ আমাদেরকে অবশ্যই অবমুল্যায়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। নিন্মোক্তভাবে অবমুল্যায়িত কোম্পানির শেয়ার নির্বাচন করতে হবেঃ

ক. Price Earning Ratio (PE Ratio): পিই রেশিও ১৫ বা তার আশেপাশে থাকা স্টকগুলো নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শেয়ারের পিই যতো বেশি হবে, ঝুঁকিও ততো বেড়ে যাবে। আর লোকসানি বা নেগেটিভ পিই রেশিওর শেয়ার অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। যদি না চলেন, তাহলে ভাববেন আপনি হাতে আগুণের ফুলকি নিচ্ছেন। যা আপনার হাততে পোড়াবেই।

খ. Price to Book Value ( PB Ratio): শেয়ারের ক্রয় মূল্য যেন কোনভাবেই NAV এর তিন গুনের বেশী না হয়। শেয়ারের মূল্য সম্পদ মূল্যে কাছাকাছি থাকাটা সবচেয়ে নিরাপদ। মনে রাখতে হবে, শেয়ারের মূল্য সম্পদ মূল্যের অনেক বেশি হলে, তা অবশ্যই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

গ. Price earning to Growth (PEG): কোম্পানির শেয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৫ এর উর্ধে কোম্পানির স্টক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পিই রেশিও ১৫ এর মধ্যে থাকলে ভালো। ওয়ারেন বাফেট বলেন “১৫ পিই রেশিও এর উর্ধে্র শেয়ারে বিনিয়োগ কখনও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।” বিনিয়োগকারী হিসেবে সফলতা পেতে হলে সকল পুঁজি একটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভাল কোম্পানি নির্বাচন পূর্বক বিনিয়োগই আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

Source: https://www.sharenews24.com/article/39265/index.html

10
স্ট্রোক সাধারণত বাথরুমেই বেশি হয়ে থাকে কেন?


স্ট্রোক সাধারণত বাথরুমেই বেশি হয়ে থাকে কারন,বাথরুমে ঢুকে গোসল করার সময় আমরা প্রথমেই মাথা এবং চুল ভেজাই যা একদম উচিৎ নয়। এটি একটি ভুল পদ্ধতি।

এইভাবে প্রথমেই মাথায় পানি দিলে রক্ত দ্রুত মাথায় উঠে যায় এবং কৈশিক ও ধমনী একসাথে ছিঁড়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ ঘটে স্ট্রোক অতঃপর মাটিতে পড়ে যাওয়া.
কানাডার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোকের কারণে যে ধরনের ঝুঁকির কথা আগে ধারণা করা হতো, প্রকৃতপক্ষে এই ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও ভয়াবহ।

বিশ্বের একাধিক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, গোসলের সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, গোসল করার সময় কিছু নিয়ম মেনে গোসল করা উচিত।

সঠিক নিয়ম মেনে গোসল না করলে হতে পারে মৃত্যুও। গোসল করার সময় প্রথমেই মাথা এবং চুল ভেজানো একদম উচিৎ নয়। কারণ, মানুষের শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হয়ে থাকে। শরীরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় প্রথমেই পানি দিলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের গতি বহু গুণ বেড়ে যায়। সেসময় বেড়ে যেতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

তা ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপের ফলে মস্তিষ্কের ধমনী ছিঁড়ে যেতে পারে।

#গোসলের সঠিক নিয়মঃ-
প্রথমে পায়ের পাতা ভেজাতে হবে।
এরপর আস্তে আস্তে উপর দিকে কাঁধ পর্যন্ত ভেজাতে হবে।
তারপর মুখে পানি দিতে হবে।
সবার শেষে মাথায় পানি দেওয়া উচিত।

এই পদ্ধতি যাদের উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং মাইগ্রেন আছে তাদের অবশ্যই পালন করা উচিৎ।

এই তথ্যগুলো বয়স্ক মা-বাবা এবং আত্মীয় পরিজনদের অবশ্যই জানিয়ে রাখুন।

Collected from Social Media.

11
Anti-money laundering mechanisms versus the reality of Bangladesh


The growth in money laundering has become a serious threat to Bangladesh’s rising economy, hindering economic good governance and social justice

According to Global Financial Institute (GFI) - a Washington-based think tank - $61.6 billion was siphoned out of Bangladesh between 2005 and 2014. In 2015 alone, about $5.9 billion was laundered out of the country. The GFI reveals that on an average, $7.53 billion is laundered each year and accordingly from 2016 to 2020, around USD 37.65 billion has been laundered.

The GFI ranked Bangladesh among the top 30 countries globally with around 20% of its international trade value being siphoned out of the country every year. The alleged hot spots are the UK, USA, Canada, Saudi Arabia, Singapore, Malaysia, Switzerland, Thailand, Australia, Hong Kong and so on.     

Unsurprisingly, the exponential growth in money-laundering has become a serious threat to Bangladesh's rising economy, hindering economic good governance and social justice. It has turned into a safe avenue for white-collar criminals, i.e., business tycoons, corrupt politicians, public officials and their criminal enterprises.

Individuals and institutions with such heinous criminal records are politically and socially influential, roaming freely without remorse, which is enabled by questionable political dynamics as well as deplorable enforcement of legal norms in curbing such offence. 

According to an annual report 2020 of the Basel Institute of Governance, a not-for-profit Swiss Foundation under Basel University, Bangladesh is among the top 40 countries in the world in terms of risk for money laundering and terrorist financing.

The country ranked 38th among 141 countries on the Basel Anti-Money Laundering Index of 2020. Moreover, the US-based International Consortium of Investigative Journalists (ICIJ) published - in the Panama Papers in 2016 and the Paradise Papers in 2017 - a long list of Bangladeshi money launderers. Bangladeshi media also reported many names of money launderers at various times.

The Swiss National Bank (SNB) in its annual report on 17 June this year, disclosed deposits of Bangladeshi nationals totalling CHF (Swiss Francs) 563 million or about BDT 52.15 billion. In South Asia, Bangladesh is in the third position in deposit lists next to India and Pakistan. In Switzerland, as per section 47 of the Federal Act on Banks and Savings Banks, 1934, the confidentiality of individual depositors is strictly maintained and consequently, no name of any depositor is disclosed.

The GFI focuses on four ways of money laundering, namely, over-invoicing of imported goods, under-invoicing of exported products, Hundi, and Voice Over Internet Protocol (VOIP) business.

Major underlying factors accommodating money laundering include, undue political influence of the launderers, a poor environment for investment, massive corruption in the governance system, absence of rule of law, poor public transparency and accountability, inefficiency in surveillance of the state apparatus, lack of coordination among responsible institutions, as well as lack of enforcement of existing laws.

It also points out that 80% of total money laundering from Bangladesh is Trade-Based Money Laundering (TBML) due to over and under-invoicing. Another study finds weaker national mechanisms for the criminal justice system, the financial regulatory system and transnational collaboration may keep anti-money laundering authorities dysfunctional.   

Finance Minister AHM Mustafa Kamal in a national parliamentary session on June 7, 2021, said that he does not have the list of money launderers pointing to the notion that some people launder money out of excessive greed for wealth while others are criminal by nature. To combat money laundering, he should take a serious stance as part of the ministerial oath, and guide the concerned regulatory bodies proactively so that they remain hawk-eyed and result oriented.

Bangladesh was the first country in South Asia to enact the Money Laundering Prevention Act, 2002 as part of advice of the G7 based Financial Action Task Force (FATF), an intergovernmental body formed in 1989 to combat money laundering and financing of terrorism. In 2008, the Money Laundering Prevention Ordinance was promulgated.

Again the Money Laundering Prevention Act (MLPA), 2012 was enacted repealing the Ordinance. Still, there are scanty penal provisions under the law. Section 4(2) stipulates punishment from four to 12 years of imprisonment along with a two-fold fine of property value or Tk2 million (previously Tk1 million). Section 17(1) provides a provision for confiscation of property within or outside the country subject to conviction by the court. 

Under the MLPA, 2012, the Bangladesh Financial Intelligence Unit (BFIU) was formed as a key authority replacing the Anti-money Laundering Department under the Bangladesh Bank (BB) to deal with money laundering-related crimes.

Nevertheless, the MLPA, 2012 was amended in 2015 to empower the National Board of Revenue (NBR), Anti-corruption Commission (ACC), Criminal Investigation Department (CID), and other entities like the Customs Intelligence and Investigation Directorate (CIID), Department of Narcotics Control (DNC), Department of Environment (DoE) and Security and Exchange Commission (SEC) to investigate certain money laundering cases.

There is also a Money laundering Prevention Rules, 2019 which has categorised 27 types of corruption relating to money laundering. On 10 March, 2021, the Finance Ministry issued an Order based on the Foreign Exchange Regulation Act, 1947 to impose seven years of imprisonment for the wrong declaration on exports, imports and investment abroad by businessmen. The Order will remain effective until December 2026. 

Theoretically, there is hue and cry about zero tolerance of corruption, money laundering and other financial crimes. In practice, however, no sustained initiatives or actions are paving the way for good economic governance and rule of law.

About 408 money laundering cases are pending in various courts. There is no visible success of the BFIU, ACC and NBR in bringing back the laundered money, underscoring the need for the enhancement of their capability, skills, and professionalism along with institutional autonomy.

Notably, Bangladesh as a founding member of the 1997 Asia Pacific Group (APG), an anti-money laundering body consisting of 41 members and several international and regional observers - including the United Nations (UN), World Bank (WB) and International Monetary Fund (IMF) - can take concerted initiatives to control money laundering. Similarly, stringent compliance of the 40 recommendations suggested by the G7 based FATF can be a handy way out in restraining money laundering and terrorist financing.

Furthermore, the UN Convention against Corruption (UNCAC), 2003 in which Bangladesh has been a state party since 2007 can be an opportunity to seek help from destination member countries to recover stolen assets.

Since 2013, Bangladesh as a member of the Egmond Group, can pursue international cooperation to make ends meet. The Egmond Group is a global body formed in 1995 to fight money laundering and other financial crimes with Financial Intelligence Units (FIUs) in 166 member nations under respective central banks.

From Henry Kissinger's basket case, the economy of Bangladesh has risen to a new height over the last five decades and now the country has the 37th largest economy in nominal terms and the 31st based on Purchasing Power Parity (PPP). The economy will be booming faster if the country can control money laundering successfully.

The only success of the recovery of a small portion of laundered money was from Singapore during the FY 2007-2008 by the military-backed caretaker government. Yet, we hope that good sense will prevail among the rulers so that they take timely action to bring perpetrators to justice soon.

Writer:

Emdadul Haque is an Independent Human Rights Researcher and Freelance Contributor based in Dhaka. Email: ehaqlaw@gmail.com and Twitter: @emdadlaw

Dr Kudrat-E-Khuda Babu is an Associate Professor and Head of the Law Department at Daffodil International University, Bangladesh. He can be reached at: kekbabu@yahoo.com 

Source: https://www.tbsnews.net/thoughts/anti-money-laundering-mechanisms-versus-reality-bangladesh-291793#.YSQ3lt9uax0.twitter

12
Air Force / Thoughts on Aerospace Related Industries
« on: August 24, 2021, 02:50:32 PM »
Thoughts on Aerospace Related Industries


Question:  Why would a big Aerospace Company come?

There is no market. No skilled manpower, political situation uncertain, business is unfriendly.

Not feasible, as Bangladesh is too small. Financially not profitable.  Assembling and making is not the same thing.

Let us wait for the answer to come as we explore some developments and take a few things into consideration.

-Bangladesh is rapidly progressing with 6 plus GDP in the last decades. It has now a median age of 27.6 and around 118 m semi-skilled young computer literate people are coming out in the next decade. (Presentation of BIDA). HRD is now geared up with the education institutes and the pairing up of the industries. The coming up of the Aerospace University is another one who would have EASA recognition. The software business is also growing. BSMRAAU has signed an Agreement with AirBus to develop and ensure quality for EASA certification.

-The preponderance of young people gives us the Demographic Dividend. Japan, China, and Europe are aging. Next 10 years they would be shrinking, not only population wise but also marketwise (naturally). Factories there will need migrant workers and market expansion to places where the economy is growing. Many developed countries would rather keep migrants outside while they take the profit. This could be one scenario. (Canada is welcoming Immigrants like Germany)

-There are around 10 million plus Bangladeshis abroad. Unofficially more. While they live and raise children they are likely to visit their roots. While they travel to and from Bangladesh, many others also would do the same through Bangladesh. Because, we have bigger runways and it will be easier. For example, Nepal, Bhutan, Tripoura and other States of India. Moreover Bangladesh is coming up with a deep sea port and the distance to Chattagram port from Guahati is much shorter than Kolkata.  If India China cooperates, the distance to port from Chendu is shortest if Chittagong or Mongla is used. We have a dozen plus runways of 5000 ft plus, of them, if we renovate a few, we have the possibility of becoming a connectivity hub. Aerospace industries need runways. We have. In short, we can be, as per the guidance of our honorable Prime Minister a Hub of Connectivity for East and West. And we can use the disused runways for growth of aviation related industries/plants/factories.

-Now where is the market? Where is the market in Singapore?
There is 100 Boeing 777 converted to cargo version in ST Corporation. They have the branding and the reputation and the market is the whole world. So, we have to build up the reputation, by own innovation, R&D, ingenuity, and that means leap frogging. We do not have to re-invent the wheel. And we may even tap on our vast experts all over the world. NRB (Non resident Bangladeshis). We can even go in WRAP speed by by-passing some of the wrong stages that the westerners took and brought about the Climate Change. We side step the bad patches and go full speed green. Catch the Band Wagon of 4th Industrial revolution. Means we must be putting forward the appeal of Eco-friendly Industrialization.  And strength is the youngsters coming of age. However, the demographic dividend would be of a small window of 20 to 30 years as we are coming to a halt in our population GROWTH RATE. {2.1%}

-Initial start-up has to be with partnership. It does not come free from nothing. Every asset acquisition and procurement need to be connected with offsets and counterbalance. (Like Indonesia). It could be joint ventures. But the bottom-line is to have deals that bring in the knowhow and the technologies, not by force, but by and because it would be beneficial for those coming. Win win. The companies coming could make products competitive, and by virtue of readily available skilled and semi- skilled workforce generated by the synergistic effect of working together between the Education Institutions and the Industries and now the military. A bigger dimension of PPP. What we should do, we need to project and point out the possibilities. How? by branding, by advertising, by expositions and exhibitions, like AIR SHOW.

-Political stability is a matter of convenience, once economic development becomes the top priority. All concerned would be tolerant, accommodative as necessary due the requirement of nation building. Well that's my belief. Reason all will be the winner, no loser.

-Post COVID World Scenario
US China bashing has increased, spectre of conflict heightened by the Jewish settlement renewals. The India China media debate goes on and increasing dominance of China is prominent in Africa and the rest of the third world. China has developed Aircraft Carrier and exercising its might where needed. Russia adds with the flexing of military might also by steaming trough the English channel. Thus many western investors who went to China, now desires to go somewhere else. Moreover they understand the Chinese market will eventually shrink due to aging population. Laos, Veitnam Cambodia are catching up. Why not us. The world is moving more to e business and BLOCK CHAIN. Negative Interest Rate NIR is setting in. A new world order of economic parity and more humane green regime may be in the offing. We only need to go and venture boldly.

-Points to Ponder on Vision 2041 and Delta Plan

Our HPM's Vision 2041 envisages that we will be a developed country. As we have already attained the criteria to graduate from LDC to middle income developing country status, we feel elated. However our leaning on Agro sector and services sector added with enhanced remittance flow alone will not be sufficient to take us there. We would need Industrialization. (In 2019, the writer was talking to Mahatir Muhammad where he emphasized and said so). Of course it has to be eco-friendly. And what else could be more value added than Aerospace related products and services. Today, a big chunk of the aviation travel market is taken away by outside airlines; our fleet goes abroad to perform routine maintenance. We could with little skill in negotiation get into the business of MRO (maintenance repair organization) in our country. And with the marketing of branded world class aviation companies we should be able to be competitive as well as look after our own requirements which are very less now. To be a Connectivity Hub, we need to expand our Flag Carrier. The input in the national carrier would be a greater output in branding Bangladesh. That Branding will get other products to market. From low end products we need to transit to high end value added products. This is more important as we do not have minerals or oil. Remittance could take us up to a certain point from where we have to step into the world of our own innovations through extensive R&D and building up a society of learned skilled people. The learning and the degree should be merged with the needs of the industries. Synergy should be developed through PPP.

-   Unfortunately we only recently have been able to put up our satellite, though back in 1974 Banghabandhu established Betbunia ground station. SPARSO do not have a space program to help in shaping and modifying our DELTAPLAN. It has to have a space orientation and the outlook need to be in detail as to how we derive maximum benefit from space research and exploration in 2100.

-   Only by imitation and by integrating others product we may not be attaining the lofty goal of 2041, but if we add along, our own innovation and ingenuity and technological developments with inventions getting Patented IPR, we are most likely to reach far better way and be a society knowledge based having empathy, happy and having understanding of people's emotions/pain and above all HUMANE.

Writer:


Air Chief Marshal Masihuzzaman Serniabat, BBP, OSP, ndu, psc
Former Chief of Air Staff, Bangladesh Air Force

13
Science Discussion Forum / MS Word Keyboard
« on: August 24, 2021, 09:26:33 AM »
MS Word Keyboard -এর শটকার্ট ব্যবহারঃ
===========================
1. Ctrl + A = সিলেক্ট অল। (All Select)
2. Ctrl + B = টেক্সট বোল্ড। (Bold)
3. Ctrl + C = কোন কিছু কপি করা। (Copy)
4. Ctrl + D = ফন্ট পরিবর্তনের ডায়ালগ বক্স প্রদর্শন করা।
5. Ctrl + E = সেন্টার এলাইনমেন্ট করা।
6. Ctrl + F = কোন শব্দ খোঁজা বা প্রতিস্থাপন করা। (Find World)
7. Ctrl + G = গো টু কমান্ড।
8. Ctrl + H = রিপ্লেস কমান্ড। (Replace)
9. Ctrl + I = টেক্সট ইটালিক। (Italic)
10. Ctrl + J = টেক্সট জাস্টিফাইড এলাইনমেন্ট করা। (Justify)
11. Ctrl + K = হাইপারলিংক তৈরী করা। (Hyperlink)
12. Ctrl + L = টেক্সট লেফট এলাইনমেন্ট করা। (Left Align)
13. Ctrl + M = ইনভেন্ট দেয়ার জন্য।
14. Ctrl + N = নতুন কোন ডকুমেন্ট খোলার জন্য। (New File)
15. Ctrl + O = পূর্বে তৈরী করা কোন ফাইল খোলার জন্য। (File Open)
16. Ctrl + P = ডকুমেন্ট প্রিন্ট। (Print)
17. Ctrl + Q = প্যারাগ্রাফের মাঝে স্পেসিং করার জন্য।
18. Ctrl + R = টেক্সটকে রাইট এলাইনমেন্ট করা। (Right Align)
19. Ctrl + S = ফাইল সেভ। (Save)
20. Ctrl + T = ইনডেন্ট পরিবর্তন করার জন্য।
21. Ctrl + U = টেক্সট আন্ডারলাইন।(Underline)
22. Ctrl + V = টেক্সট পেষ্ট করার জন্য।(Paste)
23. Ctrl + W = ফাইল বন্ধ করার জন্য। (Close File)
24. Ctrl + X = ডকুমেন্ট থেকে কিছু কাট করার জন্য। (Cut)
25. Ctrl + Y = রিপিট করার জন্য। (Redo)
26. Ctrl + Z = আন্ডু বা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। (Undo)
27. কম্পিউটার Restart করতে Ctrl+Alt+Delete
কম্পিউটার কী-বোর্ডের উপরের দিকের ফাংশন Key F1 থেকে F12 বাটনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারঃ
F1 : সাহায্যকারী কি হিসেবেই ব্যবহিত হয়। যখন F1 কি চাপা হয় তখন প্রত্যেক প্রোগ্রামেরই হেল্প পেইজ চলে আসে।
F2 : ধারণত কোনো ফাইল বা ফোল্ডার Rename করার জন্য ব্যবহার হয়। Alt+Ctrl+F2 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের নতুন ডকুমেন্ট খোলা যায় । Ctrl+F2 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের প্রিন্ট প্রিভিউ দেখা হয়।
F3 : কি চাপলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজসহ অনেক প্রোগ্রামের সার্চ অপশন চালু হয়।Shift+F3 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের লেখা বড় হাতের থেকে ছোট হাতের বা প্রত্যেক শব্দের প্রথম অক্ষর বড় হাতের বর্ণ দিয়ে শুরু ইত্যাদি কাজ করা হয়।
F4 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের last action performed Repeat করা যায়। Alt+F4 চেপে সক্রিয় সব প্রোগ্রাম বন্ধ করা হয়। Ctrl+F4 চেপে সক্রিয় সব উইন্ডো বন্ধ করা হয়।
F5 : চেপে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি Refresh করা হয়।পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইড শো আরম্ভ করা হয়। এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের find, replace, go to উইন্ডো খোলা হয়।
F6 : চেপে মাউসের কার্সরকে ইন্টারনেট ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে নিয়ে যাওয়া হয়। Ctrl+Shift+F6 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্টে খোলা অন্য ডকুমেন্টটি সক্রিয় করা হয়।
F7 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লেখা বানান ও গ্রামার ঠিক করা হয় এবং মজিলা ফায়ারফক্সের Creat browsing চালু করা হয়। Shift+F7 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচিত শব্দের প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ, শব্দের ধরন ইত্যাদি জানার ডিকশনারি চালু করা হয়।
F8 : কি টি অপারেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার সময় কাজে লাগে। সাধারণত উইন্ডোজ Safe Mode-এ চালু করার জন্য এই কি টি চাপতে হয়।
F9 : কি চেপে Quark 5.0 এর মেজারমেন্ট টুলবার ওপেন করা হয়।
F10 :কি চেপে ইন্টারনেট ব্রাউজার বা কোনো খোলা উইন্ডোর মেনুবার নির্বাচন করা হয়।Shift+F10 চেপে কোনো নির্বাচিত লেখা বা লিংক বা ছবির ওপর মাউস রেখে ডান বাটনে ক্লিক করার কাজ করা হয়।
F11 : চেপে ইন্টারনেট ব্রাউজারের ফুল-স্ক্রিন মোড অন-অফ করা হয়।
F12 : চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের Save as উইন্ডো ওপেন করা হয়। Shift+F12 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট সেভ করা হয়। এবং Ctrl+Shift+F12 চেপে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ডকুমেন্ট প্রি
--Md.Yasin Ahmed --
Important Shortcut Keys for Computer-
CTRL+A. . . . . . . . . . . . . . . . . Select All
CTRL+C. . . . . . . . . . . . . . . . . Copy
CTRL+X. . . . . . . . . . . . . . . . . Cut
CTRL+V. . . . . . . . . . . . . . . . . Paste
CTRL+Z. . . . . . . . . . . . . . . . . Undo
CTRL+B. . . . . . . . . . . . . . . . . Bold
CTRL+U. . . . . . . . . . . . . . . . . Underline
CTRL+I . . . . . . . . . . . . . . . . . Italic
F1 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Help
F2 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Rename selected object
F3 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Find all files
F4 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Opens file list drop-down in dialogs
F5 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Refresh current window
F6 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Shifts focus in Windows Explorer
F10 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Activates menu bar options
ALT+TAB . . . . . . . . . . . . . . . . Cycles between open applications
ALT+F4 . . . . . . . . . . . . . . . . . Quit program, close current window
ALT+F6 . . . . . . . . . . . . . . . . . Switch between current program windows
ALT+ENTER. . . . . . . . . . . . . . Opens properties dialog
ALT+SPACE . . . . . . . . . . . . . . System menu for current window
ALT+¢ . . . . . . . . . . . . . . . . . . opens drop-down lists in dialog boxes
BACKSPACE . . . . . . . . . . . . . Switch to parent folder
CTRL+ESC . . . . . . . . . . . . . . Opens Start menu
CTRL+ALT+DEL . . . . . . . . . . Opens task manager, reboots the computer
CTRL+TAB . . . . . . . . . . . . . . Move through property tabs
CTRL+SHIFT+DRAG . . . . . . . Create shortcut (also right-click, drag)
CTRL+DRAG . . . . . . . . . . . . . Copy File
ESC . . . . . . . . . . . . . . . . . . . Cancel last function
SHIFT . . . . . . . . . . . . . . . . . . Press/hold SHIFT, insert CD-ROM to bypass auto-play
SHIFT+DRAG . . . . . . . . . . . . Move file
SHIFT+F10. . . . . . . . . . . . . . . Opens context menu (same as right-click)
SHIFT+DELETE . . . . . . . . . . . Full wipe delete (bypasses Recycle Bin)
ALT+underlined letter . . . . Opens the corresponding menu
PC Keyboard Shortcuts
Document Cursor Controls
HOME . . . . . . . . . . . . . . to beginning of line or far left of field or screen
END . . . . . . . . . . . . . . . . to end of line, or far right of field or screen
CTRL+HOME . . . . . . . . to the top
CTRL+END . . . . . . . . . . to the bottom
PAGE UP . . . . . . . . . . . . moves document or dialog box up one page
PAGE DOWN . . . . . . . . moves document or dialog down one page
ARROW KEYS . . . . . . . move focus in documents, dialogs, etc.
CTRL+ > . . . . . . . . . . . . next word
CTRL+SHIFT+ > . . . . . . selects word
Windows Explorer Tree Control
Numeric Keypad * . . . Expand all under current selection
Numeric Keypad + . . . Expands current selection
Numeric Keypad – . . . Collapses current selection
¦ . . . . . . . . . . . . . . . . . . Expand current selection or go to first child
‰ . . . . . . . . . . . . . . . . . . Collapse current selection or go to parent
Special Characters
‘ Opening single quote . . . alt 0145
’ Closing single quote . . . . alt 0146
“ Opening double quote . . . alt 0147
“ Closing double quote. . . . alt 0148
– En dash. . . . . . . . . . . . . . . alt 0150
— Em dash . . . . . . . . . . . . . . alt 0151
… Ellipsis. . . . . . . . . . . . . . . . alt 0133
• Bullet . . . . . . . . . . . . . . . . alt 0149
® Registration Mark . . . . . . . alt 0174
© Copyright . . . . . . . . . . . . . alt 0169
™ Trademark . . . . . . . . . . . . alt 0153
° Degree symbol. . . . . . . . . alt 0176
¢ Cent sign . . . . . . . . . . . . . alt 0162
1⁄4 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . alt 0188
1⁄2 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . alt 0189
3⁄4 . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . alt 0190
PC Keyboard Shortcuts
Creating unique images in a uniform world! Creating unique images in a uniform world!
é . . . . . . . . . . . . . . . alt 0233
É . . . . . . . . . . . . . . . alt 0201
ñ . . . . . . . . . . . . . . . alt 0241
÷ . . . . . . . . . . . . . . . alt 0247
File menu options in current program
Alt + E Edit options in current program
F1 Universal help (for all programs)
Ctrl + A Select all text
Ctrl + X Cut selected item
Shift + Del Cut selected item
Ctrl + C Copy selected item
Ctrl + Ins Copy selected item
Ctrl + V Paste
Shift + Ins Paste
Home Go to beginning of current line
Ctrl + Home Go to beginning of document
End Go to end of current line
Ctrl + End Go to end of document
Shift + Home Highlight from current position to beginning of line
Shift + End Highlight from current position to end of line
Ctrl + f Move one word to the left at a time
Ctrl + g Move one word to the right at a time
MICROSOFT® WINDOWS® SHORTCUT KEYS
Alt + Tab Switch between open applications
Alt +
Shift + Tab
Switch backwards between open
applications
Alt + Print
Screen
Create screen shot for current program
Ctrl + Alt + Del Reboot/Windows® task manager
Ctrl + Esc Bring up start menu
Alt + Esc Switch between applications on taskbar
F2 Rename selected icon
F3 Start find from desktop
F4 Open the drive selection when browsing
F5 Refresh contents
Alt + F4 Close current open program
Ctrl + F4 Close window in program
Ctrl + Plus
Key
Automatically adjust widths of all columns
in Windows Explorer
Alt + Enter Open properties window of selected icon
or program
Shift + F10 Simulate right-click on selected item
Shift + Del Delete programs/files permanently
Holding Shift
During Bootup
Boot safe mode or bypass system files
Holding Shift
During Bootup
When putting in an audio CD, will prevent
CD Player from playing
WINKEY SHORTCUTS
WINKEY + D Bring desktop to the top of other windows
WINKEY + M Minimize all windows
WINKEY +
SHIFT + M
Undo the minimize done by WINKEY + M
and WINKEY + D
WINKEY + E Open Microsoft Explorer
WINKEY + Tab Cycle through open programs on taskbar
WINKEY + F Display the Windows® Search/Find feature
WINKEY +
CTRL + F
Display the search for computers window
WINKEY + F1 Display the Microsoft® Windows® help
WINKEY + R Open the run window
WINKEY +
Pause /Break
Open the system properties window
WINKEY + U Open utility manager
WINKEY + L Lock the computer (Windows XP® & later)
OUTLOOK® SHORTCUT KEYS
Alt + S Send the email
Ctrl + C Copy selected text
Ctrl + X Cut selected text
Ctrl + P Open print dialog box
Ctrl + K Complete name/email typed in address bar
Ctrl + B Bold highlighted selection
Ctrl + I Italicize highlighted selection
Ctrl + U Underline highlighted selection
Ctrl + R Reply to an email
Ctrl + F Forward an email
Ctrl + N Create a new email
Ctrl + Shift + A Create a new appointment to your calendar
Ctrl + Shift + O Open the outbox
Ctrl + Shift + I Open the inbox
Ctrl + Shift + K Add a new task
Ctrl + Shift + C Create a new contact
Ctrl + Shift+ J Create a new journal entry
WORD® SHORTCUT KEYS
Ctrl + A Select all contents of the page
Ctrl + B Bold highlighted selection
Ctrl + C Copy selected text
Ctrl + X Cut selected text
Ctrl + N Open new/blank document
Ctrl + O Open options
Ctrl + P Open the print window
Ctrl + F Open find box
Ctrl + I Italicize highlighted selection
Ctrl + K Insert link
Ctrl + U Underline highlighted selection
Ctrl + V Paste
Ctrl + Y Redo the last action performed
Ctrl + Z Undo last action
Ctrl + G Find and replace options
Ctrl + H Find and replace options
Ctrl + J Justify paragraph alignment
Ctrl + L Align selected text or line to the left
Ctrl + Q Align selected paragraph to the left
Ctrl + E Align selected
--Md.Yasin Ahmed --
⬛️কিছু উইন্ডোজ কিবোর্ড শর্টকাট যা প্রত্যেকের জানা দরকার⬛️

সকল অপারেটিং সিস্টেম ও প্রায় সব প্রোগ্রামেই দ্রুত কাজ করার জন্য কিবোর্ড শর্টকাট দেয়া থাকে। সচরাচর ব্যবহারকারীরা মাত্র গুটিকয়েক কিবোর্ড শর্টকাট মনে রাখেন। কিন্তু কাজের সুবিধার্থে দরকারী কিছু কিবোর্ড শর্টকাট মুখস্থ করে রাখলে জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই এই পোস্টে আপনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইন্ডোজ কিবোর্ড শর্টকাট ও সেগুলোর কাজ জানাচ্ছি, যা আপনার কম্পিউটারে কাজের গতি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
Ctrl+Z
উইন্ডোজ কম্পিউটারে কাজ করার সময় হঠাত ভুলে যদি কোনো ফাইল ডিলিট করে রিসাইকেল বিনে পাঠিয়ে দেন, তাহলে সাথে সাথে Ctrl এবং Z বাটন একত্রে চাপ দিন। এতে আপনার সেই মুছে যাওয়া ফাইল আগের স্থানে ফিরে আসবে। মাইক্রোসফট অফিস, ব্রাউজার সহ বেশিরভাগ প্রোগ্রামের সাথে (যেখানে ব্যবহারকারীর কিছু লেখা দরকার হয়) এই শর্টকাটটি কাজ করে। এটি মূলত সর্বশেষ সম্পন্ন কাজটিকে আনডু করে দেয়। Ctrl+Z যে কাজ করে, সেটিকে আনডু করতে Ctrl+Y চাপ দিতে পারেন।
Ctrl+W
এই কিবোর্ড শর্টকাটটি আপনার চালু থাকা উইন্ডো বন্ধ করে দেবে। আপনি যদি কোনো অফিস ডকুমেন্টে কাজ করতে থাকেন, তাহলে Ctrl+W চাপ দিলে প্রথমে আপনার ডকুমেন্টটি সেইভ করতে বলবে এবং তারপর এটি ক্লোজ করা যাবে।
Alt+F4
এটি চালু থাকা অ্যাপ বন্ধ করে দেবে। Alt+F4 শর্টকাটটি এক্টিভ উইন্ডোকেও ক্লোজ করে দেয়। তবে বোনাস হিসেবে, আপনি যদি ডেস্কটপের খালি জায়গায় ক্লিক করে Alt+F4 চাপ দেন তাহলে এটি পিসি বন্ধ, স্লিপ, হাইবারনেট, রিস্টার্ট প্রভৃতি করার অপশন দেখাবে।
Ctrl+A
নিশ্চয়ই জানেন, এই শর্টকাটটি এক্টিভ উইন্ডোতে থাকা সকল কনটেন্ট সিলেক্ট করে। তারপর আপনি Ctrl+S চাপ দিয়ে সেইভ, Ctrl+C চাপ দিয়ে কপি Ctrl+X চাপ দিয়ে কাট এবং Ctrl+V চাপ দিয়ে অন্য উইন্ডোতে গিয়ে পেস্ট করতে পারেন।
Win+D
উইন্ডোজ বাটন এবং D একত্রে প্রেস করলে আপনার ওপনে থাকা সকল উইন্ডো মিনিমাইজ বা হাইড হয়ে পিসির ডেস্কটপ চলে আসবে। পুনরায় Win+D চাপ দিলে প্রথমবার হাইড করা উইন্ডোগুলো আবার ফিরে আসবে।
Alt+Tab
এই শর্টকাট প্রেস করলে স্ক্রিনে আপনার সকল চালু থাকা অ্যাপের প্রিভিউ দেখা যাবে। সেখান থেকে দ্রুত কোনো একটা অ্যাপে ক্লিক করে সেটাতে কাজ করতে পারেন। Win+Tab শর্টকাটও প্রায় একই কাজ করে, তবে এখানে কীবোর্ড চাপ দিয়ে ছেড়ে দিলেও প্রিভিউগুলো থেকে যায়।
F2
কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের ওপর একটি ক্লিক করে তারপর F2 বাটন চাপ দিলে ঐ ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করার অপশন আসবে।
F5
ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় একটি পেজ রিফ্রেশ বা পুনরায় লোড করতে চাইলে F5 চাপ দিন।
Win+L
এটি আপনার পিসির স্ক্রিন লক করে দেবে। ফলে পিসি আবার ব্যবহার করতে চাইলে পাসওয়ার্ড এন্টার করে আনলক করে নিতে হবে। পাসওয়ার্ড আগে থেকে দেয়া না থাকলে শুধু সাইন-ইন বাটনে ক্লিক করে এন্টার দিলেই হবে।
Win+PrtScn
এই শর্টকাট আপনার পিসির পুরো স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিয়ে সি ড্রাইভের পিকচার্স ফোল্ডারে একটি ইমেজ আকারে সেইভ করে রাখবে। আর ক্লিপবোর্ডেও ছবিটি থাকবে, যা পেইন্ট প্রোগ্রাম ওপেন করে পেস্ট করে এডিট করতে পারবেন।
Ctrl+Alt+Del
পিসি হ্যাং করলে এই বিখ্যাত শর্টকাটটি চেপে উইন্ডোজের টাস্ক ম্যানেজার প্রোগ্রাম চালু করার অপশন পাবেন। সেখান থেকে হ্যাং হওয়া অ্যাপ বন্ধ করা যাবে। এছাড়া পিসি লক করা, বন্ধ করা কিংবা সাইনআউটের অপশনও পাওয়া যাবে।
--Md.Yasin Ahmed --
# কম্পিউটার_Keyboard এর শর্টকাট :
>> F1: সাহায্য (Help).
>> F2: নির্বাচিত ফাইল রিনেইম করা।
>> F3: ফাইল খোঁজা।
>> F4: অন্য কোনো ফোল্ডারে ফাইল মুভ করা।
>> F5: বর্তমান উইন্ডো রিফ্রেশ করা।
>> F7: ওয়ার্ড/ এক্সেল ডকুমেন্ট স্পেলিং ডায়লগ ওপেন করা।
>> F10: মেনু বার চালু করা।
>> CTRL+C: কপি।
>> CTRL+X: কাট।
>> CTRL+V: পেস্ট।
>> CTRL+Z: আনডু।
>> CTRL+B: অক্ষর বোল্ড করা।
>> CTRL+U: অক্ষর আন্ডার লাইন করা।
>> CTRL+I: অক্ষর ইটালিক করা।
>> CTRL+K: হাইপারলিংক ডায়ালগ ওপেন হওয়া।
>> CTRL+ESC: Start menu চালু।
>> CTRL+ Home: ডকুমেন্ট এর শুরুতে যাওয়া।
>> CTRL+ End: ডকুমেন্ট এর শেষে যাওয়া।
>> CTRL+SHIFT+ESC: টাস্ক ম্যানেজার।
>> CTRL+TAB: কোনো প্রোগ্রামের এক উইন্ডো থেকে অন্য উইন্ডোতে যাওয়া।
>> CTRL+F4: একাধিক ডকুমেন্ট ইন্টারফেস সহ কোনো প্রোগ্রাম বন্ধ করা।
>> CTRL+A: ফোল্ডারের সবগুলো আইটেম নির্বাচন করা।
>> SHIFT+ DELETE: সরাসরি ফাইল ডিলিট করা।
>> SHIFT+ right click: অতিরিক্ত শর্টকাট সহ মেনু।
>> SHIFT+ double click: বিকল্প ডিফল্ট কমান্ড।
>> SHIFT+F10: নির্বাচিত আইটেমের জন্য শর্টকাট মেনু।
>> SHIFT: অটোরান বন্ধ করতে এটি চেপে ধরে রাখুন।
>> SHIFT+ Windows Logo + M: মিনিমাইজ আনডু করা।
>> Home: বর্তমান লাইনের শুরুতে যাওয়া।
>> End: বর্তমান লাইনের শেষে যাওয়া।
>> ALT+ F4: প্রোগ্রাম বন্ধ করা।
>> ALT+TAB : অন্য কোনো চালু করা প্রোগ্রামে যাওয়া (সবগুলো প্রোগ্রাম দেখতে ALT চেপে ধরে TAB চাপুন)।
>> ALT+ SPACE: মেইন উইন্ডো’র সিস্টেম মেনু দেখা।
>> Windows Logo +L: কম্পিউটার লক করা।
>> Windows Logo+ M: সব প্রোগ্রাম মিনিমাইজ করা।
>> Windows Logo+F: Files অথবা Folders খোজাঁ।
>> Windows Logo+V: ক্লিপবোর্ড চালু করা।
>> Windows Logo+K: Keyboard Properties ডায়ালগ বক্স চালু করা।
>> Windows Logo+I: Mouse Properties ডায়ালগ বক্স চালু করা।
>> BACKPACE: পূর্ববর্তী ফোল্ডারে যাওয়া, (ইন্টারনেট ব্রাউজারের ক্ষেত্রে পুর্বের পেইজ
--Md.Yasin Ahmed --
Save Your time with Short Cut 📌
Ctrl + A - Select All
Ctrl + B - Bold
Ctrl + C - Copy
Ctrl + D - Fill
Ctrl + F - Find
Ctrl + G - Find next instance of text
Ctrl + H - Replace
Ctrl + I - Italic
Ctrl + K - Insert a hyperlink
Ctrl + N - New workbook
Ctrl + O - Open
Ctrl + P - Print
Ctrl + R - Nothing right
Ctrl + S - Save
Ctrl + U - Underlined
Ctrl + V - Paste
Ctrl W - Close
Ctrl + X - Cut
Ctrl + Y - Repeat
Ctrl + Z - Cancel
F1 - Help
F2 - Edition
F3 - Paste the name
F4 - Repeat the last action
F4 - When entering a formula, switch between absolute / relative references
F5 - Goto
F6 - Next Pane
F7 - Spell Check
F8 - Extension of the mode
F9 - Recalculate all workbooks
F10 - Activate Menubar
F11 - New graph
F12 - Save As
Ctrl +: - Insert the current time
Ctrl +; - Insert the current date
Ctrl + "- Copy the value of the cell above
Ctrl + '- Copy the formula from the cell above
Shift - Offset Adjustment for Additional Functions in the Excel Menu
Shift + F1 - What is it?
Shift + F2 - Edit cell comment
Shift + F3 - Paste the function into the formula
Shift + F4 - Search Next
Shift + F5 - Find
Shift + F6 - Previous Panel
Shift + F8 - Add to the selection
Shift + F9 - Calculate the active worksheet
Shift + F10 - Popup menu display
Shift + F11 - New spreadsheet
Shift + F12 - Save
Ctrl + F3 - Set name
Ctrl + F4 - Close
Ctrl + F5 - XL, size of the restore window
Ctrl + F6 - Next Workbook Window
Shift + Ctrl + F6 - Previous Workbook Window
Ctrl + F7 - Move window
Ctrl + F8 - Resize Window
Ctrl + F9 - Minimize the workbook
Ctrl + F10 - Maximize or Restore Window
Ctrl + F11 - Inset 4.0 Macro sheet
Ctrl + F1 - Open File
Alt + F1 - Insert a graph
Alt + F2 - Save As
Alt + F4 - Output
Alt + F8 - Macro dialog
Alt + F11 - Visual Basic Editor
Ctrl + Shift + F3 - Create a name using the names of row and column labels
Ctrl + Shift + F6 - Previous Window
Ctrl + Shift + F12 - Printing
Alt + Shift + F1 - New spreadsheet
Alt + Shift + F2 - Save
Alt + = - AutoSum
Ctrl + `- Toggle value / display of the formula
Ctrl + Shift + A - Insert the argument names in the formula
Alt + down arrow - automatic view list
Alt + '- Format Style Dialog
Ctrl + Shift + ~ - General Formal

Collected from Facebook.
facebook.com/yasinahmedshorif

14
ENTREPRENEURIAL MINDSET – NEW WAYS OF EDUCATION














15
শক্তিশালী মুমিন এর ১৪টি অনন্য গুণ
▬▬▬▬ ◐◯◑ ▬▬▬▬

◈◈ শক্তিশালী মুমিন এর মর্যাদা:

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلَا تَعْجَزْ ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ : لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا ، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ “

“শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে অধিক উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। আর সবকিছুতেই কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং যাতে তোমার কল্যাণ রয়েছে তা অর্জনে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা কর। দুর্বলতা প্রদর্শন করো না। তবে যদি তোমার কোন কাজে কিছু ক্ষতি সাধিত হয়, তখন তুমি এভাবে বলো না যে, “যদি আমি কাজটি এভাবে করতাম তা হলে আমার এই এই হত।” বরং বল, “আল্লাহ এটাই তকদীরে রেখেছিলেন। আর তিনি যা চান তা-ই করেন।” কেননা ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজের পথকে উন্মুক্ত করে দেয়।” (মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৯৮)।

উক্ত হাদিস থেকে বুঝা গেল যে, ঈমানদারগণ ঈমানের দিক দিয়ে সমান নয়। তাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। তবে শক্তিশালী মুমিনগণ অধিক উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। কিন্তু দুর্বল মুমিনরাও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত নয়।

তাহলে আমাদের জানা দরকার শক্তিশালী মুমিন কারা? কী তাদের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য? এগুলো জেনে আমরাও যেন সে সকল গুণাবলী অর্জন করে আল্লাহর প্রিয়ভাজন মুমিনদের দলভুক্ত হতে পারি। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমীন।

◈◈ শক্তিশালী মুমিন এর গুণাবলী:

নিম্নে একজন শক্তিশালী মুমিনের ১৪টি অনন্য গুণাবলী সংক্ষেপে আলোচনা করা হল:

◉ ১) সুদৃঢ় ঈমান
◉ ২) দ্বীনের ইলম অর্জন করা
◉ ৩) সবর বা ধৈর্য ধারণ
◉ ৪) রাগ নিয়ন্ত্রণ
◉ ৫) উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা
◉ ৬) উদ্যমী হওয়া
◉ ৭) নিজের সংশোধনের পাশাপাশি অন্যের সংশোধনের প্রচেষ্টা থাকা
◉ ৮) মানুষের উপকার করা
◉ ৯) সুস্বাস্থ্য
◉ ১০) মজবুত চিন্তাভাবনা ও সুনিপুণ পরিকল্পনা
◉ ১১) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক
◉ ১২) আত্মমর্যাদা ও পরিচ্ছন্ন অন্তর
◉ ১৩) শক্তিশালী মুমিনের হৃদয় হয় ভালবাসা, দয়া ও মায়া–মমতায় পূর্ণ।
◉ ১৪) ভুল স্বীকার

নিম্নে উপরোক্ত বিষয় সমূহের পর্যালোচনা তুলে ধরা হল:

❑ ১) সুদৃঢ় ঈমান:

শক্তিশালী মুমিন মানেই অটুট আকীদা ও বিশ্বাসের অধিকারী। সে রব হিসেবে আল্লাহর প্রতি, দ্বীন হিসেবে ইসলামের প্রতি এবং নবী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সন্তুষ্ট। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিষয়ে এমন সুদৃঢ় ঈমান পোষণ করে যে, কোন সংশয় ও ভ্রান্তির সামনে দুর্বল হয় না। সে তার মূল্যবোধ ও মূলনীতিতে আস্থাশীল- যার কারণে সংশয় ও সন্দেহের ঝড় তাকে টলাতে পারে না বা কু প্রবৃত্তি ও লালসার স্রোত তরঙ্গ তাকে ভাসিয়ে নিতে পারে না।

❑ ২) দ্বীনের ইলম অর্জন করা:

শক্তিশালী মুমিনের অন্যতম গুণ হল, সে দ্বীনের জ্ঞানার্জনে উদগ্রীব থাকে। কেননা, ইলম ছাড়া যথার্থ শক্তিশালী মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ۗ

“বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে?” (সূরা যুমার: ৯)

উত্তর হল, কখনও নয়। বরং আল্লাহ তাআলা যাকে ঈমানের পাশাপাশি ইলম দান করেছেন সে নি:সন্দেহে মর্যাদার দিক দিয়ে উন্নত। যেমন আল্লাহ তালা বলেন,

يَرْفَعِ اللَّـهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ ۚ

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে আল্লাহ্‌ তাদের স্তরে স্তরে মর্যাদায় উন্নীত করবেন।” (সূরা মুজাদিলা: ১১)

তিনি আরও বলেন,

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّـهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ

“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” (সূরা ফাতির: ২৮)

নবীগণ যেহেতু মুমিনদের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী মুমিন ছিলেন সুতরাং তাদের রেখে যাওয়া ইলমের উত্তরাধিকারী রব্বানী আলেমগণও অন্যদের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী মুমিন। কারণ তারা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে যে জ্ঞান লাভ করেছে, অন্যরা তা পারে নি। আর এ কারণেই কেবল আলেমগণই আল্লাহ তাআলাকে সর্বাধিক ভয় করে।

❑ ৩) সবর বা ধৈর্য ধারণ:

শক্তিশালী মুমিনদের অন্যতম গুণ হল, তারা হন প্রচণ্ড ধৈর্যশীল। প্রকৃতপক্ষে দৃঢ় সংকল্প আর মানসিকভাবে শক্তিশালী লোকেরাই কেবল এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ ۖإِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

“বিপদাপদে ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় এটা দৃঢ় সংকল্পের বিষয়।” (সূরা লোকমান: ১৭)

পক্ষান্তরে দুর্বলরা হয় ধৈর্যহীন ও অস্থির। তারা বিপদে পড়লে খেই হারিয়ে ফেলে।

শক্তিশালী মুমিন সামাজিকভাবে মানুষের সাথে চলাফেরা করে আর মানুষ তাকে আচরণে কষ্ট দিলে ধৈর্যের পরিচয় দেয়। এ অবস্থায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে তার সাথে চলাফেরা-উঠবস অব্যাহত রাখা একমাত্র শক্তিশালী মুমিন দ্বারাই সম্ভব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

المؤمنُ الَّذي يخالطُ النَّاسَ ويصبرُ على أذاهم أعظمُ أجرًا منَ المؤمنِ الَّذي لاَ يخالطُ النَّاسَ ولاَ يصبرُ على أذاهم

“যে মুমিন মানুষের সাথে উঠবস করে এবং তারা কষ্ট দিলে তাতে ধৈর্য ধারণ করে সে অধিক প্রতিদানের অধিকারী হবে এমন মুমিন হতে যে মানুষের সাথে উঠবস করে না এবং তারা কষ্ট দিলে তাতে ধৈর্য ধারণ করে না।” (ইবনে মাজাহ, সহীহ-আলবানী, হা/৩২৭৩)

◯ সবর বা ধৈর্যের তিনটি ক্ষেত্রে রয়েছে। যথা:

● ক) ইবাদত বা আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য ধারণ।
● খ) আল্লাহর অবাধ্যতা বা পাপাচার থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ।
● গ) জীবনের বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনা, বিপর্যয় ও দুর্বিপাকে ধৈর্য ধারণ।

❑ ৪) রাগ নিয়ন্ত্রণ:

শক্তিশালী মুমিন তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করে। সে কখনও ব্যক্তি স্বার্থে রাগ করে না। কেউ তার প্রতি অবিচার করলে প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকার পরও সে ক্ষমা করে দেয়।

রাগ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘প্রকৃত বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন: তিনি বলেন,

ليسَ الشَّديدُ بالصُّرَعةِ ، إنَّما الشَّديدُ الَّذي يملِكُ نفسَهُ عندَ الغضبِ

“প্রকৃত বীর সে ব্যক্তি নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।” (বুখারী ও মুসলিম)

তবে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হলে বা অন্যায়-অপকর্ম দেখে মনে রাগ সৃষ্টি হওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয় গুণ। অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচারের পথ রোধ করতে এ রাগ অত্যন্ত জরুরি। যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।

❑ ৫) উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা:

শক্তিশালী মুমিন হৃদয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করে। তার স্বপ্ন হয় অনেক উঁচু। তার অভীষ্ট লক্ষ হয় বহু দূর। সে আখিরাতের প্রতিযোগিতায় বিজয় মুকুট পরিধান করতে চায়। তাই সে দুর্দান্ত বেগে ছুটে যায় আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের আহ্বানে। আল্লাহ বলেন,

وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন। যা তৈরি করা হয়েছে পরহেজগারদের জন্য।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৩)

শক্তিশালী ঈমান ছাড়া এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভব নয়। এ জন্য অনেক ত্যাগ শিকার করতে হয়। অনেক পরিশ্রম আর কষ্ট করতে হয়। যেমন শীতের রাতেও ওযু করে ফজর সালাতে যাওয়া, রাত জেগে কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদের সালাত, নফল রোযা, নিজের অভাব থাকা সত্যেও অসহায় মানুষের সাহায্য, কু প্রবৃত্তিকে দমন করে দ্বীনের পথে টিকে থাকা, প্রয়োজনে আল্লাহর পথে জিহাদে নিজের জান-মাল সর্বস্ব অকাতরে বিলিয়ে দেয়া ইত্যাদি।

উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি উদাহরণ হল,আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উঁচু জান্নাতের জন্য দুআ করা। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন:

إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ ، فَإِنَّهَا أَوْسَطُ الْجَنَّةِ ، وَأَعْلَى الْجَنَّةِ ، وَفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ ، وَمِنْهُ يُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ

“তোমরা যখন আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করবে তখন জান্নাতুল ফিরদউস কামনা করবে। কারণ, তা হল, উৎকৃষ্ট ও উন্নততর জান্নাত। এ জান্নাতের উপর রয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর আরশ। তা হতে জান্নাতের নহর সমূহ প্রবাহিত হয়”। (সহীহুল বুখারী ২৭৯০,৭৪২৩)

❑ ৬) উদ্যমী হওয়া:

শক্তিশালী মুমিনের অন্যতম সেরা গুণ হল, তার অন্তরে প্রচণ্ড উদ্যম ও স্প্রিহা কাজ করে। সে কখনও অলসতাকে সুযোগ দেয় না। কেননা অলসতাকে আশ্রয় দেয়া মানে, শয়তানের নিকট নিজেকে সঁপে দেয়া। যে নিজেকে শয়তানের কাছে সঁপে দেয় তার ধ্বংস অনিবার্য।

সামগ্রিকভাবে অকর্মণ্যতা,অলসতা, ভীরুতা ইত্যাদি দোষগুলো মানুষের উন্নতির পথে অন্তরায়। তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সব দোষ-ত্রুটি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন এবং আশ্রয় চাওয়ার জন্য তার উম্মতকে দুআ শিক্ষা দিয়েছেন।

আনাস রা. থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুআ করতেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ.

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাবল্য (এর শিকার হওয়া) থেকে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৩৬৯)

❑ ৭) নিজের সংশোধনের পাশাপাশি অন্যের সংশোধনের প্রচেষ্টা থাকা:

শক্তিশালী মুমিন কেবল নিজের সংশোধনকেই যথেষ্ট মনে করে না। বরং আল্লাহ তাকে যে শক্তি ও সামর্থ্য দিয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে অন্যকেও সংশোধনের কাজে ব্রতী হয়।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি :

مَنْ رَأَى مِنْكُم مُنْكراً فَلْيغيِّرْهُ بِيَدهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطعْ فبِلِسَانِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبقَلبهِ وَذَلَكَ أَضْعَفُ الإِيمانِ

“তোমাদের কেউ যখন কোন খারাপ কাজ হতে দেখবে তখন সে যেন তা হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে এ সামর্থ্য না রাখে তাহলে যেন মুখ দিয়ে পরিবর্তন করে (মুখে প্রতিবাদ করে)। যদি এ সামর্থ্যও না থাকে তাহলে অন্তরে (ঘৃণা করে এবং পরিবর্তনের পরিকল্পনা আঁটতে থাকে)। আর এটি হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতার স্তর।” (সহীহ মুসলিম)

এ হাদিসে অন্যায় প্রতিহত করার তিনটি স্তর বলা হয়েছে। এ তিনটি মধ্যে ১ম স্তরটি অর্থাৎ হাত দ্বারা বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তন করা এর পরের দুটি স্তর থেকে নি:সন্দেহ অধিক উত্তম। তবে তা শক্তি ও সামর্থ্যের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ যদি কারও অন্যায় প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি ও সামর্থ্য থাকে তাহলে তা ব্যবহার করে অন্যায় পরিবর্তন করবে। আর এটি হল শক্তিশালী মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

❑ ৮) মানুষের উপকার করা:

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ

“সে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে সবচেয়ে বেশি মানুষের উপকার করে।” (সিলসিলা সহীহাহ, হাসান)

শক্তিশালী মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সে শুধু নিজের স্বার্থ নিয়েই ভাবে না বরং মানুষের কল্যাণে অবদান রাখে। সে আর দশজন মানুষের মত নয়। সে বিপদে মানুষকে সাহায্য করে, অন্ধকারে আলো জ্বালায়, জ্ঞানহীনকে জ্ঞানদান করে, রোগীর সেবা করে, কেউ পরামর্শ চাইলে সুপরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে, মাজলুমকে রক্ষা করে, দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ মানুষের মনে সান্ত্বনা দেয়, হতাশার অন্ধকারে আশার আলো জ্বালায়.. এভাবে যেখানে যতটুকু সম্ভব সেখানে ততটুকু মানুষের কল্যাণে নিজের মেধা, যোগ্যতা, অর্থ ও শ্রম দ্বারা উপকার করতে ছুটে যায়। এটি হল শক্তিশালী মুমিনের পরিচয়।

 ◯ আবু বকর (রা.): আমাদের প্রেরণা:

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: «فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: «فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: «فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا؟» قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ- مسلم

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে আজ কে রোযা রেখেছে?

আবু বকর (রা.): আমি।

রাসূল (সা.) : তোমাদের মধ্যে আজ কে জানাজায় হাজির হয়েছে?

আবু বকর (রা.): আমি।

রাসূল (সা.) : তোমাদের মধ্যে আজ কে অসহায়কে খাবার দিয়েছে?

আবু বকর (রা.): আমি।

রাসূল (সা.) : তোমাদের মধ্যে আজ কে রোগীর সেবা-যত্ন করেছে?

আবু বকর (রা.): আমি।

রাসূল (সা.): ‘‘যার মধ্যে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো একত্রিত হয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ (সহীহ মুসলিম/১০২৮)

❑ ৯) সুস্বাস্থ্য:

একজন সুস্থ, সবল ও মজবুত মানুষ দ্বারা যেভাবে দ্বীন ও দুনিয়ার কাজ করা সম্ভব দুর্বল ও অসুস্থ মানুষ দ্বারা কখনো তা সম্ভব নয়। তাই তো দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মুমিন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সুস্থ থাকার জন্য দুআ করতেন,রোগ হলে চিকিৎসা করতেন এবং লোকদেরকে চিকিৎসা করতে উৎসাহিত করতেন। শুধু তাই নয় বরং নিজেও রোগ-ব্যাধির প্রেসক্রিপশন দিতেন।

সুস্থতার ব্যাপার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ

“দুটি নেয়ামতের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অসতর্ক ও প্রতারিত। সে দুটি হল, সুস্থতা এবং অবসর সময়।”(সহীহুল বুখারী ৫/২৩৫৭)

শারীরিক শক্তি আল্লাহ তায়ালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। তাই তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর পূর্বে এগুলোর কদর করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন,

اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هِرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاءَكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ

“পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিস আসার আগে গনিমতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন কর:

● (১) জীবনকে মৃত্যু আসার আগে।
● (২) সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার আগে।
● (৩) অবসর সময়কে ব্যস্ততা আসার আগে।
● (৪) যৌবনকে বার্ধক্য আসার আগে এবং
● (৫) সচ্ছলতাকে দরিদ্রতা আসার আগে।”
(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮ম খণ্ড, ৮ম অধ্যায় ১২৭ পৃষ্ঠা। আল্লামা আলবানী রহ., হাদিসটি সহীহ বলেছেন। দ্রঃ সহীহুল জামে, হাদিস নং ১০৭৭)

শক্তিশালী মুমিন ব্যক্তি তার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয়, ঘুম, বিশ্রাম ইত্যাদির প্রতি যত্নশীল হয়। সে মনে করে, শারীরিক সুস্থতা ও দৈহিক বল তাকে ইবাদত-বন্দেগী, দ্বীনের কাজ, পাশাপাশি হালাল অর্থ উপার্জন এবং মানব কল্যাণে অবদান রাখতে সাহায্য করবে।

মোটকথা,  দৈহিক শক্তি এবং সুস্থতাকে সে দ্বীন ও দুনিয়ার ভালো কাজে অবদান রাখার মাধ্যম মনে করে।

❑ ১০) মজবুত চিন্তাভাবনা ও সুনিপুণ পরিকল্পনা:

মজবুত ইমানদারের একটি গুণ হল, তার চিন্তা-চেতনা, কথা-বার্তা, বক্তব্য, সিদ্ধান্ত, যুক্তি, বিচার-বিবেচনা ইত্যাদি সব কিছু হয় মজবুত এবং সূক্ষ্ম। সে ইবাদত-বন্দেগী, কাজে-কর্ম সকল ক্ষেত্রেই সুদৃঢ়,সুনিপুণ এবং যত্নশীল।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

“যখন তুমি দৃঢ়ভাবে ইচ্ছা করবে, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ভরসা কারীদের ভালবাসেন।” (সূরা আল ইমরান: ১৫৯)

মজবুত কাজকে আল্লাহ তাআলাও পছন্দ করেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إنَّ اللهَ تعالى يُحِبُّ إذا عمِلَ أحدُكمْ عملًا أنْ يُتقِنَهُ

“নিশ্চয় আল্লাহ এটা পছন্দ করেন যে, তোমাদের কেউ কোন কাজ করলে তা যেন মজবুত ভাবে করে।” (সহীহুল জামে, হা/১৮৮০, হাসান)

❑ ১১) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক:

মুমিন ব্যক্তি সত্য, ন্যায়-নীতি, সততার পক্ষে থাকে নির্ভীক। এ ক্ষেত্রে সে সমালোচনা কারী সমালোচনাকে পরোয়া করে না। বাতিলের বিরুদ্ধে থাকে স্পাত কঠিন। সে সৎ ও কল্যাণকামী। তোষামোদি ও ছলচাতুরীকে প্রশ্রয় দেয় না। যে দিকে বৃষ্টি সেদিকে ছাতা ধরে না বরং সৎসাহস বুকে নিয়ে নির্ভিক ভাবে ঝড়ের বিপরীতে পথ চলে।

এই সাহসী ব্যক্তিরাই সমাজের অন্যায়, অপকর্ম ও বাতিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। যেমন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আ.। যেমন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার জানবাজ সাহসী সাহাবীগণ।

❑ ১২) আত্মমর্যাদা ওপরিচ্ছন্ন অন্তর:

শক্তিশালী মুমিন হয় আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী। সে অহংকার করে না বরং বিনয় ও নম্রতা তার চরিত্রের ভূষণ। সে অর্থলিপ্সু বা লোভাতুর হয় না। সে হীন চরিত্রের অধিকারী নয়। অর্থের প্রয়োজন হলেও তার আত্মমর্যাদা তাকে অর্থলিপ্সু বানায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

“যাদেরকে মনের লিপ্সা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম।” (সূরা আল হাশর: ৯)

❑ ১৩) শক্তিশালী মুমিনের হৃদয় হয় ভালবাসা, দয়া ও মায়া–মমতায় পূর্ণ। সে কৃতজ্ঞ চিত্তের অধিকারী। সে কারও প্রতি ব্যক্তিগত কারণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে না বরং সে কাউকে ভালবাসলে বা ঘৃণা করলে তা হয় একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে কেন্দ্র করে।

❑ ১৪) ভুল স্বীকার: শক্তিশালী ইমানদারের একটি গুণ হল, ভুল হলে সে নির্দ্বিধায় স্বীকার করে। ভুল সংশোধন করে। সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে না। এটি সম্মানিত ব্যক্তিদের গুণ।

◯ সুদৃঢ় ঈমানের আলামত:

● ১) আল্লাহ এবং রাসূল যা ভালবাসেন তা নিজের চাহিদা, রুচি এবং ভালবাসার উপর অগ্রাধিকার দেয়া।
● ২) আল্লাহর জন্য নিজের জান- মাল, সহায়-সম্পত্তি উৎসর্গ করা।
● ৩) আল্লাহ এবং তার রাসূল যাকে ভালবাসেন তাকে ভালবাসা আর তারা যাকে ঘৃণা করেন তাকে ঘৃণা করা।
● ৪) তকদীর তথা আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা এবং যতই বিপদ আসুক না কেন মনঃক্ষুণ্ণ ও হতাশ না হওয়া।
● ৫) স্বতঃস্ফূর্তভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা।
● ৬) আল্লাহর জিকিরের সময় মনে তৃপ্তি ও প্রফুল্লতা অনুভব করা। আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّـهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّـهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।” (সূরা রা’দ: ২৮)

তিনি আরও বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّـهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

“যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে । আর যখন তাদের সামনে তার আয়াতগুলো পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপর ভরসা করে।” (সূরা আনফাল: ২)

● ৭) নেকির কাজে আনন্দ এবং গুনাহর কাজে অস্থিরতা অনুভব করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
من سرَّتْهُ حسنتُهُ وساءتْهُ سيئتُه فهو مؤمنٌ

“মুমিন তো সেই ব্যক্তি যার অন্তর নেক কাজে খুশি হয় আর পাপকাজে কষ্ট অনুভব করে।”

(সহীহুল জামে, হা/৬২৯৪, সহীহ)

পরিশেষে, মহান রবের নিকট দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে সে ঈমান অর্জনের তাওফিক দান করেন যার উপর তিনি সন্তুষ্ট। তিনি যেন আমাদের দুর্বলতাগুলো শক্তিতে রূপান্তরিত করে দেন, অভাবগুলো মোচন করেন এবং গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু,  দাতা ও ক্ষমাশীল।
▬▬▬▬ ◐◯◑ ▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদ আরব
https://www.facebook.com/Abdllahilhadi/

Pages: [1] 2 3 ... 125