Daffodil International University

Famous => Person => Topic started by: Golam Kibria on January 06, 2013, 08:46:25 AM

Title: Foreign successful person
Post by: Golam Kibria on January 06, 2013, 08:46:25 AM
আফ্রিকায় আলো ছড়াচ্ছেন মোস্তাক

মোস্তাক আহমেদ বললেন, ‘আমাদের মাধ্যমে বছরে তিন কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা আসছে দেশে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সেটা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।’ আউটসোর্সিংয়ের কাজ পেয়ে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে তাঁর কাজের মাধ্যমে। কিন্তু তাঁর কর্মক্ষেত্র আসলে আফ্রিকা।
২০০৭ সাল। মোস্তাক তখন কাজ করছেন সোয়াজিল্যান্ডে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে সোয়াজিল্যান্ড সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক কাজকে আনা হচ্ছিল তথ্যপ্রযুক্তির আওতায়। মোস্তাকের প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল সেই কাজে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার সময়টিতে দেশটির করব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছিল। এ সময় সে দেশের অর্থমন্ত্রী সিটলে মাজৌরি ইইউকে বলে বসলেন, ‘দেশের অর্থনীতিই ঠিকমতো চলছে না। এখন এসব তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে কী হবে? আপাতত কাজ বাদ দিন।’
মোস্তাক সরাসরি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বললেন, ‘আমি আপনাদের এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা করে দেব। আপনাদের করব্যবস্থাকে কম্পিউটার তথ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসুন। প্রতিটি বন্দরের বহির্গমন ও অবতরণ ক্ষেত্রে একটি আলাদা ডেস্ক বসান। সেখানে কর দিয়ে তারপর দেশের বাইরে বা ভেতরে যেতে হবে। এতে প্রতিটি নাগরিক ও তাদের সঙ্গে আসা পণ্য করের আওতায় চলে আসবে।’
প্রস্তাবটি মনে ধরল অর্থমন্ত্রীর। কর সংগ্রহের দায়িত্ব মোস্তাকের কোম্পানি ডেটানেট ও সোয়াজিল্যান্ড সরকারকে যৌথভাবে দেওয়া হলো। দুই বছরের মাথায় কর বাবদ সরকারের আয় বাড়ল চার গুণ। ঘুরে দাঁড়াল সোয়াজিল্যান্ডের অর্থনীতি। পুরো আফ্রিকায় মোস্তাকের এই কীর্তিতে সাড়া পড়ে গেল। এর আগে মোস্তাক সোয়াজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য, হিসাবরক্ষণ ও কৃষিব্যবস্থা-সংক্রান্ত তথ্যসেবা কম্পিউটার প্রযুক্তির আওতায় এনেও সাড়া ফেলেছিলেন।
এবার মোস্তাকের ডাক পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকায়। এখানে দায়িত্ব সরকারের কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে কম্পিউটার প্রযুক্তির আওতায় আনার। মোস্তাক দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠা করলেন এনওয়াইবিএসওয়াইএস নামের আরেকটি কোম্পানি। ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় কোম্পানিকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলে তাঁর কোম্পানি এখন দক্ষিণ আফ্রিকার এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের কাজ করছে। এরপর একে একে আফ্রিকার লেসোথো, বতসোয়ানা ও মোজাম্বিকেও মোস্তাকের প্রতিষ্ঠা করা এনওয়াইবিএসওয়াইএস ও ডেটানেটের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরেও তাঁর এই কোম্পানির শাখা খোলা হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শাখা খোলার।
বাংলাদেশেও ডেটানেটের একটি শাখা খুলেছেন মোস্তাক। রাজধানীর মিরপুরে স্থাপিত ওই কোম্পানির বাংলাদেশ শাখায় ২০ জন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন। আরও ১০০ জনকে এ কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের তথ্যসেবা-সংক্রান্ত কাজ বাংলাদেশে আউটসোর্সিং করে পাঠিয়ে দিচ্ছে তাঁর কোম্পানি। দেশের তরুণেরা সে কাজ সম্পন্ন করে আবার দক্ষিণ আফ্রিকা বা সোয়াজিল্যান্ডে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
মোস্তাক আহমেদের বাবা আবদুল রহীম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী ছিলেন। মোস্তাকের জন্ম-বেড়ে ওঠা নরসিংদীতে। ১৯৯৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হয়ে মোস্তাক বাবার কাছে বায়না ধরলেন একটি কম্পিউটার কিনে দেওয়ার জন্য। ছেলের আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত বাবার পেনশনের টাকায় কম্পিউটার কিনে দেওয়া হলো।
মোস্তাক নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি শুরু করলেন। শুরুতে সিলেবাসে থাকা হিসাবরক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরও সহজ করার জন্য কয়েকটি সফটওয়্যার বানালেন তিনি। এরপর বাংলায় সুকুমার রায়ের কবিতা ও ‘নন্টে-ফন্টে’ কমিক নিয়ে কয়েকটি কার্টুনও বানালেন তিনি। সে সময় বিটিভিতে সেগুলো প্রচারও হলো।
চতুর্থ সেমিস্টারে পড়া অবস্থায় ইউনিসেফের সহায়তায় প্রথম জন্মনিবন্ধনের তথ্যভান্ডার তৈরির জন্য রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব পান। এরপর পান যুক্তরাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিকল্পনা কমিশনের হয়ে সরকারের হিসাবরক্ষণব্যবস্থার দায়িত্ব। ২০০২ সালে জন্মনিবন্ধনের কাজের জন্য যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেরা তথ্যপ্রযুক্তির পুরস্কারও জিতে নেন তিনি। এরপর মোস্তাককে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষে তথ্যপ্রযুক্তিসেবা বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বছরে শত কোটি ডলার আয় সম্ভব। ফিলিপাইন বছরে এক হাজার ২০০ কোটি ডলার এই খাত থেকে আয় করলে বাংলাদেশ কেন পারবে না—এই প্রশ্ন ৩৭ বছর বয়সী তরুণ মোস্তাকের। আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পরিচিতি এখন পালিয়ে আসা অভিবাসী বা নিম্ন চাকরির জনবলের মধ্যে নেই। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রপথিক হিসেবেই সেখানে বাংলাদেশের পরিচয়।
‘আমি এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা কিছুই না। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে বড় করে তুলতে হবে’—মোস্তাক বলেন। আফ্রিকায় বসেই তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। আবার অনলাইনে নিয়মিত প্রথম আলো পড়েন তিনি, ফলে দেশের খবর পেয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন, দেশ থেকে দূরে থেকেও।
Title: Re: Foreign successful person
Post by: Golam Kibria on January 06, 2013, 08:59:55 AM
(http://paimages.prothom-alo.com/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2013/01/01/2013-01-01-03-32-01-50e258b1b9466-2012-12-31-19-20-29-50e1e57d5f5de-untitled-3.jpg)

আমেরিকার নামী প্রকৌশলী আরশাদ

জুলাই ২০১২ সালে ভারতে বিদ্যুতের বিপর্যয় ঘটল। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ছাপা হলো একজন বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞের মত। হারিকেন স্যান্ডির কারণে আমেরিকার কোনো কোনো শহর যখন বিদ্যুৎবিহীন, এবিসি নিউজ তখন প্রকাশ করল একই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের এই নামকরা বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর অন্তত ১০০ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়েছে সিএনএন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ মূলধারার গণমাধ্যমে।
নিউইয়র্ক টাইমস তাঁর বক্তব্য ছাপতে গিয়ে এ কথা জানাতে ভুলল না, তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক। নাম তাঁর আরশাদ মনসুর।
আরশাদ মনসুর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎশক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইপিআরআই) জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট। গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান। তাঁর সঙ্গে কাজ করেন ৫০০ জন প্রযুক্তিবিদ। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক। প্রতিবছর তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা তাঁর নেতৃত্বে ব্যয় করা হয় বিদ্যুতের গবেষণায়, যা ব্রাজিল থেকে জাপান—বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কাজ করে। বিদ্যুৎ নিয়ে মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে আরশাদের নিজের রয়েছে দুটি প্যাটেন্ট। শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কারিগরি জার্নালে, নানা দেশে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সম্মেলনে তিনি কতবার যে মূল বক্তা হয়েছেন, ইয়ত্তা নেই।
গত মে মাসে বাল্টিমোরে বিদ্যুৎশক্তি সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে আরশাদ মনসুর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আপনাকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করবে। তিনি বলছেন, ‘গত ১০০ বছরে বিদ্যুৎশিল্পে যা ঘটেছে, আগামী ১০ বছরে তার চেয়ে বেশি পরিবর্তন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ খাতে এখন পর্যন্ত যত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ করতে হবে তার চেয়েও বেশি।’
আরশাদ মনসুরের বাবা এস এ মনসুরও প্রকৌশলী, তাঁর ছিল বদলির চাকরি। চট্টগ্রাম স্টিল মিলের মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। সেই সূত্রে আরশাদ মনসুর পড়েছেন চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিড স্কুলে। বাবা গাজীপুরের বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিলে আরশাদ ভর্তি হলেন ঢাকার সেন্ট জোসেফ স্কুলে। তারপর নটর ডেম কলেজে। এস এ মনসুর এখনো ইংরেজি কাগজে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদি নিয়ে লেখেন। বাবার ডিএনএ ১৯৮৪ সালে ছেলেকে নিয়ে এল বুয়েটে। বুয়েটকে আরশাদ খুব গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যে পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এলাম, এর ভিত গড়ে দিয়েছে বুয়েট।’ তিনি খুব প্রশংসা করেন তাঁর বুয়েটের শিক্ষকদের। আর বলেন, আমেরিকার যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় তাঁর সময়ে বুয়েটের পাঠক্রম উন্নততর ছিল। বুয়েট থেকে পাস করেন ১৯৮৯ সালে, তড়িৎ কৌশল বিভাগ থেকে। নয় মাস বুয়েটে শিক্ষকতা করেন। এরপর আমেরিকায় চলে যান। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস আর পিএইচডি করেন। ১৯৯৪ সালে টেনিসির নক্সভিলে ইপিআরআইয়ে যোগ দেন। ২০১১ সালে তাঁর পদোন্নতি হলো সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আর গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে। সেটিকেই তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে মনে করেন তিনি।
মায়ের কথা তিনি খুব স্মরণ করেন। মা চট্টগ্রামে এতিমখানা হাসপাতালে তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন সেবামূলক কাজের জন্য, সেসব তিনি ভুলতে পারেন না। আর খুব কৃতজ্ঞ তিনি তাঁর স্ত্রী জাবিন মনসুরের প্রতি, যিনি নিজেও একজন পরিবেশ প্রকৌশলী। জাবিন একটা ব্লগ চালান, www.genocidebangladesh.org। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশকে এই পরিবার এক দণ্ডের জন্যও ভুলতে পারেনি। দুই মেয়ে নিয়ে তাঁরা বাস করেন শারলটে, যদিও আরশাদকে সারাক্ষণই উড়ে বেড়াতে হয় দেশ-বিদেশে।
আরশাদ মনসুর মনে করেন, বাংলাদেশের উন্নত টেলিযোগাযোগব্যবস্থাকে বিদ্যুতের অপচয় রোধে এবং পিক আওয়ারে ব্যবহার হ্রাসে কাজে লাগানো যায়। প্রবাসীদেরই এগিয়ে আসা উচিত দেশের উন্নতির জন্য। বললেন আরশাদ, ‘আমাদের জ্ঞান আমরা কীভাবে জন্মভূমির উন্নতির জন্য কাজে লাগাতে পারব, এ ব্যাপারে আমাদেরই উদ্যোগী হতে হবে।’ দেশে অনেক দক্ষ ও যোগ্য লোক বিদ্যুৎক্ষেত্রে কাজ করছেন বলে তিনি মনে করেন। জ্ঞান ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানের জন্য স্কাইপ, টেলিকনফারেন্সিং ইত্যাদি সহায়ক হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
আরশাদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে আমার জন্মঋণ, দেশে বহু কিছু শিখেছি, বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আছে অনেক মহান উপাদান, তেমনি আমেরিকায়ও অনেক কিছু শিখেছি। আমেরিকা হচ্ছে সেই দেশ, যা একজন নাগরিকের বর্ণ, জাত, ধর্ম ইত্যাদি বিবেচনা করে না; বিবেচনা করে তার যোগ্যতা—এর প্রমাণ হলো একজন তরুণ প্রকৌশলী থেকে আমার ইপিআরআইয়ের কারিগরি দলের প্রধান হওয়া।’
আরশাদ কিন্তু হতে চেয়েছিলেন ডাক্তার। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন। একদিন তাঁর চার বছরের ভাতিজা স্নানঘরে পড়ে গিয়ে আহত হলে আরশাদ তাকে নিয়ে ছুটলেন পিজি হাসপাতালে। শিশুটিকে সেলাই দেওয়ার দৃশ্য দেখে আরশাদ নিজেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন। ভাগ্যিস, বুয়েটের দরজা তখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। আরশাদ মনসুর বুয়েটে ভর্তি হলেন। আজ ২৯ বছর পর আমরা বলতে পারি, ওই দুর্ঘটনা জগৎসভায় একজন নামকরা বাংলাদেশি আমেরিকান প্রকৌশলীর আবির্ভাবের দরজা খুলে দিয়েছিল।