Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Farhana Haque

Pages: [1] 2 3 4
1

কেস স্টাডি ১ : মাসুম (ছদ্মনাম), বয়স ১১

বাসা ছেড়ে বাইরে বেরুতেই মাসুম তীব্র অনিহা দেখায় আজকাল। খোঁজ করে জানা গেলো, বাসার বাইরে পা ফেললেই কোথা থেকে যেনো পাশের বাসার চল্লিশ বছর
বয়েসী আঙ্কেল এসে উদয় হন এবং আদর করার ছলে তাকে গালে, ঘাড়ে এমনকি ঠোঁটেও চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। ভদ্রবেশী এই কাজগুলাে তিনি কখনো কখনো
মাসুমের বন্ধুদের সামনেই করেন। তাই সেই আঙ্কেলকে দূর থেকে দেখতে পেলেই লজ্জা আর অস্বস্তি এড়াতে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায় মাসুম। ভয় ও পায়।
বাবা-মা কে জানাতেও সংকোচ তারা বলেন, আঙ্কেল তো তোমায় আদর করছেন বাবা। অথচ মাসুমের যে এরকম আদর একেবারেই ভালো লাগে না সেটা কিছুতেই বাবা-মা কে বুঝিয়ে বলতে পারে না সে। সে অন্তত এটা বুঝতে পারে লোকটির উদ্দেশ্য ভালো নয়। কিংবা আদর করার ছলে তাকে সস্পর্শ করাও গুড টাচ নয়। সন্তান্দের তাই এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিতে হবে অভিভাবক হিসেবে আপনাকেই। সন্তানের সবথেকে ভরসার জায়গাটিতে তার বাবা মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।

কেস স্টাডি ২ : তানিম (ছদ্মনাম), বয়স

তানিমের খালাতো বোন রুন্টি আপুকে দেখলেই পালিয়ে বেড়ায় সে। অথচ কদিন আগেও সেই আপুর ভীষন ন্যাওটা ছিলো সে। আপু বলতে অস্থির ছেলেটা বড় বোনের মত ভরসা করে। ইদানিং তানিমের ভয়ে হাত পা শুকিয়ে যায়। বিরক্ত বোধ হয়। কাউকে বলতে পারে না। যদি তাকেই মার খেতে হয়! আপু এখনো তাকে খুব কাছে ডাকেন। মা-বাবাও ভীষণ অবাক হয়ে যান তানিমের এই আচরণে এবং হঠাৎ পরিবর্তন দেখে, কিন্তু কিছুতেই তাকে আর সেই আপুর কাছে পাঠানো যায় না। অনেক প্রশ্ন করে মা একদিন জানতে পারলেন, আপু তার সঙ্গে এমন কিছু কাজ করেছেন, যা ওর মোটেই পছন্দ হয়নি। তবে তানিম না বুঝলেও একজন ওইয়ার্কিং লেডী কিসেবে সমসাময়িক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার মায়ের বুঝতে অসুবধা রইল না যে রুন্টির কাজগুলো প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ককেই ইঙ্গিত করে। আর তার ফলেই লজ্জায় তার ৭ বছরের শিশুটি এমন অস্বাভাবিক আচরণ করতে বাধ্য হয়েছে। যা হতো এক্সময় সাইকোলজিক্যাল ডিজ অর্ডারে রুপান্তরিত হতে পারে। তাই নিজের সন্তানের ভরসার জায়গাটিকে ধরে রাখুন। কাজের দোহায় দিয়ে তাকে পারিবারিক বন্ধন থেকে আলগা করে রাখবেন না। বাচ্চাদের কথা মন দিয়ে শুনুন। তার কি বলতে চায়। বোঝার চেষ্ঠা করুন। প্রয়োজনে কাজ থেকে ফিরে নিজেই কাছে ডেকে হাসিচ্ছলে সারাদিনের কাজের আপডেট জানতে চান।

কেস স্টাডি ৩ : শাহীন, বয়স ১০।

মধ্যবিত্ত পরিবার। ছোট্ট ভাড়া বাড়িতে থাকার ঘরের সংকট হওয়ায় কেউ বেড়াতে এলে অতিথিদের সঙ্গেই ঘুমোতে হয় তাকে। এমনই একদিন রাতে বেড়াতে এসে তার এক মামা যৌন নিপীড়ন চালায় শাহীনের ওপর। সকালে সেই মামা আবার তাকে শাঁসায় এসব ঘটনা অন্য কেউ জানলে সবাই শাহীনকেই খারাপ ছেলে ভাববে। তাই ভয়ে কাউকেই কিছু বলতে পারেনি সে, বরং পরপর বেশ কিছুদিন এমন আচরণ নীরবে সহ্য করে যায়। শিশুদের কখনোই ধমকে শাসন করবেন না। তাদের কে গুরুত্ব দিন অন্তত এটা বুঝতে দিন যে পরিবারে সবচেয়ে ছোট সদস্য হলেও তাদের ভূমিকা পরিবারের বাকি সদস্যদের থেকে কোন অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কেস স্টাডি ৪:

অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। যুবায়ের (১৭), ভালো ফুটবল খেলে। ভালো সাঁতারু। বন্ধুবৎসল প্রানোচ্ছল কিশোর। স্থানীয় ফুটবল কোচ, চল্লিশোর্ধ আলজেরিয়ান নাগরিক আবু উবাইদা কাদির। এলাকার সব বয়েসী কিশোরদের সাথেই ভীষণ সখ্য তার। যুবায়েরের সাথেও কোচের খুব ভালো বোঝা-পড়া সেই ছোটবেলা থেকে। প্রায়ই যুবায়েরকে দামী জিনিস উপহার দেন তিনি, যুবায়রের পরিবারের সবাই ও জানেন কোচ আংকেলের সাথে তার সখ্যের কথা। তাই কারো মনে অন্য কোন কিছু সন্দেহ হয়নি কখনোই। খবরে প্রকাশ, গত বছরের পাঁচ অক্টোবর উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের একটি পার্কের পুকুর থেকে যুবায়েরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সেই আলজেরিয়ান কোচ, যৌন সম্পর্ক গড়ার চেষ্টায় ব্যার্থ হওয়ার পর খুন করে যুবায়েরকে। আমাদের সাম্নায় অসাব্ধানতায় যেন আমাদের সন্তানদের জৈবন বিপন্ন না হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখার দাইয় আমাদের উপরেই বর্তায়। এমন আরো অসংখ্য নিপীড়নের ঘটনা প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে পত্রিকায়কিংবা টিভি সংবাদে। সাধারণত, যৌন নিপীড়ন শব্দটি শুনলেই আমরা অবচেতন মনে ধরেই নেই ভিকটিম নারী। কিন্তু নির্যাতিতদের বিশাল একটি অংশ যে ছেলে শিশু তা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। ছেলে শিশুদের ওপর যৌননিপীড়নের ঘটনা নেহায়েত কম নয় এ সমাজে। বরং কোন কোনন ক্ষেত্রে ছেলে শিশুরাই বিকৃত যৌন আচরনের শিকার হয়। বর্তমান প্রেক্ষিতে যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই লজ্জা না পেয়ে অভিভাবক হিসেবে সাহসের সাথে তা মোকাবেলা করা উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC, Atlanta) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ছেলে শিশুদের উপর
যৌন নিপীড়নের হার শতকরা ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ছয়জন ছেলেশিশুর মধ্যে অন্তত একজন কোন না কোনভাবে যৌন নিপীড়নের
শিকার হয়। এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড এডলসেন্ট এন্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল
উদ্দিন আহমেদ চ্যাম্পস টোয়েন্টিওয়ান ডটকমকে বলেন, ছেলেশিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন কেবলমাত্র পুরুষরাই চালান না, অনেক সময়ই নারীরাও যৌননিপীড়কের ভূমিকা পালন করেন। তিনি আরো জানান, শতকরা পঁচাশি ভাগ ক্ষেত্রেই নিপীড়কেরা শিশুটির পূর্বপরিচিত হয়ে থাকে। অচেনা কারো দ্বারা নিপীড়নের শিকার হওয়ার হার মাত্র ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, যৌননিপীড়করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুর ঘনিষ্ঠ বা স্বজন, বা এমন কেউ যাকে পারিবারিকভাবে বিশ্বস্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। সবচেয়ে ভয়ানক তথ্য হলো, মেয়েশিশুদের উপর নির্যাতনের ব্যাপারে অভিভাবকরা যতটা সতর্ক বা সমাজ যতটা তৎপর, ছেলেশিশুদের
উপর একইরকম ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা ততটাই উদাসীন। যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে আমাদের আরো একটি ভুল ধারণা হলো, কেবলমাত্র ধর্ষণ-ই যৌননিপীড়ন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক কারো সাথে অনুপযোগী যৌন ঠাট্টা বা অশালীন শব্দ ব্যাবহার, দেহের স্পর্শকাতর অঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, শিশুর বয়সের উপযোগী নয় এমন যৌন বস্তু, স্থিরচিত্র বা চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শিশুর সামনে এমন কোন আচরণ করা যা একান্তই ব্যাক্তিগত এবং প্রাপ্তবয়স্ক বলে বিবেচিত এবং সর্বোপরি শিশুর সাথে বাধ্যতামূলক যৌন মিলন– সবই শিশু যৌননিপীড়নের তালিকাভুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শারীরিক আক্রমণের শিকার না হওয়া পর্যন্ত আমরা অর্থ্যাৎ অভিভাবকরা এসব ঘটনা এড়িয়ে যাই বা চাপা দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখা গেছে, শারীরিক ক্ষতির চাইতেও যৌননিপীড়নের ফলে শিশুর পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী এবং ক্ষতিকর মানসিক প্রভাব পড়ে। সাধারণত নিপীড়নের শিকার শিশুর বয়স এবং নিপীড়নের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে শিশুর আচরণে এবং মানসিকতায় এর প্রভাব দেখা যায়। ভয়ানক প্রভাবগুলো : সাধারণভাবে যৌননিপীড়নের শিকার হওয়া শিশুর যে সমস্ত মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, শিশুর মধ্যে পাপবোধ বা নিজেকে খারাপ ভাবা এবং নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতা। অকারণ এবং অবিরাম কান্নাকাটি, অহেতুক ভীতি। সন্দেহপ্রবণতা, বিষন্নতা, মানসিক অস্থিরতা। নিজেকে গুটিয়ে নেয়া, খিটখিটে মেজাজ। সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে এগুলোই বেশি ধরা পড়লেও, সময় মতো কাউন্সিলিং বা যথাযথ চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীতে পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বের সংকট, আস্থাহীনতা, আত্মবিশ্বাসের স্বল্পতা, যৌনতা সম্পর্কিত বিভিন্ন ভুল ধারণাসহ, যৌনস্পৃহা হ্রাস পাওয়াসহ আরো নানারকম মানসিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একটু খেয়াল করুন:

আপনার শিশুকে এই সমস্ত ভয়াবহতার হাত থেকে বাঁচাতে চাইলে সবচেয়ে জরুরি হলো মানসিকতার পরিবর্তন। ছেলে শিশুরাও যে যৌননিপীড়নের শিকার হতে পারে এবং তা যে কেবলমাত্র পুরুষদের দ্বারাই না– এই সহজ সত্যিটি মেনে নেয়ার মতো মানসিকতা আমাদের অনেকেরই নেই। এরকম কোন পরিস্থিতে শিশুকে কোনভাবেই দোষারোপ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, বুঝে-শুনেসিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করার মতোবয়স এবং মানসিক পরিপক্কতা শিশুর নেই। তাছাড়া, দোষারোপ করে শিশুকে চুপ করিয়ে দিলে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। নিপীড়কেরা এতে করে আরো বেশি দুঃসাহসী হয়ে উঠতে পারে। শৈশবে বা বয়ঃসন্ধিকালে লজ্জায় এবং বাবা-মা’র সাথে যথেষ্ঠ মানসিক নৈকট্য না থাকায় অনেক কথাই শিশু চেপে যায়। আর নির্যাতনকারীরা ঠিক এ সুযোগটিই নেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে পরিবারের অন্য সদস্যদের চাইতে নির্যাতনকারীরা শুরুতেই সচেষ্ট হয় শিশুর সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার। আপনার সন্তানের সাথে কখনোই এমন কোন সম্পর্ক হতে দেবেন না যাতে আপনার চাইতেও বাইরের কারো ওপর তার বেশি মানসিক নির্ভরতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি হয়। চাকুরীজীবি বাবা মায়েরা বা যারা সার্বক্ষণিকভাবে সন্তানকে সঙ্গ দিতে অসমর্থ, তাদের সব সময়ই সতর্ক থাকা উচিত। মানসিকভাবে শিশুর সাথে যেন কোন দূরত্ব সৃষ্টি না
হয় সে দিকে খেয়াল রাখা। সার্বক্ষণিক নজরদারী অসম্ভব হলেও ফোনে বা মোবাইলে ঘন ঘন সন্তানের খোঁজ খবর রাখাটাও জরুরি। সন্তানের সাথে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে করে সে কখনোই ভয় পেয়ে বা লজ্জায় কোন কথা গোপন করে না যায়। তাছাড়া বুঝতে শেখার পর থেকেই ধীরে ধীরে শিশুকে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন করে দেয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞানসম্মত যৌনজ্ঞান শেখানোটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। আপনার সন্তানের সবরকম ভালো-মন্দের দায়ভার যেমন আপনার, তেমনি তার সমস্ত খোঁজ-খবর রাখা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করাটাও আপনারই কর্তব্য।
[/size]

2
কেইস স্টাডি
নামঃ রবিন
বয়সঃ ১০/১২
স্থানঃ সংসদ ভবন এলাকা
লেখাঃ ফারহানা হক।




ছেলেটির নাম রবিন। বয়স হবে এইতো ১০ কি ১২। সংসদ ভনের সামনের এরিয়াতে ফুল বিক্রি করে সংসার চালায়। আরো দুটি ছোট বোন আছে যারা জমজ। বাবা মা কেউ নেই। নেই বলতে বাবা মারা গেছে বছর দুই হলো। মায়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে তাদের খোজ রাখে না। লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে। ওর ভাষায়, "একদিন বিমান চালামু, বড় হয়ে" নিয়তির বিমাতাসুলভ আচরনের জন্য তাকে ফুল বিক্রেতা হতে হলো। ঢাকায় এসেছে সেই চার বছর বয়সে। সংসদ ভবনের পাশের রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে তাকে চোখে পরে একদিন। ডাক দিলাম হাত ইশারায় কাছে এলো। জিজ্ঞাস করলাম, নাম কি? বলল। এক এক করে জানতে চাইলাম তার জীবন ইতিহাস। কেনই বা সে এই বয়সে লেখাপড়া না করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে।

জানলাম তার জীবনের করুন ইতিহাস। বাবা মারা যাবার পর তাদের মা তাদের ভাই বোনেদের ফেলে রেখে চলে যায়। বিয়ে করে অন্য এক লোককে। এর পর আর কখনো দেখতে আসেনি। নানীর সাথে ঢাকায় আসে। নানী ভিক্ষা করতো, তখন থেকেই সে ও সংসদ ভবন এর সামনে ফুল বিক্রির কাজ নেয়। বয়স তখন মাত্র ৪। পথচারীরা দেখে মায়া করে কখনো ফুল কিনে নেয় কখনো নেয়না। কখনো কেউ বা ধমকায় আবার কেউ ধাক্কা মেরে ফেলেও দেয়। তবে ভালো মানুষ এখনো আছে। যারা সব ফুল কিনে নিয়ে পুরো টাকাটা হাতে দেয়। আবার ফুল গুলোও তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়।
ফুল বিক্রির টাকায় কোন দিন দুই বেলার আহার জোটে। কখনো আবার অভুক্ত থাকতে হয়। কষ্ট করে দিন পার হয়।

এলাকায় এভাবেই সমবয়সী ছেলেমেয়েদের সাথে রবিনের সখ্যতা গড়ে উঠে, একটা দল হয়ে যায়। তারা সারাদিন ফুল বিক্রি করে দিন শেষে সবাই সন্ধাবেলায় সংসদ ভবনের সামনের বকুল তলায় আড্ডা জমায়। কার কত টাকার বিক্রি হলো, সারাদিন কে কি খেল তা নিয়ে আলোচনা হয়। এভাবেই তাদের জীবন চলতে থাকে। আস্তে আস্তে রবিন বড় হয়। নানী এক্সিডেন্ট এ মারা যায় একদিন। রবিনের মাথার উপর থেকে ছাদ সরে গেলো। জায়গা হলো তার রাস্তায়। জীবনের চেয়ে যাপন যেন যারপরনাই কঠিন  আর আরো অসহায় হয়ে গেলো। এমন একটি দিনেই তার সাথে পরিচয় আমাদের ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অব সষায়ল সায়েন্সেস ভলান্টিয়ার টিম এর দুজন ভলান্টিয়ার আসিফ এবং আব্দুল্লাহর সাথে।  তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে, আচ্ছা রবিন যদি তোমাকে লেখাপড়া করার সমস্ত ধরনের সুযোগ আমরা দেই তবে কি তুমি লেখাপড়া করবে? রবিনের উত্তর ঃ
"স্যার অবশ্যই করমু কিন্তু কে দেবে আমারে সেই সুযোগ ? এই শহরে এক বেলা খাইতেই পারি না। মাথা গুজার জায়গা নাই। রাইতে ঘুমাইলে পুলিশ আইসা ডাইকা তুলে দেয়। কখনো কখনো মাইরও দেয় স্যার"। টিম মেম্বাররা তাকে আশ্বস্ত করে , রবিন সেই সুযোগ তুমি পাবে। তুমি খেলাধূলা করার ও সুযোগ পাবে। তমাকে আমরা রাখলাম আমাদের টার্গেট গ্রুপ টিতে। কি হবে তুমি বড় হয়ে??? রবিনের স্বভাবসুলভ সরল উত্তরঃ "স্যার বিমান চালামু, পাইলট হমু"।

ঢাকা শহরের এই আনাচে কানাচে হাজারো রবিনরা আছে। জর্জরিত স্বপ্ন নিয়ে যারা পথের ধুলোয় লুটিয়ে থাকে। তাদের দিকে একটু যদি সহানুভূতির চোখে তাকাই, শুধু সভা সমিতিতে বড় বড় কথা না বলে যদি সত্যিকারর্থেই তাদের সাস্টেইনেবল ডেভোলাপমেন্টের জন্য কিছু করি, যদি আমরা একটি শিশুর ও ভবিষ্যৎ গড়ায় সামান্যতম কন্ট্রিবিউট ও করি তাহলেই আমাদের দেশ উন্নত হবে। কারন যে শিশুরা আগামি দিনের ভবিষ্যৎ তারা যদি ধুলোয় লুটিয়ে থাকে আমাদের উন্নয়ন ব্যহত হবেই।

আজকের কোমলমতি শিশু, আগামীর স্বপ্ন সম্ভাবনাময় আলোকিত স্বপ্নীল ভবিষ্যৎ। সূর্যালোকের আলো হয়ে রাঙিয়ে দিবে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ। যে আলোর পরশে জেগে ওঠবে শিশুর ঘুমন্ত মস্তিষ্ক চিন্তার জগৎ। আজকে যদি তারা সঠিক অধিকার পায় ও জীবনের প্রতি জীবনের সম্মান, ভালোবাসা, মমত্ববোধ, মানবতা জাগ্রত হয় তাহলে তাদের আলোয় আলোকিত হবে সকল দেশের রাণী আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতে আরো এগিয়ে যাবেই। ধূসর পৃথিবীর আকাশে জমাট কালো মেঘমালা একসময় বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে। সেই বৃষ্টি কখনো প্রশান্তির কখনো অশান্তির। আজকের শিশুরা শৈশবে মেঘমালার মতো জমাট বাঁধে। আমরা চাই শিশুর আকাশে জমাট বাধা কালো মেঘমালা যেন প্রশান্তির বৃষ্টি হয়ে ঝরে। প্রশান্তির বৃষ্টিতে মিশে একাকার হয়ে যাবে তাদের কষ্টগ্লানির বিষাদময় গল্প। নগরীর বিভিন্ন জায়গা একদল শিশু কিশোরদের দেখতে পাওয়া যায় রাস্তায় থাকছে, খাচ্ছে এবং ঘুমাচ্ছে। জীবনের আনন্দ উল্লাস, সুখ দু:খের গল্প ,জীবনের শিক্ষা, হারানোর গল্প, প্রাপ্তির হাসিখুশি, অপ্রাপ্তির লম্বা হিসেব সবই খুঁজে নেয় পথের ধারে। বাবা মায়ের আর্থিক দূরাবস্থা ,কারো বাবা নেই, কারো মা নেই, অথবা উভয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করে পাড়ি জমিয়েছেন ঐ পাড়ে আর এপাড়ে রেখে গিয়েছেন অসহায় শিশু সন্তান। যাদের অনেকেই নিরুপায় হয়ে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ক্ষুধার যন্ত্রনায় পথের ধারে বসে থাকে কিছু পাওয়ার আশায়। মানুষও সহানুভূতিশীল হয়ে সাহায্য করে যে যার মত করে কিন্তু এই সাহায্য সাময়িক কিন্তু কী আছে তাদের ভবিষ্যতে? এর সঠিক উত্তর কে জানে? আমি, আপনি না আমাদের বাংলাদেশ। আমি, আপনি, সবাই মিলেই আমাদের লাল সবুজের ভালোবাসার প্রিয় আমাদের সোনার বাংলাদেশ। আমরা এক মহান জাতি। ৪৭’র দেশভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণ অভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রচিত হয় রক্তে লেখা লাল সবুজের অপরূপ স্বগীর্য় সৌন্দর্যময় বাংলাদেশ। মুক্তি সংগ্রামের বেদনাবিধুর ইতিহাস আর ত্যাগের মহিমায় পূর্ণতা পেয়েছে আমাদের স্বদেশ। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে পারতাম হয়ত পথশিশু সমস্যা কিছুটা হলেও  হ্রাস পেত। আমাদের বৃত্ত ভাঙার সুরতাল বাজানোর সময় এসেছে। সব প্রথা, সব সংকীর্ণ বৃত্ত ভেঙে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে পথশিশুর কল্যাণে।

 আমরা অনেক সময়ই শিশুদের জন্য কাজ করতে আগ্রহী হই কিন্তু জীবনের বিভিন্ন স্তরে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পিছু থমকে যেতে হয় আমাদের। আমাদের থমকে যাওয়াতেই ইতি ঘটে যত মহৎ উদ্যোগ। এইতো শীতের রাতে দেখলাম একটি ছোট্ট ছেলে তার চেয়ে বয়সে কম আরেকটি ছোট্ট ছেলেকে কোলে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে রাস্তায়। মানুষ চলাচল করছে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, গাড়ির বিরক্তিকর আওয়াজ, শীতের প্রকোপ সবকিছুর পরও দুটি শিশু ঘুমিয়ে আছে পথের ধারে। বড় শিশুটি আগলে রেখেছে ছোট শিশুটিকে পরম মমতায় উঞ্চতায় চাদরে, ¯েœহপূর্ণ আদরে। শত ব্যস্ততা, আনন্দ উল্লাস, জীবনের জয়যাত্রা, সাফল্যের গল্প কিংবা ব্যর্থতার চিহ্ন সকল কিছু এদের পাশ দিয়ে চলে যায় কিন্তু পথের ধারেই কাটে ঐ দুটি শিশুর দিনরাত্রির অসমাপ্ত গল্প। ঐ দুটি শিশুর মতো সকল অসহায় শিশুদের পথেই রাত কাটে, দিন কাটে। আমরাও থমকে যাই বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক যাতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে নিরবে কিংবা জীবনের হৈ চৈ আনন্দ উল্লাসে ভুলে যাই ওদের কথা। যার হারায় সেই বুঝে হারানোর বেদনা। এইসব পথশিশুরা বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, ফুটপাতে অহেতুক ঘোরাঘুরি, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে থাকে।


এরাই পথশিশু, পথফুল। পথেই ফুটে, পথেই থাকে, পথেই ঝরে অবহেলায়, অযত্নে অনাদরে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আঝে যেসব শিশু রাস্তায় দিনাতিপাত করে, রাস্তায় কাজ করে, রাস্তায় ঘুমায়। যাদের নির্দিষ্ট কোন আবাসস্থল নেই, প্রতিদিনের জীবনযাপন রাস্তাকে কেন্দ্র করে এবং আঠারো বছরের নিচে তারাই পথশিশু। জাতিসংঘের তথ্য বলে- বিশ্বে পথশিশু রয়েছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন। ১৯৫৯ সালের ২০ নভেম্বর শিশু অধিকার সুরক্ষার জন্য সনদ ঘোষণা করে জাতিসংঘ। সনদে উল্লেখ করা হয় শিশুদের থাকবে জন্মসূত্রে নাম জাতীয়তার অধিকার, বড়দের থেকে ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার, সুস্বাস্থ্য ও  পুষ্টি লাভের অধিকার। দুর্যোগের সময় সুরক্ষার অধিকার, খেলাধুলা, বিনোদন অধিকার, শারিরিক, মানসিক, নৈতিক অধিকার, কষ্টকর শ্রমে যুক্ত না করার অধিকার, বিশ্ব ভ্রাতৃত্বে বেড়ে ওঠার অধিকার এবং জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মৌলিক অধিকার । ২.৫ মিলিয়ন শিশু স্যানিটেশন ব্যবস্থা বঞ্চিত। ২৩০ মিলিয়ন শিশু আছে যাদের নেই অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ। ৩৫ মিলিয়ন শিশু জীবনঘাতক এইচআইভি এইডস ভাইরাস নিয়ে বেঁচে আছে এই পৃথিবীতে। এরা এখনো জীবনের স্বর্ণালী সময় পেরোয়নি।

শিশুদের কল্যাণে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন এ্যাক্ট) জারি করেছিলেন। যার মাধ্যমে শিশুদের নাম জাতীয়তার অধিকারের স্বীকৃতি.সব ধরণের অবহেলা, শোষণ, নিপীড়ন, নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন, মন্দ কাজে লাগানো ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তার অধিকার  নিশ্চিত করা হয় কিন্তু এখনো প্রকৃত শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি আমাদের সমাজে, আমাদের দেশে, আমাদের বিশ্বে। জাতিসংঘের শিশু সনদ ও শিশু আইন-২০১৩ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়। বিভিন্ন তথ্য মতে আমাদের দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪৫% শিশু। সবুজ শ্যামল এই অপরূপ দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭৯ লাখ। বেলা যায় বেড়ে। ক্রমেই বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা, পথ শিশুর সংখ্যা। কেউ লেগুনা কিংবা বাসের হেল্পার, কেউ চা অথবা পিঠাপুলির দোকানে ছোট্ট বিক্রেতা, পথের ধারে জীবনের রঙমাখা স্বপ্নময় দিনরাত্রির গল্প বলা কোন অসহায় পথ শিশু। পথ শিশুর নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, নেই চিকিৎসা  কিংবা নেই জীবন সাজানোর মাধ্যম শিক্ষার সুযোগ। জীবন যেখানে রাস্তার ধূলায় মলিন হয়, সেখানে আবার বৃহৎ প্রত্যাশা শুধু হতাশা ছাড়া আর কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না। পথের ধারে জীবন কেঁটে যায় অবহেলায় অযত্নে অনাদরে। জীবনের যত স্বপ্ন স্বাদ  হয়ে ওঠে দুচোখের বিন্দু বিন্দু নোনাজল। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও মোস্ট এ্যাট রিস্ক এ্যাডেলেসেন্ট (এমএআরএ) নামের প্রতিষ্ঠান দুটি ২০১২ সালে একটি জরিপ করে। সেই জরিপে  পথশিশুর সংখ্যা উল্লেখ আছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার পথ শিশু। বেসরকারীভাবে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে উল্লেখ পথ শিশুর সংখ্যা দশ লাখের চেয়েও বেশি। শিক্ষা,খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান জীবনের সকল অধিকার থেকে যারা বঞ্চিত তাদের রেখে উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়। যে বয়স ছিল মা-বাবার পরিবারের সদস্যের ¯েœহ ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার,স্কুলে পড়তে যাওয়ার, নতুন বইয়ের গন্ধের স্বাদ পাওয়ার, সহপাঠীর সাথে আনন্দ উল্লাস করার, বিদ্যালয়ে নতুন নতুন পড়া জানার বুঝার, খাতাকলমে লিখতে পারার নিজের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অথবা পাঠ্য বিষয়ের কোনকিছু অথচ সেই সব শিশুরা জীবন অতিবাহিত করে পথের ধারে অবহেলায় অনাদরে। জীবনযুদ্ধে লড়ে যায় নিরবে নি:শব্দে। সেই নিরবতায়, সেই নি:শব্দতায়ও কানে আসে হারানোর গল্প,হারানোর সুর।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে  সাফল্যের  উচ্চশিখরে পৌঁছে যাচ্ছে ধীরে ধীরে সময় ¯্রােতে। একটি ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে আছি আমরা তবে সবার সমবেত চেষ্ঠা ও সরকারের কার্যশীল কর্মই পারে পথশিশুদের জীবনের সাদাকালো দিনরাত্রির গল্পগুলোকে করে তুলতে রঙিন ও স্বপ্নময় । আমাদের দেশে মৌসুমি লোকদের কর্মকান্ড চোখে পড়ার মতো। ঈদ, শীত কিংবা দুর্যোগে সবার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। একদিনের ভালোবাসা কী সমাধান হতে পারে বিভিন্ন সমস্যার? সকল সমস্যা দূরীকরণে চাই মানবতাবোধের জাগরণ। পথশিশু সমস্যা দূর করণে বর্তমান সময়ে যাঁরা কাজ করছেন বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তরুণেরা গড়ে তুলছেন স্বপ্নময় বাংলাদেশ। তাঁদের প্রচেষ্ঠার ফলে কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে পথশিশুর কষ্ট। যেখানে আশার  প্রদীপ জালাচ্ছেন তরুণেরা ঠিক তেমনি আবার কেউ কেউ সেই প্রদীপে আলো জ্বালাতে গিয়েও পারছেনা কোনক্রমেই বিভিন্ন পারিপার্শি¦কতায়। মৌসুমি কার্যক্রম নয় বরং সরকারি হস্তক্ষেপে সকল প্রাণের উদ্দ্যম কর্মে হ্রাস পাবে পথ শিশুর সংখ্য। পথ শিশুর সংখ্যা হ্রাস পেলে সকল দিকেই সুফলতার দখিনা হাওয়া বয়ে যাবে আমাদের জাতীয় জীবনের জানালায়। সেই দখিনা হাওয়ায় ভেসে যাবে সকল দু:খ শোকের বেদনার লাল নীল কষ্টের গল্প।

3
মাদক বাণিজ্যের থাবায় পথশিশু


বয়স কত? ঝটপট উত্তর দেয়, জানি না। তয় মায় কয় ১৩। নাম কী? আবু । পড়? না, কাম করি। কী কাম? কওন যাইব না। মানা আছে। আলম থাকে বেগুনবাড়ির আশেপাশে। ওর মা কাজ করে কয়েকটি বাসায়। মা বিয়ে করেছে তিনটি। এখন একজন স্বামীও নেই, কিন্তু পাঁচ সন্তানই তার ঘাড়ে। আবুর মা জানায়, উপায়হীন হইয়া ওরে কাজে দিছিলাম এক গ্যারেজে, পেডে-ভাতে। কামডা শিখুক। কাম ভালই শিখছিল। কিন্তু একদিন ৫০০ টেহা আমার হাতে দিয়া কইলো, রোজগার কইরা আনছি মা। আর অবাব থাকবো না। আমি কইলাম, কেমনে? কথা কইলো না। খোঁজ কইরা জানলাম ইয়াবা নামের টেবলেটের প্যাকেট এক জায়গা থেইকা আরেক জায়গায় লইয়া যাওনের কাম করে। আমি বুঝি নাই। একবার যহন পুলিশ আইলো বস্তিতে তহন বুঝলাম, হে নেশার জিনিস আনা-নেওয়া করে। কিছুদিন আটকাইয়া রাখছিলাম ঘরে। তয় টেকার নেশায় মাঝেমধ্যে এইকাম করে। বিচ্ছিন্নভাবে এমন একটি দুইটি ঘটনা হয়তো আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আসল চিত্র কতটা ভয়াবহ, একটি প্রতিবেদন তা স্পষ্ট করে দেয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের 'মাদক প্রতিবেদন ২০১৩'-এর তথ্যানুযায়ী মাদক চোরাচালান, পরিবহন এবং বিক্রিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ শিশু; যাদের বয়স ১৬ বছরের নিচে। এরা ছিন্নমুল পথশিশু। সারা দেশে প্রায় ৪ লাখ পথশিশু আছে। এদের একটি বড় অংশ পথে-পথে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পথশিশুদের ৮০ শতাংশই ঢাকায় বাস করে। পথশিশুরা এখন গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। । এই শিশুদের ৬০ শতাংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এক বছর বা তারও কম বয়সী শিশুরা নারী মাদক পাচারকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পথশিশুদের পারিবারিক বন্ধন বলে কিছু নেই। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো চলে এবং নিজেদের জীবন নিজেই চালায়।
ব্যবহারের সুবিধা
শিশুদের সাধারণত কেউ সন্দেহ করে না। অল্প টাকায় তাদের দিয়ে যে কোনো কাজ করানো যায়। কাজের ভালো-মন্দ তারা বোঝে না। ফলে অপরাধমূলক অনেক কাজে তাদের ব্যবহার করা সহজ হয়। তাদের যারা ব্যবহার করে তারা অনেকটা নিরাপদে থাকে। কারণ মূল অপরাধীদের শিশুরা চিনতেই পারে না। মাদক চোরাচালান ও বিক্রির কাজে জড়িত নারীরা শিশুদের নিয়ে চলাচল করে। ধরা পড়লে ছোট শিশু সঙ্গে থাকায় অনেক সময় পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের আনুকুল্য পায় । আরেকটি বড় দিক হচ্ছে , যেসব শিশু অপরাধমূলক কাজে ব্যবহ্যত হয় তারা ছিন্নমূল বা টোকাই। তাদের পারিবারিক কোনো জীবন থাকে না। তাদের পারিবারিক বন্ধন নেই। তাদের নিয়ে সমাজও ভাবে না। পুলিশ তাদের ধরলে তাদের নিয়ে সমাজে আলোচনাও হয় না। তাদের আসলে সমাজে মানুষ বলেই মনে করে না কেউ। তাদের ভালো-মন্দ, ভবিষ্যৎ সব কিছুই ঘিরে থাকে কেবল অন্ধকার।
আইন কী বলে?

২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭৩ নম্বর ধারায় শিশুকে নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য কিংবা বিপজ্জনক ওষুধ প্রদানের বিষয়টি দণ্ডের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অসুস্থতা বা অন্য কোনো জরুরি কারণে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ডাক্তারের আদেশ ব্যতীত কোনো শিশুকে নেশাগ্রস্তকারী মাদকদ্রব্য বা ওষুধ প্রদান করে বা করায়, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এ ছাড়াও আইনটির ৭৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো শিশুকে মাদক বা বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রয়ের স্থানে লইয়া যায় অথবা এইরূপ স্থানের স্বত্বাধিকারী, মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কোনো শিশুকে অনুরূপ স্থানে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে অথবা কোনো ব্যক্তি যদি অনুরূপ স্থানে কোনো শিশুর গমনের কারণ সৃষ্টি করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদ অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। আইনের ভাষায় শাস্তি-জরিমানা ঠিক থাকলেও কোনো অংশেই থেমে থাকছে না শিশুদের দিয়ে মাদক আদান-প্রদানের বিষয়টি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিরূপ প্রভাব আমাদের সমাজকে আরও অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্রঃ সমকাল

4

আমিও ভালোভাবে লেখাপড়া করতে চাই। চাই আরো ১০ জনের মতো বড় হতে, সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। আমারও ইচ্ছে হয় বড় ব্যবসায়ী হতে।
কথাগুলো ১৩ বছর বয়সী সাবিনার। হাতে তার কিছু গোলাপ আর কয়েকটি ফুলের মালা। শাহবাগ চত্বরে সে সাতসকাল থেকেই এগুলো নিয়ে মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে বিক্রি করে।

তার সাথে কথা বলে জানা গেছে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। তবে বর্তমানে রাজধানীর তেজকুনি পাড়ার পাইনে সরদারের বস্তিতে মামার সাথেই থাকে। ছোট বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছে সে। মা অন্যত্র বিয়ে করেছে। শাহবাগে এ পথশিশু ফুল বিক্রেতা। তার মামার হাত ধরেই সে এখানে এসেছে। সাতসকালেই ফুল বিক্রি শুরু হয় তার। বিকেল অবধি চলে হাতে করে নিয়ে ফুল বিক্রি। এতে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা আয় হয়। তার কাছে প্রশ্ন দিনভর খেটে এত পয়সা কামাই করছ পড়ালেখা করতে ইচ্ছে হয় না, আগ্রহ হয় না বড় হয়ে কিছু হতে? মাথা নেড়ে হ্যাঁ জবাব দিলো সে।

একই রকম আরেকজনের সাথে কথা হয়। তার নাম মানিক। তার মা-বাবা কেউ নেই। তার ঠিকানা এখন কমলাপুর রেলস্টেশন। বাড়ি উড়াকান্দা বরাই, রাজবাড়ী। সেখান থেকে ঢাকায় এসেছে সে। এখন সে বিক্রি করছে পানির বোতল। তার সাথেও নয়া দিগন্ত প্রতিবেদকের কথা হয়। তারও ইচ্ছা সে বড় ব্যবসায়ী হতে চায়। চায় লেখাপড়া করতে, এভাবে পথে পথে ঘুরে জীবন কাটাতে তারও আর আগ্রহ নেই।

রাজধানীর পথশিশুদের মধ্যে ওপরের দু’টি কেস স্টাডি খণ্ড চিত্র মাত্র। সারা রাজধানীতে এরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পথশিশুদের ওপর পৃথক পৃথকভাবে দু’টি গবেষণায় উঠে এসেছে পথশিশুরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। লেখাপড়ার সুযোগ চায়। এমন নোংরা পরিবেশে তারা বড় হতে চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অধ্যাপক মো: নুরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ঢাকা শহরের ফুলবিক্রেতা পথশিশুদের দৈনন্দিন জীবন শীর্ষক এক সমীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, এসব শিশুর শতকরা আশি ভাগই পড়াশুনা করতে চায়। এসব শিশুর মধ্যে ব্যবসা ও লেখাপড়া করার আগ্রহ দেখা গেছে। তারা জীবন মানোন্নয়নের জন্য ব্যবসা করতে চায়। এসব শিশু প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করে, দুমুঠো ভাতের জন্য। আর এরা মূলত এসেছে রাজধানীতে নদীভাঙন, দরিদ্রতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, গ্রামীণ কূটকৌশল আব গৃহবিবাদের যাতনা থেকে রেহাই পেতে। তাদের বাসস্থান মূলত রাজধানীর বস্তি রেলস্টেশন বা পথের ধারে।

রাজধানীতে এসব পথশিশুর থাকা-খাওয়াসহ আয় রোজগারের জন্য বিচরণস্থান সদরঘাট, গাবতলী সায়েদাবাদ, এয়ারপোর্ট ও কমলাপুর রেলস্টেশন। এসব শিশুর শতকরা ৮০ ভাগ জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে।

এ দিকে একিই চিত্র ফুটে উঠেছে চট্টগ্রামে পথশিশুদের ওপর এক গবেষণায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এ গবেষণা পরিচালনা করেন। তার বিষয় ছিল চট্টগ্রাম মহানগরের ওপর পথশিশুদের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে। এতে তিনি দেখান চট্টগ্রাম মহানগরীর পথশিশুরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত।

তাদের মধ্যে প্রায় ৩৩ শতাংশ ডাস্টবিন ও ময়লার স্তূপ থেকে কাগজ ও অন্যান্য জিনিস কুড়ায়, ২০ শতাংশ পেপার বিক্রি করে, ১২ শতাংশ ভিক্ষা করে এবং বাকিরা ভাঙ্গাড়ির কাজ, কুলির কাজ, হোটেল ও দোকানের কাজ, পানি বিক্রি, ওয়েলডিং কারখানার কাজ, রিকশা চালানো, বাস-ট্রাকের হেলপারসহ প্রভৃতি কাজ করে থাকে। আর তারা এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে দরিদ্র্যতা, পারিবারিক ভাঙন, অন্য কোনো কাজ না পাওয়া এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতা। চট্টগ্রামের পথশিশুদের প্রায় ২৭ ভাগ দৈনিক ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা কাজ কাজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে পথশিশুদের ৩৭.৩৩ শতাংশ ছোট ব্যবসায়ী বা দোকানদার হতে চায়। প্রায় ২৯ শতাংশ শিশু গাড়ির ড্রাইভার, ১৬ শতাংশ শিশু হোটেল ও দোকানের কাজ করতে চায়। ৯ শতাংশের ইচ্ছে বিদেশ গমন আর ০.৬৭ শতাংশ শিশু ভবিষ্যতে কী করবে তা বলতে পারেনি।

ইউনিসেফ পথশিশু ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পথশিশুদের দুই ভাগে ভাগ করেছেন, পথশিশু এবং রাস্তার পাশে শিশু যারা বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। আবার এসব শিশু নিয়মিতভাবে রাতে নিজ পরিবারে ফিরে যায় এবং পরিবারের সাথে বসবাস করে। আবার রাস্তায় থাকে এমন শিশু অর্থাৎ যাদের কোনো ঘর নেই, যারা নগরীর রাস্তায় বা ফুটপাথে বাস করে, কাজ করে এবং ঘুমায়।

জাতিসঙ্ঘের তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্বের পথশিশু রয়েছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন। সে অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে যেসব শিশু জীবিকা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে দিনে বা রাতে রাস্তায় একা বা পরিবারের সাথে বাস করে, তাদেরকে পথশিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে দেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ পথশিশু রযেছে, এদের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগের বাস রাজধানীতে।

অপর দিকে ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসের হিসাবে শুধু ঢাকায় রয়েছে প্রায় চার লাখ ৫০ হাজারের মতো পথশিশু। এ বিপুল পথশিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সুুচিকিৎসা সহ নানা সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত। আর এমনই বাস্তবতায় প্রতি বছর পালিত  হচ্ছে বিশ্ব পথ শিশু দিবস। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কার্যক্রম হাতে ও নেয়। ২০১২ সাল থেকে দিবসটি প্রতি বছর পালিত হচ্ছে। কিন্তু ভেবে দেখার বিষয় প্রতিবছর তাতে কতটুকু সুবিধা নিশ্চিত করা হয় পথশিশুদে জন্য।


সুত্রঃ কালের কন্ঠ

5
অ্যান্টিবায়োটিকে সাবধান!


রাহেলা বেগম তাঁর জীবনে প্রথমবার মা হতে চলেছেন। গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তা-ও তাঁরা এক দিন আগে চলে এসেছেন হাস্পাতালে।  তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। কিন্তু জন্মের পরপরই শিশুটির ভয়ানক শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। এই শীত মৌসুমে এটি খুবই স্বাভাবিক। পরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে বাচ্চাকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করলেন চিকিত্সক। এক দিন পরে বাচ্চার অবস্থার আরও অবনতি হলো। শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক কালচার সেনসিটিভিটি টেস্ট করে দেখা গেল, Amoxicillin, Cotrimoxazole, Nalidixic Acid, Gentamicin, Ceftazidime, Amikacin, Ciprofloxacin, Ceftriaxone, Cefotaxime, Cefuroxime, Aztreonam এবং Netilmicin গ্রুপের প্রতিটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে তার শরীরে আক্রমণকারী জীবাণুটি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অর্থাৎ কোনো অ্যান্টিবায়োটিক শিশুটির জন্য এখন কার্যকর নয়, একমাত্র Meropenem বাকি আছে। চিকিৎসক হতবাক। এই বাচ্চার যদি এখনই এ অবস্থা হয়, তাকে  হয়তো এবারের মতো সুস্থ করে তোলা যাবে কিন্তু তাকে দীর্ঘ জীবনের বাকি দিনগুলোতে নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কিছুই রইল না। কিন্তু কী এই অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স?

এককথায় জীবাণুগুলোর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে যাওয়াকেই বলে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স। বিবর্তনের নিয়মেই একটি প্রজাতি ক্রমাগত একই ধরনের বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে বহুদিন আসতে থাকলে সেই প্রজাতির মধ্যে জিনগত পরিবর্তন আসে। সেই জিন প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন সাধারণত ঘটে ধীরে ধীরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। তারই ধারাবাহিকতায় হুট করেই এমন একটি পরিবর্তন আসে, যখন প্রজাতির কিছু সদস্য তৈরি হবে, যার ওপর সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না। সে হয়ে যাবে সেই অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট বা রোধক। এদের নাম দেওয়া হয়েছে সুপারবাগ। সুপারবাগ কতটা ভয়ংকর, সেটা বুঝতে হলে একটু ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।

প্লেগ, কলেরা, যক্ষ্মায় একসময় লাখ লাখ লোক মারা যেত। ব্যাকটেরিয়াজনিত এসব রোগের সে যুগে কোনো ওষুধ ছিল না। এ অবস্থার পরিবর্তন আসে আলেকজান্ডার ফ্লেমিংয়ের পেনিসিলিন আবিষ্কারের পর। মাত্র এক শতাব্দী আগের কথা। পেনিসিলিন আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা একের পর এক নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করলেন। তারই ফসল আজকের চিকিত্সাবিজ্ঞানের জয়যাত্রা।

যক্ষ্মা, কলেরাকে এখন কেউ পাত্তাই দেয় না। সবাই জানে এসব রোগের চিকিতসা আছে। অনেকের আবার ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়ার দরকার পড়ে না। জ্বর হলেই একটা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সুস্থ। তার পরও খারাপ লাগলে হয়তো আর দু-এক ডোজ। এরপর শরীর একটু ভালো হয়ে গেলেই আর ওষুধ খান না তাঁরা। সাময়িক সুস্থ হয়ে খুশিমনে জীবনের গতিতে চলতে থাকেন। কিন্তু তাঁদের কারণে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়, মাশুল গুনতে হয় প্রত্যেক মানুষকে। এমনকি যাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেননি, তাঁরাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ না করলে দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় না। দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তখন দেহের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। মানুষটি আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ হলেও তাঁর ভেতরে যে অল্প কিছু জীবাণু রয়ে গেছে, সেগুলো শিখে যায় কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তাঁর ক্ষতি করতে পারে। তারপর কয়েক প্রজন্মে তাঁর জেনেটিক পরিবর্তন ঘটে এবং সেই সব অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে টিকে থাকা শেখে। এরা বংশপরম্পরায় এই বৈশিষ্ট্য রেখে যায়। এগুলোই সেই সুপারবাগ। পরবর্তীকালে একই অ্যান্টিবায়োটিক আর সেই সুপারবাগের ওপর কাজ করে না। আবার এই সুপারবাগ বায়ু, পানি, মাটি ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য কারও দেহে প্রবেশ করে। এতে দেখা যায়, নতুন পোষকের শরীরেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। তখন আরও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। ভয়ংকর একটি ব্যাপার।

কিন্তু এর চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ইচ্ছা করলেই আবিষ্কার করা যায় না। ধীরে ধীরে অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার কমে আসতে আসতে এখন এক আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই এসব সুপারবাগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো আমাদের আর কোনো ওষুধ থাকবে না।

এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিক আমরা হরহামেশা ব্যবহার করছি। যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় সব ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে শিগগিরই এমন এক অবস্থায় আমরা উপনীত হব, যখন আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজই করবে না। আবার আমরা সেই পুরোনো যুগে ফিরে যাব, যখন কলেরায় গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মারা যেত।

এবার ফিরে আসি সেই শিশুটির কথায়। এই শিশুটিকে তার শরীরে কাজ করবে এমন একমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক Meropenem দিয়ে ভালো করে তোলা হলো সেবারকার মতো। কিন্তু সে কি জীবনে আর কখনো সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে অসুস্থ হবে না? তখন কী অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন?

এ জন্য দরকার সচেতনতা। ভুলেও চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন  করা যাবে না। অবশ্যই একবার শুরু করলে এর ফুল কোর্স সম্পন্ন করবেন। উন্নত দেশে এখন রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিই আইনত দণ্ডনীয়। সচেতনতা না বাড়ালে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষই হবেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

লেখক: শিক্ষার্থী, জালালাবাদ মেডিকেল কলেজ, সিলেট।

6
শিক্ষার্থীরা যে কারনে দর্শন শাস্ত্র কেন পাঠ করবে


কী পড়ানো হয়?

প্রত্যেক মানুষেরই তার নিজেকে জানা প্রয়োজন। নিজেকে জানার পদ্ধতিটা কী? আমি কে, আমি কীভাবে এলাম, আমাদের জগৎ কীভাবে সৃষ্টি হলো ইত্যাদি সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ বলছি কারণ, আমরা নিজেদের যেভাবে জানি, তার ওপর ভিত্তি করেই জীবনের সিদ্ধান্তগুলো নিই। কেউ হয়তো বিজ্ঞানী হবে, কেউ পরিসংখ্যানবিদ হবে, কেউ হবে অর্থনীতিবিদ। কিন্তু এই অর্থনীতি, পরিসংখ্যান বা বিজ্ঞানের লক্ষ্য কী? সে লক্ষ্য সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কতটা কাজে লাগবে, একজন অর্থনীতিবিদ বা একজন বিজ্ঞানীর দৃষ্টিভঙ্গি কী রকম হবে, কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও আমাদের লক্ষ্য কী হবে—আমরা যদি এই পুরো বিষয় সম্পর্কে একটা বিচারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাই, তাহলে আমাদের দর্শন পড়া উচিত।

পাশাপাশি একজন যুক্তিশীল, নান্দনিক এবং একজন নৈতিক মানুষ তৈরির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সেসবই আমরা দর্শনের শিক্ষার্থীদের শেখাতে চাই।

ভবিষ্যৎ কী?

বিষয় হিসেবে দর্শনের ভবিষ্যৎ অন্য যেকোনো বিষয়ের সমান কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি উজ্জ্বল। সমান বলছি কারণ, যারা দর্শন পড়ে, তারা সবাই তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ভালো করে। আর বেশি বলছি এই কারণে যে কাউকে পরিপূর্ণ একজন ব্যক্তি হয়ে উঠতে হলে সব ধরনের সমসাময়িক ঘটনাবলির মধ্যে যে সংযোগ, সেটা ধরতে শিখতে হয়। এ জন্য দরকার একটি দার্শনিক মন। হার্ভার্ড-অক্সফোর্ডের মতো বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে চোখে পড়বে ‘দর্শন ও ব্যবসা’, ‘দর্শন ও কম্পিউটার প্রকৌশল’ ইত্যাদি বিষয় সেখানে আছে। কারণ, যে যত বেশি ভাবনার গভীরে যেতে পারে (ক্রিটিক্যাল মাইন্ডেড), সে তত বড় বিজনেস এক্সিকিউটিভ কিংবা তত বড় কম্পিউটারবিজ্ঞানী হয়। আর এই ‘ক্রিটিক্যাল মাইন্ড’–এর শিক্ষা দেওয়া হয় দর্শন বিভাগে। দর্শনের আরেকটা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বিষয় হলো ‘প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা’। এখন কিন্তু আমরা শুধু দক্ষ বিজ্ঞানী বা দক্ষ প্রশাসকই চাই না, আমরা চাই একজন নীতিমান বিজ্ঞানী বা প্রশাসক।

তা ছাড়া এখন নিত্যনতুন প্রযুক্তি আসছে বাজারে। এগুলো আমাদের জন্য অনেক সুফলের পাশাপাশি অনেক ঝুঁকিও বয়ে আনছে। এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু সতর্কতামূলক নীতি গ্রহণ করতে পারি, সেগুলো কিন্তু দর্শনেই গবেষণা করা হয়। আসলে দর্শনের ব্যাপ্তি এত বেশি যে একে যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

ক্যারিয়ার কোথায়?

একজন দর্শনে স্নাতক ব্যক্তি ভালো প্রশাসক হতে পারবে, ভালো সম্পাদক হতে পারবে। বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে যেখানে জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন হবে, সেখানে ভালো করতে পারবে। হতে পারবে ভালো নীতিনির্ধারক।

চাকরির বাজারের ক্ষেত্রে এখন মূলত এমন শিক্ষার প্রয়োজন, যা ব্যবহারিক। তবে আইনস্টাইন বলেছেন, ‘জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এই কাল্পনিক ক্ষমতা থাকাও জরুরি। আগে ধারণা করা হতো, দর্শন শুধু অ্যাবস্ট্রাক্ট বা কাল্পনিক। ধর্ম, নৈতিকতা, সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছুর সঙ্গেই দর্শন সম্পৃক্ত। সবাই তো ফলিত জ্ঞান পড়বে না। এই মৌলিক জ্ঞানগুলো অর্জনের জন্য দর্শন পড়া উচিত।

একটা সময়ে শিক্ষার্থীদের ‘বিজনেস’ পড়ার ঝোঁক ছিল। এখন দিন দিন মানুষ শিখতে চাচ্ছে, আমাদের সিদ্ধান্তগুলো আমরা কত দ্রুত নিতে পারি। দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে বড় পদে আছে দর্শনের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোতে বর্তমানে ‘ইথিসিস্ট’ বা ‘ইথিকস অ্যাডভাইজার’ হিসেবে অনেককে নিচ্ছে। ক্ষেত্রটি পুরোপুরি দর্শনের শিক্ষার্থীদের জন্য। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা বা গবেষণার কাজ করছে অনেকে।

কারা পড়বে?

দর্শন তারই পড়া উচিত, যার একটা বিষয় সম্পর্কে গভীরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। কেউ হয়তো গণিত বোঝে। কিন্তু এই গণিত কীভাবে এল, তা জানতে চাইলে শুধু গণিত বুঝলে হবে না, আরও একটু প্রচেষ্টা লাগবে। এ রকম শুধু গণিত নয়, যেকোনো বিষয়েই যার এ ধরনের কৌতূহলী মন আছে, যে নিজের ধারণা-অবস্থান দিয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, যে যুক্তিশীল, নৈতিক, সুন্দর মনের মানুষ হতে চায়, সর্বোপরি, কোনো বিষয়ের গভীরে যে যেতে চায়, তারই দর্শন পড়া উচিত।


সূত্রঃ প্রথম আলো

8
জলবায়ু পরিবর্তনেও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অসহায়


প্রতিটি সংকটে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়। জলবায়ু পরিবর্তনও তার ব্যতিক্রম নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। এখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও নদী বিধৌত ব-দ্বীপ বাংলাদেশ আরও প্রাকৃতিক সংকটের মুখোমুখি হয়। তবে উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে থাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী দুর্যোগ ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, নদী ভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততাকে প্রধান প্রাকৃতিক বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সরকার।
অনেক সময় বন্যার কারণে নদী ভাঙন হয়। আবার নদী ভেঙেও লোকালয় প্লাবিত হয়। এর ফলশ্রুতিতে প্রাণহানি, জমি ও সম্পদ বিনষ্ট এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় খুবই সাধারণ ঘটনা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের বসবাসের এই এলাকাগুলো ওই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে। ঘন ঘন দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে এই জেলাগুলো। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভুত করছে। পানির লবণাক্ততাও একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলের অনেক এলাকা এখন এই সমস্যায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত গরমও জলবায়ু পরিবর্তনের আরেক ধরনের প্রভাব। এতে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে মানুষের জীবিকা সংকটের মুখে পড়ে। প্রতি পাঁচ বছরে একবার খরার কারণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশের মানুষ, আর এক্ষেত্রে দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব লোকালয়ের শিশুদের ঝুঁকি বড়দের চেয়ে বেশি। গরম ও অন্যান্য জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বড়দের তুলনায় তাদের কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তাদের ডায়রিয়া ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পুষ্টিহীনতায় ভোগারও ঝুঁকি থাকে এসব শিশুদের। দুর্যোগে স্কুল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন

দুর্যোগের সময়ে শিশুদের হারিয়ে যাওয়া, যৌন নিপীড়নের শিকার, শিশু শ্রম, পাচার এবং অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থাকে

বাংলাদেশে নারী-পুরুষ নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও ছেলে ও মেয়েরা ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়। শিশুর বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতে তাদের অসহায়ত্বও ভিন্ন ধরনের হয়, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। গত কয়েক বছরে সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর (ডিআরআর) ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ বহু ভবন নির্মাণ করেছে যা ঘুর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে দুর্যোগে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও উপার্জন হারানোর হার ক্রমশ বাড়ছে।

সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে বার্ষিক বরাদ্দের ৬ থেকে ৭ শতাংশ ব্যয় করছে। বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। এই বিপুল ‍বিনিয়োগের সঙ্গে আরও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা, তদারকি, রিপোর্টিং ও কার্যকর নীতি হতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণের যোগসূত্র এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি


সমাধান

দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ায় কমিউনিটির সামলে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ মনে করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ বড় ধরনের দুর্যোগে জীবনরক্ষা, উন্নয়ন, অংশগ্রহণ এবং শিশুর সুরক্ষা উন্নততর করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য নাজুক পরিস্থিতি সামালে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগে গতানুগতিক জরুরি ‘সাড়া ও ত্রাণ’ ভিত্তিক কার্যক্রম থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের আরও সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অ্যাক্টের আওতায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের একযোগে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই পরিবেশের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির দিক দিয়ে অনেক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছে। এসব দুর্যোগ সম্পর্কে জ্ঞান ও জানাবোঝাও বেড়েছে।

উল্লেখযোগ্য তহবিলসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেওয়ার অনেক বিষয় কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ।

২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত সাত লাখ রোহিঙ্গার জরুরি প্রয়োজন মেটাতে যখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা যোগাড় করা হচ্ছিল সেই সময় বাংলাদেশ সরকার শুধু ইউনিসেফ ও অন্যান্য কয়েকটি সংস্থার সামান্য সহায়তা নিয়ে খুব দ্রুত ও কার্যকরভাবে বন্যায় বাস্তুচ্যুত প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে রক্ষা করে।

সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে ইউনিসেফ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেয়া, সমাজের সব ধরনের মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিশুকেন্দ্রিক পরিকল্পনার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজও করা হয়

এক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচনার বিষয়গুলো হল-

# দুর্যোগের সময় ও পরবর্তীতে সেবা অব্যাহত রাখতে হবে।

# দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এমন অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎস নিশ্চিতে বিনিয়োগ।

# নীতি নির্ধারণ ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুদের বিষয়াদি ও তাদের প্রয়োজন মেটানোর পদক্ষেপ অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

ইউনিসেফের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এজেন্ডায় দুর্যোগকালে সব বয়সী শিশুরা যেসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তার সবই  বিবেচনায় নেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত প্রয়োজনগুলো যাতে মেটানো যায় সে লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়নে তথ্যভিত্তিক (ডেটা সিস্টেমের) সহায়তা দেয় ইউনিসেফ।

পানীয় জলের উন্নততর অবকাঠামো এবং স্কুলে স্কুলে পৃথক ল্যাট্রিন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে নিরাপদ পানি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মেয়ে ও নারীদের উপযোগী স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে এগিয়ে নেওয়া হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনগণের কাছে বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় ও ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটির প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি এবং এমনকি শিশুদেরও সহায়তা নেওয়া হয়।

নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের জন্য ইউনিসেফের কার্যক্রমের কিছু বিষয় নিচে তুলে ধরা হল:

মা ও শিশু

বিদ্যমান স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত সমস্যাগুলো সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ইউনিসেফ। তাপদাহ, নতুন নতুন এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং দুর্যোগকালে আহতদের চিকিৎসা প্রভৃতি বর্তমান স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় নিয়ে আসা যায়।

সরকারি স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের পাঠ্যসূচিতে জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছে ইউনিসেফ। স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে সৌর শক্তি ব্যবহারের জন্যও কাজ করা হচ্ছে। দুর্যোগে অসহায় এলাকাগুলোতে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণে ইউনিসেফের সহায়তা কাজে লাগানো হয়।

দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিতে কমিউনিটি রেডিও ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ গর্ভধারণকালে হাইপারটেনশন, মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার জন্য যে সমস্যায় ভোগেন অনেক মা, সে সম্পর্কিত তথ্য ও তা থেকে উত্তরণের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয় কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে।

দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এইচআইভির ওষুধ ও সেবা সহজলভ্য করার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা দেয় ইউনিসেফ।

স্কুলের পাঠ্যসূচি ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। কোনো একটি দুর্যোগের পর শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া বা শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া প্রতিরোধে পাইলট প্রোগ্রামে সহায়তা করা হচ্ছে।

বাবা-মার সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিসেফের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট (ইসিডি) কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বাবা-মার প্রশিক্ষণে জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুর সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

দুর্যোগ পরিস্থিতি ও এর পরেও শিশুর জন্য সেবাগুলো চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অংশীদারদের নিয়ে ইউনিসেফ জেলা পর্যায়ে ‘জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার’ জন্য পলিসি ও ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণ করেছে।

সংকটের ঝুঁকি বাড়ায় দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে ইসিডি সেবাগুলো যাতে অব্যাহত রাখা যায় সেজন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও টেকসই পদ্ধতি বের করতে গবেষণায় বিনিয়োগ করছে ইউনিসেফ।

শিশুর খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখার উদ্যোগে সহায়তা দেয় ইউনিসেফ। দুর্যোগের সময়ে ভুক্তভোগীদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যসম্পদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতেও সহায়তা দেওয়া হয়। জলবায়ু সহিষ্ণু শস্য উদ্ভাবন ও চাষেও উৎসাহ দেয় ইউনিসেফ।

দুর্যোগকালে দূষিত পানির মাধ্যমে প্রায়ই পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও হাইজিন (ওয়াশ) স্থাপনা নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা যাতে জলবায়ু সহিষ্ণু করা যায় সেজন্য গবেষণা ও সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। জলাবদ্ধতা, মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতে এমএআর সিস্টেম ও অন্যান্য জলবায়ু সহিষ্ণু পানি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে ইউনিসেফ।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইউনিসেফ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে উন্নততর রান্নার চুলার ব্যবহার উৎসাহিত করছে।

প্রাইমারী স্কুলের শিশুরা

পরিবেশগত জরুরি পরিস্থিতিতে গৃহীত পদক্ষেপ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার অনুসৃত হওয়া উচিত, যাতে দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদানের জন্য জেলা পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধিতে কাজ করে ইউনিসেফ।

আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিশুদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার দ্বিতীয় দফার এই সুযোগে তাদেরকে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানির স্থাপনা বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা দেয় ইউনিসেফ। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হয় সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। ‘লিটল ডক্টর প্রোগ্রামের’ আওতায় প্রাথমিক স্কুলগামী শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানানসই স্বাস্থ্য বিধি শেখানো হয়।

বাবা-মার একজন আছেন এমন শিশু এবং দুঃস্থ মায়েদের শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া হয়। সংকটের আগে, সংকটকালে ও পরে এসব সেবা সরবরাহের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে ইউনিসেফ।

কিশোর-কিশোরী


মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নাজুক এলাকাগুলোতে) জীবন-দক্ষতা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে ইউনিসেফ। সান্ধ্যকালীন স্কুল ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্কুল এভাবে বিকল্প উপায়ে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদানের পরীক্ষামূলক উদ্যোগে সহায়তা করছে ইউনিসেফ। বিশেষ পরিস্থিতিতে শ্রম বাজারে ঢুকে পড়া শিশুর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই উদ্যোগের পেছনে।

জীবন-দক্ষতা শিক্ষায় বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়েদের দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা যেমন পাচার, শহুরে সেন্টারে স্থানান্তর, আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাস ও যৌন নিপীড়ন থেকে নিজেদের রক্ষার কৌশল শেখানো হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও এইচআইভি নাজুকতার মধ্যে সম্পর্ক বের করতেও কাজ করছে ইউনিসেফ।

দুর্যোগের পর কিশোরী মেয়েরা বাল্য বিয়ে, শিক্ষার সুযোগ হারানো ও অন্যান্য বঞ্চনার ঝুঁকিতে থাকে। ইউনিসেফ শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা দেয় যাতে মেয়েদের শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং তাদের মাধ্যমিক শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত মোবাইল টিম ও শিশুবান্ধব অন্যান্য উদ্যোগে নিপীড়ন, সহিংসতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে উপেক্ষার বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য কিশোরী মেয়েদের সক্ষম করে তোলে।

আরও কিশোর-কিশোরী এবং রেডিও শোনা গ্রুপগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগগুলোতে আরও সম্পৃক্ততা চায় ইউনিসেফ। শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে যাওয়া একটি বড় কারণ। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণে কমিউনিটির সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ সাঁতার প্রোগ্রাম চালানো হয়।

লোকজনের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সামনের কাতারের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শহর ও পৌরসভায় মেগা ফোন, সৌরশক্তি চালিত রেডিওর সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউনিসেফ।

নীতি ও সচেতনতা

সামাজিক অন্তরভুক্তি ও শিশু অধিকার 

ইউনিসেফের সংগ্রহে মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক নানা ‘কিট’ বা উপকরণ রয়েছে এবং সেগুলো ইতোমধ্যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে দেওয়াও হয়েছে। এটা জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুদের ‘ন্যূনতম সেবা প্যাকেজের’ অন্তত তিনটি উপকরণ প্রাপ্তিতে সহায়তা করে।

ইউনিসেফ শহরাঞ্চলে শিশুদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ কর্মসূচি প্রণয়ন করে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের শিশুকেন্দ্রিক অভিযোজন ও স্কুল নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রান্তিক লোকজনের প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তহবিল সংগ্রহেও সহায়তা করে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ তার ডিজাস্টার অ্যাক্ট ২০১০ এর পর্যালোচনার অংশ হিসেবে দুর্যোগ মোকাবেলায় শিশুবান্ধব প্রস্তুতি, সাড়া প্রদান, সুরক্ষা ও ঝুঁকি প্রশমনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রচার চালাচ্ছে।


সূত্রঃ তথ্য সংগ্রহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু অধিদপ্তর পেইজ এবং বিভিন্ন গনমাধ্যম।

9
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় খাবারের ভূমিকা


মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের ক্ষেত্রে খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তাই একাধারে পর্যাপ্ত ঘুম, পরিশ্রম, সামাজিক সম্পর্ক যেমন জরুরি, তেমনই পুষ্টিকর খাবারও জরুরি। এ বিষয়ে বিভিন্ন নামকরা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী আমাদের নিন্মোক্ত খাদ্যগুলি পুষ্টি চাহিদা অনুসারে গ্রহণ করতে হবে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টজাতীয়

ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘ই’ জাতীয় খাবার, যেমন—টকজাতীয় ফল, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, গাঢ় সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এগুলো মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ও অ্যালঝেইমার ডিজিজের ফলে হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভালো কাজ করে। ডার্ক চকোলেটে কোকো নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও শেখার সঙ্গে জড়িত নিউরন এবং রক্তনালি বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। এগুলো মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহকেও উদ্দীপিত করে।

দানা শস্য

লাল চাল, লাল আটা বা এগুলো দিয়ে তৈরি সামগ্রী হলো দানা শস্য। মস্তিষ্কের কোষগুলোর দেহে অন্য কোষগুলোর চেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োজন। গ্লুকোজ একমাত্র জ্বালানি, যা সরাসরি মস্তিষ্কে ব্যবহূত হয়। লো-জিআইসমৃদ্ধ খাবারগুলো রক্তে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে দিনভর মানসিকভাবে সচেতন থাকতে সাহায্য করে, মানুষকে মনোযোগী করে তোলে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড

চর্বিযুক্ত মাছ, আখরোট, ফ্লাক্সসিড, চিয়াসিড ইত্যাদি হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের ভালো উৎস। প্রতিদিন চাহিদা মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডজাতীয় খাবার মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। প্রকৃতিতে নানা তৈলাক্ত মাছে এগুলো রেডিমেড ডিএইচএ ও ইপিএ আকারে থাকে। এজাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এগুলোর ব্যবহার শুরু হয়ে যায়। ডিএইচএর মাত্রা কম থাকলে ডিমেনশিয়া হওয়া এবং স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ইপিএ ডিএইচএ স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ও গুড মুড নামে খ্যাত সেরোটনিন  তৈরিতে সাহায্য করে।


ভিটামিন ‘ই’জাতীয়


বিভিন্ন বাদাম এর উত্কৃষ্ট উৎস। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, অলিভ অয়েল, ডিম, লাল চাল ইত্যাদি থেকে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ই’ সেবনের ফলে বয়স্কদের স্মৃতিশক্তির অবক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।

জামজাতীয়

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প সময়ে স্মৃতিভ্রম কমাতে এগুলো কার্যকর। এ ছাড়া গাঢ় লাল ও বেগুনি ফল এবং সবজিতে এসব ক্ষমতা আছে।

ডিম

বয়স্কদের ওপর চলমান একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক এসিড সেবন করেন, তাঁদের তুলনামূলক কম স্মৃতিশক্তির অবক্ষয় ঘটে। এ ছাড়া ভিটামিন বি১,  বি৩ ও কোলিন মস্তিষ্কের প্রাত্যহিক কার্যক্রম চালাতে সাহায্য করে। মুরগির মাংস, মাছ, সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন বাদাম ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্সের ভালো উৎস।

সবুজ শাকসবজি

পালংশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাক ও ব্রকলির মতো পাতাযুক্ত শাকসবজিতে ভিটামিন ‘কে’, ফোলেট এবং বিটা ক্যারোটিনের মতো মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকর কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। উদ্ভিদভিত্তিক এই খাবারগুলো স্মরণশক্তি হ্রাসের গতি ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।

চা, কফি

চা ও কফিতে রয়েছে ক্যাফেইন। প্রত্যহ সামান্য কিছু  ক্যাফেইন গ্রহণে মানসিক ক্রিয়াকলাপের পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া যায়। ক্যাফেইন নতুন স্মৃতি শক্তিশালী করতেও সহায়তা করতে পারে।

ভিটামিন ‘ডি’

ভিটামিন ‘ডি’ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খুব কার্যকর। এর অভাবে মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ডিমের কুসুম, সূর্যালোকে বেড়ে ওঠা মাশরুম, চর্বিযুক্ত মাছ, কলিজা ইত্যাদি ভিটামিন ‘ডি’-এর ভালো উৎস।

এ ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শরীরে ২০-৩০ মিনিট সূর্যের আলো লাগালে তা দেহে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে সাহায্য করে।

10

Living through the Covid-19 pandemic, many have seen a number of ethical, legal, and social issues arise as a result of the virus rapidly spreading worldwide. This timely special issue is designed to be a mid-stream retrospective: look at presenting a broad array of topics at the intersection of science and society, from a range of researchers, in many different fields, in light of what we have learned so far. The issues that have arisen are both as a direct result of the virus itself, whereas others arose as a result of various responses to the virus.

Like the virus itself, the issues that the pandemic raises are moving targets with factors and conditions changing over time, often due to unprecedented necessity. Hollywood and some percipient billionaires have been predicting this event for some time, and some of the issues that we are now facing have been raised before, but not taken seriously enough. Even with their foresight, we were far from ready for the many ethical, legal, and social concerns that have arisen.

The question is, when is the next event like this, and will we be ready for that one. Especially pertinent is what we have learned from this experience, both good and bad.

This issue will collect papers from those who would like to make sure that we are ready, or at least trying to get there.

The aim of this topic is to summarize the ethical information related to triage, contact tracing, quarantine measures, international law changes as we are going through coronavirus pandemic, and to reassess what we have seen thus far in light of this new knowledge.

We welcome, amongst the others, original research articles, reviews, and commentaries on ethical, legal, and social implications of :

1. Massive genomic screening and data privacy during a pandemic
2. Biobanking access and data privacy
3. Contact tracing and geolocalisation
4. Patients triage and prioritization
5. Quarantine measures
6. Drug and vaccine development during pandemics
7. Mitigation measures such as full and partial closures
8. Pandemic infrastructure and it usefulness post-pandemic
9. Distance learning, especially in the biosciences


11

Inter_University_Cricket_Tournament_2020 🏏

গতকাল ৩ নভেম্বর ২০২০ মিরপুর সিটি ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ম্যচ-২০২০ এর ফাইনাল রাউন্ড। ফাইনালে ম্যাচে লড়েছে দুই লড়াকু দল, #ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি এবং #প্রাইম ইউনিভার্সিটি। এক মনোমুগ্ধকর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ খেলে ৪০ রানের এক বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে ড্যফোডিল ইউনিভার্সিটির লড়াকু ক্রিকেট টিম। বিজয় বুঝি এভাবেই ছিনিয়ে নিতে হয়। এ মাসের শুরুতেই এই বিজয় আমাদের মনে করিয়ে দেয় আসছে মাস স্বাধীনতার মাস। আবারো প্রমানিত হলো আদর্শ এক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে #ড্যাফোডিল_ইউনিভার্সিটি সবার সেরা। তারা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা তথ্যপ্রযুক্তিক্তেই এগিয়ে নেই। অন্যন্য সকল সমসাময়িক বিষয় গুলোর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মেধা এবং মনন যেন কোন ভাবেই ব্যহত না হয় বরং পরিপূর্ণ ভাবে বিকশিত করার জন্য তাদেরকে খেলাধুলার প্রতি অনুপ্রানিত করতেও এ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, কর্মী এবং সম্মানিত শিক্ষকগণ পরিবর্তনে বিশ্বাসী। এই করোনাকালীন সময়েও তারা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য এবং এর শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। সামান্য সময়ের জন্য হয়ত আমাদের নিয়মিত যাপন থমকে আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মতৎপরতা থেমে নেই। শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও কতৃপক্ষ যথেষ্ঠ মনোযোগী। তারই ফলশ্রুতি গতকালের এ বিজয় অর্জন । এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে আরো বড় বড় বিজয় ছিনিয়ে আনবে। আমরা সেই প্রত্যাশার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করায় বিশ্বাসী।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে তারা এখন পা রাখতে বিদেশের মাটিতে। পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে মালয়েশিয়াতে। স্বপ্ন দেখি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লড়াকু ক্রিকেট টিম সেখান থেকেও বিজয় নিশ্চিত করেই বীরদর্পে ফিরবে দেশের মাটিতে। তারা আবারো প্রমান করবে, শুধু দেশে নয় বিদেশের মাটিতেও তারা তাদের মেধা এবং মননে সকলের সেরা।


লেখাঃ ফারহানা হক
০৪/১১/২০২০

12

মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্র বা মানবিক গুনাবলি নির্ভর করে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান, সমাজ এবং ব্যক্তিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নির্ধারিত কোন বিষয়কে ঘিরে।চাইলেই আমরা করে বা বলে ফেলি অনেক কিছুই যেটা নিজস্ব মানবিক গুনাবলির বিপরীতে অবস্থান নেয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এমন অদম্য গুণাবলী যা আমাদের একজন সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। প্রয়োজন সেগুলো আত্মস্থ করা।তা করতে হয় প্রত্যেকের নিজের পরিবার এবং চারপাশের পরিবেশ থেকেই। আপনি চারপাশে যা হতে দেখবেন, সেগুলো পোজেটিভ বা নেগেটিভ যাই হউক না কেন সেটা খুব করে না হলেও কিছুটা হলেও আপনার চিন্তা চেতনাকে প্রভাবিত করবে।ভাল কিছু তাই খুঁজে নেবার দায়িত্বটাও নিজেদেরই।

কার্যত আমাদের সমস্ত মানবিকতা ও মূল্যবোধ নৈতিকভাবে এক অর্থে আপেক্ষিক ই বটে। যেটি হয়তো কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে ভাল এবং উপকারী বলে মনে হতে পারে কিন্তু সত্যিকার অর্থে নয়। আবার ক্ষেত্রে বিশেষে একে অপরের পক্ষে কিছু বিষয় খারাপ যা অনিবার্য হতে পারে যেটা ব্যক্তির কাজ তথা প্রত্যাহিক জীবনকে ব্যহত করে। সুতরাং, মানবিকগুনাবলি হতে হবে নৈতিক যা ব্যক্তির নিজের উপরেই নির্ভর মানে ব্যক্তিনির্ভর। কোন বিক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের উপর নয় এর ভিত্তি গড়ে উঠেনা।আমরা যা, আমরা আসলে তাই।সেটাই আমাদের স্বরুপ। জীবন যে খুব বড় তা নয়, কিংবা একেবারে সংক্ষিপ্তও নয়। তাই ছাত্রছাত্রীদেরকে এবং তাদের অভিভাবকদের এমনকি কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি দক্ষ এবং দায়িত্ববোধসম্পন্ন কর্মীকেও নিজেদের মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চাইলেই কাওকে সাজা দেওয়া কিংবা ক্ষতি করে দেবার মানসিকতার পরিবর্তন করতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্ট অফ লিভিং নামের বিশেষ গুরুত্বপূর্ন একটি ন বিষয় এ অধ্যায়নের সুযোগ রয়েছে।শিক্ষক কিংবা একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের অবশ্যই এটি মাথায় রাখতে হবে যে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ এর কোনটি ই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় নয় বরং এটি আত্মিক।নিজের ভেতরে থাকা মূল্যবোধ, যাকে যতটা আত্মস্থ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে সে ঠিক ততখানিই নিজের ভেতরে আত্মস্থ করে নিতে পারে বা পারবে। গায়ের জোরে কিংবা মুখস্থ বিদ্যায় যদি আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেবার চেষ্টা করি, সম্ভবত সেটা বিফলেই যাবে।

সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি যে বিষয়, সেটা হচ্ছে সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলিং।চাইল্ড সাইকলজি কিংবা ইয়াং সাইকলজি দুটি বিষয় ই বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। কোন সুস্থ মানুষই একেবারে অপরাধী হয়ে উঠেনা, সেজন্য তার পারিবারিক পরিবেশ চারপাশের প্রতিকূলতা অনেকাংশেই দায়ী।তাই পরিবারে প্রতিটি শিশু থেকে শুরু করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলিং জরুরি। উপদেশ গ্রহন করার ক্ষেত্রে সকলেরই অবঅজারভেশনাল ওয়ে একই নাও হতে পারে। কিংবা সকল ব্যক্তিই যে কোন শিক্ষা একই ভাবে গ্রহন করবেনা সেটাই স্বাভাবিক। শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের ক্ষেত্রে এটি মাথায় রেখে পরিবারের যে সদস্যের কথায় শিশুটি প্রভাবিত হয় বা যে শিক্ষকের পাঠদানে সেি শিক্ষার্থী আগ্রহী হয়ে সেই বিষয়ে জ্ঞানার্জনে অনুপ্রানিত হয় তার মাধ্যমেই নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বিষয়ক শিক্ষাটি গ্রহন করা প্রয়োজন। সম্মোহনী ভুমিকাই আর্ট অফ লিভিং বিষয়টিকে যথাযথ ভাবে আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে ছাত্রছাত্রীদেরকে।

কারন আমরা জানি প্রকৃতির নিয়মেই সবার সব সিচুয়েশন বা অবস্থা গ্রহন করার মানুষিকতা সমান নয়। সবার পটেনশিয়ালিটি কিংবা শেখার আগ্রহও সমান নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সমাজের বিশেষ শিশুদের আচরন তাদের সর্বোপরি জীবন যাপনকে প্রত্যক্ষ করলেই বুঝতে পারবো যে, তারা কেউ কেউ শারিরীক বা বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সম্পূর্ন পরিপূর্ণ না হলেও অনেক স্বাভাবকি শিশুদের চেয়ে সৃজনশীল বা অন্যান্য কাজে বেশি দক্ষ। এটি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। তাই বিস্বাস এবং একই সাথে সমাজের এবং ভবিষ্যতের কর্ণধারদের এভাবেই অনুপ্রানিত করতে হবে যে প্রত্যেকেই আলাদা কিছু, বিশেষ দক্ষতা নিয়েই জন্মায়। আমাদের কেবল তা নার্চার করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা কোন মূল্যেই যেন হারিয়ে না যায়। অভিবভাবক বা শিক্ষাগুরুর কোন রকম উদাসীনতায় যেন সত্যিকারের কোন প্রতিভা হারিয়ে না যায়। পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দুইটি জায়গা থেকে আজ যদি কোন শিশু বা শিক্ষার্থী ভাল কোন শিক্ষা পায়, যদি সে একবার এ বিষয়টি আত্মস্থ করে নেয় যে, কাউকে না খাইয়ে খেতে নেই। ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ এবং জন্ম হউক যথা তথা কর্ম হউক ভালো। সব কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ,,, সর্বোপরি সবার উপর মানুষ সত্য তার উপর নাই"" তবেই অপরাধ প্রবনতা কমে যাবে, এবং সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবেই। তাই নৈতিকতা ও মূল্য প্রথম ক্ষেত্রটি আমাদের ঘর, পরিবার থেকেই শুরু হউক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বিকশিত হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। আমরা স্বপ্ন দেখি বিশাল, কারন আমরা জানি,,মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়।

লেখকঃ ফারহানা হক
২৯/১০/২০২০

13
পৃথিবীতে প্রটিটি সফল মানুষের কিছু ব্যর্থতার গল্প আছে।  একবারে চেষ্ঠায় কেউ সফল হননি। সফল উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী – যার কথাই বলা যাক, সবাইকেই ব্যর্থতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সফল হতে হয়েছে। আবার এই সাফল্য পাওয়ার পরও অনেকে তা ধরে রাখতে পারেন নাই বরং আবার ব্যর্থ হয়েছেন।  আবারও তাঁরা উঠে দাঁড়িয়েছেন, এবং নবশেষে সফল হয়েছেন। এইসব সফল মানুষের সবার মধ্যেই একটা আশ্চর্যরকম মানসিক শক্তি আর আত্মবিশ্বাস আছে। যত বড় ব্যর্থতার মুখেই তাঁরা পড়েন না কেন – কখনওই কাজ করা বন্ধ করেন না। কখনওই তাঁরা বিশ্বাস হারান না।  তাঁদের এইসব ব্যর্থতার গল্প থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের।  প্রতিটি গল্প থেকেই অনুপ্রেরণা নেয়ার মত কিছু না কিছু আছে।

আপনি যে ধরনের বিপদ বা খারাপ পরিস্থিতিতেই পড়েন না কেন, এইসব অসাধারণ সফল মানুষদের ব্যর্থতার গল্প এবং ব্যর্থতাকে জয় করার গল্প যদি মাথায় রাখেন – তবে কোনও অবস্থাতেই সাহস আর বিশ্বাস হারাবেন না।  কোনও বড় লক্ষ্যকেই আর অসম্ভব মনে হবে না।  যে কোনও ব্যর্থতা থেকেই আপনি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাবেন।  চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক আরো ৪ জন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনইতিহাস।


চার্লি চ্যাপলিন


১৮৮৯ সালে জন্ম নেয়া বিশ্ব বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক চার্লি চ্যাপলিনকে তো সবাই চেনে।  সিনেমার শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সব সিনেমা পাগল তাঁকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে।  পৃথিবীর সফলতম অভিনেতা ও পরিচালকদের একজন তিনি।  কমেডির রাজা বলা হয় তাঁকে। – এসব কথাও সবাই জানে।  তাহলে চলুন আজ জেনে নেয়া যাক এমন কিছু কথা যা সবাই জানে না:

চ্যাপলিনের বাবা ছিলেন একজন পাঁড় মাতাল।  কোনও কাজ করতেন না, দিন-রাত মদ খেয়ে পড়ে থাকতেন।  চ্যাপলিনের ২ বছর বয়সে তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।  মা নামেমাত্র একটি কাজ করতেন যাতে সংসারের খরচ কোনওভাবেই মিটতো না। ৭ বছর বয়সে চার্লি “ওয়ার্কহাউজ” এ যেতে বাধ্য হন।  সেই সময়ে বৃটেনে গরিবদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে পরিশ্রমের বিনিময়ে খাবার ও শোয়ার জায়গা দেয়া হত।

কিছুদিন পর আবার চার্লি সেখান থেকে ফিরে আসেন এবং আবার তাঁর ৯ বছর বয়সে তাঁর মা পাগল হয়ে যান, এবং তাকে মানসিক হাসপাতালে যেতে হয়।  মায়ের মানসিক হাসপাতালে যাওয়ার কারণে চ্যাপলিনকে আবারও ওয়ার্কহাউজে ফিরে যেতে হয়।  কিছুদিন পর তাঁর বাবা লিভার নষ্ট হয়ে মারা যান।

এরপর তাঁর মায়ের পাগলামি এতই বেড়ে যায় যে তাকে সব সময়ের জন্য পাগলা গারদে বন্দী করে রাখার প্রয়োজন পড়ে।  চ্যাপলিন ও তাঁর ভাই সিডনি একদম পথে বসে পড়েন।  দিনের পর দিন না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে কাটান। এভাবে চলতে চলতেই এক সময়ে তিনি মঞ্চে কাজ নেন।  বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে করতে নিজের কমেডি প্রতিভাকে শক্তিশালী করেন।  পরে হলিউডে পাড়ি জমিয়ে সর্বকালের সেরা নির্বাক অভিনেতা হয়ে ওঠেন।

০৬. কনোনেল স্যান্ডার্স


কেএফসির লোগো নিশ্চই দেখেছেন।  লোগোর ফ্রেঞ্চকাট দাড়িওয়ালা হাসিমুখের লোকটিই কনোনেল স্যান্ডার্স।  তিনি কেএফসি নামক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনের প্রতিষ্ঠাতা।  আপনি যদি আপনার এলাকায় কেএফসির একটি শাখা খুলতে চান, তবে আপনাকে শুধু তাদের ফ্রেঞ্চাইজি ব্যবহারের জন্য ৪৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৮ লাখ টাকা দিতে হবে।  এতবড় কোম্পানী যাঁর রেসিপি থেকে শুরু, সেই রেসিপি বিক্রী করতে তাঁকে ১০০৯ বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল।

৫ বছর বয়সে বাবা হারানোর পর থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।  নিজের রান্নার দক্ষতার কারণে কাজ পেতে কখনও অসুবিধা হয়নি।  কিন্তু যখনই নিজে কিছু করতে গেছেন – তখনই ব্যর্থ হয়েছেন।  ১৯৩৯ সালে ৪৯ বছর বয়সে অনেক কষ্টে একটি মোটেল শুরু করেন।  মোটেলটি ৪ মাস চলার পরই আগুন ধরে ধ্বংস হয়ে যায়।  ৫০ বছর বয়সে তিনি তাঁর সিক্রেট চিকেন ফ্রাই রেসিপি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে তাঁর আরও একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।  তিনি একটি চার রাস্তার মোড়ে রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন।  ভালোই চলছিল সেটি।  কিন্তু নতুন রাস্তা হওয়ার ফলে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রেস্টুরেন্টও বন্ধ করতে হয়।  সেই বছর ৬৫ বছর বয়সী কনোনেলের হাতে মাত্র ১৬৫ ডলার ছিল।  এরপর তিনি তাঁর চিকেন রেসিপি বিক্রী করার চেষ্টা করেন।  ১০০৯টি রেস্টুরেন্ট তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার পর একটি রেস্টুরেন্ট তাঁর রেসিপি নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়।  বাকিটা তো বুঝতেই পারছেন।

০৭. হেনরি ফোর্ড


১৮৬৩ সালে আমেরিকার মিশিগানে জন্ম নেয়া হেনরি ফোর্ড হলেন বিশ্ব বিখ্যাত গাড়ির কোম্পানী ফোর্ড মোটরস এর প্রতিষ্ঠাতা।  এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে লাভজনক গাড়ি নির্মান প্রতিষ্ঠানের একটি।  বেঁচে থাকতেই হেনরি ফোর্ড তাঁর কোম্পানীকে সফল করে গেছেন, এবং নিজেও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং সফল মানুষদের একজন হয়েছেন।  যদিও তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন ধরা হয় – প্রথম দিকে তিনি আসলে একজন ব্যর্থ মানুষ ছিলেন।

সত্যি কথা বলতে, ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি অন্যের চাকরি করেছেন।  ১৮৯৮ সালে তিনি একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ইঞ্জিন বানিয়ে সবাইকে দেখান এবং উইলিয়াম এইচ. মার্ফি নামে একজন ধনী ব্যক্তির বিনিয়োগ পান। পরের বছর ফোর্ড তাঁর প্রথম গাড়ির কোম্পানী “ডিট্রয়েড অটোমোবাইল কোম্পানী” প্রতিষ্ঠা করেন (ফোর্ড মোটরস নয়)।

১৯০১ সালে কোম্পানীটি ব্যর্থ হয়।  লোনের টাকা শোধ করতে না পারা এবং গাড়ির ডিজাইনে ঝামেলা থাকায় প্রজেক্টটি সফল হয়নি।  কোম্পানী তাদের কাজ বন্ধ করার কিছুদিন পর ফোর্ড একজন বিনিয়োগকারীকে আর একবার চেষ্টা করতে রাজি করাতে পারেন।  কিন্তু এটাও অল্প কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়।  কারণ বিনিয়োগকারীরা কোনও বিষয়েই একমত হতে পারছিলেন না।

অবশেষে ১৯০৩ সালে ৪০ বছর বয়সী ফোর্ড তাঁর নিজের নামে কোম্পানী শুরু করেন।  এবার তিনি নতুন বিনিয়োগকারী স্কটিশ কয়লা ব্যবসায়ী ম্যালকমসনকে রাজি করান যে সে ব্যবসায়ে নাক গলাবে না।  শুধু তার লাভের টাকা বুঝে নেবে।  এবং এরপর ফোর্ড তাঁর নিজের মত কাজ করতে শুরু করেন।  বাকিটা তো শুধুই সাফল্যের গল্প।

৮. টমাস আলভা এডিসন


আজকের পৃথিবীতে এমন কোনও শিক্ষিত মানুষ নেই যে টমাস আলভা এডিসন এর নাম জানে না।  বৈদ্যুতিক বাতি, চলচ্চিত্র, অডিও রেকর্ডিং, এনক্রিপটেড টেলিগ্রাফ সিস্টেম, আধুনিক ব্যাটারী – এধরনের হাজারের ওপর আবিষ্কার করে তিনি পৃথিবীকে ঋণী করে গেছেন।

১৮৪৭ সালে আমেরিকার ওহাইওতে জন্ম নেয়া এই জিনিয়াসের ছোটবেলায় ‘স্কারলেট ফিভার’ নামে একটি জটিল অসুখ হয়, যার ফলে তিনি কানে প্রায় শুনতেনই না। তাঁর স্কুল জীবন ছিল মাত্র ১২ সপ্তাহের।  কারণ তাঁর পড়াশুনার পারফরমেন্স এতই খারাপ ছিল যে স্কুলে আর তাঁকে রাখতে চাইছিল না।  স্কুল থেকে দেয়া চিঠিতে লেখা ছিল যে টমাস পড়াশুনায় খুবই অমনযোগী ও তার মেধাও ভালো নয়, এই ধরনের দুর্বল ছাত্রকে স্কুলে রাখা যাবে না।  কিন্তু টমাসের মা চিঠি খুলে ছেলেকে শুনিয়ে পড়েছিলেন যে, টমাসের মেধা সাধারণ ছাত্রদের চেয়ে অনেক বেশি, এত বেশি মেধাবী ছাত্রকে পড়ানোর ক্ষমতা সাধারণ স্কুলের নেই।  কাজেই তাকে যেন বাসায় রেখে পড়ানো হয়।  মায়ের থেকে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাস থেকেই টমাস পরে জটিল জটিল সব বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকেন।  এবং এই আত্মবিশ্বাসের কারণেই তিনি কোনও কিছুতেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতেন না।  বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সময়ে ১০ হাজার বার তাঁর এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হয়েছিল।  কিন্তু তিনি তবুও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।  কারণ ছোটবেলায় তাঁর মা তাঁর মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে, কিছুই অসম্ভব নয়।

কটু ভাষায় লেখা সেই চিঠিটি এডিসন অনেক বছর পরে খুঁজে পেয়েছিলেন, তাঁর মা সেটি লুকিয়ে রেখেছিলেন।  ততদিনে মা মারা গেছেন।  টমাস হয়ে উঠেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও ধনী উদ্যোক্তা।  চিঠিটি পড়ে টমাস সব বুঝতে পারেন।  এবং নিজের ডায়েরীতে লেখেন, “টমাস আলভা এডিসন একজন  ছিল এক মেধাহীন  শিশু। একজন অসাধারণ মায়ের প্রেরণায় সে হয়ে উঠে যুগের সেরা মেধাবী।“

14
পৃথিবীতে প্রটিটি সফল মানুষের কিছু ব্যর্থতার গল্প আছে।  একবারে চেষ্ঠায় কেউ সফল হননি। সফল উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী – যার কথাই বলা যাক, সবাইকেই ব্যর্থতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সফল হতে হয়েছে। আবার এই সাফল্য পাওয়ার পরও অনেকে তা ধরে রাখতে পারেন নাই বরং আবার ব্যর্থ হয়েছেন।  আবারও তাঁরা উঠে দাঁড়িয়েছেন, এবং নবশেষে সফল হয়েছেন। এইসব সফল মানুষের সবার মধ্যেই একটা আশ্চর্যরকম মানসিক শক্তি আর আত্মবিশ্বাস আছে। যত বড় ব্যর্থতার মুখেই তাঁরা পড়েন না কেন – কখনওই কাজ করা বন্ধ করেন না। কখনওই তাঁরা বিশ্বাস হারান না।  তাঁদের এইসব ব্যর্থতার গল্প থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের।  প্রতিটি গল্প থেকেই অনুপ্রেরণা নেয়ার মত কিছু না কিছু আছে।

আপনি যে ধরনের বিপদ বা খারাপ পরিস্থিতিতেই পড়েন না কেন, এইসব অসাধারণ সফল মানুষদের ব্যর্থতার গল্প এবং ব্যর্থতাকে জয় করার গল্প যদি মাথায় রাখেন – তবে কোনও অবস্থাতেই সাহস আর বিশ্বাস হারাবেন না।  কোনও বড় লক্ষ্যকেই আর অসম্ভব মনে হবে না।  যে কোনও ব্যর্থতা থেকেই আপনি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাবেন।  চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সেরা সফল ১১ জন মানুষের ব্যর্থতার কাহিনী।

০১. আব্রাহাম লিংকন

১৮০৯ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট।  আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ধরা হয় তাঁকে।  আমেরিকায় দাসদের স্বাধীনতা লাভের পেছনে তাঁর অবদানই সবচেয়ে বেশি।  রাজনীতি ও খ্যাতির দিক দিয়ে তিনি নি:সন্দেহে পৃথিবীর ইতিহাসের সফলতম মানুষদের একজন।  কিন্তু তাঁর শুরুটা কিন্তু ব্যর্থতার গল্প দিয়েই। 

২৩ বছর বয়সে তাঁর চাকরি চলে যায়। সেই সময়ে তিনি তাঁর প্রথম নির্বাচনেও হারেন।  ২৯ বছর বয়সে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এর সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করে হারেন।

১৮৪৮ সালে, ৩৯ বছর বয়সী লিংকন ওয়াশিংটনের জেনারেল ল্যান্ড অফিসের কমিশনার হওয়ার জন্য নির্বাচন করে পরাজিত হন।  ৪৯ বছর বয়সে সিনেটর হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়ে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হন।  এত ব্যর্থতার পরও তিনি রাজনীতি না ছেড়ে চেষ্টা করে যান।  অবশেষে ১৮৬১ সালে, ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।  প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের প্রায় পুরোটাই ছিল ব্যর্থতার গল্প।  কিন্তু এরপর তিনি ইতিহাস বদলে দেন।


০২. আলবার্ট আইনস্টাইন



পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি।  তিনি এতটাই সফল যে, ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা মাথায় আসলেই বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন।  পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয় তাঁকে।  কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্ম নেয়া এই জার্মান জিনিয়াসকে একটা সময় পর্যন্ত গর্ধভ মনে করা হত।  কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না।  কথা বলা শিখতেই তাঁর ৪ বছর লেগেছিলো।  পড়াশুনায় ছিলেন একদম কাঁচা।  ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেন।

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, একাধিক বার পড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল।  মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর বাবার একমাত্র দু:খ ছিল যে এই গর্ধভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না।  বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন।


 
কোনও কাজ না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ইন্সুরেন্স সেলস ম্যানের কাজ নেন।  কোনও কাজ না পারলে মানুষ এই ধরনের চাকরি করতো।  ২ বছর পর তিনি পেটেন্ট অফিসে কাজ পান। যেখানে নতুন ডিভাইস পেটেন্ট করার আগে পরীক্ষা করা হতো।

কিন্তু একটা সময়ে এই মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর সেই ‘ডাল ব্রেন’ নিয়ে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি মূল সূত্র সৃষ্টি করে গেছেন।  বিজ্ঞানে অবদানের জন্য নোবেল প্রাইজ জিতেছেন।  প্রমাণ করেছেন যে চেষ্টা করলে সবাইকে দিয়েই সবকিছু সম্ভব।

০৩. বিল গেটস

যদিও এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি আমাজনের জেফ বেজোস, কিন্তু এখনও অনেকে মনে করেন যে বিল গেটসই পৃথিবীর ধনীতম মানুষ।  কারণ, এতদিন ধরে তিনি বিশ্বের এক নম্বর ধনী ছিলেন যে, অন্য কেউ তাঁর জায়গা দখল করেছে – এটাই অনেকে জানে না।

আজকের বিশ্বের কম্পিউটারের বিপ্লবের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যাদের, তাঁদের অন্যতম হলেন তিনি।  এইযে লেখাটি পড়ছেন, এটিও লেখা হয়েছে তাঁর বানানো অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ কম্পিউটারে, তাঁর বানানো মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে।  পৃথিবীর বেশিরভাগ কম্পিউটার এখনও তাঁর কোম্পানীর সফটঅয়্যারে চলে।

কিন্তু আপনি কি জানেন, বিল গেটসের প্রথম প্রজেক্ট অপমানজনক ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল? মাইক্রোসফট এর কো-ফাউন্ডার এবং বাল্যবন্ধু পল এ্যালেন আর বিল গেটস মিলে “Traf-O-Data” নামে একটি মেশিন তৈরী করেছিলেন যেটি ট্রাফিক কাউন্টার গুলো থেকে ডাটা সংগ্রহ করে সরকারি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারদের তা গুছিয়ে সরবরাহ করবে।  এমনিতে কাজটি হাতে করতে হতো।

এই যন্ত্রটির ওপেনিং এ স্বয়ং শিয়াটলের ট্রাফিক সুপারভাইজার এসেছিলেন।  কিন্তু যন্ত্রটি চালু করার পর কোনওভাবেই কাজ করেনি।  এমন লজ্জা আর অপমান গেটসের জীবনে আর আসেনি।  কিন্তু তাঁরা থেমে যাননি।  এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই বিল আর পল মিলে পরে মাইক্রোসফটকে সফল করেন।

15

বছর দুয়েক আগে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পৃথিবী ও পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষায় বড়দের আরও অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবিতে নিজের স্কুলের সামনে একা প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্মঘটে বসেছিলেন।

মাত্র দুই বছরে এই কিশোরী জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্দোলনে সারা বিশ্বের দূত হয়ে উঠেছেন। তার ডাকে জড়ো হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ।

একজন কন্যা শিশু যেন নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বাবা, ভাই, স্বামী এবং শেষ জীবনে ছেলে তার দায়িত্ব নেবে - এমনটা না ভেবে "আমিও পারি" এই মনোভাব নিয়ে সামনে এগোতে পারে, সেই আত্মবিশ্বাস কীভাবে অর্জন করা সম্ভব?

কন্যা শিশুকে নিজের ব্যাপারে এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে কিভাবে শেখানো যায়?

আজ জাতিসংঘের বিশ্ব কন্যা শিশু দিবসে মা-বাবার জন্য মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও শিশুদের বিকাশ বিষয়ক চিকিৎসকের পরামর্শ।

সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব

আত্মবিশ্বাস একদম ছোটবেলা থেকেই তৈরি করতে হয়, বলছেন মনোবিজ্ঞানী ডা. ইশরাত শারমিন রহমান।

তিনি বলছেন, বাবা-মা শিশুর তার সাথে ছোটবেলা থেকে যে আচরণ করবে তার উপর নির্ভর করে শিশু আত্মবিশ্বাসী হবে কি হবে না।

ছোট বেলা থেকেই কন্যা শিশুর মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

তাকে কথা বলতে দিতে হবে। সেজন্য ছোট বেলা থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেবার কথা বলছেন তিনি।

"তুমি মেয়ে, তুমি কি বোঝ, এসব কথা না বলে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া। যেমন তাকে জিজ্ঞেস করা সকালের নাস্তায় সে কি খেতে চায়? ডিমটা সেদ্ধ হবে নাকি পোচ? কন্যা শিশুকে তার উপযোগী কোন দায়িত্ব দেয়া। সেটি পেরে উঠলে তার মনে হবে আমিও পারি।"

তিনি বলছেন, ছোট বেলায় বাবা ও মায়ের মধ্যে যে সম্পর্কে শিশু দেখে তার উপর ভিত্তি করে নিজের অবস্থান ঠিক করে নেয় শিশু, বলছেন ডা. ইশরাত শারমিন। সে যদি দেখে পরিবারে বাবাই সব সিদ্ধান্ত নেয়, মায়ের কোন বক্তব্য থাকে না - তাহলে মেয়ে শিশুরা সেটাই শিখবে। এমন পারিবারিক পরিবেশ মেয়ে শিশুদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

সমালোচনা ও অন্যদের সাথে তুলনা না করা

বিশ্বব্যাপী সৌন্দর্য নিয়ে কন্যা শিশুকে অনেক বার্তা দেয়া হয়। বিভিন্ন দেশে তার নানা ধরন।

সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইশরাত শামিম বলছেন, "বাংলাদেশে মেয়েদের হয়ত তার পাশের বাড়ির মেয়েটি, বা চাচাতো-খালাতো বোনদের সাথে গায়ের রঙ, চুল নিয়ে তুলনা করা হয়। খুব সরাসরি বলা হয় দেখো ও কত সুন্দর, পরিপাটি, পড়াশুনায় তোমার চেয়ে তোমার কত ভাল। এরকম তুলনা করার কারণে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। মেয়েরা নিজেরাও অন্যদের সাথে তুলনা করে।''

তিনি বলছেন, টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকেও মেয়েরা নিজেরা অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা করতে শেখে। তাদের শেখাতে হবে সৌন্দর্যের ধারণা ও মেয়েদের জীবন সম্পর্কে এসব জায়গায় সে যা দেখছে সেটাই বাস্তব দুনিয়া নয়।

শিশুদের বিকাশ বিষয়ক চিকিৎসক ডা. রিয়াজ মোবারক বলছেন, "আমার কাছে অনেক অভিভাবক আসেন যারা মেয়ে বাচ্চার হয়ত কোথাও দাগ রয়েছে তারা সেটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন যে 'মেয়ে বড় হলে কেমন লাগবে'। তারা চিন্তা করেন যে বড় হলে মেয়ের বিয়ে হবে না। বাবা-মায়েদের বুঝতে হবে হবে যে কন্যা শিশু হলে মুখে দাগ বাড়তি ইস্যু নয়।"


ওটা তোমার কাজ নয়, তুমি পারবে না

পৃথিবীর অনেক কিছু আজকাল বদলে গেছে। একসময় মেয়েদের বাইসাইকেল চালানো কটু চোখে দেখা হতো। আর এখন মেয়েরা বিমান চালাচ্ছে।

ডা. ইশরাত শারমিন বলছেন, "বাংলাদেশে বাবা-মায়েরা মেয়ে শিশুদের সব কাজ করে দেন। এটা অতি-ভালবাসার কারণে হতে পারে, অথবা সে পারবে না -এই চিন্তা থেকেও হতে পারে। আগ বাড়িয়ে সব কিছু করে না দেয়া, এতে ভবিষ্যতে নিজে বুদ্ধি করে কিছু করার ক্ষমতা নষ্ট হয়। এই কারণেই হয়ত আমরা দেখি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও অনেক কাজে তার সাথে একজন পুরুষ থাকে।"

পরিবারে ছেলে ও মেয়েকে সমান সুযোগ দেয়ার কথা বলছেন ডা. শারমিন।

"মেয়েটিকে একটা পর্যায় পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিতে হবে, এটাই তার একমাত্র গন্তব্য, শুধুমাত্র এমন চিন্তা হয়ত অনেকেই আজকাল আর করেন না। কিন্তু ছেলের শিক্ষার জন্য বাড়তি কোচিং, তার ক্যারিয়ার তৈরিতে বাড়তি আশা এবং সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে মেয়েদের সামনে আলাপ করা, এটিও মেয়ে শিশুদের মন ছোট করে এবং আত্মবিশ্বাস কমায়।"

ভাল কাজের প্রশংসা আর ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখানোর কথা বলছেন, ডা. শারমিন।

"তুমি পারবে না, এসব না বলে বরং তার কোন সফলতাকে প্রশংসা করা ও পুরস্কৃত করা উচিৎ। তার সফলতাকে প্রশংসা করা উচিত। কোন কিছুতে ভাল না করলেও সেজন্য বকা না দিয়ে সে যে চেষ্টা করছে তার জন্যেও তাকে প্রশংসা করা উচিৎ।"

কন্যা শিশুকে ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখানোর কথা বলছেন তিনি।

খাবার ও খেলার সাথে আত্মবিশ্বাসের সম্পর্ক

ডা. রিয়াজ মোবারক বলছেন, "আমার কাছে সব শ্রেণীর বাবা-মায়েরা আসেন। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের খাবারে পার্থক্য আজকাল আর আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে কৈশোরে পিরিয়ডের জন্য মেয়েদের খাবার বেশি প্রয়োজন হয়। কারণ তখন অনেক সময় রক্ত স্বল্পতা হতে পারে। খাদ্য দিয়ে সেটা পূরণ করতে হয়।"

পুষ্টিবিজ্ঞানী সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, খাবার কম খেলে চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যায়।

ডা. মোবারক আরও বলছেন, অনেক সময় মেয়েদের ভিটামিন ডি'র ঘাটতি হয় কারণ ছেলেরা বাইরে খেলা করে, তাদের বাইরে কাজে পাঠানো হয়, তারা রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে। ভিটামিন ডি হাড়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আরও অনেক কিছুর জন্য দরকার।

ডা. ইশরাত শারমিন বলছেন, বাইরে যেতে না দেয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই বলেন গায়ের রঙ কালো হয়ে যাবে।

সব ধরনের খেলনা ও খেলতে দেয়া

বাংলাদেশে অনেক বাবা-মা মেয়ে শিশু ও ছেলে শিশুর জন্য যে খেলনা কেনেন, আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা যে খেলনা উপহার দেন - তাতেও নিজের সম্পর্কে শিশুর মনোভাব তৈরি হয়।

"মেয়ে শিশুকে সব ধরনের খেলনা কিনে দিন। ক্রিকেট ব্যাট, সাইকেল, শুধু পুতুল আর রান্নার খেলনা নয়।" বলছেন ডা. ইশরাত শারমিন।

একটা বয়সের পর বাংলাদেশে মেয়েদের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডা. রিয়াজ মোবারক মনে করেন মেয়ে শিশুদের সব ধরনের খেলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে দেয়া উচিত।

"জিমে যাওয়া, সাতার কাটা এসব করতে দিলে সেটিও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা তৈরি করে।"

সূত্রঃ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক

Pages: [1] 2 3 4