Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Raja Tariqul Hasan Tusher

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6
16
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসে টানা ১০ দিনের ছুটি চলছে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটির মেয়াদ আরও কিছুদিন বাড়তে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আজ সোমবার প্রথম আলোকে এমন আভাস দিয়ে বলেন, কাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় ছুটি হয়তো বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আমরা জানি না।’

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রথমে আরও সাত দিন এই ছুটি বাড়তে পারে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

17
করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এই পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি জানানো হবে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আগামী ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষা যে পেছাবে, তা কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক নির্দেশনাতেও তার ইঙ্গিত ছিল।

গতকালের ওই নির্দেশনায় জানানো হয়, ঢাকা বোর্ডের আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ কার্যক্রম ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা এক আদেশে ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন সব কলেজের অধ্যক্ষদের এই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন পরীক্ষাই স্থগিত করা হলো।

এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

18
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশের বিপণিবিতান ও মার্কেট ২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। তবে সুপারশপ, ওষুধ, মুদি দোকান, কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের দোকানপাট খোলা থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। আজ রোববার রাত আটটায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মানুষজন বাসাবাড়ি থেকে কম বের হচ্ছে। দোকানপাটে কোনো বিক্রি নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দোকানমালিকেরাই আমাদের বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।’

19
মাসিক গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল দিতে ব্যাংকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য কোনো বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ দিতে হবে না গ্রাহককে। আজ রোববার মন্ত্রণালয় থেকে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হয়।

জ্বালানি বিভাগের উপসচিব আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আবাসিক গ্যাস বিল নির্ধারিত সময় জমা দিতে বিপুল পরিমাণ গ্রাহক ব্যাংকে একসঙ্গে গিয়ে জমা হয়। এভাবে অনেক মানুষ একসঙ্গে ব্যাংকে গিয়ে বিল দিতে গেলে করোনাভাইরাস বা ‘কোভিড–১৯’ সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ‘গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি (গৃহস্থালি) ২০১৪’ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবাসিক গ্রাহকেরা কোনো রকম বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ ছাড়াই ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের গ্যাস বিল আগামী জুন মাসের সুবিধাজনক সময় জমা দিতে পারবেন।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিটি দেন উপসচিব আইরিন পারভিন। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুতের আবাসিক গ্রাহকেরা বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে গ্রাহকদের পক্ষে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল কোনো রকম বিলম্ব মাশুল ছাড়া মে মাসে জমা নেওয়ার জন্য বিইআরসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়।

প্রসঙ্গত, দেশে ৪০ লাখ গ্রাহক আবাসিকে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাসের রয়েছে সাড়ে ২৮ লাখ গ্রাহক। আর দেশের ৯৬ ভাগ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে।

20
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব ব্যাপারটা কী?

এটা হলো নিজের বাসায় থাকা, ভিড়ে না যাওয়া, একজন আরেকজনকে স্পর্শ না করা

১. আমি কি বাজার করতে যেতে পারব?

হ্যাঁ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে যেতে পারেন। কম যাবেন। যাবেন তখন, যখন কম লোক থাকে বাজারে। সেখানে যাবেন, যেখানে কম ভিড় থাকে। মোটকথা ভিড় এড়িয়ে চলুন।
বাজার থেকে বের হয়েই হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এসেই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন। তরকারি ফল ধুয়ে নেবেন। বক্স নাড়ার পরই হাত ধোবেন।
খাবার কিনে মজুত করবেন না। খাদ্যশস্য কম পড়ার কোনো কারণ ঘটেনি।

২. আমি কি খাবার অর্ডার দিয়ে বাসায় এনে খেতে পারব?

হ্যাঁ। খাদ্য থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কথা শোনা যায়নি। তবে যে প্যাকেটে খাবার আনা হবে, সেটা ধরার পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। আর কাঁচা সালাদ ফল বাইরে থেকে নিশ্চয়ই আনাবেন না। আর যিনি খাবার নিয়ে আসবেন, তাঁকে বলবেন খাবার দরজার বাইরে রেখে দিতে। দাম ও টিপস দেবেন অনলাইনে। (আমাদের দেশে এটা কীভাবে হবে, আমি জানি না।)

৩. আমি কি গণপরিবহন বাস, ট্রেন ব্যবহার করব?

যদি পারেন, গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। তা না হলে সঙ্গে করে স্যানিটাইজার নিয়ে যান। হাতল ধরার পরেই হাত পরিষ্কার করুন। নামার সঙ্গে সঙ্গে হাত পরিষ্কার করুন।

৪. অফিস তো ছুটি দিচ্ছে না। কী করব?

যতটা সম্ভব সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করুন। দরকার হলে, মাস্ক ব্যবহার করুন।

৫. আমি কি সব জায়গায় যেতে পারব?

আপনি যতটা পারেন, বাসায় থাকুন। হাসপাতালে, বাজারসদাই করতে যেতে হতেই পারে। সিনেমা, থিয়েটার, প্রার্থনাগৃহ, জাদুঘর—সব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব জায়গায় ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। এখন না।

৬. আমি কি ভ্রমণ করতে পারব?

না। আপনার এখন ভ্রমণ, দেশের ভেতরে বা বাইরে, করা নিষেধ। বাস, ট্রেন, প্লেন, জাহাজ, লঞ্চ লোকে ভরা থাকে। তবে যাঁদের কাজই ভ্রমণসংক্রান্ত, যেমন এয়ারলাইনসের ক্রু, ট্রেনের চালক, তাঁদের কথা আলাদা।

৭. আমি কি মাস্ক পরে থাকব?

সম্ভবত নয়। মাস্ক রোগীদের হাঁচি–কাশির ছিটা বাইরে যেতে দেয় না। কিন্তু বাইরের ভাইরাস আপনার নাকেমুখে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। আপনার নিজের হাঁচি–কাশি থাকলে দয়া করে বাইরে বের হবেন না।

৮. আমি কি ব্যায়াম করব?

হ্যাঁ। ঘরে। ঘরের বাইরে ফাঁকা জায়গায়। কিন্তু জিমে নয়।

৯. আমি কি চিকিৎসকের কাছে যেতে পারব?

খুব বেশি দরকার না হলে নয়। করোনাভাইরাস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করবেন।

১০. রোগী দেখতে যাব?
না।

১১. আমি কি প্রবীণ স্বজন-পরিজনদের দেখতে যাব?

না। ফোনে খোঁজ নিন। বাজারসদাই লাগলে সাহায্য করুন।

১২. আমার বন্ধুরা কি আমার কাছে আসতে পারবে?

না। ফোনে কথা বলুন। ভিডিও চ্যাট করুন।

১৩. বাচ্চারা কি খেলতে পারবে?

বাইরে একা একা? হ্যাঁ। বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে? না। বাইরের বাচ্চাদের সঙ্গে নয়। কারণ, তারা পরস্পরকে ধরে ফেলবে। হাত ধোয়ার নিয়ম ভুলে যেতে পারে। স্লাইড ইত্যাদি কারও সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই পার্কেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।

১৪. আমি কি আমার সন্তানের কাছে যেতে পারব?

হ্যাঁ। সাধারণভাবে হ্যাঁ। তবে যদি আপনি মনে করেন দুজনের একজন এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আছে, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখুন।

১৫. আমার রুমমেট হাসপাতালে চাকরি করেন। আমি কি তাঁর থেকে দূরে থাকব?

হ্যাঁ।

১৬. কত দিন এই রকম সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করতে হবে?

সম্ভবত কমপক্ষে পাঁচ মাস। পরে আবারও করতে হতে পারে। এটা একেবারে সেরে যাবে না সহসা। ঢেউয়ের মতো আসতে থাকবে।

21
বিশ্বের সর্বত্র করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের সেরা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থাকা সত্ত্বেও জার্মানি এখন বিশ্বে পঞ্চম করোনাভাইরাস সংক্রমিত দেশ। গতকাল শনিবার পর্যন্ত জার্মানিজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৩৬৪, আর এই ভাইরাসে মারা গেছে ৮৪ জন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম জার্মানিতেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। জার্মানির উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে পাঁচ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। ওই রাজ্যের হাহাইসনবার্গ জেলার গ্যাংগেল্ট নামক স্থানে একটি স্থানীয় কার্নিভ্যাল উৎসবে প্রায় তিন শ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। মূলত কার্নিভ্যাল উৎসবে যাওয়া কয়েক ব্যক্তির মধ্য এই রোগের প্রথম সংক্রমণ দেখা যায়।

প্রথম দিকে বিষয়টি ততটা গুরুত্ব বা সংক্রমণের হার ততটা না বাড়লে জার্মানি সরকার বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়নি। জার্মানি সরকার ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে জার্মানির ১২০ জন নাগরিককে বিশেষ সামরিক বিমানে ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে এনে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যায়।

এরপর ১১ মার্চ জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ইয়েন স্পান ও জার্মানির সংক্রমণ রোগ বিষয়ের গবেষণা কেন্দ্র রবার্ট কক ইনস্টিটিউটের সভাপতি লোথার ভিলারের সমন্বয়ে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আঙ্গেলা ম্যার্কেল বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়ে বলেন, জার্মানিতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে।
এরপর জার্মানিজুড়ে আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। এরপর শুরু হয়ে যায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নানা উদ্যোগ। জার্মানির জনগণ সর্বত্র এই উদ্যোগে সহায়তা ও সহযোগিতা করছে।

১. ২৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানির স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসন্ন করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২. ২ মার্চ জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন স্পান, ছয়জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জার্মানির জনগণকে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি অবহিত করেন।

৩. জার্মানির পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর প্রতিদিন জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জার্মানির সংক্রমণ রোগ বিষয়ের গবেষণা কেন্দ্র রবার্ট কক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নানা করণীয় বিষয়ে টেলিভিশনে লাইভ সংবাদ সম্মেলন করেন।

৪. ১১ মার্চ জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন স্পান ও জার্মানির সংক্রমণ রোগ বিষয়ের গবেষণা কেন্দ্র রবার্ট কক ইনস্টিটিউটের সভাপতি লোথার ভিলারের সমন্বয়ে সংবাদ সম্মেলন করে, সবাইকে করোনাভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেন।

৫. ১৩ মার্চ স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণার আগে, স্কুলগুলোতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সব ছাত্রকে চিঠি বিতরণ করে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করে। ক্লাস শিক্ষয়িত্রী ছাত্রছাত্রীদের পরবর্তী দুই সপ্তাহের হোমটাস্ক দিয়ে দেয়।

৬. ১৬ মার্চ থেকে কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর, থিয়েটার, অপেরা, জনপ্রিয় ফুটবল খেলা, বাণিজ্য মেলা বা ১ হাজার লোকের বেশি যেকোনো অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সর্বত্র লোকসমাগম থেমে যায়।

৭. ১৮ মার্চ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সন্ধ্যায় জার্মান জাতির উদ্দেশে এক আবেগপূর্ণ ভাষণ দেন। তিনি করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কিছু বিধি জারি করেন। যা স্বল্প পরিসরের জরুরি অবস্থা বলে বিবেচিত হচ্ছে। সেই বিধি অনুযায়ী জার্মানির ১৬ রাজ্যে, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সুপার মার্কেট, ওষুধের দোকান, স্যানিটারিজ, পেট্রলপাম্প, ব্যাংক, ডাকঘর ইত্যাদি ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। হোটেল ও রেস্টুরেন্টসমূহ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রেস্টুরেন্টসমূহ থেকে অন্যত্র খাদ্য ডেলিভারি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব ধর্মের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত বার, ক্লাব, থিয়েটার, চিড়িয়াখানা, পাবলিক সুইমিংপুল, শিশুদের খেলার স্থান, খেলার মাঠ এবং পতিতালয় বন্ধ রাখতে হবে। জার্মানিতে সব ধরনের অবকাশ যাপন ও অন্য দেশে অবকাশভ্রমণ আপাতত বন্ধ থাকবে।

৮. করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়েছে মনে করলে বাড়ি থেকে জরুরি চিকিৎসাসেবার ফোন নম্বরে ফোন করতে হবে। ডাক্তার এসে পরীক্ষা করবেন বা অ্যাম্বুলেন্স এসে নিয়ে যাবে। অথবা নিজস্ব চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বাইরে থেকে খবর দিতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, জার্মানির রেডক্রস করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য আলাদা কেন্দ্র খুলেছে।

৯. জার্মানিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বাড়তি সহযোগিতার জন্য, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিযুক্ত করা হয়েছে। সরকার এই খাতে আলাদা অর্থ বরাদ্দ করেছে।

১০. বয়স্ক মানুষের জরুরি সেবা ও কেনাকাটার জন্য প্রতিবেশীদের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

১১. সুপার মার্কেটগুলোতে কিছু কিছু পণ্য দুই বা তিনটির বেশি না ক্রয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে চাল, ময়দা, নুডলস, টয়লেট পেপার ইত্যাদি। তবে কোথাও কোনো পণ্যের মূল্য বাড়েনি।

১২. পুলিশ অকারণে বা দলবদ্ধ হয়ে কেউ ঘুরলে, জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।

১৩. বিয়ে, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

১৪. রাস্তাঘাট, দোকানপাটে সর্বত্র মানুষজন দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। যাকে এই মুহূর্তে ‘সোশ্যাল ডিসটেনস’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

১৫. জার্মানি সরকার সর্বত্র ছোটবড় ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তাদের ক্ষতিপূরণের একটি অংশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

১৬. জার্মানি সরকার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবসরযাপন করতে যাওয়া প্রায় ১ লাখ নাগরিককে সরকারি খরচে বিশেষ বিমানে জার্মানিতে ফেরত আনছে।

১৭. জার্মানির ১৬ প্রদেশের মধ্য ব্যাভেরিয়া ও সারল্যান্ডে ইতিমধ্যেই লকডাউন বলবৎ হয়েছে। তবে ২৩ মার্চ থেকে এই লকডাউন জার্মানিজুড়ে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সোমবার জার্মানির মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগেই জার্মানির শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা রাজনীতিবিদদের কাছে প্রাথমিকভাবে জার্মানিতে প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী লকডাউন করার দাবি জানিয়েছে। জার্মানি দেশজুড়ে লকডাউন চালু করলে ইতালি, ফ্রান্সের পর জার্মানি হবে ইউরোপের তৃতীয় দেশ, যারা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সমগ্র দেশে অচলাবস্থা ঘোষণা করছে।

22

মোট মৃত্যুর সংখ্যার হিসাবে ইতিমধ্যে সার্সকে ছাড়িয়ে গেছে করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
মোট মৃত্যুর সংখ্যার হিসাবে ইতিমধ্যে সার্সকে ছাড়িয়ে গেছে করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বড় অংশই ছিল নীরব বাহক। তাদের শরীরে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ ছিল না কিংবা অনেক দেরিতে প্রকাশ পেয়েছিল। চীনা সরকারের একটি গোপন নথিকে উদ্ধৃত করে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছে, নীরব বাহকদের সংখ্যা প্রতি তিনজনে একজন হতে পারে।

এই খবরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যে দেশগুলো বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করছে, তাদের উদ্যোগ আরও জটিলতার মুখে পড়ল। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, মারা গেছে ১৩ হাজারের বেশি।

ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে চীনে ৪৩ হাজার মানুষ কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়। তাদের কারও মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো লক্ষণ শুরুতে ছিল না। ডাটা বলছে, এ পরিস্থিতিকে বলা হচ্ছে অ্যাসিম্পটোমেটিক। তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল, তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিন্তু নিশ্চিত আক্রান্ত বলে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ওই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার।
লক্ষণ ছাড়া করোনাভাইরাস কতটা সংক্রামক, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। একজন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সাধারণত পাঁচ দিনের মাথায়। যদিও এই লক্ষণ তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্ত থাকে।

23
বাদাম, সয়া, নারকেল, ননফ্যাট না ফ্যাটযুক্ত? মার্কিন স্টোরগুলোয় নানা ধরনের দুধ পাওয়া যায়। তবে নতুন একটি বিকল্পের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এবং নিরামিষাশীদের (ভেগান) কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। এর নাম ওট দুধ।

মাত্র ৫ বছর আগেও বাজারে ওট দুধের প্রায় কোনো অস্তিত্ব ছিল না। গত ১২ মাসে ওট দুধ থেকে আসা রাজস্বের পরিমাণ ২২২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য গুড ফুড ইনস্টিটিউট।

সম্প্রতি স্টারবাকস, চোবানি ও নেসকুইকের মতো প্রতিষ্ঠান ওট দুধ বা ওট মিল্ক বিক্রি করছে। একে পুষ্টিকর ও পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

গবেষণা সংস্থা গ্লোবালডাটার খাদ্য সংবাদদাতা অ্যান্ডি কোয়েন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ওট দুধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এটা অন্যান্য উদ্ভিজ্জ দুধ হিসেবে আগে এতটা আলোচিত ছিল না।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুইডেনের ওটলি নামের প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কফি শপে ওট দুধ বিক্রি শুরু করে। ক্যাপাচিনো ও লাতে কফিতে এই দুধ ব্যবহৃত হয়। অ্যান্ডি কোয়েন বলেন, ওটলি দারুণ মার্কেটিং করে ওট দুধের কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে দিয়েছে।

দ্য গুড ফুডের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে যত দুধ বিক্রি হয়, তার ১ শতাংশ বাজার দখল করেছে ওট দুধ। ওই সংস্থা মাংস, দুধ ও ডিমের বদলে উদ্ভিজ্জ খাবারের পক্ষে প্রচার চালায়।

মার্কিন ওট দুধ প্রস্তুতকারক এলমহার্স্টসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা পিটার ট্রুবি বলেন, বাদামের দুধ ভালো হলেও তার স্বাদ বাদামের মতো। কিন্তু ওটস এর ভালো বিকল্প হতে পারে। ওটলির নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মাইক মেসারমিথ বলেছেন, স্বাদ ছাড়াও ওট দুধের দুটি আলাদা সুবিধা আছে, যা নিরামিষাশীদের জন্য মানানসই। একটি হচ্ছে এর পুষ্টিমান। এতে ক্যালরি কম আর আঁশ বেশি। এ ছাড়া সয়া বা বাদামের মতো শস্যদানার চেয়ে এতে প্রোটিন বেশি। অনেকের বাদামে অ্যালার্জিও থাকে। এ ছাড়া এটি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

ওট দুধ তৈরির খরচও বাদাম দুধের তুলনায় অনেক কম বলে এটি জনপ্রিয় হবে। শিগগিরই অন্যান্য দুধের বিকল্প হিসেবে ওট দুধ বাজারে শীর্ষস্থান দখল করবে বলে মনে করছেন এর উৎপাদকেরা।

24
Common Forum / বাংলা নেই কেন?
« on: March 11, 2020, 04:58:15 PM »
একুশে ফেব্রুয়ারি মাত্র পার হলো। বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এই একটি দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যাপন করার বাইরে আর কীভাবে করা সম্ভব? কি করা উচিত। লাগসই, আর কি হতে পারে? এ বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষ এক বাক্যে বলবেন, শুদ্ধ বাংলার চর্চা, সব পর্যায়ে বাংলাকে চালু করা ইত্যাদি। একুশে ফেব্রুয়ারির ঠিক দুদিন পরেই আমি কঠিন দুটি প্রশ্নের মুখে পড়ি। তারপর মনে হলো, এই যে আমাদের ভাষা নিয়ে এত গর্ব, এত উচ্ছ্বাস, এত দিবসভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতা—কিন্তু সেই ভাষাকেই উচ্চাসনে কতটুকু বসাতে পারছি?
প্রথম প্রশ্নটি এসেছে দেশ থেকে। একজন আমাজনে একটি বই প্রকাশ করতে চাইছেন। এখন আমাজন ‘নিজেই প্রকাশ করুন’ (সেলফ পাবলিশিং) চালু করে পুরো বিষয়টাকে জলবৎ তরলং করে ফেলেছে। মাত্র ১০ মিনিটে কিন্ডেল বই প্রকাশ হয়ে যাবে। তাঁদের কাগুজে বই প্রকাশের সুবিধাও আছে, তবে সেটা ১০ মিনিটে হবে না। তবে কিন্ডেলের প্রকাশনাটির কোনো দেশ–কাল–পাত্র ভেদ নাই। পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে বসেই আপনি করতে পারছেন। যা হোক, তাঁকে আমি সাহায্য করছিলাম। আমাজন কিন্ডেলে অনেক ভাষায় বই প্রকাশের সুযোগ থাকলেও, বাংলায় সেই সুযোগটি এখনো পূর্ণাঙ্গরূপে নেই। তবে অন্য একটা উপায় এখন অবশ্য আছে। তাঁকে জানালাম, পিডিএফ আকারে বাংলা বইটিকে সহজেই আমাজনে ‘নিজেই প্রকাশ করুন’—সেকশন থেকে প্রকাশ করা যায়। সে ক্ষেত্রে আমাজন কিন্ডেলকে সেই বর্ণমালার ফন্ট সাপোর্ট করতে হচ্ছে না।
সবই ঠিক ছিল। পিডিএফ পেলাম, আপলোড করলাম। একটু এগোতেই দেখা গেল, তারা জানতে চাইছে, পিডিএফের লেখা কোন ভাষার? উনত্রিশটি ভাষার তালিকা থেকে উত্তর দিতে হবে। ভারতের পাঁচটি ভাষা আছে, কিন্তু বাংলা নেই। হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি, তামিল ও মালায়ালাম আছে। বাংলা তো একটি প্রধান ভাষা, এমনকি ভারতেও! গোটা পৃথিবীর পঞ্চম (কোনো কোনো মতে অষ্টম) বহুল প্রচলিত ভাষাটি, সেটিকে আমাজনের মতো বিশাল একটি সংস্থা, যার শুরুই হয় বই দিয়ে, স্থান দেয়নি! খুবই অখ্যাত কিছু ভাষাকে স্থান দিয়েছে! তারা বলছে, সেই অখ্যাত ভাষাগুলোর লিপি রোমান লিপি (ইংরেজি), সে কারণে তাদের লোকসংখ্যা বেশি না থাকলেও, সহজে যোগ করা গেছে।
আমাজনের কথা যদি ধরেই নিই, তাহলে মারাঠি? চাইনিজ? রাশিয়ান? তারা তো রোমান লিপির ভাষা নয়? এ নিয়ে একটু খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম, সঠিক কারণ কোথাও দেওয়া নেই। অনেকে বিভিন্ন ফোরামে বাংলার মতো একটি সমৃদ্ধ ভাষা নেই কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন। নানান মানুষ, এমনকি আমাজন কিন্ডেল ডাইরেক্ট পাবলিশিংয়ের (কেডিপি) নিজস্ব উত্তরদাতাও উত্তর দিয়েছেন, সেটাকে সদুত্তর বলা যাবে না। তাদের একটি ‘বট’ আছে, যা ভাষার লিখিত রূপের ধরনটা বোঝে। তারপর খুঁজে দেখে, এই বইটি অন্য কোনো বইয়ের নকল কি না। বাংলায় তাঁরা এখনও সেটা করতে পারছেন না বলে নাকি কিন্ডেলে বাংলা দিতে পারছেন না। তাহলে আমহারিক (ইথিওপিয়ার ভাষা)? তার হরফের সঙ্গে রোমান হরফের কোনোই মিল নেই, তাকে সেই ‘বট’ পড়ছে কীভাবে?
দেখলাম, একজন দুবছর আগে চেঞ্জ ডট অর্গ–এ ‘আমাজন কিন্ডেলে সত্ত্বর বাংলা ভাষা যোগ করতে হবে’ এই দাবি নিয়ে একটি পিটিশন খুলেছিলেন। সেখানে মাত্র ৬৯৯টি ভোট পড়েছিল। পিটিশনের পক্ষে লাখ লাখ ভোট পড়লে তবে কর্মকর্তাদের চোখে পড়তে পারে। সেই পিটিশনটি মাঠে মারা গেছে। যার বই আমাজনে প্রকাশ করার জন্য আমি সাহায্য করছিলাম, তাকে পরিস্থিতি জানাতে তিনি বললেন, ওই পিটিশন তিনিই নাকি খুলেছিলেন। কোনো কাজ হয়নি। তিনি পিডিএফটি হিন্দি ভাষার বলে টিক চিহ্ন দিলেই বোধকরি সেটি আমাজন বেশি ঘাঁটাঘাঁটি না করে প্রকাশ করে ফেলবে। কিন্তু তিনি তা করবেন না। বরং জানতে চাইছেন, বাংলা নেই কেন? কীভাবে যোগ করা যায়? তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিতে গিয়েছেন কি না আমার জানা নেই। কিন্তু ভাষার জন্য ভালোবাসা ফুল দেওয়ার মধ্যে থাকে না, থাকে মানুষের বুকে।
ধরে নিলাম, আমাজন কিন্ডেল বাংলাদেশে ব্যবহার হয় না। কিন্তু এত লাখ বাঙালি বিদেশে থাকে, আমরা ভাষার জন্য এত ভালোবাসা দেখাই, যেখানে গুজরাটি/মারাঠি ঢুকে গেল, বাংলা ঢুকল না কেন?
পরের খবরটিও ঠিক একুশে ফেব্রুয়ারির পর পর জানতে পেলাম। আমেরিকায় অনেক অঙ্গরাজ্যেই নাকি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা ইংরেজি ছাড়াও অন্য ভাষায় দেওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ইংরেজির বাইরেও বহু ভাষায় এই পরীক্ষাটি দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তাদের ভাষার তালিকা এক নয়। তবে এই বিপুল তালিকার কোথাও, কোনো অঙ্গরাজ্যেই বাংলা নেই। যেমন আলাবামায় ১৩টি, নিউইয়র্কে ১৪টি, ভার্জিনিয়ায় ২১টি ভাষার তালিকায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়, ৩৩টি। সেই ভাষাগুলোর কিছু কিছুর নামও শুনিনি। তালিকাটি নিচে দিলাম।
আমহারিক, আরবি, আর্মেনিয়ান, কম্বোডিয়ান, ক্যান্টোনিজ, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, হিব্রু, হিন্দি, হমং, হাঙ্গেরিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, ইতালিয়ান, জাপানিজ, কোরীয়, লাওশিয়ান, মান্দারিন চাইনিজ, ফারসি, পোলিশ, পর্তুগিজ, পাঞ্জাবি, রোমানিয়ান, রাশিয়ান, সামোয়ান, স্প্যানিশ, তাগালোগ, টোঙ্গান, টার্কিশ ও ভিয়েতনামিজ।
বাংলা কই? আমেরিকায় নিউইয়র্ক ছাড়া প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে গাড়ি চালানো একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে, গাড়ি চালাতে না পারার কারণে, জীবন সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে। সে কারণে ভালো চাকরি হচ্ছে না, অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকটাই বন্দী জীবন। শুধু ইংরেজি না বোঝার কারণে এই পরীক্ষায় পাস করতে পারছেন না, এমন নজির কম নেই। বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলে হাজার হাজার মানুষের জীবনের দুঃখ কিছুটা হলেও ঘুচে যেতে পারত।
এসব নিয়ে এগিয়ে আসবে কে? ঝোঁক তো আনুষ্ঠানিকতা আর উৎসবের দিকে। তাঁর কিয়দংশ যদি এসব ভাষাভিত্তিক ব্যবহারিক কাজে লাগানো যেত, তাহলে বোধকরি ভাষার প্রতি আরও সম্মান দেখানো হতো, বাংলা ভাষাভাষীর জন্য সামান্য হলেও কল্যাণকর কিছু হতে পারত।

25
Common Forum / নৈতিকতা
« on: March 11, 2020, 04:57:39 PM »
জেসমিনের দুই সেট গয়না ব্যাংকের সেফটি ডিপোজিট বক্সে না রাখলেই নয়। লম্বা, চৌকো ও ভারী স্টিলের বক্সটা ধরিয়ে দিয়ে ছোকরা ব্যাংক অফিসার একটা ছোট্ট ঘরে তাকে নিয়ে টেবিলের ওপর বক্সটা রেখে ওপরের ডালা খুলতেই হায়দার সাহেবের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।

ভেতরে রাশ রাশ এক শ ডলারের নোট! কত হবে? কি কারণে যেন তার সামান্য ভয় ও উত্তেজনা হচ্ছে। পাঁচটা বান্ডিল। একটা বান্ডিলই অনেক মোটা। সেখান থেকে সামান্য দুই আঙুলে চিমটি করে ধরে পুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করলেন। পাঁচটা বান্ডিলে কমসে কম ৫০ হাজার ডলার হবে! এখন? বাইরে বের হয়ে বলবেন এর ভেতরে টাকা আছে?
মন পরিবর্তন করে তিনি ফোন বের করলেন। তার বন্ধু আসাদকে ফোন দিলেন। আসাদ শুনে বললেন, ‘এত টাকা! ফেরত দিবা কেন? লকার এখন তোমার, টাকাও তোমার।’
যুক্তিটা মনে ধরলেও হায়দার সাহেবের মনে হলো কোথায় যেন ফাঁক আছে।
তারপর লিয়াকতকে ফোন করলেন। লিয়াকত ফিসফিস করে বললেন, ‘টাকাসহ ওটা রেখে দে। কয় সপ্তাহের মধ্যে যদি হইচই না হয়, তখন টাকা নিয়ে আসবি! মালিক হয়তো মারা গেছে, কে জানে?’
বুদ্ধিটা একেবারে খারাপ না, কিন্তু কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম চুরির গন্ধ আছে।
এবার জেসমিনকে ফোন দিলেন। জেসমিনও গলা খাটো করে বললেন, ‘টাকাটা কোনোভাবে বাসায় আনতে পারলে দুটি গাড়িরই ফুল পেমেন্ট হয়ে যায়! তবে সাবধান! শেষে আবার পুলিশি কেস যেন না হয়।’
টাকাগুলো আরেকবার দেখে নিয়ে তিনি আসাদকে ফোন করলেন। ‘দোস্ত, আসলে মাত্র পাঁচ শ ডলার। বাকিগুলো কাগজ কেটে কেটে রেখেছে। ওগুলো আমি টাকা ভেবেছিলাম।’
আসাদ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘ওহ, তাহলে ফেরত দিয়ে দাও। ওদের কাছে তো মালিকের ইনফরমেশন আছেই।’
তারপর লিয়াকতকে ফোন করে একই কথা বললেন। লিয়াকত বললেন, ‘তাই নাকি? তাহলে তো আর চিন্তা করার কিছু নাই, ওদের বলে দে।’
শেষে তিনি জেসমিনকে ফোন করলেন। জেসমিন বললেন, ‘মাত্র পাঁচ শ ডলার? ভালো করে দেখছ ওগুলো কাগজ না ডলার?’
‘দেখছি, কাগজ। এখন কি করব?’
‘কি আর করবা, ফেরত দিয়ে দাও। আমরা পাপের ভাগী হতে যাব কেন?’

26
সম্পর্ক এমন একটি শব্দ যেখানে লুকিয়ে আছে হাজারো অর্থ। ‘সম্পর্ক’ শব্দটি আমাদের সমাজে চলার পথে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে টান, মায়া, আন্তরিকতা, ভালোবাসা।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে ‘সম্পর্ক’ নামের শব্দটি। আঁকড়ে ধরে রাখার যে মায়ার বন্ধন ‘সম্পর্ক’ সেখানে ভাঙনের পাল্লা যেন ভারী হচ্ছে সেই শব্দটির সঙ্গে!
দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে আছি। প্রায় এক যুগের অভিজ্ঞতা যদি বিশ্লেষণ করি, তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই বেশি কথা বলতে হবে। আমরা যে সম্পর্কে আবদ্ধ, সেখানে প্রথমেই জেনেটিক্যালি চলে আসে বাবা-মা, ভাই-বোন ও পরিবারের কথা। আর এর বাইরে যে পৃথিবী আছে সেখানে কখন, কীভাবে কোথায় মনের অনুভূতির এক গুচ্ছ মিলনে আরেকটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়, আমরা জানি না।
সেই সম্পর্ক হতে পারে দুজন মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, তারপর সেই বন্ধুত্ব থেকে রূপ নেয় ভালোবাসায়। কিন্তু কখন সেই বন্ধুত্ব অথবা ভালোবাসায় ফাটল ধরবে কেউ জানে না।
সম্পর্কের কত প্রকার ভেদ আছে তার সংজ্ঞা আমার জানা নেই। বর্তমান সমাজে কিছু সম্পর্ক নিয়ে এই সম্পর্কের ফাটল নিয়ে আজকের কিছু লেখা।
আমরা সম্পর্ক ছাড়া কখনো চলতে পারব না। কিন্তু সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে আমরা অনেক কিছু যাচাই–বাছাই করি না। অনেক সময় একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগেই অন্য একজন মানুষকে সবকিছু বলে ফেলি। যে ভুলটি আমার জীবনে অসংখ্যবার হয়েছে। আর এ কারণেই সেই মানুষটি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষতিও করেছে।
আমরা অনেক সময় আমাদের আপনজন, যেমন খুব কাছের মানুষকে কোনো একটি বিষয় শেয়ার করছি না। কিন্তু সেই আপনজনের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অনেক কিছু বলে ফেলছি। হয়তো সেই সম্পর্কের চেয়ে বাইরের মানুষকে আরও বিশ্বাসী মনে হয়। আবার যে সমস্যার সমাধান পরিবার করতে পারবে না, সেই কাজটি অন্য একজনকে দিয়ে হবে বিধায় আমরা নতুন সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছি।
আজকাল সম্পর্কটি যেন হয়ে গেছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। বিষয়টি এ রকম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্ক যেন খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। মানুষের মধ্যে যে আন্তরিকতার অভাব, তা এখন স্পষ্ট। সত্যিকার অর্থে এই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ সম্পর্কটি বেশ কিছুদিন আগেও এত ছিল না।
একটি সম্পর্ক গড়তে গেলে যেসব গুণ থাকে সেগুলো হলো সততা, ওয়াদা, বিশ্বস্ততা, বন্ধুত্ব, দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা, বোঝার ক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও ভালোবাসা। কিন্তু এসব গুণ আজ ঘুণে ধরেছে বলে সম্পর্ক হয়ে গেছে সেই ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। বিশ্বাস-অবিশ্বাস, স্বচ্ছতা, বোঝার ক্ষমতা অথবা দায়িত্বে অবহেলার কারণে আজ সম্পর্কে ফাটল। বাড়ছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ, সন্তান হয়ে যাচ্ছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হচ্ছে বিচ্ছেদ, বন্ধুত্বের মধ্যে থাকছে না সততা অথবা ওয়াদা পালনের ক্ষমতা।
আগেই বলেছি, দীর্ঘ এক যুগ ধরে নিউইয়র্কে বসবাস। ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় সময়ের পালা বদলে অনেক কিছু আজ দেখে ফেলেছি। একটা সময় বন্ধুত্ব ছিল আবেগ, ভালোবাসার মাখামাখি। আজ বন্ধুত্ব আছে, তবে সময়ের চাপে সম্পর্কটা ভাটা পড়েছে। চারদিকে হাহাকার। ব্যস্ততার আড়ালে সবকিছু হারিয়ে গেছে।
নিউইয়র্কে বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে অনেকেই সীমাহীন দুশ্চিন্তায় থাকেন। উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। কখন কী হয় সেই চিন্তায় তারা অস্থির থাকেন। অনেক সময় নিজের নাওয়া-খাওয়া এমনকি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকারও ফুরসত পান না। উঠতি বয়সের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আনলিমিটেড সময় পর্যন্ত খেলা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছেলে কিংবা মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে চ্যাট করা, সারা রাত বিছানার কম্বলের নিচে মুখ লুকিয়ে রেখে মোবাইলে চ্যাট করা, ভিডিও দেখা ও গেম খেলা ছাড়াও রয়েছে দিনের যেকোনো সময়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকা।
হোমওয়ার্কের নামে ল্যাপটপ নিয়ে সারাক্ষণ বসে থাকা, বাবা কিংবা মা সামনে থাকলে তাদের সামনে লেখাপড়ার ব্যস্ততার ভাব দেখানো ছাড়াও তাদের সন্তুষ্ট করতে বেশি সময় ধরে লেখাপড়া করছে এরকম ভাব দেখানো। বাবা-মা কিংবা পরিবারের অভিভাবক সামনে থেকে চলে গেলেই আবার ভিডিও দেখায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়া।
এ রকমভাবে লেখাপড়ায় দিনে দিনে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা স্কুলে ভালো গ্রেড করতে পারছে না। এসব সমস্যার কারণে পরিবারের চিন্তার শেষ নেই। সম্প্রতি নিউইয়র্কে একজন অভিভাবক তার মেয়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে বলায় ও তাকে শাস্তির কথা বলায় তার বাবার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেছে। পুলিশ বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে।
আর এর প্রধান একটি কারণ হচ্ছে, বাবা-মায়ের সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার অভাব। যে চিত্র হুবহু বাংলাদেশেও। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনিই যে, সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলি না।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি, ছোটবেলা থেকে বাবাকে খুব বেশি ভয় করতাম। আর এই ভয়ের কারণে বাবাকে কিছু বলতে পারতাম না। মায়ের কাছে সব আবদার করতাম। বাবার স্বপ্ন আমাকে ঘিরে, কিন্তু বাবা কখনো জানতে চাননি আমার স্বপ্ন কী? একটা সময় বাবার স্বপ্নটি পূরণ হয়নি, তবে আমি যা চেয়েছি তা হতে পেরেছি। তবে সেখানে মা ও চাচার সাপোর্ট ছিল। তবে এখন বাবা বুঝতে পারেন, তাই আমার ছোট বোনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
আর সেই কাজটি যদি একটি পরিবারে সন্তানদের জন্য ঠিকঠাক করা হয়, তবে সম্পর্ক ও আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে কোনো কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে দিলে দায়িত্ব শেষ নয়। কোচিং, প্রাইভেট টিউটর রেখে লাখ টাকা খরচ করলেই সবকিছু ভালো চলেছে—এমন ভাবনা থেকে সরে আসতে হবে।
সন্তানদের নিয়ে বাইরে যাওয়া, তাদের কথা শোনা, তাদের কী বলার আছে সেই স্বচ্ছতার জায়গা ঠিক রাখতে বেশি কিছু করতেও হয় না।
ঠিক তেমনি বিয়ের বিষয়টি। আমাদের দেশে অথবা প্রবাসী কমিউনিটিতে সংসারে অশান্তি, ডিভোর্স, সন্দেহ এক মহামারি আকার ধারণ করেছে। দুটি মানুষের পরস্পরের ভালো লাগা, ভালোবাসার সম্পর্ককে যে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য বিয়ে করা হয়, যে দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে সংসার শুরু করে, একটা সময় সেই একজন অন্যজনের প্রতি একটি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে পড়ে। অতঃপর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে ডিভোর্সে গড়ায়।
আর পেছনে অনেক কারণ আছে। আমরা এখন ভালোবাসা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, বোঝার ক্ষমতা, দায়িত্ববোধ সবকিছু যেন কমার্শিয়াল করে ফেলেছি। বর্তমানে অনেকে বৈবাহিক সম্পর্কে না গিয়ে লিভ–টুগেদারকেও সাপোর্ট করেন। এ নিয়ে অনেক কথাও বলেন, আবার কেউ কেউ এই কাজটি করছেন। সাংবাদিতার অভিজ্ঞতায় এ বিষয়ে দু-একজনের সঙ্গে কথাও বলেছি।
যেসব নারী স্বামীর সংসারে প্রতারণার শিকার হন, অনেকে এই রিলেশনশিপকে সাপোর্ট করেন। তাদের মতে, যখন দুটি মানুষ ওয়াদাবদ্ধ হয়, কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন এ ধরনের সম্পর্কই ভালো মনে করেন। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনো এতটা উদার নয়। এই সম্পর্ক করলে তখন ধর্ম, পরিবারের মান-সম্মান অনেক কিছু সামনে চলে আসে। আর সবচেয়ে বড় বিষয়, এ ক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না এবং নিজেদের বাচ্চাদের জন্য পরিচয় সংকট হয়ে দাঁড়ায়, যা কিনা কোন বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।
তাই একটি সংসার গড়ার আগে সেই জায়গায় স্বচ্ছতা রাখা খুবই জরুরি। ভেবেচিন্তে জীবন সঙ্গী করাই শ্রেয়। কারণ সম্পর্ক তৈরি করা খুব সহজ, কিন্তু ধরে রাখা খুবই কঠিন। তবে সেই জায়গায় ওপরের বিষয়গুলো ধরে রাখলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাও সহজ।
সবশেষে বলা যায়, সম্পর্ক এমন একটি উপলব্ধির নাম, সেটি সময়ের বিবর্তনে খারাপ হয় গেলেও রেশ থেকে যায়। আর একটি সুসম্পর্ক নিয়ে জীবনের মুহূর্তগুলোকেও সুন্দর করে তোলে। কারণ সম্পর্ক একটি রোগের নামও বটে। আর এই রোগের চিকিৎসা নেই। তাই প্রাণবন্ত হয়ে বাঁচতে গেলে সুসম্পর্কটা খুবই জরুরি।

27
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য উৎপাদন কমাতে ওপেক ও রাশিয়া কোনো চুক্তিতে না পৌঁছাতে পারায় সৌদি আরব তাদের তেলের দাম কমিয়ে দেয়। এর প্রভাবে আজ সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

এশিয়ায় আজ লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৩৬ ডলার। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ৩২ ডলার।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়াতে পুরোনো পন্থা নেয় অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে ৫ মার্চ থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বৈঠকে বসে ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলো। এতে সিদ্ধান্ত হয়, তেলের দাম বাড়াতে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল কমাবে তারা, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওপেক আশা করছিল, রাশিয়া প্রতিদিন ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমাতে সম্মত হবে। তবে এতে সম্মতি জানায়নি ওপেকের মিত্রজোট ওপেক প্লাসের নেতৃত্বে থাকা রাশিয়া। এ কারণে নতুন চুক্তি হওয়ার বিষয়টি ভেস্তে যায়। এর প্রভাবে গত শুক্রবার থেকে ব্যাপক দরপতন হয় তেলের দামের। এর মধ্যে গত শনিবার তেলের দাম কমায় সৌদি আরামকো। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত এই কোম্পানি তেলের দাম তাদের মূল গ্রেড থেকে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমায়। সংস্থাটি এশিয়ায় এপ্রিলের চালানের জন্য ক্রুড তেলের দাম কমিয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৪ থেকে ৬ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কমিয়েছে ৭ ডলার। যার প্রভাবে আজ সকাল থেকে এশিয়ার বাজারে তেলের দামে ধস নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সৌদি আরব রাশিয়াকে শাস্তি দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ইতিমধ্যে বিশ্ব পুঁজিবাজারে ধস চলছে। এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ—সব পুঁজিবাজারে দফায় দফায় সূচক কমে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ।

28
করোনাভাইরাসের কোপে ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপির বড় দরপতন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে রুপির দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ১৬৩ পয়সা। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত শুক্রবার লেনদেন শেষে ১ ডলার সমান ৭৩ দশমিক ৮৭ রুপি হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে রুপি।

শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে ১ ডলার সমান ৭৪ দশমিক শূন্য ৮ পয়সায় দাঁড়ায়। তবে পরে কিছুটা ঘুরে ১ ডলার সমান ৭৩ দশমিক ৮৭ রুপি হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর যা রুপির সর্বনিম্ন দর।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপে ভারতের আর্থিক বাজারে নেতিবাচক অবস্থা অব্যাহত থাকবে। এতে রুপির দাম রেকর্ড নিচে নেমে যেতে পারে।

শুধু মুদ্রাবাজার নয়, পুঁজিবাজারেও করোনাভাইরাসের প্রভাব বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে ভারতের পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক সেনসেক্সের দর কমে ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অপর সূচক এনএসই নিফটি কমে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

তবে কেবল ভারত নয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারগুলোয় ধস নেমেছে। গত সপ্তাহের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ডাও জোন্স সূচক কমে ৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম শুক্রবার কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের পর একক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। প্রতি ব্যারেলের দাম হয়েছে ৪৫ দশমিক ২৭ ডলার। ২০১৭ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন দাম এটি। তবে সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে রুপি লাভবান হয়।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) জানিয়েছে, তারা বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আর্থিক বাজারকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রুপির অস্থিরতা কাটাতে আরবিআইয়ের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

29
Common Forum / যখন যাবার কথা ছিল
« on: March 10, 2020, 01:57:15 PM »
যখন যাবার কথা ছিল যাওয়া হয়নি

আমি ভুলে গেছি লগ্ন—প্রেমের সময়
যখন ফেরার কথা ছিল ফেরাও হয়নি
আমি ভুলে গেছি স্বপ্ন—ঘুমের আশ্রয়।

তোমার বাঁশিতে টান ছিল-বুঝতে চাইনি
তোমার হাসিতে বান ছিল-খুঁজতে চাইনি
তুমি চেয়েছিলে সংবর্ষ দিগন্ত-দেখতে দিইনি
তুমি চেয়েছিলে সংস্পর্শ অনন্ত-রাখতে দিইনি।

যখন বলার কথা ছিল বলতে চাইনি
আমি ভুলে গেছি স্বর—প্রণয়ের ধ্বনি
যখন চলার কথা ছিল চলতে চাইনি
আমি ভুলে গেছি ঘর—হৃদয়ের খনি।

তোমার কথনে কষ্ট ছিল—শুনতে পাইনি
তোমার বচন স্পষ্ট ছিল—গুনতে চাইনি
তুমি চেয়েছিলে স্বাদের আসর—ভুলেও নিইনি
তুমি চেয়েছিলে চাঁদের বাসর-ভুলেও দিইনি।

এখনো আবিরা রাগে, মনে স্মৃতিরা জাগে, কখনো
বাজাই গানের কথা, জমে প্রাণের ব্যথা, সঘন
এক বেভুল ছিলাম, হয়েছি তখনো
তাই আমি প্রেমহীন, রয়েছি এখনও...

30
Thanks for sharing

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6